Skip to main content

Full text of "Bangla Nataker Itihas Ed.2nd"

See other formats


0০০01198০ 70100 0. 4. 
060৬171২1৬লাা 0৮ 7077704 
»০০]1801২৮৯ 1২৭ 


119 0001 ৮/25 (21510 010 0115 [10121508006 0286৩ 195 
51912710650. 1019 16101178015 ৮/161117 24 0895. 


০ ব 





ূ 
ৰ 


পপর ও পরা. পা. ৯ পর. + পাস ++ 
চাপা. এ পপ লা আপ 


হানে চু - স্মাারর00-হরাযেন্ বারাটা যা রায়কে বুনি রখ 


হ0৮/১-28-9-76--10,009 








ল| নাটকের ইতিহাস 





বাং 


অজিতকুমার ঘোষ, এম, এ 
অধ্যাপক, শ্থরেন্্রনাথ কলেজ 
প্রাস্তন অধ্যাপক, যশোহর মাইকেল মধুস্দন কলেজ 





১১৯, প্রর্মতলা স্টীট , কলিক্কাভা 


প্রকাশক £ শ্রীস্থরেশচজ্জ দাস, এম-এ 
জেনারেল প্রিপ্টা্স র্যা পাব্রিশারপ লিঃ 
১১৯, ধর্মতলা স্ট্রীট, কলিকাতা 


পরিবধিত দ্বিতীক্প সংস্করণ 
বথবাত্রা, ১৩৬২ 


মুল্য দশ টাক। মাত্র 


কলন। প্রেল লিমিটেড, ১, শিবনারায়শ 
দাস লেন, কলিকাতা হইতে 
শ্রীশ্ববোধচন্র মগুল কর্তৃক মুদ্রিত 


পিতৃদেবের শ্রীচরণে__ 


1107070025৫ ৫০017 ০0] 19, ৫, 7107 01 28691), ৫ 7611201601, 01 61৮, 


-_0010670 


দ্বিতীয় সংস্করণের নিবেদন 


বাংলা নাটকের ইতিহাসে”র দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হইল। ঠিক নয় বৎসর 
পূর্বে যখন ইহা প্রথম প্রকাশিত হইয়াছিল তখন মনে অনেক দ্বিধা ও আশঙ্কাই ছিল। 
বাংল। নাটকের কোন উল্লেখযোগ্য সমালোচন! ছিল না বলিয়াই এই গ্রন্থ লিখিতে প্রবৃত্ত 
হইয়াছিলাম, কিন্ত রসিক ও বিদগ্ধসমাঁজে ইহা! কতখানি সমাদর লাভ করিতে পারিবে 
সে সম্বন্ধে সংশয়ও ছিল প্রচুর। আমার অশেষ সৌভাগ্য, ষে প্রশংসা আমি আশা 
করি নাই, এ গ্রন্থ তাহাই আমাকে আনিয়! দিয়াছে। সেজন্য আজ আমি দূরের ও 
নিকটের ছাত্র ও শিক্ষক, পাঠক ও পণ্ডিত সকলকেই আমার কৃতজ্ঞচিত্তের অকুঠঠ ধন্যবাদ 
জানাই। গ্রন্থ-প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ইহাকে বি. এ ও এম. এ 
পরীক্ষার পাঠ্যতালিকায় অনুমোদিত গ্রন্থরূপে অন্তভূক্ত করিয়াছিলেন । আজও পর্যস্ত 
ইহা বি. এ. পরীক্ষায় অনুমোদিত রহিয়াছে, অন্যান্য কয়েকটি বিশ্ববিগ্ঠালয়ও বি. এ ও 
এম. এ. পরীক্ষার জন্য ইহাকে অনুমোদন করিয়াছেন । এই সব বিশ্ববিদ্ভালয়ের প্রতিও 
আমার কৃতজ্ঞতার অন্ত নাই। 

দ্বিতীয় সংস্করণ সম্বন্ধে কিছু বলিবাঁর পূর্বে প্রথমেই একটি ব্যক্তিগত প্রসঙ্গের 
অবতারণ! ন! করিয়া পারিতেছি না। ব্যক্তিগত হইলেও তাহা আমার ব্যক্তিসত্তার মর্মতলে 
চিরন্তন ক্ষত হইয়া জলিতেছে, সুতরাং তাহা উল্লেখ ন৷ করিয়া আমার উপায় নাই। 
এ খই প্রকাশিত হইবার কয়েক মাস পরেই আমার পৃজনীয় পিতৃদেব মহাশয় সাম্প্রদায়িক 
উন্মত্ততার মাঝে শোচনীয় মৃত্যু বরণ করিয়াছিলেন। তাহার এই আকস্মিক ও অস্বাভাবিক 
মৃত্যু আমাদের বিধ্বস্ত পারিবারিক জীবনের এক অবিস্ত ছুংস্বপ্র হইয়া রহিয়াছে। 
তাহার অবিচ্ছিন্ন উৎসাহ ও অক্লান্ত অন্ুপ্রাণনা৷ না পাইলে হয়তো এ বই কোন দিনই 
প্রকাশ করিতে পারিতাম না। আজ ইহার দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকীশের সময় তাহার স্তি 
আমার সকল আনন্দকে নিরানন্দ বেদনায় ভরিয়া তুলিতেছে । শোকার্তচিত্তে আজ তাহার 
পরলোকগত আত্মার নিকট আশীর্বাদ প্রার্থনা করিতেছি । 

আধুনিক কালে বাংলা সমালোচনা-সাহিত্য অতি ভ্রত রসসমৃদ্ধ বিস্তৃতির পথে 
অগ্রসর হইতেছে, ইহা আনন্দের কথা ।॥ এ বই প্রকাশের পরে কয়েক বৎসরের মধ্যে 
বাংল! নাট্য-সাহিত্যের ইতিহাস সম্বন্ধে কয়েকখানি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ প্রকাশিত হইয়াছে, 
যথা--হেমেন্দ্রনাথ দাশগুপ্তের “বাংল! নাটকের ইতিবৃত্ত মম্মথমোহন বন্থুর “বাংল! নাটকের 
উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ) সত্যজীবন মুখোপাধ্যায়ের 'দৃশ্যকাব্য পরিচয়, হেমেন্্প্রসাদ 
ঘোষের «বাংল! নাটক* এবং কিছুদিন পূর্বে প্রকাশিত আশ্ততোষ ভট্টাচার্যের “বাংল! নাট্য 
সাহিত্যের ইত্হাস'। ইহারা সকলেই বিচক্ষণ ও লব্ধপ্রতি্ঠ লেখক এবং ইহাদের 
মতামতও বিশেষ শ্রদ্ধার সহিত বিচার্ষ ) কিন্তু একমাত্র শ্রদ্ধের হেমেন্ত্রনাথ দাশগুগ 


9/ও 


ব্যতীত আর কেহই আমার বইয়ের নাম উল্লেখ করেন নাই। শ্রীযুক্ত দাশগুণ মহাশয় 
তাহার বইয়ের ভূমিকাঁয় আমার এ বইয়ের প্রশংসা করিয়াছেন, এজন্য অবশ্য আমি 
অত্যন্ত সন্মানিত বৌধ করিয়াছি । অন্ান্ত অনেকের বইতেই আমার বইয়ের মতাঁমত 
লইয়া নানা আলোচন৷ ও বাদ-প্রতিবাদ্দের অবতারণ। কর! হইয়াছে, অথচ ছুঃখের বিষ 
আমার কিংবা আমার বইয়ের নাঁম উল্লেখমাত্র করা হয় নাই। আমার মনে হয়, যখন 
আমরা কোন বিষয়ে আলোচনা ও মন্তব্য করি তখন সে সথন্ধে পূর্ববর্তী লেখকদের 
বক্তব্যও ন্থুম্পষ্টভাঁবে পাঠকের সম্মুখে উপস্থাপিত করা উচিত; তাহা হইলে পাঠক নিজের 
বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করিয়া! কোন্‌ মত যুক্তিনহ ও গ্রহণীয় তাহ! স্থির করিতে পারেন। 
আমি আমার বইতে এই পথই গ্রহণ করিয়াছি, সেজন্য এ পর্যন্ত বাংলা নাটক ও 
নাট্যকার সম্বন্ধে যে সব উল্লেখযোগ্য আলোচনা! হইয়াছে তাহাদের কোনটাই বোধহয় 
উল্লেখ করিতে আমি তুলি নাই। বর্তমানে বাংল! নাটক ও নাট্যতত্ব সম্বন্ধে ধাহার! 
নানা প্রকার বিচার ও আলোচনায় নিরত আছেন তাহাদের মধ্যে বঙ্গবাসী কলেজের 
অধ্যাপক সাধনকুমার ভট্টাচার্ধের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । তিনি আমার ঘনিষ্ঠতম 
বন্ধ। তাহার সঙ্গে আমার প্রায় প্রতিদিনই নাটকের তত্ব ও রস লইয়! প্রবল সংঘাত 
ঘটিয়। থাকে এবং সঙ্গে সঙ্গে এই সংঘাতের ফলে আমাদের পারম্পরিক অন্তর-বন্ধনটি 
দৃঢ়তর হইয়। উঠে। আমরা উভয়েই পরস্পরকে প্রভাবাদ্বিত করিয়া নাটকের আলোচন! 
পথে অগ্রসর হইতেছি, সুতরাং এ বইয়ের ভূমিকায় তাহার প্রতি আমর খণ স্বীকার 
ন৷ করিয়া পারি না। 

আলোচ্য দ্বিতীয় সংস্করণের আকার প্রথম সংস্করণের প্রায় দ্বিগুণ। দ্বিতীয় সংস্করণের 
কতকগুলি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে লিখিত হইল _ 

১1 নাটক ও নাট্যকার সম্বন্ধে প্রথম সংস্করণে যে-সব আলোচনা ছিল তাহাদের 
অনেক স্থলেই সম্পূর্ণ নৃতন ও বহুবিস্তত আলোচনা সংযোজিত হইয়াছে । 

২। প্রাচীন ও দুপ্রাপ্য নাটকগুলি লইয়া আঁলোচন। কর! হইয়াছে। 

৩। আধুনিক নাটক ও নাট্য-আন্দোৌলন সম্বন্ধে নানা মৌলিক ও তথ্যপূর্ণ 
বিষয় লিখিত হইয়াছে । 

৪। সাঙ্কেতিকতা ও রবীন্দ্রনাথের সাঙ্কেতিক সাহিত্য সম্বন্ধে সম্পূর্ণ নৃতন দৃ'্টভঙ্গি 


লইয়া বিস্তারিতভাবে আলোঁচন! কর! হইয়াছে । পু 
& | পরিশিষ্টে বাংলা নাটক, নাট্যপালা ও নাট্য-সমালোচনা সম্বন্ধে মৌলিক 
প্রবন্ধসমূহ সংযোজিত হইয়াছে । রঃ 


৬। সম্পূর্ণ নৃতন রীতিতে বাংল! নাটকের যুগবিভাগ ও বিষয়বিভাগ কর! 
হয়াছে। 

৭। সমাঁজ-আন্দৌলনের পটভূমিতে সমাঁজচেতনার স্থাত্র অবলম্বন করিয়া বিশেষ 
বিশেষ নাট্য-যুগ সম্বন্ধে আলোচন! কর! হইয়াছে। 


্াি 


উপরিলিখিত বিষয়গুলি বিবেচনা করিলে আঁকাঁর ও প্রকারের দিক দিয়! এই 
দবিন্তীয় সংস্করণকে বোধ হয় অনায়াসে একখানি নূতন গ্রস্থই বলা যায়। 

আলোচ্য সংস্করণের প্রকাশ-সম্পর্কে অনেকের কাছেই আমার খণ স্বীকার কর! 
প্রয়োজন । যীহাঁরা অনুন্দণ নানা উৎসাহ ও উপদেশ দিয়া এ গ্রন্থ প্রকাশে সহায়তা 
করিম্বাছেন তাহাঁদের সকলকেই আমি ধন্তবাঁদ জানাইতেছি। আচার্য গিরিশচন্ত্র সংস্কাতি- 
ভবনের সহকগশ্লিগণ, বিশেষভাবে অগ্রজ-প্রতিম জগদীশ ভট্টাচার্যের কাছে যে প্রেরণ! ও 
উৎসাহ পাইয়াছি তাহা আমি কোনদিন ভূলিব না। নান! গ্রন্থাগারের কমিগণ প্রসন্নচিত্তে 
আমার নান! বইয়ের দাবী যেভাবে পূরণ করিযাঁছেন তাহাতে তাহাদের কাছে আমি 
অতিশয়' কৃতজ্ঞ। এই প্রসঙ্গে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের অনাদিবাবু এবং স্থুরেন্্রনাথ 
কলেজ গ্রন্থাগারের শ্রীসলিলকুমার ঘোষ ও শ্রশিব প্রসাদ ভট্টাচার্ধের নাম বিশেষভাবে 
উল্লেখ করিতে চাই। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের শ্রীধুক্ত সনৎকুমার গুপ্ত মহাশয় কয়েকখানি 
দুপ্রাপ্য গ্রন্থ পড়িতে দিয়া আমার উপকার করিয়াছেন। স্থরেন্রনাথ কলেজের অধ্যক্ষ 
শ্রীযুক্ত প্রফুল্লকুমার গুহ মহাশয় এ বইয়ের প্রকাশ ব্যাপারে অনেক সাহীধ্য করিয়াছেন, 
তাহার কাছেও আমি গভীর খণ স্বীকার করিতেছি। 'জেনারেল প্রিপ্টার্স এপ 
পাঁবলিশার্পের অধিকর্ত| শ্রীধুক্ত স্ুরেশচন্ত্র দাশ বিশেষ আগ্রহের সহিত এই বৃহৎ 
গ্রন্থ প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণ করিয়াছেন এবং ইহাকে সর্বাঙগসুন্দর করিবার জন্য 
বিন্দুমাত্র কুগঠা ও কার্পণ্য প্রকাশ করেন নাই। তাহাকে আমার কৃতজ্ঞ অন্তরের 
অজন্র সাধুবাদ জানাইতেছি। পরিশেষে কল্পনা প্রেসের অন্যতম পরিচালক শ্রীহ্ৃবোধচন্ত্ 
মণ্ডলকেও আমার কৃতজ্ঞতা জানাইতেছি। এ বইয়ের স্্চারু মুদ্রণের জন্ত তিনি 
বিশেষ যত্র ও পরিশ্রম করিয়াছেন। ইতি-_ 


স্থরেন্ত্রনাথ কলেজ বিনত নিবেদক-_ 
কলিকাতা । অজিতকুমার ঘোষ 
১ল। আষাঢ়, ১৩৬২ 


ইং--১৬ই জুন, ১৯৫৫ 


প্রথম সংস্করণের নিবেদন 


বাংল! রঙ্গালর় সম্বন্ধে বু আলোচন! হইয়াছে, কিন্তু বাংল! নাট্য-সাঁহিত্য সম্বদ্ধে 
এ যাঁবত ধারাবাহিক এবং বিস্তৃত আলোচন! হয় নাই। অধ্যাপনা কালে এই অভাব 
বোঁধ করিয়াছি, অনেক ছাত্র-ছাত্রীর মুখেও বাঁংল! নাট্য-সমাঁলোচন৷ গ্রন্থের অভাব বশত 
তাহাদের অসুবিধার কথা শুনিয়াছি। আলোচ্য পুস্তক প্রণয়নের পরিকল্পনা! যাহাদের 
নিকট ব্যক্ত করিয়াছিলাম তাঁহারা সকলেই আমাকে যথেষ্ট উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়াছেন । 
কিন্ত লিখিতে আরম্ভ করিয়াই আমার কার্ষের গুরুত্ব অন্ুগ্ভব করিতে পারিলাম। একে 
তো! সমগ্র নাট্য-সাঁহিত্যের ইতিহাস রচনা করা দুরূহ ব্যাপার, ইহার জন্য অশেষ সতর্কতা 
এবং বিশেষ দায়িত্বণীলতার প্রয়োজন; তদুপরি বর্তমানে বাংল! নাট্যাবলী একত্রে সংগ্রহ 
করাও এক দুঃসাধ্য কর্ম! অনেক নাট্যকারের নাটকসমূহ এখন দুশ্রাপ্য হইয়৷ উঠিয়াছে, 
সেই সব নাটক জোগাড় করিতে আমাকে বিশেষ বেগ পাঁইতে হইয়াছে । বহু জায়গ! হইতে 
বহুতর ক্রেশ স্বীকার করিয়৷ তবে নাটকসমূহ,সংগ্রহ করিতে 'হইয়াছে। 

আলোচ্য পুস্তকের নাম দেখিয়া যদি কেহ মনে করেন যে ইহাতে সমুদয় নাট্যকারের 
ইতিহাস নিবন্ধ হইয়াছে তবে ভূল হইবে। শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ডাঃ শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় 
মহাঁশয় তাহার রচিত “বঙ্গসাহিত্যে উপন্তাঞ্কের ধারা নামক গ্রন্থের মধ্যে যে প্রণালী অবলম্বন 
করিয়াছেন আমিও তাহা অনুসরণ করিয়াছি; অর্থাৎ, বিস্তৃত এবং বিষ্লেষণপূর্ণ আলোচনার 
জন্ত আমি কেবল প্রথমশ্রেণীর নাট্যকারদের মধ্যে আমার সমালোচন। সীমাবদ্ধ রাখিয়াছি। 
শ্রীকুমারবাবুর ভাষ! ও সমালোচনা-রীতির প্রভাবও এই গ্রন্থে লক্ষিত হইবে। প্রথমশ্রেণীর 
নাট্যকারদের আলোচন। দ্বারা আমি বাংল! নাটকের ইতিহাঁসের মূল ধারা ও গতিগুলির 
পরিচয় দেখাইতে পারিয়াছি বলিয়াই আমার বিশ্বীস। অবশ্য দুই একজন প্রসিদ্ধ 
নাট্যকার হয়তো আমার ইতিহাস হইতে বাদ গিয়াছেন। তবে আমার মনে হয়, আমার 
ইতিহাঁস-বহিভূ্ত কোনে! নাট্যক।রই প্রথম শ্রেণীতে স্থান পাইতে পারেন না। ধাহাঁরা 
বাংল! .সাহিত্যের সমস্ত নাট্যকারদের সন্ধান লইতে উৎস্থৃক তাহারা আমার অদ্ধাম্পদ 
অধ্যাপক ডাঃ স্থকুমার সেন মহাশয়ের “বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস” (২য় খণ্ড) পড়িলে 
উপকৃত হইবেন । 

সকলেই লক্ষ্য করিবেন যে এই গ্রন্থে আমি সর্বত্র পাশ্চাত্য সমালোচনার মানদণ্ডে 
নাটকসমূহের আলোচনা করিয়াছি, প্রাচ্য অলঙ্কার শাস্ত্র অনুসারী আলোচনা করি নাই, 
অবস্ত ইহাতে আমার অধিকারও নাই। পাশ্চাত্য প্রভাবের ফলেই বাংল! নাটকের জঙ্ম ) 
সুতরাং এই নাটক বিষ্লেষণে পাশ্চাত্য রীতি প্রয়োগ করাই বিধেয় বলিয়৷ মনে করি। 
নাটকের আলোচিনার জুন্ত বহু প্রসিদ্ধ সমালোচনা-গ্রস্থ আমাকে পড়িতে হইয়াছে, পাদ- 
টাকায় সেই সব গ্রন্থের নাম আমি উল্লেখ করিয়াছি । উপরন্ত সর্বশেষে একটি গ্রন্থ-পঞ্জী 


/6 


সর্িবেশ করিয়া আমার খণ স্বীকার করিয়াছি । অধ্যাপক নিকলের €186 11)60:5 ০: 
[8778 আমার সমালোচনা-রীতির মূল ভিত্তি স্বরূপ গ্রহণ করিয়াছি। নাট্যকারগণ 
এবং তাহাদের রচিত নাট্যাবলীর এতিহাসিক ক্রমিকতা সম্বন্ধে আমি ডাঃ স্থৃকুমার সেন 
মহাশয়ের গ্রন্থ 'হইতে অনেক সাহায্য পাইয়াছি। সমালোচনা সম্বন্ধে আমি যথাসম্ভব 
নিরপেক্ষ পথ অনুসরণ করিতে প্রয়াসী হইয়াছি। কোনো স্থলে বিশেষ পক্ষপাতিত্বের দ্বার! 
চাঁলিত হই নাই বলিয়াই আমার ধারণা । অনেক নাট্যকার সম্বন্ধে প্রাথমিক এবং স্বাধীন মত 
ব্যক্ত করিয়াছি, জীবিত নাট্যকারদের সম্বন্ধেও অনেক কথ বলিয়াছি। হয়তো! অনেক স্থলে 
আমার সমালোচন! ঠিক হয় নাই, হয়তো কোনো! কোনো ক্ষেত্রে বিচারে তুল করিয়াছি, 
অক্ষমতা ও অর্বাচীনতা বশত হয়তো বহু জায়গায় সাহসিক মন্তব্য করিয়া বসিয়াছি, সহৃদয় 
পাঠক পাঠিকাগণ ক্ষমা! করিবেন। 

গ্রন্থের বিষয়-বিষরাগ সম্বন্ধে দুই একটি ব্যাখ্যামূলক কথা বল! প্রয়োজন । এ রকম 
বিষয়-বিভ্াগ অঠিনব সন্দেহ নাই, এবং সুধী ও পণ্ডিত ব্যক্তি ব্যক্তিগণ ইহ! কিভাবে গ্রহণ 
করেন তাহা জানিতে আমি বিশেষ উংস্থক। নাটকের ইতিহাসকে আমি পঞ্চা্কবিশিষ্ট এক 
থান! নাটকরূপে কল্পনা করিয়াছি। প্রাগাধুনিক নাটক সাধারণত পাঁচ অঙ্কে বিভক্ত 
থাকিত। এই পাচ অঙ্কের মধ্যে নাটকের ক্রিয়ার (৪০০7 ) পাঁচ প্রকার বৈশিষ্ট্য নিহিত 
থাকিত, যথা --:099100199 0100 01 105৮6109710061/09 0011009 ৪11, 090- 
30019106০01 10671006196 1 প্রথম অঙ্কে নাট্যকার ক্রিয়ার বীজ বপন করিয়া ইহার 
ভবিষ্বং গতির আভাস জানাইয়! দেন, দ্বিতীয় অঙ্কে নাটকীয় ঘটনা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়া 
অগ্রসর হয়, তৃতীয় অস্কে নাট্যকলার চরমোতকর্ষ-উচ্দুসিত ভাবের প্রবল সংঘাতে দর্শকের 
মন আবেগকম্পমান হইয়া উঠে, চতুর্থ অস্কে ঘটনার আবেগ ও ভ্রততার পতন এবং 
শেষ অঙ্কে প্রত্যাশিত মিলন অথব! বিচ্ছেদ ঘটিয়৷ থাকে । নাটকের পঞ্চাঙ্ক ব্যতীত আর 
একটি অঙ্গও কোনে! কোনো! নাটকে থাকে, ইহাকে প্রস্তাবনা ( 6:019806 ) বলা হয়। 
নাটকের গোড়ায় সংস্থিত হইয়া ইহা নাষ্ট্রকীয় বিষয়বস্তুর পূর্বাভাস জানাইয়া দেয়। 
বাঙ্গাল নাটকের ইতিহাসের মূল ধারাকে নাটকের ক্রিয়ারূপে মনে করিয়৷ ইহার অন্তর্গত 
বিভিন্ন যুগ ও গতিকে এক একটি অঙ্করূপে আমি দেখাইয়াছি। কোনো কোনো স্থলে 
গর্ভাঙ্ক সন্নিবেশ করিয়া স্থক্তর বিভাগ দেখাইয়াছি। 

এই গ্রন্থ সম্পর্কে অনেকের কাছেই আমি কৃতজ্ঞ) তাহাঁদের কয়েকজনের নাস উল্লেখ 
করা প্রয়োজন। ডাঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মহাশয় গ্রন্থখানি তাহাকে উৎসর্গ করিবার 
অনুমতি দিয়া আমাঁকে বিশেষ অনুগৃহীত করিয়াছেন। ডা: সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 
মহাশয় এবং ডাঃ স্থুকুমার সেন মহাশয় যথাক্রমে গ্রন্থের মুখবন্ধ ও পরিচায়িক! লিখিয়! 
গ্রন্থের মর্যাদ। বৃদ্ধি করিয়াছেন । ইহারা দুইজনেই আমার ভক্তিভাজন অধ্যাপক, সুতরাং 
ইহাদের প্রতি আমার খণ চিরকালের, সামান্য স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়! তাহ প্রকাশ 
কর! যাইবে না. স্তকুমারবাবু বরাবর এই পুন্তক সব্বন্ধে আমাকে উৎসাহ ও উপদেশ 


19০ 


দিয়াছেন, তাহার দ্বেহ লাভ করিয়া আমি ধন্য হইয়াছি। পুজনীয় পিতৃদেব মহাশয় 
নিরবচ্ছিন্নভাবে তাঁগিদ ও উৎসাহ না দিলে হয়তে। গ্রন্থ প্রকাশে বিলম্ব ঘটিত, তাহাকে 
আমার কৃতজ্ঞতা জানাইতেছি। ধাহাঁরা পুক্তক দিয় আমাকে সাহাঁধ্য করিয়াছেন 
তাহাদিগকে ধন্যবাদ জানাইতেছি। দৌলতপুর কলেজের শ্রদ্ধাভাঞ্গন অধ্যাপক গোপাল- 
চক্র মজুমদার মহাশয় আমাকে অনেক বই পড়িবার স্থযোগ দিয়াছেন। যশোহরের 
বিশিষ্ট নাট্যান্রাগী স্বগতি অপূর্বকুমার দাশগুপ্ত বহু আধুনিক নাটক পড়িতে দিয়াছিলেন। 
যে সব সহকর্মী আমাকে এই গ্রন্থ রচনা করিতে উৎসাহ দিয়াছেন তাহার্দিগকেও আমি 
ধন্যবাদ জানাইতেছি। আমার ভত্মী শ্রীমতী বেলা ঘোঁষ এবং ছাত্রী শ্রীমতী গৌরী দাশগুপ্ত 
পুস্তকের পাওুলিপি নকল করিয়৷ দিয়াছেন, ইহাঁদের কাছেও আমি খণ শ্বীকার 
করিতেছি। শৈলেন প্রেসের শ্রীযুক্ত স্থবোধচন্দ্র মণ্ডল আমার অনেক প্রকার খেয়াল ও 
উপদ্রব সহ্য করিয়! মুদ্রণ বিষয়ে আন্তরিকত। দেখাইয়াছেন। 

অশেষ পরিশ্রম সহকারে এই গ্রন্থ প্রণয়ন করিয়াছি। যদি ইহা যথার্থই ছা্র- 
ছাত্রীদের সহায়ক হয়, এবং স্থুধীজনের সমাদর লাভ করিতে পাঁরে তবেই পরিশ্রম সার্থক 
বলিয়া মনে করিব। গ্রন্থ সন্বন্ধে সর্বপ্রকার নির্দেশ ও মতামত ধন্যবাদের সহিত গৃহীত 
হইবে। ইতি-- | 


মাইকেল মধুহদন কলেজ বিনত নিবেদক-_ 
যশোহর ] শ্রীল্লজিতকুমা র ঘোষ 
১৬1৪৬ 


সূচীপত্র 


অনতন্নণিক। 
[ নাটকের উৎপত্তি। সংস্কৃত নাটকের ইতিহাস । যাত্রা । 
বাংলা নাট্যশালার ইতিহাস ] ১-১৭ 


প্রশ্ভাবন! 


[ অন্গবাদ যুগ হরচন্দ্র ঘোঁষ, কালীপ্রসন্ন সিংহ । মৌলিক 
নাটকের স্চন!- কীতিবিলাস, ভদ্রাজুন। ] ১৮-২৭ 


প্রথম অক 
বাংল! নাটকের আদিপর্ব ৮০০ ৮৪৪ ২৮-৩১ 
[ স্মাজসংস্কার-আন্দৌলনের পটভূমিতে নাটকের স্বাধীন আত্মপ্রকাশ ] 


প্রথম গর্ভাঙ্ক (ক) 
সামাজিক নঝ্স। নাটক রঃ এ ৩১-৩৬ 


প্রথম গভাঙ্ক (খ) 
রামনারাঁয়ণ তর্করত্ব ন্‌ রা বি 
দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক 
( মাইকেল-দীন্বন্ধু পৰ ) 


সাইকেল মধুসথদন ৪১-৬৭ 
দীনবন্ধু মিত্র “১ কত ই ৬৮-৯৬ 
তৃতীয় গর্ভা্ক 
অপের! বা গীতাভিনয় ৮০ হা ৯৭ 
মনোমোহন বন্থু *** *০* ৯৭-১০৩ 
দ্বিতীয় অহ 
প্রথম গরাঙ্ক 
জীতীয় ভাঁবাত্মক রোম!টিক নাটক *** মু ১০৪-১০৮ 
জ্াতিরিন্দনাথ ঠাকর ও সমসাময়িক নাঁটাকাঁরবন্দ ৮, ১০৮-১২৩ 


[ কিরণচন্ত্র বন্দ্যোপাধ্যায়) হরলাল রায়ঃ উপেন্ত্রনাথ দাস, উমেশচন্ত্র গুপ্ত, 
প্রমথনাথ মিত্র ] 


দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক 
গিরিশ যুগ [ নাটকে ধর্মবিশ্বাস ও পৌরাণিকী লীলা ] 


রায় 
গিরিশচন্দ্র ঘোঁষ 


অমৃতলাল বস্ 
তৃতীয় অঙ্ক 
প্রথম গর্ভাঙ্ক 

দ্বিজেন্ত্র যুগ [ এঁতিহাঁসিক নাটকের স্বর্ণযুগ - সন নাট্যধারার হুচনা ] 

ীল রায় 

'ক্গীরোদপ্রসাদ বিগ্যাবিনোদ ৮ 

দ্বিতীয় গর্ভা্ক 
টিন ৮০, ৮০, 
চতুর্থ অঙ্ক 
রবীন্দ্রোত্তর নাট্যসাহিত্য হা 


[ পৌরাণিক -মস্সথ রাঁয়। এতিহাঁসিক - শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্, মহেন্দ্র 
গুপ্ত, নিশিকান্ত বন্থু রায়, যোৌগেশ চৌধুরী। সামাজিক- বিধায়ক 
ভট্টাচার্য, শচীন্ত্রনাথ সেনগ্তপ্ত, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, * তারাশঙ্কর 
বন্দ্যোপাধ্যায়, অয়ঙ্কাস্ত বক্সী, গ্রমথনাথ বিশী, মনোজ বস্থু, যোগেশ 
চৌধুরী, জলধর চট্টোপাধ্যায়, বনফুল", নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় 


যুদ্বোত্বর নাট্য-সাহিত্য 

[ যুদ্ধোত্বর সমাজের পটভূমি তুলসী লাহিড়ী, দিন ব বন্যোপাধ্যায় ও 
অন্তান্ঠ নাট্যকারগণ--সাম্প্রতিক নাটকে সমাজচেতনা ও শিল্পোৎকর্ষ 
_বিশ্বনাট্য আন্দোলন _বাংলাঁর নাট্য-আন্দৌলনের গতি ও প্রকৃতি ] 


পরিশিষ্ট 
(ক) বাংল! নাটক ও নাট্যশালা 
(খ) বাংল। নাটকের প্রাণধর্ম 
(গ) বাংল! নাট্য-সমালোচনার আদর্শ 


১২৪-১২৮ 
১২৮-১৩২ 
১৩২১৭৪ 


১৭৫. ৮৮ 


১৮৯-১৯৫ 
১৯৬-২২৩ 
২২৩০২৩৪ 


২৩৫-২৭৯) 


২৯৩-৩২৩ 


৩২৩-৩৩৫ 


৩৩৫-2১৪৩ 
৩৪১-৩৪৬ 


৩৪৭৩৫ ১ 


অবতরণিকা 
নাটকের উৎপত্তি 


(অনুকরণ করিবার সহজাত প্রবৃত্তি হইতে নাটকের উৎপত্তি । | মান অপরের কথা, 
ভাব ও ভঙ্গি লক্ষ্য করিয়া পুনরায় তাহা! নকল করিতে ভালোবাসে । এই প্রবৃত্তি আদিম, 
অসভ্য মানুষ হইতে চলিয়া আসিয়াছে । অসভ্য লোকদের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ নাটকের জন্ম হয় 
নাই বটে, কিন্ত তাহারাও সঙ্গীত ও নৃত্যের মধ্য দিয়! তাহাদের অন্ুকরণ-প্রচেষ্টাকে রূপায়িত 
করিয়া তুলিত। নৃত্য মানগযের ইতিচাসে সর্বাপেক্ষা প্রাচীনতম কল! ৷ আদিম সমাজে নৃত্যের 
মধ্য দিয়া লোকে ধর্মভাব এবং হ্ৃদয়ভাব প্রকাশ করিত, ১ সমস্ত প্রকার ক্রিয়া-কর্ম অনুষ্ঠানে 
এই নৃত্যের প্রচলন ছিল ।২ সঙ্গীত তাল এবং সামঞ্জস্য স্থষ্টি করিয়া এই নৃত্যের উদ্বোধনেই 
সাহাব্য করিত। এই সঙ্গীতসম্বলিত ভাবপ্রকাশক নৃত্যই ক্রমে ক্রমে নাটকের অভিনয়ে 
পরিণতি লাভ করে। ভারতীয় নাটকের উৎপত্তিও এই নৃত্য হইতে হইয়াছে ইহা! অঙ্মান 
কর অসঙ্গত নহে 1 “নৃৎ্” ধাতু হইতে “নাটক” এই কথাটির স্থষ্টি হইয়াছে ইহ! বিশেষভাবে 
লক্ষণীয় । নৃত্য হইতে ভারতীয় নাটকের জন্ম_-এই মত 01957218 প্রভৃতির সহিত 710 
সাহেবও পোঁষণ করিয়াছেন ।৩ 

প্রাচীনকালে ধর্মসাধনা এবং কলাচর্চ৷ অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত ছিল। ধর্মসাধনার বিচিত্র 
প্রকার ও উপাঁয়ের মধ্য দিয়া বিভিন্ন কলার বিকাশ ঘটিত। নাট্যকলার উদ্ভবও এই 
ধর্সানুষ্ঠানের মধ্যে হইয়াছিল। গ্রীসদেশে [01975908 দেবতার পূজায় যে সঙ্গীতের 
(0$60515810 5018) প্রচলন ছিল তাহা গ্ছইতে ট্র্যাজেডির উৎপত্তি এবং প্র দেবতার 
উৎসবে হাস্তপরিহাসযুক্ত শোভাযাত্রা ও সঙ্গীত (চ1391110 50:18 ) হইতে কমেডির স্থষ্টি। 
ভারতীয় নাটকের মুলও প্রাচীন ধর্মের মধ্যে নিহিত। কথিত আছে ব্রন্ষা নাট্যবেদ নামক 
পঞ্চম বেদ প্রণয়ন করেন। চতুর্বেদ হইতে নানা উপাদ্দান সংগ্রহ করিয়। তিনি এই নূতন 


১) 10810910818 6176 1971701615৩ 630:598100 91515 01 191181010 900. 0 10%6--01 :9118100 
02) 6106 682:1168% 077)98 %56 10107 01 9790 01 206 1302) 5 1091100 1016 81906710800 610৪ 
90101706 01 1081), 

109 816 01 09000৮--98160460 57892%9 ০ ৪৮৩1০০]: [1118, 2. 180. 

২। 70191] 006 ৪০016001]) 000991008 01 1169, 10010918 ৪0)0. 101: 191761819, 101: 9690 61109 ৪10৫4 
97588, 100 দা9]: 9500 001 [999০06, 60: 91] (10886 (01089 03976 69 ৫91)068, 150, 0- 131, 

৩1 "1350.09 006 00০0706 11101) 1199 008 80100581 06 010607967£ ৪000. 1010) ঠি))08 (129 
02187) ০01 00৪ 028009 1 01) 99060 09896, 01 ০00:89, 80901710818190 07 €9৪৮০ ০01 
70811001010 0109:9065, 00170101760. 161) ৪078, 8200. 18662 80710106005 01910806, 6১38 0810 
£159 2196 6০ 6109 01:8008. 927১9170 1010705 00, 26, 


২ ংলা নাটকের ইতিহাস 


বেদ সৃষ্টি করেন ।১: ব্রহ্মা এই বেদ তাহার শিল্ক ভরতমুনিকে শিক্ষা দেন। ভরতের দ্বারা 
নাট্যবেদ জগতে প্রচার লাভ করে। 

ভারতীয় নাটকের ইতিহাস উদ্ধার করিতে হইলে বৈদ্দিক সময় হইতে আলোচন। 
করিতে হইবে । বেদের অনেক স্তোত্র কথোপকথনের আকারে রচিত। এই সব স্তোত্রই 
নৃত্যুগীতের সহিত যুক্ত হইয়। নিয়মান্ুবদ্ধ নাটকে পরিণতি লাভ করিয়াছিল অনেকে ইহা 
অনুমান করেন ।২ বৈদিক যুগের পর রামায়ণ এবং মহাভারত এই ছুই মহাকাব্যের অনেক স্থলে 
নাটকের উল্লেখ দেখা যায় ।৩ ইহাতে ধারণ! হয় তৎকালে নাটক ও নাটকের অভিনয় প্রচলিত 
ছিল। তবে রামায়ণ এবং মহাভারতের পরেই যে নাটকের যথার্থ এবং পূর্ণাবয়ব বিকাশ হয় 
তাহাতে সন্দেহ নাই । অধ্যাপক কিথ প্রভাতি বলিয়াছেন যে রামায়ণ এবং মহাভারতের 
অংশবিশেষের আবৃত্তি হইতে ক্রমে ক্রমে নাটকের উদ্ভুব হয় ।৪ পরবর্তী নাট্যসাহিত্যের উপর 
মহাকাব্য ছুইথানির প্রভাব যে বিশেষ কার্যকর হইয়াছিল তাহ! সকলেই স্বীকার করিবেন। 
ভাস, ভবভৃতি প্রভৃতি নাট্যকার রামায়ণের প্রতি তাহাদের খণ ব্যক্ত করিয়াছিলেন 
রামায়ণের কুশ এবং লব হইতে নাটকের ভুমিকা বুঝাইতে কুশীলব এই কথাটার 
প্রচলন হইয়া আসিতেছে | 


সংস্কৃত নাটকের ইতিহাস 


স্কত ন|টকের সুচন। কবে হইয়াছিল তাত। লইয়। ন।ন। মতভেদ আছে। কিছুকাল 
পূর্বে ভাসের নাট্যাবলী আবিষ্কৃত হওয়ার পরে অনেকে তাহাকে থুঃ পৃঃ তৃতীয় অথব! চতুর্থ 
শতাব্দীর নাট্যকার বলিয়া মত ব্যক্ত করিয়াছেন । ডাঃকিথ এবং উইপ্টীরনিৎস প্রভৃতি 
বিশারদগণ কিন্ত ভাসকে অশ্বঘোঁষের পরবর্তী বলিয়াছেন। যাহ! হউক খুষ্টায় প্রথম শতাব্দী 
হইতে যে সংস্কৃত নাটকের উদ্ভব এবং বিকাশ হইয়াছিল এই সম্বন্ধে মতানৈক্য কম। প্রথম 
শতাববী হইতে একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সংস্কত নাটকের গৌরবময় বিকাশ চলিয়াছিল। 


১ বা) 006: 0 70161)81০6 0019 ৪0595699901 09150108158 ৬609 ( 0120-019958, 0: 
01)87208, 090 0:50) 1061106 108 01016 00100077010), 38010 19 ৪910. 100 00859 (9167) 0৪ 
6167067)68 01 76010801010 170] 0109 1১18-908, 002: 1011)08 21 89006 01: 09 ৪: 01 201101075 
[0] 038 $75015902) 90109 11070 (170 9%072590:%) £1)0. 6090010188, 1)8881008, &1)0. 90161- 
[101)08 17017 110 40102752099", [1759 17020794006 105 17. ই. 1088 300695 0, 3. 


২1 +11)686 1)570729 6৪ 00101011790 101) 0) 0%0089 17) 6108 169618৪1801 0136 £০৫৪, 
ঘ1))০)) 90010 8.580 0990 & 10018 0]: 1685 002)%610050108] 10100, 10008, 10210 006 00151010 0£88108 
800. ৪0706, 60 1)101)+দ81:9 906:87:05 80090. 091::9015৩ 29016901010, 800. 986 ৪706 11101 
80000) 19102080, দা89 €0:80:08115 65 ০]560 006 80690. 0::9709. 

17750/000009086 8/4656565 ((987100119265 চ১010102). 


৩) 17,67770+0%9/27০- পৃহ ২৬০২৯ ভষ্টবা। 


৪1 ......00)169 28 81000097)6 ০10.6009 01 01)9 90105 10190610106 0, 026 09551010761 
91 0076 38706 93:6701880. 107 0159 1:90108002) 01 016 90195." 


অবতরণিকা ৬ 


সংস্কৃত নাট্য সাহিত্যের মধ্যে তারতীয় সাহিত্য-গ্রতিভার সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শন- বিরাজমীন 
রহিয়াছে ।১ 

স্কৃত নাটকের অসাধারণ উৎকর্ষ সম্বন্ধে সম্পূর্ণ সচেতন থাকিয়াও একথা মনে না 
করিয়। পারা যায় না যে, এই নাট্যসাহিত্যের বিকীশ ও আবেদন অতি সংকীর্ণ সীমার মধ্যে 
আবদ্ধ ছিল। জাতির ভাব ও বৈশিষ্ট্য গ্রকাশ করাই যদি নাটকের উদ্দেশ্ঠ হইয়। থাকে, তবে 
এই নাটাসাচিত্যকে জাতীয় সাহিত্য বল! চলে ন! । দেশের সর্বসাধারণের হৃদয়ের সহিত ইহার 
কোনো! সচল বোগাযোঁগ ছিল না ।২ সংস্কৃত নাটকের উৎপত্তি বুদ্ধিজীবী বর্ণশরেষ্ট ব্রাহ্মণদের 
দ্বারাই হইয়াছিল। এই সব অধ্যাত্মনিমগ্নচিত্ত, বা্তববিমুখ, জঞানীকুলর্যভ ত্রাদ্ষণদের বিশিষ্ট 
মত ও দৃষ্টিতঙগির দ্বারা এই নাটকের গতি ও প্ররুতি নির্ধারিত হইয়া গিয়াছিল।৩ অন্য 
কোনে শ্রেণী ও বর্ণের প্রভাব ইহাতে আশ্রয় লাভ করিতে পারে নাই । নাটক প্রণয়নের 
পর ইহাঁর অভিনম্বও মুষ্টিমেয় অভিজাত ব্যক্তির সন্মুখে হইত। গ্রীসদেশে উনুক্ত আকাশতলে 
ত্রিশ হাজার দর্শক সমবেত হইয়া যেমন মানবজীবনের নিগুঢ় সমন্তাঁসকল দেখিতে পারিত, 
ভারতে গণসাধারণের তেমন কোনো স্থযোগ ছিল না । ভারতের রঙ্গালয়ের কথা৷ চিন্তা 
করিলে উশ্বর্ধ জীকজমকের এক অপরূপ তরঙ্গলীলা চোখের সম্মুখে খেলিতে থাকে। স্বদৃশ্ত, 
সজ্জিত গৃে রত্ব-সিংহাঁসনে পরিপূর্ণ মধাঁদায় সভাপতি অধিষ্ঠিত হইয়া আছেন । অন্তঃপুরের 
রমণীবৃন্দ, সভাসদগণ, রাজন্তবর্গ এবং বিপ্রকুল চতুর্দিকে যথাযোগ্য স্থানে আসীন-__সর্বত্র অটল 
গাস্তীব রাজকীয় আভিজাত্যের সহিত সঙ্গতি স্থাপন করিয়া অক্ষুপ্নভাবে বিরাজ করিতেছে। 
ইহার মধ্যে দেশের সর্বসাধারণের সহজ প্রবেশাধিকার ছিল না১৪ থাকা সম্তবও নহে । স্থতরাং 
দেশের বৃহত্তর মানব সম্প্রদায় যে তাগদের নাট্যরসভোগেচ্ছাকে তৃপ্ত করিতে পারিত না তাহা 
আমরা অনুমান করিতে পারি। সংস্কৃত নাটক এত বেণী অলঙ্কারপূর্ণ ও কবিতসমূদ্ধ হইবার 
কাঁরণ-_ইহা কতিপয় নিধাচিত জ্ঞানী এবং রসজ্ঞ ব্যক্তিদের জন্যই লিখিত হইত, দেশের 
অধিকাঁংশ অশিক্ষিত সাধারণ লোকের কথ৷ নাট্যকার চিন্ত। করিতেন ন|। 

১। ডাঃ কিথের মত উল্লেখযোগা-'1119138719716 010008 20) 18210709051) 10679191090 ৪৪ 
006 1181)99৮ 10100806091 11)01%)) 1১096) 2101) 88 9001)10011)8 01917) 10861100০08) 0000007) 
0£ 1600191১816 801166017১5 010 ৬৫) ৯৫100011901908 010603 01 1110181) 11097980176, 

9675570786 107077005 00. 240. 

২1 1006 [00019) 0191708 080)1100 08 15801100১90. 283 1000101)8] 80) (109 107080681 9110 10161)696 
89089 01 1006 00 31615 11 ৪101, 006 01:870%, 01 4. 11061875 ৫1999, 0005120) 59 91018 10919110709 
101) 01 01১6 00101886 91১0 20036 168160, 28 61) ০১ 01 619 07.050 ০191:80021600, £99002:68 0£ 
[31000 191751011 810 015111256101)- 17710010199285 73756417550 ( (%111))1066 1501601) ), 

৩। 10৭ ৭200810৫555, 059091016, 89861)619] (806 01165 60101763101) 100) 008 03181010108, 
]'))6য় 100 101881180' 11) 08000, 081)%919 01 281৩ (:9161:8117280108, 1006 688:00689 01 


89001905 11) 09691], 8100 60 91686 & 767118010 018779 94১ 0001]7 10600100911)16 5100) 00611 
081101)67877)61)6 90574610130 00 09160, 0,276. 


৪1 ভাঃ কিথ বলিয়াছেন শৃক্রদের জন্ আসন নির্টষ্ট থাকিলেও, ইহারা সম্ভবতঃ রাজ অনুগ্রহভীবী সামা 
শৃত্র সন্প্রুণ!য় ছিল--19 70195 18090108076 0195-1)0090 001)081000)1509 009 1)10861806 91 08 
9019, 006 00১96 0 ৪০৪৪০৩66100, ৪00 0080 &1)0]5 6০ ৬ 5675 15500196501 0193৪ শু ০5৪] 
1180029 010. . | 0885196 19170700, 7), 369, 


& বাংল। নাটকের ইতিহাস 


একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সংস্কত নাটকের প্রণয়ন এবং অভিনয় চলিয়াছিল । ইহার 
পরে মুদলমানদের দ্বার! ভারত বিভিত হইলে সংস্কৃত নাট্যসাহিত্যের বিলোপ ঘটে। অবশ্য 
পূর্ব হইতেই ইহার অবনতির সুচনা হইয়াছিল। সংস্কত নাটকের বিকাশ মুষ্টিমেয় জন- 
সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এবং ইহার ভাষার সহিত লোকের কথ্য ভাষার পার্থক্য 
উত্তরোত্তর বর্ধিত হইতেছিল বলিয়াই ইহার পুষ্টি সঙ্কুচিত হইয়া আসিতেছিল। 

সংস্কৃত নাটকের স্থষ্টি এবং অভিনয় রাজাদের অন্ুগ্রহ এবং আম্ুকুল্যে হইয়। 
আসিয়াছিল । সেই রাজাদের বিলোপের সঙ্গে সঙ্গে নাঁটকেরও স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে । 
সমগ্র মুসলমান রাজত্বে নাটকের পুনরবিকাশ এবং রঙ্গালয়ের পুষ্টি হয় নাই। মুসলমানগণ 
নাট্যকলা ও অভিনয়-প্রথার ঘোর বিরোধী । পৃথিবীর কোথাও তাহারা নাটকের উদ্ভাবন 
করিতে সাহাষ্য করেন নাই ।১ শিক্ষা এবং আমোদের এই শ্রেষ্ঠ উপাঁয়টা তাহাদের কাছে 
সম্পূর্ণ অপরিজ্ঞাত ছিল। মুসলমানদের আগমনে বাংল! সাহিত্যের অশেষ উপকার সাধিত 
হইয়াছিল সন্দেহ নাই।২ তাহারা বাঁংল। ভাষা চর্চায় এবং বাংল! সাহিত্য প্রণয়নে 
অশেষ উৎসাহ দিয়াছিলেন। কিন্তু তাহারা নাটকের বিরোধী ছিলেন বলিয়াই তাহাদের 
আমলে নাটকের বিকাশ হয় নাই । কিন্তু নাট্যরস উপভোগ করিবার চিরন্তন ইচ্ছ। মানুষের 
মনে বাস করিতেছে । যে কোন উপায়েই হউক সে এই ইচ্ছাকে তৃপ্ত করিবেই ৷ নাট্য 
ভারতী রাজদরবার হইতে নির্বাসিত হইলেন বটে, কিন্তু সাধারণের হৃদশতদলে তাহার আসন 
লাভ হইল । তবে রাজকীয় আহ্কুল্য না পাইলে বনু ব্যয়সাঁধ্য নাট্যালয় স্থাপিত হইতে পারে 
না এবং সমৃদ্ধ, স্থুনিয়মাবদ্ধ নাটকেরও উৎপত্তি সম্ভব নহে। সুতরাং দেশের লোক রঙ্গশাল। 
এবং নাটক পাইল না বটে, কিন্তু অন্ত আর এক অতি সহজ ও স্থলভ। উপায়ে তাহারা 
নাট্যরস ভোগ করিতে সক্ষম হইল । যাত্রার প্রসার এইভাবেই হইয়াছে । সংস্কৃত নাটকের 
মধ্যেও দেশের সর্বসাধারণ নিজেদের যে প্রাণের প্রতিধ্বনি গুনিতে পায় নাই, এতদ্দিন পরে 
সেই রাজসম্মান-বঞ্চিত, ধূলামাটি-চর্টিত যাত্রার মধ্যে তাহা শুনিতে পাইল । উম্মান্ত আগ্রহে 
তাহার। ইহ বরণ করিয়া লইল । 


যাত্রা 
(ক) উৎপত্তি ও বিকাশ 


বাত্র। কথাটি অতি প্রাচীনকাল হইতেই চলিয়া আসিতেছে । অতীতে কোন দেবতার 
লীল! উপলক্ষে লোকের! এক জায়গা হইতে অন্ত আর এক জায়গায় গমন করিয়া, নাচ গানের 
সঙ্গে সেই দেবতার মাহাত্ম্য প্রকাশ করিত। ইহাই যাত্রা নামে অভিহিত ছিল। স্থতরাঁং 


১1 06176791)5, 1006০0. 9 ১01)0%/ 01 1)0 1181)01708091) 17801017) 01116 1788 800011111817৩0, 
87150010810 0970900 0096, 0৮০51) 1180. 21) 10061000116 
£70772/50 474 06৫, 75667012476 003 5001৩01, [. 94. 
ৎ। "আমাদের বিশ্বাস, মুললমাঁন কর্তৃক বঙ্গবিজয়ই বঙ্গভা যার এই সৌভাগ্য কারণ হইয়া দাড়াইরাছিল । 
বঙ্গভ।যা ও সাহিত্য--দীনেশচন্ত্র সেন (ষ্ঠ সং), পৃঃ ১১৫ । 


অবততরণিকা। ৫ 


প্রথমত যাত্রা বলিতে উৎসব উপলক্ষে গমন এই ব্যাপারটি অপরিহার্য ছিল। কালক্রমে 
কোন স্থানে গমন না করিয়া! একই স্থানে বসিয়! দেবলীলা৷ অভিনয় কর! হইত । এইভাবে 
দেবযাত্র! অভিনেতব্য যাত্রারূপ লাভ করে। 

দেবতার সম্গুথে নৃত্যগীতাদির প্রচলন বৈদিক যুগ হইতে চলিয়া অ|সিতেছে। খাদের 
কালে যক্স্থলে আনন্দবিধানের জন্ত গান, বংশদণ্ড হস্তে নৃত্য, স্তব, বন্দন! ইত্যাদি অনুষ্ঠিত 
হইত। পৌরাণিক যুগে দেবতার স্নান-উৎসব উপলক্ষে শোভাযাত্রা! ও উৎসবের প্রচলন 
হইল।১ বৌদ্ধযুগে রথোৎসব অনুষ্ঠিত হইত। ফাহিয়ানের বর্ণনায় জান! যায় যে, জ্যেষ্ঠ মাসের 
৮ই তারিখে বিভিন্ন সুসজ্জিত রথে বুদ্ধাদিমুত্তি স্থাপন করিয়! রাজপথে শোভাধাত্রা সহকারে 
সেই 'রথগুলি টাঁনিয়! লইয়। যাঁওয়া হইত । শোভাযাত্রার মধ্যে নৃত্যগীত ও ক্রীড়াকৌতুকাদি 
অনুষ্ঠিত হইত। বহুদূর হইতে অগণিত নরনারী এই রথযাত্রা উৎসর্ব দেখিতে সমবেত হইত। 
বৌদ্ধধর্মের ত্রিরত্ব ক্রমে ক্রমে মুক্তি পরিগ্রহ করিলেন এবং বুদ্ধের বামপার্থে ধর্ম স্ত্রীবেশে 
উপবেশন করিলেন ও সঙ্ঘ পুরুষবেশে তাহার দক্ষিণ স্থান গ্রহণ করিলেন। এই ত্রিমুত্তিই 
জগন্নাথ বলরাম ও স্ুভদ্রায় পরিণত হইয়াছেন। বৌদ্ধরথযাত্রা৷ জগক্লাথদেবের রথযাত্রা য় 
রূপান্তরিত হইয়া গিয়াছে। বৌদ্ধধর্মের পর বঙ্গদেশে শৈব ও হূর্য পূজার প্রচার হইয়াছিল। 
কেহ কেহ বলেন সৌরোৎসব সর্বাপেক্ষা আদি উৎসব এবং এই উৎসব হইতে অন্ঠান্ত উৎসবের 
উৎপত্তি হইয়াছে ।২ স্ুর্ধদেবতা অতি প্রাচীন কালেই শিবঠাকুরে রূপান্তরিত হইয়া যান।৩ 
এই শিবঠাকুরের উৎসব বহুকাল ধরিয়া বিচিত্ররূপে অনুষ্ঠিত হইয়া! আসিতেছে । শিবপুরাণ, 
ধর্মসংহিতা, সনতকুমার সংহিতা» বায়বীয় সংঠিত৷ ইত্যাদি পুরাণে নৃত্যগীতাদিসহ শিব-শক্তির 
উৎসবের কথ! বণিত হইয়াছে । “ফাল্তুনমাসে শিবের মহোৎসব, চৈত্রমাসে দোলোৎসব 
এবং বৈশাখে শিবের পুগ্পমহলয় উপলক্ষে শোভাযাত্রা বিধি দেখা বাঁয়। ৪ ধর্মসংহিতায় . 
শিবের সন্ধুখে নৃত্যগীত ও হান্য-কোতুকের বর্ণন। রহিয়াছে ।৫ 

শিবোতৎসবের ধারা ও প্রকৃতি আলোচন। করিলে প্রাচীন গ্রীক দেবতা [)197505 
এর সঙ্গে আমাদের শিবঠাকুরের আশ্চর্য মিল খুঁজিয়! পাওয়া যাইবে । শিব যে অনার্য 
সমাজ হইতে আসিয়াছেন তাহা পণ্ডিতদের আঁলোচন! হইতে আমর জানিতে পারিয়াছি। 


১। বৈদিক সমাজের যজ্ঞান্তে স্নান উৎসবের অনুষ্ঠান লইয়৷ একট। শোভ।ধাত্র। বাহির করিবার প্রথা 
প্রচলিত হয় নাই, ক্রমে সেই 'অবিভৃথ' ম্লান ব্যাপার লইয়া রাজারা যথেষ্ট শোভাষাজা। ও উৎসবের আয়োজন 
করিলেন। পল্লীসমাঁজ ধীরে ধীরে রি প্রক!র শেভাবাঞ্জা বিবিধ উৎসবের অঙ্গীভূত হইয়া! থাকিবে । 
আস্ের গন্তীরা_হরিদাস পালিত, পৃং ১৫৭ । 
২। 'বাস্তবিক প্রায় সকল প্রার্টীন উৎসবেরই আদি ভিত্বি নৌরোৎসব । হূর্ষের যাত্রা উপলক্ষা করিয়া এই 
নকল উৎসব হইত এবং উহ।দের প্রধ।ন অঙ্গ নাট্যাভিনয় ছিল বণিয়। নাট্যাভিনয়ের নাম 'যাঞ্া” হইয়।ছে,। 
বাংল। নাটকের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ-_মন্সথ মে(হন বন্ধ, পৃঃ ৪১ 





৩। এ, পৃঃ ৪১ ভষ্টব্য। 
৪। আগের গন্ভীরা, পৃঃ ২৮৭। 
৫। 'কুদ্্ং গায়স্তি নৃত্যন্তি সর্বাঃ কপটমাতরঃ। 
ককাচিদ্‌ গায়গ্তি নৃত্যন্তি রময়স্তি হসস্তি চ॥ ধর্মসংহিতা, ৫৫ 


৬ ধাংল! নাটঠকর, ইতিহাস 


কালক্রমে আধসমাজে তিনি যতই আর্ধরূপ লাভ করুন না কেন লৌকিক উৎসব অনুষ্ঠানে 
তাহার আদি অনার্ধরূপ অবিকৃতরূপে চলিয়া আসিয়াছে । শিবের ছড়া, ' শিবায়ন, 
মঙ্গলকাব্য প্রভৃতিতে তাহার এই অনা্ধ গ্রাম্য রূপই পরিস্ফুট হইয়াছে। 

শিবঠাকুর শস্টোৎপাঁদক কুষক-দেবত1।১ গ্রামের কৃষক নরনারী আনন্দোৎসবের মধ্য 
দিয়। তাহাকেই বন্দন! জানাইত। গ্রীকদেবতা [3$97,99১ও এরূপ একজন গ্রাম্য শম্তয- 
দেবতা |।২ শিবের ন্যায় [0190553১ও লিঙ্গমৃত্িতে পৃজিত হইতেন। শিব গঞ্জিকা ও 
সিদ্ধিসেবী, 1090558১ও আসবদেবত।। [0190%585$এর শীতকালীন উৎসব হইতে 
কমেডি,৩ এবং বসস্তকালীন উৎসব হইতে ট্র্যাজেডির উৎপত্তি ।৪ শিবোৎসব হইতেও ক্রমে 
ক্রমে নাটক ও যাত্রার উদ্ভব হইয়াছিল এ অনুমান অসঙ্গত নহে ।৫ 

. শিবোৎসব বতমনে গম্ভীর ব| গাজন উৎসবে পরিণত হইয়াছে । গম্ভীর উৎসবে 

নৃত্যগীত, শোভাযাত্র! ও সাঁজসজ্জাসহকারে নান। রওতামাস! দেখান হইয়। থাকে । গম্ভীরা- 
মণ্ডপে ভূত, প্রেত, রাম লক্ষণ, তন্ন, শিবদুর্গ, বুড়াবুড়ী নৃত্য ইত্যাদ্দি কৌতুককর অনুষ্ঠানের 
আয়োজন হয়। এই সব অনুষ্ঠানে নানাগ্রকার মুখ। বা মুখোস ব্যবহৃত হয়। “হনুমান-মুখা- 
অনুষ্ঠান গম্ভীর! উৎসবের এক প্রধান আমোৌদ-অঙ্গ। নৃত্য-গীত ও হাশ্কৌতুকপূর্ণ এই 
গম্ভীরা-উৎসবের মধ্যে যাত্রার আদি উপাদান নিহিত রঠিয়াছে এই ধারণা অমূলক নহে। 

মঙ্গলগান, লোকসঙ্গীত, পালাগান প্রভৃতির মধ্যে যাত্রার অস্কুর বিদ্যমান ছিল। 
রামাই পণ্ডিতের শুন্তপুরাণে নৃত্য ও গীতোত্সবের পরিচয় পাওয়া যাঁয়। ধর্মমঙ্গল কাব্য- 
গুলিতে ধর্মপূজ। উপলক্ষে গীতবাচ্ঠ ও নৃত্যান্টষ্টীনের বিবরণ নিবদ্ধ রহিয়াছে ।৬ মঙ্গলচণ্ডীর 
পূজাতেও নৃত্যগীতের প্রচলন ছিল। “চাঁমর, মন্দির।, খোল, তানপুর! লইয়। মঙ্গলচণ্ডীর গান 
হইত । মুলগাঁয়েন, দোভারগণ' ও বায়েন এই গীতের প্রধান অঙ্গ ছিল। মুলগীয়েন ও 
দোহাঁরগণ মন্দির লইয়। তালে তালে নাচিত এবং গান গাঁছিত ।৭ মনসার ভাসান ও খোল 


১1 একটি গম্ভীর! গানে কৃষক শিবের কৃষিকর্মের চিত্র অঙ্কিত হইয়াছে-_ 
বৈশাখ মাসে কৃষাগ ভূমিতে দিল চাব। 
আবাঢ় ম।সে শিবঠাকুর বুনিলেন কার্পাস ॥ 
২। 49 ৮০ 006 6৮000005801 19898058888, 1১০ 085 65560018115, 11) 0116 0118187801 501896])- 
61019, 9 77018) £০০--0 £০ 01 06598, 8100. 78109, 8700. ৮০£০691)16 1)1001166 ০1 5৪110118 
801)09, 
111৮6 2020 27700 ০/ 06 0768753 105 &, 15 11518) (95197, 0.5. 
৩। 106 71105 158015215 876 89909012060 ৯/1610 0186 101708 0£ 00170605. 
11050, 1), 13, 
৪1 11196 6:70 01870997055 98052080015 6০0০ 09০5৫ 1080৮ 6০ 6175 ৪100178 
1291158]8 ০0% 0)101)58118, |). 2১. 
€। “আমাদের দেশে যে শিবোৎসৰ উপলক্ষেই ন।টকের সৃষ্টি হইয়াছিল তাহ! শিবঠীকুরের নটরাজ, 
নটেশ, নটনাথ, মহানট, আদিনট, প্রস্তুতি ন।ম হইতেই বেশ বুঝা বায় ।__বাংল! নাটকের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ, 
2৯ 
৬ পপুলকে প্রণাম থাটে পদ্য ব।গ্য গীত নাটে 
যোগ যজ্জে জাগিল ঝ।মিনী ।' -_-ঘনর।মের ধর্মমজল । 
৭। আছ্যের গম্ভীর, পৃঃ ৩০২ । 


জবতয়পিক। ৭ 


মন্দিরা লইয়! পূর্ববঙ্গের গ্রামে গ্রামে গাঁওয়! হয়। এই ভাসান গানের গায়কগণ বেহুলা- 
লখিন্দর কাহিনীর বিভিন্ন চরিত্রের অনুরূপ বেশতূষায় সঙ্গজিত হইয়া আসরে নাচিয়া গাহিয়। 
থাকে । জয়দেবের গীতগোবিন্দ ও বড় চণ্তীদাসের শ্ররীকুষ্ণকীর্তনে” কঞ্চলীলার আদি 
নাট্যরূপের সন্ধান পাওয়া নায়। এই কাব্যগুলির গান ও সংলাপ হইতে পরবর্তী কালের 
যাত্রাগানের যে প্রেরণা আসিয়াছিল তাহ! নিঃসন্দেহে বল! যায়। রুষ্ণলীলাবিষয়ক ঝুমুর ও 
ধামালী গানেও লৌকিক নৃত্যগীতের ধার! প্রবাহিত হইয়াছে ।১ এই সব নৃত্যগীতের প্রভাব 
যে যাত্রার উপর বিস্তৃত হইয়াছিল তাহাও অন্গমান কর! চলে। রামায়ণ মহাভারত হইতে 
বিভিন্ন করুণ ও হাশ্যমূলক ঘটনা অবলম্বন করিয়া! লৌকিক গান ও অভিনয়ের ধারাও বহু 
প্রাচীন কাল হইতে বাঙালী জনগণের মানসক্ষেত্রকে রসপ্রাবিত করিয়া আসিয়াছে । 
মঙ্গলগান ও রামায়ণ মহাভারত প্রতৃতি পূর্বে পাঁচালী ছন্দে গীত হইত। পাঁচালীর 
দুই অঙ্গ__গান-ও ছড়া বা পয়ার ।২ গানের মুখটুকু ধ্নব বা স্থিরপদ মার বাকিটুকু অন্তর] । 
ছড়া বা বর্ণনাময় অংশ গায়ক দ্রুত আবৃত্তি করিয়। যাইত। মূল গায়কের ডান হাতে 
মন্দিরা, বাঁম হাতে চাঁমর ও পায়ে নূপুর থাকিত। তাহার সহিত দোহার ও মৃদঙ্গবাদকও 
থাকিত। প্রথমত পাঁচালীর জধ্যে একজন মূল গায়ক গাঁন করিত। কিন্তু ক্রমে ক্রমে 
পাচালীর প্রসার ও পালাগানের দীর্ঘতাঁর ফলে একজনের স্থলে দুই বা ততোধিক গায়ক 
ও অভিনেতার আমদানী হইতে লাগিল। এইভাবে পাঁচালীর বৈচিত্র্য ও বিস্তৃতি 
ঘটিতেছিল এবং কালক্রমে এই পাঁচালী হইতেই জনপ্রিয় যাত্রা-গানের উদ্ভব হইল।৩ 
উনবিংশ শতাঁবীতে নব্য পাঁচালীর জন্ম হইয়াছে । এই পাঁচালীর ধারা উদ্ভূত হইয়াছে কীর্তন 
গান হইত । 
যাত্রার উদ্ভব ও বিকাশ কি ভাবে হইয়াছে উপরে তাহার আলোচনা কর! ছল 
বাংল! যাত্রার আদি উপাদান কোথায় কোথায় নিহিত ছিল তাভাও উল্লেখ কর! 


১। একটি ঝুমর গানের পরিচয় দেওয়া ধাক। মানিনী রাধিকা কোপ করিয়। বলিতেছেন-_ 
'ছুয়োনা ছু যো না কপট জামারে পাঁপিনী সম্ভোগ করেছে তোমারে 
ধিক হে নিঠুর কাল | 
শুনহে অশুচি! উচ্ছিষ্টেতে রুচি, 
ন। কয়ে ব্রজেন্ত্র বাল! হে॥ 
অনুতপ্ত কৃষ অনুতাপ করিয়া! বলিতেছেন-__ 
“তোমা বিনে বিধুষুখি ! চারিদিকে শুষ্ক দেখি 
প্রাণ বিরহে আালায় রে। 
ফুলশরে হানে হিয়। পরে মোরে জোরে মদনার রে ॥ 
ঝুষর রসমপ্ররী--ভববীতানন ওঝ। | 
২। 'পাঁচালীতে গান থাকে ওছড়। বা পরার থাকে । ইহাতেই সাধারণ ভাবায় বলে, খানিক ভার 
রাগ রাগিণী আর খানিক তার মুখজবানী ।* স্জয়দেব" অন্দরচূর্ সরকার । 
৩। প।চালী হইতেই বাঞঙ্জার উদ্ভব, ৷ 
স্পাঙ্গালী সাহিতে"র ইতিহাস (২র সং) ডাঃ হুকুমায় লেন, পৃঃ ৫৫৯। 
৪। 'পাঁচালীর সহিত কীত'ন গানের তফাৎ হইতেছে যে পাঁচালীতে গারন জঙ্গতজি করিত, কখমো৷ কখনো 
পাজপাজীর সাজও সাঁজিত এবং মধ্যে মধ্যে হীন্তরসের ঈজবত।যণ। করিত । »-৪, পৃঃ ৯৫৯ ৪ 


৮ বাংলা নাউকের ইতিহাস 


হইয়াছে। চৈতগ্যদেবের পূর্বে যে যাত্রীর অভিনয় হইত তাহার প্রমাণ আমরা চৈতন্য 
ভাগবত প্রভৃতি গ্রন্থে পাইয়াছি। তবে এই যাত্রা! কিরূপ ছিল তাহ৷ ভালভাবে জানিবার 
উপায় নাই । নাটকের অন্থকরণে এই যাত্রার উদ্ভব হইয়াছিল এবং সম্ভবত কীর্তন ও 
কবিগানের গ্রচারের?ুফলে ইহা লুপ্ত হইয়। গিয়াছিল। 

মহাপ্রভু প্রচারিত বৈষ্ণব ধর্মের অত্যুত্খানের পৰে আমাদের দেশে যেমন শাক্জধর্ম 
প্রভাবশালী ছিল, তেমনি এই ধর্মের মহিমীজ্ঞাপক শক্তিযাত্রীসমূহ দেশের মধ্যে প্রচলিত 
ছিল।১ মহীপ্রভূর সময়ে বৈষ্ণবধন্মের অভ্যুদরয়ের সঙ্গে সঙ্গে কৃষ্যাত্র। দেশের সর্বত্র ব্যাপ্ত 
হইতে থাকে । এই কষ্থযাত্রীসমহ সর্বসাধারণের প্রাণরসের সহিত যুক্ত ভইয়। দেশের জাতীয় 
অনুষ্ঠানের রূপ লাভ করে। গীতিমূলক, ভক্তিরসাত্মক বৈষ্ণব ধর্মের দ্বারা পুষ্ট হইয়াছিল 
বলিয়া যাত্রার মধ্যে গান এবং ভক্তিরসের আধিক্য পরিলক্ষিত । অবশ্য এই গান ও ভক্তির 
আতিশধ্য যাত্রার নাটকীয় উপাদান গড়িয়! উঠার পক্ষে বিশেষ অন্তরায় হইয়াছিল বটে»২ 
কিন্তু সঙ্গীতরসলিগ্স, তক্তিভাবাপ্ুত জনগণ এই বাত্রীকে তাহাদের মনোভাবের পোষক 
বলিয়। বরণ করিয়া লইল। 

বৈষ্ণবগ্রস্থসমূহে লিখিত আছে বে, মহা প্রভু স্বয়ং যাঁত্রাগানের অনুষ্ঠান করিতেন। 
“চৈতন্য মঙ্গল" এবং “চৈত্ন্ত ভাগবতে+ আছে যে চন্ত্রশেখরের গৃছে তিনি সপারিষদ কৃষ্ণলীল। 
অভিনয় করিয়াছিলেন। “চৈতন্য চরিতামৃতে, আছে' যে তিনি শ্রীবাস আঁচার্য্যের গৃহে 
একদিন রুষ্ণলীল! প্রকট করেন । নীলাচলে থ|কিবার সময়েও তিনি অহোরাত্র নৃত্যগীত 
অভিনয়ে বিভোর থাকিতেন। চৈতন্যদেবের এইক্বপ অভিনুয়লীল৷ দর্শনেই কিছু পরবর্তী 
কালে যে বৈষ্ণব গোস্বীমীগণ সংস্কৃত ভাষায় নাটক রচন। করিতে আরম্ভ করেন এই ধারণ! 
অমূলক নহে ।৩ রূপ গোস্বামী, কবিকর্ণপুর প্রভৃতি প্রসিদ্ধ বৈষ্ঞব্দের নাটকসমূত বাংল! 
ভাষায় অনুদিত হইয়াছিল বটে, কিন্তু ইহাদের ব্যাপক অভিনয় ও প্রভাব কখনও দেখা 
যায় নাই । স্কুতরাং বাংল! নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে ইহাদের মূল্য বেশি নয় । 

মহাপ্রভুর পরে কষ্ণলীলাবিষয়ক যাত্রাকে “কালীয় দমন? এই সাধারণ নামে অভিহিত 
করা৷ হইত। খুষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দী হইতে এই যাত্র! বিশেষ প্রসার লীভ করিয়াছিল । আদি 
যাত্রাওয়ালাদের মধ্যে শিশুরাম, পরমানন্দ অধিকারী, স্থুদাম অধিকারী প্রভৃতির নাম প্রসিদ্ধ । 
তবে এই সব যাত্রাওয়ালাদের যাত্রার কোনে। উল্লেখযোগ্য নিদর্শন বর্তমান নাই। 


১7 ৮1106 9110161)6 96285 0096 ০০ 01658121710 ঠা 135065] 65 89006 00৪ 001৮ ০1 
5৪0 08911), 8100. 06510 10817915100 005 06200 0£ 88,10101)1, [18910101)0, 0 01 01101 
£801:89. 119 15280591206 (০01. 1) 05 17. [ঘি . 1088 901)69, 0), 112. 

২। 1196 10010061165 01 39181090182) (156166016, স৪নি 108২015 5০02:91015 69. 0109 
06561007069 01 0106 10019675706 008709610 6161067)08 ০? 006 9078 7 0) 006 ০001062 109700 1 
0106281160 19 22)09108] 1)০00011970068, (065610]920 166 1061001:9777960 6517061505, 870. 
67001798180 165 1:61181008 0)1০016061010৮, 

708770005 56670676 80 676 19. ০০%/৮0 005 1)7. শি, 2৫০ 299, 000, 449-450. 

৩। যদিও আমর! চৈতষ্ঠের সমসাময়িক বা তদভিনীত কোন-নাটকের নিদর্শন পাই নাই, তথাপি বলিতে 
পারি থে, প্রীচৈতন্যের প্রাণোম্মাদকর কৃষ্ণলীলা-গীতির অভিনগন সন্গর্শন করিয়। বা তদ্বিবরণ অবগত হইয়া তৎপরব্তা 
বৈষব গ্রস্থকারগণ নাটক রচনা করিতে মনে]যোগী হয় যাআ্রা--বিশ্বকোষ । 


অবভতরণিক। ৯ 


€(খ) কালীয়দমন 

কালীয়দমন যাত্রার১ প্রবর্তন করেন শিশুরাম। জয়দেবের জন্মভূমি বীরভূম জেলার 
কেন্দুবিবব গ্রামে শিশুরামের বাসস্থান ছিল। বাংল! সন ১১৫০ সালের কাছাকাছি সময়ে 
শিশুরাম বিগ্যমান ছিলেন। শিশুরামের শিশ্য ছিলেন পরমাঁনন্দ অধিকারী । বীরতূম জেলার 
অন্তর্গত “রামবাটী” গ্রামে পরমানন্দ বাঁস করিতেন। পরমানন্দ তাহার যাত্রায় ব্যাসদেবকে 
আমদানী করিয়া কিছু বৈচিত্র্য সম্পাদন করিয়াছিলেন। গৌরাঙ্গবন্দনার পর কিছুক্ষণ 
ব্যাসদেবের রসিকতা চলিত ৷ তাহার পর শ্রীকৃষ্ণ, নারদমুনি অথবা কোন গোঁপী আসিয়৷ 
তাহার সহিত যে আলাপ স্থুরু করিতেন তাহ! হইতেই কোন্‌ পালার অভিনয় হইবে তাহ 
জান! যাইত.। পরমানন্দের পর শ্রীদাম-স্থুবলের যাত্রা বিশেষ খ্যাতি অর্জন করিয়াছিল। 
শ্রীদাম-নুবলের শিল্ক ছিলেন বদন। তিনি হাওড়ার নিকটবর্তী শালকিয়! গ্রামে বাস 
করিতেন। কৃষ্ণপ্রেমিক ভাঁববিভোর বদন কৃষ্ণলীল! আস্বাদন করিতে করিতে ভাবাশ্রধারায় 
ভাসিয়া যাইতেন। দান, মান ও মাথুর লইয়! বদনের যাত্রীর পাঁলা গঠিত হইয়াছিল। 
লোচন অধিকারীর “অক্রুর সংবাঁদ' ও “নিমাইসন্গ্যাসও, বিশেষ প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছিল । 

বদন ও লোচনের পর গোবিন্দ অধিকারী যাত্রাগানে সারা বাংল! দের্শের মধ্যে এক 
প্রবল উন্মাদনা আনয়ন করেন। গোবিন্দ দূতী সাজিয়! স্বয়ং গানের আসরে দেখ! 
দিতেন। তিনি নৌকাবিলাস পালার প্রথম রচয়িতা । নৌকাবিলাস বিশেষ জনপ্রিয়তা 
লাভ করে। গোবিন্দ অধিকারী দ্বারা অনুপ্রাণিত হইয়! কাটোয়া নিবামী পীতান্বর 
অধিকারী ও শ্রীরামপুর বাসী রাধারুষ্খ দাস যাত্রাগান রচনা করিয়াছিলেন। রাধারুষ 
দানখণ্ড পালা যোগ করিয়া! খুবই খ্যাতি অর্জন করিয়াছিলেন । গোবিন্দ অধিকারীর 
শিষ্ত নীলক মুখোপাধ্যায়ও প্রসিদ্ধ যাত্রাওয়াল! ছিলেন।২ গোবিন্দের দলে শিক্ষা লাত 
করিয়া পরে তিনি নিজেই স্বতন্ত্র দল গঠন করেন। নীলক্ঠের অপর দুই তাই শ্রীক্ঠ ও 
সিতিক্ও যাত্রাগাঁন করিতেন। নীলকণ্ঠ কয়েকদিন ধরিয়া মান ও মাথুরলীলা গাহিতেন। 
কংসবধ, চণ্ডালিনী উদ্ধার, যযাঁতির যজ্ঞ প্রভৃতি কয়েকটি পাঁলাও তিনি রচনা করেন। তিনি 
ভক্তহৃদয় স্বভাবকবি ছিলেন । 

গোবিন্দ অধিকারীর সমসাময়িক আর ছুইজন যাত্র!-রচয়িতার অসামান্য প্রভাব ও 
জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে উল্লেখ করা প্রয়োজন--একজন কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য অপরজন মধুসূদন 
কান। কৃষ্ণকমল পূর্ববঙ্গের অধিবাসী না হইলেও পূর্ববঙ্গের যাত্রাগানের উপর তাহার 
প্রভাব অসাধারণ। তাহার রাই উদ্মাদিনী, শ্বপ্লবিলাস, বিচিত্র বিলাস প্রভৃতি পালাগান 
পূর্ববঙ্গের আবালবৃদ্ধবনিতাঁকে ভাবের বন্তায় প্লাবিত করিয়৷ ফেলিয়াছিল। ভাববিহ্বলা . 


১। 'থাঁয় আড়াইশত বৎসর পূর্বে কীর্তন, মঙ্গলগান ও ঝুমুর মিশাইয়। নাটকের অনুসরণে বর্তমান কালীয়- 
দমন ঘাত্রার সি হয়।, 
কালীয়দমন যাত্র। ও নীলকণ্ঠ_হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় (শারদীয় যুগান্তর, ১৩৫৯ ) 
২। নীলকণ সম্বন্ধ প্রযুক্ত হরেকৃফ মুখোপাধায় ১৩৫৯ সালের শারদীয় যুগীস্তরে বিস্তৃত আলোচন! করিয়াছেন। 
৮. 


১০ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


বিরহাঁতুরা রাধার যে চিত্র তিনি অঙ্কন করিয়াছেন তাহা অশ্রকরুণ বাঁঙাঁলীর হৃদয়ে চির-অক্িত 
হইয়া আছে। 

মধুক্দন কাঁনের ঢপ-কীর্ভন তৎকালীন জনচিত্তে বিশেষ রুচিকর হইয়া উঠিয়াছিল। 
তিনি “অক্রুর সংবাদ, “কলঙ্কতঞ্জন” “মাথুর”, প্রভাস" প্রভৃতি পাল! প্রণয়ন করিয়াছিলেন। 
“মাথুর' পালার একটি পদ উদ্ধৃত হইতেছে__ 


কোন্‌ গুণে আর কর হে গুণ, গুণ, 
রে নিগুপ অলি। 
এগুণে যে বাড়ে আগুন, 
আমর দ্বিগুণ জালায় জলি। 
যার গুণেতে তুমি গুণী, হারায়েছি সেইগুণী, 
সদা মরি সে আগুনি, 
আবার কি গুণগুণ শুনালি ॥ 


মধুন্থদন বিনে ভূঙ্গ হতেছে বিহ্বল, 
মধুহ্ছদন বিনে মধুর আঁশ! ত বিফল, 
তবে কেন মধুকর, বৃথা মধু মধু কর, 
যাওনা কেন মধুপুর সেখানে মধু সকলি॥ 
ও তূঙ্গ ত্রিভঙ্গ বিনে সকলি বিগুণ, 
যে ছিল অতি নিগুণ বেড়েছে তাঁর গণ, 
আমর! সব হয়েছি নিগুণ 
কেল্ল বৃদ্ধি বিচ্ছেদ-_আগুন, 
সদন কয় জুড়াবে আগুন যদি এসেন বনমালী ॥ 


কৃষ্গাত্রা তৎকালে অধিক প্রচলিত হইলেও রামযাত্রা, চণ্তীষাত্রা, মনসার ভাসান-যাত্রা 
প্রভৃতিও কিছু কিছু প্রচলিত ছিল। বীকুড়ার অন্তর্গত রাঁমজীবনপুরবাপী আনন্দ ও 
জয়চন্দ্র অধিকারীর “রামযাত্রা” ফরাসডাঙ্গার গুকুপ্রসাদ বল্লভের *চণ্তীষাত্রা, এবং লাউসেন 
বড়ালের “মনসার ভাসাঁন” এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য । তখনকার যাত্রার মধ্যে বেশভৃষাঁর 
কোন নিখুত পারিপাট্য ছিল না। “সাঁজের মধ্যে কৃষ্ণের পীতধড়া ও চূড়া এবং যশোমতী 
বৃন্দাদি সখী ও গোপবাঁলকগণের পরিধেয় একটা রঙ্গিন কাঁপড়ের ঘেরাটোপ ( কতকাঁংশে 
চোগাঁর মত), তাহার সম্মুখের ছুই পার্ষে পেশওয়াঁজের ন্যায় জরির পাড় বসান থাকিতগ+১ 
বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে খোল, করতাঁল ও বেহাঁল! ব্যবহৃত হইত। অভিনয়ের সময় সর্বত্রই একটা 


অবতরণিক। ১১ 


€ গ) সখের দল 

কাঁলীয়দমন যাত্রার পরে উনবিংশ শতাববীর গোঁড়ার দিকে সখের যাত্রীদলের প্রচলন 
হইল। এই নূতন যাত্রার মধ্যে ক্রমে ক্রমে নাটকীয় উপাদান প্রবেশ করিতে লাগিল। 
দেবকাহিনী বর্ধন করিয়। মানবীয় কাহিনী অবলম্বনের দিকে এই যাত্রার প্রবণতা দেখা গেল। 
মানবীয় কাহিনীর মধ্যে বিগ্যাস্থন্দর কাহিনীই যাত্রাওয়ালাদের মধে সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় হইয়। 
উঠিল । বিদ্যান্থন্দর যাত্রার সঙ্গে সঙ্গে খেমটা নাচ প্রবর্ঠিত হয়। বিদ্যা, মালিনী, রাধা, 
সীতা, রাম, কৃষ্ণ, কেহই নাচের আসরে বাঁদ পড়িতেন না। অশ্লীল ও রুচিবিগর্হিত সঙ্গীত 
ও হাঁবভাব এই যাত্রীগানের অঙ্গ ছিল। 

বরাহনগরের ঠাকুরদাঁস মুখোপাধ্যায় প্রথম বিগ্যা্তন্দর দল গঠন করেন । ঠাকুরদাসের 
মৃত্যুর পর তাহার সম্প্রদায়ের ঢুলী রামধন মিল্ত্রী নৃতন দল গঠন করেন। ইহার পর 
প্যারীমোহনের বেলতলার দল প্রসিদ্ধি অন করিয়াছিল । এই দল প্রথমে “নলদময়ন্তী, 
ও পরে “বিগ্যাস্থন্দর” অভিনয় করে । 


প্যারীমোহনের যাত্রার দ্বারা অন্সপ্রাণিত হইয়া অনেকেই বিগ্যাস্থন্দর অভিনয়ে উদযোগী 
হইয়! উঠিলেন। তাঁহাদের মধ্যে শ্টামবাঁজারের নবীনচন্দ্র বন্থুর নাম উল্লেখযোগ্য । নবীননন্ত্ 
বিদ্যাস্থন্দরের বহু দৃশ্ঠ চিত্রায়িত করিয় দর্শকদের সম্মুখে উপস্থাপিত করিয়াছিলেন ৷ নাটকীয় 
দৃশ্যের অনুকূল আবহ শব স্া্ট করিয়া তিনি অভিনয়ে বাস্তবতা আনিয়াছিলেন। তিনিই 
সর্বপ্রথম রঙ্গমঞ্চে স্ত্রীলোক লইয়া অভিনয়-ধারার প্রবর্তন করেন। 

ইহার পর গোঁপাঁল উড়ের বিদ্যাস্থন্দর অভিনয়ের নাম করিতে হয়। গোঁপাল প্রথমে 
সখের দল আরম্ভ করিলেও শেষকালে তাগর দল পেশাদারী হইয়া উঠে। কাশীনাথ 
নামক একজন প্রসিদ্ধ গায়ক ও নর্তক গোপালের দলে ছিল। সমসাময়িক টুটকীরসের 
থরিদ্দারদের কাছে গোপালের গানের কাটতি ছিল অজস্র । 

গোপালের শিষ্ত কৈলাসচন্দ্র বারুইয়ের যাত্রীদলও বিশেষ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তৎকালে 
কবিদের হাতে স্বভাববর্ণনা কিরূপ হাক্কা ও হাস্যকর হইয়া উঠিত তাহার একটি দৃষ্াস্ত 
কৈলাসের রচনা হইতে দেওয়া যাইতেছে-_ 

“গা! তোলরে নিশ! অবসান প্রাণ । 
বাঁশবনে ডাকে কাক, মালী কাটে কপিশাক, 
গাধার পিঠে কাপড় দিয়ে রজক যায় বাগান ।১ 

এই সব প্রসিদ্ধ যাত্রাওয়াল! ছাঁড়া আরও বহুতর খ্যাত ও অখ্যাত যাত্রাওয়াল৷ বিগ্যাস্ুন্দর 
পালার অভিনয় করিতেন । তীহাদের মধ্যে কেহ কেহ পেশাদারী দলও গঠন করিয়াছিলেন । 
যাত্রার পরবর্তী পর্বের নাম অপেরা ব। গীতাভিনয় ৷ সেই পর্বের ধারা বর্তমান কাল পর্যস্ত চলিয়! 
আসিয়াছে । 

* (ঘ) যাত্রার বিকৃতি 
ভারতচন্ত্রের পরে আমাদের সাহিত্যের ধার! বিকৃত এবং নিম রুচির খাতে বহিতে 


১২ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


লাগিল। মুসলমান রাজত্বের অবসান হইয়াছে, অথচ ইংরাজ শাঁসনও দেশের মধ্যে প্রতিঠিত 
হইতে পারে নাই । রাজ্যের মধ্যে অরাজকতা, সমাজের মধ্যে বিশৃঙ্খলা এবং লোকের মনে 
শৈথিল্য এবং অনাস্থা বাস করিতেছে । এই রকম অবস্থার মধ্যে কোনো স্থায়ী গ্রতিষ্ঠাসম্পন্ন 
সাহিত্যের উৎপত্তি হইতে পারে না, এবং ভারতচন্দ্রের পরে সেই কারণেই বহুদিন পর্যন্ত 
কোনো! শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকের অভ্যুদয় হয় নাই । অথচ দেশের লোকের রসপিপাঁসা বর্তমান, 
তাহাই মিটাইযার জন্ত এই সময়ে কবি, পাঁচালী, তর্জা, আফ আখড়াই এবং যাত্রা প্রভৃতি 
গানের ব্যাপক চর্চা হইতে লাগিল। এই সব গানের রচয়িতারা ভারতচন্ত্রের সাহিত্য-আদর্শ 
গ্রহণ করিয়াছিলেন। অথচ গুরুর কবিত্বশক্তি, এযং রচনানৈপুণ্য তাহাঁদের মধ্যে ছিল না, 
কিন্ত গুরুর অঙ্গীলতা অবাধ এবং অপরিমিত প্রশ্রয় পাইয়! তাহাদের সাহিত্যের হাট জমাইয় 
রাখিল। নিয়রুটি গ্রন্ত দর্শকবৃন্দও এই বিকৃত রস-প্রবাহে মনের আনন্দে সীতার কাটিতে 
লাগিল। রুচি এবং শালীনতার লেশটুকু পর্যস্ত তাহার! নিবিকার চিত্তে নির্বাসন দিয়াছিল। 
তখনকার যাত্রাও সাহিত্যের এই সর্বাঙ্গীন বিকৃত অশ্লীলতার সহিত যোগ রক্ষা করিয়াছিল। 
শিথিল কাহিনী অবলম্বন করিয়। দূর্বল অভিনয়ের মধ্য দিয়া যাত্রাওয়ালারা লৌকের ইতর 
প্রবৃত্তির বিকৃত গরিতৃপ্তি সাধন করিয়া চলিল। কিন্তু ইহ! নিঃশেষের পূর্বলক্ষণ ৷ দেশের 
লোক চিরকাল এই ধরণের অস্বাভাবিক রস গ্রহণ করে না । ইংরাজ প্রভাবের সঙ্গে সঙ্গে 
পাশ্চাত্য শিক্ষা ও রুচির সংস্পর্শে আসিয়! দেশের লোকের চাহিদা ও রসবোধ ক্রমে ক্রমে 
বদলাইতে লাগিল । মাঞ্জিত এবং উন্নত আমোঁদ উপভোগের ইচ্ছ। তাহাদের মনে জন্মিতে 
লাগিল । থিয়েটার এবং নাটকের মধ্যে সেই ইচ্ছ! চরিতার্থ হইল। সেই ইতিহাস আমরা 
পরে আলোচনা! করিব। 


(উ) অপেরা! ব৷ গীতাভিনয় | 

রঙ্গাঁলয় প্রতিষ্ঠা এবং নাটকের অভিনয় সু হইবার পরে যাত্রার জনপ্রিয়তা কমিয়া 
গেল, অথচ একেবারে লুপ্ত হইল না। নাট্যশালা স্থাপন বহু আয়াস এবং ব্যয়সাধ্য ছিল, 
সকলের দ্বার! এবং সর্বত্র ইহা! সম্ভব ছিল না। তখন রঙ্গমঞ্চে-অভিনীত নাটকের অনুকরণে 
এক নূতন ধরণের যাত্রার উদ্ভব হইল। এই যাত্রীর মধ্যে সুসমঞ্জস কাহিনী, এবং নাটকের 
ন্যায় অঙ্ক ও দৃশ্যবিভাগ সবই ছিল। তবে ইহা! প্রকাশ্থ স্থানে দৃশ্ঠপট-বিরহিত হইয়া অভিনীত 
হইত, এবং ইহাঁতে সঙ্গীতের আধিক্য লক্ষ্য করা যাইত। এই নূতন প্রকৃতি-বিশিষ্ট যাঁর 
অপেরা বা গীতাভিনয় নামে প্রসিদ্ধি লাভ করিল।১ বর্তমানেও এই জাতীয় যাত্রার 
অভিনয়ই দেশের মধ্যে হইয়া থাকে। 

১। ইংরেজি ৪৪৫০ ব। রঙ্গমঞ্চের অভিনব্তা বাঙ্গালা নাটকে জনপ্রিয়তার প্রথম এবং প্রধান হেতু ।" 
অথচ রঙ্গম্ধ খাড়ী করিতে ঘে পরিমাণ অর্থ ও সামর্থা প্রয়োজন তাহ সর্বত্র সব সময় সুলভ ছিল ন1। এই 
অগ্থবিধা এড়াইবার জঙ্কই নুতন পদ্ধতির যাত্রার সৃষ্টি হইল, এই যাত্র। গান নাটক অভিনয়-পদ্ধতিরই অনুরূপ, 
কেবল রঙ্গমঞ্চ নাই এবং সঙ্গীতের বাহুল্য আছে । দৃগ্ঠপট প্রভৃতির অভাবের ক্ষতিপূরণ হইত দীর্ঘ স্বগত অথবা 


প্রকাস্ উক্তি ছারা । উনবিংশ শত।বীর সপ্তম দশকের গোড়ায় নৃতন যাত্রা-পদ্ধতির-_গীত।ভিনয়ের প্রবর্তন হইল | 
বাঙ্গাল! সাহিত্যের ইতিহাস (২য় খণ্ড) -ডাঃ সুকুম।র দেন, পৃঃ ১*৭। 


জবতরলিক৷ ১৩ 
(চ) যাত্রার বৈশিষ্ট্য ও প্রভাব 


বহুকাল পূর্বে যাত্রার প্রচলন হইয়াছিল, অথচ এখন পর্যন্তও ইহা একেবারে লুপ্ত 
হইল না। নানা সময়ে নান! রূপান্তরের মধ্য দিয়া ইহা এখনো টি*কিয়। রহিয়াছেঃ অথচ 
ইহার ছুই আধুনিক প্রতিদন্দী- আভিজীত্যগর্ধিত থিয়েটার এবং যন্ত্রচালিত সিনেমা! ইহা 
অপেক্ষা বহুগুণ শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী। ইহাঁতে মনে হয় আমাদের দেশের সত্যকার 
জাতীয় আনন্দ বিতরণ করিতে পারিয়াছে যাত্রা ;) থিয়েটার নয়, সিনেমাও নয়। মুষ্টিমেয় 
শহরবাসীর কথা বলিতেছি না, দেশের যে সমাজ গড়িয়া উঠিয়াছে অগণিত নিরক্ষর কৃষক ও 
শ্রমজীবিদের দ্বারা--তাহাঁরা আঁজও পর্যন্ত তাহাদের প্রাণরসের সন্ধান পাইতেছে এই যাত্রার 
মধ্যে। আঁজও দেখিতে পাই কোনে উৎসব বা ক্রিয়াকর্ম উপলক্ষে তীর্ঘযাত্রীর আগ্রহ 
লইয়! দূর দূরান্তর হইতে কাতারে কাতারে লোক আসিয়া জড় হইতেছে। বাধাবিদ্ব, 
প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিছুতেই তাহাদের উৎসাহ দমিত হইতেছে না। স্বপ্লালোকিত বিস্তীর্ণ 
মাঠ বা ময়দাঁনে অনাবৃত আকাশ তলে সহন্্র সহন্র দর্শক প্রতীক্ষা-ব্যাকুল চিত্তে অবিচলিত 
ধৈর্যে অভিনয় দেখিয়া যাইডেছে। অভিনেতাদের মধ্যে অধিকাংশ তাহাদেরই মত নিরক্ষর-. 
তাহাদের উচ্চারণ অশুদ্ধ, কণ্ঠস্বর কৃত্রিম, অঙ্গভঙ্গি হাশ্যকর, সাজসজ্জা অসঙ্গত-_ অথচ 
দর্শকদের বিন্দুমাত্র অভিযোগ কিংবা নালিশ নাই। গাঁয়কদের বিকৃত সুরের ডুয়েট গাঁন 
শুনিয়৷ তাহার! হর্ষধ্বনি করিয়! ওঠে, এবং অভিনেতা করুণ রসের স্থলে গলা ফাটাইয়া রৌদ্র 
রসাত্মক অভিনয় করিলে তাহার! করতালির দ্বার! সম্বর্ধনা জানায় । এইরূপ অনবদ্য অভিনয় 
ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাহার! দেখিয়া যাঁয়। এতটুকু ক্লান্তি, এতটুকু বিরক্তি নাই। শিক্ষিত 
সভ্যতাভিমানী সমাজ এই সব যীত্রাওয়াল। এবং দর্শকদিগকে ঠাট্রাবিদ্রপ করিতে পারেন, 
কিন্তু যাহার সহিত এত অধিক সংখ্যক লোকের অন্তরের যোগাযোগ রহিয়াছে তাহার মূল্য 
ও প্রভাব একেবারে হাসিয়া উড়াইয়া দেওয় যায় না। 


যাত্রা! আমাদের দেশে এত জনপ্রিয় হইবার কারণ, ইহাতে কোনো বিশেষ ধর্মভাঁবের 
মাহাত্্য প্রকাশ করিয়। দেখান হয়। আমাদের দেশের সাধারণ লোক ধর্মপ্রাণ । ভক্তি- 
রসাত্মক উপাখ্যান অপেক্ষ। তাহাদের কাছে প্রিয়তর আর কিছুই নাই। সেঙ্গন্য যাত্রা 
তাহাদের মর্মস্থানে আবেদন জানাইয়াছে। নাটকে কৌনো৷ বিশেষ কাহিনী অবলম্বন 
করিয়া! ঘাত-প্রতিঘাঁতের মধ্য দিয়! চরিব্রগুলিকে বিকশিত করিয়! তোলা হয়, কিন্তু যাত্রার 
পাত্রপাত্রীদের পরিণতি নিজেদের চিন্তা এবং কর্মদ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না, সেখানে সব কিছুই 
অলৌকিক দেবলীলাঁর দ্বারা নির্ধারিত হইয়! রহিয়াছে । সেজন্য যাত্রায় কোনে চরিত্র- 
প্রাধান্য কিংবা ঘটনার স্বাধীন গতি লক্ষ্য করা যায় না। সঙ্গীতের অপরিমিত আতিশয্য 
যাত্রার আর একটা প্রধান বৈশিষ্ট্য । সঙ্গীতের স্থরে ভাববিহ্বল চিত্ত অধিকতর তশ্ময়তা প্রাপ্ত 
হয়, সেজন্য ইহাতে সঙ্গীতের এত প্রাধান্ত। প্রত্যেক যাত্রার মধ্যে একটা চরিত্র অবধারিত 


১৪ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


রূপে থাকিবে, সে বিবেক। এই বিবেকের কাজ গ্রীক নাটকের কোরাসের অনুরূপ ।১ 
কোরাসের ন্যায় সে কাহিনীর সহিত যুক্ত না থাকিয়াও অভিনয়ে এক বিশিষ্ট অংশ গ্রহণ 
করে। সেপাব্রপাত্রীর ভিতরকার মনের সন্ধান রাখে, কোনে! চরিত্র মনের মধ্যে ষড়যন্ত্র 
অথবা! সঙ্কল্প করিলে সে তাহা ব্যক্ত করিয়! তাহাকে তত্বকথা শুনাইয়। দেয়। দর্শকদের 
সহানুভূতির সহিত তাহার সচল যোগ বিদ্যমান। থিয়েটারের তুলনায় যাত্রায় রম ফুটাইয়! 
তোলার প্রধান অন্থবিধা এই যে, ইহাতে কোন পশ্চাদব্তী দৃশ্তপট এবং পার্বর্তা আচ্ছাদন 
নাই। থিয়েটারের-মধ্যে আকস্মিক আগমন এবং নিক্ষমণের যে স্থযোগ আছে, এবং 
যেভাবে অভিনেত। নিজেকে যখন ইচ্ছা প্রকাশিত অথবা গুপ্ত করিতে পারে তাহাতে দর্শকদের 
মনে সহজেই বিভ্রম (11105109 ) জন্মিয়! যায়। কিন্ত যাত্রীয় চতুদদিক অনাবৃত ও উনুক্ত। 
সেখানে অভিনেতা যেন দর্শকদেরই মধ্স্থ একজন। কখন যে তাহাদের মধ্য হইতে কে 
উঠিয়া অভিনয় আরম্ত করিয়া দিবে তাহা বুঝিবার উপাঁয় নাই। অধুনা বাংলা দেশে যাত্রা 
অভিনয়ের সময় পাত্র পাত্রীগণ সাজঘর হইতে রঙ্গভূমিতে পদার্পণ করে। কিন্ত প্রাচীন কালে 
তাহারা সকলে সর্বক্ষণ আঁপরে বসিয়৷ থাকিত, এবং যখন যাহার অভিনয় করিয়া যাইত। 
হিন্দুস্থানীদের মধ্যে এই প্রথা এখনো বর্তমান রহিয়াছে 1২ 

আমাদের দেশের যাত্রার উৎপত্তি ও বিকাশের সহিত ইংরাজী নাটকের ইতিহাঁসের 
সামঞ্জস্য লক্ষ্য কর! যাঁয়। যাত্রার স্তাঁয় ইংরাজী নাটকও ধর্মভাবকে আশ্রয় করিয়। জন্ম 
লইয়ছিল। এই ধর্মমূলক নাটক 1159067/ এবং 71150] নামে খ্যাত। ৩ শান্তর 
বণিত কাহিনী অবলম্বনে 7155095 এবং মহাপুরুষদের জীবন অবলম্বনে 141:7016 
রচিত হইত। প্রথম এই নাটকগুলি গীর্জায় এবং পরে বাঁজারে অভিনীত হইত। কিছুকাল 
পরে এই সব নাটক 110191105 এবং [066118€ নামক নাটকে পরিণতি লাভ করে। 
অবশেষে [58850 এবং 0028%র উদ্ভব হয়। 5506 এবং ১1:80165 যেমন 
ক্রমে ক্রমে খাঁটি নাটক 798৫0 ও 0922649তে রূপান্তরিত হইয়াছিল, আমাদের 
যাত্র। সেইভাবে পূর্ণাঙ্গ নাটকে পরিণত হইতে পারিত, কিন্তু তাহা হয় নাই কেন সেই প্রশ্ন 
আমাদের মনে উখিত হয়। ইহার উত্তর ডাঃ স্থশীলকুমার দে মহাশয় তাহার 73674511 
11520052005 190৮ 0৫]005? নামক গ্রন্থে সুন্দরভাবে দিয়াছেন। পূর্বেই 


গনি 


পপ ৯ 


১। গ্রীক কোরাস সম্বগ্ধে . 1. [01507 ঠাহীর প্রসিষ্ গ্রন্থ '?7৫৫5৫”তে বলিয়।ছেন। 
11018102770 01 ৪17)0015--1)0 6201010760. 2 81:011919 018160, ৮7110 ৮৮7০ 000৮2] 
00010606014 ৮110) 0176 10618008 010 000 90960, 6]6 1)210007 8178709 11) 006 80610) 1107 ৩০ 
81060686018 01015, মা/0)95808 1110 ৮1676 [06910 26 0186 707080 10175760 111662516৮8, 1006 8] 
৪0. 7718100 10859 10661067650 80006 10096 02161081 10002001768 3০৮ 010 710, 00861%679. সমা10 
81010010656 056 653৮ 06009 2০601) দা10) 9. [0111108 ০0201090691 0: 11002000000 00 
1710 00600186৪70. 63, 

২) 'বাঁত'-_বিশ্বকৌধ । 

৩) 115960 18 99001100. 60 050 8601165 19101) [00 0186 ৪011106070 1208059) দা1)1]9 
111780108 810 0185৪ 0921106 161) 11101001068 11) 0130 11568 01 9810069 8110. 18105 15." 
17556971/ ৫ 77,0185% 155576476 0 & 901000690-70০8০৮5 060, 


অবতরণিকা ্‌ ১৫ 
বল! হইয়াছে যাত্রার মধ্যে দর্শকবৃন্দ কোনে! মানবীয় সমস্তর অবতারণা দেখিতে 
চাঁহিত না, ইহাতে তাহীদের ধর্নবোধ উদ্বোধিত হইলেই তাহারা সন্তুষ্ট হইত। সেজন্য 
যাত্রায় কখনো কোনো নাটকীয় ক্রিয়। (8০6107) এবং স্সমগ্স কাহিনী হ্জন 
করিতে কেহই মনোযোগী হয় নাই, সঙ্গীতকেই ইহার প্রধান অঙ্গ করিয়। রাখয়াছিল। 
ধর্মমোহ এবং শাস্ত্ীচগত্য হইতে মুক্ত হইয়া জগৎ এবং জীরনের প্রতি দৃষ্টি দিতে না 
পাঁরিলে সাহিত্যের স্বাধীন বিকাশ ঘটিতে পারে না।১ আমাদের দেশের লোকেরা 
তাহা পারে নাই বলিয়া বস্তনিষ্ঠ নাটক জন্মে নাই। পাশ্চাত্য ভাবধারার সংস্পর্শ 
আমাদের চিরদিনকার আদর্শ ও সংস্কার বদলাইয়া গেল, এবং তখনি প্রথম বাস্তব জগৎ 
সম্বন্ধে আমাদের আগ্রহ ও কৌতুহল জাত হইল। মাত্র তখন হইতেই নাটকের সৃষ্টি 
সম্ভব হইয়াছিল। স্থতরাং বাংল! নাটকের বয়স এই মাত্র একশত বৎসর । এই সময়কার 
ইতিহাসই বতমান গ্রন্থে আলোচিত হইবে । 


বাংল নাট্যশালার ইতিহাস 


সহন্র বংসর পৃবে' নাট্যশালায় যে প্রদীপ নিভিয়া গিয়াছিল তাহাই পুনরায় জলিয়া 
উঠিল । সহন্ন বৎসর ধরিয়া! নাট্যভারতীর মুখশ্রী অন্ধকারে অবগুষ্টিত হইয়। ছিল, 
নব আলোকম্পর্শে সেই অবগ্ুঞঠন ধীরে ধীরে খসিয়! পড়িল। সেদিন দেশী ও বিদেশী 
নাট্যামোদী ধাহারাই নাট্যশালার এই প্রদীপ জ্বালিয়াছিলেন বাংলা নাটকের ইতিহাঁসে 
তাহারা চিরকাল ম্মরণীয় হইয়া! থাকিবেন। বিরুত যাত্রীরসের নিস্তরঙ্গ স্রোতে যে জাঁতি 
এতদিন গ] ঢাঁলিয়! দিয়াছিল, নাট্যশালার নবোচ্ছুসিত রসধাঁরা তাহাদিগকে আলোড়িত 
করিয়া তুলিল। এই রসধারা বিদেশী মৃত্তিকা হইতে উৎসারিত হইয়াছিল। কিন্ত 
ভাবৌম্মত বাঙীলী সেদিন সহজেই ইহাকে প্রীণের মধ্যে বরণ করিয়া! লইল ৷ 


যিনি সর্বপ্রথম নাট্যশালার দ্বার উদ্ঘাটন করিলেন তিনি হইলেন হেরাসিম 
লেবেডেফ নামে একজন রুষদেশবাঁপী বিদেশী । তিনি 761)£9119 101)০৪0€ নামে একটি 
নাট্যশল! স্থাপন করিলেন এবং তাহাতে অভিনয়ের উদ্দেশে তীহাঁর ভাষা-শিক্ষক 
গোলকনাথ দাঁসের দ্বারা [015£0156 ও [1,9৮৪ 15 0০ 735 [0০০০1 নামক ছুইখানি 
ইংরাজী প্রহসনের বাংল! অন্গবাদ করাইলেন। প্রহসন দুইখানির মধ্যে বাঙালী দর্শকের 


১ 0100 02059161709 01 0126 712071911০0 (881)589) 1068] 0180. 6190 15207819] [01011011)61)09 
£ছতা। (0 8৪8৮৮৮1৮05৫] 906 11 2198100 0118116168 10866150 &]) 11)0176767)00 60 10108110891) ৪০1%1- 
(16৪8 9070 81) 81801100010 11) ৪107)610011)01)6 90918 10101) 10969119115 101016160 76০ 
62108181078 0181৮, ৪০16])009 81) 116690005 ০£ 65০ 080101), 

105150016 161672875 % £76 295, 0851 007 107 শি, (৫, 109, 0,446, 


১৬ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


রুচি অমুযায়ী অনেক দৃশ্য ও চরিত্রের অবতারণা করা হইয়াছিল।১ 1015915৩ এর 
বাংলা অনুবাদ অভিনীত হইয়াছিল। সম্ভবত ইহাই প্রথম অভিনীত বাংলা নাটক 
( ১৭৯৫-_-২৭শে নভেম্বর )। 
বিদেশাগত ইংরাজদের দ্বারা কয়েকটি রঙ্গালয় প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল। তাহাদের মধ্যে 
সর্বাপেক্ষা খ্যাতি অর্জন করিয়াছিল সস্থসি রঙ্গালয়। অবশ্য তাহার পূর্বেও চৌরঙ্গী 
থিয়েটার স্থাপিত হইয়াছিল, তবে এই রঙ্গালয়ে সাঁধারণ বাঙালী দর্শকের যাতায়াত ছিল না ।২ 
সসুসি রঙ্গালয়ে হোরেস হেমান উইলসন প্রভৃতি অনেক প্রসিদ্ধ ইংরাজ অভিনয় করিতেন । 
ইহার অনেক পরে বিভিন্ন স্কুল কলেজে রঙ্গমঞ্চ স্থাপিত করিয়৷ যে সব অভিনয়ের আয়োজন 
হইয়াছিল অনেক ইংরাজ সেগুলির পরিচালনা ও শিক্ষাদীনে নিযুক্ত ছিলেন। ডেভিড 
হেয়ার একাডেমিতে অভিনীত “মার্চে অব ভেনিস” ও ওরিয়েপ্টাল থিয়েটারে অভিনীত 
£ওথেলো, নাটকের অভিনয় এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য । ওরিয়েণ্টাল থিয়েটারে “মার্চেন্ট 
অব ভেনিস? ও চতুর্থ হেনরীর” অভিনয় হইয়াছিল। এই সব নাট্যাঁভিনয় ইংরাজী-শিক্ষিত 
লোকেদের প্রশংসা উদ্রেক করিল, নাট্যশালার প্রতি নাট্যামোদী লোকেদের আগ্রহ 
উদ্দীপিত করিল, কিন্তু আপামর জনসাধারণের মনে পরিতৃপ্তি সঞ্চার করিতে পারিল ন।। 
ইংরাজী নাটকের ভাঁষ! তাহাদের রসসস্ভোঁগে প্রধান বাধা হইয়া রহিল। বাঙালী কবে 
বাংল। নাটকের অভিনয় দ্বারা দেশের হৃদয় মাতাইয়া তুলিবে জনসাধারণ তাহার দিকে 
সাগ্রহে তাকাইয়। ছিল। 
নাট্যশালা স্থাপনের চেষ্টা শুধু কেবল ইংরাজদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রহিল না, নাট্যপ্রিয় 
ধনশালী বাাঁলীও এবিষয়ে বিশেষ উদ্যোগী হইয়। উঠিলেন। প্রসন্নকুমাঁর ঠাকুরের হিন্দ 
থিয়েটারই বাঙালী-প্রতিষ্িত থম নাট্যশীল!। ইহাতে জুলিয়াস সিজর ও উইলসন 
অনুদিত উত্তররীমচরিতের অভিনয় হয়। বাঁঙাঁলী পরিচালিত নাট্যশালায় প্রথম ষে 
বাংল! নাটকের অভিনয় হয় তাহার নাম হইল “বিগ্যান্থন্দর” । নবীনচন্ত্র বন্ুর নাট্যশালায় 
নাটকথানি অভিনীত হয়। এই অভিনয় সম্বন্ধে উল্লেখযোগ্য তাহা! হইল নন্দকুমার রায় 
“অভিজ্ঞান শকুন্তলা” । আশুতোষ দেব ব! সাতুবাঁবুর বাড়িতে ইহার অভিনয় হয়। বাংল৷ 
নাটকের অভিনয়ের সঙ্গে সঙ্গে নাট্যশালার প্রতি অনুরাগ ক্রমে ক্রমে ব্যাপক হইতে 
লাগিল এবং সমাজের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিগণ নাট্যশাল! স্থাপনায় সচেষ্ট হইলেন এবং 














সস 


১। লেবেডেফ ভীহার 'ঠ 91510077090 01 00০ 1016 9170. 11015০00788 [070181) ]01916068 
গ্রন্থের ভূমিকায় বলিয়াছেন-- 

“ঢু 61900819650, 60০0 [0061181) 019,009010 [)18068 119101015---1179 1018611180', 900 *50%9 1৪ 
006 73686 100০০: 1700 00৪১ 736778811 19080.820, 9000. 1)9517)6 010867560 0086 006 100018779 
[0:610700 101770107 9110 00110] 6০ 01911) 808৩ 90110 801)86, 1)07251: [9016] 920:55890-_. 
00516606720 0) 07089 [01958 2070 10101) দাও০ 20096 01098879615 11160. 07) জা10) & 
£:০০]) ০1 ৪61)2060, 01008650819 ; ৪০৪০৪ 0811679;  62)19568, £1)090019। 19779, 
£01000905 8100. 80071686 039 2986 & ০0198 01 199৮৮ 101007)067279, 


২। মাইকেল মধুহুদনের জীবন চরিত--যোগীন্ত্রনাথ বনু, পৃঃ ২০৯ । 








অবতরণিক৷ ১৭ 
অল্লকাঁলের মধ্যেই কয়েকটি প্রসিদ্ধ নাট্যশালার প্রতিষ্ঠা হইল। তাহাঁদের মধ্যে বিগ্যোৎসাহিনী 
রঙ্গমঞ্চ, বেলগাছিয়া নাট্যশালা, পাথুরিয়াঘাটা বঙ্গনাট্যালয়, জোড়াসণীকে৷ নাট্যশাঁল। 
প্রভৃতির নাঁম উল্লেখযোগ্য ৷ এই সব নাট্যশালায় অভিনয়ের জন্য বাংল! নাটকের চাহিদা 
উত্তরোত্তর বাড়িয়া চলিল এবং ক্রমে ক্রমে বাংল! সাহিত্যের অভিনয়ে নাট্যকারগণ আসিয়া 
আসন গ্রহণ করিতে লাগিলেন । 

নাট্যশালার প্রতিষ্ঠা হইতে বাংলা নাটকের জন্মলাভের ইহাই হইল অতি সংক্ষিপ্ত 
ইতিহাস । ইহা হইতে বুঝা যাইবে যে, নাট্যশালা৷ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে নাটকের জন্ম-সম্ভাঁবন! 
দেখ! গিয়াছিল কিন্তু তাহার প্রকৃত জঙ্ম হইয়াছিল বহু পরে । লেবেডেফ ও নবীনচন্ত্র 
বস্থ ব্যতীত. প্রথম দিকে কেহই বাংলা নাটকের অভিনয় দেখাইতে সাহস করেন নাই । 
বিদেশাগত নাট্যশীল! বিদেশী নাটকেরই অভিনয়-স্থল হইয়া ছিল বহু কাল পর্য্ভ্ত। এই সব 
নাটকের অভিনয় বাঁঙালী জনগণের নাট্য-তৃষ্ণ উদ্দীপিত করিল মাত্র, পরিতৃপ্ত করিতে 
পারিল না । অথচ যাত্রা» হাফ আখড়াই, কবি, পাঁচালী প্রতৃতি দ্বারাও সেই ভূষ্কা আর 
নিবারিত হইতে পারে না; কারণ এ্র সব নাট্যুগীতের রসবিকৃতির জন্য উহাদের প্রতি একটি 
দ্বণা ব্যাপক আকারে সমা'জমনের মধ্যে সঞ্চিত হইতেছিল। স্থতরাং নাটক চাই এবং সে 
নাটক বাংলা হওয়া দরকার । জনচিত্তের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা বাংলা নাটকের এক 
প্রবল প্রেরণা আনিয়া দিল এবং তাহারই ফলে বাংল! নাটকের আত্মপ্রকাশে আর 
বিলম্ব রহিল না।১ অবশ্য বাঁংল! নাটকের প্রাথমিক পর্যায়ে তাহার আত্মনির্ভরশীল র্ঈ্প 
আমরা দেখি না এবং তাহা দেখিতে প্রত্যাশাও করি না। সংস্কতও ইংরাজী নাটকের 
উপর নির্ভর করিয়া তাহাকে দীড়াইতে হইয়াছিল । কিন্তু ক্রমে ক্রমে তাহার আত্মবিশ্বাস 
আসিয়াছিল এবং যেদিন সে স্বাধীনভাঁবে চলিতে সুর করিল সেদিন হইতে তাহার এরুত 
ইতিহাস আরম্ভ হইল। 


১) [09 00৪ 810961)06 01 01119] 030125]1 101835 0865 0109০966060, 17791067)080 89 0065 
8৪ 27 (06 01198110) 01 00611101181) 100707:109069, 60 11686 01061 সঞ৪1)৮ 05 60806106019 
1) [7/01181). 30616087017 89008500, 009 '01:9708610 81909016901 009 £675] 010110, 10: £ট 
8৪ 91] 0:6০]. 60 05971 111)97 1090 81165057 117)1)11990 97) 1101:0171866 09962 101 059 61565061051 
8100861021)69 9110 11960721]7 19060 101:17870 601021166 61662911860 107 800:007156 01515 
0৮618 11) 61061: 0 দা), 1970071856. 


7776 7067001$ 776/76--9. ৮১ 310০/০6০, 081056579০1 (1924). 


প্রস্তাবন। 


মধুহছদনের পূর্বে বাংল! নাটকের যথার্থ এবং পরিপূর্ণ রূপ দেখা যায় নাই। তাহার 
পূর্ব পর্যস্ত যে সব নাঁটক রচিত হইয়াছিল, সেইগুলিকে নাটক না বলিয়! নাটকের আভাস 
বলাই সঙ্গত। সেই যুগের মণট্কাঁরদের মধ্যে হরচন্দ্র ঘোষ, রামনারায়ণ তর্করত্ব এবং 
কালীপ্রসন্ন সিংহের নাম প্রসিদ্ধ । অবশ্ঠ ইহাদের নাটক কোনো অন্ভিনব মৌলিকত্বের দাবী 
করিতে পারে না । সংস্কৃত সথতিকাগৃহের চিহ্ন ইহাদের অঙ্গে স্ুপরিস্ফুট । ইহারা ভোরের 
আকাশের ক্ষণস্থায়ী রক্কিমচ্ছটা মাত্র! সূর্যোদয়ের পর হইতেই ইহাদের অস্তিত্ব নিঃশেষ 
হইয়া গিয়াছে । সেইজন্য নাট্যধারার প্রস্তাবনায় ইহাদের একমাত্র স্থান নির্দেশে কর! 
যাইতে প।রে। 


অনুবাদ-যুগ 
( হুরচজ্জ--কালী প্রসঙ্প-_রামনারায়ণ ) 

অনুবাদক নাট্যকারদের দ্বারাই বাংল! নাটকের অত্যুদয়ের ক্ষেত্র প্রস্তত হইয়াছিল । 
ইংরাজি ও সংস্কৃত উভয় প্রক।র নাটকেরই অনুবাদ হইয়াছিল বটে কিন্তু অন্ুুবাদ-যুগে ইংরাজি 
নাটকের কোন লক্ষণীয় প্রভাব বাংল! নাটকের উপর পতিত হয় নাই, ইংরাজি নাটক হইতে 
অনূদিত 'নাটকের সংখ্যাও খুব বেশী ছিল না। প্রকৃতপক্ষে সংস্কৃত নাটকের রীতি ও 
এই সময় অনূদিত বাংলা নাট্যসাহিত্যকে নিয়ন্ত্রিত করিয়াছিল । শুধু কেবল ভাষ! 
, আঙ্গিক ও ভাবচেতনার দিক দিয়াও নাট্যকাঁরগণ সংস্কৃত নাট্যধারাঁকে সম্পূর্ণরূপে 
ই করিয়। চলিয়াছিলেন। অবশ্য তাহাদের অনুবাদ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভাঁবান্ুবাঁদ 
হইত এবং স্থানে স্থানে তাহারা যে দুই একটি স্বকপোলকল্পিত চরিত্র ও ঘটন! ঢুকাইয়া দিতেন 
না তাহীও নহে । অনুবাদক নাট্যকারদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ হইয়াছিলেন হরচন্দ্র ঘোষ, 

কালীপ্রসন্ন সিংহ, রামনারাঁয়ণ তর্করত্ব । 


(১) হরচক্দ্র ঘোষ 
অন্ুবাঁদকের মধ্যে প্রথমেই হরচন্ত্র ঘোষের নাম করা উচিত। হরচন্ত্রের প্রায় সব 
নাটকই কোনো না কোনো গ্রন্থের অন্ুবাদ। সুতরাং কাহিনীর দিক দিয়! মৌলিকতা৷ দাবি 
করিবার তাহার কিছুই নাই। তার নাটকের ভাষা সংস্কৃত শব্দে আড়ষ্ট এবং নান্দী, 
সৃত্রধার প্রভৃতি সংস্কৃত রীতিও ইহাতে আছে। দৃশ্টের স্থলে তিনি অঙ্গ এই নাম ব্যবহার 
করিয়াছেন । 
তাহার প্রথম নাটক “ভানুমতী চিত্তবিলাস” (১৮৫২) শেক্স্পীয়ারের 45160179100 
০৫ ০1০০, নাটকের ভাবান্থুবাদ । নাটকরে মধ্যে তিনি গগ্য ও পদ্য উভয় ভাষাই ব্যবহার 
করিয়াছেন। তিনি ছুই একটি নূতন চরিত্র আমদানী করিয়াছেন, এবং মূল নাটকের 
কোনে কোনে! চরিত্রকে একটু নৃতন ভাবে দেখা ইয়াছেন। 
*কৌরব বিয়োগ” (১৮৫৮) হরচন্দ্রের দ্বিতীয় নাটক। নাটকখানির ইংরাজী মুখবন্ধে লেখক 


বলিয়াছেন যে তিনি বিশেষ যত্ধের সহিত ইহার বিষ়-বন্ত নির্বাচন করিয়াছেন এবং ইহার 
জন্য তিনি কোন শ্রমের ত্রটি করেন নাই ।১ তথাপি সত্যের অনুরোধে বলিতে হয় যে,'ফৌরব 


১) [6100 16717091779 107 [06 60 900 0090 6০ 590)506 0107 ৮711101) 17856 11060 19 
০ £7680 10662956900 006 01081)86 %110101) 1095 19661) 0876101]5 1110000060 178 ৮, 10611) 
81606614397 ০, 840. 87962019 6০ 6106 800070550, 0886০ 0? 016 10006) 1160750 ০01 006 
০০0, 210. 1)0 7081705 81)0 63961786 1)9%17)6105678 808160. 60 26170671005 ০1 08৩], 9170 
80090069076, ] 100018 1) 009 1)0196 096 16 স1]] 10০৪৮ চা100 006 8009:০9%6192 0: 006 : 55509 
স১:৩9০9, 


২০ | বাংল। নাটকের ইতিহাস 


বিয়োগে”র স্তায় অনাটকীয় নাটক বাঁংল। সাহিত্যে আর একখানিও আছে কিনা সন্দেহ । 
নাট্যকার বলিয়াছেন যে ইংরাজী নাটকের প্রচলিত প্রণালীতে তিনি তাহার নাটকথানি 
রচনা করিয়াছেন ১। কিন্তু একমাত্র পঞ্চাঙ্ক বিভাগ ব্যতীত ইংরাজী নাটকের কোন রীতিই 
ইহার মধ্যে নাইি। সংলাপের স্বাভাবিকত!, গতিবেগ, ক্রিয়াছন্দ প্রভৃতি কিছুই ইহাতে নাই। 
একাস্ত ছুরহ সংস্কৃত বাক্যের বিষম ভাঁরে ইহার সংলাপ নিশ্রাণ আড়ষ্টতায় আঁবদ্ধ। সংলাঁপ 
সম্পূর্ণ বর্ণনাত্মক, মাঝে মাঝে মনে হয় বুঝি মহীভারতের বাংল! গণ্য অনুবাদ শুনিতেছি। 
দুর্যোধনের উরুভঙ্গের পর হইতে আরম্ভ করিয়া ধৃতরাষ্টর, গান্ধারী, কুস্তী ও সঞ্জয় প্রভৃতির 
ষজ্ঞানলে দগ্ধ হয়া পর্যস্ত ঘটনাবলী অবলম্বন করিয়। আলোচ্য নাটকের বিষয়বস্তু সন্গিবদ্ধ 
হইয়াছে । পঞ্চ পাগুবতনয়ের হত্যায় পাণ্ডবগণের বিলাপ এবং কৌরবগণের মৃত্যুতে 
ধতরাই, গান্ধারী ও কৌরব বধূদের খেদই নাটকের মধ্যে প্রাধান্ত লাভ করিয়াছে । কিন্তু 
প্রকাশতঙ্গি ও নাট্যকৌশলের দুর্বলতায় দুঃখশোঁকের অত্যধিক আঁতিশয্যও মর্ম পর্যযস্ত 
পৌছিতে পারে নাই। চরিত্রাঙ্কনে লেখকের অক্ষমতার জন্য কোন চরিত্রই সজীব রসমৃত্তি 
লাভ করিতে পারে নাই। | 

হরচন্দ্রের তৃতীয় নাটকের নাম “চারুমুখ চিত্তহর!” (১৮৬৪)। ইহা ০0০096০৪170 
[119৮এর অনুবাদ । এই নাটকথানাও প্রিনি দেশীয় লোকের রুচি অনুযায়ী মূল হইতে কিছু 
কিছু অদল বদল করিয়াছিলেন, এবং নাটকের সংযোগন্থল ভারতবর্ষে দেখাইয়াছেন। 
রঙ্গমঞ্চে অভিনয়ের উপযোগী করিবার জন্য তিনি ইহাতে কথ্য ভাষা প্রয়োগ করিবার 
চেষ্টা করিয়াছেন । 

তাহার সর্বশেষ ন1টক “রজত গিরি নন্দিনী” (১৮৭৪) ব্রহ্মদেশের এক উপাখ্যান 
অবলক্ষন করিয়! প্রণয়ন করেন । নাটক হিসাবে ইহার কোনে! উৎকর্ষ নাই। 

হরচন্দ্রের কৌনে! নাটক অভিনীত হইয়াছিল কিন! সে বিষয়ে কোনো! প্রমাণ নাই। 
কোন নাট্যমঞ্চের সহিত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও তাহার ছিল না । স্থৃতরাং তাঁহার নাটযাবলীও 
দেশের মধ্যে কোনে! সাড়া ও প্রভাব আনিতে পারে নাই।২ বাংলা! নাটকের ইতিহাসে 
তাহার মূল্য বেশি নহে। 


১। একারণ আমি এ মহাগ্রন্থের কিয়দংশ এতাবত! রাঁজ। দুর্যে।ধনের উরু ভাঙ্গীবধি ও অন্ধ রাজাদির 
হজ্ঞানলে দগ্ধ হওয়া পর্যস্ত অপূর্ব বৃত্তীস্ত নুমাঞ্জিত সীধু ভাষায় বহুলাংশ গছ্য ছন্দে ও অতি হ্বল্লাংশমান্র পদ্য প্রবন্ধে 
ইংলভীয় নাটকের প্রচপিত প্রশীলীতে রচনা করিয়া “কৌরব বিয়োগ নাটক' এই আখ্যা দানে প্রকাশ করিলাম । 
_ ভূমিকা 

২1 43 00615 2৪ 190 0চ10.1)06 01 10158 %/01105 1)9%1100 95০]. 10661) ৪68,260, 178 ৫0010 1795 


20. 07906108] 10900610086 ০]. 6106 01062016 0 6105 ০00]1)0 6000৮ 11) 006 89088 01 109 511)0 
0108660 % 05866 8100106 0109 768061'5 01 1018 জম 01008", 


779866715 1700866766 £%5 88060 1,8602/৮6 0 2, 8 শি৬0, 0,225, 


অন্মুবাদ যুগ ২১ 
(২) কালীপ্রসন্ন সিংহ 


উনবিংশ শতাব্দীতে যে সব কৃতবিস্ত, প্রতিষ্ঠাসম্পন্ন লোক বাঙালী জাতির 
মুখোজ্জল করিয়াছেন কালীপ্রসন্ন সিংহ তাহাদের মধ্যে অন্ততম | বস্তত একাধারে এরকম 
সর্বগুণাদ্বিত লোক খুব কমই দেট্তে পাঁওয়া যায়। অতি অল্প বয়সে অনন্যসাধারণ 
পাত্ডিত্য, অপূর্ব সাহিত্য-প্রতিভা, অতুলনীয় বদান্ততা এবং অশেষ সহদয়তাগুণে তিনি 
সকলের প্রশংসা এবং শ্রদ্ধাভাজন হইয়াছিলেন। তিনি হয়তো খুব উত্কুষ্ট মৌলিক নাটক 
রচনা করেন নাই, কিন্তু তবুও নাটকের ইতিহাসে তাহার সম্মানিত স্থান আছে। কারণ 
রঙ্গালয় স্থাপন এবং বাংলা নাটকের অভিনয়ে এবং উৎসাহদাঁনে তিনি ভবিদ্ত নাট্যকারদের 
পথ স্থগম করিয়। দিয়াছেন ।১ 

কালীপ্রসন্্ের প্রথম নাট্য রচনা “বাবু, নামক একখানি প্রহসন। ইহা কোথাও 
অভিনীত হইয়াছিল বলিয়! জানা যায় না। রামনারায়ণ “বেণীসংহার* অনুবাদ করিবার পর 
তিনিও একখান! সংস্কৃত নাটক অন্থ্বাদ করিতে মনস্থ করেন, এবং “বিক্রমোর্বণী” (৯৮৫৭ ) 
বাংলায় রূপান্তরিত করেন। বিষ্ঠোৎসাহিনী রঙ্গমঞ্চে ইহার অভিনয় হয়, এবং নাট্যকার 
নিজে পুন্ধরবার ভূমিকাঁয় অবতীর্ণ হন। নাট্যকার মূলের হু হুবহু অনুবাদ করিতে যাইয়া ত্রমে 
পতিত হইয়াছেন, কারণ সংস্কৃত নাটকের দীর্ঘ উক্তি, উচ্ছ্বাস এবং কাব্যময়তাঁ বাংলা 
নাটকে কৃত্রিম হইয়াছে । 

“সাবিত্রী-সত্যবান” (১৮৫৮) নাট্যকারের মৌলিক রচনা । “মহাঁভারতীয় বপন 
পতিব্রতোপাখ্যানের সাবিত্রী-চরিত হইতে কেবল মর্মমাত্র পরিগৃহীত হইয়াছে ।” এই ন।টকের 
মধ্যে ইংরাজী এবং সংস্কত উভয় নাট্যরীতিই অনুসরণ করা হইয়াছে । সংস্কৃত নাটকের 
তরল উচ্ছাস এবং দীর্ঘ খেদ ও বিলাপ নাট্যকার বর্জন করিতে পারেন নাই। নাটকের 
চরিব্রত্থহিও সরস ও প্রাণময় নয় ।২ 


১। “যে নাটকের দ্বারা সহজে সাধারণো লোকশিক্ষা বিস্তৃত করা যায়, যে নাটকের অভিনয় দ্বারা 
জাতিকে উন্নত করা যাঁয়, দেই নাটকের দ্বারা বঙ্গভাষাকে পুষ্ট করিবার জন্য কাঁলীপ্রসন্ন যে চেষ্টা পাইয়াছিলেন 
ত।হা। সাহিত্যের ইতিহাসে সুবর্ণ অক্ষরে লিখিত হওয়া! উচিত ।' | 

কালীপ্রসন্ন সিংহ--মন্মথ নাথ ঘোষ, পৃঃ ৯২। 


২। “কথাবস্ত চিত্তীকর্ষক ভাবে গ্রণিত হইলেও নাঁটকখাঁনি খুব উচু দরের নহে। দৃগ্যগুলি স্বঞ্জায়তন, 
ক্ষিপ্রগতি ও অবান্তর বিয়ের বাহুল্য-বঞ্জিত, কিন্তু চরি্রাহ্ছন বেশ শ্ষ্ট বা পরিস্ফুট হয় নাই। গ্স্থকার 
পৃন্তকগত নায়ক নায়িকার আদর্শের আশ্রয় লইয়াছেন, জীবন্ত চিত্র আকিতে পরেন নাই ।' 


কালীগ্রসন্ন সিংহ ও তাহার ন।ট্যাবপী-_ডাঃ হুণীল কুমার দে, প্রবাসী-_আবাঢ় (১৩৩৮) 


২২ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


“মালতী মাধব? ( ১৮৫৮) ভবতৃতির প্রসিদ্ধ নাটকের অন্থবাদ। অবশ্য ইহ! অবিকল 
অনুবাদ নহে।১ ইহা চার কাণ্ড ও বার অঙ্কে সমাপ্ত । নাটকটির সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য বিষয় 
হইতেছে ইহার ভাষা ।২ নিরভূল চলিত ভাষায় যে ইহা আগ্যোপাস্ত রচিত শুধু তাহাই নহে, 
সংস্কত ভাষার সন্ধি সমাস অলঙ্কারযুক্ত ভারগ্রস্ত আড়ষ্টত৷ হইতেও ইহা! সর্বাংশে মুক্ত । অবস্ঠ 
ছুতোম প্যাচার নক্সা*র লেখকের পক্ষে এই ভাষা আশ্চর্য ও অভিনব. নহে । 


অনুবাদক নাট্যকারদের মধ্যে রামনারায়ণের কৃতিত্বও অনেকখানি, তবে তাহার 
শেশ্ঠত্ব প্রকাশ পাইয়াছে অন্তত্র- মৌলিক সামাজিক নাটকের ক্ষেত্রে। সেজন্ত তাহার 
নাটকের আলোচন। পরে কর! হইবে । 


মেলিকী নাটকের সূচন। 
( কাঁতিবিলাস-ভন্রার্ভুন ) 


বাংল! নাট্যসাহিত্যের প্রাথমিক পর্বে “কীতিবিলাস* ও “ভদ্রার্জুনে*র বিশিষ্ট স্থান 
রহিয়াছে। ইহাঁরাই হইঙ্গ বাংল! নাটকের আত্মপ্রতিষ্ঠার গৌরবাদ্িত পথিকৃৎ । দুর্বল হউক, 
দরিদ্র হউক, ইহারা যে অনুবাদের পরবশ্ঠতা৷ কাটাইয়া৷ উঠিতে পারিয়াছিল তাহাই ইহাদের 
অসীম শক্তি ও অমেয় সম্পদ । এই ছুইথানি নাটকই পাশ্চাত্য নাট্যরীতি অন্ুমরণ করিয়া 
লিখিত। তৎকালে যে নাটকগুলি রচিত হইয়াছিল সেগুলি প্রায় সবই সংস্কৃত নাটকের 
রীতি অনুযায়ী লিখিত। স্থতরাং তৎকালীন প্রচলিত রীতি অতিক্রম করিয়৷ বিদেশী 
রীতিতে নাটক রচনার প্রচেষ্টা সাহসিক মৌলিকতা! সন্দে্ দাই । বাংলা নাটকের ভবিষ্যৎ 
রূপ যে পাশ্চাত্য নাট্যাদর্শ অবলম্বন করিবে তাহার স্চনা আমর এই নাটক দুইখানির মধ্যে 
পাই। 

কীতিবিলাস নাটক (১৮৫২) 

প্রাথমিক নাটকগুলির মধ্যে “কীতিবিলাসে”র নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । 
“কীতিবিলাস+ বাংল! সাহিত্যের প্রথম বিয়োগাস্তক নাটক । তখনও বাংল! সাহিত্যে পাশ্চাত্য 
নাটকের ধার! প্রবর্তিত হয় নাই। তৎকালীন লেখকবুন্দ সংস্কৃত নাটকের রীতি নিজেদের 
অপূর্ণাঙ্গ নাটকগুলির মধ্যে অক্ষমভাঁবে অনুবর্তন করিতেছিলেন। সংস্কৃত সাহিত্যে বিষাদাস্ত 
নাটক নিষিদ্ধ বলিয়া এই নিষেধ ভাঙ্গিবার দুঃসাহস তখনও বাংল! নাটকে আসে নাই । 


শপ 
পে? শশা পপ 








১। ন।ট)ক।র 'বিজ্ঞাপনে' বলিয়াছেন__“বাঙ্গীল। ভাষায় সংঙ্কতের অবিকল লালিত) রক্ষা করিতে চেষ্টা 
কর। নিরর্থক, কারণ অবিকল অন্ব॥দিত গ্রন্থ সহজেই পাঠ করিতে ঘৃণা বে।ধ হয়। বিশেধতঃ প্রতে)ক পদের 
বাঙ্গীল। অর্থ ও শবানুকরণে যথার্থ ভ।ব সংরক্ষণ করা কাহারও সাধা নহে ।, লী 

২। নাটকের ভাষা সন্বদ্ধে নাট/কার লিধিয়াছেন-_“মদ্রচিত মত্প্রণীত ও মদনুবাদিত অন্ত অন্য নাটক 
হইতে মালতী মাধবের ভাষ।রও প্রভেদ হইয়াছে, কারণ অভিনয্বার্হ নাটক সকল ইদানিন্তন যে ভাষায় লিখিত 
হইতেছে আমিও সেইরূপ অবলম্বন করিয়। ঈপ্সিত বিষয় সুুসিপ্ধ করণ মানসে সচেষ্ট ছিলাম” । 

"বিজ্ঞাপন । 


মৌলিক নাটকের সূচন। ২৩ 


সেই সময় লেখক যোগেন্্ন্দ্র গুপ্ত সংস্কৃত নাটকের অন্যায় আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রথম 
বিজ্বোহ ঘোষণা! করিলেন । প্রচলিত নাট্যধারা লঙ্ঘন করিয়াছিলেন বলিয়াই বোধ হয় 
তিনি তাহীর পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করিয়। এক কৈফিয়ত দেওয়া প্রয়োজন মনে 
করিয়াছিলেন । নাটকের তৃমিকায় যে কৈফিয়ত তিনি দিয়াছেন তাহাতে তিনি প্রাচ্য 
নাট্যরীতি বর্জন করিয়া পাশ্চাত্য নাট্যরীতি পোষণ করিয়াছেন। ভূমিকায় নাট্যতত্ব সম্বন্ধে 
যে আলোচনা তিনি করিয়াছেন তাহ নানা দ্রিক দিয়া অত্যন্ত মূল্যবান । লেখক ঘষে 
আযারিস্টটলের ৮০০০৩ পড়িয়াছিলেন তাহা তরশহার আলোচনা হইতে জানা যায়। 
ট্র্যাজেডি আমাদিগকে ছুঃখে অভিভূত করিলেও ইহা! আমাদের চিত্তে এক অনির্বাচ্য মহৎ 
অশ্ভৃতি জাগ্রত করে। ট্র্যাজেডির এই আনন্দজনকতা সম্বন্ধে নাট্যকার বলিয়াছেন-_ 
অনেকের এইকপ ত্রীস্তি জম্মাইতে পারে যে, যে অভিনয় অবলোকন করিলে অন্তরে 
অশেষ শোক উপস্থিত হয়, সে অভিনয় দর্শন করিতে কিরূপে মাঁনবগণ স্বভাবতঃ অভিলাঁষী 
হইবে। অত্যল্প বিবেচনা করিলে স্পষ্ট গ্রতীত হইবে যে শৌঁকজনক ঘটনা আন্দোলন 
করিলে মনোমধ্যে এক বিশেষ স্ুখোদয় হয়। একাঁরণ সেক্সপীয়ার নামা ইংলপ্তীয় মহাকবি 
লিখিয়াছেন-_. 
আমার অন্তঃকরণ শোকাঁনলে দহন হইতেছে, তত্রাপি আমার মন অবিরত এঁ শোক 
প্রয়াসী।১ 
ধাহারা জীবনে মিলনের আনন্দই কেবল দেখেন, বিচ্ছেদের বেদনা অনুভব করেন না 
ত্হারা জীবনকে অতি সামান্ত ভাবেই বুঝিয়াছেন। মান্ষের জীবনে যেমন স্থথ আছে, 
তেমনি দুঃথও আছে, বৌধহয় অনেক বেশি 'পরিমাণেই আছে। এই দুঃখের সার্থক 
রূপায়ণ বাহার রচনায় পরিস্ফুট হইয়াছে তিনিই তো সতিকা'র জীবন-রসিক ও সত্য্রষ্টা ।২ 
লেখকের মত উদ্ধত করা হইল-- 
€ভারতবর্ষীয় পূর্বতন পণ্ডিতের অনুমান করিতেন, যে ধাঁমিক' ব্যক্তির ছুঃখাঁভিনয় 
করিবার সময়ে তাঁহাকে ছুঃখার্ণবে রাখিয়া গ্রন্থ শেষ করিতে নাহি। ইহা কেবল তাহাদিগের 
ভরাস্তি মাত্র। জীবন ধারণ করিলেই ই অনিষ্ট উভয়েরি ভোগী হইতে হইবে, ধামিক হইলেই 
যে আপদগ্রস্ত হইতে হইবে নাঃ এমত নহে । 


১। ট্র্যাজেডি কেন আনন্দ দেয় সে সম্বন্ধে ঢা. 1, [1,108 তাহার “[:8059" নামক প্রসিদ্ধ গ্রন্থে 
খআলোডনণ করিয়াছেন । [71028 বলিয়াছেন, "9০ 1100 69৪01)০6 0? 07:80 7:600065 185611 6০ 6)1৪- 
6109 [016987176 9 65109 11) & 16110611001 1165 0০00) 86710108 9100. 0:06. [6 177096799 861:10009, 
11500601009 6৮ 18৪ 11)0106190%]]5 00101016161. [6 [70096 900] 60 09066], 01: 0) 
63076716706 সা0010 10610788060 8 ৫11675176 0860207/ 2110 10660. ও 01116761160 19106. 4110 
16 00086 8190 99910 001৩), ০1:16 জা] 1106 70059 08, [61085 199 £০০৫ 02 08, 1১06 0396 18 280% 
মা) ০ £০ (0 16..,,১১8100, 8917 058695 2085 69801) 08 60 1156 70016 5180]5, গ 61786 18 
2800 দা?) সা £০ 0০ 1, ম9 0 69 1১956 0176 61097101708, 710 60 089 1. 

* 18005 105 [1088১ 7), 64-66. 


২। 15116 08 & 9010605 60 1086 (১86 0008 05৮ ৪ 08850 60 009৪৩ 0080 1961, 


২৪ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


নাঁট্যাদর্শ সম্বন্ধে লেখকের স্থক্ষাদর্শিতাঁর পরিচয় আমর! পাইলাম। সেই আদর্শ তিনি 
তাহার নাটকে কতথানি প্রয়োগ করিতে সক্ষম হইয়াছেন তাহাই এখন আমাদের বিচার্য। 
কিন্ত নাটকখানি পড়িলেই সকলেরই মনে হইবে যে, লেখক যতবড় পণ্ডিত ছিলেন ততবড় শর্ট 
ছিলেন না । তাহার মন ও মন্তিষ্কের সামঞ্জস্তও ছিল না । কারণ ভূমিকায় যে সংস্কৃত নাটকের 
প্রতিবাদ তিনি করিয়াছেন নাটকে বোধ হয় অজ্ঞাতসারে তাহারই প্রতি আনুগত্য দেখা ইয়। 
ফেলিয়াছেন। অবশ্য পাশ্চাত্য নাটকের ন্যায় “কীতিবিলাস”ও পঞ্চাঙ্ক নাটক ।১ কিন্তু সংস্কৃত 
নাটক অনুযায়ী আলোচ্য নাটকের গোড়ায় “নান্দী' ও “নান্দযতে স্বত্রধার” রহিয়াছে । 
লেখকের ভাষা! ও রচনারীতিও সংস্কৃতের ভারে আড়ষ্ট ও কত্রিম হইয়াছে । নাটকের মধ্যে 
যে সব অলঙ্কারসমৃদ্ধ স্থদীর্ঘ খেদোক্তি রহিয়াছে সেগুলি সংস্কৃত নাটকের প্রভাবই স্মুম্পষ্টভাঁবে 
চিহ্নিত করে।২ 
লেখকের গগ্যের মধ্যে যেমন আড়ম্বর পছ্যের মধ্যে আবার তেমনি চাঁপল্য । জায়গায় 
জায়গায় গু ভাঁব গ্রকীশ করিতে যাইয়া তিনি বে পদ্য ব্যবহার করিয়াছেন তাহ। দ্বারা গুরু 
ভাব তে৷ প্রকাশ পায়ই নাই, বরঞ্চ লঘু চাঁপল্যে ভাবের অধোগতি হইয়াছে । মরিবাঁর সময়েও 
নায়িক। সৌদামিনীর মুখে পয়ায়ের ছড়া__ 


কামিনীর কোমল প্রাণে সহেনা যাতন]। 
যে জানে সে জানে কেমন প্রেমের লাঞ্না। 
এই কবিতা পাঠকের মনে মৃত্যুজনিত বেদনা উদ্রেক করিতে পারে কি? লেখকের 
পছ্য পয়ারের নিগড়ে বাধা, স্থতরাং সেই পগ্যের মধ্য দিয় কি করিয়! গভীর ছুঃখময় ভাব 
প্রকাশ কর! সম্ভব? তৎকালে যাত্র!-পাঁচালীর মধ্যে যে অলঙ্কার-পন্কিল মরানদীর ম্বোত 
প্রবাহিত হইতেছিল লেখকের রচনায় তাহারই পরিচয় পাওয়া! যাঁয়।৩ 


১। প্রতি অঙ্কের অন্তর্গত দৃগ্তের নামের স্থলে লেখক “অভিনয়' এই ন।ম বাবহীর করিয়াছেন। 

২। একটি দৃষ্টান্ত দেওয়। হইল, রাজপুত্র ভীহার মৃত বধূর জন্য বিলাপ করিতেছেন__ 

“অন্ত তোমার প্রিয় বদন দেখিতে পাইব তাহ। ন্বপ্রের অগৌচর | হাঁঃ কি দর্শন করিতেছি--সমীরণ দ্বার! 
লপন বসন বারবার উন্মোচন হওয়াতে জ্যোতিরিঙ্রণ অবলোকন করিতেছি । প্রিয়ে গাত্রোখন করহ-__উদ্িপ্ন- 
চিত্ত। হইয়া গত রজনী জাগরণপূর্বক শরীরের জড়ত। এবং আলঙ্ত জন্মিয়াছে। হে প্রাণাধিকে, আমার প্রমুখাৎ 
হৃদয় প্রফুল্ল হইবে__গত্রোথান করহ, পোকাকুল হইয়। অকুল নিদ্রাসাগরে মগ্রা-_গাত্োথান করহ-বিপ্লেষ 
আশক্ক।য় জ্ঞানশৃন্য হইয়াছ” ইত্যাদি রামচন্দ্র অথব। পুকর্নরবার বিলাপ বলিয়া! মনে হয় না কি? 

৩। যমক-অনুগ্রাসের বাহুল্য তৎকালে যাত্রা-পাঁচালীর্‌ মধো দেখা যাইত, আলোচ্য নাটকেও তাহার 
নিদর্শন রহিয়াছে. 

সই, রাখিব প্রাণ কেমনে । 
দেশাস্তরে থাকে কান্ত, সদ! ভাধি মনে মনে । 
নিষ্ঠুর নিয় কাত্ত, জসিবেদ! একাত্ত, হইল মোর প্রাণান্ত, বাতন! সহ্ে না গ্রাণে। 


মৌলিক নাটকের সূচন। ২৫. 


সপত্বী-পুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচার-কাহিনী অবলম্বন কঁরিয়! প্রাটীন বাংল 
সাহিত্যে অনেক গ্রন্থ রচিত হইয়াছে । শীত-বসস্তের রূপকথায় বিমাতার নিষ্ঠুরত। বর্িত 
হইয়াছে । বিদ্য়-বসন্তের কাহিনী লইয়া! বহু যাত্রা ও নাটক লেখা হইয়াছে, অমৃতলাল 
বস্থর নাটকখানি তন্মধ্যে প্রধান। আলোচ্য নাটকেও কুৎসিত সপত্বী-পুত্র বিদ্বেষ 
এবং তাহা'রই নিষ্টুর পরিণতি প্রদণিত হইয়াছে । লেখক ট্র্যাজেডি লিখিতে প্রবৃত্ত হইয়া ছিলেন, 
সেজন্য নাটকের শেষে সুলভ মিলন এবং গতানুগতিক ধর্মের জয় ও অধর্মের পরাজয়-দৃশ্য 
দেখান নাই। তথাপি ইহা না বলিয়া উপায় নাই যে, নট্যকার দুঃখময় বিষয়বস্ত স্থুনিপুণ 
ভাবে ব্যবহার ও বিন্যাস করিয়৷ ইহাঁকে নাট্যরসোতীর্ণ করিতে পারেন নাই। বিষাদাস্তক 
পরিণতি মাত্রই আমাদের মন অভিভূত করিতে পারে না । এই পরিণতি সম্ভাব্য কারণের 
দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইয়া অনিবার্য হইয়া উঠিলেই ইহা আমাদের অন্তর দ্রবীভূত করিতে সমর্থ 
হয়। কিন্তু আলোচ্য নাটকে কার্য-কারণের শৃঙ্খল! নাই, ঘটনাশ্ৃত্রের সংলগ্নতা কিংবা 
ক্রমবিবর্তনশীলতা নাই । রাঁজপুত্রের প্রতি রাঁজমহিষীর বিদ্বেষভাঁব এমনভাবে বিশ্লেঘিত হয় নাই 
যাহাতে মহিষী সপত্বী পুত্রের প্রতি ভয়ঙ্কর অপরাধ আরোপ করিয়া তাহাকে ধ্বংস করিতে 
চাঁহিবে। লালসাময়ী মহিষীর প্রণয়-লালসা দেখাঁনো হইয়াছে বটে, কিন্তু তাহা প্রাণনাথের 
প্রতি, রাজপুত্রের প্রতি নহে। স্বতরাং রাজপুত্রের পক্ষ হইতে কোন প্রত্যাখ্যান অথব৷ 
অপমান এবং তজ্জনিত প্রতিহিংসা-বৃত্তির স্ফুরণের কোন কারণই ঘটে নাই। সেজন্ত 
তাহার পক্ষে রাঁজপুত্রের জীবন-নাশের এতখানি হিংস্র আয়োজন অকারণ ও অবিশ্বীস্য 
হইয়া উঠিয়াছে। অবশ্তঠ এই আয়োজনেরও কোন পরিণতি নাই। কারণ পরিশেষে 
অন্ৃতপ্ত মহারাজ মৃত্যুশয্যায় রাজকুমাঁরের সহিত পুনমিলিত হইয়াছিলেন (কি ভাবে তাহার 
সন্দেহের নিরসন ঘটিল এবং তিনি নিজের তুল বুঝিতে পারিলেন তাহা অবশ্য নাটকের 
মধ্যে দেখানো হয় নাই।) ইহার পরে রাজপুত্র-বধূ ও রাজপুত্রের মৃত্যুও অনেকটা 
অকারণ ও অস্বাভাবিক হইয়া পড়িয়াছে। রাজপুত্রের দ্বারা প্রাণনাথের হত্যাও এ রকম 
নিতান্ত অহেতুক ও বিপদৃশ ঘটন! ছাড়! আর কিছুই নয়। প্রাণনাথকে বারবার অত্যন্ত 
নীচাশয় ও দুক্র্কারী বলা হইয়াছে। কিন্তু লাম্পট্য-দৌষ ব্যতীত তাহার আর কোন 
অনিষ্টকারিতা নাটকের মধ্যে স্পষ্ট হইয়া উঠে নাই। স্থৃতরাঁং তাহাঁকে হত্যা করাতে 
রাজপুত্রের চরিত্রের কোন বীরত্ব কিংবা গৌরবের প্রকাশ হয় নাই। 


ভদ্রোভুনি (১৮৫২) 
'ভদ্রারজুন* শুধু প্রথম নাটক নহে, ইহা প্রথম সার্থক নাটক। ইহার পরে বহু নাটক্‌ 
রচিত হইয়াছে, কিন্তু তাহাদের অধিকাংশ নাটক নহে, সংলাপ-যুক্ত রচন! মাত্র। কিন্তু 
“ভদ্রার্ভুন+ সে ধরণের নাটক নহে। কাহিনীর সংহত ক্রিয়াশীল গতি, নাটকীয় কৌতুহল ও 
আবেগের সঞ্চার এবং সংলাপের আড়ম্বরহীন ম্বাভাবিক স্থাচ্ছন্দের ফলে ইহা প্রকৃতই 
নাট্যপদবাচ্য হইয়! উঠিয়াছে। লেখক ভূমিকায় বলিয়াছেন যে, তিনি ইউরোপীয় আদর্শ 


২৬ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


অনুসরণ করিয়া নাটকথানি রচন! করিয়াছেন ।১ 'ভদ্রাঞ্জুনে”র পরে বহু নাট্যকার পাশ্চাত্য 
নাটযপ্রথা অনুসরণ করিয়া! নাট্য রন! করিতে প্রবৃত্ত হইলেও তাঁহাদের অনেকেই (এমন কি 
স্বয়ং মাইকেল পর্যন্ত ) বোধ হর অজ্ঞাতসারেই সংলাপ ও আঙ্গিকে সংস্কৃত নাটকের অনুকরণ 
করিয়া ফেলিয়াছেন। কিন্তু তারাচরণ তাহার উদ্দেশ্ট সিদ্ধ করিয়াছেন । আলোচ্য নাটকের 
মধ্যে সংস্কৃত প্রভাব একেবারে নাই বলিলেই হয়। লেখক পাশ্চাত্য প্রথা অনুযায়ী তাহাঁর 
নাটকথানি পাচ অস্কে এবং প্রত্যেক অঙ্ক আবার কয়টি দৃশ্টে ( লেখক দৃশ্ঠের স্থলে সংযোগ- 
সথল' নামটি ব্যবহার করিয়াছেন ) বিভক্ত করিয়াছেন । নাটিকের একটি “আভাস” (প্রস্তাবনা 
০1088 ) রহিয়াছে । নাটকের সংলাপে গগ্চ ও পদ্যের মিশ্রণ রহিয়াছে । গগ্চ 
সাধুভাষায় রচিত হইলেও খুবই সরল ও উপযোগী । পদ্য রচনা পার ও ত্রিপদীতে 
বিভক্ত । বাংল! মহাভারতের পদ্যের সহিত ইহার মিল অ।ছে। জায়গায় জায়গাষ কবিগানের 
ষোটকের স্তাঁয় বিভিন্ন চরিত্রের কথার মধ্যে অন্ত্য মিল লক্ষিত হয় । 


একটি দৃষ্টাস্ত দেওয়া গেল__ 

বস্দেব-- এতদ্বতীত আর কিসের ভাবনা । 
রোহিণী--তূমি যেন এ কথার কিছুই জান না ॥ 
বস্--আঁর কি জানিতে হবে স্পষ্ট করি বল। 
রোহি-্রহস্তে নাহিক কাঁম যাঁও মেনে চল ॥ 
বস্থ--কি কথায় রহস্ত পাইলে তুমি টের। 
রোহি--তোমার নাহিক দোঁষ মম ভাগ্য ফের॥ 
বস্থ--তোমাদের কথা আমি বুঝিতে অক্ষম । 
রোহি- তোমারে কি দিব দোষ আমাদেরি ভ্রম ॥ 
বন্ু- ছন্দোযুক্ত বাক্য ছাড় কহ করি স্পষ্ট। 
রোহি _সমান ভাবিও মনে সকলের কষ্ট ॥ 
বস্থ--সকলের ক্লেশ আমি দেখি সম ভাবে । 
রোহি - তাহাই দেখিলে পর সব টের পাবে । 
বস্থ--আশমি এ রহস্য বাক্যের মধ্যে নাই । 

আনন্দেতে থাক আমি বাহিরেতে যাই ॥ 

স্৮( ২য় অঙ্ক, ১ম সংযোগস্থল ) 
_ কবিগানের যমক-অনুপ্রাস ও গ্েষপ্রিয়তার প্রভাবও স্থাঁনে স্থানে দৃষ্ট হয়। 


১। “এই নাটক ক্রিয়াদি ও ঘটনা স্বানের নির্ণয় বিষয়ে ইয়োরোপীয় নাটক প্রায় হইয়।ছে, কিন্তু গদ্য পদ্য 
রচনার নিয়মের অস্যথ। হয় নাই । সংস্কৃত নাটক-সম্মত কয়েকজন নাট)/কারের ক্রিয়াি গ্রহণ করি নাই ; বথা_ 
প্রথমে নান্দী, তৎপরে শুত্রধর ও নটীর রঙ্গভূমিতে আগমন, তাহারদিগের দ্বায়। প্রস্তাবন! ও অস্তান্ত কার্য, এবং 
বিদুব্ষ' ইত্যাদি 


মৌলিক নাটকের সুচনা ২৭ 


অঞ্জন কর্তৃক স্বভদ্রা-হরণই নাটকের মুল উপজীব্য বিষয়। নাটকের কাহিনী 
ভ্রুত-ঘটমান ঘটনারাশির মধ্য দিয়া বিকাশ ও পরিণতি লাভ করিয়া এক ঘনীভূত 
রস-চমৎকারিত্বের উৎপাদন করিয়াছে । অসংলগ্ন ও অবান্তর ঘটনার উত্তাপে সেই রস 
ফিকে হইতে পারে নাই। প্রথম অঙ্কে যুধিষ্টিরের সভায় নারদের আগমন এবং তাহারই কুট 
চক্রান্তে অঞ্ুনের বার বৎসরের জন্য রাজ্যত্যাগ। দ্বিতীয় অঙ্কে সুতদ্রীর বিবাহের উদ্যোগ 
এবং বলরাম কর্তৃক ছুর্যোধনের সহিত ভগ্নীর বিবাহের আয়োজন । তৃতীয় অঙ্কে গ্রভাসতীর্থে 
অঞ্জনের আগমন, সুভদ্রা ও অন্ুনের পারস্পরিক পূর্বরাগ এবং সত্যভামার সহায়তায় গান্ধর্ব- 
বিবাহ।. চতুর্থ অঙ্কে নারদ কর্তৃক বিজ্ঞাপিত হইয়! ছুর্যোধনের বরবেশে দ্বারকায় যা! । 
পঞ্চম অঙ্কে স্ুভদ্রা-হরণ, কৌরবদের অপমান এবং বলরামের ক্ষোভ । নাট্যকার যে পরিশেষে 
চিরাচরিত প্রথ! অন্থযাঁয়ী সকলের মধ্যেই একটা সুলভ মিলন ঘটাইয়! দিলেন না,অভিমান-ক্ষু্ধ 
বলরামের অসন্তুষ্ট অন্ুযোগ-বাক্যের একট! প্রদাহ রাখিয়। গেলেন, ইহাতে তাহার নাটক 
প্রাণময় বাস্তবধর্মী হইয়া উঠিয়াছে। মহাভারত হইতে কাহিনী গ্রহণ করিলেও লেখক বাংলার 
স্বভাব-ধর্মের তুলিকায় রঞ্জিত করিয়া তাহাদিগকে আধুনিক বাঙালী সমাজের অস্ততূ্ত করিয়া 
ফেলিয়াছেন। কন্ঠাদায়গ্রস্ত পরিবারের ছুশ্িন্তা, অস্তঃপুরিকাদের প্রবাদ-সংস্কারাশ্রিত 
আলাপ, বিবাহের প্রথা ও স্ত্রী-আচার ইত্যাদি বিষয়ে বাঙালী-সমাঁজের বাস্তব পরিবেশ 
নাটকের মধ্যে সন্নিবেশিত হওয়ায় ইহা পাঠক ও দর্শকের কাছে অত্যন্ত আগ্রহ ও আমোঁদ- 
প্রদ হইতে পারিয়াছে সন্দেহ নাই । 


প্রথম অঙ্ক 
ংলা নাটকের আদি পর্ব 


উনবিংশ শতাবীতে নাট্যমঞ্চের যবনিকা৷ উত্তোলিত হইবার পর বাংলা নাটক যখন 
আত্মপ্রকাশ করিল তখন নিজের পায়ে ভর দিয়! দাঁড়াইয়া নিজের মনের কথ! বলিবার 
ক্ষমতা তাহার ছিল না। তাহার কথাবার্তা, হাবভাব সব ছিল নিশ্রীণ পুত্তলিকাঁর মত-- 
(সে চালিত হইত এক অদৃশ্ঠ হস্তধূত রজ্জু দ্বারা । সেহন্ত হয় কালিদাসের আর না 
হয় শেক্সপীয়ারের। কিন্ত কিছুকাল পরেই তাহার মনে এই শুভবুদ্ধির উদয় হইল যে, 
দেহের মধ্যে যে প্রাণটি থাকে সেই প্রাণটি ষদি নিজের না হয় তবে দেহের কাঁস্তি ফোটে 
না, আমুও বাড়ে না। সেজন্য নিজের প্রাণের সন্ধীন করিতে সে প্রবৃত্ত হইল। 

যেদিন অন্ুবর্তনের সোজ। রাস্তাটি পরিত্যাগ করিয়া স্থষ্টির জটিল পথে চলিতে 
বাংলা নাটক আরম্ভ করিল সেদিন হইতে সমাজের ভাববিপ্রব তাহার অন্তর্দেশ আলোড়িত 
করিয়া তুলিল। সমাজের বিভিন্ন প্রকার জাগ্রত মানস-চেতনার গতি ও সংঘাত বাংলা 
নাটকে রূপায়িত হইয়। উঠিল। নাটকের মধ্যে যে চেতন৷ মূর্ত তইতে লাগিল তাহার 
স্বব্ূপ জানিতে গেলে তৎকালীন বাংলা সমাজের দিকে দৃষ্টিপাত করিতে হইবে। 

১৮২৫ খুষ্টা্ব হইতে বাংলার সমাজের নবজন্ম হইতেছিল। পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সভ্যতার 
প্রচণ্ড আঘাতে তাহার পুরাতন নির্মোক থসিয়! পড়িতেছিল এবং তাহার অভ্যন্তর হইতে 
এক নব-বলদৃণ্ত জাতক আত্মপ্রকাশ করিতেছিল_ হাতে তাহার বিদ্রোহের শাণিত 
তলোয়ার এবং দৃষ্টি অনাগত অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে গ্রসারিত। প্রাচীন-বিলাঁসী, 
সাবধানীর দল তাহার গতি রুদ্ধ করিতে চাহিয়াছিল, কিন্তু পারে নাই। কারণ স্বল্প- 
কালের মধ্যেই সী্মত অনল দাঁবানলের আকার ধারণ করিয়াছিল। মেকলে ও বেন্টিক্কের 
যুগ্ম চেষ্টায় ইংরাজি শিক্ষা এদেশে মূল প্রোথিত করিল । রামমোহন রায় ও ডেভিড 
হেয়ার তাহার মূলে জলসিঞ্চন করিলেন। হিন্দু কলেজ হইতে স্বাধীন চিন্তার ধারা দেশের 
সর্বত্র ছড়াইয়া পড়িল__-নবধুগের সক্রেটিস হইয়া উঠিলেন ডিরোজিও। ডিরোজিওর 
শিশ্তগণ আগুন লইয়! খেলা আরম্ভ করিলেন, আগুনের ফুলকি ছড়াইয়! দিলেন প্রাচীন 
সমাজের বুকে । সমাজের আর্তনাদ তাহাদের বধির কর্ণে প্রবেশ করিল না। এদিকে 
রামমোহন রায়ের অদ্বৈতবাদী ব্রাক্ষধর্ম প্রাচীন ধর্মের মাঝে আনিয়। দিল প্রবল - বিক্ষোভ । 
ব্রাহ্মর। শুধু ধর্সের মধ্যে তাহাদের দৃষ্টি আবদ্ধ করিয়া রাঁখিলেন না। সমাজের দুধিত 
ব্যাধিসমূহ দূর করিবার জন্য তাহাঁর বুকেও ছুরি চালাইলেন। উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে 
আর একজন মহাপুরুষ সমাজের কর্ণধার হইলেন, হাতে তাঁহার বজ্রের শক্তি এবং বুকে 
মত্ত হস্তীর বল। তাঁহাকে বাঁধঠ দিতে আসিল সমাজের সম্মিলিত প্রবল শক্তি, কিন্তু সেই 


বাংল। নাটকের আদি পর্ব ২৯ 


শক্তি নস্তাঁৎ করিয়! নিজের একেশ্বর সংগ্রাম তিনি জয়যুক্ত করিলেন--বিধব! বিবাহ আইন 
পাশ হইল এবং বহু-বিবাহের বিরুদ্ধে সাজের জনমত জাগ্রত হইয়। উঠিল। 

বাংলার রাজনৈতিক গগনও সেদিন ঘনঘটায় আচ্ছন্ন হইয়া পড়িল। ১৮৫৭ সালে 
বিদ্রোহের আগুন জলিয়। উঠিল। সে আগুন নির্বাপিত হইল বটে, কিন্তু আগুন লাগিয়াছিল 
সমাজের অন্তরতম প্রদেশে । সেই অগ্নিজালায় পরাধীন সমাজ ফোসাইতে আরস্ত করিল। 
ঠিক সেই সময়েই বাংলার এক প্রান্তে প্রথম গণ-উখান' দেখা দিল। দরিদ্র, উপায়হীন 
কষকগণ এতকাল নীলকরদের হাতে যে কোড়ার আঘাত পাইতেছিল অত্যাচারের চরম 
সীমায় অঞুসিয়৷ একদিন তাহার! উদ্ধত মুষ্টিতে সেই কৌড়া চাঁপিয়া ধরিল এবং তাহা 
ঘুরাইয়। 'অত্যাচারীর পৃষ্ঠদেশে উত্তোলন করিল। সেদিন সর্বহারার দল বিপ্লবের প্রথম 
অগ্নিদীক্ষা লাভ করিল । 

বাংলার সমাজধর্ম ও রাজনীতির এই ভাববিপুত অবস্থায় প্রথম যুগের বাঙালী 
নাট্যকারদের আবির্ভাব। সমাজের নবজাগ্রত ভাবতরঙ্গ অত্যন্ত স্বাভাবিক নিয়মেই 
তাহাদের নাটকের মধ্যে সংক্রামিত হইল । ধাহা'রা নবীন ভাব-আন্দৌলনের বিরোধী ছিলেন 
তাহারা কিন্ত নাটকের ক্ষেত্রে ছিলেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং তাহাদের শক্তিসামর্থ্যও 
খুব বেশি ছিল না। সেজন্য তশহাঁদের লিখিত নাটক পরবর্তীকালে তাহাদের পরিচয় 
বহন করিতে পারে নাই। কিন্তু ধাহাঁরা ছিলেন সংস্কার ও প্রগতির ধারক তাহাদের 
বিজয়-বৈজয়ন্তী সেদিন উড্ভীন হইল, তাঁহাদের নিক্ষিপ্ত শেল সমাজের বুকে প্রবেশ করিল। 

বিধবা-বিবাহ আন্দোলন ছিল তৎকাঁলে সর্বাপেক্ষা বেশি গ্রভাবশালী-_ প্রথম যুগের 
নাট্যকারদের মধ্যে অনেকেই বিধবা-বিবাহের পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করিলেন। এবিষয়ে 
পথিরুৎ হইলেন উমেশচন্দ্র মিত্র। তাহার “বিধবা-বিবাহ নাটক করুণরসে সমাজের 
পাঁধাণ-হৃদয় গলাইতে চাহিল। চপলাচিত্রচাপল্যের মধ্যে লেখক যছুগোপাঁল 
চট্টোপাধ্যায় বিধবার বিবাহ দিয়া সমস্যার উপর একেবারে যবনিক। টানিয়! দিয়াছেন । 
দুঃসাহস বটে, পচাত্তর বৎসর পরে শরৎন্দ্রও এতখানি সাহস দেখাইতে পারেন নাই। 
সমস্যাটির বিপজ্জনক সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করিলেন শ্রীশিমুয়েল পিরবক্স তাঁহার “বিধবা 
বিবাহ নাটকে? । মনোমোহন বস্থুর ন্যায় প্রাচীনপন্থী নাট্যকারও বিধবা-বিবাহ সমর্থন না 
করিয়৷ পারেন নাই । ত্ৰাহার “আনন্দময় নাটকে” ইহার সাক্ষ্য মিলিবে। 

বহুবিবাহ ও সপত্বী-সমস্তা লইয়। তৎকালে অনেকগুলি নাটক লিখিত হইয়াছিল, 
তাহাদের মধ্যে কতকগুলিতে ছিল করুণরসৈর আবেদন এবং. অপরগুলিতে ছিল কৌতুকরসের 
আঘাত। বাংল! সাহিত্যের প্রথম বিষাদাস্ত নাটক “কীতিবিলাস” এই সমস্যা লইয়াই 
_লিখিত। “নব-নাটকে” নাটুকে রামনারায়ণ তাহার স্বভাবসিন্ধ রব্যজের আসর ছাড়িয়া 
দুঃখ-বেদনার দরিয়ায় হাবুডুবু খাইয়াছেন। তবে তিনি হাসির বু'দ ছাড়িয়াছেন “উভয়- 
সঙ্কটে” । মনোৌমোহন বন তাহার 'প্রণয় পরীক্ষা নাটকে” সপত্বী বিদ্বেষের এক ভীষণ 
পরিণতি দেখাইয়াছেন, অবশ্ঠ সমন্তার ভীষণত! দেখাইতে যাইয়া নাটকের নাটকত্ব যে 


: ০ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


' তিনি অনেক ক্ষু্ন করিয়! ফেলিয়াছেন সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। সপত্বী সমস্যার 
সরসতম বর্ণনা পাই আমরা তৎকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নাট্যকার দীনবন্ধুর নাটক “জামাই 
. বারিকে” । আজ পর্যন্ত ইহা অপেক্ষা অধিকতর হাশ্তরসাত্মক নাটক বোধ হয় লেখা হয় নাই। 

শিক্ষিত জনমত একদিকে যেমন বিধবা-বিবাহের প্রতি অঙ্গকুল হইয়! উঠিতেছিল, 
অন্যদিকে তেমনি বাল্যবিবাহের দিকে প্রতিকূল হইয়া পড়িতেছিল। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে 
প্রবলতম প্রতিবাদ ধ্বনিত হইল 'সন্বন্ধ-সমাধি নাটকে? । শ্রীপতি মুখোপাধ্যায়ের «বাল্য- 
বিবাহ নাটক”, রামচন্দ্র দত্তের “বাল্যবিবাহ, এবং শ্যঠামাচরণ শ্্রীমানীর “বাল্যবিবাহ, 
নাটকের নামও উল্লেখযোগ্য । কুলীন রামনারায়ণ আঘাত করিলেন কৌলীন্তপ্রথাকে। 
রামনায়ায়ণ শিখাধারী ব্রাহ্মণ পণ্ডিত ছিলেন বটে, কিন্তু তাহার শিখাতে বাধ! ছিল বিছ্যুৎ। 
কৌলীন্কপ্রথার দৌষ উল্লিখিত হইয়াছে বিচ্ছিন্নভাবে আর একটি প্রহসনে, তাহার নাম 
£কলিকৌতুক নাটক”। 

প্রাচীন ধনশালী, প্রতৃত্বকামী সমাজের বিকৃতি ও ব্যাধি অনেক নট 
খোঁচায় বাহিরে প্রকাশিত হইয়া পড়িল। সন্মান ও সম্পত্তির সুযোগ লইয়! যাহারা 
ইন্জিয়-বিলানে মত্ত হইয়া পড়িয়াছিল তাহারা শাস্তি পাইল অনেক নাঁট্যকারের হাতে। 
রামনারায়ণ চক্ষুদান+ ও “যেমন কর্ম তেমনি ফল” নামক প্রহসন ছুইথানির মধ্যে কৌতুকের 
আঘাতে লাম্পট্য-দোষ শোধন করিতে চাহিলেন। “বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রেখএর মধ্যেও 
মাইকেল ব্যঙ্গের চাবুক চাঁলাইলেন। তবে এবিষয়েও সের! শিল্পী হইলেন দীনবন্ধু মিত্র। 
তাহার জলধর ও রাঁজীবলোচন বাংলা সাহিত্যে অবিস্মরণীয় হইয়া আছে। 

অনেক নাট্যকার নব্যভাবাপন্ন আদর্শবাঁদী চরিত্র অঙ্কন করিলেন। তবে মজার 
ব্যাপার এই যে, তাহার! যাঁহাদের নিন্দা করিলেন তাহার! হইল জীবস্ত আর যাহাদের 
প্রশংসা করিতে চাহিলেন তাহারা হইয়! পড়িল কৃত্রিম পুত্তলিক!। স্বয়ং দীনবন্ধু পর্যন্ত 
শিক্ষিত, আলোকপন্থী চরিত্রকে সজীব করিয়া তুলিতে পারেন নাই। তাহার ললিত ও 
ল'লাবতী নিশ্রাণ আদর্শের প্রতীকমাত্র । “নবনাটকে'র স্থুবোধ ও সুধীরও নীতিকথার 
শু বাণ্ডিল মাত্র, নাটকীয় সরস চরিত্র নহে । “প্রণয় পরীক্ষার শানস্তশল এবং সরলাও অনেক 
ভালে ভালো করুণ কথা বলিয়াছে বটে তবে রক্তমাংসের স্বাভাবিক মত্তি হইতে পারে নাই। 

প্রাচীন সমাজের বিকৃতি নাট্যকারদের হাতে কঠোর আঘাত পাইলেও নব্য সমাজের 
অধোগতিও যে একেবারে নিস্তার পাইয়াছে তাহা নহে। ইয়ংবেঙ্গলের কালাপাহীড়- 
গুলিকে সন্ব ত করা প্রয়োজন হইয়াছিল। সর্বপ্রথম আগাইয়। আদিলেন ইয়ংবেঙ্গলের 
সর্বপ্রধান পা মাইকেল মধুস্থদন। “একেই কি বলে সভ্যতা”র মধ্যে বোধ হয় তিনি 
আত্মঘাতী হইতে চাহিলেন। কেবলমাত্র প্রথমশ্রেণীর সাহিত্যিকই এরূপ নির্দয়ভাবে 
আত্ম-সমালোচনা করিতে পারেন। কিন্তু এ বিষয়েও পুনরায় পুরস্কার দিতে হয় দীনবন্ধুকে। 
তাহার “সধবার একাদশী” কমেডি না ট্র্যাজেডি? বলা শক্ত । তবে ইহা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর 
,মাটক বাংল! সাহিত্যে আর লেখা হুইয়াছে কিন! জানি না। 


সামাজিক নক্সা! নাটক ৩১। 


রাজনৈতিক চেতনা তখনও. ব্যাপকভাবে নাটকে রূপায়িত হইতে পারে নাই। 
তবে তখন এমন একখানি নাটক রচিত হইয়াছিল যাহা স্থুদূর ভবিষ্যতের দিক নির্দেশ 
করিয়াছিল। একখানি নাটক যে এতখানি সমাজ-বিপ্লব জাগাইয়! তুলিতে পারে তাহা 
পূর্বেও পরে কখনও আমর! দেখি নাই । দীনবন্ধু “নীলদর্পণে”র মধ্যে গণবিদ্রোহের পাঞ্চজন্য 
ধ্বনিত করিলেন। সেই ধ্বনি দিকদিগন্তরে বিকীর্ণ হইয়া শোঁধিত, মুক্তিকামী জনগণকে 
উদ্দীপিত করিয়া তুলিল। তাহার! অত্যাচারের অমানিশার পরে পূর্বপ্রান্তে আশার রক্তিম 
লিখা দেখিতে পাইল । 


প্রথম গর্ভাঙ্ক (ক) 


সামাজিক নঝ। নাটক 

উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বিভিন্ন সামাজিক সমন্তা লইয়। অনেক নাটক . রচিত 
হইয়াছিল। বহুবিবাহ, বিধবা-বিবাহ, বাল্যবিবাহ, ছুশ্চরিত্রতা এই সমস্যাগুলিই প্রধানত 
তৎকালীন নাট্যকারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছিল। উনবিংশ শতাব্দীর পাশ্চাত্য শিক্ষা 
এবং নবজাগ্রত সংস্কার-প্রেরণার দ্বারা যে তীহারা চালিত হইয়াছিলেন সেই পরিচয় 
তাহাদের নাটকের মধ্যে স্কৃচিহনিত। বস্তুত নাট্যশিল্প অপেক্ষা সমাজ-সংস্কারের উদ্দেশ্যই ' 
যে তাহাদের মনে অধিকতর প্রবল ছিল তাহার প্রমাণ অতি সহজেই তাহাদের যে 
কোন নাটকে মিলিবে। কারণ প্রীয় সব নাটকেই নাটকীয় সংঘাত ও চরিব্র-সৃষ্টি 
অপেক্ষা বিশেষ বিশেষ সামাজিক তত্ব ও মতবাদই অত্যধিক আঁতিশয্য লাভ করিয়াছে। 
এই সর নাটকের প্রচার ও প্রভাব বেশি ছিল না, আজ ইহাদের মধ্যে অধিকাংশই 
লুপ্ত হইয়া! গিয়াছে, কিন্তু ইহারা সাহিত্যক্ষেত্রে সমাজ-প্রগতির অবিসংবাঁদী সাক্ষী। 
আঁজিকার প্রগতি-সাহিত্যের মূল ইহাদের মধ্যেই অদ্বেষণ করিতে হইবে । 

কিন্তু এই সব নাটকের বিষয়বস্ত ও দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে নবীনত্ব থাকলেও ইহাদের 
শিল্পরীতি ও রচনাভঙ্গি প্রাচীনত্বের গণ্ডি অতিক্রম করিতে পাঁরে নাই। নান্দী-স্থত্রধার 
নটী ইত্যার্দির মধ্য দিয়া অধিকাংশ নাটকের আরন্ত হইয়াছে এবং ইহাদের অঙ্ক ও 
দৃহ্যবিভাগ এবং সংলাঁপের দীর্ঘতা ও উচ্ছ্াসময়তা প্রভৃতির দিক দিয়াও ইহারা সস 
নাটকের ধারা অনুসরণ করিয়াছে । তবে সমস্যার বিষাঁদময়ত। দেখাইবার জন্য নাট্যকাঁরগণ 
অনেকগুলি নাটকের পরিণতি বিয়োগান্তক করিয়৷ তুলিয়াছেন। বিধবা-বিবাহ নাঁটক+, 
“সপত়ী নাটক, “বাল্যোদ্বাহ নাটক, প্রভৃতি নাটকের কথ এ প্রসঙ্গে মনে হইবে। সংস্কৃত 
নাটকের মিলনাস্তক পরিণতির সহিত_ এই সব নাটকের পরিণতির কৌন মিল নাই। এই 
সব নাটকের ঘটনাস্থল পল্লীগ্রাম। সেজন্য দৃশ্ঠভূমি ও চরিত্রগুলির মধ্যে বাংলার খাঁটি 
পল্লীরস সঞ্চারিত হইয়ছে। কলিকাতার, নাগর সমাজ ও সংস্কতির প্রভাব ইহাদের : মধ্যে 


৩২ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


আসে নাই। পরবর্তীকালে সামাজিক নাটকের পরিবেশ প্রধানত কলিকাতার সমাজকেইম্ 
অবলম্বন করিয়৷ আত্মপ্রকাশ করিয়াছিল। অবশ্ঠ দীনবন্ধুর পরবর্তী সাঁমাজিক নাটকের 
কথাই আমি বলিতেছি। পল্লীর পুকুরঘাট, ছায়াঢাক। পথ/ কামিনক£-কলিত অন্তঃপুর ও 
তামকুট-ধৃমাচ্ছন্ন চণ্ডীমণ্ডপের দৃশ্য দ্বারা এমন একটি অকৃত্রিম পরিবেশ এই নাটকগুলির মধ্যে 
জীবন্ত হইয়া উঠিয়াঁছে যাঁহা উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যতাগের পর বাংল! নাটকে আমরা 
বেশি দেখি নাঁই। এই নক্স।-নাটকগুলির আর একটি বৈশিষ্ট্য এই যে, ইহাঁদের মধ্যে 
বিষাদ-গম্ভীর করুণ রস অপেক্ষা লঘু-চপল হাস্তরসই অধিক স্বাভাবিক হইয়! ফুটিয়াছে। 
ইহার কারণ অনুসন্ধান করিতে হইলে তৎকালীন নাটকের ভাঁষ! ও প্রকাশভঙ্গির দিকে 
দৃষ্টিপাত করিতে হইবে। করুণরসাত্মক গম্ভীর দৃশ্ঠ অঙ্কন করিতে যাইয়া নাট্যকারগণ 
তাহাদের ভাষা ও প্রকাশভঙ্গিকে এমন আড়ষ্ট ও ভারগ্রন্ত করিয়া ফেলিতেন যে তাহার 
ফলে নাটকের প্রাণশক্তি সম্পূর্ণরূপে অন্তহিত হইয়া যাইত.। কিন্তু লঘু ওহান্কা ভাবের 
অবতারণায় তাঁহার! অতখাঁনি মনোযোগ ও গুরুত্ব দিতেন না বলিয়াই তাহা সরস প্রাণবত্তায় 
এমন স্বাভাবিক হইয়! উঠিতে পারিযাছে। 


নিয়ে কয়েকখানি নাটকের আলোচনা করা গেল। ছুই একখানি প্রসিদ্ধ নাটক 
সংগ্রহ কর! সম্ভব হয় নাই বলিয়া তাগদের আলোচন। অন্তভূক্ত করা গেল ন|। 


॥ কলিকৌতুক নাটক ( ১৮৫৮) ॥ বিভিন্ন যুগে কলি ও তাহার সঙ্গীদের পাঁপ- 
প্রভাবে পৃথিবীর যে কিরূপ অবনতি ও ছুর্গতি ঘটিয়াঁছিল তাহাই নাটকের মধ্যে বর্ধিত 
হইয়াছে । প্রথম অন্কে পরীক্ষিতের কাহিনী । দ্বিতীয় অঙ্কে বুদ্ধের ব্রাহ্গণ্য ধর্ম-বিদ্রোহ। 
তৃতীয় অঙ্কে কামদেবের সর্বময় প্রভার। চতুর্থ অঙ্কে আদিশূরের কাহিনী ও বল্লালের 
জঙ্মবৃত্ান্ত । কৌলীন্য-প্রথার প্রচারও ইহাতে রহিয়াছে । পঞ্চম অস্কে শ্রীচৈতন্যদেবের বৃত্থাস্ত, 
শ্লেচ্গপ্রভাব ও পাশ্চাত্যগামী যুবকসমাঁজের বিকৃতি প্রভৃতি বণিত হইরাছে। আগ্োপাস্ত 
কলি ও তাহার সহকারীদের কুপ্রভাব বণিত হইয়াছে । নাটকের গোড়ায় সংস্কত প্রভাব 
বিদ্যমান। কিন্তু বইয়ের ভাষার মধ্যে সচল স্বাভাবিক কথ্য ভাষার প্রাধান্য রহিয়াছে । 
[55215 ও 1/11801 0195র ন্যায় কলি, ধর্ম,অধর্ম প্রভৃতির মধ্যে ব্যক্তিত্ব আরোপ করা 
হইয়াছে। ঘটনার দঙ্গতি ও সংলগ্রতা মোটেই নাই। দীর্ঘ পয়ারের দৌরাত্ম্য এখানেও 
আছে। | 


ঙ ॥ চার ইয়ারে তীর্থ যাত্রা (১৮৫৮ ) ॥ এক মদখোর,এক আফিংখোর, এক গুলিখোঁর ও 
এক গীঁজীখোর এই চার নেশীখোর ইয়ারের ছুর্গতি আলোচ্য নাটকে বণিত হইয়াছে । 
পরিশেষে অনুতপ্ত ও ছুর্দশাপন্ন ইয়ারগণ বৃন্দাবন গমন করিয়! সতভাঁবে জীবনযাত্রা আরস্ত 
করিল। কিন্তু তাহ নাট্যকাহিনীর অন্তর্ভূক্ত নহে, সেজন্য নাটকের নাম অর্থহীন। সংস্কৃত 
রীতিতে নাটকের আর্ত, পয়ার ও ত্রিপদীর বানে নাট্যসংঘাত ভাসিয়া গিয়াছে। ঘটক 
গৌরদাস বাবাজীর চরিত্র সর্বাপেক্ষা জীবন্ত । 


সামাজিক নক্া। নাটক ৩৩ 


॥ সপত্বী নাটক (১৮/৮)॥ কোৌলীন্তপ্রথা ও বহুবিবাহে্রে বিরুদ্ধে স্থুম্পষ্ট মত 
গ্রকাশ করিয়! নাট্যকার নাটকখাঁনি রচন। করিয়াছিলেন | আলোচ্য নাটকে ঘটনাবিন্তাস 
ও নাটকীয় সংহতি কিছুই নাই। পয়ারের দৌরাত্ম্য ও'দীর্ঘ খেদোক্তির বাহুল্য ইহাঁকে 
অত্যন্ত একঘেয়ে ও ক্লাস্তিকর করিয়া তুলিয়াছে। তবে একথা সত্য যে, নাট্যকার একশত 
বৎসর পূর্বেকার বাঙালী পরিবাঁর-জীবনের সমস্যা আমাদের চোখের সম্মুখে তৃলিয়। ধরিতে 
পারিয়াছেন। নায়িকা সৌদামিনী বাংল1-সমাঁজের চিরলাপ্থিত! গৃহ-বধূর একটি নিখুত বেদনা- 
করুণ চিত্র । স্বামীকে বুকভর! ভালোবাস! দান করিয়৷ সে বিনিময়ে পাইল সপত্বী-যন্ত্রণা । 
ধর্মসাধনা করিতে যাইয়া সে দেখিল, গুরু ভক্তির মন্ত্র অপেক্ষা প্রেমের তন্ত্র শিক্ষা দিতে অধিক 
উৎস্থক। তাঁরপর জটিল কুটিলার স্ায় শাশুড়ী ননদিনীর নিত্য অত্যাচার তে। আছেই। 
তাহার ভাগ্যহীন জীবনের এই নিরুপায় নির্বাক বেদন! আমাদের অন্তর স্পর্শ করে। 

॥ বিধবা বিরহ নাটক-_শিমুয়েল পিরবক্স (১৮৬০ ) ॥ নাটকের নায়িকা মনো- 
মোহিনী যুবতী বিধবা । অনঙ্গের শরাঁঘাতে তাহার হৃদয় জর্জরিত, অথচ চারিদিকে 
নিষেধের ছুলজ্ঘ্য প্রাচীর ॥ তাহাঁর পিতা * অতিবৃদ্ধ হইয়াও একটির পর একটি নারীর 
সর্বনাশ করিতেছেন, -কিন্তু সমাজের বিধান সেখানে সহিষুণ। আর যত বাধা নিষেধ 
কি বিধব।দের বেলাতেই ? মনোমোহিনী বেশি দিন আর নিজেকে রক্ষা করিতে পারিল না। 
একদিন তাহার শূন্য হৃদয়ের দ্বারে শ্যামের বাঁশি বাজিয়া উঠিল। হাঁড়ির ছেলে, কিন্তু হাড়ি, 
ডোম বিচার করিবার ক্ষমতা এখন তাহার নাই। বাম! নামক নষ্টচরিত্রা বিয়ের দ্বার! 
সে তাহীর প্রেমাস্পদ নঙ্গরার সহিত মিলিত হইল। সুন্দরের মতই নঙ্গরা গোপনে 
মনোমোহিনীর ঘরে আসিয়া প্রেমের লীলা চালাইল। অবশেষে মনোমোহিনী অন্তঃসত্ত 
হইয়। নঙ্গরার সহিত গৃহত্যাগ করে। ছুঃখে লজ্জায় ভিয়মাণ হইয়! তাহার পিতামাতাও 
ঘর ছাড়িয়া চলিয়া যান। যাইবার সময় পিতা একখানি লিপি টাঙ্গাইয়া রাখিয়া যাঁন। 
তাহাঁতে লেখা ছিল, “হে দেববংশ হিন্দুলোকেরা তোমরা আমার স্বজাতীয় লোক, এইজন্ত 
তোমাদের নিকটে আমার নিবেদন এই যদি কুলশীল জাতি মান রক্ষ! করিতে ইচ্ছ! কর 
তবে শ্রীত্র যাহাঁতে বিধবাদের পুনবিবাহ হয় এমন চেষ্টা কর।, 

বিধবা-বিবাহের সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য লইয়া নাঁটকথানি রচিত বলিয়৷ সমস্তার বীভৎস 
বাস্তবতার দিকটি নাট্যকার অসঙ্কৌোচে উন্মোচন করিতে চাহিয়াছেন। সেজন্য কচির দিক 
চাহিয়া তিনি কোন হুক ইঙ্গিত অথবা সহনীয় কাহিনীর অবতারণ! করিতে চাঁহেন নাই। 
সমাজের নিষ্ঠুর বিধানের ফলে তাহার তলায় তলায় দুর্নীতি ও বিকৃতির পঙ্ক কিভাবে জমিয়৷ 
উঠিতেছে তাহাই তিনি ছুঃসহ বাস্তব চিত্রের মধ্য দিয়! দেখাইয়াছেন। 

॥ বাল্যোদ্বাহ নাটক (১৮৬০ )॥ শ্টামাচরণ শ্রীমানি রচিত 'বাল্যোদ্ধাহ নাটক" 
বাল্যবিবাহের অশেষ কুফল প্রদর্শনের সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য লইয়া লিখিত ।১ কিন্ত উদ্দেশ্ত যেখানে 

১। নাট্যকারের উত্ধি, উল্লেখযোগ্য-2এক্ষণে বাল্যোস্বাহ নিবন্ধন অন্মন্দেশে যে সমস্ত অনিষ্ট উৎপন্ন 


হইতেছে তাহার কিঞিংও যদিন্তাং এই নাটকে কীতিত হইয়া থাকে তাহা হইলে অভীষ্ট ও উদ্দোগ্ঠ সিদ্ধ 
বিব্চন।ম় পরম সন্তোধানুতব করিব । 'বিজাপন' 


৩৪ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


উৎকট হইয়া উঠে সেখ্ুনে শিল্পের বিরতি ঘটা স্বাভীবিক। আলোচ্য নাঁটফেও সেই 
বিকৃতি আমরা লক্ষ্য করি। স্থধীর চরিত্রটি সম্ভবত নাট্যকারের মুখপাত্র দীর্ঘ খেদ্োক্তিপূর্ণ 
বক্তৃতা ছাড়৷ তাহার দ্বারা নাটকীয় কোন প্রয়োজন সিদ্ধ হয় নাই। বস্তত সুধীর ও 
ধনহীন মহদীশয় এই ছুইটি চরিত্রের মুখে বাল্যবিবাহের যে সব দোষ ও ছুঃখ উল্লিখিত 
হইতে দেখা যায় নাটকের কাহিনীর মধ্য দরিয়া সেগুলির কোন সার্থক রূপায়ণ হয় নাই । 
বি্যাহীনের বিষভক্ষণ এবং বলহীন ও গোপালের মৃত্যু ঘটাইয়! নাট্যকার নাটকে যে বিষাঁদান্তক 
সুর আনিয়াছেন তাহ! বাল্যবিবাহেরই অনিবার্ধ পরিণাম মনে করা! সত্যই শক্ত । নাঁট্যো- 
লিখিত চরিত্রগুলির নামকরণ খুবই কৌতুকাবহ । নাঁমের মধ্যেই বিশেষ বিশেষ চরিত্রের 
বৈশিষ্ট্য আভাসিত হইয়াছে ; যথা_ বলহীন ধনাঢ্য, স্বার্থপর ঢোল, অর্জনস্পৃহ ভট্টাচার্য 
লজ্জাহীন কৈ, রঙ্গি ণী, চতুরা, বিলাসিনী ইত্যাদি । এরূপ নামকরণ সুস্পষ্টন্নপে রামনারায়ণের 
“কুলীনকুল সর্বন্থে”র প্রভাব সুচনা করিতেছে ।১ 


॥ বাল্যবিবাহ- রামচন্দ্র দত্ত ॥ প্রথম যুগের নাট্যকারদের মধ্যে যে সমাঁজ-সংস্কার- 
মনোবৃত্তি আত্মপ্রকাশ করিয়াছিল আলোচ্য নাটক তাহাঁরই একটি স্মারকমীত্র। বাল্যবিবাহের 
কুফল দেখাইবাঁর জন্যই বোধ হয় লেখক নাটকখানি লিখিয়াছেন এবং ইহার বিষাঁদীন্তক 
পরিণতি দেখাইয়া তিনি সম্ভবত সমস্যার আঘাতে আমাদের হৃদয়কে বিচলিত করিতে 
চাহিয়াছেন ৷ কিন্তু নাটকের বিষয়বস্তু অন্য একটি ভাঁব অবলম্বন করিয়৷ ফুটিয়৷ উঠিয়াছে। 
বাডালী-ঘরে স্বামী ও শাশুড়ী ছারা নিগৃহীত। বধূর প্রতি নাট্যকারের সহানুভূতি এতই প্রবল 
ছিল যে, তাহার আচরণের বিসদৃশতা সম্বন্ধে তিনি সচেতন ছিলেন না। সেজন্যই ভূষণের 
সহিত বিবাহিতা বধূ সরলার অবৈধ প্রণয় তাহার কাছে অপরিমিত প্রশ্রয় লাভ করিয়াছে । 
বস্তত সরল|র নিরুপায় ছুঃখভোগ অপেক্ষ। তাহার ছুর্ঘম প্রণয়-লালস।ই নাটকের মধ্যে অনেক 
বেশি প্রাধান্য লাভ করিয়/ছে। ভূষণ ও সরলার প্রণয় কোন সামাজিক বাঁধার ফলে দবন্দ- 
জটিল নয়, ইহা বাধা-বন্ধনহীন রোমান্টিক উচ্ভ্(সে তরল। সরলার শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হইল 
সাংসারিক ছুঃখ-নির্যাতন ভোগের ফলে নয়, রোমান্টিক প্রণয়-স্থলভ ভ্রান্তি বশত। 
স্তিরাং তাহীর মৃত্যু বাঁডীলী বধূর করুণ সমস্যা আমাদের মনে জাগরূক করে না, ইহা 
চিরন্তন প্রণয়-বিষাঁদিনী জুলিয়েটের সমস্যাই উপস্থাপিত কষ্ছটি। তবে যেভাবে এই মৃত্যু 
ঘটানো হইয়াছে তাহা যেমন অবিশ্বীস্ত তেমনি হাশ্তকর। নাঁট্যকারের বিষাঁদান্তক 
পরিণাম একেবারেই ব্যর্থ হইয়াছে তাহা সকলেই স্বীকার করিবেন। নাটকের মধ্যে 
ইতরামি, মাঁতলামি, হিন্দী-বাত ও ইংরাজি বকুনি অনেক কিছু পাঁচ মিশালি উপাঁদানই 
রহিয়াছে, তবে সেগুলি নাটকখানিকে কেবল উদ্দেশ্তহীন করিয়াছে, সরস ফ্রিতে 
পারে নাই। 


১। নাটকের একস্থলে 'কুলীনকুলসর্বন্থের উল্লেখ আঁছে-_কুলিনকুলসর্বন্থ' নাটকের প্রসাদে এ বিষয় 
জ্বাত হোতেও আবাল-বুদ্ধ কেহই বাকি নাই।'--পৃঃ ৪৭। 


সামাজিক নক্সা নাটক ৩৫ 


॥ চপলাচিত্ত-চীপল্য-্্যছুগোপাঁল চট্টোপাধায় (১৮৬১) ॥ বিধব! বিবাহ সমর্থনে 
যেসব নাটক রচিত হইয়াছিল আলোচ্য নাটক তাহাঁদের অন্যতম । বিধবা 
চপলার চিত্ত-চাঁপল্য এবং পরিশেষে বিবাহে সেই চাঁপল্যের সমাধান,_ইহাই নাটকের 
বিষয়বস্তু । বিধবা-বিবাহ আন্দোলন যে সমাজের মধ্যে সহদয় লোকের সহানুভূতি উদ্রেক 
করিতে কতখানি সমর্থ হইয়াছিল এই নাটকে তাহার কিছু প্রমাণ মিলিবে। কিন্ত 
নাটকটিতে বৈধব্য-জীবনের দুঃখময় সমস্যার বেদনা অপেক্ষা বিধবার অনুরাগ বর্ণনাতেই 
অধিক মনোযোগ দেওয়া হইয়াছে । এজন্য করুণ রস অপেক্ষা আদি রসই ইহাতে 
প্রাধান্য লাভ করিয়াছে । নাটকটি ছয়টি অঙ্কে বিভক্ত। প্রত্যেক অক্কের অন্তর্গত 
ঘটনাস্থল 'ও পাত্রপাত্রী সমাবেশের মধ্যে সঙ্গতি নাই। চপ ও চাঁরুচন্দ্রের প্রেম 
আছ্ত্ত স্বগতোক্তির মধ্য দিয়া বর্ণনা কর! হইরাছে, এই কৌশল অনা'টকীয় কাব্য- 
লক্ষণাক্রান্ত হইয়া পড়িয়াছে।১ গদ্য সংলাপের মধ্যে ঠিক গুরুত্বপূর্ণ স্থলে হঠাৎ লঘু পয়ার 
অথব৷ ত্রিপদী ছন্দের অবতারণা! করিয়া নাট্যকার ঘনীভূত ভাবগান্তীর্য নিতান্ত তরল করিয়া 
ফেলিয়াছেন। সমসাময়িক বহু সামাজিক নাটকের ন্যায় এই নাটকটিও স্ত্রী-প্রধান (পাত্র 
পাত্রীদের মধ্যেও আটজন পুকষ ও এগার জন স্ত্রী )। এই সবস্ত্রীশ্রিত্রের কথাবার্তা এখন 
অনেক স্থলেই গ্রাম্য ও অশ্লীল বোধ হইবে কিন্তু ইহার মধ্য দিয়া যে তৎকালীন অন্তঃপুর- 
রমণীদের স্বভাব ও প্রতি অতি উজ্জল হইয়া উঠিয়াছে তাহাতে সন্দেহ নাই। সমাঁজ-চিত্র 
হিসাবে নাটকটির মূল্য অস্বীকার কর! চলে ন1। ৃ্‌ 

॥ বুঝলে কি না” ৫১২৭৩) ॥ আলোচ্য প্রহসনখানির রচয়িতা কে সে বিষয়ে 
মতভেদ আছে ।২ অর্থশালী কুক্রিয়াসক্ত সমাঁজপতির ব্যঙ্চিত্র তৎকালীন অনেক প্রসিদ্ধ 
নাটকে পাওয়া যায়। মধুন্থদনের “বুড়োশালিকের ঘাড়ে রেশ”, দীনবন্ধুর “বিয়ে-পাঁগলা 
বুড়ো” রামনারায়ণের “যেমন কর্ম তেমনি ফল” প্রভৃতি নাটকে এ রকম চিত্র অঙ্কিত 
হইয়াছে। আলোচ্য প্রহসনেও অটলকষ্ণ বস্থ নামক এক দলপতির আসল চরিত্র অতি 
নির্মমরূপে উদঘাটিত হইয়ঃছে । নবীন ও প্রাচীনের সংঘর্ষে নাট্যকার স্পষ্টতই নবীনের 
পক্ষ অবলম্বন করিয়াছিলেন । সেজন্য তাহার সহাম্গভূতির পাত্র নিরুপায় যুবক 
নীলাম্বর আর তাহার আঘাতের লক্ষ্য লম্পট, মগ্যপায়ী হৃদয়হীন সমাজপতি ও নীচ, কুখাছ্য- 
লোভী স্তাবক ত্রাহ্ণ। অটলকৃষ্ণের শাস্তি দীনবন্ধুর জলধর-চরিত্রের অনুরূপ পরিণতির 
কথা স্মরণ করাইয়া দেয় । প্রহসনের শেষ দিকে দর্পনগরায়ণ বহুক্ষণ পর্যস্ত বিগ্যালঙ্কারের 
ছদ্মবেশে অটলের সহিত কথ! বলিয়া গেল অথচ তাহার ক অটল বিন্দুমাত্র ধরিতে পারিল 
না, ইহা নিতান্ত অস্বাভাবিক মনে হয়। 


১। “চপলাচিত্রচাপল্য' নামে মাত্র নাটক, পছ্যরচ়িতার হাতে পড়িয়া ইহার নাঁ৮শক্তি ক্ষুব হইয়াছে ।, 
সদৃশীকাব্য পরিচয়, পৃঃ ৩২। 
২। প্রহ্ষনথানি সাধারণত মহারাজ! বতীব্ত্রমোহনের নামে প্রচলিত । কিন্তু ডাঃ সুকুমার সেন 
মহাশয় বলিয়াছেন যে ইহা! আসলে রামনারায়ণের রচনা । 


সত্যজীবন মুখোপাধ্যায় বলিয়াছেন,প্রহসনখানির রচয়িতা প্রিয়মাধব বনছু। 
স্প্দৃহকাব্য পরিচয়, পৃঃ ৪৯। 


৩৬ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


মেয়েলি আচাঁর-অনুষ্ঠান লইয়! এসময় কয়েকখানি নাটক রচিত হইয়াছিল । বাঙালী 
হিন্দুর বিবাহ ব্যাপারে প্রধান অংশ মেয়েদের । বর ও বধূকে কেন্দ্র করিয়া আবহমানকাল 
ধরিয়া তাহাদের যে আমোদ-অনুষ্ঠান চলিয়া আসিয়াছে তাহার ধারা এই প্রগতি-গর্বা 
আধুনিক কালেও একেবারে লুপ্ত হইয়া যায় নাই। তবে আজ এই সব অনুষ্টান শ্রদ্ধা ও 
মনোযোগ আকর্ষণ করে না, বলিয়াই সাহিত্যক্ষেত্রে ইহাঁদের কোন স্থান নাই। কিন্ত 
একদিন যখন ইহার! সমাজের অবশ্ঠ-পাঁলনীয় অনুষ্ঠানরূপে স্বীকৃত হইত তখন সাহিত্যের 
আসরেও ইহার একেবারে অপাংক্রেয় ছিল না। অবশ্য যেসব নাঁটকে ইহাদের বর্ণনা 
রহিয়াছে তাহাদের নাট্যমূল্য খুব কমই । তবে সমাঁজ-চিত্ররপে সেই সব নাটকের 
পরিচয় জানা! আবশ্যক বোধ হইতে, পারে। এই নাটকগুলির মধ্য হইতে দুইখানি 
নাটকের আলোচনা আমর! করিব । 

প্রথম নাটকখানি হইল শ্ঠামাচরণ দের “বাসর কৌতুক নাটক” (১৮৫৯) । নাটকখানি 
ক্র, বাঁসর ঘরে বর ও রঙ্গরসিকা! কাঁমিনীদের রসালে! উক্তি-প্রত্যুক্তি লইয়াই ইহা রচিত। 
বাসর ঘরের চিত্ররূপে নাটকথাঁনি সম্পূর্ণ বাস্তব। মেয়েদের রসিকতার বাক্য ও ভঙ্গি 
নাট্যকার অবিকল দেখাইতে সমর্থ হইয়াছেন। ছড়াঁজাতীয় গাঁন প্রাচীন রসিকতার অঙ্গ 
ছিল, সেই ধরণের বহু গান আলোচ্য নাটকে রহিয়াছে । বর ও বরাঙগনাদের উক্তি- 
প্রত্যুক্তির মধ্যে ষে চাতুর্য ও বৈদগ্ধ্যের পরিচয় পাঁওয়! যায় তাহা বিশেষ উপভোগ্য । 

দ্বিতীয় নাটকখানির নাম 'পুনর্ধিবাহ নাট ক-(১৮৬২)--লেখক গুরুপ্রসন্ন বন্দ্যোপাধ্যায় । 
পূর্বে বাল্যবয়সে মেয়েদের বিবাঁহ হইত বলিয়া! পুনবিবাহ উতৎ্নব একটি অবশ্ঠ পালনীয় 
আড়ম্বরপূর্ণ উৎসবরূপে পরিগাঁণত ছিল। সেই উৎসবের এক অতি বাস্তব বর্ণন! বর্তমান 
নাটকে রহিয়াছে । বিবাহের ন্তাঁয় পুনধিবাহ উৎসবও প্রধানত মেয়েদেরই উৎসব । সেজন্য 
আলোচ্য নাটকের ক্রিয়াও স্ত্রী-চরিত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পুরুষ কয়েকজন আছেন বটে 
এবং তীহাদের মধ্যে একজন সন্গ্যাসীও আছেন, তবে তাহার! দূরবর্তী ত্রষ্টী মাত্র, তাহারা 
কোথাও কোন নাটকীয় অংশ গ্রহণ করেন নাই। নাট্যকার মেয়েদের মুখের কথা হুবহু 
বসাইয়াছেন, সেভন্ স্থানে স্থানে নাটকখাঁনি অত্যন্ত অশ্লীল ও অমার্জিত হইয়! পন্য়াছে। 
কুলট। ও লম্পটের দৃশ্ঠটি একেবারেই অবান্তর । 


প্রথম গর্ভাঙ্ক (খ) 
রামনারায়ণ তর্করতু রি 
মধুন্থদনের পৃবে যীহাঁরা নাটক রচনা করিয়া যশস্বী হইয়াছিলেন তাহাদের মধ্যে 
রামনারায়ণ শ্রেষ্ঠ । রামনারায়ণের নাটক সংস্কৃতপন্থী হইলেও ইহাঁর বাস্তবতা এবং স্বচ্ছন্দ 
সরসতার জন্ত তিনি বিশেষ জনপ্রিয় হইয়া “নাটুকে রামনারায়ণ এই আখ্যা পাইয়াছিলেন। 
সামাজিক সমস্তা লইয়া তিনিই সর্বপ্রথম নাটক লিখিতে আরম্ভ করেন, এবং নিজে একজন 


রামমারায়ণ অর্করত্ধ ' তল 
সংস্কতজ্ঞ পণ্ডিত হইলেও ত্শহার মতের উদ্বারতা আমাদের মনে বিশ্ময় উদ্রেক করে। 
তাহার নাটকে একদিকে যেমন উপমা-অন্ুপ্রাস-বহুল সংস্কত শব্দের আধিক্য আছে, অন্যদিকে 
আবার তেমন ছড়া, প্রবচন এবং গ্রাম্য কথোপকথনের মধ্য দিয়া দেশের নিজন্ব রসধারাও 
্ুষ্ঠি লাভ করিয়াছে । রামনারায়ণের সামাজিক সমস্যামূলক নাট কগুলি খুব প্রভাব তকমা 
লাঁত করিয়াছিল, এবং গ্রগুলি পরে একাধিক নাট্যকারের দ্বারা অনুস্থত হইয়াছিল। 


উনবিংশ শতাববীতে পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রদীপ্ত আলোকে আমাদের সমাজের 
বহুকাল-পোষিত অনেক কুৎসিত ব্যাধির নগ্ন রূপ প্রকাশিত হইয়। পড়িল। সমাজ হইতে 
এই সব ব্যাধি দূর করিবার জন্য তৎকাঁলে অনেক সমাঁজ-নেতার উদ্যমশীল আন্দোলনের 
ইতিহাস আমর! সকলেই জানি । যে নবীন ও প্রাটীন ভাবের সংঘর্ষ তৎকালীন সমাঁজ- 
ভীবনকে মথিত করিয়াছিল সাহিত্যেও তাহার প্রতিফলন অনিবার্ভাবে দেখা গিয়াছিল। 
শিক্ষিত সম্প্রদীয়ের মধ্যে পাশ্চাত্য-প্রভীব-পুষ্ট নবীনভাবেরই জিত হইয়াছিল। সেজগ্য 
সাহিত্যেও নৃতনত্ব-বিলাঁসী, সংস্কার-পন্থী মতবাদ উৎসাহের সহিত সমধিত হইতেছিল। 
ভবানীচরণ, টেকটাদ, কালীপ্রসন্ন, রামনারায়ণ; মনোমোহন, মাইকেল, দীনবন্ধু প্রভৃতি 
সাহিত্যিকের সাহিত্যে ইহাঁর প্রমাণ মিলিবে। নাট্যক্ষেত্রে সংস্কারের মুদগর লইয়া প্রথম 
অবতীর্ণ হইলেন রামনারায়ণ তর্করত্ব । রামনারায়ণের জন্ম ও মানসিক চর্যা প্রাচীনপন্থী 
রাহ্মণ-পত্ডিত সমাজে, অথচ এই সমাঙ্গের বিরুদ্ধেই তিনি মুদগর হানিলেন। এটা 
আপাতদৃষ্টিতে একটু অদ্ভুত ঠেকিতে পারে, কিন্ত বিদ্যাসাগরের কথ স্মরণ থাকিলে বিন্মিত 
হইবার কিছু নাই। 


রাঁমনারায়ণ সামাজিক নাটক, পৌরাণিক নাটক, প্রহসন ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার 
নাট্যরচনা করিয়াছেন বটে, কিন্তু তাহার শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় পাওয়। গিয়াছে হাস্যরসের ক্ষেত্রে, 
অর্থাৎ প্রহসনে। সামাজিক সমস্যার সহিত তাহার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং 
এই সমস্যার বাস্তব রূপ দেখাইতেও তিনি সফলকাম হইয়াছিলেন। কিন্তু কান্নার ভারী 
অস্ত্র অপেক্ষ। হাঁসির হান্কা শস্ত্ই তাহার অধিক প্রিয় ছিল। এদিক দিয়! তিনি দীনবন্ধুর 
সমধর্মী ছিলেন। প্রহসনের মধ্যে তিনি যে শাসনের বেত হাতে লইয়াছেন তাহা 
গুরুমহাঁশয়ের বেত নহে, বাঁজিকরের বেত। তাহাতে আঘাতের বেদনা! মরমে চাপিয়া 
রখিয়। হাসির হুল্লোরে যোগ দিতে হয়। কিন্তু যখন তিনি গম্ভীর হইয়া! তত্বকথা কি 
ধর্মকথা! গুনাইয়াছেন তখনই তীহাঁর কথ৷ মরমে না পশিয়| পিষিয়। দেয়। 


'কুলীনকুলসর্বস্থ” (১৮৫৪) তীহীর প্রথম নাটক। ইহাকে সাধারণত বাংল! সাহিত্যের 
আদি নাটক বলা হইয়া থাকে। অবশ্ঠ পূর্বে আমর! যেসব নাটকের নাম উল্লেখ করিয়াছি 
তাহাতে ইহাকে আদি নাটক হয়ত! বলা চলে না, কিন্ত ইহাকে প্রথম সামাজিক নাটক 
বলিতে বোধ হয় কাহারো আপত্তি হইবার কারণ নাই। ইহার পূর্বেকার নাটকগুলি 
দেশের লোকৈর মনের মধ্যে কোনই" প্রভাব স্থাপন করিতে পারে নাই। “কুলীন 


৩৮, বাংল। নাটকের ইতিহাস 


কুলসর্বন্ব*ই প্রথম সাধারণের মধ্যে এক অভূতপূর্ব চাঞ্চল্য ও সম্তোষের সঞ্চার 
করিল ।+১ 
কুলীন কুলসর্বস্থে, কৌলীন্ত-প্রথার দোষ ও অসঙ্গতি হান্তরসাত্মক দৃশ্তাবলীর মধ্য 
দিয়া, দেখাইয়। ইহার নিন্দা কর! হইয়াছে ।২ এক কন্াদায়গ্রস্ত ভদ্রলোক চাঁর কন্যার 
যথেষ্ট বয়স হওয়। সত্বেও তাহাঁদের বিবাহ দিতে সক্ষম হন নাই। অবশেষে এক কুরূপ 
বৃদ্ধের সহিত কন্ঠাদের বিবাহ দিতে বাধ্য হইলেন। ইহাই নাটকের বণিত বিষয়। 
নাটকথানি ছয় ভাগে বিভক্ত। কিন্তু এক ভাগের সহিত অন্ত ভাগের সংযোজন৷ 
নিরবচ্ছিন্ন হয় নাই। প্রত্যেক ভাগের মধ্যে বিশেষ বিশেষ চরিত্র রঙ্ব্যঙ্গের মধ্য দিয়া 
সরস ও চিত্তাকর্ষক হইয়! উঠিয়াছে। নাটকের মধ্যে গুরুগস্ভীর শব্দাড়মবরের পার্থে সরস 
ও লঘু ভাষার চাপল্য স্থান পাইয়াছে। পুরুষ ও স্ত্রী-চরিত্রের ভাষার মধ্যেই এই 
ব্যবধান স্ুম্পষ্ট হইয়! উঠিয়াছে। হয়তো সংস্কৃত নাটক অন্থুসরণ করিয়াই এই ব্যবধান 
তিনি সৃষ্টি করিয়াছিলেন। পুরুষদের কথা যেমন আড়ষ্ট, নারীদের কথা তেমনি সহজ 
ও স্বাভাবিক হইয়াছে । রামনারায়ণ একদিকে সংস্কৃত কবিতা, এবং অন্যদিকে ছড়! 
ও প্রবচন সমাবেশ করিয়াছেন। ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গলের প্রভাব ভাষা ও ভাবের 
মধ্যে লক্ষিত হয়। সেই প্রভাবের ফলেই জায়গায় জায়গায় উপম1-অন্ুপ্রাসের ঘট! রহিয়াছে, 
যেমন-- 
বসন্ত অশান্ত বড় ছুরস্ত নিতান্ত । 
টু বিরহী বধিতে বুঝি হইল কৃতাস্ত ॥ 
ক্রাটল বিরহিমন ফুটিল বকুল। 
জুটিল মধুপাবলি হইয়! ব্যাকুল ॥ 
নাটকের মধ্যে নানা বিচিত্র চরিত্র বঞ্িত হইয়াছে । চরিত্রগুলির নাম বিশেষ কৌতুকপূর্ণ 
-_অনুৃতচার্, অধর্মরুচি, বিবাঁহবণিক, উদরপরায়ণ, বিবাহবাঁতুল» অভব্যচন্্র ইত্যাদি। 
নামের মধ্যে ইহাদের অন্তঃপ্রকৃতি ব্যক্ত হইয়াছে। ঘটক, পুরোহিত, ওদরিক, মূর্খ 
প্রভৃতিকে লইয়। সরস ব্যঙ্গ করা হইয়াছে। 


১1৫8]17) 101998758952, 10] 80101) 8৪ 009 7191) ০ 0109 0195, 10010125903 8০081) 
6200০ 9৮ ৮136 1097)09 01 009 13611251629, 110 1090 076 89618061010 60 169] 008৮ 0:6৬ 
7676 00106 10)1061)90 1091997 6০ ৪০০19৮5৮ 1705 01%5176 % 07:%108 006 ৪019 1001089 ০0৫ 
10101) 9৪ 00 0011) 096 0100 £19111)0 ৪৮118 01 19015081777 ঞ1)0 0: এ ০০910010178] 30০18] 
09010, 81)0%/10 8৪ "169,011 5৪", 

772 7360005 717)80/79--শ, 7, 810০8150066, 

২। লেখক বিজ্ঞাপনে বলিয়াছেন--পুরাকালে বল্লাল ভুপাঁল, আবহমান প্রচলিত জাতি মর্যাদা মধ্যে 
স্বকপৌলকঠিত কুলমর্যাদা প্রচার করিয়া যান, তৎপ্রথায় অধুনা বঙ্গস্থলী যেরূপ ছুরবস্থাগ্রস্ত হইয়াছে, তছিষয়ে 
কোন প্রস্তাব লিখিতে আমি নিতান্ত অভিলাধী ছিলাম”. 

অধ্যাপক প্রিয়রঞ্রন সেন মহাশয় বলিযাছেন-_“রস্থকার নিজে ছিলেন দাক্ষিণাত্য বৈদিক শ্রেণীর 

স্তভুক্তি__-বল্লালী প্রথার সহিত তাহার সমাজের কোনও সম্পর্ক ছিল না, তিনি ভাঁহীর অধীনে ছিলেন না, 
তাই বোধ হয় ভাহীর দৃষ্টি খুলিয়াছিল ভাল-_বংশঙ্গত কুসংস্কার মলিন হয় নাই। 

প্রবাসী--আখিন( ১৩৩৮.) 


রামনারায়ণ তর্করত ৩৯ 


রামনারায়ণের “নবনাটক? বহুবিবাহের অনিষ্টকারিত দেখাইবাঁর উদ্দেশ্তে লিখিত ।১ 
জোড়াস্খাকো নাট্যশালার জন্য ইহা রচনা করিয়া নাট্যকার পুরস্কার লাভ করেন। 
ফরমায়েসী রচনায় যে দোষ অবশ্তম্ভাবী আলোচ্য নাটকেও তাঁহার কোন" ব্যতিক্রম 
নাই। অর্থাৎ ইহাতে উদ্দেশ্টের.চাপে নাঁটকত্ব গু'ড়াইয়। গিয়াছে ।২ বহুবিবাঁহের 
বিরুদ্ধে হাতে এত তন্বকথ! আছে যে আধুনিক যুগে বাঁনণর্ড শ+য়ের কোন নাটকেও 
বোধ হয় তত তত্বের কচকচি নাই। ভালোমান্ফী উপদেশের ভীড় ঠেলিয়া যদি 
আমরা গবেশবাবুর' পাঁরিষদদের মধ্যে কিছুক্ষণ বসিতে পারি কিংবা অমলা-কমলা- 
বিমলা-চপলার রঙ্গ-আসরে যোগ দিতে পারি তবে আমাদের ভারাক্রান্ত চিত্ত যে 
অনেকখানি হাক্কা বোধ করে তাহা নিঃসন্দেহ। প্রকৃত পক্ষে গুরু বিষয় অপেক্ষা লঘু 
চুটকীতে রামনারায়ণের হাত ভালো খোলে। কৌতুক ও রিসময়ী গোয়ালিনীর যে 
দৃশ্ত তিনি দেখাইয়াছেন তাহ! বিলক্ষণ হাস্য-সরস হইয়। উঠিয়াছে। রক্নপ্রিয় নাটুকে*র 
হাতে "মাঝে মাঝে করুণ পরিবেশও রঙ্গ-মিশ্রিত হইয়া উঠিয়াছে। উদাহরণ স্বরূপ 
চন্দরলেখার হাতে চিত্ততোষের প্রহার-লাভের উল্লেখ করা যাইতে পারে। চন্দ্রলেখা স্বামী 
ভাবিয়া নিরীহ পুরোহিতকে “আড়াই হাত লক্বা হাঁলিশহুরে খেউরা” দিয়া যে ভাবে উত্তম-মধ্যম 
দিয়াছে তাহার বর্ণনা! প্রচ্ছন্ন কারুণ্যে সিক্ত হওয়া সত্তেও বাহৃত যথেষ্ট কৌতুকাঁবহ হইয়াছে। 
নাট্যকার জায়গাঁয় জায়গায় বিলাপোক্তি ক্ষেত্রে যে সব কবিতা ব্যবহার করিয়াছেন সেগুলিতে 
বিলাপের অপলাপ ঘটিয়াছে। ছড়ার ন্যায় হান্কা জাতীয় কবিতা গুরুরসের ঘনমেঘকে লঘু 
বিস্তারী বাম্পে পরিণত করিয়াছে ।৩ ঁ 

নাটকখাঁনির মধ্যে কোন জটিল কাহিনী নিরম্কুশ গতিতে বিবর্তন লাভ করিয়! অনিবার্য 
পরিণতিতে শেষ হইতে পাঁরে নাই । নানা টুকরা মূল-বিচ্ছিন্ন দৃশ্যে নাটকের মূল ভাব পদে 
পদে খণ্ডিত হইয়াছে । সে সব দৃশ্টে তৎকালীন সামাজিক জীবনের নানা বাস্তব চিত্র পাওয়া 
যায় বটে, কিন্তু মূল কাহিনীর রস তাহাদের দ্বারা ঘনীভূত হয় নাই । বহু-বিবাহ ছাড়াও 
নাটকের মধ্যে বৈধব্য-বেদনা» স্তাবকতা-দৌষ, ভাষা-সমস্তা ইত্যাদি বহু বিষয় আলোচিত 








পি শশা ৮০ 








১। নাটকে গুণেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি উপহার-পত্রে লিখিত আছে, "ইহা বহুবিবাহ প্রভৃতি বিবিধ 
কুপ্রথা নিবারণের নিমিত্ত সহুপদেশ হুত্রে নিবন্ধ ।' 
২। প্রকট উদ্দেগ্রধলকতায় প্লটের সঙ্গতি ও শ্বাভাবিকতার হ।নি হ্ইয়াছে॥ ৃঁ 
বাঙ্গাল। সাহিতে/র ইতিহাস, ২য় খণ্ড (২য় সং] 
_-ডাঃ হুকুমার সেন। 
৩  ছুংখময়ী সাবিত্রীর আত্মবিল।প উদাহরণ স্বরূপ কিঞ্চিৎ উদ্ধত হইল-_ 
“কি বলিব দিদ্রি মৌর কপালের গুণ 
দেখ কপালের গণ লে! কপালের গুণ। 
নগরে উঠিতে লাগে বাঙ্জারে আগুন। 
দিদি বাজারে আগুন লো৷ বাজারে আগুন ॥ 
করিব সংসার সুখে বড় ছিল সাধ। 
মনে বড়,ছিল সাধ লে। বড় ছিল সাধ। 
সে সাঁধে বিষাদ হলে] ঘটিল- প্রমাদ, 
তাতে ঘটিল প্রমাদ লে! ঘটিল প্রমাদ ॥ 


8০ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


হইয়াছে। নাট্যকারের মুখপাত্র হইলেন স্থধীর। তাহার মুখ দিয়! তিনি যাবতীয় 
তবোপদেশ ব্যক্ত করিয়াছেন। সেজন্য তাহাকে সপ্রীণ ব্যক্তি অপেক্ষা নিশ্রাণ সাবয়ব 
তত্ব বলিয়াই বোধ হয়। নাটকের নায়ক স্থবোঁধের চরিত্রও কারুণ্যের কুজ্াটিকায় এমনি 
আবৃত যে তাহার ব্যক্তিৰ কোথাঁও পরিস্ফুট হয় নাই। তৎকালীন সামাজিক নাটকে যে 
অস্বাভাবিক আতিশয্য এবং একতরফা ছুঃখভোগের নিয়ম ছিল আলোচ্য নাটকেও তাহার 
কোন ব্যতিক্রম নাই । এখাঁনে একমাত্র ছুঃখদাত্রী হইতেছেন গবেশবাবুর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী 
চন্দ্রলেখ আর সকলে কেবল ছুঃখভোগের ভূমিকা গ্রহণ করিয়াছে। এই অস্বাভাবিক, 
আতিশয্যতুষ্ট করুণ রস হৃদয়কে স্পর্শ করে না, ইহাতে বিরক্তি উৎপাদন করে। বহু 
বিবাহের ভয়াবহ কুফল দেখাইবার জন্যই নাট্যকার নাটক্থানি বিয়োগান্তক করিয়াছেন। 
সংস্কৃত আদর্শপ্রাপ্ত নাট্যকারের পক্ষে যে ইহা অভিনব সৎসাহস তাহাতে সন্দেহ নাই। 


(খ) প্রহসন 


॥ যেমন কর্ণ তেমনি ফল-(দ্ি-স ১২৭৯)॥ প্রহসন রচনায় রামনারায়ণের পটুত্ 
অবশ্য স্বীকার্য। যে স্বচ্ছ ও লঘু সংলাপ এবং বাগবৈদগ্ধ্য প্রহসনের অনুকূল সেগুলিতে 
ছিল তাহার দক্ষ অধিকার । ব্যন্দের হুল এবং শ্লেষের খেশচা যে সমাজ-মন শোধন 
করিতে তত্বোপদেশের গদাঁঘাত অপেক্ষা অনেক বেশি কার্ধকর রামনারায়ণের প্রহসন 
তাহার দৃষ্টান্ত-স্থল। আলোচ্য প্রহসনখানি ছুই অঙ্কে বিভক্ত। প্রকৃত প্রহসনের 
ঘটন। দ্বিতীয় অঙ্কেই স্থাপিত। প্রথম অঙ্ক বর্জনামূলক এবং ঘটনাহীন। পরক্ত্রীর প্রতি 
অবৈধ আসক্তি এবং তাহার হাশস্তকর শাস্তি লইয়৷ প্রহসনখানি রচিত। আলোচ্য 
কাহিনীর সহিত দীনবন্ধুর “নবীন-তপস্থিনী”র কাহিনীর অনেকটা মিল আছে। 
তবে সেখানে অপরাধী জলধর একা আর এখানে মুন্সোৰব এবং তাহার সেরেস্তাদার 
উভয়েই সমান অপরাধী । নাগর-যুগলের করুণ পরিণাম নিষ্টুর পাঠক ও দর্শকের 
কাছে বিলক্ষণ আমোদজনক হইয়াছে সন্দেহ নাই। মুন্দোব চরিত্রের মধ্য দিয়া 
লেখক তৎকালীন মূর্খ, অযোগ্য, পক্ষপাতী মুন্সেফ সমাজের উপর এক হাত লইয়াছেন। 
ইহাকে দেখিয়! দীনবন্ধুর ঘটিরাম ডেপুটির কথা আমাদের মনে হয়। 

॥ চক্ষুদান (১৮৬৯) ॥ এই ক্ষুদ্রাকার প্রহসনখাঁনি লাম্পট্যব্যাধির প্রতিকারের উদ্দেশ 
লইয়। রচিত। ন্বামী নিকুঞ্জবিহারী স্ত্রীর প্রতি অবহেলা করিয়! অন্য নারীতে নিমগ্র। স্ত্রী 
বস্থমতী একদিন এক ছলনার আশ্রয় লইয়। স্বামীর চিত্তে চৈতন্য উদ্রেক করিতে সমর্থ হন। 
ইহাই চক্ষুদান। তবে এ চক্ষুদান শুধু নিকুঞ্জবিহারীর নয়, এ চক্ষুদান বোধ হয় 
নাট্যকার দিতে চাহিয়াছেন তৎকালীন লাম্পট্যহ্ষ্ট সমাজকে । নিকুঞ্জবিহারীর শেষ 
কথাগুলি উল্লেখযোগ্য “বস্থুমতি, তুমি আজ কেবল আমাকেই চক্ষুদান দিলে এমন 
নয়; সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই চক্ষুদান হলো। ( সভা৷ প্রতি কৃতাঞ্জলিপূর্বক ) সভ্য মহাশয়ের 
কি বলেন? এ আপনাদেরও কারু কারু চক্ষুদান ।” 


রামনারায়ণ তর্করত্ব ৪১ 


॥ উভয় সঙ্কট €১৮৬৯)॥ ক্ষুদ্রাকার প্রসহন। কিন্তু ইহার উৎকর্ষ ক্ষুদ্র নয়। 
ইহাঁতেও সপত্বী-সমস্যার সরস অবতারণা করা হইয়াছে । তবে আলোচ্য প্রহসনের মধ্যে 
অহেতুক আতিশয্য এবং অবিশ্বীস্য নির্মমতা নাই । রহস্য-মধুর ঘটনার মধ্য দিয়া সমস্যাটির 
উপর পরিহাস-ন্লিপ্ধ আলোকপাত করা হইয়াছে । এই জাতীয় প্রহসনে স্ত্রীভূমিকার প্রাধান্ত 
থাকে এবং আলোচ্য প্রহসনেও তাহার ব্যতিক্রম নাই । বড়-বৌ, ছোট-বৌ এবং গয়লানী 
তিনটি চরিত্রই বানস্তবধমিতায় উজ্জল । ছুই সতীনই কর্তাকে বিকৃত আদর যত্বের আতিশষ্য 
দেখাইতে বাইয়া যে রকম মজার সঙ্কট সৃষ্টি করিয়াছে তাহাই প্রহসনের মধ্যে হাশ্তজনকতা 
সঞ্চার করিয়াছে । কলহ-তিস্ত, যত্ব-পীড়িত বেচারা কর্তা শেষকালে যে উক্তি করিয়াছেন 
তাহা বিলক্ষণ কৌতুক প্রাদ__ 

ওড়ে ছেড়ে দে, প্রাণ যায়, একবার ছাড়; আমি সভ্যমহাশয়দিগের একটা কথা 
জিজ্ঞাসা করি, হাত ঞ্ঞ্ড়ে না যে. রুতাঞ্জলি হতে পেলেম না, কি করি সভ্যমহাশয়ের! । 
একটা কথা বলি, ওরে একটু স্থির হ, অগে! মহাঁশয়েরা, আমার হূর্গাতি আপনারা দেখচেন, 
আপনাদের মধ্যে আমার মত সৌভাগ্যশ।লী পুরুষ কেহ থাকেন তিনি এমন সময় উপস্থিত 
হলে না জানি কি করেন, বৌধ করি তারও এইরূপ উভয় সম্কট। 


পৌরাণিক নাটক 


॥ রুক্সিণী হরণ (১৮৭১) ॥ “রুক্মিণী হরণে”র কাহিনী রামনারায়ণ পুরাণ হইতে গ্রহণ 
করিয়াছেন বটে, কিন্তু তিনি পুরাণের অনুবাদ করেন নাই, অন্ধ অন্বতনও করেন নাই। 
নাটকীয় প্রয়োজনে নৃতন চরিত্র-স্থাষ্টি এবং কুশলী ঘটনাবিস্তাস করিয়! তিনি পৌরাণিক 
বৃত্বান্তকে নাট্যরসোত্তীর্ণ করিয়৷ তুলিয়াছেন। রপিক “নাটকের হাতে পড়িয়। প্রাচীন 
চরিত্রগুলি অলৌকিক রহন্য-মহিমার বনিক! ছিন্ন করিয়া লৌকিক বান্তবরসে উজ্জল হইয়া 
উঠিয়াছে। তাহাদের কথাবার্তা, হাঁবভাব আমাদের সমাজান্তর্গত পরিচিত মানুষের সাক্ষ্য 
বহন করে। সংস্কৃত শব্দবজিত চলিত ভাষার মধ্যে নাট্যপ্রবাহের স্বচ্ছন্দগতি সধশারিত 
হইয়াছে । সরল লোভাতুর তোতল। ব্রাহ্মণ ধনদাসের চরিত্রটি সহজে ভূলিবার নহে। 

॥ কংস বধ (১৮৭৫) ॥ কংস কর অক্রুরকে বৃন্দাবনে প্রেরণ হইতে নাটকের 
আরম্ভ এবং কংসবধ ও উগ্রসেনের পুনরায় সিংহাসন প্রাপ্তিতে নাটকের সমাপ্তি। 
সংলাপের দীর্ঘতা ও আধ্যাত্মিক উচ্ছ্াসের জন্ত এই নাটকখানি' রামনারায়ণের অন্ত 
নাটকের মত সরস হইতে পারে নাই। . 
“রুক্মিণী হরণ+ ও “কংস বধ” ছাড়া রামনারায়ণ 'ধর্মবিজয় (১৮৭৫ ) নামে আর 
একখানি পৌরাণিক নাটকও রচনা করাছিলেন। রামনারায়ণ চারথানি সংস্কত নাটকের 
অনুবাদ করিয়াছিলেন, সেগুলির নাম হইতেছে-__বেণীসংহার ( ১৮৫৬ ), রত্বাবলী (১৮৫৮), 
'অভিজ্ঞান শকুস্তল-( ১৮৬০ ) ও মালতী মাধব (১৮৬৭ )। 


ব্ 


দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক 
(মাইকেল দীনবন্ধু পর্ব) 
মাইকেল মধুসূদন 


(ক) ভূমিকা 

"মেঘনাদ বধ? প্রণেতা মাইকেল মধুস্থদন দত্ত বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিরূপে 
সন্মানিত ও প্রতিষ্ঠিত হইয়াছেন। তাহার কাব্যাবলীর ভাষা ও ভাব লইয়া! বহু 
আলোচন! হইয়াছে, বাংলা সাহিত্যে তাঁহার প্রভাবও সুস্পষ্টভাবে নির্ণীত ও মুক্তকণ্ে 
স্বীকৃত হইয়াছে । কিন্তু কবি মধহৃদনের শিরে অক্ষয় যশোমুকুট অর্পণ করিয়াও বহুমুখী 
প্রতিভার অধিকারী মাইকেল মধুস্থদনের যোগ্য মূল্য ও মর্যাদা! দাঁন্ট করিতে আমর! সক্ষম 
হই নাই) কারণ, মাইকেলের আলোচিত নাট্য প্রতিভ! যে তাহার কাঁব্য-প্রতিভার মতই 
যুগান্তকারী ও প্রভাবশালী এ বিষয়ে আমরা তেমন দৃষ্টি দিই নাই। মধুস্দন বাংলা 
সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার নহেন বটে, কিন্ত পাশ্চাত্য নাটকের অন্থকরণে তিনিই প্রথম 
সার্থক নাটক লিখিয়৷ বাংলার ভবিষ্য নাট্য-সাহিত্যের একমাত্র পথ সুস্পষ্টরূপে চিহ্নিত 
করিয়া যান। সুতরাং এই বিদ্রোহী, অসমসাহসিক, অসাধারণ প্রতিভাবান নাট্যকারকে 
প্রকৃতপক্ষে আধুনিক নাট্যসাহিত্যের জনক ও প্রবর্তকের সন্মানিত আসন সর্বাগ্রে দান 
করিতে হয়। 

অলৌকিক প্রতিভার অধিকারী ব্যক্তিগণ সাধারণত নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্য 
সম্পূর্ণ আস্থাবান থাকেন, মধুহ্ছদনেরও এমনি নিন্ষের ক্ষমতার উপর একান্ত নির্ভরতা ছিল) 
তাই যেদিন পাশ্চাত্যবিলাসী, বাংল! ভাঁষায় অনভিজ্ঞ মাইকেল বন্ধু গৌরদাঁসের কাছে 
বাংলা নাটক লেখার সংকল্প প্রকাশ করেন সেদিন তিনি উপহসিত হইলেও ১ তিনি যে 
অত্যক্পকালের মধ্যেই তাহার সংকল্প অক্ষরে অক্ষরে পালন করিয়াছিলেন তাহা আমর! 
সকলেই জানি। বাংল! সাহিত্যের প্রায় সমন্ত নাট্যকারই কোনো না কোনে রঙ্গমঞ্চের 
সংস্পর্শে আসিয়া নাটক লিখিতে অন্ুপ্রাণিত হইয়াছেন। মধুস্থদনের বেলাতেও এই 
নিয়মের ব্যতিক্রম হয় নাই। বেলগাছিয়া থিয়েটার ও ইহার কর্মকর্তাদের সহিত জড়িত না 
হইলে হয়তো মধুস্থদন নাটক লেখার অন্ুপ্রাণন! লাভ করিতেন না» এবং কে জানে, হয়তো 
তাহার প্রতিভার বিকাশে ব্যাঘাত এবং বিলম্ব ঘটিত । _ 


মধু্থদন তাহার প্রথম নাটক শমিষ্ঠা+র প্রস্তাবনায় খেদ করিয়া লিখিয়াছিলেন-- 


অলাক কুনাট্য রঙ্গে মজে লোক রাট়ে বঙ্গে 
নিরখিয়! প্রাণে নাহি সয় । 


১। যোগীন্দ্রনাথ বন্থুর 'মাইকেল মধুহ্দনের জীবন চরিত'-__পৃঃ ২২৭। 


মাইকেল মধুষুদন ৪৩ 

মধুক্দন অকারণে অযৌক্তিক খেদ করেন নাই। প্রকৃতপক্ষে তাহার পূর্বে বে 
রঙ্গশাল৷ প্রতিঠিত হইলেও এ সব রঙ্গশালায় অভিনয়ের উপযোগী নাটক রচিত হয় নাই। 
ইংরাজ প্রভাবের ফলে আমাদের দেশে রঙ্গশালার সৃষ্টি হইয়াছিল বটে কিন্তু তথনো৷ 
ইংরাজী নাটকের সমধর্মী আধুনিক নাটকের জন্ম হয় নাই। মধুন্দনের পূর্ববর্তী নাট্যকারদের 
মধ্যে প্রধানতম হইতেছেন কালীগ্রসন্ন সিংহ ও রামনারায়ণ তর্করত্ব। কিন্তু তাহারা হয় 
কোনে না কোনো সংস্কত নাটকের অনুবাদ করিয়াছিলেন, অথব! সংস্কৃত নাটকের 
অনুকরণে নাটক প্রণয়ন করিয়াছিলেন । উনবিংশ শতাব্দীর পাশ্চাত্য শিক্ষায় নব-শিক্ষিত 
ম্প্রদায় পাশ্চাত্য প্রভাবপুষ্ট নাট্যশালায় বসিয়! নান্দী, প্রস্তাবন! গ্রভৃতি-যুক্ত উপমা- 
অন্থপ্রাস-বহুল, দীর্ঘ হা-হুতাশ-বিলাপ-সমস্থিত নাটক দেখিয়া নিশ্চয়ই আনন্দ পাইতেন না, 
এবং মাইকেলও পাঁন নাই। মাইকেল তখনকার শিক্ষিত সম্প্রদায়ের নাটক উপভোগেচ্ছাকে 
তৃপ্ত করিবার জন্যই নাটক লিখিতে প্রবৃত্ত হন। গৌরদাস বসাঁককে লিখিত মাইকেলের 
তদানীস্তন একখান! পত্র হইতে ইহা স্পষ্টভাবে জানা যায়__436513658, 1519610967 0180 


200 11006 00: 05৪0 00100806005 5001805100619 আা)০ 01115 85 ] 
00110159 আ1)052 1001005188০ 70261) 100165 01 16555 10010060 ভা16) ড/2902101) 
10585 ৪0 0)090625 ০£ (1010151176 7 210 0080 16 15 [0 11506186101 00 0010৬ 
০৫66 0১০06560615 01550 00: 05 05 8. 5215115 20001190101) ০06 6615 00116 
92195910110 ১ 


অবশ্য সংস্কৃতের আনুগত্য সজোরে অস্বীকার করিলেও তিনি যে তাহার নাটকে সংস্কৃত 
প্রভাব-মুক্ত হইতে পারেন নাই, সেই আলোচনা আমর! পরে করিব। কিন্ত তবুও এ 
কথা সত্য যে সংস্কৃত অলঙ্কার-শাস্ত্রের বন্দীশাল! হইতে তিনিই নাট্যভারতীকে উদ্ধার করিয়া 
আধুনিক সাজসজ্জা! ও অলঙ্কারে তাহাকে ভূষিত করিয়াছিলেন। পাশ্চাত্য নাট্য সাহিত্যের 
প্রথায় তাহার নাটকসমূহ পঙ্কম অঙ্কে এবং প্রত্যেক অন্ক আবার কয়েকটি দৃশ্ত অথবা 
গর্ভাঙ্কে বিভক্ত । দর্শকগণের মন লঘু ও হাল্কা করিবার জন্য তিনি মাঝে মাঝে গান 
সংযোজিত করিয়া তাহার নাটককে সরস ও সমৃদ্ধ করিয়াছেন । 

মাইকেলের নাটকের সর্বপ্রধান বৈশিষ্ট্য ও গুণ এই যে নাটকের আদি হইতে অস্ত 
পর্যস্ত কাহিনীকে এক দৃঢ়*নুত্রে সংবদ্ধ কর! হইয়াছে । এই এঁক্যের (এ) জন্য তিনি 
গ্রীক নাটকের কাছেঃখণী কিন! বলা যায় না, তবে একথা৷ সত্য যে মধুস্থদনের পরবর্তী নাট্য 
কারদের নাটকে কাহিনীর এই জমাট এ্রক্য খুব কম লক্ষ্য করা যায়। আমরা পরে 
বাংলার শ্রেষ্ঠ নাট্যকারদের নাটকে ইহা দেখাইয়া আলোচন! করিব। তাহাদের নাটকের 
মধ্যে অনেক স্থলেই অসংলগ্ন ঘটনা! অনাবশ্ঠক প্রাধান্ত লাভ করিয়া নাটকের গতি বিক্ষিপ্ত 
ও মন্থর করিয়াছে । কিন্তু মধুস্দনের নাটকের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় অংশ একেবারে নাই 
বলিলে চলে। পড়িতে পড়িতে আমাদের মন মুল্ল ঘটন! হইতে কখনো বিচ্ছিন্ন হইয়! যায় 
নাঃ এবং কাহিনীও নিরবচ্ছিন্ন গতি প্রাপ্ত হইয়! পরিণতি লাঁত করে। 


১। যোগীক্রনাথ বস্তুর "মাইকেল মধুনুদনের জীবন চরিত" পৃঃ ২৩১ । 


388 বাংলা নাটকের ইতিহাস 


কিন্ত কাহিনী দৃঢ়সংবদ্ধ ও গতিশীল হইলেও মাইকেলের নাটক রঙ্গমঞ্চে কখনো 
জনপ্রিয় হয় নাই। ইহার কারণ তাহার নাটকের মধ্যে নাটকীয় ভাব খুব কম। এই 
নাটকীয় (৫:909610 ) ভাঁব না থাকিলে কোনো নাটক রঙ্গষঞ্চে জমিতে পারে না। 
আকস্মিক, অসাধারণ এবং অপ্রত্যাশিত বিষয়ের সমাবেশ না হইলে এই নাটকীয় ভাব 
নাটকের মধ্যে সঞ্চারিত হইতে পারে না। প্রসিদ্ধ সমালোচক নিকলের কথায় বলিতে 
গেলে-_ 

***৫6)5 010 0121080101195 ৪. ০0101)062:0101) 51615109176 005 0062 
2০০66৫১ 10) 05081150116 53863000018. ০6151 5001 0০08510789৫ 


61061 05 ৪ 50:86 ০0981,0106006 0: 105 0০ 0679810016০ 005 10010610105 
12178050 61010. 0106 010110815 061701 01 11665. ১ 


মাইকেল আকস্মিক এবং অতফ্িত ভাঁবে চরিত্র ও ক্রিয়ার সন্গিবেশ দ্বারা এই 
নাটকীয় ভাব হ্জন করিতে সক্ষম হন নাই। সেজন্য অভিনয়ের সময় তাহার নাটক 
একঘেয়ে ও ক্লাস্তিকর হইয়া উঠে। দর্শকেরা পাত্রপাত্রীর মুখ দিয়া একই ভাঁবে একই 
ধরণের কথাবার্তা শুনিয়া বিরক্ত হইয়া পড়ে এবং নাটকের রস গ্রহণে বঞ্চিত হয়। 
উপন্তাস এবং নাটকের কথোপকথন ঘটনার গতি সম্পাদন করে এবং দর্শকের মনকে 
ভাঘাবেগে চঞ্চল করিয়া! তুলে। নাটকীয় কথোপকথনের এই নীতি মাইকেল ভালো 
ডাবে আয়ত্ত করিতে পারেন নাই। সেজন্য কোঁলরিজের ভাষায় নাটকের অভিনয়ের 
সময় আমাদের যে “ড/।111776 55০61951070 06 1992116% হয়, মাইকেলের নাটকের 
অভিনয়ের সময় তাঁহা হয় না। মাইকেলের বৈচিত্র্যহীন কথোপকথন দর্শকের 
মনের মধ্যে অবসাদ ও ক্লান্তির উদ্রেক করে। অবশ্য তাহার নাটক যখন পাঠ করা যায় 
তখন এই রকম কবিত্বপূর্ণ চমৎকার কথোপকথন পড়িতে আনন্দই বোঁধ হয়, কিন্তু নাটকের 
বিচার করিতে গেলে রঙ্গমঞ্চে ইহার উপযৌগিতার দিকে সব সময়েই আমাদের দৃষ্টি 
নিবদ্ধ করিতে হইবে, কারণ 

£012 50856 26015 01)2 56 66556 0 ৪. 01855 21006101991 2079291, 
6170 96111903 006 10556 0556 04 10 01810201070 ২ 

মধুন্দনের নাটকের কথোপকথন একঘেয়ে এবং বৈচিত্র্যহীন হওয়ার আর একটা 
কারণ ইহার অনাবশ্যক ও আত্যন্তিক দীর্ঘতা। এই দীর্ঘ কথোপকথন নাঁটকের রস স্থজনে 
এক প্রধান প্রতিবন্ধক, কিন্তু বাংলার অধিকাংশ নাট্যকার এই দৌষের দ্বারা তাহাদের 
নাঁটকসমূহকে নাঁটকত্ববঞ্জিত করিয়া! তুলিয়াছেন। অবশ্ঠ এ্রতিহাসিক নাটকে বীররসাত্মক 
চরিত্রের কথায় ক্রমোচ্চ ভাবের অভিব্যক্তিতে এই রকম স্থুদীর্ঘ বক্তৃতা অনেক সর্ময়েই 
অভিনয়ের গুণে বিশেষ হৃদয়গ্রাহী হয়। দ্বিজেন্দ্রলাল প্রভৃতির এঁতিহামিক নাটকে এই রকম 
দীর্ঘ বীরত্ব্যপ্রক ভাবাবেগপুর্ণ কথা অনেক সময়েই বিশেষ চমতকার হইয়া 8৮9১১ 








সপ শক সপ পিসী 


১:776০% ০ 17070 107 & 19011, 0, 86, 
২ 75060 07 111000156, 0. 15 


মাইকেল মঘুসুদম 8৫ 
কিন্ত লঘু ভাবের পরিস্ফুরণে এই রকম কথোপকথন কখনো চিত্রাকর্ষক হইতে পারে না । 
নাটকের মধ্যে পাত্রপাত্রীর দীর্ঘ উক্তি নাটকের গতিকে অনেক স্থলে একেবারে ধর্ব করিয়! 
ফেলিয়াছে । উত্তররামচরিতের মধ্যে রামের বিলাপ, কিংবা “বিক্রমোর্বশী'র মধ্যে 
পুন্ধরবার থেদ নাটকের দিক দিয়া মূল্যহীন । 

মধুহদনের নাটকের কথোপকথনের দীর্ঘতার কারণ তিনি তাহার নাটকের মধ্যে 
নিসর্গ বর্ণনা, এবং উপমা-অলংকারের প্রয়োগ করিয়া! কবিত্ব ফুটাইয়া তুলিতে চেষ্টা 
করিয়াছেন। কিন্তু তিনি তুল করিয়াছেন যে, কাব্যের পক্ষে যে কবিত্ব মনোহর ও 
সার্থক নাটকের পক্ষে তাহাই অনাবশ্তক ও হাস্টোদ্দীপক। সংস্কৃত সাহিত্যের অনুসরণে 
সেই চমৎকার অলংকার ও বর্ণনা দ্বারা তিনি তাহার কাব্যসমূহ সমৃদ্ধ করিয়াছেন তাহা 
দ্বারাই আবার তিনি তাঁহার নাটককে কৃত্রিম ও ভারাক্রান্ত করিয়৷ তুলিয়াছেন। সংস্কৃত 
ভাষার লালিত্য, সুষমা ও ঝংকারের জন্ত সংস্কৃত নাটকের অলংকৃত বর্ণনা কৃত্রিম ও আড়ষ্ট 
মনে হয় না, কিন্তু সংস্কৃত নাটকের বাংল! অন্গবাদে অথবা সংস্কৃত নাটকসদৃশ বাংল! 
নাটকে এইরূপ বর্ণনা কখনো! স্বাভাবিক মনে হয় না। মাইকেলের নাটক পড়িতে পড়িতে 
অনেক সময় মনে হয় যে, আমর! বুঝি কোনে সংস্কত নাটকের অনুবাদ পাঁঠ করিতেছি। 
মাইকেলের নাটকের নিম্োদ্ধত অংশটি পড়িলে এই কথার যাথার্থ্য বুঝ! যাইবে _ 
রাজা । (দীর্ঘ নিশ্বাস পরিত্যাগ করিয়া স্বগত ) আহা ! কি কুলগ্নেই বা দৈত্যদেশে 
পদার্পণ করেছিলেম। (চিস্তা করিয়া) হে রসনে! তোমার কি একথা বলা উচিত? 
দেখ, তোমার কথায় আমীর নয়নযুগল বাথিত হয়, কেন না, দৈত্যদেশে গমনে তারা 
চরিতার্থ হয়েছে । যেহেতু, তাঁর! তথায় বিধাতার শিল্পনৈপুণ্যের সার পদার্থ দর্শন করেছে ! 
( পরিক্রমণ ) বাড়বাঁনলে পরিতৃপ্ত হয়ে সাগর যেমন উৎকন্ঠিত হন, আমিও কি অদ্য সেরূপ 
হলেম? 'প্রভো অনঙ্গ ! তুমি হরকোপানলে দগ্ধ হয়েছিল ব*লে কি প্রতিহিংসার নিমিত্তে 
মানব জাতিকে কামাগ্রিতে সেইরূপ দগ্ধ কর? (দীর্ঘ নিশ্বাস) কি আশ্চর্য্য। আমি 
কি মৃগয়৷ কন্তে গিয়ে কামব্যাধের লক্ষ্য হয়ে এলেম ?” 
“শমিষ্ঠ।+, দ্বিতীয় অস্ক, ২য় গর্ভীঙ্ক। 


পাত্রপাত্রীর মুখে এই রকম কথা অস্বাভাবিক ও কৃত্রিম বলিয়া নিশ্চয়ই মনে হইবে। 
রবীন্দ্রনাথ তাহার সংযত ও সার্ক অলংকারকে এইরূপ ব্যঞ্জনাময় করিয়! প্রয়োগ 
করিয়াছেন যে তাহাতে তাহার নাটক গতিশীল ও মাধুর্ষপূর্ণ হইয়া উঠিয়াছে। 

মাইকেলের নাটকে অনেক স্থলেই দীর্ঘ স্বগতোক্তি দেখা যাঁয়। প্রাগাধুনিক প্রাচ্য 
ও প্রতীচ্য নাটকে এই রকম স্বগতোক্তি নাটকের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য । শেক্স্পীয়ার- 
অনেক চরিত্রের স্বগতোক্তি বিশেষ প্রসিদ্ধ হইয়া রহিয়াছে । স্বগতোক্তি সাধারণত নাটকীয় 
হুষ্ট চরিত্রের মনের ভাব প্রকাশ করিবার জন্যই ব্যবহৃত হইয়। থাকে। কিন্তু অভিনয়ের 
সময় এইরূপ স্বগতোক্তির সার্থকতা দেখা যায় না, কারণ কোনো চরিত্র তাহার উক্তি 
রঙ্গমঞ্চস্ব অপর এক চরিত্রের কাছে অস্ত রাখিয়৷ পঁচিশ হাত দূরের দর্শককে গুনাইতে 


৪৬ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


পারেন না। এই নাটক্ষীয় কৌশলটা কৃত্রিম এবং অপ্রাকৃত বলিয়া আধুনিক নাট্যকারদের 
দ্বারা বর্জিত হইয়াছে। পাশ্চাত্য সাহিত্যে ইবসেন প্রথম ইহা তাঁচার নাটক হইতে বাদ দেন। 
ইবসেনের নাটকের বাস্তবতা আলোচন৷ প্রসঙ্গে ম্যারিয়ট ইহ উল্লেখ করিয়াছেন... 


4106 485106১ 10050 0 ৪01151)20, 020856 17) 1681 1166 2০০1০ 4০ 
1206 052 10 48 1080) 085 000া)তা ও: 56০156 0.00806 00061 1715 0165800 0 
০০5951039 (00135 0063 1560 05০1810, 50 85 00 0০ 830116 & 170150160 2105 


৪৮৪5, 16102 51)0010 00 5০, 1645 11010010905 001 0০ ০1721506120 1955 
5166 60 701:65605170 1706 00 15621.5 ১ 


মাইকেলের নাটকের পাত্রপাত্রীর ত্বগতৌক্তিতে কোনো কোনো স্থলে অনুপম কবিস্ব- 
পূর্ণ বর্ণনা থাকিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এইরূপ উক্তি নাটকের গতিকে মন্থর করিয়া 
ফেলিয়াছে। . 

মধুহুদনের মাঁনস-কল্পনা স্গস্তীর দূরাস্ৃত জগতে বিলাস করিতে চাঁহিত। সেজন্য 
তাহার কাব্য ও নাটকে প্রাত্যহিক জগতের পরিচিত ক্ষুদ্রতা নাই, অতীত জগতের 
বিচিত্র ইন্ত্রধচ্ছটীয় তাহা রহস্তালোকিত । শশিষ্ঠা”, পদ্মাবতী, “কৃষ্ণকুমরী” ও “মায়াকানন, 
ইহাদের মধ্যে যে সব নাট্যকাহিনী রহিয়াছে সেগুলি গৃহীত হইয়াছে অতীত পুরাণ ও 
ইতিহাস হইতে - ইহাদের পরিবেশে রহিয়াছে এক অসচরাচর-দৃষ্ট জগতের ভাব-মহিমা ও 
রসগান্তীর্য । সেজন্ত ইহাদের ভাষ! ও ভঙ্গিতে স্বভাবতই এক অস্কুলভ গুরুত্ব ও অসঙ্গত 
আড়ম্বর আসিয়৷ গিয়াছে। কিন্তু মধুস্্দনের প্রতিভা ক্রমে ক্রমে আত্মপ্রতিষ্ঠা লাভ 
করিয়াছিল। “শমিষ্ঠা”য় সংস্কত-প্রভাবিত ভাষা ও বর্ণনা-রীতির যতখানি প্রাধান্, 
পস্মাবতী'তে ততথানি নাই এবং “কষ্কুমারী”তে তাহা প্রায় বিলুপ্ত হইয়াছে । আবার 
মায়াকানন” রচনা করিবার সময় তাহার প্রতিভার অন্তমুখী হূর্বলতার স্থযৌগ লইয়া সংস্কৃত 
প্রভাব পুনরায় তাহার নাট্যগতিকে কৃত্রিম ও আড়ষ্ট করিয়! ফেলিয়াছে। 


(খ) নাটক 


মাইকেলের নাটকগুলি আলোচনা কালে আমর! লক্ষ্য করি যে তিনথান! নাঁটকেরই 
নামকরণ নায়িকাদের নাম অনুসারে হইয়াছে । - সাহিত্যদর্পণকার বলিয়াছেন--“নামকার্ষং 
নাটকস্য গভিতার্থ প্রকাশকম্* অর্থাৎ নাটকের নাম গর্ভস্থ অর্থ প্রকাশ করিয়৷ থাকে। 
মাইকেলের নাটক নায়িকা-নামাঞ্ষিত হইয়াছে, ইহাতেই বুঝা যায় নায়িকাগণই এ নাটক- 
গুলির প্রধান চরিত্র» তাহাদিগকে ঘিরিয়াই অন্ঠান্ত চরিত্রগুলি আবতিত হইয়াছ্ছে। 
নায়িকাদের চরিত্র নাট্যকার হিন্দু ও গ্রীক পুরাণ এবং দেশীয় ইতিহাস হইতে গ্রহণ 
করিয়াছেন। শশর্িষ্ঠা/ই তাহার প্রথম নাটক, আমরা আগে এর নাটকের আলোচনাই 
করিব। 


১1 11026 7702796 107 এ. ভা. 11971050০96, 





বস পা পপ 


মাইকেল মধুযুদন 8৭ 


॥ শর (১৮৫৯) ॥ মধুস্থানের বন্ধু গৌরদাস বাবুর লিখিত পত্রে জানা যাঁয় যে মাই- 
কেল "শরিষ্ঠা লিখিবার পূর্বে “এসিয়াটিক সোসাইটা' হইতে কয়েকখানা বাংলা ও সংস্কৃত 
বই আনিয়া পড়িয়াছিলেন। ১ সম্ভবত সেজন্তই মহীভারতোক্ত কাহিনী লইয়! তিনি তাহার 
নাটক লিখিতে প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন। পাশ্চাত্যপ্রভাবাপন্ন খৃষ্টান মাইকেলের পক্ষে হিন্দুর পুরাণ 
হইতে কাহিনী সংগ্রহ কর! বিশ্বয়োদ্দীপক মনে হইতে পারে, কিন্ত ইহার দ্বার! প্রমাণ হয় 
তাহার মন হইতে হিন্দু সংস্কার কখনো! লুপ্ত হয় নাই। প্রকৃতপক্ষে মধুন্দন বিধর্মী হইলেও যে 
হিন্দু ধর্মে আস্থাবান ছিলেন, সমাজত্যাগী হইয়াও যে হিন্দু সমাজের প্রতি অন্ুরক্ত ছিলেন 
তাহা বিশেষভাবে ভাবিয়া! দেখা উচিত। রাঁজনারায়ণ বস্তু মহাশয় “আত্মচরিতে, 
লিখিয়াছেন যে মধুস্থদনের সহিত তাহার একদিন কথোপকথনের সময় তিনি মধুস্দনকে 
বলিয়াছিলেন, “আমার এই সংস্কার জম্মিয়াছে যে তোমার পরিচ্ছদ ও আহার ইংরাজের 
মত হইলেও তোমার হৃদয়টা সম্পূর্ণরূপে হিন্দু” । তিনি (মধুস্থদন ) বলিলেন, “তুমি ঠিক 
আন্দাজ করিয়াছ, আমি হিন্দু। কিন্তু একটা সমাজ ঘেসিয়া না থাকিলে চলে না 
এইজন্ খুষ্টীয় সমাজ থেঁসিয়া আছি 1” ২ 

পুরাণ হইতে কাহিনী গ্রহণ করিয়৷ মধুস্থদনই বাংল! সাহিত্যে সর্বপ্রথম মৌলিক 
পৌরাণিক নাটক রচনা করেন। তাহার পরে অনেকেই পৌরাণিক নাটক লিখিয়াছেন 
বটে, কিন্তু তাহাদের নাটক অগ্রাকৃত ও অলৌকিক বিষয়সমদ্বিত হইয়া অনেক স্থলেই 
যাত্রা লক্ষণীক্রান্ত হইয়া পড়িয়াছে। কিন্তু মাইকেল তাহার নাটকে সস্তাব্যতার সীমা 
অতিক্রম করেন নাই, এবং ঘটন! সংস্থাপন ও চরিত্র-স্থষ্টির দিকেই লক্ষ্য করিয়াছেন । 

মহাভারতের শগরিষ্ঠা-দেবযানী-যযাতি উপাখ্যান অবলম্বন করিয়া মধুস্থদন তাহার 
নাটক লিখিয়াছেন, তবে তিনি এই উপাখ্যানের গোড়া হইতে নাটকের কাহিনী আর্ত 
করেন নাই। শমিষ্ঠার নির্বাসন হইতে নাটক সুরু হইয়া যাতির জরামুক্তিতে ইহার শেষ 
হইয়াছে । মহাভারতের উপাখ্যানে প্রথমভাগে দেবযানী এবং শেষের দিকে শরিষ্ঠা প্রাধান্ত 
লাভ করিয়াছে । মাইকেল এ উপাখ্যানের অস্ত্যভাগ গ্রহণ করিয়াছেন । সেজন্য শঙ্রিষ্ঠাই 
তাহার নাটকের প্রধান চরিত্র। মধুন্দন মহাভারতের কাহিনী বিশ্বস্তভাবে অনুসরণ 
করিয়াছেন; পরবর্তীকালে তিনি তাহার কাব্যে কাহিনী ও চরিত্রের মধ্যে ষে আদর্শ 
লজ্ঘনের দুঃসাহস দেখাইয়াছেন, নাটকের মধ্যে তাহার চিহ্ন নাই। কেহ কেহ *শগ্িষঠা” 
ও 'রত্বাবলী'র ভাবসাদৃশ্ লক্ষ্য করিয়া বলিয়াছেন যে, মধুস্দন খুব জন্তবত রামনারায়ণ 
তর্করত্বরচিত “রত্বাবলী”র দ্বারা প্রভাবাদ্থিত হইয়াছেন । ও কিন্তু “শমিষ্ঠা”র উপর, রত্বাবলী”র 
প্রভাব বাহির করিয়া মাইকেলের খণ সম্বন্ধে আলোচনা করা অনর্থক ও অনাবশ্বক। 


১ গৌরদাস বসাকের পত্র, 'জীবনচরিত'__“পরিশিষ্ট', পৃঃ ৬৫৯ । 
২ রাজনারায়ণ বহর 'আত্মচরিত', পৃঃ ১*৯। 


৩ োগীন্দ্রনাথ বন্থ এই মত ব্যক্ত করিয়াছেন এবং ভাঃ প্রভুচরণ গুহঠাকুরতা৷ ভাহার 49088] 1)78708/ 
মামক গ্রন্থে এ মতের প্রতধ্বনি করিয়।ছেন। 


৪৮ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


কারণ মধুস্থদন আর কোনে। মৌলিক কাহিনী সৃষ্টি করেন নাই ; মহাভারতের কাহিনীর 
সহিত “রক্রাবলী”র সাদৃশ্ঠ আছে, এবং মহাভারতের . কাহিনীর অন্ুবর্তন করিয়াছেন বলিয়াই 
'শমিঠা'র সহিত রত্বাবলী*র সাদৃশ্ঠ প্রতীয়মান হয়। বস্তৃতপক্ষে শেষিষ্টার সহিত আরও 
অনেক সংস্কত নাটকের ভাবসাম্য বিদ্যমান আছে। দৃষ্টান্ত স্বরূপ কালিদাসের “মালবিকাণ্নি- 
মিত্রম্” এবং হর্ষদেব প্রণীত “প্রিয়দ্িকা"র নাম করা যাইতে পারে। 

কোনো প্রচলিত কাহিনীর অবিকল বর্ণনা নাটকের উদ্দেশ্ট নহে, বস্ততপক্ষে শ্রেষ্ঠ 
নাট্যকার তাহার পূর্ব প্রচলিত কোনে! উপাখযান হইতে নাটকীয় অংশ নির্বাচন করিয়া নাটকের 
মধ্যে নিবদ্ধ করেন। “শশিষ্ঠা, পড়িলে মনে হয় মধুস্দন মহীভাঁরতের উপাখ্যান পরিবর্জন 
ও পরিবর্ধন করিয়া কাহিনীর মধ্যে নাটকীয় গতি সম্পাদন করিতে পারেন নাই। যে 
সমস্ত ঘটনা কি ক্রিয়। নাটকীয় রস স্জনে অনুকূল তিনি সেগুলি ভালে। ভাবে সন্নিবেশিত 
করিতে পারেন নাই। পাত্রপাত্রীর কথার মধ্য দিয়! যে দ্বন্দ ও সংঘাতের স্থষ্টী করিতে 
হয় মধুন্দন তাচ। বুঝিতে পারেন নাই, সেজন্য “শমিষ্টার অধিকাংশ স্থলে পাত্রপাত্রীর মুখ 
দিয়া কহিনী বর্ণনা করিয়াছেন মাত্র। এ সব কথোপকথন চরিত্র বিকাশে মোটেই 
সহায়তা করে নাই। ন।টকের প্রথম দৃশ্যে দৈত্য ও বকাস্থরের আলাপে নাটকের পূর্ব 
ঘটন! বিবৃত হইয়াছে । এই দৃশ্কে প্রস্তাবনা (6০1989) বল! যাইতে পারে । একমাত্র পূর্ব 
ঘটনা পাঠক এবং দর্শককে অবগত করান ছাড়া ইহার আর কোন সার্থকতা নাই। 
শমিঠ, দৈত্যপতি এবং শুক্রাচার্ষের দ্বার যদি এই দৃশ্ঠ অভিনীত হইত তাহা হইলে এই 
অংশ বিশে নাটকীয় হইয়া উঠিত এবং শঙ্লিষ্ঠার চরিত্র স্কুরণে বিশেষ কার্যকর হইত। 
ডাঃ গুহ ঠাঁকুরতা মহাশয় লিখিয়াছেন যে, প্রথম দৃশ্য নাটকের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশি নাটকীয়- 
ভাঁবপূর্ণ। ৯ কিন্তু অ|মাদের মনে হয় যে প্রথম দৃশ্তে নাটকায় ভাব এবং নাট্য কলা 
কৌশলের কোনে। পরিচয় নাই । শনিষ্টা নায়িক। এবং দেবযানা প্রতি-নায়িকা। কিন্তু 
ভূতীয় অর্ষের তৃতীয় গর্ভাঙ্কের পূর্বে কেবলমাত্র একবার ব্যতীত আমর! শগিষ্ঠার সাক্ষাৎ 
পাই নাই । এই পর্যন্ত দেববানাই মুখ্য চরিত্রঃ এবং তাহার সহিত রাজার প্রণয় এবং পরিণয় 
ব্যাপার লইয়াই কাহিনী অগ্রসর হইয়াছে । যদি শমিষ্ঠটাই নাটকের নায়িক। হন, তাহ! 
হইলে এতে৷ বিস্তৃতভাবে প্রতিনায়িকার কাহিনী বর্ণনা করার কোন সার্থকতা নাই। 
রাজার পক্ষে একই ভাবে একবার দেবযানীর প্রতি এবং আবার শশিষ্ঠার প্রতি আসক্ত 
হওয়ার চিত্র কাহিনার রস-স্থজনে পরিপন্থী হইয়াছে । রাজ এবং তাহার ছুই প্রণয়ভাগিনী 
ভার্ধা দ্বারা যে ত্রিকোণ সমস্যার উত্তব হইয়াছে সেই সমস্তার সংঘাত নাট্যকার পরিস্ফুট 
করিতে পারেন নাই । শশিষ্ঠা-বযাতির প্রেম আবিষ্কারের পর কুপিতা, ঈর্ষ।প্বিতা দেবযানীর 
সহিত সমস্াপীড়িত রাজার চমৎকার ঘাত-প্রতিঘাতমূলক : কথোপকথনের হ্থযোগ ছিল। 
কিন্তু নাট্যকার রাজার মুখ দিয়! এই ঘটন! বিবৃত করিয়া সেই সুযোগের সধ্যবহার 
করিতে পারেন নাই। ইহার পর দেবযানী পিতার দ্বারা রাজাকে অভিশাঁপিত করিয়াছেন। 


১0178 272. 06552000766 ০/ 59670518 777021% 05 101 005 0008 009079, 


মাইকেল মধুসূদন ৪৯ 


কিন্ত তার পর দৃশ্তেই অগ্ততপ্ত হইয়া স্বামীর জন্ত দুঃখাকুল হইয়া উঠিয়াছেন। অথচ 
ইতিমধ্যে এমন কোনে। কথ! হয় নাই, যাঁহীতে দেবযাঁনীর মতির পরিবর্তন হইতে পারে। 
তাহার চরিত্র পরিবর্তনের পূর্বে স্বামীর সহিত তাহাকে একবার দেখা করান উচিত ছিল। 
নাট্যকার সংস্কৃত নাটকের রীতি অনুসরণ করিয়া শেষ পর্যস্ত শফ়িষ্ঠা এবং দেবযানী উভয়কেই 
রাজার সহিত মিলিত করিয়াছেন। উহাদের মধ্যে কাহাকেও বিয়োগান্তক নায়িক! 
( 0551০1১6191, ) করিবার আবশ্যকত। বোধ করেন নাই । *শশ্িষ্ঠা” নাটকের চরিত্র- 
গুলি স্থুবিকশিত হয় নাই, এবং নাটকীয় সংঘাত জমে নাই, তাহার কারণ নাঁটকখানির 
সংলাপ চরিত্র-বিকাশক ও ঘটনার গতি-বিধায়ক হয় নাই । সংলাপের মধ্য দিয়! পরোক্ষ" 
ভাবে কাহিনীর বর্ণনা হইয়াছে মাত্র; সেজন্য নাগরিক, সখী, দৈত্য ইত্যার্দি অপ্রধান 
চরিত্রের অন'বশ্যক অবতারণা করিয়া! তাহাদের মুখ দিয়া অধিকাংশস্থলে কাহিনী ব্যক্ত 
'করিতে হইয়াছে । প্রধান চরিব্রগুলিসম্বন্ধীয় ঘটন! ষদ্দি তাহাদের কথোপকথনের মধ্য দিয়া 
প্রকাশিত হইত, তাহা হইলে চরিত্রগুলি বিকশিত হইবার স্থযোগ পাইত, এবং কাহিনীও 
নাটকীয় ক্রিয়াবিশিষ্ট হইয়। উঠিত | 


শমিষ্ঠার নাম অনুসারে মাইকেল নাটকের নামকরণ করিয়াছেন বটে, কিন্তু শযিষ্ঠার 
চরিত্র মোটেই সজীব হয় নাই। নাটকের গোড়া হইতেই ঠাহাকে আমরা দেবযানীর 
দাসীপদে নিযুক্ত দেখিতে পাই। স্থবখৈশ্বর্ধে পালিত রাজনন্দিনী শিষ্ঠাকে নাটকের মধ্যে 
দেখান হয় নাই । সেজন্য পূর্ব অবস্থার সহিত তুলন! করিয়া তাহার ছুঃখপূর্ণ হীন অবস্থায় 
দর্শক সহানুভূতি বোধ করে না। শত্রিষ্ট। সহিষণণ, ক্ষমাশীল ও কোমলপ্রাণ! ; দেবযানী 
তাহার প্রতি গুরুতর অন্তায় করা সত্তেও তাহার বিরুদ্ধে শমিষ্ঠার কোন অভিষোগ কিংবা 
ক্রোধ নাই। শঙিষ্ঠা চরিত্রের মধ্যে মাইকেল ভারতীয় নারীর আদর্শ সম্পূর্ণরূপে রক্ষা 
করিয়াছেন। কিন্ত শিষ্ঠটার কোমল মাধুর্য সত্বেও নায়িকার প্রভাব এবং ব্যক্তিত্ব স্তাহার 
মধ্যে নাই। বরং দেবযানীর চরিত্র অধিকতর পরিস্ফুট ও বিকশিত হইয়াছে । নাটকের 
মধ্যে দেবযানীই সর্বত্র ব্যাপ্ত হইয়৷ রহিয়াছেন, এবং তাহার শক্তিশ।লী ব্যক্তিত্ব কাহিনীকে 
প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রিত করিয়াছে । নাটকের প্রথম দিকে যষাঁতি ও দেবযানার প্রণয়- 
ব্যাপারই ব্যক্ত হইয়াছে, এবং দেবযানীকে পতিপরায়ণ। প্রেমময়ী স্ত্রী-রূপে দেখিতে পাই। 
কিন্তু তাহার সীমাহীন প্রেমধারা যযাঁতির বিশ্বাসঘাতকতার কঠিন প্রস্তরে রুদ্ধ হইয়৷ দুর্জয় 
অভিমানরূপে উচ্ছ্ুসিত হইয়া উঠিল। যিনি একবার কিশোর বয়সে প্রেমে ব্যর্থ হইয়া 
কুদ্ধতাবে প্রেমাম্পদকে অভিশাপ দিয়াছিলেন, তিনি পুনরায় প্রতারিত হইয়া প্রতিশোধ 
গ্রহণে উদ্যত হইলেন। পিতাকে অনুরোধ করিয়া তিনিই স্বামীকে জরাগ্রস্ত করেন কিন্ত 
পরে অন্তপ্ত হইয়! নিজেকেই ধিক্কার দিতে থাকেন, এবং পুনরায় তিনিই স্বামীর 
জরামুক্তির ব্যবস্থা করেন, স্বামার প্রতি তাহার স্থগভীর প্রেম এবং প্রতিহিংসাঃ ক্রোধ এবং 
অনুতাপ প্রভৃতি বিপরীত গুণবিশি্ট হইয়। দেবযানীর চরিত্র বিশেষ সজীব ও মাটকীয় 
হইয়া! উঠিয়াছে। প্রকৃতপক্ষে দেবযানীকেই নাটকের নায়িকা বল! উচিত। 


৫০ বাংল। নাটকের ইতিহাস 

ধযাঁতি চরিত্রের মধ্যে তেমন কোন বৈশিষ্ট্য নাই। বাতি সংস্কত নাটকের প্রি 
নায়কমমূহ - দুমবস্ত, অগ্নিমিত্র, উদয়ন প্রভৃতির স্তায় প্রণয় ব্যাপারে বিশেষ অভিজ্ঞ এবং 
স্ত্রী থাকা সত্বেও অন্ত নারীতে আসক্ত হওয়া তাঁহাদের হ্ঠায় যাতির পক্ষেও অমার্জনীয় 
অপরাধ নয়। প্রথমা স্ত্রীর পায়ে ধরিয়! ক্ষমা ভিক্ষা! চাহিয়া তাহারা স্ত্রী ও প্রণয়িনীর 
মধ্যে আপোষ বিধান করিয়। থাকেন। আলোচ্য নাটকে যধাতি নিজে শাপগ্রন্ত হইয়া 
তাহার ছুই স্ত্রীর মধ্যে মিলন সাধন করিতে পারিয়াছেন। 

বিদূষকের চরিত্র মধুস্থদন সংস্কত নাঁটক হইতে গ্রহণ করিয়াছেন। সংস্কৃত নাটকের 
বিদৃষকের স্তায় *শিষ্ঠা”র বিদূষকও গ্থুলবুদ্ধি, চেটা ও নটীর সহিত পরিহাসম্রঙ্গ-রত এবং 
রাজার প্রেমব্যাপারে সহায়ক । গিরিশচন্দ্র ঘোষ তাহার বিদূষক চরিত্র যেমন নূতন ভাবে 
অংকন করিয়াছেন মধুস্দন তাহ! পারেন নাই। 

শিরিষঠা” নাটকের আলোচনা কালে ইহা আমাদের স্মরণ রাখা উচিত যে শমিষ্ঠাই 
আঁধুনিক নাটকের পথপ্রদর্শক, স্ৃতরাং প্রাথমিক নাটকের দৌফক্রটি সবেও তাহার মূল্য 
যে অনেকখানি ইহ স্বীকার করিতে হইবে। শশক্িষ্ঠা, প্রকাশিত হইলে ইহা শ্রেষ্ঠ নাটক 
রূপে বন্দিত হইয়াছিল। রাজেন্রলাল মিত্র লিখিয়াছিলেন--“তথাপি আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস 
আছে, যে সকল বাংল! নাটক এপর্যস্ত প্রকাশিত হইয়াছে তন্মধ্যে সাধারণ জনগণে "শতিষ্ঠাকে 
সর্বশ্রেষ্ঠ বলিবেন সন্দেহ নাই ।+ ১ 

॥ পল্মাবতী (১৮৬০) ॥ “শরিষ্টা”র পরে মাইকেল "পদ্মীবতী, রচনা করেন। ২ পদ্মাবতীর 
বিষয়বস্ত তিনি গ্রীক পুরাণ হইতে গ্রহণ করিয়াছিলেন । মাইকেল চিরদিনই গ্রীক সাহিত্যের 
বিশেষ অনুরাগী । এই অন্ুরীগের ফলে তাঁহার নাটক ও কাব্যের অনেক স্থলে গ্রীক প্রভাব 
লক্ষ্য করা যায়। যে £&0116 ০৫ 015091: নিয় জুনো,ভিনাস ও প্যালাস দেবীত্রয়ের বিবাদ 
বাধিয়াছিল, এবং যাহার ফলে ট্রয়ের যুদ্ধ সংঘটিত হইয়াছিল সেই উপাখ্যান সকলেরই 
স্থবিদিত। প্র গ্রীক উপাখ্যান অবলম্বন করিয়৷ মাইকেল “পদ্মাবতী” নাটক রচনা করেন। 
পদ্মাবতী;র শচী, মুরজ। ও রতি যথাক্রমে গ্রীক আখ্যানের জুনো, প্যালাস ও ভিনাসের 
অনুরূপ । প্যারিস ভিনাসকে শ্রেষ্ঠা স্থুন্দরী বলিয়া হেলেনকে লাভ করিয়াছিলেন বটে, কিন্ত 
ট্রয় নগরীর ধ্বংসের কারণ হইয়াছিলেন। “পদ্মাবতী”র নায়ক ইন্দ্রনীলও রতিকে সর্বোত্তম! 
সুন্দরী এই অভিমত প্রকাশ করিয়। পল্মাবতীকে লাভ করিয়াছিলেন এবং আবার 
হারাইয়াছিলেন। হেলেন অন্তের বিবাহিতা স্ত্রা এবং পদ্মাবতী ইন্দ্রনীলের নিজের স্ত্রী 
তাহাদের মধ্যে এই পার্থক্য। সংস্কৃত নাটকের অনুসরণ করিয়৷ মধুস্থদন শেষে ইন্দ্রনীল 
ও পল্লাবতীর মিলন সাধন করিয়াছিলেন ইহাও তাহার মৌলিকতা বটে। ঠা 

শিষ্াণয় পরোক্ষভাবে নাটকীয় কাহিনী বণিত হইয়াছে বলিয়া নাটকের ঘাত 
প্রতিঘাত ফুটিয়া উঠে নাই, একথা আমরা আলোচনা করিয়াছি । কিন্তু “পল্সাবতী”তে 





১। বিবিধার্থ সংগ্রহ, ১৭৮* শকাব্দ, মাঘ । 
২] অথচ্ঠ 'পল্মাবতী"র পূর্বেই তিনি তাহার প্রহসন দুইথানি প্রণয়ন করিয়াছিলেন | 


ম্মইকেল মধুসূদম ৫১ 
মধুহদন নাট্যকলা বিষয়ে অধিকতর নৈপুণ্য দেখাইয়াছেন। এই নাকের চিজগুডি 
নিজেদের উক্তি দ্বারা বিকশিত হইতে পারিয়াছে। প্রথম অংকে ইন্ত্রনীলের সহিত 
দেবীত্রয়ের সাক্ষাৎ হইয়াছে, এবং সৌনদর্য-কলহ ও ইন্দ্রনীলের অভিমত দ্বারা ভবিষ্বৎ 
ঘটনার হুত্রপাঁতি এই অংকেই হইয়াছে। ইহার পর প্রসন্ন রতি একদিকে ইন্দ্রনীল ও 
পল্সাবতীর মিলনে চেষ্টা করিয়াছেন, অন্যদিকে কুদ্ধ, ঈর্ষাজর্জরিত শচী তাহাদের সর্বনাশ 
করিবার জন্য প্রবৃত্ত হইয়াছেন। এই ছুই প্রতি্বন্ৰিনী দেবীর সক্রিয়তায় কাহিনী যথেষ্ট 
গতিশীল হইয্নাছে। ইন্ত্রনীল ছদ্মবেশে মাহেশ্বরীপুরীতে আসিয়াছেন, কিন্তু তাহার ছ্সবেশের 
কারণ জান। যায় না, এবং যে রকম তুচ্ছ কারণে ছন্সবেশ প্রকাশিত হইয়! পড়িয়াছে তাহাতে 
ছদ্মবেশের রহস্তময়তা নষ্ট হইয়াছে । পদ্মাবতী ইন্দ্রনীল রাঁজা নহেন একথা মনে করিয়া 
মর্মপীছিতা হইয়! পড়িয়াছিলেন, স্থতরাং ইন্ত্রনীলের প্রকৃত পরিচয় প্মাবতীর সম্মুখে ব্যক্ত 
হইলে পদ্মার বিস্ময় ও আনন্দের মধ্যে নাটকটা রসঘন হইয়া উঠিত। ইন্দ্রনীলের ছন্মবেশের 
মধ্য দিয় নাট্যকার ৫ষই নাটকীয় বিন্ময় ও উদ্বেগ উৎপাঁদন করিতে চেষ্টা করিয়াছেন তাহাতে 
সম্পূর্ণ সমর্থ হন নাই। শচীর আঁদেশে ইন্ত্রনীলের রাজপুরী হইতে কলি পদ্মাবতীকে 
তুলাইয়৷ লইয়া গিয়াছেন। রাজরাণীর পক্ষে রাঁজার এই অকারণ এবং অবিশ্বাস্য আদেশ 
অনুসারে সারথির সহিত পুরীর বহির্গত হওয়াট। যেন আমাদের বিশ্বীসপ্রবণতাকে আঁঘাঁতি 
করে। কলি দুঃখিনী পল্মাবতীকে রাজার মৃত্যুসংবাঁদ জ্ঞাপন করিয়৷ তাহার মনে প্রচণ্ড 
শোক ও গভীর নৈরাশ্ উদ্রেক করিয়াছেন। স্বামীর পুনমিলনের পূর্ব পর্যন্ত যদি "পদ্মা 
স্বামীকে মৃত মনে করিয়! থাকিতেন, তবে মিলনের মুহূর্তটী আরো বেশী নাটকীয় হইয়া 
উঠিত। যে ভাবে নাট্যকার রাজা ও পল্মাবতীকে অঙ্জিরার আশ্রমে মিলিত করিয়াছেন 
এবং শচী ও রতির বিরোধ অবসান করিয়াছেন তাহাতে তাহার নাট্যকলাকৌশলের পরিচয় 
পাঁওয়। যাঁয়। নাঁটকটার শেষ হইয়াছে সংস্কৃত নাটকের রীতি অনুসারে । সংস্কত নাটকে 
যেমন পরিপূর্ণ মিলনে ভরত বাক্যের মধ্যে সকলের শুভ কামনায় নাটকের শেষ হয়, 
পদ্মাবতীতেও তাহাই হইয়াছে । সংস্কৃত নাটকের মধ্যে যে সব চরিত্র বিষাদাস্তক হইতে পারিত 
তাহাদের মিলনেও যেন বিষাদের ধাক্কা আমাদের অন্তর স্পর্শ করে। পপস্মাবতী” নাটকে 
তেমনি সকলের আনন্দপূর্ণ মিলনের মধ্যে ঈর্ধাদগ্ধ প্রতিশৌধপরায়ণ৷ অথচ পার্বতী আদেশে 
নিরুপায় শচীর ট্র্যাজেডির ছুঃখপূর্ণ সুর ধ্বনিত হয়। 

রামগতি স্টায়রত্ব মহাশয় বলিয়াছেন যে, “পন্মাবতী”র উপর “শকুস্তলা”র স্পষ্ট প্রভাব 
বিছ্মান। এই উক্তি যথার্থ বলিয়। মনে হয়। পল্মাবতীর সহিত ইন্দ্রনীলের মিলন ও 
বিচ্ছেদ, এবং অবশেষে অঙ্গিরার আশ্রমে তাহাদের পুনশ্মিলন--এ সমস্ত ঘটনা “শকুস্তলার 
সহিত সাদৃহঠ ব্যক্ত করে। ইহা ছাঁড়া নাটকের বণিত বিষয়ের মধ্যেও 'শকুন্তলার+ প্রভাব 
লক্ষ্য কর! যায়। দৃষ্টাস্তস্বরূপ বল! যাইতে পারে, “পন্াবতী”র তৃতীয়াংকের প্রথম গর্ভাংকের 
শেষ দিকে সথীকে পদ্মা বলিতেছেন-_ 

পল্মাস্-সথি ! দেখ, এই নূতন তৃণান্কুর আমার পায়ে বাজতে লাগলো । উত্থ'! 


৫২ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


আমি ত আর চলতে পারি না; তোমরা একজন আমাকে ধর! (রাজার প্রতি লজ্জা এবং 
অন্রাগ সহকারে দৃষ্টিপাত ) 

এই অংশটা একেবারে শকুস্তলার প্রথম অংকের শেষাংশের অরূনূপ | ১ 

পদ্মাবতী নায়িকা হইলেও এই নাটকের শ্রেষ্ঠ চরিত্র শচী। এই শচী মহিমময়ী 
দেবী স্বর্গের ইন্দ্রাণী নহেন, ইনি ঈর্া-কলহপরায়ণা অলিম্পিয়ার রাজ্জী জুনোর সমগোত্রীয় । 
মাইকেল “মেঘনাদ-বধে” হিন্দুর চির আরাধ্য দেবদেবীর চরিত্র বিকৃত করিয়াছেন বলিয়! 
তাহার বিরুদ্ধে অনেকে গুরুতর অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগ বর্তমান নাটকে 
প্রযোজ্য হইলেও একথা সত্য যে শচীর চরিত্র চমৎকারভাবে সজীব ও নাটকীয় হইয়। 
উঠিয়াছে। শচী সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় পরাজিত ও অপমানিত হইয়। বিচাঁরককে শাস্তি 
দিবার জন্ত বদ্ধপরিকর হইয়াছেন, এবং নানাভাবে নাটকের মধ্যে ইন্দ্রনীল ও পদ্মাবতীকে 
দুঃখ দিবার চেষ্টা করিয়াছেন। শেক্সপীয়রের গনেরিল (৫301)9111) ২ ও লেড়ী ম্যাকবেথের 
ন্যায় শচীর দৃঢ় সংকল্প, প্রথর বুদ্ধি, স্ুচতুর*্উপায় উদ্ভাবনী শক্তি, নিফরুণ কাঠিন্য লক্ষ্য 
করিবার বিষয় । নিজের দলিত মর্ধাদা উদ্ধার করিবার জন্ভ তিনি পদ্মাবতী ও ইন্ত্রনীদের 
বিচ্ছেদ সাধন করিয়াছেন, এবং কলিকে দিয়! পদ্মাবতী কাছে ইন্ত্রনীলের মৃত্যু সংবাদ 
জ্ঞাপন করিয়াছেন । তাহার প্রতিশোধ-স্পৃহা৷ সম্পূর্ণ চরিতার্থ হইয়! উঠিয্লাছিল, কিন্ত 
দেবী পার্বিতীর আজ্ঞায় তাহার মাথা নত করিতে হইল। নিরুপায় শচীর পরাজয় বাম্তবিকই 
ছুঃখাবহ । শচী যখন শেষকালে বলিতেছেন- “হায়! আমার এত পরিশ্রম কি তবে বুথ 
হলো? অবশেষে রতিই জিতলে!” তখন তীহীর প্রতি আমাদের সহানুভূতি উদ্রিক্ত 
না হইয়া পারে না । মুরজা শচীর সহযোগিনী হইলেও তাহার মধ্যে আমরা বরাবর দ্বিধা 
ও দ্বন্দ দেখিতে পাই। তাহার মাতৃহৃদয় সচেতন মনের অজ্ঞাতসারেই কন্তাকে গীড়া 
দিতে সংকুচিত হইতেছিল। এই দ্বিধা ও দ্বন্দের সহিত সম্বন্ধ-রহস্টোদ্ঘাটনের চমতকার 
সামঞ্জন্ত হইয়াছে । 

রতি শচীর যোগ্য প্রতিদ্বন্দিনী। বুদ্ধি ও চাঁতুর্ষে বার বার তিনি শচীর উদ্দেশ 
ব্যাহত করিয়াছেন, এবং অবশেষে ভগবতীর সহায়তায় তিনিই সর্বশেষে জয়লাভ করিয়াছেন । 
এই তিন দেবীর প্রবল প্রতিযোগিতার ঘূর্ণযাবর্তে মানব চরিত্রগুলি নিতান্ত অসহায়ভাবে 
আবিতিত' হইয়াছে । রতির আন্ুকূল্যে ইন্দ্রনীল ও পস্মাবতী মিলিত হইয়াছেন, শচীর 
প্রতিকৃলতীয় সীহার৷ আবার বিচ্ছিন্ন হইয়াছেন, এবং ভগবতীর প্রসাদে তাহার! পুনপ্নিলিত 
হইতে পারিয়াছেন। দেব চরিত্রের এই প্রীধান্যের জন্য মানব চরিত্র মোটেই ফুটিতে পারে 
নাই। পল্মাবতী সরলা, কোমলপ্রাণা এবং পতিব্রতা স্ত্রী। কিন্ত ভাগ্য ও ঘটন্মুর 
প্রতিরোধ করিয়া নিজের চরিত্র তিনি বিকাশ করিতে পারেন নাই। রাজ! ইন্দ্রনীলকে 


১। শকুন্তল'--অগহৃয়ে, অহিণবকুসম্থইয়ে পরিক্থদং মে চলণং। কুরবঅ সাহীপরিলগ গং চ বক্ধলং | 
দ1ব পরিপালেধ মং, জাব ণ মোআবেমি। 
(রাজানমবলোকয়ভ্তী সবাজং বিলম্ব) সহ সপীভ)াং নিজ্ঞাস্ত। )। 


২। রাঙা লীয়ারের' কন্ঠ! ৷ 


মাইকেল মধুসুদ . ৫৩ 
নাটকের মধ্যে খুবই কম দেখিতে পাওয়া! যাঁয় এবং সৌন্দর্য বিচারে তাহার বুদ্ধিমত্তা ব্যতীত 
তাহার চরিত্রের অন্ত কোন বৈশিষ্ট্য উল্লেখযোগ্য নহে। বিদূষক অনেকস্থলে অনাবশ্তাকভাবে 
নিজের স্থুল বুদ্ধির দ্বারা সকলকে হাঁসাইতে চেষ্টা করিয়াছে। “পল্মাবতী*র বিদুষক “শঙিষ্ঠা”র 
বিদুষক অপেক্ষা অনেক বেশি ত্বাভাবিক, তবে তাহার রসিকত্বা অনেক শ্থলেই বিরক্তিকর । 

॥ কফকুমারী( ১৮৬১) ॥ “কৃষকুমারী' মধুহদনের সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক। পূর্ববর্তী 
নাটক ছইখানিতে তিনি সংস্কৃত প্রভাব একেবারে বর্জন করিতে পারেন নাই, কিন্ত 
“কৃষ্কুমারী” নাটকে তিনি সম্পূর্ণরূপে পাশ্চাত্য রীতি অন্ুসরণ করিয়! নাটক রচনা করিতে 
সক্ষম হইয়াছেন। প্রীচ্যনাট্যকলা-বহিভূ্ত বিয়লোগাস্তক নাটক রচনা করিয়া তিনি তাহার 
স্বভাবন্থুলভ বিদ্রোহের পরিচয় দিয়/ছিলেন। “কৃষ্ণকুমারী*ই বাংলা সাহিত্যের সর্বপ্রথম 
ট্রাজেডি অর্থাৎ বিষাদাস্তক নাঁটক সাধারণের মধ্যে এই ধারণা প্রচলিত আছে। কিন্ত 
ব্রজেন্্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলিয়াছেন যে, “রুষ্ণকুমারীর পূর্বেই “কীত্িবিলাস+ (১৮৫২) এবং 
“বিধবাবিবাহ নাটক” (১৮৫৬ ) নামে ছুইখানি বিয়োগাস্ত নাটক রচিত হইয়াছিল। 
যাহা হউক “কৃষ্ণকুমারী”র পূর্বে বিয়োগাস্ত নাটক প্রণীত হইলেও সাঁধারণ্যে প্র সব নাটকের 
প্রচার নাই, সুতরাং মধুস্থদনকেই সার্থক বিয়োগাস্ত নাটকের প্রবর্তক বলিলে অন্তায় 
হইবে না। 


“কষকুমারী” শুধু মাত্র গ্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নহে, ইহা৷ মধুস্থদনের নাট্য প্রতিভার 
প্রধানতম কীতি। শেমিষ্ঠা” ও “পন্মাবতী' উভয় নাটকেই ছিল পুরাণের কাহিনী--একটিতে 
হিন্দুপুরাণের কায়! আর একটিতে গ্রীক পুরাণের ছায়৷। কিন্তু পুরাণ পুরাণই, তাহাতে 
বাস্তব নরনারীর জটিল হৃদয়দ্বন্ব বিকাঁশ করিয়া দেখাইবার অবসর নাই । নাট্যকারের হাত 
সেখানে স্ুবিদিত কাহিনীর রজ্জুদ্বারা আবদ্ধ । সেজন্য এই ছুইখানি নাটকে তিনি তাহার 
মৌলিক প্রতিভার লীলানৈপুণ্য দেখাইতে পারেন নাই। সংস্কৃত নাটকের রীতি ও নির্দেশ 
না মানিয়! তাহার উপায় ছিল না। কিন্তু “রুষ্ণকুমারী” তাহার নাট্যপ্রবাহের বাধাটি 
সরাইয়৷ দিল, আপন প্রাণোচ্ছাসে তখন তাহা আত্মপ্রকাশ করিল। রাজপুত ইতিহাস 
প্রাচীন হইলেও তাহ! আমাদের মত মানুষেরই ইতিহীস। এই ইতিহাস অবলম্বন করিয়া 
মধুহুদন বাস্তব নরনারীর বিচিত্র হৃদয়-সংঘাত পরিশ্ফুট করিয়া তুলিলেন। চরিব্রগুলি 
অস্তরাবেগ ও সৌনর্ষে প্রাণময় হইয়া! উঠিল বলিয়া বাহিরের সাজসজ্জার আর প্রয়োজন 
রহিল না। ' ্‌ 

মধুহুদন “কৃষ্ণকুমারী” রচন! করিবার সময় তাঁহার বিভিন্ন বন্ধুবান্ধবকে যে সব চিঠি- 
পত্র লিখিয়াছিলেন সেগুলি হইর্তে তাহার নাট্যজ্ঞান ও আলোচ্য নাটকের প্রেরণা ও 
পরিকল্পনা সম্বন্ধে আমর অনেক কিছু জানিতে পাঁরি। প্রসিদ্ধ অভিনেতা - কেশবচন্ত্র 
গঙ্গোপাধ্যায়কে লিখিত একখানি পত্রে পাশ্চাত্য ও ভারতীয় নাটকের মৌলিক বিভিন্নতার 
কারণ সম্বন্ধে যে আলোচন! তিনি করিয়াছেন তাহ যেমন জ্ঞানগর্ভ তেমনি রসগ্রাহী। 
উক্ত'পঞ্জ হইতে কিন্নাটংশ উদ্ধত হইল-_ 


৫৪ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


£[1) 025 81586 701096818 1018108 ০০ 10856 006 5061) 168911065 ০ 
1166১ 10605 2295100১210 10610150006 50101006180 ড/1 05 1015 21] 
506092595 ৪11 101081১০6. ৬/০ 01560 00৩ ০0110 0৫ 15811ড 04 41590 ০৫ 
£8115181503,70706  £60105 0৫ 055. 01827091389 1১0% ড০৮ 12061০০. ০৮০18 & 
100001:865 06£156 ০৫ 0০৬০100100180 10 0015 ০০010)05৮, 00019 212. 1:81008100 
29610057170 ০৮61) ৬৬1150175 076 £:6586 10161517 2.0100116] 01 001: 12108089665 
1085 06613 59120061160. 00 80101 0115, [70 006 9610015009১] 01621 5060064 
০00৮ ০ 006 7096) ০6 056 01810980150) 602 0580 06 006 00676 0066. 1 0661 
60:80 006 1658] 18 56210]. ০0৫6 0176 ১০966০81. 110 006 0165561)0 0185 
03280 6০ 55020115) ও 515118196 £0810 ০06]: 2059616, [| 50811] 000 100 
0315 ৪ ০::01)80 ৪০ 00: 0০605511100 11610600516 11508111006 
0056 1761 ৪ ) 200 [ 20055] 1995 596]. 1£501:010 001) ০0120108 
8০055 196] 1907 2170 01), 1] 5)098]1 217068০0100 ০1686 01081900515 


ঘম1)0 52815 25 15810016 50855502170. 1106 1001061)-00615 0০60০ 


এই মূল্যবান পত্রথানি হইতে আমরা জানিতে পারি যে, মধুস্দন কাঁব্যোচ্জ্বাস- 
বিরহিত, ছন্দ-সংঘাঁতমূলক নাটকের আদর্শ সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অবহিত হইয়াও তাঁহার পূর্ববর্তী 
নাটকে অত্যধিক কাব্যবশ্ঠতার জন্য সেই আদর্শ রূপায়িত করিতে পারেন নাই। এই 
কাব্যবশ্যতা হয়তে। কিছুট1 তাহার স্বভাবগত কবিধর্সের কারণে, হয়তো বা কিছুটা জনচিত্তের 
সুলভ স্বীকৃতি পাইবার লোভে । কিন্ত “কৃষ্কুমারী”তে তিনি নিজের স্বভাব ও পরের রুচি 
উভয়কেই উপেক্ষা করিলেন, অবিমিশ্র নাট্যপ্রেরণা লইয়া! তিনি নাট্যজগতের মূল মর্মলোকে 
প্রবেশ করিলেন। কবি মাইকেল তাহার নাট্যসম্তার পরিপূর্ণ গৌরবালোকে সম্পূর্ণরূপে 
বিলুপ্ত হইয়া! গেলেন । 


মধুস্দন বুঝিয়াছিলেন, বস্তজগতের তীব্র ঘাত-প্রতিঘাঁত ও তাহাঁর অনিবার্য ছুঃখময় 
পরিণাম প্রাচ্য কচি ও আদর্শসম্মত না! হইতে পারে কিন্তু তাহাই শ্রেষ্ট ট্র্যাজেডি-_মানবের 
সর্বোৎকৃষ্ট: রস-চেতনার অঙ্গীভূত। শুধু নাটকে নহে, কাঁব্যেও এই অপূর্বদৃষ্ট ট্র্যাজিক 
চেতনার পরিচয় মীইকেলই সর্বপ্রথম দিয়াছিলেন। পঙ্ঠু ও অক্ষম মী্গষের দৈবনিয়ন্ত্রি 
ছুঃথ ও বিলাঁপের বিগলিত প্রবাহ যে করুণরসের পঙ্কিল ও আবর্তহীন জলাশয় সৃষ্টি 
করিয়াছিল তাহা৷ ট্র্যাজেডির প্রখর জ্বালাম্পর্শে শুক্ক-কঠিন সংগ্রামক্ষেত্রে পরিণত হইল । এই 
ট্র্যাজেডি রহিয়াছে “মেঘনাদ বধ কাব্যে” আর “কষ্ণকুমারী' নাটকে । ১৮৬১ সাল মধুন্দমৈব 
সাহিত্যগ্রাতিভার সর্বাপেক্ষ। স্মরণীয় বংসর। এ সালে তাহার শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য “মেঘনাদ বধ*, 
শ্রেষ্ঠ নাটক “কৃষ্ণকুমারী” ও শ্রেষ্ঠ গীতিকাব্য 'ব্রজাঙ্গনা” রচিত হয়। এই তিনখানি গ্রস্থই 
বিষাদাস্তক ইহা মনে রাখিলে তৎকালে মানবজীবনের এই শাশ্বত শোকাবহ দ্দিকে কবির 
চিত্ত কতথানি নিমগ্ন ছিল তাহ! সহজেই ধারণ! করা যাইবে । শুধু এই তিনখানি গ্রন্থে নহে 


মাইকেল মধুসূদন €৫ 
তাহীর অস্ঠান্ি রন গ্রন্থ,_যথা “তিলোত্বমাসম্ভব” “বারাঙ্গন।» “তুর্দশশপদী কবিতাঁবলী” 
“মায়াকানন+, “হেই ” প্রভৃতি ছুঃখ ও বেদনাভারাক্রান্ত। পাশ্চাত্য সাহিত্যের 
গ্রভাবে এই চর সুতীব্র সংঘাঁত-জনিত বান্তব; ছুঃখশোকের চেতন! তাহার চিত্বের 
গভীরতম মূলে আবদ্ধ হইয়াছিল। অবশ্য ছুঃখশোঁকের চেত্নামাত্রই সাহিত্যকে যথার্থ বিষাদ- 
করুণ করিতে পারে না ; সেই ছুঃখশোকের ষথোপযুক্ত প্রকাশরীতিও আয়ত্ত থাক দরকার । 
এই প্রকাশরীতি মধুস্থদনের আয়ত্ত ছিল বলিয়াই তিনি মানবজীবনের বিষাদময় দিকটি এত 
গভীর ও উজ্জলভাবে তুলিয়! ধরিতে পারিয়াছেন। অমিত্রাক্ষর ছন্দ-গ্রবর্তন ভাঁষার শব্দ- 
গাস্তীর্য ও বর্ণনাশক্তির ওজস্থিতা প্রভৃতি দ্বারা যেমন “মেঘনাদ বধ” কাব্যের মধ্যে ট্র্যাজেডির 
সমুন্নত মহিমণ ফুটাইয়! তুলিয়াছেন, তেমনি ছন্দজটিল ঘটনা-সমাবেশ, সংলাপের অলঙ্কার" 
ভারমুক্ত ক্ষিপ্রতা ও চরিত্রের অন্তঃসংঘাতের চিত্র অঙ্কন করিয়া নাটককে যথার্থ ট্র্যাজিক 
গৌরবে ভূষিত করিলেন । “কৃষ্ণকুমারী সার্থক ট্র্যাজেডি শ্রেণীভুক্ত হইবার কারণ, নাট্যকার 
গোড়া হইতেই একটি অন্ুতীর্য অবস্থা-সক্কটের স্থষ্টি করিয়। নাটকের ঘটনাবেগকে এক 
অনিবার্ষ ছুঃখ-পরিণতির দিকে অলজ্ঘ্য আকর্ষণে লইয়া চলিয়াছেন। সেজন্য মাঝে মাঝে 
ধনদীস মদনিক| প্রভৃতির সরস কথোপকথন থাঁকিলেও কোথাও কোন লঘু হাশ্যরসাত্মক 
দৃশ্তের অবতারণ! করিয়া নাট্যকার ইহার রসগান্ীর্য তরল করিয়া ফেলেন নাই। ১ 
“মেঘনাদ বধ কাব্য” ও “কৃষ্ণকুমারী নাটক" শুধু যে সমকালীন রচনা তাহাই নহে, উভয়ের 
মধ্যে ট্র্যাজিক সমধমিতাও বিছ্যমান। উভয় রচনার মধ্যেই পিতৃহৃদয়ের মর্সীস্তিক বেদনার 
এক বন্ধিমান রূপ উদ্ঘাঁটিত হইয়াছে । অথচ এই ব্যক্তিগত বেদনার সহিত এক সুমহান 
স্বদেশহিতৈষণার প্রেরণা উভয় চরিত্রকে মহিমান্িত করিয়! তুলিয়াছে। রাবণ চরিত্রের 
বিশালত৷ অতুলস্পর্শা সমুদ্রের সঙ্গেই উপমেয় । এই পাষাণসদৃশ পুরুষের অস্রবিধৌত রূপ 
দেখিয়! কঠিন হিমগিরির গাত্রবাহিত বিগলিত তুষারধারার কথাই মনে হয়। দৈব ও 
পুরুষকারের যুগপৎ প্রভাবে তাহার ব্যক্তিত্বে মিলিয়াছে বীরের হুস্কারের সহিত বিলাপীর 
হাহাকার। এই বিশালত৷ ও বিচিত্র রহস্যঘন বিরোধজটিল ব্যক্তিত্ব ভীমসিংহের নাই বটে, 
কিন্তু তাহার মধ্যে পিতার করুণ বাৎসল্যের সহিত রাজার কঠোর কর্তব্যের থে নিদারুণ 
সংঘাত ও তাহার ফলে যে অসহায় সঙ্কট ও অপরিমেয় অন্তর্্লার সৃষ্টি হইয়াছে তাহা, বোধ 
হয় রাঁবণ-চরিত্রেও নাই । রাবণের ছুঃখে রহিয়াছে মর্মতেদী আজ্মবিলাপের উধ্বচারী বিস্তার 
আর ভীমসিংহের ছুঃখে ফুটিয়াছে আত্মঘাতী হৃদয়ের ভূমিলুষ্টিত আর্তনাদ । 
৯7 এই নে যুজন কেশব গঙ্গায় হাহ লিিজাছেন তাহার কিছ উতৃত হইল 
8 616 10195 19 ৪. 80905, [ 105৩ 1006 00002196 16 00091 60 19010 ৪0. 90০09 ১ 
009 0906177011700100 01 108106 901010 3170 005 1007009]6 01980010100, ৪001) ৪ 610108 ছ0৮.10 710৮ 09 
|) 17592101716 01610 0199 17960090101) 0185. 906 12065৩1 11) 00০ 00086 ০£ 05০ 018109£09 
& 1)16858))0 7:0101911 1098 80069050186] 10850 006 11951606611 10, 11156 01715 016০6 01 0161 
0180) [ 81791] ড61।6016 01901), 18 61318 :-189%0]: 82150 60139 90100 11 9 68905, 100৮ 1 81) 


07000076801 701686765 168616 01090102176 6010৩ €%5, 0০ 1006 09819061610. 009 1689 1710)07690 
508)69, 90 99 60 118৩6 81) 8£:9691)15 ৮1৩05, 


-_ শা শশী পপির 


6৬ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


কেষ্চকুমারী”র কাহিনী মাইকেল টড প্রণীত “রাজস্থান হইতে সংগ্রহ করিয়াছেন। 
মধুহদন যেমন পৌরাণিক নাটকের জনয়িতা, তেমনি এঁতিহাসিক নাটকেরও প্রবর্তয়িতা 
বটে। তাঁহার পরে বহুতর নাট্যকার “রাজস্থান” প্রভৃতি গ্রস্থ হইতে নান বীরত্ব-ব্যঞ্রক ও 
স্বদেশ প্রেমমূলক আখ্যান অবলম্বন করিয়া নাটক লিখিয়াছেন। দেশের অতীত গৌরবময় 
কাহিনী নাটকের মধ্যে রূপ নিয়! আমাদের স্থপ্ত দেশাত্মবৌধকে অনেকথানি জাগ্রত 
করিয়াছিল সন্দেহ নাই । মাইকেলের পরে নাট্যকারগণ অনেক 'নাটকে ইতিহাসের 
গুরুতর পরিবর্তন করিয়াছেন, কিন্তু তিনি তাহার নাটকে ইতিহাদের সহিত মিল রাখিয়াই 
চলিয়াছেন। ইহা! তাহার পক্ষে প্রশংসনীয় সন্দেহ নাই । মধুস্দন তাহার ট্ট্যাজেডি'র জন্য 
কষ্ণকুমারীর শৌকাঁবহ কাহিনী নির্বাচন করিয়া বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়াছেন। নাটকের 
বিষাদান্ত পরিণতি যথেই্ট করুণ হইয়াছে সন্দেহ নাই। কিন্তু করুণ হইলেও নাটকটা প্রকৃত 
ট্যাজিক' হইয়াছে কিনা তাহাই এখন আমাদের আলোচ্য । 

নাট্য সাহিত্যের অদ্বিতীয় সমালোচক নিকল তাহার “1)50:5 ০৫ 10:80082তে 
একটি চমৎকাঁর কথা উল্লেখ করিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেন যে পুরুষ চরিত্রই সব সময়ে 
ট্যাজেডির নায়ক হইয়। থাকে। স্ত্রীচরিত্র যেখানে প্রধান চরিত্র সেখানে সেই চরিত্র নিশ্চয়ই 
বিশেষ শক্তিশালী, দৃঢ়চেতা, পুরুষভাবাপন্ন হইবে । ১ কোমল-ভাবাপন্ন, ছূর্বলচিত্ত নারী 
্রীজেডির মধ্যে অগ্রধান ও প্রভাবহীন। প্ররুতপক্ষে 'ওথেলো” এবং হহাঁমলেট' 
নাটকে ডেসডেমনা। ও ওফেলিয়ার কোনো গুরুত্ব এবং প্রভাব নাই। পক্ষান্তরে লেডী 
ম্যাকবেথ, ইফিজেনিয়া, ব্লাইটেম্নেষ্রা, মিডিয়া, গনেরিল এ সব চরিত্র নারীত্বভাববিবঞ্জিত, 
অসম শক্তিশালী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং পুরুধায়িত। কুষ্*কুমারীর নামে নাটকের নাম হইলেও 
সে সরল, €কোমল-গ্র।ণা, অনভিজ্ঞ। বালিকা ) ট্র্যাজেডির নায়িক। হইবার মত বৈশিষ্ট্য 
তাহার নাই । আ্যারিষ্টোটল তাঁহার '৮০০০০৪' এ বলিয়াছেন যে ট্র্যাজেডির নায়ক অত্যন্ত 
ধান্মিক ও স্যায়পরায়ণ হইবেন না বটে, কিন্তু তিনি পাপী ও ছুক্কতকারীও হইবেন না 
এবং কোনে মানবীর ভ্রাস্তির জন্ত ট্র্যাজেডি সংঘটিত হইবে _ 

£[306 8 ০13919.0051 0 [1015 15 0176 109 18610)21 ০3:০613 117 ৮1006 
৪180 )000501065 1901 15 ০10917£০0 0070061) 10০ 8110 ৫০018৬105, 11)00 
10150100196 01010 ৪ £1520 12000. 210 70195961165, 006 1385 23191161060 
0518 01721)66 01)109081) 50106 (1000081) ) 211091৮ ২ 

এইরূপ অজানিত ভ্রাস্তির জন্যই ইডিপাঁসের জীবনে ট্র্যাজেডি ঘটিয়াছিল। কিন্ত 
শেকস্পীয়ারের ট্র্যাজেডি সব সময়েই নায়কের স্বকৃত কোনো৷ ক্রিয়ার দ্বার সংঘঠিত হয়!» 
লীয়ার, ওথেলো, ম্যাকবেথ, হামলেট ইহাদের ট্র্যাজেডি নিজেদের কোনো ইচ্ছা কিংবা 
ক্রিয়ার ফলেই হইয়াছিল। কৃষ্ণকুমারীর ট্র্যাজেডি তাহার নিজের, কোনে! ত্রান্তির দ্বারা 


১:770% ০ 19770 05 &. 1০011, 0, 127-159. 
২ 7727090 77607669 ০07 10701705 0য (0000 201960009, ০2 1 


মাইতে নবুলুধল ৫৭ 


ঘটে নাই, অথবা তাহার কোনো! কার্ধের দ্বারাও ট্র্যাজেডি অনিবার্য হইয়া _ উঠে নাই। 
মদনিকা, ধনদাঁস প্রভৃতি অপ্রধান চরিত্রই নাটকের বিষাদাস্ত পরিণতির জন্য দায়ী। সুতরাং 
কষ্ণকুমারীকে কখনো ট্র্যাজিক নায়িকা বল! চলে না। 

তবে ইহা! সত্য যে, ভীমসিংহের চরিত্র যথার্থই ট্র্যাজিক হইয়া! উঠিয়াছে এবং সেজন্যই 
নাটকথানি উচ্চাঙ্গ ট্র্যাজেডির অন্তভূ্ত হইতে পারিয়াছে। ভীমসিংহের কন্তার পাণিগ্রার্থী 
হইয়। ছুই প্রবল প্রতিপত্তিশালী রাজ। তাহার কাছে প্রস্তাব পাঠাইয়াছেন। ইহাদের মধ্যে 
কাহাকে তিনি অসন্তুষ্ট করিবেন? ন্সেহান্ধ পিতা যদি কন্ঠাকে রক্ষা করিতে যান, তবে 
ইহাদের প্রদীপ্ত ক্রোধানলে দেশ ভন্মীভূত হইয়া! যাইবে । আবার দেশগ্রাণ রাণা যদি 
দেশের হিত.চান তবৈ কন্তাকে বিসজ'ন দেওয়া ছাঁড়! গত্যন্তর নাই । এই নিদারুণ সংকটে 
পড়িয়া বুদ্ধ রাজার জীবন নিতান্ত শোচনীয় হইয়। উঠিল। অবশেষে দেশহিতৈষণাই জয় 
লাভ করিল। দেশ এবং জাতির কল্যাণার্থ গ্রীক সেনাপতি আযাগামেমনন নিজের কন্তা 
ইঁফিজেনিয়াকে উৎসর্গ করিয়াছিলেন, এবং এখানে দেশের ও প্রজার মঙ্গলের জন্ত ভীমসিংহ 
নিজের কন্ঠাকে বলি দিতে উদ্যত হইলেন । কিন্তু নিজের কর্তব্যবোধকে উচ্চে স্থান দেওয়াতে 
দেশ রক্ষা হইল বটে, কিন্ত তিনি নিজেকে রক্ষা করিতে পারিলেন না। নিদারণ ছুঃখ 
ও গ্লানিতে তাহার মস্তিষ্ক বিকৃত হইয়। গেল। কন্তা-স্সেহান্ধ রাজ! লীয়ার উন্মত্তভাবে 
ক্ুদ্ধ প্রকৃতির মধ্যে যেমন নিজেকে সমর্পণ করিয়াছিলেন, তেমনি ভীমসিংহকেও ঝড়- 
দুর্যোগের মধ্যে নিতাস্ত অসহায় ভাবে প্রলাপ বকিতে দেখিয়। প্রচণ্ড দুঃখের আঘাতে 
আমাদের অন্তর রুদ্ধ হইয়া যায়। প্রকৃত পক্ষে ভীমসিংহ শেষদিকে একেবারে শেকৃসপীয়ায়ের 
ট্র্যাজিক চরিত্রের অনুরূপ হইয়! উঠিয়াছে। 

নাটকের বিয়োগাস্ত পরিণতির জন্য যদি কেহ সর্বাপেক্ষা বেশি দায়ী হইয়। থাকে, 
তবে সে মদনিকা'। “মূচ্ছকটিক” নাটকের বসন্তসেনার সহচরী মদনিকার মতই সে চতুর এবং 
বুদ্ধিশালিনী। মদনিকা মধুস্ছদনের প্রিয় চরিত্র ইহা তাহার এক পত্রে জানা যায়।১ 
ধনদাস ধূর্ত, কিন্তু মদনিক! তাহার অপেক্ষা অনেক বেশি ধূর্ত। ধনদাস উদয়পুরে জগৎং- 
সিংহের বিবাহ-প্রস্তাব নিয় গিয়াছে, কিন্তু মদনিকা বিলানবতীর দ্বারা নিয়োজিত হইয়! 
সেই বিবাহ পণ্ড করিবার জন্য উপস্থিত হইয়াছে । কৃষ্ণকুমারী যাহাতে মানসিংহের প্রতি 
আকৃষ্ট হয় সেইজন্য মদনিকা৷ তাহাঁকে চিত্রপট দেখাইয়াছে, মানসিংহের কাছে কষ্ককুমারীর 
আসক্তির কথ! জ্ঞাপন করিয়াছে, ধনদীস ও মরুদেশের দূতের মধ্যে বিবাদ বাধাইয়াছে, 
এবং সব সংকটের স্থষ্টি করিয়াছে । মদনিকা এ সমস্ত ব্যাপার না করিলে জগৎসিংহের 
সহিত ক্ষ্চকুমারীর বিবাহে কোনোই বাঁধা হইত না এবং নাটকের পরিণতি বিষাদাস্ত 
হইত না। 

মদনিকাঁর পরেই নাটকের মধ্যে ধনদাসের স্থান উল্লেখযোগ্য । ধনদাস ইয়াগোর 


১1 "396 0:৪৮ 10509010508 হচয 85০0011৮6--জীবন চরিত, পৃঃ ৪৬৫। 
৮ 


৫৮ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


মতই ক্রুর-স্বভাব, অন্িষ্টা্থেষী এবং দুর্মতিপরায়ণ। তবে ইয়াগোর সহিত ধনদাসের এই 
পার্থক্য যে ইয়াগোর মধ্যে উদ্দেশ্বিহীন ক্রুরতা (29901561695 00911510105 ) লক্ষ্য কর! 
যায়। কিন্তু ধনদাস স্বার্থসিদ্ধির আশাতেই মিথ্যা এবং প্রবঞ্ণনার আশ্রয় নিয়াছে। 
তবে ধনদাসের খলত। ও নীচাঁশয়তা কখনে। শক্তিশালী ও নাটকের মধ্যে বিশেষ কার্যকর 
হইয়৷ উঠিতে পারে নাই, কারণ অধিকতর চতুর ও বুদ্ধিশালিনী মদনিকার দ্বারা তাহার 
সমন্ত ইচ্ছা ও কার্য বার বার ব্যাহত হইয়াছে। মদনিকা-চরিত্র মধুনুদনের প্রিয় ছিল 
বলিয়। সে গুরুতর অন্তাঁয় করা সত্বেও শেষ পর্যন্ত তিনি তাহাকে কোনে! শাস্তি দেন নাই, 
অথচ ব্যর্থ ও বিফল ধনদাসকে অপমামিত, শাসিত ও বিপর্যস্ত করিয়াছেন। 

প্রথম দুই নাটকে মধুস্ুদন যে কৃত্রিম কবিত্বের অনাবশ্যক আধিক্য দ্বারা নাঁটকের 
গতি মন্থর ও চরিন্রগুলিকে আড়ষ্ট করিয়। তুলিয়াছিলেন রুষ্ণকুমারী নাটকে সেই দৌষ 
অনেকখানি পরিহার করিতে সমর্থ হইয়াছেন। এই নাটকে চরিব্রগুলি তাহাদের 
অর্থপূর্ণ উক্তিদ্বার৷ সজীব হইয়া উঠিয়াছে এবং নাটকের কাহিনী ঘটনার জটিলতা সত্বেও 
কেন্তরচ্যত কিংবা! ব্রক্যহীন হইয়া! পড়ে নাই। জগৎসিংহ-বিলাসবতী-মদনিকা-ধনদাসের 
কাহিনী উদয়পুরের রাজপরিবারের সহিত চমৎকার ভাবে সুসমগ্জস হইয়া উঠিয়াছে, এবং 
মদনিক। যে কারণে উদয়পুরের প্রাসার্দে উপস্থিত হইয়! যেভাবে মরুদেশের রাঁজীকে 
নাটকের মধ্যে আনয়ন করিয়াছে তাহার বর্ণনাও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, বিশ্বাসযোগ্য ও 
কৌশলপূর্ণ হইয়াছে । রুষ্ণকুমারী চিত্রপট দেখিয়াই মানসিংহের প্রতি গভীর ভাবে 
অন্থরক্ত হইলেন, এই ব্যাপার যদিও মধুহুদন রুক্মিণীর সহিত তুলনা করিয়া স্বাভাবিক 
বলিতে চাহিয়াছেন, তবুও এরূপ প্রেম আমাদের মনের মধ্যে অবিশ্বাস ও সংশয় জন্মাইয়া 
দেয়। কৃষ্ণকুমীরীর এই প্রেমের জন্য তাহার মনের মধ্যে কোন ছন্দ উপস্থিত হয় নাই, 
এবং বাহিরের কোনে। ঘটন! কি চরিত্রের সহিত তাহার কোনো সংঘাতও দেখা দেয় 
নাই। সুতরাং তাহার প্রেমাসক্তি নাটকের মধ্যে মুল্যহীন ও নিরর৫থক। নাটকের মধ্যে 
স্থানে স্থানে অভিনয়ের অযোগা দৃশ্য সংযোজিত হইয়াছে । চতুর্থ অস্কস্থ দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে 
ধনদাসকে জব্দ করিবার জন্য মদ্নিক। জগৎসিংহকে লইয়। অন্তরালে অবস্থিত হইয়া 
রাজাকে ধনদাঁস ও বিলাসবতীর কথোপকথন শুনাইয়াছে। এখানে রাজা ও মদনিক৷ 
নিশ্চয়ই ধনদাস ও বিলাসবতীর অদৃশ্ঠ কোনো স্থলে লুক্কায়িত রহিয়াছেন। সুতরাং তাহারা 
নিশ্চয়ই দর্শকবর্গের কাছেও অদৃশ্য থাঁকিবেন। অথচ মধুসথদন এইথাঁনে মদনিক। ও 
রাজার কথোপকথন নিবদ্ধ করিয়া রঙ্গমঞ্চের কথা একেবারেই ভুলিয়া গিয়াছেন। এ 
সব দোষ ক্রটি সত্বেও কষ্ণকুমারী মধুস্দনের সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক এবং প্রকৃতই “বাঙ্গাল! ভাষায় 
'এ পর্যন্ত যে সকল বিষাদাস্ত নাটক রচিত হইয়াছে তাহার মধ্যে অতি অল্পই ষঈহ*র 
সমকক্ষতা করিতে পারে ।” | 

॥ মায়াকানন (১৮৭৪) ॥ কৃষ্কুমারী নাটকের তের বৎসর পরে মধুসুদন “মায়াকাঁনন' 
রচন। করেন। তখন তাহার আয়র চক্র শেষ পরিক্রমণ করিতেছে, প্রতিভার গোধূলিছায়া 


ইতিপূর্বেই দেখা গিয়াছে । যে শোকাবহ হুর্গতি ও ছুরবস্থার মধ্যে তিনি নাটকখানি 
রচনা! করিয়াছিলেন তাহ! চিন্তা করিলে ইহার দোষগুণ আলোচনা করিতে প্রবৃত্তি হয় 
না।১ তখন তাহার চোখের সম্মুখে নামিয়াছে কাল রজনীর ভয়াল অন্ধকার--“আসিছে 
রজনী, নাহি যার মুখে কথ। বায়ু রূপ স্বরে, নাহি যার কেশ পাশে তার! রূপ মণি।” সেই 
অন্ধকারের ছায়া “মায়াকাননে'র সর্বত্রই বিরাজমান। “কৃষ্ণকুমারী” নাটকও বিষাদময় ও 
বিয়োগাত্তক। কিন্তু “কৃষ্ধকুমারী”তে বিষাদের বিপুদ্ধে আত্মপ্রতিষ্ঠার একটি সবল সংগ্রামের 
রূপ পরিস্ফুট হইয়াছে, সেখানে দ্বিধাবিভক্ত সত্তার নিটুর সংঘাতে একটি উত্তেজনাকর 
গতিবেগ. সঞ্চারিত হইয়াছে । সেই সংগ্রাম ও সংঘাতের কোন চিহ্ন “মায়াকাননে” নাই 1২ 
ইহাতে; দৈবঘটিত ছুঃখের কাছে নিরুপায় মানুষের প্রতিবাদহীন আত্মসমর্পণই বণিত 
হইয়াছে । সেজন্য ইহাতে জ্বালা ও উত্তেজনার পরিবর্তে আছে কেবল কান্না ও কাতরত৷ । 
ট্র্যাজেডির গৌরবচূড়া লুটাইয়। পড়িয়াছে কারুণ্যের কলধারায়। "শর্িষ্ঠা” হইতে “কৃষ্চকুমারী”তে 
তাহার নাট্যপ্রতিভার ক্রমোচ্চ উধের্বে আরোহণ আমর! দেখিয়াছি, কিন্তু “কৃষ্ণকুমারী+র 
পর আবার সেই প্রতিভার নিন্পপথে অবরোহণ হইয়াছে । সেজন্য “শমিষ্টা'র দোষ 
পুনরায় “মায়াকাননে”র মধ্যে স্পষ্ট হইয়া উঠিয়াছে, অর্থাৎ ,সেই সংস্কৃত নাটকের 
অন্ুকৃতি__ সংলাপের দীর্ঘতা, ভাবের কৃত্রিম আতিশয্য,। কাব্যমিশ্রিত কারুণ্যের 
একাধিপত্য--সব আবার যেন মাঁইকেলের জীর্ণ হস্তের ক্লাস্ত লেখনীকে পাইয়া 
বসিয়াছে। 

মায়াকানন” একটানা! ছুঃখের কাহিনী, কিন্তু এই ছুঃখের সঙ্গত কারণ ও 
অনিবার্ধতা সম্বন্ধে আমাদের মনে এক অবিশ্বাস জাগিয়। থাকে । অজয় ও ইন্দুমতীর 
প্রেম নিতান্তই কল্পনাচারী ; উভয়ের মধ্যে কোন গভীর প্রেমের দৃশ্ত আমর! দেখি 
নাই, শুধু কেবল দর্শন ও শ্রবণেই এই প্রেমের উৎপত্তি ও অধিষ্ঠান। সেজন্য 
তাহাদের বিলাপ ও খেদৌক্তি অনেকটা কৃত্রিম ও প্রাণহীণ মনে হয়। আর একটি 
কথা । উভয়ের প্রেমে ছুমিবাঁর প্রতিবন্ধক কৌথায়? আমর৷ কেবল জানিয়াছি দেবতার! 
তাহাদের বিবাহ চাঁন না এবং অজয়ের মৃতপিতাঁর আত্মাও ইহার প্রতিকূল। অথচ 
সজয় ও ইন্দুমতীর মিলন না হওয়! সত্বেও তো! উহাদের চরম ভাগ্য-বিপর্যয় ঘটিয়াছে। 
মিলন হইলে ইহা অপেক্ষা গুরুতর আর কি সর্বনাশ ঘটিতে পারিত? প্রকৃতপক্ষে 
যাহার! তাহাদের সর্বাপেক্ষ। হিতাকাজ্ষী তীহারাই তাহাদের সর্বাপেক্ষা ক্ষতিকারী হইয়াছেন । 


১। “নিজের বিষাদময় জীবনের প্রতিবিত্বপাতত করিয়াই তিনি ন্বরচিত গ্রন্থ সম্পূর্ণ করিয়াছেন 
স্জীবন চরিত-_যোগীন্ নাথ বনু 


২। “মাক্নাকাননে”র ট্রাজেডি নিষ্ষরণ শোকাবহ এবং মধুনুদনের জীবনে যেমন এখানেও তেষনি 
নায়কনায়িকীর সব আশ। ভরস। নিঃশেষে চুকিয়! গিয়া ববনিক। পতন হইয়াছে ।' 
| বাঙ্গাল! সাহিত্যের ইতিহাস, ২য় 'খ৩---৪৯ 


৬০ বাংল! নাটকের ইতিছাঃ 


তাহারা হইতেছেন মন্ত্রী ও অরুন্ধতী । ষড়যন্ত্র করিয়া ধূমকেতুর কাছে দূত প্রেরণ ন! করিলে 
ব্যাপার এতদুর গড়াইত না। নাটকথানির যথেষ্ট নাটকীয় সম্ভাবনা ছিল, কিন্ত 
দৈবনির্ভরতা ও সংস্কত নাটকের প্রতি আম্গত্যের ফলে সেই সম্তভাবন| সম্পূর্ণ ব্যর্থ 
হইয়। গিয়াছে । তবে নাট্যরচনার এই অসিদ্ধির মধ্য দিয়াও কিন্তু কবিমাঁনসের একটি 
রূপ আমাদের কাছে পরিষ্ফুট হইয়া উঠে এবং তাহা হইতেছে এই যে, মাইকেল 
জীবনের প্রান্তভাগে আসিয়া ছুঃইখবাদী, দৈবনির্ভরশীল, ভারতীয় ভাবমগ্র শ্রীমধুস্থদন 
হুইয়! পড়িয়াছিলেন। 


প্রহসন 


মধুহুদনের নাটকের দোষ ত্রুটির উল্লেখ আমরা করিয়াছি । কিন্তু তাহার প্রহসন 
প্র সব দৌফক্রট হইতে আশ্চর্য ভাবে মুক্ত। (প্রহসন দুইখানা মধুহুদনের শ্রেষ্ঠ নাট্য 
প্রাতিভার অবিস্মরণীয় কীতিরূপে বিদ্যমান রহিয়াছে । বাংলায় যে ২।১ জন শ্রেষ্ঠ প্রহসন 
রচয়িতা জঙ্গিয়া্ছেন মাইকেল তাহাদের মধ্যে অন্যতম । আমাদের ছুর্ভাগ্য, তিনি 
ছুইখানার বেশি প্রহসন লিখেন নাই। যদি লিখিতেন তবে প্রহসনকার রূপে তিনি 
দীনবন্ধু মিত্র ও অমৃতলাল বন্ুর স্তাঁয় খ্যাতি অন করিতেন। মধুস্থদনের প্রহসনগুলিকে 
বাংলা সাহিত্যের আদ্িতম প্রহসন বলা যাঁয়। কারণ তাহার পূর্বে প্রহসন লেখ৷ 
হইলেও বর্তমানে তাহা পাওয়া যায় না।১ প্রহসন লিখিতে তিনি রাজা প্রতাপচন্ত্র ও 
রাজা ঈশ্বরচন্দ্র দ্বারা অনুপ্রাণিত হইয়াঁছিলেন বটে, কিন্তু তিনি প্রহসন ছুইখান! লিখিবার 
জন্য পরে আক্ষেপ করিয়াছিলেন ।২ তাঁহার সমসাময়িক লৌকেরাঁও এই বই ছুইখানাঁকে 
বেশি ভালে! চোখে দেখে নই । মধুস্দনের ব্যঙ্গ সার্থক ও মর্মম্পর্শী হুইয়াছিল। 
সেন্সন্ঠ তখনকার সমাজ তাহার গুহসনকে উপেক্ষা করিতে পারে নাই। «একেই কি 
বলে সভ্যতা” তখনকার যুবক সমাজের দোষ ও অনাচার লইয়া লিখিত হইয়াছিল বলিয়া 
সেই যুবক সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি পাইক পাড়ার রাজাদিগকে প্র প্রহসনের অভিনয় 
বন্ধ করিতে বাধ্য করিয়৷ যথেষ্ট সৎসাহসের (1) পরিচয় দিয়াছিলেন। . মধুস্দনের 
অন্ঠতর প্রহসন বন্ধ করিবার জন্ত কোনো লোক আসিয়াছিলেন কিন! জানা যাঁয় না বটে, 
তবে রাজাঘ্বয় বিরক্ত হইয়া উভয় প্রহসনের অভিনয় বন্ধ করিয়া সমাজের প্রাচীন ও 
নবীন উভয় সম্প্রদায়ের মান রক্ষা করিয়াছিলেন ৷ প্রহসনের অভিনয় না হওয়াতে 
নিরাশ হইয়! মধুুদন তাহার বন্ধু কেশব বাবুকে এক পত্রে লিখিয়াছিলেন__ 


১) 77686755 175715606 %% 7610018 1/5670426 0 2, 1 ১5, 0233 


২। রাজনারায়ণ বন্ধুকে লিখিত পত্র--'জীবন চরিত", পৃঃ ৩১*-৩১২ 


মাইকেল মধুসুদন ূ ৬১ 


?1170, ড০ 01:0152 105 41165 0106 21000 0176 12555 31৫ 0) 0185 
2 81001121 00101 0015 00065 1 508]] 0018568] 361)8911 2104 7016 00905 
1) 13216 8100. (0131107650১ 


আমরা কল্পনা করিতে পারি যে সমসাময়িক সমাঁজের দ্বারা এভাবে নিরুৎসাহিত 
না হইলে হয়তো তিনি আরও প্রহপন লিখিতেন। (প্রহস্নুলেখক সমৃ'জের, দোষ, 


ক্রটি, ব্যাধি ও গ্লানি অনাবৃত করিয়া সমাজের মহছুপকীর সাধন করেন বটে, কিন্ত 
সম্জের কাছে তিনি চিরকালই নিন্দা ও তিরঙ্কার লাভ করেন। শুনা যায় জগঘিখ্যাত 


প্রহসনকার মলিয়ের সমসাময়িক সমাজে এতোই অপ্রিয় ছিলেন যে মৃত্যুর পরে তাহার 
সৎকার করিবার লোক জুটে নাই। 

মধুসদনের প্রহসন আলোচন৷ প্রসঙ্গে আমাদের স্বভাবতই এই প্রশ্ন মনে হয় 
যে, বাহার দৃষ্টি ও কল্পনা সব সময়ে গুরু ও গম্ভীর ভাবছ্যোতক বিষয়ে লিপ্ত থাকিত 
তাহার দ্বার কি ভাবে এই রকম লঘু» তরল ও হান্টোদ্দীপক প্রহসন লেখা সম্ভব 
হইল? যিনি হোমার ও মিলটনে ডুবিয়া থাকিতেন তাহার কষ্ণকুমারী” ও “মেঘনাদ 
বধ” লেখা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, কিন্তু তিনি যে বাস্তব সমাজে মিশিয়৷ এভাবে হাসিতে 
ও হাঁসাইতে পারেন তাহা বিস্ময়কর নয় কি? বিস্ময়কর হইলেও মধুস্থদনের পক্ষে 
ইহা সম্পূর্ণ সহজ ও স্ুসাধ্য হইয়াছিল । 

মধুস্ছদনের নাটকের আলোচনা! কালে আমর! দেখিয়াছি যে সংস্কতের প্রভাব 
হইতে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা সত্বেও তাহার নাটকের মধ্যে যথেষ্ট সংস্কৃত প্রভাব রহিয়াছে । 
কিন্ত তাহার প্রহসনের মধ্যে সংস্কৃত প্রভাব মোটেই নাই। প্রহসনের সংলাপ নাটকের 
ন্যায় মোটেই আড়ষ্ট ও কৃত্রিম নয়। সাধারণের ব্যবহৃত ভাষায় সংলাপ লিখিত হইয়াছে 
বলিয়। ইহা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নাটকীয় হইয়াছে । 

সামাজিক প্রহসন রচনা করিতে গেলে সমাজ ও ইহার বিভিন্ন সমস্ত! সম্বন্ধে প্রত্যক্ষ 

জ্ঞান ও গভীর অন্তর্দৃষ্টি থাক! দরকার । মধুহুদনের প্রহসনগুলি পড়িলে মনে হয় যে, তিনি 
মধুকরী কল্পনা”য় মগ্ন থাকিলেও তাহার সমাজ সম্বন্ধে বাস্তব জ্ঞানের মোটেই অভাব 
ছিল ন|।। ( মধুস্থদন ছুইথান। প্রহসনে সমাজের ছুই বিপরীত ধারার চিত্র অংকন করিয়ী- 
ছেন। উনবিংশ শতাব্ীর মধ্যভাগে পাশ্টাত্যবিলাসী হিয়ং বেল, যেমন সমাজকে ধ্বস 
কারিবার জন্য সমুদ্যত হইয়াছিল, রক্ষণশীল প্রাচীন সম্প্রদায় তেমনি ভিত্তিহীন প্রথা ও 
যুক্তিহীন আচাঁরসমূহ সযত্বে রক্ষা করিতে চষ্টাপ্করিয়াছিল। এই ছুই, সম্প্রদায়ের রাস্তি, 
মূঢ়তা৷ ও কাপট্য মধুস্ছদন পরম উপভোগ্যভাবে আমাদের সম্মুখে উপস্থাপিত করিয়াছেন। 
তিনি স্বয়ং “ইয়ংবে্গল। ভুক্ত হইয়াও যেমন এই সম্প্রদায়ের অধঃপতিত অবস্থার কথ! মুক্তকণে 
বলিতে দ্বিধা করেন নাই, তেমনি তাহার বিপক্ষ প্রাচীন সম্প্রদায়ের কথা বলিতেও 


৯। কেশবচন্ত্র গঙ্গোপাধ্যায়ের পঞ-“জীবন চরিত'__পরিশিষ্ট--পৃঃ ৩৭৭ 


৬২. বাংল। নাটকের ইতিহাস 


অতিরঞ্জন কিংবা অতিকথন দোঁষে দোষী হন নাই; প্রকৃত শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকের ন্যায় 
নিরপেক্ষ, অপক্ষপাতী দৃষ্টি লইয়া শ্বয়ং দূরসংস্থিত হইয়া! 'হান্তে, কৌতুকে, ব্যঙে, 
সহান্ুভৃতিতে তাহার চরিত্রগুলিকে উজ্জল করিয়া তুলিয়াছেন।' সমসাময়িক সমাজকে 
তিনি আঘাত করিয়াছেন বটে, কিন্ত সেই আঘাতের পিছনে গ্াহার করণার্্জ হৃদয়ের 
সন্ধান পাঁইতে দেরি হয় না। প্রহসন দুইখানা উদ্দেশ্যমূলক "হইলেও সেই উদ্দেশ্য কখনো 
প্রধান হইয়া ঘটন। কিংবা চরিত্রকে খর্ব করে.নাই । নাটকীয় রস আদি হইতে অস্ত পর্যন্ত 
বইথানাকে উপভোগ্য ও আনন্দদায়ক করিয় রাখিয়াছে। । 

॥ একেই কি বলে সভ্যতা (১৮৬) ॥ মাত্র দুই অংকে প্রহসনথানি বিভক্ত । প্রহসন 
সমাজের কোন বিশেষ দ্রিক আলোকিত করিয়! ইহার দৌষ রতি অন্ত করিয়া দে দেয়, 
মানব জীবনের র কোনো! গভীর.কি মৌলিক্‌ সমস্তার আলোচনা ইহার উদ্দেস্ত নহে । সেজন্য 
এই জাতীয় নাটকের মধ্যে ধিস্ৃতভাবে চরিত্র বিশ্লেষণ সম্ভব নয়ন" মান্নষের জীবনের 
কয়েকটা অসঙ্গত, ভ্রান্ত মুহূর্তকে ধরিয়। রাখিবার চেষ্টা ইহাতে কর! হয়। ঘটনার ছন্দে 
ও ভাবের বিরোধিতায় তাম্তরস স্বজন করিতে পারিলেই ইহার উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয়; সেইজন্য 
প্রহসন আকারে সাধারণত ছোট হয়। কিন্তু ছোট হইলেও মাইকেল কয়েকটা খণ্ড চিত্র 
আকিয়৷ তৎকাঁলিক সমাজের এক নিখু'ত পরিচয় দিয়াছেন । 

«একেই কি বলে সভ্যতা*র প্রথম অংকের প্রথম গর্ভাংকে নবকুমাঁর এবং কালীনাথের 
কথোপকথনে তখনকার সমাজের “ইয়ং-বেঙ্গলে+র প্রকৃতি অনেকথানি ব্যক্ত হইয়াছে । মছ্- 
পানে আসক্তি প্রথম হইতেই বণিত হইয়াছে। নবকুমার এবং কাঁলীনাথ ইংরাজী 
শিক্ষাপ্রাপ্ত, কুসংস্কার-বজিত সভ্য যুবক। ন্থৃতরাং তাহাদের পক্ষে মদ খাওয়াটা সভ্যতার 
অঙ্গ বিশেষ । রাজনারায়ণ বস্থু তখনকার 'যুবকদের সম্বন্ধে লিখিয়াছেন, “তাহারা মনে 
করিতেন, এক গ্লাস মদ খাঁওয়া কুসংস্কারের উপর জয়লাভ করা” ।৯ এই মদ্পানাসক্তি 
এরূপ ব্যাপকভাবে এক দুরারোগ্য ব্যাধিরূপে সমাজের মধ্যে সংক্রামিত হয় যে প্যারীচরণ 
সরকার প্রভৃতি স্থরাপান নিবারণী আন্দৌলন করিয়া সমাজকে ব্যাধিমুক্ত করিতে চেষ্টা 
করিয়াছিলেন ।২ মাঁইকেলের পরে দীনবন্ধু মিত্র এবং অন্ান্ত গ্রহসনকার এ সমস্যা নিয়া 
প্রহসন ' রচনা করিয়াছেন। কালীনাথ ও নবকুমারের কথোপকথনে প্রচুর ইংরাজী শব্দের 
ব্যবহার দেখিয়া আমরা তখনকার যুবকগণের কথাবার্তীর বিকৃত ধরণের পরিচয় পাঁই। 
«আমার 19061 555065155 কিছু, 01961] হওয়াতে ০০০6০:কে ০৪1 করা গেল, 
তিনি একটা 7017551০ দিলেন । 1১51০ বেশ অপারেট করেছিল, €০01, 1152 (10055 
1)00101) হলো! অন্য কিছু 10601 বোধ কচ্চেন”।৩ এক্সপ হাস্তাম্পদ বাক্য তখনকার 


১ সেকাল ও একাল--রাঁজনারায়ণ বন্ধ, পৃঃ২৭ | . 
২। র্লামতম্ু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গ সমাজ, পৃঃ ৩৫ ৯-৩৬০ | 
৩। সেকাল ও একাল--রাজনারায়ণ বন, পৃঃ ৫ৎ। 


মাইকেল মধুসূদন . চি 
লোকে ব্যবহার করিত। (কালীনাথ শ্রীমন্তবদ্গীত। এবং গীতগোবিন্দের নাম পর্যন্ত অর্ধ 
নাই, ইহাতে স্বদেণীয় ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি তৎকালিক যুবক সমাজের বীতরাগ প্রকাশ 
পাঁইতেছে। স্বয়ং মধুস্থদন “পাশ্চাত্য কবিদিগের সহিত তুলনায় আমাদিগের দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ 
কবিদিগকেও তিনি অতি নিয়স্থানীয় মনে করিতেন ।?১ স্থতরাং কালীনাথের পক্ষে গীতা 
কিংবা গীতগোবিন্দ সম্বন্ধে অজ্ঞতা অস্বাভাবিক নহে। প্রথম গর্ভাংকে যেভাবে কালীনাথ ও 
নবকুমীর পরম ভক্তিমান বৈষ্ণব সাজিয়া বৃদ্ধ কর্তামহাশয়কে প্রতারণা করিয়াছে তাহাতে 
ুপ্সিপ্ধ হাস্যরসের মধ্যদিয়! একদিকে কর্তীমহাশয়ের সারল্য ও বাৎসল্য ও অন্যদিকে যুবকন্য়ের 
চরিত্রের আত্যস্তিক হীনতা প্রকাশিত হইয়াছে (এই অভিনব চাতুরী না খেলিলে 
নবকুমারের পক্ষে ₹ বাহিরে বাহিরে গিয়। জ্ঞানত্রঙ্গিণী সভায়, রা ও বারবনিতার পবিত্র সংসর্গে 
জঞানবিতরণ কর! সম্ভব হইত না। : 

_ ইদ্িতীয় গর্ভাংকে বায়ঙ্কোপের চিত্রের ন্যায় কতকগুলি চিত্র দ্রুত আমাদের দৃষ্টির 
সম্মুখ দিয়! অগ্রসর হয়। বিমুঢ়, সরলপ্রাণ, বিপর্যস্ত বাবাজী ) পরিহাসরঙ্গিণী বারবিসাসিনী ; 
সন্ত্রস্ত চৌকিদার ও অর্থলোলুপ সাঁরজেন্ট ; পুববংগীয় মুসলমান মুটিয়াদয় ; নর্তকী নিতিনী 
ও পয়োধরী প্রভৃতি মিশিয়া এক বিচিত্র রস ও কৌতুকের স্থুষ্টি করিয়াছে । নিখুত 
বাস্তবতায় ও বর্ণনার সরসতায় চিত্রগুলি উজ্জ্বল ও প্রীণবান হইয়। উঠিয়াছে। কুচিবাগীশ 
সমালোচক হয়তে৷ রূঢ় বাস্তবের কঠোর আঘাত সহ্‌ করিতে ন! পারিয়। মাইকেলের নিন্দা 
করিধেন, কিন্তু সত্যসৃদ্ধিতন্থ পাঠিক_ তাহার নিতীক্‌_ সত্যপ্রিয়তার্‌ প্রশংসা... করিবেন। 
বারবনিতরী-পল্লীর বিচ্ছিন্ন চিত্রগুলি মূল কাহিনীর সহিত অসংলগ্ন নয়, কারণ এই রকম 
পল্লীর কুৎসিত আবহাওয়ার মধ্যে জ্ঞান-তরঙ্গিণী সভার আলোক-প্রাপ্ত সভ্যবৃন্দের সমাগম 
হইবে। মধুস্থদনের ব্যঙ্গ বিশেষ ভাবে লক্ষণীয়। 

দ্বিতীয় অংকের প্রথম গর্তাংকে জ্ঞান্তরঙ্গিণী সভার অধিবেশন। সবপ্রকার 
কুসংস্কার ও নীতি ধর্ম পরিত্যাগ করিতে সভ্যগণ সোৎসাহে বদ্বপরিকর। ডিরোজিওর 
শিল্বৃন্দ যে ভাবে মাণিকতলায় সিংহবাবুদের উদ্যানে “একাডেমির অধিবেশনে অগ্রিগর্ভ 
বক্তৃতার স্ফুলিংগ ছড়াইয়। বাংলার সমাজ ও ধর্ম ধ্বংস করিতে চাহিতেন এখানে যেন 
তাহারই পুনরভিনয় চলিতেছে । কিন্তু এই সমস্ত বাক্‌সবস্ব বিদ্রোহী লক্ষ্য 
যে সমাজ-সংশোধন কিংবা ধর্ম-সংস্কার নয়, পরন্ত ইন্দ্রিয়বিলাসী, বাসী, উচ্ছৃঙ্খল এপিকিউনীয 
নীতিহ্‌ ইহাদের সার কথা নবকুমারের উক্তির মধ্য দিয় মাইকেল ইহা ব্যক্ত করিয়াছেন_ 
“ইন দি্ুনম অফ ক্রীডম লেট য়াস এঞ্জয় আওয়ারসেল্ভস্, ৷ যাহারা, অজ্ঞান-অন্ধকাঁর দূর 
করিয়। জ্ঞানের উজ্জল আলোক দ্বারা সর্বময় স্বাধীনতার পথ আলোকিত করিতে চাহিতে- 
ছিল, তাহারাই আবার তুচ্ছ কারণে নিজেদের মধ্যে বিবাদে মন্ত, স্বাধীনতার বাহিনী স্থরা 
ও গণিকাদেবীর উপাসক -মাইকেল সরস ব্যঙ্গের আঘাত দিয়া ইহাঁদিগকে জিজ্ঞাস! 





-১। 'জীবনচরিত', পৃঃ ৪৫ 


৬৪ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


করিয়াছেন একেই কি বলে সভ্যতা? মাইকেলের পরিহাস-রসিকতার চূড়ান্ত দৃষ্টাস্ত তখন 
দেখ গিয়াছে, যখন নবকুমীর ইংরাজী গাঁলিতে বিষম তুদ্ধ হইয়৷ বলিতেছে__ 

'্রীইফলীং ?-_ও আমাকে লায়ার বললে আবার ট্রাইফলিং? . ও আমাকে বাংল 
ক'রে বললে না কেন? ও আমাকে মিথ্যাবাদী বললে না কেন? তাতে কোন্‌ শাল! 
রাগতো৷ ? কিন্ত লায়ার--এ কি বরদীস্ত হয়? ॥ 

শেষ দৃশ্তে মদৌন্মত্ত নবকুমাঁর গৃহে ফিরিয়। আসিয়া যে কুৎসিত ব্যাপারের অভিনয় 
করিয়াছিল তাহার পূর্বে নাট্যকার অন্তঃপুরিকা৷ রমণীদের একটা লঘু চিত্র অংকন করিয়াছেন। 
তাসখেলারত, রসিরুতাপ্রিয় রমণীগণ তৎকালীন নারীসমাজের প্রকৃতি চমৎকার ভাবে 
প্রকাশ করিয়াছে। এই রমণীয় চিত্রদ্বারা আমাদের মনকে তরল করিবার পরক্ষণেই 
নাট্যকার প্রমন্ত নরকুমারের উন্মত্ত ক্রিয়াকলাপ দ্বারা আমাদিগকে আঘাত করিয়া 
আমাদের মন ভারাক্রান্ত করিয়া তুলিয়াছেন। তখনকার “ইয়ং বেঙ্গুল” মাতাপিতা ও তগ্নী 
প্রভৃতির সম্মুথে নবকুমারের এই বীভৎস আচরণ স্থস্থিরভাবে প্রত্যক্ষ করিলে অনেক 
শিক্ষালীভ করিতেন সন্দেহ নাই । এই দৃশ্ঠ দর্শনে অন্থস্তি, লজ্জা ও দ্বণীয় যেমন শরীর 
মন আকুঞ্চিত হইয়া উঠে, তেমনি সমাজের গুরুতর সমস্াঁয় প্রতি অব্যর্থভাবে পাঠকের দৃষ্টি 
নিবন্ধ হয়। মধুস্দনের ক্ষমতা অসীম বটে। “একেই কি বলে সত্যতা” মাত্র একদিনের 
ঘটন! লইয়া লিখিত হইয়াছে । কিন্তু একদিনের কাহিনীর মধ্যে মাইকেল কৌনে। বিষয় 
বর্ণন করিতে বাকি রাখেন নাই । অথচ তিনি অতিরিক্ত বিংবা অপ্রয়োজনীয় একটা বাক্যও 
উচ্চারণ করেন নাই । খণ্ড চিত্রগুলি পরস্পরের সহিত সংলগ্ন হইয়া এক অথণ্ড রসের সৃষ্টি 
করিয়াছে। চরিত্রগুলির সংলাপ সম্পূর্ণ বাস্তব ও স্বাতাবিক হইয়াছে বলিয়া! তাহার 
চিত্রাংকন এমন সার্থক হইয়াছে । রামগতি ন্ঠায়রত্ব মহাশয় বলাছেন--“আমাদিগের 
বিবেচনায় এরূপ প্রকাতির যতগুলি পুস্তক হইয়াছে, তন্মধ্যে এইখানি সর্বোৎকৃষ্ট” । ইহা 
অত্যুক্তি নয়। ) ...% 

পূর্বতন প্রহসনখাঁনি যে বখসর লিখিত হইয়াছিল সেই বৎসরেই ( ১৮৬০ খুষ্টাব্ব ) 
মধুস্দনের অন্তর প্রহসন - 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রে” প্রকাশিত হয়। প্রহসনখানির 
অদ্ভুত নাম রাজ! ঈশ্বরচন্দ্র দিয়াছিলেন। নাম যেমন অদ্ভুত, ইহার বিষয়বস্তও তেমনি 
বিস্ময়জনক। (একেই কি বলে সভ্যতা'র মধ্যে মধুস্দনের ব্যাঙ্গের লক্ষ্য ছিল “ইয়ং বেঙ্গল 
এবং এই প্রহসনখানির মধ্যে তাঁহার উপহাসের পাত্র ভণ্ড» দুষ্কৃতকারী, অত্যাচারী প্রাচীন 
সমাজ। পূর্ব প্রহসনখানি যেমন নবীন সমাজের বিরাগের কারণ হইয়াছিল, এখানিও 
তেমনি প্রাচীন সম্প্রদায়ের দ্বারা নিন্দিত হইয়াছিল। রামগতি ন্তায়রত্ব মহাশয় সেকারণেষু 
এই প্রহসনথানির তীব্র নিন্দা করিয়াছেন। ন্টায়রত্ব মহাশয় মুসলমান রমণীর প্রতি তক্ত- 
প্রসাদের আসক্তি অস্বাভাবিক বলিয়া! মন্তব্য করিয়াছেন । কিন্তু বস্ততপক্ষে এই রকমের 
লোক তখনকার সমাজে প্ররুতই ছিল। যোগীন্দ্রনাথ বস্থ লিখিয়াছেন - “মধুস্থদনের সময়ে 
এই শ্রেণীর কতকগুলি লোকের কলিকাতার ও তাহার নিকটবর্তী গল্লীসমাজে বিশেষ 


মাইকেল মবুসুদন ্ 
প্রতিপত্তি ছিল। বাহিরে মালাজপ, কিন্তু গোপনে পরম্থাপহরণ, সামাজিক প্রতিপত্তির 
জন্ভচ দেব-মন্দির প্রতিষ্ঠা, কিন্ত গোপনে বারাঙন! প্রতিপালন, তীাহাদিগের অনেকের 
নিত্য ব্রত ছিল।১ 
(একেই কি বলে সভ্যতা'র ঘটনাস্থল নবীন সমাজের লীলাক্ষেত্র কলিকাতা সহর, 
কিন্তু “বুড়ো শালিকের ঘাঁড়ে রে” সংযোগস্থল প্রবীণ সমাজের গীঠস্থান পল্লী গ্রম। পল্লীগ্রাম 
ত্যাগ করিলেও মাইকেল তাহার কথ! জীবনের কোনে! দিনই ভূলেন নাই,“চতুর্দশ পদাবলীতে 
ইহাঁর যথেষ্ট প্রমাণ রহিয়াছে । "বুড়ো শাঁলিকের ঘাড়ে রে"?+র মধ্যেও তিনি পল্লীজীবনের 
কথা স্নেহ. ও সহানুভূতির সহিত বর্ণন করিয়াছেন। পল্লীগ্রামের হানিফ, ফতেমা, ভগী, 
পঞ্চীর মতো দরিদ্র, দুঃস্থ ও উপক্রত লোকের কথা তিনি ভুলিতে পারেন নাই। 
গ্রবলের অত্যাচারে পীড়িত দূর্বল লোকের চরিত্র তিনিই প্রথম দরদের সঙ্গে অংকন 
করেন। তীহার পরে দীনবন্ধু মিত্র» বঙ্গিমচন্ত্র প্রভৃতি সাহিত্যিক ইহাদের কথ! সাহিত্যে 
আলোচন৷ করিয়াছেন । বিধর্মী, সমাজদ্রেহী মাইকেলের পক্ষে পল্লীমাজের দুর্গত 
লোকের চরিত্র সম্বন্ধে আগ্রহবান হওয়! বিন্ময়কর বটে । ৰ 
শ্রীযুক্ত দেবেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ১৩৫১ সনের আষাঢ় মাসের 'প্রবাসী”তে মিধুহদন 
ও ফরাসী সাহিত্য” সম্বন্ধে একটা উপাদেয় প্রবন্ধ লিখিয়াছিলেন ; তাহাতে তিনি 
দেখাইয়াছেন যে, “বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রে?” মলিয়েরের “তারতুফ” (18:0865 ) 
নাটকের প্রভাবে লিখিত । তাঁরতুফ ন।মে এক ব্যক্তি ধর্মের.ভাণ করিয়া অর্গ* (028০2 ) 
নামে সরলপ্রাণ লোকের সংসারে প্রবেশ করে, এবং তাহার পত্বীকে ফুসলাইতে চেষ্টা 
করে। বাধাপ্রাপ্ত হইয়া সে এ&ঁ পরিবারের অনিষ্ট করিতে প্রয়াস পায়। ইহাই 
মোটামুটি “তারতুফে”র বনিত বিষয়বস্তু । সুতরাং দেখা যাইতেছে যে তারতুফের সহিত 
মাইকেলের গ্রহনের জায়গায় জায়গায় মিল .থাকিলেও অবিকল সাদৃশ্ন নাই। 
মাইকেল মলিয়ের হইতে ভাব গ্রহণ করিয়াছিলেন কিনা তাহা জোর করিয়া বলা 
যায না। 
প্রথম প্রহমনখানির ন্যায় দ্বিতীয় প্রহসনথানিও দুই অংক ও চার গর্তাংকে সমাপ্ত। 
“একেই কি বলে সভ্যতা”র মধ্যে সমগ্র ইয়ং বেঙ্গল সম|জ মাইকেলের বর্ণনীয় বিষয়। 
আর এই প্রহসনখানিতে ভক্তপ্রসাদই তাহার প্রধান লক্ষ্য । কাহিনী যেন তাহার চরিত্র 
বিকাশ করিবার জন্য গড়িয়া! উঠিয়াছে। সেইজন্য কাহিনীর সহিত অসংলগ্ন ভক্ত ও 
আনন্দের কথাবার্তার মধ্য দিয়া ভক্তগ্রসাদের চরিত্র ফুটাইয়৷ তুলিতে চেষ্টা করা 
কইয়াছে। ৃ 


টি “জীবনচরিত,--পৃঃ ৩৪৪ 


৯ 


৬৬ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


ভক্তপ্রসাদ বড়ে। হু"সিয়ার জমিদার, গরীব চাষীর খাজনার এক পয়স! মাপ 
তাহার কাছে চলিবে না, এক কান! কড়ি সাহায্যও তাঁহার কাছে কেহ পাইবে না। অথচ 
তিনি পরম রসিক ব্যক্তি, পরক্ত্রীর রূপ বর্ণন। শুনিলে তিনি ভাববিহ্বল হইয়া ভারতচন্্ 
প্রভৃতির কবিতা আবৃত্তি করেন। হানিফের স্ত্রী ফতিমার কাছে কুটনি পাঁঠাইয়! তিনি 
তাহার সাফল্য সম্বন্ধে নিশ্চিন্ত হইয়াছেন, বৃদ্ধ চেহারাকে সাজসজ্জার দ্বার যথাসম্ভব 
নব্য যুবার মতো বানাইয়া তিনি অভিসারে যাইবার জন্য উদ্যত হইয়াছেন। যিনি সর্ববিধ 
কুকর্মে রত তিনিই আবার পুত্রের ধর্ম/চরণের প্রতি বিশেষ সতর্বদৃষ্টি, হিন্দুধর্ম সংরক্ষণে 
নিদারুণ দুশ্শিন্তাগ্রন্ত। যিনি মুসলমানী স্ত্রী-সংসর্গে প্রবৃত্ত মুসলমান-স্পৃষ্ট. খাদ্য খাওয়া 
সম্বন্ধে তাহারই বিষম আতঙ্ক । মধুস্দনের ব্যংগ এইখানে সর্বাপেক্ষা তীত্র ও সার্থক 
হইয়াছে। শেষ দৃষ্তে ভক্তপ্রসাঁদ তাহার প্রাপ্য শাস্তি পাইয়াছে, এবং তাহার মতিরও 
পরিবর্তন হইয়াছে । ভক্তপ্রসাদের যপরোনাস্তি শান্তি দিয়া নাট্যকার ০০০ 
[950০5 দেখাইয়াছেন বটে, কিন্তু মাত্রাধিক্যের জন্য দৃশ্যটা একটু অসংগত হইয়াছে। 
একেই কি বলে সভ্যতা”র মধ্যে নবকুমারের চরিত্র শেষ পর্যন্ত পরিবর্তন না করিয়া 
মধুহ্ছদন আমাদের মনকে বেশি করিয়া বিচলিত করিয়াছেন । “বুড়ো শালিকে'র মধ্যেও 
যদি তিনি ভক্তপ্রসাদের চরিত্র শেষ পর্যন্ত অন্যভাবে না দেখাইতেন তাহা হইলে সমস্যার 
আঘাত অধিকতর মর্মস্পশাঁ হইত। প্রহসনের শেষে যে ব্যংগাত্মক কবিতাটী যোজিত 
হইয়াছে তাহা কৌতুকপূর্ণ, হইলেও ভক্তপ্রসাদের মুখ দিয়া বহির হওয়াতে 
অন্বাভাবিক হইয়াছে । 

গরীব চাষী হানিফের চরিত্র চমত্কারভাবে ফুটিয়াছে। হানিফ দারিজ্র্য-পীড়িত, 
ছুঃখগ্রন্ত, কিন্তু কোপনম্বভাব ও গৌয়ার। তবে শেষ দৃশ্যে ভক্তপ্রসাদের সঙ্গে তাহার 
শ্লেষাত্মক' কথাগুলি অস্বাভাবিক হইয়াছে । চিন্তা-রেশ ভারাক্রান্ত, সরল-ন্বভাব ব্রাহ্মণ 
বাচম্পতির চরিত্র ভক্তপ্রসাদের ধিপরীতধর্মী হইয়া নাট্যকারের অপক্ষপাতী দৃষ্টির পরিচয় 
দিতেছে। অন্যান্থ চরিত্রগুলিও (5৪ হিসাবে চমতকাররূপে ফুটিয়াছে। কুটনী পু"টার 
চরিত্র মাইকেল প্রাচীন বাংল! সমাজ হইতে গ্রহণ করিয়াছেন। পল্লীগীতিকা প্রভৃতিতে 
অনুরূপ চরিত্র যথেষ্ট পাওয়া যায়। শাইলকের ভূত্য লনসিলট গোব্বে।র (1,901০6106 
০০০৮০) স্তায় ভক্তপ্রসাদের অনুচর গদা প্রহসনের মধ্যে হাস্তরদ জোগাইয়াছে। 
তাহ।র “আজ্ঞে- এ- এ- এ? অভিনয়ের সময় দর্শকগণকে প্রচুর আনন্দ দিতে 
পারে। 

(*একেই কি বলে সভ্যতা'র মধ্যে মধুস্থদন যতোখানি সুক্ম নাট্যকলা-বেোধ» ও 
নিখুত পরিপাটি রচনার পরিচয় দিয়াছেন তাহার দ্বিতীয় প্রহসনখানার মধ্যে ততো! পারেন 
নাই। সেজন্য জায়গায় জায়গায় রচনার স্বতঃস্ফুতির অভাব লক্ষ্য কর! যায়। রাম ও গদ|র 
কথোপকথন হাস্যরসাত্মক হইলেও অবান্তর । শেষ দৃশ্যের রত্রিমতার কথা পূর্বেই আলোচিত 
হইয়াছে । কিন্তু সামান্য €দ1ষ থাকিলেও সামাজিক প্রহসনন্ধপে “বুড়ে শালিকের ঘাড়ে 


মাইকেল মনুসুদন ৬" 


রেশ'র মূল্য অনেকখানি, কোন কোন দিক দিয়! দ্বিতীয় প্রহসনথানার মূল্য ও প্রভাব 
প্রথমধানার অপেক্ষাঁও অধিক । দৃষ্টাত্তত্বরূপ বলা যাইতে পারে মাইকেল গ্রামের মুখ” 
অশিক্ষিত কৃষক পরিবারের মুখে গ্রাম্যভাষ৷ দিয়া! এঁ সব চরিত্রের স্বাভাবিকতা রক্ষ। 
করিয়াছেন। শুধু তাহাই নহে ; হানিফ মুসলমান, সেজন্য প্রহসনকাঁর তাহার কথায় প্রচুর 
মুসলমানী শব্দ ( আরবী, পারসী ) ব্যবহার করিয়াছেন। ইহাতে চরিত্রটা অ'রে। বেশি 
সরল ও উপভোগ্য হইয়াছে । মাইকেলের পরে তাহার প্রভাবপুষ্ট নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্র 
এবং অন্ঠান্ঠ অনেকে প্রাদেশিক ভাষায় নাটকীয় চরিত্রের কথোপকথন লিখিয়াছেন.। 
আলোচ্য প্রহসনখানির আর একটা বৈশিষ্ট্য এই যে, ইহার মধ্যে মধুস্থদন ছড়া, প্রবাদ এবং 
কবিতার অংশ সন্নিবেশ করিয়৷ ইহাকে সরস ও কৌতুকপূর্ণ করিয়া তুলিয়াছেন। , অবশ্ঠ 
তাহার পূর্বেই রামনারায়ণের 'কুলীন কুলসর্বন্ব” নাটকে এই সব দেখা যায় বটে, কিন্তু 
পাশ্চাত্য-প্রভাবলালিত মধুস্দনের পক্ষে প্রাচীন ছড়া, পাঁচালী প্রভৃতির প্রভাব পরিস্ফুট কর! 
আশ্চ্জনক সন্দেহ নাই । ছড়া, প্রবাদ, কবিতা প্রভৃতিতে নাটক যে কতো রংগরসপূর্ণ 
হইয়া উঠে দীনবন্ধুর নাটক প্রভৃতি তাহার দৃষ্টাস্তস্থল। 


দীনবন্ধু জিত 
(ক) ভূমিক৷ 


গ্রহণ করিয়াও যেমন এলিজাবেথীয় সময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ নাঁট্যকাররূপে বিখ্যাত হইয়াছেন, 
দীনবন্ধু মিত্রও তেমনি অগ্রবর্তী পথিকুৎ মধুন্ুদনের হ্বারা অশেষ ভাবে প্রভাবিত হইয়াও- 
মাইকেলী-যুগের শ্রেষ্ঠতম নাট্যকাররূপে অবিসংবাদিত ভাবে স্বীরুত হইয়াছেন। দীনবন্ধুর 
নাটকে, বিশেষত তাহার প্রহসনে মধুস্থদনের সুস্পষ্ট প্রভাব সুপরিশ্ষুট । কিন্ত কাব্যধর্নী 
মাইকেলের নাটকে যে সৃষ্টি গ্রভাতী অরুণছটায় আঁতাঁসময় হইন্লা উঠিয়াছে, দীদবগ্ুর 
নাঁটকে তাহাই সুদূর-প্রসারী প্রদীপ্ত আলোকে পরিপতি লাভ করিয়াছে। দীনঘন্ধু দাংলা 
নাট্য-সাহিত্যকে যে উত্তঙ্গ প্রতিষ্ঠায় উন্নীত কন্ধিয়া৷ দেন, তাহার পরবর্তী নাট্যকারবৃন্দ 
তাহা! অপেক্ষা খুব উচ্চতর স্থানে পৌছিতে পারেন নাই। নাট্যকারের পক্ষে যে বস্তুনিষ্ঠ 
অপক্ষপাতী, সমাঁজ-সচেতন ও মানবচরিত্র-আস্তজ-দৃষ্টি থাকা একান্ত প্রয়োজনীয় বাংলার 
অধিকাংশ নাটক-রচয়িতার মধ্যে তাহা নাই। সেজন্য আমাদে: নাট্যসাহিত্য বহু উচ্চ 
ও মহৎ 16৪র বন্ায় প্লাবিত হইয়াছে বটে, নাটককারদের মন ও মত অনেক নাটকেই 
সুস্পষ্ট হইয়া উঠিয়াছে তাহাঁও সত্য, কিন্ত খাঁটি নাটক খুব বেশি রচিত হয় নাই। 
আমাদের দেশের ভাবাবেগ-চালিত পাঠক সমাজও প্ররূত কতীর যোগ্য মর্যাদা! দিতে তৎপর 
হয় নাই। ইহা আমাদের পক্ষে গৌরবের কথা নহে। শৈশবে গন্ধরনারায়ণ মিত্রকে১ 
তাহার সহাধ্যায়ী বন্ধুগণ “গন্ধ” “গন্ধ” বলিয়া উপহাস করিত । ক্ষুব্ধ, অপমানিত বালকের” 
মাতার ন্েহণীল, সাত্বন!-বাক্য সম্পূর্ণ সত্যে পরিণত হইয়াছে । গন্ধরনারায়ণের গন্ধে 
একদিন নাট্যামোদী সমাঁজ বিভোর হইয়াছিল, এবং ভবিষ্যতের রসজ্ঞজ সমা'জও তাহা 
দ্বার! স্ুরভিত হইবে এই অনুমান অসঙ্গত নহে। 

বহ্কিমচন্দ্র দীনবন্ধুর জীবনাতে লিখিয়াছেন, “অনেক সময়েই তাহাকে মুতিমান হাস্যরস 
বলিয়া মনে হইত । দেখা গিয়াছে যে অনেকে “আর হাসিতে পারে না” বলিয়া তাহার নিকট 
হইতে পলায়ন করিয়াছে।” দীনবন্ধুর নাটক ও প্রহসনগুলি তাহার শ্বভাব-জাত পরিহাস- 
পটুতার অবিস্মরণীয় সাক্ষ্য হইয়! রহিয়াছে । শেক্সপীয়ারের প্রথম যুগের কমেডি 4০ 
ড/1565 ০£ ৬৬177050125 '009296 ০৫ ০15 প্রভৃতি নাটকের স্তায় অজভ্র-উচ্ছ্ুসিত 
হাশ্তরসই দীনবন্ধুর নাটকের প্রাণ। মনে হয় আমাদের অসঙ্গত, অসংলগ্ন, বিভ্রান্ত, 
বিপর্যস্ত জীবনে যেখানে যতকিছু হাস্যরসের টুকরা পড়িয়া রহিয়াছে তাহাই তাহার সুক্ষ 
দৃষ্টিতে ধৃত হইয়! নাটকের মধ্যে প্রকাশিত হইয়াছে। তাহার নাটকে ব্যঙ্গ আছে, আঘাতও 


১। দীনবন্ধুর প্রকৃতনাম গন্কর্নারায়ণ, নিজের নামে বিরক্ত হইরা তিনি দীনবন্ধু এই নাম গ্রহণ করেন । 


দীনবন্ধু দিতে ৬৯ 
আছে, কিনতু বাসের তীক্ষিতা ও কাহার নির্মমতা সরহলেই কি হাশতরলের অনাবিল 
প্রবাহে ভাসিয়৷ গিয়াছে । ইংরাজী সাহিত্যের বেন জমসন .( 8০7. [019501) ) স্থুইফট 
(8০16) প্রভৃতির ন্যায় ভ্রান্ত, পতিত মানব জীবনকে নিষ্করুণ আঘাত করিয়া তিনি 
তাঁহার মানববিদ্বেষ প্রকাশ করেন নাই । শ্রেষ্ঠ হান্তরসিক লেখকেরা মানব সমাজের ভ্রান্তি 
লন ও বিপর্যয় দেখাইয়া দেন বটে, কিন্ত তাহাদের উদ্দেশ নিছক হাম্রস সৃষ্টি করা, 
এবং এই হাস্যরসের মধ্য দিয়! তাহার! পাঠক কিংবা দর্শকের মন আর্দু করিয়া মানুষের 
প্রতি দরদী ও সহাম্ভৃতিশীল করিয়া তোলেন। কার্লাইলের উক্তি সম্বন্ধে কোনে! সঙ্গোহ 
উঠে না যে, “বু 00000 15 5100205 10) 006 55215 5106. 0£ (1017765. হান্ত- 
রসিক লেখক যাঁহাদিগকে ব্যঙ্গ বিজ্রপ করেন তাহাঁরাই আবার তাহার কাছে সর্বাগেক্ষা 
প্রিয়, তাহাদের জন্য লেখকের সব কিছু স্নেহ ও ক্ষমা সঞ্চিত হইয়া থাকে। ফ্রান্সের 
বিখ্যাত নাট্যকার মলিয়েরের আদর্শ নায়ক হয়তে। আালসেসটিস ( 416658165 ), যে 
পথিবীকে ও মানব-সমাজকে অকৃত্রিম, অকপট ও পরিশোধিত দেখিতে চাহিয়াছিল, কিন্ত 
যাহার! কৃত্রিম, ভণ্ড, অন্দার তাহাদের নিয়াই মলিয়েরের চিত্ত উল্লসিত থাঁকিত।১ 
আমাদের দীনবন্ধুও যখন কোনে! আদর্শ, সৎ ও মহৎ চরিত্র অংকন করিতে গিয়াছেন 
তখন তাহার মন সায় দিয়াছে বটে, কিন্তু চিত্ত সাড়া দেয় নাই। কিন্তু যখন জঙধর, 
নিমর্টাদ, রামমাণিক্য, কেনারাম, রাজীব, বগলা, বিন্দুবাসিনী প্রভৃতি তাহার নাটকের 
আসরে আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে তখনই তিনি তাহাদের সহিত মিশিয়া বিচিত্র রঙ্গরসে 
জমিয়া গিয়াছেন। 

-/হাস্তরসের উৎপত্তি বিশ্লেষণ করিয়। দেখ! যায়, যাহা কিছু সঙ্গত, স্বাভাবিক ও 
"সাধারণ জীবনধারার ব্যতিক্রম করিয়াছে তাহাহ হাশ্যরসের কারণ হইয়া উঠিয়াছে। 
সেজন্য উদ্তট ঘটনা ও অদ্ভুত চরিত্রই সাধারণত হাম্তরস জোগাইয়৷ থাকে। দীনবন্ধুর 
প্রহসনগুলি বিচার করিলে তাহার সৃষ্ট ঘটনাগুলিকে অপ্রাকৃত ও চরিত্রগুলি অতিরঞ্জিত 
মনে হইতে পারে। কিন্তু অসাঁধারণত। ও অতিরঞ্জন প্রহলনের পক্ষে দৌষাবহ নহে। 
সুক্ষ লেখনীর সংযত চালনায় ঈষদ্স্ফুরিত ওট্ঠাধরের মৃদুহাস্ত সঞ্জাত হইতে পারে বটে, কিন্ত 
সশব অনর্গল হান্ত উদ্রেক করিতে হইলে হা'স্তরসিককে সম্ভব অসম্ভবের সীমারেখ। তৃলিয়৷ 
একটু বাড়াইয়৷ বলিতে হয়। হয়তে৷ আধুনিক সভ্যতাভিমানী হুক্রুচি-সম্পন্ন যুগে আকর্ণ- 
বিসারিত উচ্চ হাসি অভদ্রোচিত বলিয়। নিন্দিত হইতে পারে, কিন্ত দীনবন্ধু সময়ে এইক্প 
হাসি হাসিত ও ভালোবাসিত। 

১ হাস্যরস অনেক স্থলেই অশ্লীলতার ছার কলুষিত হইয়াছে এই অভিযোগ, 
আজকাল অনেকে করিয়। থাকেন। হাস্তরসবোধ সমাজের মধ্যে চিরকাল একরূপ থাকে 


১) 15 10905 [80287 হইতে প্রকাশিত মসিয়েয়ের নাটকাষলীর প্রথম থে ঢু, 0. 0698 
এর ভূমিক। জ্রষ্টব্য । - 


৩ বাংল নাটকের ইতিহাস 


না। যে পাঠক রবীন্দ্রনাথের “চিরকুমার সভ।” ও “শেষরক্ষার” বুদ্ধিমাঞ্জিত হাস্যরস তৃপ্ত 
হইবেন, তিনি বগল! ও বিন্দুবাসিনীর কলহে বিরক্ত হইবেন এবং পেচোর মার রসিকতা 
অঙ্গীল মনে করিবেন সন্দেহ নাই; কিন্ত দীনবন্ধুর সমসাময়িক সমাজ এসবের মধ্যে 
অজন্র আনন্দের উপাদান ব্যতীত দূষণীয় কিছুই লক্ষ্য করিত না। দীনবন্ধুর নাটকের 
শ্লীদতা অঙ্গীলত। বিচার করিবার পৃবে ইহা স্মরণ রাখ! কর্তব্য যে তৎকালীন সমীজই এই 
রকম অঙ্লীল ও নিন্দিতরুচিসম্পন্ন ছিল |২/কবি ভারতচন্দ্রের সময় হইতে উনবিংশ শতাব্দীর 
পূর্বার্ধ পর্যস্ত রাজনৈতিক. অব্যবস্থা ও সামাজিক বিশৃঙ্খল দেশের মনকে বিকৃত ও 
কলুষিত করিয়! দিয়াছিল। এই শিথিল, স্বৈরাচারী মনোবৃত্তি সাহিত্যের মধ্য দিয়াও 
আত্মপ্রকাশ করিয়াছিল। তখনকার টগ্সা, পাঁচালী, খেউড প্রভৃতি সাহিত্য তাহারই সাক্ষ্য 
দিতেছে । বিরুতরসলিগ্,, সমাজ এ সব সাহিত্য হইতে প্রচুর আনন্দ লাভ করিত। 
পাশ্চাত্য ভাবধারা! এই দেশে প্রবেশ করিবার পরে সমাজের নৈতিক উন্নতি বিশেষ হইল 
না। তফাতের মধ্যে ইহাই হইল যে, অশিক্ষিত গ্রাম্য লোকের মধ্যে যে রুচিহীনত। ও 
নীতিশৈথিল্য ছিল এখন তাহাই সভ্যতার ছত্মবেশে ভূষিত হইয়! শিক্ষিত ও সহরবাসী 
লোকের মধ্যে আশ্রয় নিল। দীনবন্ধু প্রাচ্য ও প্রতীচ্য এই দুই ভাবধারার সন্ধিক্ষণে 
জন্মিয়াছিলেন। সেজন্য “বিয়ে পাগল বুড়ো” ও “জীমাই বারিকে”্র মধ্যে বিকৃত গ্রাম্য- 
সমাজের কথা আছে, আবার “সধবার একাদশী”র মধ্যে কলুধিত ইয়ংবেঙ্গলের পরিচয়ও 
আছে। দীনবন্ধু হাস্যরসের রসাল কাচের মধ্য দিয়। তাহার সমসাময়িক বাস্তব সমাজের 
দিকে দৃষ্টিপাত করিয়াছিলেন, সেজন্যই তাহার সাহিত্য স্থানে স্থানে অশ্লীল মনে হয়।১ 
২গরেক্কিমচন্ত্র দীনবন্ধুর বিচিত্র অভিজ্ঞতার বর্ণনা গ্রসঙে লিখিয়াছেন যে, “লোকের সঙ্গ 
মিশিবার তাহার অসাধারণ শক্তি ছিল, তিনি আহ্লাদ পূর্বক সকল শ্রেণীর সঙ্গে মিশিতেন ।, 
দীনবন্ধু সরকারের উচ্ছপদস্থ রাঁজকর্মচারী ছিলেন; সুতরাং তিনি উচ্চস্থানীয় ভদ্রব্যর্ভি- 
গণের সহিত মিশিবেন ইহা স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত, কিন্ত সমাজের নিম্ন, অশিক্ষিত ও 
অবজ্ছাত পুরুষ ও নারী সম্বন্ধে তাহার সুগভীর অভিজ্ঞতা থাকা বিন্ময়জনক বলিয়! মনে 
হয়। কিন্তু বিন্ময়জনক হইলেও ইহ! সত্য যে শেষোক্ত শ্রেণীর নর নারী সম্বন্ধে তাহার 
পরিচয় ঘনিষ্ঠতর ছিল 1৯/নীলকর-নিপীড়িত অনহায় দুঃস্থ রায়ত, পরমুখাপেক্ষী দয়াপ্রার্থী 
ঘর জামাই, মূর্খ হাস্তাম্পদ ডেপুটি, রঙ্গরস-রতা পরিচারিকা, গুলীখোর বয়াটে যুবক-_ 
কেহই দীনবন্ধুর দৃষ্টি এড়াতে পারে নাই। ইহীদের ভাবভঙ্গি; স্বভাব চরিত্র তিনি যেমন 
দেখিয়াছিলেন, সুদক্ষ শিল্পীর মত তাহাই তিনি আকিয়! গিয়াছেন। ইহারা গুল, লজ্জাম্পদ, 
ভদ্রসমাজের ব্যতিক্রম, আদর্শবাদার অনালোচ্য ) কিন্ত ইহাদের কথ। লিখিতে গিয়। দীনবন্ধুর 
এতোটুকু সংকোচ ও ছিধা নাই, ইহাদের অশোভন নগ্রতা ঢাঁকিবার বিন্দুমাত্র প্রয়াস 


১। ডাঃ সুকুমার সেনের মত প্রণিধানঘোগ্য--“দীনবন্ধুর কৌতুকরস যে স্থানে স্থানে গ্রাম্য তাহ! 
্বীকার্ধ, কিন্তু কুত্রাপি জঙ্গীল নয়'-_-বাংল। সাহিত্যের ইতিহাস (ছ্িতীয় খওড ) পৃঃ ১০৬ 


দীনবন্ধু মত ৭১ 
নাই, ইহাদের ভালে! করিয়! দেখাইবার কোনে! আত্যস্তিক আগ্রহ তাহার নাই। নিরক্ষর 
চাষীদের ভাষাটুকু পর্যন্ত তিনি সযত্বে ব্যবহার করিয়াছেন, অন্তর্বত্বী পতিব্রতা রমণীর প্রতি 
পাঁষণ্ড অত্যাচারের দৃশ্য নিঃসঙ্কৌচে দেখাইয়াছেন। নর্ধাপরায়ণা কলহরতা সপত্বীদের 
প্রতিটী অঙ্লীল গালাগালি লিখিয়া গিয়াছেন, মদ ও গুলীর কদর্য মত্ত! নিধিকার চিত্তে 
িগন্থাপিত করিয়াছেন। যদ্দি তিনি কেবল রুচি ও শাল'নতার দিকে লক্ষ্য করিতেন 
তাহা হইলে ইহাদের চরিত্র কখনো যথার্থ ও সম্পূর্ণ হইত না। বঙ্ষিমচন্দ্রের কথায় 
বলিতে হয়-_-“রুচির মুখ রক্ষা করিতে গেলে, ছেঁড়া তোরাপ, কাটা আদুরী, ভাঙ্গা! নিমা'দ 
আমরা পাঁইতাঁম।” কিন্তু রুচি অপেক্ষা বাস্তবতার মূল্য তিনি অনেক বেশী মনে করিয়া 
ছিলেন । ' দীনবন্ধু বাংল সাহিত্যে বাস্তবতার অগ্রদ্দত, এবং বোধ হয় তিনিই বাংলা 
সাহিত্যের সর্বপ্রধান বাস্তবব।দী লেখক । 

প্রহসন সাধারণত সমাজের কোঁনেো। বিকাঁর কিংব। সামাজিক চরিত্রের কোনে। 
অসংগতি দেখাইবার জন্য লিখিত হয় । দীনবন্ধু প্রহসনেও সমাজের নান! দোষক্রটির 
উল্লেখ আছে, সম[জ-শোধনের উদ্দেশ্য তাহাকেও চালিত করিয়াছে । “নীলদর্পণে*র 
কথা ছাড়িয়া দিলীম, কারণ এ নাটকে নাট্যকারের ক্রোধ, ছুঃখ ও সহানুভূতি এতো 
প্রবল হইয়! উঠিয়াছে যে তিনি তাহার স্বভাবস্থলভ ঠা্্টা করিতে পর্যন্ত তুলিয়া 
গিয়াছেন। কিন্তু অন্যান্স নাটক ও প্রহসনে তিনি সমাজের অহিত সাধনে রত 
বিবাহেচ্ছু বৃদ্ধ, মগ্য ও গণিকাসন্ত “ইয়ং বেংগল+, অসহায় রমণীর সর্বনাশে প্রবৃত্ত 
সমাজের উচ্চতম ব্যক্তি প্রভৃতিকে ব।ংগবিদ্রপ করিয়াছেন। কিন্তু তাঁহার লেখার মধ্যে 
উপহাঁসের আঘাত অপেক্ষা পরিহ1সের মৃদু হন্তাঁবলেপই বেশি ফুটিয়া উঠিয়াছে। মনে হয় 
নাট্যকাঁর যেন রঙের পিচকারী দিয় সমাজের চতুর্দিকে ইতস্তত তরল রঙ ছড়াইয়া দিয়াছেন, 
এবং যাহারাই রঞ্জিত হইয়াছে তাহারা যেন লজ্জিত, অগ্রতিভ ও হান্তাম্পদ হইয়া পলায়ন 
করিতেছে । লোকে লাঠির বাড়ি সহ করিতে পারে কিন্তু লোকের মধ্যে ' লজ্জা সহ 
করিতে পাঁরে না। দীনবন্ধুর নাটকে সমাজের যেরূপ চেতন! হইয়াছে, প্রত্যেককে একশো 
ঘা! চাবুক মীরিলে বৌধ হয় তাঁহা হইত ন|। 
দ্ীনবন্ধুর দুর্বলতা ধর পড়িগ়াছে যখন তিনি হাঁসি বন্ধ করিয়। গম্ভীর, হইয়াছেন । 
দীনবন্ধুকে হাঁসিলেই স্বাভাবিক ও মনোহর দেখায়, হাঁসি বন্ধ করিলেই তাহাকে 
অন্বাভাবিক ও অগ্রীতিকর মনে হয়। মাঝে মাঝে যেখানে তিনি ধর্মকথা ও নীতিকথ৷ 
শুনাইতে গিয়াছেন, সেখানে নিজেই তিনি হাল্যাম্পদ হইয়। উঠিয়াছেন। নিরক্ষর, 
গ্রাম্য সমাজের মধ্যে নবীনমাঁধৰ যখন অতি বিশ্তদ্ধ সংস্কৃত ভাষায় নীলকরদের ধিক্কার - 
দেয়, অথবা! চাষীদের জন্য ছুঃখ বোধ করে তখন তাহ। আমাদের অন্তর স্পর্শ করে 
নণ, ললিতের অতি উদ্দার ও মহৎ বাক্যাবলী অপেক্ষা উৎকলবাঁসী ভূত্যের উড়িয়া ভাষা 
আমাদের কাছে অধিকতর গ্রীতিকর্‌ মনে হয়, বিদুষী লীলাবতীর পালিশ-করা বচন অপেক্ষা 
মাছুরী কিংব! হাবার মার কথা অনেক বেশী ম্বাভাবিক বৌধ হয়। যথনই দীনবন্ধর কোনো 


৭ বাংল নাটকের ইতিহাস 
চরিত্র তত্বকথ! বলিতে আরম্ভ ঝরে তখন মনে হয় বে সে কলের পুতুলের কয়েকটা শেখানো 
কৃত্রিম কথা বলিয়া! যাইতেছে, এ কথার সহিত ধেন তাহার অন্তরের সচল যোগ নাই। 
দীনবন্ধু কাদীমাটির মধ্যে লুটোপুটী করিতে ভালোবাসিতেন, মলয়-সেবিত মধুর কুঞ্জে 
বিহার করিতে যাইয় তাহার অস্বাচ্ছন্দ্য সহজেই প্রকাশ হইয়৷ পড়িত। হৃদয়ের স্থকোমল 
বৃত্তি নিয়া নাটক রচনা করিতে তিনি চেষ্ট। করিয়াছিলেন বটে, কিন্ত যদি না৷ করিতেন 
তাহ। হইলেই বোঁধ হয় ভালো হইত। হয়তে! তিনি ভাবিয়াছিলেন যে নেহাত প্রহসন ও 
হান্তরসের মধ্যে তাহার প্রতিষ্টা স্থায়িত্ব লাভ করিতে পারিবে না। কিন্তু দীনবন্ধু সমাজের 
সুস্থ, স্বাভাবিক ও ভদ্র পাত্রপান্রী নিয়া যে নাটকগুলি লিখিয়াছেন সেইগুলি কৃত্রিম ও 
ক্লাস্তিজনক হইয়া উঠিয়াছে। এসব চরিত্রের প্রেম-অন্রাগ, মিলন-বির' আমাদের 
অন্তর স্পর্শ করিতে পারে না। বঙ্কিমচন্দ্র লিখিয়াছেন যে অভিজ্ঞতার অভাবে তাহার 
এই ধরনের নাটকগুলি প্রাণহীন হইয়৷ পড়িয়াছে। কিন্তু গবর্ণমেণ্টের উচ্চ কর্মচারী, 
সমাজের শীর্যস্থানীয় ব্যক্তি দীনবন্ধু যে-নবীন তপস্থিনী+ ও “লীলাবতী”র বণিত সমাজ 
সম্বন্ধে অজ্ঞ ছিলেন ইহা মনে হয় না। দীনবন্ধু যে সমসাময়িক ব্রাক্ধ আন্দোলনের দ্বার 
প্রভাবাদ্িত হইয়াছিলেন, এবং তিনি ব্রাঙ্ম সমাজের উন্নত, স্ুনীতিমূলক আদর্শ সমর্থন 
করিতেন তাহার পরিচয় “লালাবতী'তে 'আছে, কিন্তু এই সমাজের প্রতি.তাহার সমর্থন ও 
সহানুভূতি থাক৷ সত্বেও তিনি ইহার চিত্র ভালো ভাবে ঝআকিতে পারেন নাই ; ইহার কারণ 
তাহার নাটকীয় কলা-কৌশলের দৈন্ত, অভিজ্ঞতার অভাব নভে । 

দীনবন্ধু নাট্যরচনায় মধুস্থদনকে অগ্কসরণ করিয়াছিলেন, ইহা৷ পূর্বে বলা হইয়াছে। 
মধুস্থদনের নাটক যে কারণে আড় ও-কৃত্রিয় হইয়াছে, দীনবন্ধুর নাটকও সেই কারণে 
অপ্রারত ও প্রাণহীন হইয়াছে । অর্থাৎ মাইকেলের স্তায় তাহার অন্ুবতী নাট্যকারও বাংল৷ 
নাটকে সংস্কৃত আদর্শ অনুকরণ করিয়। নাটককে বিকৃত করিয়৷ ফেলিয়াছেন। দীনবন্ধুর 
কোমল ভাবমূলক নাঁটকগুলিতে সংস্কত প্রভাব বিদ্যমান । মাইকেলের ন্যায় তিনিও সংস্কৃত 
নাটকের অনুকরণে নাটকের মধ্যে গণ্ত ও পপ্ভ উভয় প্রকার কথোপকথন নিবদ্ধ করিয়াছেন । 
সামাজিক নাটকের পাত্রপাত্রীর্দিগকে পদ্ঘে কথাবার্তা বলিতে দেখিলে তাহা নিতান্তই কৃত্রিম 
ও অস্বাভাব্রিক বোধ হয়। দীনবন্ধুর কাব্যপ্রতিভা অত্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল, সেজন্য ঈশ্বর গুপ্ত 
প্রভাবপুষ্ট শিষ্য যখন পয়ার ও ত্রিপদীর তরল ছন্দে বাহুল্যপূর্ণ বর্ণনা করিতে গিয়াছেন, 
তখন তাহা নিতাস্ত একথেয়ে ও. বৈচিত্র্যহীন হইয়। পড়িয়াছে। পাত্রপাত্রীদের সংলাপের 
ভাষাও তাহাদের চরিত্র বিকাঁশনে ক্ষতিকর হইয়াছে । সাধারণ স্ত্রীপুরুষকে দুরূহ সংস্কৃত 
শববহুল ভাষাঁয় নিজেদের মনোভাব প্রকাশ করিবার চেষ্টা করিতে দেখিলে তাহা৷ আমাদের 
সহানুভূতি আকর্ষণ না! করিয়া হাস্যরস উত্তরের করে। নিয়োদ্ধত ৮০০০০ 
উক্ষির যাথার্থ্য প্রমাণ করিবে-_ 

“এই অসীম জবনীধামে লীলাব্তী ব্যতীত আর আমার কেহ নাই; লালাবতী 

আমার সহধর্জিলী হবে এই আশায় জীবিত ছিলাম, আমার আশালতা পল্লবিত হয়েছিল, 


দীর্নবন্ধু মিত্র ৭৩ 


কিন্ত আপনি কি অগুভক্ষণে এই ভবনে পদার্পন করলেন, আমার চিরপালিত আশালতার 
উচ্ছেদ হলো, আমি ছুঘ্তর বিপদবারিধি জলে নিপতিত হলেম ।” 
লীলাবতী, ৫ম অংক, দ্বিতীয় গর্ভাংক। 
দীনবন্ধুর নাটকের নিকর্ষের আর একটী কারণ আতিশষ্য-দোঁষ। সংস্কভ নাটকের 
ধবনি-বৈচিত্র্য ও অর্থগৌরবে দীর্ঘ ভাবোক্তি বিরক্তিজনক হয় না, কিন্তু বাংল! নাটকে 
এরূপ উচ্ছ্বাসপ্রবণতা নিতান্ত অগপ্রাকৃত ও ক্লীন্তিদায়ক মনে হয়। স্থনিপুণ চিত্রকরের 
সংযত তুলিকার মৃছুটানে যে অপূর্ব ব্যঞ্জনাময় চিত্র অংকিত হইতে পারে, আনাড়ির রঙ 
মাথামাখিতে তাহা হয় না। দীনবন্ধু ভাবোচ্ছ্াস বর্ণনায় সংস্কৃত উপমা ও অলংকারের 
বহুল প্রয়োগ করিয়াছেন, তাহাতে কথোপকথন ভারাক্রান্ত হইয়াছে মাত্র, প্রাণবন্ত হয় নাই। 
চরিত্রগুলির মধ্যে বৈচিত্র্য ও দ্বন্দের অভাববশত সেগুলি নিতান্ত নির্জীব হইয়াছে । যে 
সংঘাত নাটকের প্রাণ তাহার অভাবে চরিত্রগুলি নিতাস্ত £9০৭৮ £০০% ধরণের হইয়া 
ছে। 


(খ) প্রহসন 


॥ সধবার একাদশী ( ১৮৬৬) ॥ বঙ্কিমচন্দ্র দীনবন্ধুকে “সধবার একাদশী” প্রকাশ করিতে 
নিষেধ করিয়াছিলেন । আমাদের সৌভাগ্য যে দীনবন্ধু তাহার বন্ধুর নিষেধ গুনেন 
নাই।১ বদ্দি তিনি “সধবার একাঁদণী” প্রকাঁশ না করিতেন, তাহ! হইলে বাংলা সাহিত্যের 
শ্রেষ্ট প্রহনন লোকের অজ্ঞাত থাকিয়৷ যাইত। ইহ! অতুযুক্তি নহে। হাস্তরস যদি প্রহসনের 
প্রাণ” এবং সমাজশোধন তাহার উদ্দেশ্য হইয়! থাকে, তবে “সধবাঁর একা দশী'র শ্রেষ্ঠত্ব সম্বন্ধে 
প্রশ্ন উঠিতে পারে ন।। 

“সধবার একাদশী, তাৎকাঁলিক নব্য সভ্যতার ধ্বজাবাহী “ইয়ংবেংগলে”র নিখুণ্ত 
চিত্র অনুরূপ বিষয় নিয়া লিখিত পূর্ববর্তী প্রহসন “একেই কি বলে সভ্যতা'র সহিত 
আলোচ্য প্রহসনের সাদৃশ্ঠ খুব বেশি। দীনবন্ধু তাঁহার পূর্বস্থরি মধুন্দনের দ্বারা প্রভাবিত 
হইয়াছিলেন ইহা স্থৃম্পষ্ট । ঘটন! সন্নিবেশ, চরিত্রচিত্রণ, এমন কি কথোপকথনে পর্যস্ত এই 
প্রভাব আত্মপ্রকাশ করিয়াছে । কিন্তু “সধবার একাদশী” অধিকতর পূর্ণাংগ প্রহসন। ইহার 
নাটকীয় রস অনেক বেশি ঘনীতৃত, এবং ইহাঁর চরিত্রস্থষ্টির মধ্যে 'শ্রেষ্ঠতর কলানৈপুণ্যের 
পরিচয় স্থপরিস্ফুট । 

*  “সধবার একাদশী”তে উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে পাশ্চাত্য লি নবীন সপরদায়ের 
মধ্যে যেসব দোষ ও অনাচার দেখা গিয়াছিল, এবং তাহার প্রতিকারকল্পে ষে সংস্কার 


১। বন্ষিমচন্ত্র লিখিত দীনবন্ধু জীবনী ত্রষ্টব্য । 
১৩ 


৫ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


আন্দোলনসমূহের উত্তব হইয়াছিল তাহার উল্লেখ কর! হইয়াছে । তখনকার যুবকর্দিগের মধ্যে 
পাশ্চাত্য সমাজলন্ধ যে গুরুতর দোষটী দুরারোগ্য ব্যাধিরূপে সমাজদেহকে পঙ্গু করিয়া 
তৃলিতেছিল তাহাই আলোচ্য প্রহসনখানির মূল বক্তব্য বিষয় অনুচিত এবং অপরিমিত 
মগ্যাসক্তি নিমটাদ, অটলবিহারীর মত অনেক যুবককেই সর্বনীশের তৃতল গহ্বরে নিঃশেষে 
নামাইয়া দিতেছিল। যুবকেরা তখন শিক্ষিত হইতেছিলেন বটে, কিন্তু স্রনীতি ও সদাচার 
অসংকোচে অবজ্ঞ। করিতে মোটেই লজ্জিত হইতেন না। প্রকাশ্তভাবে বারাঙ্গনা-বিলাস 
করিতে তাহারা দূষণীয় কাজ মনে করিতেন না। শুধু যে অটলবিহারীর মত উল্মার্গগামী 
অপরিণামদশাঁ যুবকের মধ্যে এই আসক্তি ছিল তাহা নহে, নকুলেশ্বরের ন্যায় উকীল ও 
কেনারামের স্য।য় ডেপুটীও এই দোষে কলুধিতচরিত্র ছিল। হিন্দুসমাজের এই সব দুর্নীতি 
ও দুষ্বর্মপরায়ণতা'র প্রতিক্রিয়ারূপেই ব্রাঙ্গ-সমাজের অভ্যুদয় হইয়াছিল । নবোখিত ত্রাঙ্গ- 
সমাজ অধ:পতিত, হ্খলিত সমাজকে স্থনীতি, সদাচার ও শালীনতার উপর প্রতিষিত করিতে 
চেষ্টিত হইয়াছিল। প্যারীচরণ সরকার-প্রবতিত স্থুরাপান নিবারণী সভা শিক্ষিত সমাজ 
হইতে স্থরাপান নিবাঁরণে বিশেষ সহায়তা করিয়াছিল, প্রহসনখানার মধ্যে সুরাপান নিবারণী 
সভার উল্লেখও আঁছে।১ যে সব যুবক মাতাঁপিতার দ্বারা যথাসময়ে শাসিত ও শোধিত 
ন! হয় তাহাদের পরিণাম কি রকম শোচনীয় হইয়া! উঠে এই অটলবিহাঁরীর চরিত্রের মধ্যে 
তাহার পরিচয় আছে । মাতাপিতার প্রশ্রয়প্রাপ্ত বিপথগামী যুবকের চিত্র প্যারীষ্ঠাদ মিত্র 
তাহার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ “আঁলালের ঘরের ছুলালে*র মধ্যে অংকন করিয়াছেন । দীনবন্ধুও অটলের 
শ্েহান্ধ মাতার অবিশুষ্যকারিতা দেখাইয়া প্রত্যেক মাতাপিতাকে সতফিত করিতে 
চাহিয়াছেন। ঘটিরাম ডেপুটী তখনকার ডেপুটী সমাজের একটা বাস্তব চরিত্র, ঘটিরামের 
মত মূর্খ ও নিরোধ অনেক ডেপুটী তখন ছিল। বঙ্কিমচন্দ্র বলিতেন যে মুন্সেফ, ডেপুটীদের 
সম্বন্ধে অনেক হাস্জনক গল্প দীনবন্ধুর জানা ছিল, ঘটিরামের হাঁশ্যাম্পদ চরিত্র সেই সব 
গল্লেরই একটা নায়ক। দীনবদ্ধ নিজে খাঁটি পশ্চিমবঙ্গবাসী হইলেও২ পূর্ণবঙ্গের ভীষা তিনি 
যে কতখানি আয়ত্ত করিয়াছিলেন তাহ! তাহারা স্থষ্ট রামমাণিক্য চরিত্রটী হইতে বুঝা ঘায়। 
রামমাণিক্য চরিত্র কাহার অভিজ্ঞতার ব্যাপকতা ও গভীরতা সম্বন্ধে সাক্ষ্য দেয়। শুধু 
তাহার কথাই নঠে, পূর্ববঙ্গবাসীর স্বভাবের বৈশিষ্ট্য এবং অসংগতিও দীনবন্ধু দেখাইতে তুলেন 
ন।'ই। রামমাণিক্যের অনেক কথা অবিন্মরণীয় হইয়া রহিয়াছে, এবং তাহার অনুকরণে বাংল 
সাহিত্যে বহুতর চরিত্র অংকিত হইয়াছে। পূর্ববঙ্গবাসীর প্রতি লেখক অন্তায় করিয়াছেন 
একথা বলা অযৌক্তিক ; কারণ দীনবন্ধুর উদ্দেশ কেবল অবারিত হান্যরস সৃষ্টি করা, আঘাত 


১। “সধবার একাদশী প্রকাশিত হইবার পর প্যারীচরণ সরকার দীনবন্ধুর সহিত দেখা করিয়। 
বলিয়া ছিলেন--“আপনার যে বহি বাহির হইয়াছে, এখন আমাদের সোসাইটা উঠাইয়। দিলেও চলিতে পারে'__ 
ললিতচন্ত্র মি লিখিত “সধবাঁর একাদশী সম্বন্ধে কয়েকটা কথা' প্রবন্ধ দ্ষ্টব) | 

২। কলিক'তার অনতিদুরে নদীর জেলার অন্তঃপ।তী চৌবেড়িয়া গ্রামে দীনবন্ধুর জন্ম 'হয়। 


দীনবন্ধু মিত্র ৭৫ 


করা তাহার ইচ্ছা! নহে। স্বয়ং শেকসপীয়ার পর্যন্ত “4০ ৬71৩৩ ০£ ড/17550:, 
নাটকের মধ্যে 101. 08185 এবং 57 [70619 ঢাড৪]ও ধর বিকৃত কথা নিয়! হান 
পরিহাস করিয়াছেন । 

“সধবার একাদশী”র মধ্যে কোনো জটিল, রহস্যময় কাহিনী নাই। নাটকের চমৎ- 
কারিত্ব কাহিনীর মধ্য দিয়া গড়িয়া উঠে নাই। কোনো আকম্মিক ঘটনা-সন্নিবেশের দ্বারা 
হাস্যরস স্বজন করার চেষ্টা করাও এখানে হয় নাই । নাটকের মধ্যে বিভিন্ন পাত্রপাত্রী ও বিচিত্র 
ঘটনা-সমাবেশের দ্বারা যে নাটকীয় গতি সম্পাদন কর! হয়, এই গ্রহসনে তাহারও অভাব। 
তিনটা অ'কের মধ্যে ছুই এক স্থান ব্যতীত প্রায় সর্বত্রই একই পরিবেশের মধ্যে নাটকীয় 
কথোপকথন সন্গিবেশিত হইয়াছে। কিন্তু তবুও প্রহসনখানি পড়িবার সময় কোনো স্থলেই 
একঘেয়ে লাগে নাঃ এবং দৃশ্য সংযোজনার কোনোখানেই অসংগতি ও অসংলগ্রত। বোধ হয় 
না। ঘটনার বিক্ষিগ্ততা নাই বলিয়! বইখাঁনার নাটকীয় রস জমাট হইয়! উঠিতে পারিয়াছে। 
অথচ সংলাঁপের চমৎকারিত্বের জন্য কাহিনী সর্বত্র সরস ও প্রাণবান হইয়! উঠিয়াছে। 
£সধবার একাদশী'র শ্রেষ্ঠ গুণ ইহার একান্ত বাস্তব ও অপূর্ব ব্যঞ্জনাময় কথাবার্তা । 
নাট্যকারের প্রধান অবলম্বন নাটকের কথোপকথন, ইহার মধ্য দিয়া তাহাকে চরিত্র সৃষ্ট 
করিতে হয় ও ঘটনার চলমানতী। বিধান করিতে হয়। যে জায়গায় যে কথাটী ব্যবহার 
করিতে হয়, ঠিক সেই কথাটার অভাবে নাটকীয় রস ব্যাহত হয়। এই কথা-ব্যবহারে 
দীনবন্ধুর অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল। একমাত্র রবীন্দ্রনাথ ব্যতীত আর কোনে নাট্যকার এই বিষয়ে 
দীনবন্ধুর সমকক্ষ নহেন। নিমঠাদের প্রতিটা শ্লেষাত্মক কথা, প্রাতিটা %1005 বাক্য দর্শকদের 
মন হর্যোদ্বেলিত করিয়া! রাখে । ঘটিরাম ডেপুটী, রামমাঁণিক্য, অটল, ভোল।, কাঞ্চন-- 
প্রত্যেকের কথ! তাহাদের চরিত্র বিকাশনে অন্রাস্তভাবে সাহায্য করিয়াছে । দীনবন্ধু কথাকে 
আবরু দ্বারা ঢাকিয়া তাহার ইজ্জত রক্ষ। করিবার জন্ত ব্যস্ত হন নাই, সেজন্য অশ্ল/লভাষিণী 
বারবনিত, মছ্যপাঁয়ী মাত|ল, বয়াটে আছুরে দুলাল প্রভৃতির মুখ দিয়া সমাজের ভব্যত। ও 
শালীনতার মুখোস খসিয়া পড়িয়াছে, এরং এক অসশ্্ীল, অভদ্র রসম্োতে সমস্ত নাটকীয় 
প্রাঙ্গন প্লাবিত হইয়া পড়িয়াছে । এই কারণে, অনেক রুচিবিলাসী সমালোক দীনবন্ধুর 
নাটকের অশ্লীলতায় বিরক্ত হইয়া উঠিয়াছেন। রামগতি ন্যায়রত্ব মহাশয় , ও ডাক্তার প্রতৃচরণ 
গুহ ঠাকুরতা২ নাট্যকারেকে অনেক কটু কথাও শুনাইয়াছেন। কিন্তু ইহারা ভুল 
করেন যে দীনবন্ধু যেসব চরিত্র বর্ণন করিয়াছেন, তাহাদের মুখ দিয়। ভব্য ও ভদ্র কথা 
বলাইলে তাহা শোভন হইত বটে, কিন্তু নাটকের পক্ষে তাহ! নিতান্ত অস্বাভাবিক হইত 
ইহাও সত্য। প্রহসনথানির মধ্যে ঘটনার অদ্ভুতত্ব দেখা গিয়াছে তৃতীয় অংকের শেষ দৃষ্তে ।' 


১। বাঙগলা ভাব! ও সাহিত্য বিষয়ক্ষ প্রস্তাব । 
২। 02161] & [095610107)61)6 0 7860069]1 1079705. 


ণ বাংল! নাটকের ইতিহাজ 


সেখানে মোগলবেশী অটলবিহারী ও* তাহার কুমুদিনী হরণ-বৃত্তাস্তের মধ্যে হাম্তরস সশব 
আবেগে উচ্দুসিত হইয়। উঠিয়াছে। 

“সধবার একাদণী/র মধ্যে পাশ্চাত্য-সংস্পর্শ-ুষ্ট সাজের দৌষগুলি যথাষথভাবে বর্ধিত 
হইয়াছে । চরিত্রাংকনের নিখুত বাস্তবতায়, এবং অধঃপতিত চরিত্রগুলির শোচনীয় পরিণাম 
দর্শনে আমাঁদের মন ভারাক্রান্ত ও করুণায় আর হইয়া উঠে। কিন্তু নাট্যকার প্রহসনের 
মধ্যে কোনো! স্থলে নীতি ও আদর্শ লইয়! অবথ। বাগাড়ম্বর করেন নাই, এবং শেষে পতিত 
চরিব্রগুলিকে অনুতাপে দগ্ধ করাইয়া তাহাদের নেহাত ভালো মানুষ করিবার চেষ্টাও করেন 
নাই। বরং গ্রন্থের মধ্য যাহারা স্তরাপান নিবারণী সভা ও ব্রাঙ্গদভার নাম করিতে গিয়াছেন 
তাহারাই নিমঠাদের স্থতীব্র ব্যঙ্গের আঘাতে হাস্তাম্পদ হইয়া পড়িয়াছেন। নীতি, সততা ও 
আদর্শের প্রতি দীনবন্ধুর শ্রদ্ধ।! ছিল না একথ। বলিলে ভুল বল! হইবে, কিন্তু জীবনের 
ভালোমন্দ দুইদিক তিনি সমান করুণাঁমাথা! দৃষ্টি দ্বারা দেখিয়াছেন | ওয়াল্ট হুইটম্যানের মত 
তিনিও ভাবিয়াছেন-_ 

“ঢু 2100 1700 005 0০966 ০01 £০9০0915255 01715 

00 1000 0601176 00 0০ 0০ 0০০ ০0৫ আ10০1:2507655 ৪1০.৮১ 

সেইজন্য তাহার চরিত্রগুলি শেষ পর্যন্ত অধপতিত থাকিয়াই তাহাদের জীবনের করুণ 
ট্র্যাজেডি দ্বারা আমাদের মনকে অভিভূত করিয়াছে, অবিরত হাস্ত কৌতুকের মধ্যেও করুণ 
ফন্ত শত সমস্ত প্রহসনখাঁনিকে সিক্ত করিয়! রাখিয়াছে । 

“সধবার একাদশী”র অদ্ধিতীয় শ্রেষ্ঠত্ব একান্তভাবে নির্ভর করিয়'ছে নিমচাদের চরিত্রে 
উপর। অটলবিহারীকে গ্রন্থের নাঁয়ক বলিয়া মনে হইতে পারে বটে, কিন্তু তাহার চরিত্রের 
জঘন্য হীনতা এবং আত্যন্তিক ক্ষুদ্রতা৷ কেবল ঘ্বণা ও বিরক্তি উৎপাদন করে। সে নিথ্বন্ 
হইয়া! সর্বপ্রকার কুকমে রত, কেনো প্রকার পাঁগেই তাঁহার অরুচি নাই। নিমঠাদ অটলের 
ইয়ার হইলেও তাহার প্রবলতর ব্যক্তিত্বের প্রভাব সর্বত্রই অশ্গভূত হয়। তাহার স্থৃতীব ব্যঙ্গ 
বিদ্রুপ, প্রগাঢ় পাণ্ডিত্য, স্থুগভীর অনাসক্ত নিলিপ্তত। সমস্ত প্রহসনখানিকে অভিনব রসে 
উজ্জ্বল করিয়া! রাখিয়াছে । অনেকেই বলেন নিমটাদ মাইকেল মধুস্থদনের চরিত্র অবলম্বনে 
লিখিত হইয়াছে; দীনবন্ধু অবশ্য এ কথা৷ অস্বীকার করিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেন, “মধু 
কি কখনো নিম হয় ?”২ দীনবন্ধু অস্বীকার করিলেও একথা সত্য যে মধুস্থদনের পরোক্ষ 
প্রভাব প্রহসন খানার উপর পড়িয়াছে। মাইকেল “ইয়ংবেলে”র সর্বশ্রেষ্ঠ প্রর্তিনিধি 
ছিলেন, এবং “ইয়ং বেঙ্গলের কোনে চরিত্র অংকন করিতে গেলে মাইকেলের জীবন্ত 
প্রভাব ইহার উপর পড়িবে তাগা অস্বাভাবিক নহে। অপরিমিত মগ্যাসক্তি মধুহদনের 


১) 9008 ০1 1759616--7760065 ০] 07253 05 ৬৪] ড51100877 
২। ললিত চন্দ্র মিত্রের প্রবন্ধ হেষ্টব্য । 


দীনবন্ধু মিত্র ৭৭ 


জীবনের অশান্তির মূলে ছিল» এবং নিমঠাদের জীবনেও এই আঁসক্তি তাহার সর্বনাশ 
করিয়াছে । মধুন্দন প্রগাঢ় পাঁতিত্যসম্পন্ন ও পূরাদস্তর ইংরাজীনবীশ ছিলেন। তিনি 
একদিন ভূদেববাবুকে যে উপদেশ দিয়াছিলেন, সেই কথার প্রতিধ্বনি করিয়াই নিমটাদ 
বলিয়াছে, ণু 1580. [7:05115105 116 [06115198110 0011517, 59০60101ি 1) 
[77811519010 12 80611517870 00621710) 5:051151), মধুস্থদনের জীবনের 
শেষভাগে মনোমোহন বস্থ প্রভৃতির নিকট যে রকম মর্মীস্তিক খেদোক্তি করিতেন নিমঠাদও 
মাছে মাঝে তাহাই করিয়াছে । এই সব সাদৃশ্য বশত নিমাদের উপর মধুস্ছদনের সম্ভাব্য 
প্রভাব একেবারে উড়াইয়া দেওয়া চলে না। নিমটাদ ইয়ার বটে, কিন্তু ভোলার মতে 
নির্বোধ ইয়ারকি সে ম:রে না; জীবন ও জগৎ সম্বন্ধে সুস্ম জ্ঞানলাভর পর সে সব কিছুর 
প্রতি অনাসক্ত ও বিতৃষ্ণ ভইয়া উঠিঘাঁচছে। ন্রথীকথিত ভালো লোক ও সদমুষ্ঠানের 
প্রতি তাহার কোনে! ন্াস্থা নাই। নকুল গোঁকুল প্রভৃতি লোক বাহারা স্ুরাপান 
নিরাঁরিণী সভা প্রভৃতির উদ্যোগী তাহারা থে বস্তত কত অন্তঃসারশৃন্ত ও কপট তা সে 
জানে। সেজন্য তাহাদের সদ্কর্ম-প্রচেষ্টাকে সে নিতান্ত অন্কম্পার চোখে দেখে। 
রামমাঁণিক্য, ঘটিরাম ডেপুটী প্রভৃতি যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার দিক দিয়া কত ছোট 
তাঁহাও সে অনুভব করে, সেজন্য সে তাহাদের নিয়! সর্দদা করুণা-মিশ্রিত কৌতুক 
করে। সে মাতাল এবং উচ্ছৃঙ্খল বটে, কিন্ধ তাহার গভার অনাসক্তি ও সুক্ষ 
আভিজাত্যবোধ তাকে সর্দদ| পাগকম হইতে বিরত রাখে । সে পুণ্যাত্বা নয়, নীতিনিষ্ঠ 
নয়, কিন্তু ইন্ড্রিয়পরাষণতাঁয় তাঙগার আঁসন্তিও নাই । সে কাঞ্চনকে নিয়া ঠাট্টা-তামাসা 
করে, বন্ধুদের নিয়। অশ্লীল ইয়!রকিও মারে বটে, কিন্তু কোনো প্রকার জঘন্য আমোদে 
লিপ্ত হইতে তাঁহাঁকে দেখা যাঁষ নাই । -অটলবিহারী বখন গোঁকুলবাঁবুর স্ত্রীকে তরণ 
করিবার নিতান্ত গহিত প্রস্তাব করিল নিমচাঁদ তখন অসম্মত হইয়া বলিয়াছিল, 
“02872 00 81] 0090 002 17000017062. 1002)? 
৬/1)০ 08123 00 111016১ 18 1701)6. 

নিমঠাদের সহিত বাংলা সাহিত্যে একমাত্র তুলনীয় চরিত্র শরত্চন্দের “ষৌঁড়শী”র 
নায়ক জীবানন্দ। জীবাঁনন্দের মতোই নিমট!দ নিজেকে নিয়া ব্যঙ্গ করিতে ছাড়ে ন!। 
রামধন রাঁয় তাহাকে মারিতেছে, অথচ সে এই মার নিয়া রামধনের সহিত ঠাট্টা করিতেছে, 
ইহা পরম উপভোগ্য ব্যাপার। জীবনের স্বাভাবিক, সঙ্গত ও শান্তিময় ধারা হইতে 
সে দূরে বিচ্ছিন্ন হইয়াছে, সেজন্য নিজের জীবনের প্রতিও তাহার কোনো দরদ ও মম্ব 
নাই। সে অনুভব করে যে তাহাঁর মত জ্ঞানী ও প্রতিভাশালী ব্যক্তিও আজ অবস্থা- 
বৈগুণ্যে দ্বণিত জীবন যাপন করিতে বাধ্য হইয়াছে। তাই বখন তাহার ব্যঙ্গ-কুটিল 
ওষ্দ্বয়ের ভিতর দিয়! ব্যঙ্গ বিভ্রপ বাঁহির না হইয়া হৃদয়ভেদী অন্ৃতাঁপ উদগত হইতে থাকে, 
তখন আমাদের হাঁস্তোজ্জল চক্ষু অশ্রুসিক্ত হইয়া উঠে। সে যখন মর্মাত্তিক নৈরাশ্থপূর্ণ 
উক্তি করিতেছে--. 


৮ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


১০ 5৬/০০০ স্য৪5 1১০৮1 59 18081, [ 1000150 ০6] 
[336 01065 2165 ০:05] 0685. 


তখন মনে হয় দীনবন্ধু কমেডির মধ্যে এক নিতান্ত করুণ ট্র্যাজিক চরিত্র আকিয়াছেন 
এবং তাহার চরিত্র আলোচনা কালে কিং লীয়ারের উক্তি মনে হয়_-“[ ৪0. [0016 511)1)60 
8£811)50 01921) 51101011715, 

£সধবার একাদণী”র আলোচনার উপসংহারে অন্ধেয় অধ্যাপক ডাঃ স্থুকুমার সেনের 
উক্তি সমর্থন করিয়া! উদ্ধত করিতেছি, “শুধু নিমাদের ভূমিকার জন্যই সকল ত্রুটি সবেও 
সধবার একাদশী বাঙ্গালার ছুই চারখানি শ্রেষ্ঠ নাট্যগ্রন্থের অন্যতম বলিয়া চিরদিন 
পরিগণিত হইবে ।”১ ? 

॥ বিয়ে পাগল! বুড়ো ( ১৮৬৬) ॥ “সধবার একাদশী” যেমন “একেই কি বলে সভ্যতা”র 
অনুকরণে লিখিত, “বিয়ে পাগলা বুড়ো+ও তেমনি মাইকেলের অগ্ঠতম প্রহসন বুড়ো 
শলিকের ঘাড়ে রে?,এর দ্বারা প্রভাবিত। ভক্তপ্রসাদের সহিত রাজীবের সাদৃশ্য লক্ষণীয় । 


এই প্রহসনের মধ্যে মাইকেলের ন্তাঁয় দীনবন্ধুও প্রাচীন, সংস্কারবিরোধী সমাজকে উপহাস 
করিয়াছেন । 


“বিয়ে পাগল! বুড়ো” নিথুষ্ত হাশ্রসপ্রধান প্রহসন হিসাবে একটি অপূর্ব স্থষ্টি। 
ইহার মধ্যে ধারালো কথার তীব্র ঝলক নাই, কোনো গভীর সমাজ-সমস্যার সুস্পষ্ট 
ইঙ্গিতও নাই, হাস্যরসের অনর্গল ধারায় প্রহসন থানা আগাগোড়া দ্গিপ্ধ ও মধুর করিয়! 
রাখা হইয়াছে । এই হীস্তরসের মূল কোনে! বিশেষ চরিত্রের মধ্যে নহে। এক ন্থুকল্লিত 
রহস্য-মধুর ষড়যন্ত্রের উপর ইহা নিহিত । সুতরাং এই প্রহসনের কাহিনীই সর্বাপেক্ষা প্রধান 
উল্লেখযোগ্য বিষয় । যে বিয়ে পঁগল! বুড়োকে নিয় ঠাট্রা-বিভ্রপ কর! হইয়াছে, সেইরকম 
ভীমরতি গ্রস্ত, সমাজের সর্বনাশেচ্ছু বৃদ্ধ পূবেও ছিল» এবং এখনও যথেষ্ট আছে। খবরের 
কাগজে এই রকম নবীনম্মন্য বিবাহাথী 'র বিবাহনেশ। এবং রত প্রভৃতির স্যায় যুবক সম্প্রদায়ের 
হাতে যথোচিত নাকাল হওয়ায় কৌতুকপূর্ণ বিবরণ মাঝে মাঝে প্রকাশিত হয়। রাজীবলোচন 
নিজে মৃত্যুপথযাত্রী বুদ্ধ হইয়াও বিবাহ করিবার জন্য উন্মত্ত, অথচ রবীন্দ্রনাথের “নিষ্কৃতি? 
কবিতার পিতার ন্যায় বিধবা কন্যাদের বৈধব্য-রক্ষা ও ব্রহ্মচর্য-পালন বিষয়ে অতিমাত্রায় 
কঠোর ও কর্তব্যপরায়ণ। ছন্্রমতি, দয়াহীন পিতার আশ্রিত কন্তাছয় রামমণি ও গৌর- 
মণির বৈধব্য-ক্লেশ দীনবন্ধু প্রথম অঙ্কের তৃতীয় গর্ভাঙ্কে বর্ণন করিয়াছেন। স্পষ্টত নাট্যকার 
পুণ্যঙ্লোক বিগ্যাসাগর-প্রবর্তিত বিধবাবিবাহ আন্দোলনের পরিপোষণ করিয়াছেন । 
পুরুষ ও নারীর বিবাহ ব্যবস্থায় সমাজ-নীতির নিতাস্ত গঠিত ও অযৌক্তিক তারতম্য লেখক 
চোখে আঙ্গুল দিয়! দেখাইয়াছেন। শরৎচন্ত্র যাহাদের নিয়! উপন্যাস রচনা করিয়! 
অবিসংবাদিত অেষ্টত্ব লাভ করিয়াছেন তাহাদেরই স্থান দরদী নাট্যকারের দ্বারা নাটকের 
মধ্যে সহানুভূতির সহিত নির্দেশিত হইয়াছে । 


১। বাঙ্গাস। সাহিত্যের ইতিহাপ ( ২য় খণ্ড)--ডাঃ সুকুমার সেন, পৃঃ ১০৪ 


দীনবন্ধু মি ৭৯ 
রাঁজীবলোচন “বুড়োশালিকে"র নায়ক ভক্তপ্রসাদের ন্যায় স্থরসিক ও কবিতা-প্রিয়, 
নবীন নায়কের মত সেও স্ত্রীর সহিত আলাপনে অনেক রসাল কবিতা! ও ছড়া আবৃত্তি করিয়া 
অত্যন্ত আত্মপ্রসাদ লাভ করিয়াছে । দীনবন্ধু রাজীব ও তাহার “রতা নাপিত স্ত্রী'র 
সহিত মধুর রস আলাপনের মধ্যে অনেক স্থলে কবিতা ব্যবহার করিয়াছেন। বাল্যবয়সে 
তিনি গুরু ঈশ্বর গুপ্তের কবিতার অনুকরণে যে রকম যমক-অন্ুপ্রাসবহল, তরল পয়াঁর 
ছন্দে কবিতা লিখিতেন এই সব কবিতাও সেইরূপ । কোঁমলভাব-বিশিষ্ট নাটকের মধ্যে 
দীনবন্ধুর কবিতা কৃত্রিম ও অস্বাভাবিক হইয়াছে, কিন্তু আলোচ্য হাস্তরসাত্মক প্রহসনের 
মধ্যে এই রকম কবিতা বিশেষ সার্থক ও চমৎকার হইয়াছে; কারণ নাট্যকার প্রেমবিহবল . 
রাজীব ও তাহার “্ছলনাময়ী স্ত্রী'র আদ্দিরসাত্মক কবিতাধুদ্ধের মধ্যে তাহার ঈপ্সিত 
হাস্তরস ফুটাইয়! তুলিতে সম্পূর্ণ সক্ষম হইয়াছেন। রাজীব তাহার কল্পিত স্ত্রীকে কবিত। 
দ্বার মনোরঞ্জন করিবার যথাসাধ্য চেষ্টা করিতেছে, মাঝে মাঝে কবিতা ভুল করিতেছে, 
অথচ না দমিয়। দ্বিগুণ উৎসাহে আবার চেষ্টা করিতেছে, ইহাই পাঠক ও দর্শকের পক্ষে 
চড়াস্ত হান্তরসের কারণ হইয়াছে । রবীন্দ্রনাথের “ইচ্ছাপূরণ+' গল্পের পুত্র হঠাৎ বৃদ্ধত্ব প্রা 
ছইয়। নিতান্ত বালকের স্তায় আচরণ করিয়া লোকের কাছে হান্তাম্পদ হইয়াছে । রাজীবও 
বিবাহার্ী তরুণ যুবকের ন্যায় নিজেকে নিতান্ত কচি ও কীচা দেখাইতে গিয়া পদে পদে 
€কি রকম বিপর্যয় ও অসঙ্গতি প্রকাশ করিয়া ফেলিয়াছে তাহা দেখাইয়৷ লেখক আমাদিগকে 
যথেষ্ট হাসহিয়াছেন। প্রহসনখানির রস জমিয়া উঠিয়াছে ছুই, বিপরীত ঘটনাপরম্পরায় 
নংঘাঁতে। বুদ্ধিহত রাজীব কিছু ন! জানিয়া ও না বুঝিয়া প্রথম হইতে শেষ পর্যস্ত আত্ম- 
ন্বথে বিভোর হইয়!। চলিয়াছে, অথচ তাহার চারিপার্থ্ে একটা সরস, জটিল যন্ত্র কুগুলীকৃত 
হইয়া তাহাকে জড়াইয়া ধরিয়াছে, এবং বিপর্যস্ত রাজীব শেষে চূড়ান্ত নাজেহাল হইদ।ছে। 
শেষ দৃশ্যে আশাহত, স্তস্তীভূত রাজীবের প্রতি চতুর ঘটক, দুষ্টমতি বালকের! ও রাজীবের 
নব-পরিণীতা পীঁচীর ম! তাহার প্রতি রাশি রাশি কাদা নিক্ষেপ করিয়া তাহার সর্বাঙ্গ পস্কিল 
করিয়া তুলিয়/ছে। বিয়ে পাগল বুড়ো৷ উপহাসের লগুড়াঘাতে যথোচিত শান্তি পাইয়াছে 
আলোচ্য প্রহসনে রতা ও তাহার সাঙ্গোপাঙ্গের রাজীবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র গড়িয়। 
তুলিয়াছে। তাহাদের স্ায় চঞ্চলমতি বালকগণের পক্ষে বৃদ্ধকে নিয়া কৌতুক করা 
তাহাদের স্বভাবনুষায়ী হইয়াছে, বৃদ্ধকে নকল সাঁপ দ্বারা দংশন করানো! এবং শরৎচন্ত্র- 
রমিত “বিষহরির আজ্ঞের অনুরূপ মন্ত্রপাঠ প্রভৃতি এবং বৃদ্ধকে উত্তম মধ্যম প্রহারের মধ্যে 
যথেষ্ট কৌতুকের হৃষ্টি কর! হইয়াছে সন্দেহ নাই । কিন্তু উহাদের মুখ দিয়! আদ্িরসাত্মক 
রুবিত। বলানো৷ একটু অসঙগত হইয়াছে । রামগতি ন্যায়রত্ব মহাশয়ের মত উল্লেখযোগ্য_ 
প্র ছেলেগুলি বাঁসরঘরে শালীশালাজ প্রভৃতি সাজিয়। যে ঘোরতর ইয়ারকি দিয়াছে, প্রৌঢ়। 
যুবতীরাও সকলে সেরূপ পক! ইয়ারকি দিতে পারে ন৷। স্থতরাং সেগুলি কিছু 
অস্বাভারিক হইয়াছে ।”১ 


পপ সপ পা পপ ৮ ্_ -- বত ৮ শিরা শাপীস্াসীপীীশি শি শী শী শিস 





১ বাঙ্গাল! ভাষ। ও সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাব--পৃঃ ২৭১। 


৮০ বাংলা নাটকের ইতিহাজ 


॥ জামাই বারিক (১৮৭২ )॥ দীনবন্ধুর তৃতীয় প্রহসন “জামাই-বারিকে'র কাহিনী একটু 
অদ্ভুত ধরণের । অনেকগুলি জামাইকে একটা ব্যারাকের মধ্যে পুরিয়া রাখা এবং পাশ 
লইয়৷ তাহাদের অন্তঃপুরে যাওয়ার বিষয়গুলি একটু অস্বাভাবিক হইয়াছে বটে, কিন্ত 
প্রহসনের (৪:০6 ) পক্ষে অচলিত ও অতিরঞ্জিত বিষয় দূষণীয় নহে, যদি তাহাতে রসের 
হানি না হইয়া থাকে । ড্রাইডেন (17)75067) ) কমেডি ও প্রহসনের আলোচন। প্রসঙ্গে 
বলিয়াছেন--£1:০6 91)0610691)5 05 ৮5101) ৬1800 18 00005000015 ৪00. 01109671681) 
স্থতরাং দীনবন্ধু যদি হাম্যরসের দ্মকে পাঠক ও শ্রে।তাকে মাতাইয়। তূলিবার জন্য সরস 
অদ্ভুতত্বের সমাবেশ করিয়া থাকেন, তবে তাহাতে প্রহসনের মূল্য কমে নাই। 

“জামাই-বারিক+ সমাজের দুই বাস্তব (এবং করুণ ) সমস্যা অবলম্বনে লিখিত। 
পূর্বে কুলীন জামাইরা নিন্ম ও বেকার অবস্থায় শ্বশুরবডীতে থাকিত। গ্রাসাচ্ছাদনের 
জন্য শ্বশুরের "পরে নির্ভর করিতে হইত বলিয়। তাহার! সকলের কাছে (ভ্ত্রা পধন্ত) নিতাত্ত 
অবজ্ঞেয় এবং উপহাসাস্পদ্ হহত। ইহাদের করুণ অবস্থ। এবং নিরুপায় ছুঃখের কথ 
দরদী নাট্যকার শশ্তরসের অনাবিল স্রোতের মধ্য দিয়। প্রকাশ করিয়াছেন। সপত্বী-ঈর্ষা- 
কলহ-পীড়িত দ্বিপত্ীক স্বামীর সমস্ত। 'প্রচসনে আলোচিভ দ্বিতায় বিষয়। কিছুদিন পূর্বেও 
যখন ছুই কিংবা ততোধিক পত্রীগ্রহণ সম[জের মধ্যে নিন্দনীয় ছিল না, তখন ষ্টশীর্য দৈত্য 
9০118 এবং প্রবল বাত্য। 01791:51901১-এর মধ্যস্থিত বিপদস্থ নাবিকের ন্যায় অনেক বেচারা 
স্বামীর জীবন যে সঙ্কটাঁপন হইয়া উঠিত তাহার দৃষ্টান্ত বিরল নঠে। অবশ্য আধুনিক বাঙালী 
জীবনে উপরিউক্ত ছুই সমস্যাই লুপ্ত হইয়। আসিয়াছে । ব্যক্তিস্বাতন্তর্যবাদী, ুঙ্ষ্মর্যাদা- 
সম্পন্ন আধুনিক জামাতাগণ যেমন পরনির্ভরশীল তহতে অসম্মান বোধ করে, তেমনি 
অর্থ নৈতিক সমশ্ঠাঁপীড়িত ঘুবকগণ একাধিক স্ত্রীর দাঁষন্ব গ্রশ্ণ করিতে নিতান্ত অপছন্দ 
করে। কিন্ত দীনবন্ধুর সমযে এই ছুই সমস্যা সমার্জে একান্ত বাস্তব অ।কারে ছিল, 
সেজন্তই ন্ঠায়রত্ব মহাশয় লিখিয়াছিলেন, “কৌলীন্ত19রোধে বাভারা ঘরজামাই রাখেন বা 
ঘরজামাই থাকেন, এই পুস্তক প'ঠে তাঁহাদের অনেকেরই চৈতন্য হইবার সম্ভাবনা ।১২ 

দীনবন্ধুর প্রহসনগুলির মধ্যে হাস্তরসের প্রাবল্য “(মাই বারিকে; সর্বাপেক্ষা বেশি। 
এই হাস্যরস সুক্মভাবে বুদ্ধিকে নাড়া দেয় না, ইহার খুতি ছন্সবেশে আচ্ছন্নও থাঁকে না, ইহার 
অনাবৃত, অবারিত আঘাত দর্শকগণকে ক্রমাগত কোতুকে নাচাইতে থাকে। বগলা ও 
বিন্দুবাসিনীর কলহ, স্বামীর স্নেহকে ভাগাভাগি করিয়া নেওয়ার ব্যাপার, বেচারা চোরকে 
স্বামী ভাবিয়া উত্তম মধ্যম দেওয়ার দৃশ্য প্রভৃতি কৌতুকের মেল! সৃষ্টি করিয়াছে । জামাই 
বারিকের হতভাগ্য জামাইগুলির জীবনযাপনের ঘে বিচিত্র দৃশ্ঠ নাট্যকার ত্াকিয়াছেন তাহ]ও 
যথেষ্ট হাশ্যরসাত্মক হইয়াছে । নিকর্মা, নেশাখোর জামাইরা অলস সময় আমোদপ্রমোদের 


১1070770650 155501/5 105 0100) 1)75067), 9.9. (1556]511081)9 1101875) 
২। বাক্াল। ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাব, পৃঃ ২৭৩ 


দীনবন্ধু মিত্র ৮১ 
মধ্য দিয়া কাটাইতে চায়। পাশ পাওয়ার ফুষ্ঠিতে মত্ত হইয়া তাহাদের মধ্যে একজন মিসেস 
ম্যালাপ্রপ (7105. 19190109 ) এর নায় ভাষা ব্যবহার করিয়া রামায়ণের যে অদ্ভুত ভান 
( অদ্ভুত রামায়ণ নহে ) করিয়াছে তাহা বিলক্ষণ আনন্দজনক হইয়াছে ৷ হিন্দু ও মুসলমান: 
যুগ্ম ধর্মাত্রিত বিচিত্র মাণিকপীরের গানটা স্থান ও সময়ের সহিত বিশেষভাবে খাপ খাইয়াঁছে 1 
দীনবন্ধু আমাদের সমাজের বিচিত্র প্রাঁণস্পন্দনময় বহুমুখী নাঁড়িগুলির সহিত অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ- 
ভাবে পরিচিত ছিলেন । ঘরোয়া! ঠাঁ্ট। রসিকত। ও ছড়া! প্রবাদদের মধ্যে বাঙালীর প্রাণরস 
কিভাবে শ্ফুর্ত হইয়৷ উঠিয়াছে তাহা তিনি জানিতেন। সেজন্য তাহার প্রহসনের মধ্যে 
নানা লৌকিক ছড়া ও প্রবাদ রংগরসের তালে তালে চরিব্রগুলিকে সজীব করিয়! তুলিয়াছে। 
এই সব সমিল পংক্কিগুলি বাদ দিলে চবিত্রগুলি নিতান্ত প্রাণহীন ও নীরস হইয়া পড়ে। 
সুক্ষ রুচিমান আধুনিক শিক্ষিত সমাজ হইতে এই জাতীয় সম্পদণ্ডলি বিশ্লিষ্ট হইয়া যাইতেছে 
ইহা শুভ চিহ্ন নহে । 

দীনবন্ধু এই প্রহমনের মধ্যে আমাদিগকে .বথেষ্ট হাসাইয়াছেন বটে, কিন্তু এক্টান। 
হাসিতে ক্লান্তি আসিবার সম্ভাবনা, সেজন্য করুণ রসের একটি অৃস্ঠ প্রবাহ প্রহসনের মধ্যে 
আনয়ন করিয়া তিনি আমাদের মানসিক সমত! রক্ষা করিয়াছেন। তটের তলদেশ 
যেমন তরংগের মুছ আঘাতে ক্ষয় হইতে থাকে, আমাদের হৃদয়ের গোঁপন স্তরও তেমন 
এই করুণ রসে আস্তে আন্তে দ্রব হইয়া উঠে। স্ত্রীর দ্বারা প্রত্যাখ্যাত ও অবজ্ঞাত 
অতয়কুমারের অবস্থ! দেখিয়া আমাদের ছুঃখিত অন্তঃকরণ এই কথাটীর করুণ সত্যতা স্পষ্ট 
উপলব্ধি করে যে, “ঘর জামাইয়ের পোৌঁড়ার মুখ, মরা বাঁচা সমাঁন স্থুখ*। সপত্বী-কলহ 
জর্জরিত মর্মপীড়িত পদ্মলোচনের অবস্থা আমাঁদের মনে প্রচুর কৌতুকরসের উৎপত্তি করিয়! 
বেচারা স্বামীর ছঃখে সহান্ুৃভৃতিশীল করিয়। তুলে । 

জামাই বারিক+ স্ত্রী-প্রধান প্রহসন । অন্তঃপুরের বংগ-লললা-কলিত-কন্দরে 
নাট্যকারের রসসন্ধিৎস্থ দৃষ্টি কিভীবে বিচরণ করিত তাহার বথার্থ পরিচয় গ্রন্থের মধ্যে 
পাওয়া যায়। অস্তঃপুরিকাদের রংগরস, হাসিঠাট্রাঃ নর্মালাপ ও খরকলহ দীনবন্ধু বিস্ময়কর 
নৈপুণ্যের সহিত বর্ণন করিয়াছেন । গর্বোদ্ধত। ধনী অঙ্গনা কামিনী হইতে গ্রাম্যরসের 
প্রন্নবিনী হাবার ম৷ পর্যস্ত সকল স্বী-চরিত্র কাহিনীকে গতিশীল ও রসময় করিয় রাখিয়াছে। 
“দেব! না জানস্তি কুতো মানবাঃ% তাই কোমলতায় ইহারা যেমন ললিত পল্লবিনী, 
উগ্রতায় তেমনি আবার ভীম! উগ্রচণ্ডা । বগল! ও বিন্দুবামিনী যে ভাষায় পরস্পরের 
প্রতি উগ্র বিষ ছড়াইয়াছে, তাহ একাস্তভবে এই সব অস্তঃচারিণীদেরই ভাষা, অন্তঃপুরের 
বাহিরে এই বিচিত্র ভাষার অস্তিত্ব নাই। “মড়িপোড়ানির ঝি”, “শতেকখোয়ারি”, 
“নয়ছুয়ারি”, 'ভালখাগি+, “হতচ্ছাড়ি, প্রস্ততি চমকপ্রদ বিশেষণে ভূষিত হইয়া! সপত্বীদ্বয়ের 
খরজিহবা হইতে যে শাণিত ছুরিসমূহ নির্গত হইয়াছে তাহ! পদ্মলোচন কেন, যে কোন 
বলবান স্বামীকে জীবন্ম ত করিবার পক্ষে যথেষ্ট । এইরূপ বাস্তব ঝগড়ার দৃশ্ঠ বাংল 
সাহিত্যের অগ্ভ কোনো। গ্রন্থে আছে কিনা সন্দেহ । নির্দোষ ও নিধিরোধ পল্মলোচন এই 

৯১১ 


উই বাংল! লাঁটকেয'ইতিহ'সি 


দুই নাগিনীর 'উগ্ঘত নাগপাশ হইতে পলায়ন করিয়! বুন্দাীবনে আশ্রয় গ্রহণ করিবে ইহা 
মোটেই আশ্চর্যজনক নহে। অভয়কুমারও অনুরূপ শীতল-প্রকৃতিবিশিষ্ট পরাশ্রিত স্থামী'। 
ক্যাথারিনার (৪ 081078 ) ১ ন্যায় গবিণা স্ত্রীকে কিভাবে বশীভূত করিতে হয় তাহা 
তাঁহার জানা ছিল না, সেজন্ত তাহাকেও অনাশ্রয়ের আশ্রয় ব্রজধামে গমন করিতে 
হইয়াছিল। . গ্রন্থের অন্ত কৌনে। পুরুষচরিত্র উল্লেখযোগ্য নহে। 

“জামাই-বারিকে”র কাহিনী ছুইভাগে বিভক্ত । বগলা বিন্দু ও পল্মলোচনের 
আখ্যান এবং কামিনী, অভয়, ভবী ও ময়রা বুড়োর গল্প প্রথম তিন অঙ্কে স্বতন্ত্রভাবে 
অগ্রসর হইয়া “চতুর্থ অংকে একত্রিত হইয়াছে । যেভাবে নাট্যকার গ্রন্থের দুই ধারাকে 
মিশাইয়া দিয়াছেন তাহাতে তাহার হুম নাট্যকলা নৈপুণ্যের পরিচয় পাওয়া যাঁয়। 
প্রহসনের ঘটনা বুন্দাবনে স্থানাস্তরিত করাতে যে অবিশ্বাসী সন্দেহের উৎপত্তির কারণ 
বটিয়াছিল, লেখকের বর্ণনার কৃতিত্বে ও চরিব্র-সমাবেশের কুশলতায় তাহা হয় নাই। 
দীনবদ্ধুর নাটকের একটি প্রধান গুণ এই যে, ইহাতে অপ্রাসংগিক ও অতিরিক্ত বিষয়ের 
অনাবশ্ক উখ্াপন লক্ষ্য কর! যায় না। ঘটনা-বৈচিত্র্য যেখানেই আছে, সেখানে তাহা 
মূল বিষয়ের সহিত অংগাংগীভাবে যুক্ত হইয়া! গিয়াছে । 


নাটক 


“নীলদর্পণ (১৮৬০) ॥ নীলের হাঁঙ্গাম৷ আজ পুরাতন ইতিহাসের বিলীয়মীন স্বতির মধ্যে 
পর্যবসিত হইয়াছে । দেশের ইতন্ততবিক্ষিপ্ত কয়েকটি ভগ্রকু্ঠী এবং লোকপরম্পরায় প্রচলিত 
কতকগুলি কিংবদন্তী আজ সেই নীলের কাহিনীর জীর্ণ সাক্ষী স্বরূপ বিদ্যমান রহিয়াছে । 
কিন্ত একশত বৎসর পূর্বে এই নীলের সমন্যাকে অবলম্বন করিয়া এমন একটি দেশজোড়া 
জাগরণ গড়িয়া উঠিয়াছিল বাহ! এক আঁকম্মিক ভূমিকম্পের মত বাংলার সমাঁজ ও রাষ্ট্রের 
ভিত্তি সজোরে নাড়িয়। দিয়াছিল। বোঁধ হয তাহাই হইল আমাদের সর্বপ্রথম জাতীয় 
জাগরণ। 

বন্থকাল পূর্ব হইতে ভারতবর্ষে নীলের চাষ হইত। ভারতে উৎপন্ন হইত বলিয়! 
নীলের নাম হইল [01809 1। দিল্লী হইতে ঢাকা পর্যন্ত নীলের চাষ হইত বটে কিন্ত 
বাংলার নীলই সর্বাপেক্ষা! উৎরুষ্ট হইত এবং ১৮১৫-১৬ গ্রীষ্টা্ হইতে বাংলার নীলই সারা 
পৃথিবীর, চাহিদা মিটাইত। নীলের চাষ প্রথমত ইষ্ট ইত্ডিয়া কোম্পানীর হাতে ছিল এবং 
তাহারা ইহা হইতে প্রভৃত অর্থলাভ করিয়াছিল কিন্ত ১৭৭৯ খ্রীষ্টাব্দে কোম্পানী ./পই 
চাঁষের ভার তাহাদের কর্মচারী এবং অন্তান্ত শ্বেতাঙ্গ ব্যবসায়ীদের হস্তে অর্পণ করে। 
ইহারা এই ব্যবসার ভার গ্রহণ করিবার পর হইতে দেশের চাষী রাইয়তদের দুর্দশা! সুরু 
হয় এবং ক্রমে ক্রমে এই ছূর্দশার চরম অবস্থা দেখ। দেয়। 


১। শেক্সপীয়ারে “006 11910117601 08 7100৮" নাটকের চরিজ্ত্ে। 


দীনবন্ধু মিত্র ৮৩ 
নীলকর সাহেবরা দাদন দিয়া! রাইয়তদ্দিগকে নীল বুনিবার চুক্তিতে আবন্ধ করিত । 
রাইয়তের অনেক সময় অনিচ্ছা সত্বেও দাদন লইতে বাধ্য হইত। নীলের চাষে 
তাহাদের কোনই লাভ ছিল না, কারণ দাদনের টাঁকা বাক্রি বকেয়া প্রভৃতি শোধ করিয়া 
তাহাদের ভাগ্যে বেশি কিছু অবশিষ্ট থাকিত না ; অথচ দেনা ও খণসমেত চুক্তির বোঝা 
তাহাদিগকে পুরুষানুক্রমে বহিয়৷ বেড়াইতে হইত। অসম্মত প্রজাদের নিষ্কতির কোনই 
পথ ছিল না) কারণ জালজুয়াচুরি, প্রতীরণ। উৎপীড়ন প্রভৃতি যে কোন উপায়েই হউক 
নীলকর সাহেবরা তাহাদের উপর চুক্তির দায়িত্ব চীপাইয়া দিত। অসহায় প্রজাগণ 
অনাহারে থাকিয়া সব অত্যাচার সহিয়! নীলের চাঁষ করিয়। দিত, প্রতিকারের কোন উপায় 
খু'জিয়া পাইত না। 
কিন্ত এইসব সহায়সম্থলহীন প্রজাদের রক্তশোষণ করিয়৷ বিদেশাগত নীলকর 
ব্যবসায়ীরা রাজার হালে দ্িন কাটাইত। নীলের ব্যবসায়ে অপরিমিত অর্থ উপার্জন 
করিয়! তাহাদের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি অপরিসীম হইয়। উঠিল। সার হেনরা কটন নীলকর 
সম্বন্ধে বলিয়াছেন--715 7১০৮6] 10 005 01106 ৬৪৩ 0180০010811 00110786505 | 
জেলার ম্যাজিষ্ট্রেট প্রভৃতি অনেক সময় নীলকরদের পক্ষ অবলম্বন করিতেন। কয়েকটি 
ইংরাজি সংবাঁদপত্রও তাহাদের পক্ষ অবলম্বন করিয়াছিল। সুতরাং তাহার! বিন! বাধায় 
তাহাদের শোঁৰণ ও উৎপীড়ম চালাইয়। যাইতে পারিয়াছিল। তাহাদের অত্যাচারের বিবরণ 
পড়িলে আজও লোকের শরীর শিহরিত হইয়! উঠিবে। “নীলদর্পণে বণিত একটি কথাও 
মিথ্যা অথবা অতিরঞ্জিত নহে । যেসব রাইয়ত চাঁষ করিতে অসম্মত হইত তাহাদের গুলি 
করিয়া অথব। বর্ষাবিদ্ধ করিয়! হত্যা করা হইত; কিংবা নীচু, সংকীর্ণ অন্ধকার গুদামঘরে 
আবদ্ধ করিয়া রাখা হইত। নীলকরদের শ্যামচাদ অথব। রামকান্ত প্রজাদের পিঠে 
পড়িবাঁর জন্যই সর্বদাই প্রস্তত থাঁকিত এবং সাহেবদের সবুট অভ্যর্থন৷ প্রজার তো নিত্ব- 
নৈমিত্তিক ব্যাপার বলিয়াই মাঁনিয়৷ লইয়াছিল। সময় সময় এক একটা গোটা গ্রীম 
অথবা বাজার নীলকরদের দ্বারা সম্পূর্ণরূপে লুগ্ঠিত ও বিধ্বন্ত হইত। গৃহস্থ কন্তা ও 
বধূদেরও অব্যাহতি ছিল না। মাঝে মাঝে তাহাদিগকে জোর করিয়া আনিয়া কুঠীতে 
বন্ধ করিয়! রাখ! হইত; ক্ষেত্রমণির প্রতি অত্যাচার-বৃত্তাস্ত একটি সত্য ঘটনা অবলম্বন 
করিয়াই লিখিত হইয়াছিল । 
অবশ্ঠ তৎকালীন ইংরাজ কর্মচারীদের মধ্যে কেহও যে .গ্রজাদদের পক্ষ অবলম্বন 
করেন নাই তাহা নহে। বারাসতের ম্যাজিষ্ট্রেট আসলি ইডেন ও কৃষ্ণনগরের ম্যাজিষ্রেট 
হার্সেলের স্টায় কর্মচারীও তখন ছিলেন, ধাহার! তাহাদের জাতীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষ 
অবলম্বন না৷ করিয়া নিরীহ নিঃসহায় কৃষককুলের পক্ষ অবলম্বন কুরিয়াছিলেন। ইহাদের 
নাম বাঙালী জাতি চিরকাল শ্রদ্ধা ও -কৃতজ্ঞতার সহিত ম্মরণ করিবে । প্রজাদরদী 
ছোটলাট স্তার পিটার গ্রাণ্ট কার্ধভার গ্রহণ করিয়াই একটি পরোয়ানা জারি 
করিলেন যে, নীলের চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া এড়াদের মম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন। এই পরোয়ানা 


৮৪ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


গ্রজাদের অসন্তোষের বারুদে আগুন ধরাইয়াছিল। তাহার! বহুদিন নীরবে সন্গ করিয়াছে 
কিন্ত এতদিন পরে তাহার। নিজেদের অধিকার সম্বন্ধে সচেতন হইয়া উঠিল। গ্রামে গ্রামে 
বিদ্রোহের আগুন জলিয়$ উঠিল। এই আগুনে ইন্ধন দরিয়াছিলেন প্রথম দুইজন 
গ্রামবাসী-_বিষুচরণ বিশ্বীস ও দিগন্বর বিশ্বাস। হুর্বল কৃষককুল এতদিন পরে একতার 
মধ্যে এক মহাঁশক্তি খু'ঁজিয়৷ পাঁইয়াছিল, বাঙালীর জাতীয় জীবনে ইহাই হইল প্রথম 
মহাশক্তির উদ্বোধন। ্ 


১৮৬১ খ্রীষ্টাব্দে নীলের হাঙ্গামা! সম্বন্ধে তাস্ত করিবার জন্য একটি কমিশন গঠিত 
হয়। এই কমিশনের সভ্য ছিলেন পাঁচজন এবং সিটনকার ইহার সভাপতি ছিলেন। 
চার মাস ধরিয়৷ সাক্ষ্য প্রমাণ লইয়া কমিশন রিপোর্ট দিলেন যে, দবুরিদ্র কষকদের 
ছার। জোর করিয়া নীলের চাষ করান হয় এবং এই চাষ তাহাদের পক্ষে মোটেই 
লাভজনক নয়। কমিশনের রিপোর্ট অন্তযায়ী গভর্ণমেণট নীলকর-অত্যাচার প্রশমনের 
জগ্য ব্যবস্থা অবলম্বন করিলেন। কিন্তু দু্দীস্ত নীলকর দমিবার পাত্র নহে। তাহারা 
গ্রাণ্ট, ইডেন, হার্সেল, সিটনকার প্রভৃতির বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলন আরম্ভ করিল এবং 
নানাভাবে ইহীর্দের অপাস্থ করিতে সমর্থ হইয়াছিল । 

শনীলকর অত্যাচারের বিরুদ্ধে যাহারা সমগ্র দেশকে উত্তেজিত করিয়! তুলিয়াছিলেন 
তাহাদের মধ্যে ছুইজনের নাম সর্বাগ্রে স্মরণীয়_হরিশচন্ত্র মুখোপাধ্যায় ও দীনবন্ধু মিত্র। 
হরিশচন্দ্র তাহার হিদ্দু-পেট্রিয়টে নীলকরদের বিরুদ্ধে তাহার অগ্নিন্রাবী লেখনীকে 
নিয়োজিত রাখিলেন। শোষিত প্রজাবৃন্দের জন্য তিনি সর্বস্থ ত্যাগ করিলেন, এমনকি 
শেষপর্যস্ত অকাল মৃত্যু পর্যন্ত বরণ করিয়া লইলেন। নীলকরগণ এই শক্রতা ভুলিতে 
পাঁরে নাই, তাহার মৃত্যুর পরেও তাহার সহায়হীন পরিবারের উপর তাহাদের ত্বণ্য 
প্রতিহিংসা পতিত হইয়াছিল । “নীলদর্পণে'র আঘাত বোধ ভয় আরে! তীব্র ছিল এবং 
সেজন্য ইহার উপর তাহাদের প্রতিহিংসা আরো বেশি হিংস্র ও পৈশাচিক হইয়া 
উঠিয়াছিল। ইহার অনুবাদ করিয়! মাইকেল স্থপ্রিম কোর্টের চাকরী হারাইয়াছিলেন, 
ইহার প্রকাশ করিয়া এপাঁদরী লং কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড লাভ করিয়াছিলেন এবং ইহার 
প্রচারে সাহায্য করিয়া সিটনকার অপদস্থ হইয়াছিলেন। আজ দেশে নীলের চাষ 
নাই, নীলকরের অত্যাচারও নাই কিন্ত একদিন ইহাদের লইয়া! কত না ঘটন৷ ঘটিয়া 
গিয়াছে এবং সেই ছুর্যোগ-দিনে যে সব স্বদেশী ও বিদ্দেণী মহাপ্রাণ হৃদয় অসহায় 
প্রজাপুঞ্জের ছ:খে কাদিয়। উঠিয়াছিল কৃতজ্ঞ জাতির ইতিহাসে চিরকাল তাহাদের নাম 
ত্বর্ণুক্ষরে লিখিত থাকিবে।  “ রী 

২ের্নীলদর্পণ, ভ্তাংলা সাহিত্যের সর্বাপেক্ষা স্মরণীয় ও বিটিভি ্রস্থ। বাংলার 
সমাজ ও সাহিত্যে ইহা যে অপরিমেয় প্রভাব বিস্তার করিয়াছিল তাহার তুলনা 
অন্ত কোথাও আমর! দেখি নাই। নীলকর-অত্যাচারে পীড়িত হইয়া যখন নিরুপায় 
জনসাধারণ ছুঃখের অন্ধকারে তাহাদের উদ্ধারের পথ খুজিয়া বেড়ীইতেছিল ' তখন 


দীনবন্ধু মিত্র ৮৫ 
'নীলদর্পণ” তাহাদের সন্মুথে অগ্নিবতিকা আালিয়। ধরিল। সেই অগ্সিতে সেদিন 
জনগণের প্রথম দীক্ষা হইয়া গেল, সেই অগ্নি ছড়াইয়া পড়িল দেশের প্রান্ত ও 
প্রাস্তরে। অত্যাচারের লেলিহ জিহ্বা মুহূর্তকালের মধ্যে পুড়িয়া ছাই হইয়া! গেল। 
শিবনাথ শাস্ত্রী মহাশয় লিখিয়াছেন, “নাটকথানি বঙ্গসমাজে কি মহ উদ্দীপনার আবির্ভাব 
করিয়াছিল তাহা আমরা কখনও ভুলিব না। আবাল-বুদ্ব-বনিতা আমর! সকলেই 
ক্ষিপ্রপ্রীয় হইয়া গিয়াছিলাম। ঘরে ঘরে সেই কথা, বাঁসাঁতে বাসাতে তাহার অভিনয়। 
ভূমিকম্পের স্টায় বঙ্গদেশের সীম! হইতে সীমান্ত পর্যন্ত কাপিয়া যাইতে লাগিল। এই 
মহ! উদ্দীপনার ফল স্বরূপ নীলকরের অত্যাচার জন্মের মত বঙ্গদেশ হইতে বিদায় লইল। 
৬নীলদর্পণে” যে বিদ্রোহ-বাণী ধ্বনিত হইল তাহার প্রভাব সাময়িক কালেই নিঃশেষ হইয়া 
যায় নাই, তাহ! ছুঃখ-লাঞ্ুনার বিরুদ্ধে নিত্যকালের প্রতিবাদ । সেজন্ত "তাহার রক্ত-আথরে 
চিরকালীন শোষিত, মুক্তিকামী জনগণের জীবনবেদু_ফুটিয়া উঠিয়াছে। নাটকথানি নিষ্ঠুর 
নিরবচ্ছিন্ন সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল বলিয়। সত্যপ্রিয়'সহৃদয় ব্যক্তি মাত্রই ইহার প্রকৃত 
মর্যাদা দিয়াছিলেন। রেভারেও্ড লং, সিটনকার প্রভৃতি সদাশয় ব্যক্তি ইংরাজ হইয়াও 
এই পুস্তকের প্রচার-ভার গ্রহণ করিয়াছিলেন, ইহাঁতে বুঝ! যায় নাটকখানির সমাদর কত 
বহুধা-বিস্বৃত হইয়াছিল। 
এ্নীলদর্পণ” বঙ্গসাহিত্যের “বাস্তবতার পথনির্রেশি করিয়াছিল। লেখকের দৃষ্টি, এই 
সর্বপ্রথম আদর্শের নন্দন-কানন হইতে বিদায় লইয়। বাস্তবতার কঠিন মৃত্তিকায় সঞ্চরণ সুরু 
করিয়াছে, ধনীর বিলাস-হর্ম্যের মায়া কাটাইয়া দরিদ্রের কারণ্য-কুটারে প্রকৃত সত্য সন্ধান 
করিয়! পাইয়াছে। তোরাপ, রাইচরণ, আছুরী ও ক্ষেত্রমণিও তাহাদের ছুঃখবেদন! 
শুনাইবার দরদী শ্রোতা পাইয়াছে। আজ বাংল! সাহিত্যে ধ্ততন্ত্রের প্রতি যে স্ুম্পষ্ট 
প্রবণতা দেখ। দিয়াছে তাহার চন! একশত বতসর পূর্বে লিখিত এই অবিস্মরণীয় নাটকের 
আজিকার সাহিত্যিকদের এবিষয়ে সচেতন হইবার প্রয়োজন আছে। 


“নীলদর্পণ” পরবতী সামাজিক নাট্যধারাকে যে অনেকীংশে অনুপ্রাণিত করিয়াছিল 
সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। “নীলদর্পণে”র কাহিনীর মুলকেন্্র হইল স্থথে শাস্তিতে অব- 
শত একটি একাক্বর্তী বাঙালী পরিবার, প্রতিকূল অবস্থার নিষ্ঠুর আবর্তনে যাহা সর্বনাশের 
'অতলতলে 'ভূবিয় "বায়? ই 'ধরণের কাহিনীর্ররবর্তী বহু "সামাজিক নাটকে *আঁলে।চিত 
হইয়াছে । করুণরসাত্মক নাটকের “আদর্শ রূপেও “নীলদর্পণ” পরবর্তী নাট্যসাহিত্যে 
বিশেষভাবে অনুন্ত হইয়াছিল। “গিরিশচন্ত্রের বিষাদাস্ত সামাজিক নাটকে “নীলদর্পণে”র 
প্রভাব অতি স্থুস্পষ্ট । ্ৃত্যুদৃশ্তের আধিক্য, করুণরসের আতিশয্য, প্রতিবাদহীন হুঃখভোগ 
প্রভৃতি যে যে করুণরসাত্মক লক্ষণ এই নাটকের মধ্যে বিচ্মান সেগুলি বহুলাংশে “প্রফুল্ল, 
“এবলিদান" প্রভৃতি পরবর্তী প্রসিদ্ধ নাটকে পরিশ্ফুট হইয়াছিল । 

“নাট্যশালার্‌ ইতিহৃসেও “নীলদর্পণের মূল্য কম নয়। এই “নীলদর্পণে”র অভিনয়ের 
মধ্য দিয়াই সাধারণ 'নাট্যশালা প্রতিঠিত হইল। এই নাটকের অভিনয় দেশের মধ্যে 


৮৬ বাংলা নাটঘোর ইতিহাস 


এক অদৃষ্টপূর্ব উদ্দীপন! ও উত্তেজনার স্থষ্টি করিয়াছিল এবং বহু প্রসিদ্ধ ব্যক্কির দৃষ্টি ও 
সহানুভূতি রঙ্গালয়ের প্রাতি জাগরূক করিয়া তুলিয়াছিল। স্থৃতরাং রঙ্গালয়ের গৌরব ও 
জনপ্রিয়তার মূলে এই অসাধারণ নাটকখানির অবদান যে অনেকখানি তাহা অবশ্যই 
্বীকার করিতে হইবে। বন পুরাতন জনপ্রিয় নাটক বিস্বাতির অন্ধকারে বিলুপ্ত হইয়া 
গিয়াছে, কিন্তু আজিকার দিনেও যে নূতন করিয়। “নীলদর্পণে'র অভিনয়ের আয়োজন 
দেশের মধ্যে দেখা যাইতেছে, ইহাতে প্রমাণিত হয় সমসাময়িক কালের গণ্ডি 
অতিক্রম করিয়া “নিত্যকালের সাহিত্য-দরবারে ইহার আসন প্রতিষ্টিত হইয়া 
গিয়াছে । 


এগাীলোক বস্থুর পরিবারকে কেন্দ্র করিয়াই নাটকের "মূল কাহিনী গড়িয়া 
উঠিয়াছে। এই মূল কাহিনীর সহিত সম্পৃক্ত আর একটি উপকাহিনী সাধুচরণের 
পরিবারকে অবলম্বন করিয়। নাটকের মধ্যে সন্পিবেশিত হইয়াছে । এই উভয় পরিবার একই 
অত্যাচারে সর্বস্ব হারাইয়৷ নিদারুণ শোকাবহ পরিণতি প্রাপ্ত হইয়াছে । স্থৃতরাং প্রধান 
কাহিনী ও উপকাহিনীর মধ্যে নাটকীয় সাদৃশ্ঠ অথবা+721:91161180 রহিয়াছে । এই ছুইটি 
কাহিনীর চরিত্রগুলির সহিত নীলকর সাহেবদের সংঘাত বাধিয়াছে এবং এই সংঘাতে 
সহায়ত করিয়াছে গোপীনাথ ও পদী ময়রাণী । “*নীলদর্পণে”র বিষয়বস্তর মধ্যে এক দৃঢ় 
সংহতি ও অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা বিচ্যমাঁন, অগপ্রাসংগিক দৃশ্য ও অবাস্তর চরিত্রের অনুচিত 
অবতারণ দ্বারা ইহার ঘটনাপ্রবাহ কোথাও তির্ধক কি তরল কর! হয় নাই। স্বল্পকালের 
পরিসরের মধ্যে নাটকের বিষয়বস্ত সীমায়িত হওয়ার ফলে ইহার মধ্যে এক ধন-গন্ভীর 
ভাবচেতন৷ প্রীণময় রূপ লাভ করিয়াছে । অনেকগুলি দৃশ্যের মধ্যে উত্তেজনামূলক চমকপ্রদ 
ঘটনার সন্নিবেশ করিয়৷ নাট্যকার তাহার কাহিনীর মধ্যে যথেষ্ট গতিবেগ ও চমৎকারিত্ব 
সঞ্চার করিয়াছেন । “দৃষ্টান্ত স্বরূপ বেগুনবেড়ের কুটির গুদাম ঘরে রাইয়তদের ছুঃখভোগ, 
ক্ষেত্রমণির লাঞ্ছনা এবং নবীনমাধব ও তোরাপের দ্বারা তাহার উদ্ধার প্রভৃতি দৃগ্তের উল্লেখ 
করা যাইতে পারে। কেবল যেখানে যেখানে আদিরসাত্মক ও করুণরসাত্মক দৃশ্ঠের 
অবতারণা হইয়াছে সে সব জায়গায় কাহিনীর গতি ধ্দীভৃত হয়! পড়িয়াছে। নাট্যকারের 
ও আত্মময়ত। যেখানে প্রবল হইয়া উঠিয়া র আর্ট ছল হইয়া 
পড়িয়াছে। এক ধনী গৃহস্থ পরিবার ও আর এক দরিঘ্র কৃষক পরিবারের সহিত দুরু 
নীলকরদের সংঘর্ষের হুচনাতে নাটকের আরম্ভ এবং সেই সংঘর্ষের শোচনীয় পরিণতিকে 
নাটকের উপসংহার । প্রথম অংকে আংঘর্ষের আভাস- গোলক বস্থ চিস্তিত, সাধুচরণ 
বিব্রত, তাহাদের স্থথী পরিবার আসন্ন দুর্যোগের কৃষ্ষমেঘে আচ্ছন্ন । দ্বিতীয় অতকৈ 
সংঘর্ষের শুচনা--গোলোক বস্থুকে কারাবন্ধ করিবার জন্য নীলকরদের গোপন ষড়যন্ত্র । 
তৃতীয় অংকে সংঘর্ষের চূড়ান্ত অবস্থা-_প্রজাদের পক্ষ অবলম্বন করিয়া নবীনমাধব নীলকরদের 
' সহিত প্রকীশ্ঠ সংগ্রামে প্রবৃত্ত গোলোক বস্থুর কারাবাস, ক্ষেত্রমণির প্রতি রোগ সাহেবের 
জত্যাচার | শ্ঠতৃর্থ অংকে সংঘর্ষের করুণ পরিণতি--গোলোক বস্থর আত্মহত্যা) সর্বনাশের 









দীনবন্ধু জিজ্ত | ৮৭ 
'মুখে গোলোক বস্থর পরিবার । পঞ্চম অংকে সর্বনাশের গর্তে গোলোক ও সাধুর 
পরিবার, সর্বগ্রাসী দুর্ভাগ্যের অতি নিষ্ঠুর ধবংসলীল। | 


বঙ্কিমচন্দ্র দীনবন্ধু সম্বন্ধে তাহার অনবদ্য সমালোচনার মধ্যে বলিয়াছেন যে, 
এপামাজিক অভিজ্ঞতা প্রবল এবং স্বাভাবিক সর্বব্যাপী সহান্গভৃতি_এই দুইটি গুণের 
ফালে তাহার অংকিত চরিত্রগুলি এত বাস্তব ও জীবন্ত হইয়া উঠিয়াছে। বঙ্ষিমচন্ত্রের 
এই উক্তি অনেকাংশে সত্য সন্দেহ নাই, কিন্তু ইহার সহিত আর একটি বিষয় উল্লেখ করা 
বায়। শুধু কেবল অভিজ্ঞতা নহে, সহাশ্গভতি নহে, চরিত্রস্ষ্টির বিশিষ্ট কলাকৌশল 
অবলম্বন না করিলে কোন চরিত্রই যথার্থভাবে রসোতীর্ণ হইয়া উঠিতে পারে,না। এই 
পর্লাকৌশলের একদিকে সংবন আর একদিকে আবেগ । নাটকীয় চরিত্রের ভাব ও আঁচরণ 
যেমন একটি পরিমিত স্বাভাবিকতার মধ্যে নিয়ন্ত্রিত করিয়। রাখিতে হয় তেমনি আবার 
“আবেগ ও ছন্দ সঞ্চার করিয়। তাহাকে প্রাণচঞ্চল করিয়। তুলিতে তয় ধূরবীলদপণ, 
নাটকের কোন কোন চরিত্র বে সরল ও জীবন্ত হইয়াছে আবার কোন কোন চ রত্র যে 
আড়ষ্ট ও কৃত্রিম হইয়া পড়িয়াছে তাহার মূলেও রহিয়াছে এই 'কলাকৌশলের সার্থকতা ও 
ব্যর্থতা । তোরাঁপ, রাইচরণ, আদুরী, গোগীনাথ প্রভৃতি চরিত্র যে এত উজ্জল হইয়া 
উঠ্িয়াছে তাহার কারণ,-_-তাহাদের-স্থাদয়বৃত্তি যেমন প্রবলরূপে দেখান হইয়াছে, তেমনি 
আবার তাহাদের ভাষা ও ভঙ্গি অতি স্বাভাবিকরূপে চিত্রিত হইয়াছে। নীলমাধন, 
সৈরিস্্ী, সরলত। প্রভৃতি চরিত্র যে নির্জীব ও নীরস হইয়াছে তাহার কারণ দীনবন্ধুর 
অভিজ্ঞতার অভাব নহে, হাচুভৃতির স্বল্পতাও নহে। তাহাদের চরিত্র বেশি ভালো 
বানাইতে যাইয়াই নাট্যকার তাহাদিগকে মাটি করিয়া ফেলিয়্াছেন। শীহাদের মুখের 
ভাষার তোড়ে হৃদয়ের ভাষ! ভাসিয়! গিয়াছে, হৃদয়বৃত্তির কোন প্রবল সংঘাঁত তাহাদের 
মধ্যে নাই, ক্রিয়া অপেক্ষা কথাদ্বীরাই তাহারা আমাদের সহানুভূতি আকর্ষণ করিতে 
চাহিয়াছে। এই সব কারণেই তাহাদের চরিত্র স্থপরিশ্দুট হইতে পারে নাই। "সংলাপের 
শুধু দীর্ঘতা নহে, ইহার অসংগত অস্বাভাবিকতার ফলেও ভদ্র ও উচ্চশ্রেণীর চয়িত্রগুলি 
.এক্ধূপ প্রাণহীন হইয়া পড়িয়াছে। নাটকের চরিত্র প্রাণ লাভ করে তাহার সংলাপ 
হইতে, সেই সংলাপ যেখানে অবাস্তর সেখানে চরিত্র কখনো বাস্তব হইতে পারে না। 
প্প্রণয়ে কিংবা প্রলাপে তাহারা যে ভাষা ব্যবহার করিয়াছে তাহা! তাহাদের দয় হইতে 
উৎসারিত হয় নাই, তাহা আহত হইয়াছে সংস্কৃত নাটক হইতে । সেজন্য তাহার্দের কথা 
আমাদের অন্তর স্পর্শ করে না, তাহাদের মূষ্তিও আমাদের অন্তরে রেখাপাত করে না। 
একটি দৃষ্টান্ত দেওয়া বাঁক। বিরুতমন্তিফা মাতার হাতে' নিজের স্ত্রীর মৃত্যু দেখিয়া 
বিন্দুমাধবৰ বলিতেছে, আহা ! মৃতপতিপুত্রা নারীর ক্ষিগততা কি সুখপ্রদ। মনোমুগ 
ক্ষি্বতা প্রস্তর প্রা্টীরে বেষ্টিত; শোকশারূদল আক্রমণ করিতে অক্ষম | বিন্দুমাধবের 
এই কথাগুলি নিদারুণ শোকাবিহ অবস্থাতেও যে আমাদের অন্তর নাড়া দেয় ন৷ 
তাহার কারণ নিতান্ত কৃজিম সংস্কৃতগন্ধী ভাষা! ছাড়। আর কিছুই নহে, খাটি কাংল। 


৮৮ ধাংল। নাটকের ইতিহাস 


ভাষায় ব্যক্ত হইলে কথাগুলি আমাদের চিত্তে অন্যরকম প্রতিক্রিয়া উদ্রেক করিত। সুস্থ 
ও সভ্যশ্রেণীর ভাষার এই কৃত্রিমতাঁর কাঁরণ সম্ভবত এই যে, দীনবন্ধু তৎকালীন প্রচলিত 
ভাষাদর্শের উধ্বে” উঠিতে পারেন নাই। ডাঃ সুশীল কুমার দে মহাশয়ের মত প্রণিধান- 
যোগ্য “মনে তয়, সাধুভাঁষার সম্বন্ধে দীনবন্ধু প্রচলিত প্রথা ও কালের প্রভাব সম্পূর্ণ 
অতিক্রম করিতে পারেন নাই। তৎকালীন হাস্ঠরসাত্মক প্রহসন ও গম্ভীর রসাত্মক 
নাটকের ভাষা সম্পূর্ণ ছুই রকম ছিল। প্রহসনের ভাষ৷ যেমন সচল ও স্বাভাবিক নাটকের 
ভাষা তেমনি অচল ও অস্বাভাবিক ছিল । রামনারায়ণের “কুলীন কুলসর্বন্ব* অথবা “উভয়- 
সম্কটে”র ভাষার সহিত “নবনাটকে"র ভাষার প্রভেদ দৃষ্টাত্ত স্বরূপ উল্লেখ করা যাইতে পারে। 
দীনবন্ধুব "সধবার একাদশী” অথবা “জামাই বারিকের” সহিত “লীলাবতী” অথবা নবীন 
তপন্থিনীর তুলনা করিলেও ভাষার গুণে তাহার প্রহসনের চরিত্রগুলি কত জীবন্ত হইয়া! 
উঠিয়াছে তাহী্িঝা যাইবে । নাটকের মধ্যেও তিনি যেখানে লঘু হাশ্তরসের অবতারণা 
স্থযোরগ'পাঁই়ীছেন সেখানেই নাটকীয় চরিত্রগুলিকে প্রীণরসের প্রতিমূত্তি করিয়! তুলিয়াছেন; 
নদেরটাদ, হেমাদ, জলধর, জগদন্থ! প্রভৃতি চরিত্র এ-প্রসঙ্গে উল্লেখ কর যাইতে পারে। 
'নীলদর্পণে”ও প্রধানত রই ভাবার একান্ত সজীব স্বাভাবিকতার জন্য আছুরী, গোপীনাথ, 
তোরাপ, রাইচরণ, পদী, রোগ, উড ও রাইয়তগণের চরিত্র এত সরস হইয়াছে । পক্ষান্তরে 
নবীনমাধব, বিন্দুমাধব, সৈরিঙ্কী, সরলতা প্রভৃতি চরিত্র, নিতান্ত নীরস হইয়া পড়িয়াছে। 
শ্মবীনমাধব নাটকের নাযক। এই উদ্দার, নির্ভীক ও মহাপ্রাণযুক্ত যুবক দুরদীস্ত নীলকর 
সাহেবদের সহিত কঠোর সংগ্রামে লিপ্ত । সুতরাং তাহার চরিত্রের মধ্যে যথেষ্ট নাটকীয় 
সম্ভাবনা ছিল, স্থঅংকিত হইলে ইহা আমাদের মনে অবিশ্মরণীয় প্রভাব মুদ্রিত করিতে 
পাঁরিত, কিন্ত এই ভাষার ক্রিম কাঠিন্তের জন্য তাহ! সম্ভব হয় নাই। সৈরিষ্ধীর প্রতি 
অনুরাগ প্রদর্শন করিবার সময় অথব! নীলকর সাহেবদের প্রতি দ্বণ। প্রকাশ করিবার 
অবস্থায় তাহার ভাষার আড়ম্বরে অন্তরের কোন প্রবল আবেগ ও প্রবৃত্তি পরিস্ফুট 
হইতে দেয় নাই । 


আঁলদর্পণে দরিদ্র কৃষক ও নিয়শ্রেণীর চরিত্রগুলি অদ্ভুত কৃতিত্বের সহিত চিত্রিত 

হইয়াছে । বাংলা সাহিত্যে তোরাপ ও রাইচরণের মত কৃষক এবং আছুরীর মত ঝি আর 
কোথাও অঙ্কিত হইয়াছে কিনা জানি না। শিক্ষ1 ও স্বাতন্তর্যের সর্বপ্রকার অভিমান ত্যাগ 
করিয়া দীনবন্ধু তাহাদের প্রাণের বন্ধু হইয়৷ নিজেকে তাহাদের মধ্যে মিশাইয়! দিয়াছেন। 
তাহাদের উন্মুক্ত অমাজিত জীবনের গ্রাতিটি ছন্দ ও ভঙ্গি তিনি হৃদয় দিয়া অনুভব করিয়াছেন । 

' তোরাপ সহায়সম্বলহীন দরিদ্র কুষক কিন্তু দুর্দীস্ত অত্যাচারের গোপনতা নাই, জীবন সম্বন্ধে 
একেবারেই কোন পরোয়া নাই । স্থুনিশ্চিত বিপদের মধ্যে ঝঁপাইয়। পড়িয়া সে একবার 
'ক্ষেত্রমণি ও আর একবার নবীনমাধব উদ্ধার করিয়াছে । তাহার হাত গিয়াছে কিন্ত ঈীতের 
দ্বারা সে প্রতিশোধ লইয়াছে। নবীনমাঁধবের ন্যায় সে শিক্ষিত ও উদার নহে, ক্ষমার মহিমা 
মে জানে না, আবেদনের কোন মূল্য তাহার কাছে নাই, সৈ সেই আদিম আইনে বিশ্বাসী__ 


দীনবন্ধু গিত্র ৮৯ 
দাতের বদলে দাত আর চোখের বদলে চোখ । কিন্তু তাহার এই দ্ধ হিংস্র প্রতিহিংসার 
নীচেয় রহিয়াছে শ্রেষ্ঠ মনু্যধর্ম _নিংস্বার্থ আত্মত্যাগ, অকৃত্রিম প্রভুভক্তি আর ন্নেহপিক্ত 
মনুষ্তগ্রীতি। সাধুচরণ ও রাইচরণ এই ছুই ভাইয়ের মধ্যে রাইচরণের চরিত্রই অধিকতর 
সজীব হইয়াছে । তাহার কারণ সাধুচরণ একটু হিসাবী, সাবধানী, সহিষ্ণু ও আপোষপশ্থী 
তাহার কথাবার্তা একটু আড়ষ্ট ও ভদ্রঘে-সা, কিন্ত রাইচরণ খাঁটি চাষা-_গোৌয়ার, । 
শবেপরোয়৷ ও চিন্তাভাবনাহীন। তাহার পেটের জালার কাছে বিষয়ের চিন্ত। তুচ্ছ, পদীময়রাণী 
মেয়েলোক হইলেও দামঠাসা করিতে তাহার দ্বিধা নাই। আঁছুরী-চরিত্র নাট্যকারের 
আর একটি অনবদ্য স্থষ্টি। আছুরী ঝি হইলেও নাটকের মধ্যে সে একটি প্রধান অংশ গ্রহণ , 
করিয়াছে এবং নাটকের”বিষাদ-ঘন পরিবেশের মধ্যে সে এক সরস কৌতুকের ধারা সঞ্চার * 
করিয়াছে । নাটকের স্ত্রী-মহল জমাইয়৷ রাখিয়াছে সে--তাহার রসাল ছড়। আর শশাসাল 
মন্তব্যের মধ্য দিয়।। সে সব বিষয়েই ওয়াকিবহাল, সব ব্যাপারে সে একটি মত প্রকাশ 
করিয়! ছাঁড়িবে। নাড়ের বিয়ে দেয় যে সাগর সে যে তাহার দলে নয়,“দাড়ি প্যাজ না 
ছাড়িলে সে যে কখনই সাহেবের কাছে যাইবে না, কুটির বিবির মাচের টক সাহেবের সহিত 
ঘোড়ায় চড়িয়া যাঁওয়া যে দে মোটেই সমর্থন করে না-_ইত্যাকাঁর বিবিধ মন্তব্য দ্বারা সে 
সকলের মাঝে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করিয়া বসে। কিন্তু আছুরীর আর একটি দিক 
আছে- প্রভূপরিবারের সকলের সহিত ভাঁহাঁর হৃদয়ের যোগ, তাহাদের ছুঃখ বেদনার সহির্ত 
তাহার প্রকান্ত একাত্মত] ৷ | 


“দীনবন্ধুর সহান্ভূতি আলোচনা প্রসঙ্গে বঙ্গিমচন্্র লিখিয়াছেন-_-“নিজে এই প্রকার 
পবিত্রচেতা হইয়াও সহান্ুভৃতি-শক্তির গুণে তিনি পাপিষ্ঠের ছূঃখ পাপিষ্ঠের ন্যায় বুঝিতে 
পাঁরিতেন।” এই সর্বব্যাপী সহানুভূতির ফলেই তিনি প্রথম শ্রেণীর সাহিত্যিক _ শেক্স্পীয়ার, . 
ডিকেন্দ ও শরৎচন্দ্রের সহিত একই পংক্তিতে তিনি অধিষ্ঠিত। পুণ্যবানের প্রতি তাহার 
শ্রদ্ধা আছে কিন্তু পাঁগীর প্রতিও তাহার দ্বণা নাই। সেজন্য গোপীনাথ ও পদীময়রাণীর 
চরিত্রও তিনি সহানুভূতির সহিত বুঝিতে চেষ্টা করিয়াছেন। গোঁপীনাথ নীলকরের পদলেহী, 
নীচ স্বার্থপর ভূত্য, কিন্তু তাহার মধ্যে "রমন একটি বেদনাকরুণ, আত্মসচেতন ধিকারবোধ 
আছে যাহাতে তাহার প্রতি আমর! একপ্রকার অনির্দেশ্ট সমবেদনা! বোধ করিয়া থাকি । 
শেক্স পীয়ারের ফলস্টাফ-চরিত্রের ন্যায় দীনবন্ধু একটি নীচ দ্বণ্য চরিত্রকে সরস-রহস্থ প্রিয় 
উপভোগ্য চরিত্রে পরিণত করিয়াছেন । ৬পদী ময়রাণীও একটি নষ্টচরিত্র! কুটনী হইয়াও যে 
একেবারে নির্লর্জ হৃদয়হীন হইয়া পড়ে নাই নাট্যকার তাহাই দেখাইতে চাহিয়াছেন। 
সকলের ঘ্বণ৷ ও পরিহাস কুড়াইয়৷ দে নিজের কলঙ্কিত মুখটি সমাজের দৃষ্টি হইতে আবৃত 
করিয়াই রাখিতে চাহে । নবীনমাধবকে দেখিয়। সে লজ্জায় ধিক্কারে বলিয়াছে, “ও মা, কি 

বড়বাবুকে মুখখান দেখালাম । ক্ষেত্রমণিকে মে রোগ সাহেবের কাছে তুলাইয়া 
আনিয়াছে বটে কিন্ত্রু এই নর়পিশাঁচের হাত হইতে তাঁহাকে রক্ষা করিতেও সে চেষ্টা, 
ক্রুটি করে নাই। তাহার নিজের কাজের প্রতি নিজেরই দ্বণা জঙ্গিয়া গিয়াছে । সে নিজেই 


১৭ 


৯০ বাংল! নাটকের ইতিহাস 
বলিয়াছে, “আমার কি সাধ, কচি কচি মেয়ে সাহেবেরে ধরে আপন পাঁয় আপনি কুদুল 
মারি?.*..""আহা! ক্ষেত্রমণির মুখ দেখলে বুক ফেটে যাঁয়। উপপতি করিছি বলে কি 
আমার শরীরে দয়! নেই ?৮ ্‌ 
৬নীলদর্পণ” নীলকর অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনমত জাগ্রত করিবার সুস্পষ্ট ' উদ্দেশ্ত 
লইয়া রচিত। এই উদ্দেশ্ত নাট্যকার প্রচ্ছন্ন রাখিতে চাঁহেন নাই। নাটকের ভূমিকায় 
এবং নাটকীয় চরিত্রের কথায় অত্যাচার-গীড়িত রুষকদের দরদী মুখপাত্র নিছেকে দ্বার্থহীন- 
ভাবেই প্রকাশ করিয়াছেন। এই কারণে নাটকের শিল্প ও রসপরিণতিও একটি বিশিষ্ট 
উদ্দেশ্টচেতন। ছার। নিয়ন্ত্রিত হইয়াছে । "নিরুপায় রুধককুলের নিদারুণ সমস্যাটি সকলের 
হৃদয়ের রে পৌছ|ইয়! দ্রিবার জন্তই ন।ট্যকা'র তাহার নাটকে সর্বব্য।গী “করুণ রসের প্রবাহ 
ঢালিয়! দিয়াছেন । “নীলদর্পণ করুণ রসাম্সক নাটক সন্দেহ নাই এবং সংস্কৃত অলঙ্কার-শাস্ত্রের 
সংজ্ঞ। অনুযায়ী ইগার মধ্যে ভাব, বিভব, অনুভাব, সঞ্চারী ভাব সব কিছুই দেখান যাঁইতে 
পারে। কিন্তু শুধুমাত্র করুণ রসাত্মক বলিয়। “নীলদর্পণের বিচার শেষ কর! চলে ন!। 
'নীলদর্পণ' পাশ্চাত্য প্রভাবাশ্িত পঞ্চাঙ্ক নাটক, সুতরাং পাশ্চাত্য নাট্যলক্ষণ অনুনরণ করিয়। 
ইহা! বিবাদীন্তক হইলেও যথার্থ ট্র্যাজেডি হইয়াছে কিনা সেই বিচার অবশ্যই সঙ্গত ও 
প্রয়োজনীয় । নাট বিষাদান্তক হইলেই ট্র্যাজেডি হয় না। বে বিষাদ শুধু “কেবল বাহ্‌ 
ঘটন! ও শক্তি দ্বারা উদ্দীপিত, “বে বিষাদ চরিত্রের কোন দুর্বার চিত্তবৃন্তি অথব৷ ছুলজ্ব্য 
আচরণ দ্বার। উদ্রিক্ত হয় নাই তাহা ট্র্যাজেডির অন্তভুক্তি নহে । মানুষ নিটুর ভাগ্যের সহিত 
দুর্দান্ত সংগ্রাম করিয়। ঘখন পরাজিত, সে তাহারই দ্বিধাবিভক্ত অন্তরের “নিদারুণ দ্বন্বে যখন 
ক্ষতবিক্ষত তখনই তে! তাহার ট্র্যাজেডি) কিন্তু সেই ট্র্যাজেডি “নীলদর্পণে' নাই। 
এই নাটকে ছুঃখ আছে, আঘাত আছে কিন্তু সেই ছুঃথ ও আঘাতের বিরুদ্ধে 
অর্বলিষ্ঠ প্রতিরোধ কোথায়? নিছক ছুঃখভোগের মধ্যে ট্রাজেডি নাই, ,বিরুদ্ধ শক্তির কাছে 
শনিক্ষিয় আত্মসমর্পণের মধ্যেও কোন ট্রএজিক মহিমা নাই। আআযারিস্টোটল বলিয়াছেন, 
“12509 1১ 21) 10010801091) 06 2501910) 2190 01100911% 01 01080 2.509011), 
04 7215005 &০৮11)6' | কিন্তু 'নীলদর্পণে”র বিয়োগান্তক চরিত্রগুলির মধ্যে শুই সচল, সক্রিয় 
ভাব আমরা দেখি না। স্বরপুর-বুকোদর নবীনমাধবের বলবীর্ষের কথ। আমরা শুনিয়।ছি, 
কিন্তু ক্ষেত্রমণির উদ্ধ।র দৃশ্ট ব্যতীত আর কোথ।ও তাহার সাক্ষাঁৎ পাই নাই । এআ্্যারিস্টেটল 
আর একটি অতি মুল্যবান কথা বলিয়াছেন - ০৬, 06759183 0955655 ০৩00811) 
20091105১ 1) ৬11006 01 61)511 01815506159 000 25 1980195 0 0১০ 16৬5156 11) 
৮1:00 06 03610 ৪০905 কিন্ত নাটকে গোলোক, নবীনমাঁধব, সাবিত্রী, সৈক্রিজী, 
ক্ষেত্রমণি প্রভৃতির করুণ পরিণতি তাহাদের কোন ওআচরিত কর্মের ফলে হয় নাই। তাহারা 
বাহিরের নিষ্ঠুর অত্যাচারে নীরব আজ্মাছুতি দিল। ইহা নিঃসন্দেহে ছুঃখজনক। কিন্ত 
এই ছুঃখ বিশ্ববিধানের কোন নিগৃঢ, অনির্দেক্ঠ রহশ্যবেদনা আমাদের মনে জাগ্রত করে না। 
রাঃ 'সুণীলকুমার দে মহাশয় বলিয়াছেন, প্রাচীন গ্রীক নাটকের অন্তর্গত যে ট্র্যাজেডি 


দীনবন্ধু মিত্র ৯১ 
পরিকল্পনা! তাহার সহিত নীলদর্পণের করুণ ভাবের সাদৃশ্ঠ আছে।” কিন্তু তাহীও বোধ 
হয় ঠিক নহে। গ্রীক নাটকে যে মারাত্মক ভ্রান্তির ফলে ট্র্যাজেডি অনিবার্য হইয়া! উঠে 
সেই রকম কোন ত্রাস্তিও এই নাটকে নাই। এখানে ছুঃখের কোন কারণ, কোন দায়িত্ব 
নাটকীয় চরিপ্রের মধ্যে নিহিত লাই; সেজন্য এই ছুঃখ তাহাকে করুণ করিয়াছে কিন্ত 

স্জীবস্ত করিতে পারে নাই। নাটকের মধ্যে যে সবব্যাপী বিষাদময়ত। সৃষ্টি করা হইয়াছে 
তাহাও আঅতিকথন ও আতিশয্য-দৌষে সংহত-গম্ভীর রূপ হারাইয়। যেন ট্ষন-তরল ৰূপ প্রাপ্ত 
হইয়াছে । শ্:ঃখের রুদ্রজালার তপ্ত নিশ্বীসে অশ্রুবাম্প শুকাইয়! ধায়, বাঁকাপ্রবাহ সেখানে 
নিরুদ্ধ হইয়া এক নির্বাক অন্তর্বেদনায় গুমরিয়া উঠিতে থাকে । কিন্ত এই নাটকে অশ্রু 
নির'র ছুটিয়াছে, বাক্যের বন্যা বহিয়খছে, দুঃখের জালা-বেদন! ইহাতে সলিল-সমাধি লাভ 
করিয়াছে । ইহাতে মৃত্যুর অসঙ্গত আতিশয্য দেখিয়া মৃত্যুর ভয়াবহতা সম্বন্ধে আমাদের ধারণ। 
মুছিয়! যাঁয়। যেথানে মৃত্যু এত স্থুলভ, এত সহজ সেখানে মৃত্যু আমাদের মনে দুঃখ 
উদ্রেক করে না, আতঙ্কও সঞ্চার করে না। শ্শান-দৃশ্টে মৃত্যুর শোভাষাত্রা দেখিয়া 
আমরা বিচলিত হই না, অথচ কোন কাল্পনিক নায়ক-নায়িকার মৃত্যুর সম্ভাবনায় আমরা 
কীদিয়া আকুল হই। এই নাটকেও মৃত্যু শুধু ঘটানে! হইয়াছে মাত্র; ইহাকে *শিল্পরসের 
অঙ্গীভূত কর! হয় নাই। সেইজন্য ইহা আমাদের চোখের দৃষ্টিতে শেষ হইয়! যাঁয়, মনের 
মর্ম পর্যস্ত আর পৌছিতে পারে না ৭ 
॥ নবীন তপস্থিনী (১৮৬৩) ॥ এই নাঁটকখানির মধ্যে ঘটনাঁর জটিলতা ও বৈচিত্র্য ইহার 
নাটকীয় গতি বৃদ্ধি করিয়াছে । দুইটি কাহিনী গ্রন্থের মধ্যে নাটকীয় রসকে ছুই ভাগে 
বিভক্ত করিয়াছে । রমণীমোহন-তপস্থিনী-বিজয়-কামিনী উপাখ্যান প্রেম এবং বিচ্ছেদমূলক 
এবং জলধর-জগদম্বী-মল্লিকা-মালতী-বিনায়ক ঘটিত কাহিনী হাস্তরসাত্মক। নাটকের নাম 
হইতে মনে হয়, নবীন তপস্থিনী কামিনী এবং তাহার আখ্য'নের উপরেই নাটকের গুরুত্ব 
নির্ভর করিতেছে । কিন্ত পাঠক ও দর্শকের কাছে যে অদ্ভুত কৌতুকজনক গৌণ বিষয়টিই 
অধিকতর চিত্তাকর্ষক ও আদরণীয় তাহ! সকলেই একবাক্যে স্বীকার করিবেন। দীনবন্ধু 
নাটকের অনেক স্থলে মধুস্ছদনের নাটকের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়, একথা পূর্বে আলোচিত 
হইয়াছে। দীনবন্ধু সম্ভবত তাহার প্রতিভার ধর্মকে অগ্রাহ্‌ করিয়া মধুস্থদনকে অনুসরণ 
করিয়া সংস্কৃত নাটকের ন্ঠায় স্থদীর্ঘ কাব্যরসাত্মক উক্তি প্রয়োগ করিয়া প্রেমমূলক নাটক ' 
রচনা! করিতে প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন। বঙ্কিমচন্দ্র লিখিয়াছেন, “দীনবন্ধু ইংরাজী ও সংস্কত 
নাটক নভেল পড়িয়া এই ভ্রমে পড়িয়াছিলেন যে বাংল! কাব্যে বাংলার সমাজস্থিত নায়ক 
নায়িকাকেও লেই ছশ্খচে ঢালা! চাই । কাঁজেই যাহা নাই, যাহার আদর্শ সমাজে নাই, * 
তিনি তাই গড়িতে বসিয়াছিলেন?। প্ররুতপক্ষে সংস্কৃত নাটকের রাজ! ও রাণীর ন্যায় 
অংকিত দীনবন্ধু নাটকের পাত্র-পাত্রী কৃত্রিম ও অস্বাভীবিক হইবাঁর সর্বপ্রধান কারণ এই 
যে, দীনবন্ধু ও সব চরিত্রের 'অন্তকূল আবহাওয়া! (৪00571)616) স্থষ্টি করিতে পারেন 
নাই। যে দূরত্ব'ও মহিমোয়ত বিশিষ্টতা থাকিলে দর্শক ও পাঠক কল্পনা-নয়নে ইহাদের 


৯২ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


কাহিনী স্বাভাবিক মনে করিত, তাঁহার অভাবে এই সব পাত্রপাত্রী নিতীস্ত ঘরোয়া ও 
আধুনিক হইয়! পড়িয়াছে। রাজার বয়স্ত মাধব, সভাসদ ও পগ্ডিতবর্গঃ জলধর ও বিনায়ক, 
সবর! ইহাদের চরিত্র একান্তই আমাদের নচরাচর দৃষ্ট আধুনিক চরিত্র] ন্তরাং এই 
রকম আধুনিক পরিঝেষ্টনীর মধ্যে বিজয় ও কামিনীর প্রেম এবং অভিজ্ঞার্ন দর্শনে দুম 
শকুন্তলার স্ায় এই নাটকে রাজ। ও রাণীর মিলন ব্যাপার বেমানান ও অসংগত হইয়াছে। 
প্রেমে দোষ নাই, এমন কি বঙ্ষিমচন্ত্র-নিন্দিত ০০৩:০51১০ও আপত্তিজনক ন। হইতে 
পারে। কিন্ত সংস্কত নাটকের অন্গকরণে পাত্রপাত্রীর মুখ দিয়া স্কুলম্থিত সংস্কৃত উত্ভিসমূহ 
অত্যন্ত বিরক্তিজনক হইয়াছে । দীনবন্ধু মাইকেলকে অনুসরণ করিয়। মাঝে মাঝে অমিত্র- 
ছন্দে কবিতা ব্যবহার করিয়াছেন, তাহাও নিতীত্ত আড়ষ্ট ও বৈচিত্র্যহীন হইয়াছে। 
নাটকের প্রধান কাহিনীর পাঁশে যে সরস, কৌতুকোজ্জল ও রহস্তপূর্ণ উপাধ্যানটা রহিয়াছে 


তাহার রসোচ্ছুসিত সংঘাতে প্রেম, মিলন, বিরহ প্রভৃতি করুণ ও আদিরসাত্মক বিষয়গুলি 
নিতান্ত মান ও নিশ্রভ হইয়া পড়িয়াছে। 


জলধর-জগদন্বা-মল্লিক।-মালতীর কাহিনীটি শেক্স্পীয়ারের “২০ ড/1৬০৪ ০৫ 
ড/1050:, নাটক অবলম্বনে রচিত ইহাতে সন্দেহের কারণ নাই। উভয় কাহিনীর মধ্যে 
ঘটনা এবং চরিত্রগত বিলক্ষণ সাদৃশ্য বিগ্যমান। শেক্স্পীয়ারের নাটকেও আছে যে সার 
জন ফলস্টাফ মিসেস পেজের কাছে প্রেমপত্র পাঁঠাইয়া তাহাদের প্রেম সম্বন্ধে নিংসন্দেহ 
হন। কিন্ত তিনি তাহার প্রণয়-প্রাবল্যের জন্য নোংরা বন্ত্রথণ্ডের দ্বারা আবৃত হইয়! 
কর্শমান্ত জলে পতিত হন, দ্বিতীয়বার ফোর্ডের হাতে প্রহ্ৃত হন, অবশেষে নকল পরীদের 
খোঁচায় বিব্রত হন। জলধরও দুইবার শান্তি পাঁয়, এবং তাহার শাস্তিও ফলস্টাফের 
অনুরূপ । তবে জগদন্বা চরিত্রটা মৌলিক, এবং এই ছুই «দেবাঁদেবীর মধ্যে ষে লড়াই ও 
পাল্টাপাল্টি চলিয়াছে তাহাতে কাহিনীটি আরে! বেশী সরস হইয়াছে । মল্লিকা ও মালতী 
ষথাক্রমে মিসেস পেজ ও মিসেস ফোর্ডের হ্যায় রঙ্গরসময়ী স্ত্রী (0060 153)» এবং 
তাহাদের সুচতুর বুদ্ধি, ৬1৮ কথাবার্তা ও রংগরসপ্রিয়তা বিশেষ উপভোগ্য । তবে বাঙালী 
ললনার পক্ষে লঙ্জাশীলত। বর্জন করিয়া! এভাঘে একজন পুরুষের সহিত সাহসিক রসিকতা 
কর! একটু অস্বাভাবিক হইয়াছে । 465 ৬/1৬০5এর মধ্যে ঈর্ষাপীড়িত স্বামী ফোর্ড যেমন 
ঠকিয়াছে, দীনবন্ধুর নাটকেও তেমনি রতিকান্ত মা্দতীর সতীত্বে সন্দেহ করিয়া বেয়াকুব 
রনিয়াছে। শেক্স্পীয়ারের প্রহসনথানিতে আগাঁগোড়া কৌতুকরসের উচ্ছল স্তোত প্রবহমান । 
মিস্‌ আনি পেজের প্রণম্নার্থীদের মধ্যে যে কৌতুকাবহ প্রতিত্ন্দিতাকে অবলম্বন করিম! 
দ্বিতীয় কাহিনীটি গড়িয়া উঠিয়াছে তাহা মূল কাহিনীর সহিত স্থকৌশলে লগ্ন হইয়াছে, কিন্ত 
“নবীন তপস্থিনী”র ছুইটী উপাখ্যানের মধ্যে কোনে দৃঢ়-সংলগ্ন যৌগ নাই, একট! কাহিনী 
অপরটার উপর নির্ভরশীল হইয়া উঠে নাই, এবং ফলে' নাটকের এক্য (0016) নষ্ট 
হইয়াছে । নাটকথানির নাম “নবীন তপন্থিনী” হইলেও তপত্থিনী কামিনীর চরিত্র মোটেই 
-উল্লেখযোগ্য নহে। যে রকম তৃচ্ছ কারণ দেখাইয়া কামিনী ও বিজয়ের প্রথম সাক্ষাৎকার এবং 


দীনবন্ধু অিত্র ৯৩ 


পারম্পরিক আকর্ষণ বধিত হইয়াছে তাহ। নিতান্ত দুর্বল ও অবিশ্বাস্য বোধ হয়। বড় রাণীর 
প্রতি রাজার বিদ্বেষ ও সন্দেহ পরোক্ষভাবে দর্শকদিগকে জ্ঞাপিত কর হইয়াছে, নটকের মধ্যে 
গ্রদশিত হয় নাই, সেজন্য রাঁজার অনুতাপদগ্ধ বিলাপ আমাদের কাছে অনর্থক এবং 
আবেদনহীন, রাজা ও রাণীর পুনরায় মিলনও আমাদের আনন্দ উদ্রেক করে না। প্রথম 
অঙ্কের চতুর্থ গর্ভাঙ্কে ঘটকগণের পাত্রী বর্ণনার মধ্যে নাট্যকার বিভিন্ন স্থানের ব্যাপক 
অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়াছেন । 

॥ লীলাবতী (১৮৬৭) ॥ “লীলাবতী” নাট্যকারের পরিণত লেখনীর রচনা । দীনবন্ধু 
উৎসর্গ-পৃষ্ঠায় লিখিয়াছেন_“অপরিমিত আয়াসসহকারে “লীলাবতী”নাটক প্রকটন করিয়াছি ।, 
বিষয়বস্তুর 'রহস্তঘনতায় এই আয়াসের পরিচয় পাওয়া যায় বটে। বস্তত তাহার সমস্ত 
নাটকের মধ্যে “লীলাবতী,ই ঘটনার সংঘাত ও আকম্মিকত। দ্বার দর্শকের মনকে 
সর্বাপেক্ষা বেশি আগগ্রহ-চঞ্চল করিয়া রাখিতে পারে। নাটকের শেষদিকে কাহিনী 
অত্যন্ত গতিমান হইয়া উঠিয়াছে। অরবিন্দ, যোঁগজীবন, চাপ ও তারার পরিচয়ের 
রহস্তশীলতা আমাদের মনকে নিতান্ত কৌতুহলী ও বিপর্যস্ত করে। ইহাদের ব্যক্তিত্ব 
সম্বন্ধে যে বিশ্বাস গড়িয়া ওঠে বার বার তাহ! সজোরে নাড়িয়া দিয়া নাট্যকার 
আমাদের সহিত বথেষ্ট কৌতুক করিয়াছেন। বোগজীবনকে প্রথমে একজন তপস্থী, পরে 
অরবিন্দ, তারপরে একজন ভণ্ড সন্ন্যাসী এবং অবাশষে একজন “আউরাৎ, বুঝিতে পারিয়া 
ইন্স্পেক্টারের মত দর্শকেরও বলিতে হচ্ছা হয়_-“আঁমি বড় হয়রান হয়েছে । অবশ্য 
নাট্যকার ক্ষীরোদবাঁসিনীর সতীত্বের প্রশ্ন নিরসন করিয়া দিবার জন্যই যোগজীবনকে 
ঠাঁপারূপে পরিণত করিয়াছেন বটে, কিন্তু এই রকম একজন করিতকর্ম। সন্্যাসী যে 
প্রকৃত একজন স্ত্রীলোক-__ইহা আমাদের বিশ্বীসে আঘাত করে। চরিত্রের সবল 
সংঘর্ষ ও “লীলাবতী'কে বিশেষ নাটকীয় রসসম্পন্ন করিয়! তুলিয়াছে। লীলাবতীর বিবাহ 
নির্ণয় এবং ভাগ্য নিয়ন্ত্রণে একদিকে হরবিলাঁস, ভোলানাথ এবং নদেরঠাদ এবং অন্তু 
দিকে শ্রীনাথ, দিদ্ধেশ্বর এবং ললিতমোহন ছুই প্রবল প্রতিপক্ষের সৃষ্টি করিয়াছে। 
ললিত এবং লীলাঁবতীর একাগ্র অনুরাগ বাধাপ্রাপ্ত এবং বিত্বগ্রস্ত হওয়াতে পাঠক ও 
দর্শকের সহানুভূতি আকর্ষণ করিতে সমর্থ হয়। অবশ্য কাহিনীর এম২কারিত্ব সত্বেও 
ইহার মধ্যে দুর্বল অংশও আছে। অরবিন্দের নিরুদ্দেশ এবং তাহার পুনরাগমন দর্শকের 
কাছে আগ্রহোদ্দীপক নয়। অরবিন্দ যদি প্ররুতই কোনো অন্যায় করিত, তবে তাহার 
প্রীয়শ্চিন্তের সার্থকত। থাকিত। কিন্ত সামান্ত ভুল এবং লোকাপবাঁদের জন্যই সে গৃহ 
হইতে বাহির হইয়। তপশ্র্যায় নিরত হইল । তাহার নিরুদ্দেশে ক্ষীরোদবাসিনীর মর্মীস্তিক . 
বিলাপ এবং প্রত্যাগমনে সকলের আনন্দোল্লাস দেখিয়া বলিতে ইচ্ছা হয় যে, এতো 
সবের কোনই প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু একথা সত্য বটে যে অরবিন্দের নিরুদ্দেশের 
জন্ট নাটকের বৈচিত্র্য ও দ্বন্দ যথেষ্ট বাড়িয়াছে। 

'লীলাবতী-প্রেম এবং প্রেমের ঘাত-প্রতিঘাঁতমূলক নাটক। কিন্তু দীনবন্ধু কোনো! 


৯৪ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


নাটকেই আদ্দিরস বর্ণনীয় কৃতিত্বের পরিচয় দেন নাই, এবং এই নাটকেও তিনি 
শোঁচনীয়ভাবে ব্যর্থকাম হইয়াছেন। ললিত এবং লীলাবতীর প্রেমের দৃশ্য আমাদের 
মনে আনন্দের পরিবর্তে ভীতির সঞ্চারই করে। নাটকখানি প্রকাশিত হওয়ার পর 
যখন অভিনীত হয় তখনও দর্শকগণ ললিত এবং লীলার প্রেমপূর্ণ কথোপকথনে নিতান্ত 
বিরক্ত হইত। ইহার কারণ বিশ্লেষণে “অমুতবাজার পত্রিকা” যে অতি উৎকুষ্ট সমালোচন! 
করেন আমর! তাহার সহিত সম্পূর্ণ একমত হইয়! নিয়ে উদ্ধৃত করিয়া দিলাম ।১ 

দীনবন্ধু অনেক নাঁটকেই সামাজিক কুপ্রথা নিয়া আলোচনা করিয়াছেন। এই 
নাটকেও তিনি কৌলীন্তপ্রথার অনিষ্টকারিতা৷ দেখাইতে চেষ্টা করিয়াছেন । তখনকার সমাঁজ- 
স্কার আন্দোলনে তীহার সাগ্রহ সমর্থন ছিল। 'লীলাবতী*তেও ব্রাহ্ম আন্দোলন এবং 
স্ত্ীশিক্ষার প্রতি তাহার অনুরাগ পরিস্ফুট হইয়াছে । কিন্ত আশ্চর্যের বিষয় তিনি বাহাঁদিগকে 
সমর্থন ও প্রশংসা করিতেন, যাহাদিগের মহত্ব বহুতর সুদীর্ঘ উক্তির মধ্য দিয়া প্রকাশ করিতে 
চাঁহিতেন তাহারা আমাদের সহানুভূতি আকর্ষণ করিতে পারে না। শালীনতা১.সদাচার 
সতীত্ব "প্রভৃতি মহৎ মহত গুণগুলি দ্বারা তিনি কয়েকটি চরিত্রকে কেবল ভারগ্রন্ত 
করিয়াছেন, স্বাভাবিক করিতে পারেন নাই। নায়ক ললিত, সীল সুবোধ ও সদাঁচারী 
বটে, কিন্তু বিশেষত্ব-বঞ্িত এবং প্রভাবহীন। নায়িকা! লীলাবতীর চরিত্রও আভড্ষ্ট ও 
আবেদনহীন। দীনবন্ধু শিক্ষিত! ব্রাহ্মভাবাপন্া স্ত্রী চরিত্র আীকিতে যাইয়া আমাদিগকে নিরাশ 
করিয়াছেন। লীলার মিলনানন্দ ও বিরহ-বেদনা-_ছুইটাই সমানভাবে বিরক্তিকর । 
সংস্কারনিষ্ট, পুত্রবিচ্ছেদকাতির, কন্তাবংসল পিতা হরবিল্ণাসের চরিত্র দর্শকের মনের পরে স্থায়ী 
প্রভাব বিস্তার করিতে পারে। এই ধরণের দৃঢ়চেতা অথচ প্রাচীনপন্থী, হন্পূর্ণ চরিত্র 


১1...'লীপাবতী ন।টকের উতকৃষ্ট অংশ ললিত ও লীল।বতীর প্রেমালীপ, সেই সময় শ্রোতৃবগ 
বিরক্তি প্রকাশ করেন কেন? আমর ইহার প্রকৃত কারণ নির্দেশ করি। একখানি পাঠ্যোপযোগী 
নাটক স।ধারণতং অভিনয়োপযোগী হয় না। পাঠের সময় আমরা অনেক বিষয় ভুলিয়। যাই, 
অনেক স্থু।নে চিন্ত। করিয়। অর্থ করিয়! অর্থ করিয়! লই । অনেক স্থলে একটা ভাবে নানা ভাবের উদয় হয় 
অভিনয়ের সময় আমর] প্রকৃত অবস্থায় অবস্থিতি করিয়া জীবনের কার্য্যগুলি গুতক্ষ দেখিতে আশা 
করি, সুতরাং দে সময় স্বভাবের ব্যতিক্রম ঘটিলে আমরা সুখ বেধ করিতে পারি না, প্রত 
বিরজি প্রকাশ করিয়া থাকি। এই জন্য প্রধান প্রধান লেখকর্দিগের নাটকও অভিনয়ে!পযে।গী 
করিবার জন্য পরিবর্তিত করিয়া লওয়। হয়। পাঁঠকাঁলীন যাহাই হউক অভিনয়ের সময় দুই ব্যক্তির 
পদ্যে কথোপকথন এদেশীয়দের রুচিবিরুদ্ধ ও বিরক্তিজনক এই জন্য দেদিন ললিত ও লীলবতীর 
প্রেমালাপের সময় অনেকে ইংর।জিতে “প্রেমিকের প্রেমালাপে ক্ষান্ত হউন বলিয়া বারগ্বার চীৎকার 
করিয়াছিলেন। লীলাবন্তী রোগ বাঁ বিরহ শয্যায় অচেতন হইয়া আছেন, ভীহা'র মুখ দিয়া তখন 

কবিতান্রোত বাহির হওয়। অন্বাভাবিক। ৃঁ 

অমৃতবাঁজার পত্রিক1--১১ই জানুয়ারী, ১৮৭৩। 

('বজীয় নাট্যশালার ইতিহাস'-_পৃঃ ১২৭ হইতে পুনরুদ্ধত।) 


দীনবন্ধু মিত্র ৯৫ 
দীনবন্ধুর অন্ত কোনে! নাটকে দেখা যায় না। পরবর্তীকালে গিরিশচন্্র প্রভৃতি এই শ্রেণীর 
চরিত্র অনেক স্জন করিয়াছেন, স্থঅভিনয়ে উজ্জল হইয়া! অনেকগুলি চরিত্র দর্শকের মনে 
অমর হইয়া আছে।১ হরবিলাসের অনমনীয় দৃঢ়তা এবং কুলীন পাত্রে কন্তা সমর্পণ ও 
পোর্পুত্র গ্রহণে স্থির সংকল্পের জন্তই নাটকের অন্ান্য চরিত্র ক্রিয়াশীল এবং সংঘাতমূলক 
হইয়া উঠিয়াছে। হরবিলসই সমস্ত ঘটনার শক্তিমান নিয়ন্্রী। 

দীনবন্ধুর অন্যান্য নাটক এবং প্রহসনের ন্যায় এই নাটকেও যে চরিত্রগুলি নিন্দিত 
এবং ঘ্বণিত তাহীরাই পাঠক ও দর্শকের কৌতুহলী এবং আগ্রহসিক্ত দৃষ্টিকে অব্যাহতভাবে 
জাগাইয়! রাখে । আত্মীয় চিত্তের অজ্ঞাত সহাম্থৃভূতি যে গোপনে ইহাদের চরিত্র সরস মাধুর্যে 
গড়িয়া তুলিয়াঁছে, সম্ভবত স্বয়ং নাট্যক।রও তাহা জানিতে পারেন নাই। মূর্খ, নির্বোধ, 
নেশীখোর নদেরটাদ ও হেমটাদ কৌতুকরসে দর্শকের মন পূর্ণ করিয়া রাখে। পাত্রী দেখিতে 
যাইয়। নদেরঠাদ ও হেম্াদ যে বিদ্যা, বুদ্ধি ও বাগ্মিতার পরিচয় দিয়াছে, তাহা যথেষ্ট 
কৌতুকপূর্ণ ও আনন্দদায়ক হইয়াছে । “হরিণের শিংঃ “দীনেন ন ক্ষয়ং ব।তি স্ত্রীরত্ব মহাধনং, 
ইত্য।দি কথা শিক্ষিত দর্শককে যথেষ্ট অ।মোদ দিতে পারে । নদেরটাদের ন্যয় অধ: পতিত, 
মূর্খ ও ধিকুত চরিত্র আমাদের অবজ্ঞামিশ্রিত অনুকম্পার উদ্রেক করে। শ্রীনাথের 160 
ব্যঞ্গবিজ্রপ নিমচাদের কথ। স্মরণ করাইয়া দেয়। শ্রীনাথ নিজে মছ্যপায়ী, আড্ডাধারী-- 
দোষ ও ছুর্নীতির অভিজ্ঞতা তাহার আছে। সেজন্য তাহার ব্যঙ্গ.ও উপহাস অব্যর্থ ও 
চিরস্থায়ী । গোরু খেদাইতে সে গাছের মোটা ডাল বাছিয়! নেয়, পাতলা ছড়ি ব্যবহার 
করেনা । ললিত এবং সিদ্ধেশ্বরের তিরস্কার এবং উপদেশ শিরোধার্য বটে, কিন্ত 
মমস্পশী নচে। 

॥ কমলে কামিনী (১৮৭৩) ॥ “কমলেকামিনী” দীনবন্ধুর সর্বশেষ নাটক । দীনবন্ধু অন্যান্য 
ন(টিকে রাঁজা, রাণী এবং এতিহাসিক বৃত্তান্ত থাকিলেও প্রহসনের পরিচিত আবেষ্টনীর আঘাতে 
নাটকের গুরুত্ব তরল হইয়। গিয়াছে। কিন্তু এই ন।টকেই কেবলমাত্র পূর্বাপর এ্তিহাঁসিক 
চরিত্রোপযোগী গম্ভীর পরিবেশ রক্ষা করিবার চেষ্টা কর! হইয়াছে। কিন্তু হাশ্যরসলিগ্প, 
ন[ট্যকার জায়গায় জায়গায় তরল হস্ত পরিহীসের দ্বারা নাটকের রসে ব্যাঘাত 
জন্মাইয়।ছেন। দীনবন্ধুর অন্যান্য নাটকে হাস্তরসই প্রাণ, কিন্ত এই নাটকে হাস্তরস 
অনেক স্থলেই মূলরসের পরিপন্থী এবং বিরক্তিজনক হইয়াছে। এতিহীসিক কিনা 
বীররসাশ্রিত নাটক রচনার প্রতিভা দীনবন্ধু ছিল না, সুতরাং নাটক হিসাবে এইখানাও 
ব্যর্থ ও অসার হইয়াছে । 


১। হরবিলাসের ভূমিকায় 'বাগবাজ।র এমেচার থিয়েটারে, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা অধেনুশেখর মুস্তাফী 
অবতীর্ণ হইয়। যথেষ্ট প্রশংসা লাভ করিয়াছিলেন। 
'বঙ্গীয় নাটাশাল।র ইতিহাস, পৃঃ ৯৭ দ্রষ্টব্য । 


৯৬ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


দীন্বন্ধুর অনেকগুলি নাটকে জন্মবৃত্তীস্ত এবং প্রকৃত পরিচয়ের গোলমাল দেখান 
হইয়াছে । এই নাটকেও শিখগ্ডিবাহনের জন্ম প্রথমে রহস্থাচ্ছন্ন॥ এবং পরিশেষে রহস্য 
উদ্বাটনে নাটকের সমাপ্তি হইয়াছে । কিন্ত জন্মঅপবাদের জন্য শিখপ্ডিবাহনের মনে 
কোন ক্ষোভ কিংব। দ্বন্দ নাই, এবং তাহার চরিত্র বিকাশেও ইহা তেমন বাধ! দিতে পারে 
নাই। ব্রঙ্গরাজ প্রথমে জারজ বলিয়। তাহার সহিত স্বীয় কন্যার বিবাহ দিতে সামান্য 
আপত্তি করিয়াছিলেন বটে; কিন্তু অবশেষে তাহার সৌন্দর্য ও বীর্য দর্শনে তাহাকে স্থায় 
কন্যা এবং কাছাড় সিংহাসন প্রদান করিতে সম্মত হন। শিখগ্ডিবাহন এবং রণকল্যাণার 
মিলণেও কোনে বাধা উপস্থিত ভয় নাই। সুতরাং নাটকের শেষদিকে ঘটা করিয়। 
শিখগ্ডিবাঁহনের প্রকৃত পরিচয় প্রদান করিয়া ঘটনার গতি বিশেষ পরিবর্তন করিতে পার! 
বাঁয় নাই। “কমলে-কামিনী” অভিনয়ের পক্ষে নিতান্ত অনুপযোগী নাটক । শিখগ্ডিবাহন 
এবং রণকল্যাণীর প্রথম সাক্ষ।ৎকার-দৃশ্ঠটি রঙ্গমঞ্চে দেখান সম্ভব নহে। অশ্ব।রূঢ় শিখগ্ডিবাহন, 
প্রাসাদউপরিস্থ রণকল্য1ণী, উপর হইতে নিম্পে মাল! নিক্ষেপ ইত্যাদি ব্যাপার সাধারণ 
রঙ্গশঞ্চে প্রদর্শন কর। অসাধ্য । অশ্বপৃষ্ঠলগ্ন বকেশ্বরের হাস্তরসাত্মক দৃশ্ঠটীও প্রদধিতব্য নহে। 
নাটকের মধ্যে অবান্তর এবং বিরক্তিকর দৃশ্ঠ বথেষ্ট আছে। চতুর্ধ অঙ্কের দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে 
রণকল্যাণীর দরিদিমাকে দিয়! স্থল হাস্তরসের দৃশ্ঠটি নিতান্ত অপ্রয়োজনীয় । তৃতীয় অঙ্কের 
প্রথম গর্ভাঙ্কে বক্ষেশ্বর এবং পারিধদবর্গের যে নির্জলা ভাড়ামির চিত্রটী দেওয়া হইয়াছে, 
তাহাও দর্শকের ধৈর্যের উপর যথেষ্ট অত্যাচার করে। নাটকের মধ্যে রামলীলার যে দৃশ্য 
দেখান হইয়াছে তাহা সংস্কৃত নাটকের মদনোৎসবকে স্মরণ করাইয়া দেয়। নাটকের স্ত্রী 
ভূমিকাগুলি পুরুষ চরিত্রগুলি অপেক্ষা অধিকতর জীবন্ত । বিশেষত রণকল্যাণীর প্রখরবুদ্ধি- 
শালিনী রঙ্গরসবত্তী সখী সুরবালার ক্রিয়াকলাপ এবং কথাবার্তা বিশেষ মনোহারী হইয়াছে । 





তৃতীয় গর্ভাঙ্ক 
অপেরা বা গীতাভিনয় 


বাঙালীর মন স্বভাবতই কৌমল এবং ভাবপ্রবণ। সেজন্য তরল, উচ্ছ্বাসময় ভক্তিধার' 
তাহার অন্তরে যেমন সহজে প্রবেশ করিতে পারিয়াছে, এমন আর কিছুই পারে নাই। 
রঙ্গালয় প্রতিষ্ঠার পরে পাধিব ঘাতপ্রতিঘাঁতমূলক নাটক দেখিবার স্থযোগ পাইলেও দর্শক- 
সাধারণ ধর্মমূলক, ভাঁবতরল যাত্রা দেখিতে অভিলাধী ছিল। নাটকের প্রচলন হইলেও 
সর্বত্র রঙ্গালয় স্থাপন করা সম্ভব এবং সাধ্য ছিল না। এই ছুই কারণেই নাটকের মত 
লিখিত অথচ যাত্রার ন্যায় অভিনেতব্য এইরূপ একপ্রকার দৃশ্যকাব্যের উদ্ভব হইল।- ইহাকে 
অপেরা বা গীতাভিনয় বলা হইত। ইহার সম্বন্ধে পূর্বেও আলোচনা হইয়াছে । অপেরা 
লিখিয়। ধাহারা খ্যাঁতিলাভ করেন তাহাদের মধ্যে মনোমোহন শ্রেষ্ঠ । মনোমোহনের পরে 
তাহার অনুসরণে বহুতর অপেরালেখক তাহাদের নাটকের দ্বারা বাঁঙল৷ সাহিত্য-ক্ষেত্র 
প্লাবিত করিয়া ফেলিয়াছিলেন। 


মনোমোহন বনু 
(ক) গীতাভিনয় 


মাইকেল এখং দীনবন্ধুর পরে বাংল! নাটক সাধারণত পাশ্চাত্য রীতিতে রচিত 
হইলেও প্রাচ্য রীতি একেবারেই লুপ্ত হইয়। ষায় নাই । মনোমোহন বস্থ ইহাদের পরবর্তী 
(১৮৩১--১৯১২) হইলেও, তিনি প্রাচ্য আদর্শ অনুসরণ করিয়া নাটক প্রণয়ন 
করিয়াছিলেন।১ মনোমোহন দুই তিনখানা সামাজিক নাটক লিখিয়াছেন বটে, কিন্তু 
নূতন ধরণের পৌরাণিক নাটক রচনা করিয়াই তিনি তাহার স্বাতন্থ্য প্রতিষ্ঠিত করিয়া 
গিয়াছেন। বাংল! নাটক প্রচলিত হইবার পূর্বে পৌরাণিক কাহিনী ও উপাধ্যান লইয়া 
যাত্র! রচিত হইত। যাত্রাগুলি এককালে বিশেষ জনপ্রিয় হইলেও ক্রমে' ক্রমে বৈচিত্র্যহীনতার 
জন্য এবং রুচি পরিবর্তনের ফলে লোকের কাছে অনাদৃত হইয়৷ পড়ে। যাত্রার বিষয়গুলি. 


১। এদেশের নাটককারগণ ছুই শ্রেণীতে বিভা(জত । একশ্রেণীর নাম ইংরাজীনবিশ |. আর এক 
শ্রেণীর নাম বাংলানবিশ। বাংলানবিশদিগের মধ্যে মনোমোহন বাবুই সর্বশ্রেষ্ঠ, এবং আমর! এইজন্য বছদিন 
হইতেই ইহার গণ পক্ষপাতী ।' 


বান্ধব, বৈশাখ, ১২৮৮ সাল 
১৩ 


৯৮ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


খুবই সীমাবদ্ধ, সাধারণত কৃষ্ণলীলা বিষয়ক কোনো! পাল! লইয়া যাত্রাগান হইত, এবং 
এইরূপ বিষয়ের গতান্ুগতিকতা লোকের মন আর আকর্ষণ করিতে পারিত না। যাত্রাগুলির 
মধ্যে যে নিয় রুচি ও অশ্লীল রসের অবতারণা থাকিত তাহাও পাশ্চাত্যশিক্ষাপুষ্ট জনসাধারণ 
প্রশংসার চোখে দেখিত না। থিয়েটারের প্রবর্তনের ফলে লোকে আধুনিক রুচিসম্মত 
নাটকের অভিনয় দেখিবার সুযোগ পাইল বটে; কিন্তু সর্বসাধারণের পক্ষে বহু ব্যয়সাধ্য 
রঙ্গাঁলয় স্কাপন এবং অভিনয় দর্শন সম্ভব হইত নাঁ। সুতরাং তখন হইতে নাটকের ধরণে 
রচিত, অথচ রঙ্গমঞ্চের অভাবেও অভিনেতব্য এইরূপ একপ্রকার দৃশ্ঠকাব্যের উদ্ভব হয় ) 
ইহাকে অপের! বা গীতাভিনয় বলা হইয়া থাঁকে।১ এই রকম নাটকের মধ্যে দৃশ্তপটের 
অভাব গীতের আধিক্য দ্বারা পরিপূর্ণ হইত। যাত্রার ন্যায় ইহাতেও ভক্তি এবং করুণ রসের 
প্রাবল্য থাঁকিত, তবে যাত্রা অপেক্ষা ইহাঁতে সাজপোষাকের বৈচিত্র্য এবং ভাষার অধিকতর 
শালীনতা ও পারিপাট্য দেখ! যাইত ।২ দৃশ্ঠ সংযোগ এবং ঘটনা সংস্থাপনের দিক দিয়া এই 
সব অপেরা বা গীতাঁভিনয় নাটকের সমধর্মী। বস্তত তৎকালীন অনেক প্রসিদ্ধ নাটক 
রঙ্গমঞ্চের বাঁহিরে গীতাঁভিনয়র্ূপে অভিনীত হইত ।৩ মনোঁমোহন বস্থুর নাঁটকগুলি 
আলোচন। করিলে মনে হয় যে, খাঁটি নাটক অপেক্ষা এইগুলিকে গীতাঁভিনয় নাম দেওয়া 
অধিকতর সঙ্গত । মনোমোহন প্রধানত একজন গীতিকার ছিলেন। বাল্যকাল হইতেই 
কবি, হাফ-আখড়াই, পাঁচালী প্রভৃতি রচনায় তিনি সিদ্ধহস্ত ছিলেন। এই সমস্ত গাঁনের রসে 
তাহার চিত্ত সিক্ত ছিল, সেজন্ত নাটক লিখিতে যাইয়! ইহাদের প্রভাব তিনি অতিক্রম 
করিতে পারেন নাই । তাহার সব নাটকেই গীতের অত্যধিক প্রাচ্য বিদ্যমান, এমন কি 
তাহার সামাজিক নাটকেও এই নিয়মের ব্যতিক্রম নাই। তিনি বুবিয়াছিলেন, আমাদের 
দেশের লৌকের! সঙ্গীতের বিশেষ অনুরাগী । সেজন্য তিনি স্বীয় নাটকের গীতের বহুলতা 


,১1 ইংরেজী শিক্ষার ফলে এদেশের শিক্ষিত ভদ্রলোকগণ যাত্রা ও যাত্রায় প্রদণিত মামুলি কালুয়া- 
ভুলুয়া, কৃষ-গোঁপিনী, বিদ্যাগ্রনদর প্রভৃতির প্রতি বীতর।গ হইয়া নাট্যাভিনয় সপ্বদ্ধে উৎসাহী হইয়! উঠিয়াছিলেন, 
কৈস্ত সকলের পক্ষে পাইকপাঁড়ার রাজাদের মত অঞ্জন অর্থব্যয় করিয়! নাটযশালাস্থাপন সম্ভব নয়, সেজম্ আ'নকে 
গীতাভিনয় কর।ইতেন । | 

“হিন্দু পের্রয়টে'র মন্তব্য-_জেন্দরবাবু ছার! পুনর!লোচিত-_নাট/শীলার ইতিহাস" পৃঃ ৮৮। ৮ 

২ ]া। 80 07061% 0061৩ 15 & ৮8165 01 0:7:988 8100. 008607069, 616290 19110209£5 8180. 
0৮116] 17000910£ 0010£9, 

17080168206, ০). ঘ, 05 00610670075 500 1095 30062 0. 193, 

৩। রামনা রায়ণের 'রত্ব।বলী', কা'লীপগ্রসন্র 'সাবিত্রী-সত্যবান' এবং মাইকেলের 'পত্মাধতী' গীতা ভিনয় 
রূপে অভিনীত হইয়াঁছিল। 


মনোমোহন বলত : ৯৯ 
আমাদের দেশের পক্ষে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং লোকরঞ্জক বলিয়া! মনে করিয়াছিলেন ।১ 
রঙ্গমঞ্জের মধ্যে দৃশ্তপটের সাহায্যে অনেক নৈসর্গিক চিত্র উপস্থাপিত কর! হইয়৷ থাকে, 
দৃশ্তপটের অভাবে কথার মধ্য দিয়া অনেক প্রাকৃতিক চিত্র ফুটাইয়৷ তোল! দরকার হইতে 
পারে, এবং দেজন্ঠ গীতাভিনয়ে সংলাপ দীর্ঘ এবং কবিত্বপূর্ণ হয়। মনোমোহনের নাটকের 
সংলাপও অধিকাংশস্থলে খুব দীর্ঘ, এবং নাট্যকার সংস্কৃত শব্দ এবং সংস্কৃত রূপক, উপমা! 
প্রভৃতি দ্বারা ইহাকে কবিত্বময় করিব!র চেষ্ট। করিয়াছেন বটে, কিন্তু তাহার চেষ্টা অনেক 
স্থলেই ব্যর্থ এবং নিক্ষল হইয়াছে । সংস্কৃত শব্ধ এবং অলংকার বাংল! ভাঁষার সহিত মাঁনাইয়া, 
থাপ খাওয়াইয়া ব্যবহার করিতে না! পারিলে ইহা নিতান্ত কৃত্রিম এবং অস্বাভাবিক হয়) 
মনোমোহনের নাটকে তাহাই হইয়াছে । দুঃখ এবং বিলাঁপের স্থলেই উক্তি সর্বাপেক্ষা দীর্ঘ 
হইয়াছে, এবং ভাষাও এখানে অত্যন্ত ভারপ্রস্ত হইয়া পড়িয়াছে। মনোমোহনের নাটকে 
গীতের বাহুল্য তো আছেই, এবং মাঝে মাঝে পয়ার অথবা! লৎুত্রিপদী ছন্দে কবিতাও আঁছে। 
দীনবন্ধুর মতো তিনিও কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের শিক্ত, এবং উভয়েই নাঁটকের মধ্যে অযথা গুরুর 
কাব্যধারার পরিচয় রাখিয়। গিয়াছেন। দীনবন্ধুর ন্যায় মনোমোহনের নাটকেও অনেক' ছড়া- 
প্রবাদ রহিয়াছে বটে, কিন্তু দীনবন্ধুর ছড়া! প্রবাদগুলি যেমন স্বতঃস্ফুৃতির আবেগে প্রাণময় 
হইয়! উঠিয়াছে, মনোমোহনের সেইরূপ হয় নাই। তিনি সংস্কৃত নাটকের রীতি বহুলাংশে 
গ্রহণ করিয়াছিলেন বলিয়! তাহার অধিকাংশ নাটকে সংস্কৃত নাটকের অনুকরণে প্রাথমিক 
প্রন্তাবনার মধ্যে নট-নটার কথোপকথনে বক্ষ্যমাঁণ বিষয়ের ইঙ্গিত কর! হইয়াছে । যাত্রা 
ও গীতাভিনয়ের প্রধান ধর্ম করুণরসের আধিক্য তাঁহার নাটকে ভালোভাবেই রহিয়াছে । 
এই করুণরসের নির্ঝর পাঁষাণ হৃদয় বিদীর্ণ করিয়া বহির্গত হয় নাই। ইহা নিতাস্তই 
কোমল জলাস্ান হইতে স্বতৌচ্ছুসিতভাবে নির্গত হইয়াছে। জটিল ঘটনার অনিবার্য 
প্রবাহের মধ্য দিয়া করুণরস স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হয় নাই, সংলাপের ক্ষেত্রে করুণ 
রস সেচন কর! হইয়াছে । সেজন্য কারুণ্যের মধ্যে অনেক স্থলেই নাট্যকারের হস্তম্পর্শ 
স্পষ্ট হইয়া উঠিয়াছে। অনেক সময়েই পাত্র-পাত্রার| যথাসাধ্য কাদিয়াও আমাদিগকে 
কাদাইতে পারে নাই। 


১। “সতীনাটকে'র ভুমিকায় মনোমোহন লিিয়াছেন_-ইউরোপে নাটককাব্যে গান অল্পই থাকে, 
আমাদের তথাবিধ গ্রন্থে গীতাধিক্যের প্রয়োজন । এটী জাতীয় রুচিতেদে ম্বাতাবিক | যে দেশের বেদ অবধি 
গুরুমহাশয়ের পাঠশালায় ধারাঁপাত পাঠ পর্যন্ত স্বর সংযোগ ভিন্ন সাধিত হয় না; যে দেশের অপর সাধারণ * 
জনগণ পরাধীনতার জঙ্ত সর্বপ্রকাঁর হীনতা ও দ্ীনতার হস্তে পড়িয়াও পূর্ব গাব্ষর্ববিদ্ার উন্নত অল্ের সে সঙ্গে 
নান! রঙ্গে অত্র বঙ্গে যাত্রা, কবি, পাঁচালী, ফুল ও হাফ আখড়াই, কীর্তন, তজ4, মরিচা, ভজন প্রভৃতি নিতা নূতন 
সঙ্গীতামোদে আবহমান ঘোর আমোদী ; ,অধিক কি, যে দেশের দিবাঁতিক্ষু ও পথভিথারীরাও গান ন! শুনাইলে 
পর্যাপ্ত তিক্ষান্ন পাইতে-পারে না, সে দেশের দৃগ্ঠ কাঁবা যে সঙ্গীতাত্মক হইবে, ইহা বিচিত্র কি ?' 


১০৩ বাংল! নাটকের ইতিহাস র 


মনোমোহনের পৌরাণিক চরিত্রগুলি নিতীত্তই সাধারণ মানবীয় চরিত্র হইয়া 
পড়িয়াছে। অতীত পুরাঁণ কিংবা ব্বর্গ হইতে তাহারা আসিয়া যেন আমাদের ঘর সংসারে 
প্রবেশ করিয়াছে । সাধারণ দর্শকেরা দেব দেবী এবং পৌরাণিক চরিত্র এইরূপ সহজ ও 
সাধারণ দেখিতেই ভালোবাসে এবং মনোমোহন তাহাদের দিকে লক্ষ্য রাখিয়াই নাটক 
প্রণয়ন করিয়াছিলেন। পরবর্তী কালে গিরিশচন্দ্েরে পৌরাণিক নাটকে যে রকম 
আধ্যাত্মিকতা ও তব্বময়তা ফুটিয়। উঠিয়াছিল মনৌমোহনের নাটকে তাহার কোনো! আভাস 
নাই। সাধারণের রুচি সন্তষ্ট করার উদ্দেশ্ট ছিল বলিয়াই তিনি পৌরাণিক নাটকেও 
অনেক স্কুল, হাশ্যরসাত্মক বিষয়ের অবতাঁরণ। করিয়াছেন । 


॥ রামাভিষেক নাটক অথব। রামের অধিবাস ও বমবাস ( ১৮৬৭ )॥-_ইহাই 
মনোমোহনের প্রথম পৌরাণিক নাটক। রানের অভিষেকের আয়োজন হইতে বনগমন পর্যস্ত 
নাটকের মধ্যে বণিত হইয়াছে । নাট্যকার রামায়ণের প্রসিদ্ধ করুণরসাঁত্রক অংশ অবলম্বন 
করিয়া তাহার নাট্যরূপ দিয়াছেন,১ কোনে। স্থলেই পরিবর্ধন কিংবা! পরিবর্জন করেন নাই। 
সেজন্য কাহিনীর দিক দিয়া আলোচনা করিবার কিছুই নাই। তবে নাট্যকার কাহিনীর 
আরম্ভ ও পরিণতি সাঁজাইয়৷ নাট্যজ্ঞানের পরিচয় দিয়াছেন। অভিষেকের আনন্দ 
উৎসবের সহিত বনগমনের বিষাদ বেদনার অতি স্থন্দর বৈপরীত্য সৃষ্টি করা হইয়াছে। 
দশরথের উপায়হীন বেদনা, ছুরতিক্রম্য সঙ্কটের মধ্যে পতিত হইয়! তাহার আত্মঘাতী বিলাপ 
খুবই করুণরসপূর্ণ হইয়! উঠিয়াছে। মর্সাস্তিক ছুঃখ করিতে করিতে তাহার মৃত্যু ঘটার 
স্থলেই নাটকের উপসংহার হওয়ায় নাটক উপভোগের পর তীহার বিষাঁদময় চরিত্রের 
প্রভাব আমাদের অন্তঃকরণ আচ্ছন্ন করিয়! রাখে । বোঁধ হয় মনোমোহনের কেবলমাত্র 
এই নাঁটকখানারই পরিণতি বিয়োগান্ত হইয়াছে, এবং তাহাতে নাটক হিসাবে ইহার মূল্য 
বাঁড়িয়াছে বই কমে নাই। এই নাটকের প্রথমে চাঁষাদের পূর্ববঙ্গীয় ভাষায় যে 
কথোপকথন সঙ্গিবেশ করা হইয়াছে তাহা নেহাত দর্শকদের হাস্যরস উদ্রেক করার জন্য 
বটে, কিন্তু ত্রেতাযুগের কাহিনীর মধ্যে আধুনিক চাষার দৃশ্ট নেহাত বেমানান ও অসঙ্গত 
হুইয়াছে। ইহাঁতে আমাদের রসাচ্ছন্ন দৃষ্টি যেন খণ্ডিত করা হইয়াছে । 


॥ সতী (১৮৭৩) ॥ শিব অনার্ধ দেবতা বলিয়! বহুদিন আর্ধসমীজে স্থান পান নাই। 
দক্ষযজ্ঞে শিব অন্ঠান্ত দেবতার সহিত নিমন্ত্রিত হন নাই, ইহার দ্বারাই প্রমাণিত হয় যে তিনি 
আর্ধেতর সমাজসম্ভৃত। যাহা হউক দক্ষযজ্ঞের স্ুপ্রচলিত কাহিনী আশ্রয় করিয়াই “সতী নাটক, 
রচিত হইয়াছে । মনোমোহন তাহার গ্রায় সমন্ত নাটকেই কাঁহিনীকে নাটকের উপযোগী 


১। “যে সপ্তকাগ্ময় কল্পপ!দপ, সমস্ত ভারতবর্ধায় কাব/কাননের বীজবৃক্ষ স্বপ; এই নাটকখানি 
তাহারি একটা পল্লব মাকে আশ্রয় করিয়া প্রকাশিত হইল । 


'বামাডিষেক নাটকে" প্রণম বারের বিজ্ঞাপন । 


মনোমোহন বঙ্গ ১০১ 


করিয়! তুলিতে বিশেষ তৎপরতার পরিচয় দিয়াছেন। “সতী নাঁটকে” সতীর চরিত্রই প্রধান 
বণিতব্য বিষয়। সেইজন্য সতীর দেহত্যার্গেই নাটকের শেষ হইয়াছে । নাট্যকার দক্ষষজ্ঞতঙ্গ 
প্রভৃতি নিতান্ত লোভনীয় এবং আকর্ষণীয় বিষয় পরিত্যাগ করিয়াছেন। মনোমোহনের 
নাটকে অবান্তর কিংবা অহেতুক অংশ খুব কমই থাকাতে নাট্যকীররূপে তিনি প্রশংসাঁভাজন 
সন্দেহ নাই । “সতী নাটক” দেব দেবীর লীল! লইয়া রচিত হইলেও ইহা একান্তই মাঁনবভাব- 
প্রধান নাটক।১ নাট্যকার চতুষ্পার্খন্থ সামাজিক নরনারী এবং তাঁহাদের স্বভাব ও প্ররুতির 
দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাঁখিয়াই নাটক লিখিয়। গিয়াছেন। প্ররস্থৃতীর কন্ঠাক্সেহ, সতীর পিত্রালয়- 
প্রীতি, মঘা-অশ্লেষ! প্রভৃতির ঈর্ষ| এবং কোন্দল-পরায়ণতা বাঙালী ঘরের নিতান্ত স্থলভ এবং 
সাধারণ বৈশিষ্ট্য । নাটকের পুরুষ চরিত্রগুলির মধ্যে দক্ষের পরেই শাস্তিরামের নাম 
উল্লেখযোগ্য । শান্তিরামের সরস ছড়া এবং কৌতুকপূর্ণ অঙগভঙ্গী বিশেষ আনন্দদায়ক 
হইয়াছে । নারদের কথাঁতে শান্তিরামের চরিত্র যথার্থভাবে ব্যাখ্যাত হইয়াছে__“নিঙ্ষিয় 
ভাবুক, প্রকৃত ভক্ত, বিরত বৈষ্ণব, 'প্রলাপী শৈব, দরিদ্র সেবক” ( ২য় অঙ্ক, ১ম গর্ভাঙ্ক )। কিন্ত 
শীস্তিরাম বাহাত নির্বোধ এবং পাঁগলরূপে আচরণ করে। তাহার বাহ্‌ এবং আস্তর অবস্থার 
বৈষম্যই বিশেষ কৌতুনলোদ্দীপক | পূর্বে আঁমাঁদের সমাজে হীস্যরসের উৎ্দ ছিল ছড়া ও 
কবিতা । শান্তিরামও এই ছড়। ও কবিতার মধ্য দিয়া হাস্য উদ্রেক করার চেষ্টা করিয়াছে। 
অবশ্য আধুনিক রুচিতে তাহীর অঙঙ্গত অঙ্গভঙ্গি এবং অসংলগ্ন প্রলাঁপ বিরক্তিকর । “সতী 
নাটকে”র শেষে একটা মিলনান্তক অঙ্ক সংযোজিত হইয়াছে ।২ এইরূপ স্থখকর ক্রোড় অঙ্ক 
ভক্তিবিলাপী ভাবুক দর্শকের মনোরঞ্জনের জন্যই রচিত হয়। গিরিশচন্দ্র পৌরাণিক 
নাটকেও এইরূপ ধর্মভাবপোষক স্বগীয় দৃষ্ের অবতারণা! আমর! লক্ষ্য করিব। 


॥ হরিশ্চন্দ্র (১৮৭৫) ॥ দাঁতাশ্রেষ্ঠ হরিশ্চন্দ্রের কাহিনী অবলম্বনে সংস্কৃতে “গ্ডকৌশিক' 
নামক নাটক আছে, মনোমোঁহনের পূর্বেও কেহ কেহ এঁ নাটকের অনুবাদ করিয়াছিলেন। 
মনোমোহন প্রধানত ণগডকৌশিক* নাটক অনুসরণ করিলেও “হরিশ্ন্দ্র' নাটকে তাহার 
কৃতিত্বপূর্ণ মৌলিকতাও রহিয়।ছে। থগেন্্র-নাগেশ্বর কমলা ঘটিত উপাখ্যান এবং পাঁতঞ্লের 
ন্যায় বিশেষ মনোহর চরিত্র মনোৌমোহনের নিজন্ব স্থষ্টি। নাট্যকার হরিশ্তন্ত্র-শৈব্যার মূল 
কাহিনীর সহিত্‌ খগেন্্র এবং নাগেশ্বরের বিরোধপূর্ণ উপকাহিনীটী অতি স্থুকৌশলে জুড়িয়া 
দিয়াছেন। পুরাণে এবং সংস্কৃত “গ্কৌশিক+ নাটকে হরিশ্চন্দ্রের রাজ্য গ্রহণ বিশ্বামিত্রের 
একট! খেয়ালমাত্র। রাঁজাকে পরীক্ষা করিবার উদ্দেশ্য সেখানে স্ুপরিস্ফুট । কিন্ত 
মনোমোহনের নাটকে শরণাপন্ন নাগেশ্বরকে রাজ্য দিবার মধ্যে বিশ্বীমিত্রের একটা স্থস্থির 
সংকল্প এবং সকারণ চণ্ুত্ব লক্ষ্য করা যায়। সেজন্য এই নাটকে বিশ্বামিত্রকে আর 
কেবলমাত্র পরীক্ষা গ্রহণেচ্ছু মহাপ্রাণ বলিয়া মনে হয় না। ছুরাচার নাগেশ্বরকে রাজ্য 
দেওয়াতে তাহার প্রতি বিতৃষ্ণ জাগরিত হয়। কমলা এবং মল্লিকা! স্ত্রী চরিত্রের মধ্যে বৈচিত্র্য 


১। 'দুক্ষের সংসার যেন বাঙালী গৃহস্থের ঘর”-বাঁংল! সাহিতোর ইতিহাস, ২য় খণ্ড, পৃঃ ২১১। 


১০২ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


বিধান করিয়াছে । উপকাহিনীর বিভিন্ন চরিত্রগুলি না থাকিলে নাটকখাঁনি নেহাত একঘেয়ে 
করুণরসের মধ্যে মজিয়া! যাইত। “হরিশ্চ্দ্র নাটকের প্রথম দৃশ্ঠও “চগ্ডকৌশিকে”র অনুরূপ 
নহে। মৃগয়াবেশী হরিশ্ন্দ্র 'শকুস্তলা” নাটকের প্রথম দৃশ্ঠের সহিত সাদৃশ্ঠযুক্ত, এবং এইরূপ 
আ'রম্ত যথার্থ ই নাটকীয় হইয়াছে । নাটকের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উপভোগ্য পাতঞ্জল চরিত্র । 
পাঁতঞ্জল বিশ্বামিত্রের শিষ্য হইলেও চওড গুরুর ন্যায় দণ্ডদানে তাহার উল্লাস নাই। গুরুভক্ত 
হইন্সেও গুরুর অন্যায় কাজ তিনি সমর্থন করেন নাই, এবং রাজার ছূঃথে তিনি প্রকৃতই ব্যথিত 
হইয়াছেন। কিন্তু বাহিরে মহত্ব প্রকাশ করিবার কোঁনো৷ আগ্রহ তাহার নাই। তাহার 
পাঁগলাটে, এবং অসংলগ্ন সংলাপের মধ্যে ব্যঙ্গ এবং বিদ্রীপের খোঁচাগুলি খুবই কৌতুকপূর্ণ । 
থগেন্্র নাটকের প্রথমভাগে বিকৃতমস্তিষ্করূপে প্রতীয়মান হইলেও তাহাঁকে বীরপুরুষরূপে 
দেখাইবার জন্যই নাট্যকার তাহার প্রকৃতির পরিবর্তন করিয়াছেন। 


(খ) সামাজিক নাটক 


॥ প্রণয় পরীক্ষা (১৮৬৯) ॥ মনোমোহনের প্রথম সামাজিক নাটক হইতেছে- «প্রণয়- 
পরীক্ষা” । পাশ্চাত্য সভ্যতার আঘাতে যেসব সামাজিক কুপ্রথা লোকের চোখে স্পষ্ট হইয়৷ 
উঠিতেছিল, সেই সব লইয়াই তখনকার সামাজিক নাটকগুলি লিখিত হইতেছিল। বহুবিবাহের 
কুফল লইয়া রামনারায়ণ তর্করত্ব “নবনাটক” রচনা করিয়াছিলেন ; মনোমোহনও সেই বিষয় 
অবলম্বন করিয়া“প্রণয়-পরীক্ষা”নাটক প্রণয়ন করেন, এবং এই নাটকেও সপত্বী-বিদ্বেষের ভয়াবহ 
পরিণতি প্রদশিত হইয়াছে । সপতীকলহের পরম সরস, বঙ্গব্যঙ্গ পূর্ণ চিত্র অদ্ধিতীয় হাস্তরসিক 
দীনবদ্ধু “জামাই-বারিকে” আবীকিয়ীছিলেন, কিন্ত দীনবন্ধুর ন্যায় রামনারায়ণ এবং মনোৌমোহন 
হাঁসির বাপ্পে সমস্যাঁটিকে উড়াইয় দিতে চাঁন নাই, ছুঃখ ও মৃত্যুর গান্ভীর্যে ইহাকে ভারী 
করিতে চাহিয়াছেন। নাটকথানির গোড়ার দিকে ইহার সামাজিক বাস্তবতা অটুট রহিয়াছে । 
যেভাবে মহাঁমাঁয়! ও কাঁজল সরলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করিয়াছে তাহা বিশেষ 
কৌশলপূর্ণ এবং আগ্রহোদ্দীপক হইয়াছে, কিন্ত যখন শান্তশীল মহামায়ার ষড়যন্ত্র বুঝিতে 
পারিয়৷ নিরপরাধিনী সরলীর শোঁকে গৃহত্যাগ করিয়াছে, তখন হইতেই নাটকীয় ঘটন! এক 
অবাস্তব রোমান্টিক জগতে প্রবেশ করিয়াছে। শান্তণীল যখন বনমধ্যে শোকার্তভাবে 
পরিক্রমণ করিতেছে, তখন মনে হয়, সে যেন আর আধুনিক বাস্তব সমাজের সাধারণ লোক- 
নয়, সে বুঝি সংস্কত নাটকের রাম, পুক্ধরব! প্রভৃতির ন্যায় বেশ বাছ। বাছ। কবিত্বময় শোক 
বাক্য উচ্চারণ করিতেছে । মহামায়ার প্রতিও নাট্যকার এতে৷ বেশি রাগিয়াছেন ঘন 
তাহাকে ঘর হইতে টানিয়া আনিয়। বনের মধ্যে বাঘের দ্বার থাওয়াইয়৷ তবে একটু শান্ত 
হইয়াছেন। নাটকের মধ্যে ওষধের ক্রিয়ার খুব বড় স্থান দেওয়। হইয়াছে । যদি ওপরে 
অদ্ভুত, অবিশ্বাস্য কাজ ন৷ করিত তবে কোনে! ব্যাঁপাঁরই ঘটিত না । মহাঁমাঁয়৷ এবং কাজলের 
মধ্যে তুলন! করিলে মনে হয় যে, চরম নিষ্ঠুর কীজ সাধন করিতে মহামায়! বার বার দ্বিধা বোঁধ 


মনোমোহন্র বন্ধ ১০৩ 


করিয়াছে, কিন্ত কাজলের বলিষ্ঠ ছৃপ্রবৃত্তিই তাঁহাকে চালিত করিয়াছে। সর্ণলা দীনবন্ধুর 
লীলাবতীর ন্তায়__শিক্ষিতা, মার্জিতরুচিসম্পন্না, এবং সেজন্য একটু কৃত্রিমও বটে । নটবরও 
উনপাজুরে, মূর্খ, গুলিখোর নদেরটাদ হেমটাদের ন্যায়, তবে শেষ পযন্ত এই চরিত্রটিকে মহৎ ও. 
পরোপকাঁরী করা হইয়াছে। 


॥ আনন্দময় নাটক (১৮৯০) আননময় চৌধুরী এবং তাহার পুত্র ও পৌব্রগণের নানান 
বিপত্তি ও পরিশেষে পরিপূর্ণ সুখকর মিলনের বিষয় নইয়া “আনন্দময় নাটক রচিত। কিন্ত 
ঘটনার,অত্যথিক বাহুল্য নাটকীয় আগ্রহ ও কৌতুহলকে কেন্দ্রবিক্ষিপ্ত করিয়া ফেলিয়াছে। 
যে ঘটনার টুকরাগুলিকে একত্রিত করিয়া! জোড়া দেওয়ার চেষ্টা করা হইয়াছে সেইগুলি যেন 
মিশিয়! যায় নাই, চিড়গুলি বড়ো! বেশি প্রকট হইয়া রহিয়াছে। ভূষণ, পুলিন, ললিত, নির্মল, 
কিরণশশী, - এতৌগুলি চরিত্রের পরিচয় গোপন রাখিয়। ক্রমে ক্রমে প্রকাশ করিতে হইয়াছে 3 
সেইজন্য অনেক সময়েই অতক্কিত এবং সংক্ষিপ্ত বিবরণের মদ্য দিয়া রহস্য উদ্যাটন করিতে 
হইয়াছে, যথাযোগ্য বিশ্লেষণের অভাঁবে দর্শকের মন সন্তষ্ট হয়না । ভূষণ, তাহীর পুত্রত্রয় এবং 
কিরণশনীর পরিচয় প্রকাশিত হওয়ার পরে আমাদের কৌতুছল শান্ত হয় এবং নাটকের প্রকৃত 
প্রয়োজন এইখাঁনেই শেষ হইয়াছে। কিন্তু ইহার পরে নীলুঠাকুরের কন॥ার ব্যভিচার এবং 
ললিতের যড়যনত্রজীলে জড়িত হওয়ার বিষয়টা অনর্থক নাটকের উপর চাপানো হইয়াছে 
ভরতিপেটে পুনবাঁয় খাবারের আয়োজন দেখিলে বেমন বিরক্তি উপস্থিত হয়, শেষ অংকের 
বিষয়ও আঁমাঁদের মনে তেমন এক বিতৃষ্ণ ভাবের উদ্রেক করে নাট্যকার হয়তো বিধবা বিবাহ 
না দেওয়াতে সমাজের কি ক্ষতি হয় তাঁহা ইঙ্গিত করিবার চেষ্টা করিয়াছেন। কিন্তু সেই 
উদ্দেশ্য তেলের মতে! উপরে ভাসিয়াছে, ঘটনান্নোতের সহিত মিশিতে পারে নাই। নাটকের 
কাহিনীর সব সংকটের প্রধান ত্রাত্রী হইয়াছে ভৈরবী । সে যেন এক সর্বজ্ঞ সর্বময় সত্তার ন্যায় 
সমতার মুহুর্তটীতে উপস্থিত হইয়া চরিত্রগুলির কাজ সহঙ্গ ও অনায়াসসাধ্য করিয়া দিয়াছে, 
নট্যকাঁর তাহার কর্মণিলতার সম্ভাব্যতা বিচার করিয়া! দেখেন নাই। তাহীর স্তায় প্রা্জন 
পতিতা অথচ মহৎ অবস্থাস্তরিত চরিত্র পরবর্তীকালে গিরিশচন্দরের অনেক নাটকে লক্ষ্য করা 
যাইবে। কাস্ত এবং রাধু এই দুইজনের দ্বার! ক্রুর বব নিয়ন্ত্রিত হইয়াছে, কিন্তু শিরমম 
নৃশংসত! রাধুর মধ্যে বেশি, খুন খারাপ প্রভৃতি চরম পাপ কাজ সাধন করিতে কান্ত বরাবর 
দ্বিধা এবং অনিচ্ছা! প্রকাশ করিয়াছে । 


দ্বিতীয় অঙ্ক 


প্রথম গর্ভাঙ্ক 
জাতীয় ভাবাতআ্মক রোমান্টিক নাটক 
( ১৮৭০---১৮৮০ ) 

উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ হইতে যে বাংলা নাটকের সুচনা হইয়াছে তাহার 
আদি পর্বে সমাজ-সংস্কার-চেতনা যে প্রধান নিয়ন্ত্রী শক্তি রূপে বিরাঁজমান দিল সে 
আলোচনা আমর! পূর্বে করিয়াছি । বাংল| নাটকের দ্বিতীয় পর্বের গোড়ার দিকে 
এই শক্তির ব্বপান্তর হয়, সমাজচেতনা সম্প্রসারিত হয় জাতীয়তার ক্ষেত্রে 
সেজন্য নাটকীয় কাহিনী স্থানান্তরিত হইল সামাজিক পরিবেশ হইতে প্রতিহাসিক 
পরিবেশে । পাশ্চাত্য ভাবধারার সংঘাতে জনগণ-মাঁনসের ছুই বিশিষ্ট জাগৃতি লক্ষিত 
হইয়াছে। প্রথম জাগৃতি র্ূপাঁয়িত হইয়াছে সমাঁজ-বিপ্লবে। রাজা রামমোহন রায়, 
ডিরোজিও-রিচার্ডনন, ঈশ্বরচন্দ্র বিছ্যাসাগর ও ব্রাহ্ম সমাজের নেতৃবৃন্দ এই বিপ্লবের অগ্থিদীক্ষা 
দান করেন। কিন্তু সেই দীক্ষা কল্যাণচিত্তে গ্রহণ করিবার সময় তখনও আসে নাই। 
সেজন্য নব্য যুবকদের চোঁখে দীপ্তি অপেক্ষা দ।হই ফুটিয়া উঠিল অধিক। এই দাঁহ ধ্বংসে 
উল্লসিত হইল, কিন্তু স্থষ্টির ইঙ্গিত দিতে পাঁরিল না । বাংল! সমাজের প্রাণকেন্দ্র তখনও 
অবস্থিত ছিল অবারিত পল্লী পরিবেশে, সেজন্য এই ধ্বংসলীল! সেদিন সেই শীস্ত পল্লী- 
পরিবেশ স্পর্শ করিয়াছিল |! এই বিশ্লেষণ-ধাঁরা অনুসরণ করিয়া আদি পর্বের সামাজিক 
নাটক বিচার করিতে হইবে । 

বাঙালী জনমানসের দ্বিতীয় জাগৃতি ঘটিয়াছে সম্মিলিত জাতীয় চেতনাঁয়। শ্রশানের 
'চিতাগ্সি ক্রমে ক্রমে শান্ত হইয়া আসিয়া! তপোঁবনের হোমাগ্রি-শিখায় পরিণত হইল। শুধু 
কেবল আঘাত নহে, বিভেদ নহে, এক মহামিলনের ভূমিতে সব আঘাত-বিভেদ বিসর্জন দিয়! 
সদ ভাবে দীড়াইতে হইবে । এবার বিরোধী শক্তি ভিতরে নহে বাহিরে, তাহাকে আঘাঁত 
করিয়াই নিস্তার নাই, প্রত্যাঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকিতে হইবে। সেজন্ত চাই নিশ্ছিদ্র 
সংহতি ও নিগিমেষ সাধনা । এই চেতনাই এক অখণ্ড সার্বভৌম জাতীয়তার রূপ গ্রহণ 
করিল। 

যে শিক্ষা ও সভ্যতা আমাদের ধ্বংসোনুখ অচলায়তনকে নষ্ট করিতে উদ্যত হইয়াছিল, 
তাহাই আবার আমাদিগকে জাতীয় গৌরব ও মহিমার সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হইতে 
প্রেরণা জোগাইল। পাশ্চাত্য-শিক্ষ।-বাঁহিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের উদার উন্ুক্ত আলোক আমাদের 
রুদ্ধ কক্ষতলে প্রবেশ করিয়া ইহার রত্বভাগ্ডার চোখের সন্মুথে প্রকাশ করিয়া দ্িল। বাঙালী 
জ।নিল যে তাহারা! এক বিরাট, মহিমময় জাতির অধংপতিত বংশধর । তথন হইতে অবলুপ্ত 
প্রাচীন গৌরব পুনরুদ্ধার করিবার জন্ত তাহার! মানসিক এফণা বোধ করিতে লাগিল. এবং 
ক্রমে ক্রমে সাহিত্যে, শিল্পে এবং রাজনীতিতে পরাধীনতা-ন্ষুব্,, মর্মপীড়িত জাতির আশা! ও 


জীতীয় 'ভাবাত্মক রোমান্টিক নাটক ৮০৫ 


উৎসাহের বাণী কুটিয়া উঠিতে লাগিল। ইহাই হইল বাঙালীর জাতীয়তা-বোধের 
গোড়াকার কথা। 


উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ হইতে দেশীয় ইতিহাঁস ও সংস্কৃতি আলোচনার ফলে 
আমাদের দেশে স্বদেশী ভাব গড়িয়া উঠিতে লাগিল । তত্ববোধিনী পত্রিকার সময় হইতেই 
এই স্বদেশী ভাব লোকের মনে ' উদ্দিত হইতে থাকে ।১ তত্ববোধিনী পত্রিকা প্রকাশের 
কিছুকাল পরেই সিপাহী বিদ্রোহ এবং নীল হাঙ্গামার ঘ্বরা বাংলার সামাজিক জীবন 
বিশেষভাবে বিপুত হয়। এই সমন্ত গণ-বিদ্রোহের মধ্য দিয়! বাঙালীর স্বাধিকার-বোধ 
ক্রমে ক্রমে প্রবল হইয়। উঠিতেছিল। ইহার পর কয়েক জন উৎসাহী স্বদেশ-প্রেমিক ব্যক্তি, 
স্বারা হিন্দু-মেলা” প্রতিষ্ঠিত হইল।২ এই হিন্দু-মেলা স্থাপিত হওয়ার পরে দেশে 
উচ্ছ্বুসিত শ্বদেশপ্রেমের প্রবল' শ্রোত প্রবাহিত হইল। হিন্দু মেলার তৃতীয় বার্ষিক 
অবিবেশনের কার্যবিবরণীতে ইহার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বল! হইয়াছে-_ “অতএব সেই 
সামাজিকতাঁকে উদ্ধার করা যে কতদূর আবশ্যক হইয়াছে তাহা বল! যায় না, 
সে সামাজিকতার অন্য নাম জাতিধর্ম। সেই স্বজাতি ধর্ম আমাদিগের অজ্ঞানত। 
রূপ অন্ধকার কারাগারে পরবশ্ঠত শৃঙ্খলে আবদ্ধ আছে, তাহাকে মুক্ত কর! সর্বপ্রযত্বে বিধেয়। 
কিন্তু তাহা করিতে গেলে অগ্রে আত্ম নির্ভর নাম! শাণিত অস্ত্র দ্বারা পরবশ্ঠতারূপ শৃঙ্খলকে. 
ছেদন করিতে হইবে । সেই আত্মনির্তর লাভ করিবার জন্য এইরূপ সমাবেশ যে অদ্বিতীয় 
উপায়, তাহা প্রকাশ করিয়া! বল! বাহুল্য । সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর তাহার প্রসিদ্ধ স্বদেশী- 
সঙ্গীত--মিলে সবে ভারত সন্তান, এক তান মনপ্রাণ, গাও ভারতের যশোগান* হিন্দু 
মেলার জন্য রচন! করেন। শিবনাথ শাস্ত্রী, অক্ষয়চন্ত্র চৌধুরী ইত্যাদি জাতীয় ভাবোদীপক্‌ 
কবিতা লেখেন। এই সব গানে অতীত ভারতের গৌরবকীতির সহিত বর্তমান 


হীন ছুরবস্থার তুলনা! করিয়া এক নব জাতীয়তাবোধ উদ্দীপিত করা হইয়াছে, 
যেমন-- 


১। “তৰবৌধিনী পত্রিকার আমল হইতেই প্রন্কৃতপক্ষে হ্বদেশী ভাবের প্রচার আয়ন্ত হয়। অক্ষত 
কুমার দত্ত মহাশয় উক্ত পত্রিকাতে ভারতের অতীত গিনি লিথিয্না লোকের মনে সর্বপ্রথম দেশানুরাগ 
উদ্দীপিত করিয়াছিলেন ।” 

'জ্যোতিরিন্্রনাথের দি নিট সনি রিনিরানি পৃঃ ১৩১। 


১। নবগোপাল মিত্র মহীশয়, হ্বদেশপ্রেমিক রাঁজনারায়ণ বন্থ মহীশয়ের কল্পন! অনুসারে ১৮৬৭ ষ্টান্দের 
এপ্রিল মাসে চৈত্র মেলার (পরে হিন্দু মেল! নামে থ্যাত ) অনুষ্ঠান করেন। এই মেলায় হ্বদেশীয় শিক্প ও 
কৃষিজাত দ্রব্যাদি প্রদণিত হইত এবং জাতীয় সংগীত এবং বক্ততাি দ্বারা দেশপ্রেম উদ্দীপ্ত করিবার চেষ্টা 
কর! হইত।' 
ক্যোতিরিজ্রনাথ--মন্সথনাথ ঘোষ, পৃঃ ১৭ 
১৪ 7 


১০৬ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


কোথ। ক্ষত্রবার সব--ক্ষত্র রাজগণ ! 
কোথা ভীম্ম কার্তবীর্য পাওুর নন্দন ! 
কোথায় হামির রায়”_কোথ। ভীমসিংহ হায়, 
কোথায় প্রতাপ আদি বীরবরগণ ! 
দেখুক ভারতে তার কি দশ! এখন !১ 


এই সময়ে জ্যোতিরিন্্রনাথ প্রভৃতি জাতীয়-ভাব-অনুপ্রাণিত নাট্যকারদের ছার! স্বদেশের 
গৌরবস্থচক অতীত ইতিহাস অবলম্বন করিয়া! নাটক প্রভৃতি লিখিত হয়। কাব্যে হেমচন্ত্র- 
নবীনচন্ত্র যেমন ভারতের জাতীয় সঙ্গীত শুনাইলেন, উপন্যাসে বঞ্ষিমচন্দ্র যেমন “বন্দেমাতরমে?র 
মন্ত্রে বাঙালীকে দীক্ষিত করিয়াছিলেন, নাটকে জ্যোতিরিন্ত্রনাথ তেমনি গৌরবোজ্জল 
অতীত বীরত্বকাহিনী আমাদের সন্মুথে উপস্থাপিত করিলেন। জ্যোতিরিন্্রনাথের প্রদ্িত 
ধারা তাহার সমসাময়িক নাট্যকারদের দ্বারা অনুসৃত হইয়াছিল। তাহাদের মধ্যে 
লক্দ্ীনারায়ণ চক্রবর্তী, উপেন্ত্রনাথ দাস, প্রমথনাথ মিত্র, উমেশচন্ত্র গুপ্তর নাম উল্লেখযোগ্য । 
এই সমস্ত 'লেখকদের ব্বদেশীভাবোদ্বীপক নাটক আলোচন! প্রসঙ্গে একটা কথা বিশেষভাবে 
স্মরণীয়। জাতীয় আন্দোলনের প্রাথমিক অবস্থায় স্বদেশপ্রেমিক জনগণ তাহাদের বিগত 
ইতিহাস ঘারা অনুপ্রাণিত ও চালিত হইয়াছিলেন। সেই ইতিহাসে তাহার! হিন্দুগৌরব 
এবং বিদেণীর আগমনে সেই গৌরবের ম্লানিমা বিষগ্ন নেত্রে লক্ষ্য করিয়াছিলেন । সেইজন্য 
তাহাদের সাহিতো হিন্দু-মুপলমানের সংঘর্ষের ইতিহাস, এবং সেই সংঘর্ষে হিদ্দুদের বীর্য ও 
মহত্ব দেখান হইয়াছে । টড-প্রণীত রাজস্থানের বৃত্বান্তে হিন্দু রাজপুতগণের বীরত্বকাহিনী 
লেখকেরা আগ্রহ সহকারে গ্রহণ করিলেন। এই সমস্ত গৌরব কাহিনীর উজ্জ্বল চিত্র 
অঙ্কন করিয়া তাহারা পতিত, মোহ্গ্রস্ত হিন্দুজাতিকে পুনরায় স্বাধীনতা-লাভের আশায় 
উদ্বোধিত করিতে প্রয়াসী হইয়াছিলেন। 


১৮৭০ হইতে ১৮৮০ খুষ্টাব্বের মধ্যে এই নব জাতীয় উদ্দীপন! সাহিত্যক্ষেত্রে এক 
সর্বনিযন্তা শক্তিরূপে রাজত্ব করিয়াছিল। বষ্িমচন্দ্রের “বিষবৃক্ষ” (১৮৭৩) “লোকরহস্ত, 
(১৮৭৪) চন্দ্রশেখর” (১৮৭৫), “কমলাকান্তের দপ্তর” (১৮৭৫), “কৃষ্ণকান্তের উইল+ (১৮৭৮) 
প্রভৃতি এই সময়েই প্রকাশিত হইয়।ছে। “ছুর্গেশনন্দিনী” (১৮৬৫), “কপালকুগুলা+ (১৮৬৬), 
ও মৃণালিনী (১৮৬৯) তো ইতিপূর্বেই বাহির হইয়াছিল। হেমচন্দ্রের “তাঁরত-সঙ্গীত' 
(১৮৬৯) “ভারত ভিক্ষা? (১৮৭৫) ও “বুত্রসংহারঃ (১৮৭৫) প্রভৃতি কাব্য-মহাঁকাব্য এই 
সময়েই রচিত হইয়াছে। নবীনচন্দ্রের “অবকাশ-রঞ্জিনী” (১৮৭১) ও “পলাশির যুদ্ধে'র 
(১৮৭৬) রচনাকাল এই যুগের অন্ততুক্ত। নাটকের ক্ষেত্রে আমাদের আলোচ্য নাট্যকার- 
গণ জ্যোতিরিন্্রনাথ ও তাহার সমকালীন স্বদেশপ্রাণ সহকগ্রিবৃন্দ এই যুগেই আত্মপ্রকাশ 
করিয়াছিলেন। আরও হুক্্ভাবে দেখিতে গেলে তাহাদের নাটকসমূহ ১৮৭২ খুষ্টাৰের 


১। “হিন্দুমেলাঁর কার্ধ বিবরণীতে প্রকাশিত একটি কবিতার অংশ। 


জাতীয় ভাবাত্মক রোমান্টিক নাটক ১৪৭ 


পরেই প্রণীত হইয়াছিল। ১৮৭২ খুষ্টাব জাতীয় জাগৃতির ইতিহাসে একটি স্মরণীয় বৎসর । 
এই বৎসরে বঙ্গদর্শন প্রকাশিত এবং ন্যাশনাল থিয়েটার স্থাপিত হয়। একদিকে জ্ঞানের 
বিচার অন্যদিকে রসের বিকীশ--এই দুইদিক দিয়াই জাতীয় আন্দোলন কলকল্লোপিত 
হইয়া উঠিল। তাহার প্রতিধ্বনি জাগিয়! উঠিল তৎকালীন নাটকের মর্মমূলে। কাব্যক্ষেত্রে 
হেম-নবীন এই জাতীয় সাহিত্যের উত্তরসাধক মাত্র। তাহাদের বহুপূর্বেই ঈশ্বরগপ্ত-রঙ্গলাল 
মধুস্থদন সেই সাধনা! সুরু করিয়াছিলেন। কিন্তু নাট্যক্ষেত্রে সগোর্ঠী জ্যোতিরিক্্রনাথই 
ইহার প্রবর্তক। 


জাতীয় ভাঁবৈষণী! তৎকালীন নাটকের প্রবল প্রেরণা ছিল বটে কিন্ত একমাত্র 
প্রেরণা ছিল না। আর একটি প্রেরণ ইহার সহিত মিলিয়াছিল এবং তাহা হইল 
রোমার্টিকত৷ ৷ নাট্যকারগণ জাতীয় গৌরব-কাহিনীর মধ্যে নরনারীর প্রণয়-স্পর্শ আনিয়া 
ছিলেন, বীরের অসির সহিত প্রণয়ীর বাণী আসিয়। মিলিত হইল। অনেক সময় 
রোমাঁ্টিক-ধর্ম জাতীয় ধর্মকে আচ্ছন্ন করিয়াছে ইহাও আমর! দেখিয়াছি। “অশ্রমতী”, 
“বীরবালা+,হেমলতা+ “হেমনলিনী” প্রভৃতি নাটকের উল্লেখ এ প্রসঙ্গে করা যাইতে পারে। 
এই রোমার্টিকতার আবেগে ইতিহাঁসের বেগ ব্যাহত হইয়াছে সেই রকম দৃষ্টান্তের অভাব 
নাই। “সজন্য সত্যনিষ্ঠ এ্রতিহাসিক নাটক এই সময়ে খুব বেশী লেখা হয় নাই। 
রোমার্টিকতার এতখানি গ্রাছুর্ভাবের কারণ কি? পাশ্চাত্য-সাহিত্যের আদর্শ, বিশেষত 
বন্ধিমচন্ত্রের রোমার্টিক উপন্তাসের প্রভাব প্রথমেই মনে আসিবে । বঙ্ষিমচঞ্দ্রের উপন্যাস 
এবং এই সব! নাটকে যে ভয়লেশহীন অকুঞঠ প্রণয়ের মর্যাদা ঘোষিত হইয়াছে তাহার 
প্রেরণা আদিতে পারে শুধু কেবল এমন এক সমাজ হইতে, যেখানে পুরুষের ন্যায় নারীও 
সমান অবস্থা ও অধিকারে প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে । জাতীয় চেতনার সঙ্গে সঙ্গে নারী-পুরুষের 
একটি সাম্যবৌধও তখন সমাজের মধ্যে স্বীকৃত হইয়াছিল। ঈশ্বরগুপ্ত যাহাই বলুন, 
পদ্মিনী*প্রমীলা-আয়েষা-বিমল! বাংল! সাহিত্যে এমন এক নারীকুলের আদর্শ স্থাপন করিল 
যাহারা প্রেম ও পরাক্রম উভয়ক্ষেত্রেই অশঙ্কিনী। এই অশক্কিনী নারীচরিত্রই অক্ষিত 
হইয়াছে তৎকালীন ত্বদেশী ভাব-রঞ্জিত নাটকে । যিনি নিজের পুরাঙ্গনাকে বীরাঙ্গনা 
করিবার উদ্দেশ্তে তাহাকে ঘোড়ার পিঠে পর্যস্ত চড়াইয়াছিলেন তিনিই ধ্রীলবিল! ও 
সরোজিনীর স্ঠায় স্ত্রীশ্চরিত্র সৃষ্টি করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন। উপেন্ত্রনাথের সরোজিনী ও 
বিনোদিনী চরিত্রও অবল। বাঙালী রমণী মাঝে সবল নারীর আদর্শ উজ্জ্বল করিয়৷ 
তুলিয়াছে। নাট্যকারগণ রণক্ষেত্রের জয় পরাজয় হইতে নরনারীর মিলন-বিরহ-সিক্ত 
প্রেমকে উদ্ধার করিয়। আনিয়াছেন, কিন্ত তাহ! কখনও পরাজয়ে মলিন নহে, তাহা জয়ের" 
গৌরবে দীপ্তিময়। ভাব ও আদর্শের এই মহিমার ফলে কি তৎকালীন নাটক বিশেষ 
সমৃদ্ধ ব্ূপ লাভ করিয়াছিল? না, তাহা! করে নাই। তাহার কারণ শিল্পের ক্রটি, ভাষা 
ও আবেগের অসংবম। কয়েকখানি গ্রসিদ্ধ নাটক আলোচন! করিয়! আমর] এই বিষয়টি 


পরিশ্যুট করিব। " 


ঠ্৯ বাংলা নাটকের ইতিহাস 


জ্যোতিরিজ্্রনাথ ঠাকুর 


জ্যোতিরিন্রনাথ এ্রতিহাঁসিক নাটকের মগ্য দিয়া যে জাতীয় ভাব উদ্দীপন 
করিবার চেষ্টা করিয়াছিলেন, গিরিশচন্রের 'নাটকে তাহার বিকাশ এবং দ্বিজেন্দ্রলাল 
রায়ের নাটকে তাহার পূর্ণতম পরিণতি) .জ্যোতিরিন্্নাথের পূর্বে বাংল! সাহিত্যে 
এঁতিহাসিক নাটক রচিত হইয়াছিল । মাইকেল মধুস্থদনের “কৃষ্ণকুমারী নাটক, খ্রীতিহাসিক 
নাটকসমূহের পথ প্রদর্শন করিয়াছিল, কিন্ত জ্যোতিরিন্দ্রনাথ নাটকের মধ্যে যে স্বাদেশিক 
ভাবোদ্দীপন! জাগাইয়া তুলিলেন, তাহা সম্পূর্ণ নূতন এবং অপূর্বদৃষ্ট । তিনি তীহাঁর জীবন- 
স্বতিতে বলিয়াছেন, “হিন্দুমেলার পর হইতে কেবলই আমার মনে হইত--কি উপায়ে দেশের 
প্রতি লোকের অনুরাগ ও স্বদেশগ্রীতি উদ্বোধিত হইতে পাঁরে। শেষে স্থির করিলাম, নাটিকে 
ধ্রতিহাসিক বীরত্বগাথা ও ভারতের গৌরবকাহিনী কীর্তন করিলে, হয়ত কতকট। উদ্দেস্ 
সিদ্ধ হইতে পারে ।”১ কিন্তু এ্রতিহাসিক কাহিনী লইয়া .নাটক লিখিতে প্রবৃত্ত. হইলেও, 
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ তাঁহার মাঁনস-ইচ্ছা ও আদর্শ অনুযায়ী প্রতিহাসিক "উপাদান ব্যবহার 
করিয়াছেন। একমাত্র পপুরুবিক্রম” ব্যতীত অন্যান্য নাটকে নাটকীয় রস ও গুরুত্ব ধ্রতিহাসিক 
ঘটন! ও চরিত্রের প্রাধান্তের উপর নির্ভর করে নাই। দ্বিজেন্্লাল রাধ়ের নাটকে প্রসিদ্ধ 
প্রতিহাসিক ঘটন। ও পাত্রগাত্রী নাট্যকারের হস্তে অপরূপ ঘবন্দবহুল হইয়া ব্ূপলাভ করিয়াছে। 
কিন্ত জ্যোতিরিন্দ্রনাথের নাটকে নাটকীয় পাত্রপাত্রী নাট্যকারের কোনো বিশেষ 1168 
অথব! ভাবকে ফুটাইয়া তুলিবার চেষ্টা করিয়াছে । সেইজন্য তিনি তাহার পর্রিকল্পনা অন্থযায়ী 
অনেক চরিত্রকে নৃতনভাবে গঠন করিয়াছেন, এবং অনৈতিহাসিক অনেক ঘটন! সন্নিবেশ 
করিয়াছেন। 


জ্যোতিরিন্দ্রনাথ বাংলা নাটককে অনেকাংশেএসংস্কত প্রভাব-মুক্ত করিয়াছিলেন । 
ষাহার পূর্বে মাইকেল ও দীনবন্ধুর নাটকে সংস্কৃত প্রভাব আমরা বিশেষভাবে লক্ষ্য করিয়াছি । 
কিন্ত জ্যোতিরিন্দ্রনাথ তাহার ভাষা,ও পাত্র-পাত্রীর আচরণে অনেকখানি বাস্তবনিষ্ঠ ছিলেন, 
তবে ্রতিহাঁসিক নাটকের পূর্ণ, পরিণত রূপ তখনো আসে নাই, সেজন্য লক্ষ্য করা যায় 
যে জ্যোতিরিন্্রনাথ তাহার নাটকের সংহত পরিমিতি অনেক স্থলেই হাঁরাইয়৷ ফেলিয়াছেন। 
সাধারণত তাহার নাটকগুলি দীর্ঘ এবং অভিনয়ের অনুপযোগী, নাটকের মধ্যে দৃশ্ঠ-পরম্পরা 
আম্গগ!। (10995 ) এবং বিস্তৃতভাবে যুক্ত ; সেজন্য বহু জায়গাঁয় নাটকীয় রূপ জমাট" বাধিয়। 
উঠিতে পাঁরে নাই । কথোপকথন অনেক স্থলেই দীর্ঘ ও ক্লাস্তিকর, এবং অধিকাংশস্থলে কু্যন্ত 
ছুর্বল 13 সাদাঁসিদে হইয়াছে । অবশ্থা অভিনয়নৈপুণ্যে সাধারণ কথাও অত্যন্ত .উদ্গীপক. এবং 
সংঘর্ষনীল হইয়! উঠিতে পারে। কিন্তু সংলাপের, অস্তনিহিত শক্তি নাটককে গতিমান.করিবার 


১। গ্যোতিরিজ্্রনাথের জীবন-স্মতি--বসপ্তকুমার চট্টোপাধ্যায়, পৃঃ ১৪১। 


জ্যোভিরিজালাথ ঠাকুর ১০৯ 


গ্রধান উপায়। জেহেনা ব্যতীত অন্থান্ত স্ত্রী চরিত্রের মধ্যে কোনে! বৈচিত্র্য নাই, সকলেই 
এক ধরণের--দরলা, পতি অথবা! প্রেমিকের প্রতি একনিষ্া১ এবং 'সহনণীলা । জ্যোতিরিক্ত- 
নাথ জাতীয়ভাব উদ্দীপিত করিবার জন্ত নাটক লিখিতে প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন বটে, কিন্ত 
কোনো সুস্পষ্ট এবং সুনির্দেশিত জাতীয় ভাব অপেক্ষ। স্নেহ-প্রেম-বাত্সল্য গ্রভৃতির স্বন্ঘ- 
সমস্যাই বেশিভাবে নাটকের মধ্যে পরিষ্ফুট হইয়া উঠিয়াছে। শিয়্ে তাহার নাটকসমূহের 
বিস্তৃত আলোচন৷ প্রসঙ্গে আমাদের মতের যাথার্থ্য নিধারণ করিব। 


(ক) এতিহামিক নাটক 


॥ পুরুবিক্রম (১৮৭৪) ॥ স্বদেনীভাব উদ্বোধনের আশায় জ্যোতিরিক্্রনাথ প্রাচীন ভারতের 
স্বাধীনচেতা এবং গর্বোন্নত বীর রাজ পুরুর ধিিক্রম কাহিনী লইয়া প্রথম নাটক রচনা! করেন । 
অবশ্ঠ নাট্যকার ইতিহাসকে যে বিশ্বস্তভাবে অনুসরণ করিয়াছেন তাহা নহে, তাহার কল্পিত 
আদর্শ অনুয]য়ী ঘটন! এবং চরিত্র তিনি অংকন করিয়াছেন। স্বাধীন ভারতের শৌর্য-বীর্য 
প্রদর্শন কর! নাট্যকারের অভিপ্রেত হইলেও নাটকের শেষের দিকে পুরু-ইলবিলা-তক্ষশীল- 
অন্বালিক৷ ঘটিত প্রেম এবং ঈর্ষামূলক ঘটনাঁবলীই বেশি প্রাধান্ত লাভ করিয়াছে । 'পুরুবিক্রম' 
প্রকাশিত হইলে রসিক এবং পণ্ডিত সমাজে সমাদর লাভ করিয়াছিল।১ কিন্ত ইহা 
সমালোচনার কড়া পাহারার সিহহঘার দিযা! প্রবেশ করিয়া চিরকালীন রমিক দরবারে 
স্থান লাভ করিতে পারে নাই। নাঁটকখাঁনির মধ্যে স্বদেশী ভাবোদ্দীপন! এবং বীররসোদ্ধেলতার 
জন্য ইহ! সাময়িকভাবে দর্শকগণকে আকৃষ্ট করিতে পারিয়াছিল, কিন্তু ইহার অন্তপ্লিহিত দোষ- 
ত্রুটির জন্ত ক্রমে ইহীর মূল্য কমিয়া আঁসিয়াছিল। নাটকের উক্তিগুলি অত্যন্ত দীর্ঘ এবং 
' সাধারণ, লেখক বীররস ফুটাইয়৷ তুলিবাঁর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন, কিন্ত তাহার 
নাটকের ভাঁষা বীররসাত্মক হয় নাই । কথার বেগে দর্শককে উত্তেজিত ন! করিয়া! যখন তিনি 
সম্তা ধরণের মাতামাতি দাপাদাপির মধ্যে বীররদ অবতারণা করিতে চেষ্টা করিয়াছেন তখন 
তাহ! নিতান্ত তরল ও কৃত্রিম হইয়াছে । অধ্যাপক ডাঃ স্কুমার সেন যথার্থই বলিয়াছেন-_ 
€পুরু-বিক্রমের বীররস অবাস্তব, যুদ্ধের ও ঘন্দযুদ্ধের বর্ণ! থিয়েটারী যুদ্ধের মত।»২ 


নাট্যকার পুরুচরিত্রকে সর্বত্র মহৎ এবং বীর্যবাঁন দেখাইতে চেষ্টা করিয়াছেন। সেজন্ত 
তিনি এ্রতিহাসিক ঘটনার একটু এদিক ওদ্দিক করিয়াছেন। পুকুর সহিত সেকেন্দারের 


১। নাটকখানির সমালোচনা! প্রসঙ্গে বন্ধিমচন্র ইহার প্রশংসা! করিয়াছিলেন, রেভারেও লালমিহারী 
দেও 'বেঈল ম)াগাজিনে' লিধিয়াহিলেন+-1)6 ৪607 1৪ ৮611 6010 5" 809 ৫980270610008 86 0150], 
90106 0110) 67091800519 925 61] 010, 8100. 006 181080866 19 ৪1701016 &০ 10101008010, 
,মখন1খ ঘোষ প্রণীত 'দ্যোতিরিভ্্রন/থ'--পৃঃ ৪৯:৪২ হইতে নি 1. 


২। বাংল! স্লাহিত্যের ইতিহাস, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৩০২ । 


9১০ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


ঘন্যযুদ্ধ, সেকেন্দারের পরাজিয়, অন্কায়ভাবে পুকুর প্রতি আক্রমণ ইত্যাদি ব্যাপার নাট্যকারের 
ত্বকপোলকল্লিত।১ তক্ষশীলের মুখে সামান্ত গ্লেষবাক্য শুনিয়! পুরু ক্রোধে দিশাহারা হইয়। 
তাহাকে হত্যা করিয়৷ বসিলেন--ইহ! যেমন পুরুর বীরত্ব ও মহত্ব ধূলিসাৎ করিয়৷ দিয়াছে, 
তেমনি তক্ষগীলের চরিত্র আকশ্মিক এবং অপূর্নভাঁবে শেষ করিয়াছে। কাপুরুষ যুদ্ধতীর 
তক্ষণীল পুকুর মনে হীর্ষা ও সন্দেহ উদ্রেক করা ব্যতীত আর কোনে! সক্রিয় গ্রতিরোধ স্থটি 
করিতে পারে নাই। অস্বালিকার প্রেমমুগ্ধ সেকেন্দরের চরিত্রের মধ্যে বিরাট মহত্ব এবং 
সংহত গাভীর্য ফুটিয়া উঠে নাই। স্ত্রী-ভূমিকার মধ্যে কুরুপর্বতের রাণী এ্রলবিদার স্বদেশ- 
প্রাণতা এবং বীর্ষবত্তা অবশেষে হৃদয়বত্বার লীলাতে আচ্ছন্ন হইয়! গিয়াছে । নাটকের একমাত্র 
ট্্যাজিক, এবং বোধ হয় সর্বাপেক্ষা ক্রিয়াশীল চরিত্র--অস্বালিকা। সে দুর্বল ভ্রাতাকে 
সেকেন্বরের সহিত যুদ্ধ হইতে বিরত রাখিয়াছে। সেকেন্দরকে আশ্রয় করিয়া তক্ষণীলের 
সহিত এঁলবিলার মিলন ঘটাইতে চেষ্টা করিয়াছে--কিন্ত যে উদ্দেস্টে সে এত সব করিয়াছে, 
সেই উদ্দেস্ পূর্ণ হয় নাই। রণলিপ্প, সেকেন্দর তাহার সর্তত্যাগী মর্মাস্তিক প্রেমকে উপেক্ষা 
করিয়া চলিয়া গেলেন। স্ুৃতীব্র অনুতাপ এবং সুগভীর নৈরাশ্থে তাহার পক্ষে সন্্যাসিনী 
হইয়া যাওয়া স্বাভাবিক। অস্থালিকার বিষাঁদাস্ত পরিণতি পুক্ক এবং এ্রলবিলার মিলনের 
আনন ম্লান হইয়া গিয়াছে । 


॥ সরোজিনী ( ১৮৭৫) ॥ সরোজিনী পূর্বতন নাটক “পুরুবিক্রম” অপেক্ষ। অনেক দিক 
দিয়া শ্রেষ্ঠ । একটা! অতি ছবন্ববহুল, উত্তেজনাময় কাহিনীকে অবলম্বন করিয়া নাটকের ক্রিয়া 
(9০101) অতি ব্রত অগ্রসর হইয়াছে । কুটিল ষড়যন্ত্রের বিসগিল গতিতে, এবং বিরুদ্ধ শক্তির 
সবল সংঘাতে দর্শকের মন উদ্বেগচাঞ্চল্যে রোমাঞ্চিত হইয়া উঠে । বিশেষত চতুভূ্জা দেবীর 
মন্দির প্রাঙ্গণে সরলপ্রাণা» কুন্মমকোমল! সরোজিনীর হত্যার আয়োজনের দৃশ্য এত অধিক, 
লোমহ্ষণকারী বিভীষিকায় পরিপূর্ণ যে দর্শকের পক্ষে তাহা সহ করা কঠিন। “সরোজিনী”র 
অভিনয়ের সময় এই দৃশ্ত দেখিয়া অনেকেই অজ্ঞান হুইয়। পড়িতেন।১ নাটকথানি 


১। ইতিহাসে পুরুর পরাজয় এবং আহত হওয়ার ঘটনা! এইভাবে বরিত আছে--'চ0:০8 11778516 
& 1)80150516 £18106, 813 900. 8 10816 6০০৮ 10 10615), 100£116 60 009 158৮ 0৪৮ ৪6 1986 
৪0090100060 60 01796 দা 00008, 8100 ৪৪ 69161) 1011500067 110 & 191061756 0070016100 

11000 21$910% 0 17485 0 2. 9100100, 0, 74 

২। ন্ুপ্রসিস্ধ অভিনেত্রী বিনোদিনী “জমার অভিনেত্রী জীবন' প্রবন্ধে এই দৃপ্ত সম্বন্ধে লিখিয়াছেন-_ 
“কপট ত্রাঙ্গণ-বেশধারী ভৈরবাচার্য গুরবারি হত্তে সরোজিনীকে যেমন কাটতে এসেছে, এমন সময় ।খজয়সিংহ্‌ 
যেমন সেখানে ছুটে এসে বললেন, সব মিথ্যে, সব মিথ্যে, তৈরবাচার্য ব্রাহ্মণ নয়, মুসলমান, সে মুদলমাতের 
চর', অমনই সমস্ত দর্শক একেবারে ক্ষেপে উঠে মার মার কাট কাট করে যে বার আসন ছেড়ে উঠে দীড়ালেন। 
জন ছুই দর্শক এত উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলেন যে, তারা জার নিজেকে সামলাতে পারলেন না, ফুটলাইট 
ডিঙ্গিয়ে মার মার কয়তে করতে একেবারে ফ্লেজের উপর ঝাপিয়ে পড়লেন। সঙ্গে সঙ্গে ঙার। অজ্সান হ'য়ে 
গেলেন । 


জ্যোতিরিজ্রনাথ ঠাকুর ১১১ 


সরোজিনীকে কেন্দ্র করিয়া! গড়িয়া উিঠিয়াছে। 'ভৈরবাচার্য এবং রণধীর সরোজিনীকে উৎসর্গ 
দিবার যে সুশৃঙ্খল এবং শক্তিণালী আয়োজন করিয়াছিল তাহা ফাসিয়। যাইবার পর নাটক 
স্থপরিপত সমাষ্তিতে পৌছিয়াছে। বিজয় এবং সরোজিনীর মধ্যে যে বিচ্ছেদ ছুিবার 
হইয়া উঠিয়া নাটকথানিকে বিষাদাস্ত ট্র্যাজিক পরিণতির দিকে ঠেলিয়া৷ আনিতেছিল, 
রহস্তোদ্ঘাটনের পর তাহা! মিলনের শাস্তিতে আসিয়৷ সমাপ্ত হইয়াছে ) স্থতরাং পঞ্চমাঞ্ষে 
প্রকৃতপক্ষে নাটকের শেষ হইয়াছে । কিন্তু ইহার পরে ষষ্ঠ অঙ্কের যে অগ্নিকুণ্ত-ৃশ্ত দেখান 
হইয়াছে, নাটকের দিক দিয়া তাহার কোন প্রয়োজনীয়ত| নাই। বিজয়সিংহ এবং 
সরোজিনীর মৃত্যু র্যাজিক হয় নাই। কারণ এই রকম মৃত্যুর সম্ভাবনা তাহাদের চরিত্র- 
বিকাশের ' অভ্যন্তরে বিদ্যমান ছিল না। শেষ অংকের মৃত্যু দৃশ্ঠ অত্যাচারীর বিরুদ্ধে বিক্ষন্ 
অভিযোগ এবং ছুঃখপূর্ণ নির্বেদ দর্শকের মনকে আচ্ছন্ন করে বটে, কিন্তু তবুও উহা! ট্র্যাজেডি 
হয় নাই, কারণ প্রকৃত ট্র্যাজেডি চরিত্রের মধ্য দিয়! বিকশিত হইয়া! উঠে।১ 


অনেকেই বলিয়াছেন যে, “সরোজিনী”র উপর ইউরিপিডিসের [91716৩715 &% 
40115, নাটকের প্রভাব আছে। ইহা অনম্ভব নহে। কারণ, উভয় নাটকের ঘটন। ও 
চরিত্রের এঁক্য অত্যন্ত স্থম্পষ্ট। লক্ষধসিংহ রণধীর এবং বিজ্রয়সিংহের সহিত যথাক্রমে 
ত্যাগামেমনন--মেনেলাউস-_আযাকিলিসের সাদৃশ্য আছে। ইউরিপিডিসের নাটকেও 
আযাগামেমনন সন্তানবাঁৎসল্য ও ন্বপ্দেশহিতের মধ্যে ঘন্ব বোঁধ করিয়াছেন, বিজয়সিংহের ন্যায় 
আযাকিলিস নিরপরাধা বালিকাকে রক্ষা করিতে প্রবৃত্ত হইয়াছেন, এবং নায়িকা ইফিজেনিয়া 
“71195, কে রক্ষা করিবার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করিতে উদ্যত হইয়াছেন । 


নাটকের সমস্ত ষড়যন্ত্রের নিয়ন্ত্রী ভৈরবাঁচার্য রবীন্দ্রনাথের “বিসর্জন” নাটকের রঘুপতিকে 

»মনে করাইয়া দেয়। ভৈরবাচার্যের কথার মধ্যে তাহার শক্কিশীল ব্যক্তিত্ব পরিস্ফুট ন! হইলেও 
সমস্ত নাটকের মধ্যে তাঁহার অলঙ্ব্য প্রভাব ক্রুদ্ধ ঝড়ের মত সকলকে সচকিত ও সন্বস্ত 
করিয়াছে। পরাজিত, বিপর্যস্ত ভৈরবাচার্য যখন নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাঁসে নিজের ছলনাজালে 
আবদ্ধ হইয়। কন্তাকে হত্য। করিয়া বসিল তখন তাহার চরিত্রের মধ্যে 40:82092010 
[75481.8এর ২ স্ষ্টি হয়, এবং দর্শকের মন তাহার প্রতি সহাম্গভৃতি-সিক্ত হইয়া উঠে। 


১1 "ভা1096 মও 0০ 166] 96:010815, ৪8৪ & 08605 805870928 6০ 16৪ 01096, 18 (1086 105 
98180586195 900) 996280001১0 10119দ 1095169%0]7 1010 006 09908 0£ 12254 8100 01596 008 10811 
৪001:০9 01 01996 06608 18 019780691, 

97076806276 2756600/,05 7319016, 0, 43 * 

২। অধ্যাপক মোলটন (.71000910 0.  04091600)  101510900 1760817£ ব্যাথা 
করিতে যাইয়| বলিয়াছেন--10:8170980 1760£108 05৮ স010) 01001998806  619197808 
1) 09 01097506608 0€ 8105190) 800 73:0605 919 0526 13 8006062 0:59620906 
0217061108 ০09৮  0690119016198 0 009 00816102 0£  00956 98070876800) 
16805 0005]0 00 ০05৫ 85109805, র 
" 19/61/686276 ৫ 6 10107660478, (310 601990 ), 2, 391 


35৫ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


রাজ! ' লক্মণসিংহের মধ্যে কগ্ঠান্গেহ এবং স্বদেশপ্রাণতাঁর 'অতি স্থন্দর ছন্য দেখান হইয়াছে। 
কর্তব্য-পরায়ণ, স্সেহপীড়িত রাজার চরিত্র মাইকেলের “কৃষ্ণকুমারী” নাটকের «ভীমসিংহকে 
স্মরণ করাইয়৷ দেয়। সরোজিনী নাটকের কেন্দ্রীয় চয়িত্র বটে, কিন্তু এই নটিকের কেন্দ্রাভি- 
কর্ষমী শক্তিসমূহের সংগ্রামই মূল বিষয়। সেইজন্য নাঁটকখানি নায়িকা-নামাংকিত হইলেও 
সরোজিনীর প্রভাব কোন স্থানেই অনুভূত হয় নাই। তবে সরোজিনীর মধুর সৌরভে 
নাটকথানি আমোদিত হইয়া থাকে সন্দেহ নাই। এীতিহাসিক নাটক হিসাবে “সরোজিনী' 
জ্যোতিরিক্্রনাথের সর্বাপেক্ষা সার্থক রচন।। 


॥ অশ্রমতী (১৮৭৯ )॥ “অশ্রমতী” নাটকের ললাটদেশে টডেব “রাজস্থান হইতে 
উদ্ধৃতি দেখিয়া সহজেই অনুমান হয় যে নাট্যকার “রাজস্থান, গ্রন্থস্থ প্রতাঁপসিংহের 
অতুলনীয় স্বদেশপ্রেমেব কাহিনী অবলম্বন করিয়৷ নাটক লিখিযাছেন । কিন্ত প্রতাপ্সিংহের 
কাহিনীর উপর ভিত্তি কবিয়া লেখা হইলেও সেলিম ও অশ্রমতীকে কেন্দ্র করিষ! যে মুল 
কাহিন টী গড়িয়। উঠিয়াছে তাহাঁতেই নাটকের লক্ষ্য ও প্রাণ সঞ্চারিত হইযাছে। অশ্রমতী 
এবং তাহার প্রেমবৃত্বান্ত সম্পূর্ণ অমূলক এবং অনৈতিহাঁসিক গ্রন্থকার নিজেও ইহ! স্বীকার 
করিয়াছেন। নাটকথানি প্রকাশিত এবং অনুদ্দিত হইবার পর প্রতাপসি'হের কন্ঠ 
সেলিমের অন্নরাগিণী হইযাছে দেখিয! অনেক অবাঙালী পাঠক ও দর্শক বিশেষ ক্ষুব্ধ হন, 
এবং গ্রন্থকাঁবের বিরুদ্ধে হিন্দৃস্থানী সমাঁজে কিছুদিন প্রবল আন্দোলন চলে ।১ এই সমস্ত 
বিক্ষোভ এবং অভিযোগেব উত্তবে জ্যোতিবিন্রনাথ বলেন যে অশ্রমতীব কাহিনী কাল্পনিক 
হইলেও, তাহ দ্বার! প্রতাপসিংহের চবিত্র-গৌরব কিছুমাত্র ক্ষুপ্ন হয নাই। আমর! সেই 
বিষয়টি আলোচন। করিয়া দেখিব। 


'অশ্রমতী” নাটকখ।নি পড়িলেই বুঝা যাঁষ যে, ইহাব মধ্যে দুইটা কাহিনী দর্শকের 
মনকে দিখণ্ডিত করিষ! রাখে । নাট্যকার যদ্দি প্রতীপসিংহের বীরত্ব ও স্বার্থত্যাগের চিত্র 
অংকন না করিতেন তবে অস্চমতীর কাহিনী যেভাবে ইচ্ছা গঠন করিবার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা 
তাহার ছিল । কিন্তু গ্রতাপসিংহের স্থমহাঁন, স্বদেশহিতব্রতী চরিত্র সতত দর্শকের মনে 
জাগরূক থাকাতে, তাহার কন্তার প্রেমকে আর আলাদা, বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যায় না। 
'যে শক্রর বিরুদ্ধে প্রতাপ মৃত্যপণ সংগ্রাম ক্রিষাছেন, যাহাকে তিনি নিজের এবং 
ত্বদেশের ঘোরতর শক্র মনে করেনঃ তাহাকেই যখন প্রাণসম! কন্ঠা আত্মদাঁন করিয়া! বসিল 
এখন যে প্রতাপের অনত্রভেদী গৌরব-চুড়। মাটিতে লুটাইয়া পড়িল তাহাতে সন্দেহ নাই। 
অশ্রমতীর পক্ষে সেলিমকে ভালোবাস! অন্যায় নহে, কিন্ত সেই ভালোবাস! যে পিতান্ধ 
'্মাদর্শ ও গবকে আঘাত করিযা ছোট করিয়। দিয়াছে ইহাতেই দর্শকের মন অসন্তষ্ট ও 
বিদ্রোহী হইয়। উঠে। আরও একটী বিষয় মনে, রাখিতে হইবে। মানসিংহ প্রতাপের 
অবমাননার প্রতিশোধ দিবার জন্যই অশ্রমতীকে অপহরণ করাইয়া ফরিদের সহিত তাহার 





জীযুক্ত গজখনাথ ঘোষের 'জ্যোতিরিভ্রদাথ'--পৃঃ ৭৬-১০* অষ্ব্য । 


জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর ১১৩৭ 


বিবাহ দিয়া প্রতাপের কুলগৌরব নষ্ট করিতে চাহিয়াছিলেম। সেলিমকে হৃদয় দান করিয়া 
অশ্রমতী স্বেচ্ছায় মানসিংহের সেই সংকল্লে পরোক্ষভাবে সহায়তা করিয়াছে । জ্যোতিরিল্্র- 
নাথ নিজেকে সমর্থন করিয়। বলিয়াছেন যে অশ্রমতী ভীলৈদের নধ্যে পালিত হইয়াছিল, 
্থতরাং পিতার আঁদর্শ ও গৌরব সে জানিত না ।১ ইহার উত্তরে বল! যাঁয় যে অশ্রমতী 
যখন অপহৃত হইয়াছিল, তখন সে ভীলদের মধ্যে ছিল না, পিতামীতার সহিত পর্বতের কন্দরে 
কন্দরে ঘুরিতেছিল, সুতরাং পিতার কষ্টস্বীকার এবং সুদৃ় সংকন্ত সে বুঝিত না ইহা 
অস্বাভাবিক । সেলিমের বন্দিনী হইয়! যখন সে বাস করিতেছিল তখন সে যথেষ্ট সেয়ান। 
হইয়াছে, কামদেবের রীতিনীতি বুঝিতে পারিয়াছে, কেবল এইটুকুই সে বুঝে নাই যে 
তাহার প্রেমাস্পদ তাঁহারই পিতার ঘ্বণিত শত্রু। প্রকৃতপক্ষে *[.০৮৩ 35 ৪৬০ 11103+ 
এই নীতি দেখাইয়৷ অশ্রমতীর প্রেমকে সহানুভূতির চোখে দেখা যাইত, যদি নাট্যকার 
তাহার 'মনের মধ্যে প্রেম এবং ক্র্তব্যের ছন্দ দেখাইতে পারিতেন। কিন্তু অশ্রমতী 
সেলিমের প্রেমে এতই সমাহিত হইয়। পড়িয়াছে যে নিজের পরাধীন অবস্থাতেও তাহার 
কোনে। অ-স্থুখ নাই, এবং পিতা মাতা এবং স্বদেশ হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়াও তাহার কোনো 
অসন্তোষ কিন্বা অশান্তি নাই। সেলিম তাহাকে নিতীস্ত অন্যায়ভাবে হত্যা করিতে চেষ্টা 
করিয়াছে, ইহাতেও তাহার মনের মধ্যে কোনো অভিমান কিংবা অভিযোগ উপস্থিত হয় 
নাই, পিতার স্থুকঠোর আদেশ সত্বেও সে তাহার প্রণয়াস্পদকে ভুলিতে পারে নাই-_ 
এই সব কারণে তাহার প্রেমের মধ্যে একটা আ'ত্যন্তিক হীনতাএবং বিরক্তিকর দূর্বলতা লক্ষ্য 
কর! যায়। 

নাটকের মধ্যে প্রতাঁপসিংহের কাহিনী প্রথম অস্কে চমৎকাঁরভাঁবে বণিত হইলেও পরে 
নিতান্ত গৌণ হইয়। আসিয়াছে । নাট্যকার দুইটা কাহিনীকে অবিচ্ছেগ্ভভাবে যুক্ত করিয়া 
শেষ পর্যন্ত চালিত করিতে পারেন নাই। নাটকখানি অত্যন্ত দীর্ঘ, কেবলমাত্র চতুর্থ অস্কেই' 
সপ্তদশটী দৃশ্ঠ রহিয়াছে । এইছন্ত অভিনয়ের পক্ষে ইহা উপযে।গী নহে। সেলিম, ফরিদী, 
মলিনা, অশ্রমতী প্রভৃতি কয়েকটা চরিত্রের বারবার প্রবেশ দর্শকের পক্ষে নিশ্চয়ই 
বিরক্তিজনক। | 

সেলিমের মধ্যে ঈর্ষা ও বিশ্বীসের যে অস্থির দে|লায়মান অবস্থা নাট্যকার দেখাইয়াছেন 
তাহা খুবই চমৎকার হইয়াছে । 90;9110র মতই সে ঈর্ধা-বিষে জর্জরিত হইয়া নিতান্ত 


১ ক্সোৌতিরিজ্্নাথ 'ভারতমিজ্রের' সম্পাদককে যে পত্র লিথিয়াছিলেন তাহাতে আছে 
'অশ্রমতী অতি শিশুকালেই নিরুদ্দেশ হয় এবং বহুকাল ভীলেদের নিকট থাকায় এবং তাহাদের 
দ্বারা প্রতিপালিত হওয়ায়, নিজের কুল ধম'জ্ঞান তাহার মন হইতে বিলুপ্ত হইয়াছিল। সে জানত না 
_-কে রাজপুত, কে মুসলমান, সেলিম তাহাকে দ্র হস্ত হইতে রক্ষা. করিয়াছে মনে করিয়! 
তাহার প্রতি প্রথমে সে কৃতজ্ঞ হয়, পরে সেই কৃতজ্ঞত। প্রেমে পরিণত হয় । ইহা তাহার পক্ষে, 
কিছুমাত্র অস্বাভ।বিক .নহে। 

'জ্যোতিরিজ্রনাথ'--মন্মথনাধ ঘোষ, পৃঃ ৮২। 
১৫ 


১১৪ বাংলা নাটকের ইতিম্বাস 


ধন্ঠায়ভাবে প্রণয়িনীকে হত্য। করিবার চেষ্টা করিয়াছে, এবং পরে অনুতাপের স্থৃতীব্র অগ্নিতে 

নিজেকে দগ্ধ করিয়াছে । কিন্তু সেলিমের যে উদারতা ও মহত্ব দেখিয়! অশ্রমতী তাহার প্রেমে 
পড়িয়াছে বলিয়! দেখান হইয়াছে প্ররুতপক্ষে সেই সব গুণ তাহার মধ্যে নাঁই। পৃত্বীরাজের 
কাছে মুক্তিপণ পাঁইয়াও সে অশ্রমতীকে মুক্তি দিতে রাজী হয় নাই, এবং নিজের স্বার্থপর 
প্রেমকে নির্বাধ, নিষ্ঘপ্টক করিবার যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছে । নাটকের মধ্যে সর্বাপেক্ষা 
জীবস্ত চরিত্র ফরিদ খাঁর। ইয়াগোর মতই দে তাহার ক্র,র ষড়যন্ত্রের কুগুলীকৃত চক্রের 
মধ্যে সকলকে আনিয়া নিম্পেষিত করিয়াছে । মলিনার প্ররেমমুগ্ধ পৃর্ধীরবাজ অকল্মৎ 
কিভাবে অশ্রমতীর প্রতি আসক্ত হইলেন তাহা সহজে বোধগম্য হয় না। মলিনার প্রতি 
একনিষ্ থাকিগ্নাও যদি শুধুমাত্র প্রতাপসিংহের গৌরবরক্ষা করিবার কর্তব্যের প্রেরণায় 
অশ্রমতীকে বিবাহ করিতে উদ্যত হইতেন তবেই তাহার চরিত্রের সামঞ্জস্য ও সার্থকতা 
থাকিত। পৃর্থীরাঁজের দ্বারা অবজ্ঞাত ও অবহেলিত হওয়া সত্বেও তাহার প্রতি নিলজ্জ- 
ভাবে প্রেম নিবেদন করিয়া মলিনা নিজের চরিত্রকে হীন ও ছোট করিয়৷ ফেলিয়াছে। 
ট্যাজিক নায়িকার নিলিপ্ড উদ্দাসীনত। এবং সংহত শোক তাঁহাঁর মধ্যে প্রকাশ পায় নাই। 
ভ্রীতৃবৎসল, কুলরক্ষাত্রতী শক্তসিংহের চরিত্র সুন্দরভাবে চিত্রিত হইয়াছে । 


| স্বপ্নময় (১৮৮২) ॥ আ।রংজীবের রাজত্বকালীন তালুকদার শুভসিংহের বিদ্রোহকে 
ভিত্তি করিয়া! এই নাটকখানি রচিত হইয়াছে । কিন্তু নাট্যকার এঁতিহাসিক ঘটনাকে নৃতন- 
ভাবে রূপায়িত করিয়াছেন। 'স্বপ্রময়ীকে এঁতিহাসিক নাটক বলা যাঁয় কিনা সন্দেহ, কারণ 
ইতিহাসের পটভূমিকায় লিখিত হইলেও ইহা এ্রঁতিহাসিক অতীত হইতে আমাদের দৃষ্টিকে 
বিসারিত করিয়! সামাজিক বর্তমানের উপর নিবদ্ধ করে। প্রচ্ছন্ন ব্যঙ্গ এবং গুঢ় কৌতুকরসে 
নাটকখানি বিশেষ প্রাণবান এবং উপভোগ্য হইয়াছে । ঠিক এই ধরণের সুঙ্ম, ইঙ্গিতপূর্ণ 
ব্যঙ্গ-কৌতুক -জ্যোতিরিন্্নাথের অন্ত কোনো নাটকে দেখা যায় নাই। অধ্যাপক 
ডাঃ সুকুমার সেন মহাশয় বলিয়াছেন যে এই নাটকের উপর রবীন্দ্রনাথের প্রভাব 
স্থুষ্পষ্ট। অবশ্ট যে-সময় জ্যোতিরিন্ত্রনাথ নাটকখানি রচন! করিয়াছিলেন তখন সবে- 
মাত্র রবীন্দ্রনাথ নাটক লিখিতে আ'রম্ত করিয়াছেন। স্তুতরাং রবীন্দ্রনাথের প্রভাব 
তখনও ক্ষমতাঁশালী হইয়া! উঠিতে পারে নাই। তবে -্বপ্রময়ী”র নাটকীয় ভঙ্গি ও চরিত্র 
রবীন্দ্রনাথের অনেক নাটকের পূর্বাভাস বটে। -্বপ্নময়ী'র মধ্যে যে গীতিকাব্যের প্রধানত 
আছে তাহা রবীন্দ্রনাথের গীতধর্মী নাটকের কথা মনে করাইয়া দেয়। বিদ্রোহী নেত৷ 
শুভসিংহের মধ্যে দয়া ও কোমলতার সমাবেশ দেখিয়া “বালীকি-গ্রতিভা"র বাল্ীকির সহিত 
তাহার সুস্পষ্ট সাদৃশ্য অনুভূত হয়। ভাবময় 1062-রূপিণী স্বপ্রমপীর চরিত্র রবীন্দ্রনাঞ্জের 
অনেক নাটকের স্ত্ী-চরিত্রের অনুরূপ । নকল দেবতা! এবং তাহার প্রতি স্বপ্রময়ীর দুর্বার, 
দুপ্রতিরোধ্য আকর্ষণ “রাজা” নাটকের সহিত সাদৃশ্তযুক্ত। সাধারণ লোকেদের ধর্মমবিশ্বীস 
এবং কুসংস্কার লইয়৷ নাট্যকার যে রকম পরিহাস করিয়াছেন, রবীন্দ্রনাথ বহু কবিতা 
ও নাটকে সেই ধরণের পরিহীস অনেক করিয়াছেন। 


জ্যোতিরিজ্রানাথ ঠাকুর ৬৬৫ 


শান্্-বিলাসী, সংসারনঅনভিজ, স্নেহপরায়ণ রাজ! কৃষ্ণরামের ভূমিকা! খুবই মনোরম 
হইয়াছে। এই সরল, যুদ্ধবিমুখ, অন্ুকম্প্য বৃদ্ধের বিরুদ্ধে যে হিংশ্র বিদ্রোহ গুঞ্গীভৃত 
হইয়া নির্মম আঘাতে তাহার মৃত্যু ঘটাইয়াছে-_তাহ! অত্যন্ত করুণ ও মর্শাস্তিক হইয়াছে। 
কষ্চরামের শোকাবহ পরিণতি এবং স্বপ্রময়ী ও শুভদিংহের জীবনের শোচনীয় ব্যর্থত। 
দেখিয়া দর্শকের মনে উগ্র ম্বাদেশিক বিদ্রোহ সম্বন্ধে বিরু্ধ প্রতিক্রিয়া উপস্থিত হয়। 
হুতরাং স্বদেশ-প্রেমের উদ্বোধন যদি নাট্যকারের উদ্দেশ্য হইয়া থাঁকে তবে এই 
নাটকে তাহা ব্যর্থ হইয়াছে। ক্রুর যড়যন্ত্রকারী রহিম খাঁর চরিত্রের মধ্যে কৌতুকরসের 
্থষ্টি কর! সঙ্গত হয় নাই) কারণ বাতিকগ্রস্ত, পাঁগলাটে লোক দেখিলে আমরা হাঁসি 
বটে, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে মনের কোণে অজ্ঞাতসাঁরে অন্ুকম্পাণীল সহাম্ভৃতি জমা হইয়! 
থাকে। কিন্ত রহিম খর প্রতি উদ্যত সহানুভূতি তাহার কুটিল এবং চত্রান্তকারী ক্রিয়া 
দ্বারা আহত হয়। জেহেন! চরিত্রের মৌলিক অভিনবত্ব দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ছলনাময়ী, 
কুহকিনী রমণী যে ভাবে তাহার বাহ সারল্য এবং কৌমলত। দ্বারা অন্তরের কাম-কুটিল 
অভিসন্ধি সিদ্ধ করিয়াছে তাহ! দর্শকের আগ্রহশীল চিত্তকে চমতকৃত করিয়া রাখে । 


(খ) প্রহসন 


বার-রদাঁশ্রিত, বিষাঁদাচ্ছন্ন নাটক রচনায় প্রসিদ্ধি লাভ করিলেও. তরল ও চপল 
হাস্মুখর প্রহসনেও জ্যোতিরিন্ত্রনাথ বিশিষ্ট ক্ষমতার পরিচয় দিয়াছিলেন। তাহার পূর্বে 
গ্লাইকেল ও দীনবন্ধু শ্রেষ্ঠ প্রহসন লিখিয়! গিয়াছেন বটে, কিন্তু সত্য উদ্ঘাঁটনের ব্রত 
লইয়! তাহাদিগকে সমাজের পঙ্কপন্থলে নামিতে হইয়াছিল। সেজন্য তাহাদের অঙ্গের 
স্থানে স্থানে ক্লেদ ও কলুষের ছাঁপ লাগিয়! গিয়াছিল। কিন্তু জ্যোতিরিন্রনাথ ক্লেদাক্ত 
বাস্তব সমাজের গভীর প্রদেশে দৃষ্টিপাত করেন নাই, সমাজের কোনে ছুরূহ. সমস্তার উপর 
অভ্রান্ত আলোকপাতও করেন নাই। সেজন্য শাঁলীনতার গণ্ডি কোনো সময়ে তাহাকে 
অতিক্রম করিতে হয় নাই। দীনবন্ধু প্রভৃতি ঝড়ো হাওয়ার বেগে সমাজের ছদ্মবেশটী 
উড়াইয়৷ লইয়। গিয়াছেন, কিন্তু জ্যোতিরিন্দ্রনাথ মূছু মলয় পবনের ন্যায় সেই বেশটা লইয়া 
নাড়াচাড়া করিয়াছেন মাত্র) স্থতরাঁং তাহার নাটকে বাস্তবের নগ্নতা ফুটিয়৷ উঠে নাই। 
যেখানে ভদ্রতার বালাই নাই, নীতি ও নিয়মের চোখ-রাঙ্গানি নাই, সেখানে হাস্যরস 
অনর্গল ও সশব' হইয়া! উঠিতে পারে, কিন্ত স্ুরুচিসম্পন্ন, ব্রাঙ্গধর্মাশ্রয়ী নাট্যকারের কাছে 
হান্তরন এইনধপ অবাধ প্রশ্রয় পাই নাই। প্রহসনকারদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম হান্তরসকে 
রুচির বশীভূত করিয়াছিলেন | 
_॥ কিঞ্চিৎ জলযোগ (১৮৭২) ॥ তাহার প্রথম প্রহসন | এই গ্রহসনে নব্যতস্ত্রী ্বাধীনতা- 
্ররাসী ত্রাঙ্গমমাজের “প্রতি ব্যঙ্গ কর! হইয়াছে বটে, কিন্তু সেই ব্যঙ্গে জাল! নাই, এবং তাহা 


১১৬ বাংল৷ নাটকেরম্ইতিহাস 


গ্রন্থের সর্বতরপ্রনারীও নহে। গ্রন্থের প্রথম ভ্যগেই কেবল পূর্ণ ও বিধুমুখীর কথোপকথনে 
্্ীস্বাধীনতার প্রতি একটু কটাক্ষ কর! হইয়াছে, কিন্তু প্রহসনের বেন্ত্রীয় ঘটনার মধ্যে 
কোনো ব্গ-বিজ্রপ পরিশ্ুট হয় নাই। স্থামীব্্্রীর ঈর্ষাদগ্ধ সন্দেহ, এবং সেই, সন্দেহের 
স্থথকর নিরসনই প্রহসনের মধ্যে কৌতুকরসের সৃষ্টি করিয়াছে । যে পূর্ণচন্্র কিছুক্ষণ 
'আগে পত্বীর কাছে জোর গলায় বলিয়াছে যে 'বাস্তবিক আমার মনে কোন কু-সন্দেহ প্রায়ই 
উপস্থিত হয় না”, সেই যখন পেকুরামকে দেখিয়। ঈর্যা-ক্রোধে ক্ষিপ্ত হইয়া! তাহাকে মারিবার 
চেষ্টা করিয়াছে তখন নিজেই সে অত্যন্ত উপহাঁসের পাত্র হইয়! উঠিয়াছে। প্ররুত হাস্তরস 
অব্যর্থ-লক্ষ্য তীরের ন্যায় কোনো ব্যক্তিবিশেষকে আঘাত করে না, ইহা! তাঁরাবাঁজির স্থাঁয় 
চতুর্দিকে আগুনের ফুল্কি ছড়াইতে থাকে। ইহার হাত হইতে কাহারো নিস্তার নাই। 
পূর্চন্ত্রের মিথ্যা সন্দেহে বিধুমুখী দর্শকের সহিত মিলিয়া খুব হাঁসিয়াছে বটে, কিন্তু কিছুক্ষণ 
পরেই সে নিজেই সন্দেহের খপ্পরে পড়িয়। বেয়াকুব বনিয়াছে। এইভাবে সকলকেই 
নাকাল ও বিপর্যস্ত হইতে “দখিয়৷ পরিতুষ্ট হাস্তরসে আমাদের চিত্ত উল্লসিত হইয়া উঠে, 
হাঁসির বাতাসে বিদ্বেষ ও গ্রাঁনির কণাঁটুকু পর্যন্ত উড়াইয়া নেয়। আলোচ্য প্রহসনের মধ্যে 
পূর্ণচন্ত্র যখন পেকুরামের পিছনে তরবারী লইয়া ধাওয়া করিয়াছে, অথবা বিধুমুখী পেরুরাম ও 
তাহার স্বামীর নকল যুদ্ধ দেখিয়া আশঙ্কায় মুষছিত হইয়! পড়িয়াছে তখনই আমাদের হাস্যরস 
বেশি উচ্ছুসিত হইয়াছে । পূর্ণচন্দ্ের সন্দেহ অমূলক এবং বিধুমুখীর আতঙ্ক অকারণ, অথচ 
তাহারা ইহ! জানে না, কিন্তু দর্শকের কাছে ইহ! অজ্ঞাত নাই । সেইজন্য সে বিশেষ কৌতুক 
বোধ করে, এবং পাত্রপাত্রীদের নির্ুদ্ধিতার জন্ তাহাদিগকে হাস্তাষ্প্দ মনে করে। 

॥ এমন কর্ম আর করব না (১৮৭৭) ॥ জ্যোতিরিন্দ্রনাথের দ্বিতীয় প্রহসন 
এমন কর্ম আর করব ন|, পরে “অলীকবাবু” নামে প্রকাশিত হয়। এই প্রহসনে 
সরদ পরিহাসের লক্ষ্য দুইটা-_মূর্থ অলীকের মিথ্যাভাষণ এবং নভেলী নায়িকা 
হ্মাঙ্গিনীর রোমান্সপ্রিয়ত । ঘটনার পরম কৌতুকাঁবহ বৈচিত্র্য গদার দার! ঘটিয়াছে। 
প্রকৃতপক্ষে অলীক অপেক্ষাও গদার স্ুচতুর কর্মতপরতা দৃষ্টি অধিকতর আকর্ষণ 
করে। গদ| বার বার সাহায্য না করিলে অলীকের মিথ্যাবাদ ষে কোনো মুহুর্তেই ধরা 
পড়িত, এবং অলীক ও গদাঁর পরম্পর-সান্নিধ্যে গদাঁর কথার তুবড়ির কাছে অলীককেও চুপ 
করিতে হইয়াছে । কিন্ত যে গদা অলীকের মিথ্যাভীষণের সহকারী ছিল তাহার দ্বারাই 
একই অবস্থার মধ্যে অলীকের স্বরূপ প্রকাশিত হওয়াটা যথার্থ হয় নাই। বস্তত প্রহসনের 
শেষের দিকে ঘটনার সমাধান খুব স্বাভাবিক হয় নাই, অলীক মিথ্যা অস্ত্রের বলে বেশ 
জিতিয়। যাইতেছিল, হঠাৎ ষেন সকলে মিলিয়া তাহাকে “অভিমন্তুবধ, করিয়া বস্সিল। 
ঘটনার অনিবার্ষ গতির পাকে পাকে জড়াইয়া যাইয়া তাহার আসল রূপটী যদি বাহির হইয়া 
পড়িত তবেই হাস্তরসের ধার! কোনো স্থলে ব্যাহত হইত না । গদার মুখে লক্বা বর্ণনার মধ্য 
দিয়! রহস্য উদ্ঘাটনের উপায়টা খুবই দূর্বল হইয়াছে । অলীকের বাক্য ও আচরণ সত্যসিম্ধু 
কাছে হান্যরসাত্মক নয়, কারণ সে অলীক অপেক্ষাও মূর্খ ও সরল, কিন্ত শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান 


জোতিরিজ্রনাথ ঠাকু র ১১৭ 


দর্শক শেকসপীয়ারের “ওয়েবস্টার ডিকম্যনারি', বায়রণের “চেস্বার্স আযাটলাস” এবং 
কালিদাসের “ুগ্ধবোধ,-পড়া অলীকগ্রকাশের বিদ্যার দৌড় বুঝিতে পারে। তাহার মূর্খতা 
এবং সত্যসিদ্ধু ও হেমাঙ্গিনীর নির্বুদ্ধিতা- ছুই কারণেই দর্শক বথেষ্ট কৌতুক বোধ করে। 
হেমাঙ্গিনী বঙ্কিমের নভেল পড়িয়া, নভেলী নায়িকার সায় নিজেকে ভাবিতে শিখিয়াছে, এবং 
তাহার.ভাব ও আচরণ বাস্তব সংসারের সম্পর্ক হারাইয়া কল্পলোকে বিহীর করিতে চহিয়াছে। 
মলিয়েরের ২০10817010 1.016১ নামক প্রহসনের নাঁয়িকাদ্য়ের মত হেমাঙ্গিনীও 
রৌমান্সের সন্ধানে অধীর হইয়া উঠিয়াছে। অলীকপ্রকাশ একটা! উপলক্ষ্য মাত্র যে 
কোনো লোককেই সে নায়ক বলিয়! কল্পন। করিয়! তাহার সহিত সে নায়িকার স্যায় আচরণ 
করিত। ' পারিপার্থিক অবস্থা এবং চরিত্র সংস্থানের উপর রসের বিকাঁশ এবং তাৎপর্য নির্ভর 
করে। মদের আ্ডাঁখানায় কেহ ধর্মকথা শুনাইলে ভক্তির উদ্রেক ন! হইয়া হাস্যরসের 
উদ্রেক হয়। হেমাঙ্গিনী প্রেমমূলক গুরুভাঁববিশিষ্ট কৌনে৷ কাহিনীর মধ্যে প্রকৃতই নায়িকা 
হইতে -পারিত। কিন্তু তরল হাঁস্তোজ্জল ঘটনার মধ্যে তাঁহার প্রেপরায়ণতা নিতাস্তই 
বেমানান হইয়া হাঁস্তাস্পদ হইয়াছে । 

॥ হিতে বিপরীত (১৮৯৬) ॥ এক বুদ্ধ কূপণের জব্দ হওয়ার কাহিনী লইয়া “হিতে 
বিপরীত” প্রহসনখানি রচিত হইয়াছে । বিবাহ এবং বাঁসরঘরের দৃশ্ঠের সহিত দীনবন্ধুর 
“বিয়ে পাগল! বুড়ো+র সাদৃশ্ঠ রহিয়াছে । এই প্রহসনথানিতেও নিছক হাঁস্তরস চি করা 
হইয়াছে, এবং ঘৃটনাঁর অদ্ভুতত্ব এই হাস্তরসের মূল। 

॥ হঠাৎ নবাব ১৮৮৪) ॥ “হঠাৎ নবাব” এবং দীয়ে পড়ে দারগ্রহ»- এই ছুইখানা প্রহসন 
জগদ্ধিখ্যাত ফরাসী নাট্যকার মলিয়েরের নাটকের অন্ুবাদ। জ্যোতিরিক্রনাথ ব্যারিষ্টার 
মনোমোহন ঘোষের কাছে ফরাসী ভাষ! শিক্ষা করিয়াছিলেন এবং ফরাসী সাহিত্যের গ্রন্থও 
বাংলায় অনুবাদ করিয়াছিলেন । “হঠাৎ নবাব' মলিয়েরের [06 086 00060 061016- 
[09182 (1১6 301852015 32100] 1)01071705 ) নাটকের অন্থবাদ। অন্গবাদদ অবিকলভাবে 
মূল নাটককে অনুসরণ করিয়াছে, সেজন্য একমাত্র ভাষা ব্যতীত জ্যোতিরিন্ত্রনাথের মৌলিকতা 
কিছুই নাই। মূল নাটকের পাত্রপাত্রীর নামের সহিত পর্যস্ত বাংলা অন্ুবাদগ্রস্থের পাত্রপাত্রীর 
সঙ্গতি রহিয়াছে । )01020১ 0120170655, [00111061765 10018176655 10018১ 00516] 
প্রভৃতি বাংল! প্রহসনে যথাক্রমে জুর্দনর্থা, খেলাঁৎখা, ডেলমনিয়া, দৌলংখা, নকুলিয়া, 
কবলুরখী রহিয়াছে । মলিয়েরের প্রহসনের বৈশিষ্ট্য এই যে, দৃশ্ঠের গোঁড়ীতেই সব 
চরিত্রগুলির সমাবেশ হইয়! থাকে । মাঝামাঝি জায়গায় কোনো! প্রবেশ এবং নিঙ্ষমণ নাই, 
এবং অনেক দৃশ্ঠই খুব সংক্ষিপ্ত হইয়। থাকে । বলা বাহুল্য জ্যোতিরিন্রনাথ এই নিয়মের 
ব্যতিক্রম করেন নাই, অথচ ইচ্ছা করিলেই তিনি এই বীতি ত্যাগ করিয়া সাধারণ এবং সচরাচর 
প্রচলিত রীতি গ্রহণ করিতে পারিতেন। মলিয়েরের প্রহসনথানায় উচ্চ এবং অভিজাত শ্রেণীতে 
স্থান পাঁইবার জন্ত 0০:08 যে স্ব হাশ্তকর চেষ্টা করিয়াছে সেগুলি লইয়া ব্যঙ্গবিদ্রপ কর! 
হইয়াছে । তু উৎসব এবং অনুষ্ঠানের কৌতুকময় বর্ণনা অত্যন্ত সরস এবং হাস্যরসপূর্ণ হইয়াছে। 


১১৮ বাংল! লাটতষর কতিছাস 
.. ॥ দায়ে পড়ে দারগ্রহ (১৩০৯) ॥ মলিয়েরের 11571556০০০, জ্যোতিরিন্ত্রনাথ 

টি পড়ে দারগ্রহ' নাম দিয়! অনুবাদ 'করিয়াছিলেন। এই প্রহদনের অন্তর্গত চ্ঠায়রধ 

ং বেদাস্তবাগীশের দৃশ্য দুইটা লেখকের রসজ্ঞ মৌল্গিকতাঁর পরিচায়ক । এই ধরণের 
্ পণ্ডিতদদিগের নিবু দ্ধিতা লইয়! পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ অনেক কবিত৷ ও টিনা -প্রহসন 
রচন| করিয়াছেন । 

জ্যোতিরিন্্রনাথ-গ্রসঙ্গ সাঙ্গ করিবার পূর্বে তিনি যে সংস্কত নাঁটকগুলি অনুবাদ 
করিয়াছিলেন সেইগুলি সম্বন্ধে তাহার কৃতিত্ব উল্লেখ না! করিলে তাঁহার প্রতি অন্ায় হইবে। 
তিনি সমুদয় বিখ্যাত সংস্কৃত নাটকগুলি বাংলায় অন্থবারদ করিয়াছিলেন এবং সাবলীল 
স্বাভাবিকতার গুণে সেই অনূদিত নাটকগুলি মূল গ্রন্থসমূহের ভাবের চমৎকাঁরিতা এবং 
বর্ণনার পারিপাট্য অঙ্ষু্ন রাখিয়াছে। সংস্কত-অনভিজ্ঞ পাঠকের কাছে তিনি নাটকের 
রসধারা পৌছাইয়া দিয়াছিলেন, সেজন্ত তাহারা কৃতী অনুবাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ 
থাকিবে। বাংল! সাহিত্যে ধাহীরা৷ অন্থবাদ করিয়া যশস্বী হইয়াছেন, তাহাদের মধ্যে 
জ্যোতিরিন্ত্রনাথের স্থান পুরোভাগে ইহা জোর করিয়৷ বলা যায়। 


(২) কিরণচক্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 


কিরণচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের “ভারতমাঁতা+ ও “ভাঁরতে যবন+ এই দুইখাঁনি নাটিকা অতি 
ক্ষুদ্রাকার হইলেও জাতীয় ভাবাত্মক নাট্য আন্দোলনের স্চনায় ইহাদের প্রভাব ছিল 
অনেকথানি। নাট্যকার এই নাটিকা দুইথানিকে মাস্ক (রূপক) বলিয়া অভিহিত 
করিয়াছেন। “ভারতে যবনে”র ভূমিকায় তিনি বলিয়াছেন, “বঙ্গভাষার ভারতমাতা। প্রথম 
মাস্ক (বূগক)। সাধারণ ব্যক্তিগণ ভারতমাতাঁর দুঃখে দুঃখিত হইয়াছেন দেখিয়া আহ্লাদ 
সহকারে ভারতে যবন ঘিতীয় মাস্ক রচন৷ করিলাম ।» “'ভারতমাতী”র মধ্যে ইংরাঁজ রাজত্বকালীন 
অবস্থা ও “ভারতে যবনে*র মধ্যে মুসলমান শাসনাধীন ঘটনা বণিত হইয়াছে। ছুইখানি 
নাটিকাতেই ভারতীয় সন্তানগণের ছুঃখদুর্গতি দেখাইয়া ইংরাজ ও মুসলমান শাসনের বিরুদ্ধে 
জাতীয়তাবাদ উদ্দীপিত করা হইয়াছে । 

॥ভারতমাতা৷ (১৮৭৩) ॥ “ভাঁরতমাতীর মধ্যে জাঁতীয়ভাবের অবতারণা হইলেও শেষ 
পর্যস্ত, দীনছুঃখাঁ ভারতসস্তানের আশ্রয়স্থল হইয়া উঠিয়াছেন কিন্তু মহারাণী ভিক্টোরিয়!। 
সম্পূর্ণরূপে ইংরাঁজ শাসন মুক্তির অভিপ্রায় ইহাঁতে অনৃস্ঠ । দুইটি সাহেবের চিত্র অঙ্কন করিয়ু! 
লেখক দেখাইতে চাহিয়াছেন যে সাহেবদের মধ্যে ভালো ও মন্দ উভয় শ্রেণীর লোকই আছে। 
সেজগ্য সৎ সাহেব ও সদয়া৷ মহারাণীর করুণ! উদ্রেকের চেষ্টাই রহিয়াছে নাটিকার মধ্যে। 
পরিশেষে ধৈ্ধ, সাংস ও একতা এই তিনটি চরিত্র আনিয়া আভাস দেওয়া হইয়াছে যে, 
এইগুলিই পরাধীন ভারতবাসীর মুক্তিপথের -কাস্তিক অবলম্বন। 


হয়লাল রায় ১৯৯ 


॥ ভাঁরতে ধবন (১৮৭৪) ॥ «ভারতে যবনের মধ্যে মুসলমাঁনগণের নানাধিধ অত্যাচার 
কাহিনী বর্ণিত হইয়াছে। এই অত্যাচার সহিয়্াও ভারতসস্তান নিশ্টে্ট ও প্রতিকরিহীন ।-ছুঃখে 
অভিমানে ভারতলক্্ী বলিলেন, “যতদিন আর্যস্তীনগণ পুণ্য-তূমি হতে যবনগণকে দুরীতৃত. 
কোরতে ন৷ পারবে, ততদিন অবধি প্রিয় ভারততৃমির স্থথে বঞ্চিত হলেম, আদরের আর্য 
সন্তানগণের নিকট হতে বিদায় হলেম। যদি কখন ভারতমাতার ছুঃখ দুর হয়, আমারও 
ইবে। নচেৎ এই শেষ।, নাঁটিকাঁর শেষে ভারত-সস্তানের উদ্দীপিত ভাষণ ও সাহসিক 
সংগ্রামের বর্ণন। রহিয়াছে। ' 


(৩) হরলাল রায়, 


হরলাঁল রায়ের নাটকে রোমান্টিক কাহিনী থাঁকিলেও জাতীয় ভাবোদ্দীপমাই ইহাতে 
প্রাধান্য লাভ করিয়াছে । বীরত্ব ও মহাঁপ্রাণতার আদর্শ হরলালকে উদ্বোধিত করিয়াছিল, 
সেজন্য স্বদেশী ভাবাহ্থপ্রাণিত জনসাধারণের কাছে গ্লাহার নাটক সহজেই জনপ্রিয় হইয়া 
উঠিয়াছিল। হরলাঁলের কয়েকখানি নাটকের মধ্যে তাহার জাতীয় ভাবাত্বক নাটক 
ুইথানিই সর্বাপেক্ষা খ্যাতি অর্জন করিয়াছিচ। এর ছুইখানি নাটকের নাম “হেমলতা 
নাটক' ও “বের স্বখাঁবসান। ্‌ 

॥ হেমলতা৷ (১৮৭৩) ॥ “হেমলতা নাটক" নায়িকা হেমলতার নামাক্ষিত। কিন্তু 
হেমলতার প্রভাব নাটকের মধ্যে নিতান্তই সামান্ত। প্ররুতপক্ষে সর্বপ্রধান চরিত্র হইল 
বীরশ্রেষ্ঠ সত্যসখা। সেই তেজসিংহের কবল . হইতে চিতোররাজ বিক্রমসিংহকে উদ্ধার 
করিয়াছে এবং যবনের আক্রমণ হইতে চিতোরপুরীকে রক্ষা করিয়াছে। যেভাবে সত্যসখার 
আসল পরিচয় গোঁপন করিয়া ঘটনার পর ঘটনার মধ্য দিয়! দর্শকদের সাগ্রহ কৌতৃহল 
বজায় রাখা হইয়াছে তাহাতে নাট্যকারের স্থষ্টিকৌশলের পরিচয় পাওয়া যায়। রহ্বাঁড়্ঘর 
ও অতিনাঁটকীয় উপাদান কম আছে বলিয়াই এই নাটকের প্রতি কোথাও আমাদের মনে 
তেমন অশ্রদ্বা ও অবিশ্বাস জন্মায় ন৷। 

॥ বঙ্গের স্ুখাবসাঁন (১৮৭৪) ॥ বক্তিয়ার খিলিজি কতৃক বঙ্গবিজয় বাংলার 
ইতিহাসের এক চিরকলঙ্কিত অধ্যায়। নাট্যকা'র সেই অধ্যা়টি অপরিমেয় বেদনার অশ্রজলে 
সিক্ত করিয়! দর্শকদের সম্মুখে উদ্ঘাটন করিয়াছেন 1 বঙ্গবিজয়ের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অবস্থা, 
লইয়। নাটকথাঁনি রচিত। বৃদ্ধ রাজ! লাক্ণ্য সেন গুরু গোবিন্দ ভট্টাচার্যের আদেশে ও মন্ত্রী 
মহেন্দ্রের গ্ররোচনায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে অন্ত্রধারণ না করিয়া! বাংলার সর্বনাশ ডাকিয়া 
আঁনিয়াছিলেন। তীহার&এই আচরণ ক্ষমার অযোগ্য হইলেও নাট্যকার তাহার চিত্তে তীব্র 
আক্ষেপ ও আত্মগ্লীনি সঞ্চার করিয়া তাহার প্রতি করুণা. আকর্ষণ করিয়াছেন। বস্তত এই. 
নাটকের মধ্যে কোন চরিত্রকেই অবিমিশ্র মন্দ করিয়! অঙ্কন করা হয়নাই । বিষ্কীসক্ষচক- 


১২০ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


মহেক্ের মধ্যেও যথেষ্ট দ্বিধা ও অস্তিম মনস্তাঁপ দেখান হইয়াছে এবং বক্তিয়ার বিধর্মী পর- 
রাজ্যহারী হইলেও ক্ষম! ও মমুস্ত্ব-ধর্ম হইতে যে বঞ্চিত নহেন তাহাই পরিস্ফুট কর হইয়াছে। 
লান্ণ্য সেনের ছুঃখত্রত্তী বীর ভ্রাতুম্পুত্র বিরাট সেন ভীকুতাঁর লতাগুন্সের মধ্যে এক উচ্চশির 
শালবৃক্ষ । বাংলার একপ্রান্ত হইতে অন্ত প্রান্ত পর্যন্ত গ্রাণাস্তকর চেষ্টা করিয়াও সে এই 
নির্জীব জড়ীভূত জাতিকে জাগাইতে পাঁরিল ন1। মর্াস্তিক বেদনায় সে বলিয়াছে--কোর্টি 
বাঙালীর মধ্যে দশ জন স্বদেশ উদ্ধারের জন্ত প্রাণ দিতে প্রস্তত নয়। প্রাণে এত মমতা ? 
ছুদিন্রে নিঃশ্বাস প্রশ্বাকি এত বড় হল, আর স্বাধীনত। কিছুই নয়! বাঙালীর কি 
জীবিত আছে? বাঙা'লীরা জীবিত নাই-_সেদিন ছিল না, আজও নাই। 


(8) উপেন্দ্রনাথ দাস 


রোমাঞ্চকর ও অতিনাটকীয় উপাদান দ্বারা স্থল জনপ্রিয়তার অধিকারী হইলেন 
উপেন্ত্রনাথ দাস। স্থাধী ন]ট্যরসসমূদ্ধ না হওয়াতে সমসামযিক ক।লের সীমিত ক্ষেত্র 
অতিক্রম করিয়া! এই জনপ্রিষতা পরবর্তী কালে বিস্তৃত হইতে পারে ন।ই ।১ নাটক যে আরব্য 
উপগ্ভাস নয় এবং নাটকের %০০৫০7 ও ফুটবল খেলার ০10?এর মধ্যে যে প্রভেদ আছে 
তাহা তৎকালীন রোমাঞ্চপ্রিয় অনেক নাট্যক|রই তুলিযা গিয়াছিলেন, উপেন্ত্রনাথও এই ভুল 
কাটাইয়। উঠিতে পারেন নাই। পাশ্চ।ত্য শিক্ষায় আলোকপ্রাপ্ত নরনারী-সমাঁজ লইয়। তিনি 
নাটক রচন! আরম্ভ করিলেন, সেজন্য একটা স্বততশ্, সংস্কারমুক্ত মনোভাব তাহাদের মধ্যে দেখ। 
গেলেও মাঝে মাঝে তাহাদিগকে যে একটু আড়ষ্ট ও অসামাজিক বোধ হয় তাহাও সত্য। 
শিক্ষিত যুবক যুবতীর মধ্যে যে তৎকালে ইংরাঁজ বিদ্বেধী ও স্বদেশহিতৈষী ব্বদেশগবাঁ ভাব 
জাগ্রত হইয়াছিল নাট্যকার নাটকে তাহার অবতারণা করিলেন। কিন্তুকোঁন মহৎ ভাব 
স্থান, কাল পরিবেশের মধ্যে ফুটা ইয়া তুলিতে না পারিলে যে তাহ! লঘু ও নিরর্থক হইয়া! পড়ে 
তিনি সম্ভবত তাহা জানিতেন না। “শরৎ সণোজিনী'র কথাই ধরা যাঁক। এক ইংরাজ. 
সার্জনের সঙ্গে লড়াই করিয়া শরৎ যথেষ্ট বীরত্বের পরিচয় হয়তো দিয়াছে, অথবা কয়েকটি 
গোর! ডাকীতকে নিপাত করিয়াছে কিন্তু সেই জন্যই এই কর্মগুলিকে উচ্চধরনের জাতীয়তার 
অঙ্গ বল! যায় না। সমগ্র নাটকের মধ্যে কোথাও জাতীয় ভাবের অন্থকুল পরিবেশ নাই, 
সেজন্ত মাঝে মাঝে তরল জাতীয়তার বহবম্ফোট থাকিলেও ইহাকে জাতীয় ভাবোদ্দীপিত 
নাটক বলা চলে না। রর 


১। উপেন্রনাথ দাসের নাটক তৎকালে যে কিরূপ জনপ্রিয় হইয়াছিল তাহা “শ্রংসরোজিনী' সম্বন্ধে 
অসৃতবাজার রত্রিকায় প্রকাশিত সমীলোচন! হইতে কিছুটা অনুমান কর। যাঁয়। মঙ্গল ভাষ!য় এ পর্যন্ত যতগুলি 
নাটক লেখা হইগ়।ছে তাহার মধ্যে এখানি সর্বোৎকৃষ্ট না হউক, ছুই একখানি ব্যতীত ইহা! অপেক্ষ1 উৎকৃষ্ট নাঁটক 
একধানিও অস্ত।বধি বাহির হয় নাই ।" | ও 


উপেজ্জনাথ দাস ১২১ 


॥ শরৎ-সরোজিনী (১৮৭৫ )॥ শরনরোজিনী এবং বিন্য়-সুকুমারীর অবুতীগ ও 
নান! বাধা-বিপত্তির অবসানে তাহাদের মিলনই হইল নাটকের আখ্যান-বস্ত । পাবগু-চৈভা 
মতিলালের দ্বারাই নাটকের যাবতীয় সংকট-জটিলতার সৃষ্টি তইয়াছে। নাটক্ষের মধ্যে 
সর্বাপেক্ষা অসংগত ঘটন! সরোজিনীর গৃহত্যাগ ৷ শরতের গৃহে পালিত হইয়৷ হঠাৎ তাহার গুছ 
ত্যাগ করিয়া যাইবার মধ্যে কোন বিশ্বাস্য কারণ অনুমান করা যায় না । তাহাদের অন্গরাগের 
মধ্যে কোন বাধা-বিপত্ভিও উপস্থিত হয় নাই, জ্ুতরাং সরোজিনীর আকন্মিক বৈরাগ্য 
অর্থহীন । যদি প্রণয় সংকট এড়াইবার জন্যই সে শরতের আশ্রয় ছাঁড়িয় গেল তবে ঘুরিয়া 
ফিরিয়া পুনরায় আসিয়া আবার সেই সংকটের মধ্যে ধর! দিল কেন? যাঁহীই হউক 
সরোজিনীর ছদ্ম পরিচয় প্রকাশের দৃশ্য যে অত্যন্ত কৌতৃহলস্থচক ও নাটকীয় হইয়াছে তাহাতে 
সন্দেহ নাই । মুসলমান দস্যুদের হস্তে শরতের বন্দী হইবার ঘটনা একেবারেই উত্তট ও 
নাট্যসম্পর্কহীন। মুল চরিত্রগুলি অপেক্ষা কয়েকটি পার্খচরিত্র অনেক বেশি জীবস্ত হইয়া 
উঠিয়াছে। বিজ্ঞান-পাঁগল হরিদাস, কলক্কিতা অথচ পরহিতপ্রাণ৷ ভূবনমোহিনী এবং দুর্দান্ত 
শয়তানরূপী মতিলাল চরিত্র অন্কনে নাট্যকার প্রশংসনীয় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়াছেন। 

॥ সুরেন্দ্র-বিনোদিনী (১৮৭৫ )॥ “ম্থরেন্্র-বিনোদিনী” প্রণয়মূলক সামাজিক নাটক 
হইলেও ইহ। সুলভ জাতীয় ভাবে উদ্দীপিত। নাটকে চমতকারিত্ব সঞ্চার করিবার জন্ত লেখক 
মারামারি ও পিস্তল ছোড়াছু*ড়ির আধিক্য দেখাইয়াছেন বটে, কিন্ত তাহাতে বীররসের 
গাস্তী্য নাই, আছে কেবল নকল বীরত্বের হাস্যকর তাঁরল্য। স্থুরেন্ত্র ও বিনোদিনী নাটকের 
নায়ক ও নায়িকা । ইহাদের প্রণয়, প্রণয়ের বাধা ও পরিশেষে মিলনই নাটকের প্রধান 
উপজীব্য বিষয়। কিন্ত ইহাদের যে প্রণয় চিত্রিত হইয়াছে তাহ। ভাবাঁতিশধ্যে এবং উচ্চ্বাস- 
প্রাবল্যে তরল ও সংবেদনহীন হইয়া পড়িয়াছে । €[176 ০00155 ০৫£ 001০ 1052 089 
16৮61: 701) 52000901)+ একথা সত্য, কিন্তু সুরেন্্র ও বিনোদিনীর মধ্যে যে সাময়িক ব্যবধান 
স্থষ্টি হইয়াছে তাহার তেমন জোরালো কারণ নাই । তাহাদের মনে যে ভ্রান্ত সংশয় ও 
সবন্দের উৎপত্তি হইয়াছে তাহা কোন জটিল ঘটনার আবর্তে ঘটে নাঁই। একমাত্র 
হরিপ্রিয়ের বাক্যে ও চক্রান্তে এই সংকটের স্থষ্টি হইয়াছে । কিন্তু হরিপ্রিয়ের অনিষ্টকারিতা 
ইয়াগোর মত একেবারেই অকারণ ও উদ্দেশ্াহীন। হরিপ্রিয় সুরেন্দ্র ও বিনোদিনীর মধ্যে 
মনোমালিন্য কৃষ্টি করিতে যাইয়া নিজেই বলিয়াছে_“ছেলেবেল! সকলের সঙ্গে খুনি সুম্থ়ি 
করতেম বলে, বাঁবা আমাকে শয়তানের অবতার বলে ডাকতেন। তা, মাছুষ্ট সরস্বতী এখনও 
আমাঁর ঘাড় থেকে নাবেন নি। মানুষে মানুষে ঝগড়া বাধিয়ে দিতে পারলে আমার বড়ই 
আহ্লাদ হয়।+ কিন্তু শুধু কেবল একটা দুষ্ট থেয়ালের ফল স্বরূপ এন্প ঘনীতৃত সংকট স্থানটি 
করা! মোটেই সঙ্গত ও স্বাভাবিক হয় নাই। হরিপ্রিয় সুরেন্রের ভঙ্গী বিরাজমোহিনীর 
গ্রণয়াকাজ্জী ছিল, সুতরাং নিতান্ত অকারণে জুয়েন্্রর ক্ষতি করিতে যাওয়া তাহার নিজের 
পক্ষেও সঙ্গত ও লাভজনক নহে । মক্রেগ্ডেলের সহিত সুরেন্্রর শত্রুতার ফলে নাটকের মধ্যে 
রোমাঞ্চকর ঘটন! ও শ্বাদেশিক ভাবালুতার অবতারণা! হইয়াছে। মাক্রেণ্ডেল তৎকালীন 


১৬ 


২ বাংল নাটকের ইতিহাস 


গর্বোদধত, উচ্ছৃঙ্খল অত্যাচারী ইংরাজ রাজকর্মচারীর এক অতি নিখুত প্রতিনিধি। 
স্ুরেন্্রকে সে বলিয়াছিল, “নির্বোধ, আমি ব|ইবেল চুম্বন করিয়! শপথ পূর্বক যাহা! বলিব, 
তাহার বিরুদ্ধে তে|মাদের দুইশত ব|ঙাঁলির সাক্ষ্য গ্রাহ্থ হইবে না।, কথাগুলি দেশীয় 
দ্োকেদের প্রত্বি তৎকালীন ইংরাজের মনোভাব স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করিতেছে। 
দরিক স্তায়রত্বধ মহাশয় এবং সরল-স্বভাব নীলক নাটকের মধ্যে যে হাস্যরস 
উদ্রেক করিয়াছে তাহা স্কুল হইলেও উপভোগ্য । পূর্ববংগবাসীদের প্রতি বিজ্ধপ 
প্রিয়ত। স্ায়রত্নের চরিত্রের মধ্যে পরিস্দুট হুইয়াছে। হাঁস্তপরিহাসপ্রিয় বুদ্ধ রাজচন্তর 
বন্গুর কথাগ্ড৭ল বিশেষ সরস ও চিত্তাকর্ষক হ্হয়াছে। 

॥ দাদ! ও আমি (১৮৮৮) ॥ আলোচ্য নাটকখানিও রোমা্টিক ভাবাপন্ন, তবে 
নাট্যকারের পূর্বোক্ত প্রসিদ্ধ নাটক ছুইখানির ন্যায় ইহা বীররসাত্মক নহে, লঘু হাস্যরসাত্মক। 
ধীরেন্দ্কুমার ও অনন্তকুমার ছুই ভাই, ছুই ভাইয়ের মধ্যে ভালোবাসা এতই গভীর যে 
তাহারা ভাইয়ের গগ্ডি ছাঁড়াইয়। বন্ধুর সীমানায় প্রবেশ করিয়াছে। বিবাহ সম্বন্ধে তাহাদের 
বড়ই অনিচ্ছ।, নারী সমাজ সম্বন্ধেও তাহাদের আশঙ্কার অন্ত নাই। অবশ্য কিভাবে 
তাহাদের অনিচ্ছা কাটিয়া! গেল এবং আশঙ্কা আকাজ্ায় পরিণতি লাভ করিল তাহ নাটকের 
মধ্যে যথাযথ ভাবে ঝণিত হইয়াছে । নাটকের কাহিনীর মধ্যে রহস্যজটিল ভ|বটি অক্ষুপ্ন রাখিয়- 
নাট্যকার ঘটনাবিন্তাসের কৌশল দেখাইতে সমর্থ হইয়াছেন। প্রণয় ও পরিহাসের ছুইধারা 
ওতপ্রেতত ভাবে মিশিযা নাটকের মধ্যে এক ্লিপ্ধ সরস পরিবেশ রচন1. করিয়াছে। তবে 
জায়গায় জাধগ|য় ছুই ভ,ইবের ছেলেমি ও ছ্যাবলামি একটু অশোভন হইয়া উঠিয়াছে 
তাহাতে সন্দেহ নাই । 


(৫) উমেশ চন্দ্র গুপ্ত 


॥ হেমনলিনা (১৮৭৪ )॥ কাল্পনিক ইতিবৃত্রমূলক রোমান্টিক নাটক যে কতখানি 
নিকট হইতে পারে তাহার একটি দৃষ্টান্ত বর্তমান নাটকখানি। প্রাচীন, মধ্যযুগীয় ও আধুনিক 
সব প্রকার হাবভাব ও পরিবেশ ইহাতে আছে। বীর, রৌদ্র, আদি, হাস্ত ও করুণ কোনগ্রকার 
রসেরও অভাব নাই ইহাতে, কিন্ত তবুও নাটকের কোন গুণই ইহার মধ্যে খৃজিয়। পাওয়া যা 
না। সংস্কত নাটক, শেকসপীয়ারের নাটক, এমন কি রঙ্গলাল-বঙ্ষিমচন্দ্রের প্রভাবও আলোচ্য 
নাটকে অতি সহজেই ধর! যায়; কিন্তু ভাব, চরিত্র ও কার্ধকারণের কোন প্রকার স্নতি 
ইহাতে চোখে, পড়ে না। উদয়পুরের বর্তমান রাজ! যশোবন্ত সিংহ অন্তাঁয়ভাবে রাজ্য 
হস্তগত করিলেও নাটকের মধ্যে তাহার যে চরিত্র ও আচরণ আমরা দেখিয়াছি তাহাতে 
তো৷ তাহার প্রতি বরং অন্ুকম্পা ও সহানুভূতিই জাগ্রত হয় এবং হেমচন্ত্র ও নাগরিকগণ 
যে ব্যবহার তাহার সহিত করিয়াছে তাহা নিতান্তই নিষ্ঠুর ও হৃদয়হীন বলিয়৷ মনে হয়। 


উন্েশচজ গুণ 0 ১২৩ 
ছস্স ব্রহ্মচারীর কারসাজিতে নলিনী ও হেমচন্দ্র উভয়েরই প্রীণবিয়ৌগ হইল, অথচ তাহার 
প্রতি শ্রদ্ধায় সকলেই একেবারে ঢলিয়! পড়িয়াছে। এরকম উৎকট অসন্থতি যে নাটকের 
মধ্যে কত আছে তাহার ইয়ত্বা নাই 

॥ বীরবালা (১৮৭৫) ॥ নাটকের শিরোনাম! ব্যাখ্যা করিয়৷ লেখা হইয়াঁছে-_. 
স্থপ্রসিদ্ধ গ্রীকবীর সিলিউকস এবং মগধেশ্বরের যুদ্ধ । কিন্ত এই যুদ্ধ অপেক্ষা বীরবাল! 
এরং চন্ত্রগুপ্তের প্রণয়কাহিনীই নাটকের মধ্যে বেশি প্রাধান্য পাইয়াছে। ডাঃ সুকুমার 
সেন মহীশয় বলিয়াছেন, “উমেশচন্দত্রের বীরবালা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের চন্তরগুপ্ত নাটকের 
পরিকল্পনা যোগাইয়াছিল' । কিন্তু উভয নাটকের পরিকল্পনা, পরিবেশ এবং পাত্রপাত্রীদের 
চরিব্রস্থ্টিতে যথেষ্ট পার্থক্য' রহিযাছে। গ্রীক চরিত্রগুলির নাঁমগুলিই যে শুধুমাত্র হিন্দু 
হইয়াছে তাহ! নয় ( যথা-_শিলবক্ষ, বীরবাল! দামিনী, কুশল! ) তাহাদের স্বভাব-প্রকতিও 
আগাঁগোড়া বদলাইয়া সম্পূর্ণরূপে হিন্দু-বাঁঙাঁলীর অন্গরূপ হইয়া পড়িযাছে। বীরবাঁল! যেন 
পূর্বরাগিণী শ্রীরাধা, শুধু কেবল চন্ত্রগুপ্ডের নাম শুনিয়াই সে উন্মাদিনী _“নাম পরতাপে যারে 
এ্ঁছন করল গো-_+ তাহার উদ্বেলিত ভালবাসা উচ্ছ্বসিত প্রবাহে ভাসিয়! চলিয়াছে পিতার 
পরাজয়, অপমান-_কিছুতেই দেই প্রবাহে ভাট! কিংবা কোন আবর্তও দেখা যাঁয় নাই। 
নাটকের মধ্যে হিন্দু-গৌরব ও বীরত্বের উদ্দীপিত বর্ণনা আঁছে। যুদ্ধবিগ্রহের দ্বারা বীররসের 
অন্ুপ্রেরণা-ইহাঁতে সঞ্চার কর! হইযাছে। চাঁণক্যের ছাঁয়াপাত নাই বলিষা! এই নাটকে 
চন্দ্রগুগ্ড প্রকৃত শৌর্য-বীর্ষে মণ্ডিত হইয়। উঠিতে পারিয়াছে। নাটকের নায়িকাকে বীরবালা 
না বলিয়া নীরবাল! বলাই সঙ্গত, অর্থাৎ তাহার মধ্যে বীররস অপেক্ষা করুণ-রসেরই 
আধিক্য বেশি। 

॥ মহাঁরাষ্র-কলঙ্ক (১৮৭৫) ॥ লেখকের মতে আলোচ্য নাটকখানি “আরঙ্গজীবের 
সমসাময়িক প্ররুত ঘটনাময দৃশ্যকাঁব্য।, কিন্তু এই প্রকৃত ঘটন! ইতিহাসের নেপথ্যেই 
ঘটিয়াছে, সেইজন্য নাটকথাঁনির খ্রতিহাঁসিক মূল্য খুব সামান্যই । আরঙগজীবকে নাটকের 
শেষে নিতান্তই অকারণে অতকিতভাবে আনা হইয়াছে । নাটকের মূল ঘটনাগতির 
সহিত শ্ভুজী-আরঙ্গজেবের সংঘাত অবিচ্ছেচ্যভাবে যুক্ত নহে। শল্ভুজীর কামলালস৷ ও তাহার 
ফলে একটি উদাঁরচেতা বীরসৈনিক ও তাহার নিষ্পাপ প্রণধিনীর শোকাবহ পরিণতিই 
নাটকের আসল আখ্যানবস্ত। তবে নাট্যকার শত্তুজীর চরিত্রে যে অস্তিম অনুতাপ ও 
ত্বদেশপ্রাণতার লক্ষণ চিত্রিত করিয়াছেন তাহাতে চরিত্রটি অন্ঠাঁয়কারীঞ্থঅপরাধী হইলেও 
আমাদের অন্ুকম্পা হইতে একেবারে বঞ্চিত হয় না। তৎকালীন রোমা্টিক নাটকগুলির 
ন্যায় এই নাটকেও প্রেমের সর্বময় প্রভাবকেই একটু অসঙ্গত আতিশয্যের দ্বারা সকলের উপরে. 
স্থাপন কর! হইয়াছে। 


৯২৪ বাং মাটিকের ইতিহাস 
(৬) প্রমথনাথ মিজ্ত 


॥ নগ-নলিনী (ঘ্বি-স ১২৮৩)॥ “নগনলিনী'র দ্বিতীয় সংস্করণে প্রকাশক গর্ব করিয়া 
বলিয়াছেন, প্পাঁঠকগণ ! নগনলিনী নাঁটকমধ্যে “জয় ভারতের জয়” নাই, “পাপিষ্ঠ স্েচ্ছ,, 
“ছুরাচার যবন” নাই, হায়, স্বাধীনতা !' নাই, “ফোর্টউইলিয়ম” নাই, পিস্তল, বন্দুক, লাঠি 
প্রভৃতি কিছুই নাঁই-_ইহারও যে আবার হ্বিতীয় সংস্করণ হইল, বড় আশ্র্যের বিষয়! 
বাঙালীদের চরণে নমস্কার তাঁদের আর তরসা নাই-তাদের এমন রুচি যে, তীহারা এই 
বইও এত লৌকে কিনিয়! পড়িয়াছেন ও পড়িবেন।” নাট্যকারের ব্যাজস্ততিসত্বেও তাহার 
নাটকে কখনই উচ্চাঙ্গের নাট্শ্রেণীতৃক্ত করা! চলে না। ইহার যেমন বিষয়বস্ত তেমনি 
ষ্ট-কৌশল ! নাট্যকারের উচ্্ুসিত কাব্যলহরী তাঁহার নাটকের সর্বাপেক্ষা ক্ষতি করিয়াছে । 
ক্ঠার সর্বনাশে ক্ষিপুচিত্ত গোবিন্দরায়ের চরিত্র ব্যতীত আর কোন চরিত্রই আলোচনার 
যোগ্য নহে । 


দ্বিতীয় গর্ভান্ক 
গিরিশ-যুগ 
নাটকে ধর্মবিশ্বাস ও পৌরাণিকী লীলা 
( ১৮৮০-১৯০০) 
উনবিংশ শতাব্দীতে বাঙালীর ইতিহাঁস ভ্রুত পরিবর্তনশীল ভাবের সংঘাতে নব নব 
রূপান্তর লাভ করিয়াছে। দীর্ঘকালীন স্প্তির পর বাঁঙালী যখন জাগিল তখন বিচিত্রের নেশায় 
তাহীর দৃষ্টি চঞ্চল আর অস্থির ভাবের মদিরায় তাহার অন্তর মসগুল। পিঞ্জরাবদ্ধ পণ্ড হঠাৎ 
ছাঁড়। পাইয়! যেমন অকারণ ছুটাছুটি করিয়া মুক্তির আনন্দটা৷ উপভোগ করে বাঙালীর 
জীবনও সোঁদন নিছক চলার উত্তেজনাতেই মাতিয়া উঠিয়াছিল। সেই চলার ঘুর্মিপাকে 
পথের লক্ষ্য সরিয়। গেল, গুধু কেবল জাগিয়! রহিল এক ঘুিত বিক্ষোভের চক্রাবর্ত। ইয়ং 
বেঙ্গলী আন্দোলন, সমাজ-সংস্কার আন্দোলন, খুষ্টান ও ত্রাঙ্ম আন্দোলন সেদিন বাঙালী 
ভ্বীরনকে এক্সপ স্তিত্যনৃতন আঘাতে আলোড়িত করিয়! তুলিল। কিন্ত ক্রমে ক্রমে এই 
চন্বিু উত্তেজনা! একটু শাস্ত হইয়৷ আদিল, সুস্থিত জাতীয় মন সম্ধিৎ ফিরিয়া! পাইল,--বুঝিল 
মুক্তি ফু সংহারে নহে, স্ৃষ্টিতেও বটে। এই কৃষ্টি-কর্ম প্রথম আর্ত হইল জাতীয়তার ক্ষিত্রে 
পূর্ববর্তী গর্ভাঙ্কে আমর! সেই আলোচন! করিয়াছি। কিন্ত এই স্থষটিকর্মের পূর্ণতর পিচ 
পাইলাম জাতির আত্তিকক্ষেত্রে, অর্থাৎ তাহার নবায়িত ধর্মচেতনায়। 
১৮৮০ হইতে ১৯০০ শ্রীষ্টাব পর্যস্ত এই ধর্মচেতনা বাঙালীর ভাব-সংস্কৃতিক্ষেত্রে এক 
অনন্ত গ্রভাবজাল বিস্তার করিয়া! রাখিয়াছিল। অবশ্ত এই ধর্মচেতনার মূল উৎস ছিলেন, 


গিরিশ-যুখ . ১২৫ 
ধর্মাবতার রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ও তীহাঁর কর্মঘোগী শিল্ত স্বামী বিবেকানন্দ । দক্ষিণেশ্বরের 
এক নিরক্ষর ব্রাহ্ষণ পুরোহিত সেদিন যে অর্ৃশ্ঠ আলোকের সন্ধান পাইয়াছিলেন। 
সেই আলোকের কাছে শিক্ষিত, সভ্যতাভিমানী বাঙালীর জ্ঞান-বুদ্ধি, যুক্তিতর্কের 
সব আলোকই নিশ্রভ হইয়া গেল। সেই আলোকের বাণী বিশ্বজয়ী বীর বিবেকাননের দ্বারা 
দেশদেশাস্তরে বিকীর্ণ হইল। অবহেলিত ধর্মবিশ্বীস অদম্য শক্তি লইয়া জাতির চিন্তকে 
অধিকাঁর করিয়া বসিল। কিন্তু এই ধর্মবিশ্বাস শুধু কেবল অতীক্দ্রিয় অন্ুভূতি-গ্রাহ্‌ হইয়া 
রহিল না, ইহা যুক্তির বর্মে আবৃত হইয়। এবং বিচারের কষ্টিপাথরে নিরীক্ষিত হইয়! বহির্জীবনের 
এক শক্তিশালী আন্দোলনে পরিণত হইয়াছিল। এই যুক্তিবিচারের ক্ষেত্রে অগ্রণী হইলেন 
বন্ধিমচন্দ্র'ও তীহার শিল্পগণ | বক্ছিমচন্দ্র তাহার শেবদিকের তিনখানি উপন্টাল, যথা, 
“আনন্দমঠ+ । ১৮৮২), “দেবীচৌধুরাণী” (১৮৮৪) ও “সীতারামে” (১৮৮৭ ) জাতীয়তাকে 
ধর্মের আদর্শে অনুপ্রাণিত করিয়া তুলিলেন। বঙ্গদর্শনের লেখকদের মধ্যে রাঁজকষণ 
মুখোপাধ্যায় ধর্মতব্বের ধতিহাসিক ভিত্তি আবিষ্কার করিলেন ও চন্দ্রনাথ বনু হিনদুত্বের গৌরব 
লইয়া আলোচনা করিলেন। হেমচন্দ্রের কাব্যে পৌরাঁণিকী মহিম! নবীন গৌরবে ছন্দোবন্ধ 
হইল। বন্ধিমচন্ত্রের “কৃষ্ণচরিত্র” (১৮৯২ ) ও ধধর্মতত্ব” ১৮৮৮) এবং নবীনচন্দ্রের “রৈবতক? 
( ১৮৮৭ ), কুরুক্ষেত্র” (১৮৯৩ ) ও প্রভাস” , ১৮৯৬ ) ভাগবত-ধর্ম ও মানব-ধর্মকে এক 
উদার স্তরে বাধিয়! দিল। আর একজনের কথা উল্লেখ না করিলে এই যুগের ধর্মপ্রীণতাঁর কথা 
অসমাপ্ত থাকিয়া যাইবে । তিনি হইলেন ধরিষ্ঠ ভূদেব মুখোঁপাধ্যায়। আমাদের সানাজিক ও 
পারিবারিক জীবনের মজ্জমান আদর্শকে রক্ষা করিবার জন্য তিনি তাহার দৃঢ় বলিষ্ঠ বানু 
প্রসারিত করিলেন, সেই বাহুতে ছিল জলস্ত বিশ্বাম ও কুশাগ্র যুক্তির অমিত তেজ। 

এই সর্বাঙ্গীণ ধর্মপ্লাবন হইতে বাংলার নাট্যসাহিত্যও দুরে থাকিতে পাঁরিল না । 
কিছুকাল পূর্বে (১৮৭২ শ্রীষ্টাব্ধে) সাধারণ নাট্যশালা স্থাপিত হইয়াছে। নাট্যশাঁল। এখন 
আর মুষ্টিমেয় ধনশালী লোকের বিলাসভূমি নহে । ইহা সর্বসাঁধারণের সম্মিলিত আনন্দভোগের 
ক্ষেত্র। যে ভাবাদর্শের আবেগে এই সর্বসাধারণ মাতিয়! উঠিয়াছিল তাহা তাহাদের আনন্দ 
রসের আঙিনাতেও অতি স্বাভাবিক কারণেই আত্মপ্রকাশ করিল। ভাবোম্মত্ত জাতির 
সাগ্রহ সম্ঘর্ধনায় সেদিন নাট্যক্ষেত্র তীর্ঘক্ষেত্রেই পরিণত হইল। এই সময় নাট্যজগতে 
গিরিশচন্দ্রের আবির্ভীব। তিনি ধর্মভাব ও পৌরাণিক আদর্শের প্রতি জনসাধারণের প্রবল 
অনুরক্তি লক্ষ্য করিলেন। গুধু তাহাই নহে, অন্তরের গভীরে তিনি এক অলৌকিক স্পর্শ 
অঙ্কভব করিলেন। সেই স্পর্শে তাহার সমগ্র সত্তা অকপট ভক্তির রাগে রণিত হইয়া! উঠিল। 
যুত্িদপিত, নাস্তিক গিরিশচন্দ্র রামকষ্চদেবের অহেতুকী ক্পাঁয় ভাবতগ্ময় ভক্ত গিরিশচকে 

পরিণত হইলেন । ১ 
১। র্বামতৃকদেবের কৃপা! সম্বন্ধে ববয়ং গিরিশচজ্জ বলিয়াছেন, “অহেতুকী কৃপাসিন্ধুর অপার কৃপা পতিত- 


গ্ারনের অপার দয়া সেইজন্ আমার আশ্রয় দিয়াছেন। আমি পতিত, কিন্তু তগবাদের অপার করা, আষার 
চিন্তার কোন কারণ নাই | জয় রামকৃষ্ণ ।” 


বাঁংল। নাটকের ইতিহাস ১২৬ 
বাহিরে ও ভিতরে এই ধর্মভক্তির প্রেরণা লইয়া! গিরিশচন্দ্র নাটক রচনা করিতে 
সবুর করিলেন।। সেজন্ত জনসাধারণের চাহিদা অনুযায়ী যেমন নাটকের বিষয়বস্তকে তিনি 
পৌরাণিক জগতে লইয়। গেলেন, তেমনি অন্তরের ভক্তিরসে সেই নাটকের প্রীণকেন্্রকে 
অভিষিক্ত করিয়া তুলিলেন। রঙ্মমঞ্চের প্রয়োজনে গিরিশচন্ত্র সামাঁজিক-নাটক, 
ধরতিহাসিক-নাটক, এমন কি প্রহসন পর্যন্ত রচন! করিয়াছেন ; কিন্তু তাহার খাঁটি ও 
স্বাভাবিক ক্ষেত্র হইল পৌরাণিক নাটক-_এখানে দর্শকের রুচি ও নাট্যকারের ইচ্ছ। এক 
হইয়া গিয়াছে ।১ গিরিশচন্দ্রের সহবর্তী ও অনুবর্তী নাট্যকারগণও এই সর্বজনীন ধর্সাদর্শে 
অস্থপ্রাণিত হুইয়। নাটক রচনা! করিয়াছিলেন । তাহাদের মধ্যে সর্বপ্রথমেই নাম করিতে 
হয় রাজকৃষ্ণ রায়ের। তিনি অসংখ্য পৌরাণিক নাটক রচনা! করিয়াছিলেন, সেই সব 
নাটকের শিল্পগুণ যাহাই থাকুক না কেন সমসাময়িক ভক্তিমত্ত দর্শকের কাছে তাহাদের 
অনাদর হয় নাই। আর দুইজন নাট্যকাঁরের উল্লেখ এখানে কর| উচিত, তাহারা 
হইলেন অতুলকুষ্ণ মিত্র ও বিহারীলাল চট্টোপাধ্যায়। এইসব উল্লেখযোগ্য নাট্যকারের 
বিষয় ও ভাব অবলম্বন করিয়া যে-সব নাটাকার নাটক্ষেত্রে প্রবগলীল। স্থুক করিয়াছিলেন 
তাঁহাদের কথ। আলোচন! করিবার প্রয়োজন নাই। অর্থহীন ভাব, অকারণ উচ্ছাস 
ও অসংলগ্ন দৃশ্ঠে পরিপূর্ণ হইয়া এইসব নাটক ক্ষণকাঁলের জন্য দর্শকদের ভক্তিবিভোর 
দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছিল বটে, কিন্তু ক্ষণকালের মধ্যেই তাহাদের প্রয়োজন নিঃশেষ হইয়। 
গিয়াছিল। তবে এইসব অসার্থক নারট্য-প্রচেষ্টার মধ্যে একটি মূল মনোভাব সুস্পষ্ট হইয়া 
পড়ে-_তাহা হইল পৌরাণিক জগতের দৈবলীলার প্রতি এক অন্ধ আন্ুগত্য | 


এই আম্থগত্যের ফলে আমাদের সনাতন অধ্যাত্ম-ীবনের মুক্তি হইয়াছিল 
কিন্ত সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান বস্তজীবনের মধ্যে আমর বন্ধন আনিয়া ফেলিলাম। 
'আমাদের ধর্ম শুধু ঈশ্বর সাধনার উপায় ও অঙ্গ নহে, ইহা আমাদের সামাজিক ও 
পারিবারিক-জীবনের সন্বন্ধকেও নিয়ন্ত্রণ করে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে নব-ধর্ম- 
জাগরণের ফলে আমাঁদের আত্মার প্রভৃত উন্নতি ঘাটল বটে, কিন্তু প্রাটীন শান্ত- 
নির্দেশিত জীবন-প্রণাঁলীকে পুনঃস্থাপিত করিবার চেষ্টা হইল বলিয়া আমাদের সামাজিক 
অগ্রগতি অকম্মাৎ রূঢ আঘাত পাইল। উনবিংশ শতাব্দীর নব-বিজ্ঞান ও দর্শনের 
প্রভাবে নবায়িত মুক্ত-জীবনের আদর্শ আমাদের সমাজ-ক্ষেত্রকে উন্নত ও প্রশস্ত করিয়া 
তুলিয়াছিল তাহা পুনঃগ্রতিষ্টিত শাস্ত্র-শাসনে পুনরায় ক্ষুদ্র ও সঙ্কুচিত হইয়া! গেল। 
অধ্যাত্মসাধন! ও আত্মোপলন্ধির পথ অপরিবন্তিত থাকে কিন্তু মান্থষের গড়া সমাজের 
পথ কখনই এক ও অভিন্ন থাকে না। যুগে যুগে প্রাকৃতিক ও বাস্তব অবস্থা পরিবর্তন্তের 
সঙ্গে সঙ্গে সমাজের পথ ও লক্ষ্যস্থল পরিবতিত হইতে বাধ্য । কিন্তু অনেক সময় আমরা 

(১) ধর্মপ্রীণ পৌরাণিক নাটক সম্বন্ধে গিরিশচন্ত্র নিজে বলিয়াছেন, ধর্মপ্রাণ হিন্দ ধর্মপ্রাণ 
নাটকেরই স্থায়ী জাদর করিবে । বাল্যকাল হইতেই হিন্দু--ঞ্ররাম, প্ীকৃক, ভীম, অর্জন, ভীম প্রৃতিকে 
চিনে, সেই উচ্চ আদর্শে গঠিত নায়কই হিন্নুর জুদরগ্রীহী হওয়া সম্ভব 1 


] গিরিশ-যুগ 0১২৭ 
মানহষের আইনে ভগবানের দোহাই দিই, রক্ষণশীলতাকে ধর্মের বর্মে অভেস্ত করিতে চাই, 
তখনই হয় সমন্তার উদ্ভব । উনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে এই সমস্তারই উত্তব হইয়াছিল । 
সমাজ সব সময়েই গতিশীল, দেই গতি কখনো! প্রগতি আবার কখনো বা পরাগতি। 
উনবিংশ শতাবীর মধ্যভাগে সমাঁজে এই প্রগতি দেরখা! গিয়াছিল, কিন্ত এ শতাবীর শেষ- 
ভাগেই গ্রগতি পরাগতিতে রূপান্তরিত হইয়া গেল। যে বিধবা-বিবাহের সমর্থনে এককালে 
বছ গ্রস্থাদি রচিত হইতে দেখিয়াছি সেই বিধবার প্রণয় ও পরিণয় কঠোরভাঁবে নিনিত 
হইল বঙ্ষিমচন্দ্রের উপন্যাস ও গিরিশচন্দ্র নাটকে । যে নারীকে আত্মবিশ্বীস, 
ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যে সমুজ্জল করিয়া মাইকেল ও দীনবন্ধ হ্র্ধালোকিত মুক্তজগতে লইয়া 
আসিয়াছিলেন তাহীকেই আবার শাস্ত্রের অবগুঠনে আবৃত করিয়া অনুর্ধষ্পশ্া। গৃহলক্মীর 
আসনে বসাইয়া গিরিশচন্দ্র ও অমৃতলাল নিশ্চিন্ত হইলেন। শুধু তাহাই নহে, পৌরাণিক 
আদর্শপ্রা সতীত্ব ও স্বামী-ভক্তির এক ধদ্বস্তরি-সুধ। খাওয়াইয়। তাহাকে নিস্তেজ 
ও সম্মোহিত করিয়া রাখিলেন। গিরিশচন্দ্রের প্রফুল্ল, অন্নপূর্ণা, কিরণময়ী, জোবি, জহর! 
ও অমৃতলালের তরুবা'ল! প্রভৃতি চরিত্র দৃষ্টান্তস্বরূপ উল্লেখ করা যাইতে পারে। পাশ্চাত্য- 
ভাবের সংঘাতে আমাদের মুক্তিপাগোল চিত্তের যে শৃঙ্খল-বন্কার গুনা গিয়াছিল, তাহাতে 
দৈববিধানের বিরুদ্ধে পরুষ প্রতিবাদের সহিত মিশিয়াছিল মানবতার জয়দৃপ্ত উল্লাস। 
দৈবকে ছাড়িয়া মানবতার প্রতিষ্ঠা করা সহজ নহে। ইহাতে দৃঢ়তা ও কাঠিন্ত 
প্রয়োজন, অথচ ইহার ফল অশান্তি ও অনিশ্চয়তা । এই দৃঢ়-কঠিন, অশান্ত ও অনিশ্চিত 
মানবাত্মার যে-বেদনা আমরা দেখিলাম মধুন্দনের. রাঁবণ-চরিত্রে সেই রকম চরিত্রের 
সন্ধান উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে দেখি না। বঙঞ্ষিমচন্দ্র উহার উপন্যাসে মানব-চরিত্রের 
তীব্রতম দ্বান্দিক রূপ পরিস্ফুট করিয়াছেন, সেজন্য সেই চরিত্র ট্র্যাজিক মহিমা লাভ 
করিয়াছে । কিন্তু এরূপ ট্র্যাজিক-চরিত্র আমর! নাট্য-সাহিত্যে বিশেষ দেখি না। তখন 
মাঙষের মন মানুষকে ছাড়িয়া! পুনরায় দেবতার দিকে ঝুঁকিয়াছে। সেজন্ত তৎকালীন 
নাটকে দৈব-শক্তির অলঙ্ঘ্য অনিবার্ধতা ও মান্ুষী-শক্তির ব্যর্থ পরাজয়ের কাহিনী 
বর্ণনা করিয়া দেবতার প্রতি একট। নিশ্চিন্ত নির্ভরতার ভাব জাগ্রত করিবার চেষ্টা 
হইয়াছিল। | 

গিরিশ-যুগের সামাজিক নাটকের আর একটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা গ্রয়োজন। 
তখনকার বাঁঙালী-সমীজের ভিত্তি ছিল একান্নবর্তী-পরিবার। এই একান্নবর্তী-পরিবারের 
বিভিন্ন পুরুষ ও স্ত্রীলোক সমাঁজ-নিয়স্ত্রিত পারম্পরিক সম্বন্ধে বন্ধ হইয়৷ জীবন যাপন 
করে। সেই পরিবারের সামগ্রিক সত্তার মধ্যে স্বতশ্থ ব্যক্কিসত্তা সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত, 
বিশেষত পরিবারের সকল লোক মুল-কর্তার চালনাধীন। সেজন্ত পরিবার-নিরপেক্ষ কোন 
স্বাধীন-মানবসত্তার সমস্তাময় প্রকাশ ৬খনকার সমাজে ছিল না, পারিবারিক অংশগুলির 
আতত্যন্তরীণ অমিল ও অসামঞ্জস্তের ফলেই ষত কিছু জটিলতার উদ্ভব হইত। আর একটি 
কথ! মনে রাখা, দরকায়। তখনো আমাদের সমাজে খণ্ডখণ্ড পরিবারগত চাকরীজীবী 


* ১২৮ বাংল! নাউকেন়্ ইতিহাস 


জীবন প্রসার লাভ করে নাই, যৌথ-সম্পত্তির "আয়ের উপরেই সমগ্র পরিবারকে নির্ভর 
করিতে হইত। সেজন্ত সম্পত্তি-সংক্রান্ত গোলমাঁল__জাল-ভুয়াচুরি, মামলা-মোকদদমা 
প্রভাতি সমস্তাই সাঁমাঁজিক জীবনকে বিপর্যস্ত করিত। এই সাজাজিক পট-ভূমির .উপর 
দৃষ্টি নিবদ্ধ রাঁধিয়াই গিরিশচন্ত্র ও তাহার সমসাময়িক নাট্যকারদের নাটক বিচার 
করিতে হইবে। 


রাজকুঝ্ রায় 


ধর্মনিষ্ঠ, ভক্তিপ্লাবিত বাংলাদেশে পৌরাণিক কাহিনীমূলক তরল নাট্যধার! চিরদিন 
অবারিত প্রশ্রয় পাইয়াছে, ইহা আমরা পূর্বে লক্ষ্য করিয়াছি এবং ভবিষ্ততেও লক্ষ্য 
করিব। আমাদের দেশে রঙ্গমঞ্চ প্রবত্তিত হইল, বস্তরতান্ত্রিক নাটকের রচনা আরম্ভ হইল, 
কিন্ত জনসাধারণের মন নিরবচ্ছিন্ন নাট্যরদ অপেক্ষা অবান্তব নৃশবসমস্থিত, অলৌকিক 
ভাবময় ভক্তিরসের প্রতি উন্মুখ হইয়া রহিল। গ্রামে যাত্রার আদর বজায় রহিল, এবং 
শহর-বাজারেও নাট্যরীতির ছদ্মবেশে (ভূষিত হইয়! ধর্মাত্মক যাত্রাভাব অব্যাহত পোষকতা 
লাভ করিতে লাগিল। মনোমোহনের দ্বারা অপের! জাতীয় নাটকের শুচন৷ হইয়াছিল, 
সেই আলোচন! আমরা পূর্বে করিয়াছি । মনোমোঁহনের পরে বহুতর নাট্যকার এই ধরণের 
নাটক লিখিয়া তাহাদের অপরিমিত কলরবের দ্বারা নাট্য-সাহিত্যের অঙ্গন অতি মাত্রায় 
মুখর করিয়! তুলিয়াছিলেন।১ এই শ্রেণীর নাটক বাংল! সাহিত্যে এত লেখ! হইয়াছে 
যে তাহাদের সংখ্যা অনুমান করাও অসাধ্য ব্যাপার। এই রকম নাটক লিখিতে হইলেও 
বিশেষ কোনো নাট্যকল।-কৌশলের দরকার হইত না) সাধারণত কতকগুলি গাঁন 
বসাইয়া, জোড়াতালি দিয়া কয়েকটি অসংলগ্ন ও অসমঞ্জস দৃশ্ঠের সমাবেশ করিয়! দর্শকদের 
মনের মধ্যে ভক্কিমন্তত! উদ্রেক করিতে পাঁরিলেই নাট্যকারদের উদ্দেশ্ব সিদ্ধ হইত । 
সেজন্ত এই নাট্যরচনার ক্ষেত্রে বু অক্ষম ও অনভিজ্ঞ নাট্যকার খিড়কীপথে অনধিকার 
প্রবেশ করিতে পাঁরিয়াছিলেন। গীতাঁভিনয় লেখকদের অনেকের পরিচয় ও .আলোচন। 
ডাঃ সুকুমার সেন মহাশয়ের অমূল্য তথ্যবহুল গ্রন্থ “বাংল! সাহিত্যের ইতিহাসে” (২য় খণ্ড) 
রহিয়াছে। 

মনোমোহন বস্থ গীতাঁভিনয় ব্বপ যে নাট্যধারার স্ুত্রপাঁত করেন তাহারই পরিণতি হয় 
রাজকৃঞ্ণ রায়ের নাটকে। রাজকৃষ্ণ রাঁয় বহুসংখ্যক নাটক প্রণয়ন করিয়াছিলেন । সহজ 
্বতংস্ফুতির মধ্যে তাহার প্রতিভা প্রকাশ পাইয়াছিল। তিনি নানা ধরণের নাটক লিখিলেও» 


১। 'গীতাতিনয় অব্যয় সাধা, তাহা'র উপর বতৃতাময় ও গীতিবহুল হওয়াতে শিক্ষিত-অশিক্ষিত 
সকলেরই মনোরম। এই কারণে কলিকাতা সাধারণ রঙ্গমঞ্চের প্রভাব বন্ধমূল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে 
গীতীতিনয়ের পালা জজশ্রভীবে রচিত হইতে লাগিল ।” 

_ "বাঙল| সাহিত্যের ইতিহাস (২য় ধঙড ), পৃঃ ৩৪৪। 





| সাজ রায় ১২১ 
পৌরাণিক ও ভক্তিমূলক নাঁটকেই তাহার স্বাতন্্য ও বৈশিষ্ট্য চিহ্কিত হইয়া! রহিয়াছে। 
রামায়ণ, মহীভারত এবং পুরাণ হইতে প্রচলিত কাহিনী অবলম্বন করিয়াই তিনি অধিকাংশ 
'নাটিক রচন! করিয়াছিলেন। কাহিনীর কোনে! নূতনত্ব সম্পাদন করিয়া! অথবা! বিশেষ 
কোনো নাটকীয় ভাবপূর্ণ ঘটনাকে রপ্রিত ও চিত্রিত করিয়৷ কাহিনীর নাটকত্ব সঞ্চার 
করিতে তিনি দৃষ্টি দেন নাই। ঘটনা সংস্থাপনের কোনে! উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব তিনি দাবী 
করিতে পারেন না। যাত্র/! এবং অপেরা-লেখকগণ অনেক সময় স্কুলরুচি দর্শকদের 
চিন্তরঞ্নের জন্য পৌরাণিক নাটকেও মাঝে মাঝে পৌরাণিক ভাব ও পরিবেশের প্রতিকূল 
নিতান্ত আধুনিক ও সাংসারিক চরিত্র ও ঘটনার সমাবেশ করিয়া ফেলেন, ইহাতে 
পৌরাণিক..নাটকে দর্শক দেবলীলার সহিত সামাজিক রদ একসঙ্গে উপভোগ ' করিতে 
পারেন। হুক্্মদশা দর্শকের কাছে এইরূপ ভাবময় অলৌকিক বৃত্তান্তের সহিত বাস্তব- 
জগতের সাংসারিক বিষয়ের সমাবেশ বিসদৃশঃ বেমানান ও রসহাঁনিকর মনে হইবে, কিন্ত 
সাধারণ লৌক ইহাতে দৌষ ও অসঙ্গতি ধরিতে পারে না। রাজকুষ্ণ অনেক স্থলে হাশ্ত- 
রসের পরিবেষণের জন্য এমন অনেক প্রাত্যহিক তুচ্ছতা৷ মিশ্রিত-অবিমিশ্র ভাড়ামির দৃশ্তের 
অবতারণা করিয়াছেন, যে সব জায়গায় আমাদের উচ্চ পৌরাণিক গগনবিলাসী ভাবতন্ময় চিত্ত 
অকম্মাৎ পরিচিত আবেষ্ুনীর পক্ষে নিপতিত হয়। 
যাত্রা ও গীতাভিনয়ের যে উদ্দেশ্ঠ রাজকুষ্ণের নাটকেও তাহা স্থপরিস্ফুট । অর্থাৎ 
তাহার নাটকও তরল ভক্তিরসে প্রাবিত। পুরাণের দেবলীলার মত তাহার নাটকেও 
দেবলীল৷ অনেক স্থলে সাধারণ ধারগ্রীর পরিপন্থী, এবং মানবীয় বুদ্ধির পক্ষে ছুরধিগম্য, 
অবচ সর্বত্র দেবলীলার প্রতি আমাদের প্রশ্নহীন ভক্তি আকর্ষণ করা হইয়াছে । যে ভক্তির 
পিছনে কেবল শাস্ত্রনির্দেশ এবং গতানুগতিক সংস্কার রহিয়াছে, যাঁহা৷ প্রাণের সাগ্রহ সম্মতি 
হইতে উৎসারিত হয় না তাহার প্রভাব এবং স্থায়িত্ব বেশি নহে। রাজকৃষ্ণ রায়ের 
নাটকে প্রদশিত ভক্তি অনেক সময়েই আমাদের চিত্তে কোনো সাড়া সঞ্চার করিতে 
পারে না। 

শীতাভিনয়ের প্রধান লক্ষণ গানের আতিশয্য রাজকৃষ্ণের নাটকেও যথেষ্ট পরিমাণে 
রহিয়াছে । গীতাভিনয় লেখকগণ বাঙালী দর্শকের সঙ্গীতগ্রীতির স্ুযৌগ লইয়৷ স্থানে অস্থানে 
অনর্গল গানের সমাবেশ করিয়া যান। রাঁজকৃষ্*ও অনেক সময়ে এমন অনেক চরিত্রের মুখে 
গান দিয়াছেন যাহা নিতাস্ত অশোভন ও বিসদৃশ বোধ হয়। অথচ গীতাতিনয়ে এরকম 
সর্বময় সঙ্গীত প্রবাহ লেখক ও দর্শকের কাঁছে অসঙ্গত মনে হয় না। | ৰ 

রাজরুষ্ণ গদ্য ও পদ্য -উভয় ভাষা রীতির মধ্যেই তাহার নাটক প্রণয়ন করিয়াছেন । 
কিন্ত গিরিশচন্দ্র নাটকের ন্চায় তাহায় নাটকে ভাব অন্যায়ী সুস্পষ্ট ভাষা বিভাগ নাই 
অনেক জায়গাতেই তিনি গগ্চ কথোপকথনের মধ্যে হঠাৎ পদ্য কথোপকথন নিবন্ধ 
করিয়াছেন। এইকূপ গদ্ঠ পদ্যের আকশ্মিক সমাবেশে রসভোগের ব্যাঘাত হয় সন্দেহণনাই । 
পদ্প রচনায় ভাগ! মিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনে রাজকৃষ্ণের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পাইয়াছে।' 


১৭ 


১৬ বাংল হকের ইডিহাজ 


“ছরধমূর্তঙ্গ+ হইতে তিনি এরূপ ছন্দে নাটক লিখিয়াছেন। “হরধনূর্ভঙে”র ভূমিকায় তিনি 
এ ছন্দ নইয়া আলোচন। করিয়াছেন ।১ 

রাজকৃ্ রামায়ণের কাহিনী লইয়! কয়েকখানি নাঁটক লিখিয়াছিলেন) সেগুলির 
নাম “অনলে বিজলী+, 'হরধনুতঙ্গ'+, 'রামের বনবাঁস”, তরণীসেন বধ? ইত্যাদি । ইহাদের 
মধ্যে 'অনলে বিজলী” (১৮৭৮) শ্রেষ্ঠ ৷ রাবণের মৃত্যুর পর সীতার অগ্নিপরীক্ষা, অবলম্বন কযিয়! 
নাটকথানি রচিত। ইহা! অমিত্রাক্র ছন্দে রচিত। ভাঙ্গা অমিত্রাক্ষর ছন্দ তিনি পরে 
গ্ররর্তন করিয়াছিলেন। মাইকেলী ছন্দ ও ভাষার প্রভাব নাটকের মধ্যে বি্যমান। ইহার 
কখোপকথন অত্যন্ত দীর্ঘ, অভিনয়ের উপযোগী নহে । 

প্রহ্দাদ চরিত্র (১৮৮৪) বঙ্গ-রঙ্গমঞ্জে বিল্ময়কর জনপ্রিয়তা লাভ করিয়াছিল । অথচ 
নাটক হিসাবে ইহা! উৎকৃষ্ট, এমন কি বিশেষ উল্লেখযোগ্যও নহে । ইহাতে কেবল অপরিমিত 
তক্তিরসের প্লাবন, কোনো দ্বন্ব নাই, চরিত্রস্ষ্টিও নাই । বার বার গ্রহলাদকে হত্যা করিবার 
চে্ট' একটু একঘেয়ে এবং চিত্ববিকর্ষক হইয়াছে । যাত্রার স্তায় স্কুল, অসংলগ্ন, এবং গ্রাম্য 
হাম্মরস উদ্রেকের চেষ্ট। আছে । 

£নরমেধ যজ্ঞঃ (১২৯৮) পৌরাণিক নাটক হইলেও ইহাতে সামাজিক ভাঁব ও বিষয় প্রাধান্য 

পাঁইয়াছে। রত্বদত্ত চরিত্রের মধ্যে সমাজের কুসীদজীবীর প্রকৃতি কিন্ূপ জঘন্য হইতে পারে 
ভাছাই ব্যক্ত কর! হইয়াছে ।২ তবে রত্বদত্তের শাস্তি তাহার মন হইতে উৎসারিত হয় নাই, 
নিতাস্তই একটা বাহ ঘটনার মধ্য দিয়া জোর করিয়া তাহাকে দৈহিক শান্তি দেওয়া 
হইয়াছে । যযাতি পিতা! নহুষের প্রেতাত্মার পরিতৃপ্তির জন্য নরমেধ্যজ্ঞ করিতে আদিষ্ট 
হ্দ) অথচ তাহার কোমল দয়াপ্রবণ চিত্ত কিছুতেই অষ্টমবর্ষীয় শিশুকে হত্যা করিতে 
দিতে পায়ে না-এই মানসিক সংগ্রাম ভালোভাবে বিকশিত হইয়াছে । নাটকে গানের 
আতিশয্য বারা করুণ রস ও তক্তিরস সৃষ্টির চেষ্টা হইয়াছে । সকলেই গান ্াহিতেছে, 
এমন কি কুশধ্বজের ম! কাত্যায়নী পর্যস্ত। 

'বামন ভিক্ষা” (১৮৮৫)র মধ্যে বিষ্ণুর বামন লীলা! প্রদশিত হইয়াছে । বামনের জঙগ, 
বাল্যলীলা ও উপনয়ন ঘট। করিয়। বর্ণনা কর! হইয়াছে ৷ পরিশেষে বামন বলির কাছে যাইয়া 


১।. শুভক্ষণে মধুনুদনের অমিত্রাক্ষরচ্ছন্দ.দেখ। দিয়াছিল, এবং অভিনয়ক্ষেত্তরে অভিনীত হইয়াছিল । নহিলে 
জাধুনিক 'ভাঙা অমিত্রাক্ষর ছনা' বাংলায় হইত কিনা সন্দেহ। এই ছন্দ আভিনয়িক নাটকের পক্ষে 'জলবং 
তদ্লল' এবং লেখকের পক্ষে তাহাই ; লৌকের অনুরোধে বা! নিজের ইচ্ছায় ছুইচারিদিনের মধ্যে এক একথান। 
বড় বড় নাটক পন্ভে লিখিতে হইলে এই জলবৎ তরল ছন্দই-_-এই অসিভ্র।ক্ষর-ভাঙ্গ! অমিত্রাক্ষর ছল্গই বিশেবক্নাপে 
উপযোনী।* 





'হরধনুর্ভঙ্গের' ভূমিক।+ 
২। রাজকৃ্ণ নিজে জীবনে খগ করিয়া ও দারিদ্রোর মিগীড়নে এইশ্রেণীর লোকের ্বতাবের পরিচয় 
ভালো সাথেই বুঝিতে পারিয়াছিলেন। এইজন্য এই চরিজ্ অঙ্থনে নাট্যক।রের ব্যক্তিগত জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা 
রও ফলাইকাছে। “বজভাধার লেখক' নামক গ্রস্থে লিখিত আছে ধে 'নরমেধ যজ্ঞের অভিনঙ্গ দেখিয়া জগৈক 
ভাবত হুকুখোর মহাজঙ রাজকুফেয সমস্ত দুদ য়েহাই: দিয়াছিলেন ।” 


রাজকৃঝ রায় ১৩১ 


তাহাকে কায়দায় জব করিয়। পাতালে প্রেরণ করেন ও দেবগণের স্বর্গরাজ্য ফিরাইয়৷ 
দিলেন। 


ছুবংশ ধবংসে+ (১২৯০ ) বধিত হইয়াছে যে কৃষ্ণ নিজ বংশীয় দিগকে গ্রভাসে লইযা 
যান, এবং সেখানে পরস্পরে বিবাদে মত্ত হৃইয়। তাহারা যছুবংশ ধ্বংস করিয়। ফেলে। 
কৃষ্ষের লীল! সাধারণের পক্ষে ছুজ্জের, যাদবগণের ধ্বংসে তীহারই হাত রহিয়াছে, অথচ 
বলরাম সে রকম নহেন, বলরাম যাঁদবদিগকে রক্ষা! করিবার জন্ভ আপ্রাণ চেষ্টা করিয়াছেন । 

সাধক ও ভক্তের জীবনী লইয়। রাঙ্জকৃষ্ণ 'মীরাবাই» “হরিদাস ঠাকুর, প্রভৃতি 
কয়েকখানি নাটক লেখেন । “মীরাবাই,এর (১২৯৩) মধ্যে মীরাবাইএর ভক্তি-সাঁধন। অপেক্ষা 
রসকুম্তের চক্রান্তে কুস্তসিংহের স্ত্রীর সতীত্বে সন্দেহ এবং আত্মজালাই বেশি ফুটিয়াছে। 
ভক্তি ভাব নাটকে গৌণ হইয়া গিয়াছে । “হরিদাস ঠাকুর” (১২৯৫) নাটকের মধ্যে ব্রদ্ধার 
অবতার মহাপুরুষ হরিদাসের প্রতি স্বধর্মাবলম্িদের মিগ্রহ এবং তাহার অসাধারণ দৈন্ধ ও 
সহিষ্ণুতা দেখানে। হইয়াছে । 

এতিহাসিক ঘটনার ছায়! অবলম্বন করিয়! রাঁজকৃষ্ণ যে নাটকগুলি লিখিয়াছিলেন 
সেগুলিকে কথনে প্রকৃত এঁতিহাসিক নাটক বলা চলে না। গ্রতিহাসিক নাটকের 
ভাব ও পরিবেশ এঁ সব নাটকের মধ্যে নাই। দৃষ্টান্ত স্বরূপ “রাজা বিক্রমাদিত্য+ (১৮৮৪) 
নাটকেরউল্লেখ করা যাইতে পারে। ইহা কিংবাস্তীর উপরে সম্পূর্ণ নির্ভর করিয়৷ রচিত্ত 
হইয়াছে। এ্তিহাসিক ঘটন| কিছুই ইহাতে নাই। মালগষ এবং দেবতার লীল! ইহাতে 
মিশ্রিত হইয়া গিয়াছে। 

রাজকৃষ্ণ কয়েকখানি অনালোচ্য গীতিনাট্য এবং প্রহসনও লিখিয়াছিলেন। 


শিরিশচজ্জ ঘোষ 
(ক) ভূমিকা 


গিরিশচন্দ্র পূর্বে বাংলার নাট্যভারতী অভিজাতের অস্তঃপুরে ভীরু পাঁদক্ষেপে 
সঞ্চরণ করিতেছিলেন | গিরিশচন্দ্রই সর্বপ্রথম তাহাঁকে প্রকাশ্য দরবারে আনিয়া তাহার 
অনিন্দ্য সৌন্দর্য ও অপূর্ব মহিমা সর্বসমক্ষে অনাবৃত করিয়। দিলেন। কিছুকাল পূর্বেই বঙ্গে 
রঙ্গালয় প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল, কিন্ত সেই সব রঙ্গাঁলয়ে সাধারণের সহজ প্রবেশাধিকার ছিল 
না। জুতরাং নাটকীয় রস মুষ্টিমেয় ভাঁগ্যবান ব্যক্তি নিচয়ের পক্ষে মাত্র আস্বাহ্য হইয়! রহিল, 
দেশের সর্বসাধারণের হৃদয়ে ইহার সচল ব্যাপ্তি ঘটিল না। যে শুভদ্িনে সাধারণ রঙ্গালয় 
প্রতিষ্ঠিত হইল,১ সেইদিন হইতে নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে গৌরবময় অধ্যায় সৃচিত হইল। 
রঙ্গালয়ের প্রসারেই নাটকের প্রচার সম্ভব হয়। দীনবন্ধু গ্রভৃতির শ্রেষ্ঠ নাটকাদি পূর্বে রচিত: 
হইলেও তাহাদের প্রকৃত এবং যথাযোগ্য সমাদর সাধারণ নাট্যশালার প্রশংসামুখর জনগণের 
দ্বারাই হইয়াছিল । এই সাধারণ রঙ্গালয়ের প্রতিষ্ঠার সময় হইতে গিরিশচন্দ্র বঙ্গ রঙগমঞ্চে 
গ্রদীপ্ত ভাক্করের সায় অল্লান তেজে আমৃত্যু বিরাজ করিয়াছিলেন, এবং তাহাকে বেষ্টন করিয়া 
অর্ধেন্দু শেখর মুত্তাফি, অমুতলাল বনু, অমৃতলাল মিত্র, অমৃতলাল মুখোপাধ্যায়, মহেন্দ্রলাল 
বন্ধ প্রভৃতি উজ্জল জ্যোতিফ নাট্যগগনকে সমুপ্তাসিত করিয়! রাখিয়াছিল। গিরিশচন্দ্র 
এবং তাহার সহযোগিবৃন্দ দ্বারা বাংলা দেশের নাটকীয় আন্দোলন চূড়ান্ত অবস্থা প্রাপ্ত 
 হইয়াছিল। সাধারণ রঙ্গাঁলয় প্রতিষ্ঠা, রঙ্গমঞ্চ পরিচালনা এবং অভিনয়-শিল্পের শিক্ষ! 
দানে গিরিশচন্ত্রের সমকক্ষ লৌক বাংলায় কেহ জন্মান নাই। গ্রিরিশচন্জর অনেক নাটক 
লিধিয়াছেন বটে, এবং তিনি একজন শ্রেষ্ঠ নাটযকার তাহাও সত্য, কিন্তু ইহা অপেক্ষাঁও 
বড় কথা বোধ হয় এই যে, তিনি রঙ্গমঞ্চের সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারক ও পরিচালক । তাহার পূর্বে 
রঙ্গালয়ের নিতান্ত শৈশব অবস্থা, এবং তাহার পরেই আবার ইহার অকাল বার্ধক্যের সুচনা 
দেখ গিয়াছে । রঙ্গালয়ের গৌরবময় যৌবন কেবল গিরিশচন্দ্রের সময়েই প্রকট হইয়। 
উঠিয়াছিল। অধ্যক্ষ এবং অভিনেতা, ইহাই গিরিশচন্দ্রের প্রকাশ্য আদি রূপ, এবং হয়তো 
একমাত্র এই রূপেই তাহার জীবনের সর্বোত্তম বিকাঁশ ঘটিত, কিন্তু রঙ্গালয়ের প্রয়োজনেই 
তাহার প্রতিভার অপর দ্দিকটা প্রকাশিত হইল, এবং তখন হইতেই কীর্ডিমান নটের 
জনমুখর লীলার সহিত খ্যাতনাম। নাট্যকারের নিভৃত সাধনার যোগাযোগ হইয়! গেল। 
গিরিশচজ্জ লেখনী ধারণ করিবার পূর্বে মাইকেল, দীনবন্ধু এবং বঙ্ষিমচন্ত্রের -নাটকাঁকত 
উপন্তাসগুলি রঙ্গালয়ের চাহিদা মিটাইয়। আসিতেছিল, কিন্তু ক্রমে ক্রমে সেইগুলি পুরাতন 
হইয়া আসিল, এবং দর্শকগণ নূতন নাটকের অভিনয় দেখিবার আকাজ্া জানাইতে 


৯) ৭ইড়িসেম্বর, ১৮৭২ ঘুষ । 


গিরিশচজ্জ ঘোষ ১৩৩ 


লাগিল। দর্শকগণের এই ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ষা পরিতৃপ্ত করিবার জন্য, এবং রঙ্গাঁলয়গুলিকে 
'নৃতন রসে সঞ্জীবিত করার আশা লইয়া গিরিশচন্ত্র নাটক লিখিতে প্রবৃত্ত হইলেন ।১ 
তখন হইতে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাহার অক্লাত্ত লেখনী অবিরাম ভাবে নিত্য নূন 
নাটক শষ্টি করিয়া চলিয়াছ। এই সব নাটক তৎকালীন রঙগমঞ্চগুলিকে নব নব রসে 
অভিষিক্ত. করিয়া রাখিয়াছিল।২ গিরিশচন্দ্র স্তায় এত অধিক সংখ্যক নাটক বাংলার 
কোনে! নাট্যকার লেখেন নাই, সৃষ্টির এই অনন্যসাধারণ বহুলতা যথার্থই সকলের মনে 
সপ্রশংস বিম্ময়ের উদ্রেক করে। 

গিরিশচন্রের নাট্যপ্রতিভা সম্বন্ধে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করিব, তবে 
গোড়াতেই একথা! অকুঠ্চিত্তে বলিতে ইচ্ছা হয় যে, তিনিই বোধ হয় বাংলা দেশের 
সর্বাপেক্ষা ভাগ্যবান নাট্যকার । আমাদের দেশের অনেক ভাগ্যহীন নাট্যকার শ্রেষ্ঠ 
প্রতিভার অধিকারী হইয়াও সমালোচকের কাছে প্রাপ্য সম্মান ও মর্ধাদা পান নাই, দৃষ্টাস্ত্বরূপ 
দীনবন্ধুর নাম করা যাইতে পাঁরে। কিন্তু গিরিশচন্দ্রের পক্ষে এই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়াছে। 
নাট্য সমালোচনার ক্ষেত্রে অবিসংবাদিত রত্র. সিংহাঁসনের অধিকার মাত্র তাহারই ভাগ্যে 
ভুটিয়াছে। গিরিশচন্দ্রের বহু ভক্ত সমালোচক তাহার মস্তকে শ্রেষ্ঠ নাট্যকারের ঈধিত মুকুট 
দান করিয়াছেন। ইহাদের মধ্যে অধিকাংশই নাট্যকাঁরের সমসাময়িক এবং .নিকটজন 
ছিলেন। সেইজন্য পরিচালক, ব্যবস্থাপক, শিক্ষক এবং সর্বোপরি অসাধারণ অভিনাঁয়ক 
গিরিশচন্দ্র ইহাদের প্রশংসমান দৃষ্টিকে এমনিভাবে আচ্ছন্ন করিয়া রাখিয়াছেন যে নাট্য- 
সমালোচনায় ইহার! অপক্ষপাতী বিশ্লেষক দৃষ্টি সজাগ করিয়া রাখিতে পারেন নাই। 
শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ডাঃ স্বকুমাঁর সেন মহাশয়ের উক্তির প্রতিধ্বনি করিয়। আমাদেরও বলিতে 
ইচ্ছা! হয় যে, 'নাটকের শাশ্বত সাহিত্যমূল্য ততটুকুই যতটুকু দ্বারা ইহাতে মানবন্ভীবনরসূ 
কাঁলদেশাতিশায়ী শিল্প সৌন্দর্য লাভ করিতে পারে; ।৩ আমরা যথাসম্ভব নিরাসক্ত দৃষ্টি দিয়! 
সেই মূল্য নিধারণ করিবার চেষ্টা করিব। 


১। শ্রীযুক্ত কুমুদ্ব বন্ধু সেনের সহিত কথোপকথনের সময় গিরিশচন্দ্র বলিয়াছিলেন যে তিনি নাটক রচন! 
আরম্ভ করিয়াছিলেন 'দায়ে পড়ে--0% ০ 81)667 17060688105” যখন মাইকেল বঙ্কিম প্রায় 02810861860 কর! 
শেষ হল, ষ্রেজে আর কোনও অভিনয়োপযোগী নাটক মিললে! না, তথন বাধ্য হয়ে নাটক রচনা করতে হ'ল |" 

“গিরিশচন্দ্র ও নাট্য সাহিত্য, পৃঃ ১৮ 
২। অপরেশ মুখোপাধ্যায় মহাশয় ঠাহার 'রঙ্গালয়ে ত্রিশ বংসর' নামক পুস্তক বলিয়াছেন-_'গিরিশচন্ত্র 
এ দেশের নাট্যশালায় প্রতি করিয়াছিলেন মানে--তিনি অন্ন ছার] ইহার প্রাণ রক্ষা! করিয়াছিলেন, বরাবর 
খবাস্থ্যকর আহার দিয়! ইহাকে পরিপুষ্ট করিয়াছিলেন; ইহার মজ্জায় মজ্জায় রস সঞ্চার করিয়া ইহাকে 
আননাপূর্ণ করিয় তুলিয়াছিলেন; আর এই জন্যই গিরিশচন্ত্র ঢ90062 0£ (06 286156 5৪৪০--ইহার 
খুড়ো৷ জ্যাঠা আর কেহ কোনদিন ছিল ন1। 
284 পৃঃ ৪৩। 
৩। বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, হয় খও, পৃঃ ৩৭ | 


৮৫৪. বাংল! নাটকের ইতিছাস 


গিরিশচন্দ্র যে সময়ে নাটক রচয়িতা আঁসনে অধিঠিত হইলেন, তখন বাংদ। 
নাট্যসাহিত্যের শৈশব ও কৈশোর অতিক্রান্ত হইয়। যৌবনের হুচনা দেখ] গিয়াছে। তাহার 
পূর্বেই প্রতিভাবান নাট্যকারবৃন্দ বিভিন্ন নাট্যধারার প্রবর্তন করিয়াছিলেন, গিরিশচন্দ্র সেই 
সর নাট্যধারা আরও পুষ্ট করিয়া অগ্রগতির পথে চালিত করিয়াছিলেন--ইহাই তাহার 
কতিত্ব। তিনি সামাজিক, ধতিহাসিক এবং পৌরাণিক অনেক প্রকারের নাটক প্রণয়ন 
করিয়াছিলেন, কিন্ত সর্বক্ষেত্রে তিনি তাহার অগ্রবর্তী পথিকৃতের স্থনির্দেশিত পথ বিশ্বস্তভাবে 
অনুসরণ করিয়াছিলেন। সামাজিক নাটকে তিনি দীনবন্ধুর নাটক বিশেষ করিয়৷ 
'নীলদর্পণে*র দ্বারা প্রভাবাদ্বিত। করুণ রসের প্রীবল্য, অকারণ মৃত্যুর আতিশধ্য এবং 
চরিত্রের অতিরঞ্জন প্রভৃতি 'নীলদর্পণে”র বৈশিষ্ট্যগুলি গিরিশচন্দ্রের নাটকে সমভাবে বিছ্ামান। 
্রতিহাসিক নাটকে তিনি জ্যোতিরিন্ত্রনাথের প্রভাবপুষ্ট । জ্যোতিরিন্দরনাথের নাটকে বে 
বীররসের পরিস্ফুরণ এবং স্বদেশী ভাবোদ্বীপন লক্ষ্য করা যাঁয় গিরিশচন্দ্রের ধ্রতিহাসিক 
নাটকেও সেই সব বিশেষত্ব রহিয়াছে। ধর্মপ্রবণ বাংলা দেশে পৌরাণিক নাটকের অপ্রতুল 
দেখা যায় নাই বাঙালীর হৃদয় জয় করিতে হইলে পৌরাণিক নাটক লেখা! দরকার 
গিরিশচন্ত্রও ইহ! বুঝিয়াছিলেন । মনোমোহন বন্থু হইতে রাজরু্ণ রায় পর্যস্ত যে পৌরাণিক 
গীতাভিনয়, অপেরা প্রভৃতির ধারা বহিয়৷ আসিয়াছে, তাহ! দ্বারা তিনি তাহার পৌরাণিক 
নাট্ক্ষেত্রও সেচন করিয়াছেন । অবশ্য পৌরাণিক নাটকে তাহার মৌলিক বৈশিষ্ট্যের জন্ 
ইহা একেবারে যাত্রা কিংবা! গীতাভিনয়ের স্তরে নামিয়! যায় নাই। যথাস্থানে তাহার 
আলোচনা করিব। 

গিরিশচন্ত্র তাহার পৌরাণিক নাটকে রামায়ণ এবং মহাভারত হইতে বহুতর কাহিনী 
গ্রহণ করিয়াছিলেন । সাধারণ বাঙালীর ন্যায় কৃত্তিবাসী রামায়ণ এবং কাশীরাম দাসের 
মহাভারতই তাহার মানসিক সংস্কৃতি গঠন করিয়াছিল। এই রামায়ণ ও মহাভারতের ভাব 
ও ভাষ! তাঁহার অনেক নাঁটকেই অবিকল অসুস্থত হইয়াছে । গিরিশচন্দ্রের পূর্বে মাইকেল 
মধুস্্দন রাম এবং রাঁবণ চরিত্রের পরিকল্পনায় অভিনব মৌলিকত্ব দেখাইয়াছিলেন, কিন্ত 
কৃত্তিবাসের গ্রতি সশ্রদ্ধ আশ্থগতোর জন্য তিনি মধুস্থদনকে অহ্গদরণ করেন নাই, এবং তাহার 
রাম, রাবণ প্রভৃতি চরিত্র খণটি কৃত্তিবাসী চরিত্রের অনুরূপ হইয়াছে। স্বয়ং নাঁট্যকাঁরও 
কতিবাস ও কাশীরাস দাসের প্রতি তাহার খণ স্বীকার করিয়াছেন ।১ 

গিরিশচন্ছ্ের নাটকে দেশীয় এবং জাতীয় ভাবই বেশি পরিমাণে বিদ্যমান । তবে 
বিদেশী ভাব ও সাহিত্যের আদর্শও তিনি কিছুট! গ্রহণ করিয়াছিলেন। তিনি নিজেই 
বলিয়াছেন যে শেকসগীয়ারের নাটযাদর্শই তিনি গ্রহণ করিয়াছিলেন ।২ শেকসপীয়ারের ন্যায় 








১। কিন্তু মহাকবি কাশীরাম দাস কৃত্তিবাম আমার ভাষার বনিয়াদ । আমার লেখায় তাদের প্রভাবও 
দেখতে পাবে ৷ 
. “গিরিশচন্্র ও নাট্যসাহিত্যা-_কুমুদ্বন্ধু সেন, পৃঃ ৩৮। 
২| “মহাকবি সেক্ষপীরই আমার আদর্শ। তারই পদাঙ্ক অনুসরণ ক'রে চলেছি।' এ, পৃঃ ৬৮| 


গিরিপচজ ঘোষ ১৩৫ 


তিনিও নাটকের পঞ্চাঙ্ক বিভাগ সর্বত্র মানিয়! চলিয়াছেন। শেকসপীয়ারকে অন্গসরণ করিয়া 
তিনি আদিম প্রবৃত্তির সংঘাত এবং প্রবল ভাবের (98551917) অতিশয্য বর্ণনা করিয়াছেন। 
মানব সমাজে যতরকম অন্যায় ও দুষ্কত আছে শেকসগীয়ার নির্ভীক লেখনীর দ্বারা' সব কিছু 
অঙ্কন করিয়৷ গিয়াছেন।১ গিরিশচন্দ্রও নাটকে ব্যস্ত, প্রতারণা, প্রতিহিংস।, ব্যভিচার, 
নরহত্যা প্রভৃতি সর্বরকম অপরাধ ও পাঁপ দেখাইয়াছেন। বিদ্ষক প্রভৃতি চরিত্রের উপরেও 
শেকসপীয়ারের ঢ০০!এর প্রভাব পড়িয়াছে। শেকসগীয়ারের ন্যায়২ গিরিশচন্ত্রুও লঘু ও 
হাস্তরসা ত্বক ভাঁবপ্রকাশের জন্য গগ্য এবং গম্ভীর ও ওজস্বী বিষয় ব্যক্ত করিবার জন্য পদ্ঠ 
ব্যবহার করিয়াছেন। শেকসপীয়ারের 'জুলিয়াম সিজার”, 'হাঁমলেট', 'ম্যাকবেথ, প্রভৃতি . 
নাটকে যেমন প্রেতাত্মার অস্তিত্ব আছে, গিরিশচন্দ্র 'চণ্ড' 'কালাপাহাড় ইত্যাদি নাটকেও 
তেমনি অশরীরী ছায়ামূত্তির আবির্ভাব দেখান হইয়াছে। -শেকসগীয়ারের সহিত এসব 
সাদৃশ্ঠসতেও একথা জোর করিয়৷ বলা যাঁয় যে, গিরিশচন্দ্রের মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গির সহিত তাঁহার 
নাট্যগুরুর আদর্শের গুরুতর প্রভেদ বিদ্যমান । গিরিশচন্ত্রের সমস্ত নাটক ধর্মভাব ও 
নীতিভাবে আচ্ছন্ন রহিয়াছে । ইহাই তাহার সর্বপ্রধান নিজস্ব বৈশিষ্ট্য । তাঁহার নাটকের 
মধ্যে দেশের অন্তঃশায়ী ভাব ও সংস্কৃতির ধার! প্রবাহিত, এবং তাহার নাটকীয় রীতিও 
সর্বতোভাবে শেকসপীয়ারের অম্যায়ী নহে। স্থৃতরাং শেকসপীয়ারীয় নাটকের সহিত তাহার 
নাটকের এঁক্য বেশি দূর পর্যস্ত অদ্বেষণ করা সঙ্গত হইবে না। 

ভাষা! এবং ছন্দের দ্রিক দিয়াই গিরিশচন্দ্র বাংলা নাটকের সর্বাপেক্ষা বেশি সংস্কার 
করিয়াছিলেন। মাইকেল, দীনবন্ধ প্রভৃতি নাট্যকারের গ্ সংলাপ সংস্কত ভাষার প্রভাবে 
নিতান্ত আড়ষ্ট ও অস্বাভাবিক ছিল । গিরিশচন্ত্রই নাটকীয় সংলাপ সর্বপ্রথম সচল ও 
সাবলীল করিতে সক্ষম হইলেন, নাটকীয় চরিত্রগুলি তাহাদের নিজেদের ভাষ। ব্যবহার 
করিবার অধিকার পাইল । কিন্তু স্বাভাবিক হইলেও তাহার ভাষার মধ্যে নুম্ম ব্যঞ্জনার 
অভাব, রবীন্দ্রনাথ গ্রভৃতি নাট্যকারের ভাবায় যে 1 এবং অপরূপ কারুকার্য লক্ষ্য কর! 
যাঁয় গিরিশচন্দ্রের ভাষায় তাহা নাই। সংস্কত নাটকের বিদুষক প্রভৃতি যেমন প্রাকৃত ভাষায় 
কথাবার্ত। বলে, গিরিশচন্ত্রের বিদুষক প্রভৃতি হাস্তরসাত্মক চরিত্রও তেমনি কলিকতা 
অঞ্চলের ইতর ভাষা (51908 ) ব্যবহার করে। গম্ভীর এবং মাঞ্জিত ভাষার সহিত বৈপরীত্য 
দেখাইয়। নাট্যকার এই ভাষ! হাস্যরস উদ্রেক করিবার জন্য প্রয়োগ করিয়াছেন বটে, তবে 
একই ধরণের চরিত্রের মুখে প্রত্যেক নাটকে একই ভাষা একঘেয়ে এবং বৈচিত্র্যহীন হইয়াছে । 


পপ 





১1 শেকপীয়ারের ট্রীজেডিগুলির বিষয় সম্বন্ধে &, 17. 11)0117010 বলিয়াছেন, 15617. (0161065 ৪7৩ 
19562780, 709015888, (5790105, 001081190য, 1090, 90010 8100. 19910085, 700067 ৪১০00 15) 
ছ111510, 100216769 9100. 8190011661 ী 
| -_755764%, 01806. 
২। শেকপীয়ারের নাটকের ভাষা সম্বন্ধে & ডা ৪০৫16£৩1-এর উক্তি প্রণিধান ধোগ্য--11) 00৪ 8৪৪ 
০01 62:80 8100. [0:0596 চি179106819697:6 01096%08 ঘ€] 11099 01861006101) 9000701£ 60 :.006 15008 
০৫ 009 819698615, 100৮ 8611] 00026 80007:0106 60 0161: 01087506515 2100. 01810916101) 0£ 1011)0,৯ 
07076566047 070 157660/86) [528 


১৬৬ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


."  গিরিশচন্ত্রের সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব তাহার গৈরিণী ছন্দ অবশ্য তিনি এই ছন্দের 
সবপ্রথম (আবিষ্কর্ত! নহেন তাহা! ঠিক? কারণ তাহার পুবে'ই কালীপ্রসন্ন সিংহ “হতোম 
্যাচার নকদাঁ়, ব্রজমোহন রায় পদানব-বিজয় গ্রন্থে এবং রাজরুঞ্ণ তাহার কাব্যে এই ছন্দ 
ব্যবহার করিয়াছিলেন। কিন্ত গিরিশচন্দ্রই এই ছন্দ সংস্কার এবং নাটকের উপযোগী করিয়। 
ইহার অমরত্ব দান করিয়! যাঁন। তাঁহার পরেও বাংলা নাটকে ইহাঁর ব্যাপক ব্যবহার দেখা 
গিয়াছে । নাটকের পক্ষে দীনবন্ধু-ব্যবহৃত পয়ার এবং মাইকেল-প্রবর্তিত চতুর্দশ অক্ষরবিশিষ্ট 
অমিত্রাক্ষর ছন্দ কোনটাই অনুকূল নহে, কারণ এ ছুই ছন্দে ভাবের ত্রুত এবং অবিরাম গতি 
সম্ভবপর নহে, কিন্ত গৈরিণী ছন্দের মধ্য দিয়া নাটকীয় ক্রিয়া এবং চরিত্র দ্রতগতি চলিষুতা 
প্রাপ্ত হয়, এবং কথোপকথন কখনো দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর মনে হয় না। গিরিশচন্দ্রের এই 
মৌলিক এবং নাটকীয় ছন্দের জন্তই তাহার পৌরাণিক ন।টকগুলি গতান্গগতিক একঘেয়েমি 
হইতে রক্ষা পাইয়াছে। 

. গিরিশচন্দ্র যখন নাটক লিখিতে আরম্ভ করেন তখন বাংলাদেশে ।হিন্দুধর্মের গৌরবময় 
নবোখানের যুগ। “ইয়ং বেঙ্গলে'র কালাপাহাড়ী দিনগুলি অতিক্রান্ত হইয়াছে, এবং ব্রাহ্ম 
আন্দোলনের সাময়িক চাঞ্চল্যও স্তিমিত হইয়। আসিয়াছে । বাঙালী পুনরায় আত্মপ্রতিষঠ 
হইয়। নিজের ধর্ম ও সমাজ সংরক্ষণে ব্রতী হইয়া উঠিয়াছে। তখন হেমচন্ত্র এবং নবীনচন্ত্র 
ভারতের পৌরাণিক কাহিনী লইয়া মহাকাব্য লিখিতে আরম্ভ করিয়াছেন এবং বস্কিমচন্দ্রে 
শক্তিশালী লেখনী বৈজ্ঞানিকভাবে হিন্দুধর্মের সারতত্ব অনুশীলনে নিরত রহিয়াছে । এই 
রকম সর্বজনীন ধর্মপ্রাবন গিরিশচন্ত্রের ধর্মভাবকে পরিপোষণ করিলেও, তাহার জীবনের 
সবণপেক্ষা উল্লেখষোগ্য প্রভাব আসিয়াছিল ধর্মগুরু রামরু্৫-বিবেকানন্দের ছুর্লভ সঙ্গ হইতে । 
অশেষ সৌভাগ্যক্রমে তিনি রামকৃষ্ণ এবং বিবেকানন্দের নিকট সংস্পর্শে আসিয়াছিলেন, এবং 
এই দুই মহাঁআ্মা ধর্মনেত। তাহার মতবাদ এবং দৃষ্টিভঙ্গি এমনি ভাবে প্রভাবাদ্িত করিয়াছিলেন 
ষে ভাহার সমন্ত নাটকে ভক্তিভাবের অবারিত উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। “বিন্বমঙ্গলে*র 
পাগলিনী, নসীরাম, এবং “কালাপাহাড়ে'র চিন্তামণি প্রভৃতি কয়েকটা চরিত্রের উপ্র রামরুফ- 
দেবের প্রত্যক্ষ প্রভাব বিদ্যমান। 'জনা/র বিদূষক, “পাওব-গৌরবে”র কঞ্চুকী, "গৃহলক্ষী+র 
অবধৃত প্রভৃতি ধর্মমূলক চরিত্রগুলিও রামকৃষ্ণের আদর্শ অনুসারে কল্পিত হইয়াছে। ত্্রাস্তি'র 
রঙ্গলাল, “মায়াবসানে”র কালীকিঙ্কর, “বলিদানে'র কিশোর এবং «শাস্তি কি শাস্তির পাগল 
প্রভৃতি চরিত্র স্বামী বিবেকানন্দের প্রেম ও সেবাধর্মের মুর্িমান আদর্শবূপে চিত্রিত হইয়াছে ।১ 
ভক্তিমূলক কোনে! বিশেষ চরিত্র নাটকের অঙ্গহীনি করে না, এবং পৌরাণিক ও ধর্মমূলক 
নাটকে তক্তিরসের আধিক্য দোষাঁবহ নহে । কারণ এই যারা 
আদর্শ গ্রহণ করিবার জন্তই দর্শক আশা করিয়া থাকে। “রূপ-সনাতন+১ ধধ্রব- 


১। গিরিশচন্দ্রের নাটকে রামরৃষ্-বিবেক নন্দের প্রভাব সম্বন্ধে প্রযুক্ত হেমেন্ত্রনাখ দাসগুণ্ত “গিরিশ 
প্রতিভার বিস্তৃত আলোচন। করিয়াছেন । পৃঃ ১৩২১৩ এবং ২৪১-২৫৩ জষ্টব্য। 


গিরিশচজ্ঞ ঘোষ ১৩৭ 
£প্রহথলাদ চরিত্র) “বিবমঙ্গল+ প্রভৃতি নাটকে ধর্ুভাীবের আধিক্য দর্শকের মনকে বরং আগ্মিত 
করে। কিন্তু যখন এই ধর্মভাব সামাজিক এবং এতিহাসিক প্রভৃতি বাস্তব নাটকে সংক্রামিত 
,ইইয়াছে, তখনি ইহ। নাটকীয় রসের পরিপন্থী হইয়াছে। আধ্যাত্মিক অনুভূতি এবং ধর্মাদর্শ ' 
গিরিশচন্ত্রের মনপ্রাণকে এমনিভাবে সমাচ্ছন্ন ও অভিভূত করিয়! রাখিয়াছিল যে বাস্তব 
রাজ্যের স্থল বিষয়ে তিনি তাহার দৃষ্টি অধিকক্ষণ নিবদ্ধ রাখিতে পারিতেন না। বিভিন্ন 
শ্রোতস্থিনী যেমন ইতন্তত প্রবাহিত হইয়াও অবশেষে একই সাগরে পরিণতি লাভ করে, 
তাহার ন।টকের বিচিত্র তাবও কিছুক্ষণ ঘাত গ্রতিঘাতে আলোড়িত হইয়! ধর্মের পারাবারে 
নিমজ্জিত হয় । মনে হয় বান্তব চরিত্র ও ঘটনাগুলি এক অনৃষ্থ ধর্মশক্তির দ্বার অমোঘভাবে 
আঁকধিত হইয়াছে । সুতরাং তাহার সব নাটক কিছুক্ষণ দেখিয়াই তাহাদের সুনিশ্চিত 
পরিণতি সম্বন্ধে সুম্পষ্ট ধারণ! হইয়া যায়। গিরিশচন্দ্রের এই সর্বব্যাপী ধর্মভাব ধর্মপ্রাণ হিন্দুর 
কাছে তাহার নাটককে আদরণীয় করিয়াছে, আবার বান্তবনিষ্ঠ সমালোচকের কাছে ইহাকে 
দৌধাবহ করিয়৷ তুলিয়াছে। এই ধর্মভাবের প্রাবল্য ঠাহার এতিহাসিক নাটক অশোক", 
«কালাপাহাড়' প্রভৃতির ভ্রতিহাসিকত। নষ্ট করিয়াছে, এবং সামাজিক নাটক "শান্তিকি 
শান্তি, 'মায়াবসান' প্রভৃতিকে অনর্থক ভারাক্রান্ত করিয়াছে । অনেক সময়েই তিনি পাত্র" 
পাত্রীর মুখ দিয়! তাঁহার অভীষ্ট ধর্মতত্বের আলোচন! করিয়! তাহার স্বরূপ নাটকের মধ্যে 
প্রকাশ করিয়। ফেলিয়াছেন। নাট্যকারকে এইভাবে আত্মপ্রকাশ করিতে দেখিয়! দর্শকের 
মন অনেক স্থলেই অসন্তষ্ট হইয়৷ উঠে। | 

গিরিশচন্দ্র এই প্রবল ধর্মভাব ও নীতিভাবের জন্ত নাটকের চরিত্রগুলি তাহার 
মানসিক আদর্শ অনুযায়ী পরিণতি লাভ করিয়াছে । তিনি তাহার নাটকে পাপী এবং 
পুণ্যাত্মা! ছুই রকম চরিত্রই অংকন করিয়াছেন, কিন্তু ধর্ম ও নীতির জয় এবং গৌরব দেখাইবার 
জন্তই ইহাদের চরিত্র বিকাশ করিয়। গিয়াছেন। পাপের পরাজয় এবং ধর্মের জয় ঘটিয়৷ 
থাকে ইহ সাধারণ নীতিশাস্ত্ররে কথা । ইহা প্রদর্শন করিয়া আমাদের নীতিবোধ ও 
ধর্মবোৌধকে হয়তো পরিতৃপ্ত কর! যায়, কিন্তু ইহার মধ্যে শিল্পকলার হুম নৈপুণ্য নাই। 
অবশ্ত বড়ো সাহিত্যিক বিশ্বজনীন মানবনীতিকে কখনো! অগ্রাহু করেন না! বটে, কিন্ত সেই 
নীতি খুব গুঢ় এবং গভীর । সাধারণ মানুষের ভালে! লাগা-_মন্দ লাগা এবং পাপপুণ্য বোঁধ 
স্বারা ইহার পরিমাপ করা যায় না। সেইজন্য অনেক সময়েই অপরাধী এবং পাপীও তাহার 
কাছে সহানুভূতি ও দরদ পাইয়! থাকে, এবং ভয়াবহ পয়িণতির মধ্যে সব সময়ে তাহাদের 
চরিত্র পরিণতি প্রাপ্ত হয়ন । শাইলক নিষ্ঠুর নরাধম চরিত্র, কিন্ত তাহার চরিত্রও দর্শকের 
সহান্ভূতি আকর্ষণ করিতে সমর্থ হয়, 104 [,591 এর ছ:৫0030১4 চরিত্র মানব সমাজের . 
জধন্ত অপরাধে অপরাধী, কিন্তু তবুও মনে হয় যে সমাজের কাছ হইতে সে কেবল স্বণ। ও 
ধিক্কার পাইয়াছে বলিয়াই সে সমাজের প্রতি এপ প্রতিহিংসাপরায়ণ হইয় উঠিয়াছে। শ্রেষ্ঠ 
সাহিত্যিকের চরিত্রমাত্রই এরূপ জটিল । কিন্তু গিরিশচন্দ্রের চরিত্রগুলি নিতান্ত সরল ও 
সহজবোধ্য, হয় তাহার! খুব ভাল, অথব! নিতান্ত মন্দ। মন্দ চরিত্রগুলির পরিণতি ভুয় .. 
১৮ 


৮৩৮ বাংল। নাটকের ইতিহাস 
তাহাদের প্রাপ্য শান্তিতে, অথবা তাহঠদের আমূল পরিবর্তনে । গিরিশচন্রের অনেক 
মন্দ চরিত্র কঠোর শাস্তি ও ভয়াবহ পরিণাম লাভ করে নাই সত্য কিন্তু তাহারা নিশ্চয়ই 
শেষ পর্যস্ত খুবই সৎও ধায়িক হইয়া উঠিয়াছে। “হারানিধি'র মোহিনী, “মায়াবসানে+র 
যাদব ও মাধব এবং «“বলিদানে”র মোহিত ও দুলাল গ্রভৃতি এইভাবে ধর্মের স্পর্শ পাইয়। 
বৃতন মানুষ হইয়া উঠিয়াছে। যতক্ষণ পর্যন্ত এইরূপ পরিণতি দিতে না পারিয়াছেন, 
ততক্ষণ গিরিশচন্দ্র ধর্ম ও নীতিবোঁধ সন্ত হয় নাই। অনেক পতিতা চরিত্রও তাহার 
নাটকে সাধু ও ধর্মপন্থা অবলম্বন করিয়াছে । দৃষ্টান্তস্ববূপ সোণা, কাদখ্থিনী, গঙ্গা, সাহা 
চিন্তামণি, প্রভৃতির নাঁম কর! যাইতে পারে। কিন্তু মনে রাখিতে হইবে যে গিরিশচন্দ্র 
বার্ঘর্ড শ'এর ন্যায় পতিতা সমস্যা নিয়া আলোচন! করেন নাই, ১ এবং শরৎচন্ত্রের যায় 
পতিতার সুক্ম অনুভূতি এবং অন্তদন্ৰ প্রভৃতি বিশ্লেষণ করেন নাই। ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণের 
ঘংস্পর্শে আসিয়। গিরিশচন্ত্র পতিত ও অভাজনে কৃপা করিবার মহত প্রবৃত্তি লাভ করিয়- 
ছিলেন। সেজন্ত লাঞ্ছিতা, হতভাগিনী পতিতাদিগকে ধর্পপথে নিয়োজিত করিয়া! তিনি 
তাহাদের আধ্যাত্মিক মুক্তির উপায় বিধান করিয়াছেন।২ সোণা» গঙ্গা, চিন্তামণি প্রভৃতি 
সরুলেই ধর্ম আশ্রয় করিয়! তাহাদের বেশ্তা-জীবনের কলুধঘ এবং কলঙ্ক ধৌত করিবার 
বালন৷ করিয়াছে । সুতরাং পতিতাদের প্রতি গিরিশচন্দ্রের দৃষ্টি পতিতপা'বক মহাপ্রাণের 
দৃষ্টির সহিত অভিন্ন। পতিতাজীবনের প্রেম এবং 'সমাজ-ব্যবস্থার সহিত সংঘাত, সেই 
জীবনের করুণ ট্র্যাজেডি গিরিশচন্দ্র বিশ্লেষণ করিয়া দেখাইতে চান নাই। যে সবপতিত। 
নাট্যকারের অনুকম্পা লাভ করিয়াছে তাহারা সকলেই মানবীয় দুর্বলতার উধের্ব অবস্থিত 
ধর্মব্রতী সন্ন্যাসিনী। কেবল 'মোঠিনী-প্রতিমা”য় গিরিশচন্দ্র সাহানাকে ধর্মাধিনী যোগিনী 
ন। করিয়। তাহার জীবনের অতি মধুর অথচ বেদন1ময় স্পর্শটুকু ফুটাইয়া তুলিয়!ছেন। 
সাঁহান! তাহার প্রেমাম্পদকে অন্ঠের হাতে স'পিয়। দিয়া! যে চরম আত্মত্যাগ করিল তাহাতে 
তাহার চরিত্র নিতীস্ত ট্র্যাজিক অথচ মহীয়সী হইয়। উঠিয়াছে। সানা শরৎচন্দ্রের সাবিত্রী, 
বিজলী, চন্্রমুখী প্রভৃতি প্রসিদ্ধ চরিত্রকে মনে করইয়া দেখ । নাটকথানি গিরিশচন্দ্রের অন্যতম 
শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক সৃষ্টি । 


১। বানার্ডশ '115. ৬1 %1::61)5 [9:0£588101) নাটকে পতিতা বৃত্তির অর্থ নৈতিক সমস্ত যা আলোচন! 
করিয্াছেন। 

১। রঙ্গালয়ের মধ্য দিয়! গিরিশচন্দ্র পতিতাদের জীবন পরিশোধন করিতে চেষ্টা করিতেন । অভিনেত্রীর 
কটাক্ষ নামক প্রবন্ধে তিনি বলিয়াছেন-_নালার জুল গঙ্গা আয়! পড়িয়। গঙ্গীজজল হইয়। যাঁয , পরশমণি +স্পর্শে 
ব্যাধ-গৃহের লৌহও কা।ঞ্চনে পরিণত হয়; সাধুসঙ্গে কুচরিআ। সঙ্ন্যাসিনী হন ; তগন্তকত হরিদাসকে ছলন! করিতে 
গিয়া বেষ্ঠা মে[হিনী পরম। বৈষুবী হইয়াছিল । আমাদেরও অ।শ1) সদ।শয় ব্যক্তির পদার্পণে রঙ্গালয় পবিত্র 
হইবে, ও'ঘৃণিত অভিনেত্রীরীও স্বীর শিল্পানুরা (গণ মাতে পরিপুষ্ রাঃ পরিহার রঃ সাধুজনের বৃপার ভাঁজন 
ও প্রশংসার পাত্রী হইবে 1 ৃঁ 


গিরিশচজ্দ ঘোষ ১৩৯ 


গিরিশচন্দ্রের জীবনী এবং নাটকাদি আলোচন|! করিলেই মনে হয় যে জীবন সম্বন্ধে 
তাহার গভীর ও দার্শনিক ধারণা ছিল। তাহার তত্বসন্ধিৎস্থ চিত্ত জীবনের সব সমন্তার 
মূল অনুসন্ধান করিয়াছিল। তাহার ধর্মগ্রবণতা এবং সাধুসঙ্গ তাহাকে জীবন সন্বদ্ধে 
আরও বেশি জিজ্ঞান্ত করিয়া তুলিয়াছিল। সেইজগ্ভ জীবনের হান্ধা৷ এবং হাস্তরল 
দিকটা, রামধন্ুর বিচিত্র রঙের ছটাবু ন্তায় যাহা গুরুগন্ভীর জলভারানত মেঘের উপরিভাগ 
ক্ষণকালের জন্য রঞ্জিত করিয়। রাখে-_গিরিশচন্দ্বের সহিত তাহার কোনো যোগ ছিল না।১ 
দীনবন্ধু কিংবা অমৃতলালের স্াঁয় গিরিশচন্দ্র নাটক সেইজন্য জীবনের পরিহাস-মধুর, চপল; 
চটুল মুহূর্তগুলির পরিচয় পাঁওয়া যাঁয় না। করুণ রস অথব৷ ভক্কিরসের গম্ভীর এবং 
সমাহিত ধ্বনি তাহার সমস্ত নাটকে ব্যাপ্ত হইয়া রহিয়াছে ।২ সেইজন্য প্রাণ খুলিয়! তিনি 
কখনে৷ হাসিতে এবং হাঁসাইতে পারেন নাই। তাহার নাটকের মধ্যে যেখানে একটু আধটু 
হাসির অবকাঁশ আছে, সেখানে আমাদের অতি সন্তর্পণে থাকিতে হয়, কি জীনি আমীদের 
লঘু চাপল্যের জন্য কখন নাট্যকার রক্তচক্ষু হইয়! তাহার গুরুভাঁবের লগুড় দ্বারা আঘাত 
করিয়। বসেন। বিদূষক প্রভৃতি চরিত্রের হাস্যরসের তারল্য ধর্মভাবের প্রবল্যে সমাধি লাভ 
করিয়াছে । তিনি যে পঞ্চরংগুলি (50৪58891029) লিখিয়াছেন সেগুলির মধ্যে ব্যঙ্গ 
বিদ্রীপ ও কদর্য রসিকত। আছে, কিন্তু বিমল হাস্যরসের ্িপ্ধ ধারা নাই। 

গিরিশচন্দ্রের নাটকে দোষক্রটি থাঁকিলেও তাহাতে অকপট আন্তরিকতার অভাব 
কেহই লক্ষ্য করিতে পারিবেন না। তিনি নিজে যাঁহা দেখিয়াছেন, যাহা বুঝিয়াছেন, অকুঠ 
লেখনীর মধ্য দিয়া তাঁহ। প্রকাশ করিয়া গিয়াছেন।৩ ধর্মগুরুর সঙ্গলাভ করিয়াছিলেন 
বলিয়াই তাহার নাটকে ধর্মভাবের আধিক্য লক্ষ্য কর৷ যাঁয়, আঁবাঁর িটানিলিি বাঁস 
করিতে হইয়াছিল বলিয়া ইহাঁদের কথাও তিনি লিখিয়াছেন। 


১। “গিরিশচন্দ্রের কঞ্জনা উচ্চধ্য।নে ও উচ্চ আদর্শ চিন্তায় সর্বক্ষণ বিভোর হইয়। খাকিত। এজন্য 
প্রহসনের নিয়ভূমিতে অবতরণ করিতে চাহিত না ।' ০ 
রি গিরিশচন্ত্রের জীবনী-_দেবেস্্রনাথ বন | 

২। গিরিশচন্দ্র একদিন শ্রীযুক্ত কুমুদবন্ধু সেনকে বলিয়|ছিলেন--“আমার 018709গুলো 11816 68010% 

নয় ৪০110908 20094 5611090815 01)11)% না করলে সব বুঝতে পারবে না । টা আমার 018708 

পড়া! চলবে না।' 
_গিরিশচন্জ ও নাঁটা সাহিত্য, পৃঃ খ১। | 

৩। আমি বই লিখতে লোককে ফাঁকি দিই ন্নি। েটা.19৫] করেছি, যে সত্য 08০9৫81 0:5এ 

1€81185 করেছি, যা জীবনে মরণে পরম সত্য ব'লে জেনেছি তাই নবার ভিতরে বিলিয়ে দিতে চেষ্টা। করেছি। 


| পৃঃ, 


পৌরাণিক ও ভক্কিমূলক নাটক 


গিরিশচন্দ্রের প্রতিভার উদ্মেষ এবং পরিণতি হইয়াছে পৌরাণিক নাটকে । নাটকের 
মধ্য দিয়া যে ধর্মমূলক পৌরাণিক আদর্শ প্রচারণের ব্রত তিনি “রাবণ-বধে+ গ্রহণ 
করিয়াছিলেন, তাহারই উদ্যাপন করিয়৷ গিয়াছেন 'ভ্পাবলে”। গিরিশচন্দ্র সামাজিক 
শঁতিহানিক প্রভৃতি বিভিন্ন প্রকারের নাটক লিখিয়াছেন বটে, কিন্তু পৌরাণিক নাটকে 
তাহার স্বত:স্দর্ত প্রাণাবেগ যেমন উল্লসিত, উচ্ছ্বসিত হইয়া উঠিয়াছে, তেমন আঁর কো 
হয় নাই। সাধারণ বাঙালীর প্রাণধারার সহিত তাহার মানসভক্ষির এমন একটা! নিবি 
অকপট সঙ্গতি ছিল যে নাটক লিখিতে যাঁইয়! ব্যবসায়ের অস্কুশ-আঘাতে তীহাকে অবহিত্ত 
থাকিতে হয় নাই, অন্তরের স্ুবিপুল আবেগে তাহার লেখনীর মুখ দিয় সাবলীল নাট্যধারা 
নিঃসৃত হইয়াছে, এবং তাহাতেই তৎকালীন দর্শকের হৃদয়-সিংহাসনে তিনি স্ুপ্রতিষিত হইয়া! 
গিয়াছিলেন। * 

গিরিশচন্দ্রের মানসিক ভাঁবপ্রবাহের ক্রমবিকাশ যদ্দি আমর! বিশেষভাবে অনুধাবন 
করি, তবে ইহা! লক্ষ্য করিব যে আশৈশব পারিপাশ্িক অবস্থার অন্গকুল প্রভাবে তাহার 
মনে পৌরাণিক আদর্শ চিরস্থায়ীরূপে অস্কিত হইয়া যাঁয়। বাল্যকালে তিনি খুল্লপিতামহীর 
কাছে রামায়ণ মহাভারত এবং পুরাণের নান! কাহিনী আগ্রহসিক্ত কৌতৃহলের সহিত 
শুনিতেন।১ বয়োবৃদ্ধির সহিত সেই সব কাহিনী এবং গল্প সম্বন্ধে তাহার বিশ্বীস ও 
শন্ধা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাইয়াছিল। যাত্রা কথকতা, হাফ-আখড়াই প্রভৃতির রস-উপভোগের 
মধ্য দিয়। তাহার ধর্মান্ুরাগ এবং ভক্তিপরায়ণতা পরিপুষ্ট ও বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়, পরবর্তীকালে তিনি 
বিদেশী ভাবধারাবাহিত নানা মত ও তত্বের সংস্পর্শে আসিয়াছিলেন বটে, কিন্তু যে 
রসধারার সহিত তাহার পরিচয় ঘটিয়াছিল যাত্রা, পাঁচালী ও কথকথার মধ্য দিয়া, তাহা তাহার 
মনপ্রাণের সহিত এমনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল যে যাহ! কিছু তিনি লিখিয়াছেন 
তাহাতেই সেই রসধার! মিশ্রিত হইয়া রহিয়াছে। গিরিশচন্দ্র পূর্বে মনৌমোহন বস্থু হইতে 
রাজকৃষণ রায় পর্যস্ত অনেক নাট্যকার বহুতর অপেরা, গীতাঁভিনয় প্রভৃতি লিখিয়া গিয়াছেন। 
বাঙালী দর্শকগণ তাহাদের ধর্মালু ভাবোম্মাদন। চরিতার্থ করিবার জন্য এই সব অনুনল্লেখ্য 
নাটকের অবাধ প্রশ্রয় দিয়! আসিতেছিল। গিরিশচন্দ্র তাহা লক্ষ্য করিয়াছিলেন, তিনি 


১। গিরিশচ্ত্রের নুপ্রসিদ্ধ জীবনীকার অবিনাশচন্ত্র গঙ্গোপাধ্যায় মহাশয় লিধিয়াছেন-_“গিরিপচন্দ্রের 
খুল্লপিতামহী রামীয়গ, মহাভারত প্রভৃতি পুরাণের কথ। অতি চমৎকার করিয়৷ বলিতে পারিতেন॥ বালক 
গিরিশচজ্ সন্ধ্যার পর তাহার কাছে বসিয়া সেই সকস গল্প শুনিতেন, এবং উহ। তাহাকে এরূপ আঁভিতৃত 
করিত যে, তিনি সকল সময়েই সেই কল্পনায় বিভোর হইয়া থাকিতেন। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ডাহার মনে 
পৌরাণিক চিত্রসকল মুদ্রিত হইয়া গিয়াছিল। ভিনি যে পরিণত বয়সে উৎকৃষ্ট পৌরাশিক নাটকাদি লিখিতে সক্ষম 
হুইরাছিলেন, ত্বাহীর ভিত্তি এইখানে ।' 'গিরিশচত/--পৃঃ ১৮ | 


গিরিশচজাঁ ঘোষ ১৪১ 


বুঝিয়াছিলেন যে “হিনুস্থানের মর্মে 'মর্মে ধর্ম, মর্মাশ্রয় করিয়! নাটক লিখিতে হইলে ধ্মাশ্রয় 
করিতে হইবে? ১ তিনি “নট্যকার+ নামক প্রবন্ধে একস্থলে লিখিয়াছেন যে নাটক-রচয়িতাঁকে 
দেশীয়ভাবে অনুপ্রীণিত হইতে হইবে । এই বিধান অনুযায়ী তিনি ভারতের দেশীয় ভাবধর্মের 
দ্বার! প্রণোদিত হ ইয়াছিলেন এবং দেশীয় জনসাধারণের মনে অক্ষয় আসন লাভ করিয়াছিলেন । 
আরও একটা বিষয় উল্লেখযোগ্য যে গিরিশচন্দ্রের যুগ--ধর্মমূলক জাতীয়তার যুগ্ন । দেশের 
মন তখন হিন্দুধর্ম ও পুরাণ প্রভৃতির দিকে ঝুঁকিয়াছে, এবং পৌরাণিক কাহিনী উপাখ্যান 
প্রভৃতির প্রতি লোকে আগ্রহ্পরায়ণ হইয়া উঠিয়াছে। সেইজন্য গিরিশচন্দ্র পৌরাণিক 
] নাটক অতি সহজেই সমাদর লাভ করিয়াছে । কিন্তু সমসাময়িক লোকের কাছে সমাদর 
£ লাভ করিলেই সমালোচনার শাশ্বত কষ্টিপাথরে চিরন্তন মূল্য নিধারিত হইয়া যায় না । 
| দাশরথি 'রায় এবং ঈশষরচন্ত্ গুপ্ত প্রভৃতি কবি একদিন সাহিত্যের আঙ্গিনা জাকিম। 
বসিয়াছিলেন কিন্তু আধুনিক সমালোচনায় তাহাদের সেখান হইতে বিদায় লইতে হইয়াছে। 
সুতরাং গিরিশচন্ত্রের বহু-সমাদূত পৌরাণিক নাটকের সাহিত্যিক মূল্য কি তাহা আমাদের 
নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে আলোচনা করা উচিত। 
পৌরাণিক নাটকে নাট্যকার পুরাণ অথবা প্রাটীন কোন ধর্মগ্রন্থ হইতে কোনে 
বিশেষ কাহিনী অবলম্বন করিয়! নাট্যকূপ দান করিয়াছেন। সাধারণত এই সব কাহিনী 
বহু-প্রচলিত এবং অন্ান্য বহুতর গ্রন্থে আশ্রিত, স্থৃতরাং এই সব নাটকের বিষয়বস্তর মধ্যে 
কোনো অভিনব মৌলিকত্ব নাই। গিরিশচন্দ্র প্রাচীন পুরাণ এবং ধর্মগ্রন্থে অটুট আস্থাবান 
ছিলেন, সেইজন্য কোনে! কাহিনীর রূপান্তর করিয়া তিনি নাটকের উদ্দেশ্ট সাধন করিতে চান 
নাই। কিন্তু কোনো বিশেষ ঘটন| কি আখ্যান কথোপকথনের মধ্য দিয়া ব্যক্ত করিলেই 
তাহা নাটক হইল না। নাটকের মধ্যে একট জটিল ঘটনাকে আশ্রয় করিয়া দ্বন্দ ও 
সংঘাতের মধ্য দিয়া চরিত্রগুলিকে বিকশিত করিয়া তুলিতে হইবে। যে নাটকে ছন্দ 
সংঘাত নাই, যেখানে কোনে! বিশেষ দেবমাহীত্ম্য অথবা ধর্মভাঁৰ পরিষ্ফুট করিবার উদ্দেশ্য 
থাঁকে তাহা নাটক নয়, যাত্রা । যাত্রার মধ্যে কোনে। চরিত্রের স্বাধীন বিকাশের সুযোগ নাই, 
সেখানে দেবত।৷ ও মানবের সীমারেখা অবলুপ্ত হইয়৷ গিয়াছে। দেবতার! মানুষের ভাগ্য 
নিয়ন্ত্রিত ও নির্ধারিত করিয়া থাঁকেন। সেজন্য ইহাতে মানব জীবনের সফলত। ও ব্যর্থতা 
দেখিয়া দর্শক হষ্ট অথবা দুঃখিত হইতে পারে না । যাত্রার উদ্দেশ্য লোৌকের মনে ধর্মভাব 
জাগ্রত করা, স্ৃতরাং ধর্মভাবের পরিপুত্তির জন্যই লোকে যাত্রা! দেখিতে যায় মানবজীবনের 
জটিল সমস্যার পরিচয় পাইতে যাঁয় না। সুতরাং যে পৌরাণিক নাটকে কোনো ভাব 
অথবা! ভক্তিরই প্রাধান্য, যেখানে ঘটন| চমতকারী এবং চরিত্রগুলি ঘন্দমূলক নয়, তাহা 
যাত্রার স্তরে অবনীত হইয়৷ পড়ে । গিরিশচন্দ্রের পৌরাণিক নাটকসমূহ আলোচন! করিলেই 
মনে হইবে যে সেইগুলি অনেকাংশে যাত্রা লক্ষণাক্রান্ত । যাত্রীর ন্যায় তাহার নাটকেও " 


)। 'পীরাণিক নাটক'__গিরিশচন্্র ঘোষ। 


১৪২, বাংল! নাটকের ইতিহাস 


ভক্তিরসের প্রাবল্য, এবং অলৌকিক, আপ্রাকৃত ব্যাপারের অবাধ সমাবেশ রহিয়াছে । 
নাটকের চরিত্রগুলিরও কোনো শ্বাধীন, ত্বতগ্র সত! ফুটিয়৷ উঠে নাই, তাহাদের ক্রিয়া কর্ম 
নিরন্তর কোনো ধর্মভাঁব অথ্ধবা দেবমাহাস্ত্য প্রকাশ করিবার জন্যই বিশেষভাবে গড়িয়! 
উঠিয়াছে। “জনা” নাটকের জন! চরিত্র ও 'পাগুবগৌরঞ্বর' ভীম £ভৃতি ছুই একটি ভূমিকা 
স্বাধীন ক্ষত ও আত্মনিষ্ঠার দ্বারা জীবন্ত ও উজ্জল হইয়া উঠিয়াছে বটে, 
কিন্ত তাহাদের শেষ পরিণতি যাত্রার অনুরূপ হইয়াছে। এই সমস্ত নাটক্‌ 
দেখিয়া ধর্ম ও ভক্তির মহিমা এবং পাঁপ ও অধর্মের পরাভাব সম্বন্ধে দর্শকের শিক্ষা! হয় বটে, 
কিন্ত সে কখনো মনে করিতে পারে না ইহাদের সহিত তাহার পার্িব জীবনধারার কোনো 
সংযোগ আছে, ইহাদের চরিত্র তাহার মনের আবেগতন্রীগুলিকে চঞ্চল করিয়া! তুলিতে পারে 
না। সে সব সময়েই মনে করে যে চরিব্রগুলির অদৃষ্ট স্থনিধারিত রহিয়াছে, কোনে। ঘটনা 
বিপর্যয়ে কিংব! চরিত্রের কোনে। অভিনব বৃত্তির পরিস্ফুরণে সেই অৃষ্টের ব্যতিক্রম ঘটিবে ন1। 
গিরিশচন্দ্র চৈতন্যদেব, বুদ্ধদেব, শঙ্করাঁচার্য প্রভৃতি কয়েক ঞ্ন মহা পুরুষের জীবনলীলা অবলম্বন 
করিয়৷ কয়েকখান। নাটক লিখিয়াছেন, ইহাদের মানবত্ব অক্ষুণ্ন রাখিয়া ধর্মজীবনের দ্বিধা, 
ন্ব প্রভৃতি লইয়। তিনি চমতকারভ।বে নাটকীয় রস স্ষ্টি করিতে পারিতেন। কিন্ত নান 
অপ্রাকৃত ও অতিলৌকিক ঘটনা বর্ণনা করিয়া! তিনি ইহাদের চরিত্র মানবীয় কৌতুহল ও 
ধারণার অতীত করিয়। দিয়াছেন, সেইজন্য ইহার নাটকীয় রসোন্ীর্ণ হইয়৷ উঠে নাই। 
রর ধর্মভব প্রচারই ইহাঁদের মূল লক্ষ্য। 
পৌরাণিক নাটকে গিরিশচন্দ্রের মৌলিকত। ফুটিয়! উঠিয়াছে তাঁহার ভাষা ও ছন্দে'এবং ছুই 
এক প্রকার অভিনব চরিত্র সজনে । গৈরিশ ছন্দের মধ্যে এমন একটা নাটকীয় গতি ও 
ব্যঞ্জনা আছে, যাহাতে তীহাঁর নাটকের রসাঁভাস মাঝে মাঝে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিদ্ষক 
প্রভৃতি চরিত্র অস্কনেও নাট্যকাঁর নৃতনত্ব প্রদর্শন করিয়াছেন । এই সব কারণে তাহার 
পৌরাণিক নাটক একেবারে যাত্রার স্তরে নামিয়৷ যায় নাই, ইহা যাত্রা ও প্ররূত নাটকের 
মাঝামাঝি স্থানে আসিয়। পৌছিয়াছে। 

গিরিশচন্দ্রের পৌরাণিক ও ধর্মূলক নাটকগুলি আলোচন। করিলেই ইহাদের মধ্যে 
দুইটা সুস্পষ্ট স্তর সহজেই লক্ষ্য করা যাঁইবে। প্রথম স্তরের নাটকগুলির বিধয় তিনি 
রামায়ণ, মহাভারত অথবা অস্ত কোনো পুরাণ হইতে গ্রহণ করিয়। অবিকল সেই সব কাহিনীর 
নাটারূপ "দান করিয়। গিয়াছেন। এই সব নাটকের মধ্যে ভক্তির আতিশধ্য প্রকাশ করিয়া 
নাট্যকার নিজেকে ধর! দিয়! ফেলেন নাই। কিন্ত দ্বিতীয় স্তরের নাটকগুলির মধ্যে ভক্কি- 
রসের গ্রাবল্য এবং গ্রস্থকারের নিজের ধর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত হইয়াছে । রামরুষ্চ দেবের 
আধ্যাত্মিক সঙ্গ লাঁভ করিবার পর হইতে গিরিশচন্দ্রের নাটকের এই দ্বিতীয় স্তরের সুত্রপাত।, 
শ্রীযুক্ত অবিনাশচন্ত্র গঙ্গোপাধ্যায় এই যুগকে 'নামভক্তি প্রচারের যুগ” বলিয়৷ বিশেষিত 
করিয়াছেন। এই যুগের নাটকে পৌরাণিক কাহিনীর অন্ুবর্তন নাই। কোনে! মহাপুকুষের 
লীলা উপলক্ষ করিয়া ধর্মতত্ব গ্রচারই ইহার প্রধান উদ্দেশ্য । 


গিরিশচজ্জ খোষ ১৪৩ 
গ্রথম স্তরের নাটকগুলির মধ্যে "রাবণ বধ”, “সীতার বনবাস”, “লক্ষণ বর্জন”, “সীভার 
বিবাহ”, “রামের বনবাঁস* এবং “সীতাহরণ_এই কয়েকথানি নাটক কৃত্তিবাসী রামাঁয়ণের 
যথাযথ অনুসরণে রচিত। কৃত্তিবাঁসী রামায়ণ গিরিশচন্দ্রের কাছে কত প্রিয় ছিল তাহ! 
পূর্বে উল্লিখিত হইয়াছে । রামায়ণের কাহিনী গ্রহণ করিতে যাইয়া তিনি কৃত্তিবাসের ভাব 
ও ভাষাই আত্মসাৎ করিয়াছেন। ঘটনা সংস্থাপনের কোনে কৃতিত্ব, কিংবা! চরিত্রস্থষ্টির 
কোনে! বৈচিত্র্য তাহার.নাই। তাহার প্রথম নাটক “রীবণ বধ” (১৮৮১) রঙ্গমঞ্চে জনপ্রিয় 
হইয়াছিল, এবং সমালোচকরাও একবাক্যে ইহার প্রশংসা করিয়াছেন। কিন্তু রাবণ বধে”র 
রাম, রাবণ চরিত্র প্রভৃতি সব কৃত্তিবাপী রামায়ণের আদর্শে অক্কিত। রাবণের দর্প, 
তেজস্থিতী, গ্রচ্ছন্ন ভক্তি -এ সমস্ত বৈশিষ্ট্য কৃত্তিবাসে যেমন আছে, গিরিশচন্দ্রেরও তেমনি 
রহিয়াছে । "রাবণ-বধে'র ঘটনার পারম্পর্ধও কৃত্তিবামকে অনুসরণ করিয়। নাট্যকার হুবহু 
রক্ষা করিয়াছেন। রাবণ বধ, নাটকের মধ্যে সীতার অগ্নিপরীক্ষার দৃশ্য অবান্তর এবং 
রস্পরিপন্থী হইয়াছে । রাবণকে ঘিরিয়। যে আগ্রহ ও .কীতুছল নাটকের মধ্যে গড়িয়া 
উঠে, রাবণের মৃত্যুতে তাহার অবপান হয়। সীতার অগ্নিপরীক্ষায় দৃশ্টে পুনরায়, দর্শকের 
মনে আগ্রহ ও উদ্বেগ উদ্রেক কর! উচিত হয় নাই। গিরিশচন্দ্র এইখানে হুক নাট্যকলার 
পরিচয় দেন নাই । “সীতার বনবাসে”ও (১৮৮২) নাট্যকার কৃত্তিবাসের অন্বর্তন করিয়াছেন'। 
সীতাকে বনবাঁসে প্রেরণের পর" অশ্বমেধ যজ্জের সময় রাম, লক্ষ্মণ, ভরত, শকত্রত্কর সহিত লব 
কুশের যুদ্ধ, সীতা, লব কুশের অযোধ্যায় গমন, এবং অবশেষে সীতার পাতাঁলে প্রবেশ 
প্রভৃতি ঘটন। যেমন রামায়ণে আছে, গিরিশচন্দ্র তেমনি নাটকের সহিত বজায় রাখিয়া 
বর্ণনা করিয়। গিয়াছেন। নাট্যকার চরিত্র ও ঘটনার কোনে। নাটকীয় স্থল বিশেষ ভাবে 
রঞ্জিত করিয়া তুলেন নাই । সেইন্ন্ত' কাহিনীর মধ্যে ফৌনো চমৎকারিত্ব নাই। তবে 
ঈর্ষাগীড়িত রামের চরিত্র ভালোভাবে দেখান হইয়াছে বটে। “লক্ষণ বর্জন” (১৮৮২) নিতাস্ত 
সংক্ষিপ্ত অনুল্লেখ্য নাটক। “সীতার বিবাহে”র মধ্যে নাট্যকারের কথঞ্চিৎ মৌলিকত। 
আছে, কারণ এই নাটকে ভৃত্য, সৈম্ত, নেয়ে, পুরস্ত্রী গ্রভৃতি ইতর লোকের মধ্য দিয়া 
হাম্তরস হুজনের চেষ্টা কর! হইয়াছে ইহার পূর্বে কোনে! নাটকে এই ভাবে হাশ্ঠরস প্রবর্তন 
করা হয় নাই। সীত৷ ও রতির কণ্োপকথনও গ্রন্থকারের নিজস্ব স্থষ্টি | 'রামের বনবাসে+ও 
( ১৮৮২) এতো বিভিন্ন ঘটনার শিথিল সমাবেশ যে, কৌনে! একটী ঘটনাকে অবলম্বন 
করিয়া নাটকীয় রস জমাট হইয়! উঠিতে পারে নাই। দশরখের আক্ষেপ এবং নাটকের 
মধ্যেই তাহার মৃত্যু সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য নাটকীয় সংস্থান, তবে ইহা উল্লেখযোগ্য যে 
পত্র-বিচ্ছেদাকুল, নিরুপায়-দুঃখ-কাতর দশরথের চিত্র কৃত্তিবাসও অভি মর্মম্পশা ভাবে_ 
বর্ণন! করিয়াছেন। এই নাটকেই সর্বপ্রথম গিরিশচন্দ্র হীশ্যরসাত্মক চরিত্র কঞ্চুকীকে 
আনয়ন করিয়াছেন। জবশ্ট এঁ চরিত্র এখানে অপরিস্ফুট, সে নিতান্তই অবজ্ঞেয় হাঁ্াম্পদ 
ভাড়, নিজের স্কুল অসঙ্গতি দিয়া সে সকলের মনে অনুকম্পসিশ্রিত হাসির উদ্রেক করে। 
'লীতাহরণে'ও (১৮৮২) ঘটনা গুলি ঘটিয়! গিয়াছে মাত্র, নাটকীয় ছন্ব-সংঘর্ষে জমিয়! উঠে নাই। 


১88 ধাংল! নাটকের ইতিহাস 


কৃতিবাঁসী রামায়ণের পাঠক মাত্রই নাটকথানির আগ্স্ত না.পড়িয়াই ধারণা! করিতে পারেন। 
নাটকের য়ধ্যে লক্ষণীয় চরিত্র হইল শূর্পনথার। শুর্পনখার কথাগুলি অত্যন্ত চমকপ্রাদ-- 
নিটোল দুটো ছেড়। গো 
নিটোল ছুটে। ছেশড়। ! 
খালি বিষের গোড়া গে। 
খালি বিষের গোড়া ! 
এই ধরণের ছড়ীর মত কথা তাহার মুখে দিয় নাট্যকার এই চরিত্রটাকে বড়ই সরস 
করিয়৷ তুলিয়াছেন। গিরিশচন্দ্র তাহার পাত্র পাত্রীর ভাষ৷ প্রয়োগ করিবার বিষয়ে অত স্ত" 
সচেতন ও তীক্ষদৃষ্টি ছিলেন। তাহার গ্রৈরিশ ছন্দ কেবল গম্ভীর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্থই 
ব্যবহৃত হইয়াছে; তরল, হাশ্যরসাত্মক ভাবের জন্ হয় গদ্য অথবা সমিল কোনে চপল ছন্দ 
ব্যবহার করিয়াছেন। 
গিরিশচন্দ্র রামায়ণ-কাহিনী লইয়া! যে নাটকগুলি লিখিয়াছিলেন, তাহাতে রাম চরিত্র 
তিনি সম্পূর্ণরূপে কৃত্তিবাসের রামচন্দ্র সদৃশ করিয়া অঙ্কন করিয়াছেন। কৃত্তিবাসের রামের 
সায় হার রামও সত্যসন্ধ, ভক্রবৎসল, ক্ষমা! ও করুণার অবতার? বান্ীকি ও তুলসীদাসের 
রামের স্তায় তিনি কুলিশ-কঠোর, মহাশক্তিধর বীর-পুরুষ নহেন। গিরিশচন্দ্রের সীতাও 
কৃত্তিবাঁসের . সীতার স্ায় নবনীত-কোমলা» লাবণ্য ও কারুণ্যের উমি নিতান্ত বাঙালী ললন|। 
“অভিমন্থ্য বধ, এবং পাওবের অজ্ঞাত বাস+ এই ছুইখাঁন! নাটক গিরিশচন্দ্র মহাভারতের 
মূল কাহিনী অবলম্বন করিয়া! রচনা করিয়াছিলেন। “অভিমন্ত্যু বধ” (১৮৮১) তাহার শ্রেষ্ঠ 
পৌরাণিক নাটক সমূহের অন্যতম । বীররস এবং করুণ রসের এইরূপ একত্রিত পরিস্ফুরণ 
তাঁহার খুব কম ন।টকেই লক্ষ্য কর! গিয়াছে । নাটকের প্রথম ভাগে সুভদ্রা ও উত্তরার 
আশঙ্কা, গণকের অমঙ্গল গণন। প্রভৃতি ভবিষ্যৎ সর্বনাশের কৃষ্ণ ছায়াপাত করিয়। দর্শকের মন 
আগ্রহ ও উদ্বেগে ভারাক্রান্ত করিয়া তুলে । যুদ্ধের পূর্বমহূর্তে' উত্তরার কাতর মিনতি ট্রোজান 
বীর হেক্টরের পত্বী আযাপ্ডো ম।কির করুণ আলাপের সহিত সাদৃশ্ত জাগাইয়। দেয়। অনৃষ্টের 
বিরুদ্ধীচারী,পুক্বকারের প্রত্যক্ষ আধার, সিংহ-শাবকসম সমরে দুর্বার অভিমন্থ্য যখন অন্ঠায় 
সমরে অসহায় ভাবে ভূপতিত হয় তখন দর্শকের ভাবাবেগ সম্বরণ কর! শক্ত হইয়া পড়ে। 
ুদধক্ষেত্রের দৃশ্য খুবই বীররসাত্মক হইয়াছে । বোধ হয় একমাত্র "অভিমন্ত্য-বধ,ই পৌরাণিক 
নাটকগুলির মধ্যে ্র্যাজিক অথব! বিয়োগাস্তক হইয়াছে । শেষ পর্যন্ত ক্রোড় অঙ্ক অথবা 
কোনে। স্বগীয় দৃষ্টের বার! ইহার ট্র্যাজেডি নষ্ট হয় নাই। “পাগ্ডবের অজ্ঞাতবাস+ নাটকে 
কীচক বধ ও কুরু-পাঁওব যুদ্ধ এই দুইটা প্রধান ঘটনা । প্রথম অংশে ভীম মুখ্য চরিত্র, এবং 
দ্বিতীয় অংশে অজ্ভু'ন। ভ্রৌপদীর ক্রোধ ও প্রতিশোধ-ম্পৃহা সমস্ত ঘটনা নিয়ঙজিত ও চরিত্র 
গুলিকে চালিত করিয়াছে । 'দক্ষষজ্ঞ, নাটকে মূল চরিত্র দক্ষ অনমন্তীয় দৃঢ়তা, পরুব কাঠিগ্ভ ও 
স্ুকঠোর সংকল্লে উজ্জল হুইল! উঠিয়াছে। এই নাটকথানার উপর ভারতচন্দ্রের অব্বদার 
ম্জের যথেষ্ট প্রভাব রহিয়াছে । এমন কি কোনো কোনে। পংক্তিতে পর্যস্ত এই প্রভাব স্পষ্ট 


শিরিশচজ্জ ঘোষ ১৪৫ 


হইয়া উঠিয়াছে। “কে-রে, দে-রে সতী দে আমার, ভারতনন্ত্রের প্রসিদ্ধ অংশ “সতী দে 'দে 
দক্ষ দে রেয়তী” ইত্যাদির প্রতিধ্বনি মাত্র। 

* গিরিশচন্দ্রের দ্বিতীয় স্তরের পৌরাণিক নাটকে যে ভক্কি-বন্তা প্রচারিত হইয়াছে 
তাহার আভাস “ফরব-চরিত্রে লক্ষ্য করা যাঁয়। এই নাটকে গিরিশচন্দ্র প্রথমে বিদূষক 
চরিত্র স্থঠ্ি করিয়াছেন বটে, কিন্তু ইহ'র পূর্বেই “রামের বনবাসে” এই ধরণের কঞচুকী চরিত্র 
অঙ্কন করিয়াছিলেন তাহা! আমরা আলোচন! করিয়াছি। "রব চরিত্র+ এবং 'নল-দ্ময়স্তী”র 
বিদূষক সংস্কৃত নাটকের বিদূষকের অঙ্ুরূপ মুর্খ, ওদরিক ও রাজার প্রেম ব্যাপারে সহায়ক। 
কিন্তু 'ভ্রীবংস-চিন্তা”র বাতুল হইতে এই ধরণের চরিত্র পরিবর্তিত হইগ্জা গিয়াছে। বাতুল, 
'অশোঁক” ন।টকের আকাল, 'জনা'র বিদুষক, 'পাগুব গৌরবে?র কঞ্চুকী, চণ্ড, নাটকের 
পূর্ণরাম তাট চরিত্রগুলি গিরিশচন্ত্রের বিশিষ্টতার পরিচয় দেয়। ইহার! ইতর গ্রাম্য ভাষায় 
কথ৷ বলে, বাহত ইহার! মূর্খ ও নিবৌধ বলিয়া প্রতীয়মান হইলেও বস্তুত ইহারা শুক্ম বুদ্ধিশালী 
ও অন্ুভূতি-প্রবণ, এবং ইহাদের তরল হান্ঠোদ্দীপক কথার অন্তরালে স্তৃতীক্ষ ব্যজ-বিদ্রপের 
কাটাগুলি গুপ্ত হইয়। থাকে । এই সব চরিত্রের সহিত শেক্সপীয়রের ০০1 অথবা 
]5501এর সাদৃশ্ঠ আছে ।১ গিরিশচন্দ্রের চরিত্রের আরু একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য এই যে ইহা 
গ্চ্ছ্ন তক্তিভাবে আগাগোড়া অভিষিক্ত হইয়া রহিয়াছে। বাতুলের লঙ্ী- নিন্দা এবং 
জনার বিদূষকের কৃষ্*-বিছেষ ব্যাজস্তরতি বই আর কিছুই নয়। 

£কমলে-কামিনী” চত্রীমঙ্গলের কাহিনী অবলম্বনে রচিত বিশেষত্বহীন নাটক। 
নল-দময়ন্তী (১৮৮৭, এবং *শ্রবৎস-চিস্তার কাহিনীর মধ্যে সাৃশ্ট আছে। প্রথমথা'নিতে 
নল কলির দ্বারা লাঞ্চিত হইয়াছে, এবং দ্বিতীয়ধানিতে শ্রীবংস শনির দ্বার! দুর্দশা গ্রন্ত 
হইয়াছে। দুই নাটকের পরিণতিও একইরূপ মিলনাস্তক হইয়াছে । 

€্রীবৎস-চিন্তা”় গিরিশচন্দরের পৌরাণিক নাটকের যুগ শেষ হয়, এবং তাহার পরে 
তিনি যে নাটকগুলি লিখিয়াছিলেন সেইগুলিকে ঠিক পৌরাণিক নাটক বল! চলে ন| 
কারণ সেই সব নাটকের অধিকাংশ মূল চরিত্রগুলি এ্রতিহাসিক পুরুষ, তবে ভক্তিরসই 
তাহীদের প্রাণ। সেইজন্ত এই নাটকগুলিকে ভক্তিমূলক নাটক বল! সঙ্গত। অবশ্ত এই 
যুগে  প্রভাস-যজ্ঞ+, “জনা” “পাগুব-গোৌরব” প্রভৃতি কয়েকখান! পৌরাণিক নাটক আছে 
বটে, কিন্তু এই সব নাটকের সহিত পূর্ব স্তরের পৌরাণিক নাটকের পার্থক্য আছে। 
পূর্বেকার নাটকগুলিতে নাট্যকার পৌরাণিক কাহিনীকে কোনে। প্রকারে রঞ্জিত কিংবা 
বিশেষ রসে সিক্ত করেন নাই, কিন্ত এই যুগের নাটকের কাহিনী সর্বত্র উচ্ছুসিত ভক্তি 


১) 51)906810687618 :60019, 8101)6 10) ৪801079দ1)98 01 810 ০059:861:811011)8 101 ছা 
10101) 091) 1006 91606661067 09 ৪৮০1060 %11)61) দা6 16০০07069 & 967081869 [97:018981010, 1889 
107 (006 200৪9 197 0 1180017)199191916 101072007, 89100 ৪0 170510108  8190010091)95 ০ 1)691180%, 
90808) 10090 60 5..00]5 ৪ 11016 11096 01 0:01081 193 80678, 
40707760650 47 01৮৫ 1,8660065/6 03 901015691, 0. 319. 


১টি 


১৪৬ বাংল! নাটকের ইতিহাস 
রসে প্লাবিত, নাটকগুলির মধ্যে নাট্যকারের ভক্কিবিহ্বল চিত্তই যেন অভিব্যক্ত হইস্সা 
পড়িয়াছে। রামরুঞ্দেবের আধ্যাত্মিক প্রভাবের ফলেই গিরিশন্দ্রের নাটকের এই রূপান্তর 
, ঘটিয়াছিল, তাহ। পূর্বে বল! হইয়াছে।১ “চৈতন্ত-লীলা, এই প্রভাবের পূর্বে লিখিতহুইলেও 
এইখান হইতেই ভক্তিরসের সুচনা হইয়াছে। 

চৈতন্যদেবের নবন্ধীপ লীল! অবলম্বন করিয়া! “চৈতন্য-লীলাঃ (১৮৮৬) রচিত হইয়াছিল। 
নাঁটকথানি রঙ্গমঞ্চে বিশেষ জনপ্রিয় হইলেও ২ ইহা! স্বীকার করিতে হইবে যে ইহার মধ্যে 
নাটকত্ব খুব কম আছে। চৈতন্যদেবের মানবীয় লীল! বঙ্গের জনসাধারণ চিরকাল মুগ্ধ 
করিয়াছে, কিন্ত নাট্যকার তাহাকে অলৌকিক শক্তির আধার__-ভগবানের অবতাররূপে 
বর্ণনা করিয়। তাহার সম্বন্ধে নাটকীয় কৌতুহল নষ্ট করিয়াছেন । মনে হয় চৈতন্যের বাল্যলীল! 
গিরিশচন্দ্র 'চৈতন্য-ভাগবত” অনুসরণ করিয়। বর্ণন করিয়াছেন । পাপ, কলি, বৈরাগ্য, 
ভক্তি গ্রভৃতির উপর ব্যক্তিত্ব আরোপ করিয়৷ নাট্যকার সম্ভব অসম্ভব সমস্ত সীমার পরপারে 
এক ধ্যানগ্রাহ জগতে আমাদিগকে লইয়া গিয্লাছেন। 'চৈতন্য-লীলা'র দ্বিতীয় ভাগ “নিমাই- 
সম্গ্যাসেঃ সন্ন্যাস গ্রহণের পরবর্তী লীল! প্রদণিত হইয়াছে । হয়তো বিচ্ছেদে নাটকের 
শেষ হয় ভাবিয়৷ নাট্যকার সর্বশেষে বিষ্ুপ্রিয়ার সহিত নিমাই-এর “ভাব-সন্মিলন, 
করাইয়াছেন। “নিমাই-সন্প্যাসে” গুরু তত্বের আলোচন! খুব বেশি, সেইজন্য সাধারণ দর্শক 
সর্বত্র ইহার রস গ্রহণ করিতে পারে না। দরূপ-সনাতন' (১৮৮৮) নাটকে গোস্বামীপ্রবর 
সনাতনের ভক্তিতন্ময়তা ভক্ত বৈষ্ণবের হাদয় দ্রাবিত করে সন্দেহ নাই। 

গিরিশচন্দ্রের দ্বিতীয় স্তরের ধর্মমূলক নাট্যরচনার সময় তিনি ধর্মজীবনের বিচিত্র 
অভিজ্ঞতা লাভ করিতেছিলেন। ধর্াদ্রচিন্তে তিনি নান! দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক তত্ব ও 
চিন্তায় বিভোর থাকিতেন। সেইজন্য এইসব বিষয়ের আলোচন। তিনি নাটক মধ্যে 
সন্নিবেশিত করিয়াছেন। এই রকম আলোচন। “নিমাই-সন্ন্যাস, হইতে আরম্ভ হইয়া 
শঙ্করাচার্যে পরিণতি লাভ ক'রয়াছে। রামরুষ্ণদেবের পুণ্য প্রভাবে তিনি পাপী ও 
পতিতাদের প্রতিও সহামুভূতি-সম্পন্ন হইয়াছিলেন, সেন্দন্য হিরণ্যকশিপু কৃষ্ণদ্বেষী হইয়াও 
ক₹ষ্ণের চরণ রেণু পাইবার অভিলাধী। প্রহনাদের মুখে কৃষ্ণতত্ব ব্যাখ্যাত হইয়াছে; এবং 
£প্রভাঁদ যজ্ঞে” রাধা-কৃষ্ণের লৌকিক নীতিবিগহিত সম্বন্ধ আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যায় মহিমময় করার 
চেষ্টা হইয়াছে। 

গিরিশচন্ত্রের ধর্মসস্বদ্ধে উদারতা ছিল, “যত মত তত পথ, এই মন্ত্রের সাধকের কাছে 
এই উদ্ীরতা তিনি লাভ করিয়াছিলেন । সেই জন্য বৌদ্ধধর্ম, নাথ ধর্ম, দ্বৈতবাদ, অধ্বৈতবাদ 
__ সব কিছু সম্বন্ধে তিনি নাটক রচনা! করিয়াছিলেন । “বুদ্ধদেব-চরিতে' বুদ্ধদেবকে নারায়ণের 
অবতার বলিয়! দেখান সত্বেও সর্বত্র বৌদ্ধধর্মের 921120 বজায় রাখ। হইয়াছে । পা 





(সি 


১। গিরিশচন্দ্র লিখিত খরার প্রসঙ্গ নামক প্রবন্ধ দ্রষ্টবা। 
২। “চৈতস্ক লীলার অভিনগ্ন দর্শনে সমস্ত বজদেশ হরিনামে নাচিন্। উঠিগাছিল।' 
ও “গিরিশচন্ত্'--অবিনাশচন্্র গঙ্গোপাধ্যায়, পৃই২৮৯। 


গিরিশচজ্য ঘোষ ১৪৭, 


॥ বিধমঙগল (১৮৮৮)॥ “বিমল” গিরিশচন্দ্রের ভক্তিমূলক নাটকগুলির মধ্যে বোঁধ 
হয় সর্বাধিক জনসম্বর্ধন। লাভ করিয়াছে বিল্বমঙগল। স্বামী বিবেকানন্দ বলিতেন, “বিব্মঙ্গহা 
9119156579631 এরও উপরে গিয়াছে, আমি একব্নপ উচ্চভাবের গ্রন্থ কখনও পড়ি নাই, 
বিষ্বমঙ্গল” যে একদিন বাঙালী দর্শকের চিত্রে এতথাঁনি অধিকার বিস্তার করিয়াছিল, ইহার 
কারণ কি 1 নিশ্চয়ই নাটকখানির নাট্যোতকর্ষ নহে, কারণ 'বিবমঙ্গলে' নাট্যগুণের অভাব না 
থাকিলেও কোন অসাধারণ নাট্যনৈপুণ্য ইহাতে পরিস্ফুট হয় নাই । ইহার জনপ্রিয়তার কারণ 
সন্ধান করিতে £ইবে দর্শকদের মানস প্ররুতি ও যুগান্থগত প্রবণতার মধ্যে। ধর্মপ্রাণ বাঙালী 
ধর্মসাধনায় জ্ঞান-নিম্বকল অপেক্ষা! প্রেমীমরমুকুল খাইতেই অনেক অধিক আসক্তি দেখাইয়াছে। 
এই প্রেমামমুকুলের আস্বাদন! রহিয়াছে বিহ্বল নাটকে । সেইজন্য এই নাটক প্রেমাপ্নুত ভক্ত 
বাঙালী-হদয়ে এতখানি উন্মাদনার সঞ্চার করিয়াছে । আর একটি কথা মনে রাখিতে হইবে। 
রাঁমকৃষ্*-বিবেকানন্দের অলৌকিক আকর্ষণে সমা্জ-মন যখন উধে্র্ব আকৃষ্ট হইয়াছে তখন 
মাচষের সংসার-লীল। অপেক্ষা বৈরাগ্য-লীলাই যে তাহার কাছে অধিকতর সত্য ও জীবস্ত 
মনে হইবে তাহা খুবই শ্বাভাবিক। যেদিন হইতে সমাঁজ-মন পুনরায় বস্তমুখী হইয়াছে সেইদিন 
হইতেই “বিদ্বমঙ্গলে'র লমাদর কমিয়াছে। 

গিরিশচন্দ্রের ভক্তিমূলক নাটকগুলিতে নাট্যকারের ব্যক্তিসত্তা কখনও নিরপেক্ষ 
দুরত্ব বজায় রাখিতে পারে নাই। তাহার গভীরতর মর্ম হইতে অনুভূতির অবিরত আবেগ- 
ধারাই নাটকীয় ঘটনা ও চরিত্রকে অবলম্বন করিয়। প্রকাশিত হইত; স্থৃতরাং এই সব নাটক 
নাট্যকারের বিচিত্র অভিজ্ঞতাময় ধর্মজীবনের আলেখ্য হইয়৷ উঠিয়াছে। “বিন্বমঙ্গলে'র কাহিনী 
তিনি “ভক্তমাল” হইতে লইয়াছিলেন সত্য কিন্ত ইহা কি তাহারই আত্মকাহিনী নহে? 
নাট্যকার বিহ্বমঙ্গলের মতই ভোগাসক্ত ছিলেন, বিন্বমজলেব মতই তিনি পথের সন্ধানে 
ব্যাকুল হইয়৷ পড়িয়াছিলেন। গিরিশচন্দ্র উহার মানসিক ব্যাকুলতা নিজের মুখেই ব্যক্ত 
করিয়াছেন, “বন্ধু-বান্ধবহীন চারিদিকে বিপজ্জাল, দৃঢ়পণ শক্র সর্বনীশের চেষ্টা করিতেছে 
এবং আমারই কার্য তাহাদের সম্পূর্ণ সুযোগ প্রদান করিয়াছে । উপায়ান্তর না দেখিয়া 
ভাবিলাম, ঈশ্বর কি আছেন; ৩াহাকে ডাকিলে কি উপায় হয়। মনে মনে প্রার্থনা 
করিলাম যে; হে ঈশ্বর, যদি থাক এ অকৃলে কুল দীও ।' বিন্বমগলের মতই তিনি অবশেষে 
সদ্গুরুর কৃপায় পরম শাস্তি লাভ করিয়াছিলেন। ভগবানের অহেতুকী কপার ফলে লম্পট ও 
পতিতীও ত্রাণ পাইয়া যায়, ইহাই গিরিশচন্দ্রের জীবনের অনুভূত বাস্তব সত্য। সেই 
সত্যই তো তিনি প্রকাশ করিয়াছেন বিশ্বঙ্গল ও চিন্তামণি চরিত্রে । পাগলিনী চরিত্র ষে 
পরমহংসদেবের লীলাকীর্তন করিয়া লিখিত, তাহাও অতি স্পষ্ট । শ্রীযুক্ত হেমেজনাথ দাসগুপ্ত 
“গিরিশ-প্রতিভা”য় লিখিয়াছেন যে, “এক পাগলী প্রায়ই রামকষ্তদেবের কাঞ্থে আসমিত, 
রামরুফদেবের অন্তরঙ্গ ভক্তদের ভিতর কেহ কেহ অনুমান করেন যে এই পাগলীই বিষদদলের 
পাগলিনীতে পরিস্ফুট হইয়াছে।, 

পরমহংসদ্দেবের আদর্শ এখানে স্ত্রী-চরিত্রে কল্পিত হইয়াছে তাহা অস্বাভাবিক হয় 


১৪৮ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


নাই; কারণ তাহার মধ্যে পুরুষ ও প্ররুতি-ভাবের সমান বিকাশ হইয়াছিল। বিষমঙ্গলের 
মধ্যে যে বৈষব-ধর্ম-সাধনা মুখ্যবস্ত হইয়। উঠিয়াছে তাঁহার সহিত গিরিশচন্দ্রের কতখানি 
অন্তরের যোগ ছিল সে প্রশ্ন আমাঁদের মনে আসা স্বাভাবিক । ধর্মবিশ্বাস গিরিশচন্দ্র বৈষ্ণব 
ছিলেন কি শান্ত ছিলেন সে বিচার নিরর্থক; কারণ আর পাঁচজন বর্তমান বাঙালীর স্ায় 
তিনি শাক্ত ছিলেন আবার বৈষবও ছিলেন। তবে বৈবধর্মের প্রেমাপ্রুত ভক্তি-বন্ঠার 
প্রতি তাঁহার একটি স্বাভাবিক আকর্ষণ ছিল। তাহার অধিকাংশ নাটকই এই সিদ্ধান্ত 
প্রমীণ করে ; 'চৈতন্ত-লীলা, “জনা+, 'পাগ্ডব গৌরব প্রভৃতি নাটক দৃষ্টাস্ত্বর্ূপ উল্লেখ করা 
যাইতে পারে। 

£বিবমঙগলে”র ধর্মতত্বই মুখ্য । কিন্ত সেই ধর্মতত্বের স্বরূপ কিসে আলোচনা এখন 
করা আবশ্তক। নাঁটকথানি প্রেম ও বৈরাগ্যমূলক নাটকরূপে কথিত হইয়াছে, এই প্রেম ও 
বৈরাগ্য কথ! ছুইটির মধ্যে নাটকের উদ্দেস্ঠ স্পষ্ট হইয়! উঠিয়াছে। সংসার- বৈরাগ্যের মহিম! 
ইহাতে দেখান হইয়াছে বটে, কিন্ত তাহাই ইহার প্রধান বৈশিষ্ট্য নহে, কারণ লাধারণত 
সংসারের বাহিরেই ধর্মপথের আরম্ভ । আসলে আলোচ্য নাটকের মূল ভাব-বস্ত গড়িয়া 
উঠিয়াছে প্রেমতত্বটিকে অবলম্বন করিয়া । ধর্মসাঁধনাঁর মধ্যে প্রেমতত্বের অবতারণা আমাদের 
কাছে নৃতন নহে। মহাপ্রতুর রাগানুগা ভক্তি বাঙালীর মানসক্ষেত্রে এক নবায়িত ভক্তির 
আলোকপাত করিয়াছে; সেই আলোকে ভগবানের প্রেম- মাধুর্যমণ্ডিত রূপ চিরকালের জন্য 
প্রতিষ্িত হইয়া আছে। সেই প্রেমময় ভগবান শ্রীকুষ্ই “বিদ্বমঙ্গল' নাটকের আরাধ্য 
দেরত। । বিহৃমঙ্গল, চিন্তামণি, বণিক, অহল্যা, পাগলিনী সকলের কাঠেই ভগবানের এই 
প্রেমরূপই একান্ত আকাজ্ষিত। বিহ্বমঙ্গল সথারূপে, অহল্যা মাতৃরূপে ও পাগলিনী 
্রণস্মিনীরূপে শ্রীরুষ্ণকে আকাজ্ষা করিয়া সখা, বাৎসল্য ও মাধূরধ্য রাগের পথ প্রদর্শন 
করিয়াছেন। অবশ্ঠ পাগলিনীর মধ্যে শুধু কেবল রাগ নহে তত্বেরও সমাবেশ হইয়াছে । 
শ্ারামকঞ্ণদেবের লীলার সহিত যাহাদের পরিচয় রহিয়াছে তাহার! সহজেই পাগলিনীর 
আপাত-অসংলগ্র উক্তির রহমত ভেদ করিয়! প্রকৃত মর্মে পৌছিতে পারিবে; কিন্তু তত্বের 
জন্ত নহে, চরিত্রটির আর্তি ও অভিমাঁন-জড়িত লীলাময় ভাবের জন্যই ইহা এত আকর্ষণীয় 
হুইয়! উঠিয়াছে। সোমগিরি বিবমঙ্গলের গুরু হইয়াও কৃষ্ণকে সহঞ্ষে পাঁন নাই অথচ 
বিষবমঙ্গল অতি অল্পকালের মধ্যেই কৃষ্ণের অহেতুকী কৃপা লাভ করিলেন, ইহার কারণ 
ফি? ইহার কারণ, অধ্যাত্মরাজ্যের তত্ব জানের দ্বারা তিনি আয়ত্ত করিয়াছেন বটে, কিন্তুযে 
অবারিত প্রেমের মন্দাকিনী বৈকুণ্ঠ অভিমুখে চলিয়াছে তাহার পরিপূর্ণ সন্ধান তিনি পান 
নাই, সেই সন্ধান পাইয়াছেন বিহ্মঙ্গল। সেইজন্য কৃষ্ণের সঙ্গিধানে পৌছিতে তাহার 
বিলম্ব হয় নাই। নু 

কিন্তু গুধু প্রেমের আধ্যাত্মিক রূপ নহে, ইহাঁর বাস্তব মানবিক রূপও 'বিবমণ্ডল” নাটকে 
দেখান হইয়াছে । সেজন্যই এই প্রেমতত্ব এত জটিল ও তাৎপর্যপূর্ণ । চিস্তামণির প্রতি 
ধিবম্গলের যে প্রেম তাহ। গভীরতম পাধিব প্রেমের দৃষ্টান্ত । বিষ্ম্গল বৈরাগ্য অবলম্বন 


গিরিশচজ্জ ঘোষ ১৪৯ 


করিরাও সেই প্রেম অন্তর হইতে বিসর্জন দেন নাই, অবশ্ঠ পার্ধিব প্রেম তখন অপাধিব 
জগতের সন্ধান পাইয়াছে, আত্ন্দ্রিয় শ্রীতি-ইচ্ছা কৃষ্ণেন্্রয় গ্রীতি-ইচ্ছায় রূপান্তরিত 
হইয়াছে । প্রেমের এই ক্রমবিকশিত ব্ধপ- মাঁনব-প্রেমের ভাগবত প্রেমে মুক্তি, ইহাই 
নাটকের প্রেমতত্বটির প্রকৃত পরিচয় । 

নাটকের মুল তত্ববস্তটি নায়ক বিষমঙ্গলের চরিত্রকে আশ্রয় করিয়া! পরিস্ফুট হইয়াছে 
এষং তাহীরই পরিপূরক পটভূমি রচিত হইয়াছে অন্ত চরিত্রগুলির ভাব ও আচরণের দ্বার! । 
বিশ্লেষণের দ্বার! বুঝা যাঁক। প্রথমেই চিস্তামগির প্রতি বিন্বমঙ্গলের আসক্তি । এই আসক্তি 
এত তীব্র যে তাহার ধর্মীধ্ম, মীন-মর্যাদা সব ইহাতে লুপ্ত হইয়া গিয়াছে । দুর্বার মোহের 
আকর্ষণে যথন সে প্রবল ছুর্ধোগ অগ্রাহহ করিয়া নদীতে ঝাপ দিতে উছ্ভত তখন পাগলিনী 
তাহার চৈতন্য জাগ্রত করিতে চাহিলেন। কিন্তু বিহ্বমঙ্গলের হৃদয়-মন জুড়িয়। চিন্তামণির 
রূপের দীপ্তি-জালা, পাগলিনী তাঁহাকে ফিরাইতে পাঁরিলেন না। কিন্তু যাহার জন্ত এই 
ছুর্মিবার মোহ তাহার কাছেই আঘাত খাইয়। ইহা বেদনা ও বৈরাগ্যে মর্্রিয়া উহিল। 
চিন্তামণির তিরস্ক্যুর ও গলিত শবের দৃশ্ দেখিয়া পাঁধিব প্রেমের প্রতি বিহমঙ্গলের নির্বেদ 
জগ্মিল। কিন্ত প্রেমের লক্ষ্য পরিবণ্তিত হইল বটে, তবে প্রেম রহিয়া গেল। ষে গ্রেম 
আগে এক নারীকে বিমুগ্ধ বিহবল ভাবে বলিয়াছিল “তুমি অতি স্থন্দর+, তাহাই এখন 
বিশ্বরূপ ভগবানের সন্ধানে উন্মাদ? “কে তুমি, তোমার কি রূপ, অবশ্ঠই তুমি পরম সুন্দর! | 
প্রেমপাগল বিবমঙ্গল গুরুর কাছে পথের সন্ধান জানিতে চাহিলেন, কিন্তু গুরু বুঝিলেন 
পথের আলোক রহিয়াছে শিল্তেরই অন্তরের মধ্যে, তাই সেই আলোক তিনি তাঁহাকে জালিয়া 
র|খিতে বলিলেন। বিব্বমঙ্গলের সাধন! সুরু হইল বটে, কিন্তু তখনও পূর্ব সংস্কার প্রবল। 
তখনও তাহার উদ্বেলিত অনুরাগ ইন্জ্রিয় ও অতীন্জ্রিয় জগতের মধ্যে দৌছুল্যমান। অহল্যার 
অনিন্দিত রূপ দেখিয়! ইন্দ্রিয়ের আকর্ষণ প্রবল হইয়! উঠিল । বিন্বমঙ্গলের ছন্দ এখন নয়ন 
ও মনের ভিতরে । মনের আশ! বিশ্বরূপের দিকে, কিন্তু নয়নের নেশা এখনও নারীর রূপের 
গ্রতি । এই নয়নই তাহার সর্বাপেক্ষা বড় শক্র, তাই এই নয়ন যখন গেল তখন-_ 

বাঁসন। মলিন আখি কলঙ্ক ছাঁয়। ফেলিবে না তায় 
আধার হৃদয় নীল উৎপল চিরদিন রবে পায় । 

এই আখিহীন দৃষ্টি দিয়াই তিনি পরম সুন্দর বংশীধারী বনমালীকে দেখিতে পাইলেন। 
তাছার এতদিনকার সৌন্দর্য-তৃষ্ণা৷ চরিতার্থ হইল। 

বিনবমঙ্গল ভক্তিসাধক চরিত্র হইলেও তাহার মানসিক ভাবাবেগের দ্বান্বিক বিকাশ 
দেখান হইয়াছে, তাহার ফলে এই ভক্তিতত্বমূলক নাটকের মাধ্য নাটকীয় রসের কোন অভাব 
ঘটে নাই। বস্তত'নাটকটির মধ্যে একদিকে অধ্যাত্বরাজ্যের আকুতি, অন্যদিকে বাস্তব 
মমাজের আলেখ্য। বেশ্টাসক্ত ব্রাহ্মণ, ব্রাঙ্গণমুগ্ধ বেশ্টা. শ্বশানচারিণী পাগলিনী, ভিক্ষুক 
চোঁর, কপট সাধু প্রভৃতি চরিত্র নাটকের মধ্যে যথেষ্ট বিচিত্র রদ আনিয়াছে সন্দেহ নাই। 
“একদিকে ভক্কিভাব ও গিরিশচন্দ্রের ভক্তিভাবনা উধর্ব আধ্যাত্মিক গগনে বিহার করিয়াছে, 


১৫০ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


অপরদিকে সমাজদ্রষ্টাী গিরিশচন্দ্ের দৃষ্টি সমাজের কুটিল জীবন পথে সঞ্চরণ করিয়াছে 
এই ছুই ব্যবহিত জগতের একত্রিত সমাবেশের ফলে নাটকটি এত সজীবতা৷ ও সরসতা লাভ 
করিয়াছে। নাটকের সংলাপেও রহিয়াছে একদিকে গৈরিশী ছন্দের দূরাঘ্থত গতি আবার 
অন্যদিকে কথ্য ভাষার বাস্তব ইতরতা। অবশ্য নাটকের পরিণতি অলৌকিক দেবলীলায়। 
পঞ্চম অঙ্কে এই লীলার আকর্ষণে চরিত্রগুলির সামাজিক মানবত্ব একেবারেই লুপ্ত হইয়! 
গিয়াছে । কিন্তু “বিহ্বমঙ্গলে' সামাজিক মানবের চিত্ব-সংঘাতে আধ্যাত্মচেতনার উত্তব 
হইয়াছে এবং সেইজন্তই নাঁটক হিসাবে ইহা! নিকৃষ্ট হইয়া! যাঁয় নাই। 

বিবমঙ্গলের হ্টার “করমেতিবাই”ও (১৮৯৫) কৃষ্তভক্তি-রসাশ্রিত নাটক। টি 
মীরাবাইএর মত কৃষ্ণপ্রেমে উন্মাদিনী ও তন্সয়িনী হইয়া সংসার ও সমাজকে ভূলিয়াছে। 
নাটকের মধ্যে মানুষ ও দেবতার ভেদাভেদ নিশ্চিহ্ন হইয়| গিয়াছে । | 

পূর্ণচন্দ্র/, “নসীরাম” “বিষাঁদ' ও “কালাপাহীড়_ এই কয়খানা নাটক ভক্কিমূলক 
হইলেও ইহাদের বিষয়বস্ত এ্তিহাসিক পটভূমিকার উপর সমাবেশিত হইয়াছে। স্থতরাং 
তক্তিরস থাকিলেও উহাদের কাহিনীর শ্বতগ্্ চমৎকারিত্ব এবং ক্রমবিকাশ »বিশেষ কৌতু- 
হলে।দ্বীপক হইয়াছে । ভাবতন্ময়ত এবং ভক্তিবিহবলত! না থাকিলে এই নাঁটকগুলি খশটি 
নাটকের মর্যাদা-সম্পন্ন হইত, কারণ ইহাদের প্রত্যেকখাঁনির বিষয় যথেষ্ট নাটকীয়ভাবাত্মক 
এই নাটকগুলির কাহিনী এবং চরিত্রের মধ্যেও সাদৃশ্ঠ রহিয়াছে। নাটকগুলির মধ্যে যে 
প্রেমের'বিষয় বধিত রহিয়াছে তাহা অসুস্থ ও বিকৃত; প্রত্যেক নাটকেই একটি বেশ্টাচরিত্র 
রহিয়াছে । সুন্দর, সরস্বতী, বিরজ! প্রভৃতি স্ত্রী চরিত্রগুলি স্বাতন্ত্যশালিনী এবং বৃদ্ধি ও 
চাতুর্যবততী। গোঁরক্ষনাথ, চিস্তামণি, নসীরা'ম ইত্যাদি একজন কেন্দ্রীয় মহাপুরুষের চরিত্র 
প্রত্যেক নাটকে বিগ্থমান আছে। 

উপরি উক্ত নাঁটকগুলির মধ্যে “পূর্ণচন্্রঁ (১৮৮৮) শ্রেষ্ঠ । ধর্মমূলক হইলেও নাটকীঃ 
ধাত্তপ্রতিঘাতের স্থতীব্র আলোড়নে কাহিনীটি বিশেষ চিত্রচাঞ্চল্যকারী হইয়া উটিয়াছে? 
পুত্রের কাছে কামান্ধ বিমাতাঁর অতি নগ্ন প্রেম নিবেদন, এবং ঈর্ধাহত' পিতার হৃদয়বিপ্নবের 
দৃশ্টের স্তাঁয় হৃদস্পন্দনরহিতকারী বাস্তব দৃশ্ঠ গিরিশচন্ত্রের খুব কম নাটকেই আছে। শেষের ' 
দিকে ধর্মাচ্ছন্ন হইয়া নাটকটা দুর্বল হইয়া পড়িয়াছে। 

গিরিশচন্দ্রের নাটকের যে লক্ষণগুলি খুবই সাধারণ, যথা-_বেশ্টাসক্তি, বিষপ্রয়োগ, 
হত্যা, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি- সে সব “বিষাঁদঃ নাটকে (১৮৮৯) থাক| সতেও ইহ উচু দরের নাটক 
নয়। সরম্বতীর বহুদিনকার ছম্মবেশের পরে রাজার সহিত তাহার মিলনের মুহূর্তে হঠাৎ তাহার 
প্রাণ বিসর্জনের দৃশ্ত অসঙ্গত হইয়াছে । মনে হয় কমেডির দ্রিকে যে নাটকের স্বাভাবিক 
ঝেণক ছিল তাহাকে জোর করিয়া যেন ট্র্যাজেডির দিকে ফিরাইয়! দেওয়া হইয়াছে। 'বিষার্দে 
ভক্কিরসের সুত্র খুবই ক্ষীণ। বয়স্য মাধবের চরিত্রও অভিনব, নিজের মৃত্যুতেও সে তাহার 
ভূলের প্রায়শ্চিত্ত করিয়াছে । 'নসীরামে”র (১৮৯৬) কাহিনীর চমৎকারিত্ব থাক সবেও 
আধ্যাত্মিক ভক্তিরসে ইহার নাটকত্ব বার্থ হইয়। গিয়াছে। নসীরামের নামে নাটকের নামকরু 


গিরিশচজ ঘোষ ১৫১ 
ইইলেও ইহা! অসংকৌচে বলা যায় যে তাহীর চরিক্র পার্বপ্রাধান্ লাভ করিতে পারে মাত্র, 
মূল কাহিনীর সহিত তাহার অবিচ্ছেদ্য যৌগ নাই। তিনি নাটকের চরিত্রগুলিকে ধর্মাভিমুখ। 
করিয়াছেন? বাম্তব্জীবনের সীমাক্ষেত্রে দাড়াইয়! তিনি অবাস্তব রাজ্যের মোহন প্রাণমাতানে! 
সঙ্গীত গুনাইয়াছেন বটে, কিন্ত পশ্চাদর্তী ধুলিমলিন বাস্তব রাঁজ্যের পথচলার ইঙ্গিত তিনি 
দিতে পারেন নাই। অধিকাংশ ধর্মমূলক নাটকের স্তায় এই নাটকেরও শেষ হইয়াছে 
অলৌকিক দৃশ্টে। 

“কালাপাহীড়' (১৮৯৬) নাটকের মধ্যে যদিও ক্ষীণ ্রতিহাসিক ত্র রহিয়াছে, কিন্তু তবুও 
ধ্মতত্বের পীড়াদায়ক আলোচনা. এবং ভক্তিনিঝ'রের উচ্ছুসিত প্রবাহে সেই প্রতিহাসিকতা 
ভাপিয়া, গিয়াছে । নাটকথানির মধ্যে ঘটনার একা, চরিত্রের বিকাশ কিছুই নাই, অসঙ্গতি 
এবং অসংলগ্নত! দোষে ইহ নিতান্ত বৈচিত্র্যহীন এবং ক্লাস্তিজনক হইয়াছে। 

”. ॥ জনা (১৮৯৪) ॥ “জনা' এবং পাগুব-গৌরব” গিরিশচন্দ্রের পৌরাণিক নাটকের শ্রেষ্ঠ 
নিদর্শন ।'জশা'র বিষয়বস্তর মূল কাশীরাম দাসের মহাভারতে থাকিলেও নাট্য কাঁর খুব সম্ভবত 
মাইকেল মধুহ্দনের 'নীলধ্বজের প্রতি জন1' কবিতার দ্বার প্রভাবাদ্িত হইয়াছিলেন। জ্ন! 
চরিত্রেরগৌরণময় মাতৃত্ব, স্বদেশহিতৈষণা, তেজন্থিতা এবং সর্বোপরি তাহার জীবনের করুণ 
ট্র্যাজেডি মধুক্ুদন তাহার সংক্ষিপ্ত কবিতায় স্ুঅঙ্কন করিয়া! গিয়াছেন। মধুস্দনের সংহত এবং 
সংক্ষপ্ত চরিত্র গিরিশচন্দ্রে নাটকে বিস্কৃত। এবং বিশ্লেধিত হইয়.ছে। ('জনা'র প্রথম অঙ্কের 
প্রথম গর্তাঙ্ক নাটকের প্রস্তাবন। বলা যাইতে পারে, কারণ এই দৃষ্থে নাটক্রে বগিতবয, 
বিষয়ের ইন্জিত দেওয়া হইয়াছে। প্রবীর এবং তাহার তেজন্থিনী মাতার প্রবল প্রাণ্ডব- 
বিরোধিতা ও অনমনীয় দৃঢ়তার সহিত মদনমঞ্জরী ও নীলধবগ্ের যুদ্ধবিমুখতা এবং পাঁগুব 
প্রীতির চমৎকার সংঘাত নাট্যকার স্থট্টি করিয়াছেন। বস্তত প্রবীরের আকম্মিক চিত্ব- 
চাঞ্চল্যের পূর্বে নাটকের মধ্যে কোনো! ত্রুটি লক্ষ্য করা যায় না। ছূর্বার এবং দুর্ধর্ষ বীর 
প্রবীরের বিরুদ্ধে যখন দেবচক্রান্ত স্থরু হইল তখন হইতে নাটকীয় প্রবাহ মন্দীভূত হইয়া 
পড়িয়াছে। ছলচাতুরীর মধ্য দিয়া প্রবীরের বলবীর্য হুরণের ব্যাপার নাটকের ভাবগভীর ঠা 
এবং বিষাঁদময়তা নষ্ট করিয়াছে । গ্রবীরের মৃত্যু যেমন অর্জুন ও কৃষ্ণের কোন বীরত্ব এবং 
গৌরব প্রকাশ করে না, তেমনি আমাদের মনের মধ্যে কোনে! বিস্ময়মিজিত ভয় এবং 
সহাচ্তৃতিরও উদ্রেক করে না। এক কথায় বলিতে গ্রেলে প্রবীরের মৃত্যুকে ট্রাজেডি বলিতে 
পারি না। প্ররুত ট্রাজিক হইয়াছে জনার চরিত্র। জনা আদর্শ বীরাঙ্গনা এবং বীরমাতা, 
তিনি নিজের সন্তানকে যুহা্ষেরে নিশ্চিত বিপদের মধ্যে যাইতে অহ্মতি দিয়াছেন, শ্যা 
এবং সেনাপতি, মী তির লি তা রকিব আর খাসা চে করিয়াছেন 
এবং পুত্রহা রিগুদের উপর _ প্রতিহিংসা চরিতার্থ করিবার জন্ত যথাশক্তি চেষ্টা করিয়াছেন। 
নাটকের ম্‌ ধ্য প্রত্যেক চরিত্রই লীলাময় শ্রীুষ্ণের লীলারসে আচ্ছন্ন হইয়া! আছেন। এই 
সর্বব্যাপী ভক্তি- -বিমুড়তার বিরুদ্ধে তাহার একেশ্বর সংগ্রাম আমাদের চিত্তকে আবেগ- 
রুম্পদান করিয়া রাথে। পুত্রহারা, হতসর্ব্ব৷ গ্রতিহিংসাময়ী নার ক্রুদ্ধ হদয়আাল। নাটকের 


১৫২ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


মধ্যে একটা দমক! হাওয়ার স্তায় সকলকে ভীত, ত্রস্ত করিয়৷ ভ্রুত অগ্রসর হইয়াছে । সর্বশেষে 
নিরুপায়, নিরবলম্ধ জনা তাহার সংকল্প সিদ্ধ করিতে অসমর্থ হইয়া যখন জাহুবী-বক্ষে ঝ"প 
দিয় নিজের হতাশ, জলমাঁন চিত্বকে শান্ত করিয়াছেন তখন নাটকের চরমোংকষ্ট ট্র্যাজেডি 
হইয়াছে 7 কিন্ত গিরিশচন্দ্র পৌরাণিক নাটকের পরিণতি কখনো বিয়োগাস্ত করিতে চাঁন 
নার্ী।-/৫সই জন্ত এই নাটকেও একটা ক্রোড় অঙ্ক সংযৌজিত করিয়া নাটকের বিষাদখন 
গম্তীরভাব ভক্তির তরল ধারায় ভাসাইয়া দিয়াছিলেন। কোনো কোনো সমালোচক 
বলিয়াছেন যে, এইরূপ ভক্কিমিশ্রিত শান্তরসের উদ্দীপনাই এই নাটকের অনিবার্ধ 
পরিণাম হওয়া উচিত।১ কিন্তু ইহা কেহই অস্বীকার করিতে পারিবেন না যে জন! নাটকের 
চমৎকারিত্বের মূলে মানবীয় সংঘাত ও ভাবদন্্, ভক্তিরস কিংবা! দেবলীলা নয়। যাত্রীয় হয়ত 
এইরূপ পরিণতি আকাজ্ছিত হইতে পারে, কিন্তু নাটকে ইহা সম্পূর্ণ রসাভাসের সৃষ্টি করে। 
॥ পাঁগুব গৌরব (১৯০০) ॥ “পাওডব-গৌরবে'র কাহিনীর উৎপত্তি যদিও দণ্তভী এবং উর্বশীকে 
লইয়া হইয়াছে, কিন্ত গপ্ররুতপক্ষে প্রধান চরিত্র হইতেছে ভীমসেন এবং স্ৃভদ্রা ৷ কৃষের প্রতি 
অবিচল ভক্তি থাক! সত্বেও শরণাগতকে রক্ষা করিবার স্থদৃ় সংকল্প এবং এঁকাস্তিক আয়োজন 
ইহাদের চরিত্রকে রিশেষ মহিমাশ্থিত করিয়া তুলিয়াছে। নাটকের মধ্যে দুই পক্ষের যে বিরাট 
আয়োজন এবং অষ্টবজ্জ সম্মেলনের যে পৌনঃপুনিক আভাস দেওয়া হইয়াছে, তাহাতে খুব 
একট। ভয়ঙ্কর ব্যাপারের জন্য আমাদের মন প্রস্তত হইতে থাকে, কিন্ত শেষ পর্যস্ত অতি লঘু 
পরিণতিতে নাটকের উপসংহার হইয়াছে । মনে হয় এতোক্ষণ পর্যন্ত পুগ্তীভূত মেঘের যে গুড়, 
গুড়, ধ্বনি আমাদের মনকে আতংকিত করিতেছিল, এক মুহূর্তের ফুৎকারে যেন তাহা 
উড়াইয়। দেওয়! হইয়াছে । 
গিরিশচন্দ্র এতোদিন পর্যস্ত ভক্তিরসা্রিত নাটক লিখিঙ্জাছেন, কিন্তু শঙ্করাঁচার্য' (১৯১০) 
নাটকে তিনি অদ্বৈতবাদ সম্বন্ধে আলোচন! করিয়াছেন। নাট্যকার নিজে বলিয়াছেন যে 
স্বামীজীর আদর্শে তিনি শঙ্করাচার্ষের চিত্র অংকন করিয়াছেন । নাটকখানি আগাগোড়া 
দুরূহ তত্ব-আলোচনায় পরিপূর্ণ । নাট্যকার হয়তো কোনো ভাবাম্প্রাণনাঁয় নাটক 
লিখিয়াছেন, কিন্ত সাধারণ দর্শকদের পক্ষে খুব সুক্ষ ধর্ননৈতিক অস্তর্ধন্ব বুঝা কষ্টকর।৩ 
১। গ্রাধুকু অমরেকন্ত্র নাথ রায় “গিরিশ নাট্য সাহিত্যের বৈশিষ্ট্যে, বলিয়াছেন, 'গিরিশের এ সব নাটকের 
অন্তিমে দি পোক-ছুংগের দীর্ঘ শ্বাস দ্বার। “চমৎকার উৎপাদনের চেষ্টা প্রকাশ পাইত, তবে তাহা! আযান 
ধারার অনিবাধ্য পরিণাম হইত না; কারণ এসব আখ্যান ধারার মূল কথা--তক্তি সাধনের সার্থকত। | পৃঃ ৪৩। 
২। গিরিশবাবু ্ীযুক্ত কুমুদ বন্ধু সেনকে বলিয়াছিলেন-দেখ শঙ্করাচাধ্য নাটকে বা দেখানো হয়েছে, 
ত।ঠিক হয়েছে । আমি £118]1790100এ লিখেছি । ঠীকুর বলতেন নব শিয়ালের এক রা? প্রত্ে্ষ 
মহাপুরুষ এক সত্যের গ্রচার ক'রে থ।কেন। ত.ব শ্বামিজীকে দেখে আমি শঙ্করের ছবি উপলব্ধি করেছি: ।' 
. 'গিরিশচন্্র ও নাট্য স।হিত্য'--পৃঃ ১**। 
৩। গিরিশবাবু কুমুদ্রবাবুকে বলিয়া।ছলেন-_'এই যে ভিতরের দ্বন্দ 1006808]1 07970068600 8০610171- 


হ1 সাঁমান্ত গুল ভাবে খাইরে প্রকাশ পায়, সেই 17066778] ৪০61908 এঁকে দেখানোই 1১0৪6 13661875 ৪৮. 
নু এ, পৃঃ জজ ॥ 


শিরিশচজ্জ ঘোঁষ ১৫৩ 
যাহ! দৃশ্ঠমান, শ্থুল বহিরিন্দরিযগ্রাহ তাহাই নাটকের বিষয়বস্ত হইতে পারে । উপন্তাসে কিংবা 
কবিতায় চিন্তা এবং কর্পন! দ্বারা আমর! অনেক কিছু বিশ্বীস করিতে পারি, বুঝিতে পারি, 
কিন্ত নাটকের ভ্রত-ধাবমান ঘটনা পুগ্র দর্শন করিবার সময় সেই চিস্ত। এবং কল্পনার অবসর 
নাই। বাহ্‌ ক্রি এবং ঘটন। ন। থাকিলে দৃশ্যকাব্য কথনে। জমিতে পারে না। 


(গ) সামাজিক নাটক 

.  কলিকাতার মধ্যবিত্ত বাঙালী ঘরের কাহিনী লইয়া গিরিশচন্দ্রের সামাজিক 
নাটকগুলি রচিত হইয়াছে । সাধারণত এই সমস্ত ঘরের নিরুপদ্রব এবং গতানুগতিক জীবন- 
ধারার মধ্যে নাটকীয় উপাদান খুব কমই বিদ্যমান । সেইজন্য গিরিশচন্দ্র সাধারণ এবং স্বাভাবিক 
জীবনের যতরকম ব্যাঘাত এবং বিকৃতি ঘটিতে পারে সব নাটকের মধ্যে স্থান দিয়াছেন। 
এই কারণেই তাহার নাটকে জাল, জুয়াচুরি, প্রতারণা, হত্যা প্রভৃতির এতো! বাড়াবাড়ি । 
বাঙালী ঘরের বধূ সহনীল৷ এবং পতিপরায়ণা, সেইজন্য এই পবিত্র দাম্পত্য-জীবনের পাশে 
সর্বত্র বেশ্যা! জীবনের কদর্যতা দেখাঁইয়। তিনি ঘটন! বৈপরীত্য স্থষ্টি করিয়াছেন। বস্ততাস্ত্রিক 
সামাজিক নাটকে মোটা মোট! পাপের এত বাড়াবাড়ি কখনো স্বাভাবিক নহে। ডিটেক্টি 
উপন্যাস এবং নিয়স্তরের সাহিতো! যে রকম লোমহর্ষণ উত্তেজক ঘটনাবলীর মধ্য দিয়া সন্তায় 
বাজি মাৎ করিবার চেষ্টা থাকে, গিরিশচন্ত্রের নাটকেরও সেইদিকে প্রবণতা লক্ষ্য করা! যায়। 
ইহা ধারণ কর! কষ্টকর নহে যে গিরিশচন্দ্র তাহার্‌ নাট্যগুরু শেকদ্পীরারের নাটকে সর্বপ্রকার 
পাপের প্রাচুর্য দেখিয়। নিজেও সেই সব দেখাইয়াছেন। কিন্ত গ্রতিহাসিক নাটকের পাত্রপাত্রী 
অসাধারণ, সেখানকার পটভূমিক! বিস্তৃত। স্ত্রাং গ্রর্ূপ নাটকে বড়ো বড়ে। ঘটনার 
সমাবেশ অসঙ্গত নহে কিন্ত সামাজিক নাটকের পাত্রপাত্রী নিতান্ত সাধারণ এবং অতি 
সামান্ পরিবেশের মধ্যে অবস্থিত ) সেখানে ঘোর চন্রান্ত, নিষ্ঠুর নরহত্য। প্রস্ৃতি চরম ঘটনার 
সন্নিবেশ অস্বাভাবিক ও অসঙ্গত। আসল কথ! গিরিশচন্দ্র দীনবন্ধুর অসাধারণ প্রভাবশালী 
নাটক 'নীলদর্পণে” প্রবর্তিত নাট্যধারাকে অতিক্রম করিতে পারেন নাই। সেইজন্ত নীল- 
দর্পণে'র দোষ ও গুণ তাঁহার নাটকে এতো স্পষ্ট বোধ হয়। বহিরঙ্গনে যেখানে মারামারি 
কাটাকাটি চলিতেছে, সেখাঁনে গিরিশচন্দ্র লেখনী লইয়। উপস্থিত হইয়াছেন বটে, কিন্তু তিনি 
অন্তঃপুরের দ্বার ঠেলিয়া ুস্্ হৃদয়লীলা'র তীক্ষ সংঘাত দেখিবার প্রয়োজন বোঁধ করেন নাই। 
সামাজিক রীতিনীতি, বিধিসংস্কার প্রভৃতির বৃথ্যমাঁন আবর্তে সাধারণ নরনারীর জীবন কিভাবে 
আঁবতিত হইতে থাকে, মান্থষের ধর্মবোধ, নীতিবোধের সহিত তাহার ছুর্ঘম কামনা! এবং দুর্বার 
প্রবৃত্তির কি রকম নিদারুণ সংগ্রাম অহরহঃ ঘনাইয়া উঠে তাহার পরিচয় গিরিশচন্্রের নাটকে 
নাই। কোনো প্রসিদ্ধ সমালোচক গিরিশচন্দ্রের নাটকের সহিত নরওয়ের যুগান্তকারী 
নাট্যকার ইবসেনের নাটকের তুলন! করিয়াছেন।১ কিন্তু ইহা অতিরঞ্জিত উক্তি ছাড়া আর 


১। কাজ ইবসেবের সাঙালিক নাটকের সঙ্গেই গিরি সামা্ক নাটকের বিচার সন্তব । 
গিরিশচন্ত্র--ঈীহেমেন্রনাথ দাসগুণ, গৃঃ ১১৪ 





9 


১৫৪ বাংল। নাটকৈর ইতিহাস 


কিছুই নয়। কারণ ইবসেনের নাটকে যে গভীর সমাঁজচেতমা এবং প্রচলিত সমাজব্যবস্থার 
বিরুদ্ধে সুতীব্র বিদ্রোহ দেখা যাঁয় গিরিশচন্দ্রের নাটকে তাহ! নাই! "শাস্তি কি শাস্তি এবং 
£বলিদানের মধ্যে তিনি সাঁমাঁজিক সমস্যা লইয়৷ আলোচনা করিয়াছেন বটে, কিন্ত তিনি 
কোথাও সমস্যার অন্তস্তলে' প্রবেশ করেন নাই, কেবল বাহিরের ক্রিয়৷ এবং প্রতিক্রিয়া 
দেখাইয়া গিয়াছেন মাত্র। গিরিশচন্দ্রের সমাজ জীবন সম্বন্ধে কৌনে৷ ব্যাপক এবং বিস্তৃত 
অভিজ্ঞতা! ছিল ন1, সেইজন্য তাঁহার সব নাটকে একই রকম ঘটন! এবং একই ধরণের চরিত্রের 
পুনরাবর্তন লক্ষ্য কর! যাঁয়। প্রত্যেকখানি নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র হইতেছেন পরিবারের 
কর্তা, বিশ্বীসঘাতকতা ও প্রতারণার আঘাতে তিনি বিকৃত-মস্তি্ক ও অসংলগ্নপ্রলাপী হইয়! 
উঠিয়াছেন। যোগেশ, হরিশ, করুণাময়, প্রস্নকুমীর, কাঁলীকিস্কর এবং উপেন্তরনাথ__ইহাঁর! 
সকলে মুলত একই চরিত্র । এই ধরণের ভূমিকায় গিরিশচন্দ্র খুব মনোহর অভিনয় করিতেন, 
সম্ভবত ভিনি নিজের অভিনয়োপযোগী ভূমিকার কধা চিন্তা করিয়াই প্রত্যেক নাটকে একই 


রকম চরিদ্র বর্ন করিয়া গিয়াছেন। 
| আল ১৮৮৯ ) ॥ এপ্রফুল্ল' তাহার সর্বপ্রথম এবং সর্বপ্রসিদ্ধ সামাজিক নাটক। 


নাটকখানি রঙ্গমঞ্চে অশের্ষ' সম্বর্ধনা! লাভ করিয়াছে এবং সমালোচকদের অকুপণ প্রশংসাও 
ইহাঁর ভাগ্যে জুটিয়াছে। ইহার নাট্যমূল্য বিচার করিবার পূর্বেই একটি বিষয় উল্লেখ না করিয়! 
পার! যাঁয় না। প্রফুল্ল" হইতে আরন্ত করিয়া! গিরিশচন্দ্র যতগুলি সামাজিক নাটক লিখিলেন 
তাহাদের প্রায় সবগুলিই বিয়োগাস্ত ও করুণরসাত্মক। ইহার কারণ কি? কেন তিনি 
জীবনের কুণ্তরী ও করুণ দিকগুলি নাটকের মধ্যে এমন প্রধান করিয়া তুলিলেন?, ইহার 
কতকগুলি কাঁরণ নির্দেশ করা যাইতে পারে। প্রথমত, গিরিশচন্দ্রের অন্তর-প্রেরণ। দুঃখের 
নিত্য প্রবাহে অভিষিক্ত "হইয়াছিল। সেই প্রেরণা যখন সাহিত্যের কাহিনীকে 
আশ্রয় করিল তখন ম্বভাবত তাহা কারুণ্যের কলতানে ভরিয়া উঠিল।২ দ্বিতীয়ত, 
গিরিশচন্দ্র প্রায়ই বলিতেন যে, তিনি শেকসপীয়ারকে আদর্শ করিয়াই নাটক রচনা 
করিতেন। শেক্সপীয়ারের ট্র্যাঙ্জেডি যে তাহাকে দুঃখময় নাটক লিখিতে অন্ধপ্রাণিত 
করিয়াছিল তাহাতে সন্দেহ নাই। তৃতীয়ত, গিরিশচন্দ্র বুঝিয়াছিলেন যে, “মিলনাস্ত নাটক 
আনন্দপ্রদ হইলেও করুণ রসাশ্রিত নাটক অধিকতর হৃদয়গ্রাহী ও শিক্ষাপ্রদ ৩ চতুর্থত, 
গিরিশচন্দ্রের সামাজিক নাটক রচনার প্রত্যক্ষ প্রেরণ আসিয়াছিল “নীলদর্পণ” ও বিশেষ 
করিয়! “সরলা” নাটক হইতে । “সরলার অভিনয় নাট্যজগতে যুগান্তর আনিয়াছিল এবং এই 


১। গিরিশচন্দ্র একবার অমৃতল।ল বস্থকে বলিয়াছিলেন, “এসব £02118610 বিষয় নিয়ে নাটক লেখ! আর 
নর্দাম। খাট এক।' 
রঙ্গ।লয়ে ব্রিশ বংসর--অপরেশ মুখোপাধ্যায়, পৃঃ ৭ 
২। “এই সদানন্দময় পক্ষের জীবন সহচর ছিল দু'খ। ঠাহার চক্ষুদ্বয় ছিল--বিশীল এবং উঞ্জল। কিন্ত 
নিরীক্ষণ করিয়! দেখিলে মনে হইত, সে চেথের পিছনে শোক ধেন নিস্তব্ধ হইয়। বসিয়। আছে ।' 
“গিরিশচন্দ্র দেবেল্্রনাথ বহু ( ক.+বি, )--৭ 
: ৩। এ, পৃঃ২৮ 


শিরিশচজ্জ ঘোষ ১৫৫ 


নাট্য সাফল্য দেখিয়া ষ্টার থিয়েটারের কর্তৃপক্ষগণ গিরিশচন্ত্রকে একখানি সামাজিক নাটক 
লিখিতে অনুরোধ করেন।১ 'সরলা"র পভাবে প্রফুল্ল” রচিত হইয়াছিল বলিয়া চরিক্র, 
কাহিনী, রস এমন কি নামকরণের দিক দিয়া দুইখানি নাটকের মধ্যে সমধপ্িত দেখা যাঁয়। 
€প্রুল্ল' নাটকের আঁলোঁচন প্রসঙ্গে এই কথাটি স্মরণ না করিলে রী নাটকগুলির 
প্রতি অবিচার করা হইবে। 
অধিকাংশ সমালোচক “প্রফুল্ল” নাটক সম্বন্ধে এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করিয়াছেন যে, ইহা 
-একথানি সার্থক করুণ রসাত্মক নাটক অথবা ট্যাজেডি। আপাত দৃষ্টিতে এই সিদ্ধান্ত খুবই 
যুক্তিসহ মনে হয়। কারণ এই নাটকে বাঙালী সমাজের একটি পরিবার ছু:খময় ঘটনার 
ঘাত-প্রতিঘাতে কিরূপে টুকরা টুকরা-করিয়া ভা্গিয়৷ এক অস্তিম হাঁহাঁকারে নিঃশেষ হইয়া 
গেল তাহারই বর্ণন! রহিয়াছে । পরিবারের কর্তার অন্তন্নিহিত দুর্বলতাঁর সুযোগে কিভাবে 
এক ঘোর স্বার্থান্বেষী বিষাক্ত শক্তির ক্রিয়ায় একটি সাঁজান বাগান শুকাইয়! গেল তাঁহাঁরই 
এক জালাময় বৃত্তান্ত ইহাতে রূপাঁয়িত ভ্ইয়াছে। এরপ সিদ্ধান্ত স্বাভাবিক ও সুবিধাজনক, 
কিন্তু যাহা শাদা চোখে দেখা যায় না তা বিশ্লেষণের পরকলায় ধর! পড়ে । তখন দেখা যাঁয় 
যে, চমকপ্রদ কার্ষের পিছনে বিশ্বীসযোগ্য কারণ নাই, ছুঃখের বন্যাঁধারা অনিবার্ধ বেগে 
প্রবাহিত হয় নাই এবং সর্বাপেক্ষা বড় কথা, নাটকখাঁনি করুণ রসাঁতআবক হইলেও ট্র্যাজেডির 
মর্যাদা লাভ করে নাই । এই বিয়য়গুলিই আমরা বিচার করিয়া দেখিব। 
প্রথমেই একটি কথ! স্বীকার কর! দরকার যে, ট্র্যাজেডির বিচাঁরে নায়ক চরিব্রকেই মুখ্য 
আলোচ্য বিষয় কর্রিতে হইবে । ট্র্যাজেডির মধ্যে প্রীয় সর্বত্রই একটি কি দুইটি চরিত্রের 
অনন্য প্রাধান্ ঘটিয়! থাকে--ইডিপাস, অরিষ্টিস, ইলেক্টী, মিডিয়া, ম্যাকবেথ, ওথেলো, 
হামলেট, লীয়র প্রভৃতি নাটকের বথা দৃষ্টান্ত স্বরূপ উল্লেখ করা যাইতে পারে ।২ সেজন্য 
যোঁগেশ চরিত্রকে অবলম্বন করিয়াই প্রধানত আঁমার্দিগকে “প্রফুল্ল” নাটকের ট্র্যটাজিক ধর্ম 
বিচার করিতে হইবে । 
ট্যাজিক নাটকের সংজ্ঞ! নির্দেশ করিতে হায়! (খ্যারিস্টোটল বলিয়াছেন যে, 
কোন মারাত্মক ত্রাস্তির ফলেই সে স্থখ সমৃদ্ধি হইতে ছুঃখ-দুরবস্থার মধ্যে পতিত হয়।৩ এই 


১। সরলার" অর্ভিনয় প্র।য় এক বংসর সমান ভাবেই চলিয়।ছিল এরং ষ্টার সম্প্রদায় এই পুস্তকে প্রতৃত 
অর্থ উপার্জন করিয়ািলেন। সামাজিক নাটকের এই আদর দেখিয়া ষ্টারের কর্তৃপিক্ষগণ গিরিশবাবুকে একখানি 


সামাজিক নাটক লিখিতে অনুরোধ করেন; এই অনুরোধের ফল-_ প্রফুল্ল । : 

রঙ্গালয়ে ত্রিশ বংসর-_পুঃ ১১২ 
২। নিকলের মত প্রণিধানযোগ্য--*ঢ 9 6০ 8 019867790. 0108৮ 00190701015 08805 *01£8679 

2010 0010805 17) 56160617007 50106 019 ০0] ৮৮0 160708 চ1)0 105 (10617 00680688,800 03 01611 


17018616176 10661996 ৫070)17)960 0116 ০0616] 01:8708018 067:501080, 
[00207 02 09109, 2, 141. 


৩। 5৫1) % 7062800 1৪ 0109 '1)0 0099 1000 82006] 17) চ17606 210 7161)650)181)098, 1001 18 
106 101010106 1560 805918165 00:00) দ8009000699 200. 0810785105, 00৮ 00:01 90106 9701৮ 
£0800065 2060108--1া, 05 03900101620, 93 


১৫৬ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


্যাজিক ভ্রান্তি অথবা 4;9055705» যৌগেশের বেলায় কোথায় ঘটিয়াছে? কেহ কেহ বলেন 
যে, যোগেশের ট্র্যাজেডির কারণ সাময়িক উন্মত্ততা 161000121 1058015 )1১ কিন্ত 
সেই উদ্মন্ততার কারণ বাঙ্ক .ফেল হওয়া? স্থতরাং এই মত গ্রহণ করিলে ব্যাঙ্ক ফেল 
হওয়াকেই ট্র্যাজেডির কারণ বলিয়া! মনে করিতে হয়। শ্রীযুক্ত হেমেন্ত্রনাথ দাশগুপ্ত মহাশয় 
যোগেশ চরিত্রের প্রকৃতিগত দুর্বলতাকেই ট্র্যাজেডির কারণ স্বরূপ নির্দেশ করিয়াছেন ।২ 
বন্ধুবর সাধনকুমার ভ্টীচার্যও যৌগেশের অস্ত্িহিত শা মধ্যেই ট্র্যাজেড়ির মূল 
অনুসন্ধান করিয়াছেন।৩ এই অস্তনিহিত দুর্বলুতার-রিষয়ুটু,অ]বে 
প্রশ্ন মনের মধ্যে আসে। উর্জথমত, এই দুর্বলতা সতাই অডিও ছি কিনা, অর্থাৎ ব্যাঙ্ক 
ফেল হওয়ার পূর্বেও ইহা ভীহার মনে জাগ্রত অথবা সপ্ত অবস্থায় ছিল কিনা। দ্বিতীয়ত, এই 
দুর্বলতাকে স্বীকার করিলে যৌগেশ চরিত্রের ট্র্যাজিকধর্ম কিরূপে এবং কতখানি বজায় থাকে । 
গ্রথম প্রশ্নটি বিচার করিলে মনে হয়, ব্যাঙ্ক ফেল হওয়ার পরে যোগেশের দুর্বলতা বিশেষ ভাঁবে 
প্রকট হইলেও ব্যাঙ্ক ফেল হওয়ার পূর্বে এরূপ দুর্বলতা! যে তাহার চরিত্রের মধ্যে ছিল এমন 
কোন আভাঁদ অন্তত নাটকের ভিতর হইতে পাওয়া যাঁয় না| ব্যাঙ্ক ফেল হওয়ার পূর্বে 
যোগেশের যে পরিচয় তাহার এবং অন্যান্য সকলের মুখে পাওয়া যায় তাহাতে তো৷ ধারণা হয় 
যে, তিনি ছিলেন পুরুষকাঁরের এক জীবন্ত প্রতিমৃতি। তখন তিনি ছিলেন অক্লান্ত কর্মী ও 
অকলক্ক চরিত্রের অধিকারী । প্রথম অঙ্কের প্রথম গর্ভাঙ্কে জ্ঞানদাঁর মুখে গুনিলাম, “বাবা 
ভ্যালা কাজ শিখেছিলে কিন্ত। কাজ! কাজ! কাজ! মনিস্তির শরীরে একটু সক্‌ 
নেই!” কিছুক্ষণ পরেই যৌগেশ নিজে বলিলেন, “সমন্ত দিন খেটে যখন রাত্তিরে কাজ করতে 
আলম্ত বোধ হত, তোমর! সেই খোলার ঘরের ভেতর শুয়ে_-ফিরে দেখতুম আর আমার 
দ্বিগুগ উৎসাহ বাঁড়তো ; সেই উত্সাহই আমার উন্নতির মূল।” দ্বিতীয় অঙ্কের চতুর্থ গর্ভাঙ্কে 
পুনরায় যোৌগেশ আক্ষেপ করিয়া বলিয়াছেন, “সেদ্রিন ছিল যখন আমি সত্যবাঁদী ছিলেম, 
যখন আমি বাঙ্গালীর আদর্শ ছিলেম, যখন সচ্চরিত্রের প্রতিমূত্তি লোকে আমায় জানত ।, 
এই দৃঢ়চেতা, আদর্শবাঁদী, কতিষ্ঠ পুরুষের মধ্যে অন্তনিহিত দূর্বলতা কোথায়? তাহা হইলে 
মানিয়া লইতে হয়, পরবর্তী ছুর্বলতা৷ যোগেশের অন্তন্িহিত নহে, ইহা! একটি আকম্মিক ঘটনার 
দ্বারা তাহার অন্তরে সঞ্চারিত হইয়াছে এবং বল! বাহুল্য সেই আকম্মিক ঘটনা! হইল ব্যাঙ্ক 
ফেল হওয়া! । যদি কোন আকন্মিক ঘটনাই মাত্র চরিত্রের কোন অতঞ্কিত পরিবর্তন আনিয়া 
ফেলে এবং সেই পরিবর্তনের ফলেই ষদ্দি তাহার ট্র্যাজেডি সম্ভাবিত হয় তবে সেই ট্র্যাজেডির 
মূল্য কতটুকু? 
২ ৮ অপরেশ মুখোপাধায়-_রঙ্গীলয়ে ত্রিশ বংসর--১২২। 

২। “মূলত তিনি ছিলেন দুর্বল প্রকৃতি, শ্লথবুদ্ধি, 'ভাঁববিহবল ৭, /কর্মক্ষেত্রে যন্ত্বরপ। কি আপনাতে কি 
ভগবানে ঠাহার প্রত্যয় ছিল শিথিল । এত বড় ট্র্যাজেডি সম্ভব হহয়াছে & জন্যই 1 
: গিরিশ গ্রতিভা-_পৃঃ ৩০*। 

৩। নাটা সাহিত্যের আলোচন! ও নাটক বিচার (২য় খ্ড)-_পৃঃ ১৩৩৯১৩৪। 








শিরিশচজ্জ ঘোষ 5৫৭ 


আমাদের উত্থাপিত দ্বিতীয় প্রশ্নটির বিচার করিতে হইলে বলিতে হয় যে, যোগেশ 
চরিত্রের অস্তনিহিত দুর্বলতা স্বীকার করিলেও সেই ছূর্বলতীর প্রকাশ নাটকের মধ্যে যে 
ভাবে হইয়াছে তাহাতে তাহাকে ট্র্যাজিক রসোততীর্ঘণ চরিত্র কখনই-বলা চলে না। নায়ক 
ঘি তাহীর অনিবার্য দুর্ভাগ্যের জন্য প্রধানত দায়ী না হয়,১.যদি সেই দুর্ভাগ্যকে রোধ 
করিবার জন্ত তাহার .প্রাণাস্তকর সংগ্রামের পরিচয় না দেয়, যাঁদি তাঁহার পত্তন একটি 
অলঙয বিশ্বাবিধানের প্রতি আমাদের শোকাহত দৃষ্টিতে উদ্মীলিত না করিয়া তোলে তবে 
তাহার ছঃখভোগের মধ্যে ট্র্যাজিক মহিমা কোথায়? যোগেশের মধ্যে এই ট্র্যাজিক 
নায়কের কোন চিহুই নাই। তাহার সক্রিয় ব্যক্তিত্ব ব্যাঙ্ক ফেল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চূর্ণ 
হইয়াছে' এবং সেই চূর্ণ ব্যক্তিত্ব ক্লীবের ন্যায় রমেশের ফড়ন্ত্-জালে আত্মসমর্পণ করিয়াছে । 
যোগেশ চরিত্রের আর যাহা কিছু বাকি থাঁকিল তাহাতে রহিয়াছে কুৎসিত মাতলামি, 
কদর্য নিষ্ঠুরতা ও নিক্রিয় দুঃখবিলাস। এত বড় একজন সচেষ্ট, সক্ষম পুরুষ হঠাৎ এরপ 
একটি নিশ্টেষ্ট জড় পিণ্ডে পরিণত হইলেন এবং তাহাও শুধু ব্যাঙ্ক, ফেল হওয়ার জন্য! 
ইহা আকস্মিক পক্ষাঘাত, ট্র্যাজেডি নহে। সাধনবাবু োঁগেশের নিক্কিয়তা বা নিশ্টেষ্টতার 
অভিযোগ স্বীকার করেন নাই। কিন্তু যোগেশের সক্রিয়তা বা সচেষ্টতার একটি প্রমাণও 
তো আমরা পাই নাই। যোগেশ যদি সেরূপ হইতেন তবে নাটকের অনেক ছুঃখময় 
ঘটনাই নিবারণ করা যাইত। যে ব্যাঙ্ক ফেল হওয়ার ফলেই যৌগেশের এই ক্লৈব্যপ্রাপ্ডি, 
সেই ব্যাঙ্ক পুনরায় টাকা দিতে স্থুরু করিয়াছে, অথচ যোগেশের মানসিক সুস্থতা ফিরিয়া 
আসে নাই। (ইহাতে মনে হয় একটি লঘু ও নিবার্ধ ঘটনাকেই যেন অনাবশ্তক : ছুঃখের 
ফানুসে ভর্তি করা হইল )(তাঁরপর পীতা্বরের সহিত যোগেশ যখন, ব্যাস্কে যাইতেছিলেন_ 
১ তখনই নাটকের দুংখ-গতি প্রায় থামিয়া আসিয়াছিল কিন্তু যোৌগেশের অনির্দেশ্ঠ ও 
অশ্রদ্ধেয় নিক্ষিয়তা সেই গতিকে পুনরায় মুক্ত করিয়া দিল। ধাহার অভিমান রে ৃ 
টনটনে, একটি ইতর স্ত্রীলোকের মুখে অকারণ জোচ্চোর অপবাদ গুনিয়াই যিনি দিশা 
হইয়া পড়েন তিনি তো! সামান্য একটু সবপ্রতি্ঠ হইলেই সব অপবাদ ঘুচাইতে ক া 
যিনি স্বেচ্ছায় ও সঙ্ঞানে স্থনামের প্রতি বৃদ্ধানুষ্ঠ দেখাইয়াছেন, ছুন্ণমে তাহার অতথানি 
আতঙ্ক ও মর্ণবেদনা! একপ্রকার অপট আত্মাভিমান ছাড়া আর কিছুই মহে। সামান্যতম 
ঘটনাকে আয়ত্ত করিবার শক্তি ধাহাঁর নাই, যিনি বিক্ষিপ্ত শক্তিপুঞ্জের অনিয়ন্ত্রিত খেয়ালের 
কাছে নিবিবৃদ বশ্ঠতা স্বীকার করিয়াছেন ট্র্যাজিক নায়করূপে তাহার মুল্য কতটুকু? 
্যারিস্টোটল বলিয়াছেন, চরিত্রের কোন বিশেষ বিশেষ গুণ থাকিতে পারে, কিন্ত তাহার 
স্থুথদুঃখ তাহাঁরই ক্রিয়ার ফলে ঘটিয়৷ থাকে ।১ যোগেশের ছুঃখ তাহার কোন্‌ ক্রিয়ার ফলে 





১। ট্র্যাজেডির বিষয় সম্বন্ধে এযারিস্টৌটলকে অনুসরণ করিয়| ডিক্সন বলিয়ান্েন--' 009 150৪ ০: 
৪৬১]০০৮, 8100. 006 0015, 009 191011190 €5000 ০01 19206819 1০011071115 610116 01 2200 10 10101) 
856 10610 9৮ 1689586 900010098 60 1018 01) 771860100100। 

ৰ 11886075195 


১৫৮, বাংল! নাটকের ইতিহাস 


ঘটিয়াছে? নিক্রিয্ন হইলেও ট্র্যাজেডির নায়ক হওয়' চলে সাধন বাবু এই মত ব্যক্ত 
করিয়াছেন। প্রসঙ্গ ক্রমে তিনি লীয়র ও হামলেট নাটক দুখাঁনির নাম করিয়াছেন। লীয়র 
সম্বন্ধে একথা বলা ষাঁয় যে, তিনি নাটকের শেষ দিকে নিক্ষিয় দুঃখভোগী (10916 51760 
88811190 1১97 51000108 ) হইলেও ট্র্যাজেডির চন, কিন্ত তাহারই অহঙ্কত মনোভাব ও 
্রান্ত আচরণের ফলেই হইয়াছে তাহা স্বীকার করিতে হইবে । অধিকন্ত দুঃখের আঘাঁতে 
অসহায় ভাবে তাড়িত বিতাড়িত হইলেও শেকসগীয়ারের অদ্ধিতীয় লেখনী তাহার সমুন্নত 
ট্্যাজিক মহিমা বজায় রাখিতে পারিয়াছে, কিন্তু যৌগেশের সেই মহিমা কোথায় ?১ হাম- 
লেটের সহিত যোগেশের যে সাদৃশ্য তাহাও নিতান্তই বাহ্‌ ও মৌহুত্তিক। প্রথমত, হামলেট 
বাহজগতে একেবারে ক্রিয়াহীন নহে, সে বীর ও শক্তিমান, অন্তায় গ্রতিবিধান করিতে সে 
সম্পূর্ণ সক্ষম-_- শেষ দৃশ্টে মৃত্যুর পূর্বে সে তাহা দেখাইয়৷ গিয়াছে । তাহার আত্যস্তিক 
মানসিক ঘন ও চিন্তাপ্রবণতাই তাহার সক্ষম ক্রিয়া-শক্তির অন্তরায় হইয়৷ তাহার ট্র্যাজেডি 
ঘটাইয়াছে। 

৬/1720061 505 1501101 17 006105110 69 50661 

[0102 5111085 2100 ৪1109 01 000888005 601001)6) 

00: 00 2105 21005 8£1011)90 ৪. 568. 04 ০0195. 

&00 5 020905106 200. 00670 ? ৃ 

ইহাই হামলেটের দ্ন্ব। এই সক্ষম দন্দ যোগেশের কোথায়? নাটকের মধ্যে যোগেশের 
অন্তদ্বন্বময় মনোজগৎ একেবারেই অপরিস্ফুট। 
নাটকের মধ্যে যোগেশের চরিত্র ষেভাবে দেখান হইয়াছে তাহাতে তাহার ভাগ্য- 

বিপর্যয়ের একটি কারণ নির্দেশ কর! যাঁয়ঃ যাহা সমালোচকগণ সজোরে অস্বীকার করিতে 
চাহিয়াছেন এবং যাহা সম্ভবত নাঁট.কাঁরেরও%&ঈভিপ্রেত ছিল না তাহা হইল যোগেশের 
মগ্যাসক্তি। এই মগ্যাঁসক্তি এক 'অন্তনিহিত দুর্বলতা” রূপে তাহার সুস্থ ও সমৃদ্ধ অবস্থার 
মধ্যেও ছিল। ব্যাঙ্ক ফেল হওয়ার পূর্বেও তাহাকে বোতল হইতে এই বিষামূত ঢালিতে 
দেখিয়াছি । জ্ঞানদার মুখে আমর! শুনিয়াছি “তোমার সব গুণ-এ একটু ঢুক করে 


1, "0৮, 1)2180178 70059088 09:%811) 008110169 11) ৮11600 01 01001 01197906618, 1006 
810 1)910]5 0: 009 1651:50 ঠা) 51৮0০ ০0: 01617 90010105, - 
১০০৮০৪-- 7, 05 130010167, 0. 20 
১। নিকলের উক্তি উল্লেখযোগা--[6 88৪8 01017 ৪. 91)9709900819 ৮100 ০0010 7065676 ৪ 
[097 0012198510 8180 231660 21) 006 101086 01 1019 81101006101) 2100 0088615”, 
--0106015 01101800805 153, 
২1 পর, [।. 1,00899 তাহার প্রসিদ্ধ গ্রন্থে হামলেটের 11970081618 অথবা ট্র্যাজিক ভ্রান্তি লইয়া যাহ? 
বলিয়াছেন তাহা অনুধাবনযোগ্া-_1097016668 719670 22০2 0) 0008 91109 60 80৮) 900 0015 1৪ 
8001001998 9 10019] 09, 9001) 85-7618 0809] 10) 901)10099 ১1180 1109 17970970195 [01186 ৪189 
0০. ৮০ 77788605107 চি. [4 10088, (7080) 0:30 


গিরিশচন্দ্র ঘোষ ১৫৯ 


ধাওয়া কেন?” তৃতীয় অস্কের পঞ্চম গর্তাঙ্কে পুনরায় জ্ঞানদা বলিয়াছেন, “যদি এই ছাই না 
থান তা+ হ'লে কি ওর তুল্য মান্নুষ আছে !+ ব্যাঙ্ক ফেল হওয়ার পরে এই স্ুরাঁসক্তি সমস্ত 
মাত্রা ও সংযম হাঁরাইয়! ফেলিল এবং চতুর্দিক হইতে তখন বিপর্যয়ের মেঘ ঘনাইয়৷ আসিল। 
শ্রীযুক্ত হেমেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত মহাশয় এবং আরও অনেকে বলিয়াছেন, স্থরাপান ট্র্যাজেডির 
কারণ নহে, পরিণাঁম। আমাদের কিন্ত ঠিক বিপরীতটাই মনে হয়, অর্থাৎ স্থুরাপানই 
ট্র্যাজেডির ৫) কারণ, পরিণাম নছে। নিমটাদ ও যৌগেশের দুঃখসমস্তা একই, বরং 
নিমাদ বোধ হয় অধিকতর উন্নত ও অনুভূতিশীল। সমগ্র প্রফুল্ল নাটকের মধ্যেই মগ্যপায়ী 
লোকের একটি ইতর মাতলামির পরিচয়, তাহার ব্যক্তকিসত্তার অন্যসব চিন্তা ও চেতন! 
একেবারেই বিলুপ্ত । এই বিরক্তিকর স্থরাসক্তির ফলে তাহার ছুঃখবেদন! আমাদের অনিবার্য 
সহানুভূতি লাভ করিতে পাঁরে না । এই স্থুরাসক্তিই যদি যৌগেশের পতনের কারণ হইয়া 
থ|কে তবে তাহার ছুঃখ ট্র্যাজেডির অপ্রতিরোধ্য শক্তি হারাইয়! ফেলিয়৷ নিতান্তই লঘু ও 
বহিঃসর্বন্য হইয়া পড়ে। 

যোগেশ চরিত্রের যে সব দৌফক্রুটি পূর্বে উল্লেখ কর! হইল তাহাতে কথনই তাহাকে 
ট্র্যাজিক চরিত্র বল! চলে না এবং নাট কথাঁনিকেও খাটি ট্র্যাজেডির মর্যাদা দেওয়! যাঁয় না। 
অতিরঞ্জিত ছুঃখময় ঘটনার অবতারণ। দ্বারা ইহাকে অনাবশ্তক কারুণ্য-পীড়িত কর! 
হইয়াছে মাত্র। যোগেশের দুঃখে যে অনিবার্ধতা নাই তাহ! পূর্বে দেখান হইয়াছে। আর 
একটি ছুঃখভোগের দৃষ্টান্তেও এই অনিবার্ধতার অভাব লক্ষ্য করা যায় তাহা হইল .স্থরেশের 
চরিত্র। প্রকৃত চুরি নহে, অথচ ্বেচ্ছ।-গৃহীত চুরির বদনাম স্বীকার করিয়া অকারণে 
অমানুদী ছুখভোগ করিয়াছে স্থরেশ। পরিবারস্থ এক অতি নিকট আত্মীয়ার নিকট হইতে 
সছু্দেশ্যে দুইটি মাঁকড়ি লইয়! স্থুরেশকে জেলে পাথর ভাঙ্গিতে হইল, এই সমগ্র ব্যাপারটির 
মধ্যেই এমন এক হাস্যকর অবিশ্বাস্ততা রহিয়াছে যে, এই ছুঃখের প্রতি সহ্ান্ৃভৃতির পরিবর্তে 
এক বিরূপ সন্দেহ জাগিয়! উঠে। অধিকন্ত স্থুরেশের ছুঃখ তাহাতেই শেষ হয় নাই, ইহা! 
সমগ্র পরিবারকে বিপর্যন্ত করিয়াছে । যোগেশ এই অমূলক চুরির অপবাদ শুনিয়া আর 
মতিচ্ছন্ন হইয়াছেন এবং উগাস্থুন্দরী ধিকৃতমস্তিফ্ষ হইয়। পড়িয়াছেন। একটি ভিত্তিহীন বল 
হইতে এতথানি অতিশয়িত দুঃখের জাল বিস্তার কর! হইয়াছে। জ্ঞ/নদার মৃত্যু দীর্ঘকালীন 
ছুঃখভোগের পরিণাঁম বলিয়া ব্যাখ্য! করা গেলেও প্রফুল্লের মৃত্যু কিন্ত স্থানকালের পরিবেশে 
নিতান্তই আকন্মিক ও অপ্রত্যাশিত। ইহা একটি অপথাত-মৃত্যু মাত্র, এবং এঁই অপঘাতের 
জন্য কোন প্রস্ততি নাই__ন! নাটকের ভিতরে, না দর্শকের মনে। এতগুলি দুঃখভোগের 
কারণ ঘটনার কোঁন অলজ্ঘ্য সংঘাত নহে, নিয়তির কোন অগ্রতিষেধ্য লীলা নহে। 
চরিত্রগুলির কোন অনতিত্রম্য দুর্বলতাঁও নহে--কারণ সবনিয়ন্তা রমেশের সর্ববিস্তারী চক্রান্ত | 
এই রমেশ কি সাংসারিক জগতের কোন ম্বাভাবিক চরিত্র, না নারকীয় জগতের কোন 
শয়তানী চরিত্র? সন্দেহ হয়। সংসারের কাহারও প্রতি ইহার আকর্ষণ নাই, 
ইহার নিষ্ুরতা উপায় না হইয়া" উদ্দেশ্য হইয়! পড়িয়াছে! যোগেশ যেমন নিক্কিয়তার 


১৬০ বাঁংল। নাটকের ইতিহাস 


একটি নির্জীব দৃষ্টান্ত, রমেশও তেমনি নৃশংসতার একটি অতিজীব দৃষ্টান্ত হই! 
উঠিয়াছে। 

প্রফুল্ল” নাটকের আর একটি খুঁরুতর অসঙ্গতি রহিয়াছে ইহার নামকরণে। প্রফুল্ল 
এই নাটকে কতটুকু স্থান অধিকার করিয়! আছে? চতুর্থ অঙ্ক পর্যন্ত যে অল্প কয়বার তাহার 
সহিত আমাদের সাক্ষাৎ ঘটিয়াছে তাহাতে তাহাকে পরিবারের একজন সরলা ন্নেহময়ী 
বধূ ছাড়া আর কিছুই মনে হয় ন।। কিন্তু তখনও ঘটনার নেপথ্যে তাহার অবস্থান মাত্র। ' 
তাহার অন্তরের কল্যাণীশক্তি অন্তরেই আবদ্ধ রহিয়াছে, বাহিরের চলমান ঘটনার মাঝে সেই 
শক্তির কোন সক্ষম আত্মপ্রকাশ আমরা দেখি নাই। কেবলমাত্র পঞ্চম অঙ্কে মদনের 
মতি পরিবর্তনে ও যাদবের প্রাণরক্ষায় তাহার সক্রিয় ব্যক্তিত্বের রূপ পরিষ্ফুট হইয়াছে । 
কিন্ত ততক্ষণে অনিবার্ধ দুঃখের গ্রাস পূর্ণ হইয়! উঠিয়াছে। ' সে যাদবকে বাচাইতে পারিল 
বটে, কিন্তু আর কাঁচাকেও বাচাইবার সাধ্য তাহার ছিল না। একজন সমালোচক 
বলিয়াছেন, “আমাদের প্রেমপূর্ণ প্রাচীন সংসারের আদর্শ ফিরাইয়৷ আনিবার জন্ত ্নেহময়ী 
্রফুল্লর আত্মবিসর্জনই এই নাটকের মেরুদণ্ড এবং সেই জন্যই নাট্যকার ইহার নাম দিয়াছেন 
-_ প্রফুল্ল ।” এই যুক্তির বিরুদ্ধে প্রথমেই বলিতে হয়, প্রফুল্লের মৃত্যুকে আত্মবিসর্জন বল! 
যায় কিন৷ সন্দেহ। ইহা আকস্মিক হত্যা, পূর্ববর্তী ঘটনার মধ্যে ইহার কোন সম্ভাবনা ও 
প্রস্ততি নাই। রমেশ ও প্রফুল্ের সম্বন্ধ পূর্বে পরিষ্ফ,ট হয় নাই বলিয়! তাহার হাঁতে প্রফুল্লের 
হত্যা নিতান্তই অপ্রত্যাশিত একটি লোমহর্ষণ ঘটন! বলিয়! মনে হয়। প্রফুল্লের মৃত্যুকালে 
অনেক ভালো ভালে! আদর্শের কথা শুনিয়াছি বটে, কিন্ত তাহীবু'জীবিত অবস্থান এই 
সব আদর্শের সহিত কৌন কঠোর সংঘাঁত ঘটিতে নাটকের মধ্যে আমরা দেখি নাই। (এই 
ও রমেশের কৃতদ্ব ষড়যন্ত্র এই ট্র্যাজেডি ঘটাইয়াছে। যোগেশের সঙ্গে তাহার আশ্রিত 
পারিবারিক চরিত্রগুলিও সর্বনাশের মুখে পড়িয়াছে। প্রফুল্ল যোঁগেশের সাজানে। বাগানের 
একটি সেরা ফুল। বাগানের অনেক ফুলের সঙ্গে এই ফুলটিও শুকাইয়াছে, কিন্তু তাহাই 
চরম বেদনা নহে | চরম বেদনা বাজিয়াছে বাগানের মালীকের বুকে যাহার চোখের সন্মুথেই 
একটি একটি করিয়া ফুল ঝরিয়! পড়িয়াছে, মৃত্যুর বেদনা বড় নহে, কিন্তু মৃত্যু ভোগ 
করিবার বেদনাই বড়। সেই'বেদনাই প্রফুল্ন নাটকের মূলকথা | 
_॥ হারান ০০১০: হারনিষি নাটকের বিষয় বন্ধুর বিশ্বাসঘাতকতা হইতে গঠিযাছে। 
মোহিনী নরপিশীচ পাঁষও্ড হইলেও সে একেবারে রমেশের মতে! স্নেহলেশহীন অমানুষ নহে, 
তাহার একমাত্র স্নেহের পাত্রী ছিল তাহার কন্তা হেমাঙ্গিনী, এবং এই কন্ঠার অস্থুখেই তাহার 
মতিগতি পরিবর্তিত হইয়৷ গেল, আর নাটকথানির ঘটনা৷ ঘুরিয়া গিয়া মিলনাস্ত পরিপতি 
লাভ করিল। হেমাঙ্গিনীর মস্তিষ্ষ বিকৃতি দুইপক্ষের মিলন ঘটাইল বটে, কিন্ত তাহার এই 
মন্তিফ বিকৃতির তেমন জোরালো৷ কোন কারণ নাই। হেমাঙ্গিনী সথী সথণীলার সহিত বেশ 
বদের কথাবার্তা বলে, আবার অন্ত সময়ে সে একেবারে ছেলেমান্ষের মত সরল ও অনভিজ্ঞ 






গিরিশচজ্র ঘোঁধ ১৬১ 
-তীহাঁর চরিত্রের এই ভীবানৈক্য খুবই চোখে পড়ে। “হারানিধি* নাটকের ক্রিয়া! এবং 
ঘটনা একতরফা! নয়, মোহিনী শক্তিশালী দুর্বৃত্ত হইলেও তাহার প্রতিপক্ষও প্রবল। নব, 
অঘোর এবং কাদঘ্িনী মোহিনীকে পাল্টা জব্দ করিবার চেষ্টা করিয়াছে। ইহাতে 
একঘেয়ে করুণ রসের অত্যাচার হইতে আমর! রক্ষা! পাইয়াছি। পপ্রফুল্ল*র ন্যায় “হারানধি' 
একেবারে হাস্তরস বিবজিত নয়। অঘোরের চমকপ্রদ ক্রিয়াকলাপ এবং »?0গে কথাবার্ত 
সমস্ত নাটকখানিকে ন্সিগ্ধ এবং উজ্জল করিয়া রাখিয়াছে। তাহার ন্ায়! সরস, ধাঁরালে। 
এবং হাশ্রসাত্মক চরিত্র গিরিশচন্দ্র খুবই কমই স্থ্টি করিতে পারিয়াছেন। নাটকের 
সর্বাপেক্ষ। কৃত্রিম এবং আড়ষ্ট চরিত্র নীলমাধব । 'নীলদর্পণে্র নবীনমাধবের স্তায় সে 
কেবল হিত্বোপদেশ আওযড়ায়, কোঁনে। উত্তাপ উত্তেজন। যেন ইহার নাই। 

॥ মায়াবসান (১৮৯৮) ॥ সামাজিক নাটক হিসাবে 'মায়াবসানেঃর কোনোই উৎকর্ষ 
নাই । গিরিশচন্দ্র বিশ্বাস করিতেন রাজনৈতিক আন্দোলন অপেক্ষা নিক্ষাম কর্ম এবং ক্ষমাধর্মের 
আদর্শে ধর্মনৈতিক এ্রক্য বিধান কর! দেশের পক্ষে অধিকতর কল্যাণকর ।১ “মায়াবসানে”র 
মধ্যে তিনি তাহীরই আভাস দিয়াছেন । উদ্দেশ্ঠমূলক বলিয়া নাটকখানির মধ্যে ধর্ম ও 
নীতিকথার কচকচি বড় বেশি আছে । দীর্ঘ বক্তৃতা দিয়! ধর্ম ও নীতির আদর্শ অনেকেই 
প্রচার করিয়াছেন। এইরূপ বক্তৃতা অনেক স্থলেই ক্লাস্তিকর ও বিরক্তিজনক হইয়াছে । এই 
নীতিতবের পরাকাষ্ঠা হইয়াছে অন্নপূর্ণা চরিত্রে । সে হঠাৎ যেন স্বর্গীয় অনুপ্রেরণা লাভ 
করিয়! মৃত স্বামীর জন্য শোকাকুল হইয়! উঠিল। ঞ্রব, প্রহলাঁদ প্রভৃতির ন্তাঁয় স্বামীদেবতার 
জন্ত তাহার “কোথা গতৃ”” “কোথা প্রত ইত্যাকার ভাববিহবল উন্মাদনা নেহাত হাশ্কর 
হইয়াছে । কালীকিংকরের প্রতি রঙ্গিণীর ভালোবাস। অস্বাভাবিক মনন্তত্বের ( ৪1070110091] 
05৮০1১০1965 ) অন্তর্গত । তাহার প্রেম “শেষপ্রশ্নেঃর আঁশুবদ্ধির প্রতি নীলিমার অন্ুরাগের 
কথ৷ মনে করাইয়৷ দেয়। রঙ্গিণীকে রক্তমাংসের দেহধারী মানুষ বলিয়। মনে হয় না) তাহার 
চরিত্রের মধ্যে কোনে! দিধা» ছন্দ, আবেগ» বেদনা! কিছুই নাই, সে যেন নিষ্কাম কর্ম এবং 
সেবাধর্মের একট 146৪ মাত্র। তত্বকথ৷ বলিতে কেহই ছাঁড়ে না, এমন কি ভৃত্য শাস্তিরামও 
বাদ যায় না। বিজ্ঞ পণ্ডিতের মত কথা না বলিলে এই চরিত্রটা ভালোই হইত। 
কালীকিস্করের ভূমিকায় চূড়াস্ত অসংলগ্নতা ও অসঙ্গতি রহিয়াছে । একটা চরিত্র পাগোল 


০... রঃ 
সম সি পপ পপর 


১। গিরিশচন্দ্র কুমুদ্রবাবুকে বলিয়াছিলেন--“আমার বিশ্বাস দেশ স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শের অ।র 
আদেশের অনুসরণ ন। করলে কিছুতেই অগ্রসর হবে না । তিনি বারবার দেশকে ব'লে গেছেন যে ভারতবর্ষের 
জাতীয়তার মুল প্রা ধর্মে । বার বার তিনি সাবধান ক'রে গেছেন যে বিদেশীয় অনুকরণে রাজনীতির 
আন্দোলনে দেশকে চালিত করে! না--করলেই ইতো নষ্ট স্তে। ভ্র্ট হবে !' 

গিরিশচন্্র ও নাট্য সাহিত্য, পৃঃ ৭-৮। 

'মায়াবলানে'র প্রথম অংকের পঞ্চম গর্ভান্কে কালীকিংকরও বলিতেছে-আমার মতে ভারতের 

রিলিজদ ইউনিটি ভিন্ন অপর কোন ইউনিটি হ'তে পারে ন1।' 
২১ 


১৬২ বাংলা নাটকের ইতিহাস 


হইতে পাঁরে, কিন্তু আর্টের, ক্ষেত্রে সেই পাঁগলামিরও একটা বিশেষ ঢং ও রীতি থাকা 
আবশ্বক। কালীকিঙ্করের পাঁগলামিও স্বাভাবিক নতে। তিনি নেহাত ভাণ করিয়া 
পাঁগো'ল হইয়াছিলেন, এবং রঙ্গিণীর অন্তরোধেই হঠাৎ ভালো হইয়া উঠিলেন। কালীকিঙ্করের 
শিগ্ক! রঙ্গিণী বটে, কিন্তু নটকের মধ্যে তিনিই রঙ্গিণীর শিশ্যত্ব গ্রহণ করিয়। ক্ষমাধমের 
মাহাত্ম উপলব্ধি করিতে প।রিয়াছেন । 

॥ বলিদাঁন (১৯০৫) ॥ “বলিদ।ন” সমস্তাঁমুলক নাটক, এবং বোধ হয় একমাত্র এই নাঁটকেই 
গিরিশচন্দ্র সামাজিক সমস্ত। সম্বন্ধে প্রগতিমূলক মনোভাবের পরিচয় দিযাছেন। কন্ঠার বিবাহ 
সমস্তা। আমাদের সম।জের এক অতি বাস্তধ সমস্য» এবং অগ্ণপি সেখ সমস্ত। তিরোহিত হয় 
নাই । করুণা ময়ের ন্যায় অনেক শিত। কন্তার বিবাহে সব্ম্বীন্ত হইয়া সারা জীবনে চির অশান্তি 
ভোগ করিয়াছে, এবং কিরণমধী ও ভিরণুময়।র স্াঁয় বহু হতভাগিনা বাঙংলী ললন।র জীবন 
শোচনীয় পরিণতি লাভ করিয়াছে । খডালা সমাজের বন্। থে শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের পাত্রী 
এবং বাপের বাঁড়িরও গলগ্র* নাট্যকার তাহা নিপুণভাঁবে দেখাইযাছেন। বস্তত নারী চররিত্র- 
গুলি অঙ্কনে তিনি শ্ক্ম মনস্তত্থের পরিচয় দিয়াছেন | কিন্ধ গিরিশচন্দ্র তাহার উদ্দেশ্যের সভিত 
নাট্যকলার সামপ্রস্ত র।খিঙে পারেন নাই । ভিনি হয়তো ভাধিযাছেন যে ট্র্যাজেডির কারুণ্য 
আনিতে ন। পাঁরিলে সমন্য। সথদ্ধে দর্শকঝে সম্যকৃভাবে অবঠিত করা বাইবে না) সেইজন্য 
যেনাটকের মিলনান্ত পরিণতি হইতেছিল, অকম্মাৎ জবর্দদস্তি করিয়া তিনি তীাঁকে 
বিষাদের মধ্যে ডুবাইতে চাহিয়।ছেন। রূপচাদ এবং মোহিতমোগনের সঠিত করুণাময়ের 
মিলনে এবং কিশোর ও ক্যে।তিময়ার স্থখকর পরিণষে বিষাদের সুগুলি আনন্দের ঝঙ্কারে 
পরিণত হইয়াছিল । কিন্তু অকম্মাৎ এক বিপর্যয় ঘটিয! গেল। ছেড়া তারগুলি পুনরায় 
বাঁধিয়া যে বীণায় স্বর সংযোজন করা হুইল, কে যেন এক টানে সেই তরগুলি সজোরে 
ছি'ড়িয়া লইল। গিরিশচন্দ্র শান্ত্রবিহিত সতাত্্ধমকে রমণী অক্ষয় শিরোভূবণ বলিয়া সবত্র 
দেখাইয়াছেন, সেইজন্য চাহার স্ত্রী চরিত্রমাত্রহ স্বামীর চিন্ত। ও ভক্তিতে তন্ময এবং বিভোর । 
কিরণময়ী এবং জে|বির স্বামা নরাধম পাঁনগু হইলেও স্ত্রর কাছে পরম আরাধ্য দেবতা । 
ইহারা! স্বামীকে চেনে না, জানে না, বুঝে না- স্বামারূপ 10৩৪কেই ইহারা শ্রদ্ধা 
কয়িয়া, ভালোবাসিয়৷ থয়। ধিলিদান? নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র পূবালোচিত অনুরূপ 
চরিত্রগুলি অপেক্ষ। অনেক বেশি বলি ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন । তাগর মধ্যে নিরুপায় প্রলাপের 
আতিশব্য নাই । কন্ত|দের ছুদশায তাহার জদয় শতধা ছিন্ন হইয়া গেলেও তিনি নীরবে 
সমস্ত ছুঃথ সহ করিবার চেষ্টা করিধাছেন এবং কন্তাদের প্রতি স্নেহগ্রাবল্য গোপন করিয়া 
এক কঠোর ভাব অবলম্ন করিয়া গিয়ছেন। 

॥ শাস্তি ও শান্তি ১৯০৮) ॥ “শাস্তি কি শান্তি সমাজের বিধব|-সমস্ত। অবলম্বন কঁরিয়! 
রচিত হইয়াছে। বিধবার প্রেম এবং বিবাহ লইয়া বাংল! সাহিত্যে অনেক গ্রন্থ লিখিত হইয়াছে; 
বংকিমচন্দ্র হইতে শরতচন্দ্র পর্যন্ত বিভিন্ন লেখক সমস্যটী লইয়া আলোচন। করিয়াছেন । 
বংকিমচন্দ্র সমীজ-সংক্ক।র সম্বন্ধে প্রাচীনপন্থী এবং বৃক্ষণশীল ছিলেন, সেইজন্য 'বিধবার 


গিরিশচন্দ্র ঘোষ ১৬৩ 


চিত্তদৌর্বল্য এবং বিবাহ তিনি ক্ষমা! করিতে পাঁরেন নাই,১ কিন্ত রবীন্দ্রনাথ এবং বিশেষ করিয়া 
শরৎচন্দ্র বিধব! জীবনের করুণ ট্র্যাজেডি মর্মম্পর্শাভাবে বর্ণনা করিয়া! গিয়াছেন। গিরিশচন্দ্র 
বংকিমচন্ত্রের স্তাঁয় ধিধবাঁকে হৃদয়চালিত ন1 দেখিয়', শাস্ত্রশীসিত দেখিতে চাহিয়াছিলেন এবং 
সেইজন্য বিধবা চরিত্র আলোচনা] করিতে যাইয়া অমঙ্গলের ক্লেদ-পক্ক খাঁটিয়। দুর্গন্ধে সমন্ত নাটক 
ভরপূর করিয়া তুলিযাছেন। আর্টের তুলিকা ফেলিয়া তিনি নীতির কশা ধরিয়াছেন এবং 
সেইজন্য চরিত্রগুলির মনোহর চিত্র না ত্রাকিয়া, তাহদিগকে নির্ঘয় আঘাতে মারিয়া 
ফেলিয়াছেন। ভূবনমোহিনী এবং প্রকাশের প্রেমের আদানপ্রদান এবং দ্ন্ব তিনি বেশ 
পুঙ্থান্তপুঙ্থভাবে দেখাইতেছিলেন বটে কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাহার মনে হইল যে এইরূপ অমার্জনীয় 
স্থলনের জন্য সাঁজা প্রযৌজন, এবং সাজা তিনি দিয়াছেনও, অবশ্য একটু বেশি কঠোরভাবে। 
প্রমদার পুনরায় বিবাহ হইযাছে কিন্ত বিবাহিত বিধবার সুখী হইতে নই _এই ছুলজ্ব্য বিধান 
অন্যাধী সে তাভার বিবাঠিত জীবনকে বিক্কার দিয়া এক রীত্রিকার স্বামীর স্বগাঁয স্বতি বুকে 
করিয়। জাবন সফল করিয়াছে । নীতিশান্্ে হতো ইহার খুব মূলা ও মর্যাদা আছে, কিন্ত 
আর্টের ক্ষেত্রে ইহা অবিশ্বীশ্ত ও অস্বাভাবিক । গিরিশচন্দের আদর্শ বিধবা নিমলা, যে 
জদযের দ্বারে পাঁথর চাঁপ। দিষ। রুস্ৃতা ও ব্রহ্মচর্ণের ক্ষরধার পথে অবিচলিত ভাবে অগ্রসর 
হইতে পারে। বংকিমচন্দ্র বিধবাঁদের শান্তি দিযাছিলেন__কুন্দকে বিষ খাওয়াইয়৷ এবং 
রোহিণীকে পিস্তলের গুলিতে বধ করিষা । কিন্ধ গিরিশচন্্র একটা মৃত্যুতে সন্তষ্ট নহেন, 
ন|টকখাঁনিকে ককণ এবং বিষাঁদান্ত করিতে তিনি শেষ দৃশ্ঠে গটাপট মৃত্তা ঘটাইয়। দিয়াছেন, 
যেন কে কত ছুরিকাঘাঁতপ্তরিতে পারে তাগারই প্রতিবে।গিত৷ সেখানে চলিয়াছে। 

॥ গৃলক্ী (১৯১২) ॥ গিরিশচন্দ্রের মসশেষ সামাজিক নাটক "গৃলক্্মী” । নাটকখানির 
পঞ্চম অঙ্ক গিরিশচন্দ্ের মৃত্যুর পর তাহার পিতৃম্বস্রেষ দেবেন্দ্রনাথ খন্থু লিখিয়া দেন । 
দেবেক্্বাঁবু গিরিশচন্দের নাট্যরীতি খুব ভালোভাবেই পুঝিয়াছিলেন। সেইজন্য তিনি গিরিশ 
বাঁবুর অন্যান্য নাটকের অনকরণে এই নাটকেও প্রল।প, খুন, দারোগা-পুলিশ প্রভৃতি অতি 
সাধারণ বাঁপারগুলি আমদানী করিষ।ছেন। "গৃহলক্মা' ঘটনা এবং চরিত্রাঙ্কনের দিক দিয়। 
প্রফুল্ল” প্রভৃতি নাটকের পুনরাঁবর্তন মাত্র । তবে এই নাঁটকের চরিব্রগুলি খুব সজীব ও সক্রিয় 
হইয়াছে । গিরিশচন্দ্ের ন।রীচরিত্র হয সতী চুড়ামণি, অথব|। সমাজচ্যুত বেশ্যা, কিন্তু এই 
নাটকের চরিত্রগুলি অত স্পঈ ও সরল নয় । গৃহলক্ষমী বিরজাই গ্ররুতপক্ষে নাটকের কেন্দ্রীয় 
চরিত্র বিরজ! সকলের প্রতি অশেম শ্লেহময়ী এবং মমতাময়ী অথচ গৃহকত্রীর শক্তি এবং 
দৃঢ়তাঁও তাহার আছে, সংসাঁরকে রক্ষা করিবার জন্য তাভাঁর সবল প্রচেষ্ট। সর্বত্র লক্ষ্য করা 
যায়। যাঁহাঁদের সহিত তিনি ঝগড়া করেন তাহ1দের জন্যই তীভাঁর অপরিসীম মমতা হৃদয় 
সঞ্চিত রহিয়াছে। বিরজার ন্যায় ব্যগ্রনাময় কৌতুৃহলোদীপক নারী চরিত্র গিরিশচন্দ্র বেশি 


১। গিরিশচন্দ্র যে খধিদিগের সিষ্কাস্ত এবং আদেশ শিরোধার্য করিয়া! লইয়াছিলেন, তাহা! সহজেই 
বুঝ। যায় ।' “গিরিশচন্দ্র-_-অবিনাশ চন্দ্র গঙ্গো পীধ্যায়, পৃঃ ৫৫৯ । 


১৬৪ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


স্থজন করেন নাই। তরঙ্িণী পুত্রের সহায়তায় স্বামীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করিয়াছে--ইহাতেও 
একটু নূতনত্ব আছে। কারণ গিরিশচন্দ্রের নাটকে স্বাভাবিক স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধাচরণ 
করিয়াছে-_-এইরপ ঘটনা স্থলভ নহে। কুমুদিনী চরিত্রের মধ্যে বেশ্তা জীবনের জঘন্ 
বাস্তবতা চিত্রিত হইয়াছে । অন্তান্ত ভূমিকাগুলির মধ্যে কোনে! অভিনবত্ব নাই। 


শখ) এতিহাসিক নাটক 


গিরিশচন্দ্রের পৌরাণিক এবং সামাজিক নাটক যেমন অসাধারণ জনপ্রিয় হইয়াছিল, 
সাহার এতিহাসিক নাটক তেমন হয় নাই। ইহার কারণ বিশ্লেষণ করিতে গেলে 
তৎকালীন জনসাধারণের মানসিক প্রবণতা 'এবং চাহিদার দিকে লক্ষ্য করিতে হয়। 
গিরিশচন্দ্রের যুগ নব ধর্মোথানের যুগ । ধর্মাদর্শ এবং প্রাটীন সংস্কৃতি তখন সর্বসাধারণকে 
মাতাইয়! তুলিয়াছিল। ধর্মবিচ্ছিন্ন জাতীয়ভাব তখন লোকের চোখে গৌণ হইয়! আসিয়াছিল। 
গিরিশচন্দ্রের পূর্বে জ্যোতিরিন্্রনাথের এ্রতিহাসিক নাটকাঁবলী দেশের মধ্যে স্বদেশী ভাব 
উদ্দীপিত করিয়া তুলিয়াছিল। বাঙালীর সেই প্রথম জাতীয় উন্মাদনা | জ্যোতিরিন্রনাথের 
পর স্বদেশী ভাঁব-প্লাবন সাময়িক ভাবে শান্ত ও নিরুদ্ধগতি হইয়া পড়িয়াছিল। ১৯০৪- 
১৯০৫ সালে ক্ষীরোদপ্রসাদের প্রসিদ্ধ এঁতিহাসিক নাটক “প্রতাপাদিত্য' রুনার পর 
হইতে আবার এ্রতিহাসিক নাটকের যুগ আরম্ভ হইল১ এবং ইহাই এ্রতিহাসিক 
নাট্যসাহিত্যের স্ব্ণময় বুগ। গিরিশচন্দ্র এই সময়ে তাহার বিখ্যাত নাটক “সিরাজদ্দৌলা, 
প্রণয়ন করেন। তখন বঙ্গ ব্যবচ্ছেদের সময়, বাংলাদেশে তুমুল আন্দোলন সুরু হইয়াছে 
_পুরুষসিংহ স্থ্রেন্্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যয় রাজনৈতিক আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করিয়াছেন, 
সর্বত্র উত্তেজনা এবং বিক্ষোভের আর অন্ত নাই । এই সময়ে গিরিশচন্দ্র 'সিরাঁজদৌলা 
নাটকে বাঙালীর অতীত স্বাধীনতা সর্ষের অস্তরাগের করুণ রশ্শিগুলি ফুটাইয়! তুলিলেন, 
উৎসাহিত জনগণ সাঁদরে তাহা বন্দনা করিয়া লইল।২ “সিরাজদ্দৌলা*র পরে তিনি 
'মীরকাশিম' এবং “ছত্রপতি শিবাজী”_ এই ছুইথানা নাটক রচনা করেন এবং এ্রতিহাসিক 
নাটক হিসাবে এই তিনখানা সর্বাপেক্ষা সার্থক স্থষ্টি। 
গিরিশচন্দরের ধ্িতিহাসিক নাটকের একটা প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট্য এই যে, তিনি যথাসম্ভব 
ইতিহাসের প্রতি আনুগত্য রক্ষা করিয়াই নাটক লিখিতেন। কোনে! এ্রতিহাঁসিক কাহিনী 
সম্বন্ধে নাটক লিখিবার পূর্বে তিনি সেই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করিয়া বিশেষ 


১। অপরেশ চন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের 'রঙ্গালয়ে ত্রিশ বৎসর'--পৃঃ »৬ ষ্টব্য। 
২। এ পৃষ্ঠা ১*৭--১১* জষ্টবা। 


খিরিশচজ্্র ঘোষ ১৬৫ 


অভিনিবেশ সহকাঁরে পড়াশুনা! করিতেন।১ ইহাতে তাহার নাটকগুলি এ্রতিহাসিক নিষ্ঠা ও 
মর্যাদা লাভ করিয়াছে । এঁতিহাসিক নাটকের মধ্যে একটা উন্নত মহিমময় £81706017 
থাকা! প্রয়োজন এবং গিরিশচন্দ্রের নাটকে তাহা ভালোভাবেই আছে। বীররস পরিষ্ফুরণে 
তাহার স্বাভাবিক ক্ষমতা ছিল। ঘটনার তীব্র ঘাত-প্রাতিঘাতে এবং শক্তিশালী ভাষার 
প্রয়োগে নাটকগুলি বীররসাত্মক হইয়া! উঠিয়াছে। গিরিশচন্দ্রের এতিহাসিক নাটকে গগ্ভ 
এবং পদ্য উভয় প্রকার ভাষাঁ-রীতিই আছে। দ্বিজেন্দ্রলাল এবং ক্ষীরোদপ্রসাদের 
নাটকে পদ্য একেবারে বঞ্জিত টি এবং ভাষায় তাহ৷ সম্পূর্ণ্ূপে আধুনিকত৷ প্রাপ্ত 
হইয়াছে । 

গিরিশচন্দ্রের প্রথম সার্থক এ্রতিহাসিক নাটক “5, 1২ টডের “রাজস্থান+-অস্ততুক্তি 
£01815 ০0 7০%2:এর সপ্তম পরিচ্ছেদে চণ্ডের কাহিনী বধিত আছে। সেই কাহিনীর, 
সহিত এঁক্য রাখিয়া গিরিশচন্দ্র নাটক রচনা করিয়াছেন। কাহিনীটার মধ্যে নাটকীয় 
উপাদান যথেষ্ট রহিয়াছে, এবং নাট্যকার নাটকীয় সংস্থান সৃষ্টি করিতে বিশেষ কলাকৌশলের 
পরিচয় দিয়াছেন । নাটকের মধ্যে প্রেম ঈর্ষ৷ গ্রভৃতি হৃদয়বৃত্তির লীল! থাঁকিলেও মেবাঁর ও 
রাঠোরের বিরোধের বিষয়টী ভালোভাবে প্রদিত হইয়াছে । নাটকগানি অমিত্র ছন্দে 
রচিত এবং মাঝে মাঝে গছ্যও আছে। অমিত্র ছন্দ ব্যবহারে গিরিশচন্দ্র পরিপূর্ণ ক্ষমতার 
পরিচয় দিয়াছিলেন, বীর রস পরিস্ফুটনে এই ছন্দ বিশেষ কার্যকর হইয়াছে । চগ্ডে*র মধ্যে 
অবান্তর ও দুর্বল অংশ খুব কমই আছে। দৃঢ় সংহত ঘটনারাশি যেন ঝড়ের বেগে বহিয়! 
গিয়াছে। চণ্ডের আক্রমণ-দৃশ্ঠের মত উত্তেজনাপূর্ণ বীররসা ত্বক দৃশ্য খুব কম নাঁটকেই আছে। 
চণ্ড বীরত্ব ও মহবেী আধার, ভীম্ষের স্তায় ত্যাগী এবং উদ্দার_-সে কাঁমাতুর পিতার বিবাহ 
দিয়াছে, নিজে রাঁজ্যভোগের সব আশা ত্যাগ করিয়াছে এবং প্রত বিষয়বিরাগী সন্াসীর 
্টায় ভ্রাতার রাজ্য চালাইয়াছে। যে বিমাত। এতে অন্যায় করিয়াছে তাহার প্রতি চণ্ডের 
ভক্তি শ্রদ্ধার আর সীমা নাই। চগ্ডের চরিত্র আগাগোড়া যদি এক্নপ থাকিত তবে হয়তো 
মহাপুরুষ বলিয়া! তাহাকে শ্রদ্ধা করিতাম, কিন্তু হৃদয়বান প্রবৃত্ভতিময় মানুষরূপে তাহাকে দেখিতে 
পাইতাম না। কিন্তু শেষে চণ্ডের ছুর্জয় প্রতিশোধস্পৃহা এবং অমিত বীর্য আমাদিগকে 
বুঝাইয়া দেয় যে, বাধ ভন্মাচ্ছাঁদিত থাকে বলিয়াই তাহার অন্তিত্ব সম্বন্ধে সন্দেহ কবার 
কোনো কারণ নাই । চণ্ডের যোগ্য প্রাতিদন্দ্বী রাঠোরাধিপতি রণমল্ল । তৃষ্ণার্ত অজগরের 
মত ক্রের জিহ্বা দ্বারা লেহন করিয়া! সে সমস্ত মেবার-বংশকে শুফ করিয়া ফেলিতেছিল। 


১। ভীহার লিখিবার একট পদ্ধতি ছিল এই যে তিনি যে বিষয় লিখিতেন, মে বিষয়ের যাহ! কিছু 
জ্ঞাতব্য, তাহ! পুঙ্থম্ুপুত্থরূপে ন! জানিয়। 'প্ীদুর্গা' কীদিতেন ন।।' 
'রঙ্গালয়ে ত্রিশ বংসর'--পৃহ ১২৮। 
২।. অবশ্ঠ 'আনন্দরহো* সর্বপ্রথম এতিহাঁসিক নাটক হইলেও, ইহ! নিতাক্জ অক্ষম রচনা বৃলিয়! 


১৬৬ বাংল৷ নাটকের ইতিহাস 


অস্তিম দৃষ্ঠে তাহার স্পর্ধিত বীরত্ব দেখিয়। আমর! বুঝি যে সে কামান্ধ নির্ণয় দুর্বত্ত হইতে পারে 
কিন্ত কখনে। কাপুরুষ নয়। তাঁহার মৃত্যুর সময় মনে হয় যেন একটা অশুভ নক্ষত্র খসিয়া 
পড়িল। নাটকের মধ্যে রঘুদেবজীর সামান্ অংশই আছে। কিন্তু জুলিয়াস সিজারের 
মৃত্যুর পরও যেমন তাহার ভাব (82110 নাটকের মধ্যে প্রাধান্ত লাভ করিয়াছে, তেমনি 
রথুদেবের স্বতি এই নাটকেও সব চরিব্রগুলিকে অস্প্রাণিত করিয়! রাখিয়াছে।১ বিজরীর 
প্রেম এবং প্রতিহিংসা নাট্যকারের মৌলিক স্থাষ্টি। বিজরীর চরিত্র অঙ্কন করিয়! নাট্যকার 
রঘুদদেবের মৃত্যু এবং রণমল্লর পতনের সঙ্গত কারণ দেখাইয়াছেন। বিজরী সব ঘটনাগুলিকে 
দৃঢ় রজ্জুর দ্বারা একত্রে বাঁধিয়াছে। 

॥ ভ্রান্তি (১৯০২) ॥ 'ত্রানস্তি' নাট কখানাকে এ্তিহাসিক নাটক বলা হয়তো! সঙ্গত হইবে না, 
কারণ নাটকের মধ্যে এ্রতিহাসিক বাঁধুনি খুবই আলগা এবং অসংলগ্ন, কোনো! ইতিবৃত্ব-মূলক 
ঘটনার প্রাধান্থও ইহাতে নাই। ইতিহাসের ছাঁয়৷ থাকিলেও ইহাঁকে প্রেম এবং ঈর্ধামূলক 
রোমার্টিক নাটক বলাই বোধ হয় সমীচীন । নাটক হিসাবে ইহা নিতান্ত নিকৃষ্ট । ইহার ঘটনা 
সংস্থাপন, চরিত্র-চিত্রণ, কথোপকথন কিছুই উল্লেখযোগ্য নহে । নাটকের যে মূল ত্রাস্তি তাহা 
নিতান্ত তুচ্ছ ও সামান্। নিরঞ্জন যদি ললিতার নাম মাধুরী বলিয়া! ভূল না করিত, তবে এই 
বিরাট নাটকের এতে। ব্যাপার কিছুই ঘটিত ন1। গ্রীকগণ ভূলকে পাপ বলিয়! মনে করিতেন 
বটে, এবং ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়া সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত বিধান করিতেন ।২ কিন্তু সেই ভূল 
সর্বত্র বিশেষ গুরুতর ও মারাত্মক হইত । ইডিপাসের মতো চরম ভূল যে করিয়াছে, তাহার 
চরিত্রই কেবল ই্রণাঁজেডিতে অবসিত হইয়াছে। কিন্ত ত্রাস্তি' নাটকের তুল নিতান্তই অতি 
সাধারণ আকম্মিকতার উপর প্রতিঠিত। নিরঞ্জন এবং ললিতার মধ্যে কয়েকবার দেখ 
হইয়াছে, কথাবার্তা হইয়াছে, অথচ যাহা মুখের একটি কথাতেই উড়িয়া যাইত, তাহাঁকেই 
অনর্থক পাকের পরে পাকে ঘোরালো৷ করা হইয়াছে । কোনো ঘটনারই যৌক্তিকতা নাই। 
নাট্যকার গায়ের জে'রে যেন কতকগুলি দৃশ্য ঢুকাইয়! দ্রিরাছেন। আকম্মিক কিংবা দৈব 
ঘটনা! কমেডির বিষয় হইতে পাঁরে। আলোচ্য নাটকের ত্রাস্তিও চমত্কার কমেডি ত্য 
করিতে পারিত, নাট্যকার নাটকখানাকে ট্র্যাজেডি করিতে যাইয়া সব মাটি 
করিয়াছেন । 


৮7851070655 88 ৪০0 10001) 10910%60. 10] 1018 %12৮065, 00018568110. 17791)] 0689065, 


(1886 1018 1000057 10508709 10816510070, 8700 00010060 10 19120 01511)6 101)08179, 8100 0 101809 
&70017686 05০ 11 19098 (07601 ৫65৪) 01 11691, 
*870105]8 01 019৮81 (28510917012), 

গ্রীক ট্রাজেডির আলোচন। প্রসঙ্গে ডা. 21. 10:500 বলিয়াছেন_ 

"76 819]] 006 0০ 197 106 01 006 (00) 1 দত 9৪৪5 008) 10] 10106 ০1627-6760 
1106110960911810, 0£ 009 0166৪ 6270 98 811) 810 ৪11) ০7707, ]0190910101901010, ঠা) ৪100, ৪ 
(00) 01 £01]ট 102 11100) 29৮06 1090 100 1020 €]0698 

| 770082/-0, 2917 861 


শিরিশটজ্ ঘোষ ১৬৭ 

॥ সতনাম (১৯০৪) ॥ মৌগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে যে সৎনামী সম্প্রদায়ের বিদ্রোহ 
হইয়াছিল সেই কাহিনী লইয়া গিরিশচন্দ্র 'সৎনাঁম” বা «বৈষ্ণবী” নাটক প্রণয়ন করেন। 
ক্বাধীনতাকামী, ব্রতধারী সম্প্রদায়ের আশ! ও আশাভঙ্গের কথা নাটকে চমতকার ফুটিয়াছে। 
প্রদীন্ত স্বদেশপ্রেমের সহিত হৃদয়-বৃত্তির দুর্বল তাঁড়নার ঘন্দ কি ভাবে মহৎ ব্রতভঙ্গ করিয়া 
দিতে পার তাহার শোচনীয় দৃষ্টান্ত বন্িমচন্দ্র দেখাইয়াছিলেন আবনন্দ-মঠের ভবানন্দ চরিত্রে, 
এবং গিরিশচন্দ্র দেখাইলেন রণেন্র্র চরিত্রে । কিন্তু ভবানন্দ শেষপধন্ত স্বাধীনতার, যুদ্ধে 
নিজের দুর্বলতার ঞয়শ্চিত্ত করিয়াছে, আর রণেন্দ্র যেন মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তেও ছূর্বলতার কাছে 
আত্মসমর্পণ করিয়াছে । “আনন্দমঠে'র ন্যায় “বৈষ্বী” নাটকেও স্বদেশ-প্রেমের প্রবল 
জলপ্রবাহের মধ্যে হৃদয়ের দুশ্রতিরোধ্য সনাতন প্রবৃত্তি এক একটা! জটিল ঘৃর্্যাবতের ্থষট 
করিয়াছে, এবং সেই আবর্তের মাঝে শক্তিধর ব্রতনিষ্ঠও তলাইয়া গিয়াছে । ছিন্ন-বিচ্ছিন, 
ব্রতচ্যুত, হতগৌরব সম্প্রাদায়িংদর ছুর্দশা দেখিয়া বিদ্রোহের মূল চালক ফকিররাম যে মর্মবিদারী 
খেদোক্তি করিয়াছে, তাহাতে মনে হয় আমাদের পঞ্জরের একটার পর একটা হাড় যেন খমিয়া 
যাইতেছে । নাটকখানির সর্বপ্রধান ক্রটি হইতেছে মৃত্যুর বাহুল্য, পর পর সাতটি চরিত্রের পতন 
ও মৃত্যু ঘটা ইয়া গিরিশচন্দ্র নাট কথানির সর্বনাশ করিয়াছেন,্র্যাজেডির গম্ভীর মাহাত্ম্য নিতান্ত 
হাস্যকর ছেলেমান্ুষীতে পর্যবসিত হইয়াছে । নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র বৈষ্বী শক্তিশালী 
বীরাঙ্গনা হইলেও রণেন্ত্র, ফকিররাম, চরণদাঁস প্রভৃতি অনেকগুলি প্রধান ভূমিকার পাশে 
তেমন একচ্ছত্র স্বাতন্ত্রা লাভ করিতে পারে নাই। চরণদাসের তীক্ষ বুদ্ধি ও কৌশল 'এবং 
গুরুর প্রতি তাহার, অহেতুকী ভক্তি এই ভূমিকাঁটিকে বেশ সরস ও প্রাণবান করিয়াছে। 
গুলসানার প্রেম এবং প্রতিহিংসার ঘন্দ ও বিশেষ চমৎকারিত্বপূর্ণ হইয়াছে । তবে 
মনে ঘটনা এবং চরিত্রগুলি যেন তাহার বড়ো বেশি বশীতৃত হইয়াছে । সৎনামীর! 
তাচাকে সর্বনাশের কারণ জানিয়াও যেন নিঃশক্তি হৃতবল হইয়। পড়িয়াছে, তাহাকে যেন 
অলজ্ঘ্য শক্তি বলিয়া মান্য়া লইয়াছে, তাহাকে দমন করিবার তেমন চেষ্টা করে নাই। 

'বাসর এবং “অশোকে'র প্রধান চরিত্রগুলি রতিহাসিক, সেই জন্ত এ্রতিহাসিক 
নাটকের সহিত ইহাদের আলোচনা! করা হইতেছে; কিন্তু বস্ততপক্ষে এই নাটক ছুইথানির 
মধ্যে প্রতিহাসিক ভাব এবং আবহাওয়ার (৪0050511567) একান্ত অভাব। এ্রতিহাসিক. 
নাটকের অঙ্গীভূত বীররসও ইহাদের মধ্যে নাই; “বাসরে'র মধ্যে গীতি এবং হান্তরস ও 
'অশোকে'র মধ্যে ধর্মের প্রাধান্য পরিস্ফুট হইয়াছে । “বাসর'কে রোমা/্টিক এবং “অশোক'কে 
ধর্মমূলক নাটক বলিলে অন্তাঁয় হয় না। 

॥ বাসর (১৯০৬) ॥ 'বাসর” নাটকের কাহিনীটি বিশেষ চমকপ্রদ, বিক্রমািত্যের পরিচয় 
বিশ্বাবতীর কাছে অপরিজ্ঞীত রাঁখিয়। নাট্যকার যে 515087755এর স্থষ্টি করিয়াছেন তাহা 
খুব কৌতৃহলোদ্ীপক হইয়াছে । নাটকটার মধ্যে অনেকগুলি গীত আছে। ছেলে তুলানো 
ছড়ার মতে। গীতগুলি কানের মধ্যে যেন কেবলি অনুরণিত হইতে থাকে । হাশ্যরসাত্মক 
চরিত্র নাটকের মধ্যে উচ্ছৃসিত হাশ্ারস উদ্রেক করে। 


১৬৮ ধাংলা নাটকের ইতিহাস 


॥ অশোক (১৯১১) ॥ ইতিহাসের প্রতি যথাযোগ্য বিশ্বস্ততা রক্ষা করিয়া, নিজের মৌলিক 
করনাও খানিকটা মিশাইয়। গিরিশচন্দ্র অশোক” নাটক রচনা করিয়াছেন ।১ অশোক সম্বন্ধীয় 
সমস্ত প্রধান ঘটনাগুলি বর্ণনা! করিতে যাইয়া নাট্যকার নাটকীয় এক্য অনেক স্থলে নষ্ট 
করিয়াছেন, এবং চরিব্রগুলি ক্রমবিকসিত ব্ূপ লাভ করিতে পারে নাই। এ্রতিহাসিক নাটক- 
হইলেও ধর্মভাবের প্রাধান্য ইহার মধ্যে বিশেষ ভাবেই আছে। শেষদিকে বৌদ্ধ ধর্মাপ্নব নাটক 
থাঁনিকে আচ্ছন্ন করিয়া রাখিয়াছে। মার ও তৃষ৷ গ্রন্থের মধ্যে অতিশয় প্রাধান্ত লাভ করিয়াছে 
এবং সেইজন্য এই ছুইশক্তির সহিত ধর্মাশিত ব্যক্তিদের ধর্মমূলক ছন্দই নাটকের মধ্যে যেন 
বন্তুব্য তব হইয়। দড়াইয়াছে। “অশোক” নাটকে ব্যভিচার, নিটুরতা, হত্যা! প্রভৃতি সর্বপ্রকার 
বীভৎস পাপলীলা'র বর্ণনা আছে, কিন্ত অসংলগ্ন ভাবে ঘটিয়াছে বলিয়াই এই সব ঘটন মনের 
উপর প্রভাব বিস্তার করিতে পারে না। অশোক চরিত্রের ছুই রূপ--চণ্ডাশোক এবং 
ধর্মাশোক। নাটকের মধ্যে অশোক বহুতর নৃশংস কাজ করিয়াছেন, এমন কি ধর্মত্ব লাভ 
করিয়াও তিনি জৈনদের উপর অকথ্য অত্যাচার, বেশ্ঠাসক্তি প্রভৃতি পাঁপ-কর্মে লিপ্ত 
হইয়াছেন, সেইজন্য তাহার চরিত্রের মাহাত্ম্যমণ্ডিত, শ্রদ্ধাব্যঞ্রক দিকটা তেমন বিকসিত 
হয় নাই। শেষ দৃশ্েই অশোক পরিপূর্ণ ধর্মভাব লাভ করিয়াছেন। অন্যান্য চরিত্রের 
মধ্যে বীতশোক চরিত্রটা চমৎকার হইয়াছে । আকালের স্তায় প্রভৃভক্ত হাস্তরসিক চরিত্র 
গিরিশচন্দ্র বহু স্া্টি করিয়াছেন। সেইজন্য এই ভূমিকার মধ্যে নৃতনত্ব নাই। 

॥ সিরাঁজদ্দৌলা (১৯০৬) ॥ গিরিশচন্দ্র যখন “সিরাজদ্দোল1” নাটক রচনা করেন তখন 
শঁতিহাঁসিক নাটকের স্বর্ণযুগ সুরু হইয়াছে । নবজাগ্রত বাঙালীর চিত্তবিক্ষোভ সে-সময় 
ঘিজেনদত্রলাল ও ক্ষীরোদপ্রসাদের নাট্য প্রতিভাকে অনুরণিত করিতে আরম্ভ করিয়াছে। 
গিরিশচন্দ্র সমসাময়িক নাঁট্যপ্রবণতাঁর দিকে উদাসীন থাকিতে পারিলেন না, কিছু 
কালের জন্য ভক্তিসিক্ত পৌরাণিক জগৎ ও অশ্রপুত সামাজিক সংসার হইতে তাহার 
দৃষ্টিকে ফিরাইয়া লইয়া উদান্ুভাবরঞ্জিত এঁতিহাসিক লীলাভূমির দিকে প্রসারিত 
করিলেন। এই নূতন নাট্য-সাধনাতেও তিনি সাফল্য লাভ করিলেন। তাহার 
প্রথম প্রতিহাসিক নাটক সিরাজন্দৌল! প্রশংসিত ও সম্বধিত হইল-_স্বয়ং গিরিশচন্দ্রের কথায়, 
«আমার সিরাঁজদ্দৌলা যে জনপ্রিয় হইয়াছে শুনিতে পাই, তাহা আমার সৌভাগ্য ।' 
পরবর্তিকালের ফেনকল্লৌোলিত ্রতিহাসিক নাট্যধাঁরায় সিরাজদৌলার ছুঃখভী রাক্রাস্ত 
জাতীয়তাবাদ যে অনেকখানি প্রভাব বিস্তার করিয়াছিল সে বিষয়েও কোন 
সন্দেহ নাই। 


১। সে সময় অশোক সম্বন্ধে যাহা! কিছু এতিহাসিক তত্ব আবিষ্কৃত হইয়াছিল, গিরিশচন্দ্র তন্নতরর 
তীহার অনুসন্ধ।ন করিয়া লিপিবদ্ধ করিয়াছেন, তবে নাটক ইতিহাস নহে, ইতিহাসকে নাটকে পরিণত 
ফরিতে য।হা। কিছু আবগ্ঠক, গিরিশচন্দ্র নি:শক্কচিত্তে দে সকল গ্রহণ করিয়।ছেন। 

“গিরিশ্ন্ত্র'--অবিনাশ চন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায় পৃঃ ৫৭২। 


গিরিশচন্দ্র ঘোষ ১৬৯ 


£সিরাঁজন্দৌলা' রচনা করিবার পূর্বে গিরিশচন্দ্র বিশেষ যত্ব ও পরিশ্রম সহকারে বাংলার 
এই হতভাগ্য নবাব সম্বন্ধে দেশী ও বিদেশী যাবতীয় এতিহাসিক তথ্য অনুসন্ধান 
করিয়াছিলেন। কিন্তু বিদেশী লেখকদের ইতিহাস হইতে কোন কোন ঘটন! গ্রহণ 
করিলেও দেশী লেখকদের, বিশেষ করিগ্া অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ও নিখিলনাথ রায়ের 
নবলদ্ধ এ্রতিহাসিক তথ্যই তাহার নাটকের মূল প্রেরণ জোগাইয়াছে। জাতীয়তাবাদী 
বাঙালী এঁতিহাসিকদের সত্যসন্ধিৎসা তাহাকে এতখাঁনি প্রভাবান্বিত করিয়াছিল যে, 
তাহার নাটক পড়িলেই মনে হয়, নান! যুক্তি ও বিচারের দ্বারা বিপক্ষ মত খণ্ডন করিয়! 
একটি নৃতন প্রতিহাসিক সত্য উদ্ঘাটন করা যেন ত্াহারও উদ্দেশ্য । সেজন্য তাহার 
নাটকে অনেকস্থলেই রসাশ্রয়ী কথা ও কাহিনীর পরিবর্তে ইতিবৃত্তমূলক ঘটন! ও বক্তৃতার 
প্রাধান্য দেখা! গিয়াছে - এ্রতিহাসিক আসিয়া যেন নাট্যকারের পথরোধ করিয়া 
দাড়াইয়াছেন। কিন্তু ইতিহাসের প্রতি এতখানি আগ্রহ ও আঙ্গগত্য থাকা সত্বেও তাহার 
নাটকীয় রসের প্রেরণা ও পরিণতির মধ্যে প্রকৃত ইতিহণসের মর্াদা কতখানি রক্ষিত 
হইয়াছে সে আলোচনাই এখন আমরা করিব। 

সিরাজদ্ৌলার সিংহাসন-প্রাপ্তির সময় হইতে নাটকের আরম্ভ এবং তাহার শোচনীয় 
পরিণতির পর মীরজাফরের মসনদলাভে ইহার সমাপ্ত ঘটিয়াছে। বাংলার এই শেষ 
স্বাধীন নবাব যে অশুভ মুহূর্তে সিংহাসনে আরোহণ করিয়াছিলেন তখন হইতে চতুর্দিকে 
যে বিষশ্বসিত অন্তবিরোধের কুষ্ণকুটিল মেঘরাশি সেই সিংহাঁসনকে আচ্ছাদিত করিয়া 
ফেলিয়াছিল তাহা বাংলার ইতিহাসের চিরন্তন লজ্জা-কলঙ্কিত অধ্যায় রচন৷ 
করিয়াছে। সেই অধ্যায় দুঃখবিচলিত নাট্যকারের নাটকে সম্পূর্ণ রূপ লাভ 
করিয়াছে । সিরাজের বিরুদ্ধে ঘসেটা-রাজবল্লভ-মীরজাফর প্রভৃতির ষড়যন্ত্র সওকতজন্দের 
পতন, ইংরাঁজের সহিত বিরোধ ও পলাশীক্ষেত্রে তাহার ছুঃখাবহ পরিণতি, সিরাজের 
মর্মান্তিক মৃত্যু ইত্যাদি মূল এ্ঁতিহাসিক ঘটনাগুলি প্রায় যথাযথ বণিত হইয়াছে 
দুই এক জায়গায় কেবল কিন্বদন্তীর উপর নির্ভর কর! হইয়াছে । নাটকের সাধারণ চরিত্র 
গুলি মোটামুটি এ্রতিহাসিক রূপের সহিত অভিন্ন হইয়া উঠিয়াছে। জায়গায় জায়গায় 
নাট্যকার ইতিহাসের পূর্ণতর রূপ দেখাইয়াছেন ; যেন দাঁনশা চরিত্রটি । দানশার পূর্ববঙ্গীয় 
কথ৷ ও তাহার প্রতিহিংসাবৃত্তির যে সকারণ ঘটনাশ্রিত রূপ নাঁটকে পরিস্ফুট কর! হইয়াছে 
তাহাতে চরিত্রটির নাটকীয় উপযোগিতা অনেকখানি বৃদ্ধি পাইয়াছে। সিরাজ-পত্বী 
লুংফউন্নেসার যে ছুঃখ-মমতা৷ ও সহিষুণতাঁয় গড়া মুতি নাটকে দেখান হইয়াছে তাহাও 
ইতিহাসের বস্তময়ত! ছাড়াইয়৷ কারুণ্যের রসলোকে প্রবেশ করিয়াছে ।১ কিন্তু আমাদের. 
অভিযোগ এই যে, নাট্যকার প্রধান তিনটি চরিত্রের বেলাতেই ইতিহাসকে হয় আচ্ছন্ন, 


১। নাট্যকার সম্ভবত নিখিলনাথ রায়ের মুপিদাবাদ কাহিনীর 'লুৎ্ফ-উন্লেসা' ও 'খোসবাগ' প্রবন্ধ 
চুইটি ছার! প্রভাবাদিতৃ হইয়া! লুংফউন্লেস।র চরিঞ্রটি অঙ্কতি করিয়াছেন। 
২২ 


১৭০ বাংল! নাটকের ইতিহাদ 


আঁর ন! হয় অগ্রাহ করিয়াছেন। এই তিনটি চরিত্র হইল নায়ক সিরাজন্দৌল!। 
প্রধান পার্খ-চরিত্র করিমচাঁচা ও নাটকের প্রলয়ঙ্করী নিয়নত্রী শক্তি জহরা। 
সিরাজদ্দৌল! সম্বন্ধে নাট্যকার কিরূপ ধারণা গঠন করিয়াছিলেন তাহা তাহার 

ভূমিকাঁতেই উল্লিখিত হইয়াছে । দেশীয় এ্রতিহাসিকগণ বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে 
রাজনৈতিক ও প্রজাবংসল সিরাজে”র যে স্বরূপ উদ্ঘাটন করিয়াছিলেন তাহাই নাট্যকারের 
মানসকল্পনায় অঙ্কিত হইয়া ছিল। নাট্যকার সিরাজের মুখে শুনাইলেন, 

“রাজকাধ্য নহে স্বেচ্ছাচার, 

নবাব রাজার ভৃত্য, প্রভু প্রজাগণে ; 

গ্রজার মঙ্গলকার্য সতত সাধন, 

নবাঁরের উদ্দেশ্য জীবনে ।" 
নাটকের শেষে করিমচাঁচ। জহরাকে বলিয়াছে, “বাহাছুরী তো নিলে, কিন্তু যে নবাব, 
হোঁসেনকুলিকে কেটেছিল, তার কিছু করতে পারলে না । সে ছিল মাতাল,_আর এ হচ্ছে 
প্রজীপালক নিরীহ নবাব”! এই সব উক্তির মধ্য দ্রিয়। সিরাজচরিত্রের উপর যে আলোকপাত 
কর! হইয়াছে তাহা কি সত্যই প্রকৃত ইতিহাস-সম্মত ? বিদেশী এ্রতিহাসিক বিছবষচাঁলিত 
হইয়া প্রত ইতিহাসকে বিকৃত করিয়াছিলেন তাহ! সত্য কিন্ত ামাদের এঁতিহাসিকগণও 
এককালে জাতীয় ভাবে অন্থপ্রাণিত হইয়! বিরূপ সত্যকে ভাবের মায়াজালে রডীন ও মধুর 
করিয়া তুলিয়াছিলেন। আমরা এঁতিহাসিক নহি, ইতিহাসের সত্যাসত্য নির্ণয় করিবার 
ক্ষমত! আমাদের নাই । কিন্তু এতিহাসিক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ও নাট্যকার গিরিশচন্দ্র 
সিরাঙ্ের যে চরিত্র চিত্রিত করিলেন তাহার সহিত নবাবের সমসাময়িক অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য 
ধ্রতিহাসিক বিবরণের কোন মিল খু'জিয়া ন| পাইয়! বিভ্রান্ত হই। সিরাঁজ সিংহাসন 
প্রাপ্তির পরেও মোটেই নিরীহ ও প্রজাবৎসল ছিলেন না, তাহা প্রসিদ্ধ প্রতিহাসিক গোলাম 
হেসেনের মুতক্ষরীণে বাঁর বার উল্লেখ কর! হইয়াছে । মুতক্ষরীণে সিরা সম্বন্ধে বলা 
হইয়াছে বে, তিনি জগৎ সম্বন্ধে অজ্ঞ ও অনভিজ্ঞ, অতিশয় নিবোধ ও দাম্ভিক এবং 
হিতাঁঠ্তি ও পাপপুণ্য-জ্ঞানশৃন্ত ছিলেন।১ সিরাজের বিরুদ্ধে যে তৎকালীন প্রায় সমস্ত 
প্রভাব ও প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তিগণ এাড়াইয়াছিলেন তাহ৷ জাতীয় বিশ্বীসঘাতকত। সন্দেহ 
নাই । কিন্ত এই বিশ্বাসঘাতকতার জন্ঠ সর্বাপেক্ষা বেশি দাঁয়ী স্বয়ং নবাব। রাজ্যের প্রধান 
প্রধান অমাত্য ও সেনাপতি এবং সম্মানভাজন ব্যক্তিগণ সিরাজের দ্বারা লাঞ্চিত ও অপমানিত 


১: 48 10110170790], 10৩ 70910100106 01 039 ৮0710, 9100. 11009101012 6০ 0909 & 
10880100916 198, 19০110৮0061] 00816069 01 90189 8100 1)61766790101) 870. 3০61725170৪ 11090. 
80 0108001001)7 01)0 51170706 01 1%0181)06, &1)0. 59 £1005 8110 11)095198660. ৮100) 006 17768 ০01 
০0001) ৪100 [9০016]: 2110 00110110101) 0096 1)6 1000৮ 700 018011)96101) 086%136 £০9০০ 8100 1090, 
7001: 1)6৮৮1506 51০6 200 17609, 

৪61] 01090190117) ( ৬০] ]] 0, 0. 188-189 


গিরিশচজ্জ ঘোষ ১৭১ 


হইয়াই তাহার শাসন উচ্ছেদ করিতে বদ্ধপরিকর হইয়াছিলেন।১ তাঁদের কার্য কোনি- 
ক্রমে সমর্থন করা যায় না, কিন্ত সিরাজের আঁচরণও কিছুতেই প্রশংসা করা চলে না। শুধু 
কেবল প্রধান ও পদস্থ ব্যক্তিগণ নহেন, সাধারণ লোকও তৎকালে এই বিলাসী ও ্বেচ্ছাচারী 
নবাঁবকে যে খুব সমর্থন করিত তাহীও মনে হয় না। পলাশীক্ষেত্র হইতে পলায়নের পর 
সিরাজ রাজকোষের সমস্ত ধন ও রত্বরাশি উন্ুক্ত করিয়! দিয়াও সাধারণের সমর্থন ও 
সহানুভূতি লাভ করিতে পারিলেন না ।২ রণক্ষেত্রে ও রাঁজদরবারে সিরাজের কোন 
অসাধারণ সাহস ও স্বদেশহিতৈষণার পরিচয়ও ইতিহাসে পাওয়া যায় না । নাঁটকে সিরাজের 
মুখে আমর। শুনি 

শত্রজ্ঞানে ফিরিঙগিরে কর পরিহার ; 

বিদেশী ফিরিঙ্গি কভু নহে আপনার, 

স্বার্থপর চাহে মাত্র রাজ্য-অধিকাঁর । 

হও সবে যুদ্ধার্থে প্রস্থত। 
কিন্তু ইতিহাসে এসব কথার কৌন প্রতিধ্বনি আমর! খু*জিয়া পাই না। মূতক্ষরীণে লেখা 
আছে যে অত্যন্ত অনিচ্ছা ও অন্ুৎসাচের সহ্চিতই সিরাজ পলাশীক্ষেত্রের দিকে রওনা 
হইয়াছিলেন এবং যৃদ্ধক্ষেত্রে সৈন্তগণের বিশৃঙ্খল! ও পলায়ন দেখিয়! নিতান্ত কাপুরুষের মতই 
গশ্চাদপসরণ করিয়াছিলেন ।৩ রাজধানীতে ফিরিয়া আসিয়াও সিরাজ নিজের নিরাপত্তার 
জন্য যতখানি ব্যাকুল হইযাঁছিলেন রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য ততখানি ব্যাকুল হন নাই। 
কিন্ত এসব সত্বেও সিরাঁজচরিত্র জাতীয় দৃষ্টিতে অত্যন্ত করুণ ও শোকাবহ । সেই কারুণ্য ও 
শোঁকাঁবহতা ফুটাইতে যাঁইয়াই নাট্যকারকে ইতিহাসের অগ্রীতিকর সত্যকে আচ্ছন্ন 
করিতে হইয়াছে। 

নাটকের অপর ছুইটি প্রধান চরিত্র যে সম্পূর্ণ অনৈতিহীসিক তাহা নাট্যকাঁরও স্বীকার 

করিয়াছেন। কিন্কু নাটকের মধ্যে এই অনৈতিহাঁসিক স্বীকৃতি অত্যন্ত হাশ্তকর হইয়াছে। 
করিমচাঁচা জহরাকে বলিয়াছে, “এত করেও ইতিহাসে স্থান পেলে না চাচী, নাটক আর গল্পের 


১) .,%1]1 601010870018 01 ০17872066, 81] 01996751100 00001070096 22021081070 81] 
90070081017 98681790707] 1011] 00 1019 1)8781) 1911001200, 2170 1015 91001016 1)1)5100 
[101 7610 0110 70111001181 01617010801 110191100-91)20 066৮6] 0৪০৫.--11010, 0). 193, 


২). 17917901650] 6]002170 06 10211)6 11901], 280] 256]. 2590. 6106070811060 21) 
0)00£1005 200৮ 16801811710 61015001019 01006 ০0]: 1701). [0] 10010270020 01010588117 
[090016, 200 70 0786 000 05 ০01 2০621900100 95 9116%05 86 17900. 000 025 1007) 110 2৪ 
1) 1019 (070) 60 9007০ 81] 1017013 01 60101801065 11) 1018 011) 1)61901), 15 0৮০০0]: 11117961680 & 
0190701)061010 01 (7:22,917269, 

1010, 0. 232. 

৩) 001760817060 07 0196 0906.891 %0%00007)606) 1) 101090. 61০ 201022,55 
1011086]1 , 200. 20667 11270171176 006 11010 10101)6, 109 016706৩6085 8৮ ৪০০৪৮ 01010 ঠা) 019 
10001101100 811500 961019 7081906 11) 016 ০165. 11010, 7. 434. 


১৭২ বাংজ। নাটকের ইতিহাস 


কেতাঁবেই শোভা পাবে ! বেইমান কালিতেই ইতিহাসের পৃষ্ঠা ভরে যাবে, তোমার আমার 
জাঁয়গ! হবে না।” এই উক্তি নাট্যকারের মুখে মানায় কিন্ত করিমচাঁচার মুখে এই ভবিদ্বদ্বাণী 
কিভাবে সম্ভব? নাটক ইতিহাস নহে, সে জন্য রসপৃত্ির প্রয়োজনে ইতিহাসকে সামান্য 
পরিবর্জন ও পরিবর্ধন করিবার অধিকাঁর নিশ্চয়ই নাট্যকারের আছে। কিন্ধ নাটকের মূলশক্তি 
যদি কোন অনৈতিহাসিক ঘটনা কিংবা চরিত্র হয় তবে সেই নাটকের খ্রতিহাসিকতা কিবূপে 
রক্ষিত হয়? আমাদের বিশেষ আপত্তি জহর! চরিত্রটি সম্বন্ধে। এই চরিব্রটির গ্রুতি 
নাট্যকারের অনুচিত পক্ষপাতিত্বের ফলে নাটকের সমস্ত প্রতিহাসিক ঘটনার শক্তি ও 
সংঘাত যেন শিথিল ও দুর্বল হইয়া পড়িয়াছে। মনে হয় সমন্ত গুরুতর ধ্রতিহাসিক 
কার্ধকারণের উপরে একটি প্রতিহিংসাময়ী নারীর প্রলয়ংকরী শক্তি জলিয়! উঠিয়াছে আর 
বাংলা ও বাংলার নবাব সেই বহ্থিআালায় পুড়িয়া নিঃশেষ হইয়। গিয়াছে । ইহা স্থপ্রতিষ্ঠিত 
ইতিহাসের অসংগত বিরুতি সন্দেহ নাই । একজন প্রসিদ্ধ সমালোচক বলিয়াছেন, 'এন্ন্‌প 
অদ্ভুত চরিত্র বোধ হয় সেক্সপিয়রও কোন নাটকে স্থষ্টি করিতে পারেন নাই ।”১ সেক্সপিয়রের 
চরিত্র আলোচনা! করিবার প্রয়োজন নাই, কিন্ত গিরিশচন্দ্রের চরিত্রটি যে সম্ভাব্যতার সীমা 
অতিক্রম করিয়াছে তাহ! অস্বীকার করিবার উপায় নাই । জহর! সর্বগ ও সর্বজ্ঞ_সে যেমন 
নিমেষের মধ্যে ঘসেটী, মীরজাফর, করিম, ক্লাইভ, ওয়াটস্‌ সিরাজ সকলের কাছেই উপস্থিত 
হইতেছে, তেমনি এক আঁশ্র্য শক্তির বলে সব কথা ও কাঁজই যেন জানিয়৷ লইতেছে-_ 
রাজনীতি, কূটনীতি, রণনীতি, ধর্মনীতি কোন নীতি জানিতেই তাহার আর বাকি নাই। 
তাহার চরিত্র সর্বাপেক্ষা অসহনীয় হইয়৷ উঠে তখন যখন গোটা বাংল! দেশট] সর্বনাঁশের মুখে 
সঁপিয়া দিবার পর তাহার মুখে একটা তরল গরিমান্বিত কৈফিয়ত শুনিতে পাই-_'নারীর 
পতি সর্বস্ব পতি সার, পতি ধর্স, পতি স্বর্গ, আমি সেই পতির তৃপ্তির জন্য ছুর্নীতি-কার্ষে 
প্রবৃত্ত হয়েছিলাম, আর তোমরা স্বার্থপর ।” অর্থাৎ পতিভক্তির তরণী লইয়া! জহর! বুক 
ফুলাইয়! বৈতরণী পাঁর হইয়া গেল এবং আর সকলে সেই বৈতরণীতে হীবুডুড়ু খাইতে লাগিল। 
যে পতি ঘসেটা ও আমিনার দ্ৈতুপ্রেমে মজিয়াছিলেন তাহার আত্মার তৃপ্তির জন্যই এত বড় 
অপরাধ, আর সেই অপরাধের এতখাঁনি গৌরবাদ্িত স্বীকৃতি! ইহাতে নাটকখানির 
ধতিহাসিকত। যেমন ক্ষু্ন হইয়াছে তেমনি এক হাম্যকর অসংগতিতে চরিত্রটি 
ভরিয়৷ উঠিয়াছে। 

নাটকের আর একটি প্রধান অনৈতিহাসিক চরিত্র হইল করিমচীচা। 
করিমচাচার ভূমিকায় স্বয়ং গিরিশচন্দ্র অবতীর্ণ হইতেন বলিয়া ভূমিকাটির গুরুত্ব ও খ্যাতি 
অনেক বাড়িয়া গিয়াছিল। চরিত্রটি অনুধাবন করিলেই বুঝা যাইবে যে ইহা সরস 
হইলেও অভিনব নহে। কারণ চরিত্রটি দেখিলেই সঙ্গে সঙ্গে বাতুল, আকাল বিদৃক্নক, 
কথুকী, পূর্ণরাম ভাট, বরুণচীদ, ভজহরি প্রভৃতি বহু চরিত্রের কথ! মনে পড়িয়া! যাইবে । 


৯। গিরিশ প্রতিভা হেমেন্্রনাথ দীসগুপ্ত--২৮১ 


গিরিশচজ্দ্র ঘোষ ১৭৩ 


বাহত ইহারা নির্বোধ, নিষ্র্ম। ও নেশাখোর কিন্তু আসলে ইহার! সহদয়, তীক্ষবুদ্ধিশালী 
ও সুক্ম-অনুভূতিশীল। পৌরাণিক নাটকে ভক্তি, সামাজিক নাটকে পরোপকার ও 
এঁতিহাসিক নাটকে দেশগ্রীতিই হইল ইহাদের মূল ধর্ম॥। করিমচাচার হাশ্যবিজ্রপের 
অন্তরালে লাঞ্চিত বঙ্গদেশ ও তাহার ভাগ্যবিড়স্বিত নবাবের প্রতি যে বিষগ্ন সমবেদনা 
বর্তমান তাহা! আমাদের অন্তর স্পর্শ করে। তাহার আপাত-তরল উক্তির আবরণ উম্মোচন 
করিলেই বিরোধী পক্ষের প্রতি তাহার তীব্র নিন্দা এবং সিরাজের প্রতি সতর্কাকরণের 
ভাব লক্ষ্য করা যায়। জহরার মত করিমেরও একটা সবজান্ত! শক্তি আছে, অথচ একটা 
নিক্ষিয় জড়তায় তাহার সমস্ত স্থপ্রবৃত্তি আচ্ছন্ন হইয়! রহিয়াছে । সেজন্য অনিবার্ধ ঘটনার 
উপর কোথাও তাহার সক্ষম ক্রিয়াশক্তির পরিচয় পাওয়! যায় নাই। করিম নাট্যকারের 
মুখপাত্র । সেজন্য তাহার বস্তৃতা৷ বক্তব্যকে ছাড়াইয়া গিয়াছে এবং নাটকের সংলাপ বন 
স্থানেই ইতিহাসের ভায্তে পরিণত হইয়াছে । চরিত্রটি কর্মে জীবন্ত হইয়! উঠিয়াছে মাত্র 
শেষদিকে, যেখানে সিরাজকে রক্ষা! করিবার জন্য সে তাহার সহিত পোষাক অদলবদল 
করিয়াছে । অসহায় নবাবকে বাঁচাইবার জন্য তাহার একমাত্র স্ৃহাদের এই সর্বশেষ চেষ্টা 
আমাদের অন্তঃকরণ নিঃসন্দেহে এক করুণ বেদনায় পূর্ণ করিয়া! তোলে। 

“সিরাজদ্দৌলা” নাটকের বোধ হয় সর্বপ্রধান ত্রটি হইল ইহার ঘটনা! ও চরিত্রের 
অত্যধিক বহুলত্ব। এঁতিহাঁসিক বৃত্তান্ত নাট্যকারকে এত বেশি আকর্ষণ করিয়াছিল যে 
নাটকের প্রয়োজন অনেক স্থলেই উপেক্ষিত হইয়াছে । সিরাজের পারিবারিক পরিবেশ, 
সওকতজঙ্গের বিবরণ, বিদ্রোহী নায়কদের বর্ণনা এবং ইংরাঁজদের বৃত্তান্ত সব এই নাটকে 
বিস্তৃতভাবে দেখান হইয়াছে। সেজন্য নাটকের মূলস্ূত্র অনেক স্থলেই হারাইয়। গিয়াছে 
এবং অবান্তর ও বিক্ষিপ্ত ঘটনারাশির মধ্যে কোন স্থনিবিড় রসের এঁক্য জমাট বাঁধিয়া! 
উঠিতে পারে নাই। সিরাজের চরিত্র নাটকে অনন্ত প্রীধান্তলাভ করে নাই বলিয়া 
দর্শকদের সহিত তাহীর কারুণ্য-সম্পর্ক ঘনীভূত হইয়া উঠিতে পারে নাই। বিশেষত 
সিরাজের মৃত্যুর পর ক্লাইভ ও মীরজাফর বৃত্তান্ত আমাদের রসবেদনাকে লঘু ও বিভক্ত 
করিয়া ফেলে। 

ইতিহাঁসে যাহাই থাকুক. নাটকের মধ্যে সিরাজদ্দৌলাকে আমরা এক স্নেহপূর্ণ, 
ক্ষমাশীল ও স্বদেশবৎসল নবাব রূপেই দেখিতে পাই। মাঝে মাঝে একটু খেয়ালী ও 
অশোভন আচরণ দেখ। গেলেও কোন গুরুতর অপরাধের স্পর্শ তাহার চরিত্রে নাই। 
উচ্ছ্ুসিত স্বদেশগ্রীতি ও সুতীব্র ইংরাজবিদ্বেষ তাহার চরিত্রকে গভীর জাতীয়তায় মহিমান্ছিত 
করিয়া তুলিয়াছে। কিন্তু তাহার চরিত্র যতখানি আদর্শাফ়িত হইয়াছে ততখাঁনি রসোততীর্ণ 
হইয়া! উঠিতে পারে নাই। বহু চরিত্রের ভিড় যেমন তাহার আত্মপ্রকাশে ব্যাঘাত 
ঘটাইয়াছে তেমনি দৃঢ়সন্কল্পবদ্ধ আত্মপ্রতিষ্ঠার অভাবে তাহার চরিত্রের সচল শক্তিমত্তার 
দিকটি অপরিস্ফুট রহিয়াছে । তাহার পরিণতি অত্যন্ত ট্র্টাজিক কিন্তু এই ট্র্যাজেডি 
কোন আস্তরসংঘাতের অনিবার্য ফল.নহে, ইহ! বাহিরের শক্তিসংঘাতের স্থকরুণ পরাজয়। 


১৭৪ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


(ঙ) পঞ্চরং এবং গীতিনাট্য 


গিরিশচন্ত্র কতকগুলি প্রহসন রচন। করিয়াছেন, এইগুলি পঞ্চরং নামে প্রসিদ্ধ। 
'সপ্তমীতে বিসর্জন”, “বেল্লিকবাজার”, “বড়দিনের বখশিস+, “সভ্যতার পাণ্ড” প্রভৃতি 
পঞ্চরংগুলির নাম উল্লেখযোগ্য । সাধারণত পূজা অথব! বড়দিন উপলক্ষে হীন আমোঁদ- 
প্রমোদ লইয়া এইগুলি রচিত। ইহাদের আকাঁর খুব সংক্ষিপ্ত, এবং ঘটনা নিতান্ত 
সাধারণ ও সরল। অধিকাংশ প্রহসনগুলিই ইতর পল্লীর কদর্য আবহাওয়ায় পরিপূর্ণ । 
পাত্রপাত্রীগুলি কুৎসিত পক্ষে নিমগ্র, তাহাঁদের কথাবার্তা সেই পক্ষের ছুর্গন্ধ বাতাসে 
কলুষিত। নাট্যকার অনেকগুলি প্রহসনে আধুনিক সভ্যতাভিমানী উন্মার্গগামী, সমাজের 
রীতিনীতির কমলবনে মত্ত মাতঙ্গের ন্ঠায় বিহারী বাবুদের ব্যঙ্গ করিয়াছেন। সেই ব্যঙ্গের 
আঘাত প্রহসনগুলিতে আঠে» সেইগুলিতে স্ষিপ্ধ হাশ্তরসের উচ্ছল প্রবাহ 'নাই। পঞ্চরং- 
গুলির ভাষা কলিকাতার ইতর সমাঁজের ভাষা, রসিকতার শব্দ এবং বাক্যগুলিও সেই 
সমাজ হইতে আহত। 

গিরিশচন্দ্র কয়েকখান! গীতিনাট্যও রচন। করিয়াছেন । “মলিনমাঁল।” “মলিন! বিকাশ”, 
স্বপ্নের ফুল”, “দেলদার+ প্রভৃতির নাম প্রসিদ্ধ । তাহার শ্রেষ্ঠ এধং সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় 
গীতিনাট্য আবুহৌসেন। “আবুহোৌসেনে”র কাহিনীটি যেমন কৌতুকাবহ ইহার মধ্যস্থ 
রোমার্টিক এবং হাস্ঠরসাতক স্থুরও তেমনি উপভোগ্য । 


অবিনাশচন্ত্র গঙ্গেপাঁধ্যায় 'সপ্তমীতে বিসর্ন' নামক প্রহসনের আলোচন। প্রসঙ্গে এই হীতীয় নাটকের 
ধর্ম বিশ্লেষণ করিয়াছেন ।--'ইংরাজীতে যাহাকে [%09829028 বলে, ইহা! সেই প্রকৃতির । ইহা সম্বন্ধ 
অধিক আলোচন। নিশ্রয়োজন । সামজিক ন্যটক বাস্তব সংসারে ঘটন|ও চরিত্র লইয়া! রচিত হয়, এইরূপ 
বিদ্রপাত্বক প্রহসনের গল্প এবং চরিত্র সম্ভব রাজ্যের প্রান্ত সীম! হইতে আহত হইয়। খাকে--ইহার সকলই 


উচ্ছত্বল ।' 
“গিরিশচন্দ্র'--পৃঃ ৩০৫ | 


অন্থতলাল বসু 


(ক) ভূমিকা 

গিরিশচন্ত্রের ন্যায় অমৃতলালও নাটক রচনা করিবার পূর্বে অভিনেতারূপে প্রতিষ্ঠা 
অর্জন করিয়াছিলেন। যে সমস্ত অভিনেত৷ নটগুরু গিরিশচন্দ্রের সংস্পর্শে আসিয়া তাহার 
শিল্তত্ব স্বাকার করিয়াছিলেন অমৃতলাল তাহাদের মধ্যে অন্যতম। স্বীয় গুরুর কাছে ছুলভ 
শিক্ষা লাভ করিয়া ইনি পরবর্তীকালে নাটাচার্য এবং মঞ্চাধ্যক্ষের . সম্মানিত আসন প্রাপ্ত 
হইয়াছিলেন। 

গিরিশচন্ত্রের শিষ্ত হইলেও নাটক রচনা বিষয়ে অমৃতলাল ব্বতন্ত্র পথ অবলম্বন 
করিয়াছিলেন। গ্রিরিশচন্দ্রের ভাবনিষ্টঃ তবসন্ধানী দৃষ্টি জীবনের গুঢ় এবং গতার বিষয়ে 
নিবিষ্ট থাকিত। কিন্তু তরল ও হাঁক্ক। জীবনের বিপর্যয় এবং বিকৃতির দিকেই অমৃতলালের 
তীক্ষ এবং বক্র দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল। গুরু এবং গম্ভীর বিষয়ে তাহার আসক্তি ও প্রবণতা 
ছিল না, সেইজন্য গভীর ভাবমূলক নাটক তিনি খুব কম লিখিয়াছেন, যে ছুই একখাঁন৷ 
আছে তাহাও প্রথম শ্রেণীতে স্থান পাওয়ার উপযুক্ত নহে। দীনবন্ধুর ্তায় তাহারও প্রতিভার 
উৎস হইতেছে হাস্তরস। এই উৎস হইতে অজন্র ধার! নির্গত হইয়। তাহারা রচনাবলীকে 
শ্নিগ্ধ ও সিক্ত করিয়! রাখিয়াছে। 

কিন্ত দীনবন্ধু এবং অমৃতলালের হাশ্তরসম একরূপ নহে। দীনবন্ধুর হাস্যরস প্রকৃত 
£714120941এর পায়ে পড়ে। তাহার সহিত হাঁসিতে হাসিতে আমাদের অন্তঃকরণ আদ্র 
এবং চক্ষু পিক্ত হইতে থাকে, কিন্তু অমৃতলালের হাস্তরস তীব্র তীক্ষ চাবুকের ন্যায় 
আমাদিগকে আঘাত করে, আঘাতের বেদনায় আমাঁদের স্বভাবিক আনন্দময় হাসি 
কাষ্ঠহাসিতে পরিণত হয়। ইংরাজীতে যাহাঁকে 580 বলে তাহার অধিকাংশ প্রহসন 
সেই শ্রেণীভুক্ত । কমেডির যত রকম বিভাগ আঁছে 98075 অথবা বিদ্রপাত্মক প্রহসন 
তাহাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট । অনাবিল অনর্গল হাস্তরসই কমেডির প্রাণ, কিন্তু 9০1176- 
এর মধ্যে উদ্দেশ্তমূলক আঘাতের জন্য সেই হাস্যরস ব্যাহত হয়।১ বিশুদ্ধ কমেডির মধ্যে 
আমর! হাঁসি বটে, কিন্তু সেই হাসিতে লেখক, পাঠক, শ্রোতা, পাত্রপাত্রী সকলেই যোগ 
দেয়, সেখানে সকলেই উপহাসের ভাগী, এবং সকলেই সকলের প্রতি সহাম্ভূতিসম্পন্ন | 
কিন্ত যখন আঘাতটা অতি স্প্ট এবং অব্যর্থ এবং যেখানে তাহ! আমাদের ক্ষমাণীল 
সহানুভূতি উদ্রেক করে না সেখানে 5৪01:6এর পর্যায়ে হাস্তরম অবনীত হয়।২ খাঁটি 


১1 4100 1901286 0£ 0020605, 0808119 211169 580120 11) 0 101] ০06 01 10৪ [9:০৮1106, 
1189 9100)691 01 01015 [১00 007060 18 ৪010]% 00 01১০ 19012101710 10109 7010011) 08. 
779 277601% ০) 1)?74--05 4১, 10011, 0), 192, 
২। 16990 46০০৮ 0108 110801816, ৪10 ১09] 10701068819 0411130 1) 6 ০০ 916 
৪1110011107 1060 005 80981) 01 9961010, 


1716 1060, ০) 0০762%--05 0079 01607601610, 0, 49. 


১৭৬ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


হান্তরসিক সমাজের ক্রটি ও ত্রীস্তি লইয়! পরিহাস করেন বটে, কিন্ত গ্রন্থের মধ্যে কখনে! 
তাহার উদ্দেশ্ত পরিস্ফুট হয় না। ভালো মন্দ ছুইদিকই তিনি হাসির তুলিকা দ্বারা রঞ্জিত 
করিয়৷ দেন। কিন্তু বিদ্রপাত্সক প্রহসনে লেখক তাহার নির্দয় কশ! দ্বারা ভ্রান্ত, পর্তিত 
মানব জীবনকে আঘাত করিয়! সত্য ও যথার্থ পথ চোখে আশ্ুল দিয়া দেখাইয়া দেন। 
সমাজের নৈতিক দায়িত্ব এবং আবর্জন। নিষাসনের ভার যেন তাহার উপর পড়িয়াছে।১ 
তাহার এই শিক্ষা দিবার আত্যন্তিক প্রচেষ্টা কিন্তু আমরা আগ্রহসহকারে গ্রহণ করিতে 
পারি না» কারণ তাহার হৃদয়ের নির্মমতা আমাদিগকে তাহার কাছ হইতে দূরে সরাইয়! 
দেয়। আমাদের হাসির স্থযোগ তিনি নষ্ট করিয়াছেন এইজন্য তাহার প্রতি আমরা 
বিরূপ হইয়া পড়ি।২ অমৃতলালের অধিকাংশ শ্রেষ্ঠ প্রহসন যথা--“বিবাহ-বিভ্রাট', বাবু, 
£বৌমা", “একাকার: প্রভৃতিতে ব্যঙ্গ বিদ্রপের কাটাগুলি অতি তীক্ষ, অতি মর্মীস্তিকভাবে 
রহিয়াছে । এইগুলি পড়িবার পর মন বিষগ্র, ক্লিন্ন এবং গ্লানিময় হইয়া উঠে। আমরা 
নির্দোষ এবং নিরপরাধ হইলেও পাত্রপাত্রীদের শান্তিতে যেন আমাদের মন ভারগ্রস্ত 
হইয়া থাকে ; মনে হয়, বুঝি হাঁসির বান্পে সমস্তাটী উড়াইয়া দিলেই ভালে। হইত, ইহা 
যেন জগদ্দল পাথরের মত আমাদের বুকে চাপিয়৷ রহিয়াছে । অধ্যাপক ডাঃ সুকুমার 
সেন মহাশয় বলিয়াছেন যে, অমৃতলাল হইতেছেন জ্যোতিরিন্রনাথের সাক্ষাৎ শিষ্য |৩ কিন্তু 
জ্যোতিরিন্্রনাথ ও অমৃতলালের প্রহসনের মধ্যে লক্ষণীয় প্রভেদ বিদ্যমান । জ্যোতিরিন্রনাথের 
প্রহসনের প্রাণ ঘটনার অদ্ভুত চমৎকারিত্বের উপর নির্ভর করিয়াছে এবং কোনো স্থলেই 
তাহার ব্যঙ্গবিদ্রপের খোঁচা জালাময় হয় নাই। কিন্তু অমুতলালের অনেক প্রহসনেই 
কাহিনীর কোনো জটিল বৈচিত্র্য নাই। দৃশ্ঠ-পরম্পরা যুক্ত করিয়া এবং কয়েকটা 
পাত্রপাত্রীকে আনিয়! লেখক তাহার উদ্দেশ্ট ব্যক্ত করিয়াছেন। এই সব প্রহসনে 
উদ্দেশ্বাই মুখ্য, কাহিনী গৌণ। সেইজন্য প্রহসন হিসাবে ইহাদের মূল্য বেশি নয়। 
খাসদখল+ এবং “তীজ্জব ব্যাপারে”র মত প্রহসন তিনি খুব কমই লিখিয়াছেন, যে 
সব গ্রন্থে ব্যঙ্গ এবং রঙ্গ সরস ঘটনাকে আশ্রয় করিয়া প্রকাশিত হইয়াছে । ব্যঙ্গ 
বিদ্রপের আতিশয্য অমৃতলালের দৌষ হইলেও তাহা অপেক্ষাও বড়ো দোষ মাঝে মাঝে 
দেখ গিয়াছে যেখানে গ্রন্থকার অতি প্রকাশ্তভাবে গ্রন্থের মধ্যে আত্মপ্রকাশ করিয়াছেন । 
অনেক সময়ে তিনি পাত্রপাত্রীর মুখে লম্বা বক্তৃতার মধ্য দিয়! সামাজিক দোঁষ ও 
অসঙ্গতি বুঝাইবার চেষ্টা করিয়াছেন। হাস্তাত্মক রচনায় এইরূপ জবরদস্তি নিতান্ত 


১) 1106 88010196 1৪ & 7019] 86106, 01067) 80012] ৪0%/61207, /0100106 00. & 90089), 
01 0119 
1৮6৫, 00. 82* 
২। 1619 06 190£166] 6 1001 101 17) 002084, 0007 6100 ৪6089 04 00025] 71616 ০1 
[0079] ৮:00, 100 0106 0110)086 ০0: (02 81801508106 ০01 002 00193, 
7716277১607 0) 10+07--05 &, 19010, 0. 193. 
৩। বাঙ্গাল৷ সাহিত্যের ইতিহাস, ২য় থ-_পৃঃ ৬৭৫ । 


উম্থতলাল। বনু ১৫৭ 
টদাধাবহ। পরোক্ষ ইঙ্গিতের মধ্য দিয়া আঘাত করিবার অধিকাঁর সাহিত্যিকের 
আছে, কিন্ত প্রত্যক্ষ ভাবে প্রচার করিবার দায়িত্ব তিনি নিতে পারেন না, কারণ 
তাহা হইলে তাহার রচনা রসস্ষ্টি-বহিভত হইয়৷ পড়ে। অযৃত্লালের অনেক প্রহসনেই 
এমন একটী চারত্র আছে যাহার কাজ গ্রন্থকারের বক্তব্য ব্যক্ত করা'। “বাবু, প্রহসনের 
তিনকড়িমামী এবং “বৌমা" প্রহসনের মতিলাল এইরূপ মুখপাত্র। অনেক সময়ে এই 
ধরণের চরিত্র একেবারে বিনা কারণে প্রহসনের মধ্যে চাপানো হইয়াছে] “একাকারে'র 
রাধানাথ এবং “সম্মতি-সঙ্কটে”র সার্বভৌমের দীর্ঘ নৈতিক বক্তৃতা অকারণ গ্রন্থগুলিকে 
ভারাক্রান্ত করিয়াছে । ইহার! নাট্যকারের ছুবলতা প্রকাশ করিয়াছে, ইহাদের দ্বারা 
শিল্পকৌশল সম্বন্ধে তাহার আস্থাহীনতা স্থচিত হইয়াছে । 

অমৃতলালের প্রহসনগুলি অনুধাবন করিলে বুঝা! যাইবে, তাহার বিদ্রপের লক্ষ্য সর্বত্র 
পাশ্চাত্যভাব-বিকৃত পুরুষ ও স্ত্রী সমাজ। পাশ্চাত্য শিক্ষা এবং রীতিনীতি গ্রহণ করিয় 
আমাদের সমাঁজ কিভাবে সনাতন আদর্শ, ও ব্যবস্থা হারাইয়। ঘোর অধঃপাতের পক্ষে 
নিমগ্ন হইতেছে তাহারই চিত্র বার বার আমর! তাহার প্রহসনে দেখিয়াছি। উনবিংশ 
শতাব্দীর শেষ পাদে বঙ্ষিম এবং বিবেকানন্দের দ্বারা নব হিন্দুধর্মের পুনরত্যুখান 
হওয়াতে দেশের লোকের দৃষ্টি পুনরায় অতীতের সভ্যতা ও সংস্কতির দিকে প্রসারিত 
হইয়াছিল, সেই বিষয় আমরা গিরিশ-গ্রসঙ্গে আলোচন! করিয়াছি । হিন্দুধর্ম ও সমাজের 
প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাঁশ্চাত্যবিলাসী জাতিধর্মচ্যুত নরনারীগণ ধিক্কুত হইতে 
লাঁগিল। গিরিশচন্দ্রের নাটকে আঁমর! সনাতন ধর্ম ও আদর্শের প্রতি অটুট আস্থা লক্ষ্য 
করিয়াছি। তাহার পঞ্চরংগুলিতে পাশ্চাত্য-অন্ুকরণপ্রিয় যুবক সমাজকে নিন্দা করা হইয়াছে । 
গিরিশচন্দ্রের পরে অমুতলাল এবং দ্িজেন্দ্রলালের ব্যঙ্গাত্মক রচনায় এই সমাঁজকে নিমমভাঁবে 
আঘাত দেওয়! হইয়াছে । পাশ্চাত্য ভাব ও আদর্শের প্রতি একক।লে দেশের ঘে অনুরাগ 
জদ্মিয়াছিল তাহার পূরাপুরি প্রতিক্রিয়া এই সময়ে দেখা গিয়াছিল। মাইকেল এবং দীনবন্ধুর 
প্রহসনেও ইংরাজী-শিক্ষিত অধঃপতিত সমাজকে উপহাঁস করা হইয়াছিল। কিন্তু ধাহারা 
«একেই কি বলে সভ্যতা” এবং “সধবার একাদশী” লিখিয়াছিলেন তাহারাই আবার “বুড়ো 
শালিকের ঘাড়ে রে, এবং “জীমাইবারিক”, “বিয়ে পাগলা বুড়ো” রচনা করিয়ীছিলেন। 
প্রকৃতপক্ষে পূর্ববর্তী যুগের নাট্যকারদের মধ্যে সংস্কীরপক্ষপাতী উন্নত মতবাদ লক্ষিত 
হইয়াছিল। রামনারায়ণ তর্করত্ব, দীনবন্ধু মিত্র এবং মনোমোহন বস্থু গ্রভৃতি নাট্যকারের 
নাটক এবং প্রহসনে কৌলীন্ত, বহুবিবাহ, বৈধব্য প্রভৃতি প্রাচীন প্রথার দোষ ও অনিষ্টকারিতা 
দেখান হইয়াছে । গিরিশ ঘুগের প্রতিক্রিয়াপন্থী নাট্যকারদের মধ্যে এই সব কুপ্রথার সম্বন্ধে 
কোনে নিন্বাবাদের পরিবর্তে বরং সমর্থনের ভাব লক্ষ্য কর যায়। অমুতলালের প্রহমনেও 
নিবিচারে সর্বত্র নব্যতন্ত্র উপহসিত এবং প্রাচীনতন্ত্র প্রশংসিত হইয়াছে । গিরিশচন্দ্র বিধবা 
বিবাঁহের কুফল দেখা ইয়াছিলেন, অমৃতলালও 'খাঁদদখল+, বাবু" প্রভৃতি নাটকে বিধবা! বিবাহ 
যে নিতান্ত একটা হাস্তকর অসঙ্গত ব্যাপার তাহাই দেখাইতে চাহিয়াছেন। পুণ্যঙ্সোক ঈশ্বরচন্ত্ 

২৩ 


১৭৮ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


বিদ্যাসাগর প্রবর্তিত বিধবাঁবিবাহ আন্দোলন বঙ্কিম-গিরিশ-অমৃতলালের হাঁতে এই পরিণাম 
লাভ করিল ! “তরুবালা নাটকে অমুভলাল বালবিধবার ব্রহ্মচর্য ও কৃচ্ছত! গৌরবাদ্বিত 
করিয়াছেন; অথচ এক মৃত্যুপথযাত্রী বুদ্ধের তৃতীয়বার দাঁর পরিগ্রহ করাতে অন্যায় এবং 
দোষের কিছুই দেখিতে পাঁন নাই । তাহার নিষ্ঠুর রক্ষণশীলতার সর্বাপেক্ষা শোচনীয় দৃষ্টান্ত 
একাকার" প্রহসন । যে জাঁতিভেদ এবং উচ্চ-নীচ বৈধম্যবোধ হিন্দুসমা'জকে ক্ষয় করিয়া 
ফেলিতেছে তাহাই লেখক অদ্ভুত ঘুক্তির সহিত রক্ষা করিবার মত প্রকাশ করিয়াছেন। 
পাশ্চাত্য শিক্ষা ও ভাব আমাদের সমাজের যথেষ্ট ক্ষতি করিয়াছে সন্দেহ নাই, কিন্ত প্রাচীন 
সমাজব্যবস্থায় কোনো যে ক্রটি ও গলদ ছিল না এমন কোনে। কথা নহে; সুতরাং সেই 
সমাজব।বস্থার গপ্রতি ঘুক্তিহীন আন্গত্য সন্কীর্ণ একদেশদশিতা ছাড়া আর কিছুই নহে। 
অমৃতলালের সর্বাপেক্ষ। বেশি ক্রোধ স্ত্রীশিক্ষা এবং স্বাধীনতার প্রতি । এই বিকৃত স্ত্রী- 
প্রগতির চূড়ান্ত অতিরঞ্জন হইয়াছে “তাজ্জব ব্যাপার” প্রহসনে। তাহার উপহাঁসের দ্বিতীয় 
লক্ষ্য পাশ্চাত্য ভাবচালিত নব্য যুবকবুন্দ, ঘাহার! স্বদেশী আন্দোলন, ভোট, স্বায়ত্ুশাসন, 
সমাজসংস্কার প্রভৃতি লইয়৷ মত্ত থাকিলেও আসলে নিতান্ত অন্তঃসারশূন্য উদ্মার্গগামী 
অধঃপতিত সমাজের দৃষ্টান্ত । লেখকের মতে অধুনা যে সমস্ত সাঁমীজিক ও রাজনৈতিক 
আন্দোলন হইতেছে তাহাদের মূল্য এবং উপযোগিতা কিছুই নাই। বার বার সমাজের একই 
ধরণের নর নারীর চিত্র আকিয়াছেন বলিয়। তাহার প্রতি প্রহসনে একই রকম পাত্রপাত্রী ও 
ঘটনার পুনরাবর্তন লক্ষ্য কর! যায়। অমৃতলাল অধঃপতিত সমাজের বিষয় বর্ণন1.করিলেও 
তাহার গ্রহসনে যৌনবিকৃতি এবং অশ্লীল ব্যাপারের অবতারণ। লক্ষ্য করা যাঁয় না । নব্যতন্ত্রী 
সমাজের সব দৌষ দেখাইলেও এই দিকটা তিনি দেখান নাই। একম*ত্র “চোরের উপর 
বাটপাড়ি” ছাড়া অন্ত কোনো! গ্রহসনে গঠিত রুচির পরিচয় পাওয়! যায় না। 

অমৃতলালের প্রহসনে ৬/1 এবং ৮-এর যথেষ্ট প্রাচ্য রহিয়াছে ।১ অনেক 
সময়েই লেখক শাণিত কথার বিদ্যুৎ দীপ্তিতে আমাদিগের বিস্মিত এবং হতভম্ব করিয়া 
দেন। শব্দের ধ্বনি বৈচিত্র্যের সহিত গুঢ় ব্যঞ্জনার এমন সাঘৃশ্ঠ বহু স্থলে দেখা গিয়াছে যাহা 
বিশেষ প্রশংসনীয় । শব্দ ভাগুারের উপর অবিচল অধিকার এবং নান! বিষয়ে ব্যাপক জ্ঞান 
না থাকিলে শব্দের চমৎকারিত্ব স্ষ্টি কর! যাঁয় না। লেখকের তাহা যথেষ্ট পরিমীণে ছিল 
বলিয়া তাহার সংলাপ বিদগ্ধ রসিক সমাজের কাছে বিশেষ গ্রীতিগ্রদ ও রুচিকর হুইয়। 


* অমৃত্ল।লের ইংরাজী সংলাপের মধ্যেও অনেক স্থলে শ্লেষ এবং ০০ অদ্ভুত চমৎকারিত্ব লক্ষ্য 
কর! যার। নিয়ে একটা দৃষ্টান্ত দেওয়া! যাইতেছে_- 

00 1৮5 500. 0010018087)060 60 00109117) 6109 11708017081016 0888 ০£ 10070907:9010 
10170] 01) 0015 (0109 01 10%18065 9100. 700119168 ) [10718 89116810110) 01 ৪0%9188 2100. 8095095 ? 
00 00150 1) 01108769 ৪1800810808 ? 01 18628 8190. 1868, 0 135$01168 ৪1)0. 101601)98, 0: 
[9096৪ ৪100 বূপনীজ-_” 

'থাসদখল'-পূর্বরঙ্ | 


অমুতলাল বসু ১৭৯ 


উঠিয়াছে। তাহার রচনার সরসতার মূলে এই রসাল কথার মারপ্যাচ রহিয়াছে, ঘটনা! কি 
কাহিনীর গভীর প্রদেশ হইতে ইহা উৎসারিত হয় নাই । 

অমৃতলালের লেখায় গানের বাহুল্য বিশেষভাবে লক্ষণীয় । থিয়েটারের অভিজ্ঞতীয় 
বাঙালী দর্শকের চাহিদা তিনি জানিতেন, এবং সেই অন্ুসাঁরেই তিনি এতো! অধিক গীত 
সন্নিবেশিত করিয়াছেন । মাঝে মাঝে ছড়ার আকারে পদ্য রচনাও আছে। গান এবং ছড়া 
রচনার সরসতা বৃদ্ধি করিবার জন্যই ব্যবহার করা হইয়াছে। 


(খ) প্রহসন 


অমৃতলালের প্রহসন গুলিকে মোটামুটি ছুই শ্রেণীতে ভাগ করা যাইতে পারে_ 
১। বিদ্রপাঁত্বক প্রহসন (98016) এবং ২। বিশুদ্ধ প্রহসন (চ87০6)। বিশুদ্ধ প্রহসনগুলির 
সংখ্যা খুবই কম, এবং 'তীজ্জব ব্যাপার ও “কুপণের ধন, ব্যতীত অন্য কোনোখানিই প্রসিদ্ধ 
নহে। বিদ্রপাঁতআক প্রহসনগুলি প্রথমে আমরা আঁলোঁচন! করিব । 

॥ বিবাহ বিভ্রাট (১৮৮৪) ॥ “বিবাহ-বিভ্রাট+, “সন্মতি-সঙ্কট”, “কালাপানি+, “বাবু” 
“একাকার, “বৌমা”, *গ্রাম্যবিত্রাট', “বাহবা বাতিক”, “খাঁসদখল*'--এই কয়খান প্রহসনের 
বিষয়বস্তর এবং পাত্রপাত্রী প্রায় একই ধরণের, এবং এইগুলির মধ্যে লেখকের যাবতীয় বৈশিষ্ট্য 
বি্যমান। “বিবাহ-বিভ্রাট” অমৃতলালের সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ গ্রহসন। এই বইথাঁন! লিখিয়াই 
প্রহসনকাঁররূপে ভীং” ; নাম প্রতিষিত হয়| ইনার কাহিনীর মধ্যে তেমন জটিলতা কিছুই নাই, 
কেবল নন্দের দ্বারা গোঁপীনাথকে প্রতারণার মধ্যে যে 1075 আছে তাহাই উপভোগ্য | 
বিজাতীয় ভাঁবাঁপন্ন নব্য সমাঁজ এবং পুত্রের বিবাহে পণ আঁদাঁয় করিবার অসঙ্গত জুলুম _ এই 
দুইটা বিষয়ের প্রতি বি্রপ বর্ধিত হইয়াছে । ব্যঙ্গাত্মক প্রহসনে সাধারণত কোনো অন্যায়ের 
জন্য অপরাধী ব্যক্তিকে বেয়াকুব ও নাঁকাল করিয়! হাস্তরসের মধ্য দিয়া শিক্ষা দেওয়া হইয়া 
' থাকে । আঁলোঁচা প্রহসনের শেষে গোপীনাঁথ এইভাবে জব হইয়া শিক্ষালাভ করিল, কিন্ত 
নন্দের স্বভাব পরিবর্তিত হইল না । প্রহসনকাঁর গোপীনাথকে শান্তি দিয়া তাহার সহিত 
আপোষ করিয়।৷ লইলেন, কিন্তু নন্দলালের অপরাধ বাঁচাইয়া রাখিয়া গেলেন, তাহাকে ক্ষমা 
করিতে পারেন নাই । শিক্ষিতা স্ত্রী বিলাসিনী কাঁরফরম! জাতীয় চরিত্র গ্রস্থকারের আঘাতের 
অতি কাম্য পাত্রী। বিলাসিনী আলোঁকপ্রাপ্তা মহিলা, পরপুরুষের সহিত তাহার অবাধ 
সংসর্গ, তাহার স্বামী মসলা পেষে, খান! পাঁকাঁয়। এই রকম অস্বাভাবিক বৃত্তিবিপর্ধয়ের 
চরম দৃষ্টান্ত পরে “তাজ্জব ব্যাপারে দেখান হইয়চে। মিষ্টার সিংএর কথা শুনিয়া তাহার 
প্রতি আমার্দের বিরাগ সঞ্জাত হইলেও তাহার কথার মধ্যে বেশ একট ঝলসানো প্রথরতা 
আছে যাহা চমণ্কারিত্ব উৎপাদন করে। প্রহসনের মধ্যে বিকে অত্যধিকবার আনা 
হইয়াছে। সর্বত্র, সকলের মধ্যেই দে আছে। গোপানাথ, নন্দলাল, মিষ্টার সিং বিলাসিনী-- 


১৮০ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


ইহাদের ভিতরকাঁর ব্যাপার, ইহাদের আসল চরিত্র ঝি-এর দ্বারা উদ্ঘাটিত হইয়াছে । ঝি 
লেখকের মন্তব্য এবং দর্শকের মাঁনসিক প্রতিক্রিয়ার ভাঁষা জোগাইয়াছে বটে, কিন্তু তাহার 
অকারণ সংস্থান এবং অসঙ্গত কথাবার্তা সর্বত্র স্বাভাবিক হয় নাই । 

বাল্যবিবাহ নিরোধ করিবার জন্য যে আন্দোলন হইয়াছিল তাহা নিন্দা করয়া সম্মতি" 
সঙ্কট" রচিত হইয়াছিল । প্রহসনখানা উদ্দেশ্য মূলক. কথোপকথনের মধ্যে লেখকের মত 
অত্যন্ত স্পষ্ট। কাহিনী বলিতে ইহাঁর মধ্য কিছুই নাই এবং দৃশ্ঠগুলিও নিতান্ত অসংলগ্ন । 
একমাত্র অধ্যাপকদের দৃশ্ঠ ব্যতীত কোথাও কৌতুক-রসের কিছুই নাঁই। নব্য যুবকদের বিলাত 
যাওয়ার নেশা এবং হুজুগমত্ততা লইয়া “কালাপাঁনি” (১৮৯৩) লিখিত। “হিন্দু মতে বিলাত 
যাত্রা” এই নামটার মধোই প্রচ্ছন্ন ব্যঙ্গ রহিয়াছে। আধুনিক অনেক পহশ্চাত্যবিলামী লোক 
মনে প্রাণে, কর্মে এবং আচরণে পাশ্চাত্য ভাবাঁপন্ন হইলেও বাহিরে হিহ্দুয়ানির একটা ঠাঁঠ 
বজায় রাখিতে চান বাস্তবিক তাহা যে “নামাঁবলীর প্যান্টালুনের” মতই হাশ্যকর অসঙ্গতিপূর্ণ 
লেখক তাহা দেখাইতে চাহিয়াছেন। এই নব্য হিন্দুয়ানিও আসলে একটা! নবতন হুজুগ 
ছাঁড়া আর কিছুই নয়, এবং একটা না একটা হুজুগে মাঁতিয়৷ উঠাই আধুনিক যুবক সমাঁজের 
ধর্ম। নিনকড়ি ভিখারী দমনের হুজুগ তুলিয়া দ্দিল বলিয়াই বিলাত যাঁওয়াঁর হুজুগট' 
আপাতত মুলতুবী রহিল। অমৃতলালের অধিকাংশ প্রহসনের স্তায় এই প্রহসনের মধ্যেও 
অবান্তর দৃশ্ঠ ও অপ্রয়োজনীয নরনারীর “অবণাঁগবণ” বড়ো বেশি, খাঁমোকা বিচিত্র নরনারী 
বারবার আসিহা গীত আরন্ত করিয়া দিয়াছে । এই রকম সংক্ষিপ্ত একথানা প্রহসনেও, 
১২।১৩ খানি গীত রহিয়াছে । আলোচ্য গ্রন্থের মধ্যে হাশ্তরসাত্মক ভূমিকা পণ্ডিতের অদ্ভুত 
পাত্ডিত্যপূর্ণ ইংরাজী বিশেষ কৌতুকপূর্ণ--“রাঁউও্ড গুডস ডুন গোলমাল করো না'। এই 
রকম সরস ইংরাজী পণ্ডিতের মুখে আমরা অনেক শুনিয়াছি। 

॥ বাবু ( ১৮৯৪ ॥ “বাঁবু' প্রহসনে কাহিনীর কোনে অবিচ্ছিন্ন গতি নাই। যঠীকৃষ্ণ, 
সজনীকান্ত ও বাঞ্ারাম কন্দর্প এবং আজিনা, স্কুলের ছেলেরা প্রভৃতি বিচ্ছিন্ন ভাবে এক 
একটি দৃশ্ঠে সমাগত হইয়াছে । কেবল শেষ দৃশ্যে সব চরিত্রকে একত্রিত করা হইয়াছে, এবং 
“সেলার” ঘটিত দৃশ্তের মধো ভাস্তরস উচ্ছুসিত হইয়া উঠিয়াছে। ইহার পূর্বে ভাসি ফুটিতে পারে 
নাই, আঘাতের পরে আঘাতে হাসিকে মিয়মাণ করিয়। দেওয়। ইচয়াছে অমৃতলালের ব্যঙ্গ 
বিরূপ এখানে সুধু কঠোর নয়, হিং, ইহ! বলিলে অন্যায় হইবে না। তাহার পরিহাসের 
কথা বিস্ষৌরকের টুকরার ন্যায় প্রবল বেগে ছুটিয়া লক্ষ্য বস্তুতে বিধিয়াছে। লেখক 
রাজনৈতিক আন্দোলন এবং সংস্কার-গন্থী ব্রাহ্গধর্ম আন্দোলন উভয় বিষয়ের বিরূত এবং আসল 
মর্ম উদ্ঘাটন করিয়াছেন। ষঠীকৃষ্ণ বড়! বক্তৃতার মধ্য দিয়৷ জলন্ত স্বদেশপ্রেম ছড়াইলেও, 
আসলে সে অন্থকরণ-প্রিয়, আত্মপর্বস্ব দাস্তিক ব্যতীত আর কিছুই নয়। তাহার "স্বাধীনতা 
আন্দোলনের অর্থ স্কুলের অপরিপক্ষ ছাত্রের মস্তকচর্বণ এবং নারী প্রগতির অর্থ স্ত্রীর প্রঠি 
অযাঁচিত অনুগ্রহ এবং মার প্রতি অকারণ নিগ্রহ। সজনীকান্ত, বাঞ্চারামঃ দামোদর, কন্দর্প 
প্রভৃতি চরিত্রকে ব্রাঙ্গসমীজের প্রতিনিধি স্বরূপ অঙ্কন করিয়৷ অতি নিয় ভাবে বন্ধ করা 


অম্থতলাল বস্তু ১৮১ 
হইয়াছে। ব্রাহ্ম সমাজ এককালে শিক্ষিত লোকের মধ্ো বিশেষ জনপ্রিয় হইলেও কালক্রমে 
হিন্দুধর্মের অত্যুদয়ের সঙ্গে ইহার প্রভাব এবং প্রতিপত্তি কমিতে থাকে । ব্রাহ্মসমাজের মধ্যে 
কোনো কোনো বিষয়ে কৃত্রিমতা এবং আতিশয্য ছিল, কিন্তু ইহা যে হিন্দুধর্ম ও সমান্দছের 
অনেক কুপ্রথা এবং কুসংস্কার দূর করিতে সহায়ক হইয়াছিল সেই বিষয়ে দ্বিমত হইতে পারে: 
না। ব্রাঙ্মদের দারা স্ত্রীশিক্ষা, বিধবা বিবাহ প্রভৃতি সংস্কার আন্দোলন চালিত হইয়াছিল 
সেইগুলি সম্থন্ধেও আলোচ্য গ্রন্থমধ্যে উপহাস কর! হইয়াছে। অঙ্গীল বলিয়া পিতার নাম 
উচ্চারণ করিতে সংকোচ, এবং চিত্তবিকারের ভয়ে চোঁথ বাঁধিয়৷ বহির্গমনের মধ্যে সরস 
অতিরঞ্জন আছে। কিন্তু স্ত্রীর প্রথম বিবাঁহজাত সন্তানের “ছোট বাবা” “ছোট বাবা 
বলিয়৷ ডাঁকা, স্ত্রীকে বাঁর বার ভগিনী,বলিয়! সম্বোধন এবং মাতামহীকে পুনবিবাহ দিবার 
সংকল্পের মধ্যে শালীনতার সীম! অতিক্রম করা হইয়াছে । তিনকড়ি এবং ফটিক গ্রস্থকারের 
মুখপাত্র, তাহার কটুক্তিগুলি ইহাদের মুখ দিয়! বাহির হইয়াছে। ইহাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য 
কিছুই নাই। 

॥ একাকার (১৮৯৫) ॥ হিন্দু সমাজের জাতিভেদের উৎপত্তিমূলে হয়তো স্থৃধু কর্মাবিভাঁগ 
ছিল, হয়তো সমাজের সুবিধার জন্যই প্রথমে শ্রেণী-বিভাগ হইয়াছিল, কিন্ত ক্রমে ক্রমে বৃত্তি 
যখন বংশগত হইয়া উঠিল, এবং একশ্রেণীর সহিত অপর শ্রেণীর সকল যোগাযোগ রহিত হইয়া 
'আসিল, তখন হইতে সমাঁজের উন্নতি এবং বর্ধিষণতা৷ রুদ্ধ হইয়া গেল। সামাজিক ভেদাভেদ 
দূর করিতে না পারিলে হিন্দুসমাজের উন্নতির আশা নাই, এ কথা প্রত্যেক দেশহিতৈষী 
এবং সমাজতত্ববিদ বলিয়! থাকেন। কিন্তু অমুতলাল এই একাকার সমর্থন করেন না». 
বার যা সনাতন ব্যবসা তার তাই নিয়া থাকা উচিত, এবং কেবল বর্ণ অন্ুসারেই 
সামাজিক মাঁন এবং মর্যাদ! নির্ণীত হওয়া সঙ্গত ইহাই লেখকের বক্তব্য। কলু এবং 
ধোপার পক্ষে জাত ব্যবসা ছাড়িয়া অফিসের বড়বাবু এবং মুন্সেফ হওয়া অশোভন, 
অসঙ্গত এবং হান্তকর, “একাকার, প্রহসনে তাহাই দেখানো হইয়াছে ।১ এই প্রহসন 
থানার মধ্যে কেবল হুলের খেঁণচা, মধু একবিন্দুও নাই। কাহিনী বলিতে কিছুই নাই, 
এক দৃশ্যের সহিত অন্য দৃশ্ঠের কোনই যোগ নাই। 

॥ বৌমা ( ১৮৯৭ )॥ নব্য তরুণ-তরুণী এবং ব্রাঁ্গ সমাজের প্রতি ব্যঙ্গ 'বৌম।” প্রহসনেও 
আছে, তবে ইহাঁতে সরস কৌতুকের স্নিগ্চতায় ব্যঙ্গের আঘাত উগ্র হইয়া উঠিতে পারে নাই। 
হিড়িম্বা এবং তাহার অনুগত স্বামী বামাদাসের চিত্র ব্রাহ্ম ধর্ম এবং স্ত্রী-্বাধীনত! লইয়া উপহাস 
করিবার জন্যই দেখানে হইয়াছে, উহার! না থাকিলেও প্রহসনের মূলধারার কোন হানি হইত 
ন1। ব্রাহ্ম ধর্মের ভ্রাত! ভগিনী সম্বোধন লইয়া এখানেও পরিহাঁস কর! হইয়াছে । নভেল পড়া 


১। লেখকের মুখপাত্র রাঁধানাথ বলিয়াছে, “কিন্ত বংশগত জাতিভেদের বন্দোবস্ত ভারী পাঁকা, ভান্নী 
কায়েমী, এই জাতিভেদেই সাম্য ।' 
নু ১ম অঙ্ক, তৃতীয় গর্ভাক ৷ 


১৮২ বাংল নাটকের ইতিহাস 


রোমান্পময়ী রমণী গৃহস্থঘরে কি অপরূপ বিপর্যয় ঘটাইয়া থাঁকে তাহার দৃষ্টান্ত বৌম! কিশোরী । 
কিশোরী অথব! (উলাঙ্গিনী জ্যোতিরিন্্নাথের “অলীকবাবু* প্রহসনের হেমার্গিনীর ন্যায় 
বঙ্ষিমের নভেলগুলি পড়িয়৷ নিজেকেও একজন নায়িকা মনে করে, এবং নভেলী নায়িকাদের 
মত সেও সংসার-সম্পর্ক ছিন্না প্রণয়-সর্বস্বা হইয়া উঠিয়াছে। স্বামীর গ্রেফতারে তাহার 
রোমার্টিক অভিনয়ের পরম স্থযৌগ আসিয়া উপস্থিত হইল, এবং নিতান্ত নাটকীয় ধরণে 
যখন সে সধীদের লইয়া “জল জ্বল চিতা প্রভৃতি বিখ্যাত স্বদেশী গান গাহিতে গাহিতে প্রবেশ 
করিল তখন তাহা বিশেষ হাস্তকৌতুকপূর্ণ হইয়া উঠিয়াছে। লেখকের বিজ্রেপের উদ্দেস্ঠ 
আধুনিক মতে স্বামী-স্ত্রীর যে নাঁটুকে প্রণয় দেখা যাঁয় তাহা তিনি অপছন্দ করেন তিনি 
সনাতন মতে স্বামী-সেব| স্বামী-ভক্তিই স্ত্রীর কর্তব্য বলিফ্প মনে করেন ।১ প্রহসনের শেষে 
মতিলালের দীর্ঘ বক্তৃতায় যে হঠাৎ কিশোরী ও সথীদের শিক্ষা হইল তাহা বিশ্বাম করিতে 
প্রবৃত্তি হয়না । মতিলাল বরাবর বাবুরাম ও কিশোরী প্রভৃতিকে ভত্সন! করিয়া আসিয়াছে 
এবং তাহার। সমান অবজ্ঞার সহিত তাহ গ্রহণ করিয়াছে, সুতরাং তাহার উপদেশাত্মক শেষ 
বক্তৃতা যে তাহার! শিরোধার্য করি! লজ্জায় অধোবদন হইবে তাহা অস্বাভাবিক । মতিলালের 
কঠোর উপদেশ এবং কটু তিরস্কার প্রহসনের কৌতুকাবহ রসের মধ্যে বিরক্তিকর হইয়াছে । 

মিউনিসিপাঁল শাঁসনকে ব্যঙ্গ করিয়া “গ্রামাবিভ্রাট* (১৮৯৮) ও 'সাঁবাঁস আটাঁশ+। 
(১৯০০) রচিত হইয়াছে । “বাহবা বাতিকে'র মধ্যে দরখাস্ত এবং আবেদন নিবেদনের মধ্য 
দিয় আধুনিক যুবক যুবতীর সংকল্প সিদ্ধ করার চেষ্টাকে উপহাঁস কর! হইয়াছে। 

আধুনিক সমাঁজ সম্বন্ধে ব্যঙ্গ বিদ্রাপ করিয়া অমুতলালের যে প্রহসনগুলি রচিত 
হইয়াছিল উপরে তাহাদের আলোচন| করা৷ হইল । প্রগুলি ছাঁড়া বিভিন্ন বিষয় লইয়া 
আরও কয়েকখান! অপ্রধান বিভ্রপাত্ক প্রহসন আছে, যথা, 'তিলদর্পণ, “রাজা বাহাদুর 
এবং 'অবতার”। 'তিলদর্পণে* (১৮৮১) অমৃতলাল তৎকালীন রঙ্গমঞ্জের যবনিকার অন্তরালে 
যে সমস্ত ব্যাপার ঘটিত তাহাঁর সরস চিত্র অঙ্কন করিয়াছেন। এঁতিহাসিক অসংলগ্রতা 
এবং সন্তাঁয় বাঁজি মাত করিবাঁর যে সব সলভ উপকরণ লইয়া অনেক এতিহাসিক এবং 
রোমা্টিক নাটক লেখা হইত লেখক সেই সব নাটককে হাশ্যাম্পদ করিয়া উপস্থাপন 
করিয়াছেন।২ বাগ্লারাও এবং আলিবর্দিখশকে এক সময়ে আনিয়া “তিলদর্পণে'র গ্রন্থকার 


১। লেখকের প্রতিনিধি মতিলালের উপদেশ উল্লেখষোগ্য-_“প্রণয়, প্রণয়”--রমণী জন্ম কি কেবল বুকে 
মাথ। রেখে শুতে-দীর্ঘনিহ্বাস ফেলতে আর ঈর্ষ।য় জ্বলতে? শেখ।তে পর নি যে পতিকে ভক্তি করতে হয়, দাসী 


হ'য়ে ভীকে নিজের বশীভূত করতে হয়” | 
দ্বিতীয় অন্ধ, চতুর্থ গর্ভাঙ্ক ॥, 


২। এতিল-তর্পণে'র গ্রস্থক।র তাহার নাটক সম্বন্ধে বলিয়াছেন, 'এখানি হচ্ছে 810109) 861 
0075905 0০ 7281002012)10 00৩::০66৪.....এতে 16 আছে, 90001, চিতোর, 31917 97৪9 আছে। 
নাচ, গান, গালাগাল, ভারত, যবন, ফুদ্ছা, কালিওড়ান, ভূত নাবান, চিতোর, সাহেব মারা সব আছে, 
অশ্লীল নাই।' 


অগৃতলাল বনু ১৮৩ 
যে রকম অদ্ভুত এঁতিহাঁসিক জ্ঞানের পরিচয় দিয়াছেন সেই রকম দৃষ্টাত্ত তখনকার অনেক 
নাট্যকারদের মধ্যেই দেখা যাইত। এককালে ্রতিহাঁসিক নাটকের বন্যায় রঙ্গতৃমি প্লাবিত 
হইয়াছিল, সেই সব নাটকের অধিকাংশই যে অনৈতিহাসিক, অসংলগ্র, বিকৃত এবং দোযগ্রস্ত 
ছিল অপরেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় তাহার “রঙ্গালয়ে ত্রিশ বৎসর” নামক গ্রন্থে সেই বিষয় নিয়া 
আলোচন৷ করিয়াছেন। অবশ্য নাটকের যে সব দোষের কথা উল্লেখ করা হইয়াছে, সেই সব 
দোষ অল্প পরিমাণে আমাদের নাট্যকার স্বয়ং অমৃতলালের মধ্যেও আছে। পাড়াগেয়ে মূর্খ 
ক্ষুদে জমিদার রাজাবাহীছুর উপাধি পাঁইব্টর জন্য কিভাবে নাঁকাঁল ও বেয়াকুব বনিয়াছে তাহার 
রঙ্গপূর্ণ চিত্র, “রাজাবাহাছুরঃ (১৮৯১) প্রহমনে দেখানো হইয়াছে। মাঁণিক্য এবং তাহার 
পিতা মাঁণিক্যের পূর্ববঙ্গীয় কথোপকথন বিশেষ সরস ও উপভোগ্য । এই প্রহসনখাঁনা পড়িলে 
অনেক খেতাবপ্রার্থ অপদার্থ লোকের চৈতন্ত হওয়ার সম্ভাবনা । “অবতার” ( ১৯০২) বনু 
অবান্তর দৃশ্যসমদ্থিত বিরক্তিকর প্রহসন। ইহাতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রঙ্গরদ এবং ব্যঙ্গ-বিদ্রপের 
অম্লমধুর উপাদান থাকিলেও স্থনিপুণ রন্ধনের সুস্বীছু আস্বাদ নাই । অবতার ভূমিকায় নকল 
বৈষ্ণবকে উপহাস করা হইয়াছে । 


“চোরের উপর বাটপাড়ি”, “ডিসমিস+, “চাটুয্যে ও বাঁড়য্ে” “তাজ্জব ব্যাপার এবং 
'কুপণের ধন,__ এই প্রহসনগুলিকে বিশুদ্ধ প্রহসন (৪1০) বল! যাইতে পারে। ইহাদের 
মধ্যে কৌন কোন স্থলে ব্যঙ্গ-বিদ্রপের আঘাত আঁছে বটে, কিন্ত সেই আঘাত কখনো পীড়া- 
দায়ক নয়, স্গিগ্ধ হীশ্যরসেই ইহাদিগকে সরস ও সজীব করিয়া রাখিয়াছে। উগ্র শ্েষ এবং 
উচ্চ উপদেশের ঘট! না থাঁকাতে এই সমস্ত প্রহসন দর্শনে কোথাও বিরক্তি ও অসস্তোষ 
জন্মিতে পারে না । বিজ্রীপায্মক গ্রহসনগুলির কোন খানাতেও তেমন রসাল, জটিল কাহিনী 
নাই, কিন্ত এই প্রহসনগুলির প্রত্যেকখানাতে ঘটনার বৈচিত্র্য এবং চমৎকারিত্ব বিশেষ 
আগ্রহোদ্দীপক | 


॥ চোরের উপর বাঁটপাড়ি (১৮৭৬) ॥ একজন দুশ্চরিত্র বিষয়ী ব্যক্তি এক বেকার 
যুবকের দ্বারা কোনো ভদ্র স্ত্রীলোককে ফুসলাইতে ' যাইয়া কিভাবে জব্ষ হইল, 
এবং তাহার নিযুক্ত ব্যক্তি তাহারই স্ত্রীকে ফুসলাইয়া বসিল সেই বিষয় লইয়া “চোরের 
উপর বাটপাড়ি রচিত । প্রহসনখানার ঘটনার সরস জটিলতা! এবং কুচি-গর্িতি 
পাশ্চাত্য প্রহসন বিশেষ করিয়া! মলিয়েরের প্রহসনের সম্ভাব্য প্রভাব মনে জাগাইয়া 
দেয়। আলোচ্য প্রহসনের মধ্যে কৌতুকের চমৎকারিত্ব এইখানে, যে, নারায়ণ 
অঘোরের কাছে “রসোদ্গারঠ করিয়াছে, অথচ অঘোর তাহাকে ধরিতে যাইয়। 
প্রতিবারই ব্যর্থ এবং বেয়াকুব হইয়াছে । মলিয়েরের €[8 9০1,০01 £০0 ৬৬:৪৪, 
(1,0.০০915 15 ঢ€2)0065) প্রহসনে ঠিক এইরূপ একটি র্যাপার আছে। &765এর 
প্রেমিক 770:8০ তাহার গুঢ় প্রেমের কথা বার বার তাহার প্রতিছন্দী ££7)95এর পালয়িত। 
প্রেমপ্রার্থ &::)0190 এর কাছে বলা সত্বেও 45019 প্রতিবার [7০:৪০৫কে ধরিতে 


১৮৪ ধাংল। নাটকের ইতিহাস 


ও শান্তি দিতে বিফল হইয়াছে । আলোচ্য প্রহসনখানাতে স্বপ্প পরিসরের মধ্যে কৌতুকরস 
বেশ জমাট হইয়া উঠিয়াছে। | 


স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অমূলক সন্দেহ এবং কৌতুকময় ঘটনার মধ্য দিয়া সেই সন্দেহের 
নিরসন “ডিসমিস+(১৮৮৩) প্রহসনের কাহিনীর ভিত্তি। এই প্রহসনের সহিত জ্যোতিরিন্ত্রনাথের 
“কিঞ্চিৎ জলযোৌগে”র সাদৃশ্ত আছে। তবে ইহাঁতে ঘটনার বুনম ভাঁলো হয় মাই, অনেক 
বাজে ব্যাপারের সমাবেশ রহিয়াছে । 

॥ চাটুয্যে ও বীড়য্যে ( ১৮৮৪ )॥ একটামাঙ্জ দৃশ্ঠ লইয়া “চাটুযযে ও বীড়য্যে” রচিত 
হইলেও, ইহাঁরই মধ্যে একট। সরস বিচিত্র কাহিনী বর্ণনা কর! হইয়াছে । কিন্তু কাহিনীটি খুব 
সম্ভবত লেখকের মৌলিক কল্পনা-প্রস্থত নহে । ইংরাজী সাহিত্যে 91: চ. 80:)80এর 0০% 
8150 3021 এবং 0.1, 1$01:000এর 8০02%. 210 0০0স+ নামে দুইথান। প্রহসন আছে। এ 
প্রহসন দুইখানাঁর বিষয় একই | 15 7301)০617 7০2. এবং 0০স্কে একই ঘর ভাড়া দেয়, 
উহাদের একজন দিনের বেলায় এবং অপরজন রাত্রিতে সেই ঘরে থাকে । 0০ একদিন 
ছুটী পাইয়! ফিরিয়। আসাঁতে গোলযোগের সৃষ্টি হয়। দুইজনে আঁবিষ্ার করে যে উভয়ে 
একই বিধবাঁকে বিবাহ করিতে চাহিয়াছে । যাহা হউক গোলমাল এবং রাগারাগির পরে 
উভয়ের মিলন হয়। “চাঁটুয্যে ও বীড়য্যে”র কাহিনা অবিকল উপরিউক্ত কাহিনীর অনুরূপ । 
লেখকের সংলাপের মধ্যে প্রশংসনীয় কৃতিত্ব আছে। 


॥ তীজ্জব ব্যাপার (১৮৯০ )॥ “তাজ্জব ব্যাপারে'র মধ্যে. স্ত্রী-স্বাধীনতা লইয়া চরম 
পরিহাস করা হইয়াছে বটে, কিন্তু ঘটনার আত্যন্তিক উদ্ভটত্ব প্রহসনের মধ্যে ব্যঙ্গ অপেক্ষা 
রঙ্গকেই প্রধান করিয়া তুলিয়াছে। যখন আমরা দেখি যে পুরুষেরা মেয়েদের কাজ, এবং 
মেয়েরা পুরুষদের কাজ বেশ সহজ গা্তীর্ষের সহিত করিতেছে, তখন আমাদের হাস্যরস সম্বরণ 
করা শক্ত হইয়।৷ পড়ে । মহিলাঁদের সভার বর্ণনাটীও খুব কৌতুকাবহ হইয়াছে। 


॥ কুপণের ধন (১৯০০) ॥ “কপণের ধন" মলিয়েরের “[106 2015617 (15485816 ) 
নাঁমক প্রহসনের দ্বার৷ প্রভাবাঘ্িত। মলিয়েরের প্রহসনে [78:28£01,এর কার্পণ্য-দোষের 
সহিত তাহার ইন্দিয়-পরায়ণতা দেখানো হইয়াছে, এবং পরস্পর-সংযুক্ত জটিন প্রেম কাহিনীও 
সেই সন্ধে রহিয়াছে । “কপণের ধনে*ও হলধরের কার্পণ্য এবং নারীসম্পফিত ছূর্বলতা-- 
এই ছুই প্রকার দোষ বি্যমন এবং মন্মথ ও কুস্তলার প্রণয় ব্যাপার হলধরের কাহিনীর সহিত 
যুক্ত হইয়৷ আছে। মধু এবং ইচ্ছ। ষড়যন্ত্র করিয়! হলধরকে সম্পত্তিশালিনী বিধবার কথা বলিয়া 
জব্ব করিত মতলব করিল। হলধর যদ্দি এঁ বিধবাঁকে হাত করিতে যাইয়া বেয়াকুব এবং 
অপদন্ত হইত তবেই তাহার অন্তায় লোভের যথোপযুক্ত সাজা হইত। কিন্তু টাকা ফ্লোনা 
করিবার আর একটা ব্যাপার আঁনিয়। তাহাকে জব্দ কর! হইল । ইহাতে পূর্বের যড়ঘন্ত্র এবং 
হলধরের নারী আসক্তি চাঁপা পড়িয়া অর্থহীন হইয়াছে । হলধরের কার্পণ্য দোষের পরিণাম 
দেখিলাম; কিন্তু তাহার চরিত্রের অপর দোষটার কোনো! সমাধান দেখিলাম না। যে কৃপণ 


অন্ভলজে হস্থ ১৯৯৫. 
একসঙ্গে পাচ টাকা বাহির করিতে মর্দাস্তিক ক্রেশ বোধ করে,১ তাহার পক্ষে ফসাকরিয়া বশ 
হাঁজার টাকা অন্ঠের হস্তে ছাড়িয়। দেওয়াটা যেন কেমন অস্বাভাবিক বোধ হয়। 


' (গ) নাটক 

অমৃতলালের প্রতিভাঁর বৈশিষ্ট্য হাস্যরসের অবতারণায়, গম্ভীর বিষয়ের বর্পনায় নহে | 
সেইজগ্ তাহার নাটকগুলি একেবারেই বিশেষত্ব-বর্জিত সাধারণ স্তরের । «থাসদখল+ প্রথং 
'নবযৌবন+ এই ছুইথানা৷ পুস্তক নাটক হইলেও হান্তরসের অতি মধুর, কোমল শ্রবং ক্জি্ব 
ধারা নাটক ছুইথানাকে সিক্ত করিয়া রাখিয়াঁছে, অথচ প্রহসনও ইহাদিগকে বল! চলে না ; 
কারণ ইহাদের আয়তন দীর্ঘ এবং কাহিনী রোমার্টিক ভাবাপন্ন। ইংরাজীতে ধে প্রেণীপন 
নাটককে 4007060% ০0£ চ২07921)০6” বলা হইয়া থাকে, আলোচ্য নাটক ছুইথানা সেই 
শ্রেণীভুক্ত । এই ধরণের কমেডির আবেদন মনেধ গভীর অম্ুভূতিময় প্রদেশে এবং ইহাতে 
অন্তর্গত হাস্যরস সর্বত্র চাঁপা এবং মৃছুভাবে প্রবাহিত হইয়া থাকে।২ '্থাপদখল” এ্রধং 
“নবযৌবন' অমৃতলালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচন|। 

॥খাঁসদখল (১৯১২)।॥ “থাসদখলে”র মধ্যে সামাজিক সমস্যা সম্বন্ধে ব্যঙ্গ-বিদ্রপ থাকিপেও 
ইহাতে কাহিনীর আগ্রহোদ্দীপকতা ও চমৎকারিত্ব অক্ষুপ্ভাবৈ গোড়া হইতৈ শেষ পর্ন 
অটুট:রহিয়াছে। মোক্ষদা অনেকাঁংশেবৌমা” প্রহসনের কিশোরীর সদৃশ, ঘরের বৌ লেখাপড়া 
শিখিয়৷ এক কিন্তৃত রোমাঁটিক প্রকৃতি আয়ত্ত করে_ মোঁক্ষদা তাহারই উদবাহরণ। লোঁকেন 
এবং মোক্ষদাঁর কাহিনী অবলম্বন করিয়া লেখক বিধবা বিবাহ এবং চিকিৎসকের সম্বন্ধে বিজ্রপ 
করিয়াছেন, কিন্তু মোক্ষদীর কাহিনীর পাশে কুস্থমকোমল! গিরিবালার রহস্যময় আখ্যান 
মু সৌরভের মত অগোচরে প্রাণে আনন্দের সঞ্চার করে। বিধবা-বিবা প্রভৃতি বিতর্ক 
মূলক বিষয় লইয়া যেভাবে অগ্রীতিকর গ্লানির বাম্প সঞ্চিত হইতেছিল লোকেনের আকম্দিক 
আগমনে পরম পরিতোষের ঝড়ে তাহা উড়িয়া গিয়াছে। প্রতৃভক্ত, পাগলাটে নিতাইএর 
চরিত্র উপভোগ্য বটে, তবে তাহার “ইজদি”র অতিরিক্ত আধিক্য অত্যন্ত কর্ণকটু হইয়াছে 





১1 ইচ্ছাকে পাঁচ টাক! দিবার সময় হলধর মনের দুঃখে নিরুপায় হইয়া! ধাহ। বলিয়াছে তাহা বিশেধ 
কৌতুকপূর্ণ -'দেখছেন, কীদছেন_-ম। কীদছেন, আসার দিন্দুক ছেড়ে যেতে মহারাগীমীর চক্ষু ছুটা দিয়ে জল, 
গড়িয়ে টাক। চার্দের বুক ভেসে যাচ্ছে!" 

১) 81] 01 006৪2 0070020158 0£1301090002 879 1011 ০0? 810106518 6০ 00]: 71601696" 
190010065 ৪00. 60 00. 21706101)8, 11109 1817017607 18 ৪1219060. 1700 & 11180. 04 195117)£ ০01 9010690৮- 
1068)0 & 10879000699 04 801716 1500060 60910 870 800111990 01 0৮920 15971 00506 1160 
(099 19821067109 81160. 10100, 1628 11001090196615 61190 ০0: 07081)50 006 ০৫ 5518/57)06 [১১৭ 
80276 00106] 9010691, 

, হও হাসের 0 :010150 60 2620707-2 976-17 


৪ 


১৮৬, বাংল! নাটকের ইতিহাস 


ঠাকুরদা লেখকের মুখপাত্র হইলেও তিনি রন এব কঠোর নহেন, তাহার ক্ষমাশীল মহৰ 
সর্বত্র অনুভূত হইয়াছে। এই ধরণের ঠাকুরদা চরিত্র রবীন্দ্রনাথের নাটকে বিশিষ্টভাঁবে 
অঙ্কিত হইয়াছে। | 

॥ নবযৌবন ( ১৯১৪ )॥ “নবযৌবন+ উচ্ছল প্রাণময় সরদ কৌতুকোজ্জল কমেডি । 
ইহাঁতে মধুর প্রণয়লীলার কোমল বারিপ্রবাহের উপর বিদগ্ধ এবং বুদ্ধিদীপ্ত হাস্যরসের 
আলোকসম্পাত হওয়াতে বিশেষ চমত্কারিত্ব সম্পাদিত হইয়াছে। কাহিনীর রহস্তময়তা 
শেষপর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন রাখিয়া লেখক আমাদের আগ্রহ ও ওঁৎন্ুক্য অবিচলিতভাবে 
আকর্ষণ করিয়াছেন। ছুইটী অভিন্নমুখী ধারা এই নাটকের কাহিনীর মধ্যে বৈচিত্র্য 
আনয়ন করিয়াছে । জটিল আধ্যাঁন বস্তর মধ্যে যদি ঘটনা সমূহের গতি একই দিকে 
থাকে .তবে সেই গতিকে নাটকীয় ভাষায় “31021197 700101' বলা হইয়া থাকে। 
অলক এবং স্ুকুমারের প্রণয় ব্যাপার পরস্পরের সহযোগীরূপে একইভাবে অগ্রসর 
হইয়াছে। চ০:6৪র পাশে [511558র প্রেম এবং £:০958111,4এর পাশে 0911৪র 
প্রেম এইরূপ পরম্পর-সম্পৃক্ত এবং সহযোগী । অলক! এবং স্থুকুমীর শেকসপীয়রের 
7০:৪১ 7২09921190. প্রভৃতি প্রসিদ্ধ নায়িকাদের ন্যায় বাগ বৈদগ্ধ্যময়ী, সুচতুর! 
রমণী । বসন্ত এবং অলকাঁর কথার মধ্যে স্থুপ্রথর বুদ্ধি এবং স্থমধুর রসের খেল! বিশেষ 
চিত্তচমৎকারী হইয়াছে । মুর্খ, নির্বোধ অথচ দাস্তিক দর্পনারায়ণ এবং তাহার যোগ্য 
মোঁসাহেব ভজনলালের চরিত্র গুল হাস্যকৌতুকের স্থষ্টি করিয়াছে । নাটকের সঙ্গীত এবং 
সংস্কৃত ক্লোকগুলি ইহার বরিত জগৎ এবং জীবনকে এক রোমাটিক ভাবময় পরশে স্গিগ্ধ 
করিয়া তুলিয়াছে। 

॥ তরুবাল! (১৮৯১ ) ॥ 'তরুবাঁলা” সরস সামাজিক নাটক। লেখকের স্বভাবসিদ্ধ 
কৌতুকরসে বইখাঁনা আগাগোড়া অভিষিক্ত থাকায় ইহা বিশেষ স্ুখপাঠ্য হইয়াছে। 
মৃত্যুপ্জয়ের রসিকতা, হাঁরাণের ছুঃসহ প্রণয়জালা, বেণী এবং দামিনীর সরস কলহ এবং মাতাল 
বিহারীর গ্রচ্ছন্ন বিভ্রপ নাটকথানার সর্বজনীন হাস্যরসের সম্মিলিত ধার! স্ষ্টি করিয়াছে। 
অখিল অনেক নভেলপড়। বিদ্যা অর্জন করিয়৷ পবিত্র প্রণয় করিবার জন্ স্ত্রীকে পরিত্যাগ 
করিয়া বেশ্তার প্রতি আসক্ত হইয়াছে, স্ত্রীকে ভালোবাস! সে ব্যভিচার বলিয়া মনে 
করে-- এই ব্যাপারের মধ্যে তাহার যে অসংগতি ও নিবু'দ্ধিতা ফুটিয়! উঠিয়াছে তাহাও বিশেষ 
হান্তাবহ। শিক্ষিতা পতিত পারুল এবং তাহার মাতার বাহ্‌ ভদ্রতার খোলসের সহিত আস্তর 
কদর্যতার বৈষম্য দর্শন করিয়াও আমরা যথেষ্ট আমোদ পাই । * তরুবালা”র মধ্যে বিধবা- 
বিবাহ সমস্তা লইয়া আলোচন! করিয়া গ্রন্থকার বহুবার-জ্ঞাপিত অভিমত পুনরায় আমাদের 
শুনাইয়াছেন। শান্ত তাঁহার মতে বিধবা-শিরোমণি। সে কুষ্ৃতা এবং ব্রদ্মতর্ষের তাপে দেহক 
শু করিয়া এক আধ্যাত্মিক বা্পে পরিণত করিতে চাহিয়াছে, ভাম্থরের নাম ধরিতে হয় 
বলিয়। কালীনিংহের মহাঁতারতকে ফালীসিংহের মহাভারত পর্যন্ত বলিয়। থাকে । অতিবৃদ্ধ 
মৃত্যুঞ্জয় তৃতীয়বার বিবাহ কর! সত্বেও বিধবা-বিবাহের বিরুদ্ধে শীস্ত্রমাফিক ফতোঁয়। দিয়া 


অন্থতঙাল বনু |. ১৮৭ 


থাকেন--ইহাতে অন্তায় কিংবা অসংগতি কিছুই নাই! মৃত্যু্জয়কে - স্বরসিক এবং উপযুক্ত 
স্বামী দেখাইবাঁর জন্ত গ্রন্থকার স্ত্রীর সহিত তাহার নর্ম-পরিহাঁসের আলাপ গ্রস্থমধ্যে সন্নিবেশ 
করিয়াছেন যাহা নাতনীর সহিত করিলেই শোভন এবং সংগত হইত । “তরুবালা+ গিরিশচজের 
প্রফুলর ন্যায় আদর্শ পতিত্রতা স্ত্রী কিন্ত নাটকের মধ্যে তাহার প্রভাব ও ক্রিয়াণীলত৷ 
নিতান্ত নগণ্য এবং অনুল্লেখ্য ৷ 

“বিমাতা' বা “বিজয় বসন্ত ( ১৮৯৩ ) রূপকথার কাহিনীর উপরে ভিত্তি করিয়া রচিত 
হইয়াছে। কামান্ধা প্রতিহিংসাময়ী বিমাত। দুর্জয়ময়ীর চরিত্র তীব্র বাস্তবতীপূর্ণ । সপত্ী 
পুত্রের প্রতি তাহার নগ্ন প্রেম নিবেদন সম্ভবত গিরিশচন্দ্রের পূর্ণচন্্র নাটকের প্রভাবে রচিত। 
রাজার স্ত্ুগভীর মনন্তাপ ও অন্ত'জালার দৃশ্ঠও ভালোভাবে অঙ্কিত হইয়াছে । বিজয় ও বসস্তের 
শিক্ষা্দীতা বাৎসল্যপূর্ণ বলবস্ত বর্মার পক্ষে অকম্মাৎ ঘাতকের কঠোরতা আয়ত্ব করা অসংলগ্ন 
বোধ হয়। 

“আদর্শ বন্ধু (১৯০০) গিরিশচন্দ্র আদর্শে রচিত নাটক। অমৃতলাল ইহাতে গৈরিশ 
ছন্দ ব্যবহার করিয়াছেন, কিন্তু তাহার নীঁট্যগুরুকে অনুকরণ করিতে যাঁইয়। তিনি এক অতি 
বিকৃত, কৃত্রিম এবং হাস্যকর ছন্দ ব্যবহার করিয়াছেন । চটসাইএর ভূমিকার উপরেও গিরিশ- 
চন্দ্রের বিদূষক জাতীয় চরিত্রের অতি সুস্পষ্ট প্রভাব বিদ্যমান গিরিশচন্দ্রের চরিত্রের স্তায় সেও 
ইতর ভাষায় গৃঢ ব্যঞ্জনাময় ভাব প্রকাশ করে। আলোচ্য নাটকের কাহিনীর মধ্যে যথেষ্ট 
নাটকীয় উদ্বেগ ও গতি সঞ্চার করিবার সুযোগ ছিল কিন্ত সংলাপের ছূর্বলতায় কিছুই স্থপরি- 
ব্যক্ত হয় নাই । মাঝে মাঁঝে ট্রেজ-মাতানো সস্তা বীররস ফুটাইয়া তুলা হইয়াছে। দিন- 
করের ছুরিক! আক্রমণের ব্যাপারটা যেন নেহাত জোর করিয়া! আনা হইয়াছে। ইহার 
পিছনে কোন গভীর উদ্দেশ্টজাত প্রেরণা নাই । ক্ষণিক উত্তেজনা প্রস্থত ঘটনাকে কাহিনীর মূল 
নিয়ামক করিয়া! দেখানো সঙ্গত হয় নাই। 

'হরিশচন্ত্র এবং 'যাজ্ঞসেনী,_ এই ছুইথানা! অমৃতলালের পূর্ণাঙ্গ পৌরাণিক নাঁটক। 
হরিশচন্দ্রের কাহিনী লইয়া! বাংলা সাহিত্যে অনেকগুলি নাটক রচিত হইয়াছে। মনোমোহন 
বন্থুর “হরিশ্ন্ত্র নাটকের সমাঁলোচন! আমরা করিয়াছি । অমৃতলালের নাটকখানিও (১৮৯৯) 
ক্ষেমীশ্বরের চগুকৌশিক” অন্থসরণ করিয়! লিখিত। তবে দৃশ্ঠ সংস্থাপনের স্থানে স্থানে 
তাহার মৌলিকতা আছে। কামন্দক এবং বিদূষক গ্রস্থমধ্যে হান্তরস কৃষ্টি করিয়াছে। 
বিশ্বীমিত্রের শিল্য কাঁমন্দকের সহিত মনৌমোহনের “হরিশ্ন্্রঁ নাটকের পাতঞ্জলের 


সাদৃশ্য আছে। 


শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ডাঃ সুকুমার সেন মহাশয় বলিয়াছেন, গ্রীক সাহিত্যে ষে 109701) এবং 7১৮৮00৪ 
এই ছুই বন্ধুর কাহিনী আছে তাহা অবলম্বন করিয়। “আদর্শ বন্ধুর, আখ্যান বন্ত পরিকল্সিত হইয়াছে । এখানে 
ইহা উল্লেখযোগ্য থে সি. :0দ8:05এর”[9570 ৪0৫ ৮50০৪ নামক একখানা নাটকও আছে। ' 


৪৪৮৮ - বাধজং হঠ্ীফের ইতিহাস 


॥বাজসেনী € ১৯২৮ )॥ 'যাজবেনী” গিরিশচন্তের পৌরাণিক নাটক্ষের অনুন্ধপ 
'পীর়াণিক বাঁহিনী ছ্দরলছ্গমে লিখিত নাটক্ষ। গিরিশচন্ের স্যাম অমৃতলালও পত্য ও 
গন্য, উদ্তয্ন 'দ্চাঘাই ব্যবহার করিল্লাছেন। নাঁটকথামির নাম সার্থক নহে। মহাভারত 
আজমরণে লিখিত কৌরব ও পাঁগুবগণের ধিধাদমূলফ কাহিনীকে 'াঁজ্ঞসেনী' নাম দেওয়া ঘার্থ 
হয় নাই। একমাত্র বস্ত্রহরণের দৃশ্ঠ ব্যতীত নাটকের মধ্যে ফোথাও নূত্তনত্ব ও চমৎকারিত্ব 
নাই। বাক্ঞসেনী নিজেকে অগ্নির ঘ্বত বলিয়াছেন, কিন্তু তিনি কি করিয়। অগ্রিকে লেলিহান 
করিয়া দিলেন তাহার কোনো বর্ণনা গ্রন্থমধ্যে নাই । াঁজ্সেনী গ্রন্থের কেন্দ্রীয় চরিত্রও 
নহেন। গ্রন্থের কাছিনী তিনি তশ্গুখী করিতে পারেন নাই । তাহার ভিতরকার কোনে! ঘল্থও 
নাটকের মধ্যে দেখাঁনে হয় নাই। তাহার প্রতিহিংসার চরিতার্থত। দেখাইলেই নাটকথানি 
জন্পুর্ণ হইত । নাটকখানির মধ্যে নাটকত্বের একান্ত অভাব । কোন বিশেষ ঘটন! কি উদ্দেশ্ঠ 
রঞ্জিত, ভাবাবেগময় করিয়! দেখান হয় নাই । নাটকের মধ্যে তেমন কোনো আকন্মিক ও 
ও আগ্রহজনক ঘটনাও নাই। কৃষ্ণের চরিত্রের উপর বঙ্কিমচন্দ্রের “কৃষ্চরিত্র' ও নবীন 
নেনের ক₹্ণের প্রভাব বিদ্যমাঁন। শাস্তি ও ধর্মরাজ্য সংস্থাপনে কৃষ্ণ, অজ্জুন ও ব্যাসের মিলন 
নবীন সেনের কাব্যের প্রভাব প্রকীশ করিতেছে। “ তবে এই নাটকে কৃষ্ণও মূলত কাহিনীর 
নিয়ামক হন নাই। পাগুবগণের মধ্যে ভীমের চরিত্র সর্ধাপেক্ষা উজ্জল হইয়া ফুটিয়াছে। 
গিরিশচন্দ্রের 'পাগুব গৌরব” ও “পাগুবের অজ্ঞাতবাঁস+ নাটক দুইখানি এই প্রসঙ্গে ন্মরণীয়। 
স্টায়নিষ্ঠ অথচ দূর্বল চিত্ত পুত্রবৎল ধৃতরাষ্ট্রের সহিত মানী, বলদর্পা ও পাগুবদ্বেষী ছুর্যোধনের 
চরিত্রের পার্থক্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ক্র, স্বার্থসম্ধামী, কুট, রাঁজনীতিজ্ঞ শকুনির চিত্র 
ভালোই ফুটিয়াছে। ূ 

মৃতলালের গদ্য কখোপথন নিতান্ত আধুনিক ও ঘরোয়া হইয়াছে। নাট্যকার 
অনেকস্থলেই আধুনিক ভারতীয় সমাজের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়! চরিত্রগুলি অস্কন করিয়।ছেন। 
ধর্যুবন্ধ, উদ্দার, ত্বাধীন ভারতের কল্পনা তিনি করিয়াছেন। অমৃতলাল নাটকের মধ্যে 
কোনো অলৌকিক দৃশ্টের অবতারণা করেন নাই। এই দিক দিয়! গিরিশচন্দ্র ক্রি 
তিনি কাঁটাইয়! উঠিয়াছেন। 


তৃতীয় অন্ধ 
প্রথম গর্ভাঙ্ক 
(এতিহাসিক নাটকের স্বর্ণযুগ--আধুনিক নাট্যধারার সুচন! ) 
দ্বিজেন্দ্র-যুগ 

উনবিংশ শতাঁবীর অস্ত্যভাগে পৌরাণিক ও ভক্কিমূলক নাটকের অতিশয়িত উদ্ভব ও 
সাহার কারণ সন্থদ্ধে আমরা পূর্বে আলোচনা করিয়াছি । কিন্তু বিংশ শতাব্বীর গোড়াতেই 
এই নাটকের গতি ভিন্ন পথে চালিত হইল এবং তাহার ভিত্তিভৃমি স্থানাস্তরিত হইল পৌরাণিক 
জগৎ হইতে ধ্রতিহাসিক' জগতে । যে ধর্মসন্ধ দৃষ্টি অলৌকিক দৈবলীলার মধ্যে নিমগ্ন 
হইয়াছিল তাহাই মুক্তিদন্ধানী দৃষ্টিতে রূপান্তরিত হইয়া! লৌফিক মানবলীলায় নিবন্ধ হইল। 
নাটকের এই দৃষ্টি-পরিবর্তন সম্বন্ধে আলোচনা! করিতে হইলে তৎকালীন জাতীয় প্রতিবেশ 
লইয়া একটু আলোচনা! করা প্রয়োজন । 

আমরা পূর্বে কয়েকস্থানে দেখাইয়াছি, সমাজ পরিবেশের বিশিষ্টতা অনুযায়ী বাংল! 
নাটকের ভাব ও রূপের মধ্যে বিশিষ্টত দেখ! গিয়াছে । উনবিংশ শতাঁবীর মধ্যভাগ হইতে 
বাংলার সমাঁজ-মন কখনও সংস্কার-আন্দোলন, কখনও ধর্ম-আন্দোলন আবার কখনও বা 
জাতীয়-আন্দোলনে আলোড়িত হইয়াছে; এবং দেই সঙ্গে বাংল! নাটকের সামাজিক, 
পৌরাণিক অথবা এ্রতিহাসিক রূপের বিকাশ আমরা লক্ষ্য করিয়াছি। উনবিংশ শতাব্দীর 
জাতীয় ভাবাত্মক এ্ঁতিহাসিক নাটকের পিছনে যে নবোখিত জাতীয় প্রেরণার অস্তিত্ব ছিল 
সেই বিচার আমর! পূর্বে করিয়াছি । বিংশ শতাব্দীর সুচনায় এ্রতিহাসিক নাটকের যে 
গৌরবময় পুনঃ প্রতিষ্ঠা দেখ! গেল তাহীর মূলেও ছিল এক স্মরণীয় জাতীয় আন্দোলনের 
অনিবার্য প্রভাব। উনবিংশ শতাব্দীতে জাতীয় চেতনার উদ্মেষ হইলেও, তাহ! শুধু এক 
আদর্শায়িত. মানসবৃত্তিতেই পরিণত হইয়াছিল। হ্বদেশহিতত্রতী মুষ্টিমেয় শিক্ষিত লোকের 
জাতীয় কর্তব্য শুধু কেবল সভাক্ষেত্রে ও সাঁহিত্যক্ষেত্রেই সীমায়িত ছিল। অবশ্ত. ইহারও 
প্রয়োঙ্গন ছিল। কর্মযোগের পূর্বে ভাবযোগ প্রয়োজন, উনবিংশ শতান্বীর জাতীয়ভাবায়িত 
সাহিত্যিক ও নেতৃবৃন্দ অতীত ইতিহাসের আলোচন! করিয়া, প্ররাধীন দেশবাসীর মর্মবেদন! 
উদঘাটন করিয়া এবং ভবিষ্যতের স্বপ্রলব্ধ গৌরবের চিত্র অঙ্কন করিয়৷ জাতির চিত্তকে ক্রমে 
ক্রমে প্রকাশ্ঠ সংগ্রাম ও আত্মাহুতির জন্য প্রস্তত করিতেছিলেন। . ভারত-সভ! স্থাপিত 
হইল, কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা হইল, বন্দেমাতরমূ মন্ত্রে জাতির মনোদীক্ষা হইয়া! গেল। কিন্ত 
তথ্ন্‌্ও শক্তিসংগ্রহ ও সংহতিস্থাপনের কাল। উনবিংশ শতাী শেষ হইয়া গেল, 
বর্তমান শতাব্দীর আরম্ত হইল-_ভাবযুগের অতিক্রাস্তির পর স্থুরু হইল কর্মযুগের । বঙ্গ- 
ব্যবচ্ছেদের ফলে ধুায়দান জাতীয় বিক্ষোভ এক সর্বগ্রাসী অগ্মিবিপবে পরিণত. হইল-_ 
ড়াববিলাসের তত্তক্দ পরিমণ্ডল হইতে মুক্তিকামী জীবন নামিয়া আসিল দুঃখ ও ত্যাগলিথ 


১৯০ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


বাস্তব সংগ্রামক্ষেত্রে। এক অভূতপূর্ব জাতীয় মাদকতাঁয় দেশের আঁবাঁলবৃদ্ধবনিতা মাতিয়! 
উঠিল। জাতীয় নাট্যশীল! এই মাদকত! হইতে দুরে থাকিতে পারিল না । জাতির 
প্রবল ভাবোদ্বীপন! অন্তরে অনুভব করিয়া তৎকালীন শ্রেষ্ঠ নাট্যকারগণ জাতীয় ভাবাহু- 
প্রাণিত নাটক রচনা কয়িলেন। দর্শকগণ তাহাদের রা্রিক সংগ্রামের প্রেরণ! পাইল 
নাটকের মধ্যে, স্থৃবিপুল উৎসাহে সেই নাটককে তাহারা সব্র্ধনা জানাইল। আনন্দ- 
রসের প্রেক্ষাগৃহ ও আন্দোলনের রাজপথ এক প্রাণের যোগে সম্মিলিত হইয়া! গেল। 
“বাঙালী ভীরুতার অপবাদ ফুৎকারে উড়াইয়! দিল, সে বীরত্বের আস্াদ থাইল, বীরত্বের 
মহিমা! বুঝিল, সেই বীরত্বের সন্ধান করিল জাতীয় ইতিহাঁসে। নাট্যকারগণ তাহাদের 
নাটকে সেই বীরত্বের রূপ ফুটাইয়| তুলিলেন, বাঙালী দর্শকগণ তাহাঁদের জাতীয় বীর 
বলিয়! করিয়া! লইল প্রতাপাঁদিত্য, সিরাঁজন্দৌলা, রাণাপ্রতাপ প্রভৃতি চরিত্রকে । এই 
সব এ্রতিহাসিক বীরপুরুষদের সংগ্রাম ও আত্মোৎসর্গের কাহিনী স্বদেশের মুক্তিকামী. 
যোদ্ধাদের অন্তরে অন্তরে এক জীবন্ত প্রেরণ আনিয়। দিল। গিরিশচন্দ্র, দ্বিজেন্্রলীল ও 
ক্ষারোদপ্রসাদ শুধু কেবল নাট্যকার ছিলেন না, তাহার! ছিলেন জাতীয় মুক্তিযজ্ঞের 
মহাঁখত্বিক। | 

কিন্তু সাহিত্য শুধু প্রভাব বিস্তার করে না, তাহ প্রভাবিত.হয়ও বটে। নাট্যকার- 
গণও জাতীয় মনকে চালিত করিয়াছিলেন বটে, কিন্ত জাতীয় মনের দ্বার তাহারা 
নিজেরাও চাঁলিত হইয়াছিলেন। সেজন্য জাতীয় ভাবাবেগের কাছে অনেক স্থলেই 
তাহারা নাটকের প্রয়োজন বিসর্জন দিতে বাধ্য হইয়াছিলেন। অহেতুক বীরদর্প, 
অকারণ ভাঁবোচ্ছাস অসংলগ্ন ঘটনা-সমাঁবেশ ও অসঙ্গত চরিত্র-পরিণতি এই 
কারণেই তখনকার অনেক নাটকে অত্যধিক আতিশয্য লাভ করিয়াছিল।১ 
সমসাময়িক ভাবৌচ্ছুসিত দর্শকদের কাছে 'সেগুলি হয়তো বহুক্ষেত্রে বাহবা পাইত, কিন্ত 
পরবর্তী যুগের ভাবাবেগ-বঞ্জিত নিরপেক্ষ রসদৃষ্টিতে সেগুলি খুবই বিসদৃশ ও হাশ্যকর হইয়া 
পড়িল। যুগের প্রতি অনুগত থাঁকিয়াও যুগাঁতিচাঁরী রসচেতন বজায় রাখিতে পারিলেই 
শিল্পের যথার্থ সার্থকতা, ভাবাবেগের দাবী পরিপূরণ করিতে যাইয়। এই সাথ্থকতা অনেক 
স্থলেই ক্ষুণ্ন করিতে হইয়াছে । 


১। এতিহাসিক সত্য নিষ্কাষণ, এতিহাসিক চরিত্রের যখ।ধথ মর্যাদা রক্ষণ, এ সকল ভাব এতিহাসিক 
নমধে্ নাটক হইতে ক্রমশঃ সরিয়া গিয়াছে। 99788000. বা! উত্তেজনাই এঁতিহসিক নাটকের মূলমন্ত্র 
হইয়া নাট্য-সাহিত্যকে এমনই হীন স্তরে নামাইয় দিয়াছে যে, সে কথ। ম্মরণ করিতেও লজ্জা হয় । +সত্য 
অপেক্ষা! মিথ্য। আন্ষালন এবং মিথ্য। অভিমাঁনই বহু এঁতিহাসিক নাটকের প্রতিপাদ্য বিষয় হইয়া পড়িকাছে। 
দেশময় তখন একটা উত্তেজনার প্রবল তরঙ্গ বহিয়! চলিয়াছে। সেই উত্তেজনাকে অবলম্বন করিয়া বাংলার 
নাটাশীল! উদর পুরণ করিয়াছে, কিন্ত মনের খোরাক বিশেষ কিছু আহরণ করিতে পারে নাই। 

 ব্ঙ্গালয়ে বিশ বংস্র--অপরেশ মুখোপীধায়, পৃঃ ১৩৮ | 


দ্বিজেজ্জ-যুগ ১৯১ 


নাট্যকারগণ জাতীয় ভাবাবেগের প্রশ্রয় দিতে যাইয়া শ্তিহাসিক সত্যকে অনেক 
সময়েই প্রচ্ছন্ন অথবা বিকৃত করিতে বাধ্য হইয়াছিলেন। তাহার আদর্শ জাতীয় বীররূপে 
ধাহাদের চরিত্র চিত্রিত করিলেন তাহাদের প্রকৃত জীবনের দোঁষ ও দুর্বলতা আদর্শের 
স্বর্ণ-জালের অন্তরালে ঢাক! পড়িয়া! গেল। ইহাতে সেই সব চরিত্রের জাতীয় রূপ প্রকাশ 
পাইল বটে, কিন্তু ব্যক্তিরপ অস্ফুট অথবা অসত্যরঞ্রিত হইয়া রহিল। এইরূপ ছুইটি 
অসত্যরঞ্জনের, দৃষ্টান্ত প্রতাপাদিত্য ও সিরাজদ্দৌলা চরিত্র) ক্ষীরোদপ্রসাদ ও গিরিশ 
চন্দ্রের নাটক ছুইথানি জাতীয় সম্ব্ধনীর স্বর্ণমুকুট লাভ করিয়াছিল বটে, কিন্তু উহাদের 
মধ্যে প্রতাপাদিত্য ও সিরাঁজন্দৌলার প্ররুত রূপ উদঘাটিত হয় নাই। প্রতাপাদিত্যের যে 
পরিচয় রামরাম বসুর গ্রন্থে, সাম্রতিক এঁতিহাসিক আলোচনায়, এমন কি ক্ষীরোদ 
প্রসাদের নাটকেও রহিয়াছে তাহাতে, প্রশংসা করিবার, শ্রদ্ধা করিবার মত কিছুই 
তাহার মধ্যে নাই। অথচ নাট্যকার ও দর্শকগণের ভাবরঞজিত নেত্রে তাহার ব্যক্তি- 
চরিত্রের সমস্ত অপরাধ এক উদার ক্ষমাগীলতার প্রসন্ন দৃষ্টিতে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষিত 
হইয়াছে । প্রতাপাদিত্য সম্বন্ধে বোধ হয় ভাবাবিলদৃষ্টিমুক্ত হইয়। নিরপেক্ষ সাঁহসিক 
আলোঁচন। করিলেন রবীন্দ্রনাথ তাহার “বউঠাকুরাণীর হাট” উপন্তাদে ও প্প্রায়শ্চি্ত, 
নাটকে । সিরাজদদৌলাকে লইয়াও আমাদের জাতীয় ভাবোনম্মত্ততার' অনেকখাঁনি অপচয় 
হইয়াছে । গ্িরিশচন্দ্রের সিরাঁজদোৌল! আদর্শের স্থন্দর প্রতিসি কিন্ত ইতিহাসের সত্য 
মুতি নহে। 

উনবিংশ শতাব্দীতে বাংলা'র জাতীয়তাবাদ বিশেষভাবে হিন্দুর গৌরবময় প্রাচীন 
ইতিহাস ও সার্বভৌম ধর্বোধকে অবলম্বন করিয়া উল্মেষিত ও পরিপুষ্ট হইয়াছিল। 
বিভিন্ন সম্প্রদায়ের, মধ্যে মৈত্রী ও সীগ্জন্ত স্থাপন করিবার প্রয়োজন তখনও অন্ত 
হয় নাই। কিন্ত বিংশ শতাব্দীর জাতীয় আন্দোলন সাশ্্রদায়িক মিলনের ভিত্তিতে 
সমৃদ্ হইয়া সার্থকতা লাভের চেষ্টা করিয়াছিল। সেজন্য তৎকালীন জাতীয় ভাবাত্মক 
নাটকেও এইরূপ একটি আদর্শ সাম্প্রদায়িক মিলন স্থাপনের উদ্দেশ্ত অনেক স্থলেই 
পরিস্ফুট হইয়াছিল। সিরাজদ্দবৌলাকে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়েরই আদর্শ 
জাতীয় বার রূপে চিত্রিত করিবার পিছনে সাম্প্রদায়িক মিলনেচ্ছাই বিশেষভাবে সক্রিয় 
ছিল। দ্িজেন্্লীলেরও বহু নাটকে সাশরদায়িক প্রীতি স্থাপনের আদর্শ স্থম্পষ্ট হইয়! 
উঠিয়াছে। কর্ণসিংহ ও সাঁজাহানের বন্ধুত্ব, মহাঁবৎ খর প্রতি কল্যাণীর নিষ্ঠা, 
শক্ত নিংহের সহিত মুসলমানী নারীর বিবাহ প্রভৃতি বিষয় অবতারণ' করিয়! নাট্যকার 
হিন্দুমুসলমানের সম্প্রীতি স্থাপনের চেষ্টাই করিয়াছেন। কিন্তু এরূপ সাম্প্রদায়িক মিলন 
স্থাপনের আগ্রহাতিশয্যে অনেক সময় নাট্যকারগণ স্থবিদিত এতিহীসিক বৃত্তাস্তকেও বিরুত 
ও পরিবতিত করিয়া ফেলিতেন। সাময়িক ভাবাবেগের প্রবল প্রেরণায় এসব গুরুতর 
অনজতি নিন্দিত না হইয়া বরং প্রশংসিতই হইত। ক্ষীরোদপ্রসাদের স্থপ্রসিদ্ধ নাটক 
'আলমগীরে'র কথা এ প্রসঙ্গে উল্লেখ 'করা যাইতে পারে। নাট্যকার চির-হিন্দু-বিদ্বেষী 


১৯হ4 বাংল। নাকের ইঞ্ছাস 


আলমগীরের মুখে হিঙ্দু-মুসলমাঁনের তরল মিলন-্বপ্ন ব্যক্ত করিয়! ইতিহাসের প্রতি বৃদ্ধানু্ 
দেখাইয়াছিলেন বটে, কিন্তু জাতীয় ভাবাচ্ছন্ দর্শকদের কাছে উচ্ছ্বসিত করতালির কোন 
অভাঁব তাহার হইত না। আলমগীর রাজসিংহকে বলিলেন--“তবু এ মিলনের অভিলাষ - হে 
কবি, বছর যাক, যুগ যাঁক, বহু শতাব্দী চ*লে যাক, শতাব্দীর পারে একদিন তোমার 
তুলিকামুথে আলমগীরের এ মিলন-অভিলাষ-_হিচ্দু মুসলমানের মিলন-অভিলাষ মুখর হক, 
এস ভাই, জগতের তলক্ষ্যে, এই ( ভীমসিংহকে দেখাইয়া! ) চির-জাগ্রত সত্যাশ্রয়ীর সম্মুখে, 
এই রহস্যময় গুহামধ্যে পরস্পরকে -হিন্দু-মুসলমানে একবার আলিঙ্গন করি।” রাতের পর 
রাত বাঙালী দর্শকগণ ইতিহাসের এই অপরূপ ভাষ্য শুনিয়৷ আনন্দোল্লাসের মধ্য দিয়া 
তাহাদের মোহবদ্ধ জাতীয়তার পরিচয় দিয়াছে । 


গিরিশচন্্র, দ্বিজেন্দ্রলাল ও.ক্ষীরোদপ্রসাদ তিনজনে একই সময়ে এ্রতিহাসিক নাটক 
রচনা করিয়াছিলেন বটে, কিন্তু তাহাদের প্রতিভার ধর্ম ছিল বিভিন্ন ) সেজন্য বিষয়বস্তর 
অনুরূপতা থাকিলেও তাহাদের এ্রতিহাসিক নাটকের ভাবগ্রকৃতির মধ্যে যথেষ্ট বৈলক্ষণ্য দেখ! 
যায়। “সিরাজদৌলা+, “মিরকাশিম” ও “ছত্রপতি শিবাজী” গিরিশচন্দ্রের খাটি এ্রতিহাসিক 
, নাটক হইলেও, ইহাদের পূর্বেও তিনি “চপ”, ভ্রান্তি” 'সৎনাঁম” “বাসর, “অশোক” প্রভৃতি 
ইতিহাঁসমূলক নাটক রচনা করিয়াছিলেন। কিন্তু প্রতিহাসিক পরিবেশ অথবা উদাত্ত 
জাতীয় উদ্দেশ্য অপেক্ষা! এ সব নাটকে ব্যক্তি-কাহিনী ও ধর্মভাবই অধিকতর প্রশ্রয় লাভ 
করিয়াছে । সমসাময়িক নাট্যকারদের সহিত প্রতিযোগিতার জন্য যুদিও তাহাকে এঁতিহীসিক 
নাটক্ষেত্রে অবতীর্ণ হইতে হইয়াছিল, তথাপি ইহা অনস্বীকার্য যে তাহার প্রতিভায় 
প্রতিহাঁসিক নাটকের স্বতংক্ফ9তব প্রেরণ! ছিল না । ভক্তি ও বিশ্বাসের দুরান্ৃত জগৎ অথবা 
চ্গমান বাঙালী সংসারের সীমায়িত পরিধির মধ্যে তাঁহার কল্পনা ও প্রাণশক্তি যেরূপ সাবলীল 
প্রকাশ লাভ করিত; ঘাত-প্রতিঘাতময়, উমিমুখর উদাত্ত এতিহাসিক পরিবেশে সেরূপ লাভ 
করিত না। প্রতাপাদিত্য ও প্রতাঁপসিংহের পর তিনি প্রতিহাসিক নাঁটক রচনায় তাহার 
লেখনীকে নিয়োজিত করিলেন বটে, কিন্ত তখন তাহার মনে কর্তব্যপাঁলনের তাগিদ বতখানি 
ছিল, হ্ুষ্টির অবারিত আবেগ হয়তো! ততথানি ছিল না। 
_ ৬প্রতিহাসিক নাটকের পূর্ণতম রূপটি ধিজেন্্লালের প্রতিভা-ম্পর্শের জন্ত অপেক্ষা 
করিতেছিল। িজেন্দ্রলালের পূর্বে ্রতিহাসিক নাটক রচিত হুইয়াছিল। তাহার পরেও 
খ্রতিহাসিক নাটক রচন! হইয়াছে, কিন্তু উহার মণিভাগ্ডারের শেষ চাবিটি শুধু ছিল 
দ্বিজেন্্রলালের কাছেই । গিরিশচন্দ্রের গ্রতিভ। যখন তাহার শেষ রশ্মিগুলি বিকীর্ণ করিতেছিল 
নাট্যাকাশের পূর্বদিগন্তে তখন নব স্বর্ণজাল রচন! হইতেছিল।১ গিরিশচন্দ্র নাটক রচনায় 


, ১ একদিন দ্বিজে্রলালের সঙ্গে কথ প্রসলে গিগিশচ্ত্র বলিয়াছিলেন,আপনার উপরে আমার অগাধ আঁশ! । 
ভবিষ্যতে আপনিই এদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ নাটাকার--আমাদের একমাত্র ভবিয্যৎ ভরসা, এ বিষয়ে কি আর কোন 
রকম সন্দেহ আছে? এই অল্প কয়েকটি বছরের ভিতরে আপনি বা দেখাইলেন, আমাদের সারাট1 জীবনের 
সীধনায়ও তেমনিটি হইল ন।। ......আমাদের তে! দিন ফুরাইয়া আসিল; এখন আপনর উপরেই সব ভার ।” 
ছবিজেঞ্রলাল- দেধকুমার রায়চৌধুরী, পৃঃ ৬২৪ । 





দ্বিজেন্দ্র-যুগ ১৯৩ 


শেক্সগীয়র প্রভৃতি পাশ্চাত্য নাট্যকার দ্বার! প্রভাবাদ্বিত হইয়াছিলেন। কিন্তু তবুও ইহা 
একান্ত সত্য যে, তাহার নাটকে দেশের প্রাণবস্তই জীবন্ত হইয়া উঠিয়াছিল। চিন্তা, সংস্কার 
ও আঙ্গিক-পরিকল্পনা ও রসচেতন! সব দিক দিয়াই তিনি দেশের মাটি আাকড়াইয়া 
ধরিয়াছিলেন। কিন্তু পাশ্চাত্য নাটকের প্রাণসত্তা বলিষ্টরূপের প্রকাশিত হইল দ্বিজেন্দ্র- 
লালের নাটকে। দ্বিজেন্দ্রলাল নাটকের প্রত্যক্ষ প্রেরণা পাইয়াছিলেন খাস বিলা'তের 
মাটিতে।১ তিনি যখন দেশে ফিরিলেন তখন ইংরাজের ভাব, 'আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গি তাহার 
জীবনকে ভরিয়া! রাখিয়াছিল। শুধু কেবল আহার বিহীরে নহে, কাব্যে গানেও তিনি ইংরাজের 
জগতের সহিতই যুক্ত হইয়াছিলেন। পাশ্চাত্যের সহিত এই মাঁনসযোগ লইয়াই তিনি 
নাটক রচনা! করিতে আরম্ত করেন। সেজন্য ঘটনা-সংহতি, গতিবেগ, ভাবসংঘাত, ট্র্যাজিক 
রমচেতন৷ প্রভৃতি দিক দিয়াঁ তাহার নাটক এত ঘনিষ্ঠভাবে পাশ্চাত্য নাটকের প্রাণধর্মের 
সহিত যুক্ত। পাশ্চাত্যের প্রতি এতথানি আনুগত্য থাকা সত্বেও এই পাশ্চাত্য সমাজ ও 
বাষ্ত্রের সহিত পরিচয়ের ফলেই তাহার মধ্যে জাতীয় ভাব উন্মেষিত হইয়াছিল। তৎকালীন 
সমাজের দিকে তাকাইয়! তিনি দেখিলেন, সেখানে রহিয়াছে এক সর্বব্যাপী ক্লীবত্বঃ 
একদিকে পুরাতনের প্রতি তামসিক মোহ, অন্যদ্দিকে সংস্কারের নামে শ্বেচ্ছাচার আর 
জাতীয়তার কৃত্রিম ও কপট অভিনয়। এই মোহ ও বিকৃতিকে তিনি আঘাত করিলেন, 
কিন্তু দেই আঘাতের পিছনে ছিল হিতৈষী মনের সুগভীর মর্মবেদনা। ২ তাহার বলিষ্ঠ 
ত্বদেশপ্রেম প্রকাশের পর্যাপ্ত ক্ষেত্র পাইল এঁতিহাসিক জগতে । সেখানকার বিচিত্র উত্থান 
পতনময় কাহিনীর মধ্যে তিনি তাহার উদাত্ত স্বদেশপ্রেম ঢালিয়! দিলেন।, রাঁজপুত কাহিনী 
পরাধীন দেশের মুক্তিকামী জনগণের নিজেদের কাহিনী হইয়! উঠিল । 

কিন্ত শুধু কেবল দেশপ্রেম নহে, জীতি-ধর্ম-নিবিশেষে এক উদার সর্বজনীন প্রেমে 
দ্বিজেন্্লালের চিত্ত অনুপ্রাণিত ছিল। ৩ সেজন্য উগ্র জাঁতিবৈরিত৷ অপেক্ষা মানবের 
সামগ্রক কল)াণ ও মৈত্রী স্থাপনে তাহার আদর্শায়িত দৃষ্টি অধিকতর আগ্রহাম্বিত ছিল। 
£মেবার পতন” নাটকে তিনি বিশ্বপ্রীতির মহৎ উদ্দেশ্ট প্রতিষিত করিতে চাহিয়াছেন। 


১। গবিলাতে যাইয়। বহু রঙ্গমঞ্জে বহু অ।ভনয় দেখি, এবং ক্রমেই অভিনয় ব্যাপারটি আমার কাছে 


প্রিয়তর হইরা উঠে ।” 
আমার ন।ট্য জীবনের আরস্ত--নাট্যমন্দির, শ্রাবণ, ১৩১৭ । 


২। “কিন্ত তার সঙ্গে যে ছু্দিনও মিশত সেই মুগ্ধ হত দেখে তিনি গভীর বেদনা বে।ধ করতেন দেশব।সীর 
মনে প্রাণে অপাড়তায়-ম্বাধীন চিন্তার দৈগ্ভে--সর্বব্যাপী ক্লীবত্ধে। তার উপর এ বেদনা ছিল কবির বোন।-- 
বিজ্ঞপীর বেদনা নয় । তাই তিনি বিদ্রপ ছেড়ে ধরেছিলেন নাটক ও দেশাত্মবোধের গাঁন' গেয়েছিলেন, আমর! 


ঘুচীব ম৷ তে।র কালিমা' চেয়েছিলেন 'আবার' আমরা মানুষ হই।' 
উদাসী দ্বিজেন্্রলাল__দিলীপকুমার রায়-_-পৃঃ ৩৩৭ । 


৩। দ্বিজেন্্লালের এ স্বদেশ-ভক্তি সর্বজনীন দয়া, মৈত্রী ও শুভেচ্ছা ৷ এ দেশভক্তির পরম পরিণতি দেশ কাল 


পাত্র নির্বিশেষে এ লমগ্র জগন্মঙ্গলেচ্ছায়। ঠাহার দেশভক্তি কোন জাতি বা দেশের উপর ঘৃণার উদ্রেক 
করে না।' 
--ছ্বিজেন্রলাল*্-দেষকুমায় স্না় চৌধুরী, পৃঃ ৭৩৭ | 


৫ 


১৯৪ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


দ্বিজেন্্রল।ল ভগবানের প্রতি উদাসীন ছিলেন, কোন অলৌকিক আধ্যাত্মিক রহস্য উদঘাটনে 
তাঁহার তেমন কোন আগ্রহ ছিল না। অথচ মামুষের প্রতি এক সীমাহীন বেদন! ও মমত্তে 
তাহার অন্তর পরিপূর্ণ ছিল। সেজন্য স্বর্গের চিরআকাক্কিত স্বর্নরাজ্য ছাঁড়িয়া তিনি 
মত্যের ধূলিতলে সমস্তা সংঘ্বাত-জড়িত মাঁনবের দিকে আগ্রহ-সিক্ত দৃষ্টি নিক্ষেপ করিলেন । 
অধ্যাত্ম'জীবন হইতে এই যে বস্তজীবনের প্রতি দৃষ্টিপাত, ভগবান অপেক্ষা মানষের প্রতি এই 
যে গভীরতর কৌতুহল ইহারই ফলে দ্বিজেন্রলালের নাটকে আধুনিক নাট্যধারার সগৌরব 
প্রবর্তন! ঘটিয়া গেল। আধুনিক কালে সমাজের বিভেদ-বিরোধ দূর করিয়া যে সাম্যনীতি 
স্থাপনের চেষ্ট। চলিতেছে তাহার স্ুম্পষ্ট রূপ দ্বিজেন্বলালের মধ্যেও আমরা দেখিতে পাই। 
এই সাম্যনীতির প্রেরণাতেই তিনি হিন্দুসমাঁজের ক্ষুদ্রতা, সংকীর্ণত। ও শ্রেণীবৈষম্যকে এন্ধপ 
কঠোর ভাবে আঘাত করিয়াছেন। 
৬মানবতার মহৎ গৌরব দেখা ইতে চাহিয়াছিলেন বলিয়াই দ্বিজেন্্রলাল মানবতার বেদনাও 
গভীরভাবে অনুভব করিয়াছিলেন। বড় গৌরবের জন্য বড় মুল্যও দেওয়া গ্রয়োজন। 
দুঃথকে যে বরণ করিয়া নিল সেই তো! অপরাজেয় গৌরব অর্ধিকার করিতে পারিল। 
খ্িজেন্দ্রলাল এই ছুঃখের মহিমা দেখা ইয়াছেন, দেখাইয়াছেন প্রতাপের ছুঃখভোগ, সগরসিংহের 
অন্তর্জালা, যশোবন্তসিংহের মৃত্যুবরণ, মহাবৎ খার অন্তদ্বন্দ। কিন্তু শুধু কেবল আদর্শ- 
গত দুঃখ নহে, মানব-চরিত্রের মানসিক বায়না ও প্রবৃত্তির নিষ্ঠুর ছন্দ সংঘাতের ফলে যে 
ছুঃখ অনিবার্য আঘাতে চিত্তকে বিচলিত করে তাহার রূপও নাট্যকার দেখ|ইয়াছেন। 
সাজাহানের কুদ্ধ হৃদয়জালা, হুরজাহানের শোচনীয় পরাজয়, চাঁণক্যের নিরুদ্ধ বেদনা ও 
দ্ারার মর্মান্তিক মৃত্যু আমাঁদের হৃদয়ে এক ঘনীভূত ট্র্যাজিক অনুভূতির সৃষ্টি করে। বাঙালীর 
কোমল, অশ্রতরল চিত্তভূমিতে ট্র্যাজেডির রক্ষ-কঠোর মৃতি স্থান পায় না, কিন্ত দ্বিজেন্র- 
লালের তুলিকায় এই মুতি তাহার অসামান্য মহিম! লাভ করিল-অশ্রর লাবণ্যে-সিক্ত হইয়। 
নহে, অঙ্ধহীন আগুনে দগ্ধীভূত হইয়া । দ্বিজেন্দ্রলাল জীবনের এই ট্র্যাজিক রূপ দেখাইতে 
সমর্থ হইলেন, কারণ তিনি জীবনকে দেখিলেন পরিপূর্ণভাবে । বেদনার প্রবল আবর্ত 
বাহিরে দৃশ্যমান নহে, তাহা৷ চলে অনৃশ্যভাবে অন্তরের অভ্যন্তরে । যিনি এই অভ্যন্তরে 
দৃষ্টি নিক্ষেপ করিতে পাঁরিলেন তিনিই তো গভীরতম বেদনার রূপটি চিনিতে পাঁরিলেন। এই 
দৃষ্টি দ্বিজেন্দ্লীলের ছিল, সেজন্য তাহার নাটকে বহির্জগতের বিবাদ অপেক্ষা অন্তর্জগতের 
বিপ্রবই প্রধান হইয়। উতয়াছে। এ পর্যস্ত দেউড়ির প্রান্তে দীড়াইয়৷ আমর! অনেক হাঁকডাক 
গুনিয়াছি, দ্িজেন্দ্রলল আমাদিগকে রস ও রহস্তেভরা অন্তঃপুরের দ্বারে 
পৌছাইয়া দিলেন। ১৯ 
ছিজেন্ত্রলালের সমসাময়িক নাট্যকার ক্ষীরোদপ্রসাদও স্বদেশী তাঁবপ্রেরণা লইয়া নাটক 
রচনা করিয়া ছিলেন। ওহীর “প্রতাপাদিত্য* “আলমগীর”, “পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত” প্রভৃতি নাটক 
জাতীয় ভাবোদ্দীপিত দর্শকদের চিত্ত বিশেষভাবে আকৃ৪ করিয়াছিল। কিন্তু ভাবাদর্শের দিক 
দিয়। দ্বিজেন্্রলীলের সহিত তাহার পার্থক্য গুরুতর । দ্বিজেন্দ্রলালের দৃষ্টি বস্তজগতে নিবন্ধ কিন্তু 


দ্বিজেক্জ-যুগ ১৯৫ 


ক্সীরোদ প্রসাদের দৃষ্টি অলৌকিক জগতের রহস্য ও মহিমাঁয় কৌতৃহলী। তিনি আধুনিক 
উদার মতবাদে বিশ্বাসী হইলেও ধর্ম ও শীন্ত্-নির্দেশিত পুরাতন পথের মোহ কাটাইয় 
উঠিতে পারেন নাই। দ্বিজেন্দ্রলাল নাটকের কাহিনী অপেক্ষা চরিত্র-স্্টির দিকেই 
অধিকতব লক্ষ্য রাখিতেন ৷ কিন্ত ক্ষীরোদ প্রসাদের দৃষ্টিতে চরিত্র অপেক্ষা কাহিনী-বর্ণনার 
প্রাধান্ত ছিল বেণী । দ্বিজেন্দ্রলালের চরিত্রগুলি গাঢ় ও উজ্জল রেখায় অস্কিত। কিন্ত 
ক্ষীরোদপ্রসাদের চরিত্রগুলি একটু অস্পষ্ট, অস্ফুট, ছুর্বোধ ও বিবর্ণ। ছিজেন্্লালের 
ঘটনার দৃঢ়-সংহতি ও কেন্দ্রমুখিতা ক্গীরোদপ্রসাদে নাই। অসংলগ্ন দৃশ্য ও অবাস্তর 
চরিত্রের আধিক্যের ফলে তাহার নাটক দীর্ঘ, শিথিল ও অভিনয়ের অনুপযোগী হইয়া পড়ে। 
তাহার সংলাপে মাঝে মাঝে কাব্যময় উচ্ছ্বাস থাকিলেও শাণিত দীপ্তি এবং ক্ষিপ্র গতিবেগ 
নাই। ' তাহার এ্তিহাসিক নাটকেও উদাত্ব-গন্ভীর বীর্যদীপ্ত পরিবেশ জীবন্ত হইয়! উঠিতে 
পারে নাই। প্রায়ই তাহার চরিত্রগুলি অন্তর্নিহিত রহন্তে জটিল, ভাবাতুর ও 
অব্যবস্থিত-চিত্ত। 

বিংশ শতাবীর গোড়ায় কিছুকাঁলের জন্য এতিহাপসিক নাটকের বহুল ব্যাপ্তি দেখ গেল 
বটে, কিন্তু শুধু কেবল এই জন্যই তৎকালীন নাট্যযুগ স্মরণীয় নহে। এই সময়কার নাটকের 
মধ্য দিয় আধুনিক নাট্যধারার প্রবর্তন হইয়াছে, ইহাই এই যুগের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য 
বিষয়। মাঁনবতার গৌরবাঁয়ণ, বস্তজগতের প্রতি নবজাগ্রত কৌতুহল, চরিত্রদন্ব ও ট্র্যাজিক 
রসের অবতারণাঃ গতিবেগ ও ভাবসঙ্গতির দিকে মনোযোগ, রঙ্গমঞ্চের সহিত ঘবনিষ্ঠতর 
যৌগাযোগ-স্থাঁপন-_এ সব দিক দিয়! আধুনিকতার আত্মপ্রকাশ ঘটিয়াছিল। এই যুগচেতন! 
অল্লবিস্তর প্রায় সকল নাট্যকারের মধ্যেই দেখা যায়। কিন্ত এই ষুগ-প্রবর্তক অবিসংবাদিত 
ভাবে দ্বিজেন্দ্রলাল । 


দ্বিজেজ্জলাল রায় 
(ক) ভূমিক! 

গিরিশচন্দ্র এবং অমৃতলালের ন্যায় দ্বিজেন্দ্রলাল প্রত্যক্ষভাবে রঙ্গালয়ের সহিত সম্পক্ত 
ছিলেন না । অভিনেতৃ জীবনের অভিজ্ঞতা হইতে তাঁহার নাট্যজীবন পুষ্টিলাভ করে নাই। 
'গিরিশচন্ত্র অমুতলাল প্রভৃতি নাট্যকার নাটক লিখিবার কালে প্রেক্ষাগৃহের পরিচিত দর্শক- 
বৃন্দের কথা চিন্তা করিয়া লইতেন, এই সব দর্শকের রুচি ও মঞ্জি খুশি করিবার লক্ষ্য ছিল 
বলিয়াই তাহাদের অধিকাংশ নাটক সাময়িকভাবে রঙ্গমঞ্চে সার্থ সম্বর্ধনা লাভ করিত বটে, 
কিন্তু অনাবশ্যক দৃশ্য, অবান্তর নাঁচ-গাঁন এবং অশোভন ভঁগড়ামি প্রভৃতি সেই সব নাটকের 
স্থায়ী প্রতিষ্ঠা নষ্ট করিয়া ফেলিত। কিন্তু দ্বিজেন্দ্রলালের নাটকে সাময়িক কোনো রুচি ও 
'চাহিদার অনুকূল স্থুলভ উপাদানের সপ্তাব ছিল না। সেইজন্য দর্শকের মানসিক বিবর্তনের 
ফলে তীহা'র নাটকসমূহ অপ্রিয় হইয়। যায় নাই | 

নাটক পঠন এবং দর্শনের দ্বারা ক্রমে ক্রমে দ্বিজেন্দ্লালের মধ্যে নাট্যপ্রতিভা উন্মেষিত 
হয়। বিলাতে এবং এই দেশে বহু নাটকের অভিনয় দেখিয়া নাটকের প্রতি তাহার আগ্রহ 
জন্মিতে থাকে। প্রসিদ্ধ নাট্যকারদের নাট্যাদর্শ অনুসরণ করিয়া তিনি নাটক রচনা করিতে 
আরম্ত করেন। কিন্তু তাহার প্রতিভার বিচিত্র শতদল তাহার রচনার মধ্য দিয়া ক্রমে ক্রমে 
বিকশিত হইয়া উঠিয়াছিল। প্রহসন এবং নাট্য-কাব্যের সময়ে ইহা অস্ফুট কোরকের স্তায় 
অপূর্ণ ছিল, ধীরে ধীরে ইহার পাঁপড়িগুলি প্রসারিত হইয়া প্রতিহীসিক নাটকে পূর্ণ পরিস্ফুট 
" হইয়া চতুর্দিকে সৌরভ ছড়াইতে লাগিল, এবং অবশেষে সামাজিক নাটকে ইহা শ্ানায়মান 
শু্প্রীয় হইয়! পড়িল। তিনি যখন প্রহসনগুলি লিখিয়াছিলেন, তখন হাসির গানের যুগ, স্ত্রী 
এবং বন্ধবর্গের মধুময় সংসর্গে তাহার জীবনের কৌতুক এবং আনন্দরস শতধা উচ্ছ্বসিত হইয়৷ 
উঠিয়াছিল, রঙগব্যঙ্গের চাঁপল্যে তিনি প্রাণ খুলিয়া মাতিয়া৷ পড়িয়াছিলেন। কিন্তু হাসির 
গাঁন লিখিয়! প্রসিদ্ধ হইলেও প্ররুত প্রহসনের প্রতিভা তাহার ছিল না। সেইজন্য প্রহসনের 
ক্ষেত্রে তাহার প্রতিষ্ঠা স্থায়ী হয় নাই । প্রহসনের পর শেক্স্পীয়ারের আদর্শে তিনি অমিত্র 
ছন্দে কয়েকখানা নাট্য-কাব্য রচন। করেন। গিরিশচন্দ্রের পৌরাণিক নাটকের প্রভাব 
তখনে! প্রবল । সেই প্রভাবে চালিত হইয়াই হয়তো তিনি পৌরাণিক নাটক লেখা আরম্ত 
করেন, কিন্তু তাহার যুক্তিবাদী, বস্তনিষ্ঠ, আধ্যাত্মিকতাঁবিরোধী মনের উপযুক্ত ক্ষেত্র 
পৌরাণিক নাটক ছিল নাঁ। অমিত্রাক্ষর ছন্দে নাটক লিখিয়া তিনি বুঝিলেন যে, ইহাতে 
ঠাহার সম্যক অধিকার নাই, নাটকের পক্ষে পদ্য স্বাভাবিক নয় তাহাঁও তাহার মনে 
হইল 1১ সেইজন্য তিনি গগ্চে ধরতিহাসিক নাটক লিখিতে স্থুককু করেন। এতোদিন পরে 


১। দ্বিজেন্দ্রলালের নিজের উক্তি উল্লেখযোগ্য 
“তদুপরি নাটক অভিনয় করিবার জিনিষ । অভিনয়ে ঘটনাগুলি বত প্রত্যক্ষবৎ হয় ততই ভাল। 
সেইন্নন্য উক্তিগুলি যত স্ব/শাবিক হয় (ভাষার মর্যাদা রক্ষ! করিয়। অবগত ) ততই শ্রেয়ঃ। লোকে কথাবাত1 
পদ্যে করে না, গছ্যে করে। এতএব গদ্যে নাটক রচন! করিলে উক্তিগুলি অন্বাভাবিক ঠেকিবেই | 
( আমার নাট্যজীবনের আরম্ব-_ নাটামন্দির, শ্রাবণ ১৩২৭ ) 


দ্বিজেজ্দলাল রায় ৰ ১৯৭ 


তাহার গৌরবময় সিদ্ধির পথ তাহার পক্ষে প্রশস্ত হইয়া উঠিল পদ্যরচনার কৃত্রিমত। 
হইতে মুক্ত করিয়া তিনিই সর্বতৌভাবে বাংল নাটবকে সিন পদবাচ্য 
করিয়া তুলিলেন। 

জেন্্রলালের পূর্বে জ্যাঁতিরিন্দ্রনাথ এবং গিরিশচন্দ্র প্রভৃতি নাঁট্যকাঁর পরত্হিসিক 
নাটক লিখিয়! প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছিলেন, কিন্তু মনে হয় এ্রতিহাসিক নাটক এতোদিন 
চরম সার্থকতা লাভ করিবার আশায় দ্বিজেন্্লালের জন্ত অপেক্ষা করিতেছিল, ঝুঝি তাহার 
পূর্বে কেহ আর ইহাকে একচ্ছত্র মহিমায় ভাস্বর করিয়৷ ভুলিতে পারেন নাই। ত্বাহার পরেই 
আবার এ্রতিহীসিক নাটকের যুগ শেষ হইয়৷ আসিয়াছে। হয়তো আর তাহার অত্যথান 
হইবে না। 

বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশককে বীনা নাটকের স্বর্ণযুগ বল! যাইতে পারে। 
গিরিশচন্দ্র ক্ষীরোদপ্রসাদ এবং ছ্বিজেন্দ্রলালের প্রসিদ্ধ শ্রতিহীসিক নাটকসমুহ এই সময়ে 
রচিত হইয়াছিল। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে দেশের মধ্যে যে তুমুল বিক্ষোভ এবং প্রবল আন্দোলন 
গড়িয়া উঠিয়াছিল এই সমস্ত “জাতীয় ভাবোদ্বীপক নাটক তাহা শক্তিশালী করিয়। রাখিতে 
বিশেষ সহায়ক হইয়াছিল ।১ 

১৮যে স্বদেশী উন্মাদনার স্চনা হইয়াছিল “প্রতাপাদিত্যে, তাহারই পূর্ণ পরিণতি দেখ! 

গেল প্প্রতাপসিংহ, “ছুর্গাদাঁস,» “মেবাঁর পতন” প্রভৃতি নাটকে । জাতীয় মন্ত্র-দীক্ষিত 
দ্বিজেন্দ্রলাল পরাধীনতার ক্ষুন্ধ জাল। ও অপরিসীম বেদনার কথা ফুটাইয়৷ তুলিয়া 
ভবিষ্ঠতের আশা ও আলোকের চিত্র অঙ্কিত করিয়! দেখাইলেন। /তাহার নাটকে 
মহাপ্রাণের আত্মবলিদানে, চারণের শোক সংগীতে এবং স্বাধানতাত্রতী জাতির বিরাট 
ত)াগের মধ্যে মর্মান্তিক কারুণ্য প্রকাশ পাইলেও সঙ্গে সঙ্গে আত্মোৎসর্গের মহিমা, স্থার্থ- 
ত্যাগের গৌরবে মন ভরিয়া উঠে» পুনরায় মহাব্রতে দীক্ষিত হইবার জন্য হৃদয়ে হূর্বার 
প্রেরণা বোধ করা যাঁয়। ভারতবাসীর শত প্রকার দুঃখ-লাঞ্চনার মধ্যেও নাট্যকার আবার 
আমাদিগকে মানুষ হইবার জন্ত আবেদন জানাইয়াছেন, এই স্থুগভীর আশাবাদ তাহার 
নাটকগুলিকে অমূল্য জাতীয় সম্পদে সমৃদ্ধ করিয়! রাখিয়াছে। 

(খ্িতিহাসিক নাটকের অনুকূল পরিবেশ স্বজন করিতে দ্বিজেন্্লালের স্ায় আর কেহও 
সঙ্গম হন নাই। তাঁহার নাটক আমাদের চোখের সন্মুথে ইতিহাসের পাতা হইতে এক 
বিরাট জগৎকে জীবন্ত করিয়া উপস্থাপিত করে, সেখানে সাংসারিক জীবনের তুচ্ছতা, ক্ুদ্রতা 
এবং দৈনন্দিন জীবনের সাধারণতা নাই--সেখানকার পাত্র-পাত্রী সব অসাধারণ উপাদানে , 
গঠিত, তাহাদের কথাবার্তা, চালচলন, হৃদয় ও মনের লীল! এক সমুন্রত মহিমা এবং অন্পম 


1, ৮[106 ৪1১০9 2005917)67)69 0০0 00]0 11959 70:0580. ৪1006 11590, 6০ 00 009 
80068910 07:877)89 70100:/060 86 6১9৮ (209. 46 ৪8০1) 01009 0£ 006 800696586 10660, 63989 
0792098 80690 1100 ৪ €68৮ 10801790100. 800 011010860 (9 81:5116 206975691165 ০৫ 
(06 0600016. 

179 17769 56676, (০7, [)--৮. মৈ* 7088 007 


১৯৮ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


ধরশ্বর্ষে মণ্ডিত হইয়! উঠিয়।ছে। তাহার! প্রেমে অপ্রতিম, শৌর্ষে সীমাহীন, আবার ক্রোধে 
প্রচণ্ড, হিংসায় হূর্বার। )তাহাদের উ্থানপতন আমাদের হৃদয়ে মৃদু কম্পন জাগায় না» সজোর 
আঘাতে ইহাতে ভ্রুত স্পন্দন স্থাষ্টি করে। এতিহাসিক ভূমিকাগুলিতে মানব-চরিত্রের এক 
একটা দিক পুর্ণ এবং চরমরূপে উদ্ভাসিত হইয়া! উঠ্িয়াছে। প্রতাপমিংহের স্বদেশপ্রেম, 
দুর্গাদাসের মহত্ব, গোবিন্দপিংহের স্থদৃঢ় সংকল্প, মহাবখার কর্তব্যপরায়ণতা,. কাঁশিমের 
প্রতৃভক্তি - মানবজীবনের এক একটি আঁদর্শকে অভ্রান্তভাঁবে রূপাঁয়িত করিয়াছে (ইতিযিসিক 
নাটকে বীররস ফুটাইয়! তুলিবার ক্ষমতা থাকা দরকার এবং এই ক্ষমতা দ্বিজেন্দ্লালের সমধিক 
পরিমাণে ছিল বলিয়াই তাহার নাটকগুলি এইকপ সার্থক হইয়া উঠিয়াছে। রমেশ দত্ত এবং 
বঞ্চিমচন্ত্রের স্যাঁয় বীরত্ব ও শৌর্ষের বর্ণনায় তাহার চিত্ত উল্লসিত থাকিত। তাঁহার নাটকীয় 
চরিত্রগুলির কথায় এবং আচরণে সর্বত্র একট! দৃপ্ধ পৌক্ুষের এবং অটল গান্তীর্ধের ভাব 
প্রকাশিত। কিন্তু এই বীররসের আধিক্য আবার অনেক স্থলে তাহার নাটকের গুরুত্ব নষ্ট 
করিয়া দিয়াছে, অনেক সময়েই অকারণ বীরত্ব দেখাইতে যাইয়া তাহার চরিত্রগুলি হাল্কা! 
এবং হীশ্তকর হইয়া পড়িয়াছে। তখন মনে হয় তাহাদের উত্তেজনাটা কৃত্রিম, এবং তাহাঁদের 
গম্ভীর বীরত্ব প্রকৃতপক্ষে শৃন্তগর্ত আন্কালন বই আর কিছুই নয়। তরবারির নিফাঁসন এবং 
এবং চালন তাহার নাটকে বড়ে। বেশি দেখা যাঁয়। 

রি (১ দ্বিজেন্্রলালের নাটক সার্থক এবং জনপ্রিয় হইবার প্রধান কারণ, ইহার অপরূপ 
অনবদ্য ভাষা । তাহার পূর্বে এইরূপ শক্তিশালী, কবিত্বপূর্ণ এবং নাটকীয় ভাষা! আর কেহ 
ব্যবহার করিতে পারেন নাই। একমাত্র রবীন্দ্রনাথ ব্যতীত আর কেহও ভাষার দিক দিয়া 
তাহার সমকক্ষ নহেন। তাহার পূর্বতন নাট্যকারবৃন্দের ভাষা! আমর! লক্ষ্য করিয়া দেখিয়াছি 
যে ইহা! সর্বাংশে নাটকীয় নয়। নাটকের ভাঁষা নিরাঁবেগ কথার সমষ্টি নয়, ইহ! দ্বারা চরিত্র 
বিশ্লেষণ এবং ঘটনার গতি বিধান করিতে হইবে, দ্বিজেন্দ্রলাল তাহা ভালোভাবেই জানিতেন। 
সেইজন্য তঁগার ভাষার মধ্যে সর্বত্র একটা গতির আবেগ, এবং ভাবের উচ্ছাস লক্ষ্য কর! যাঁয়। 
সংলাপের প্রতিটা কথ। যেন এক একট! তীক্ষফল! ছুরিকাঁর ন্যায় ঝকমক করিতেছে, যেন 
নিমেষগতিতে দর্শকের হৃদয়ে ইহা আমুল বিদ্ধ হইয়! যাইবে । শব্দ ভাঁগারের উপর তাহার 
অবিচল অধিকার ছিল বলিয়৷ ভাষাকে তিনি নান! রত্ব-আভরণে সাঁজাইয়া অনিন্দ্স্ন্দরী 
করিয়া'তুলিয়াছিলেন। মানসিক ভাব 'ও দ্বন্দ প্রকাঁশ করিতে হইলে ভাষার শব্বসমষ্টি নানা 
ভাবে কা ছ'ট করিতে এবং সাঁজাইতে হয়, দ্বিজেন্দ্রলাল তাহ করিয়াছিলেন বলিয়া তাহার 
বাক্য প্রণালী স্থানে স্থানে ইংরাজী ধরণের হইয়! প়িয়াছে, নাটকের দিক দিয়া! ইহা মোটেই 
দৌষাঁবহ হয় নাই। অনেক সময়ে একবার কোন বাক্য বলিলে তাহ। যথেষ্ট শক্তিশালী হয় 


ডাঃ নুকুবার সেনের একটু কঠে।র মন্তব্য উল্লেখ্য-- 


'এই নাটকগুলি উপেন্দ্রনীথ দীসের নাটকের মতো। অত্যন্ত 20610-01977860, প্রীয় প্রত্যেকটিতে 
গোলাগুলি ছোঁড়। আছে।' 











59 


বাংল! সাহিত্যের ইতিহাস,” ২য় খণ্ড, পৃঃ ৩৮৮ । 


দিজেন্্রলাল রায় ১৯৯ 


না। একই ভাবাত্মক কয়েকটা বাক্য পর পর বলিলে তাহা যথেষ্ট আঁবেগজনক হইয়া উঠে। 
ঘিজেন্দ্রল!ল ভাষাঁর মধ্যে ভাবের ক্রমৌচ্চতা বিধান করিয়। নাটককে বিশেষ সরস করিয়া 
তুলিয়াছেন। নিয়ে একটী দৃষ্টান্ত দেওয়া বাইতেছে - 

“উঠুন, দলিত ভূজঙ্গমের মত ফণা বিস্তার ক'রে উঠুন, হৃতশাঁব! ব্যান্ত্রীর মত প্রমত্ত 
বিক্রমে গর্জে উঠুন; অত্যাচারে ক্ষিপ্ত জাতির মত জেগে উঠুন, নিয়তির মত কঠিন হৌন» 
হিংসার মত অন্ধ হৌন, শয়তানের মত ক্র হৌন ।, 

"সাজাহান+_-১ম অঙ্ক, ৭ম দৃশ্য | 
দ্বিজেন্্রলাল নিজেই বলিয়াছিলেন বে তাহার কাব্যশক্তি নাটকে প্রকটিত করিতে 
প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন। গঞ্ভে নাটক রচন! করিলেও তিনি গণ্যের ভাষাকে কবিত্বপূর্ণ করিয়া 
তুলিয়াছিলেন।১ নেই কারণেই তাঁহার ভাঁষার মধ্যে স্ুললিত শব্দ-পারিপাট্য, সুষম 
ছন্দমাধূর্ষ, এবং স্ুমনোহর অলঙ্কার-সৌন্দর্ঘ এতো৷ অধিক পরিমাণে লক্ষ্য করা যাঁয়। অনেক 
সময়েই তাহার পাত্রপাত্রীর কথার মধ্যে সঙ্গীতের স্য।য় আকশ্মিক ভাবে।চ্ছাঁস এবং গুঢ় 
ব্যঞ্জন। দেখা যায়।২ উক্তির এইরূপ চমত্কারিত্বের জন্য তাহার নাটকীয় সংলাপ লোঁকের 
মুখে মুখে এরকম অমর হইয়! রহিয়াছে । যেখানে কোনো চরিত্র আত্মগত ভাব প্রকাশ 
করিতেছে সেখানেই তাহার কল্পন! উদ্দাম, এবং ভাঁষা উদ্দীপ্ত হইয়া উঠিয়াছে। চাঁণক্য এবং 
সাজাহানের প্রসিদ্ধ উক্তিগুলির কথ! চিন্তা করিলেই এই মতের যাথার্থ্য প্রতীয়মান হইবে । 
তাহার ভাষায় অলঙ্কারের বৈচিত্র্য বিশেষভাবে লক্ষণীয় । মালোপমা প্রয়োগ করিয়া তিনি 
যেমন বাক্যের মধ্যে 01709 সঞ্চার করিয়াছেন, তেমনি উৎপেক্ষা এবং সমাসোক্তি প্রভৃতি 
অলংকারের দ্বারা ইহাঁকে জীবন্ত করিয়া তুলিয়াছেন | ইংরান্দী ঢ9161210 ও 051/0101) 
অলংকারের প্রাচ্য তাহার ভাষার মধ্যে খুব দেখিতে পাওয়া যাঁয়। এই জাতীয় অলংকারের 
অন্তনিহিত বিরোধ এবং আকন্মিকতা তাহার ভাষাকে খুব উপভোগ্য করিয়াছে । 
দ্বিজেন্্রলালের ভাষায় অশেষ গুণ থাকা সবেও একথা অস্বীকার করা যায় না যে ইহাতে 
বৈচিত্র্য এবং বিভিন্নতার অভাব আছে তাহার অলঙ্কৃত, ওজস্বিনী ভাষা সকলেই ব্যবহার 
করিতেছে-স্ত্রী, পুরুষ, উচ্চ নীচ-_সর্বশ্রেণীর পাত্রপাত্রীর ইহাই একমাত্র ভাষা । এই ভাষ। 
সর্বত্র জাঁকজমকপূর্ণ দরবারী পরিচ্ছদে ভূবিত হইয়া আছে, ইহা যেন “আটপৌরে' শাড়ী পরিতে 
পারে না। ইহার মহিম। ও গৌরব আমাদের শ্রদ্ধামিশিত বিস্ময় উদ্রেক করিতে পারে, কিন্ত 
ইহার সর্বজনীন ম্বাভাবিকতা দ্বারা যেন আমাদিগকে ঘনিষ্ঠ করিতে পারে না। বাহিরের 


শা আপা শাসক সস 
সপ ৮ 








১। কিন্তু কবিতায় আমার অত্যধিক আসস্ত খাক।য় আমি গগ্যের ভাষাকে কবিতার অ।সনে বসাইবার 
প্রলোভন পর্িত)াগ করিতে পারি নাই। 
আমার ন।ট্য জীবনের অরস্ত--'নাট্যমন্দির" শ্রাবণ, ১৩১০। 


২। 'ভীহার নাটকীয় পাত্রগুলির কথাবার্তার মধ্যেও অনেক স্থানে সঙ্গীত-জাঁতীয় উচ্ছ'ান এবং রসো* 
দগারই লক্ষ্য করিবেন; সময় সময় এক একটি কথ! অপরূপ বিদ্যুৎ বিভ।সেয় শ্যয়, সঙ্গীতের আকন্মিক আবেগ 


মুছ'নার ন্যায়, উচ্ছাস [পরি করিয়াই হয়ত অচিরে বিলীন হইতেছে।” 
“বঙ্গবাণী- শখামোহন দেন, পৃঃ ১৪৯। 


২০০ . বাংল। নাটকের ইতিহাস 


ক্ষেত্রে যেখানে বড়ো বড়ো! ঘটনা! ও চরিত্রের বিচিত্র সমাবেশ হইয়াছে সেখানে প্রথম 
পঙক্তিতে দ্বিজেন্দ্রলাল আসন সংগ্রহ করিয়াছেন, কিন্ত যে পায়ে-চল! খিড়কীর পথটা দিয়! 
পরিচিত নরনারীর অমার্জিত কথাবার্তা, অশ্লীল রঙ্গ তামাসা মুখরিত হইয়া! উঠিতেছে তাহা 
তাহার জানা নাই। দীনবন্ধু এবং গিরিশচন্দ্র যেমন নাটকীয় চরিত্রের উপযোগী ভাষা প্রয়োগ 
করিতে অবহিত ছিলেন, দ্বিজেন্রলাল সেরূপ ছিলেন না । সেইজন্য পাত্রপান্রীর মুখে অনেক 
সময় ভাঁষ! কৃত্রিম হইয়! পড়িয়াছে। হার পাত্রপাত্রীর বিশিষ্ট পরিচয় ভাষার মধ্যে নাই-_ 
মুসলমান এবং হিন্দুর ভাষার মধ্যে কোন পার্থক্য নাই, মোগল সম্রাট এবং একটা সাধারণ 
লোকের ভাষাঁর বৈষম্য নাই ! মোগল দরবারের গাঁয়িকারা যে বিশুদ্ধ সংস্কৃত শব্ধ ব্যবহার 
করিতেছে, এমন কি সোরাব রুস্তমে সারিয়া ও হামিদা যে একটি বৈষ্ণব কীর্তন পর্যস্ত গাহিয়। 
ফেলিয়াছে দ্বিজেন্্লালের দৃষ্টি তাহা ধরিতে পারে নাই। ইহাই তীঁহার ভাষার প্রধান ত্রটি। 

দ্বিজেন্রলীল_ আধুনিক বিশ্বসাহিত্যের নাট্যকলার সহিত - সম্পূর্ণ পরিচিত_ছিলেন, 
সেইজন্ তাঁহার তাহার নাটকে আধুনিক টেকনিক এত বেশি দেখা যায়। ইবসেনের পর হইতে 
বর্তমাঁন নাট্যকারদের নাটকে রঙ্গমঞ্চের উপযোগী নান! নির্দেশ দেওয়। হইয়া থাকে। বার্ণার্ড 
শ” এর যে কোনে নাটক খুলিলেই দেখ] যাইবে তিনি অভিনয়, ক্বপসজ্জ। এবং মর্চব্যবস্থা 
সম্বন্ধে কতে। বিস্তৃত উপদেশ দিয়াছেন। দ্বিজেন্দ্রলালও সম্ভবত ইহাঁদের অনুসরণ করিয়া 
অভিনেতার ভাবের অ[ভব্যন্তি এবং চতুষ্পার্খস্থ পরিবেশ ফুটাইয়া তুলিয়াছেন।১ এইবধূপ 
মঞ্চনির্দেশের ফলে তাহার নাটক স্থানে স্থানে উপন্যাসের মতই বর্ণনাত্মক হইয়া উঠিয়াছে। 
একটা দৃষ্টান্ত দিলেই ইহ! বুঝা! যাইবে-_- 

“পার্বতী তৎক্ষণাৎ শান্তাকে ছাড়িয়া পশ্চাতে হেলিলেন। শান্ত কিন্ত ছোরা হস্তে 
পূর্ববৎই দাঁড়াইয়া রহিল। ইত্যবসরে প্রায় সকলেই উঠিয়া দাড়াইয়াছিল ও নির্বাক বিন্ময়ে 
তাহার পানে চাহিয়া রহিল, হিরগ্ময়ী নেত্রদ্য় বিস্ফারিত করিয়! সভয়ে চীৎকার করিয়া 
শান্তাকে লক্ষ্য করিয়া! কহিল_-কে তুমি ! কে তুমি !- এই বলিয়া মুছিত হইয়া পড়িল ।” 

£পরপারে”--২য় অঙ্ক, চতুর্থ দৃশ্। 

আধুনিক নাটকে স্বগতোক্তি কৃত্রিম এবং অস্বাভাবিক বলিয়া বর্জিত হইয়ছে।২ 

বাংল! নাটকে দ্বিজেন্দ্রলালের পূর্ব পর্যন্ত স্বগতোক্তির ব্যবহার চলিয়া আসিয়াছে। দ্বিজেন্দ্- 
লালই সর্বপ্রথম এই অস্বাভাবিক ও দুর্বল নাঁট্যরীতিটা নাটক হইতে বাদ দিয়াছেন। অবশ্য 


[.. 10109 02081160. ৪96 11:06107) 89 017919069718010 06 1)1]) 88 60 106 9 10091007180) 
[00175681509 60 & 1072161) 20006], 210. 00০ 09,1010194 01 20097 8100. 09819702005 1010110 1195৪ 
৪0])101120 1)1]) ৮151) 0106 1017), 

17/934571% 17917152766 £% 13970008 7/5/6704/6--10য শি910, ১, 274. 

2, ৮1006 01259001981 0188101068781008 ০1 1১0৮1 10108] ৪01110005 8170 1101067)68] 2345৩ 
(000 09]: £:69067 ০0100670018] 01870 1100৬10278091001706 006 906 00086 0019 81008 1৪ ৪0 
1915]5 1985 01)019608] 2) 108 17066763618 ০0৪ & 10086 81608110806 17106 01 2, 061)618] 01187)06 


19 00: 1093 ০ ৫7:81008010 6601071009,% 
7189196%2% ০ 71,//9721815 0৮ 17508009 7. 2629. 


দ্বিজেন্্রলাল রায় ২০১ 


প্রথম যুগে লিখিত তাহার প্রহসনগুলিতে এই স্বগতে1ক্তির ব্যবহার স্থানে স্থানে রহিয়া 
গিয়াছে। 

গিরিশ-যুগে যে ধর্মভাব এবং আধ্যাত্মিকতা নাট্যসাহিত্যকে আচ্ছন্ন করিয়া রাখিয়াছিল 
দিজেনদ্রলাল যেন তাহার দৃপ্ত প্রতিবাঁদন্বরূপ আবিভূর্তি হইয়।'ছিলেন। হিন্দুধর্মের নবোথান- 
কালে যে ভক্তি ও বিশ্বাসের উচ্ছুসিত প্লাবন স্থুরু হইয়াছিল, তিনি যেন তাহা সজোরে 
প্রতিরোধ করিবার সঙ্কল্প গ্রহণ করিয়াছিলেন। ভগবান এবং আধ্যাত্মিক বিষয় সন্ধে 
তাহার চিত্ত চিরকালই ঘোঁর যুক্তিবাদী এবং সংশয়ী ছিল।১ সাধারণ লোকে সহজাত 
সংস্কাররূপে যেগুলিকে মানিয়৷ লয় তাহার তীক্ষ ব্যঙ্গ-বিদ্রপের খোঁচায় এবং প্রবল যুক্তি- 
তর্কের আঘাতে তাহাদের অস্তিত্ব তিনি উড়াইয়া দিতে চাহিয়াছেন। শেষ জীবনে যদিও 
তাহার মতের কিছু পরিবর্তন হইয়াছিল, কিন্ত তিনি বাহিরে কখনো তাহা স্বীকার করেন 
নাই।২ তাহার মনের ছাপ নাটকের মধ্যে সুস্পষ্ট হইয়া রহিয়াছে । তাঁহার কোনে 
নাটকেই আধ্যাত্মিক, কিংবা ভগবদ্‌ বিষয়ক কোনে তত্ব এবং রহস্য নাই। কোনো স্থানেই 
চিন্তা এবং কল্পনা দৃশ্ত জগতের বাস্তব ধূলামাঁটি অতিক্রম করিয়৷ কল্পময় কুয়াসাচ্ছন্ন আধ্যাত্মিক 
আকাশে সঞ্চরণ করে নাই । একমাত্র পরপারে, ব্যতীত আর কোনো! নাটকেই পরলোক 
সম্বন্ধে আর কোনে। কথ! বলাস্হয় নাই,৩ এবং একমাত্র তবানীপ্রসাদ ব্যতীত আর 
কোন চরিত্রই ধর্মভাবাত্মক নহে। দারা, শক্তসিংহ, চাঁণক্য, কালীচরণ প্রভৃতি চরিত্রগুলি 
সংশয়বাদী নাস্তিক চরিত্রের দৃষ্টান্ত। ভগবান ও ধর্মবিষয়ে উদাসীন এবং উপেক্ষাশীল 
থাকিলেও তাহার দৃষ্টি মানুষের সর্বময় উন্নতি এবং কল্যাণের দিকে নিবদ্ধ ছিল। ভগবানকে 
যে প্রীতি ও শ্রদ্ধা সমর্পণ করা যায় তাহা তিনি মাঁনবসমাজের উপর ঢালিয়া দিয়াছিলেন। 
সেইজন্য তাহার নাটকের সবত্র মন্ুস্তত্বের সমুন্নত গৌরবের কীর্তনে মুখরিত। ধর্মভাব ন 
থাঁকিলেও তাহার নাটকে কোনস্থলে সবল এবং সুদৃঢ় নীতিবোধের অভাব ছিল না। 
এমন কিছুই তিনি দেখান নাই যাহা আমাদের অসৎ ইচ্ছ। ও প্রবৃত্ভিকে প্রশ্রয় দেয় অথবা 
আমাদের দৃষ্টিকে বিভ্রান্ত এবং বিপথাশ্রয়ী করিয়৷ তুলে ।৪ কিন্তু এরূপ অবিচল নীতিনিষ্ঠ 


্ীসসপম্পল 





১। "মানববুদ্ধির অতীত, যে সকল অতীন্দ্রিয় এবং আধ্যাত্মিক বিষয়ে, সহজ।ত সংক্কীর বা! পরিবেশ 
প্রভীবে, সচরা$র হিন্দু সন্তানের মনে একট] বিশ্বাস ও ধারণ! বিদ্যমান দেখা! যায়, দ্বিজেন্দ্রলাল তৎসমুহে 
তিলমাত্রও আস্থ। স্থাপন করিতে পারিতেন ন11, 
ছ্িজেন্দ্রলাল- _দেবকুমার র।য়চৌধুরী, পৃঃ ৬৮ । 
২। 'দ্বিজেন্ত্রলাল'__দেবকুম।র রায়চৌধুরী । পৃঃ ৬৯৪ । 


৩। 'পরপারে' দ্বিজেন্দ্রল।লের মনসচরিত্র বিশ্বেশ্বরের মুখ দ্বিয় একস্থ।নে নাট্যকার বেশ ভালে! ভাবে 
মনুষ্যত্বের গৌরব প্রচার করিফাছেন--“ছি ছি! মানুষের নিন্দা কোরে! না। মানুষ আমার ভাই! তার 
নিন্দাবাদ শুস্তে চাই না।, 

পরপারে--১ম অঙ্ক, ২য় দৃশ্য । 

৪। শশাঙ্কমোহন সেন মহাশয়ের উক্তি এখানে উল্লেখযোগ্য--“কবি এইরূপ পুণ্যব্রত হইয়া লেখনী ধারণ 
করিয়াছিলেন যে, উহাদের মধ্যে মনুষ্য হৃদয়ের কিংব। তাহার মেরুদণ্ডের অবসাদক কোনরূপ পরামর্শ ব। ইঙ্লিত 
ইসারাও মুখ দেখাইতে পারেন নাই 7 নিঃসন্দেহে বল! যায়-'৩ 0065150. 10010018008 10986. 

বঙ্গবাণী-স্পৃং ৩৫১ ॥ 


২৬ 


২০২ বাংল নাটকের ইতিহাস 


সত্বেও তাহার মধ্যে নীতিবাগীশ মনৌবৃত্তির বিন্দুমাত্র অস্তিত্ব ছিল না। সেইজন্য যাহার 
্রান্ত ও পতিত, অবাস্থাবিপাকে যাহার! সমাজচ্যুত, তাহাদের পুনরুখানের চিন্তা ও আশা 
সাহার নাটকের ছত্রে ছত্রে ব্যক্ত হইয়া! উঠিয়াছে। স্ত্রীজাতির প্রতি তাহার বিশেষ শ্রদ্ধা ও 
সম্মানের ভাব ছিল এই সতীসাধবীর দেশে নারীর ছুঃখভোগ, আত্মবিলোপ ও (ও নিবিচার 
ভক্তির মহিমাই চিরকাল কীত্িত হইয়া আসিয়াছে, কিন্তু দ্বিজন্্রলাল নারীর এই আরশ 
খুলিকে খুব গৌরবাস্থিত করিয়। দেখেন নাই । নারী জাতির অপমান, লাঞ্ছনা এবং ছুর্তোগের 
অবস্থাই তাহার চোঁখে বিশেষ করিয়া লাগিয়াছিল এবং সেইজন্য সামজিক অন্ঠায়-অবিচাঁরের 
বিরুদ্ধে তিনি নারীকে তেজস্থিনী, শ্বাতন্ত্যময়ী করিয়া দাড় করাইয়াছিলেন। তাহার অস্কিত 
মারীচরিত্র অন্ু্ধস্পশ্তা৷ অন্তঃপুরিকা নহে । হেলেন, জাহাঁনারা, নূরজাহান, মহাঁমায়। ইহার 
প্রবল ব্যক্তিত্বশাঁলিনী বীরাঙ্গনা, ইহারা পুরুষের কর্মক্ষেত্রে পার্থচরী অথব! প্রতিদ্বপ্দিনী 
মারীত্বের এই অভিনব এবং আধুনিক আদর্শ তিনি শাস্ত্রশাসিত সমাজ হইতে গান নাই; 
নারী এবং পুরুষের সাম্যমূলক ইউরোগীয় শিক্ষা ও ভাবধারা হইতে লাভ করিয়াছিলেন ।১ 
৬পদ্বিজেন্দ্রলালের সর্বাপেক্ষা! কৃতিত্ব বোধ হয় এইখানে যে তাহার স্ষ্ট চরিত্রগুলি অন্তদ্ধন্দে 
এবং বিরুদ্ধ ভাব-সংঘাতে অতিশয় প্রাণময় এবং আঁবেগবাঁন হইয়৷ উঠিয়াছে। তাহার পূর্ব 
পর্যস্ত আমর! বাংল। নাটকে দেখিয়াছি যে চরিত্রগুলি- নিতান্ত স্পট, এবং সহজ; হয় 
তাহারা অবিমিশ্র ভালো অথবা! নিরবচ্ছিন্ন মন্দ। কিন্তু এইরূপ চরিত্রগুলিকে একবার 
দেখিলেই কোনো! আগ্রহ ও কৌতৃহলের অবকাশ থাঁকে না» তাহাদের অবধারিত পরিণতি 
যেন চোঁখের সম্মুখে ভাসিয়। উঠে। কিন্তু মানুষের জীবন যে জলের ন্যায় স্বচ্ছ, স্পষ্ট নহে ; 
ইহা যে গণিতের স্বতঃসিদ্ধ নিয়মের ন্যায় অবিচল ও অপরিবতিত নহে, আধুনিক মনস্তব্বে তাহা! 
প্রমাণিত হইয়াছে । মনোবিকলন তত্বের হুমম আলোচনায় মানুষের চেতন অচেতন স্তরের 
মধ্যে নানা বিরুদ্ধ এবং বিম্ময়কর ভাবের অস্তিত্ব ধর! পড়িয়াছে। দ্বিজেন্ত্রলালের নাটকেও 
গভীর মনস্তত্বের সুক্ম সংঘাতগুলি অতি সত্ব চেষ্টার সহিত প্রকাশ করা হইয়াছে। কোনো 
চরিত্রকে দেখিয়াই আমরা মনের মধে৷ একব্ধপ ধারণ! করিয়া বসি, সেই চরিত্র যদি তাহার 
কথা এবং আচরণের দ্বারা অকন্মাৎ সেই ধারণার ব্যাঘাত জম্মাইয়া দেয় তবে আমর! যেমন 
চকিত এবং চমতরুৃত হই, তেমনি আবার সেই চরিত্র সম্বন্ধে উত্তরোত্তর আগ্রহণীল হইয়। উঠি। 
লেখক ' অপ্রত্যাশিত ভাবের আঘাত দ্বার৷ আমাদিগকে ০বাইয়া দেন, আমরা যাহ! ভাবিয়া 
রাখিয়াছি তাহাই চরম নহে, লোকচরিত্র সম্বন্ধে আমাদের অভিজ্ঞতাই অন্রান্ত এবং চূড়ান্ত 
তাহা মনে করিবার কারণ নাই । তিনি রগাদাস ব্যতীত যেমন কোঁনে। দোষাতীত আদর্শ 


অপ 











১। “তিনি ভাবিতেন ও বিশ্বাম করিতেন যে, আবহমান কাল হিন্দু সমাজ নারীলাতিকে অত্যন্ত অবঙ্ঞ! 
ও হতাদর করিয়,আসিতেছে। আঙ্জ যে আমর! এ সম্বন্ধে একটু মর্যাদাশীল হইয়াছি, মে শুধু বর্তমান পশ্াত্য 
শিক্ষ।র পরিণাম মাত্র ; নতুবা, হিন্দু সভ্যতার চরমোন্নতির সময়েও আমর! ইহাঁদিগকে গৃহস্থ তৈজসপত্রের স্ভায় 
নগণা ও তুচ্ছ জ্ঞ।ন করিয়াছি।' 

দ্বিজেক্্ল।ল-_দেবকুমার রায়চৌধুরী--পৃঃ ৬৭৩০৬৭৪ 1 


দ্বিজেজ্জলাল রায় ২৩ 


চরিত্র অঙ্কন করেন নাই, তেমনি পার্বতী ব্যতীত আর কোনে! নির্ভল! মন্দ চরিত্রও দেখান 
নাই। তাহার নূরজাহান, আরংজেব, হুর্যমল, চাঁণক্য- প্রভৃতি শে চরিত্র_বিচিত্র 
ভাঁলোমন্দ দৌষগুণের মিশ্রিত উপাদানে গঠিত। তাহাদের মধ্যে স্বর্গীয় সুষমা নাই, 
নারকীয় কালিমাও নাই তাহার! সম্পূর্ণ মানবীয় মহিমার অপূর্ব স্বাভাবিক শ্রীতে মণ্ডিত 
হইয়া উঠিয়াছে। 

এ (খিজেন্্লালের নাটকের আধুনিকতার লক্ষণ আর একটি এই যে, তিনি প্রচলিত 
নাট্য সাহিত্যকে অনুদরণ করিয়া বিদূষক জাতীয় কোনো! চরিত্র অঙ্কন করেন নাই। তিনি 
মাঝে মাঝে সাধারণ লোকের কথাবার্তার মধ্যে হাস্যরস স্থজন করিতে চাহিয়াছেন বটে, 
কিন্ত হান্তরদ কোথাও স্বাভাবিক ও স্ফুর্ত হয় নাই। হাসিতে হইলে একটু অবসর, একটু 
বিশ্রাম, ছু, একটা আজে-বাঁজে কথা বলা দরকার; কিন্ত যেখানে অবিরত যুদ্ধের রণ- 
দামামা বাজিতেছে, অস্ত্রের ঝনৎকাঁর, যোদ্ধার বিজয় উল্লাস, আহতের আর্তনাদ চলিতেছে, 
সেখানে হাঁসিবাঁর অবসর কোথায়? একটু আধটু হাঁসির স্থযৌগ আসিলে মনে হয় 
হাঁসাটা অন্ঠায়, কর্তব্যের ক্রুটি হইয়া যাইতেছে । ১ দ্বিজেন্লালের প্রহসনের হাস্যরস লইয়া 
আমর! পরে আলোচনা করিব । 


(খ) প্রহসন 


দ্বিজেন্্রলালের প্রহসনগুলিই তাহাকে প্রথম সাহিত্য-দরবারে পরিচিত করিয়৷ 
দিয়াছিল। তাহার হাঁসির গানগুলি এককাঁলে বিশেষ জনপ্রিয় এবং প্রসিদ্ধ হইয়াছিল, 
এবং একটু লক্ষ্য করিলেই বুঝ! যাইবে যে তাহার প্রহদনের কৌতুক ওৎহাশ্যরসের মূলেও 
গানগুলি রহিয়াছে। গাঁনগুলি বাঁদ দিলে তীহাঁর প্রহসন নীরদ ও কৌতুকবঞ্জিত বোধ 
হইবে । উদ্ভট এবং বিন্ময়কর ঘটন! সমাবেশে যে হাস্যরস উদগত হইয়া উঠে দ্বিজেন্দ্রলাল 
সেই হাস্যরস সৃষ্টি করিবার অধিকারী ছিলেন না, দীনবন্ধু এবং অমৃতলালের ন্যায় সরস 
এবং কৌতুকাঁবহ বাক্য-নির্বাচন করিধার ক্ষমতাও তাহার আয়ত্ত ছিল না । বাঁক্যবিস্যাসের 
পাঁকে পাঁকে যে হাঁসি জড়াইয়। থাকে তাহ! তাহার প্রহসনে নাই। তাঁহার প্রহদনে 
ব্যঙ্গ-বিদ্রপের কাটাগুলি একটু তীক্ষভাবেই আছে তবে দ্বিজেন্ত্রলালের কোনে! গৌঁড়ামি 
এবং পক্ষপাঁত-দোষ ছিল না। প্রাচীন এবং নবীন উভয় সম্প্রদায়ের বিকৃতি ও অনাচারের 
প্রতি ত্তাহীর রোষ সমানভাবে ছিল। সেইজন্য তাহার আঘাতে কাহারে! অসন্তষ্ট ও অভিযোগী . 
হইবার কারণ থাকে না। | 

দ্বিজেন্্রলালের প্রথম প্রহসন “কক্কি-অবতার+ ( ১৮৯৫ )। ইহা ছড়ার মত মিত্রাক্ষরে 
আগ্ভন্ত রচিত। ইহাতে বিলাত ফেরত, ব্রাহ্ম, নব্যহিন্দুঃ গৌড়! এবং পণ্ডিত এই পাঁচ সম্প্র- 
দায়ের প্রতি বিদ্রুপ বর্ধিত হইয়াছে। পরিশেষে কন্ষিদেব বিবদমাঁন সম্প্রদায়গুলির মধ্যে মিলন 


২০৪ বাংল। নাটকের ইডিহাস 


ঘটাইয়৷ দিলেন, এবং সকলেই বুঝিল ষে, বিশ্বাস, প্রেম এবং মনুষ্যত্বের উপরই সমাঁজের প্ররুত 
ভিত্তি। প্রস্তাবনায় লেখক বলিয়াছেন যে তাহার কোনে! সম্প্রদায়ের প্রতি দ্বেষ কিংব। 
আক্রোশ নাই, এবং ইহা সত্য,--_পরিহাঁসের মধ্য দিয়। সকলের ত্রুটি ও গলদ ধরায়! দিয়া 
তাহাদিগকে শোঁধন করাই তাহার উদ্দেশ্য ৷ প্রহসনখাঁনির মধ্যে ঘটনার কোনো অবিচ্ছিন্ন 
প্রবাহ নাই, ইহা কাট! কাঁটা দৃশ্যের সমষ্টিমাত্র। নিতান্ত অসংলগ্নভাবে অকারণ চরিত্রের 
সমাবেশ কর! হইয়াছে । নেহাত বাঁঙ্গে এবং অবাস্তব সংলাপও অনেক স্থলে অত্যন্ত বিরক্তিকর 
হইয়া উঠিয়াছে। 

“বিরহ' (১৮৯৭) বিশুদ্ধ প্রহসন | ঘটন! সংস্থানের মধ্যে ইহার হাস্তরস নিহিত । উৎসর্গ- 
পত্রে লেখক বলিয়াছেন -“আমার এই গ্রন্থের উদ্দেশ্য - অল্লায়তনের মধ্যে বিরহের প্রকৃত 
হাস্তরস অংশটুকু দেখানো,” কিন্তু সেই উদ্দেশ্ত উত্তমরূপে পরিস্ফুট হইয়াছে বলিয়! মনে হয় 
না। মিথ্যা ধারণ! এবং ত্রান্ত সন্দেহ নিরসনের মধ্য দিয়াই প্রহসনখাঁনির কৌতুকরস ব্যক্ত 
হইয়াছে। কিন্তু উপকাহিনীর রহস্যময় রোমান্সে প্রধান কাহিনী গৌণ হইয়! পড়িয়াছে। 
“বিরহে*র গানগুলি ইহার প্রধান সম্পদ | 

ত্র্যহস্পর্শ” (১৯০০) আগ্ন্ত নিয়স্তরের ভাড়ামিতে পূর্ণ । জায়গায় জায়গায় হাঁসির টুকরা 
ছড়াইয়৷ থাঁকিলেও অবিচ্ছিন্ন ঘটন। সংস্থানের মধ্যে হাস্তরস জমিয়৷ উঠে নাই। জ্যোতিরিন্ 
নাথের অলীকবাবুর ধরণে অঙ্কিত ডাক্তার ভূদেবের চরিত্রটা সর্বাপেক্ষা সরস। 

প্রায়শ্চিত্ত” (১৯০২) প্রহসনে বিলাত. ফেরত, নব্যহিন্দু এবং শিক্ষিতাঁ রমণীদের লইয়া 
উপহাস করা হইয়াছে । প্রহসনখানার ভাব এবং বিষয়ের উপর অমুতলালের প্রভাব বিদ্যমান । 
শিক্ষিত! রোমান্স গ্রস্তা স্ত্রী-চরিত্রের হাম্তকর অসঙ্গতিও অমৃতলালের প্রহসনগুলি অন্গনরণে 
অঙ্কিত। চম্পটির সহিত .রেবেকার বিচ্ছেদে এবং ইন্দুমতীর বিবাহে অনর্থক একটি 
ঘোরালে৷ সমস্যার" সৃষ্টি করা হইয়াছে । ইহাতে হাস্যরসের সর্বব্যাপী আনন্দের ব্যাঘাত 
হইয়াছে। চম্পটি অকম্মাৎ কি ভাবে খশটি হিন্দু বনিয়া গেল তাহারও যথেষ্ট কারণ দেখানো! 
হয় নাই। 

॥ পুনর্জন্ম (১৯১১) ॥ «পুনর্জন্” অনেক পরে রচিত হয়। লেখক ভূমিকায় বলিয়াছেন 
যে, ইহাতে নীতিকথাঁর অভাব নাই। অবশ্ঠ নীতিকথা শিক্ষা করিতে কেহ নাটক ও প্রহসন 
দেখিতে চায় না। নীতিকথাঁর ছলে লেখক কি-রকম আমাদের হাঁসাইতে এবং আনন্দ দিতে 
পারিয়াছেন আমরা তাহাই জানিতে চাই। কৃপণ, দয়াহীন কুসীদজীবীর পরিণতি দেখানই 
যদি নাট্যকারের অভীষ্ট নীতিশিক্ষ। হইয়! থাকে, তবে বলিতে আপত্তি নাই যে তাহা সার্থক 
হইয়াছে । যাদবের মুখ দিয়া এই নীতি ব্যক্ত হইয়াঁছে_“মরেছিলামঃ এ আমার পুনর্জ, 
আজ নূতন বিশ্বাস নিয়ে আবার বেঁচে উঠেছি। মৃত্যুর পরে যা যা ঘটবে আজ চক্ষের সন্মুথে 
তার অভিনয় দেখলাম” । যাদব চক্রবর্তী অভিজ্ঞতা হইতে বুঝিতে পারিয়াছে যে নিজেকে, 
আত্মীয়ন্বজনকে বঞ্চিত করিয়া, এবং পরের শোষণের মধ্য দিয়া যে অর্থ সঞ্চিত হয় তাহা 
বিফলে ব্যর্থ হইয়া যায়, এই জ্ঞানই তাহার পুনর্জম । দারোগা! কনেষ্টবলের অহেতুক 


দ্বিজেজ্রলাল রায় ২০৫ 


অত্যাচারের স্বরূপ প্রকাশ করাও নাট্যকারের অন্যতম গৌণ উদ্দেশ্য । মারের চোটে ইহারা 
মিথ্যাকে কিভাবে সত্য প্রতিপন্ন করে তাঁহা যাঁদর্বের কথার মধ্য দিয়া বর্ধিত হইয়াছে যাক, 
শেষে রুলের তিন গুঁতোয় প্রমাণ হ+য়ে গেল যে আমি যাঁদব চক্রবর্তী নই, গু'তাঁর চোটে বাবা 
বলায়_ এ ত তুচ্ছ কথা |” প্রহসনের এই অংশে হাশ্তাম্পদ বাক্তি যাঁদব নহে, যাঁদব এখানে 
হাস্যরস-উদ্রেক্তা - নাঁট্যকারের মতের বাঁহন। অন্যায়ভাবে লাঞ্ছিত, উপহাঁস-কর্তা যাদব 
বহ্ছিমচন্দ্রের কমলাকান্তকে স্মরণ করাইয়া দেয়। কিন্তু দারোদা-কনেষ্টবল-ঘটিত দৃশ্ঠের পূর্বে 
যাদব নিজেই উপহাঁসাস্পদ ছিল, এবং যাদবের দুর্দশা ও নিজের পরিচয় পরিস্ফুট করিবার 
জন্ত তাহার আত্যস্তিক ব্যগ্রত৷ দেখিয়া পাঠক ও. দর্শকের মনে কৌতু ক-রসের স্থষ্টি হয়। 

জটিল এবং ঘোঁরালে। ঘটন! বিপর্যয়ের মধ্য দিয়া হাশ্যরস উদ্রেক করাই প্রহসনের 
লক্ষ্য। কিন্তু এই প্রহসনে তেমন ঘটনার জটিলতা৷ ও রহস্যময়তা নাই । ঘটনার একই রূপ 
সংস্থানের মধ্যে চরিত্রগুলি সন্গিবেশিত হইয়াছে। প্রকৃত ঘাঁদব কিভাবে কৌতৃকপূর্ণ ষড়যন্ত্রে 
ফলে নকল যাঁদব বনিয়! গেল তাহ! দেখিয়া আমাদের হাঁসির উদ্রেক হয়। কোনে! মন্দ, 
দুষ্ট লোকের শাস্তি এবং দুর্ঘশ। দেখিলে আমাদের মনের মধ্যে একরকম প্রতিহিংসার চরিতার্থ- 
জনক আনন্দের উদয় হয়, যাঁদবের ভাগ্যবিপর্যয়েও আমরা সেই রকম আনন্দ বোধ করিয়া 
থাকি । যেভাঁবে “দশচক্রে ভগবান ভূতে'র ন্যায় যাঁদব নকল প্রমাণিত হইয়া গেল তাহ 
অস্বাভাবিক ও অগপ্রাকৃত মনে হইতে পারে। কিন্ত প্রহসনের মধ্যে অস্বাভাবিক, অবিশ্বাস্য 
এবং অসম্ভব ঘটনার অবতারণ। দৌষাঁবহ নহে, সেই দিক দিয়া আলোচ্য প্রহসনের কোন 
ক্রটি নাই। নর্তকীঘটিত দৃশ্ঠটী নেহাত দর্শকের নিম্নরুচির পরিতৃপ্তির জন্ত সংযোজিত 
হইয়াছে, মূল ঘটনার দিক দিয়া ইহ! অবান্তর ও অপ্রয়োজনীয়। 

পুনর্জম্মে'র পর “আনন্দবিদায়' (১৯১২) রচিত হয়। বইখানার প্রচার না থাকিলেই 
ভাঁলে। হইত, কারণ ইহ! লেখকের এক শোচনীয় ভ্রান্তির লজ্জাকর সাক্ষী হইয়া রহিয়াছে। 
দ্বিজেন্দ্রলাল রবীন্দ্রনাথের সহিত বিরোধে প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন,সেই বিরোধের পঙ্কিল বারি-মস্থনে 
যে হলাহল উখ্খিত হইযাঁছিল স্বয়ং দ্বিজেন্ত্রলালকে তাহা! গলাধকরণ করিতে হইয়াছিল। 
“'আনন্দবিদায়* সুবিমল দবিজরাঁজের ছুরপনেয় কলঙ্ক চিহুম্বরূপ | 


(গ) পৌরাণিক নাটক 


দ্বিজেন্দ্রলাল যে তিনথান। পৌরাণিক নাটক লিখিয়াছিলেন সেইগুলিকে যথার্থ " 
পৌরাণিক নাটক বলা বোধ হয় সঙ্গত নয়। তাহার বস্তবাদী, ইহসর্বস্ব মন পৌরাণিক ধর্মাদর্শ 
এবং দেবদেবী চরিত্রের অলৌকিক মহিম। সম্বন্ধে শ্রদ্ধাবান ও আগ্রহপরায়ণ ছিল না। সেই- 
জন্য পুরাণ-অন্তর্গত কোনে। ঘটন! এবং চরিত্র লইয়া! নাটক লেখ। আরম্ভ করিলেও তিনি সেই 
ঘটনা! এবং চরিত্রকে আধুনিক বাস্তবের পরিদৃশ্ঠমান পটভূমিকায় সন্গিবেশিত করিয়াছেন। 


২০৬ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


ইছাতে তাঁহার নাটক ঘন্ব ও সংঘাতমূলক মানবীয় ভাবাত্মক হইয়া উঠিয়াছে বটে, কিন্ত 
অলৌকিক ভাবপূর্ণ আধ্যাত্মিক মহিমামত্তিত ইইতে পারে নাই। প্রকৃতপক্ষে ধর্মপ্লাবিত 
গিরিশ-যুগে আমরা পৌরাণিক নাটকের সর্বোচ্চ বিকাঁশ এবং পরিণতি লক্ষ্য করিয়াছি,, এই 
যুগের পরে ভক্তিভাবাঁত্মক পৌরাণিক নাঁটকের প্রসার আর দেখ যায় নাই। 

॥ পাঁষাণী (১৯০০ )॥ দ্বিজেন্দ্লালের প্রথম পৌরাণিক নাটক 'পাষাঁণী”। নাট্যকার 
রামায়ণের অহল্যা-কাহিনীর এক সম্পূর্ণ অভিনব রূপ দান করিয়াছেন। অহল্যা নাটকের 
মধ্যে কোথাও পাঁষাণময় আরুতি লাভ করেন নাই, স্থৃতরাং'পাষাণী,নামকরণ যথার্থ হয় নাই । 
পৌরাণিক চরিত্রগুলিকে একেবারে সাধারণ মানবের স্তরে আনিয়া ফেলা হইয়াছে । দেবরাজ 
ইন্্র নাটকে কামার্ত লম্পট পুরুষ হইয়৷ পড়িয়াছেন। নাটকের মধ্যে শ্রেষ্ঠ চরিত্র গৌতম । 
গৌতম প্রেম এবং ক্ষমার আঁধার, এবং সর্বপ্রকার ছুঃখ ক্রেশে স্থির ও অবিচলিত। অহল্যা 
ভষ্টা হওয়৷ সত্তেও তিনি নিধিকার গ্রশান্তচিত্তে তাহাকে গ্রহণ করিয়৷ মহত্বের পরাকাষ্ঠ 
দেখাইলেন। অহল্যার যৌবনের নিক্ষলতায় ও কামনার ব্যর্থতায় আমাদের সহানুভূতি 
উদ্রি্ত হইলেও ইন্দ্রের প্রতি তাহার প্রেমের মধ্যে নিলজ্জ লালস! যেন সর্পের ত্রর জিহ্বার 
ন্যায় লকলক করিতে থাকে। কিন্তু তাহা সত্বেও নাট্যকার ইহার পরিণতি ক্ষমাসুন্দর চক্ষুতে 
নিরীক্ষণ করিয়াছেন। অহল্যার পতনের জন্ত তাহার দোষ আছে, কিন্তু অধিকতর দৌঁষ শঠ, 
প্রতীরক, লম্পট পুরুষ জাতির, ইহাই বেশি করিয়৷ দেখানো হইয়াছে । নারীজাতির প্রতি 
্রস্থকারের শ্রদ্ধা ও দরদ মাধুরী চরিত্রের মধ্যে দেখা যাঁয়। মাধুরী পতিতা হওয়া সব্বেও সতী 
শিরোমণি, তাহার সহিষ্ণুতা! ও পাঁতিব্রত্যের তুলনা নাই । কৌতুক-রসের প্রাচুর্য এবং গাঁনের 
বাহুল্য নাটকথানির গম্ভীর রসের পরিপন্থী হইয়াছে । 

॥ সীতা (১৯০৮) ॥ রামায়ণ এবং ভবভূতির “উত্তররামচরিত+ অনুসরণ করিয়! দ্বিজেন্দ্রলাল 
সীতা” প্রণয়ন করেন। গ্রন্থকার আধুনিক দৃষ্টিতে চরিত্রগুলিকে অধিকতর পরিস্ফুট করিবার 
জন্য সাহসিকতার সহিত অনেক মৌলিক দৃশ্ঠ সংস্থাপন করিয়াছেন। ইহাতে তাহার নাটকের 
গুণ বাঁড়িয়াছে বই কমে নাই । “সীতা? মিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা, জায়গাঁয় জায়গায় 'গৈরিশ ছন্দের 
অন্থকরণ আছে । তবে কোনে! ছন্দের মধ্যেই তেমন লালিত্য এবং সহজ সাবলীল গতি নাই। 
সংস্কৃত নাটকের প্রভাব থাকায় পাত্রপাত্রীদের উক্তিগুলি দীর্ঘ এবং বর্ণনাত্মক হইয়াছে, এবং 
সেই কারণেই নাঁটকখাঁনি মাঝে মাঝে একঘেয়ে ও ক্লান্তিকর বোঁধ হয়। সীতা-চরিত্রের 
মধ্যে গ্রন্থকার তাহার মন-প্রাণ ঢালিয়! দিয়াছেন। চরিত্রটীকে অতুলনীয়র্ূপে মহনীয় এবং 
কমনীয় দেখাইবাঁর উদ্দেশ্ঠ লইয়। তিনি স্থানে স্থানে স্বাধীনভাবে ঘটনার সমাবেশ 
করিয়াছেন। তাহার সীতা বনবাসের কথা অবগত হইয়া স্বামীর সত্য রক্ষা করিবার ..্ন্য 
স্বেচ্ছায় বনবাসিনী হইয়াছেন। তিনি সম্রাজ্ঞী হইয়াও স্থখ ও বিলাসভোগে বিরত, 
স্বামীর সহিত তপোঁবনে যে স্ুখ ভোগ করিয়াছিলেন তাহার চিন্তায় বিভোর। রামের 
দ্বারা পরিত্যক্তা হইয়াও তিনি স্বামীর চিস্তা অনির্বাণ দীপশিখার ন্যায় নিজের 
অস্তরে জালাইয়া রাখিয়াছেন। সীতার চরিত্র যে ভাবে অগ্ষিত হইয়াছে তাহাতে তীহার 


ঘ্বিজেজ্দলাল রায় ৃ ২০৭ 


বনবাস এবং ক্লেশভোগের জন্ত রাঁমচন্ত্রের প্রতি দর্শকের বিরাগ আসা ্বাভাবিক। কিন্ত 
নাট্যকার কৌশলে বশিষ্ঠকে সমস্ত ব্যাপারের জন্য দায়ী করিয়৷ রামচন্দ্রের চরিত্র-মাহাত্ম্য 
অক্ষুণ্ন রাখিয়াছেন। রামচন্দ্র সীতাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ জানিয়াও বশিষ্ঠের আজ্ঞায় তাহাকে 
বনবাসে পাঠাইয়াছেন, এবং পুনরায় বশিষ্ঠের নির্দেশেই শুদ্রকবধ রূপ অন্যায় কাজ 
করিয়াছেন। বাল্সীকি এবং বশিষ্ঠের আলোচনাকালে বশিষ্ঠের পরাজয়ে তিনি যে ভ্রান্ত 
ইহা নাট্যকার প্রমাণ করিয়াছেন। 


॥ ভীম্ম (১৯১৪) ॥ দ্বিজেন্ত্রলাল তৃতীয় পৌরাঁণিক নাটকখানি অনেক পরবর্তী কালে 
রচিত হয়। ভীম্ম পরিপক্ক লেখনীর পরিণত রচনা, ভাব ও ভাষার চমৎকারিত্ব নাটকের মধ্যে 
্থব্যক্ত। অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রয়োগে এই নাটকেই তিনি সর্বাপেক্ষা বেশি সক্ষম হইয়াছেন। 
নাটকের মধ্যে আমাদের প্রাচীন ভারতের এক উজ্জল চিত্র জীবন্ত হইয়া উঠিয়াছে ; ইহাতে 
শৌর্ষবীর্ধ, মহত্ব-উদা'রতা, প্রেম-ক্ষমার চমৎকারী লীলা আমাদের দৃষ্টিকে বিহ্বল ও আবিষ্ট 
করিয়৷ রাঁখে। ভীম্মের অনমনীয় সংকল্প, আকাশম্পশ। উদারতা এবং সমুদ্রোপম বিশালতা 
নাট্যকার সশ্রদ্ধ নিষ্ঠার সহিত বিকাশ করিয়াছেন। কিন্তু চতুর্থ অঙ্ক পর্যন্ত আমাদের 
আগ্রহ এবং আবেশ যেভাবে জমিয়া৷ থাকে, পঞ্চম অঙ্কে যেন তাহা! কথঞ্চিৎ শিথিল হইয়] 
যাঁয়। যে যুবক দেবব্রত পিতাকে স্ত্রী করিবার জন্য এত চেষ্টা যত্ব করিলেন তাহাকে 
বৃদ্ধ পিতামহের বেশে দেখিলে আমাদের রসসাম্য নষ্ট হইয়া যায়। অন্বা এবং সত্যবতী এই 
দুইটি প্রধান স্ত্রী চরিত্রই করুণ এবং ছুঃখময়। অম্বার উচ্জ্বুসিত, অবারিত প্রেম বার বার 
ভীম্মের অটল সংকল্পে আঘাত খাইয়া ব্যর্থ হইয়াছে । পদস্পৃষ্টা ফণিনীর ন্যায় সে প্রতি- 
হিংসাঁর ক্রুদ্ধ বিষ ভীম্মের উপর ঢালিয়াছে। কিন্তু সত্যবতী তাহার প্রতি অবিচারের 
জন্য কাহারও উপর প্রতিশোধ গ্রহণ করিতে পাবে নাই। নিক্ষল আক্রোৌশে কেবল নিজের 
গাত্র দংশন করিয়া ক্ষতবিক্ষত করিয়াছে। যে-অনস্তযৌবন| হন্তিনার সমাজ্জী ক্ষমতা 
ও প্রভাবের অহস্কত আসনে অধিষ্ঠিত ছিল, সেই পরে সকলের উপেক্ষিত, ঘ্বণিত ও 
অন্ুকম্পার পাত্রী হইয়৷ পড়িল। তাহার এই শোচনীয় পরিণাম বিশেষ ট্র্যাজিক হইয়াছে। 
ট্র্যাজেডির এই ঘনকৃঞ্চ মেঘের মধ্যে হাস্যময়ী বিছ্যুৎলতা অশ্থিকা এবং অন্থালিকা চকিত 
দীপ্তিতে আমাদের অন্তঃকরণ উদ্ভাসিত করিয়। রাখে। 


(ঘ) এতিহাসিক নাটক 


! দ্বিজেন্্লালের ধতিহাঁসিক নাটক সম্বন্ধে পূর্বে সাধারণভাবে আঁলোচন! হইয়াছে ।" 
“চন্পগুপ্ত ব্যতীত অন্তান্ত নাটকগুলির. কাহিনী মোগল আমলের ইতিহাস হইতে লওয়া 
হইয়াছে । তিনি বিশেষ সাবধান এবং ফত্যনিষ্ঠ হইয়া ইতিহাস অনুসরণ করিয়াছিলেন, এবং 
কেবল নাটকের প্রয়োজনে ইতিহাসের প্রচলিত কাহিনীর ব্যতিক্রম অথব৷ বিকৃতি করেন 


এ আপা পীসসিপসসসপহাড 


০ শি 


০০৭ 


২০৮ :_ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


নাই।১ (কিন্ত নাটক ইতিহাসের নীরস ঘটনার শু অস্থিপঞ্জর নহে, ইহা! রূপে-রসে সমুদ 
সৌনদর্ধবান, প্রাণবান [ দেহ। নাট্যরসকে জমাইয়া তুলিতে হইলে ঘটিত কাহিনী এবং চরিত্রের 
কোনো স্থানে বজন করিয়া, আবার কোনো স্থানে অতিরিক্ত ভাব ' ও বিষয়ের সমাবেশ 
করিতে ত হয়।২ ইজন্ত জায়গায় জায়গায় ইতিহাসের ব্যতিক্রম এবং অতিক্রম নাটকের দিক 
দিয় দোষাঁবহ নহে। ০০০০ এঁতিহাঁসিক নাটক আলোচনার পূর্বে এই কথাটা স্মরণ 
রাখা উচিত। ১ 

॥ তারাবাই (১৯০৩)॥ “তাঁরাবাই, দ্বিজেন্্রলালের প্রথম প্রাতহাঁসিক নাঁটক। 
যে-যুগে তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দে কাব্য লিখিতেছিলেন ইহা! সেই যুগের নাটক। গ্রতিহাসিক 
নাটক লেখার দক্ষ ক্ষমতা তখনো তাহার আয়ত্ত হয় নাই, সেইজন্য ইহার মধ্যে অনেক 
দৌষ-ক্রটি পরিস্ফুট। অমিত্রাক্ষর *ছন্দে তাঁহার অধিকার ছিল না, লম্বা ক্রিয়াপদের 
প্রয়োগে তাহা নিতান্ত শ্রুতিকটু হইয়াছে । নাট্যকার রাঁজস্বানে বণিত৬ বিবরণের 
অবিকল অনুসরণ করিতে যাইয়! ভ্রমে পতিত হইয়াছেন। রাজস্থানের বিবরণেধসধ্যে নান 
ঘটনার বিক্ষিপ্তত| রহিয়াছে । এ বিক্ষিপ্ততা নাটকীয় রদের অবিচ্ছিন্ন সমগ্রতা নষ্ট 
করিয়াছে। নাটকের মধ্যে সর্বাপেক্ষ৷ জীবন্ত চরিত্র হইতেছে হুর্যমল এবং তাহার স্ত্রী 
তমসা। ইহাদের উপর সম্ভবত ম্যাকবেথ এবং লেডি ম্যাকবেথের প্রভাব পড়িয়াছে ৷ মাঁক- 
বেথের স্ায় সূর্ধমল রাঁজ্যলাভের উচ্চীশ। পোষণ করিয়াছে, এবং ডাইনীদের ভবিস্তদাণীর স্তাঁয় 
চাঁরণীর ভবিষ্বদ্বাণী সেই উচ্চাশাকে বাড়াইয়। তুলিরাছে । লেডি ম্যাকবেথের মত তমসাঁও 
দ্বিধা গ্রস্ত চিত্ত উত্তেজিত করিয়! দৃঢ় এবং কঠোর করিতে পারিয়াছে। হূর্মলের মধ্যে যে 
নিরুপায় এবং ইতস্ততঃ, ভাব, রাঁজ্যলিগ্পা এবং বাঁৎসল্যের যে তীব্র ছন্দ স্থষ্টি কর! হইয়াছে 
তাহাতে চরিব্রটা আমাদের মনে গভীর রেখাপাঁত করে। পৃষ্বীরাজ এবং তারার কাহিনী 
নাটকের মধ্যে গৌণ হইয়া পড়িয়াছে। এই নাটক রচনার সময় দ্বিজেন্দ্রলালের । প্রহসন এবং 
হাঁসির গানের প্রভাব শেষ হইয়া যাঁয় নাই, সেইজন্য জায়গায় জায়গায় কৌতুকরসের উচ্ছাস 


. ইহাতে রহিয়।ছে। পরবর্তী এঁতিহাঁসিক নাটকের সংহত গান্তীর্য এধং অপচল ভাবাবেগ এখনো 


আসে সাই। 


১। তাহার এতিহাসিক নাটকগুলি অতি সবধানতার সহিত লিখিত । কোনস্থানেই তিনি ইতিহাসকে 
একেবারে অতিক্রম করেন নাই | যেখানে ইতিহ!সকার নীরব, মাত্র সেখানেই  ভাহার মোহিনী কল্পনা অতি 
নিপুণতার সহিত বর্ণপাঁত করিয়।ছে। দ্বিজেন্্রলাল-_দেবকুম।র রায়চৌধুরী, পৃঃ ৭৫৪। 


২) 1018 6980 15, 1006 69 70211]6 & 600 01 90176 ০0165100901] 07. 019607109) 
10619070966, 100৮ 60 ০01901$6 & 1)7610018 10710 01 2097) 90017001006] 0১০ 07620101) ০8 
[0970100192: 01100.20030200065, 21019 90002190100, £10%71708 800. 10091151106 10801 ৮111) 009 
[)027688 ০01 0106 20601), 2150 111৮0106600 610০ 091096150, আ1]] 00690201756 0১৪ 6০0%1)05 
0£ 009 01798780667 চা1)101) 1) 02:69009," 

4777000006050 77/2%6602 (08200100080 0010100.) 


ছ্বিজেন্জলাল রায় ২৪৯ 
॥ প্রতাপসিংহ (১৯০৫) ॥ দ্বিজেন্দ্রল!লের প্রকৃত এঁতিহ1সিক নাটকের যুগ আরব হয় 
প্রতাপসিংহ” নাটকের সময় হইতে । 'প্রতাপসিংহ' হইতেই মহ ব্রতনিষ্ট, স্বদেশী ভাবরঞ্জিত 
নাটকীয় যুগের সচন। হয়। স্বাধীনত। সংগ্র।মের শ্রেঠতম সৈনিক গ্রভাপের অতুল বারত্ব,অন্পম 
দেশপ্রেম এবং অলৌকিক ত্য।গের চিত্র ন।ট্যকার সঙ্রদ্ধ নিষ্ঠার পঠিত ফুটাইয়। তুলিলেন। 
আধুনিক ধারণায় গ্রত।পের স্থপ্ম কুলমর্ধ।দা-বোঁধ সমথনীয় ন। হইতে পারে, কিন্ত স্বদেশ রক্ষার 
জন্য এরকম আপ্রাণ, অবিচ্ছিন্ন চেষ্ট। কে কে।থায় দেখিয়াছে? সংকন্ন-সাঁধনের জন্য এরূপ 
দুঃসহ ক্লেশ বরণ করিতে, অপাধ্য ত্যাগ স্বাককার করিতে অর কে কবে পারিয়াছে? 
তাহার মত ছুঃখময় জীবনও ব। আর কাহ|র দেখা গিয়াছে? রাঁজা হইয়াও তিনি দীনের 
হইতে দীন, বংশগৌরব রক্ষার চেষ্টায় তিনি বহু শ্রেষ্ঠ রাজপুত বারের স|হ।য্য হইতে বঞ্চিত 
হইযাছেন, নিজের ভাই শক্তকে পাইয়।ও ছ।ড়িয়াছেন, অন্য।যের শান্তি দিতে যাইয়া নিজের 
পতিপ্রাণ। স্ত্রীকে পর্যন্ত ভারাইয়াছেন। তাহার চরিত্রের বেদনাময় গৌরব আমাদের 
অন্তরকে আচ্ছন্ন করিয়। রাখে । প্রতাপের পরই তাহার ভ্রাতা শক্তসিংছের চরিত্র উল্লেখ" 
যোগ্য । শক্তের উল্লেখ র।জস্থানে থাকিলেও ইহার চরিত্রবৈ শিষ্ট্য গ্রন্থকারের নিজন্ব মৌলিক 
স্ষ্টি। সে বার, উদ্ধত, বিদ্বান এবং ব্যঙ্গপ্রিয়। জীবনের প্রতি তাহার আসক্তি নাই; 
সমাজ ও ধর্মের প্রতি তাহার শ্রদ্ধ। নাই; প্রেম এবং হ্ৃদয়বৃত্তির স্থকোমল লীলার প্রতি 
তাহার কোনো আকর্ষণ নাই। কিন্তু তাহার চিত্ত অবশেষে দৌলতউন্িসার প্রেমে বশীভূত 
হইল। প্রেমের এই মহিমময়ী বিশ্ববিজয়িনী শক্তি লেখক দেখাইয়াছেন। দৌলতউন্লিসী 
এবং মেহেরউন্নিার চরিত্র বিশেষ সরসভাবে অস্কিত হইয়াছে । উভয়েই শক্তসিংহকে 
ভালোবাসিয়াছে, কিন্ত একজন বৃক্ষের হ্ায় স্থর এবং নির্বাক এবং অ।র একজন তটিনীর 
স্তায় চঞ্চল এবং মুখর। তবে মেহেরউন্দিসার পিতার সহিত বিরোধ এবং প্রতীপের আশ্রয় 
গ্রহণের কোনে। জোরালো কারণ নাইঃ শক্তসিংহের প্রতি তাহার প্রেমও অর্থহীন, তাহার 
নিজের কথায় ছাড়া ইহা আমর। জানিতে পারি নাই, এবং এই প্রেমের গ্রভাবও কোনো 
স্থলে পরিস্ফুট হয় নাই । আকবরের চরিত্রে লেখক ভালোমন্দের সমাবেশ করিয়াছেন । 
আকবর উদার ও গুণগ্রাহী, কিন্ত তিনি ইন্দ্রিয়পরায়ণ এবং নারীদেষী। 


॥ হুর্গাদীস (১৯০৬) ॥ “ছুর্গাদাস* নাটকে ঘটনার অতিরিক্ত আঁধিক্যে নাটকের গ্রক্য 
এবং সংহতি নষ্ট হইয়াছে । বহুতর চরিত্রের বৈচিত্র্যে এবং নান। ঘটনার বিভিন্নমুখিতায় 
কোনে! বিশেষ কাহিনীর প্রভাব মনের মধ্যে রহিয়! যায় না । জয়সিংহ-কমলা-দরব্ঘতীর 
আখ্যান অপ্রয়োজনীয়, শত্তুজীর ঘটনাও পরিহীর্ষ। সস্তা বীররসের অবতারণাঁয় নাটকের গুরুত্ব 
এবং গাস্তীর্য অনেক সময়ে নষ্ট হইয়াছে । দ্বিজেন্দ্রলীলের উদীরতা এবং অপক্ষপাত-গুণ 
কাঁশিম এবং দিলীর খার চরিত্রাঙ্কনে প্রমাণিত হইয়াছে । দিল্র খাঁর মুখ দিয়া তিনি 
হিন্দু-মুসলমান মিলনের অনেক কথা৷ ব্যক্ত করিয়াছেন। দুর্গাদাকে তিনি দৌষ-ছুর্বলতার 
অতীত আদর্শ চরিত্র করিয়! চিত্রিত করিয়াছেন। ইহাতে চরিত্রটা একটু অস্বাভাবিক 

২৭ 


২১০ বাংজ। নাটকের ইতিহাস 


এবং অমানবীয় হইয়া পড়িয়াছে। লেখক তাহাকে ট্র্যাজিক চরিত্র বলিতে চাঁহিয়াছেন।১ 
কিন্তু ট্র্যাজেডির আবেগময়, বেদনা ময়, নিক্ষল ভাব নাটকের মধ্যে বিকশিত হইয়া উঠে 
নাই। ওুরংজীবের শেষ বয়সের চিত্র নাটকের মধ্যে দেখান হইয়াছে । অবশ তাহার 
ক্র, কুটিল, ছন্দময় চরিত্রের পূর্ণতর রূপ আমরা! “সাজাহান' নাটকে দেখিতে পাইব। 
এই নাটকেও তিনি কপটা, ধর্মদ্বেষী, গোঁড়া ইসলাম-রক্ষক বটে; কিন্তু তাঁহার শেষ 
জীবনের ব্যর্থতা এবং বিষাঁদময়তা তাহার চরিত্রকে করুণ করিয়! তুলিয়াছে।২ এখানে 
তিনি বলবীর্য এবং গ্রভুত্বের গবিত আসনে অধিষ্ঠিত নহেন, তিনি রাঠোর এবং রাজপুতের 
কাছে পরাজিত, ছুর্গাদাস এবং দিলীর খাঁর দ্বারা উপেক্ষিত এবং গুলনেয়ারের কাছে 
গৃথাম্পদ। অমিত শক্তিমীন ওুরংজীব যেন ইহাদের কাছে নিতান্ত দুর্বল ও ছোট হইয়া 
পড়িয়াছেন। ইহাদের দমন করিবার, শাস্তি দিবার ক্ষমতা যেন তাহার নিঃশেষ হইয়া 
গিয়াছে । নাটকের মধ্যে সর্বাপেক্ষা জীবন্ত ভূমিকা গুলনেয়ারের। ক্লাইটেমনেষ্্ী এবং 
গনেরিলের স্তাঁয় সে প্রবল ব্যক্তিত্বশালিনী, ইন্জিয়লালসাময়ী নারী চরিত্র। তাহার ছূর্দম 
প্রবৃত্তি প্রচ্ছন্ন চোরাপথে বিচরণ করে না, ইহা ঘুণি হাওয়ার ন্তায় সকলের রোষ ও শাসন 
উড়াইয়৷ দিয় বহিয়। যায়; সে গুরুতর অন্ঠাঁয় করিয়াও কোনো দিন মাথা হেট করে নাই, 
সমরাজ্জীর দৃপ্ত ভঙ্গিমায় নিজেকে সর্বনীশের মধ্যে বিলীন করিয়া দিয়াছে । 

॥ নুরজাহান (১৯০৮) ॥ দ্বিজেন্দ্লালের শ্রেষ্ট ট্র্যাজেডি কোন্থানি এ বিষয়ে বিতর্ক 
হইতে পারে; কিন্তু অনেকেই বোঁধ হয় স্বীকার করিবেন যে, ট্র্যাজেডির বিস্তৃতি ও জটিলতা 
যেমন “সাজাহানে” সর্বাপেক্ষা বেশি, ট্র্যাজেডির তীব্রতা ও গভীরতা তেমনি “নুরজাহানে, 
সকলের তুলনায় অধিক । “সাজাহানে”র ট্র্যাজেডি সঞ্চারিত হইয়াছে সাঁজাহান, গরংজীব, 
দারা, সুজা, মহম্মদ, সোলেমান প্রভৃতি বিভিন্ন চরিত্রে, কিন্ত "ুরজাহণনের ট্র্যাজেডি 
মুরজীহানের চরিত্র অবলম্বন করিয়াই অনন্য মহিমা লাভ করিয়াছে । সেজন্ত আলোচ্য 
নাটকখানি শুধু মাত্র নায়িক! নামাস্কিত নহে, সেই নায়িকা পরিপূর্ণভাবে ট্র্যাজিক গৌরবে 
অবিচ্ঠিত। বাংল সাহিত্যের আরও অনেক এতিহাসিক নাটক নায়িকা নামাস্কিত বটে, 
যথ _“কৃষ্ণকুমারী”, 'অশ্রমতী”, “সরোজিনী” ইত্যাদি ; কিন্তু এই সব নাটকের ট্র্যাজিক গুরুত্ব 


১। “ইহার ট্র্যাজিডিত্ব চির জীবনের উপাসনার নিক্ষলতায়, আজন্ম সাঁধন।র অসিদ্ধতায়, প্রাকৃতিক নিয়মের 
বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত চেষ্ট।র পর।জয়ে ৷ ইহার ট্র্যাজিডিত্ব এ এৰ কথা য়-'ব্যর্থ হয়েছে--পীরলাম না, এ জ।তিকে 
টেনে তুলতে! । 

'ভূমিকা'-ছুর্গাদ।স | 

২। ভীাহ।র শেষ জীবন সম্বস্ধে হুপ্র(স্ধ এতিহাসিকের মন্তব্য প্রণিধানযে।গ্য-_ রন 

গ[ু)6 1986 56219 01 1019 106 ০16 110650)98811015 ৪৪৫...1718 0.010098010 1116 ০০, ৪৪ 
10521699 ৪1)0. 07687, 8100 91061706110 006 10271019680 91১0, 10079610110689 ₹71)101) 11010 


৪ 1810 7:01) 010 206. &  861096 0£ 01)00661:91)159 10100117)698 17900620, (006 1)691৮ 01 
& 01500 210 চা) 1008 1886 508185 


46670700266 5 2:07%--9)7 50010900 98092, 029 


দ্বিজেন্রলাল রায় ২১১ 


নির্ভর করিয়াছে অন্ঠান্ত চরিত্রগুলির উপরে, নায়িকাঁদের স্থৃকোমল জীর্বম নীরব স্ইথভোগের 
মধ্য দিয়! করুণ হইয়াছে, কিন্তু ট্র্যাজিক হইতে পারে নাই। কিন্ত মুরজাহান ইহাদের 
ব্যতিক্রম, বোধ হয় বাংল! সাহিত্যে ইহার ন্যায় সংঘাঁততাঁড়িত ট্র্যাজিক নারী-চরিত্র আর 
একটিও নাই । সমালোচক-প্রবর নিকল বলিয়াছেন যে, ট্র্যাজেডির প্রধান চরিত্র যদি নারী 
হয়, তবে সেই নারীকেও পুরুষায়িত হইতে হইবে ।১ স্নেহ, মমতা, করুণা, সহিষ্ণুতা প্রভৃতি 
নারীর কোমল গুণ বটে? কিন্তু ট্র্যাজেডির জন্য চাই নির্মম কাঠিন্য, নিফকণ আঘাত ও 
নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম । সাধারণ নারীর মধ্যে এগুলি স্থলভ নহে। কেবল অসাধারণ নারী- 
চরিত্রের মধ্যে এই গুণগুলি আশ্রয় লাভ করিতে পাঁরে এবং জগতের শ্রেষ্ট ট্র্যাজেডি লেখকগণ 
__ইউরিপ্রিডিস, শেক্ন্গীয়র, কিংবা ইবসেনের নাঁটকেই ইহাদের স্থান হইতে পারে। দ্বিজেন্দর- 
লালের নুরজাহানও এন্ধপ একটি অনন্যসাঁধারণ চরিত্র--ভারতের সর্বময়ী অধ শ্বরী ছিল বলিয়া 
নগে, দারুণতম অন্তঃসংঘাতের মধ্য দিয়া তাহাঁর জীবন একান্ত ছুঃখময় ট্র্যাজিক মর্যাদা লাভ 
করিয়াছে বলিয়াই সে অনন্যসাঁধারণ। সে মিডিয়ার স্াঁয় প্রতিহিংসাময়ী, লেডি ম্যাকবেথের 
ন্যায় অপ্রকৃতিস্থ ও হেড্ডা গ্যাবলারের ন্টায় ছূর্দম প্রবৃত্তির বশীভূত । কিন্তু গ্যাগামেমনন-পত্বী 
ক্লাইটেম্নেষ্টার সহিত তাহার সাদৃশ্ঠ সর্বাপেক্ষা বেশি । ক্লাইটেম্নেষ্রীর স্তায় বীর ও উদার 
স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীহন্তাকেই সে স্বামী বলিয়া গ্রহণ করিয়াছে। ক্লীইটেম্নেষ্টার ন্তাঁয় 
সেও কন্ঠার নিকট হইতে শত্রর আঘাত পাইয়াছে এবং অন্তত ইউরিপিডিসের ক্লাইটেম্নেষ্টার 
ন্যায় (ণ1০০0:+ নাটকে ) সেও তাহার অন্যায় অপরোধ সত্বেও আমাদের বেদনা-করুণ 
সহাম্ভূতির পাত্রী হইয়! উঠিয়াছে। দ্বিজেন্ত্রলালও ইউরিপিডিস ও ইবসেনের ন্যায় তাহার 
নায়িকা চরিত্রে আঁদিম প্রবৃত্তির নিষিদ্ধ লীল! দেখাঁইয়! তাহাঁকে দ্বৃণ্য করিয়া তোলেন নাই, 
এক উদ্দার ক্ষমা-করুণ সহানুভূতির যোগ্য করিয়াই তুলিয়াছেন। হুরজাহান শুধুমাত্র ক্ষমতা- 
লোভী, লালসাময়ী শয়তানী নহে ; সে ছুর্দমনীয় আবেগ ও দুম্রুতিরোধনীয় বিবেকের নিষ্ঠুর 
সংঘ|তে ক্ষতবিক্ষত এক অসহাঁয় নারী। ইউরিপিডিসের মিডিয়ার ন্যায় সম্ভবত তাহার 
রক্তাক্ত হৃদয়।আর্তনাদ করিয়াছে-- 
4001), 
(06 211 01)11755 80017 2810) 0080 01650 ৪170 £10৬ 
4৯ 10610100956 0101560. 1$ 7 0100815 

সমগ্র নুরজাহান নাটকের মধ্যে আঁমর! যেন একটি জুদ্ধ ঝটিকার উন্মত্ত অভিযান লক্ষ্য 
করি। সেই ঝটিকার রক্তচক্ষু ও পক্ষবিস্তারের আভাস প্রথম দৃশ্তেই দেখি এবং শেষ দৃশ্যে 
তাঁহার দলিত, বিধ্বস্ত, সর্বহার! রূপ চতুর্দিকে আতঙ্ক বিস্তার করিয়া প্রকটিত হইয়া উঠিয়াছে। 


১) 7106 067)0:5] 10010, 0060 0৫91] 07580 68290188 111] 109 & 0790৯ 0৫ 6199 ৪ 'ম 02081) 

া1)0 1109 1.907 11%01060 ০:11017)69019 01 116069, 1198 11) 106] 6921006] 50108 80970010% 
058116168 804 9০5০21৮5 ০1 0070089 06 9:07911]57 88980019590 101) 006 650108115 1570101016-8 
৮৫76 7790 ০ 27০75, [১ 15৭, 


. ২১২ বাংজ। নাটকের ইতিহাস 


প্রথমেই প্রকাশিত হইল নুরজাহান ও শের খাঁর সুখের দাম্পত্য-চিত্র। নুরজাহান তাহার 
জীবনের পঙ্কিল আবর্তকে তলদেশে নিরোধ করিয়া তাহার সংসারের সম্মুখে মমতা ও কর্তব্যের 
এক পূর্ণ বিকশিত পদ্ম মেলিয়া ধরিয়াছিল। সেই পদ্মের স্থরভিত সৌন্দর্যে সরল, পত্রীপ্রাণ 
শেরখার জীবন আত্মহ|রা হইয়া ছিল। কিন্তু আচমক! ঝড়ের তাড়নাষ সেই নিশ্শিস্ত, 
হাস্যময় পদ্মটি দুলিযা কীঁপিয়া উঠিল। সেলিম ভারতের সম্রাট, শেরখশর পাঁচ হাজারীর 
পদ-_কিন্ত সুরজাহানের অন্ধকার চিত্ততলে অবরুদ্ধ শয়তানীটির দাপাদাপি সুর হইয়া গেল। 
এক উৎসব-চঞ্চল রাঁতের কামনা-বিলোল কটাঁক্ষের মধ্য দিয়া এই শয়তানীটি তাহার অন্তরের 
সুড়ঙ্গ-পথে প্রবেশ করিয়াছিল, বহুদ্দিন ধরিয়া সেখানে সে নিঃসাঁড় হইয়াছিল, কিন্তু আবার 
তাহার ক্ষুধার্ত হুঙ্কার শোনা গেল। আগ্রায় আসিবার পরে পুনরায় সেলিমের সঠিত তাহার 
চোখাচোখি হইল। শয়তানীটির মন্ততা আরও বাঁড়িয়! গেল। তাহার নখ ও দাতের তীক্ষ 
আঘাত-বেদনা বুঝি মুরজাভানের বাহ্‌ আকৃতির মধ্যেও ফুটিয়৷ উঠিল, সরল ও ক্ষমাশীল শের 
খাঁর দৃষ্টিও তাহ] ধরিয়া ফেলিল। একদিকে স্বামীর প্রতি তাহার অদ্ধামিশ্রিত আনুগত্য, 
অন্য দিকে একটি ছুর্ম ভোৌগলোলুপ জিগীবা-_-এই ছইয়ের প্রাণঘাতী আক্রমণ হইতে আত্মরক্ষা 
করিবার জন্য সে স্ব।মীকে লইয়! বর্ধমানে পলাইয়! আসিল । তাহার বিবেক বাঁচিল, তাহার 
সংসারও বাঁটিল। কিন্তু বর্ধণানে আসিয়।ই সে বুঝিল, এ তাহার আত্মরক্ষা নহে, এ তাহার 
আত্মগ্রবঞ্চনা ; কারণ অবদমিত হৃদয়াবেগ ততক্ষণে হতাশ আক্ষেপে তাহার অন্তর আকুল 
করিয়া তুলিয়াছে। শেরখশার সঙ্গে শেষ কথাঁবাতণর সমযে সে. স্বামীর পদে লুঠঠিত হইয়া 
তীহার ক্ষম। গ্রার্থন। করিয়াছে । এ তাহার অপরাধ নহে, এ তাগর নিরুপায় পরাজয় । 
ইহার পর শেরথ! হত হইল, নুরজাহান আগ্রার প্রাসাদে আনীত হইল, কিন্ত সমস্ত! তবুও 
মিটিল না। বাহিরের দিক দিয়! ন্রজাঁহানের পথ উন্মুক্ত হইল বটে, কিন্ অন্তরের দিক 
দিয়া সেই পথ আরও বিদ্বিত হইয়া উঠিল। নুরজাহান অন্কুশ-আঘাতে দিবারাত্র তাহার 
মনকে তাড়না করিয়। শ্বামার মৃত্যুর জন্য তাঁহাকেই পরোক্ষভাবে দায়ী করিতে লাগিল 
এবং জীবনে যে স্বামীকে অন্তর দ্রিয়। ভালবাঁসিতে পারে নাই, মৃত্যুর পর তাহারই স্থৃতির 
প্রতি আন্গত্য রক্ষা করিয়া স্বামীতন্তার বিরুদ্ধে এক ক্ষমাহীন আক্রোশ জাগাইয়৷ রাখিল, 
অথচ যখন আগ্রার অবরোধ হইতে মুক্তির স্থযোগ ঘটিল তখনই এক অনির্দেশ্ত বেদনায় 
তাহার মন ভতাঁশ হইয়! পড়িল। আশ্চর্য মানুষ, আর তাহা অপেক্ষাও আশ্চর্য মানুষের 
মন! ইহাঁর পর পুনরায় তাহার সম্মুখে গ্রলোৌভনের পসরা তুলিয়া ধর! হইল-_আ'ত্মত্যাগী 
রেবা ও স্বার্থবাদী আসফ এই পসর! লইয়া আঁসিলেন। নুরজাহানের রঙ্ধে রন্ধে তীব্র দাহ 
জলিয়া উঠিল। তাঁহার ভিতরে, বাহিরে, সম্ধুখে, পশ্চাতে সর্বত্রই এই দীবদাহ। সে কোথায় 
পলাইবে? অবশেষে সে সেলিমকে বিবাহ করিতে সন্মত হইল, নিজের লালসা-গৃপ্তির 
জন্য নহে, স্বামীহস্তার উপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করিবার জন্ত ॥ যে ভূমিকম্পে সে নিজে 
কীপিতেছিল তাহা এখন সমগ্র রাজ্যখানিকে কাপাইতে সুর করিল। যে শয়তানীটি 
এতকাল তাহাঁর অন্তরের মধ্যে ছিল এখন তাহীরই হাতে সে ক্ষমতার রজ্জু তুলিয়! দিল। 


ছিজেজ্বলাল রায় ২১৩ 


মনে রাখিতে হইবে, ইহাতে প্ররোচনা! ছিল তাহার ভাই আসফের ও প্রাথমিক সহযোগিতা 
ছিল তাহার কন্ঠ! লয়লার। কিন্ত যখন সেই শয়তাঁনাটি সর্বনাশের অতল-পথে তাহাকে 
টানিয়৷ লইয়! চলিল, তখন আঁসফ ও লয়লা ফিরিয়। গেল কিন্ত ফিরিবাঁর উপায় ছিল 
ন। নুরজাহাঁনেয়। এই অনিবার্ধ শক্তির দ্বারা তাড়িত হইয়া সে চারিদিকে নিধিকার 
কাঠিন্যের সহিত ধ্বংস ও মহামারীর কীজ ছড়াইতে লাঁগিল। এই সর্বব্যাপী ধ্বংসলীলার 
শোধণে তাহার নারীত্ব ক্রমে ক্রমে লুপ্ত হইয়া গেল এবং বে শ্রদ্ধাণীল পতিনিষ্ঠার প্রেরণাতে 
ইহার উৎপত্তি তাহাঁও নি:শেষে শুকাইয়! গেল। বে আগুন সে পরের ঘর পুড়াইবার জন্য 
জ্বালিয়াছিল তাহ। তৃষার্ত জিহ্ব! প্রসারিত করিষা তাঁহ1র নিজের ঘরখানিকে নিঃশেষ করিয়া 
অবশেষে তাহাকেও লেহন করিয়া লইল। ছুই একবার হাত-পা আছড়হেয়া নিজেকে সে 
রক্ষা করিতে চাহিল, কিন্ধু পারিল না। শেষ দৃশ্যে এই অগ্নিদগ্ধ ন্ুরজ|চাঁনের অপ্রকৃতিস্থ 
আর্তনাদ এক আতঙ্কিত বেদনায় আমাদের অন্তঃকরণ স্তব্ধ করিয়া দেয়। 


এ্যারিস্টোটল বলিয়াছেন, ট্র্যাজিক চরিব্রগুলি ভালো (৫০ ৭) হইবে ।১ লরজাঙনের 
চরিত্রও আলোচনা করিয়া আমরা দেখিলাম, সে অধিমিশ্র পিশাচী কি শয়ত।নী নহে 
স্বাভাবিক নারী-স্থলভ গুণ ও ধর্মজ্ঞ/ন তাঙ্গার মধ্যেও আছে। কিন্ত ছুর্দম প্রবৃত্তির 
আকর্ষণে সেগুলি তাহার জীবনে প্রতিষ্ঠিত হইতে পারে নাই । এজন্যই তাহার চরিত্র 
ট্্যাজিক মহিম! লাভ করিয়া আমাদের সহানভূতির বোগ্য হইতে পারিয়াছে। নুরজাহান, 
নাটকে ঘেভাবে আদিম প্রবৃত্তির ক্রিয়াঁচঞ্চল রূপ দেখান হইয়াছে এবং ঘেভাবে চরিত্রের 
অভ্যন্তর হইতে ট্রাজেডির উৎপত্তি হইয়াছে তাতে নাটকখানি শেকসপীয়রের ট্র্যাজেডির 
সহিত সমজাতীয় হইয়া উঠিয়াছে। কিন্তু শ্রেষ্ট ট্র্যাজেডি চরিত্রের মূল হইতে উৎপন্ন 
হইলেও ইহাতে একটি অনিবার্ধ, অপ্রতিরোধনীয় শক্তির অদৃশ্য লাল! থাকিবেই, তাহা! 
না হইলে ট্র্যাজেডি আমাদের অন্তরে এরূপ সীমাহীন হাহ|কাঁর উদ্রেক করিত না। এমন 
কি শেকসপীয়রের নাটকেও আকম্মিক ঘটনাধোগ, আতান্তিক দুর্ভাগ্য প্রভৃতি স্থান লাভ 
করিয়াছে ।২ নুরজাহান নাটকেও ট্র্যাজেডির জন্য দায়িত্ব চুরজীহাঁনেরই সর্বাপেক্ষা বেশি, 
কিন্ত তবুও ইহাঁতে কি অনিবার্ধ শক্তির অলঙ্ব্য নিয়ন্ত্র-লীল বারবার অনুভূত হয় নাই? 
সে পরোক্ষভাবে শেরখ] ও জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর জন্য দায়া। অথচ ইহাদের কাহারও মৃত্যু 
তো তাহার ঈশ্সিত ছিল ন1, কারণ ইহাদের একজনের নিকট হইতে দে পাইয়াছিল 
সংসার আর একজনের নিকট হইতে সাম্রাজ্য । নাটকের ট্র্যাজেডির জন্য তাহারই 
দায়িত্ব সর্বাপেক্ষা অধিক সন্দেহ নাই; কিন্তু জাহাঙ্গীর, আসফ, লয়ল! প্রভাতি সকলেরই 


১ *.006 70096 11010018170 29 002৮ 00০5 ৪100816 09 2009৫ 
--1096198. 


২ 51991651909, 110৮0561165] 10170962611) 01) (176 *01:2610 12" 60 10108 015 
1101069 60 011), 1006 170109 0£ 00110100706, 81596] 1080 1000, 81/259 1188 8 1)81)0 |) 019 
80100 এ -10859056117)6 10121009109 45112819201 1), 1 179 


২১৪ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


কিছু কিছু দায়িত্ব যে আছে তাহীও তো অস্বীকার করা যায় না। ট্র্যাজেডির জগৎ এই 
সর্বগ্রাসী ভুল ও দ্বুঃখের জগৎ। এখানে সকলেই তাহাদের ভাব ও আচরণের দ্বারা 
আমাদের আকাজ্কিত স্বাভাবিক ব্যবস্থাকে উল্টাইয়। দেয়-এবং সকলেই এক অলঙ্ঘ্য 
ুংখ-পরিণতির দিকে অনিবার্ধবেগে অগ্রসর হয়। ট্র্যাজেডির এই অন্তহীন, নিষ্কৃতিহীন 
সর্বময়ত। 'মুরজাহান+ নাটকে ফুটিয়াছে। বাহৃত নুরজাহানের পরাজয় ও পতন ঘটিল মহবং- 
সাজাহান কর্ণসিংহের কাছে। কিন্তু আসলে তাহার বড় পরাজয় ঘটিল অন্তরের মধ্যে - 
সে পরাজয় তাহার শয়তানী সত্তার কাছে নারীসত্তার। নুরজাহান যতই একটির পর একটি 
অন্তায় কাজ করিয়াছে ততই তাহার অন্তরতম নারীসত্ত। নিরুপায়ভাবে আর্তনাদ করিতে 
করিতে ক্ষয়িধু হইয়। পড়িয়াছে। জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর সেই শয়তানী-সত্তাটির বিলোপ 
ঘটিল আর তখন বাহিরে গ্রকাঁশিত হইয়া পড়িল তাহার অন্তরসত্তাটি--দেখিলাম, পরাজিত, 
ক্ষত-বিক্ষত, অপ্রকৃতিস্থ একটি নারী । উপরের দেবতা তাহাকে শাসন করিবার জন্য 
ঝড়ের গর্জন ও বিদ্যুতের কশাঘাত সুরু করিয়াছেন, নীচের মানুষ তাহাকে দমন করিবার 
জন্য তাহার শক্তি ও দর্প চূর্ণ করিয়া তাহাকে সহীয়-সম্থলহীনা এক ভিথাঁরিণী করিয়া 
ফেলিয়াছে। ইহ! অপেক্ষা হৃদয়বিদারক দৃশ্ঠ আমরা আর কোথায় দেখিয়াছি? 

শেরথ"। ও জাহাঙ্গীর এই ছুইটি চরিত্র পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী, কিন্তু উভয়ের মধ্যে 
একটি গৃঢ় সাদৃশ্য আছে । নারীর প্রেমতৃষ্ণ উভয়ের জীবনের করুণ পরিণতি ঘটাইয়াছে। 
শেরখণ স্বেচ্ছায় ঘাতকের কাছে মৃত্যু বরণ করিলেন আর জাহাঙ্গীর তিল তিল করিয়! 
নিজের জীবনকে নিঃশেষে বিলুপ্ত করিয়া দ্িলেন। শেরখা অমিত-শক্তিশালী বীর, কিন্ত 
তাহার উদার হৃদয়ের সবখানি জুড়িয়৷ এক সীমাহীন ভালোবাসা ব্যাপ্ত হইয়াছিল। কিন্তু সেই 
ভালোবাস! হ্থরজাহানের শুফ-কুষ্ঠিত হৃদয়ে আহত হইয়া আর্তনাদ করিয়া উঠিল। শেরখার 
অভিমান-ক্ষুব্ধ অন্তর একটু নালিশ করিল না, একটি কথা বলিল না, মৃত্যুর মধ্য 
দিয়া এক ব্যথাঁমৌন দীর্ঘশ্বাস চিরকালের জন্য হুরজাহানের চিভতলে সঞ্চিত করিয়া 
রাখিল। 

জাহাঙ্গীরের চরিত্র আপাতদৃষ্টিতে নিষ্ক্রিয় মনে হইলেও» আঁদলে তীহার মধ্যে একটি 
হুক দ্বন্ব-লীলা দেখা গিয়াছে । তাহার একটি অভিমান ছিল যে, তিনি স্তায়পরায়ণ। কিন্তু 
এই স্যায়পরায়ণতা! বার বার তাহার ছুর্দমনীয় ব্বপতৃষ্ণার কাছে পরাজিত হইয়াছে । তিনি 
জানেন, অন্যের বিবাহিত! পত্বীর প্রতি লোভ কর অন্তায় ; তিনি জানেন শেরথীকে বিনা 
কারণে হত্যা! করা অপরাধ । কিন্তু তবুও তিনি কঠোরভাবে নিজেকে নিবৃত্ত করিতে পারেন 
না। নুরজাহানের ক্ষমতা-প্রাপ্তির পর তাহার একটির পর একটি নৃশংস কাঁজে জাহাঙ্গীরের 
স্যায়বোধ তীব্রভাবে আহত হইয়াছে, অথচ প্রতিরোধ করিবার আগ্রহ ও শক্তি তাহার নাই” 
সেজন্য নিজের জাগ্রত বিবেকবুদ্ধিকে জোর করিয়৷ নিস্তেজ করিবার জন্ত তিনি আরও বেশি 
মদ খাইয়াছেন, আরও অধিক সম্ভোগ-আ্রোতে গ! ঢালিয়া দিয়াছেন, 'স্থুরা, সৌন্দর্য ও 
সঙ্গীত আমায় ধিরে রাখুক। আর তার উপর তুমি তোমার দ্ূপঃ কণম্বর আলিঙ্গন 


দ্বিজেজ্জলাল রায় ২১৫ 


দাও প্রিয়ে। চক্ষু থেকে পৃথিবী নিভে যাঁক। এই সব কথার মধ্যে পরিতৃপ্ত সৌন্দর্য 
কাঁমন! নাই, ইহাদের মধ্যে এক মরণীকাজ্ষী লোকের অস্তিম বেদন| ধ্বনিত হইয়াছে ।১ 
মুরজাহানের কন্ঠা লয়ল৷ নাটকের মধ্যে নুরজাহানের এক প্রতিদ্ন্দিনী শত্তিরূপে 
বিরাজ করিয়াছে । লয়লার সহিত গ্রীক নাটকের ইলেককট্র। চরিত্রের সাদৃশ্য সহজেই চোঁথে 
পড়ে । ইলেকট্রীর স্ায় লয়লাও পিতৃহত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে সঙ্গল্লব্ধ এবং মাতৃঅপরাধের 
প্রতিকারে প্রবৃত্ত । লয়লার চিত্তও নুরজাহানের ন্যায় কুলিশ-কঠোর, সর্বনাশী শক্তির 
সহিত সেও প্রথমে হাত মিলাইয়াছিল। কিন্তু খসরুর মৃত্যুর পর আহত, অনুতপ্ত চিন্তে সে 
এই শক্তির নিকট হইতে সরিয়া দ্াড়াইল। তখন হইতে সে আর প্রতিহিংসাময়ী কন্তা 
নহে, শ্নেহ-ম্মতা-করুণায় গড়া নারী । তাহার এই নারী সত্তার সহিত ঈুরজাহ!নের শয়তানী 
সত্তার তীব্র লড়াই চলিয়াছে। কিন্তু যখন হুরজাহ|নের শয়তানী সত্তা বিলুপ্ত হইয়া! গেল, 
তখন আর হুরজাহানের সহিত তাহার কৌন বিরোধ রহিল না। তখন কন্তার অপার শ্েহ 
ও মমতা লইয়! সে অর্তাগী মায়ের দুঃখক্ষত অশ্রুজলে মুছাইয়া দিতে চাঁহিল। এশ্বর্ষ ও ক্ষমতা 
উদ্ধাপিণ্ডের মত খসিয়! পড়িল, কিন্তু করুণা ও মমতার স্সিথথজ্যেতি অকম্পিত শিখায় 
/ | 
্ পতন চর ॥“নূরজাহানে”র পর “মেবারপতন” লিখিত হয় মেবার পতন, 
উদ্দেশামূল্নাটক। “এক উদার, ম্যমূলক মানাতি প্রচার করিবার জন্যই তিনি নাটকখাঁনি 
রচনা করিয়াছিলেন। তিনি নিজেই ভূমিকায় বলিয়াছেন এই নাটকে আমি এক মহানীতি 
লইয়া বসিয়াছি) সে নীতি বিশ্বপ্রেম। কল্যাণী, সত্যবতী ও মানসী এই তিনটী চরিত্র 
াক্রমে দাম্পত্য প্রেম, জাতীয় প্রেম এবং বিশ্ব প্রেমের মুতিরূপে কল্পিত হইয়াছে । এই 
নাটকে ইহাই কীতিত হইয়াছে যে বিশ্বগ্রীতিই সর্বাপেক্ষা গরীয়সী |, নাটকীয় ঘটনা 
এবং পাত্রপাত্রীর কথোপকথনে লেখকের বক্তব্য উদ্দেশ্য স্প হইয়া! উঠায় নাটকের 
ক্রন্দনময় স্থর এক সাস্নাময় শান্তিতে নির্বাণলাভ করিয়াছে। সেইজন্য নাটকের অস্তিম 
প্রভাব নৈরাশ্তবাঁদের স্থলে আশাবাদ হইয়! দীড়াইয়াছে। এক ছুলক্ঘ্য, ছুজ্ঞেয় নিয়তি 
সর্বনাণী বাহু বিস্তার করিয়া যেন সব চরিব্রগুলিকে জাপটা ইয়া ধরিয়াছে। ইহাকে মানিয়। 
লওয়! ছাঁড়৷ যেন আর উপায় নাই__গোবিন্দসিংহ, অমরসিংহ ইহার বিরুদ্ধে যুঝিয়াছে, 
কিন্ত ইহাঁকে রোধ করিতে পারে নাই। গোবিন্দসিংহ মহিমময় রাজপুতকুলের অত্যুজ্জল 
আদর্শ। মহারাণ। গ্রতাপসিংহের প্রিয়তম পার্খচর তিনি । সেই বারর্ধভ স্ব্গীয়রাণার স্বদেশ- 
প্রাণতা এবং কুলগৌরব তিনি বহন করিতেছেন। সেইজন্য তিনি কন্যাকে ত্যাগ করিয়াছেন 





১। অধ্যাপক সাধনকুমার ভট্টাচার্যের আলোচন। উল্লেখযোগ্য--'এই অনিচ্ছা! অলসের ব। দুর্বলের অনিচ্ছ। 
নহে, এই অনিচ্ছার উৎস আত্মগত অবপাদ--আত্মগীড়ন ক।মনা । এই সময় হইতেই জাহ্ঙ্গীরের মধ্যে এক 
বৈরাগ্র করণ সর বাজিতে থাকে--মনে হঁয় তিনি যেন নিজের প্রতি (নিজে প্রতিশোধ লইতেছেন |" 


২১৬ বাংল! নাটকের ইতিহাস 
পুত্রকে হারা ইয়াছেন, কিন্কু জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত স্বাধীনতারক্ষার জন্য চেষ্ট] করিয়াছেন। 
এই অটল, অটুট ত্যাগ এবং সংকল্পের তুলনা নাই। অমরনিংহের মধ্যে একটা! 
অন্ুভূতি-প্রবণ, বিশ্লেষণণীল, সুঙ্ষদর্শী ভাব দেখা যাঁয়। তিনি যেন ভাগ্যের উত্তাল তরঙ্গ- 
ভঙ্গের মধ্যে হাল ছাড়িয়া দিয়া নিশ্চেই হইয়। বসিয়া! আছেন, যেন ভবিষ্যৎ পরিণতি স্পষ্ট 
দেখিয়াও তাঁচ৷ এড়াইবার ইচ্ছ! ও প্রবৃত্তি তাহার নাই ।১ 

॥ সাজাঁহ|ন (১৯০৯) ॥ দ্বিজেন্দ্রললের এতিহাসিক নাটকগুলির মধ্যে 'সাজাহান” শ্রেষ্ঠ 
এ বিষয়ে সমা'লোচকের! গ্র।য় একমত | কালের বিচারে অগ্ঠাপি এই নাটকখাঁন। জনপ্রিয়তায় 
অপ্রতিদ্বন্দ্ী হইয়া রঠিয়াছে। নাটকের মধ্যে বহুতর চরিত্র এবং বিভিন্ন উপকাহিনী থাকা 
সত্বেও নাট্যকার স্থনিপুণ শিল্পবেৌশলে সব ঘটনা ও চরিত্রগুলিকে অবিচ্ছিন্নভাবে 
পরস্পরের সঠিত গাথিয়! দিয়াছেন। নাটকথানির অভিনয় দেখিবার কালে ঘটনা পুষ্ত 
অতি ত্রুত তালে তালে পা ফেলিয়া দৃষ্টির বিভ্রম আনিয়া দেয়। জটিল ভাবতরঙ্গের 
নিমেষে নিমেষে উত্থান পতন অন্তর রুদ্ধ করিয়া দেয়_মনে হয় পলক ফেলিবার যেন 
অবকাশ নাই, নিশ্বাস ছাঁড়িখার যেন অবসর নাই । এ্তিহাসিক কাহিনীর প্রতি বিশ্বস্ত 
থাকিয়া» সেই কাহিনা৷ এক অথণ্ড, অবিচ্ছিন্ন নাটকীয় রসের মধ্যে জমাইয়া তুলা সহজ 
কৃতিত্বের কথ! নে, নাট্যকার সেই কৃতিত্ব দাবী করিতে পারেন। সাজাহানের নামে 
নামকরণ হইলেও, সাঁজাগান এই নাটকের সর্বাপেক্ষা প্রধান ও প্রভাবশালী চরিত্র নহেন।২ 
সাজাহান পুরুনসিংহ বটে, কিন্তু সেই সিংহ পিঞ্জরাবদ্ধ _হাঁহার ভুদ্ধ গর্জন নীরন্ধ কারাপ্রাচীরে 
নিক্ষলভাবে ম|থা ঠৃকিয়াছে, বাঙিরে কাহারও কর্ণে প্রবেশ করিতে পারে নাই। কিং 
লীয়ারের ন্যায় সন্তানের কৃতদ্তায় তিনি নিঃসঙ্গভাবে তাহার আক্রে।শ ও অভিশাপ রুদ্র 
প্রকৃতির মধ্যে মিলাইয়! দিয়াছেন। কিন্তু জগৎ তার অতীত এশখবর্ধ ও প্রাক্তন ক্ষমতার 
কথা চিন্তা করিয়া তাহাকে সম্ত্রম জানায় নাই । তাহার চরিত্র আগ্যন্ত একই রূপ - শ্নেহাতুর, 
অপ্রকৃতিস্থ, অসহায_তিনি চলম|ন ঘটনার নিরুপায় দ্রষ্টা, শক্তিমান অঙ্ট। নহেন। প্রকৃতপক্ষে 
যিনি কাহিন।র মধ্যস্থলে বির।জ করিয়া সমস্ত চরিত্রকে নিয়ন্ত্রিত এবং নিয়ামিত করিতেছেন, 
তিনি উরংজীব। ওরংজীবের কুটিল, নিটুর চক্রান্ত 'বোয়া কনষ্রিকটারের 9০৪ 


১1 টড অমরসিংহের চরিত্র সম্বন্ধে নিম্ললিখিত মন্তব্য করিয়াছেন--'110 778 0105 01 12727) 
01001 1019 100৩,০--১, 110 11286] 0 0:086]্€ 1)07091 11) 01001) 10071711899, 00011361258 0৫049101060 
05 1719 700১৪ 101: 2 89100001800] 00111) 5 000 ৮0519619500 15 1019 01010 102 03৫ 
0001)1165 (0105 11056 04660] 00100709115 0100 ৮8101, 210. 05 1018 8101)1605 101: 1)19 10190109 
8101 10110110599, 01 10101) ৩ 021) 10000 0000) 1719 660]108, 10015 01 অ1)101) 59০ 1650 00 
0১০ ০00151101) 07 010 700০ ১ 


177560% ০7 1327657/01---410100015 01 81621 1১,340, 
২। 'সাঁজাহ।নের ভূমিকা নিক্ষিপ্ সাক্ষীর ভূমিক1। ট্র্যাজেডির দিক দিয়ও সাজাহান নামকরণের 


নার্থকত। আবে।লয়! বোধ হয় না।, 
'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস" (২র খড)--ডাঃ সুকুমার সেন, পৃঃ ৩৯ | 


থিজেন্দ্রলাল রায় ২১৭ 
601507০60:) ন্যায় অন্তান্ চরিত্রগুলিকে পাকে পাকে জড়াইয়া ধরিয়াছে, তাহার! যেন 
নিরুদ্ধ হাহাকারে জীবন সাঙ্গ করিয়াছে । সাঁজাহান, দারা» সুজা, মোরাদ, সোলেমান, 
মহম্মদ্র_-এতগুলি চরিত্রের করুণ ট্র্যাজেডি কেবল একটিমাত্র লোকের জন্ ঘটিয়াছে। 
অথচ নাট্যকার ত্াহীকে একেবারে নিদ্ধন্দ হ্ৃদয়হীন পিশাচ করিয়াও অন্কন করেন নাই। 
তিনি নিষ্টুর, উৎ্গীড়ক এবং কূটনৈতিক বুদ্ধিসম্পন্ন বটে, কিন্তু তিনি একের্বারে ন্নেহহীন, 
যুক্তিহীনও নহেন। মাঝে মাঝে তাহার কষ্ণমেবাচ্ছন্ন হুদয়াকীশ চিরিয়া কোনো স্থকোমল 
বৃত্তি চকিত দীপ্তিতে উদ্ভাসিত হইয়া উঠে। ওঁরংজীবের স্থক্ম শাণিত বুদ্ধি বার বার জয়লাভ 
করিয়াছে বটে, কিন্তু তীহার সর্বশেষ জয় হইয়াছে হুদয়বৃত্তির করুণ আবেদনে, এই বিষয়টা 
লক্ষ্য করিবার যোগ্য। দারার কাহিনী নাটকের মধ্যে সর্বাপেক্ষা দুঃখাবহঃ ছুঃখ- 
দুর্ভোগের সঙ্গে তাহার অতি ক্লেশকর সংগ্রাম, এবং সর্বশেষে তাহার নিদারুণ শোচনীয় 
পরিণতি হৃদয় শুফ করিয়া দেয়। সোলেমান এবং মহম্মদকে পিতৃভক্ত, কর্তব্যপরায়ণ, উদীর- 
হৃদয় চরিব্রন্ূপে দেখানো হইয়াছে । দিলদার শেক্দ্পীয়ারের চ০০1এর ন্যায় বাহত মুর্থ এবং 
নির্বোধ দেখাইলেও প্রকৃতপক্ষে তীক্ষ-বুদ্ধিশালী হৃদয়বান চরিত্র। জাহানারার চরিত্রে স্নেহ ও 
তাগ, বুদ্ধি ও হৃদয়, তীক্ষতা এবং কোমলতার সমাবেশ করা হইয়াছে। কর্ডেলিয়ার 
মতই সে পিতার প্রতি ন্নেহলীলা এবং মমতাময়ী আবার বুদ্ধি ও কৌশলের খেলায় 
ইউরংজীবের ষোঁগ্য প্রতিদন্দ্ী। তাহার এই শক্তিময়ী প্রভাবময়ী চরিত্রের পাশে পিয়ারার 
উচ্ছল প্রাণময় হাক্কা চরিত্র চমৎকার বৈষম্যের স্থষ্টি করিয়াছে। পিয়ারার চপল, পরিহীস- 
প্রিয় ভাসমান বাক্য-মেঘের তলায় যে দুঃখ ও ক্লেশের পুঞ্পুঞ্ জল সঞ্চিত হইয়া আছে 
তাহাতেই চরিত্রটি বিশেষ উপভোগ্য হইয়াছে। 

॥ চন্ত্রগুপ্ত (১৯১১) ॥ দ্বিজেন্দ্রলালের এ্রতিহাঁসিক নাটকের চূড়ান্ত সাফল্য আমর! 
সাঁজাহানে' লক্ষ্য করিয়াছি। সমুদয় শ্রেষ্ঠ মৌগল বাদশাহদের কাঁঠিনী শেষ করিয়! নাট্যকার 
বিশরান্ত দৃষ্টিতে হিন্দু রাজত্বের দিকে তাঁকাইলেন।৯ চন্ত্রগুপ্ডের কাহিনী বর্ণনা করিতে যাইয়া 
্স্থকারকে হিন্দু পুরাণ ও কিংবদন্তী এবং গ্রীক ইতিহাসের উপর নির্ভর করিতে হইয়াছিল। 
€বিষুঃপুরাঁণ' এবং 'মহাবংশ”, “দিব্যাবদন", “মহাঁপরিনিব্বাণস্ত" প্রভৃতি গ্রন্থে ও জাষ্টিন এবং 
ুটার্কের ইতিহাসে চন্ত্প্তপ্তের বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে। নাট্যকার নাটকের বীজ মোটামুটি 
এই সব গ্রন্থের বৃত্তান্ত হইতে সংগ্রহ করিয়াছেন । ইচ্ছাপূরবক কোনো স্থলেই তিনি এ্তিহাসিক 


১। দ্বিজেন্্রল।লের জীবনী-লেখক নবকৃঞ্ণ ঘোষ মহাশয় লিখিয়াছেন--“মিনার্ভা থিয়েটারের অভিনেতা, 
গরযুক্ত প্রিয্নাথ ঘে।ষ মহাশয় একদিন কথ।য় কথায় ছ্িজেন্্রল।লকে বলেন, 'রায় সাহেব, এতদিন পিয়াজ রমন 
খাইয়ে গায়ে গন্ধ ক'রে দিয়েছেন, এইবার একটু ঘি আলোচাল খাইয়ে দিন না" দ্বিগে্জ উত্তর দেন, আচ্ছা, 
এইবার তাই হবে । দবিজেক্ত্রের অন্তরঞ্জ প্রযুক্ত অধর মজুমদার মহাশয় বলেন_-চত্্রওত নাটক সেই প্রতিশ্রুতির 
ফল ।” পৃঃ ১৮৬। | 

২৮ 


২১৮ বাংল! নাটকের ইতিহাস 

বিবরণের গুরুতর ব্যতিক্রম করেন নাই। পুরাণ এবং কিংবদন্তী অনুসরণ করিয়া 
লেখক চন্ত্রগুগুকে নীচ শুদ্রবংশোঁড়ূত বলিয়াছেন, অবশ্ঠ আধুনিক এ্রতিহাসিকদের মতে 
তিনি ক্ষত্রিয় ছিলেন, অন্ত্যজ ছিলেন না।১ (জাষ্টিনের মতে কিন্তু চন্ত্রগ্ুপ্ধ নীচ বংশজ 
ছিলেন।২) দ্বিজেন্রলালের নাটকের প্রথম দৃশ্টে আলেবজাগীরের সহিত চন্ত্রগুপ্ডের 
সাক্ষাৎকারের বর্ণনা আছে। চন্দ্রগুপ্ত নির্বাসিত থাঁকিবার কালে আলেকজাগ্ডারের সহিত 
দেখা করিয়! নন্দকে সিংহাঁসনচুত করিবার জন্য' উত্তেজিত করিয়াছিলেন, ইহ! ইতিহীসপ্রসিদ্ 
ঘটন1।৩ সেলুকাস এবং এট্টিগোনাসের মধ্যে বিরোধ বাঁধিয়াছিল তাহাঁও প্রতিহাসিকদের 
বৃত্বান্তে রহিয়াছে ।৪ অবশ্য এ্টিগোনাস যে সেলুকাসের পুত্র ইহা নাট্যকারের স্বরচিত । 
এখানে স্বাধীনত। গ্রকাঁশ করিয়। তিনি স্ুুনিপুণ নাট্যকলার পরিচয় দিয়াছেন । হেলেন 
এবং চন্দ্রগুপ্তের বিবাহে নাটকের সাঙ্গ হয়, এবং এখানেও নাট্যকার ইতিহাসের অন্ুবর্তন 
করিয়াছেন।৫ চাঁণক্যের কুট চক্রান্তে চন্দ্রুপ্ত সিংহাসনে অধিষিত হইয়াছেন--ইহাঁই 
নাটকের প্রধান ঘটনা, এবং এই বিষয়েও ইতিহীস গ্রন্থকাঁরের সাক্ষী হইয়া রহিয়াছে ।৬ 
লেখক চাঁণক্যের তীক্ষবুদ্ধি, জটিল কূটনীতি এবং অসামান্য ক্ষমতার বণনা সম্ভবতঃ মুদ্রা 
রাক্ষসে'র প্রভাবে করিয়াছেন। সেইজন্ত সংস্কত নাটকখানির ন্যায় তাহার নাটকেও 
চাঁণক্য মুখ্যতম চরিত্র হইয়! উঠিয়াছে। একমাত্র ছায়া ব্যতীত আর সব চরিত্রই এঁতিহাসিক3 
সুতরাং নাট্যকার ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষা করিয়াছেন ইহা বলা যাঁয়। তবে চরিত্রগুলি 
বিচিত্র ঘটনাঁর মধ্য দিয়া বিকশিত করাই নাঁট্যকাঁরের দায়িত্ব এবং কৃতিত্ব, এখানে ইতিহাস 


তাঁহাকে সাঁহাধ্য করে নাই। 


1, *10 15 016701010 10106160]1 ৫0210, 0780 000817078601)08 1)9100800, 60 & 73510701158 


00100101010165, 12. 0106 1100111 (0190758) 01810, 
7301865000 1169407% 0147,05676 17,05-1)5 11. 0, 8০5 01109017975, 1১,217, 


2,170 775)65$0% ০) 717,716 15110. 07017010 1. 927. 
8, ৬. 4 50010) এর 170717/ 1755407| 017%2£6, 1১, 193 দ্রষ্টবা ! 


4. []। 60০ 000150 01 016 11000100011)6 ৪0, ৮1০ 10260০]) 01)6 0০706781501 41650 007 

৮৮০0 1)%0 €17001৮0% %৪ 00101)0016019 100 9111)7:6)710 1906] 11) 912--/51)01601)08 2100 9616011508, 
া1)0 21601778109 10608170)6 10001) 8৪ [10960], ০02 009 ০0170016707 

16711 11631071/ 0) 17,266 0/ ছা. &. নি000100) 05 124, 


ডি..:55557 410. 006 10100] 00765001110 100৮ 615 1800760. 002 106500 10/ 2 110800110010191 
211191)00" 10101) 10105 701:01)90]/ 100208 61) 901600909৬০ ৪ 09101160160 1718 ]0710191) 
11৮21. ১1 
155) 125. 

6. 10178 9051907010০ 50001100] 8100. 250001160060 011911078018019, 10 000 765010- 
01) 98 9 13121711011) 180700 9০200080669] 80১0 দা) 05 1009 090:01)0 0710 00)2178109 


08: 1)18 97121021010 179061157%, 05 1708৩ 210. 109 900099000. ) 9812010 010০ %৪.০৪00 010106, 
1852, 1,1124, 


দ্বিজেজ্জাল রায় ২১৯ 


চন্দ্রুপ্ত' বিশেষ জনপ্রিয় এবং অভিনয়োপযোগী নাটক, কিন্তু ইহাঁর নাট্যকলা! এবং 
ঘটনা-সংস্থাপন নির্দোষ ও ক্রটহীন নহে। ঘটনা! ও চরিত্রের অসঙ্গতি এবং অসংলগ্নতা 
অনেক স্থলেই লক্ষ্য কর! যাঁয়। নাটকের নামকরণ যথার্থ হয় নাই চাঁণক্যের অপাঁধারণ 
ব্যক্তিত্ব সমস্ত কাহিনীকে একেবারে আচ্ছন্ন করিয়া রাখিয়াছে, তাঁহার পাঁশে চন্দ্রগুপ্তকে 
নিতান্ত ম্লান ও অপরিস্ফুট মনে হইয়াছে । শক্তির পরীক্ষায় যে সে অতি ছোট তাহাও 
গ্রন্থমধ্যে একবার প্রমাণিত হইয়াছে । একমাত্র প্রথম দৃশ্ঠ ব্যতীত আর সর্বত্র সে চন্দ্রের 
ন্যায় ধার-কর! দীপ্তিতে শোভ। পাইয়াছে। নাটকের মধ্যে দুইটী কাহিনী রহিয়াছে 
চন্্গুপ্ত-চাঁণক্য-মুরাঘটিত প্রধান কাহিনী, এবং সেলুকাস-এট্টিগোনাস-হেলেন-ঘটিত গ্রীক 
উপকাহিনী।. নাট্যকলা অনুযায়ী উপকাহিনী সর্বথা মূল কাহিনীর অধীন হইবে, ১ এবং 
ইহ! ঘটনা-সাদৃশ্তে অথবা বৈসাদৃশ্তে মূল কাহিনীর গতিকে ভ্রত ধাবমান করিয়া তুলিবে। 
কিন্তু “চন্ত্রণপ্ত' নাটকের দুইটা কাহিনী একেবারে স্বতন্ত্র, ইহাতে উপকাহিনীটি মূল কাহিনীর 
উপর নির্ভরশীল হয় নাই। শেষে হেলেনের বিবাহদ্বার ছুইটী কাহিনীকে যুক্ত করা হইল 
বটে, কিন্তু ছুইটী নদীধার! যেন সমান্তরাল রেখায় প্রবাহিত হইয়। অবশেষে একটা কৃত্রিম 
খালের দ্বারা মিলিত হইল। হেলেন এবং চন্ত্রগুপ্তের সন্বন্ধটীকে ভালোভাবে পরিষ্কার ও 
পরিস্দুট করা হয় নাই। দ্বিতীয় অস্কের প্রথম দৃশ্যে দেখি হেলেন চন্ত্রগুপ্তের কথা চিন্ত। 
করিতেছে, তারপর পঞ্চম অক্ষের প্রথম দৃশ্তেও সেলুকাঁস, হেলেন এবং চন্ত্রগুপ্তের 
কথোপকথনের সময় মনে হয় হেলেন চন্ত্রগুপ্তের প্রতি অন্থরক্ত ,কিন্ত অবশেষে দেখা যায় 
যে হেলেন চন্ত্রগুগ্তকে ভালোবাসে নাই, ছুইটা রাজ্যের মিলন সাধন করিরার জন্যই সে 
চ্দ্রগুপ্তকে বিবাহ করিতে উদ্যত হইয়াছে । তাহার আত্মদান যেন হ্ৃদয়বৃত্তির স্বাভাবিক 
পরিণতি নহে, এ যেন একটি রাজনৈতিক চাঁল। চন্ত্রুপ্ত এবং হেলেনের মধ্যে কোনো! 
সময়ে হৃদয়ের আদান প্রদান এবং বোঁঝাঁপড়াঁও হয় নাই, হেলেনের সম্মুখে অকম্মাৎ একবার 
চন্দ্রগুপ্তের প্রেমের বিক্ষোরণ অসংলগ্ন এবং পূর্বাপর-সন্বন্ধ-রহিত। ছায়ার প্রেম উপেক্ষিত 
হইল আর এক গভীরতর প্রেমের আকর্ষণে নয়, নেহাত প্রয়োজনের খাতিরে । ছায়ার প্রেমের 
মর্যাদা অকারণে ক্ষুপ্ন হইয়াছে । নাটকের সংযোগন্থলের ক্য (0০15 ০ 15০2) 
নাই। গ্রীস, আফগানিস্থান এবং ভারতবর্ষে ঘটনাঁশ্রোত ইতন্তত বিক্ষিপ্ত হইয়াছে। তৃতীয় 
অঙ্কের ষষ্ঠ দৃশ্ঠে নন্দের নিদারণ নিষ্ঠুর হত্যার যে ভয়াবহ বর্ণনা দেওয়া হইয়াছে তাহা 
রঙ্গমঞ্চে দেখানো অসঙ্গত, দর্শকের পক্ষে এই দৃশ্য অত্যন্ত গ্লানিকর এবং ক্লেশজন্ক। 


১1 ০০55০, [008 26151100০01 00০ 000010106 60 008 77991010106 2095 006 0990111)90. 8৪ 
061900067)06 ; 0) (6110 091 00567:8 9010860006155 ৪81000:6, 3096 9৪ 0 91017166060: 
090:98899 ৪৮ 0009 1680 228106% 800. ৪010907৮ 096 27917 20988. 

9%0765264 69  0070170064786 07 110916000, 7,366, 


২২০ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


প্রাচ্য নাট্যকলা অনুযায়ী এইরূপ হত্যা-দৃশ্ঠ নিষিদ্ধ।১ প্রতীচ্য নাটকে রঙ্গমঞ্চে হত্যা 
থাকিলেও হত্যার এইক্ধপ বিস্তারিত লোমহ্ষণ দৃশ্ঠ কখনো! প্রশংসনীয় এবং সমর্থনীয় 
হয় নাই। 

চরিত্রাঙ্কনের কথা আলোচন! করিতে প্রথমেই মনে পড়ে চাঁণক্যকে। চাণক্য 
গ্রন্থকারের অদ্ভুত সৃষ্টি । এই কৃষ্ণকায় শীর্ণ ব্রাহ্মণের মধ্যে যেন উত্তপ্ত লাভা টগবগ করিয়া 
ফুটিয়াছে, যেন সামান্য ফাঁক স্পাইলেই জলন্ত অগ্নিরাব চতুষ্প/শস্থ সব কিছু ভন্মসাঁৎ করিয়া 
ফেলিবে। চাঁণক্য ব্রাহ্মণের লুপ্ত তেজ এবং ক্ষমতা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করিবার সংকল্প গ্রহণ 
করিয়াছিলেন, এবং তাহার কুশাগ্র বুদ্ধি, অনধিগম্য কুটনীতি এবং বজ্রকঠোর ব্যক্তিত্ব 
স্বীয় সংকল্প সিদ্ধ করিতে সক্ষম হইয়াছে । কিন্তু চাঁণক্যের ট্র্যাজেডি এইখানে যে, এইরূপ 
একটী অসম-শক্তিশালী অমিত প্রভাবশালী চরিত্র অবশেষে যেন হঠাৎ ভাঙ্গিয়। পড়িল 
ইহা হৃদয়ের নিকট বুদ্ধির পর|জয়, স্নেহের নিকট শক্তির পরাজয় । যে মুত্তিমান প্রতিহিংস। 
বীভৎস সর্বনাশী শক্তিকে ক্ষণে ক্ষণে আলিঙ্গন করিয়াছে, তাহা যেন স্নেহ কৌমলতার 
শাস্তি বারিতে অবগাঁহনের পর নব জীবন লাভ করিয়া! বসিল। চন্দ্রগুগ্ড অপেক্ষা! উপনায়ক 
এট্টিগোনাসের চরিত্র আমাদের দৃষ্টি এবং ওৎস্থক্য অনেক বেশি আকর্ষণ করে। এ্টিগোনাস 
বীর, দপাঁ, উদার এবং মহৎ। কিন্তু এসব সব্বেও তাহার চরিত্র নিতান্ত ট্র্যাজিক এবং 
বিষাদময়। হেলেনের অচঞ্চল, পাঁধাণ হৃদয়ে তাহার উচ্ছুসিত প্রেমতরঙ্গ আছাড় ০খাইয়া 
নিক্ষল আর্তনাদ করিয়াছে, এবং পিতৃপরিচয়ের ছুজ্ঞেয় রহস্য তাঁহাকে কক্ষচ্যুত গ্রহের স্াঁয় 
দিশাহার! ভাবে ছুটাইয়াছে। গ্রীক বীর ইডিপাঁস পিতাকে ন| জানিয়া হত্যা করিয়াছিল, 
এবং সেও না চিনিয়া পিতার শক্রত! করিয়াছে, এমন কি তাহাকে বন্দী পর্যন্ত করিয়াছে। 
ইহার মধ্যে যে 17075 আছে তাহা সফোক্রিসের 1:০75র সমতুল্য। সেলুকাসের মধ্যে 
সন্তানবৎসল পিতৃত্ব এবং সুরার মধ্যে স্নেহাতুর মাতৃত্বের গৌরব ও মাধুর্য ফুটাইয়।৷ তোল৷ 
হইয়াছে। 

॥ সিংহল বিজয় (১৯১৫) ॥ *চন্ত্রণুপ্তে“র পরে দ্বিজেন্দ্রলালের প্রতিভার দীপ্তি মেঘাচ্ছন্ন 
হইয়। পড়িয়াছে। ইহার পরে তিনি যে নাঁটকগুলি লিখিয়াছিলেন, তাহার কোনোখানাই 
খুব উচ্চশ্রেণীর নহে। বাঙালী বীর২ বিজয়সিংহের লঙ্কীজয় কাহিনীকে অবলম্বন করিয়! 


১। "5112 19 5০01) ৪1)0010 65567১68115 ৪0০ 60 70090000076 91061706716 917090. ৪৮, 
87)0. 16 1008 8৮010. 01701001105 006 6011108 0৫ 01)9 200161700,1061709 2 19 171070100৫7 60 
19010 01009 86809 ৪001. ০৮068 28 & 17190101091] 0919101৮5, 00 ৫০0 দ019]] 01 9 10708) 0106 


91829 01 8 6০0) &1)906]9, 5011110 07 068010, 21001 006] 02110], 
907%91766 107076 03 4. 03, 13610). 0, 300, 


১। ডাঃ সুনীতিকূমীর চট্টোপাধ্যায় প্রভৃতি বলেন যে বিজয়সিংহ গুজরাটের লোক ছিলেন, বাঙালী 
ছিলেন না। 


দ্বিজেক্রলাল রায় ২২১ 


€সিংহলবিজয়+ লিখিত হইয়াছে । তবে এ্রতিহাসিক ঘটন! অপেক্ষা হৃদয়গত ভাঁবদন্দই নাটকের 
মধ্যে প্রীধান্ত লাভ করিয়াছে । কিন্ত বিষয়বস্তরর মধ্যে প্রক্য এবং সঙ্গতির নিতাস্ত অভাব । 
আবেগের আঁতিশয্য মাত্র! ছাঁড়াইয়া অনেক সময়েই তরল হইয়া পড়িয়াছে। হত্যা ও 
নিষ্ুরতাঁর আধিক্যও বিশেষ গীড়াদায়ক। বিজয়সিংহ পিতা ও বিমাতার বিরাগে স্বদেশ 
ত্যাগ করিয়। বাহিরে যাঁইয়। শ্যামদেশ জয় করিয়া! বসিল, এবং পুনরায় বঙ্গদেশে চলিয়া 
আদিল, অবশেষে আবার নির্বাসিত হইল । ইহাতে ভাঁব ও অবস্থার পুনরুক্তি হইয়াছে। 
কুবেণীর' সহিত সমুদ্রবক্ষে বিজয়সিংহের সাক্ষাৎকারের দৃশ্তও অত্যন্ত অব্বস্তব ও অস্বাভাবিক 
হইয়াছে । বস্তত একমাত্র কুবেণীর চরিত্র ব্যতীত আর কিছুই উল্লেখযোগ্য নহে। 

'ন্ুরুচিসঙ্গত অপেরা” রচনার উদ্দেশ্য লইয়া, দ্বিজেন্দ্রলাল “সোরাব-রুস্তম+ (১৯০৮) 
নামক নাট্যরঙ্গখানি লিখিয়াছিলেন, কিন্ত কেবল কয়েকখান! নাচ-গান থাকিলেই অপেরা হয় 
না। অপেরার বিষয়বস্তু খুব তরল ও লঘু হওয়া দরকাঁর। কিন্তু “সোরাব-রুস্তমে”র 
কাহিনী অতিশয় করুণ ও ট্র্যাজিক। এই কাহিনী লইয়া! অপের! লেখ চলে না। লেখক 
নিজেও ইহা! বুঝিয়াহিলেন, সেইজন্য খাঁটি অপের! ইহাঁকে বলিতে চাঁন নাই।১ যে পিতার 
সন্ধানে সোরাব ব্য।কুল হইয়। বাহির হইয়াছে, সেই পিতার দ্বারাই সে নিহত হইল--এই 
বিষয়ের মধ্যে নিয়তির যে নিষ্ঠুর চক্রান্ত পরিস্ফুট হইয়াছে তাহাদার৷ এক চমৎকার বিষাঁদ- 
ঘন ট্র্যাজেডি রচনা করা যাইত | 


(ও) সামাজিক নাটক 


দ্বিজেন্দ্রলাল মাত্র ছুইখান সামাজিক নাটক লিখিয়াছেন। সামাজিক নাটক 
রচনার সময় তাহার প্রতিভা অন্তোনুখ শ্্রানিম৷ প্রাপ্ত হইয়াছিল, সেইজন্য ইহাতে তাহার 
অসাঁমান্ত কৃতিত্বের পরিচয় নাই ।* সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরে চরিত্র ও ভাবের বৈচিত্র্য খুব 
কমই আছে। গতান্ুগতিকতার ক্োতহীন স্বল্প বারিরাশির মধ্যে অতি ক্ষুদ্র আবর্তের 
সৃষ্টি করিয়াই বাঙালী পুরুষ ও নারীর জীবন শাস্তিলাভ করে ' গিরিশচন্দ্রের সামাজিক 
নাটকে এই বাঙাঁলী জীবন লইয়! যথাসম্ভব খাঁটাখাটি হইয়াছে । দ্বিজেন্দ্রলাল গিরিশচন্দ্র 
প্রভৃতিকে অনুসরণ করিয়! নিরুদ্ধস্রোত নদীর মধ্যে একটু এদিক ওদিক গতায়াত করিয়াছেন, 
নদীর মুখ কাটিয়া জলধারাঁকে চঞ্চল, তরঙ্গময় ও গতিশীল করিতে পারেন নাই। 


১। 'সোরাব-রুস্তম দস্তরমত অপেরা নয়... এক কথায় অপেরায় আরস্ত হইয়। ক্রমে ক্রমে নাটকে 
শেষ হইয়াছে । ৰ ভূমিকা-“সোরাব-রুত্বম' | 


২২২ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


॥ পরপারে (১৯১২) ॥ তাহার প্রথম সামাজিক নাটক “পরপাঁরে”। ইহার কাহিনী 
পরিণতিহীন, এবং চরিত্রগুলি অসম্পূর্ণ। গিরিশচন্ত্রের নাটকে যেমন ধর্মমূলক এবং 
আধ্যাত্মিক পরিণতি লক্ষ্য কর! যায় এই নাটকেও সে রকম পরিণতি দেখ! গিয়াছে। 
মনে হয় নাটকের শেষ কথ! এই ক্রিয়াচঞ্চল বান্তব জীবনে বলা হইল না। ইহা যেন 
জীবনের পরপারেই ধ্বনিয়া উঠিবে। সেইজন্ত যে কাহিনী মিলনান্ত পরিণামের দিকে 
অগ্রসর হইতেছিল, হঠাৎ অকারণ কতকগুলি মৃত্যু ঘটাইয়৷ তাহার গতি লগ্ভগ 
করিয়া দেওয়া হইল। মহিম এবং সরযু দুইজনই খালাস হইল, অথচ কাহাঁরো! মিলন 
হইল না। বিশ্বেশ্বর এবং সরযু পটপট করিয়া মরিয়া! গেলেন, এবং মহিমও ভক্ত সাধক হইয়া 
পড়িল। নাট্যকার কথায় কাঁদাইতে না পারিয়া, গায়ের জোরে চড় মারিয়া কাঁদীইলেন । 
সন্দেহবাঁদী এবং ঘুক্তিসর্বস্ব দ্বিজেন্দ্রলালের শেষ জীবনে যে পরিবর্তন ঘটিয়াছিল এই নাটকে 
তাহার পরিচয় পাওয়া যায়।১ কিন্তু ইহাও সত্য যে, ভক্তিবিশ্বাসের ফলে তাহার নাটক 
কোনে! প্রশংসনীয় কৃতিত্ব লাভ করে নাই । নাটকথাঁনির আর একটা ক্রটা এই যে ইহাঁতে 
পিস্তল ছোড়াছুড়ি এবং ছোঁর! চালাচাঁলি এত বেশি আছে যে ডিটেকটিভ উপন্তাসের ন্যায় 
ইহা। 19610-187961০ হইয়। পড়িয়াছে। নাটকের নায়ক হয়তো! মহিম» কিন্তু চরিব্রটা 
নিতান্ত ক্ষুদ্র, নীচ এবং অবিকশিত। মন্দ কাজ করিবার মত হৃদয়ের শক্তি এবং দৃঢ়তাও 
তাহার নাই। বিবাহের পর সে স্ত্রীর প্রতি এতই আসক্ত হইয়া পড়িল যে স্নেহময়ী মাকে 
পর্যস্ত উপেক্ষা এবং অপমান করিতে তাঁহার বাধিল না, আবার মুহূর্তের মধ্যে সে স্বাঁধবী 
সত্রীকে ত্যাগ করিয়! বেশ্ঠা৷ শান্তার প্রেমে উন্মাদ হইয়া উঠিল । এই একটার পরে একটা 
অপরাধ করিয়াও তাহার কোনে। দ্বিধা নাই, ছন্দ নাই, তাপ উত্তীপ নাই। নিজের অপরাধ 
সরযূর উপর নিতান্ত কাপুরুষের মত চাঁপাইয়া সে তাহার চরিত্রের চরম জঘন্যতা প্রকাশ 
করিয়াছে । বিশ্বেশ্বরের চরিত্র নাট্যকার তাহার দাঁদামহাঁশয় প্রসাদদাস গোস্বামীকে আদর্শ 
করিয়। চিত্রিত করিয়াছিলেন। প্রথমদিকে এই. চরিত্রের স্নেহপরাঁয়ণ, পরোপকারী এবং 
রঙ্গরসপ্রিয় ভাব বেশ ভালোভাবে পরিস্ফুট হইয়াছে, কিন্তু শেষে ইহার মনস্তাপ ও আত্মহত্যার 
দৃশ্ঠ হৃদয় স্পর্শ করে না । কালীচরণের উপর নিমটাদের প্রভাব সুস্পষ্ট । কালীচরণ কালিমা- 
পঙ্কে নিমগ্ন থাকিয়াও শুভ্র, নিষফলঙ্ক । তাহার উদাসীন, বিবাগী চিত্তের মধ্যে একটা! সুক্ষ 
্টায়-অন্তায় বোধ এবং সদাশয়তা বিরাজ করিতেছে । পতিতা চরিত্রও যে সংযম ও মহত্বের 
আধার হইতে পারে শান্তার মধ্যে তাহা লেখক দেখাইয়াছেন। শান্তা চরিত্রের মধ্যে আমরা 
যেন শরৎচন্দ্রের কোনে সুপরিচিত নায়িকাকে দেখিতে পাই, তাহার দৃপ্ত তেজস্থিতা এবং 
ব্যক্তিস্বাতস্ত্র্যের মধ্যে যেন নোর! অথব! ইসাডোর! ডানকান উকি মারিতেছে। 


/ 





১। “এই নাটকথানি রচন।ক।লে কবির হৃদয়ে ষে আধ্যাত্মিক ভাবের উন্মেষ হইয়াছিল, তাহার জীবন- 
ইতিহাসে তাহার আভাস পাওয়া যার ।' 
ঘিজেন্্রলাল'স্-নবকুষ্ণ ঘোষ। পৃঃ ২৯২। 


খ্টীরোদপ্রসাদ বিভাবিনোদ ২২৩ 


॥ বঙ্গনারী (১৯১৬) ॥ “বঙ্গনারী”র উপর গিরিশচন্দ্রের সামাজিক নাটকের প্রভাব 
অধিকতর পরিস্ফুট | যে সামাজিক সমস্যা এই নাঁটকখাঁনির ভিত্তি তাহা! 'বলিদাীনে”আলোচিত 
হইয়! গিয়াছে । দেবেন্দ্র গিরিশচন্দ্রের নাটকের দুঃখশোকগ্রাপ্ত অসংলগ্র-প্রলাগী পরিবার-কর্তার 
হুবহু অনুরূপ চরিত্র ৷ উপেন্ত্রুও প্রফুল্ল” নাটকের রমেশের ন্াঁয় অমান্ুষী দৌবুত্ের অধিকারী । 
বঙ্গনারী+ সামাজিক নাটক হইলেও ইহাতে স্থল ও “রামাঞ্চকর ঘটনাদ্বার৷ স্থলভ আবেগ- 
চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা হইয়াছে । সদাঁনন্দের মুখ দিয়! গ্রন্থকার নিজের কথা ব্যক্ত করিলেও 
কেদারের চরিত্র বেশি সরস ও প্রীণবান। লছঘুচিত্ত, পাঁগলাটে কেদারের হৃদয় সততা ও মহত 
দিয়! গড়া, তাহার অভিনব গাঁলাগালির শব্দগুলি অত্যন্ত উপভোগ্য। সুশীল যুক্তিবাদিনী 
আধুনিক নারী-শিরোমণি, তাহার প্রখর বাক্যঘর্ষণে সমাজ বিদ্রোহ মুকূর্মহঃ জলিয়৷ উঠিয়াছে। 


ক্ষীরোদগ্রসাদ বি্ভাবিনোদ 
(ক) গীতিনাট্য 


ক্ষীরোদপ্রসাঁদ রূপকথার স্ঠাঁয় কাহিনী লইয়া কয়েকখান! নাঁটক রচনা! করিয়াছিলেন । 
£কিন্নরী” “বাসন্তী' প্রভৃতি অল্প কয়েকখাঁনা নাটক ব্যতীত এই ধরণের অধিকাংশ নাটকে 
আরব-পারস্ত-তুরঙ্কের উপাখ্যান নিবদ্ধ হইয়াছে । আরব্য উপন্তাঁসে এবং পাঁরস্ত উপন্তাঁসে 
যে রকম অদ্ভুত, অসম্ভব এবং রোমাঞ্চকর গপ্প আছে এই সব নাঁটকের কাহিনীও সেইরূপ | 
নাটকের মধ্যে ঘটনাঁর যে রকম বান্তবতা এবং সম্ভাব্যতা বিদ্যমান থাকা আবশ্যক, এই সব 
নাটকে তাহা নাই। চরিত্র-সংঘর্ষের দ্বারা এবং ভাব ও ক্রিয়ার দ্বন্দ সাহায্যে যে নাটকীয় 
রস বিকাঁশ কর! হয়, এই নাঁটকগুলিতে তাহার কোনো! পরিচয় নাই। স্থতরাঁং ইহাদের 
অভিনয় দেখিয়! মনের মধ্যে কোনো প্রকার আবেগচাঞ্চল্য অথব! নাটকীয় রসামুভৃতি হয় না, 
চরিত্র স্থ্টি বলিতে ইহাদের মধ্যে কিছুই নাই। ইহাদের অন্তঃস্থিত আগ্রহবর্ধক গল্পরসই 
ইহাঁদের একমাত্র বৈশিষ্ট্য । এই সব নাটক দেখিতে দেখিতে একপ্রকার কল্পময়, স্বপ্নাচ্ছ, 
রোমা্টিক রসে মন আধিষ্ট, ভরপুর হইয়া উঠে, শিশুর কৌতুহল লইয়া গল্লের পরিণতি 
জানিবার জন্য মন ব্যগ্র হইয়৷ থাকে । এ-সব নাটকে ঘটনার কোনে! বিপরীত গতি নাই, 
কাহিনী অবিরাম ঘটিয়া গিয়াছে । নাটক না! বলিয়! ইহাদ্দিগকে গল্পের নাটকীয় রূপ বলা 
অধিকতর সঙ্গত। আমাদের রঙ্গালয়ের দর্শকবুন্দ নাটক অপেক্ষা নাঁচগাঁন বেশি ভালোবাসেন, 
এবং এই সব নাঁটকে নাঁচগানের প্রাচুর্য থাকাতে রঙ্গমঞ্চে ইহাঁদের সমাদরের অভাব হয় 
নাই। «আলিবাবা এবং “কিন্নরী'র সাঁফল্যই ইহার প্রমীণ। এই নাটকগুলির মধ্যে 
রোমান্স এবং কৌতুকরস ইহাদের সরস চমৎকারিত্ব স্ষ্টি করিয়াছে । এই শ্রেণীর নাটক 
লিখিয়া ক্ষীরোদপ্রসাদ খ্যাতি অর্জন করিলেও তাহার পূর্বেই ইহার প্রবর্তন হইয়াছিল। 
গিরিশচন্দ্র 'আওহৌসেন+ প্রভৃতি নাটক লিখিয় ইহার সুচনা করিয়! গিয়াছিলেন। 


২২৪ . বাঁংল। নাটকের ইতিহাস 


'আলিবাবা”র (১৮৯৭ ) মত জনপ্রিয় এবং সর্ব-সমাদৃত গীতিনাট্য খুব কমই আছে। 
নাটকখানির মধ্যে এক অতি রহস্যময় কাহিনী রঙ্গরসের উচ্ছল শ্রোতে নাচিতে নাচিতে 
চলিয়াছে। রোমান্স, কৌতুক এবং ৪৫৮1/4:৪এর বিচিত্র সমাবেশে ইহা অতিশয় উপাদেয় 
এবং চিত্তরোচক হইয়! উঠিয়াছে। নাটকের প্রধাঁন চরিত্র মঞ্জিন। | ইহার রঙ্গব্যঙ্গ, নৃত্যগীতই 
নাটকের প্রাণরস জোগাইয়াছে। 

*বেদৌর1” এবং “আলাদিন” উদ্ভট এবং অসম্ভব ঘটনাশ্রিত রূপকথার কাহিনী অবলম্বনে 
রচিত। «বেদৌরা'তে (১৯০৩) খালেদানরাঁজ্যের পুত্র কমরলজমান এবং চীনরুজকন্। 
বেদৌর! কিভাবে অগ্মর-অপ্পরার তৎপরতায় মিলিত হইল তাহার উপাখ্যান লিখিত 
হইয়াছে । পরোপকারী হাস্যময় চরিত্র মার্জণান বিশেষ সরস হইয়াছে । “আলাদিন” নাটকে 
আরব্য উপন্যাসের প্রসিদ্ধ গল্পটীকে রূপায়িত কর! হইয়াছে। 

বরুণা” « ১৯০৮ ) নাটকের সহিত অমৃতলালের 'নবযৌবন” নাটকের সাদৃশ্ত আছে। 
অভিরাম বসস্তকুমারের অনুরূপ | বরুণার সহিত পুগুরীকের সম্বন্ধ লইয়া সরম ঘটনার সমাবেশ 
করা হয় নাই, শেষ পর্যন্ত বরুণা-পুগ্তরীকের মিলনের ও বরুণার প্ররুত পরিচয় উদ্বাটনে যেন 
কোনে। কৌতৃহলের নিবৃত্তি হইল না, কোনো! কৌতুকের সমাধান হইল না। উদারচিত্ 
সত্যনিষ্ঠ রাজা শিববর্ম। এবং কৌতুকময়, স্নেহপূর্ণ অভিরামের চরিত্র খুধ আমোদজনক 
হইয়াছে। | 

'ভূতের বেগার” (১৯০৮ ) অমৃতলালের প্রহসনের ন্যায় শিক্ষাত্মক রঙ্গনাট্য। বিজাতীয় 
তাবাপন্ন চাকুরিয়! বাঁবুদিগকে চাকুরীর মায়া পরিত্যাগ করিয়া! দেশে ঘরে ফিরিয়৷ যাওয়ার 
উপদেশই ইহাতে দেওয়া হইয়াছে। 

“বেদৌরার, ন্যায় “বাসন্তী” নাটকেও (১৯০৮) অগ্দর-অগ্মরার সহায়তায় রঘুবর ও জয়ার 
মিলন ঘটিয়াছে। নাটকের ঘটন। সামাজিক পটভূমিকায় স্থাপিত হইয়াঁছে। বাসন্তীকে কেবল 
প্রন্তাবনায় দেখ! গিয়াছে, নাটকে তাহার কোনোই অংশ নাই। 

€কিনরী'র (১৯১৮) বিষয়বস্তর উপর উবশী-পুরূরবার কাহিনীর প্রভাঁব রহিয়াছে -ইহা 
অনুমান হয়। কাহিনীর সংযোগস্থল এক রোমান্টিক, কল্পময়, আঁবেশভরা জগতে । পড়িতে 
পড়িতে মন মধুর, রহস্যময় সুরে আচ্ছন্ন হইয়া উঠে। নাঁটকখানি রন্গমঞ্চে বিশেষ জনপ্রিয় 
হইয়াছে। 

উপরিউক্ত নাঁটকগুলি ছাড়াও ক্ষীরোদপ্রসাদ আরব-পারম্-তুরস্ক প্রভৃতি দেশের 
কাহিনী লইয়া আরও কয়েকখানা নাটক লিখিয়াঁছিলেন, যথা “জুলিয়া” ( ১৩০৬ ), “সপ্তম- 
প্রতিমা” (১৩০৯), “দৌলতে দুনিয়া; ( ১৩১৫ )১» পলিন” (১৩১৭), মিডিয়া”, “রূপের ০৫ 
(১৩২৯ ) ও “বাদসাঁজীদী” (১৩ ২)। 

“জুলিয়া” (১৯০০ ) বোগদাদের স্বনামখ্যাত কালিফ ন্ায়পরায়ণ, সত্যনিষ্ঠ হারুণ-অল- 
রসিদের অনুপম মহত্ববিষয়ক একটী আখ্যানের উপর ভিত্তি করিয়৷ রচিত হইয়াছে । প্রবল- 
প্রতাপান্থিত বাদশাঁহের পক্ষে নিজের স্ত্রীকে অন্তের হাঁতে তুলিয়া দেওয়া সহজ উদারতার 


ক্ীরোদপ্রসাদ বিভ্ভাবিনোদ ৫ 


পরিচায়ক নহে, কাঁলিফ প্রেমের মহাঁশক্তি ু্দয়্ম করিয়া সেই অসাধারণ উদারতার দ্বারা 
নিজের চরিত্রকে ভূষিত করিয়াছেন । 

'পলিনে”র (১৯১১) মধ্যে ঘটনার অসঙ্গতি ও অস্বাভাবিকতা অত্যন্ত বিরক্তিকর 
হইয়াছে। নীলপাহাঁড় হইতে হারেমের দিকে লক্ষ্য কর! হইয়াছে বলিয়া যে সুলতান ক্রুদ্ধ 
হুইয়৷ সিস্তান রাজ্যের বিরুদ্ধে উত্তেজিত হইয়া উঠিয়াছেন, তিনিই আবাঁর সিস্তানরাঁজকে 
সমাদরে আহ্বান করিয়া তাহার কন্যাকে দেখাইয়া দিলেন। এইরূপ অসঙ্গত দৃশ্য অনেক 
আছে। মাঝে মাঝে আবার হাঁস্তকর বীররসের অবতারণাও রহিয়ার্ছে। 

“মিডিয়।” (১৯১২) নাটকখাঁনির কথঞ্চিৎ অভিনবত্ব আছে । স্থলতান মনহ্থরের চরিত্রের 
মধ্যে বিশিষ্টতা! ফুটিয়াছে । মনস্থর দুর্দান্ত অত্যাচারী, অথচ প্রেমের সন্ধানে বিভোর ও 
ভ্রাম্যমান । ঘটনার অসংলগ্নতা এই নাটকেও পুরোপুরি মাত্রায় রহিয়াছে । মিডিয়া মনস্থরের 
প্রতি আকুষ্ট, অথচ মনন্ৃরকে কিছুতেই ধর! না দিয়! ছুটাছুটি করিতেছে-_ ইহার মধ্যে হাস্যকর 
অসঙ্গতি বিদ্যমীন। জড়শক্তির উপর চৈতন্যশক্তির প্রতৃত্ব_ইহাই নাটকের মধ্যে 
পরিস্ফুট নীতি । 


€খে১ট পৌরাণিক নাটক 


ক্ষীরোদপ্রসাঁদ কয়েকখাঁনা পৌরাণিক নাটক লিখিয়াছিলেন, যথা-_বক্রবাহন 
(১৩০৬), সাবিত্রী (১৩০৯ ), উলুপী (১৩২৩), ভীম্ম ৫১৩২০ )+ মন্দাকিনী (১৩২৮) ও 
নরনারায়ণ (১৩৩৩ )। 

॥ সাবিত্রী (১৯০২) ॥ ক্ষীরোদপ্রসাঁদের ভাঁষা সাধারণত সরল ও অনাড়ম্বর, কিন্ত “সাবিত্রী, 
নাটকের ভাষা দুরূহ সংস্কত শব্দে পরিপূর্ণ । ভাষার মধ্যে প্রতি বর্ণনা এবং কবিত্ব-সৃষ্টি 
করিবার প্রয়াস স্ুম্পষ্ট । সংলাপ অত্যন্ত দীর্ঘ, এবং শব্দের গন্তীর আড়ম্বরে নাটকের গতি রুদ্ধ 
হইয়া গিয়াছে। নাটকের মধ্যে কোথাও ঘটনার সংঘর্ষমূলক চমৎকারিত্ব দেখা যাঁয় নাই। 
তুমুরু চরিত্র হাঁস্ত-কৌতুক উদ্রেক করিয়াছে। 

॥ ভীম্ম (১৯১৩)।॥ দ্বিজেন্দ্রলাল যখন “ভীম্ম* নাটক লিখিতেছিলেন তখন ক্ষীরোদগ্রসাদও 
তাহার “ভীম্ম” প্রকাশ করেন। সমসাময়িক রঙ্গণঞ্চে জনপ্রিয়তার দিক দিয়া ক্মীরোদপ্রসাদেরই 
জিত হইয়াছিল । কিন্তু দ্বিজেন্দ্লালের নাটকখান! ক্ষীরোদপ্রসাঁদের নাট ক অপেক্ষা অনেকাংশে 
শ্রেষ্ঠ, সুতরাং তখনকার দর্শকবৃন্দের রুচির মধ্যে রসগ্রাহিতার পরিচয় আমরা পাই না । 
ক্ষীরোদপ্রসাদের নাটকের মধ্যে তীব্র হৃদয়াবেগ ও চাঞ্চল্যকর ভাবদন্দ লক্ষ্য করা যাঁয় না। 
কাহিনীর অতিরিক্ত দীর্ঘতা একঘেয়ে ও ক্লাস্তিকর, এবং শেষ ছুই অঙ্কে নান! কেন্দ্র-বিচ্ছিন্ 
দৃশ্টের সমীবেশ রহিয়াছে । নাটকের কথোপকথন স্থানে স্থানে গছ্যে এবং কোথাও বা 
অমিত্রাক্ষর ছন্দে ব্যক্ত হইয়াছে ।, কিন্ত জায়গায় জায়গায় ভাষা নিতান্ত তরল ও হাক্কা 

৯ ” 


২২৬ বাংল। নাটকের ইতিহাস 

হওয়ায় রসগাভী্য নষ্ট হইয়া গিন্তাছে। ভীন্মের প্রতি অন্থার দুর্ঘম অনুরাগ প্রদর্শন করা হয় 
নাই। স্তরাং ভাম্মের প্রত্যাখ্যান তাহাকে কিভাবে এতোখানি প্রতিহিংসাময়ী করিয়া 
তুলিল তাহা নিরর্থক এবং উদ্দেশ্যহীন। 

গিরিশচন্দ্র যেমন অপৌরাণিক চরিত্র লইয়৷ ভক্তিমূলক নাটক লিখিয়াছিলেন, 
'রঞ্জাবতী” এবং “রামানুজ” সেই ধরণের নাটক । কিন্তু গিরিশচন্দ্রের পরে এই রকম নাটক 
লিখিয়৷ কেহ তেমন সাফল্যলাভ করিতে পারেন নাই । ক্ষীরোদপ্রসাদের নাটকেও কোনো 
উৎকর্ষ লক্ষিত হয় না। চরিত্র এবং ঘটনার অসঙ্গতি তাহার নাটককে প্রভাবহীন ও 
বৈশিষ্ট্যহীন করিয়াছে । | 

॥ রঞ্জাবতী (১৯০৪ )॥ “রঞ্াবতী' এবং “রামান্ুজে”র মধ্যে ক্ষীণ গ্রতিহীসিক সুত্র 
থাঁকিলেও ভক্তিরস উদ্দীপনই নাটক দুইখাঁনির অন্তিম লক্ষ্য । ধর্সমঙ্গল কাহিনী হইতে কিছু 
উপাদান সংগ্রহ করিয়া :“রঞ্জাবতী+ রচিত হইয়াছে । কিন্তু নাটকের মধ্যে কল্পনা উদ্দামভাবে 
প্রশ্রয়লাভ করিয়াছে । কণসেন এবং কাঁলু-ডোম নাটকে যথাক্রমে নয়ন সেন এবং দলু সর্দার 
হইয়াছে । রঞ্জাবতীর পুত্র ধর্মমঙ্গল কাব্যের নায়ক লাউসেনের উল্লেখ নাটকে নাই । ইহাতে 
রঞগ্জাবতীর পুত্রের নাম হইয়াছে হুর্ধসেন, নাটকের মধ্যে নিয়ন্ত্রী দেবতা মদনমোহন, ধর্মঠাঁকুর 
নহেন। প্রথম দিকে গ্রন্থথানার গল্প-রস উপভোগ্য, কিন্তু শেষভাগে মাঝে মাঝে দেবতার লীল! 
দেখাইতে যাইয়া নাঁটকীয় সংহতি এবং আবেগ নষ্ট কর! হইয়াছে । ধর্মানন্দের আধ্যাত্মিক 
বাক্যগুলি নিতান্ত নিরর্থক ও গুভাবহীন। মাঝে মাঝে চরিত্রগুলিকে অবিশ্বাস্ত উপায়ে 
অসস্তব স্থানে সমাবেশ করা হইয়াছে । দলু, লক্ষী গ্রভৃতি ডোম-ডে।মনীগণের চরিত্রই বারতে, 
মহত্বে সর্বাপেক্ষা উজ্জ্বল হইয়াছে। 

॥ রামানুজ (১৯১৬) ॥ “রামানুজ" নাটকে বিশিষ্টাদ্বৈতবাঁদ প্রবর্তক ধর্মনেতাঁর ধর্মজীবন বধিত 
হইয়াছে। ইহার আগ্যন্ত ধর্মলীলায় পরিপূর্ণ এবং ইহাতে মানব ও দেবতার ভেদাভেদ অবলুপ্ত 
হইয়া গিয়াছে । গিরিশচন্দ্র মহাপুরুষদের জীবনে যে অন্তদ্বন্দ পরিস্ফুট করিতে চেষ্টা করিতেন 
সেই রকম ছন্দও নাটকের মধ্যে নাই। কুরেশের ' চরিত্র-মাহাত্ম্য বিশেষ চিত্ৰাকর্ষক 
হইয়াছে। 

॥ নরনারায়ণ (১৯২৬) ॥ পৌরাণিক নাটকের বিষয়বস্ত পুরাণের স্থপ্রচলিত কাহিনী 
হইতে গ্রহণ কর! হয়। সুতরাং ঘটন! ও চরিত্র পরিকল্পনায় পুরাণ-বহির্ভূত কোন অভিনব 
মৌলিকত! দেখাইবার ক্ষমতা নাট্যকারের নাই । কিন্তু নাটক পুরাণ নহে, সেজন্য একটি 
সুস্পষ্ট ভাবাদর্শ সম্মুখে রাখিয়া কোন বড় ঘটন! বাদ দিয়া আবার কোন ছোট ঘটনার উপর 
রঙ ফলাইয়া একটি অবিচ্ছিন্ন নাট্য পরিবেশ গড়িযনা তোলা এবং চরিত্রগ্তলির রপোত্বীর্ণ 
নাট্যপরিণতি দেখা নই নাট্যকারের কাঁজ। এই স্থুনির্দিষ্ট ভাবাঁদর্শ এবং ঘটনা ও চরিত্র 
নাট্যর্ূপ ন৷ থাকিলে পৌরাণিক নাটক পুরাণের পুনরাবৃত্তি হয় মাত্র, নাটক হয় না। 

“নরনারায়ণ নাটকের প্রস্তাবনায় আমরা দেখিলাম নাটকের ভাবাদর্শের 
আভাস -. 


দ্ীরোদগ্রসাদ বিভ্ঞাবিনোদ ২২৭ 


দৈব কিংবা পুরুষকার 

নিদান বিধান কোন্‌ রাজার, 
কর্ম সাক্ষী বিজয়-লক্ষমী 
কোন্‌ মহানে করে বরণ? 


বুঝিলাম, দৈব ও পুরুষকারের দ্বন্বই নাটকের মধ্যে উপস্থাপিত করা হইবে । নাটকের 
আরম্ত হইয়াছে কর্ণের ব্রহ্মশাঁপ-্প্রাপ্তি হইতে এবং ইহার সমাপ্তি কর্ণের প্রাণোৎসর্গে। 
সুতরাং কর্ণ ই যে নাটকের নায়ক এবং এই চরিত্র অবলম্বন করিয়াই দৈব ও পুরুষকারের 
বন্দ তাহাও বুঝা গেল। অথচ কর্ণের নামে নাটকের নামকরণ হয় নাই। ইহার কারণ 
কি? পৌরাণিক জগৎ ও আমাদের বস্ত-জগৎ এক নহে। পৌরাণিক জগতে মানুষের 
ক্রিয়াকর্ণ, ভাব ও আকাঁক্ষার মূলে এক দৈবশক্তির অলঙজ্ঘ্য বিধান বিরাজ করিতেছে। 
সেই দৈবশক্তি সতত প্রকাশিত না হইতে পারে কিন্তু এই বস্তজগতের তুচ্ছতার উধ্বে বারবার 
তাহার প্রতি আমাদের আর্ত ও আকুল দৃষ্টি নিবদ্ধ হইতে থাকে । নাটকের গোড়ার দিকে 
ভীম্মের মুখে নর-নারাঁয়ণের ব্যাখ্যা আমরা শুনিলাম-" 


এক আত্মা দ্বিধাতৃত ভিন্নরূপে। 
দুষ্কতের ধ্বংস তরে, ধর্মের রক্ষণে-- 
যুগে যুগে হন তাঁরা অবতার । 


এই নরনারায়ণের গুঢ় মহিমা নাটকের ঘটনাঁবলীর উপরে কিরণ বিস্তার করিতেছে । এই 
মহিমাঁর বস্তরূপ হয়তে। পরিস্ফুট হয় নাই, কিন্তু ইহাই নাটকের মূল নীতিরূপে ধর্মবিশ্বাস 
মনের কাঁছে উপস্থাপিত কর! হইয়াছে । 

৬/কিন্ত কথ! হইল, নরনারায়ণের মহিমাঁর প্রতি বিশ্বাসী হইয়াও তাঁহাদের প্রধান বিরোধী 
শক্তি কর্ণকেই ব! অশ্রদ্ধা করি কি ভাবে? তাহাকে তো কোনক্রমেই দুম্কৃতকারী বল! যায় 
না, কিন্তু তীহাঁর পরাজয় ও পতনের মধ্যদিয়া! নরনারায়ণের কোন্‌ কল্যাণ মহিমা পরিস্ফুট 
হইল? তিনি কুস্তীর কানীন পুত্র, কিন্ত মাতার অপরাধের জন্য তাহার দায়িত্ব কোথায়? 
তিনি কৌরবপক্ষ অবলম্বন করিয়! ধর্মপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিয়াছিলেন, কিন্তু তাহ! সত্বেও 
মনুষ্যত্বের কোন অবমাননা তো৷ তিনি কখনও করেন নাই। তিনি বীর, উদার, দানশীল, 
সত্যসন্ধ-_পুরুষকারের সর্বশ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত । অথচ তাহার এ পরাজয় ও ছুঃখভোগ কেন? 
মহাভারতে যাঁহাই থাকুক ন। কেন, কর্ণের অপাঁপবিদ্ধ জীবনের করুণতম পরিণতি দেখিয়া 
আমাদের সমস্ত মনুষ্তত্ব-বৌধ বিদ্রোহ করে। বাস্থদেব হউন, নারায়ণ হউন, নর-নারায়ণ 
হউন, তাহার বিধানের বিরুদ্ধে স্তৃতীক্ষ প্রশ্ন জাগ্রত হইয়া উঠে? যদি কর্ণের মত পুরুষোত্তমের 
এই পরিণতি, তবে সাঁধারণ মানুষ আর কি আশায়, কি ভরসায় জগতের স্থ-আদর্শগুলিকে 
ঝ্াকডাইয়া থাকিবে? মীম্ুষের মনের এই অনিবার্য সমস্যার কিভাবে সমাধান হইবে 


২২৮ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


জানিনা ।১ তবে দেখিতে পাই, জগতের বনু বহু ক্ষেত্রে অন্ঠায়কারীর অন্যায়ের জন্য 
এইভাবে স্টায়ব্রতীকে প্রায়শ্চিত্ত করিতে হয়। কুস্তী ও দুর্যোধনের অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত 
করিতে হইল কর্ণকে । কিন্ত শুধু যদি নিরুপায়, নিরবীর্য দুঃখভোঁগই কর্ণের চরিত্রের মধ্যে 
দেখান হইত তাহা হইলে কর্ণের পতন আমাদের মনে কোন গভীর ট্র্যাজিক প্রভাব 
বিস্তার করিতে পারিত না। কর্ণ প্রথমে দৈবের দ্বারা প্রতারিত হইয়াছেন। তিনি মনে 
করিয়াছেন যে, তিনি অজেয়। সেজন্য এক স্থদৃচ আত্মবিশ্বাসের বর্মে তিনি নিজেকে 
আচ্ছাদিত করিয়া রাখিয়াছেন। কিন্ত সেই আত্মবিশ্বাস যখন তাহার ভাঙ্গিয়াছে, যখন 
তাহার অনিবার্ধ পরিণতি তাহার সম্মুখে ভাসিয়া উঠিয়াছে, তখনও তিনি দৈবের কাছে বশ্ঠতা 
স্বীকার করিলেন না, আমরণ সংগ্রাম করিয়া গেলেন । 
নাটকের হৃচনাতেই নিয়তির চক্রান্ত স্ুক হইতে দেখি । কর্ণের সযত্ব অন্ত্রশিক্ষা ও 

কঠোর সক্কল্প ব্যর্থ করিবার জন্যই যেন ব্রক্গশাঁপ। কর্ণের দ্বিতীয় অভিশাঁপ-প্রাপ্তি গুরু 
পরশুরামের নিকট হইতে । কণ“ভাবিলেন অভিশাঁপ নিক্ষল, কারণ তিনি সৃতপুত্র। অলঙ্ষ্য 
নিয়তি ত্তুর হাস্য হাঁসিলেন | কর্ণের চরিত্র বিশ্লেষণ করিলে দেখ! যায়, তিনি গভীরভাবে 
বিষ্ণভক্ত--কিন্তু তাহার তীব্র বিদ্বেষ নরনারায়ণ_-ধনপ্রয় ও বাস্থদেব কৃষ্ণের বিরুদ্ধে 
কৃষ্ণ যে নারায়ণ এই বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তিনি তীব্রভাবে সংগ্রাম করিয়াছেন। কৃষ্ণকে 
বাধিবার জন্ত তিনিই ছুর্যোধনকে উপদেশ দিয়াছিলেন। কিন্তু বোধ হয় তাহার অন্তরাত্মা 
ইহা সমর্থন করিতে পারে নাই, এই বাস্থদেবেরই প্রতি ন্নেহে মমতাঁয় বিগলিত হইয়া নিদ্রামধ্যে 
এই বন্ধনের বিরুদ্ধেই পীড়িত প্রতিবাদ জানাইয়াছে। |কিন্ত কর্ণের আসল আত্মদন্দ সুরু 
হইল তখন হইতে যখন তিনি কৃষ্ণের কাছেই আত্মপরিচয় প্রাপ্ত হইলেন। তাহার আজন্ম 
পোঁধিত সঙ্কল্প ও অভিমান একটি নিষ্টুর আঘাঁতে যেন চৌচির হইয়৷ গেল। জগতের অবজ্ঞা 
ও অশ্রদ্ধ। কুড়াইয়াও সুতপুত্র বলিয়া তাঁহার মধ্যে একটি আহত অভিমান ছিল, আজ কৃষ্ণের 
কথায় যখন তিনি জানিলেন সেই অভিমান বৃথা তখন তিনি নিজেকে বড় বেশি অসহায় 
বোধ করিলেন। যে অজ্ঞুনকে বধ করিবার জন্য তিনি চিরকাল কঠোর সঙ্কল্প পোষণ করিয়! 
আসিয়াছেন সেই অর্জুনকে ভ্রাতা জানিয়! এক মুহূর্তেই সগ্যোজাত ভ্রাতৃন্নেহ সেই সঙ্কল্পের 
সহিত সংঘাতে লিপ্ত হইল-_ 

মর্ম চায় পরাজয়, সত্য চাঁয় জয় 

মনুস্তত্ব চাঁয় নিুরতা_ বাসুদেব ! 

মর্ম ভাঙ্গ। শ্রীতিপুষ্প অঞ্জলিতে ধরি,” 

শুনাতে আসিলে তুমি 

মনঃক্ষোভ কথা ! 





১) 77506907০01 ৮7119066]:05])6 6০ 2'910911) 619£605. 20080 101050 60 20916 21] 0017709 
11917), 17096 10:0902866 1686111)0107:5 006 010]07010, 1801 000680708 77101) 002 80106117161)09)1868 
11805 60 106000:96 006 10100815001198 0 00৪10 »*৮]780905 05 10150) 7, 98 


ক্ষীরোদপ্রসাদ বিষ্ভাবিনোদ ২২৯ 


এই বথাগুলিতে মহাবীর কর্ণের মর্মবেদন! হৃদয়ের ক্ষতমুখে প্রকাঁশিত হইয়াছে । ইহার 
পর কর্ণ তাহার সত্য তাগ করেন নাই বটে, বিস্ত তাহার বিশ্বীস শিথিল হইয়া গিয়াছে, 
তাহার বিদ্বেষও অনেকটা শক্তিহীন হইয়া পড়িয়াছে। তিনি বুবিয়াছেন, তিনি আঁর অবধ্য 
নঙ্ত্েন, ব্রাঞ্মণ ও গুরুর অভিশীপ ভয়-কণিন মুক্তিতে তাহার শিরের উপর ঝুলিতেছে। কবচ ও 
কুগুলহীন হইয়া তিনি সহজেই অস্ত্রভেগ্ হইয়! পড়িয়াছেন। একমাত্র অবলম্বন একাত্ব বাঁণ, 
কিন্ত যতবার অঞ্জনের বিরুদ্ধে তিনি সেই ভয়ঙ্কর বাঁণ প্রয়োগ করিবার কথা৷ ভাঁবেন, 
ততবারই সেই নবীন-নীরদ-শ্টাম কৃষ্ণ আসিয়া সেই বাঁণের কথ! ত্বাহাকে ভুলাইয়া দেন। 
আর বাণ প্রয়োগ করিবেন তিনি কাহার বিরুদ্ধে, নিজেরই ভ্রাতার বিরুদ্ধে তো) সেই 
চিন্তায় যে তাহার অন্তরাত্ম। উল্লাসের পরিবর্তে বেদনাই বোধ করিয়া! বসে। সেজন্য এই 
যুদ্ধের জয়-পরাঁজয়ে তাহার আগ্রহ কমিয়৷ গিয়াছে, সত্যসন্ধ মহাপুরুষ যেন নিরাসক্ত চিত্তে 
বীরের কর্তব্য-কর্ম করিয়া গিয়াজেন। কর্ণের একাদ্বী অস্ত্র ঘটোৎকচের বিরুদ্ধে নিক্ষিপ্ত 
হইল; অন্জুনের প্রতি প্রযুক্ত সমস্ত অস্ত্র ব্যর্থ হইল। দৈবের শেষ জয় সিদ্ধ হইল। কবচ- 
কুগ্ুলহীন, ভগ্নরথ মহাবীর অন্তিম মুহুর্তে দেবতার চরণে আশ্রয় লইলেন। কিন্ত দেবতার 
জয়ে উল্লা বোধ ন! করিয়া মানুষের পরাজয়ে আমাদের চিত্ত সীমাহীন বেদনায় হাহাকার 
করিয়! উঠিল । 
| নাটকের মধ্যে কর্ণের অংশটুকু বাদ দিলে অনেক ঘটনাকেই অকারণ এবং অনেক 

চরিত্রকেই অস্পষ্ট মনে হইবে। নাট্যকার নাটকের পরিমিত কেন্দ্রমুখী ক্রিয়াণীল ঘটনার কথা 
বিস্থৃত হইয়৷ অনেক স্থলেই মহীভারতের কাহিনী অন্গুসরণ করিয়া! বহু অনাটকীয় দৃশ্ঠ ও 
চরিত্রের সমাবেশ করিয়াছেন। ইহাতে নাটকের দীর্ঘত৷ যেমন অপরিমিত হইয়াছে, তেমনি 
ইহাঁর গতিবেগ শিথিল ও বিক্ষিপ্ত হইয়৷ পড়িয়াছে। প্রায় সব চরিত্রই যথাষথ মহাভারতের 
চরিত্র হইয়াছে, তবে দুইটি নারী চরিত্রের ভাবমূতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। একটি হইল দ্রৌপদীর 
প্রতিহিংসামূৃত্তি। দ্রৌপদীর কঠোর ব্যঙ্গ বিজ্রপ ও তীব্র বিদ্বেষ জাল! দেখিয়া বেদব্যাসের 
সেই অসিতাপাঙ্গী, কেশাকর্ষণ-কুপিত। দ্রপদনন্দিনীর তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ বাক্যগুলি 
মনে পড়ে -. 

ধিক পার্থন্ত ধনুম্মত্তীং ভীমসেনস্য ধিগ. বলম্‌। 

যত্র ছুর্যোধনঃ কৃষ্ণ মুহূর্তমপি জীবতি ॥ 

যদি তেশহমন্ুগ্রাহা! যদি তেহস্তি কৃপা ময়ি। 

ধার্তরাষ্ট্রেু বৈ কোপঃ সর্ব: কৃষ্ণ বিধীয়তাম্‌ ॥ 
আর একটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র কর্ণপত্বী পল্মাবতী তাহার দেবোপম স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা ও ' 
নিষ্ঠায় পূর্ণ অন্তরকে নিযুক্ত করিয়! রাখিয়াছেন, অথচ স্বামীর কৃষ্ণদ্বেষের সহিত তাহার যোগ 
নাই। বাসুদেব কৃষ্ণকে তিনি আরাধ্য দেবতান্ধপে পৃজ৷ করিয়াছেন, কর্ণ যাহা পুকুষকারের 
অভিমানে বিশ্বীস করিতে চাহেন নাই, পদ্মাবতী যেন এক অকুঠ ভক্তির দৃষ্টিতে সেই রহস্ত 
নির্ণ় করিতে পারিয়াছেন। স্বামীর অমন্ধলের সম্ভাবন। ভাবিয়াও পাণডব বধূরূপে তিনি 


২৩০ বাংল৷ নাটকের ইতিহাস 


পাণ্ডবের জয় কামনা করিয়াছেন, পতিপ্রাণ! বধূর কুলের মর্যাদাঁ-গর্বে এক ত্যাগব্রতচারিণী 
মহীয়সী নারীরূপে তিনি প্রকাশিত হইয়াছেন। সত্যই ভ্রৌণদীর কথার পুনরাবৃত্তি করিতে 
ইচ্ছা হয় " 

ওগে! নরশ্রেষ্ঠের ঘরণী 

প্ররণিপাত করি আমি তোমার উদ্দেশে । 


(গ) এঁতিহাসিক নাটক 


এঁতিহাঁসিক নাটকের পূর্ণতা আমরা দ্বিজেন্্রলালে দেখাইয়াছি। ক্ষীরোদপ্রসাদ 
ছ্বিজেন্দ্রলালের সমসাময়িক নাট্যকার, দ্বিজেন্দ্রলালের এঁতিহাসিক নাটকের প্রায় সঙ্গে সঙ্গে 
তাহার এ্রতিহাসিক নাটক রচিত হইয়াছিল। ক্ষীরোদপ্রসাদের নাটক দৌক্রটি বাহাই 
থাকুক না কেন, একটা! বিষয়ে তাহার স্তাঁধ্য সম্মান তাহাকে দিতেই হইবে। বিংশ শতাব্দীর 
প্রথম দশকে যে জাতীয়মন্ত্রপূত অন্ুপ্রাণনাময় নাটকাবলীর প্রণয়ন হইয়াছিল তাহার সুচনা 
ক্ষীরোগ্রসাদের 'প্রতাপাদিত্য' নাটকেই হইয়াছিল। “প্রতাঁপাদিত্য” নাটক হিসাবে খুব 
উৎকৃষ্ট নয়, ইহা অপেক্ষা সব দিক দিয়া শ্রেষ্ঠতর নাটক পরে অনেক লেখা হইয়াছিল, তবে 
জাতীয়ভাবের প্রথম প্রবর্তকের গৌরব ইহার অবশ্তপ্রাপ্য, এ বিষয়ে কোনো সন্বেহ উঠিতে 
পাঁরে না। 'পদ্মিনী” "ীদবিবি+, 'পলাধীর প্রায়শ্চিত্ত”, “বঙ্গে রাঁঠোর” প্রভৃতি নাটকেও 
স্বজেণী ভাঁবোদ্দীপনই নাটকের উদ্দেশ্য করা হইয়াছে । সুতরাং স্বাধীনতা ব্রতী, মুক্তিনাধক 
নাট্যকাঁর-প্রবর দ্বিজেন্্রল(লের পাশেই ক্ষীরোদপ্রসাঁদের স্থান আমর! নির্দেশ করিতে পারি। 
কিন্ত নাট্যকলার দিক দিয়। বিচার করিলে দ্বিজেন্দ্রলালের নাটক অপেক্ষা ক্ষীরোদপ্রসাদের 
নাটক নিকৃষ্ট ইহা স্বীকার করিতে আমরা বাধ্য হইব। দ্বিজেন্্রলীলের নাটকে যে রকম 
বীররসের উন্মাদনা আছে, ভাষ। ও ভাবের সর্ধত্র যেমন একট] গম্ভীর, সংহত এবং ওজস্বী রূপ 
আছে ক্ষীরোদপ্রসাদের নাটকে নে সব নাই। তাহার নাটকের ভাষা অনেক স্থানে 
অনুচিতভাঁবে তরল এবং হাঙ্কা, এবং গভীর ও গম্ভীর ভাব কোনো কোনো! জায়গায় কৌতুক 
রসের চাপল্যে অন্ফুট এবং অবিকশিত। ক্ষীরোদপ্রসাদের প্রধান দোষ-_ঘটনা সংস্থানের 
অসঙ্গতি এবং চরিত্রসমাবেশের অসম্ভাব্যতা । নাট্যকার তাহার ইচ্ছা এবং কল্পনা 
অনুযায়ী এমন জায়গায় এমন সব পাত্রপাত্রীকে একত্রিত করেন যে তাহা কিছুতেই বিশ্বাস 
করা চলে না। দ্বিজেন্দ্রলালকে অনুসরণ করিয়। ক্ষীরোদপ্রসাদও তাহার নাটকীয় চরিত্রগুলিকে 
বন্দ্ময় করিয়া তুলিতে চেষ্টা করিয়াছেন, এই চেষ্টা সর্বাপেক্ষা ফলবতী হইয়াছে “আলমগীর, 
নাটকে। ্ 

গিরিশচন্দ্র এবং দ্বিজেন্্রলালের ন্যায় ক্ষীরোদপ্রসাদ এ্রতিহাসিক নাটক লিখিতে 
যাইয়া ইতিহাসকে খুব বিশ্বন্তভাঁবে অনুবর্তন করেন নাই। অনেক স্থলেই তিনি নিজের 
প্রয়োজন মত কল্পনাশ্রয়ী হুইয়।৷ অভিনব ঘটনা এবং চরিত্রের সমাবেশ করিয়াছেন। 


'্টারোদগ্রসাদ বিভাবিনোদ ২৩১ 


এঁতিহাসিক ছুই একটি চরিত্র লইয়া সম্পূর্ণ কল্লিত কাহিনীর উপর ভিত্তি করিয়া তিনি 
কয়েকথান৷ নাটক রচনা! করিয়াছিলেন, যথা _“রঘুবীর", “থাজাহান', 'আঁহেরিকা", এব “বঙ্গে 
রাঠোর”। পৃথকভাবে এ নাটকগুলির আলোচন! করা হইবে । 

ক্গীরোদপ্রসাদ যে এ্রতিহাসিক নাটকগুলি লিখিয়াখিলেন সি নাম 
প্রতাপাদিত্য, পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত, পদ্মিনী (১৩১৩), অশোক (১৩১৪), চাদবিবি (১৩১৪) 
বাঙলার মসনদ (১৩১৭), আলমগীর €১৩৩৮), বিদুরথ (১৩২৯)। 

॥ অশোক (১৯০৮) ॥ “অশোক'কে এঁতিহাসিক নাটক জোর করিয়া বলিতে হয়, 
কারণ নাটকের মধ্যে ইতিহাসের অনুসরণ খুব কমই আছে। নাটকের নাম “অশোক”, অথচ 
অশোককে কোথাও খুঁজিয়া পাঁওয়া যায় না। তাঁহার চরিত্রের কোনে! বৈশিষ্ট্যও ফুটিয়া উঠে 
নাই। বীতশোক, ধুন্ধমার এবং চিত্রা এই তিনটা চরিত্রেরই পুনঃ পুনঃ আনাগোনা দেখা 
গিয়াছে । চরিত্র-সমাবেশের অসংলগ্ঘত। এবং সংলাপের দুর্বলতার জন্ত নাটকের কোনো 
প্রভাব মনের মধ্যে থাকে না। 

॥ পদ্মিনী (১৯০৬) ॥ পপন্মিনী' নাটকের নামও যথার্থ হয় নাই। ছুই একবার পদ্মিনীকে 
দেখা গেলেও তাহার চরিত্রের অভিব্যক্তি নাটকের মধ্যে নাই। তিনি ঘটনার জটিলতা 
এবং ট্র্যাজেডির কারণও নহেন। যদি কেহ ছুরলজ্ঘ্য ঘটন|পুঞ্জের জন্য সর্বাপেক্ষা দায়ী হইয়। 
থাকে তবে সে নসীবন। এই খেয়ালী নারীর ব্যক্তিগত খেয়ালের সহিত একট। জাতি যেন 
তাহার ভাগ্য বাঁধিয়া দিয়াছে । অথচ নসীবন তাহার স্বামী আলাউদ্দিনের প্রতি এবূপ বিজাতীয় 
প্রতিহিংসার বশীভূত হইল কেন তাহার সঙ্গত!কারণ বিস্তারিতভাবে বিশ্লেবণ করা হয় নাই। 
নাটকের চরিত্র সমাবেশের মধ্যে গুরুতর ক্রটি লক্ষিত হয়, যে কোনো চরিত্রকে যে 
কোনো স্থলে অবিশ্বীসজনক ভাঁবে স্থাপন করা হইয়াছে, সঙ্গতি এবং সম্তাব্যতার দিকে দৃষ্টি 
দেওয়! হয় নাই । নাঁটকে ট্র্যাজেডির অমোঘ, অব্যর্থ'গতি কে।ন পাত্রপাত্রীর চরিত্রের ভিতর 
হইতে হয় নাই, বাহিরের ঘটনার আঘাতেই ট্র্যাজেডি ঘটিয়াছে। গোরার চরিত্রই সর্বাধিক 
সরস ও জীবন্ত । ৃ 

॥ প্রতাপাদিত্য (১৯০৩) ॥ 'প্রতাঁপাদিত্য” একদিন স্বাদেশিক নাট্যজগতে গ্রপিদ্ধি লাভ 
করিলেও ইহার মধ্যে স্বদেশপ্রাণত! উচ্ছুসিত আবেগে প্রকাশ পাইয়াছে কিন! সন্দেহ। জায়গায় 
জায়গায় সংলাপের মধ্যে স্বদেশীঙ্গরাগ ব্যক্ত করা! হইয়াছে বটে, কিন্তু দেশের জন্ত একাগ্র 
সাধনা, অনন্ত আশা, মহৎ আত্মত্যাগ নাটকের মধ্যে ফুটিয়া উঠে নাই। ইহাতে দুঃখ তাপের 
আঘাতে স্বাধীনতার মূল্য বুঝিয়া লইতে হয় নাই, সেইজন্য ইহার 16৪. মনের মধ্যে প্রভাঁব 
মুদ্রিত করিতে পারে নাই। প্রতাপাদিত্যের পতন কোনে ট্র্যাজেডি হয় নাই, মনে হয় 
অকন্মাৎ যেন তাহার পরাজয় এবং পতন ঘটিয়া গেল, অনিবার্ধ ঘটনারাঁশির মধ্য দিয়] 
ট্র্যাজেডি যেভাবে গড়িয়া উঠে ইহা তেমন হয় নাই। প্রতাপাদ্দত্য বাংলার লুপ্ত স্বাধীনতা 
উদ্ধার করিয়াছেন বটে, কিন্তু তাহার চরিত্র আমাদের মন আকর্ষণ করিতে পারে না। তিনি 
সাহসী বীর বটে, কিন্তু মানবত্থের দুর্লঙ্ত গুণে মণ্ডিত নহেন। তাহার স্বুত অপরাধের জন্যই 


২৩২ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


তাহার স্বোপাজিত রাজ্যের ধ্বংস নিকটবর্তী হইয়াছিল। রাঁমরাম বসুর «প্রতীপাদিত্য 
চরিত্রেও আছে যে প্রতাপাদিত্যের অন্যায় এবং অপরাধের জন্য দেবী গাহার 
প্রতি বিরূপ হইয়াছিলেন, এবং তাহার পতন ঘনাইয়! আসিয়াছিল। স্বেহময়, ক্ষমাশীল 
খুল্লতাতের প্রতি তাহার অকারণ সন্দেহ এবং বিদ্বেষ তাঁহার চরিত্রকে হান করিয়াছে, এবং 
অবশেষে যখন তিনি তাহারই অভ্যর্থনায় উদ্যত খুল্পতাতকে হত্যা করিয়া বসিলেন তখন 
তাহার এই কাজ ক্ষমার অযোগ্য হইয়! পড়িয়াছে। নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে তুলক্রমে এই 
শোচনীয় ব্যাপার ঘটিয়াছে বলিয়! অন্তায়কারীকে সহাম্ভূতি দেখানো! যাইত কিন্তু এই 
হত্যা প্রতাপাদিত্যের বহুকালপোঁধিত বিদ্বেষের স্বাভাবিক পরিণতি মনে হয় বলিয়া তাহার 
প্রতি কোনো সহান্ভৃতি জাগ্রত হয় না। প্রতাপাদিত্যের এই গুরুতর অন্তায়ের জন্য তাহার 
পরিণতি আমাদের চিত্তকে তেমন বিষাঁদময় করিয়া তুলে ন!। প্রতাঁপাঁদিত্যের পিতা 
বিক্রমাদিত্যের চরিত্রের মধ্যে রাজোচিত গান্তীর্য এবং গুরুত্ব নাই। ভূমিকাটাকে পরিহাঁস- 
রসিক ভশড়ের মত করিয়! অঙ্কন করা অসংগত হইয়াছে । ভবানন্দ দেশদ্রোহী, নীচাশয় 
চরিত্র, মানসিংহকে সেই আহ্বান করিয়। আনিয়! বাংলার সর্বনাশ সাধন করে। ভারতচন্দ্রের 
কাব্যে অন্নদা দেবী তাহাকে পুরস্কৃত করিয়াছিলেন বটে, কিন্তু বঙ্গমাতার কাছে তাহার 
বিভীষণ-বৃত্তি যে কেবল তিরস্কৃত হইয়াছে তাহাতে সন্দেহ নাই। 
॥ আলমগীর (১৯২১) ॥ “আলমগীর, ক্ষীরোদপ্রসাদের কীতির বিজয়-বৈজয়ন্তী । শ্্রীধুক্ত 
শিশিরকুমার ভাদুড়ীর অসাধারণ অভিনয়-নৈপুণ্যে নাটকখানি বঙ্গবাঁসীর হৃদয়ে অম্নানভাঁবে 
মুদ্রিত হইয়া রহিয়াছে । ওরংজী'বের ছন্দময় চরিত্র ক্ীরোদপ্রসাঁদের পূর্বে দ্বিজেন্দ্রলাল তাহার 
প্রসিদ্ধ নাটকদ্ধয় “ুর্গাদীস+ এবং “সাঁজাহাঁনে”র মধ্যে অঙ্কিত করিয়াছিলেন। রাজসিংহ-রূপ- 
কুমারী কাহিনী লইয়া বস্কিমচন্দ্রও তীহাঁর বিখ্যাত উপন্াস “রাঁজসিংহ* প্রণয়ন করিয়াছিলেন । 
ক্ষীরোদপ্রসাঁদকে তীহাঁর পূর্ববর্তী পুস্তক গুলি সম্বন্ধে বিশেষ সতর্ক হইয়া নিজের স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠিত 
করিতে হইয়াছিল । নাটকখানি অত্যন্ত দীর্ঘ, নাট্যকার নিজে অভিনয়ের জন্ত নাটকের অনেক 
স্থলে নির্দেশ বর্জনের.দিলেও ইহার দীর্ঘতা বিশেষ কম ক্লীস্তিদীয়ক হয় নাই । নাটকের মধ্যে 
আলমগীর-উদ্দিপুরী ও রাঁজসিংহ-ভীমসিংহ-জয়সিংহের কাহিনী পরস্পরের সহিত মিলিতভাবে 
অগ্রসর হইয়াছে। ক্ষীরোদপ্রসাদের অন্ঠান্ত নাটকের স্যাঁয় ইহাঁতেও ঘটনা-সংস্থাপনের সম্ভাব্যতা 
সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হইয়াছে । মহাঁরাণী বীরাবাইএর মেবার ত্যাগ করিয়া রূপনগরে উপস্থিতি, 
ভীমসিংহ-জয়সিংহের মহাশক্র গুরংজ'বের সম্মুথে গমন, উদ্দিপুরীর শিবিরে রূপকুমারীর 
প্রবেশ--এই ঘটনাগুলি এত কষ্টকল্পিত ষে কিছুতেই বিশ্বাস করা চলে না। আলমগীর এবং 
উদ্দিপুরীর মধ্যে ক্ষমতার প্রবল প্রতিদ্বন্িতা বিশেষ আগ্রহৌদ্দীপক হইয়াছে। ক্ষীরোদপ্রসাদের 
আলমগীর এক অপূর্ব চরিত্র। আলমগীর প্রচণ্ড ক্ষমতাশালী, আবার নিতান্ত দুর্বল] 
তাহার অজেয় ব্যক্তিত্বের স্পর্ধিত চূড়া যেন নিমেষের মধ্যে পরাজয়ের অতল জলে ডুবিয়া 
যাইতেছে। তিনি আপন ক্রিয়! এবং ছুক্ষিয়ার নিফরুণ সমালোচক, তাহার দৃষ্টি সঞ্চরণশীল 
এবং কল্পনাময় ; সেভন্ত স্থানে স্থানে তাহার বাক্য অপ্রকৃতিস্থের অসংবদ্ধ আলাপের স্থায় 


ক্ষীরোদপ্রসাদ বিভ্ভাবিনোদ ২৩৩ 


মনে হয়, নাটকের অধিকাঁংশ চরিত্রের মধ্যে ভাবের অতি ভ্রুত লয়-বিলয় হইয়াছে, সেইজন্য 
জায়গায় জায়গায় চরিত্রের উদ্দেশ ( 2০০৮০ ) ব্যাহত হইয়া গিয়াছে। 

॥ টাদবিবি (১৯০৭) ॥ "্াঁদবিবি” এ্তিহীসিক নাটক বটে, কিন্ত প্রতিহাসিক কোনো 
বিরাট ঘটনা অবলম্বন করিয়। কাহিনী রসঘন হইয়। উঠে নাই । এঁতিহাসিক নাটকে সাধারণত 
যে দেশাত্মবোধ ও ভাঁবোদ্বীপন| থাকে ইহাতে তাহারও অভাব। ইহার তুচ্ছ ঘটনারাঁশি 
পরম্পরের সহিত সংলগ্ন হইয়া বিশেষ কোনো! নাটকীয় উদ্দেশ্ট স্থজন করিয়া তুলিতে পারে 
নাই । চাঁদবিবি নামেরও যৌক্তিকতা খু'জিয়! পাওয়া যাঁয় না। পঞ্চম অঙ্কের পূর্বে টাদবিবির 
প্রভাব ও ক্রিয়াশীলতা৷ লক্ষিত হয় না । এখলাস থা, নেহাঙ খা, মিয়ান মঞ্জু প্রভৃতি চরিত্র 
অতিরিক্ত স্থান জুড়িয়! রহিয়াছে । চাঁদবিবির মৃত্যুও আকম্মিক ও নিরাবেদন। 

॥ রঘুবীর (১৯০৩) ॥ “রঘুবীর+ গগ্য ও পথ্যে রচিত। গছ সংলাপ স্বচ্ছ ও সরস, কিন্তু পদ্য 
উক্তিসমূহ দীর্ঘ এবং নিরাবেগ । ভীল রঘুবীরের মধ্যে গিরিশচন্দ্রের ভক্তিরসাত্মবক চরিত্রগুলির 
ম্যায় ধর্মদবন্বের অভিব্যক্তি হইয়াছে । প্রায়শ এইরূপ দ্বন্দ দর্শকের পক্ষে বিরক্তিকর । ঘটন৷ 
সংস্থাপন অনেক স্থলেই দুর্বল ও অবিশ্বীশ্ত। জাফর ও রঘুবীর ছুই ছুইবার মুখোমুখী 
হওয়া সন্বেও কোঁনে। চরম ব্যাপার ঘটিল না, নিতান্ত সহজেই যেন. দুইজন দেখা সাক্ষাৎ 
করিয়৷ চলিয়া গেল। 


(ঘ) কাল্পনিক ইতিবৃত্তমূলক নাটক 


॥ খাজাহাঁন (১৯১২) ॥ “খাঁজাহাঁনের” মধ্যে কয়েকটা এঁতিহাসিক চরিত্র আছে, কিন্ত 
কাহিনী সম্পূর্ণ কল্পনা-প্রস্থত। ঘটনা সমাবেশের অস্বাভীবিকতা৷ নাটকীয় কৌতৃহল ও আগ্রহ 
নষ্ট করিয়। ফেলিয়াছে। নিতীস্ত অসম্ভব এবং অপ্রত্যাশিত স্থানে চরিত্রগুলিকে উপস্থিত 
করা হইয়াছে। এক একটা ঘটন! ঘটিয়াছে, অথচ তাহার যেন কোনে কারণ নাই এবং 
সঙ্গতিও নাই। নারায়ণ রাও একবার মোগলের দিকে, আবার খাজাহানের দিকে, কিন্ত 
তাহার এই পক্ষ পরিবর্তনের পিছনে যথেষ্ট 'কারণ নাই। সোৌঁফিয়াও পিতার বিরুদ্ধে 
জেহাদ ঘোঁষ্ণা করিয়। ঘর ছাঁড়িল, অথচ মনে হয় ইহার কোন দরকার ছিল না। তাহার 
যেন সর্বত্রই অবারিত গতি, নিমেষের মধ্যেই সে যেন সকল ব্যাপারের, মধ্যে যাইয়া একট। 
সমাধানের অংশ গ্রহণ করিতেছে। তাহার এই গতিবিধি সম্ভীব্যতার সীম! অতিক্রম. 
করিয়াছে । নাটকের মধ্যে আবার ঘটনা সংঘর্ষ এবং ভ্রত ভাব পরিবর্তনের মধ্য দিয়া 
নাটকীয় রস জমাইবার অতি দুর্বল এবং হাস্যজনক চেষ্টা হইয়াছে । আজিমৎ অতি সামান্য 
কারণে প্রহরীকে হত্য। করিয়া বসিল এবং তাহাতেই একট! বিরাট হৈ-হৈ ব্যাপার স্থুরু 
হইয়া গেল। শেষ দৃশ্তে নারায়ণ এবং খাঁজাহানের মৃত্যু এবং সোফিয়ার সহমরণের আয়োজন 


৩০ 


২৩৪ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


দেখাইয়৷ করুণরস স্জন করিবার একট! নিক্ষল প্রয়াস করা হইয়াছে। নাটকের কোনো 
স্থলই মর্মস্পশাঁ হয় নাই। 


॥ আছেরিয়। (১৯.৫) ॥ আহেরিয়।” অপেক্ষাকৃত উৎকৃষ্ট নাটক। বারাহা-লাঙ্গাইয়ের 
সহিত ভট্টিদের বিরোধের উপর ভিত্তি কয়িয়া নাটকখানি রচিত। পরিশেষে সকলের মিলনের 
মধ্যে নাটকের সঙ্গ হইয়াছে । মুলরীজের চরিত্রই সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য । মূলরাঁজের মধ্যে 
ভাবদন্ব বিশেষ লক্ষ্য করিব।র বিষয়। তিনি তন্ুরায়কে হত্যা করিয়াছিলেন বটে, কিন্ত 
নাটকের মধ্যে তাহীকে মহাশক্তিশালী, উদার এবং অটুট সংকল্পনিষ্ঠ দেখিতে পাই । নির্নংশ 
হওয়। সত্বেও তিনি সংকল্প ত্যাগ করেন নাই। অবশেষে তাহার চিরশক্র, পুত্রহস্তা 
দেবরাঁয়কে সিংহাসনে বপাইয়। তিনি মহত্বের পরাকাষ্ঠী দেখাইলেন। কেতু এবং রেবা 
একেবারে দ্বন্দহীন, নিশ্চিন্ত চরিত্র, অবস্থা বিপাকে তাহাদের পিতৃশক্রদের পত্রী হইয়৷ তাহার। 
বেমালুম স্বামীর পক্ষে ঝু"কিয়াছে, ন্নেহময় পিতাঁর সহিত বিরোধে প্রবৃত্ত তইতে তাহাদের বাধে 
নাই। অন্ান্য চরিত্রগ্ুলিও অপরিস্ফুট এবং অন্ুল্লেখ্য | 


॥ বঙ্গে রাঠোর (১৯১৭)॥ক্ষীয়মাণ পাঠান রাজত্বের শেষ সময়কার অবস্থার উপর ভিত্তি 
করিয়৷ “বঙ্গে রাঁঠোর' রচিত হইয়াছে । রঙ্গলাল-কালু-ভোলাই-এর মধ্য দিয়। বাঙালীর 
শক্তিবীর্য দেখানো হইয়াছে । নাটকের মধ্যে জাতিধর্মের বিভেদের প্রতি নজর দেওয়া হয় 
নাই। কলি বেগম অবাধে হিন্দুপরিবারে গৃহীত হইল, জৈন্ুদ্দিন কষ্ণপ্রেমে মাতোয়ারা হইয়া 
পড়িল, এবং রতিলাল ধর্মত্যাগ করা সত্বেও কাহারে। কাছে স্নেহ ও সম্মান হাঁরাইল না । 
ভূবনেশ্বরীর চরিত্র বেশ স্নেহময়ী ও মহীয়সীরূপে ফুটিয়াছে। রক্গলাল এবং ভোলাই-এর 
চরিত্রও সরস হইয়াছে । 


রবীন্দ্রনাথ 
(ক) ভূমিকা 


শেকসপীয়ার বলিয়াছেন--নামে কি যায় আসে, গোলাপ যেই নামেই অভিহিত 
হউক না কেন সমান গন্ধ বিতরণ করে। কিন্তু নাম যে কতখানি অর্থবান হইতে পারে 
তাহা রবীন্দ্রনাথের কথ৷ চিন্তা! করিলে বুঝ! যাঁইবে। প্ররুতই সহশ্রাংশুর স্তায় তিনি তাহার 
কিরণমালায় মানুষের কত চিন্তাঁক্ষেত্র, কত কল্পলৌক, কত লীলাভ্বমি শোভিত, সজ্জিত 
করিয়! তুলিয়াছেন তাহার ইয়ত্ত। নাই। তাহার প্রতিভার পরশমণির পরশে সাহিত্যের 
সব বিভাগ সোন! হইয়া গিয়াছে। কবিতা ও গল্পের রাজ্যে তিনি যেমন অগ্রতিদ্ন্দ্ী, 
নাটকের ক্ষেত্রেও তেমনি অতুলনীয়। তাহার পূর্ব পর্যন্ত বাংলার নাট্যসাহিত্য নাট্যরীতির 
স্থনিয়ন্ত্রিত বিধানের মধ্যে নির্দেশিত আত্মপ্রকীশ করিয়াছে, কিন্তু বন্ধন-অসহিষু, মুক্তি- 
প্রয়াঁসী রবীন্দ্রনাথ সর্বপ্রকার রীতি ও নিয়ম অতিক্রম করিয়৷ নাট্য রচনা সুরু করিলেন। 
তাহার নাটকের সহিত পূর্ববর্তী নাট্যধাবার কোনো! যৌগ নাই। তাহার নাটকীয় চেতনার 
উৎস হইয়াছে তারই অনুভূতি-অভিজ্ঞতা-রসসিক্ত মানসভূমি। 

রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য-জীবনের মধ্যে তাহার অনুভূত সত্যদর্শন ক্রমিক ধারাবাহিকতা 
মধ্য দিয় এক. অখণ্ড, অবিচ্ছিন্ন রূপ লাভ করিয়াছে । জগৎ ও জীবন সম্বন্ধে তীহাঁর যে 
মানস-অভিজ্ঞতা ক্রমে ক্রমে সঞ্চিত হইয়া উঠিয়াছে তাহারই সৌন্দর্যময় প্রকাশ তাহার 
সাহিত্যের মধ্যে প্রতিফণিত হইয়াছে । স্থৃতরাং বিভিন্ন সময়ে কবিতা, গল্প, প্রবন্ধের মধ্যে 
তাহার বে মানসের পরিচয় পাই, তাহার অভিব্যক্তি তৎকালীন নাটকের ভিতরেও রহিয়াছে 
ইহা লক্ষ্য করিবার বিষয়। রবীন্দ্রনাথের নাটক বস্ততন্ত্রতা সত্বেও তাঁগার সাহিত্যের অন্ঠান্ত 
ধারার সহিত মিলিতভাবে তাহার কোনে! মানস সত্যকেই প্রকাশ করিয়াছে ইহা ভূলিলে 
চলিবে না। 

রবীন্্র-প্রতিভা প্রথমত এবং প্রধানত কাব্যধর্মী। কাব্যের ক্ষেত্রে ইহ! অস্কুরিত 
হইয়াছিল, এবং এই ক্ষেত্রের মৃত্তিকা ও রস গ্রহণ করিয়। ইহা পুষ্টিলাভ করিয়াছিল। 
পরবর্তীকীলে এই প্রতিভা-তরু বহু বিচিত্র চিন্ত/ এবং মননের বাঁযু হইতে খাদ্য গ্রহণ 
করিয়াছিল বটে, কিন্তু ইহার মূলদেশের সহিত কাব্যভূমির সম্বন্ধ যে ঘনিষ্ঠতম হইয়া 
রহিয়াছে তাহা! স্মরণ রাখ! দরকার । রবীন্দ্রনাথের নাটকের মধ্যেও তাহার সর্বব্যাপী 
কাব্যময়তা বিরাজ করিতেছে, এবং ইহা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক । “খেয়া”-যুগের পূর্ব পর্যন্ত তিনি 
যে নাটকগুলি লিখিয়াছিলেন, সেইগুলির মধ্যে গীতিকাবে।র প্রভাব অধিকতর পরিস্ফুট। 
তবে অপরিণত বয়সের প্রাথমিক কয়েকখান! নাটক ব্যতীত এই কাব্যভাব তাহার নাটকের. 
নাটকত্বের হানি করে নাই। “বিসর্জন, “মালিনী” প্রভৃতি কাব্যছন্দে লিখিত হইলেও 
নাটক হিসাবে ইহাদের তুলনা নাই। খেয়া” পূর্ব পর্যস্ত কবির মন বিশ্বের রূপরস 
সম্তোগে আকণ্ঠ নিমজ্জিত ছিল, স্লেইজন্ঠ এই সময়কার নাঁটকেও উচ্ছ্ুসিত সৌন্দর্য তরনের 


২৩৬ বাঁংল। নাটকের ইতিহাস 


অবারণ লীলা, বিশ্বজগৎ এবং মাঁনব-জীবনের অকুষ্ঠিত জয়গাঁন লক্ষ্য করা! যায়। তখনকার 
সদাপ্রকুল্লিত চিত্ত হান্তরসের তরল শোতে অতি সহজেই ভাঁসিয়! বেড়াইতে চাঁহিত, 
সেইজন্য তাহার প্রহসনগুলিরও জন্ম হয় এই সময়ে । “খেয়া পরে গীতাঞ্জলি যুগ হইতে 
তাহার মন রূপ হইতে অরূপ রাজ্যে, বিশ্ব হইতে বিশ্বাতীতের পাঁনে অগ্রসর হইল। তখন 
হইতে রূপক তত্বময় নাটকগুলির সুচনা হইল । “গীতীপঞ্রলি, “গীতালি”, গীতিমাল্যে, 
যেমন বাহ্জগতের আকুতি ও চাঞ্চল্য অন্তর্জগতের মৌন সাধনায় নিমগ্ন হইল, তেমনি 
পূর্বেকার নাটকগুলির ক্রিয়ী্য় ঘটনারাশি রূপক নাটকের অন্তগূ্ট ভাঁবময়তাঁর মধ্যে নির্বাণ 
লাভ করিল। ইহাই রবীন্দ্রনাথের নাট্যধারর ইতিহাস । এই নাট্যধারাঁর গ্রতিটী বীচি- 
বিক্ষেপ, প্রতিটা গতি-পরিবর্তনের বিশেষত্ব আমরা পরে বথাস্থানে আলোচন। করিব । 

রবীন্দ্রনাথের নাটকের প্রধান গুণ ইহার অনবদ্য, অতুলনীয় ভাবা । ভাষা-রাজ্যের 
একচ্ছত্র সম্রাট তাহার ভাষাকে যেভাবে ইচ্ছা! গঠিত এবং চাঁলিত করিয়াছেন। এই 
ভাবার কৃতিত্বেই তাহার নাটক বিরল ঘটনাময় হইলেও যথেষ্ট আবেগব।ন ও গতিমান 
হইয়াছে । ছুই একখান! নাটক, যেমন-__“তপতী” 'রক্তকরবী”তে তাহার ভাষা একটু 
অলঙ্কার-বহুল হইয়া সাধারণের পক্ষে মাঝে মাঁঝে ছুরূহ হইয়াছে বটে, কিন্ত তাহার 
অধিকাংশ নাটকের ভাষা নাটকীয় চরিত্রের ভাব ও দ্বন্দ সুগভীর রেখায় অঙ্কিত করিয়া 
দিয়াছে। রবীন্দ্রনাথের সংলাপের মধ্যে জার একটী জিনিষ লক্ষ্য করিবার ধিষয় এই যে, 
তাহার সংলাপ খুব সংক্ষিপ্ত এবং পরিমিত। বাংলার অধিকাংশ নাঁট্যকারদের নাটকে 
সংলাপের অপরিমিত দীর্ঘতা আমর! লক্ষ্য করিয়াছি । ফলে পাত্রপাত্রীর কথাবার্তা অনেক 
স্থলে একঘেয়ে হইয়! উঠিয়াছে। ছোটো! সংলাপের সমাবেশ থাকিলে আমাদের দৃষ্টি 
ইতস্তত বিভিন্ন চরিত্রের মধ্যে ঘুরিতে থাকে, ফলে আমাদিগকে বিশেষ সজাগ এবং 
অভিনিবিষ্ট থাকিতে হয়, এবং পাব্রপাত্রীদের সংলাপে সংঘর্ষ লাগিয়৷ মুহুমুহঃ আবেগকণা 
বিচ্ছুরিত হইতে থাকে । এইজন্য রবীন্দ্রনাথের নাটকের কথোপকথন এত ক্রিয়াচঞ্চল হইয়! 
উঠিয়াছে। 


রবীন্দ্রনাথ নাকে প্রচলিত নাট্যরীতি ভঙ্গ করিয়াছেন ইহা! পূর্বে উল্লেখ করা 
হইয়াছে। অঙ্ক ও দৃশ্যের বীধাবাধি তিনি একেবারে বর্জন করিয়াছেন। “মুক্তধারা” এবং 
রক্তকরবীতে কোনো! অঙ্ক অথব! দৃশ্য নূই। পাত্রপাত্রীগুলিকে একটানা সমাবেশ করিয়া 
গিয়াছেন। আবার কোনো কোনো নাটকে অঙ্ক বাদ দিয়া কয়েকটা বড়ো বড়ো দৃশ্যের 
মধ্যে ঘটনা সংস্থাপিত করিয়াছেন। ্ফান্তনী'তে পাত্রপাত্রীদের নাঁম উল্লেখ না করিয়। 
সংলাপ স্ষ্টি করিয়া গিয়াছেন। রবীন্দ্রনাথ নাটক অভিনয়ে চিত্রপট ও বূপসজ্জ! বর্জনীয় 
মনে করিতেন। 'ফাল্কনী”র সুচনায় কবি মহারাজকে বলিতেছেন --“চিত্রপটে প্রয়োজন 
নেই-_আমার দরকার চিত্তপট-_সেইখাঁনে শুধু স্থুরের তুলি বুলিয়ে ছবি জীগাঁব |» অবশ্ঠ 
দর্শকের মন কতথানি উন্নত ও কল্পনাঁণীল হইলে সে নাটকীয় রস-উদ্বোধক উপকরণগুলি 
অনাবশ্তক বোঁধ করিবে তাহা বিবেচনা কর! দরকার এবং রঙ্গমঞ্চ ও ইহার আঙ্গষঙ্গিক 


রবীন্দ্রনাথ ২৩৭ 


কৃত্রিম কলা-কৌশল ন| থাঁকিলে ন1টক বাস্তবের (৪8115) বিভ্রম (11105107) জাগাইয়া 
তুলিতে পারে কিনা সেই সন্দেহও মনের মধ্যে থাকিয়। যাঁয়। ভবিষ্যতের নাট্যজগৎ 
রবীন্দ্রনাথের প্রবর্তিত নাট্যকলা! গ্রহণ করে কিনা তাহাই দেখিবার বিষয়। 

রবীন্দ্রনাথের পূর্ব পর্যন্ত নাটকে বাহ্‌ ক্রিয়া এবং সংঘর্ষ খুব বেশি লক্ষ্য করা গিয়াছে। 
দ্বিজেন্রলীলের নাটকে অন্তর্ভগৎ উদ্ঘাঁটিত এবং বিশ্লেধিত হইলেও বাহ কল্পনার অত্যধিক 
প্রীধান্ বিদ্যমান রহিয়াছে । আমাদের পূর্বতন নাট্যকারবৃন্দ তাহাদের নাটকে দৌড়ঝাঁপ, 
মারামারি, কাটাফাটি ইত্যাদি সম্তা ধরণের রোমাঞ্চকর দৃশ্ঠের সমাবেশ করিয়া ০০০০7 সৃষ্টি 
করিতে গিয়াছেন, আমাদের দর্শকবৃন্দের রচিও এই রকম নাঁটক পছন্দ করিয়া আসিয়াছে 
এবং এখনও করিতেছে তাহা আমরা চোখের সম্মুথে দেখিতেছি। মুগুরের ঘা না খাইলে 
যে রসবোঁধ জাগ্রত হয় না, তাহ! সুল্স স্পর্শের সমাদর করিবে কিরূপে ? কিন্তু রবীন্দ্রনাথ 
দর্শকের রুচি গ্রাহহ না! করিয়া তাহার নাটকের মধ্য হইতে স্থল এবং রোমাঞ্ময় ঘটনা 
একেবারে বাঁদ দিলেন। কিন্তু সেইজন্য রবীন্দ্রনাথের নাটক যে ক্রিয়াবিরল, নিরাবেগ হইয়া 
পড়িল তাহা নহে। উত্তাপ তিনিও সৃষ্টি করিলেন, তবে তাহা কাঠখড়ের ন্তাঁয় চোখ রাঙ্গাইয়া 
থকে না, স্থক্ম বৈছ্যুতিক তাঁরের মধ্যে ইহা অনৃশ্ঠ অথচ প্রচণ্ড জালাময় অগ্রি-প্রবাহের ন্যায় 
বিরাজ করিতে থাকে । অন্তর্লীন-পাঁবক শমীবৃক্ষ েমন ভিতরে দগ্ধ হইয়াও বাহিরে অক্ষত, 
অপরিবর্তিত অবস্থায় থাঁকে, তাহার নাটকের আবেগময় ক্রিয়াও অন্তস্তল দিয়া স্থৃতীব্রভাবে 
গমননীল হইয়াও বাহিরে অপ্রকাশিত থাকে । স্ৃতরাং মনপ্রাণ রুদ্ধ করিয়৷ শুধুমাত্র 
চোখ ছুটীকে জাগাইয়। রাঁখিলে তীহার নাটকের রস উপলব্ধ হইবে না। তাঁহার নাটক 


যথার্থভাবে হৃদয়ঙ্গম করিতে হইলে অন্তর এবং বাহিরের সব ইন্দ্রিয়গুলিকে গ্রস্তত এবং 
প্রথর রাখিতে হইবে । 


রবীন্দ্রনাঁথে আসিয়া বাংলা নাটক তাহার পরিপূর্ণ আভিজাত্য এবং গৌরব লাভ 
করিল। নাটকের মধ্যে তিনি ষে সুশ্ম কলীকৌশল এবং স্থগভীর অন্তূষ্টির সুস্পষ্ট পরিচয় 
দিলেন তাহা তাহার পূর্বে দৃষ্ট হয় নাই, এবং পরেও অন্ুম্থত হয় নাই। তীহার নাটক এখনো 
ব্যাপক সর্বজন-সমাঁদর লাভ করিতে পারে নাই, তাহাঁর কারণ দর্শকদের মন এখনও যোগ্য 
ও প্রস্তত হয় নাই। ভাবী কাঁলের অনাগত সমাজে ইহাঁর প্ররুত মূল্য অনুভূত হইবে। 
তখন লোঁকে সমস্বরে স্বীকার করিবে রবীন্দ্রনাথ বাংলার শুধু শ্রেষ্ঠ কবি নহেন, তিনি শ্রেষ্ট 
নাট্যকারও বটে। 


(খ) কাব্যনাট্য 
রবীন্দ্রনাথ সাহিত্য-জীবনের সুচনা হইতে “চিত্রা/-'চৈতালি” ঘুগ পর্যন্ত যে সব নাটক 
লিখিয়াছিলেন তাহা পদ্য-ছন্দে রচিত। সাধারণত এইগুলি নাট্যকাব্যরূপে খ্যাত। 
গীতি-কবিতাঁর উচ্ছ্বাস এবং লালিত্য ইহাদের মধ্যে আছে সন্দেহ নাই। 


২৩৮ বাংলা নাটকের ইতিহাস 


কিন্ধ ইহাদের মধ্যে নাটকীয় গতি ও আবেগ এবং ঘটনার চমৎকারিত্বও আছে; তাহা 
না হইলে ইহাদিগকে কখনো নাটক বলা সংগত হইত না। ইহাদের মধ্যে 
প্রাথমিক পর্বের নাটকগুলিকে প্রকৃতপক্ষে নাটক বলা যাঁয় কিনা সন্দেহ। এই সময়ে 
“ভগ্নহৃদয়” নামক একখানি গ্রন্থ কবি লিখিয়াছিলেন, নাটকাঁকারে লিখিত হইলেও কবি 
ইহাকে কাব্য বলিয়াছেন। “ভগ্নহৃদয়,কে যদি কাব্য বলিতে হয় তবে প্রকৃতির প্রতিশোধ, 
মায়ার খেলা” প্রভৃতি গ্রন্থকে কাব্য ন! বলিয়া উপাঁয় নাই। কিন্ত তবুও একটু উদা'রভাঁবে 
বিচার করিয়! রবীন্দ্রনাথের নাট্যাভাসরূপে ইহাদিগের আঁলোচন! চলিতে পাঁরে। দ্বিতীয় 
পর্বের নাট্যকাব্যগুলি নাটক হিসাবে সম্পূর্ন নিখুঁত এবং সার্থক। “বিসর্জন” এবং “মাঁলিনী*র 
মধ্যে ঘটনার এরূপ দ্রুত ধাবমান গতি, ভাবের এমন ক্ষ, সীমাহীন দ্বন্দ, এবং চরিত্রের এত 
স্থগভীর আবেগ রহিয়াছে যে, বাংল! নাট্যসাহিত্যে ইঠাদের তুলনা খুব কমই আঁছে। 
“মালিশী'র পর তিনি কতকগুলি দীর্ঘ কবিতা লিখিয়াছিলেন, তাহাদিগকে নাটক বলা মোঁটেই 
সমীচীন হইবে না। আমরা “কর্ণকুস্তী সংবাঁদ+, “গান্ধারীর আবেদন, প্রভৃতি কবিতার কথ। 
বলিতেছি। ডাঃ নীহাররঞ্জন রায় মহীশয় “চিত্রাঙ্গদ “বিদীয়-অভিশাঁপ? প্রভৃতি কবিতা- 
গুলিকে নাটক বলিতে সম্মত হন্নাই, অথচ এই কবিতাঁগুলিকে নাটক হিসাবে আঁলোচন। 
করিয়াছেন। এই কবিতাগুলি নাট্যাকাঁরে লেখা, এবং ইহাদের মধ্যে চরিত্রগুলির হৃদয়দন্দও 
হয়তো আছে। কিন্তু নাটকের মধ্যে বে ঘটনার জটিলতা, কাহিনীর যে ধারাবাহিক গতি 
এবং পরিণতি, বিচিত্র এবং বিভিন্ন চরিত্রের যে রকম সমাবেশ প্রয়োজন এই কবিতাগুলিতে 
সে সব নাই। স্থৃতরাং ইহাঁদিগকে কাব্য হিসাবে আলোচনা! করাই বিধেয়। 

রবীন্দ্রনাথের নাট্য রচনার উন্মেষ হয় “বাজীকির প্রতিভা*তে। ইহাঁতে সঙ্গীতের 
সুরের মধ্য দিয় নাটকীয় ঘটনা ফুটাইয়া তুল হইয়াছে । অতীব্দরিয় ভাঁবলোকবিহাঁরী 
সঙ্গীতকে রবীন্দ্রনাথ ইন্দরিক্গ্রাহ্ বস্তময় জগতে সঞ্চালন করিয়াছেন।১ নাটকখানির মধ্যে 
দেশী বিদেশী নান! বিচিত্র রাঁগ রাঁগিণীর লীল! দ্বারা এক অপূর্ব সঙ্গীতের মায়াপুরী সৃষ্ট 
হইয়াছে। এই সংগীতের তরঙ্ময় উচ্ছ্বাসে নাটকের ঘটনা ক্ষিপ্রগতি নৃত্যের ছন্দে 
নিমেষের মধ্যে চক্ষুকর্ণের মোহময় বিভ্রম জাগাইয়া শেষ হইয়া গিয়াছে । সে-কারণে 
নাটকের ক্রিয়া বিক্রিয়াগুলি যথেষ্ট ছন্দময় হয় নাই । বাঁলীকির রত্ব'কর দিকটা পরিস্ফুট 
হয় নাই, দয়া ও মমতীয় গলিয়া যাইবাঁর জন্য যেন তাহার হৃদয় প্রস্তুত হইয়াই ছিল, 
বালিকার এক কথাঁতেই তাহার দস্থ্যজীবন শেষ হইয়। গেল। দস্্যুগণের নির্মমতা এবং 
বাল্মীকির সহিত তাহাদের বিরোধিতা তরল হাস্যরসের মধ্যে পরিণত হইয়! নিতান্ত কৃত্রিম 
এবং মূল্যহীন মনে হইয়াছে । 'বাীকি প্রতিভার আসল এবং একমাত্র ছন্দ বান্সীকির 


পেস পাপন 











১। 'উড়িয়। চল। যাহার ব্যবসায় তাহাকে মাটিতে দৌড় করাইবার কাজে লাগানো গিয়াছে। বহার 
এই গীতিনাট্যের অভিনয় দেখিয়াছেন ভাহার1 আঁশ! করি একথা সকলেই স্বীকার করিবেন যে, সংগীতকে এইরূপ 
নাট্যকার্ষে নিযুক্ত করা) অসংগত বা শিশ্ষল হয় নাই ।, 

“জীবনম্থৃতি” । 


রবীন্দ্রনাথ ২৩৯ 


ম্‌ন--এই ঘন্ৰ হুক, ভাঁবময় এবং অন্তনিহিত ৷ এইখাঁন হইতে বিহারীলালের 'সারদামঙ্গলেঃর 
প্রভাব তাহার নাটকের মধ্যে পরিব্যাপ্ত হইয়াছে ।১ বাল্সীকি লক্ষ্মীর অনুগ্রহ গ্রহণ না 
করিয়। সরম্ঘতীর রুপা মস্তকে ধারণ করিয়া লইলেন ইহাতেও “সারদামঙ্গলেঃর ভাব 
হুবহু অন্ুক্ত । 

“বালীকির প্রতিভার ন্যায় 'কুদ্রচণ্ডেঃ সঙ্গীতের প্রাধান্য নাই, সংঘাতমূলক ঘটনাই 
ইচাঁর প্রাণ । কবির পদ্যছন্দ এখনেো। জড়ত।মুক্ত হয় নাই বটে, কিন্তু এই ছন্দ ক্রিয়াশীল 
ঘটন! ব্যক্ত করিতে অনেকাঁংশে সমর্থ হইয়াছে। 

নাটকের মধ্যে জুন্ধ জাঁলাময় প্রতিহিংসা এবং মধুর মমতাঁময় প্রেম--এই ছুই বিপরীত 
ভাবের লীলা লক্ষ্য করা গিয়াছে । অবিচাঁরিত, নির্বাসিত রুদ্রচণ্ড তাহার চিত্তকে 
বারিবিন্দুহীন শুষ্ক তপ্ত মরুভূমির মত করিয়া তুলিয়াছে, এই মরু দ্বারা সে নিজে দগ্ধ 
হইয়াছে, এবং অন্যকে দগ্ধ করিবার অবিচল চেষ্টা করিয়াছে । কিন্তু মনে হয় প্রতিহিংস। 
গ্রহণ করিবার অটল সংকল্পই বুঝি তাঁহার চরিত্রকে এরূপ কঠোর করিয়৷ তুলিয়াছে, ইহা 
যেন তাহার যথার্থ পাঁরচয় নহে। সেইজন্য পৃথ্থীরাজের পরাজয়ের সঙ্গে সঙ্গে তার 
প্রতিহিংসা অর্থহীন হইয়া যাওয়া সে যেন ভাঙ্গিয়া পড়িল। নিজের রুদ্ধ স্নেহ শতধারে 
উচ্ছুসিত হইয়া উঠিল। কন্ঠার কাছে তাহার আসল মর্ম উদ্ঘাটন করিয়! দিল-_ 

'আয় মা অমিয়া মোর কাছে আয় বাঁছ।। 
এতদ্দিন পিতা “তার ছিল না এ দেহে 
আজ সে সহসা হেথা এসেছে ফিরিয়া ।; 

রুদ্রচণ্ডের কঠোর প্রতিশোধস্পৃহ! তাহার চরিত্রকে ক্ষুদ্র করিতে পারে নাই, তাই 
মহম্মদ ঘোরীর গোপন সাহাধ্য প্রার্থনা সে দ্বণায় অগ্রাহা করিয়া ঘোরীর আগমন বার্তাই 
নগরে প্রচার করিতে চলিল, পৃর্বীরাজ তাহার শক্র বটে, কিন্তু পৃথ্বীরাঁজ যেন একমাত্র তাঁহারই 
শত্র, সেই শন্রর প্রতি বীরোচটিত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করিবার সংকল্প লইয়াই সে ঝচিয়া 
আছে। যখন সেই সঙ্কপ্ন সাধন করার সম্ভাবনা তিরোঁহিত হইল, তখন নিতান্ত ভগ্রন্দয়েই 
সে আত্মনাশ করিযা বদিল। এই অনমনীয়-চিত্ত, উন্নতশির, বিশাঁলপ্রাণ বীরের পরিণতি 
অত্যন্ত মর্মম্পশী । অমিয়া অরণ্যের আগ্নেয়গিরির পাশে শীতল প্রম্বণের ধারার 
নায়, অগ্নিতাঁপগীড়িত চিত্তকে শীস্ত ও তৃপ্ত করিবার জন্ত যেন বিরাঁজ করিয়াছে। সে 
কারুণ্য ও মমতার মৃত্তিকায় গড়। নিখুত নিফলঙ্ক প্রতিমা, রৌষ অভিমানের বিন্দুমাত্র মসীচিহ্ন 
সেই প্রতিমাকে কলঙ্কিত করে নাই। 


১। রবীন্দ্রনাথ 'বিহারীল।ল+ ন।মক প্রবন্ধে উত্ত কবির 'সারদামঙ্গল' কাব্য হইতে ভাব গ্রহণ করিয়! 
'বাল্ীকির প্রতিভা'তে নিবদ্ধ করিয়াছিলেন ত।হ্‌। মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করিয়াছেন--বাল্যকালে বালীকির প্রতিভ! 
ন।মক একটী গীতিন।ট্য রচন। করিয়। “বিদ্ধ জন সমগম' ন।মক সম্মিলন উপলক্ষে অভিনয় করিয়।ছিলাম। 
বংকিমচন্ত্র এবং অন্য।স্ঘ রসজ্ঞ লৌকের নিকট সেই হ্ষুদ্র নাটকটি শ্রীতিপ্রদ হইয়।ছিল। সেই নাটকের মুল ভীবটি, 
এমন কি, স্থাঁনে স্থানে তাহার ভা! পর্যস্ত বিহারীলালের সারদ।মংগলের আর্ত ভাগ হইতে গৃহীত ।' 


২৪০ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


প্রকৃতির গ্রতিশোধ নাটক হইলেও নাঁটকত্ব অপেক্ষা একটা বিশেষ তত্বই ইহার মধ্যে 
প্রধান। এই তত্বটা বার বার রবীন্দ্রনাথ বহস্থানে ব্যক্ত করিয়াছেন। কবি নিজেই 
বলিয়াছেন_-«“আমাঁর তো মনে হয় আমার কাব্য রচনার এই একটিমাত্র পালা । সে পালার 
নাম দেওয়! য।ইতে পারে সীমার মধ্যেই অসীমের সহিত মিকন সাধনের পাঁলা,।১ এই 
সীমা অসীমের মিলনতববই নাঁটিকাখানির মধ্যে ব্যক্ত হইয়াছে। সন্ন্যাসী অনীমের প্রয়াসী 
হইয়া বুঝিতে পারে নাই যে সীমার মধ্যেই অপীম স্থর বাঁজাইতেছে, অসীম তো সীমা 
হইতে বিচ্ছিন্ন নয়, সে যে সীমার নিবিড় সঙ্গ চাহিতেছে। এই সত্য সে শেষে বুঝিল, 
সে দেখিল--ক্ুদ্রকে লইয়াই বৃহৎ, সীমাকে লইয়াই অসীম, প্রেমকে লইয়াই মুক্তি। 
প্রেমের আলে! যখনি পাই তখনি যেখানে চোখ মেলি সেখানেই দেখি সীমার মধ্যেও 
সীমা নাই ।”২ নাটকের মধ্যে বার বার কতকগুলি সাধারণ নরনারীকে তুচ্ছ বিষয় লইয় 
মাতামাতি করিতে দেখা গিয়াছে । তাহার! অবান্তর এবং নাট্যসম্পর্কবিচ্ছিন্্ন মনে হইতে 
পারে; কিন্তু তাহারও একটা সত্যকে প্রকাশ করিতেছে । তাহার! খণ্ডসীমার মধ্যে আচ্ছন্ন 
থাঁকিয়া অসীমের স্পর্শ হইতে বঞ্চিত হইয়াছে । “প্রেমের সেতুতে যখন এই ছুই পক্ষের ভেদ 
ঘুচিল, গৃহীর সঙ্গে সন্ন্যাসীর যখন মিলন ঘটিল, তখনি সীমায় অসীমে মিলিত হইয়া সীমার 
মিথ্যা তুচ্ছত। ও অসীমের মিথ্য। শুন্যতা দূর হইয়া গেল।,৩ তত্ব বাদ দিলে নাটক হিসাবে 
প্রকৃতির গ্রতিশোধে'র তেমন কোন মূল্য নাই। সন্গ্যাসীর দীর্ঘ অন্তমূখী উক্তিগুলি 
নাটকের দিক দিয় অসঙ্গত এবং মূল্যহীন, নাটকের ঘটনা-সংস্থান দুর্বল এবং অসংলগ্র ও 
দৃশ্যগুলি আদিঅন্তহীন এবং নিরর্থক ।৪ “প্রকৃতির প্রতিশোধে”র গাঁনগুলি খুব চমতকার, 
রাঁধাকুষ্ণবিষয়ক গানগুলির মধ্যে সরস মাধুর্য তালে ভালে নাঁচিয়। নাচিয়৷ ফিরিয়াছে। 


“মায়ার খেলা"য় 'বাল্সীকি প্রতিভার ন্যায় স্থরের মধ্য দিয়া নাটকীয় ঘটন! বিবৃত 
হইয়াছে। ইহাকে নাটক বল! বোঁধ হয় সঙ্গত নয়, কারণ ইহাঁতে নাট্য মুখ্য নহে, গীতই 
মুখ্য । ইহাঁর সঙ্গীতের উচ্ছ্বসিত বঙ্কারে আমাদের মন আবিষ্ট হইয়া থাঁকে, ঘটনার গতির 
প্রতি আমাদের আর তেমন ওৎন্ুক্য থাকে না । নাটকথাঁনি শেষ হইলে মনে হয় আমর! 
বুঝি এক স্বপ্নময় রূপকথার রাজ্য হইতে ফিরিয়া আসিলাম, সেখানকার সঙ্গীতের রেশ গুন্‌ 
গুন্‌ করিয়া আমাদের কানে বঙ্কার তুলিতেছে, এবং আলো-আধারময় নয়নাভিরাম দৃশ্ঠ 
সৌন্দধ্য যেন আমাদেয় চোখ ধণধিয়া রাখিয়াছে। “মায়ার খেলা”র আখ্যানবস্তর সহিত 


১। 'জীবনম্যৃতি' 
২। জীবনম্থৃতি 
৩! এ 


৪ 8৮116 10185 11) 000 07151110118 2%0:6106]ঘ 19086 11) 001)901006101) ) 0) 9001069 772 
720060১ 161) 100 0108 1)9611)1001769 00010011169. 
12008071526 8 206% ৫ 10727/0686 
0 120%91:01010010010907), 7. 6১, 


রবীন্দ্রনাথ ২৪১ 
কবিনিন্দিত পূর্ববর্তী নাঁটিকা 'নলিনী"র সাঁদৃশ্ত আছে। ১ "মায়ার খেলা+ মানসী যুগে লিখিত 
হয়, মাঁনসী কাব্যের মধ্যে যে নিক্ষলতার কাঁকণ্য এবং প্রকাশের বেদন1ময় স্থুরটী প্রতিধ্বনিত, 
তাহা এই নাটকেও ফুটিয়াছে, ছুরাশায় বুক বাঁধিয়া কঙ্লিত প্রেমের সন্ধানে খুরিয়। বেড়াইলে 
কেবল ব্যর্থ হইতে হয়, প্রেম বে ধরা দিবার জন্ সাগ্রহ বাহু প্রসার করিয়া আমাদের পাশেই 
বি্যমাঁন রহিয়াছে তাঁহ। জাঁনিলে প্রেমকে পাওয়া যাইবে । নাটকটার দ্বিতীয় কথা--ছুঃখ ও 
বিচ্ছেদের হোমাগ্সিতে দঞ্ধ করিতে পাঁরিনেই প্রেমের খাটি পরিশুদ্ধ রূপের সহিত পরিচয় হয়। 
আত্মন্থখের জন্য প্রেম আশ। করিলে স্ুথ নষ্ট হয়, প্রেমও মিলে না । মায়াকুমারীগণের 
কথায়-_ 

এর! স্থখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মিলে নাঃ 
শুধু সুখ চ'লে যাঁয়, 
এমনি মাঁয়ার ছলন। ! 

॥ রাঁজ ও রাণী (১২৯৬, ॥ «রা1জ। ও রাণী” রবীন্দ্রনাথের কাব্যনাট্যের দ্বিতীয় স্তর সুচন। 
করিল। রবীন্ররনাথ তাহার পরবর্তী জীবনে পূর্বতন অনেক রচনাঁকেই প্রশংসা করিতে পারেন 
নাই। আলোচ্য নাটকখানি তথা! কথিত দে[যক্রটিও পরিণত বয়সে তীহ।কে যথেষ্ট গীড়। দিয়ছিল 
এবং পরিশেষে ইনার সম্পূর্ণ পরিবর্তন করিয়! “তপতী+ নাম দিয়া একখানি নূতন নাটক রচনা 
করিয়৷ তিনি ইহার সম্বন্ধে তাহার দায়িত্ব শোধ করিলেন। ২ চল্লিশ বৎসর পরে যে লোকের 
মানস ও দৃষ্টিভর্গির পরিবর্তন হওয়া স্বাঁভীবিক । আর রবীন্দ্রনাথের ন্যায় নিত্যনব-অনুভূতিশীল 
কবির পক্ষে তো কথ।ই নাই। সুতরাং সত্তর বৎসরের বুদ্ধি-বিদপ্ধ মন লইয়। তিনি যদি 
ত্রিশ বখসরের হৃদয় সমুদ্ধ রচনার সহিত একমত ন। হইতে পাঁরেন তবে অবশ্য তাঁহাকে কোন 
দৌষ দেওয়া! ঘাঁয় না কিন্ত সেজন্য পুধতন রচন|র মধ্যে অসন্ধিদ্ধ ভাবে দোঁষ অনুসন্ধান করা 
নিরাপদ ও সমীচীন নহে । ৩ কারণ কবির স্থম্পষ্ট মন্তব্য সন্বেও ইহা গ্রমাঁণ কর! দুরূহ নহে 
যে “রাজ! ও রাণী, একখাঁনি প্রথম শ্রেণীর নাটক এবং বাংল! সাহিত্যে যে ছুই একখানি 
ট্যাজেডি আছে ইহা! তাঁহাদের মধ্যে অন্তম । আমরা সে প্রমাণই করিতে চেষ্টা করিব। 

প্রথমত ঘেষে কারণে নাটকখাঁনি রবীন্দ্রনাথের কাছে নিন্দনীয় হইয়াছিল সেগুলি 
আমর! বিচার করিব। কবির আপত্তির প্রথম কারণ হইল ইহার লিরিকের আতিশয্য । যে 


১। আম।র পুর্বরচিত একটি অকিঞ্চিংকর গছ্য নাটিকার সহিত এ গ্রন্থের কিঞ্চিৎ সাদৃগ্ত আছে, পাঠকের! 


ইহকে তাহারি সংশোধন স্বরূপে গ্রহণ করিলে বাধিত হইব ।, 
বিজ্ঞাপন-_“মায়ার খেলা 


২। “অনেকদিন ধরে রাজা ও রাণীর ক্রটা আম।কে গীড়া দিয়েছে ।.*****.*তখনই স্থির করেছিলেম এ 
ন।টক আগাগোড়া নতুন ক'রে না লিখলে এর সদ্গতি হতে পারে না। লিখে এই বইটার সম্বন্ধে আমর সাধ্য 
মতে। দায়িত্ব শোধ করেছি।'--তপতী'র ভূমিকা 

৩। “রাজ! ও রাণী, ও তপতী'র প্রকাশকাল মথাক্রমে--১২৯৬ ও ১৩৩৩ সাল। 

৩১ 


২৪২ বাংলা নাটকের ইতিহাস 


যুগে তিনি “রাজা ও রাণী” লিখিয়াছিলেন তখন বিশ্বপ্রকূতি বিচিত্র রূপ-রস-গন্ধ-স্পর্শ তীহার 
হৃদয়কে কানায় কানায় ভাবাবেগে উদ্বেলিত করিয়া তুলিতেছিল । তখন যাহ! কিছু এই হৃদয় 
উৎস হইতে নির্গত হইতেছিল তাহাই লিরিকের শতম্থরে বর্ণিত হইয়াছিল। লিরিকের 
আতিশয্য নাটকের মধ্যে দৌষাঁবহ এবং “রাঁজা ও রাণী*ও যে সেই দোষ হইতে মুক্ত নয় তাহা 
সত্য। কিন্তু একথাও মনে রাখা উচিত যে নাটকের মধ্যে লিরিকের লক্ষণ থাকিলেই যে 
তাহা অপাংক্তেয় হইয়া যাঁয় এমন কোঁন কথা নহে। জগতের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার শেকসপীয়ারের 
নাটক হইতে নজীর লইয়৷ প্রমাণ করা যাঁয় যে লিরিকের উদ্দাম প্রবাহ অনেক স্থলে শ্রেষ্ঠ নাট্য 
রস-সমৃদ্ধ হইয়া উঠিয়াছে। নাঁটক বিশেষত প্রেমমূলক কাঁব্যনাটকের মধ্যে লিরিকের টান 
একান্ত অন্বভাবিক নহে। শেক্সপীয়ারের রোমিও জুলিয়েট নাটকের কথা এ প্রসঙ্গে 
উল্লেখ করা যাইতে পারে। প্রকৃত নাটকের মধ্যে লিরিকের মন্ময়ত৷ নাটকের তন্ময়তার 
সহিত এক অপূর্ব একাত্মতা লাভ করে। শ্রেষ্ঠ নাট্যকার দৃশ্টমাঁন বস্ত-জগতের ঘটনার 
আবর্তে ঘুর্যমান থাঁকিয়। মাঝে মাঝে দুরস্থিত ভাবজগতে তাঁহার কল্পনা-বিলসিত দৃষ্টি 
নিক্ষেপ করিতে ভালোব|সেন । ১ “রাজা ও রাণী'-র মধ্যে কবির কল্পনা-বিলাস অনেক 
জায়গায় সীম! অতিক্রম করিয়াছে বটে কিন্ত তবুও মনে হয় কবিতার প্রতি পদক্ষেপে, 
গানের প্রতি গ্থরমূছ্নায় এক সকরুণ ব্যর্থ প্রেম ভাঙ্গিয়! ভাঙ্গিয়৷ ঝরিয়া পড়িতেছে। 
লিরিকের রম্য জগতের মধ্যে স্থাপিত হওয়াতে কুমার ও ইলার প্রেম এক রোমা্টিক 
বিষাঁদ-সথন্দর রসে পরিন্নাত হইয়া উঠিয়াছে। তাহাদের মৃত্যুজয়ী, প্রেম যেন এক বেদনা- 
ভরা৷ কম্পমানা র।গিণীর স্তায় ধীরে ধীরে বাতাসে মিলাইয়া গেল। কুমার ও ইলার 
প্রসঙ্গে “রাজা ও রাণী” সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথের অন্ততর আপত্তি সম্বন্ধে এখন আলোচনা 
করিব। কবি বলিয়াছেন, “কুমার ও ইলী'র প্রেমের বৃত্তীন্ত অপ্রাসঙ্গিকতার দ্বারা নাটককে 
বাধা দিয়েছে এবং নাটকের শেষ অংশে কুমার যে অসঙ্গত প্রাধান্য লাঁভ করেছে তাতে 
নাট্যের বিষয়টি হয়েছে ভারগ্রন্ত ও দ্বিধাঁবিভক্ত |” কবির এই উক্তি আংশিক সত্য মাত্র, 
পূরাপূরি সত্য কখনই নয়। এ-কথ| অবশ্য অস্বীকার করা চলে না যে “রাজা ও রাণী, 
নাটকের শেষ দিকে কুমার ও ইলার কাহিনী অত্যধিক প্রাধান্য লাভ করাতে বিক্রম ও 
স্থমিত্রীর মূল কাহিনী খণ্ডিত ও বাধাপ্রাপ্ত হইয়াছে। কিন্ত তধুও এ-কথ৷ বলা 
নিতান্ত অন্তায় যে তাহাদের কাহিনী নাটকের মধ্যে “শোচনীয় রূপে অসঙ্গত; 
মূল-কাহিনীর অন্তর্গত উপকাহিনীর উদ্দেশ্যই হইল ঘটন!-সাদৃশ্য (91811611500) অথবা 
বৈসাদৃশ্ত (০০7055) দ্বার। মূলকাহিনীকে রসঘন ও আঁবেগচঞ্চল করিয়া! তোলা । কুমার 


] "1006 07270890178 00801100151160 1:01 00০ 151102] 10 0096 079 1850690 06091)0 
817)08% মা)01]5 01) 0006 63007698100 0£ 0100 1১0668 [99180721165, ৮11061:629 610০ 107000] 1001096 
€%০]: 1086 11160 & 91078100015 000 0016061%9 8110. 006 80101609616 

17016 1070775 & 4 2%008, 2 994 


রবীজ্নাথ ২৪৩ 


ও ইলার বৃত্তীন্তও এই নাটকে ভাব ও আদর্শের বৈসাদৃশ্ঠ দ্বারা বিক্রম ও স্থুমিত্রার 
কাহিনীকে ন্পষ্ট ও উজ্জ্বল করিয়। তুলিয়াছে। বিক্রম ও স্ুমিত্রার প্রেমের মধ্যে রহিয়াছে 
অস্তবিরোধ আর কুমার ও ইলার প্রেমে রহিয়াছে পাঁরম্পরিক বিশ্বী' ও আহ্গত্য। 
অবশ্ঠ ছুই প্রেমেরই পরিণতি ঘটিয়াছে বিবাদে ও ব্যর্থতায়,__ প্রথম ক্ষেত্রে চরিত্রগত ত্রাস্তি 
ও মোহের ফলে এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে বাহ্‌ শক্তির প্রতিকূলতার ফলে-- একটিতে 0১110র 
পরিণতি. আর একটিতে £১০০০ 7011০-এর পরিণতি । অন্যভাবে বল! যাঁয় বিক্রম- 
স্থমিত্র! এবং কুমার-ইলার পরিণাম হইয়াছে ষথাক্রমে ট্র্যাজিক ও প্যাঁথেটিক। ছুইটি 
কাহিনীর চরিত্র আলোচন| করিলেও সম্পূর্ণ বিপরীত ভাব লক্ষিত হইবে। বিক্রমের 
আসক্তি লালসায় অন্ধ এবং কর্তব্যের প্রতি পরাজ্ুখ কিন্তু কুমারের অনুরাগ ত্যাগসিদ্ধ 
এবং কর্তব্য-সচেতন। স্থমিত্র বৃহত্তর কল্যাণের আদর্শে উদ্বোধিত হইয়! তাঁহার অন্তর- 
কামন! নিরুদ্ধ এমন কি রাঁজার প্রতি বিমুখ করিয়া তুলিয়াছেন অথচ ইলা তাহার 
উদ্বেলিত বাঁসনার উচ্ছুসিত ধারায় কুমারের অন্তর ধৌত করিয়! দিয়াছে । ছুই কাহিনীর 
নধ্যে ভাব ও চরিব্রগত বৈপরীত্য দ্বারা যে নাটকীয় উদ্দেশ্য সিদ্ধ হইয়াছে তাহ! ছাড়াও কুমার- 
ইলার কাহিনী অন্ত প্রয়োজন পূর্ণ করিয়াছে । ইলার প্রবল ও অচঞ্চল প্রেম স্বর্গচ্যুত 
হতভাগ্য রাজার হৃদয়ে উর প্রতিহিংসা-জালা নির্বাপিত করিয়া ক্ষমাসুন্দর স্নেহের মন্দাকিনী 
ধারা প্রবাহিত করিয়৷ দিয়াছে। ১ রাঁজার মুখেই তাহার অন্তরের পরিবর্তন প্রকাশিত 
হইয়াছে-_ 
আমি কোন স্থখে ফিরি 

দেশ.দেশান্তরে, স্কন্ধে বহে জয়ধবজা, 

অন্তরেতে অভিশপ্ত হিংসাতপ্ত প্রাণ । 

কোঁথ! আছে কোন নিগ্ধ হৃদয়ের মাঝে 

প্রস্ফুটিত শুত্র-প্রেম শিশির-শীতল। 

ধুয়ে দাও, প্রেমময়ী, পুণ্য অশ্রজলে 

এ মলিন হস্ত মোর রক্ত-কলুষিত। 

“রাজ! ও রাণী” সম্বন্ধে বিরূপ হইয়! রবীন্দ্রনাথ 'তপতী” নাটক লিখিয়াছিলেন বটে, 
কিন্ত 'তপতী”র মধ্যে উচ্চতর নাট্যকলা-কৌশলের পরিচয় আছে কিন! সে বিষয়ে আমাদের 
ঘোর সন্দেহ রহিয়াছে । “রাজা ও রাণী র মধ্যে ইলা ও কুমারের কাহিনী যদি কবির মতে 
উপসর্গ” হইয়া থাকে, তবে “তপতী”র মধ্যে “নরেশ ও বিপাশা”র কাহিনী কি প্রবলতর 
উপসর্গ হয় নাই? 'লিরিকের প্লাবন” বলিয়া কবি “রাজা ও রাণী'কে অভিযুক্ত 


১। বন্ধুবর অধ্যাপক শ্রীসাধনকুমার ভট্টাচার্যের মত উল্লেখযোগ্য--'ইলার প্রবল প্রেম প্রেম-স্বর্গচ্যুত 
র।জাকে আবার শ্িষ্ক-স্পর্শে হিংসামুক্ত করিয়। তুলিয়াছে; রাজার ছুর্দান্ত হিংন্রতাকে প্রশমিত করিয়। দিয়াছে।' 
দ।টা-সাহিত্যের আলোচন। ও নাটক বিচার (২য় খণ্ড), পৃঃ--১৮৯। 


২৪৪ বাংল৷ নাটকের ইতিহাস 


করিয়ছেন, কিন্ত নরেশ ও বিপাশার ঘর-ছাঁড়া পথচারী-জীবনের কথায় ও গানে তো 
এই লিরিকের ছনদই ধ্বনিত হইয়াছে । কুমারসেন, চন্দ্রসেন, শঙ্গর প্রভৃতি চরিত্র রাজা ও 
রাণী'তে যেরূপ সজীব ও সংঘাতণীল ব্যক্তিত্ব লাভ করিয়াছিল “্তপতী*তে তাহাদের চরিত্রের 
সেরূপ কেন বৈশিষ্ট্য নাই। তাহারা এই নাটকে অস্ফুট, অপূর্ণ ও অকারণ হইয়! 
পড়িয়াছে। পূর্ববর্তী নাটকে নাঁটকীয় পরিবেশের যে জটিল বিস্তৃতি এবং আবেগ ও 
প্রবৃত্তির ষে ছুললজ্ব্য প্রভাব দেখানে। হইয়াছে পরবর্তী নাটকে সেগুলির নিতান্তই অভাব। 
“রাজ! ও রাণী'তে যদি হৃদয়ের আতিশয্য বিসদৃশ হইয়া থাঁকে, তবে “তপতী”তে মননের 
প্রার্যও বিগহিত হইয়াছে সন্দেহ নাই । আগের নাটকে বিক্রমদেবের চরিত্রের মধ্যে যে 
তীব্র প্রবৃত্তির সংঘাত ও সুচঞ্চল ক্রিয়াশীলতাঁর পরিচয় পাওয়! যাঁয়, পরের নাটকে তাহার 
অভাব খুবই চোঁথে পড়ে । কেরল স্ুমিত্রার চরিত্রায়ণে “তপতী”র উৎকর্ষ লক্ষ্য করা যাঁয়। 
'রাঁজ৷ ও রাণী”র মধ্যে স্থুমিত্রার চরিত্র শেষদিকে নিক্ষিয় ও বর্ণহীন, কিন্তু “তপতী”তে তাহার 
চরিত্র ক্রম-বিকাঁশের মধ্য দিয়া এক ত্যাঁগসিদ্ধ অগ্নিতপ্ত মহিম! লাঁভ করিয়াছে। 

“রাঁজ। ও রাঁণী”্র মধ্যে বিক্রমদেবের চরিত্র ছুর্বার অন্তঃপ্রবৃত্তির ছুশ্রতিরোধ্য তাড়নায় 
যে নিদারুণ ট্র্যাজিক দুঃখের গৌরব লাভ করিল বাংলা সাহিত্যে তাহার তুলনা! কমই 
আছে । বিক্রমদেব প্রবল হৃদয়বাঁন মানুষ । তাহার হৃদয়ে অনন্ত ক্ষুধা, সেই ক্ষুধাতৃপ্তির 
জন্য ত্রীহার প্রেমদীর্ণ হৃদয় অন্ুনয়ে স্থমিত্রার কাছে লুটাইয়া পড়িল। মহাঁসিম্থু তাহার 
ঘরে, তবুও তীহার ক শুষ্ক, সেই শুষ্কতা তাহার শিরা-উপশিরায় শত এাদাহের স্ 
করিল। স্থমিত্রা এই প্রদাহের নিবারণ করিতে পারিতেন, স্িপ্ঝ-শীতল প্রতিদানের দারা 
তিনি সেই উমর, অন্ুর্নর চিত্তভূমিতে কল্যাণ ও কর্তব্যের বাজ অস্কুরিত করিয়৷ তুলিতে 
পাঁরিতেন, কিন্তু তিনি তাহা না করিয়া রাঁজাঁকে ত্যাগ করিয়া চলিয়! গেলেন। যে 
আগুন রাজার ভিতরে জলিতেছিল, তাহ! প্রতিহিংসার লেলিহান সহস্রশিখারূপে ছড়াইয়৷ 
পড়িল চতুর্দিকে । কিন্তু ইহার শেষ কোথায়, শান্তিও ব। কোথায়? হিংসাঁয় শান্তি নাই, 
যুদ্ধে শান্তি নাই,__সেই নিষ্ঠুর পলাতক। নারা এখনও দূরে, তাহার নিকট হইতে বহুদূরে 
_হিংসার অন্তরাল হইতে বিক্রমের প্রেমিক-আত্ম৷ কীদিয়৷ উঠিল। রেবতীর কর ও 
হিংস্র মুখে তিনি নিজের প্রতিচ্ছবি দেখিয়। শিহরিয়া উঠিলেন, অন্যায় ও হিংসার পথে 
চলিতে চলিতে তিনি থাঁমিলেন। তাঁরপর ইলার ত্যাগনিষ্ঠ, অবিচল প্রেমের পুণ্যজ্যোতি- 
স্পর্শে তাহার চিত্ত হইতে লোভ ও হিংসার কুৎসিত আবরণ থসিয়! পড়িল, স্সিগ্ধ ক্ষমা ও 
করুণায় সিক্ত হইয়। তাহার আত্মা এক নবজল্ম লাভ করিল। বিক্রমদেবের আঁসল 
পরিবর্তন এইখানে । সেজন্য শেষদৃশ্ঠে যে আত্যন্তিক ছুঃখের অবতারণা করা হইল তাহা 
কাহিনীর অনিবার্য পরিণাম নহে। বিক্রমের মন কুমারকে ক্ষম! করিয়! তাহাকে অভ্যর্থনা 
করিবার জন্য প্রস্তত হইয়াই ছিল। বিক্রমের পরিবর্তন কুমারের জানা ছিল না৷ বলিয়াই 
দে আত্মহত্যা করিয়াছিল এবং তাহার কতিত মন্তক আনিয়া শোকে অভিমানে স্থুমিতর! 
প্রাণত্যাগ করিলেন । ইহীর পূর্বেই যে প্রতিহিংসাময় বিক্রম মনুষ্যত্বের নবদীক্ষা লাভ 


রবীজ্্নাথ ২৪৫ 


করিয়াছিলেন তাহ। তাহার জান! ছিল না। ভ্রান্ত ধারণ ও নিয়তি-নির্দিষ্ট অপ্রতিরোধ্য 
ঘটন! পরম্পরায় নাটকের ছুঃখ-পরিণতি ঘটিল। 

রবীন্দ্রনাথ ভোগকে ত্যাগের দ্বারা শুদ্ধ এবং সংযত করিবার কথ! বনু স্থানে বলিয়াছেন, 
“তেন ত্যক্তেন ভূপ্ীথাঃ” উপনিষদের এই বাণী কবি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করিয়াছেন । যে প্রেম 
কামনার স্থড়ঙ্গপথে চলে, ত্যাগ ও নিষ্ঠার রাজপথে বিচরণ করে না; সংসারের অশেষ 
প্রকার কর্তব্য নিয়ত “অয়ং অহং ভো” বলিয়া আহ্বান জ।নাইতেছে, যেই প্রেম তাহ শুনিতে 
পায় না) সেই প্রেম শুভ, মঙ্গলদাঁয়ক নহে, অশান্তি ও অতৃপ্তি তাহার একমাত্র পরিণাঁম ইহা 
ভারতীয়-সাধনা-নিমগ্রচিত্ত রবীন্দ্রনাথের অন্তরের কথা । “রাজ! ও রাণী'তে নাট্যকার 
গতাম্গতিক নাট্যধারা একেবারে অতিক্রম করিতে পারেন নাই, সেইজন্য অনেক স্কুল ও 
রোমাঞ্চকর ঘটনার অবতারণা ইহাতে আছে । কুমারের কতিত শির প্রদর্শন, স্থমিত্রার পতন 
ও মৃত্যু এবং ইলার আকম্মিক আগমন ও মুঙ্ছা-_ এইগুলি রবীন্দ্রনাথের সম্ ক্রিয়াময় নাটকের 
যথার্থ পরিচাঁয়ক নহে । 

॥ বিসম্ভুন (১২৯৮) ॥ “বিসর্জন” রবীন্দ্রনাথের শ্রেষ্ঠ নাটকসমূহের অন্যতম । হিংসার উপর 
প্রতিষ্ঠিত যুক্তিহীন ধর্মাচার কখনো! প্রকৃত ধর্মের অংগ হইতে পারে না ইহাই নাটকের 
প্রতিপাগ্য তত্ব। রবীন্রনাথের মানব-সত্তা স্থষ্টির শাস্তি ও কল্যাণের মধুর দিকটাই বরাবর 
উদ্বোধন করিয়! আসিয়াছে। বুদ্ধদেবের অহিংসাতত্ব তাহার জীবন-দর্শনকে বিশেষ গ্রভাবাদ্বিত 
করিয়াছে এবং চিরকাল ক্ষুব্ধকঠে তিনি ইহার প্রতিবাদ জানাইয়াছেন। ধর্মের নামে আমাদের 
দেশে সহিংস ব্যাপার ঘটিয়া আসিতেছে, কবি তাহা কোনে! দিন সমর্থন করিতে পারেন 
নাই । কবির ধর্ম বিশেষ করিয়া! তাহার গভীর মানবতা-বোঁধ হইতে উদ্ভূত, সর্বব্যাপী প্রেম এবং 
কল্যাণের উপর ইহার প্রতিষ্ঠা । “বালীকি প্রতিভার মধ্যে হিংসার বিরুদ্ধে বে প্রতিবাদ 
ধ্বনিত, তাহারই পূর্ণ তর এবং বিশিষ্টতর রূপ “বিসর্জন” নাঁটকে পরিস্ফুট । নাট্যকার তাহার 
তত্ব বিকাশ করিয়া তুলিলেন যেমন একদিকে ছুঃখাবহ ট্র্যাজেডির করুণ রসের মধ্য দিয়, 
তেমনি আবার ইতর লোকের নির্বোধ বিশ্বাসকে পরিহাসের স্নিগ্ধ আঘাতের দারা । 

“বিসর্জন” নাটকের নাটকীয় গুণ এবং'মঞ্চ-সাঁফল্যের কারণ ইহাঁর অসাধারণ আবেগময় 
বিরুদ্ধ শক্তির সবল সংঘর্ষ । নাটকের মধ্যে যেন মুহুমুুঃ ভ্রুত-ধাবমাঁন মেঘের পরম্পর-ঘর্ষণে 
অগ্নিগর্ত বিদ্যুৎ জলিয়া উঠিয়াছে। রবীন্দ্রনাথ বলিয়াছেন, «এই নাটকে বরাবর এই ছুটী 
ভাবের মধ্যে বিরোধ বেধেছে-_প্রেম এবং প্রতাপ। রঘুপতির প্রতুত্বের ইচ্ছার সঙ্গে 
গোঁবিন্বমাঁণিক্যের প্রেমের শক্তির দ্বন্দ বেধেছিল।”১ ছুই প্রধান শক্তির সংগ্রামে গুণবতী 
রঘুপতির সহায়ক হইয়াছিলেন, এবং অপর্ণ রাজার সহবো গিতা৷ করিয়াছিল। রঘুপতি ভুদ্ধ 


১। রঘুপতিকে বড় করিয়৷ রবীন্দ্রনাথ নিজ মহত্ব প্রকাশ করিয়াছেন, প্রতিপক্ষের মুখে দুর্বল যুক্তি ও 
ব্যবহ।রে ভীরুত' প্রকাশ করিয়। তিনি ঠাহ।র ন।য়কের প্রতি অবিচার করেন নাই ।" 
র “রবীন্ত্র-জীবনী'-_ প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, ২১৩ পৃঃ। 


২৪৬ বাংল নাটকের ইতিহাস 


সাঁগর তরঙ্গের ন্যায় চতুর্দিকে শবময় ফেনময় আঁবর্ত.বচনা করিয়! উপঘূপরি আঘাতের দ্বারা 
সন্ুখস্থ প্রতিবন্ধক অপসারিত করিতে চেষ্টা করিয়াছেন, কিন্ত গোঁবিন্দমাণিক্য অচল, অটল 
পর্বতের স্তায় তীহাঁর সমস্ত আঘাত অগ্রাহথ করিয় স্থির আঁসনে অবিকম্পিত হইয়া রহিলেন। 
রঘুপতি চিত্তহীন, সহায়হীন পুরোহিত ব্রাহ্মণ মাত্র, অথচ তাহাকে প্রবলপ্রতাপান্থিত রাজার 
বিরোধিতা করিতে হইয়াছে; সেইজন্য তাহার মানসিক শক্তি, বাক্যবল এবং জিগীষাবৃত্বির 
এন্ধপ অসামান্ত প্রভাব দেখাইতে হইয়াছে যাহাতে তাহাকে সর্ধক্ষমতাঁবান রাজার যোগ্য 
প্রতিপক্ষ বলিয়া মনে হয়। কবি গোবিন্দমাঁণিক্যকে জয়ুক্ত করিলেও তাঁহার বিপরীত 
শক্তিকেও হীন এবং খর্ব না করাতে নাটকের চিভচাঞ্চল্যকারী আবেগময় ভাব যথেষ্ট বৃদ্ধিপ্রাপ্ত 
হইয়াছে। রঘুপতি শান্ত্াচার এবং সংস্কারনিষ্ঠার মৃত্তিমান প্রতীক, তাঁহাকে ভ্রান্ত বলা যাইতে 
পারে, কিন্তু তাহার শক্তিকে লঘু করিয়া লাভ নাই। নাটকের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ যে সত্য 
প্রকাশ করিতে চাহিয়াছেন রঘুপতি তাহ! মানিয়! লওয়াতে সেই সত্যের জয় ঘোঁধিত হইল 
বটে, কিন্ত সেই জয়ে গৌরব কোথায়? যে বজ্র বিরাট ধ্বংস সাধন করিতে পাঁরিত 
তাহাকেই যেন কৌশলে তারের সাহায্যে মাটিতে চালান দেওয়া হইল। ভাগ্যের ক্রর চক্রান্তে 
তাহার নিক্ষিপ্ত শর ফিরিয়া আসিয়! তাঁহারই হৃদ্পিগুরূপ জয়সিংহকে উৎপাটন করিয়া দিল) 
তাহার রুদ্রতেজ, অমিত বলবীর্য মাটিতে মিশিয়। গেল। সেই অবস্থায় একট! নৃতন তত্ব 
আশ্রয় করিলেও তাহার চরিত্রের ট্র্যাজিক স্থুর কেবল আমাদের কাঁনে বাঁজিতে থাকে, 
তাহার নূতন জীবনকে আমরা সাগ্রহচিত্তে স্বীকার করিয়া লইতে পাঁরি না। রঘুপতি 
আমাদের উৎস্থক, কম্পমান চিত্তকে এরূপভাবে আচ্ছন্ন করিয়া রাখেন যে তাহার প্রতিপক্ষ 
গোবিন্দমাণিক্য সত্যাশ্রয়ী হইয়াও আমাদের চিত্বজয়ী হইতে পারেন না। তাহার শক্তি ও 
বীর্ষবত্তার প্রভাবের বিষয় আমরা জ্ঞাত হই বটে, কিন্তু সেই প্রভাবের বিকাঁশ আমরা . নাটকের 
মধ্যে লক্ষ্য করি'ন । তাঁহার ভাঁব এত অন্তরুঘী, আবেগ এত সমাহিত এবং কথা৷ এত শাস্ত 
ষে তাহাকে একেবারে নিদ্বন্দ, নিষ্রিয় মনে হয়।১ এই স্থির, নিস্তরঙ্গ বারিধিসদৃশ হৃদয়ে 
মাত্র একবার তরঙ্গবিক্ষোভ লক্ষ্য করিয়াছি, ষখন তিনি তাহার ভ্রাতার নির্বাসন আজ্ঞ। প্রদান 
করেন। রঘুপতি এবং গোবিন্দমমাণিক্য_ এই ছুই বিপক্ষ শক্তির আকর্ষণে তীব্র দোলায়মান 
অবস্থার মধ্যে জয়সিংহ বিরাজ করিয়াছে । একদিকে ধর্ম এবং গুরুর প্রতি অটুট শ্রদ্ধা এবং 
অপরদিকে নবজা গ্রত সত্যবোধ--এই ছুই বিপরীত ভাবের ঘন্দ তাহার জীবনকে নিতান্ত করুণ 
ও বিড়ম্িত করিয়া তুলিয়াছে। পরিশেষে আত্মবিসর্জনের দ্বারা সে সব ছন্দের নিরসন 
করিল। জয়সিংহের বিসর্জনে বঘুপতির আসল পরাজয় এবং পরিবর্তন, সুতরাং এই 


১। 'গোবিন্দমাণিক্যের চরিক্র মহৎ, কিন্ত বিকাশের দিক হইতে তাহা! নুন্দর নহে, তাহার মধ্যে কোনো 
ছিধ! নাই, ছন্দ নাই, সংশয় নাই) প্রতিমুহ্তের অনুভবের নূতনত্বের মধ্যে ষে রসের লীলা, মনের মধ্যে সংশয়ের 
যে দোলা, গে|বিন্দমাণিকে)র চরিত্রে তাহা। নাই ।' 

'রবীন্ত্র সাহিত্যের ভূমিকা! ( ১ম সং) ডাঃ নীহাররঞ্জন রায়--৩১৯ পৃঃ। 


ররীন্দ্রনাথ ২৪৭ 


বিসঞজনই নাটকের তত্বকে সার্থক করিয়াছে । ববীন্দ্রনাথ বলিয়াছেন--ধে শক্তি এই নাটকে 
জয়ী হয়েছে অপর্ণ। তাঁকেই প্রকাশ করছে। বাইরে থেকে তাকে ছুর্বল বলে মনে হয়, কার্যত 
তারই জয় হল।১ কিন্ত জয়ী শক্তিকে প্রকাশ করিলেও তাহার চরিত্র আবেগ চ1ঞ্চল্যের দ্বারা, 
ভাবের দ্বন্দ দ্বারা জীবন্ত হইয়! উঠে নাই ।২ “বিসর্জনে”র মধ্যে শুধু বলিদাঁনের বিরুদ্ধে নয়, 
প্রতিমা-পূজার বিরুদ্ধেও যেন একটা প্রচ্ছন্ন প্রতিবাদ রহিয়াছে । গোবিন্দমাঁণিক্য কেবল যে 
বলিদান বন্ধ করিয়াছেন তাহা নয়, প্রতিমার প্রতি যেন ভক্তিও তাঁহার নাই। রঘুপতি 
নিজের অপরাধ প্রতিমার উপরে চাপাইয়া তাহাকে বিসর্জন দিয়া যেন সর্বদৌধমুক্ত হইল, 
শান্তিলাভ করিল, দেবীর প্রতি তাহার আজন্মবিশ্বীস এবং ভক্তি মিথ্য। বলিয়া বুঝিল। 

“বিস্্দন, নাটকের মধ্যে কয়েক জায়গায় অসংগতি এবং অপূর্ণতা চোখে লাগে। 
প্রতৃভক্ত টাদপাল কিভাবে বিদ্রোহী হইয়া পড়িল তাহা আমরা বুঝিতে পারি না। গুণবতীর 
ফ্রবহত্যার ষড়যন্ত্র আকম্মিক, অস্ফুট এবং পূর্বাপর যৌগরহিত।৩ যে নারী এইন্নপ নৃশংস 
কাজ করিতে প্রবৃত্ত হয় তাহাঁর মনের যথাযোগ্য রিঙ্লেষণ হইয়াছে কিনা, এবং তাহার শান্ত 
নিরুদ্ধেগ পরিণতি সংগত কিন! এই প্রশ্ন আমাঁদের মনে জাগ্রত হয়। 

মালিনী ১৩০২ ॥ “বিসর্জনে”র সহিত পরবর্তী নাটক “মালিনীর অনেক বিষয়ে সাদৃশ্য 

আঁছে। «বিসর্জন, অপেক্ষা “মালিনী” অনেক স্বপ্লায়তন, পাত্রপাত্রীর বহুলত্বও ইহাতে একেবারে 
নাই। স্বল্প পরিসরের মধ্যে দৃঢ়সংহত ঘটন৷ বক্ষৌদগত নিশ্বীস বায়ুর স্াঁয় বক্ষকে চঞ্চল স্ফীত 
করিয়া মুহূর্ত মধ্যে আবার শূন্য, ফ'ক করিয়া দিয়া বহির্গত হইয়াছে। সুমধুর তানলয়বিশিষ্ট 
সঙ্গীতের স্তায় ইহ! ক্ষণকাঁলের মধ্যে শেষ হইয়। গেল বটে, কিন্তু ইহাঁর ক্রন্দনময় সুর কেবলি 
যেন আমাদের কানে অনুরণন জাগাইতে থাকে । “বিসজ'নে” ইতর লোকের কথাবার্তার সময় 
আমাদের মানসিক আবেগ চাঞ্চল্য স্থির করিয়া লইতে পারি, নাটকের শেষও হইয়াছে 
পরিপূর্ণ শান্ত রসের মধ্যে। কিন্তু 'মালিনী”তে পার্শ্ববর্তী কোনো দৃশ্ঠের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ 
করিবাঁর অবসর নাই, পরিপূর্ণ বিক্ষুব্ধ হৃদয়জাঁলার মধ্যেই নাটকখাঁনির যবনিক! পাত 
হইয়াছে । “ম[লিনী,র ট্র্যাজেডি অধিকতর ছুঃখময় এবং প্রভাবময় তাহাঁতে সন্দেহ নাই । ৪ 


১। পরিশিষ্ট-“বিসর্জন' (শান্তিনিকেতনে “বিসজন' অধ্যাপনা কালে রবীন্দ্রনীথ কৃ কথিত )। 
২। “অপর্ণ। একটি আইডিয়ার রসমূতি, কোনও জীবনের বিকাশ নয়, রত্তমাংসের একটি মানব কন্ঠ।র 
রূপ তাহার মধ্যে কে।খাও ফুটিয়। উঠে নাই । 
“রবীন্দ্র সাহিত্যের ভূমিকা” (১ম সং)-_ডাঃ নীহাররগ্রন রায়, ৩২০ পৃঃ । 
৩) 7306 15 201765 £8) 600 1066, 10007 61081) 1)911-দ97 01010010185 19 77806 11689 01 8100 
1021)0190 61:57 1011 17687660]5 .+ 
220571076750075 105 11107010801), 10, 98-99, 
৪। ডাঃ নীহীররগ্রন রায় মহাশয় “বিসর্জন” এবং 'মালিনী'র তুলনামূলক আলোচন! করিয়া যে মত 
প্রক।শ করিয়ছিলেন তাহ! প্রণিধ।ন-যোগ্য "ঢু'টি নাটকই ট্র্য।জেডি, কিন্তু তাহা সত্বেও মালিনীর ট্র্যাজেডি 
এত ঘনীভূত, এবং এত প্রবল, এবং এত স্বল্পকাল বিস্তৃত যে বিসর্জনের ট্র্যাজেডি সেই তুলনায় অনেকটা তরল 
এবং নিশ্রভ |” 
--র্বীন্্র সাহিত্যের ভূমিকা, পৃঃ ৩৩৮ । 


২৪৮ ংল। নাটকের ইতিহাস 


আর একদিক দিয়াঁও “মালিনী” “বিসর্জন অপেক্ষা শ্রে্ঠতর। চরিত্রের অস্তছন্দ 
এবং স্থসঙ্গত বিকাশ 'মালিনীতে অধিকতর পরিস্ফুট। “বিসর্জন, নাটকে চরিত্রগুলি 
দীর্ঘকাল স্থায়ী হইয়াছে, এবং ঘটনার বহুলত্বপূর্ণ চমৎকারিত্বও তাহাতে অধিক, সেইজন্য 
নাটকখানি হয়তো বেশি জনপ্রিয় হইয়াছে । কিন্তু নিখুত চরিত্র-বিশ্লেষণে “মালিনী'র 
তুলন৷ নাই। রঘুপতির চরিত্র অদ্বিতীয় হইলেও, তাহার পরিণতি সীমঞ্রস্তহীন। কিন্ত 
ক্ষেংকর রঘুপতির আদর্শে অংকিত 'হইলেও কবি যেন পূর্বতন চরিত্রের দৌক্রটি 
শোধরাইয়৷ লইয়! তাহাকে হ্ষ্টি করিলেন। সে সংস্কারগত ধর্মরক্ষার জন্য কঠোর সংকল্প- 
ধারী, সর্বপ্রকার চেষ্টায় অবিচলিতচিত্তে যত্রবান, কিন্ত সে স্নেহ-প্রেমহীন নহে, সুপ্রিয়ের 
প্রতি তাহার স্নেহ এবং নির্ভরত! বরাবর দেখানে। হইয়াছে । নারীর আকর্ষণ এবং মোহিনী- 
শক্তি সন্বন্বেও সে অজ্ঞান নয়- 
আমিও কি ভাবি নাই মুহূর্তের ঘোরে 
এসেছে অনাদি ধর্ম নারীমুতি ধরে 
কঠিন পুরুষমন কেড়ে নিয়ে যেতে 
স্বর্গপাঁনে? ক্ষণতরে মুগ্ধ হৃদয়েতে 
জন্মেনি কি স্বপ্লাবেশ ? 
কিন্তু তাহা সন্বেও সংকল্প সিদ্ধির জন্য সে হৃদয় জয় করিয়াছে । শেষ মুহূর্ত পর্যস্ত 
অনমনীয় আত্মমর্যাদায় সে অপরাজিত হইয়া রহিল, রঘুপতির মৃত বিপক্ষের সহিত আপোষ 
করিয়া লইল না । ন্থৃপ্রিয়ের সহিত জয়সিংহের মিল আছে; কিন্তু জয়সিংহের কঠোর 
অন্তদ্বন্দ, তাহার নিষ্ঠা এবং চরিত্রবল সুপ্রিয়ের মধ্যে নাই । সুপ্রিয়ের মধ্যে বিরুদ্ধ ধর্সের 
দ্বন্দ অপেক্ষা মালিনীর প্রতি আকর্ষণ-জনিত দুর্বলতাই অধিক গ্রবল হইয়া উঠিয়াছে, 
স্থতরাং জয়সিংহের মহত্ব তাঁহাতে নাই । বন্ধুর প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা করিয়া সে 
তাহার ভীরু এবং স্বার্থপর চিত্তকেই প্রকাশ করিয়াছে । নবধর্মের প্রতি আসক্তির কথা 
বলিয়। ইহ! সমর্থন করা চলে না।১ 
ক্ষেমংকরকে শেষ পর্যন্ত অক্ষুপ্ণ এবং অপরিবতিত রাখিয়া লেখক সুনিপুণ চরিত্র 
সুষ্টির পরিচয় দিয়াছেন তাহা পূর্বে আলোচিত হইয়াছে। শৃঙ্খলিত ক্ষেমংকরের অগ্রিব্ী 
বচন এবং স্প্রিয়-হত্যার দৃশ্য নাঁটকত্ব এবং চরিত্র-স্ষ্টির দিক দিয়া অনবদ্য একথা সকল 
সমালোচক মুক্তকণ্ে স্বীকার করিয়াছেন। কিন্তু এই হৃদয়বিদারক শেষ দৃশ্যে নাট্যকারের 
গ্রতিপাঁদিত তন্ব যে বিশেষ চাঁপ! পড়িয়। গিয়াছে তাহাতে সন্দেহ নাই। বস্তত মালিনীর 
তত্ব কোনে স্থলেই তেমন গ্রভাবশালী হইয়া দেখা দেয় নাই। স্থপ্রিয়ের চরিত্রের দ্বারা 


* “তাহার মন শা্ত, কিন্তু সে ছুর্বল, এমন কি ভীরু বলিলেও অততযুক্তি হয় ন।” 
'রুবীন্র জীবনী" ( ১ম খণ্ড) পৃঃ ৩০৭ । 


রবীজ্নাথ ২৪৯ 


এই তত্ব উদ্ঘাটিত হয় নাই, কারণ ব্যক্তিগত আকর্ষণই তাঁহার মনে প্রধান হইয়াছে । 
মবধর্মপ্রগারিকা মালিনীও যে তাহার ধর্মের মাহাআ্ম্য কোনে। স্থলে আচরিত ক্রিয়ার মধ্য 
দিয়। প্রকাশ করিয়াছে তাহাও নয়। যে দৃশ্যে সে সর্বসাধারণকে আকস্মিকভাবে স্বমতে 
আনয়ন করিয়াছে তাহ! অবিশ্বীশ্ত এবং অবাস্তব মনে হয়।১ মালিনী অতি সহজেই 
সকলকে বশীভূত করিয়। পুনরায় গৃহকোণে আশ্রয় গ্রহণ করিল। কিন্তু ইহাতে যেন 
আমাদের মন অধিকৃত হইল না, ইহা যেন সেই একেশ্বর সংগ্রামরত, সর্বপরিত্যক্ত 
ক্ষেমংকরের পিছনে লুটাইতে থাকে। তত্বের পরিস্ফুরণের দিক দিয়া “বিসর্জন” শ্রেষ্ঠ, 
এবং ভাব ও চরিত্র বিকাঁশনের দিক দিয়! “মালিনী, শ্রেষ্ঠ । 


(গ) প্রহসন 

রবীন্দ্রনাথের পূর্বে অনেকে প্রহসন লিখিয়াছেন, যথাস্থানে আমরা তীঁহাদের 
আলোঁচন! করিয়াছি, কিন্ত তাহার অহসন পূর্ববর্তী লেখকদের প্রহসন হইতে স্বতন্ত্। তিনি 
অন্নসংখ্যক প্রহসন লিখিয়াছেন বটে, কিন্তু তাহা সত্বেও প্রহসন রচয়িতারূপে তাহার পাশে 
দীড়াইতে পারেন, এমন লেখক বাংল! সাহিত্যে ছুই একজনের বেশি নাই। রবীন্দ্রনাথের 
ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে ধাহারা আসিয়াছেন তাহারা জানেন কবির চিত্ত সতত কি রকম সরস 
পরিহাসে পুর্ণ থাকিত। তাহার সঙ্গী, সেবাকারী এমন কি ভূত্য পর্যন্ত যথেষ্ট রসজ্ঞ -ন! 
হইলে তিনি তাহাদের পছন্দ করিতেন না।২ তাহার এই হাস্তকৌতুকময় চিত্তের পরিচয় 
বহুতর কবিতা, গল্প ও উপন্াঁসের মধ্যে রহিয়াছে। কিন্তু সুস্্ম অনুভূতিশীল, প্রথর 
স্বাতন্ত্র্যবোধ-সম্পন্ন কবি হাঁম্তরস জন করিতে যাইয়। নিজেকে হারাঁইয়। ফেলেন নাই। 
সেইজন্য তাহার হাস্তরসের মধ্যে একট! স্থুসংযত পরিমিতি-বোধ, একট। সযত্ব-চেষ্টালন্ধ 
সুপরিপাটি শব্দ-বি্তাঁস, এবং অন্তঃশায়ী সুগুঢ় রসের ব্যঞ্জনা লক্ষ্য কর। যায়। ॥যাঁহাঁদের 
চক্ষুরিক্ড্রিয় মাত্র হাস্যরস উপভোগের উপায় তাহার! রবীন্দ্রনাথের হাস্যরস গ্রহণ করিতে 
পারিবে না। বৈদগ্ধসেবিত মনকে উদ্যত রাখিতে পাঁরিলে তবেই এই রস উপলব্ধ হইবে। 
রবীন্দ্রনাথের প্রহসনের প্রধান গুণ_ইহাঁর স্থৃতীক্ষ সুন্সিপ্ধ ব্যঞ্জনাময় সংলাপ । ইহ অপরূপ 
আঁলোক-অন্ধকাঁরময়, শত ঝংকার-মুখরিত অভিনয়-আসরের ন্যায় আমাদিগকে আবিষ্ট, 
বিভ্রান্ত করিয়! রাখে, ক্ষণে ক্ষণে অচিস্তনীয়, অভাবনীয় শব্দের অভিনয় আমাদিগকে মুগ্ধ॥ 
চমত্কৃত করিয়। তোলে, কিন্তু এই অভিনয়ে বেরসিক অর্বাচীনের প্রবেশাধিকার নাই। 


1. 1071062ণ0, 0116 800106--01)86, 10612 05 1827 9110)1010 21)0099191006 ৪16 ভাঠ1)৪ ০৮] (106 * 
73190110109 1)0 21:0 01910011776 10 1107 1001)191)0)01)0-15 210905 21010501008 ; 16 90010, 700 
17959 11801061160, ০০০10 7106 702 0:9011)16, 001988 দা151) ৪01000116 & 1)01007:60 1010 10076 91156 
8100. 0010017)901100 01081) 6018 817900দ 211. 

£005,0101500 0৩ 11000810900, 2৮, 139. 


২। ্রীযুক্তা প্রতিম। দেবী লিখিত 'নির্বাণ', এবং শ্রীযুক্ত মৈত্রেয়ী দেবী রচিত “মংপুতে রবীন্দ্রনাথ: ভ্রষ্টব্য। 
৩২ 


২৫০ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


॥ বৈকুঠের খাতা (১৩০৩) ॥ “বৈকুষ্ঠের খাতা স্বল্লায়তন প্রহসন, মাত্র তিন দৃশ্তে ইহা 
সমাপ্ত । বৈকুণ্ঠের খাতা যাহা তাহার নিজের কাছে এত প্রিয়, তাহাই আবাঁর অপরের নিকট 
হান্াম্পদ হইফ্লাছে। কোনো ব্যক্তির কথা এবং আচরণ যদ্দি অন্ত সকলের অপেক্ষা বিভিন্ন 
হয় তবেই তাহ! হাস্তরসাত্মক হইয়! পড়ে।১ বৈকুষ্ঠের খাতার মধ্যে হয়তে। মুল্যবান অনেক 
সম্পদ আছে, কিন্তু অন্য লোকের তাহাতে আগ্রহ নাই, অথচ বৈকু্ সকলকে তাহা! শুনা- 
ইবেনই । কৌতুকরস বুদ্ধিপ্রাপ্ত হয় যদি একই রকম অথব! বিপরীত ধরণের ছুইটা চরিত্রকে 
একত্রে সমাবেশ করা হয়। মলিয়েরের প্রহসনে জোড় চরিত্রের কথার সঙ্গতি অথবা! অসঙ্গতি 
দেখাইয়। অনেক স্থলে সরস কৌতুকের স্থ্টি করা হইয়াছে । বৈকুগ্ঠের সঙ্গে সঙ্গে যখন 
অবিনাশকেও নিজের লেখা শুনাইবাঁর জন্য অতিমাত্রায় ব্যস্ত হইয়া উঠিতে দেখি, তখন 
আমাদের হাশ্ত দ্বিগুণ বধিত হয়। লেখক ইহাই দেখাইয়াছেন যে, বিশেষ অবস্থার মধ্যে 
পড়িলে সকলেই পাঁগলাটে এবং বাঁতিকগ্রস্ত হইতে পারে, স্থৃতরাং অন্য কেহ সরল এবং 
নির্বোধ ইহা মনে করিয়া অবজ্ঞার হাঁসি হাঁসিয়া লাভ নাই, অতি সহজেই স্থিরমন্তিফ 
বুদ্ধিমান ব্যক্তির বুদ্ধি ও বিচাঁরশক্তি লুপ্ত হইতে পারে। কেদার এবং তিনকড়ির 
জৌড়। চরিত্রও কৌতুকরসকে প্রবল করিবার জন্য একসঙ্গে স্থাপন করা হইয়াছে । ইহাদের 
জীবনের ধরণ এবং উদ্দেশ্য এক রকম হইলেও ইহাদের চরিত্রগত পার্থক্য বিদ্যমান । 
কেদার সুবিধাবাদী, আত্মন্রথাঘ্বেধী এবং প্রবঞ্চক। সে বাহিরে সাধু সাজিয়। কার্য সিদ্ধ 
করিবার চেষ্টায় থাকে ; কিন্ত তিনকড়ি আত্মন্তখপ্রয়াসী, পরনির্তরণীল হইলেও নিতান্ত স্পষ্ট 
এবং স্বচ্ছ, ধর! পড়িবার ভয় তাহার নাই। তিনকড়ির এক কথাতেই কেদার এবং 
তাহার চরিত্র উদ্ঘাঁটিত হইয়াছে--“বরাঁবর দেখে আসছি কেদা'র দা, শেষকাঁলটা তুমি ধরা 
পড়ই, আমি সর্বাগ্রেই সেটা সেরে রাখি_-আমার আর ভাবনা থাকে না। উদার, আত্ম- 
ভোল৷ বৈকুগ্ আমাদের হাস্রস উদ্রেক করিলেও হাশ্তরসের তরঙ্গাঁঘাতে যেন আমাদের 
চিত্ত-তটে শ্নেহ এবং সহানুভূতির পলিমাঁটি জমা হইতে থাঁকে। সেই বৈকু্কে শেষের 
দিকে সকলের অবজ্ঞাত, উপেক্ষিত হইয়া থাঁকিতে দেখিয়া আমাদের অন্তর করুণরসে 
পরিপূরিত হইয়া উঠে। বৈকুঞ গৃহত্যাগ করিয়া চলিয়া গেলে বইখান৷ পরিপূর্ণ বিষাদাস্তক 
হইয়৷ পড়িত, কিছ লেখক সামলাইয়। লইয় আবার সুখকর পুনগিলনের মধ্যে স্সিগ্ধ পরিতৃপ্ত 
জাগাইয়! তুলিলেন, পূর্বাপর সঙ্গতি বজায় রহিল । 

॥ চিরকুমার সভা! (১৩৩২) ॥ “চিরকুমাঁর সভা” রবীন্দ্রনাথের শ্রেষ্ঠ প্রহসন । রৌদ্রালোকিত 
বু্টিধারার ন্তায় বুদ্ধিদীপ্ত রুচির হাস্তরসের চিত্তাভিরাঁম লীলা সমস্ত গ্রন্থথানাকে অশেষ শ্রীতি- 


1. 11119] ০01000%০ তাহার 11000]: 11) 001)205 প্রবন্ধে হাহরসের (]100)01) সংজ্ঞ! 
নির্দেশ করিতে যাইয়। বলিয়াছেন--'4 81100187 21)0. 01)9,5010901)10 20821010670 00108 ০] ৪8)1100 
81)701)11)0) 106001127 1)0 1190002] 0 0106 20781) 01115, 0 দা1)10)) 1719 810001) 2180 20010170929 
019017)00181)00, 07021) 07099 01 00767 1010)., 

7170082% 277601%69 0 27175 07 01818 1১,214, 


রবীন্দ্রনাথ ২৫১ 


গ্রদ করিয়া তুলিয়াছে। বিদগ্ধজনপ্রিয় বাক্যাবলীর চমৎকারী প্রয়োগে, উপম! দ্ূপকের ঘটায়, 
যমক-অনুপ্রাস-শ্লেষের ছটায় নাটকীয় কথাগুলি বিদ্যুৎ আভায় ঝলমল করিতেছে । ক্ষণে 
ক্ষণে যেন ইহারা আমাদের নয়ন ধাঁধিয়া, আমাদের অন্তর ঝাঝিয়া দিতেছে। “চিরকুমার 
সভা+র সর্বপ্রধান গুণ ইহাঁর অর্থময়, ধ্বনিময় সংলাপ। কিন্তু সংলাপের চমতকারিত্ব সত্বেও 
ইহারা কাহিনীর দুর্বলতা বিশেষ লক্ষণীয়। ইহাতে কোনো মধুর যড়যনত্রময় ঘটনা আমাদের 
আগ্রহ এবং গুৎস্ুৃক্যকে সজোর আক্রমণে উন্মুক্ত করিয়। রাখিতে পারে না। পঞ্চম অঙ্কের 
পূর্বে কোনো সরস ভ্রান্তি এবং কৌতুকাঁবহ অসঙ্গতি নাটকীয় কৌতূহলের স্থষ্টি করিতে 
পারে নাই। প্রহসনের মধ্যে অনেক সময় কৃত্রিম বাধা ও অস্থায়ী ছন্দের সঞ্চার করিয়। 
কৌতুকরসকে জমাট করিয়া তুলিতে হয়। কিন্তু আলোচ্য প্রহসনে কোনে সমস্তার ছন্দ 
এবং তাহার অতি তৃপ্তিজনক সমাধান দেখানো হয় নাই। চিরকুমার সভার কৌমারধবত 
এবং ইহার বিরুদ্ধে বিবাহের ষড়যন্ত্র এই ছুই ভাবের প্রতিকূলতা বেশ স্পষ্টভাবে প্রহসনের 
মধ্যে দেখানো! উচিত ছিল, কিন্ত তাহা মোটেই ভালোভাবে স্ফুটিত হয় নাই। চিরকুমার 
সভার সভ্যগুলি যেন কৌমার্ ভাঙ্গিবার জন্য পা বাঁড়াইয়াই আছে। পূর্ণর তে। কথাই 
নাই, সে নিজের ক্ষেত্র স্থবিধাজনক করিয়া লইবাঁর জন্তই সভ্য হইয়াছিল। শ্রীশ এবং 
বিপিনেরও মনে কৌমার্যরক্ষার জন্য কোঁন দৃঢ় সংকল্প নাই, কোনো বলিষ্ঠ প্রয়াস 
নাই। ভ্রান্ত এবং বাঁতিকগ্রন্ত লোকের পরাজয়ে তখনি আমাদের কৌতুকাঁনন্দ উদ্রিক্ত . হয়, 
যখন সেই ভ্রান্তি এবং বাঁতিকের পিছনে সবল ইচ্ছা এবং সুদৃঢ় নিষ্ঠা থাকে ; ছুর্বল দ্বিধা গ্রস্ত 
লোকের পরিবর্তনে অথবা পরাজয়ে আমাদের আগ্রহ ও কৌতুহল থাকে না ।১ 

স্বয়ং চন্দ্রবাবু পর্যন্ত-_যিনি কৌমার্ধনীতির ধারক, কুমার সভার নায়ক, এবং কুমাঁরগণের 
চালক, তিনিও যেন অতি সহজেই বিবা্পপ্রথাকে মানিয়া লইলেন। সুতরাং মনে হয় 
চিরকুমার সভা! কয়েকজন দুর্বল ব্যক্তির সংশয়ী চিত্তের উপর ভিত্তি করিয়াই প্রতিষ্ঠিত ছিল। 
ইহ! তে বরাবর ভাঙ্গিয়াই ছিল, স্ৃতরাঁং ইহাকে আরও ফলাও করিয়া ভাঙ্গিয়া লাভ কি? 
প্রহসনের কৌতুকরস উৎসারিত হইয়াছে প্রধানত অক্ষয় এবং রসিকের দ্বারা । ইহার! সুস্থ 
স্বাভাবিক, বুদ্ধিণীল চরিত্র ; অস্াঁন্ত চরিত্রের ভ্রান্তি ও অসংগতি লইয়! ইহার! হাস্য পরিহাস 
উদ্রেক করিয়াছে । বাঁঙালী সমাঁজে ঠাকুরদা-নাঁতনী, এবং শালী-ভগ্রীপতি-সম্পর্ক বিশেষ 
স্থবিধাঁজনক এবং রসাল; রসিক ও অক্ষয় এই সম্পর্কের স্বযৌগে অনেক ঠাট্টা-তামাসা 
করিতে পারিয়াছে। রসিকের স্থমধুর সংস্কৃত কবিতা আবৃত্তি, অক্ষয়ের সুম্বর সঙ্গীতলহরী, 
নৃপ-নীরবালার সুক্সিগ্ধ চাঁঞ্চল্যবিলীস এমন এক কৌমুদ্রীন্নাত মগ্ুকুঞ্জ-কাঁননের সৃষ্ট উনি 
যেখাঁন হইতে অবিরত মধু ও সৌন্দর্য ক্ষরিত হইতেছে। 


১। ডাঃ স্বোধচন্জ্র সেন মহাশয় “চিরকুমার সভা”র একটু কঠে।র সমালোচনা করিয়াই একস্থানে যাহা 
বলিয়াছেন তাহা সত্য-'যে চিরকুমারের, ব্রত ভঙ্গ করিবার জন্য রমণীর দরকার হয় না, শুধু গানের থাত। বা 


রুমাল হইলেই চলে, তাহাদের পরাজয়ে যে হাগ্তরসের সঞ্চার হয় তাহা উচ্চান্সের নহে ।' 
'রবীন্দ্রনাথ'্-পৃঃ ই৩৪ । 


২৫২ বাংলা নাটকের ইতিহাস 


রবীন্দ্রনাথ বৈরাগ্য এবং সন্ন্যাসধর্মকে কোনে! দিন শ্রদ্ধা করিতে পারেন নাই। “বহুবার 
তিনি বলিয়াছেন যে তিনি “অসংখ্য বন্ধনমাঝে মহানন্দময় মুক্তির স্বাদ” লাভ করিতে চাঁন। 
কবির জীবনীকার প্রভাতবাঁবু বলিয়াছেন যে তিনি সম্ভবত স্বামী বিবেকানন্দের দন্গ্যাসী 
সম্প্রদায়কে পরিহাস করিয়াই প্রহসনখান! রচনা! করিয়াছিলেন ।+১ চিরকুমাঁর সভা! যখন তিনি 
লিথিয়াছিলেন তখন তাহার মানস-সত্ত। “চিত্রা+-“চৈতালি” পর্ব সাঙ্গ করিয়। “ক্ষণিকাঁতে 
পরিক্রমণ করিতেছে । ধরণীর বিচিত্র রূপ, রস, সৌন্দর্য তাহাকে এখনে প্রবলভাবে আকর্ষণ 
করিতেছে । ভোগবিমুখ বৈরাগ্য এখন তাহার কাছে মূল্যহীন, হাস্কর। মনের এই 
অবস্থায় তিনি প্রহসনথানি রচন। করেন । 


॥ শেষরক্ষী (১৩৩৫) ॥ 'শেষরক্ষা” রবীন্দ্রনাথের প্রহসন “গোড়ায় গলদের সংস্কৃত এবং মাজিত 
রূপ। 'চিরকুমার সভাঁ”র অপূর্ব বাঁগবৈদগ্ধয এবং সুক্ষ হাস্যরস ইহাতে নাই বটে, কিন্ত ইহার 
ঘটনার বুননি অধিকতর কৌশলপূর্ণ। ডাঃ স্থুবোধচন্ত্র সেন মহাশয় প্রহসনখানার সমালোচনা 
প্রসঙ্গে বলিয়াছেন -_-:এই প্রহসনের মুল উপজীব্য চরিত্র-স্থষ্টি নহে, আর্টের কাজ চরিত্র সৃষ্টি, 
মানব হৃদয়ের ছুঙ্ঞেয় রহস্তের সন্ধান । ঘটন1র সন্নিবেশ সেই দুর্জয় রহস্তের সন্ধীনের উপায়- 
মাত্র। ইহাই বদি মুখ্য হইয়। পড়ে, তবে আর্ট ক্ষুণ্ন হইয়া পড়ে ।” উপরিউক্ত মন্তব্যের মধ্যে ডাঃ 
সেন প্রহসনের সংজ্ঞ! সম্বন্ধে স্থুবিচাঁর করেন নাই । প্রহসনের (52:০6) হাস্তরস জটিল ঘটনার 
কুশল সমাবেশের উপর নির্ভর করে ।২ চরিত্রক্ষ্টি ইহাতে মুখ্য নাও হইতে পারে। সুতরাং 
চরি্রহষ্টি 'শেষরক্ষা+য় উল্লেখযোগ্য না হইলেও নিপুণ ঘটনাবলীর সরস সংস্থাপনে ইহ। শ্রেষ্ঠ 
প্রহসনরূপে স্বীকৃত হওয়৷ উচিত। প্রহসনের মধ্যে তিন জোড়া পাত্রপাত্রী তিন রকম স্বতন্ত্র 
ঘটনারস হ্ৃষ্টি করিয়াও পরম্পরের সহিত অবিচ্ছেষ্চভাবে যুক্ত হইয়াছে। চন্দ্র এবং ক্ষান্তর 
অল্লমধুর দাঁম্পত্য-প্রেম, বিনোদ-কমলের অর্থসমস্া-পীড়িত বিচ্ছেদমিলনময় সম্বন্ধ এবং গদাই 
ও ইন্দুর ত্রান্তি-মধুর অনুরাগ- এই তিন প্রকার আখ্যান প্রহসনের মধ্য রহিয়াছে। এক 
জায়গায় মাত্র ঘটন। সংস্থান জটিল এবং অবিশ্বীস্ত হইয়াছে । কমলের হঠাঁৎ বিপুল অর্থপ্রাপ্তি 
এবং বিনোদের সহিত কথোপকথনের মধ্যেও যে তাহার ছদ্ম ব্যক্তিত্ব ধরা! পড়িল না ইহা 
অসম্ভব মনে হয়। মনে হয় অর্থসঙ্কটের মধ্যে বে সমস্যা ঘনাইয়া আঁসিতেছিল তাহাই ঘেন 
নাট্যকার অকম্মাৎ সমাধান করিয়৷ দ্রিলেন। প্রহসনের পরিশেষে সকলেরই শেষরক্ষ। হওয়ায় 
সর্বজনীন -প্রসন্নতা-জাত কৌতুকরস আমাদের মনে স্নিগ্ধ তৃপ্তির সঞ্চার করে?। 

১। “আমরা ষে সময়ের কথা আলোচন1 করিতেছি সে সময়ে শ্বামী বিবেকানন্দ তাহার নুতন সন্ন্যাসী 
সম্প্রদায় গঠনে রত । শিক্ষিত যুবকগণের মধ্যে চিরকুমার খাকিয়। সন্গ্যাসী হইয়। দেশ সেবায় ব্রতী 'হইবার জন্ত 
একটা প্রেরণা আসিয়াছিল। আমাদের মনে হয় রবীন্দ্রনাথ যখন এই নাটকখানি লিখিতে আরম্ভ করেন তখন 
তাহার মনের মধ্যে তরুণ বাংলার এই নুতন সাধনার রূপ জাগিতেছিল। ভাহার মতের বিরোধী-এই 
চিরাকৌমার্যকে তিনি প্রহসনের বিদ্বপবাণে পর।ভৃত করিবার চেষ্টা করিয়াছিলেন । 

“রবীন্দ্র হীবনী" (১ম খণ্ড)--পৃঃ ৩৪৪ । 


২। +.,1068 10217 01218060719009 81০ 06100101702 11) 16 01 011279066]: 200 01 01910%09 
011)010 27761:5 জিন 
776 777:607% 07)70726 05 [1০0]]. 


রবীক্্নাথ ২৫৩ 
(ঘ) সাঙ্কেতিক নাটক 


এই পর্যস্ত রবীন্দ্রনাথের যে নাট কগুলির আলোচন! হইল সেইগুলি প্রচলিত নাট্যধারার 
অনুযায়ী। কিন্তু এখন আমর! তাহার যে নাঁটকসমূৃহ আলোচনা করিতে. প্রবৃত্ত হইব 
সেইগুলি বাংল! নাট্যসাহিত্যে এক সম্পূর্ণ অভিনব ধারাঁর প্রবর্তন করিয়াছে । “রবীন্দ্রনাথের 
পূর্বে সাঙ্কেতিক নাটক বাংল! সাহিত্যে ছিল না, এবং তাঁহার পরেও এই নাটক আর লেখা 
হয় নাই। এই নাট্যরীতি তিনি ইউরোপীয় সাহিত্য হইতে গ্রহণ করিয়াছিলেন ইহা অনুমান 
করা অসংগত নহে।১ অবশ্বা তাঁহার নাটকের ভাব এবং সুক্ষ ঘন্দ_-এ সব তাহার সম্পূর্ণ 
নিজন্ব। যে বিশেষ মাঁনস-অন্ুভূতির পরিচয় তাহার সা্কেতিক নাটকে রহিয়াছে, তাহার 
সহিত পাশ্চাত্য সাঙ্কেতিক নাট্যের কোন যোগ নাই। 

মান্নষের ব্যক্ত ও অব্যক্ত জগতের মধ্যে চিন্ত! ও চেতনার অনন্ত পাঁরাবার প্রবাহিত । 
সেই পারাবারের বিচিত্র-গভীর তরঙ্গ-লীলা চিরকাল মানুষের বিস্ময় ও কৌতুহল উদ্রেক 
করিয়াছে । মানুষের মনের সেই বিশ্ময়-কৌতৃহল প্রকাশ করিবাঁর অবিরাম চেষ্টা তাহার 
জীবন ধারায় লক্ষ্য করা গিয়াছে । সে ভাষা হৃষ্টি করিয়াছে । কিন্তু সেই ভাষা দ্বারা 
সে মনের অনির্বচনীয় ভাবরহস্তের অপূর্ণ ও আংশিক প্রকীশ করিতে পারে মাত্র। সেই 
প্রকাশভঙ্গির আরও স্ুষ্ঠুতরঃ আরও পূর্ণ তর রূপ দিবার জন্য সে ব্যবহার করে সংকেত 
অথব প্রতীক। অবশ্ঠ তাহার ভাষাও এই সংকেত ছাড়া আর কিছুই নহে। ভাষা 
হইল অর্থবাঁন ধ্বনির সমষ্টি, এবং সেই সব ধবনিও বিশেষ বিশেষ প্রাণী ও বস্তর সংকেত 
মাত্র । মানুষের চিন্তা ও অভিজ্ঞত! বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই ধ্বনির বিচিত্রতা ও সেই কারণে 
ভাষাঁরও জটিলতা! দেখা গিয়াছে। ৮₹কিন্ত তথাপি এই ভাষা-সংকেত ছাঁড়া আর বন্প্রকার 
সংকেত ব্যবহারের ' প্রশ্নোজনীয়তা তাহার রহিয়৷ গেল। মানুষ অপূর্ণ, তাহার ভাষাও 
অপূর্ণ :৮সেজন্য সেই ভাষা দ্বারা কোন পূর্ণভাব ও আদর্শ প্রকাশ করা সম্ভব নহে। 
কিন্ত সেই পূর্ণতার গ্োতনা আসে মংকেত হইতে ।২ নারী-সৌন্দর্যকে বুঝাইবাঁর জন্য যখন 
একটি গোলাপ ফুলকে সংকেত রূপে ব্যবহাঁর করা হয় তখন নারীসৌনর্ধের পূর্ণ আদর্শ ই 
আমাদের মনে আভাসিত হইয়া উঠে। হিন্দুগণ ভগবানকে সাধনা করিবার জন্ত নানা 
দেবমূত্তির প্রতীক নির্মাণ করিয়া থাকেন। প্রতীক মাঁটি অথবা পাথরের হইতে পারে, কিন্ত 
তাহার মধ্য দিয়! ভক্ত সাঁধক ভগবানের পূর্ণ মহিমাই উপলদ্ধি করিয়া থাঁকেন। রাজা 


১) 1518 06551010100170 01 1015 01:108 10111091019 1098 10159 1700 11716 101) 0106 70036 
[5000] 018109 0:1 01)9 0110, 16189 0621) 8 11)0019017061)6 09101011161), 17) 6139 010917) ; 
00611618 1] ৪7০ 01 স])00 1৪ 11910000010 0009106 [07019, 8100. 60 11018 10110 8 101106 19. 
1012 01191) 9 10]] 63000916101) 1৪ 60 1005 [90263 

12006707017 1) 1110010070901). 


২। 5101)018 87৪ 600 0017 017006807০০ 61100819102) 81] 1001708 6০ 81069 ০: 


[06:০০৮100, 
10688 ০ £০০৭. & 65110 ডা. 73. 56৪6৪, 160 





২৫৪ বাংলা নাটকের ইতিহাস 


দৌষক্রটিপূর্ণ মানব হইতে পারেন কিন্ত তাহার হত্তধূত রাজদগ্ু পরিপূর্ণ রাজসভারই প্রতীক। 
শুধু কেবল নির্জীব জড় পদার্থ* যে প্রতীকররে ব্যবহৃত হয় তাহা নহে, সজীব মানুষও কোন 
কোন ভাব বা আদর্শের প্রতীক হইতে পারে.। রামচন্দ্র বিশেষ ব্যক্তি মাত্র নহেন, তিনি 
চিরকালীন আদর্শ মানুষের প্রতীক, তেমনি রাঁবণও মানুষের দুর্দান্ত প্রবৃত্তিরই চিরন্তন 
প্রতীক হইয়! রহিয়াছে। রূপকথার প্রবাঁল-পাঁলক্কে শয়ান ঘুমন্ত রাঁজ-কন্যার কথা আমরা 
পড়িয়াছি, সেই রাজ-কন্তার মা্ুষীসত্বা লুপ্ত হইয়৷ গিয়াছে কিন্তু আমাদের অন্তরের 
শাশ্বত সৌন্দর্য-সত্বারূপে সে চিরকাল বাঁচিয়া রহিয়াছে । এই সব প্রতীক বিচার করিলে 
বুঝ৷ যাইবে যে, মানুষের ভাবরহস্য ব্যাখ্যা করিতে সেই সব ব্যক্তি বা বস্তই প্রতীকরূপে 
ব্যবহৃত হইতে পারে যাহাঁদের সম্বন্ধে মানুষের মনের মধ্যে বহুকাঁলপোঁধিত ধারণ! ও সংস্কার 
আছে। মুক্তধারা ও রক্তকরবীর স্বভাবধর্স কি তাহা আমর! জানি বলিয়াই উহাদের সঙ্কেত 
আমর! ঠিক বুঝিতে না! পাঁরিলেও অনুমান করিতে পারি এবং নিশ্চয় অনুভব করিতেও পাঁরি। 

সাহিত্যে চিরকাল সঙ্কেতের ব্যবহার হইয়া আসিতেছে । আর্থার সাইমন্স বলিয়াছেন, 
সাঙ্কেতিকত৷ ছাড়া কোন সাহিত্য হইতে পাঁরে না।১ ইয়েটসও বলিয়াছেন যে, শুধুমাত্র 
গল্লপকথন অথবা নিছক চিত্রাঙ্কন ছাঁড়া সব শিল্পকলাই সাক্কেতিক।২ শিল্পী তাহার শিল্প- 
কল।র মধ্যে রঙ ও রেখ, স্তর ও ছন্দের যে স্ুমিল সমাবেশ করেন তাহার ফলে আমাদের 
মনের মধ্যে এক অনির্বচনীয় ভাবব্যঞ্জনার সঞ্চার হয়। এখানে শিল্পকলার উপাদানগুলি 
গুঢ় ভাবপ্রকাশের সক্ষেত ছাড়া আর কিছুই নহে। ইয়েটস এই ভাবসক্কেতকেই ৪0709010781 
55100] বলিয়াছেন । আমাঁদের সংস্কৃত সাহিত্যের ধ্বনিবাদীরাও ব্যক্ত ধ্বনির মধ্যে এক 
গুঢ় অর্থের সঙ্কেত লইয়া বিশদ আঁলোচন! করিয়াছেন। সাহিত্যের এই মৌলিক সঙ্কেতধর্মের 
কথা ছাড়িয়া! দিলেও ইহার অন্তনিহিত চরিত্র ও ঘটনাগত সাঙ্কেতিকন্তা আমর! প্রায় সব বড় 
সাহিত্যিকের রচনাতেই দেখিতে পাই। যেখানে সাক্কেতিকতা সেখানেই একটি 
রহস্তগ্যোতনা, একটি আঁশা-আশঙ্কিত ঘটনার সম্ভাবনা আমাদের মনের মধ্যে ভাঁসিয়। উঠে। 
আমাদের জানা ও চেনা! জগতের অন্তরালে যে একটি অনৃশ্ঠ, অনির্দেশ্য ঘটনা-জাল 
বিস্তৃত হইতেছে তাহারই অস্পষ্ট আভাস পাঁওয়! যাঁয় এই সাঙ্ষেতিকতার মধ্যে । ম্যাঁকবেথ 
নাটকের প্রথমেই যে বজ্র-বিদ্যুতের অবতারণা কর! হইয়াছে তাহা হইতেই কি সমগ্র নাটকের 
ইঙ্গিত স্পষ্ট হইয়া উঠে নাই? ইবসেনের [708 ৫919: নাটকে [০349 তাহার 
আকাজ্িত নায়ক [,০৬৮০:৫-কে বার বার ৬1. 16৪5-এর সহিত যুক্ত করিয়া ভল্লেখ 
করিয়াছে । ৬1) 1০8৬৪5-এর মধ্যে একটি আরণ্যক উদ্দামতাঁর ভাব নিহিত রহিয়াছে। 
চ790৪র মধ্যে বেপরোয়া, সমাজ-সংস্কারহীন চিত্তের মাঁঝে তাহার ঈগ্সিত প্রণয়ী সম্বন্ধে 


ঠাপ 


১। 57101096 ৪% 000011870 61)০16 097) 1)2 110 1169726073 
91/70001596 700087816 %? 1560704216 03 4. শি 100105 ( 00188091016 & 00, 700, 1911) 09, ]. 
২1 41] 70086151006 10676 ৪6০07-061111)0 02 [1670 10007910019 18 ৪ 10100110, 
10649 ০ 7002 ০72 ৪১/-৮৮160 


রবীন্দ্রনাথ ২৫৫ 
কিরূপ দুর্দম কামনা বিরাজমান তাহীরই সঙ্কেত বহন করিতেছে ত্র ৮1776 16895। 


1০81) 96০. 1010) 2116805--৬10 1075 158,555 11) 1015 10817010516 210 
£581655 এই কথা৷ গুলির গভীর সৌন্দর্যেরৎসহিত মিলিয়াছে গৃঢ় সঙ্কেত।. কৃষ্ণকান্তের 
উইলে যে ছুর্যোগ-ুহূর্তে রোহিণীকে বাঁচাইবার জন্য গোবিন্দলাল রোহিণীর গাত্র স্পর্শ 
করিল তখনই অন্ত্র ভ্রমর একটি বিড়ালকে মারিতে গেলে লাঠি তাহার কপালেই ফিরিয়া 
আঁঘ।ত করিল। এইখানেও সাঙ্কেতিকতার ব্যবহার হইয়াছে । রোহিণীকে মারিতে ভ্রমর 
উপদেশ দিয়াছিল, কিন্তু সেই রোহিণীই কি এখন হইতে ভ্রমরের মৃত্যুর কারণ হইয়! উঠিল 
না? 

সাহিত্যের সাক্কেতিকতা শুবু কেবল বস্ত ও ঘটনাশ্রয়ী' নহে, ইহা বিশেষ বিশেষ 
চরিত্রকে অবলম্বন করিয়াও আত্মপ্রকাশ করিতে পারে। মেঘদূতের ষক্ষ একটি বিশেষ 
কাব্যের নায়ক মাত্র নহে, সে বিশ্বের চিরন্তন বিরহ-বেদনাঁর প্রতীক । নীলপাখীর জন্য 
1511 ও 14১50] যে অভিযাঁনে বাহির হইয়াছিল তাহ! জগতের গুহাহিত আনন্দ ও সত্যকে 
জানিবার জন্য মানবের শাখত চেষ্টার সঙ্কেত বহন করে না কি? মানুষের উচ্চাশার অন্ত 
নাই, ছুঃসাধ্যকে সাধন করিবার তাহার কি প্রীণান্তকর প্রয়াস, কিন্তু গ্রতিকূল নিয়তির 
নিষ্ঠুর আঘাতে তাহার আশ! ও প্রয়াস ধূল1য় লুট1ইয়! যাঁর । মানুষের জীবনের এই নিক্ষল 
বেদনার দিকটি ফুটিয়৷ উঠিয়াছে হাঁউপটম্যানের 15 59761) 0611 নামক নাটকের 
[76101101) চরিত্রে । 7761010) পর্বত চুড়ায় ঘণ্ট। ঝুলাইতে গিয়াছিল কিন্তু সেই ঘণ্টা 
পড়িয়া গেল কমাক্ত জলাশয়ে । ছুঃথে হতাশায় [75171:01) বলিল, "৪3 101: 07০ 
৮2115 1506 008 00001809811) 6০০ 1, এই ভাবে জগতের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থরাজির আলোচন৷ ৃ্‌ 
করিলেই দ্রেখা যায় যে, বড় সাহিত্যিক তাহার চরিত্রকে শুধু কেবল ক্রিয়া ও পরিবেশের 
মধ্যে সংকীর্ণ করিয়। রাখেন না। সেই চরিত্রের মধ্য দিয়! মানুষের চিরন্তন কোন আকাজ্ঞ। 
ও অনুভূতিকে প্রকাশ করিয়! থাঁকেন। তাহার চরিত্র কায়িক সীম! ছাঁড়াইয়৷ এক অমূর্ত 
ভাবের অনন্ত প্রতীক হইয়া উঠে। ৯/ 

এ পধ্যন্ত আমর! সাহিত্যের সাধারণ সাষ্কেতিকত। সম্বন্ধে আলোচনা করিয়াছি, এবার 
আমর! বিশেষ সাঙ্কেতিক সাহিত্য সন্থন্ধেই আলোচন৷ সুরু করিব। অবশ্য পূর্বোক্ত 43199 
931:0+, 116 50090 93611? প্রভৃতি এই সাঙ্কেতিক সাহিত্যেরই শ্রেণীভুক্ত, 
সাঙ্কেতিকতার সাধারণ লক্ষণ বুঝাইতে দৃষ্টান্ত স্বরূপ উহাদের উল্লেখ করা হইয়াছে মাত্র। 
সান্কেতিক সাহিত্য বলিতে আমর! সাধারণত যাহা বুঝি তাহার উৎপন্তি, ও পুর্ণতম বিকাশ 
হইয়াছিল ফরাসী দেশে । উনবিংশ সতাব্দীতে জড়বাদী বস্তবিজ্ঞানের প্রভাবে ফরাসী দেশের . 
সাহিত্যে বেপরোয়া! বস্তব[দের উদ্ভব হইয়াছিল। বস্তবাদী সাহিত্যিকগণ নিধিকার লিগ্া ৪ 
লইয়া দৃশ্যজগতের সর্ধপ্রক(র আবরণ উম্মোচন করিয়। দিলেন, বস্তুই বস্তর পরিণাম ভাবিয়া! 
এই বস্তরসস্তোগে তাহাদের সর্বপ্রকার ইন্দ্রিয়কে লিপ্ত করিয়া রাখিলেন। কিন্তু এই বহিঃসবন্য 
কামনা-পস্ছিল দৃষ্টিভঙ্গির প্রচণ্ড মত্ততা শিথিল হইয়া! আসিল এবং ইহাঁর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া 


২৫৬ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


স্বর্ূপেই একটা বিরুদ্ধ, নবাঁয়িত আদর্শ ক্রমে ক্রমে জাগ্রত হইয়া হইয়। উঠিল। লেখক 
বুঝিলেন, পাঠক বুঝিলেন যে, এই বস্তুপুঞ্ই বে।ধ হয় সব নহে, এই বস্তৃপুঞ্জের তীক্ষ জ্ঞানই 
বোধ হয় যথেষ্ট নহে। বস্তপুপ্জের অ্তরষঞ্টলে যে অমূর্ত অধ্যাত্ম-জগৎ 'বিরাজিত তাহাই 
জনিতে ও জান[ইতে হইবে। তখন হইতে সাক্ষেতিক সাহিত্যের সুচনা--ইন্দ্রিয়ের সুরা 
হইতে অতীন্দ্রিয়ের স্ধার সন্ধান। এই সাহিত্য এক আনন্দিত মুক্তির আহ্বান আঁনিল-- 
এই মুক্তি অন্তরের, এই মুক্তির আত্মার, এই মুক্তি পরমাআ্সীর। সাহিত্যে তখন হইতে 
আসিল ঘটনার স্থলে রহস্য আর বর্ণনার স্থলে ব্যঞ্জনা।১ ফরাসী সাঙ্কেতিক সাহিত্যিক" 
দের মধ্যে প্রথমেই নাম করিতে হয় 9:81:0 1709 টি €:%৪1এর | 03615810109 
ব:5৪1ই প্রথম দেখান ধে কবিতা সৌন্দর্যের বর্ণনা নহে ইহাঁর রহস্-বিস্ময়ের বাহন 
মাত্র, মানুষের গহন চেতনা ইহার মধ্য দিয়া মূর্ত হইতে চাহে । 3361810 10০ 136:71- 
এর পর আসেন ড1111615 [02 [41919 4১910 | ড11]1615 তাহার প্রসিদ্ধ নাটক 
£০]এ বিভিন্ন মানুষী আদর্শের রূপ অঙ্কন করিয়াছেন । ড৬1111675এর বিশ্ব বস্তবিশ্ব নহে, 
ইহার অতীত নুক্ষবিশ্ব, এই সুক্্মবিশ্বের সৌন্দর্যহই তাহার চোঁখে একমাত্র সৌন্দর্য। সেই 
সৌন্দর্যের অগ্জন যাহার চোঁখে লাখিয়াছে সে এ বস্তবিশ্বের মায়ায় ভূলিবে কেন? 
ড1111515 এর পর প্রসিদ্ধ সাহিত্যিক ৮24] ৬ 601910এর আলোচন। করা প্রয়োজন 
দুঃখ-সমস্যা-পীড়িত মানবাত্মীর আধ্যাত্মিক শান্তি ও সাত্বনীলাভের আকৃতি ফুটিয়াছে 228] 
৬ ০11817)এর কবিতাঁয়। তাহার “98655€তে মানবাত্া ও পরমাত্মার গভীর 
সম্বন্ধাটি উদ্ঘাটিত হইয়াঁছে। এইরূপ আধ্যাত্মিক অনুভূতির সন্ধান পাই তামরা 9208126 
[08118070র সাহিত্যেও | 1]5112077€র দৃষ্টিতে এই জগৎ এক নূতন চেতনা লাভ 
করিল, অদৃশ্য জগতের সহিত দৃশ্যজগৎ এক গৃঢ স্থত্রে সংবদ্ধ হইয়। উঠিল। বিশ্বের অন্তরিহিত 
অতীন্দ্রিয় রহস্তের সন্ধান আমরা পাই অন্ঠতম শ্রেষ্ঠ সাঙ্কেতিক নাট্যকার মেটারলিঙ্কের 
নাটকে |) মেটারলিঙ্ক দেখাইলেন ঘে, আমাদের এই আলোকিত জীবরাজ্যের সম্মুখে 
ও পশ্চাতে অপার ও অনধিগম্য অন্ধকার-রাজ্য । মাঝে মাঝে মেটারলিঙ্কের রহস্যময়তা 
ভয়াবহ নিষ্ট্রভার সহিত মিলিত হইয়াছে বটে, কিন্তু তবুও সর্বত্রই একটা সুযম-মুন্দর 
রূপের বিকাশ লক্ষ্য কর! যাঁয়। মান্গযের বাক্য আর কতটুকু প্রকাশ করিতে পারে? 
বাক্যের অতীত যে ধ্যানমৌন নীরবতার জগতে এই বিশ্বস্ষ্টির সার সত্য নিহিত রহিয়াছে 
তাহার পরিচয় মেটারলিঙ্ক পাইয়াছিলেন এবং সেজন্যই তিনি এতবড় মরমী সত্য্রষ্টা। 
সাঙ্কেতিক সাহিত্যের বিকাঁশ ফরাসী দেশে সর্বাপেক্ষা সমূদ্ধ হইলেও অন্যান্ত দেশেও 
ইহার সাঁধন। বড় কম হয় নাই। ইংরাজি সাহিত্যে উইলিয়াম ব্লেকই সর্বপ্রথম 
_সাঙ্কেতিকতার অপরিহীর্যত। অনুভব করিয়াছিলেন এবং তিনিই সকলের আগে সা্ষতিক 


১। 1615 91] 50 2০010 60 90116091189 116918009, 6০ ০৮৯০০ 00০ 010 10010088০ 01 
111660710, &1)6 010. 0017)0%/0 01 9%:697107165, 
শিয701901156 1105011)01)6 11) [16019007৩19 &, 951001090১8 


রবীন্দ্রনাথ ২৫৭ 
ও রূপকের পার্থক্য অনুভব করিতে পারিয়াছিলেন। আইরিশ নাট্যকাঁরদের নাটকে, 
এ. ই.-র কবিতায় এই সাঙ্কেতিকতার অতি স্ুষ্ প্রকাঁশ হইয়াছিল। অবশ্ঠ ইংরাজি সাহিত্যে 
সাঙ্কেতিক আন্দোলনের নেতা হইলেন ইয়েটসঞ্জ ইয়েটসের নাটকে গীতিধমিতার অতিশয্য ও 
বাহ্‌ ক্রিয়ার স্বপ্পতা থাকিলেও তীহাঁর নাটক আধুনিক কালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যশ্রেণীর 
অন্ততূত্ত ১ ইউরোপের নাট্যকারদের মধ্যে ইবসেন, হাউপ্টম্যাঁন, স্্রীগুবার্গ প্রভৃতি 
নাট্যকারদের নাঁটকে সাঙ্কেতিকতাঁর লক্ষণ বিদ্মান। এই সাক্ষেতিকতা কোথাও আংশিক 
আবার কোথাও বা সামগ্রিক । পরিশেষে সাধারণভাবে বলা যাঁয় যে, উনবিংশ শতাব্দীর 
শেষভাগ হইতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশৈর সাহিত্যে মানুষের অবচেতন মনের দিকে, 
আত্মার অচিন্তনীয় রহস্তের দিকে একটি প্রবণত৷ দেখা যাঁয় এবং সীমায়িত বাক্য ও বর্ণনার 
দ্বারা এ সব বিষয় প্রকাশ কর! সম্ভব নহে বলিয়া সাহিত্যিকগণ ইঞ্কিত ও সঙ্কেত অবলম্বন 
করিলেন, বণনীয় জগতের অন্তরা'লস্থিত অবর্ণনীয় জগৎকে অ1ভা'সিত করিয়া তুলিলেন। 
উপরিউক্ত সাঙ্কেতিক সাহিত্যের আলোচন। হইতে সাসঙ্কেতিকতাঁর লক্ষণ সম্বন্ধে 
কিছুটা ধারণা হইতে পারে। সাঞ্কেতিকতা আমাদের কাছে এক নূতন জগতের সংবাদ 
বহন করিয়।৷ আনে_-আমাঁদের এই দৃশ্ঠ, বুদ্ধিবদ্ধ, ইন্জিয়গ্রাহ জগতের অতীত যে অবৃষ্, 
শব্দবর্ণহীন অতীন্দ্রিয় জগৎ বিরাজমান তাহার সহিত আমাদের পরিচয় স্থাপিত হয়। দৃশ্ঠ 
মানেই সত্য নহে আর অদৃশ্য হইলেই মিথ্যা হয় না, ইহাই আমরা সাঙ্কেতিক সাহিত্য 
হইতে শিক্ষা লাভ করি।২ মানুষের এই স্থল বস্তজগৎ তো নিত্যক্ষয়িষ ও নিয়ত 
পরিবর্তনণীল, ইহার মধ্যে আমাদের যে চিত্ত নিমগ্ন হইয়া! রহিয়াছে তাহা অহরহ আঘাত- 
বেদনায় জীর্ণ হইয়া পড়িতেছে কিন্তু যখন অনন্ত আধ্যাত্মিক জগতের রহস্য আমরা জানিতে 
পারি তখন আমাদের পরম সত্যের উপলব্ধি হয়, আমাদের আত্ম। পায় চিরন্তন মুক্তি। 
মানুষের বস্তচেতন সন্বার গভীরে যে অজর, অমর, নিত্য, শাশ্বত আত্মা রহিয়াছে তাহার 
সন্ধান পাইলেন সঙ্কেতবাদ্িগণ। ৩ মেটারলিঙ্কের 3105 7971 ও [705518195এর [৫ 
080,191 নামক গ্রন্থে দেখা যাঁয় যে আপাতদৃষ্টিতে যাহা জড়পদার্থ বলিয়।৷ বোধ হয় 
তাহার অভ্যন্তরে সন্ম, অনৃশ্ঠ আত্মা বিরাজমান । এই সর্বব্যাপী ও নিত্যকালীন আত্মিক 
চেতনার সাক্ষ্য পরিস্ফুট হইয়াছে সাঙ্কেতিক সাহিত্য । মানুষ অপূর্ণ, তাহার প্রেমও অপূর্ণ, 


১ 41101 807, 5০6৪ 0001099৪07৩ 0910 69০ 6686 15008] 0:০0, 800. [000 & 

1800 01 00100 ; 59 01063 816 01100.650101190]5 8100100 0176 (656 [9096610 [01859 01 00৮ 6112008 

131101910 10021000--4 250000 (0160759 0. 17101091), 310, 80.), 410 

21 ১5525 ৪ 11001807016 11) 10101) 6106 5131)19 010. 19 100 1010067 ৪ 99116, 8100. 6179 

1)9667 ভ0110. 170 10086], 2 068,701, ৪ 
--11106 53701901156 01056100176 105 4.19%7679, 15 4ু 

৩) ভা1086 19 951101001181)) 16 1106 ৪1) 69621)1191011)6 01 0106 11010 10101) 10010 006 0110 

09296067, 006 81077090101) 01 81) 6662010], 110110006, 006010966৯ 9175996 11151811019 119, জা1০)) 
20109 (10:0001) 008 1001৩ আ1)15182 ? 

নর 11010, 7১, 145, 


তন 


২৫৮ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


কিন্ত সে যখন তাহার প্রেম ভগবানের চরণে নিবেদন করিতে পারে তখন সে পায় 
পূর্ণতার আবম্বাদ, তাহার প্রেমও হয় পরিপূর্ণ সার্থক। ১ মানুষ ও ভগবানের এই প্রেম্‌- 
সম্বন্ধই তে। স্থাপিত হইয়াছে 9৪1 ভ ০1191 এবং রবীন্দ্রনাথের সাক্কেতিক সাহিত্যে । 
সাক্কেতিক সাহিত্যের এই যে অতীক্দ্রিয় রহস্তময়তার স্বরূপ আমরা আলোচন৷ 
করিলাম ইহাঁর প্রক1শভঙ্গি কিরূপ সে প্রশ্ন আমাদের মনে আসিতে পারে। সাঙ্ষেতিকতীর্‌ 
মধ্যে বর্ণনীয় বিষয়ের ভাষা নাই, কেবল আভাঁদ আছে। সাধারণ বাক্যরীতি ও বর্ণনাভঙ্গি 
্বার৷ গুঢ়াতিগুঢ় ভাব প্রকাশ করা সম্ভব নহে। সেজন্য সাঙ্কেতিক সাহিত্যের বাক্যে ও 
বর্ণনায় একটা জটিল কুয়াশীচ্ছন্ন রহস্তজাল বিস্তৃত হইয়া আছে। ২ যাহা অনৃষ্ঠ, অমেয় 
ও অতীন্দ্রিয় তাহ! কি ভাবে স্পষ্ট রঙ ও রেখার মধ্য দিয়! প্রকাঁশ করা যাইতে পারে? 
তাহ বর্ণনা কর! যাঁয় না, তাহা কেবল সঞ্চার কর! যাঁয়। যাহা নামহীন তাহাকে নাম 
দিলেই তাহা নিঃশেব হইয়। যায়, তাহার রূপ দেওয়া যায় শুধু কেবল ইঙ্গিতের মধ্য দিয়! । 
সাইমন্সের কথ উল্লেখ করা যাঁয়-0০ 17875 15 10 0650:05, 6০ 5015£251 15 ০9 
০:৪০, সাঙ্কেতিকতার এই উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য রাখিয়াই সঙ্কেতবাদী 
সাঠিত্যিকগণ তাহাদের শিল্পকে দৈনন্দিন জীবনের বাস্তধত। হইতে ধহ্‌ দূরে লইয়া যাইতে 
চাহেন। তাহারা আদিম ও চিরন্তন মানবপ্রবৃণ্তির লীলা অনেক সময়েই দেখান বটে, 
কিন্তু সেই সব প্রবৃত্তিলীলার সক্রিয় বাস্তবরূপ অপেক্ষ! নিষ্ষিয় ভাবরূপই অধিক পরিস্ফুট 
হইয়া উঠে। নাট্যশিল্পই আমাদের বিশেষ আলোচ্য বস্ত, সেই শিল্প সম্বন্ধেই আলোচনা 
কর! যাক। নাটকের পক্ষে তীব্র গতিবেগ ও সক্রিয় বস্তুসংঘাঁত অপরিহার্য । সঙ্কেতবাদী 
নাট্যকাঁরদের মধ্যে অনেকেই নাটকের এই চিরাচরিত নীতি লঙ্ঘন করিয়। ইহাকে এক 
অবাস্তব কল্পলোকে লইয়! গিয়াছেন। নাটকের এই সব নীতির সর্বাপেক্ষা ঝড় নায়ক বোঁধ 
হয় প্রসিদ্ধ আইরিশ নাট্যকার ইয়েটম। ইয়েটসের নাটকীয় পরিবেশ যেমন এক স্বপ্নালু, 
মায়াময় রহম্যমেঘে আচ্ছন্ তাহার নাটকীয় চরিত্রগুলিও তেমনি নিস্পন্দ, নিশ্চেতন, 
নৈব্যক্তিক ব্যক্তিত্ব দ্বার! রূপাঁয়িত হইয়াছে । ইয়েটস সাধারণ রঙ্গমঞ্চ এবং রঙ্গমঞ্চের 
উপযোগী স্থুল নাটক্রিয়া মোটেই পছন্দ করিতেন নাঁ। কিন্তু ইয়েটসের এই সব কায়াহীন, 
রূপহীন নাটকগুলিকে প্ররুতপক্ষে নাটক "বলা চলে কিন সে সন্দেহ অনেকেই ব্যক্ত 


১) 091095০0994 5 609 100 000 81090118009) 8০9 101" %3 0100 11017001001] 08] 001)061% 
0১6 91980100006, 2170 (10019, 11) &% 82156) 60 19০ 09090 15 %0 1)03855 (180 81)50106, 107. 0119 109 
199 9116905 [009865900. 01196 19161) 16 01)1)7:01701)05. 

1)10--7, 96, 

হি: 107 21000) 5০0০ 0818 03])01110 21) 0111)101), 0::51580711)6 ৪ (00010 1100া। 
০৪] 0109 216 1106 ৫0166 ৮০]] 0100901), 70 021) 90০৮ £৮৮০ & 0১০৫ ০০ 8011)016181110 01700 
[00508 158501)0 0100 9071905 011)1958 ১০] ড৮07:18 210 88 901১01০, 28. 00101916য) 28 101] ০? 
10556670008 1166) 9৪ 0116 7900) 01 11010: 0] 019, 01021), 

10689 01 09000. 01)0 1৬11, 1১177. 


রবীন্দ্রনাথ ২৫৯ 


করিয়াছেন। ১ এ কথা অস্বীকার কর! চলে না যে, নাটকে ভাব ও তত্ব থাকিতে পারে, 
কিন্ত তাহার বহিঃগ্রকৃতি যদি একটি বস্তরূপ গ্রহণ না করে তবে বাস্তব দর্শকের কাছে 
কিছুতেই তাহার মূল্য থাঁকিতে পারে ন!। * এদিক দিয়া বিচার করিলে হাউপ্টম্যান ও 
রবীন্দ্রনাথের নাটকের ন।ট্যমূল্য সহজেই চোথে পড়িবে ।২ সক্কেতবাদী নাট্যকাঁরগণ তীহাঁদের 
নাটকে সুদূর অতীক্ট্রিয় জগতের আভাস আনিবার জন্ত আর একটি বিষয়ের শরণ 
লইয়াছেন এবং তাহ হইলে কবিত্ব। হাঁউপ্টমাঁন এবং আইরিশ নাট্যফারগণ যে নাটকের 
ভাষারূপে গগ্যের স্থলে পদ্কে গ্রহণ করিলেন তাহার একটি বিশেষ কারণ আছে। গগ্যের 
মধ্যে একট! নিত্তনৈমিত্তিক বাস্তবতা ও ব্যবহারিক স্থুলতা আছে কিন্তু পছযর স্থর ও ছন্দের 
মধ্যে আছে একটা সুদূর অজানার অস্পষ্ট চেতনা । জগতের চিরঞ্রয়ী নিত্যতার সন্ধান পাওয়৷ 
যায় একমাত্র কবিতায়, সেজন্যই নিত্যতা সন্ধানী নাট্যকাঁরগণ কবিতাঁকেই বাঁছিয়া লইলেন। 
রবীন্দ্রনাথের নাটক পছ্যে লিখিত ন। হইলেও ইহার গগ্ভও যে পদ্যধর্মী হইয়া উঠিয়াছে তাহার 
প্রয়োজন এখন সহজেই অনুমান করা যাইবে । 
সাঙ্কেতিকতার আলোচনায় আর একটি বিষয় সম্বন্ধে ধারণ! স্পষ্ট হওয়। দরকার । 
উদ্দেশ্যকে প্রচ্ছন্ন ও উপাঁয়কে স্পষ্ট করিয়া, অর্থাৎ বধিত ঘটনা ও চরিত্রের মধ্য দিয়া কোন 
গুঢ় ভাবতত্বের আভাস দেওয়া য।য় ছুই প্রকারে-সাঙ্কেতিক অথবা রূপক রচনার মাধ্যমে | 
এই সাঙ্কেতিক ও রূপকের পার্থক্য কি? সাধারণত কথা দুইটি একটু শিথিলভাবে ব্যবহৃত 
হয়, সেজন্য প্রায়ই আমরা সাঁঙ্কেতিককে রূপক ও রূপককে সাক্কেতিক বলিয়া ভূল করিয়া 
থাকি। কিন্ত দুইটি বিষয়ের মধ্যে সুক্ষ ও স্পষ্ট পার্থক্য রহিয়াছে । প্রথমেই ইয়েটসের সেই 
প্রসিদ্ধ উক্তি উল্লেখ করা যাক-- 55100] 19 10060. 017৫ 00995115 62075951028 
0৫6 50006 11051510015 55521)06১ ৪. 08050215106 10100 20006 . 5১111088] 1121006 
ড/1)1]16 ৪1165075 19 012 01 [021)য 00955101০ 1610125210080101)5 ০0৫ 210 2170000160 
07175, 01 181011181 01011001015 8170 061091)85 00 2105 2100 1200 €০ 11009517)2,- 
0010. : 005 0075 19 ৪. 16$6136190 00০ 000610 &0 201156161)0 ৩ ইয়েটস অতি 
সুন্দরভাবে পার্থক্যটি বুঝাইয়া দিয়াছেন। অরূপকে রূপের মধ্যে ধরিবার চেষ্টা সাক্কেতিক 
রচনায় কিন্তু রূপকে রূপান্তরে দেখাইবার ইচ্ছ! রূপক রচনায়। প্রথমটিতে আধ্যাত্মিক 
১। এ প্রসঙ্গে 721122006]) 1):০৮-র মন্তব্য উল্লেথযৌগা--30% 60 09 25০780০1056] 01 00৪ 
61690:0, (01900185901 ০2৪ ৪০08 60০0 2610080 2170 89060110 6010০ 01190 0:9177960 ৪৮ ৪]]. 
41097 0000 00010 1900 0? 01012060000 20500076 00016 00870 009 01056 00170678020 


8০101), 01165 8০ 101] 01 1০0৮ 55701001181) 1101) 10081069 (1)6108 110691011)21689 60 69 
10170161990 


10190056111)0 70128108, 0১, 219, 


২। “রবীন্দ্রনাথ এবং হাউপ্টম্যানের নাটকের সাধারণ আখ্যান্ভাগের দ্িকটাও অসুন্বর ব। একঘেয়ে নয়। 
গভীর অর্থের দিকটাই্‌ প্রধান কিন্তু কাব্যার্থের দ্রিকটাও মনকে টানে এবং হেলায় অগ্রাহা করিবার মত নয় ॥ 
রবীন্দ্রনাথ--অশোক সেন, পৃঃ ১০৬। 


৩। 1758 01 9904. & ঘা]. 123, 


২৬০ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


অঙ্থ্ভৃতির বাত্ময় প্রকাশ কিন্তু দ্বিতীয়টিতে নৈতিক উদ্দেশ্টের সৌন্দধ্যমর ছয্বেশ। 
অধ্যাত্মক্গগতের স্বরূপ তো বাক্যে প্রকাশ করা সম্ভব নহে_যতঃ বাঁচঃ নিবর্তন্তে অগ্রাপ্য মনস! 
সহ। কিন্ত মানুষের নৈতিক জগতের ছম্নবেশ* উন্মোচন করা সহজ। সেজন্য সাক্কেতিক 
রীতিতে অপ্রকাশ্য শেষ পর্যন্ত অপ্রকাশ্ঠই থাঁকিয়! যাঁয় কিন্তু রূপক রীতিতে অপ্রকাশিত 
ভিন্নরূপে প্রকাশিত হয় মাত্র ॥ ১ 

ওমর খৈয়ামের কাব্য, টেশিসনের 710০699 অথবা! রবীন্দ্রনাথের “সাগরিকা, 
যখন পড়ি তখন বুঝিতে পারি যে ব্যক্ত রূপ-রস সৌন্দর্যের মধ্য দিয়া বিশেষ বিশেষ 
দার্শনিক তত্ব উদ্ঘাটন করাই কবিদের উদ্দেশ্য । সেইসব তত্ব যবনিকার অন্তরালে 
রহিয়াছে বটে কিন্তু তাহাদিগকে চিনিবার মূল সুত্রগুলির সন্ধান পাইলে আর তাহাদের 
পরিচয় অম্পষ্ট থাকিবে না। একটি প্রশ্ন করা যাইতে পারে _উদ্দিষ্ট তত্ব ও সত্যকে 
যবনিকাঁর অন্তরালে রাখিবার প্রয়োজন কি, সৌজাস্থজিই তো৷ তাহাদিগকে সম্মুখে আনা 
যাইত! না, তাহা হইলে তত্ব ও সত্যের বিবৃতি হইত, কিন্তু সাহিত্য হইত ন|। 
সাহিত্যের মধ্যে সুন্দরের ছলন! একটু থাক! দরকার। এই ছলনাটুকুর জন্যই সাহিত্যের 
সহিত দর্শন ও নীতিশাস্ত্রের পার্থক্য । ছা৪াঘ 0392610১ 1015106 002060% ও 01181- 
005 [06158 তত্বগর্তভ রূপক রচন! হইলেও সাহিত্য একথ!। সব সময় মনে রাখা 
গ্রয়োজন। সাক্ষেতিক রচনায় কিন্তু বুদ্ধি ও জ্ঞানের দ্বারা ব্যক্ত ও অব্যক্ত জগতের মধ্যে 
সুস্পষ্ট মিল আবিষ্কার করা সম্ভব নহে। এখানে মানুষের মনোজগতের কোন তত্ব নহে, 
সেই মনোজগতের অতীত সীম'হীন অনির্বচনীয় জগৎকেই আঁভাঁসে ইঙ্গিতে প্রকাশ 
করিবার একটা লোকায়ত্ত চেষ্টা হয় মাত্র। এখানে ব্যাখ্যা নহে, বিন্ময়; শিল্পচেতন। 
নহে, অধ্যুত্মসাঁধনাই মুখ্য কথা । 

বার আমরা রবীন্দ্রনাথের নাটকের আলোঁচন। স্বর করিব। রবীন্দ্রনাথের নাটক 
আমর! ব্বপক বা সাক্কেতিক কোন্‌ পধ্যায়ে ফেলিব? শ্রীযুক্ত প্রমথ বিণী এই নাটকগুলিকে 
তত্বনাট্য বলিয়াছেন । ইহাঁতে নরাসরি সমস্যাটির সম্মুখীন হইতে হয় না বটে, কিন্ত 
মুস্কিল বাধে তখন যখন একটা বিশেষ নাঁটকীয় অভিধ! দেওয়ার প্রয়োজন হয়।* একথা 
অস্বীকার করিয়া লাভ নাই যে, রবীন্দ্রনাথের নাটক আলোচন৷ কালে রূপক ও সাঙ্কেতিক 
এই কথা ছুইটি একটু শিথিল ও অসতর্কভাবে ব্যবহৃত হইয়াছে। প্রাথমিক সমালোচকেরা 
রূপক কথাটিই বেশি ব্যবহার করিয়াছেন। পরবর্তীকালে কেহ কেহ সাঙ্কেতিক কথাটি 


১। গ্যেটে রূপক ও সাঙ্কেতিকের পার্থক্য বুঝ।ইতে যাহা বলিয়াছেন তাহা উদ্ধীর করিলে এ সম্বন্ধে ধারণ| 
আরও স্পষ্ট হইবে--:4115007 01218607009 009 1007 017017767101) 1000 ৪. 0070907%, 09 ০07108736 17760 
&]) 17796 )1006 11) 9001) 2 ৪5 0196 110 00০ 11056 015৪ ৫017061)% 179 0৮2) 0০ 1016967/০0. 
01701078011000 8100. 00100001060 ৪6 11010 091)0. 050089811)10, 

95000119]) 78101208006 000670100701) 11060 00 1060, 000 1009, 1060 ৪, 100860, 1 
৪0০ 9 ৪5 1176 10 009 170006 06 1009 901] 1677217)8 0178(61:2015 2170 [পা ০6] 6£6০06 
870, 0১০01 16 09 63109889000 21] 12170018208, ৩6 107109179 10030799810)1 


রবীজ্রনাথ ২৬১ 


প্রয়োগ করিলেও রূপকের সহিত ইহাকে অভিন্ন করিয়! ফেলিয়াছেন। ডাঃ নীহাররঞ্জন 
রায়ের নাম এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য । ডাঃ স্থবোধচন্ত্র সেনগুপ্তই সম্ভবত সর্বপ্রথম রূপক ও 
সাঙ্কেতিক নাটকের পার্থক্য আলোচনা! করিয়! রবীন্দ্রনাথের নাটকগুলিকে সাঙ্কেতিক 
বলিয় অভিহিত করিয়াছেন। ১ ব্ূপক ও সাঙ্কেতিক এই দুইটি বিষয় সম্বন্ধে বিজ্ঞ 
সমালোচকদের মধ্যেই যে কতখানি মতভেদ রহিয়াছে একটি দৃষ্টান্ত হইতেই তাহা সহজে 
বুঝ যাইবে । ডাঃ স্থবোধ সেনগুপ্ত 'ডাকঘর+ ও “রাঁজা” এই নাটক ছুইখানিকে শ্রেষ্ঠ 
সাক্ষেতিক নাটক বলিয়াছেন অথচ শ্রীযুক্ত প্রমথ বিশীর মতে এ ছুইখানি রূপক নাটক । 
আবার অন্যপক্ষে বিণী মহাশয় “মুক্তধারা”, “রক্তকরবী ও “অচলাঁয়তন+কে অবিশিশ্র 
সাঙ্কেতিক নাটক বলিয়াছেন কিন্তু ডাঃ সেনগুপ্ের মতে গুলি সাঙ্কেতিক ও রূপক 
নাটকের মিশ্রিত রূপ । বড় বড় পণ্ডিতদের মধ্যেই এতখানি মতবিরোধ দেখা গেলে 
সাধারণ পাঠক রূপক-সান্কেতিকের মীমাংসা করিবে কি প্রকারে? সাঙ্কেতিক নাটক 
সম্বন্ধে এপর্যস্ত যে আলোচন। করিয়াছি তাহার স্থত্র ধরিয়। বিচার করিতে গেলে রবীন্দ্র- 
নাথের নাঁটককে সা্ষেতিক না বলিয়া উপায় নাই। অবশ্য কবি তাহার কোন কোন 
নাটকে রাজনীতি, সমাঁজনীতি, অর্থনীতি, ইত্যাদি বিষয় লইয়া আলোচনা করিয়াছেন, 
সে সব স্থলে তাহার বণিত ঘটনা ও চরিত্রের মধ্য দিয়া এক একট! স্লুম্পষ্ট ভাবতত্ব 
উদ্ঘাটন কর। সম্ভব এবং মেকাঁরণেই সেই সব নাটক রূপক ভাবাঁপন্ন হইয়া পড়িয়াছে। 
'রক্তকরবী,” “মুক্তধার।,, “অচলায়তন, 'রথের রশি, এই নাঁটকগুলির মধ্যে রূপকার্থ আবিষ্কার 
কর! কঠিন নহে, কিন্ত তবুও এগুলিকে পুরাপূরি রূপক বলা চলে না; কারণ, প্রথমত 
নাটকগুলিতে বহু সাঙ্কেতিক বস্ত বা প্রতীক ব্যবহার কর! হইয়াছে, দ্বিতীয়ত অরূপ, 
অসীম রহস্তের গ্যোতন। ইহাদের প্রায় প্রত্যেকখানির মধ্যেই পাওয়। যায়। রঞ্জনের ছুজ্েয় 
অস্পষ্টতাঁয়, নন্দিনীর অলৌকিক ইঙ্গিত ও ব্যঞ্জনাঁয়, অভিজিতের দুঃসাঁধ্য অভিযানে, পঞ্চকের 
প্রাণের ঘুর্ধিছন্দে, বিশুপাগোঁলের ছুঃখসাধনায়, ধনপ্জয় বৈরাগী ও দাদাঠাকুরের তীব্র 
আনন্দবাঁদে কি বিশ্ববিধাতাঁর চিরন্তন রহস্লীলার সঙ্কেতই ফুটিয়া উঠে নাই? “রাজা” ও 
'ডাকঘরে'র তো কথাই নাই, কারণ এ ছুইখানি বিশুদ্ধ সাঙ্কেতিক নাটক, উহাদের বাঁদ 
দিলেও 'শারদোৎসবণ “ফান্তনী” প্রভৃতি নাটককেও তো সাক্কেতিক ন! বলিয়া উপায় নাই। 
অরূপের রূপের লীলাই এর সব নাটকে প্রকাশিত ; তাহাতে আলো, রঙ ও স্থুরের পরশ 
থাঁকিলেও তাহ! যে শব্দ-বর্ণ গন্ধ-স্পর্শহীন জগৎ হইতেই উদ্ত ত। রবীন্দ্রনাথের স্ঠায় অধ্যাত্ম 
সাধনায় সিদ্ধিলাভ করিতে আর কবে কোন্‌ কবি পাঁরিয়াছেন? ইউরোপের সাহিত্যিকগণ 
যে আত্মার সন্ধান, যে অতীন্দ্রিয় লীলার পরিচয় পাইতে চাহিয়াঁছিলেন তাহা! ভারতের 
ধুলায় ও বাতাসে, আকাশ ও অস্তরীক্ষে চিরকাল জাগ্রত সত্য হইয়া রহিয়াছে। “নান্ত 


১। রবীন্দ্রনাথের নাটক সাক্ষেতিক। তাহার মধো রূপকের ম্পর্শ আছে, কিন্ত অরূপ, অসীমের 
সন্ধানই তাহার প্রধাঁন লক্ষ্য । 
রী রবীন্রনাথ_হুবোধ সেনগপ্ত, পৃঃ ২২০, (২য় সং )। 


২৬২ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


পন্থা! বিদ্যতে অয়নায়' বলিয়া বহু সহম্র বৎসর পূর্বে তাহারা পারমার্ধিক মুক্তিপথ প্রদর্শন 
করিয়াছিলেন । উনবিংশ শতাব্দীর জড়বাদী ইউরোপের পক্ষে পরমার্থতত্ব মানুষের মুক্তির 
নূতন সত্যরূপে গৃহীত হইতে পারে কিন্ত এই সত্য ভারতের কাছে কিছু নূতন নহে। 
অধ্যাত্ববাদী ভারতের চেতনা রবীন্দ্রনাথের মধ্যে নব অঞ্জীবনী শক্তি লাভ করিয়াছিল 
এবং “খেয়া” পর্বে কবির অধ্যাত্মচেতনার পূর্ণ তম প্রকাঁশ হইয়াছিল। সেজন্য অত্যন্ত 
স্বাভাবিক কারণেই তৎকালীন নাটকের মধ্যেও এই চেতনা! মূর্ত হইয়া! উঠিয়াছিল। সেই 
নাটকের সর্বত্রই অরূপকে রূপ দিবার আকাজ্ষা, অসীমকে পাইবার আকৃতি, অতীব্রিয়ষ্ক 
ইন্জিয়ের মধ্যে ধরিবার আয়োজন 7; সেই নাঁটককে সাঙ্ষেতিক নাম ন! দিয়া আর কি 
নাম দিব? 

রবীন্দ্রনাথ কবি,__-চিরঙ্থন্দরের মরমিয়া পূজারী ; তীহার নিজের কথায়, “আমি শুধু 
বাঁশরিতে ভরিয়াছে প্রাণের নিশ্বাস”; কিন্তু ত;ও একথ! বোধ হয় নির্ভয়ে বল! চলে যে, 
তিনি জীবনের সুন্দর রূপের সঙ্গে সঙ্গে তাহার তত্বূপও দেখিয়াছেন। সৃষ্টির গভীর 
লীলারহস্য, মানুষী সম্বন্ধের আব্র্ত-জটিল তরঙ্গ-বিক্ষৌভ তীহার চেতনাকে নিরন্তর বিচলিত 
করিয়াছে । “খেয়া” পর্বের পূর্ব পর্যন্ত জীবন ও.জগতের রসাঁবেগ এত প্রবল হইয়া রহিয়াছে 
যে সব চিন্ত্$ ও তত্ব তাহার মুখে ভাসিয়া গিয়াছে । কিন্ত “খেয়া”-পর্বে আসিয়া সেই 
উচ্ছিত উদ্বেল ধারা শান্ত হইল এবং সেই অচপল, রহস্ত-গহন ধারার মাঝে এক একটি 
তব্রূপ শতদলের মত শোভা পাইতে লাঁগিল। শতদল বলিলাম এজন্য যে কবির হাঁতে 
নিছক একটি তব্বও অপূর্ব সুন্দর মতি লাভ করিয়া আমাদের অন্তরের স্বতঃস্ফূর্ত স্থীরুতি 
লাভ করিয়াছে । এদিক দিয়া বিচার করিলে “খেয়।”-পর্বের কবিতাগুলি অপেক্গা নাটকগুলির 
মূল্য বেশি ।) “গীতাঞ্জলি+ “গীতালি” 'গীতিমাল্য” প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থের মধ্যে ততই প্রধান, 
কিন্তু সাঙ্কেতিক নাটকগুলির মধ্যে তত্ব ও সৌন্দর্যের পরিপূর্ণ মিলন। সৌন্দর্যের কথা পরে 
আলোচন! করা যাইবে, তবে তত্বের কথা বলিতে গেলে প্রথমেই মনে হয়, ইহা! কবির অন্তরে 
অনুভূত এক নবায়িত সত্যরূপ, কবির সভ্ভা-নিরপেক্ষ কোন নৈর্ব্যক্তিক বস্তময়তা ইহাতে নাই। 
বিশ্বের চিন্তা ও প্রবণতা, সমাঁজব্যবস্থার বন্ধন ও অবিচার, রাষট্রিক স্বার্থের কদর্য-কুৎসিত র্ধপ 
কবির মাঁনস-অন্ুভূতিতে যে বেদনার্ত প্রতিবাদ জাগ্রত করিয়াছে তাহারই রূপ প্রকাশিত 
হইয়াছে ত্রীহাঁর তত্বনাটকে। এই নাটকের তত্ব সর্বজনীন চিন্তার সহিত অনেক স্থলে যুক্ত 
হইলেও ইহা কবিরই মাঁনস-অনুভূতির একটি বিশেষ রূপ, সেজন্য কোন সাবিক 190 বা 
মতবাঁদের মধ্যে ইহাকে ফেলা চলে ন|। শ্রীযুক্ত প্রমথ বিশী তত্বনাটকগুলির বিষয় তিনটি 
মূল সমন্তাঁয় বিভক্ত করিয়াছেন, যথা (১) মানুষের সহিত ভগবানের সম্পর্ক, (২) মানুষের 
সহিত মানুষের সম্পর্ক, (৩) মানুষের সহিত প্রকৃতির সম্পর্ক । ১ ববীন্দ্রসাহিত্যে বিশেষত 
রবীন্দ্রনাথের নাটকে এই তিনটি সম্পর্কই প্রাধান্য লাভ করিয়াছে সন্দেহ নাই, কিন্ত এই 





৯। রবীন্্র নাট্/গ্রবাহ (২য় খও ), পৃঃ ৬ । 


রবীক্দনাথ ২৬৩ 


সম্পর্কগুলিকে আলাদা আলাদা বিভাগ কর! কি সম্ভব? কবির মাঁনস-চেতনায় সম্পর্ক- 
গুলি ওতপ্রোতভাবে পরস্পরের সহিত মিশিয়া গিয়াছে এবং তাহার সাহিত্যেও মানুষ, 
প্রকৃতি ও ভগবান এক অখণ্ড রসরূপ লাভ করিয়াছে । “রাজা*র মধ্যে মানু্ঘ ও ভগবানের 
সম্পর্ক প্রধান হইলেও বসন্ত প্রকৃতি কি এই নাটকের একটি অচ্ছে্য অঙ্গ নহে? (অচলায়তন, 
ও “মুক্তধারা”য় মান্থষের সহিত মানুষের সম্পর্ক প্রধান হইলেও এ নাটক ছুইখাঁনিতে দাদাঠাকুর 
ও ধুন্জয় বৈরাগী তা ভগবানেরই দূত। তেমনি 'রক্তকরবী”তেও মামুষী সংঘাতের মধ্যে 
পৌধালি প্ররৃতিও এক অবিচ্ছিন্ন সরসতা সঞ্চার করিয়াছে । রবীন্দ্রনাথের সমগ্র সাহিত্য- 
জীবন বিচার করিলেও দেখা যাইবে যে, বিভিন্ন পর্বে বিভিন্ন চেতন! মুখ্য হইয়া উঠিয়াছে, 
যেমন আদি পর্বে প্রকৃতি, মধ্য পর্বে ভগবান ও অস্ত্যপর্বে মানুষ । কিন্তু এরূপ বিভাগ সত্বেও 
একথ|] কখনই বল! চলে না যে, ইহাঁদের মধ্যে একটি যখন প্রধান হইয়া উঠিয়াছে তখন 
অপরগুলি একেবারেই পরিত্যক্ত হইয়াছে । বস্তৃতপক্ষে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যে কাঁহাকেও 
বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যাঁয় না, বিশেষত মানুষ ও প্রকৃতিকে তো। কখনই না। ইহা যেমন 
তাহার সমগ্র সাহিত্যজীবন সম্পর্কে সত্য, তেমনি সত্য তাঁহার সাঙ্কেতিক নাঁটকগুলি সুস্পর্কে। 
(রবীন্দ্রনাথের সাক্ষেতিক নাটকের তন্ববস্ত ও নাট্য-সংঘাতের মূলে রহিয়াছে এক 
মৌলিক ছন্দ, সেই বন্দ প্রাণধর্মের সহিত জড়ধর্মের । এই দন্দরটি প্রায় সব নটিকেই বর্তমান 
এবং আমার মনে হয় কবির সাক্কেতিক নাঁটকের মূলবস্ত ইহাই । এই বিষয়টি লইয়া একটু 
বিস্তৃত আলোচন! করিতে চাই । ধে প্রাণধর্সের কথ! বলিলাম, তাহাঁর প্রকাশ হইয়াছে 
প্রায় প্রত্যেকথানি নাটকের নায়ক চরিত্রের মধ্যে, যেমন অমল, পঞ্চক, অভিজিৎ, নন্দিনী 
ইত্যাদি। ইহারা কবিহৃদয়েরই শাশ্বত মানস-মূতি, মুক্তির বাণী-বাহক--যে মুক্তির স্প্রে 
ছবির জীবন আজন্ম বিভোর হইয়াছিল । মুক্তির মধ্যেই জীবন, মুক্তির মধ্যেই আনন্দ, তখন 
“বাধা নাই, কোন বাধা নাই? । এই অবাধ মুক্তির প্রকাশ যখন, তখনই মানুষের অবারিত 
প্রাণের প্রতিষ্ঠ। । তখন মানুষে মানুষে বাঁধ নাই, মানুষ ও প্রকৃতির কোন ব্যবধান নাই 
এমন কি মানুষ ও ভগবাঁনেরও কোন দূরত্ব নাই । তখন মানুষ বিশ্বমান্ুষ হইয়া উঠে, বিশ্ব- 
মানুষ বিশ্ব-প্রকৃতির সহিত মিলিত হয় এবং বিশ্বপ্রকৃতি বিশ্বদেবতাঁর লীলাস্থল হইয় খায়। 
কিন্ত এই প্রাণের প্রতিষ্ঠা নির্বাধ নহে, নিশ্রাণ জড়শক্তির নিষ্ঠুর সংগ্রাম চলিয়াঁছে 
ইহার সহিত। এই জড়শক্তি বিভিন্ন আকার ও প্রকারে দেখ! দিতে পারে কিন্ত ইহার 
ধর্ম এক, উদ্দেশ্ঠও এক। ইহাঁর নৃশংস লৌহবাহু, মুক্ত প্রাণের আনন্দিত বিকাশকে সতত 
পিষিয়। ফেলিতে উদ্যত। এই জড়শক্তি “অচলায়তনে” অন্ধ সংস্কার, 'ডাকঘরে' গৃহবদ্ধ শাঁষন, 
“রাজা” সকাম দেহতন্ত্র, রক্তকরবী”তে আকর্ষণজীবী ধনতন্ত্র এবং “মুক্তধারা”য় সাম্রাজ্যবাদী 
লৌহ্যস্ত্রের রূপ ধারণ করিয়াছে। রবীন্দ্রনাথ মুক্তপ্রাণের এই সব বাধার বিরুদ্ধে চিরকাল, 
তাহার স্ুতীত্র গ্রতিবাঁদ জানাইয়াছেন এবং সাঙ্কেতিক নাটকগুলির মধ্যে এই প্রতিবাদ 
স্পষ্টরূপে ব্যক্ত হইয়াছে। প্রকৃতপক্ষে কবি নিজস্ব মত ও আদর্শ. এই সব নাটকে কোথাও 
্রচ্ছন্ন রাখেন নাই” নিঃসন্দিপ্ধ দুঢ়তার সহিত সেগুলিকে সর্বত্র প্রকাশ করিয়াছেন। 


২৬ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


মে্ন্ত তাহার উক্তি কোথাও কোথাও একটু আধটু কটু ও তিক্ত রসাশ্রিত হইয়া 
উঠিয়াছে। “তখু যেন হেসে যাই যেমন হেসেছি ধারে বাঁরে-_পণ্ডিতের মুঢ়তায়, ধনীর 
দৈন্ের অত্যাচারে, সঙ্জিতের রূপের বিভ্রপে ।'_এই হাসি সাক্কেতিক নাটকগুলির বহু 
স্থানেই উপচিত হইয়াছে। একটু সুস্মভাবে লক্ষ্য করিলে দেখা যাইবে কবির ব্যঙ্গ মূল 
বিরোধী শক্তির প্রতি উদ্দিষ্ট নে; কারণ প্রাণের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম করিয়াছে তাহারও 
একট৷ নাতি আছে এবং তাহার শক্তি নিন্দনীয় হইলেও অশ্রদ্ধেয় নহে । সেজন্য কবি তুরল 
হাদির আঘাতে তাহাদিগকে লঘু করিতে চাহেন নাই- কাঞ্ধীরাজ, মহাপঞ্চক, বিভূতি ও 
জালেঘের! রাজা-_-কাহাকেও হাসিয়া উড়াইয়া৷ দিবার উপায় নাই। কিন্ত কবির হাসির 
আঘাত ক্ষমা করে নাই স্ত/বক, স্বার্থপর. নীচাঁশয় চরিত্রগুলিকে। উপাধ্যায়, উপাচার্য, 
মোড়ল, অধ্যাপক, গুরুমহাশয় প্রভৃতি চরিত্রের প্রতিই তিনি ব্যঙ্গের বাণগুলি নিক্ষেপ 
করিয়াছেন যাহাদের নীতির বালাই নাই, নিষ্ঠার পরোয়া নাই, মান অপমানেও কোন 
আক্ষেপ নাই। কিন্তু এই নাটকগুলিতে শুধু কবির ব্যঙ্গ নহে, বেদনাঁও প্রকাশ পাইয়াছে। 
(কবি শেলি একদিন ছুঃখ করিয়া বলিয়াছিলেন, এ ০৬ ০৪ 60 325 01১০ 901:0108 
৪10 5611151) 561]] (18101)152 11. 0515 ৮০:1৫ ) সেই দুঃখ রবীন্দ্রনাথের চিত্তেও বাসা 
বাঁধিয়াছে। এই দুঃখ অবরুদ্ধ প্রাণের দুঃখ, অপমানিত মন্ুয্যত্ের দুঃখ । সমাজব্যবস্থার 
আসল গলদ কোথায়, রাষ্ট্রশীসনের বথার্থবূপ কি ভাবে প্রবর্তন করা যাঁয়, ধনতন্ত্রী অত্যাচারের 
মূল কোথায় নিহিত রহিয়াছে এসব বিষয়ে কবি স্ুক্ম বিচার করিতে গারেন নাই । তবে তিনি 
দেখিয়াছেন যে আমাদের সমাজ ও রাষ্টে এমন সব নীতি ও নিয়ম রহিয়াছে যাহাদের ফলে 
মানুষের স্বাধীন বিকাশ পদে পদে খণ্ডিত হয়। উপনন্দ, পঞ্চক, স্থৃভদ্র, অমল, অভিজিৎ, 
বিশুঃ ধনঞ্জয় বৈরাগী- ইহারা মানুষের প্রতিনিধি, যে মান্গষের জীবন-কাব্য ছুঃখের অশ্রলেখার 
রচিত হইয়৷ আছে। রবাজ্রনাথের সাঙ্কেতিক নাটকে এই ছুঃখভোগী মানুষের সংগ্রামের 
কথাই লিখিত হইয়াছে। 

(কিন্ত রবীন্দ্রনাথের কাছে ছুঃখ তে দুঃখ নয়, দুঃখের কাটা যে তাহার হৃদয়ের গ্সিপ্ধ পরশে 
আনন্দের কমল হইয়া উঠিয়াছে ) সেজন্য কবি যদিও ছুঃখভোগী মানুষের দুঃখ দেখাইয়াছেন, 
তথাপি সেই দুঃখের অশ্রকালিমা আনন্দের আলোক-বন্যায় ধুইয়া গিয়াছে । ছুঃখ তো 
মানুষের পরম গৌরব, তাহার চিরকালের অভীগ্সিত সম্পদ। ইহার মধ্য দিয়াই তো দুর্লভ 
মনুযুত্বের কঠোর পরীক্ষা হইয়! যায়। এই ছুঃখের চরম আঘাত যদি আসে, যদি মৃত্যুই দ্বারে 
আঁসিয়। উপস্থিত হয়, তাহা হইলেই বা ক্ষতিকি? খিঙ্ন শীর্ণ জীবনের শতলক্ষ ধিকার 
লাঞ্ছনা অপেক্ষা তাহা যে অনেক মহত্বর ও শ্রেষ্ঠতর। অমল, অভিজিৎ, রঞ্জন--ইহার! 
মৃত্যুর মধ্যদিয়! মন্ম্বত্বের যে পরমতম গৌরব লীভ করিল তাহা কোন্‌ জীবিত মানুষের পক্ষে 
ন্ুলভ. রবীন্দ্রনাথের নাটকে এজন্য ছুঃখই দুঃখের পরিণাম নহে, মৃত্যুই জীবনের সর্বশেষ 
নহে। (দু:খ ও মৃত্যুর মধ্য দিয় কবির অদম্য অ'নন্দ ও আশাবাদ সর্বত্র ধ্বনিত হইয়াছে । 
জড় ও জীবনের সংগ্রামে জড়ের আংশিক ও প্রাথমিক জয় হইতে পারে কিন্তু অস্তিম ও 


রবীন্দ্রনাথ ২৬৫ 
সামগ্রিক জয় জীবনের ইহা রবীন্দ্রনাথের সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত । সেজন্য অচলায়তনের প্রাচীর 
ধূলিসাৎ হইয়াছে, যক্ষপুরীর জাল ছি'ড়িয়াছে ও মুক্তধারার বাধ ভাসিয়া গিয়াছে। সেজন্য 
পঞ্চকের প্রাণমাতাঁনো গাঁন মেঘ-মেছুর আকাশকে ছাপাইয় উঠিয়াছে, পথচারী অভিজিৎ 
তাহার পথের সন্ধান পাইয়াছে আর নন্দিনীর আনন্দ-লীলায় মৃত পাঁষাণপুরীর রঙ্ধে রঙ্ধে 
জীবনের ছন্দ ধ্বনিয় উঠিয়াছে। / 

বিবীন্দ্রনাথের সাঙ্কেতিক নাটকের এই অন্তনিহিতি আনন্দরসের মূলে রহিয়াছে 
গ্রকৃতির সহিত কবিচিত্তের একাত্ম যৌগ) তাহার নাটক যে শুধু মাত্র তত্বসবস্থ 
হইয়! যায় নাই, রূপে রসে ইহা যে এক অনিন্য সৌন্র্যবস্ত হইয়া উঠিয়াছে তাহার 
কারণ, ইহাঁতে মাঁনবপ্রকৃতির প্রাণ ও প্রেরণা আসিয়াছে বিশ্বগ্রকৃতির উদার উন্মুক্তি ও 
অপার জীবন-রহন্ত হইতে । রবীন্দ্রনাথ যে কবি, স্বন্দরের পরশে যে তাহার অঙ্গ পুণ্য 
ও অন্তর ধন্ত হইয়। উঠিয়াছে, তাহা তো আমর। কখনও ভুলিতে পারি না। এই 
স্থন্দরের স্বর্ণকমল ফুটিয়। উঠে বিশ্বপ্রকৃতির আঁলো-গন্ধ-স্থুর ও ছন্দে ভরা আসনে । কবি 
রহস্য-সুগ্ধ দৃষ্টিতে এই স্বর্ণকমলের সন্ধান করিয়াছেন, সাঙ্কেতিক নাটকেও ইহার কোন 
ব্যতিক্রম হয় নাই।(মাশ্ষের গৃহবদ্ধ জীবন সংকীর্ণ ও খণ্ডিত, এ জীবন ভূমার পরশ ও 
ও প্রভাব তখনই লাঁভ করে যখন ইহ বিশ্বপ্রকৃতির অবারিত আনন্দ-মুক্তির মধ্যে নিজেকে 
নিঃশেষে বিলাইয়া দিতে পারে। রবীন্দ্রনাথের নাটকে সেজন্ত ঘরের মানুষ বাহিরের জন্য 
পাঁগোল--“আঁকাঁশ ভেঙ্গে বাহিরকে' তাহার! লুট করিতে চায়। নিশ্চিন্ত আশ্রয় ছাড়িয়া 
অনিশ্চিত পথকেই তাহার! অবলম্বন করে। উদয়াদিত্য, অভিজিৎ, বাউল, ধনঞ্রয় বৈরাগী, 
ঠীকুর্দা সকলে তো! এই পথের খেলাতেই পাগোল। ঘরের মধ্যে নিরাপদ আরাম রহিয়াছে 
কটে, কিন্তু যাহারা প্রকৃত সত্যসন্ধীনী মানুষ তাহাঁদের জন্য “ঘরে ঘরে শূন্য হলে৷ আরামের 
শয্যাতল, বিদ্-বিপদ-জড়িত চল-চঞ্চল পথের ইসারা তাহাদিগকে আকর্ষণ করে; 
রবীন্দ্রনাথের নাটকের চরিত্রগুলি সেই আকর্ষণ উপেক্ষা করিতে পারে নাঁই।১ কিন্তু বিশ্ব- 
প্রকৃতির সহিত মিলনে যখন বাঁধা দেখা দেয় তখন হয় অশীস্তি, তখনই কবিহৃদয়ের 
গ্রতিবাদ। এই প্রতিবাদ ধবনিত হইয়াছে প্রত্যেকটি নাটকে। রবীন্দ্রন।থের নাটকে যে 
বিশ্বগ্রকৃতি স্থান লাভ করিয়াছে তাহা নিশ্চল জড় প্রকৃতি নহে, তাহা সচল, জীবিত প্ররুতি। 
সেজন্যই তো তাহার, এত বৈচিত্র্য, রূপ ও রঙের এত পরিবর্তন | এই বৈচিত্র্য ও পরিবর্তনের 
মূলে রহিয়াছে খতুরন্গের নিত্য লীলা-পরিক্রমা । রবীন্দ্রনাথের এক একটি নাটকে এক 
একটি খতুর লীলাময় রূপ আমর! দেখিয়াছি।১ বর্ধার সজল-মেছুর রূপ ফুটিয়াছে 
“অচলায়তনে, শরতের নিগ্ধ-শুভ্র লীল! প্রাণ লাভ করিয়াছে 'শারদৌতৎসবে? ; শীতের সোনালি 
ধানের মায় জাগিয়। উঠিয়াছে 'রক্তকরবী'তে ও বসন্তের আনন্দ-লীলার আসন পাতা 
রহিয়াছে “ফান্তুনী” ও “রাজা” নাটকে । খতুর এই বিচিত্রতার মধ্যেও কিন্তু একস্কলে অনন্য 

১। শ্রীযুক্ত প্রমথ বিশী তাহার “রৰীক্রনাট্য প্রবাহে (১মথগু) খতুলীলা সম্বন্ধে বিশদ আলোচনা 
করিয়াছেন । 

৩৪ 


২৬৬ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


এ্রক্য দেখ! গিয়াছে, এবং তাহাও হইল আনন্দরসের অভিব্যক্তিকে। প্ররুতির যে বূপই কবি 
দেখান ন! তাহা সর্বত্রই আনন্দরূপ হইয়া উঠিয়াছে। শীত ও বর্ষা পর্যন্ত কবির চিত্তে শুধু 
কেবল আনন্দই বহন করিয়া আনিয়াছে । এই আনন্দময়ী প্রকৃতি তাঁহার নাটকীয় চরিত্র- 
গুলিকে প্রভাবিত ও সঞ্জীবিত করিয়৷ রাখিয়াছে, _পঞ্চকের চোঁখে তাই শ্টামল মেঘের 
উতলা আহ্বান, স্থদর্শনার অন্তরে শিরিষ কুস্থুমের মত্ত আর নন্দিনীর গাঁনে পৌষালি 
ফসলের গ্রাচুর্য। 

রবীন্দ্রনাথের নাটকের এই প্রকৃতিপ্রাণতার সহিত আর একটি বিষয় উল্লেখ করা 
প্রয়োজন--তাহা৷ হইল গীতিধমিত| | এই গীতিধগিতা তাহার সাঁহিত্যের। সর্বপ্রধান বৈশিষ্ট্য 
এবং সাহিত্যের সর্ববিভাগ যথা-_ গল্প, উপন্যাস, নাটক প্রভৃতির মধ্যে ইহা! ওতপ্রোতভাবে 
মিশিয়া আছে। অবশ্ঠ ইহীতে তাঁহার সাহিত্যের উপকার ও অপকার ছুই ঘটিয়াছে। 
মানুষের সাধারণ অর্থময় ভাষা ও প্রকাশভঙ্গির দ্বারা সীমাতীত ও গুহাহিতকে প্রকাশ কর! 
চলে না। কিন্তু সঙ্গীতের স্থুর ও ছন্দ তাহার আভাস দিতে পারে। রবীন্দ্রনাথের প্রসিদ্ধ 
“ভাষ! ও ছন্দ” কবিতাটির মর্সবস্তব এই মতের পরিপোষকরূপে উল্লেখ করা যাঁইতে পারে। 
একটি সঙ্গীতের মধ্য দিয়া যে বিপুল ভাবরাঁজ্যকে উদ্ঘাঁটিত করা যায় এক ঝুড়ি কথ! দিয়া 
তাহার প্রান্ত দেশেও পৌছান সম্ভব নয়। রবীন্দ্রনাথের প্রত্যেকখানি নাটকে . এমন এক 
একটি সঙ্গীত আছে যাহার মধ্যদিয়! নাটকের সমগ্র ভাবটি ব্যঞ্জিত হইয়া উঠে। পঞ্চকের 
মুখে যখন শুনি__- ওরে ওরে ওরে আমার মন মেতেছে তারে আজ থামাঁয় কে রে,, তখন 
আমর অনুভব করি আকাশের ঘন মেঘে মুক্তির ডাক আর নব বুষ্টিধারার় তাঁপদগ্ধ তৃষিত 
মানুষের সঞ্জীবনী সুধা । “ফান্তনী”র যুবকরা যখন মাঁতিয়া উঠে--'ওরে ভাই, ফাগুন লেগেছে 
বণ বনে, তখন সেই ফাগুনের পরশ সকলের অন্তর রোমাঞ্চিত করিয়! তোলে। গা 
ধারা”র ভৈরবপন্থীরা কিছুকাল পরে পরেই রুদ্র গন্তীর স্বরে যে গান গাহিয়৷ চলিয়ীছে _ 
“জয় ভৈরব, জয়-শঙ্কয়, জয় জয় জয় প্রলয়ঙ্কর+ তাহার অন্তনিহিত ভয়াবহ সম্ভাবনায় বিভৃতির 
অভ্রভেদী লৌহযন্ত্বটি যে শিহরিত হইয়া উঠে তাহা আমরা সহজেই অনুমাঁন করিতে পারি। 
রবীন্দ্রনাথের সাঙ্কেতিক নাটক ছুর্বোধ তব্ময়ত! সত্তেও যে এত সরস ও সৌন্দর্যময় হইয়। 
ভঠিয়াছে তাহার মূলে এই সঙ্গীতগুলির প্রভাব কম নহে। ' ক্রোতম্বিনীর সরসধাঁর! যেমন 
অনৃশ্ঠ মৃত্তিক-পথে সঞ্চারিত হইয়! দূরবর্তী অনুর্বর ভূমিকেও স্থজল! সুফল! করিয়া তোলে 
এই গানগুলিও তেমন নীরস তন্বভূমির অন্তরে রসধারা সিঞ্চন করিয়া ইহাকে স্দৃশ্য করিয়া 
তুলিয়াছে। কিন্ত গানগুলির দ্বার নাটকের যেমন উৎকর্ষ হইয়াছে তেমনি আবার স্থানে 
স্থানে অপকর্ষও ঘটিয়াছে। কবি যেখানে সঙ্গীতপ্রবণতার ফলে সঙ্গীতের অকারণ আতিশয্য 
আনিয়া ফেলিয়াছেন সেখানেই এই অপকর্ষ দেখা গিয়াছে । অনেকস্থলে শুধুমাত্র কয়েকখানি 
গান যোজন! করিবার জন্যই যেন কবি কোন কোন চরিত্রকে অনাবশ্যক কারণে গতিশীল 
ঘটনার মাঝে আনিয়। ফেলিয়াছেন। )ফান্তনীর বাউল, 'রাজা'র ঠাকুরদা, প্রায়শ্চিত্ত 
ও “মুক্তধারা”র ধনঞ্জয় বৈরাগী- প্রভৃতি চবিব্রগুলিকে দৃষ্টান্ত স্বরূপ উল্লেখ করা ষাইতে পারে। 


রবীন্দ্রনাথ ২৬৭ 


ইহার রবীন্দ্রনাথের তন্ববাঁহক হইতে পাঁরে, কিন্তু ইহাদের নাচ গান অনেকস্থলে নাটকের 
গতিপথে অপ্রাসঙ্গিক বাঁধ! হইয়া উঠিয়াছে সন্দেহ নাই। . 
রবীন্দ্রনাথের তত্বনাটকে জীবনের মর্যাদা ও আকর্ষণ যে দর্বাপেক্ষা বড় হইয়া উঠিয়াছে 
তাহা এতক্ষণের আলোচনার মধ্য দিয়া সকলেরই বোধগম্য হইবে । কিন যাহাঁর৷ . জীবনের 
জয়গাঁন করিয়াছে তাহারা! জীবিত হইতে পারিয়াছে কি? অবশ্য একথা প্রথমেই স্বীকার 
করিয়! লওয়! ভাল যে, সাঙ্কেতিক নাটকে ইন্জরিয়-চাঁলিত জীবনের বর্ণাঢ্য বস্তরূপ আমর! 
আশা করিতে পারি না । জীবন সেখানে আভাসে ইঙ্গিতে প্রকাশিত, রহস্যকুহেলিছায়ায় 
আবৃত। কিন্ত তবুও একথা সত্য যে, অভিনেয় নাটকের মধ্যে জীবনের একটা বহিরাশিত 
মানবীয় রূপ থাকা দরকার। শ্রীযুক্ত প্রমথ বিশী বলিয়াছেন, "রবীন্দ্রতত্বনাট্যে একটিও 
পুরাপুরি বিশ্বাসযোগ্য, হৃদয় গ্রাহী, সজীব চরিত্র চোখে পড়ে না।, )কি একথা কি সর্বাংশে 
সত্য? রঘুপতি, ক্ষেমঙ্কর, বিক্রমদেব, শঙ্কর, রেবতী, নয়নরায়ের মত সজীব ও সচল চরিত্র 
সাঙ্কেতিক নাটকে না থাকিতে পারে; কিন্তু মহীপঞ্চক, কাঞ্ধীরাঁজ, বিভূতি, লক্ষেশ্বর, 
রণজিৎ, অভিজিত, স্ুদর্শনা, নন্দিনী -ইহাঁরাঁও তে। একেবারে নির্জীব, নিশ্চল চরিত্র নহে, 
তত্ববান হইয়াও তো ইহারা প্রাণবান হইতে পারিয়াছে। সাক্কষেতিক নাটকে তত্বের 
কণ্ট কণগুল্মে মানুষের হৃদয়ের আনন্দবেদনা'র কত শতদল ফুটিয়া রহিয়াছে । অন্বার আর্তনাদ, 
স্ভদ্রের বেদনা, কিশোরের আত্মদান, বিভার প্রায়শ্চিত্ত -এ সব গৌণ ঘটনার মধ্য 
দিয়াও কবি তাহার নাটককে মানবরসাত্মক করিয়া তুলিয়াছেন। রবীন্রনাথের সাঙ্কেতিক 
নাটকে তত্ব নিছক তত্ব নয়, জীবন অহেতুক জীবন নয়; এখানে তব জীবনকে অবলম্বন 
করে ও জীবন তত্বকে আশ্রয় করে। ূ 
৬/সান্কেতিক নাটকে নাটকীয় রসের আবেদন প্রত্যক্ষ এবং তাৎক্ষণিক নয় বটে, কিন্ত 
তবুও এই আবেদন জাগাইয়া তুলিতে হইবে। দর্শক বাহাক্রিয়ার অভাব কল্পনাকে অতি 
মাত্রায় উন্মুখ এবং প্রথর রাখিয়া পূরণ করিয়৷ লয়। সেই কল্পনার দৃষ্টির সাহায্যে ভাবজগতের 
ক্রিয়া এবং ছন্দ সে দর্শন করিয়া রসাপ্লুত হইয়া উঠিতে পারে। নাটকে ক্র ভাব বাহ্‌ ঘটনার 
স্থান গ্রহণ করিতে পারে, কিন্তু সেই ভাব যথেষ্ট সত্য ও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন, মানুষের মনে 
ইহাঁর সর্বজনীন সহজ আবেদন থাঁক! দরকার, তাহা না হইলে নাটকের কোনো মূল্য নাই। ১ 
রবীন্দ্রনাথের সাঙ্কেতিক নাটকের আলোচনাকালে 1468র সঙ্গে সঙ্গে নাটকত্ব আমরা 
বিচাঁর কবির। নাটকীয় গুণগুলি ভালো৷ করিয়া! দেখাইতে না পারিলে 149৪র চমৎকারিত্ব 
সত্বেও তাহার নাটকগুলিকে আমর! উচ্চ স্থানে প্রতিষ্ঠিত করিতে পারিব না। রবীন্দ্রনাথ 
নিজে বলিয়।ছেন যে এই নাটকগুলি তাহার কাছে খুবই স্পষ্ট এবং বাস্তব। অবশ্ঠ তাহার 
১। 4,109. 0101£%0 তাহার 1৩000776108 01 1100.9]) [%1001181) 1)7%709 গ্রন্থে নাট্যকার ০৪6৪ 
এর আলোচনা প্রসঙ্গে সাক্ষেতিক নাটক সম্বন্ধে অতি হন্দরভাবে মত প্রকাশ করিয়াছেন--চ:581 9৮ 7৪ & 
19701) 0096 05006 ০2৮0 00]5 1)00101917, 3511010017970 2085 19০ 508 11006, ৪ 9100০ 11016 1110101- 


1)9017)6 0০০ ৪00. 02911000] 19698 10700 11698 0102 10698 86 ৮06 0100 1১2900100], 0101689 1165 
89 98861001911 168], ৮6 26 0068 সা]] 0 0106 সা18) 1080106 0015 60 10060701695 09969, 0247 


২৬৮ বাংলা নাটকের ইতিহাস 


দৃষ্টি এত হুক্ম. এত গভীর তলাশ্রয়ী যে তাহার কাছে ভাবজগৎ বাহজগতের মতই জীবন্ত এবং 
ক্রিয়াময়; কিন্তু সাধারণ লোকের কাছে তাহার সাঙ্কেতিক নাটক কিভাবে প্রতিভাত হয় 
তাহাই আমাদের আলোচ্য । তাহার সাঙ্কেতিক নাটক গুলির মধ্যে তাহার কোনো বিশিষ্ট 
মতবাদ প্রচ্ছন্ন রহিয়াছে। তাহার কবিতা প্রবন্ধ এবং বক্তৃতার মধ্যে যে মত ও ধারণার 
সহিত আমর! পরিচিত হই, তাহাঁরই প্রতিধ্বনি দেখি নাটকে, স্ৃতরাঁং রবীন্দ্র-সাহিত্য- 
পাঠকের কাছে তাহার নাটকের ভাব হৃদয়ঙ্গম করা শক্ত নহে। তাহার নাটক সম্বন্ধে আর 
একটী কথা উল্লেখযোগ্য এই যে, নাটকের অন্তনিহিত রূপক অন্তরেই রহিয়৷ গিয়াছে। 
অন্তঃপুরে যাহার স্থান, স্পর্ধ! করিয়া কাছারী-ঘরে আসিয়া! সে বাহিরের লোকজনকে বিব্রত 
করে নাই। কবি নিজেও রূপক অর্থ লইয়া অনর্থক মাথা ঘামাঁনে৷ পছন্দ করিতেন না, 
বক্তব্য অংশের মধ্যেই দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখিবাঁর কথ! বলিতেন। “রক্তকরবী/র প্রস্ত'বনাঁয় তাহার 
অনন্ুকরণীয় ভাষায় তিনি বলিয়াছেন -'আমার নিবেদন যেট? গুঢ় তাকে প্রকাশ করলেই 
তার সার্থকতা চলে যায়, হৃৎপিগট। পীজরের আড়ালে থেকেই কাজ করে। তাঁকে বের ক'রে 
তার কার্ধপ্রণালী তদারক করতে গেলে কাজ বন্ধ হয়ে যাবে ।” তাহার নাটকের সাক্কেতিক 
অর্থ না বুঝিলেও নাটকের দৃশ্তগত রস গ্রহণ করিতে তেমন ব্যাঘাত হয় না। “রাজা 
€ডাঁকঘর+ “মুক্তধারা+ প্রভৃতি নাটকের মধ্যে গভীর তত্ব আছে সন্দেহ নাই, কিন্ ইহাদের 
মধ্যস্থ পাত্রপাত্রীগুলির চরিত্র-দ্বন্দের মধ্যে যে জমাট নাটকীয় রস আছে তাহাও বিশেষ লক্ষ্য 
করিবার বিষয়। যাহা! স্থদূর, অস্পষ্ট, অতীব্দিয়, তাঁহার মধ্যে দৃশ্ঠ-জগতের রূপ ও রস সঞ্চার 
করিয়া আমাদের প্রত্যক্ষের গোঁচরীভূত করিয়া তোলাই রবীন্দ্রনাথের সাক্ষেতিক নাটকের 
উদ্দেশ্ট । ইহাতে নাঁটকত্ব অক্ষুপ্ণ এবং অব্যাহত রহিয়াছে । নাটকের কাজ আমাদের 
মলের মধ্যে একটা আবেগময় আগ্রহ ও উৎকঠ্ঠ! জাগাইয়৷ রাখা, এবং রবীন্দ্রনাথের 'সব 
সাঙ্কেতিক নাটকে এমন একটা! চরিত্রের সম্ভাবন! গড়িয়া তোল! হইয়াঁছে যাহার জন্য আমাদের 
মনপ্রাণ উদ গ্র আগ্রহে উদগ্রীব হইয়া থাকে । প্রায়ই কোনে! অদৃশ্ঠ রাঁজা এই ধরণের 
চরিত্র হইয়াছে। অপরাপর চরিত্রগুলিও নেহাত বাস্তব-সম্পর্কহীন ভাবের সমষ্টিমাত্র নহে, 
তাহাদের মধ্যে সরস স্বাভাবিকতা এবং সাধারণ মানবত্ব পুরাপুরি বিছ্যমান। স্ৃতরাঁং 
রবীন্দ্রনাথের সাক্ষেতিক নাটকগুলিকে যথার্থ নাটক বলিতে আমাঁদের বাধা নাই। 

॥ শারদোৎসব (১৩১৫) ॥ শারদৌৎসব খতু-প্রশস্তি পর্যায়ের নাটিকারূপে ১ বোলপুরে 
্র্গচর্যাশ্রমে শীরদৌৎসব উপলক্ষে ছাত্রদের দ্বারা অভিনীত হইবার জন্ত রচিত হয়। কিন্তু 
শরৎখতুর বাহ্‌ আনন্দোংসব বর্ণনাই এই নাঁটিকাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য নহে, ইহার মধ্যে 
গুহাহিত তত্বের সমাঁবেশও রহিয়াছে, বিশেষত উপনন্দের খণশোধের মধ্যে রহস্যঘন সাক্কেতি- 
কতার স্পর্শ আছে। সেজন্য সাঙ্কেতিক নাটকের শ্রেণীতে ইহাকে অন্তভূক্ত করা অসঙ্গত 
নহে। কিন্ত হুক বিচারের আলোকপাতে খতু-প্রশস্তি নাটিকা অথবা সাস্কেতিক নাটিকা 


্‌ ১। বিশ্বভারতী কতৃক খতুউৎস্ব পর্যায়ের পাঁচটি নাটিকার নাম--'শেষবর্ষণ', 'শীরডোৎসব, “বসন্ত 
'ুলার,, “কান্ধুনী,, 


রবীজ্ঘনাথ ২৬৯ 


কোনরূপেই ইহাঁর উৎকর্ষ লক্ষিত হইবে না। প্রকৃতির খতু-উৎসবের নিমন্ত্রণে কবি সাড়া 
দিতে চাহিয়াছেন তাহ! সত্য,১ কিন্তু প্রকৃতির সহিত একময়তা আমরা এই নাঁটিকায় যথার্থরূপে 
দেখিতে পাইয়াছি কি? শরত্প্রকৃতির আবেগিত বর্ণনা! মাঝে মাঁঝে আমরা. সন্গ্যাসীর মুখে 
শুনিয়াছি কিন্ত ইহা কোথাঁও অবিচ্ছেগ্ প্রভাবরূপে কোন চরিত্রের অন্তনিহিত প্রকৃতির 
মধ্যে মিশিয়! যাঁয় নাই। উপনন্দের সহিত প্রকৃতির যোগ তো একেবারেই নাই। 
অভিজিৎ কিংবা পঞ্চক হৃদয়ের প্রতি রন্ধে রঙ্কে প্রকৃতির যে ছুর্দন আনন্দ-নৃত্য অনুভব 
করিয়াছে উপনন্দ তাহার কণামাত্রও স্পর্শ করিতে পারে নাই। এই নাটিকার 
ঠাকুর্দা চরিত্রের সহিতও প্রকৃতির কোন গভীর আনন্দ-সম্পর্ক নাই। রাজসন্গ্যাসীর 
একাধিপত্যে ঠাঁকুর্দা এখানে নিতান্তই উপেক্ষিত মর্যাদা লাভ করিয়াছেন এবং তিনি ও 
তাহার ছেলের দল ছুটির আনন্দ যতখানি ব্যক্ত করিয়াছেন প্রকৃতির আনন্দ ততখানি 
ব্যক্ত করিতে পারেন নাই। এই নাটিকাঁয় সাক্কেতিক রহস্তের কোন সুষ্ঠু রূপাঙ্কন 
আমর! দেখিতে পাই না । উপনন্দের খণশোধের ব্যাপারটির উপর কবি স্বয়ং অনেকখানি 
গুরুত্ব আঁরোঁপ করিয়াছেন সন্দেহ নাই; কারণ কবি যেখানেই এই নাটিকার ব্যাখ্যা 
করিয়াছেন সেখানে এই বিষয়টিই বিশদভাবে বিশ্লেষণ করিয়াছেন।২ এই নাঁটিকাঁর বিষয়- 
বন্ত অবলম্বন করিয়া পরবর্তীকালে যে নাঁটিকাথাঁনি রচনা করিয়াছিলেন তাহার নামও তিনি 
'ধণশোধ' রাখিয়াছিলেন । কিন্তু এই খণশোধের বিষয়টি নাটিকার মধ্যে কতখানি অংশ 
লাভ করিয়াছে? নিতাস্তই সামান্য সন্দেহ নাই। নাঁটিকার মূলধারার মধ্যে উপনন্দের 
বৃত্ান্তটি প্রসঙ্গত্রমে আসিয়! পড়িয়াছে মাত্র । আর একটি বিষয় বিচার্য। উপনন্দ খণশোধ 
করিবার জন্য যে কষ্ট বরণ করিয়া লইয়াছে তাহাঁতে কর্তব্যবোধ যতখানি আছে, আনন্দ- 
বোধও কি ততখানি আছে? সম্ভবত নাই।৩ যদি থাকিত তাহা হইলে লক্ষেশ্বরের 
অপমাঁনে সে নিজেকে খণমুক্ত ভাঁবিতে পারিত কি? রবীন্দ্রনাথ নিজের ব্যাখ্যায় ও 
নাটকীয় চরিত্রের কথায় উপনন্দের খণশোধের একটি গভীরতর ও ব্যাপকতর তাৎপর্যের 
আভাস দিয়াছেন। সন্গ্যাসীর কথায় 'আঁজ স্পষ্ট প্রত্যক্ষ দেখতে পাচ্ছি_-জগৎ আনন্দের 

১। কবির নিজের উক্তি এ প্রসঙ্গে উল্লেখষোগ্য-_-“মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলনের উৎসব ঘরে ঘরে 


বারে বারে ঘটছে। কিন্তু প্রকৃতির সভায় খতু-উৎসবের নিমন্ত্রণ যখন গ্রহণ করি তখন আমাদের মিলন 
আরো অনেক বড় হয়ে ওঠে ।, 

২ “কিন্ত একটি ছেলে ছিল-_-উপনন্দ-_সমস্ত খেলাধূল! ছেড়ে সে তার প্রভুর খণশোধ করবার জন্যে 
নিভৃতে বসে একমনে কাঁজ করছিল । রাজ বললেন, তাঁর সত্যকার সাথী মিলেছে, কেন ন। এ ছেলেটির 
সঙ্গেই শরৎপ্রকৃতির সত্য কার আনন্দের যৌগ--এ ছেলেটি দুঃখের সাধন! দিয়ে আনন্দেন খণ শোধ করছে--সেই 
ছুঃখেরই রূপ মধুরতম 1, 

-'আমার ধর্ম * 

৩। ডাঃ নীহাররগঞ্রন রায় এ সম্বন্ধে সুন্দর মন্তব্য করিয়াছেন---'কিস্তু উপনন্দ নিজে তাহার খণশোধের ক্ষের 
মধো এই অন্তর্নিহিত আনন্দের সন্ধান পাইয়াছিল কি? অন্তত তাহার ভাষণ ও কর্মের মধ্যে সে পরিচয় 
সুম্পষ্ট প্রকাঁশ পায় নাই, বরং কতবব্য তাহার কাছে কতকটা বেদনার ভার, ধদিও সে ভার সে স্বেচ্ছা 


বণ করিয়াছে। 
স্প্রবীক্্র সাহিত্যের ভূমিকা (২য় খও)--২২% 


২৭০ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


'খণ শোঁধ করবে । বড় সহজে করবে না, নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে সমস্ত ত্যাগ ক'রে 
করবে! সেই জন্তেই ধানের ক্ষেত এমন সবুজ শ্রশ্বর্ষে ভরে উঠেচে, বেতসিনীর নির্মল 
জল এমন কানায় কানায় পরিপূর্ণ ।” এইভাবে উপনন্দের ব্যক্তিগত সত্যবোধ একটি সর্বময় 
জগৎসত্যে রূপায়িত হইয়াছে । কিন্তু নাঁটিকাঁর এই মর্মবাণী ইহাঁর ঘটনা! ও চরিত্রায়ণে মোটেই 
পরিস্ফুট হয় নাই। 


প্রকৃতপক্ষে নাঁটিকাঁটির মূল চরিত্র হইল রাজসন্ন্যাসী এবং তাহাকে কেন্দ্র করিয়াই 
ইহার রহস্যরস জমিয়া উঠিয়াছে। বিজয়াদিত্যের ছদ্পাবেশ এবং তাহার ছদ্মবেশ মোঁচনই 
একমাত্র কৌতৃহলোদ্দীপক ঘটনা । অবশ্ঠ তাহীর মধ্য দিয়া. কবি বোধ হয় রাজচরিত্রের 
একটি আদর্শ রূপ ফুটাইয়া তুলিতে চাহিয়াছেন। “রাজা হতে গেলে সন্ন্যাসী হওয়া চাই”-_ 
এই সত্য কবি সন্গ্যাসী চরিব্রটির মধ্য দিয়া দেখাইতে চাহিয়াছেন। কিন্ত তবু একথা তো 
অস্বীকার কর! চলে না যে সন্ন্যাসীরূপ রাজার ছন্নবূপ। শেষ পর্যন্ত তিনি রাজাই হইয়া 
উঠিলেন। সেজন্য সন্ধ্যাসীরূপে তিনি মুক্ত বিশ্বপ্রকৃতির যে আনন্দ দ্যোতনা অনুভব 
করিয়াছেন তাহ। তাহার রাজসভ্তার উপর কতখানি প্রভাব বিস্তার করিতে পাঁরে সে সন্দেহ 
আমাদের মধ্যে জাগ্রত হয়।১ এই রাজসন্গ্যাসী চরিত্রটির সহিত সর্বাপেক্ষা গভীর সংযোগ 
ও সংঘাত ঘটিয়াছে লক্ষেশ্বর চরিত্রের । লক্ষেশ্বর আদর্শ নভোচারী মানুষ নহে, সে স্বার্থমগ্ন 
পৃথিবীর বাস্তব মানুষ । সে নিন্দনীয় হইলেও যথার্থ। সে কুবেরের পৃজারী, লক্ষ্মীর পদ্মটির 
সন্ধান সে পায় নাই। মাটির তলায় অন্ধকারের গর্ভে রহিয়াছে গজমোতি আর মাটির 
উপরে সারা বিশ্ব জুড়িয়া লক্ষ্মীর পদ্মের পাপড়িগুলি পাঁতা। লক্ষেশ্বর মাটির তলায় দৃষ্টি 
নিবদ্ধ করিয়া রাখিয়াছে বলিয়! মাঁটির উপরের পদ্মের সন্ধান পায় নাই। না পাক, 
কিন্ত যে নিদারুণ অস্বস্তি ও বেদনা! তাহাকে অহরহ বিচলিত করিয়াছে তাগতে তাঁহার 
চরিত্রে নি,.সন্দেহে একটি সজীব কারুণ্যের স্পর্শ আসিয়। গিয়াছে । 

॥ প্রায়শ্চিত্ত (১৩১৬) ॥ প্রায়শ্চিত্ত, ধরতিহাসিক নাটকরূপে অভিহিত হইয়াছে । ইহার 
কাঁরণ সম্ভবত এই যে, রবীন্দ্রনাথের এ্রতিহাসিক উপন্যাস “বৌঠাকুরাণীহাঁট হইতে ইহীর বিষয়- 
বস্ত গৃহীত হইয়াছে । নাঁটকের মূল ঘটনা! ও চরিত্রগুলির মধ্যে ইতিহাসের ছাঁয়াপাত আছে, 
সেজন্ত এ্রতিহাসিক নাট করূপে পরিচিত হইবাঁর যুক্তি হয়তো! ইহার আঁছে। কিন্তু প্রতিহাসিক 
নাটকের উদাত্ব-গম্ভীর পরিবেশ ও রসন্ষ্টি কিছুই ইহাতে নাই। এীতিহাসিক ঘটনার 
বহির্িপ্রব ও শক্তিসংঘাঁত অপেক্ষা পারিবারিক অন্তবিপ্রব ও হুক মাঁনসসংঘাত ইহার মধ্যে 
প্রাধান্তলাভ করিয়াছে। দৃশ্তগুলির আত্যন্তিক সংক্ষিপ্ততা ও সংলাপের নিত্য ব্যবহীর্য 


চু 
শশী শী শিস 





পপ পাপ 


১। ডাঃ সুবোধ সেনগুপ্তের মত গ্রহণযোগ্য-_-বরং ইহাই মনে হয় যে, সন্গ্যাসীর বেশের মত ইহাঁও 
ভীহার একটা। বিশেষ ভঙ্গীমাত্র , মজ! দেখিবার জন্য যে কোন সময়েই তিনি বাহির হইতে পরেন, শরতের 
এ্বর্য উপলক্ষ্য মাত্র ।' 

০ -সরবীজ্রনাথ (২য় সং)--২৩৩ 


রবীজ্্নাথ ২৭১ 


সাধারণত্ব১ অতীত জগতের রহস্তঘন কুহেলি ছিন্ন করিয়া ইহাঁর মধ্যে আধুনিক বাস্তব-জগতের 
ভাঁবরস সঞ্চার করিয়াছে। প্রায়শ্চিত্ত” নাটক রচিত হইয়াছিল এমন এক সময় যখন কবির 
চিত্ত শ্থুল ইন্দ্রিয়জগৎ হইতে সুক্ষ অতীন্ডিয় জগতের রহস্য সন্ধানে উৎসুক হইয়। উঠিয়াছিল। 
সমসাময়িক সাঁক্ষেতিক নাটকগুলির মধ্যে কবিচিত্তের এই ভাবাম্গভূতি প্রকাশিত হইয়াছে। 
এই নাটকও যে তৎকালীন কবিমানসের সাক্ষ্য কিছুটা বহন করিতেছে তাহার দৃষ্টান্ত ধনগ্রয় 
বৈরাগী । তাহার কথায় ও গাঁনে ঈর্ষা-ছন্ব-ভরা জগতের অতীত এক স্থথশান্তিময় বিশ্বদেবতার 
রাজ্যের প্রতি সংকেত ধ্বনিত হইয়াছে । রবীন্দ্রনাথের অধিকাংশ সাক্কেতিক নাটকে পথের 
যে সর্বময় আকর্ষণ দেখান হয় এই নাঁটকেও তাহীর পরিচয় পরিস্ফুট হইয়াছে । উদয়াদিত্য, 
বিভা, ধনগ্রয় সকলেই শেষ পর্যন্ত পথে নামিয়া৷ পড়িল। হিংসা-গীড়িত রাত্রির অন্ধকার 
পথ দিয়। নব মুক্তিপথে তাহাদের যাত্রা, জীবনে চরম রিক্ত হইয়াছে বলিয়াই তে পরম 
দুর্লভের সাধন! তাঁহাদের সার্থঘক। কিন্তু এই সব কিঞ্চিংকর সাক্কেতিকত। সত্বেও নাটক- 
খাঁনিকে খাটি সাক্কেতিক নাটকের শ্রেণীতে কখনই ফেল! যায় না । কবির অন্তান্ত সাঙ্কেতিক 
নাটকের মধ্যে প্রকৃতির সহিত যেরূপ অবিচ্ছিন্ন যৌগ, যেরূপ কবিত্বময় বাঁণীর বঙ্কার, 
যেরূপ গুঢ় ভাবরহস্তের পরিমণ্ডপ লক্ষ্য কর! যাঁয়-_এই নাটকে সেরূপ কিছুই নাই। প্রকৃত- 
পক্ষে এই নাটকথানি সম্বন্ধে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় যে, ইহা খাটি এ্তিহাসিক নাটক 
অথবা সাঙ্কেতিক নাটক কোনটাই হয় নাই। এ্রছুইপ্রকার নাটকের মাঝে একটি অসমঞ্জস 
সন্ধি করিতে চাহিয়াছে মাত্র । ইহাঁর এতিহাঁসিকতার মূলে রহিয়াছে ইহার বিষয়বস্ত এবং 
কবির মানস-উৎ্স হইতে আসিয়াছে ইহার সাঁঙ্কেতিকতার প্রেরণা । পরবর্তীকালে এই 
নাটকের অনুপ্রেরণা হইতে উৎপত্তি লাভ করিয়াছিল রবীন্দ্রনাথের শ্রেষ্ঠ সাঁঙ্কেতিক 
নাটক 'মুক্তধারা+। পপ্রায়শ্চিন্ত' ও 'মুক্তধাঁরাঁ”র কাহিনীর মধ্যে যথেষ্ট মিল রহিয়াছে । চরিত্রের 
দিক দিয়াও এই মিল সুম্পষ্ঠ-ধনঞ্জয় তে! উভয় নাটকে একই চরিত্র হইয়৷ রহিয়াছে। 
তাহা ছাঁড়া গ্রতীপাঁদিত্য, বসন্তরায়, উদয়াদিত্য যথাক্রমে রণজিৎ, বিশ্বজিং ও অভিজিৎ 
চরিত্রে পরিণত হইয়াছে । 


এই নাটকের নাম “প্রায়শ্চিত্ত হইল কেন? স্পষ্টতই বুঝা যায় রবীন্দ্রনাথ সহজ সাঁধারণ 
অর্থে নীমটি ব্যবহার করেন নাই । প্রায়শ্চিত্ত সত্য সত্যই যাহাঁদের করা উচিত ছিল সেই 
প্রতাপাদিত্য অথবা রামচন্দ্রের কোন প্রায়শ্চিত্ত আমরা দেখি এনাই। যাহার! পুন্তাত্বা ও 
সত্যসন্ধ তাহাঁরাই আঁঘাঁত-বেদন! বরণ করিয়া লইয়া নির্বোধ ও নিষ্ঠুর মান্ষের জন্ত বুঝি 
প্রায়শ্চিত্ত করিল--উদয়াদ্িত্য তাহার পিতার এবং বিভ। তাহার স্বামীর অপরাধের 
প্রায়শ্চিত্তের দায়িত্ব নিজেদের জীবনে বরণ করিয়৷ লইল। অথবা ইহাও হইতে পারে যে 


১। টমসন সাহেবের উক্তি উল্লেখযেগ্য--016০ 89. 10810 80008, 0808115 630০771610 
07151-8686965005 01910219107 দা1)101) 019 20610 9০21788 10০56] 00 £৪৮ 001:৮013, 
19011) 0970901)-0, 208 


২৭২ বাংল। নাটকের ইতিহাস পু 


প্রতাপাদিত্য উদয়াদিত্যের স্তাঁয় পুত্রকে এবং রামচন্ত বিভাঁর স্ায় স্ত্রীকে হারাইল, ইহাই তো 
তাহাদের জীবনের করুণতম প্রায়শ্চিত্ত । 

মাুষের নিষ্ঠুর পশুশক্তির সহিত অহিংস আত্মিক শক্তির ছন্দ হইতেই আলোচ্য 
নাটকের প্রাণবন্ত গড়িয়া উঠিয়াছে। প্রতীপাদিত্য হৃদয়হীন পণ্ড, স্বেহ-মমতা, কর্তব্য 
কৃতজ্ঞতা সব মানুষী বৃত্তিগুলিই তাঁহার হিং্রজিবাংসার আঘাতে শতচ্ছন্ন হইয়া গিয়াছে। 
উদয়া্িত্য, বিভা, সরমা৷ বসন্তরায় প্রভৃতি তাহার বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ জানাইয়াছে তাহ 
নীরব ও নিরন্ত্র। হয়তে৷ তাহাদের পাঁধিব ক্ষয় ক্ষতি হইল, কিন্ত তবুও কি তাহারা একটি 
অপার্ধিব মৃত্যুপ্য়ী গৌরব লাভ করিল না? বন্ধুবঞ্জিত স্বজন-পরিত্যক্ত প্রতাঁপের জীবনে: 
ম্যাকবেথের ন্যায় কি ভয়াবহ একাকিত্ব নামিয়া আসিল ! এ পরাজয়ের কাছে তো৷ মোগলদের 
কাঁছে পরাজয় তাহার পক্ষে তুচ্ছ! পণুপক্তি যখন রাজার মধ্যে রূপ গ্রহণ করে তখন দেখা 
দেয় অরাজকত। । এই অরাজকতার বিরুদ্ধেও সংগ্রাম দেখা গিয়াছে এবং এই সংগ্রামের 
নায়ক ধনঞ্য় বৈরাগী । শ্বৈরতন্ত্রী রাঁজশক্তির সহিত উপদ্রত প্রজাশক্তির যে সংঘাত নাটকের 
মধ্যে দেখান হইয়াছে তাহাতে বর্তমান যুগবিপ্নবের ইঙ্গিত কি স্পষ্ট হইয়! উঠে নাই? 

॥ রাজ! (১৩১৭) ॥ 'গীতীঞ্রলি»-গগীতিমাল্য/-“গীতালি” পর্বে যখন রবীন্দ্রনাথের মন অরূপ- 
সাঁধনায় নিমগ্ন তখন তিনি অরূপতত্ববিষয়ক নাটক “রাজা” “অরূপ রতন” ) রচনা করেন। 
রাণী সুদর্শন বাহ্‌ রূপ ও সৌন্দর্যের মধ্যে স্ন্দরাতীত অরূপকে খুঁজিয়া ছিল, ইহা তাহার 
মৌহ। কারণ 'যে প্রভু কোনো! বিশেষ রূপে, বিশেষ স্থানে, বিশেষ * দ্রব্যে নাই, যে প্রভু 
সকল দেশে. সকল রা আপন অন্তরের আনন্দরসে যাহাকে উপলব্ধি করা যায়” তাহাকে 
রূপের খণচায় দেখিবার চেষ্টা করা ভুল, এই ভুল এবং মোহের ফলে সে তাহার চতুর্দিকে তীব্র 
জলাময় অগ্রিদাহের স্থষ্টি করিল। এই দাহে তাহার মিথ্য। অভিমাঁন এবং ভ্রান্ত মোহ ভম্মসাৎ 

হইয়। গেল, এবং ভিতরের সত্যোপলব্ধি উজ্জল দীর্ডিতে ভাগ্বর হইয়া! উঠিল, সে তখন বুঝিল 
যে সৌনর্ষের প্রকৃত এবং পরিপূর্ণ রূপটি_“ননীর মত কোমল, শিরিষফুলের মত সুকুমার 
গ্রজীপতির মত সুন্দর নয়, তাহা 'ঝড়ের মেঘের মত কালে।'__কুলশৃন্য সমুদ্রের মত কালে! 
তারই তুফানের উপরে সন্ধ্যার রক্তিম! ।” এই ব্বপাতীত সৌন্দর্যকে উপলব্ধি করা! যাঁয় 
আপনার চিন্তকে ছুঃখতাপে পরিশ্তদ্ধ করিৰার পর। সুদর্শন বিপদ ও দুর্যোগের মধ্যেই 
অন্ধকার ঘরের রাজার সন্ধান পাইল, এই ভাবটা “খেয়া”র “আগমন' কবিতার মধ্যে কবি ব্যক্ত 
করিয়াছিলেন-__ 
ওরে দুয়ার খুলে দে রে 
বাজ। শঙ্খ বাজ 
গভীর রাতে এসেছে আজ 
আধার ঘরের রাজ | 
বজ্জ ডাঁকে শুন্ততলে, 


বিদ্যুতেরি ঝিলিক ঝলে, 


রবীন্দ্রনাথ ৃ ২৭৩ 


ছিন্ন শয়ন টেনে এনে 
আঁডিন। তোর সাজা, 
ঝড়ের সাথে হঠাৎ এল 
ংথ রাতের রাজা । 


রাজার মধ্যে দুইটা ৩ত্ব- প্রথমত, অব্ধূপের মধ্যেই রূপের সার নিহিত, এবং দ্বিতীয়ত, 
দুর্গম দুঃখাকীর্ণ পথ অতিক্রম করিতে পারিলেই সত্যশিবকে পাওয়া যায়। 


শ্রীযুক্ত প্রমথ বিশী বলিয়াছেন যে, স্তুরঙ্গমা, ঠাকুরদা+ সুদর্শন ও কাঞ্চীরাজ রাজাকে 
যথাক্রমে দাসী, বন্ধু, মধুর ও শক্রভাবে ভজন! করিয়াছে । এই মত ধিশেষ যুক্তিসঙ্গত ও 
গ্রহণযোগ্য । স্থরঙ্গমা ও ঠাকুরদার সহিত রাঁজার সম্পর্ক সিদ্ধ হইয়াছে, সেজন্য তাঁহাদের 
মুখে রাজার রূপ ও মহিমার বর্ণনা । কিন্ত দুইজনের মধ্যে গ্রভেদ এইথানে যে, স্ুুরঙ্গমা 
দেখিয়াছে রাজার ভিতরের দিক আর ঠাকুরদা দেখিয়াছেন রাজার বাহিরের রূপ । 
উভয়ের দেখাই অসম্পূর্ণ সেজন্য রাঁজা স্ুরঙগমাকে বাহিরে আনিয়াছেন আর 
ঠাকুরদাকে ভিতরে আহ্বান জানাইয়াছেন। সুদর্শন ও কাঁঞ্চীরাজের সহিত রাজীর পূর্ব- 
পরিচয় নাই, দ্বন্্ব সংঘাতের বিচিত্র-জটিল অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়াই রাঁজার সহিত এই 
পরিচয় স্থাপিত হইয়াছে এবং নাটকের আখ্যান-বস্তও ইহাই ৷ সেজন্য স্থরঙ্গমা ও ঠাকুরদা 
রাজ। ও স্বয়ং নাট্যকারের মুখপাত্র হইলেও নাটকের মধ্যে নিঃসংশয়িত প্রাধান্ত লাভ করিয়াছে 
কিন্তু দর্শনা ও কাঞ্ধীরাঁজ চরিত্র । 


বিভিন্ন সাধন পদ্ধতির কথা আলোচন! করিতে গেলে আঁর একটি কথা৷ আসিয়া পড়ে। 
স্থুরঙ্গম, ঠাঁকুরদ| ও স্থুদর্শনার সহিত রাজার যে সম্পর্ক তাহা রাগাশ্রিত। দাসী, সখা ও 
কান্তারপে ভজনার মধ্যে ভক্ত ও ভগবানের কোন দূরবতিত৷ নাই, সেখানে ক্ষুদ্র ও বৃহতের 
মধ্যে এক অবিচ্ছেদ্য প্রেমের নিত্যকাঁলীন বন্ধন | বৈষ্ণব ধর্মদর্শনে এই প্রেমলীলা মুখ্য 
হইয়া উঠিয়াছে ১ এবং রবীন্দ্রনাথও খুব সম্ভবত ইহ দ্বার! প্রভাবাদ্িত হইয়াছিলেন। 
€থেয়।, ও 'নীতাঞ্জলির অনেকগুলি কবিতা ও গাঁনে বৈষ্ণবের প্রেম-ভক্তি-সাধনার প্রভাব 
আঁবিফার কর! সহজ। “বালিকা বধূ”, 'গোঁধুলি-লগ্র' প্রভৃতি কবিতার মধ্যে ভক্ত ও 
ভগবানের প্রেমলীলার কথা বর্ণিত হইয়াছে । খুষ্টান মিষ্টিক ও স্থফীমতবাঁদের চিন্তায় হয়তো 
এরূপ লীলার আভাস পাওয়া! যায়, কিন্তু বৈষ্বদের মত এমন একাত্ম তম্ময়তার সহিত 
এই লীলা আর কেহও পরিস্ফুট করিতে পারেন নাই । “রাজ” নাটকে ভক্ত ও ভগবানের 
যে লীলা-সম্পর্ক দেখান হইয়াছে তাহা স্পষ্টতই বৈষব ধর্মতব্বের দ্বারা অনুপ্রাণিত 
হইয়াছে । কিন্তু বৈষ্ণব ধর্মতত্বে ও রবীন্দ্রনাথের মতবাদে পার্থক্যও আছে। বৈষ্ণবের 


চরিতামৃতের ব্য।খা। ম্মরণযে।গ্য-- 
দ্বাস সথ। পিত্রা্ি প্রেয়সীর গণ । 
রাগমার্গে নিজ নিজ ভাবের গণন ॥ 


ক বাংল! নাটকের ইতিহাস 
ভগবান সরূপ- কিন্তু রবীন্দ্রনাথের ভগবান অরূপ, দেহের খাঁচার মধ্যে তাহাকে 
পাওয়! যাঁয় না । বৈষণবের ভগবাঁন মাঁধূর্যময় কিন্তু রবীন্দ্রনাথের ভগবান মাধুর্য ও এরশ্ব্ষের 
সমঘয়। বৈষ্বের ভগবান ভক্তকে বাহিরে আহ্বান করেন কিন্ত রবীন্দ্রনাথের ভগবান 
ভক্তকে বাহিরে আহ্বান করেন এবং ভিতরেও আকর্ষণ করেন--বৈষ্ণবসাধনায় স্বকীয়া 
হইতে পরকীয়ায় মুক্তি কিন্তু রবীন্দ্রসাঁধনায় পরকীয়। হইতে স্বকীয়ায় স্থিতি। 

রাজা” নাটকে দুইটি পরিবেশ চোঁথে পড়ে, একটি হইল অন্ধকার ঘর অপরটি বসন্ত 
প্রকৃতি। এই ছুই পরিবেশে কতই না পার্থক্য! একদিকে অন্ধকার ঘরের ভয়ঙ্করতা 
অন্তদ্দিকে আলোক-মধুর প্ররুতির রমণীয়তা। রাজার অধিষ্ঠান অন্ধকার ঘরে, তাহা হইলে 
বাহিরের এই উৎসবমুখর প্রকৃতির সহিত তাহার কি কোন যোগ নাই? নিশ্যয়ই আছে। 
বাহিরের মাঝে তিনি বিচিত্র এবং অন্তরের মাঝে তিনি একক; তিনি অরূপ হইলেও 
রূপের লীলায় প্রকাশিত “অরূপ, তোমার রূপের লীলায় জাগে হৃদয়পুর'। তিনি রুদ্র 
হইলেও প্রসন্ন মুখ দ্বারা আমাদের রক্ষা করেন-“রুদ্র যত্তে দক্ষিণং মুখং তেন মাং পাহি 
নিত্যম্ঃ ৷ রাজার মধ্যে রবীন্দ্রনাথের ভাগবত-অন্ুভূতির এই পরিপূর্ণ সমম্থয দেখা গিয়াছে । 
যিনি ভগবানের এই পরিপূর্ণ রূপ অনুভব করিতে পারেন ন৷ তাহার সাধনা খণ্ডিত কিংবা 
ব্যর্থ। সেজন্য ঠাকুরদা ও স্থুরঙ্গমার সাধনাও যে খণ্ডিত তাহা পূর্বেই বল! হইয়াছে । 
সুদর্শন! অরূপকে বাদ দিয় শুধু কেবল রূপকে পাইতে চাঁহিয়াছিল, সেখানেই তাহার তুল। 
সুদর্শনার দ্বিতীয় ভূল এই যে, রাঁজাকে সে নিয়ত-সক্রিপ্ন প্রবল পুরুষ রূপে দেখিতে ইচ্ছা 
করিয়াছিল।১ এই ছুই ভুলের সুযোগ লইয়৷ স্দর্শনার ভাগ্যাকাশে ছুই ছুষ্টগ্রহের উদ্ভব__ 
স্বর্ণ ও কাঞ্চীরাজ। স্থদর্শনাকে সুবর্ণ চাঁয় গান্ধর্ব মতে আর কাকঞ্ধীরাজ চাঁষ রাক্ষ মতে। 
কিন্তু ভক্তের চরমতম ছুর্দিনে ভগবানের অপ্রত্যাশিত করুণা নামিয়া আসে, স্ুদর্শনার 
বেলাতেও ইহার ব্যতিক্রম হয় নাই। ধাহাঁকে পাইবার জন্য তাহার এত কামনা, ধাহাঁকে 
ন| পাইয়। তাহার এত বেদনা তিনি আপনা হইতে আসিয়াই তাহাকে সর্বনাশ হইতে রক্ষা 
করিলেন। তখন সেই ভয়াল-সুন্বর, কান্ত-কঠোর প্রিয়তমের পদতলে স্থুদর্শনা সব 
অভিমান ও অপরাধ সমর্পণ করিয়। দিল, এতদিন পরে তাহার সাধন! সিদ্ধিলাভ করিল। 

এই পর্যন্ত তো৷ গেল তত্বের কথা । এই তত্ব “রাজা'র মধ্যে প্রধান এবং স্পষ্ট তাহা 
অস্বীকার করিতেছি না। কিন্তু ইহার নাটকীয় গুণও বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য, এবং এই 
গুণ ন! থাকিলে নাটক হিসাবে ইহার কোন মূল্য থাকিত না। নাটকের চরিত্রগুলি একটা 
শুঙ্ম আইডিয়ার ছন্দ প্রকাশ করিলেও সেই ছন্দ ক্ষণে ক্ষণে বাস্তব দ্বন্ব বলিয়া মনে হইয়াছে । 
সুদর্শনার মানস-দ্বন্দের তত্বময় ব্যাখ্যা আমরা করিয়াছি, কিন্ত সেই ভ্বন্দের বাহু্ূপটি 








১। কুদর্শনার ছুঃখ এইখানে যে রাজ তাহাকে জোর করিয়। বাধিয়া র!খেন না, রাজার গুদাসীষ্ঠে তাহার 
দিদারুণ অন্বপ্তি। রাজাকে সে এক জায়গায় বলিতেছে--তুমি আমাকে জোর করে ধরে রাখতে পারতে কিন্ত 
ক্লাথলে না! আমাকে বাধলে ন৷ _-আমি চল্ম। তে।মার প্রহরীদের হুকুম দাও আমকে ঠেকাক । 


রবীজ্জনাথ ২৭৫ 


এত তীব্র গতিবেগ-চঞ্চল যে, তাহাকে আশ্রয় করিয়া নাটকীয় রস তত্বমার্গ ত্যাগ করিয়। 
মানব-হৃদয় অভিমুখে অতি জ্রুত প্রবাহিত হইয়াছে। প্ররুত পক্ষে এক্প একটি দুর্বার 
ঘন্থময় নারীচরিত্র রবীন্দ্রনাথের সমগ্র নাট্যসাহিত্যে খুব কমই আছে। ক্লিওপাট্রা অথবা 
মিডিয়ার স্তায় তাহার দুরন্ত ভোগলিগ্সা সর্বপ্রকার সংযম ও সংস্কারকে বিদ্রুপ করিয়া! এক 
অলঙ্ব্য সর্বনাশের পথে তাহাকে টানিয়া লইয়! গিয়াছে । রাজার নিক্ষিয়, নি্ফাম আশ্রয় 
হইতে এই সর্বনাশের ধৃ্িনৃত্য তাহার কাছে অনেক বেশি আকাঙজ্ষিত। সেজন্য রাজাকে সে 
ত্যাগ করিয়৷ গিয়াছে । কিন্তু রাজাকে ত্যাগ করিলেও রাজার কামন৷ সে ত্যাগ করিতে 
পারে নাই। ্বয়ংবর সভায় যাইবার পূর্বে তাহার অসহীয় অন্তর বিদীর্ণ করিয়৷ অস্তরতম 
বাণী নির্গত হইয়াছে--'রাঁজা, আমার রাজা ! তুমি আমাকে ত্যাগ করেচ উচিত বিচাঁরই 
করেচ। কিন্তু আমার অন্তরের কথা কি তুমি জানবে না? (বুকের বসনের ভিতর 
হইতে ছুরি বাহির করিয়া) দেহে আমার কলুষ লেগেছে--এ দেহ আজ আমি সভার 
সমক্ষে ধূলোঁয় লুটিয়ে যাঁব-_কিন্ক হৃদয়ের মধ্যে আমার দাগ লাঁগে নি বুক চিরে সেটা কি 
তোমাকে আজ জানিয়ে যেতে পারব ন! ?* বিশ্বরাঁজার রাণী যে সে আজ পিতৃগৃহে কলঙ্কিতা 
দাসী, সে এক কামনা-লোলুপ সংগ্রামের কলুষিত পাত্রী--তাহাঁর এই অপমান ও বেদনা 
কঠিনতম চিন্তকেও বিগলিত করে । 


আলোচ্য নাটকে রাজার প্রতিত্বন্দী শক্তি হইল কাঞ্ধীরাজ। স্থুদর্শনার বিভ্রম ও 
পতনের মূলে কাকঞ্চীরাজ - স্বর্ণ তাহার উদ্দেশ্ঠলাভের একটি অস্থায়ী উপায়মাত্র। -সে 
মদমত্ত রাবণ, সীতাকে হরণ করিবার উদ্দগ্র লালসায় সে অন্ধ । সে জানে 'বীরভোগ্যা 
বন্ধন্ধরা”, সেজন্ স্বয়স্থর সভায় সে পৌরুষের অভিমানে আভরণকে অগ্রাহ করিয়াছে। 
রবীন্দ্রনাথ অন্যান্ত নাটকের ন্যায় এই নাটকেও বিরোধী শক্তিকে হেয় করেন নাই, কাঞ্ধী- 
রাজের চরিত্র সে কারণে অতি জীবন্ত মর্যাদা লাভ করিয়াছে । অন্ঠান্ত রাজার! পৃষ্ঠ অদর্শন 
করিল, কিন্তু সে একাই রণক্ষেত্রে রাজার বিরোধিত করিতে গেল। কিন্তু তাঁহার শেষ 
পরিণতি সুসঙ্গত হইয়াছে বলিয়৷ মনে হয় না। যুদ্ধে তাহার পরাজয় হইয়াছে ইহাই তো 
যথেষ্ট, ইহার পর দীনবেশে তাহাঁকে রাস্তায় ঘুরাইয়া এবং স্থদর্শনাঁকে মাতৃসম্বোধন করাইয়া 
এই চরিত্রের এমন কি উৎকর্ষ দেখান গেল? বরং ইহাতে যেন চরিত্রটি” একটি অতি 
সুলভ, নীতি-প্রদশিত পরিণতিই লাভ করিয়া বসিল। 

যে অদৃশ্ত রাজার কথা নাটকের মধ্যে বধিত হইয়াছে, তিনি শুধুই কেবল 
আধ্যাত্মিক লোকবিহারী সাধনালভ্য ভগবান নহেন, তিনি দীন পতিতের ভগবান) “লক্ষ 
মাটির ঢেলা+ তাহার চরণে আশ্রয় পাইয়াছে, পাথিব মানুষের সহিত তাহার যোগ. 
নিবিড়। “রাঁজাঃ নাটকের তত্বময়তা আমাদের কাছে নিশ্চয়ই গীড়াদায়ক হইত যদ্দি না 
ইহাঁর গীতিকাব্যময় অংশ আমাদের মনকে আগ্ন্ত মধুর রসে পরিপ্লাবিত করিয়া রাখিত। 
টমসন সাহেব ঠাকুরদার গতি বিরক্ত হইলেও একথা সভ্য .যে ঠাকুরদা যদি তাহার 
সরন কথা এবং আনন্দময় গানগুলি লইয়া বিরাজমান ন! থাকিতেন, তবে নাটকথানি 


২৭৬ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


নিশ্চয়ই নীরস এবং একঘেয়ে মনে হইত ।১ অজিত চক্রবর্তী যাহা বলিয়াছেন তাঁছা সম্পূর্ণ 
সত্য _“রাজা-নাট্যে বসন্ত উৎসবের অবতারণা এবং ঠাঁকুরদার দলের অবতারণা এ নাটকের 
সেই লিরিক ভাগ এবং বোধ হয় সর্বোৎকৃষ্ট ভাগ |, 


॥ অচলাঁয়তন ( ১৩১৮) ॥ রবীন্দ্রনাথ চিরদিন অর্থহীন সংস্কার এবং যুক্তিহীন আচাঁর ও 
প্রথার তীব্র নিন্দ৷ করিয়! আসিয়াছেন। বহু দিনাঁজিত অন্ধ এবং বিকৃত সংস্কার ও অন্গশাসন- 
গুলি সমাজকে কিভাবে নাগপাঁশের সহস্র বন্ধনে বাঁধিয়া রাখিয়াছে তাহাই নাট্যকার 
“অচলায়তন” নাটকে দেখাইলেন। মহাঁপঞ্চক এবং তাহার অন্বত্তিগণ সমাজের তথাকথিত 
নীচ এবং অ্পৃশ্য গণসাঁধারণের সীম! হইতে নিজেদের সতর্কভাঁবে পৃথকীভূত করিয়! একান্ত 
গীড়াদায়ক মন্ত্রতন্ত্রের দ্বার। অভিশপ্ত গণ্ডির মধ্যে অচলাঁয়তন স্থষ্টি করিয়াছিল । আচার্ষের 
ন্যায় ক্ষমাবান এবং পঞ্চকের ন্ায় প্রাঁণবাঁন পুরুষের ইহাঁর মধ্যে স্থানি হয় নাই ।" পরিশেষে 
সত্যবোধের আঁঘাঁতে অচলাঁয়তনের প্রাচীর খসিয়। পড়িল, এবং ইহাঁর অধিবাঁসিগণের সহিত 
বাহিরের উন্মুক্ত আকাশতলবিহারী সর্বসাধারণের সচল যোগ ঘটিয়৷ গেল। 

অন্ান্ত নাটকের ন্যায় এই নাটকেও প্রাণশক্তির সহিত জড়শক্তির সংগ্রাম দেখা 
গিয়াছে । জড়ের শক্তি যতই প্রবল হউক না কেন প্রাণের কাছে তাহার শেষ পর্যন্ত 
পরাজয় হইবেই । এই নাটকও পঞ্চকের জয় ও মহাপঞ্চকের পরাজয়ে সমাপ্ত হইয়াছে। 
রবীন্দ্রনাথ অদম্য আশাবাদী, তিনি অন্ত কোনরূপ পরিণতি দেখাইতে পারেন না। তবে 
জড়ের এই শক্তি উপেক্ষণীয় নহে, মানুষ ইহাকে আয়ত্ত করিয়া. মনুম্যত্বের কাজে লাগাইতে 
গাঁরে। আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের দৈত্যের মত তখন দে নীরব আজ্ঞাবাহী হইয়া 
অসাধ্য সাধন ররে। গুরু ইহা জানিতেন বলিয়াই মহীপঞ্চককে পরাজিত করিয়াই আবার 
তাহার কাজে নিবুক্ত করিলেন। অচলায়তনে দুই বিরুদ্ধ শক্তির ছন্দ থাকিলেও সেই ছন্দ 
কোথাও তেমন তীব্র উত্তেজন৷ জাগ্রত করিতে পারে নাঁই, ইহার দীপ্তি ও দাহ কোনটাই 
নাই। মহাপঞ্চকের মধ্যে যেমন হৃদৃঢ় শক্তির পরিচয় আছে পঞ্চকের মধ্যে তাহার কোন 
সক্রিয় প্রকাশ নাই। তাহাঁকে মনে হয় যেন শুধু বাঁশির একটি স্থুর, নির্ঝরের একটি কাঁকলী। 
জয়ের গৌরব তাহার নাই, কারণ গুরু যদি ন| অসিতেন তবে সে কোনদিন মহাঁপঞ্চকের 
বন্ধন ছাড়াইতে পারিত কিন! সন্দেহ। ছুর্যোধনের পরাজয় হইয়াছিল, কিন্তু অজুনের দিকে 
শ্রীকণ ছিলেন তাহা! মনে রাখিতে হইব | মহাঁপঞ্চকেরও পরাজয় হইল বটে কিন্ক এ দৈবশক্তির 
কাছে পরাজয়। এই শক্তির বিরুদ্ধে সে সর্বস্ব পণ করিয়৷ লড়িয়াছে। সকলে তাঁহাকে 
ত্যাগ করিয়াছে কিন্ত একা সে নিজের বিশ্বাসকে আকড়াইয়! ধরিয়। নির্ভীকচিত্তে তাহার শক্রর 
সন্ুখীন হইয়াছে। তাহার পরাজয় হইলেও সেই পরাজয়ে অগৌরব নাই, তাহাতে ক্র্যাঞ্িক 
মর্যাদা আপিয়। গিয়াছে । নিঃসন্দেহে মহাপঞ্চক নাটকের সর্বাপেক্ষা জীবস্ত চরিত্র। 


১। টমসনের উক্তি-- 48 16 18, [021570% চা 20800) 8591569009, 8015 10000) 
90190710008 ৪]90119 €০:500178- 


রবীজ্রনাথ ২৭৭ 


“অচলায়তনে সর্বশক্তির উৎস যে গুরু, তিনি কে? “খেয়া*র কবিতাগুলিতে এবং 
অন্তান্ট রূপক নাটকে যে রাজার কথা বল! হইয়াছে 'অচলায়তনে' তাহার স্থানে গুরু 
আসিয়াছেন। এই গুরুও অন্ধকাঁর গৃহের দরজ। জানলা ভাঙ্গিয়া নিজেকে 'প্রতিষঠিত করেন। 
তবে এই নাটকে গুরুর রাপ এক নহে, ত্রিবিধ। অচলায়তনে তিনি গুরু, শোণপাংগুদের 
কাছে তিনি দাঁদাঠাকুর এবং দর্ভকদের কাছে তিনি গৌঁসাই। তিনি সাক্ষাৎ ভগবান ন 
হইলেও ভগবানের মহিম! তীহাঁর মধ্যে ফুটিয়! উঠিয়াছে। গীতীয় বল! হইয়াছে__ 

যে যথা মাং গ্রপদ্যন্তে 
তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্‌। 

জ্ঞানবাদী মহাঁপঞ্চক, কর্মবাঁদী শোণপাংশু ও ভক্তিবাদী দর্ভকের কাছে তিনি ভিন্ন ভিন্ন 
রূপে প্রকাশিত।১ নাঁটকের গোঁড়া হইতেই এই গুরুর আগমন সম্বন্ধে একটি উৎকন্টিত 
কৌতুহল জাগ্রত করিয়া রাখা হইয়াছে, সকলের কথায় ও ইঙ্গিতে তাহার আগমন সব সময় 
সম্ভাবিত হইয়া উঠিয়্াছে। যেখাঁনে বাধার প্রাচীর সেখানেই গুরুর আবির্ভাব সেই প্রাচীর 
ভাঙ্গিবাঁর জন্য ।২ মহাঁপঞ্চক অচলায়তন গড়িয়া না! তুলিলে গুরুর যোদ্ধবেশে আগমনের 
কোন প্রয়োজনই ছিল না । কিন্তু এই যোদ্ধবেশই তাহার সমগ্র পরিচয় নহে । মহাঁপঞ্চকের 
কাছে তাহার শক্তিপরীক্ষা দিতে হইয়াছিল, কিন্তু তিনি সহজভাবে ধর! দিয়াঁছিলেন শঙ্খবাদক 
ও মালীর কাঁছে। 'অচলায়তনের আশ্রমিকদের মধ্যে একমাত্র শঙ্খবাদক ও মাঁলী তাহাকে 
চিনিতে পারিল ইহার কারণ কি? অচলায়তনের আঁর সকলেই যখন শুষফষ আচারের বালুপথে 
জীবনের ধারাকে কদ্ধ করিয়! ফেলিয়াছিল তখন সম্ভবত শঙ্খবাদক ও মালীই জীবনের স্থুর ও 
সৌন্দর্য সাধনা করিয়। চলিয়াছিল তাহাঁদের শঙ্খ ও ফুলের ভিতর দিয়া । সেজন্য বোঁধ হয় 
একমাত্র তাহারাই চিনিতে পারিল গুরুকে, মুক্ত জীবনকেই প্রতিষিত করিবার জন্য ধাহাঁর 
আবির্ভাব । গুরু যে মুঠিতে অচলাঁয়তন ধ্বংস করিলেন তাহা তাহার ছন্মমূতি মাত্র। 
যিনি ন্নেহ করেন তিনি শাসন করিতেও পারেন। গুরুর ন্নেহ সংকীর্ণতা গ্রাহা করে 
না, মহাঁপঞ্চককেও তিনি ন্নেহ করেন বলিয়! আঘাত করিয়া তিনি তাহাকে সংশোধন করিয়া 
লইলেন, ত্যাগ করিলেন না । . অচলায়তনের প্রাচীর যখন ভাঙ্গিয়া৷ গেল তখন গুরুর সহিত 
মহাঁপঞ্চকের আর কোন ব্যবধানই রহিল না । শক্র হইয়াও মহাঁপঞ্চক গুরুর অন্তিম ক্ষম! 
লাভ করিল, কিন্তু মিত্র হইয়াও শোণপাংগুগণ ভীঁহাঁর পরিপূর্ণ প্রশ্রয় পাঁইল না, ইহাঁর কারণ 


১। শ্রীযুক্ত প্রমথ বিশী জ্ঞান, কর্ণ ও ভক্তির সমন্বয় সম্বন্ধে যে উক্তি করিয়।ছেন' তাহী বিশেষ যুক্তিপূর্ণ-_ 
“কবির মতে দাদাঠকুর, গেঁ।সা ই, গুরু_এই তিন মূত্তিতে মিলিয়! গুরুর সম্পূর্ণ রূপ; ইহাদের মধ্যে যে কোন 
একটিকে বাদ দিলেই ভ্ীহাকে খণ্ডিত কর! হইল, কবি বলিতে চান জ্ঞান, কর্ম, ভক্তির সমন্বয়েই সাধনার 
সার্থকতা । 

২। “ইতিহাসে সর্বত্রই কৃত্রিমতার জাল যখন জটিলতম দৃঢ়তম হইয়াছে তখনই গুরু. আসিয়া! তাহা ছেদন 
করিয়াছেন_-আম।দেরও গুরু আসিতেছেন-_দ্বার রুদ্ধ, পথ দুর্গম, বেড়। বিস্তর, তবু তিনি অ।সিতেছেন-__ভীহাকে 
আমর। শ্বীকার করিব না, নাধ। দিব, মারিব, তবুতিনি আসিতেছেন ইহ নিশি 1 ী 

্ ৮8 _সত্রস্থ 2 | 


২৭৮ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


কি? ইহার কারণ এই যে, গুরুর পথ নিরপেক্ষ সত্যের পথ, নিঃসন্দিগ্ধ সামঞ্জস্যের পথ, 
অহং শুধু মহাঁপঞ্চকের নহে, শোণপাংগুদের মধ্যেও যে বিদ্যমাঁন। সেজন্য তাহারা গুরুর খুব 
কাছে থাকিয়াও তাহাকে পুরাপুরি পাঁয় নাই ।১ গুরু মহাঁপঞ্চককেই শাসন করিলেন- শুধু 
তাহা নহে, তিনি শোণপাঁংগুদেরও সংযত করিবার প্রয়োজন বোধ করিলেন। কিন্তু দর্ভকর! 
কি গুরুকে ঠিকভাবে পাইয়াছিল? একজন প্রসিদ্ধ সমালোচক বলিয়াছেন দর্তকদের প্রতি 
কবি তেমন গভীর দরদ দেন নাই ।২ কিন্তু নাটকথানি পুঙানুপুঙ্খভাবে পড়িয়। আমাদের ঠিক 
বিপরীত ধারণা হইয়াছে । আমাদের মনে হয়, গুরু গৌঁসাইরূপে দর্তকদের কাছেই পরিপূর্ণ 
ভাবে ধরা দিয়াছিলেন। তাহার! মূর্খ, নির্ধন ব্রাত্যজাতি কিন্তু জীবনের মর্সবাঁণীটি বোধ হয় 
তাহারা খুঁজিয়া পাইয়াছিল; অচলায়তনের স্ফীতকায় জানগরিমার সহিত তাহাঁদের 
লেশমাত্র পরিচয় নাই, তাহারা হাক্কাপ্রাণের খুশির ফুৎকারে জীবনের সব ভার বোবা 
উড়াইয়। দিয়া নাচেগাঁনে মাতাল হইয়া উঠে। আবাঁর শোণপাঁংগুদের মত অবিরাম কর্ণের 
পাকে ঘুরিতেও তাহার! চাহে না, সরস ভক্তিবিশ্বাসের উপর নির্ভর করিক্না তাহারা পরম 
নিশ্চিন্ত হইয়া আছে। কবির মনে যাঁহাই থাকুক, নাটকের মধ্যে কিন্তু এই ভক্তিপথই 
শেষ্টত্ব লাভ করিয়াছে। এই দর্ভকর! তাহাদের অন্তরের ভক্তিধারা৷ অবিরল অশ্রুপথে 
বহাইয়! দিয়াছে আর সেই অশ্র-আকুতিকে উপেক্ষা করিতে না পারিয়। "দীন পতিতের 
ভগবান+ প্রসন্নচিত্তে তাহাদের মাঝে নামিয়া আসিয়াছেন। দাঁদাঠাকুর শুধু একা নহে, 
সকলকে লইয়! দর্ভকদের ভক্তির অর্ধ্য গ্রহণ করিলেন এবং ইহাদের প্রতি সকলের সাগ্রহ 
স্বীকৃতি আদায় করিয়৷ লইলেন।৩ 

অচলায়তনে”র তাত্বিক ও কাব্যিক রূপ বাদ দিলেও ইহার একটি বাস্তব সমাঁজ-রূপ 
আছে, সেই সমাজ-রূপের মধ্যদিয়া কবির সমাজ-ৃষ্টি স্ুম্পষ্টভাঁবে ব্যক্ত হইয়'ছে। ববীন্দ 
নাথের সমাজ-দৃষ্টি স্থৃচিন্তিভ সমন্বয় ও স্থুব্যবস্থিত সামঞ্জস্তের মধ্যপন্থ! অবলম্বন করিয়াছে। 
সেজন্য তাহার এক চোঁখ ভবিষ্যতে প্রসারিত অন্ত চোখ অতীতে নিবদ্ধ, তাহার এক পদ 
অগ্রসর হয় আর এক পদ আকড়াইয়। থাকে, তাহার এক হাত রদ্রের ত্রিশুল দিয়! ধ্বংস 
করে, অপর হাত বিষুর স্ুদর্শনবারা রক্ষা করে। তিনি অচলায়তন শুধু ভাঙেন নাই, 
তিনি তাহা গড়িয়াও তুলিয়াছেন। মহাপঞ্চক বাধন জড়ায় ও পঞ্চক বাধন কাটে, কিন্ত 
তবুও তাহার! ছুই ভাই, ভাইয়ে ভাইয়ে মিলনই তো৷ কবির আকাঁজ্ক্িত। বিগ্যাঁবুদ্ধি মান 


১। দাদাঠীকুর । হুটোপাঁটি করলেই কি কাছে পাওয়া বায়। কাছে আসবার রাস্তাটা কাছের 
লোকের চোখেই পড়ে না 
-সঅচলায়তন, পৃঃ «৫ । 
২। “আমীর মনে হয়, এই নাটকের মধ্যে দর্ভকগণ অর্থাৎ ভক্রিমার্গ কতক পরিমাণে যেন সমস্ত পূরণে 
জন্কই আনীত হ্ইয়।ছে, অন্ত দুটির প্রতি কবির যেমন দরদ, ইহার প্রতি দরদ তেমন গভীর নয়।” 
রবীন্দ্রনাট্যপ্রবাহ--প্রমথ বিশী, পৃঃ ৭৬। 


৩। দাদাঠাকুর । সব এখানে রাখ । এসে। ভাই পঞ্চক, এসো আচার্য অদীনপুণ্য-স্নুতন আচার্য আর 
পুরাতন আচার্য এসো, এদের ভক্তির উপহার ভাগ করে নিয়ে আগকের দিনটাকে সার্ধক করি। 


রবীন্দ্রনাথ ২৭৯ 


মর্যাদার আত্মন্ফীত অহংকারে মন্ত হইয়া যখন আমর! এক সংকীর্ণ বেষ্টনীর মধ্যে নিজেদের 
বন্ধ করিয়। রাখি তখন আলে! ও রদের অভাবে আমাদের জীবন জীর্ণ হইয়া! আসে। কিন্ত 
অগণিত গ্রাণের চাঁপে যেদিন দেই মোহলালিত বেষ্টনী ভাঙ্গিয়। পড়ে সেদিন হয় নব 
আয়তনের প্রতিষ্ঠা, কিন্ত তখন আঁর অচল আঁয়তন নহে, সচল আয়তন। সেই আয়তনে 
সবাঁর পরশে পবিত্র করা তীর্থ নীরে মানুষের প্রাণের ঠাকুরের প্রতিষ্ঠ। কৰি সেই প্রতিষ্ঠার 
উদ্যোগ দেখাইয়াছেন কিন্তু তাহা রহিয়াছে দুরে, কবির স্বপ্রভরা! ভবিষ্যতের মর্মসথলে । 

॥ ডাকথর (১৩১৮) ॥ রবীন্দ্রনাথের সাঙ্কেতিক নাটকগুলির মধ্যে “ডাঁকঘর' সর্বাধিক 
জনপ্রিয়তা লাভ করিয়াছে। একটা সৌনদ্ধপিয়াসী, সুদূরবিলাঁদী চিত্তের আতি ও বেদন| 
নঁটিকখানির মধ্যে বাস্তব রূপ লাভ করিয়াছে। অমল যেন রুদ্ধগৃহবাসী বালক 
রধীন্্রনাথেরই গ্রতিরূপ। সৌন্দ্যময়, রহস্যময় বাহির শতলক্ষ বাহু প্রসার করিয়া! আকুল 
আহ্বান জানাইতেছে, সেই:আহ্বানে সাঁড়া দিয়া অল যেন বলিতেছে_ 

আমি চঞ্চল হে, 

আমি সুদুরের.পিয়াঁসী, 

দিন চলে যায়, আমি আনমনে 

তারি আশ! চেয়ে থাকি বাতায়নে, 

ওগো প্রাণে মনে আমি যে তাহার পরশ পাঁবার প্রয়াসী। 
আমি স্দুরের পিয়াসী। 


কবি £জীবনম্বতিতে বলিয়াছেন যে ছেলেবেলায় জীবন ও জগতের রহস্তরসে মন 
মাতিয়। থাকে, পরিচিত দৃশ্তবস্তর মধ্যে অদ্ভুত ও রহস্যময় বিষয়ের দন্ধানে মন ঘুরিতে থাকে ।১ 
অমলের কাঁছেও সেইরূপ সাধারণ ও সচরাচর-দৃষ্ট ব্যাপারগুলি পরম রহস্তগ্যোতক, এবং 
অজানা, অচেনা অনন্ত পথের সুচক বলিয়! মনে হয়। স্য্টির এইরূপ রহস্য জ্ঞান ও. পাণ্ডিত্যের 
দ্বারা জানা যাঁয় না, বহু পুঁথিপড়া কবিরাজ ইহার কোন সন্ধান পায় নাই, কিন্ত অমল 
পাইয়্াছে। শিশুকালে সংসাঁরের সহিত সম্পর্ক শিথিল এবং ভগবানের সহিত যোগ গভীর 
থাঁকে, সেইজন্য শিশু যে সত্যবোধ লাভ করে বয়ঙ্কলোক তাহা পারে না। রাজার চিঠি 
অমলের কাছেই আঁসে, মৌড়লের মত সংসারিক লোক তাহা না বুঝিয়৷ পরিহীস করে। 
গুল বিষয়-লিগ্ত মাধব দত্ত রাজার কাছে পাঁধিব ধনসম্পদ লাভ করিতে চায়, কিন্তু অমল চায় 
ডাকহরকরার কাজ লইয়া নব নব রূপ-রাজ্যে ঘুরিয়। বেড়াইতে । যে দেহ-থাচার মধ্যে 
অমল আবদ্ধ ছিল, অবশেষে মৃত্যুর মধ্যে তাহা হইতে মুজিলাভ করিয়া তাহার সৌনর্ধপিপান্থ 


১। ছেলেবেলার দ্রিকে বথন তাকানো যাঁয় তখন সবচেয়ে এই কথাটা! মনে পড়ে যে, তখন জগ্গতট। এবং 
জীবনটা রহস্তে পরিপূর্ণ । সর্বআজই যে একটি অভাবনীয় আছে এবং কথন যে তাহার দেখা যাইবে তাহার ঠিকান। 
নাই এই কথাটা! প্রতিদিনই মনে জাগিত। প্রকৃতি যেন হাঁত মুঠ! করিয়া হাসিয়া জিজ্ঞাসা করিত, কী আছে 
বলে দেখি। কোনট। থাকা যে অসম্ভব তাহ নিশ্চয় করিয়া বলিতে পা(রতাম না ।, 

“জীবন-স্থতি' পৃঃ ২*.২১। 


২৮০ বাংলা নাটকের ইতিহাস 


চিত্ত অখণ্ড, পরিপূর্ণ সৌন্দর্যের সন্ধান পাইল, মৃত্যুর পাঁরে সব রহস্যের তলে এতদিনে সে 
পৌছিতে পারিল। 

অমলের.' আকুতি ও ব্যাকুলতা একটা গভীর তন্বব্যঞ্ক হইলেও শিশু-চরিত্রের 
কৌতুহলী রহস্তপ্রিয়তা তাহার ভূমিকাঁকে বিশেষ সরস করিয়। তুলিয়াছে। দে একদিকে 
মাধব মোড়ল, কবিরাজ প্রভৃতি দ্বারা এবং অন্যদিকে ঠাকুরদা ও সুধার দ্বারা আকর্ষিত 
হইয়াছে । এই সব চরিত্রের ছন্দে নাঁটিকাখাঁনি রূপকতত্ব সত্বেও যথেষ্ট নাট্যরসাত্মক 
হইয়াছে ।১ শেষের দ্িকে রাজদূত, রাজ কবিরাজ, সুধা প্রভৃতির আগমনে আমাদের মন 
কৌতৃহলে কম্পমান হইয়া থাকে। 

॥ ফাল্তুনী (১৩২২) ॥ “ফান্তুনী” “পুরবী*-'বলাক।” যুগের নাটক । বাংলার কবি নোবেল 
প্রাইজ পাইয়া বিশ্বকবি হইয়া উঠিয়াছেন। গীতাঞ্জলি; পর্বের আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতীময় পথ 
অতিক্রম করিয়। তিনি পাশ্চাত্যের বস্তবাদ ও গতিবাদের পথে পরিক্রমণ করিতেছেন । স্থৃবিরের 
শাসননাণী বিদ্রোহী যৌবনের জয়গানে তাহার অন্তর বাহির মুখরিত। এই সময়ে তিনি 
“ফান্তনী” নাটক রচনা করেন। এই নাটকে বসন্তের উচ্ছুসিত আনন্দ উৎসবের মধ্যদিয়া 
চির নবীনকে বন্দনা করা হইয়াছে । এই নবীন বার বাঁর মৃত্যুর মধ্যে অবগাহন করিয়া 
পুনজীবন লাভ করে। “যে সব পাতা ঝরে গিয়েছে--তীরাই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আপন বাণী 
পাঠিয়েছে । তাঁরা যদি শাখা আকড়ে থাকতে পারত তাহলে জরাই অমর হতো--তা"হলে 
পুরাতন পুথির কাগজে সমন্ত অরণ্য হল্দে হয়ে যেত। সেই শুকনো পাতার সরসর শব্দে 
আকাশ শিউরে উঠত, কিন্তু পুরাতনই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আপন চির নবীনত। প্রকাশ করে 
-এই তো বসন্তের উৎসব। তাই বসন্ত বলে, যাঁরা! মৃত্যুকে ভয় করে, তাঁরা জীবনকে চেনে 
না, তারা জরাকে বরণ ক'রে জীবন্ত হয়ে থাকে--প্রাণবান বিশ্বের সঙ্গে তাদের বিচ্ছেদ 
ঘটে ।+ 

'ফান্তনী'র ভূমিকা রূপে একটী নাট্যদৃশ্ত সন্গিবেশ করা হইয়ছে। সংস্কৃত নাটকের 
্রস্তাবনার সহিত ইহার সাদৃশ্ত আছে। কিন্ত এইরূপ দীর্ঘ প্রস্তাবনার মূল্য ও সার্থকতা 
আছে বলিয়! মনে হয় না।২ ইহার মধ্যে যে শ্লেষ ওব্যঙ্গ আছে তাহাঁও অকারণ ও অর্থহীন। 
ফাল্তুনী”র মধ্যে বিচিত্র সৌন্দর্যময় বদন্তপ্রকৃতি এক্প স্মধুর কাব্যরসে অভিষিক্ত হইয়। প্রকাশ 


১। “কিন্তু অমলের সঙ্গে লঙ্গে মাধব দত্ত, ঠাকুরদা, মৌড়ল, সুধা প্রভৃতি যে মান্যগ্ুলিকে উপস্থিত কর! 
হইয়ছে তাহাদের মধ্যে যে নন! বৈচিত্র্য আছে। কেহ বা অনুকুল, কেহ বা প্রতিকূল। হুতর।ং এ মূল 
ভাবটুকুকে হুত্রের মত করিয়া এই সকল বৈচিত্রাকে তাহার সহিত সম্মিপিত করিয়া একটি স্কটিকবাহ রচন! 
করিতে হইয়াছে । এই বিচিন্রতার সমাবেশেই তো। নাট্যরস।” 

“কাব্য পরিক্রমা'-_অজিত চক্রবর্তী, পৃঃ &* | *৮ 

2, 30৮ 11 000 00911) 010৮ 10090 100 10000 90:07:89155 197 10070 09010.60. 1709 106 010০ 

000109107) 02010000060 82817)86 0106 10006 0:0919£06. ত1018 1৪ ০ 006 ছ€য 08011699860)96 ০0৫ 

01011571698, ৪ 00898097 চা1)101) 10 1517169 1)95৩ দা০%০। 1006 010৩ 9010579 01৪ 6] 009৮5 
00710" 730867070/01 051100200900, 45 


রবীজ্দনাঁথ ২৮১ 


পাইয়াছে যে ইহার নাটকীয় অংশ ভালে। পরিস্ফুট হইতে পারে নাই । নাটকখাঁনি আমাদের 
সম্মুখে যেন এক পরম রমণীয় নন্দনকানন হৃষ্টি করিয়া দিয়াছে । সেই কাননে অসংখ্য 
তরুলতা৷ নবীৰ শ্ঠামলিমায় উজ্জ্বল করিয়া উঠিয়াছে, রাশি রাশি পুষ্প স্তবকে স্তবকে ফুটিয়া 
রহিয়াছে, তাহাঁদের মধ্যে স্তরে স্তরে মধু সঞ্চিত হইয়৷ আছে, আকাশে পরাগ উড়িতেছে, 
মধুকরের পরিতৃপ্ত গুপ্তনে সবদিক ভরপুর--এইখানে একদল বীাধন-ছেঁড়া প্রৃতি-পাগোল 
ছেলে-বুড়োর দল আসিয়! নৃত্যগীতে মাঁতিয়৷ উঠিয়াছে। ইহাদের মধ্যে কে আঁসিল, কে 
গেল, কাহার সহিত কাহার ঠোকাঠুকি লাগিল তাহা ভ্রক্ষেপ করিয়া! দেখিবার সময় নাই । 
স্থতরাং ইহাদের দ্বারা নাটক জমিতে পাঁরে না, এবং জমেও নাই। ইহার ভাবরাশি 
ভাসমান শৈবাঁলদামের সায় তরল স্রোতে ভাসিয়া চলিয়াছে, কোনে! জটিল আবর্তের মধ্যে 
ঘুণিত হয় নাই। বসন্তের সমীরণেরউ্পয় সমস্ত চরিত্রের গতি একদিকেই ছুটিয়াছে। 
দাদার ন্যায় অবসিতপ্রায় দুর্বল শীর্তের হাওয়া তাহার কোনে ব্যাঘাত সৃষ্টি করিতে 
পারে নাই? 

॥ মুক্তধারা (১৩২৭) ॥ 'মুক্তধারা”য় রবীন্দ্রনাথ যান্ত্রিকতা৷ এবং হিংসাত্মক জাঁতীয়তাঁর বিরুদ্ধে 

গ্রতিবাদ ঘোষণা করিয়াছেন। মহাত্মা পীন্বীর ন্যায় রবীনদ্রনাথও বৈজ্ঞানিক সভ্যতাঁর বাহন 
যান্্রিকতাকে কোনোদিন সমর্থন করিতে পারেন নাই । তিনি বলেন যে, মানুষ এই যান্ত্রিকতার 
পূজক হইয়! পরম্পরের মধ্যস্থ আত্মিক বন্ধন ছিন্ন করিয়া ফেলিতেছে, পাশ্চাত্যের দিকে তাকা- 
ইলে ইহ! ভালোভাবেই বুঝা যাইবে ।১ এই যাস্ত্রিকতার আশ্রয় লইয়৷ পাশ্চাত্য জাতিসমূহ' 
ক্রমাগত শক্তি এবং সম্পদ লাভ করিয়া উগ্র জাতীয়তাবাদী হইয়া উঠিতেছে। কবি তাহার 
€ব৪001981150+ গ্রন্থে এই বিরুত জাতীয়তাবাদের চাকচিক্যময় খোলসটী অনাবৃত করিয়া 
ইহার কদর্য রূপটা উদঘাটিত করিয়! দিলেন।২ উত্তরকূটের লোকদের মধ্যে এই জাতীয়তাই 
বাঁসা বাঁধিয়াছে। যান্ত্রিক উপায়ে শিবতরাইএর লোকদিগকে বঞ্চিত এবং নিংস্য করিয়া 
ইহারা অপরিমিত লিগ্পাকে অবারিত প্রঙ্ীয় দিয়াছে । 


১। 'যাস্ত্িকতাকে অন্তরে বাহিরে বড়ো ক'রে তোলায় পশ্চিম সমাজে মানব-সম্বন্ধের বিশ্লিষ্টত। ঘটেছে। 
কেনন! জু দিয়ে আটা আঠা দিয়ে জোড়ার বন্ধনকেই ভাবনায় এবং চেষ্টায় প্রধান ক'রে তুললে, অস্তরতম যে 
আত্মিক বন্ধনে মানুষ স্বতঃ প্রসারিত আকর্ষণে পরম্পর গভীরভাবে মিলে যায়, সেই স্ষ্টি-শক্তি-সম্পন্ন বন্ধন শিথিল 


হোতে থাকে ।" 
“শিক্ষার মিলন ।” 


২। জাতীয়তাবাদী পাশ্চাতা দেশসমূহকে উদ্দেশ করিয়া তিনি “৪0008118:2, গ্রন্থে বলিয়াছেন--- 
1618 006 20006117081 800. 86019670)0008 0690. [076980076 ০ 6018 11011117091) 1901) +1)8 11510% 
10000970780] 11101) 0109 200067:0 দা0110. 1৪ 0:08101706, ০6 20676] 009 ৪101906 78099, 190 
০০, 1)0 1158 01800] 0119 06109101) 0896 500. ৪7৩ 1:96, 916 ০5০ ৫095 98011901116 0] 2:99- 
0020 8100 10710977165 60 (019 1961০1) 06 109010108119100, 1151106 178 039 067)86 [001801)008 ৪008- 
0199০ 0: 0210-দ109 ৪081010101) 8100 £7:960. 8100 0081010, 
|] 21650750581, 7৯ 20, 


৩৩ 


২৮২ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


মুক্তধাঁরাঁ'র মধ্যে মাঁনব-সমাঁজের তিনটি স্তর-বিভাগের সুম্পষ্ট পরিচয় পাঁওয়! 

যায়, এন্প স্তর-বিভাগ সম্বন্ধে কবির কোন সঙ্ঞান মাঁনস-চেতন! ছিল কিনা জানি নাঃ 
কিন্তু নাটকের তব্ব-রহস্ত উদঘাটন করিতে যাইয়া ইহার আলোচনা অসঙ্গত ও 
অপ্রাসঙ্গিক হইবে না । রণজিৎ, বিভৃতি ও অভিজিৎ এই তিনটি চরিত্র সম্ভবত তিনটি 
স্তরের প্রতীক। রণজিৎ রাঁজ-তান্ত্রিক সমাজ-ব্যবস্থার প্রতিনিধি । কিন্ত যন্ত্র ও শিল্পতন্ত্রে 
আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে পুরাতন রাজতান্ত্রিক সমাজ-ব্যবস্থা ছুর্বল ও ক্ষয়িষু হইয়া 
পড়িয়াছে ৷ বর্তমীন বিশ্বব্যবস্থায় বিভূতির সর্বময় ও চূড়ান্ত কতৃত্ব-_সমাঁজ ও রাষ্ট্র তাহার 
করে শাসিত, রাজা তে তাহার হাতের নিরুপায় সাঁক্ষী মাত্র। রণজিতের যুগ গিয়াছে, 
বিভূতির যুগ চলিতেছে, কিন্তু এই মদমত্ত নিশ্রীণ যন্ত্রশক্তির পদতলেই কি চিরতরে মানুষ 
তাহার মনুম্বত্ব বিলাইয়! দিবে? না, তাহা কখনও হইতে পারে না। এই প্রাণঘাতী 
ছুঃশাসন শক্তিরও পরাজয় ও পরিবর্তন ঘটিবে। তথন যুগ ঘুগান্তের নিপীড়িত মানবাত্মু- 
মুক্তির মন্ত্রে জাগরিত হইয়া উঠিবে১ৃখ ও সাম্যের প্রতিষ্ঠ। হইবে ধরণীতে। অভিজিৎ 
তো৷ সেই অনাগত সমাজের অগ্রদূত। অভিজিৎ প্রাণ দান করিয়াছে, কত শত অভিজিৎকে 
এইভাবে প্রাণদান করিতে হইবে, কিন্ত তাহাদের মৃত্যুর মধ্যদিয়া উদয়ের পথে জ্যোতির্ময় 
আশার বাণী ফুটিয়৷ উঠিয়াছে। দিকে দিকে মুক্তধারার উতরোঁল কলরব শোঁনা যাইতেছে, 
পথে-প্রান্তরে আজ অম্থা' ও বটুর দল ক্ষিপ্ত হইয়াছে। বিভূতির পতনের আঁর বিলম্ব কত? 

(অন্তর যে মানুষকে কতখানি দীসত্ব-শৃঙ্খলে আবদ্ধ রিয়া রাখিতে পারে তাহার 
প্রমাণ উত্তরকূটের লোকেরা । তাহারা দেবতার পদে যন্ত্রকে বসাইয়াছে, কিন্তু এ 
ষে দেবতা নহে, অপদেবত! সে শুভবুদ্ধি এখন আর তাহাদের নাই। "মানুষের দেবতারে 
ব্যঙ্গ করে যে অপদেবতা বর্ধর মুখবিকারে”__তাহাকেই আজ তাহারা ত্রাত। ও ভাগ্যবিধাতা 
রূপে বরণ করিয়াছে। এই অপদেবতা তাহাদিগকে দিয়াছে কলুষিত সাআজ্যবাদ__ 
জীবনকে বাধিবার উপায় আর মানুষকে মারিবাঁর অন্ত্র। এই সাক্রাজ্যবাদই তো আঙ্গ 
যন্ত্রবাদী পাশ্চাত্য জীতিগুলির উগ্র জাতীয়তাবাদের আড়ালে থাকিয়! বিশ্বের চতুর্দিকে 
তাহার অণ্তভ বাহু বিস্তার করিতেছে ৮১ (শিবতরাইয়ের লোকেরা পরাধীন শোষণক্রিষ্ট 
মানুষের প্রতিনিধি । তাহাঁদের সহিত ভারতবাসীদের তুলনা করিলে অসঙ্গত হইবে না। 
ভারতের অধিবানীরাও কি শিবতরাইয়ের লোকদের স্তাঁয় সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রের অন্ুকম্পার 
উপর নির্ভর করে নাই? তাহাদের জীবনধারাঁও কি যন্ত্রবাদী, শিল্পসমৃদ্ধ পাশ্চাত্য পক্তি 
সবার! নিয়ন্ত্রিত হয় নাই? উত্তরকুটের বিরুদ্ধে শিবতরাইয়ের যে সংগ্রাম তাহার সহিতও 
ভারতের অহিংস সংগ্রামের স্ুম্প্ট মিল রহিয়াছে / শিবতরাইয়ের নেত! ধনগ্জয় বৈরাগীও 
যে মহাত্মা! গান্ধীর অবিকল অন্ুকৃতি তাহীও কিছুতেই অস্বীকার করা চর্লে না না। 
অবশ্য ধনঞ্জয় বৈরাগীকে নাটকে যে অত্যধিক প্রাধান্ত দেওয়! হইয়াছে তাহাদ্বারা অহিংস 
সত্যাগ্রহের বিশদ ব্যাধ্যা হইলেও নাটকের কোন প্রয়োজন সিদ্ধ হয় নাই। নাটকের 
মুন সংগ্রাম বিভূতি ও অভিজিতের মধ্যে, তাহার মাঝখানে ধনগ্রয় বৈরাগী আসিয়! পড়াতে 


রবীজ্বনাথ ২৮৩ 


মূল গতিবেগ যেমন বিক্ষিপ্ত হইয়াছে, তেমনি অভিজিতের চরিত্রও অনেকখানি আচ্ছন্ন হইয়! 
পড়িয়াছে। অভিজিতের সংগ্রামও শিবতরাইয়ের লোকদের লইয়া, সুতরাং ধনগ্রয়ের 
সংগ্রাম-উদ্দেশ্তের মধ্যে বৈচিত্র্য কোথায়? ধনঞ্জয়ের গানগুলিও যেমন অগুণ্য তেমনি 
অনাবশ্তাক। অনেক সময় মনে হয় কবি তাহার গানকে নাটকীয় ক্রিয়ার অনুগামী না 
করিয়৷ নাটকীয় ক্রিয়াকেই গানের অনুগামী করিয়া ফেলিয়াছেন। ধনগ্য় বৈরাগী আদর্শ 
মহামান্ষ, কিন্তু তবুও ইহা অস্বীকার করা চলে ন৷ যে, তাহার অংশ নাটকের মধ্যে দূর্বল 
এবং বোধ হয় ইহাই নাটকের মধ্যে একমাত্র দুর্বল অংশ। 

যন্ত্র ও জীবনের সংঘাঁতই মুক্তধারা” নাটকের মুখ্য প্রাণবন্ত । এই ছুই শক্তির 
রূপায়ণ হইয়াছে বিভূতি ও অভিজিৎ চরিত্রে। বিভূতির শক্তির প্রকাশ তাহার অহংকৃত 
স্প্ধায় আর অভিজিতের শক্তির প্রকাশ তাহার হিতার্থ আত্মত্যাগে, বিভূতির উল্লাস 
জীবনের বন্ধনে আর অভিজিতের গৌরব জীবনের মুক্তিতে । বিভূতি বাঁচিয়াও পরাজয়ের 
মৃত্যু লাভ করিল কিন্তু অভিজিৎ মরিয়াও চিরকালের জন্য বাঁচিয়া রহিল। অভিজিৎ 
মুক্তধারার সন্তান, এই মুক্তধারার কাছে সে পাইয়াছিল জীবনের আবেগ ও আদর্শ__ 
4900 127 8190 17000156) ১। চ্িজন্য সে মুক্তিপথের চিরধাত্রী, সে নিজেই বলিয়াছে, 
“আমি পৃথিবীতে এসেছি পথ কাবার জন্যে, এই খবর আমার কাছে এসে পৌছেছে ।, 
নন্দিসঙ্কটের পথ কাটা! হইতে অভিজিতের সংগ্রাম সুরু হইল এবং এই সংগ্রামের পরিপুণ 
সিদ্ধি সে লাভ করিল মুক্তধারার রুদ্ধ পথকে মুক্ত করিয়৷ দিয়া । ইহাতে কি তাহার মৃত্যু 
হইল? ইহা তো! মৃত্যু নয়, ইহা যে মায়ের কোলে সন্তানের প্রত্যাবর্তন। সন্তানের এত বড় 
মুক্তি-সাধনার পর ম! তাহাকে আর দূরে রাখিতে পারিল না, নিজের ন্নেহ-শীতল বুকের 
মধ্যে টানিয়া লইল। 

এই নাটকে আর একটি শক্তি আছে, তাহ! হইল দেবশক্তি । যন্ত্র মানুষকে করিয়াছে 
অবহেল! আর দেবতাঁকে করিয়াছে অপমান। আজ তাহার স্পর্ধিত আক্ফাঁলন মন্দিরের 
চূড়াঁকে ছাঁড়াইয়৷ উঠিয়াছে। মোহত্রাস্ত মানুষ আজ তাহাকে লক্ষ্য করিয়া দেবতাকে 
উপলক্ষ্য করিয়া তুলিয়াছে। দে ভাবিতে ভুলিয়াছে যে, দেবতা সৃষ্টি করেন আর যন্ত্র 
করে সংহার; দেবতা জল দেন আয় যন্ত্র সেই জল বীধে। দেবত৷ প্রথমে নীরব থাকিয়া 
যন্ত্রের স্বৈরলীল! সহিয়া যান, কিন্তু পরিশেষে তাঁহার জাগিবার পালা । তখন ভৈরবের 
জটাঁজুট কীপিয়া উঠে, তাহার ঘুগিত লোচন হইতে প্রলয়বহ্ছি নির্গত হয় এবং তাহার 
হস্তধূত ত্রিশুল শুন্ে আম্ষীলিত হইতে থাকে । ভৈরবপন্থীদের স্তবের মধ্যে যে ব্যথাতুর 
অসহাঁয় মানুষের আবাহন ধ্বনিত হইয়া উঠিয়াছে, সেই আবাহন কি বৃথায় যাইবে? 
কখনই নহে। সেই আবাহনে শঙ্কর রুদ্র হইয়া! সাড়া দিবেন। তখন মুক্তধারার জল- 


১। অভিজিৎ। মানুষের ভিতরকার রহ্ম্ত বিধাতা বাইরের কোথাও ন। কথাও লিখে রেখে দেন) 
আমার অন্তরের কথা আছে এ মুক্তধারার মধ্যে? 


২৮৪ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


কল্লোলে গ্রলয়-পয়োধি জলের মন্ততা ফুটিয়া উঠিবে আর যন্ত্রের অহংকৃত চূড়াটি- থসিয়া 
দেই জলের তলায় আশ্রয় লইবে। 

যন্ত্রের নিক্সিতি যতই জোরালো! ও মজবুত হউক না কেন তাহার রি 
রহিয়! গিয়াছে । বিভূতি এই ছিদ্রের কথ! শুনিয়া চমকিয়া উঠিয়াছিল। যে ভয়ঙ্কর 
তাহারও ভয় আছে, কারণ এই ছিদ্র যত সামান্তই হউক ইহার ভিতর দিয়া যে তাহার 
রুষ্ট অদৃষ্টের অভিশাপ পথ করিয়া! লইবে। অস্বার বুকফাঁটা কানন ও বটুর নিক্ষল 
আক্রোশ এই ছিত্রপথে আত্মপ্রকাশ করিয়াছে। বিভূতির অনুবর্তীদের সন্দেহ ও বিদ্রোহ 
এই পথে প্রত্র পাইয়াছে। বিভৃতির আঘাত আসিল তাহার নিজের লোকেদের কাছ 
হইতে ইহা৷ অপেক্ষা যন্ত্ররাজের শোচনীয় পরাজয় আর কি হইতে পারে? 

ত্মুক্তধারার? মধ্যে তত্ব থাকিলেও তাহা নিশ্চল তত্ব হইয়! পড়ে নাই । সচল ক্রিয়াবেগের 
মধ্য দিয়া তাহা! প্রাণবন্ত রূপ লাভ করিয়াছে । প্রকৃত পক্ষে তত্ব ও নাট্যের যেরূপ পরিপূর্ণ 
মিলন এই নাটকে ঘটিয়াছে তাহ! 'রাজা,ছাঁড়। অন্য কোন সাঙ্কেতিক নাটকে দেখা যায় নাই।১ 
'ুক্তধারা”র মধ্যে কোন অঙ্ক ও দৃশ্ঠবিভাগ নাই। অথচ কবি স্থুকৌশলে বিভিন্ন চরিত্রকে পর 
পর আনিয়া একটি অবিরাম ঘটনার ক্রমিক বিন্যাস দেঁখাইয়াছেন। নাটকের সব দৃশ্যই পথে 
ঘটিয়াছে এবং পথের মধ্যে রহিয়াছে চলার ইঙ্গিত, গতির নেশা । সেখানে পথচারীর 
মিলন ও সংঘাত নিত্যই ঘটিতেছে।২ এই মিলন-সংঘাতের ঘন্দ-জটিল ক্রিয়াবেগে নাট্য- 
ধারার মধ্যে উঠিয়াছে আবর্ত ও কল্লোল। একদিকে বিভূতি ও উত্তরকূটের লোকেরা আর 
অন্তদ্দিকে অভিজিৎ, ধনগ্য় ও শিবতরাইয়ের প্রজারা। এই সংঘাত ভাবের আকাশে বাম্প 
হইয়! যাঁয় নাই, বাস্তব মাটিতে কায়িক রূপ লাভ করিয়াছে । মানুষের যে ছুঃখ নাটকের 
মধ্যে ফুটিয়াছে তাহারও একটি ইন্দ্রিয় গ্রাহ্থ, মানব রসাশ্রিত রূপ আছে। মানুষের যে কান 
ইহাতে স্থান পাইয়াছে তাহাতে যথার্থ কান্নাই আছে, কান্নার বিলাস নাই। অভিজিতের 
মৃত্যু নাটকের মধ্যে সত্য সত্যই ঘটানো হইয়াছে, এখানেও কোন ফাকতাল নাই । রণজিতের 
মানসবেদনাও খুব বাস্তব ও জীবস্ত। একদিকে বিভৃতির প্রতি নিরুপায় পক্ষপাতিত্ব 
অন্তদিকে অভিজিতের প্রতি একটি গভীরতর গোপন হাতি দ্বিমুখী গ্রবণতার দ্বন্দে 
তাহার চরিত্র সজীব কারুণ্য লাভ করিয়াছে। 

“মুক্তধারা” রসগ্ঠোতনার অনব্য কুশলতার পিছনে রহিয়াছে পরিবেশ-স্থষ্টিতে কবির 
অসাধারণ কৃতিত্ব । তিনি বিভিন্ন প্রতীক ও ধ্বনির দ্বারা দর্শকের মনের মধ্যে অবিরাম 
এক রহশ্তরসের দোল! দিয়া গিয়াছেন। প্রথমেই দেখা যায় অভ্রভেদী লৌহ্যস্ত্রের মাথ! ও 
ভৈরব মন্দির চুড়ার ত্রিশূল। এই ছুইটি প্রতীক নাটকের অজানিত তত্বকে এক মুহূর্তেই 
আমাদের মনের রহস্ত-দ্বারে সম্ভাবিত করিয়া তোলে। তারপর মুক্তধারার জলকল্লোল, 





১। টমসন সাহেব এই নাটক দন্বদ্ধে বলিয়াছেন--"'[& 1৪ 0106 £:696686 0£ 1319 ৪5701001109] 0195৪ 
২।' কবি এই'নাটকের নাম প্রথমে 'পথ" রাঁধিরাছিলেন তাহ! শ্মরণীয়। 


রবীজ্রনাথ ২৮৫ 


অশ্বায় ধুকফাটা আহ্বান__ন্মন, স্থমন এবং সর্বোপরি ভৈরবপন্থীদের উদ্াত-গস্তীর 
মন্ত্রোচ্চারণ__ইহাদের মধ্য দিয়া যে আশা-আঁশঙ্কা-উদ্েল রহস্য-পরিবেশ গড়িয়া উঠে 
তাহা আমাদের চিত্তের উপর এক অবিচ্ছিন্ন প্রভাব-জাল বিস্তার করিয়! রাখে । 

॥ রঞ্তকরবী (১৩৩১) ॥ 'রক্তকরবী' নাটকথানি রূপক নয় ইহাই রবীন্দ্রনাথ বলিয়াছেন, 
অথচ তিনি নিজেই রামায়ণের কাহিনীর সহিত ইহাকে তুলন! করিয়া ইহার রূপক তত্বটী 
বিশ্লেষণ করিয়াছেন । নাটকের প্রন্তাবনীয় কবি বলিয়াছেন-_-“কষিকাজ থেকে হরণের কাজে 
মাচুষকে টেনে নিয়ে কলিষুগ কৃষিপল্লীকে কেৰলি উজাড় ক'রে দিচ্ছে। “রক্তকরবী+র যক্ষপুরীও 
এক অতিকায় অজগরের ন্যায় সুথ-শ্বাচ্ছন্দ্যে লালিত ক্ষুদ্র মানবাত্মাগুলিকে গ্রাসে গ্রাসে 
তাহার গহ্বরের মধ্যে চালান করিয়! দিতেছে, তাহাদের বাহিরে আসিবার পথ চিরতরে রুন্ধ 
হইয়া যাইতেছে । পতঙ্গ যেমন বহ্ছির রূপে আকৃষ্ট হইয়া তাহার মধ্যে নিজেদের সর্বনাশ সাধন 
করিয়া বসে, পল্লীর স্বাধীন কবীও তেমনি আপাত লোভনীয় ধনকণার আঁকর্ষণে নিজেদের 
রক্তলোভী যন্ত্র-দানবের কাছে নিঃশেষ করিয়। দিতেছে ।১ 

_ আধুনিক জড়বাদী বিশ্বসভ্যতার দুই অঙ্গ -যন্ত্র ও ধনতন্ত্র, এই ছুই অঙ্গ পরস্পরের 
পরিপূরক এবং ইহাদের মিলিত রূপ, অর্থাৎ যান্ত্রিক ধনতন্ত্র হইতে যে বস্ত-শক্তির উত্তব 
তাহা জড়বাদী বিশ্বেরণ উপর সর্বগ্রাসী ক্ষমতা বিস্তার করিয়াছে। এই বস্ত-শক্তি 
মাঁটকে পাষাণ আর মান্ুষকে পুতুল করিয়া ফেলিয়াছে। ইহাঁর দানবীয় বাহু যখন 
প্রসারিত হয় রাজনৈতিক জগতের দিকে, তখন স্বার্থে স্বার্থে সংঘাত লাগে, এক রাষ্ট্রের 
সহিত অন্ত রাষ্ট্রের সংগ্রাম স্থুরু হয় আর ধরাতলে নামিয়া আসে রক্তমাবী সর্বনাশের 
বীভৎস মারীলীলা। বিগত ছুইটি যুদ্ধে আমরা তো এই লীলাই দেখিয়াছি। রবীন্দ্রনাথ 
এই মদমত্ত বস্তরশক্তির বিরুদ্ধে চিরকাল তীব্র প্রতিবাদ জানাইয়াছেন। এ গ্রতিবাদ 
মানুষের মানুষের প্রেম ও প্রাণের । ঘমুক্তধারা”র মধ্যে যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আর “রক্ত- 
করবী”র মধ্যে প্রতিবাদ রহিয়াছে পুদ্ধীভূত ধনের বিরুদ্ধে। এই ধনের, আকর্ষণে মানুষ 
ধানের কথ! তুলিয়াছে, লক্ষ্মীর আসন, ফেলিয়! কুবেরের আগারের দিকে ছুটিতেছে। এই 
আকর্ষণ অণুভ হইলেও সত্য, কারণ ইতিহাসের অনিবার্য কারণ-পরম্পর! হইতে ইহার 
উত্তব। পশুচাঁরণ-যুগ হইতে কৃষিযুগ এবং কৃষিষুগ হইতে শিল্পযুগ--এগুলি সভ্যতার ক্রমিক 
এঁতিহাঁসিক স্তর। শিল্পবিপ্রবের পর হইতে সমগ্র বিশ্ব-জগতে যন্ত্র ও পৃ'জিবাদের সম্প্রসারণ 
হইতেছে, মৃত্তিকাপ্রাণ মানুষ ক্রমে ক্রমে অর্থ নৈতিক সত্তার দ্বারা অধিগত হইতেছে, ব্যক্তি- 
মানুষ শ্রেণী-মাঙষে পরিণত হইতেছে । বর্তমানে ধাহার! মানুষের মুক্তি চান তাহাদের মধ্যে 
অনেকেই মানুষের অর্থ নৈতিক সত্তাকে পুরাপুরি আকড়াইয়া ধরিয়া অর্থের উৎপাদন ও 


১। 'ৃষী যে দানবীয় লৌভের টানেই আত্মবিস্থত হচ্ছে ত্রেতাযুগে তারই বৃত্বান্তটা গা-ঢাক] দিয়ে বলবার 
জন্ই সৌপার মারাম্গের বর্ণনা আছে। আজকের দিনের রাক্ষসের মায়ামুগের লোভেই তো আজকের 
দিনের সীতা তার হাতে ধরা পড়ছে; নইলে গ্রামের গঞ্চবটচ্ছায়াশীতল কুটার ছেড়ে চাবীরা টিটাগড়ের 
চুটকলে মরতে আসবে কেন?" প্রস্তাবনা'-রক্তকরবী। 


২৮৬ বাংলা নাটকের ইতিহাস 


বণ্টনের মধ্যেই আমূল পরিবর্তন আনিতে চাহেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের পথ সম্পূর্ণ বিভিন্ন 
তিনি অর্থ নৈতিক চেতন! হইতে মানুষের প্রাণকে মুক্ত করিতে চান, সোনারথনি হইতে দূরে, 
ধূষ্বসিত কারখানার বাহিরে যেখানে মাটির "পরে সোনার আসন পাতা, কারখানার ধুম 
যেখানকার আকাশে পুষ্জ পুঞ্জ শ্যামল মেঘে পরিণত সেখানে মানুষকে লইয়৷ যাইতে 
চাহিয়াছেন। এই পথ কাহারও কাহারও নিকট পশ্চাৎগ্রসারী ও প্রতিক্রিয়াশীল মনে 
হইতে পারে, কিন্ত তবুও কবির পথ যে ইহাই তাহা অস্বীকার কর! চলে না। তবে এ 
সম্বন্ধে একটু সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্বাক। রবীন্দ্রনাথ অর্থবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ 
জানাইয়াছেন বটে, কিন্তু তাই বলিয়৷ তিনি অর্থকে কেবল অনর্থ বলিয়াও ভাবেন নাই। 
মানুষের প্রয়োজনে অর্থ, অর্থের প্রয়োজনে মানুষ নহে, ইহাই কবির মত। সোনার থলি 
যতক্ষণ মানুষের হাতে থাকে ততক্ষণ মানুষের কল্যাণ কিন্ত. সেই থলি যখন বোবা হইয়। 
মানুষের ঘাড়ে চাঁপে তখন হইতে স্থুরু হয় মানুষের ছুর্গাতি। এই দুর্গতি ঘক্ষপুরীর, এই ুর্গতি 
যক্ষপুরীর রাজার। যখন যক্ষপুরীর বন্দীশাল! ভাঙ্গিয়া পড়িল আর রাজা বাহির হইয়! 
আসিলেন মুক্তিপথে তখনই এই ছুর্গতির অবসান । তখন যক্ষপুরীর সোন৷ ছড়াইয়৷ পড়িল 
পৌষালি ধানের ক্ষেতে আর শিশির-ভেজা রোদের আাচলে। তখন রাজার দানব-সত্তার 
মৃত্যু আর নিঞ্জিত মানব-সত্তার পুনর্জন্ম । ধনতন্ত্রী অভিশাপ হইতে মানুষ বীচিল বটে 
কিন্তু বাচার জন্য আবার মরিতে হইল মানুষকে । যুগে যুগে এভাবে মাগ্ষকে বীচাইতে মানুষ 
মরিয়াছে। যন্ত্রের হাত হইতে মানুষকে বাঁচাতে অভিজিৎ মরিল আর স্বর্ণের হাত হইতে 
মানুষকে রক্ষা করিতে রঞ্জন ও নন্দিনী প্রাণ দিল। 

$/মুক্তধারা"র যন্ত্রর(জের সহিত “রক্তকরবী”র ধক্ষরাজের এইখানে পার্থক্য যে, যন্ত্ররাজ 
নিদ্ঘন্ব” নির্মানষ জড়শক্তি মাত্র কিন্ত যক্ষরাঁজের মধ্যে জড় ও জীবনের দ্বৈতলীলা। সেজন্য 
যন্ত্রাজের সংগ্রাম মানুষের সহিত কিন্তু যক্ষরাজের সংগ্রাম নিজের সহিত।১ যক্ষপুরীর 
রাজা জালের অ!বরণের অন্তরালে অবস্থিত। এই জাল বহির্জগৎ হইতে তাঁহাঁকে বিচ্ছিন্ন 
করিয়া রাখিয়াছে, প্রাণের লীলাভূমি হইতে নির্বাসিত করিয়৷ তাহাকে বন্দীশালায় আবদ্ধ 
করিয়। রাখিয়াছে। আলে। ও জীবন হইতে বঞ্চিত হইয়। সেই অন্ধকার বন্দীশালায় 
তাহার মানবী সত্তার বিলোপ হইয়াছে এবং তাহার স্থলে এক অমামুষী দৈত্য যখের ধন 
আগলাইয়! বসিয়া আছে। এমন সময় জালের আবরণ ভেদ করিয়া এক ঝলক জীবনের 
আলোক সেই বন্দীশালায় প্রবেশ করিল। সেই আলোকের সঙ্জীবনী স্পর্শে মৃত মানুষটি 
আবার বাঁচিয়। উঠিল এবং তখন আরম্ভ হইল মানুষ ও দৈত্যের এক দারুণ লড়াই । অবশেষে 
মানুষাটিরই জয় হইল, তবে সেজন্ত আর একটি মানুষকে মরিতে হইল, সে হইল রগ্জন। 
মানুষ ভাঙ্গিয়! ফেলিল দৈত্যের ধ্বজা৷। 'যার অজেয় শল্যের একদিক পৃথিবীকে অন্যদিক 
স্ব্গকে বিদ্ধ করেছে। রুদ্ধ কারাগৃহের জাল ছি'ড়িয়া মানুষ বাহিরে আসিল কিন্ত তখন 


১। “আমার হবল্পায়তন নাটকে রাবণের বতমান প্রতিনিধিটি একদেহেই রাবণ ও বিভীষণ ; সে 
আপনাকেই আপনি পরাত্ত করে।” স্প্রক্তকরবীর" প্রস্তাবন1। 


রবীজ্নাথ ২৮৭ 


সে দেখিল, রাঁজ! গিয়াছে কিন্ত তাহার রাঁজত্ব এখনও যাঁয় নাই, সৈম্ত ও সর্দার এখনও 
মোতায়েন। মানুষরূপী রাজার শেষ সংগ্রাম সুরু হইল তাহারই শক্তির বিরুদ্ধে। যন্তরী 
যদি যন্ত্রকে অপরিমিত প্রশ্রয় দেয় তাহা হইলে এমন এক সময় আসে খন যন্ত্রই যন্ত্রীকে 
চালিত করে। এই ট্র্যাজেডি দেখা গিয়াছে ষক্ষপুরীর রাজার মধ্যে । রাজার নিজের 
কথাতেই তাহ ব্যক্ত-- ঠকিয়েছে ৷ আমাকে ঠকিয়েছে এরা । সর্বনাশ! আমার নিজের 
যন্ত্র আমাকে মানছে না।, অধ্যাপক" সাধন ভট্টাচার্য বলিয়াছেন, “রবীন্দ্রনাথ শেষ পর্যস্ত 
প্রজাশক্তির সহিত রাজশক্তিকে মিলাইয়! দিয়া_সর্ারদিগকেই প্রতিপক্ষরূপে দ্রাঁড় 
করাইয়াছেন এবং এই কথাই বুঝাঁইতে চাঁহিয়াছেন যে, রাঁজশক্তির সহিত প্রজাশক্তির মৌলিক 
বিরোধ নাই-আসল বিরোধ সর্দার সরকারের সঙ্গে |” এই মত যুক্তিসহ, তবে এ প্রসঙ্গে 
ইহাই বলা যাঁয় যে, রাজশক্তি ও প্রন্জাশক্তির বিরোধ নাই তখনই যখন উভয়ের মধ্যে মাম্ষী- 
সত্তার বিকাশ। রাজা মানুষ হইয়াই প্রজার সহিত মিলিত হইতে পারিলেন, যতক্ষণ 
রাজ ছিলেন ততক্ষণ পারেন নাই । আর সর্দারের সহিত রাজার অন্তিম বিরোধ হইলেও 
মূলত সর্দার রাজারই শক্তি। রাজা মানুষ বলিয়াই শেষ পর্যন্ত তাহার মনুষ্যত্বের মুক্তি, কিন্ত 
সর্দার তো মন্ত্রমাত্র । যন্ত্রের মুক্তি নাই, সে অন্তহিত দুর্বার শক্তির তাড়নায় অন্ধবেগে 
ছুটিয়া চলে, সে তখন তাহার চালককেও আর গ্রাহ করে না। এইজন্ত নিজের শক্তিকে 
প্ুদস্ত করিতে যাইয়! রাজাকেও বোধ হয় মরিতে হইল। 

এই রাঁজাঁকে ফেমানগুষ করিল, অবরুদ্ধ যক্ষপুরীর মধ্যে যে আলোকের বঝরণা-ধার৷ 
বহিয়। আনিল, যাহার কথায় ও গানে নিপ্রাণ মানুষের মধ্যে প্রাণের পরশ জাগিয়া উঠিল 
সেকে? কোথ! হইতে সে আসিল, কেন আসিল তাহা ঠিক কবি বলেন নাই। 
কিন্তু তাহার আগমনে নিয়মে-বীঁধা ষক্ষপুরীর সব ওলট-পাঁলট হইয়া! গেল। মুতের অন্তরে 
জীবনের কানন! মর্মরিয়া উঠিল। নন্দিনীর অপর কোন পরিচয় নাই, সে কেবল নারী, চিরন্তন 
নারী _ “বৃন্তহীন পুষ্পসম আপনীতে আপনি বিকশি” সে পুরুষের চিত্তে প্রেম, আনন্দ ও 
সৌন্দর্যের বাণী পৌছাইয়! দ্িল-“এমন সময়ে সেখানে নারী এল, নন্দিনী এল, প্রাণের 
বেগ এসে পড়ল যন্ত্রের উপর, প্রেমের আবেগ আঘাত করতে লাগল লুব্ধ দুশ্টেষ্টার বন্ধন- 
জালকে। তখন সেই নারীশক্তির নিগুঢ় প্রবর্তনায় কি করে পুরুষ নিজের রচিত* 
কারাগারকে ভেঙ্গে ফেলে প্রাণের প্রবাহকে বাধামুক্ত করবার চেষ্টায় প্রবৃত্ত হল, এই 
নাটকে তা বধিত আছে। নন্দিনীর আভরণ রক্তকরবী। এই রক্তকরবী কিসের 
প্রতীক? পুষ্প প্রেম ও সৌন্দর্যের প্রতীক এবং রক্তবর্ণ ক্ষত'ও বেদনার প্রতীক ।১ 
রক্তকরবী বলিতে সাধারণভাবে প্রেম, সৌন্দর্য, আনন্দ সব-কিছু বুঝাইতে পারে কিন্তু 
আলোচ্য নাটকে রক্তকরবীর মধ্য দিয়া কবি বেদনারক্তিম প্রেমের কথাই বিশেষভাবে 
বুঝাইতে চাহিয়াছেন। যেখানে প্রেমের কোন ইঙ্গিত রহিয়াছে সেখানেই রক্তকরবীর 





১। সি গ্রমথ বিশীকে লিখিত গ্রযুক্ত ক্ষিতিমোহন সেনের পত্র ভ্রষ্টবা । 
রবীন্রনাটযপ্রবাহ-_ প্রমথ বিপী--পৃঃ ১৮৬ 


২৮৮ ধাংল। নাটকের ইতিহাস 


অবতারণ। প্রথমত কিশোর নন্দিনীকে ভালোবাসিত বলিয়াই তাহাকে সে রক্তকরবী ফুল 
দিয়াছিল, তারপর নন্দিনীর প্রতি রাজার আকর্ষণের পরিচয় পাঁওয়া গিয়াছে এ রক্তকরবীর 
লোভের মধ্য দিয়া; অধ্যাপক এমন কি সর্দারের আসক্তিও এ রক্তকরবীর উপর। কিন্ত 
নন্দিনী এই রক্তকরবীর মঞ্জরী দিয়াছিল শুধু রঞ্জনকে। কিন্তু রঞ্জন তো এক! সম্পূর্ণ নহে, 
বিগুকে লইয়াই সে সম্পূর্ণ, সেজন্ত রঞ্জনের মৃত্যুর পর এই মঞ্জরী যখন ধুলীয় লুটাইতেছিল: 
তখন বিশু তাহ! তুলিয়া লইল, নন্দিনীর প্রেমও সার্থকতা লাভ করিল। 

রঞ্জন কে সে আলোচনা! করা যাঁক। নন্দিনীর নামের মধ্যে যেমন তাহার স্বরূপ 
প্রকাশিত, রঞ্জনেরও তাহাই -মানুষের চিত্ত নন্দিনীর দ্বারা নন্দিত হয় আর রঞ্জনের দ্বারা হয় 
রঞ্জিত কিন্তু অর্থ একই । তবে নারীর নন্দিনীরূপের প্রকাশ প্রেম ও সৌন্দর্যের মধ্যে আর 
পুরুষের রঞ্জন রূপের প্রকাশ যৌবন ও শক্তির মধ্যে। শ্রীযুক্ত গ্রমথ বিনী বলিয়াছেন যে, 
“রঞ্জন হইতেছে মাস্ষের বিশুদ্বরূপ।” কিন্তু এই ব্যাখ্য। বোধ হয় আরও স্ুক্্তর ও পূর্ণতর 
হওয়। প্রয়োজন । রঞ্জন মানুষের পুরুষ রূপ আর নন্দিনী তাহার নারীরূপ। এই পুরুষ 
ও নারীর পারস্পরিক আকর্ষণ যেমন নিত্য ও সনাতন ১ তেমনি উভয়ের মিলনেই মানুষের 
পরিপূর্ণ সত্য ও সার্থকতা । রাজা ও রঞ্জনের কোন মৌলিক প্রভেদ নাই (রাজ ও 
রঞ্জনের ব্যুৎপত্তিগত অর্থও এক- রাজা- রঞ্জ+অন ও রঞ্জন -রঞ্জ- ণিচ+অন ), কিন্ত 
রাজার উপর যে দৈত্যটি ভর করিয়া আছে তাহার সহিত রঞ্রনের বিরোধ। দৈত্যটি 
মানুষকে মারিল বটে তবে নিজেও সে মরিয়৷ গেল। কিন্ত মানুষ, মৃত্যুকে জয় করিয়া 
হইল মৃত্যুপ্য় । 

কিন্ত একা রঞ্জনও বোধ হয় সম্পূর্ণ নহে, সে কথা পূর্বেই বলা হইয়াছে । রঞ্জন ও 
বিশু জীবনের দুই দ্রিক--একদিকে আলো ও আনন্দ অন্তদিকে দুঃখ ও রহস্ত।২ বিশু 
নিজে বলিয়াছে-“আমি রঞ্জনের ও-পিঠ যে-পিঠে আলে। পড়ে না-_আঁমি অমাবস্যা ॥+ 
রঞ্জন ও বিগুকে লইয়াই পুরুষের পূর্ণাঙ্গ রূপকে বরণ করিয়াই নন্দিনীর প্রেম সার্থক। 

“মুক্তধারা*র স্টায় রক্তকরবী”ও অঙ্ক ও দৃশ্ঠ-বিরহিত নাটক। কিন্তু "মুক্তধারা'র মধ্যে 
নাট্যকার যেমন বিভিন্ন শ্রেণীর চরিত্র পর পর আনিয়া ক্রিয়া! ও রসের বৈচিত্র্য ঘটাইয়াছেন 


'রক্তকরবী'তে সেরূপ কোন বৈচিত্র্য দেখ যায় না। “ূক্রধারা”য় উন্মুক্ত পথের উপরে চরিত্র- 
গুলিকে যথেষ্ট গতিশীল করিয়৷ তোল! হইয়াছে কিন্তু “রক্তকররী'তে সে স্ুযৌগেরও অভাব । 


১। নন্দিনী রঞ্জনের চূড়।য় নীলক্ঠ পাঁথীর পালক পরাইর। দিয়াছিল। নীল রঙ অসীম ও অনস্তের 
ঘ্োতনা বহিয়। আনে । কবির সঙ্কেত এই বে, রপ্রন মরিতে পারে না, মরিতে পারে ন। রঞ্জন ও নন্দিনীর প্রেম । 
কবি কি এখানে মেটারলিক্কের 'নীল পাখীর কথা ভাবিয়্াছেন?' 151] যে নীল পাখীর সন্ধ।নে বাহির ১, 
হইয়াছিল রঞ্জনও কি তাহাই-_-[0 £:686 ৪০০0:6৮ ০1 001089 900. 1১910171689 চাহিয়াছিল ?, নন্দিনী কি 
তাহার মৃত্যুর পর দেই আশাই পুর্ণ করিল? 

২। এবিশুর ভিতর দিয়। জীবনের অন্ধকারের দিক অর্থাৎ ছুঃখের রহ্স্তের দিকটাই প্রতিভাত-স.ঘেমন 
ক্প্ননের্‌ ভিতর দিয়! জীবনের আনন্দের এবং আলোর দিক রূপায়িত ?" 

--রবীন্ত্রনাথ (২য় পর্ব )--অশোক সেন--পৃঃ ২+১ 


রর্বীজলাথ ২৮৯ 


একটি বন্ধ পুরীর জালাবরণের বহির্ভীগে এই নাটকের ঘটনা ঘটিয়াছে। এই নির্দিষ্ট ও 
সংকীর্ণ স্থানে সমগ্র ঘটনার অবতারণার জন্য স্বভাবতই নাটকের গতি মন্দীভৃত হইয়া 
পড়িয়াছে। দ্বিতীয়ত এই নাটকে নাট্যকার চরিত্রগুলির কথার সৌন্দর্যের দ্বিকে যত দৃষ্টি 
দিয়াছেন গতির দিকে তত দৃষ্টি দেন নাই। সেই কথায় তারকার জ্যোতি আছে বটে 
কিন্ত প্রদীপের দাহ নাই । দ্ূপক-শ্লেষ-বিরোঁধ প্রভৃতি অলঙ্কার সৌন্দর্যে, চিত্র ও সঙ্গীতের 
সরসতায় নাটকখানি একটি অনবস্য কাব্যপ্ূপ লাভ করিয়াছে । . 

% এই কাঁর্যরসের অত্যধিক আঁতিশয্যের আর একটি কারণ এই যে, নাটকের সমস্ত 
লক্ষ্য নন্দিনীর দিকে । নন্দিনী তো একটি রক্তমাংসের জীব নহে, সে যেন আকাশ হইতে 
খসিয়া-পড়া একটি আলোর ফোয়ারা, কোন অপাধিব সঙ্গীতের একটি মুন্ঠিমতী ছন্দ। 
তাহার রূপে অন্ধকার পুরী আলোয় ঝলমল করিয়! উঠে, তাহার কথায় চারিদিকে খুশির 
বাতাস বহিতে থাকে, তাহার গানে মর! যক্ষপুরীর ইট-কাঠ-পাঁথরে নৃত্যের দোলা লাগিয়া 
যায়। সেজন্য রবীন্দ্রনাথ ষদ্দিও ধনতীন্ত্রিক অত্যাচারের বীভৎস-বিশ্ী। রূপ দেখাইতে 
চাঁহিয়াছেন, কিন্তু নাটকের কোথাও সেই রূপ নাই। ক্ষপুরীর তলায় সোনা! এবং 
ইহার উপরেও নন্দিনীর পরশমণি সব সোনা করিয়। দিয়াছে । বস্তত অন্ুপ-উপমন্থ্য- 
শকলু-কন্কুর দৃশ্য ব্যতীত “রক্তকরবী'র কোথাও ধক্ষপুরীর প্রকৃত চেহারা নহি। চরিব্রগুলি 
কেহই যথার্থবূপে ষন্গপুরীর প্রতিনিধি নহে, সকলেই যেন নন্দিনী-বাইগ্রন্ত । রাজাকে 
আমর! গোড়া হইতেই তাহার রাজত্ব ত্যাগ করিয়া নন্দিনীর অনুগ্রহ পাইতে লালায্িত 
দেখিতে পাই । অধ্যাপক-মোড়লের তে! কথাই নাই, এমন কি সর্দার পর্যস্ত রসিকতার 
দ্বার নন্দিনীর মনোরঞ্জন করিতে ব্যগ্র। এইরূপ একমুখী প্রবণতার ফলে নাটকের মধ্যে 
বিরুদ্ধ শক্তির সংঘাত কোঁথাঁও তেমন বান্তব ব্ধপ গ্রহণ করিতে পারে নাই। মহাঁপঞ্চক 
বিভূতি ও কাঞ্ধীরাজের শ্ঠায় সবল মতনিষ্ঠ চরিত্র “রক্তকরবী”তে নাই, সেজন্ত নাট্যাংশে 
ইহা খুবই দুর্বল। “র্তকরবী”র নাট্যবেগ দেখা গিয়াছে শুধু কেবল ছুইটি বিষয়ে- রাজার 
চরিত্র-্বন্বে ও রঞ্জনের আগমন প্রত্যাশীয়। রাজাকে আমরা দেখিতে পাই না, কিন্ত 
তাহার আবেগকম্পিত কথায় আমর! একটি দুর্দীস্ত চরিত্রের ছুশ্রতিরোধ্য হৃদয়-সংঘাত অনুভব 
করিতে পারি। বাস্তবিক বর্মাঁন ধন্তন্ত্রী মানুষ বিশ্বের সব ক্ষমতা ও এরশ্বর্য হাতের মুঠায় 
পাইয়াও আসলে কত একক, কত অসহায়! তাহার অন্তরাত্মা আজ বস্তর পুঞ্জ হইতে 
মুক্তি চায়, নিয়মের নিগড় হইতে মুক্তি চাঁয়! রাজার আত্মধিক্কারে ও নবজাত মোহ- 
কামনায় ইহাই কি পরিস্ফুট হয় নাই? রাজাকে আমর! রঙ্গমঞ্চে দেখিতে পাঁই না 
বলিয়াই তাহার প্রতি আম|দের কৌতুহল আরও তীব্র ও আমাদের সমবেদনা আরও 
গভীর হইয়৷ উঠে। রাজার মত রঞ্জনও আমাদের চোখের সন্মুথে কখনও দৃশ্য হয় নাই, 
অথচ নন্দিনীর প্রতিটি কথাতেই বঞ্জনের সহিত মিলিত হওয়ার ইঙ্গিত। এজগ্ত রঞ্জন 
সম্বন্ধে দর্শকের মনের মধ্যে একটি সদাঁজাগ্রত দিদৃক্ষা। বিরাজ করিতে থাকে । একটি চরিত্রকে 
কখনও রঙমঞ্চে আবনিয়া। এবং তাঁহার মুখের একটি কথাও ন৷ গুনাইয়া তাহার সম্বন্ধে 


৬৭ 


২৯০ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


সকলের মনে একটি অবারিত আবেগ-কৌতুহল -স্থ্টি করা যথেষ্ট নাট্যকৌশলের পরিচায়ক 
সন্দেহ নাই। কিন্তু চরিত্রটিকে শেষ পর্বস্তও নাট্যকার উদঘাটন করিলেন না, ইহার 
চতুর্দিকে একটি চিরন্তন রহস্যজাল রচন! করিয়! রাঁখিলেন। 

॥ তাসের দেশ (১৩৪০) ॥ রূপকথার রাজপুত্র গিয়াছিলেন পাঁশাবতীর পুরে এবং আলোচ্য 
মাটকের রাজপুত্র চলিয়াছেন তাঁসবতীর দেশে। আঁবাঁর রূপকথার সঙ্গে এই নাটকের 
সাদৃশ্ত দেখাইয়৷ বল! যায় যে, রূপকথার অপর এক রাজকুমার অচিন দেশের ঘুমস্ত রাজ- 
কম্ঠাকে সোনার কাঠির পরশে জাগাইয়াছিলেন এবং আলোচ্য নাঁটকের রাজপুত্রও তাসের 
দেশের নির্জীব নিয়মবদ্ধ মাচুষের মধ্যে যে নবীন! প্রাণ হাঁরাইয়। ফেলিয়াছে তাহাকে 
বাচাইতেই আসিয়াছে । রূপকথার রাজপুত্র মাত্রই অসাধ্য সাধনে ব্রতী, রাঁজপুরীর আরাম 
ও আদর'উপেক্ষা করিয়াই দুর্গম, বিস্বসঙ্কুল পথের অভিযাত্রী । “তাসের দেশে”র রাঁজপুতরও 
তো! লক্ষমীকে ছাঁড়িয়৷ অলক্মীকে পাইবার জন্য ব্যাকুল; কারণ সেজানে 'ভীরু করেছে & 
লক্ষী। সাহস আছে লক্ষমীছাড়ার। যার বিপদ নেই তার ভরসা নেই । 

কবি তাসের দেশের রূপক কেন গ্রহণ করিলেন? লা'ল কাল উর্দিপরা তাসগুলি 
নিয়মের আবর্তে ঘুরিতেছে কিন্তু গ্রাণের ছন্দে চলিতেছে না। তাহাদের চাল আছে কিন্তু 
চলন নাই। তাহারা চ্যাপ্টা, ভিতরে হাঁওয়৷ নাই বলিয়৷ তাহার আগাইতে পারে না। 
তাহারা অতিমাত্রায় গন্ভীর এবং ব্রহ্মার হাই হইতে উৎপত্তি বলিয়া মাটির সহিত সম্পর্ক 
ইহাদের খুবই কম। রূপক অত্যন্ত স্পষ্ট । গৃহবদ্ধ ও গম্ভীর লোকেদের প্রতি কবির মনোভাব 
কি তাহা আমর! বার বার জানিয়াছি। এই নাটকেও সেই মনোভাব ব্ূপকের ছদ্মবেশে ও 
বিজ্রপের ভূষণে প্রকাশিত হইয়াছে। নাঁমগুলি তাসের হইলেও লৌকগুলি যে আমাদের 
দেশেরই তাহ! বুঝাও কষ্টকর নহে।১ বস্তত নাটকের পাত্র-পাত্রীদের তাসের নাম দেখিয়া 
তাহাদিগকে যে অদ্ভুত জগতের জীব মনে হয়। তাহাদের স্বভাব ও আচরণের মধ্যে সেই 
অদ্ভুতত্ব খুজিয়া পাওয়া যাঁয় নাই। বিশেষত গানগুলির দ্বারা নাটকের জগৎ আমাদেরই 
পরিচিত বূপ-রস-সৌন্দর্যের জগৎ হইয়৷ উঠিয়াছে। 


অন্ঠান্ত নাটকের স্যায় এই নাটকেও আশার আলোকিত পথে প্রাণের জয়শঙ্খ বাজিয়া 
উঠিয়াছে। অর্থাৎ তাসের দেশের আকাশে একদিন নীল মেঘ জমিয়া উঠিল আর সেই 
সঙ্গে সঙ্গে ময়ুরের নাচ ও ভ্রমরের গুঞ্জনে নিয়মের রাজত্বে অনিয়ম দেখা দিল-সেই 
অনিয়মের প্রবল বন্তায় কৃষ্টির বেড়া, সম্পাদকীয় স্তম্ত আর আইনের জবরদস্তি সব ভাসিয়া 
গেল। তাসের দেশের রাণী তো৷ আগেই পথিক রাঁজপুত্রের বশীভূত হইয়াছিলেন, শেষকালে 
রাজাও হইলেন । রাঁজপুত্রের জয় পূর্ণ হইল, জীবনের জয় সিদ্ধ হইল । ৪ 


১। চারু বন্যোপাধ্যায়ের মস্তব্য সম্পূর্ণ সমর্থনষে।গা--'এই তাসের দেশ যে আমাদেয়ই সনাতনপন্থী 
দ্বেশ তাহ। না! বলিয়। দিলেও কাহারও বুঝিতে কষ্ট হইবে ন1।' 


-রবিরশ্সি (২য় খও)--৩০৬। 


রবীজ্নাথ ২৯১ 


ঙ) বিবিধ 

“শোঁধবোধ” “কর্মফল+ গল্পের নাট্যরূপ। ইহাতে নকল সাহেবীয়ানাকে 
তীব্র ব্যঙ্গ করা হইয়াছে, এবং খাঁটি প্রেম যে কেতাছুরস্ত আচার এবং চোস্ত 
চাঁলচলনের সাপেক্ষ নয় তাহাই বল! হইয়াছে। শেষের দিকে মাঁদীর আশ্রয় 
প্রাপ্ত সতীশের জীবনে একটী জটিল সমস্যার উদ্ভাবন করা হইয়াছে। তবে মাসীর 
অন্তায় সত্বেও সতীশের ব্যবহাঁরেও একটা উদ্ধত অকৃতজ্ঞার ভাব দেখা গিয়াছে । শেষ 
দৃশ্য অতি মাত্রায় তরল উত্তেজনাকর হইয়! উঠিয়াছে, এবং ইহাঁতে এক জটিল সমস্তার যেন 
থুব আকন্মিক ও সুলভ সমাধান করিয়৷ দেওয়! হইয়াছে । 

॥ কালের যাত্রা (১৩৩৯) ॥ “কালের যাত্রা” বইখানার মধ্যে দুইখাঁনা নাটক আঁছে-_ 
“রথের রশি” এবং “কবির দীক্ষা” । “কবির দীক্ষায়” নাটকীয় ঘটনা-সংস্থান ও চরিত্র-সমাঁবেশ 
কিছুই নাই, স্থৃতরাং ইহার আলোচন! অপ্রয়োজনীয় । 'রথের রশি”র মধ্যে 'ধুলার তলে হীন 
পতিতের ভগবানের লীল! দেখানো হইয়াছে । ব্রাঙ্ষণ পুরোহিতের মন্ত্রবল, স্ত্রীলোকদিগের 
পূজা ও নৈবেছ্য, সৈনিকদের দৃপ্ত বাঁহুবল, এবং শ্রেী ধনপতির ধন-এশ্বর্ষের ক্ষমতা যে রথ 
টলাইতে পারিল না তাহা শূদ্রদের স্পর্শমাত্রই সচল হইয়া উঠিল। মহাঁকালনাথ সবার 
পিছে, সবার নীচে সবহারাদের মাঝে আজ নামিয়া আসিয়! শুদ্রশক্তিকে জাগ্রত করিয়া 
তুলিয়াছেন, ইহা আর কেহ বুঝিতে পারে নাই, কেবল বুঝিয়াছেন কবি, ধিনি নিরন্তর 
বিশ্বের তাল ও ছন্দ রক্ষা করিয়। চলেন। “রথের রশি*র ভাষা গদ্য হইলেও কবিতার স্তায় 
মধুর ও ছন্দোময়। 

॥ বাঁশরী (১৩৪০)॥ রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যজীবনের শেষপর্যায়ের লক্ষণগুলি 'বাশরী'তে 
নুপরিস্ফুট। অর্থাৎ এই নাটকে কবির আত্মলীন মানসম্তর হইতে পরিবেশ স্থানান্তরিত 
হইল বস্ততান্ত্রিক সমাজ-্তরে, হৃদয়ের সরসতা অপেক্ষা প্রধান হইয়া উঠিল মননের প্রথরতা, 
অনুভূতির ধার! শুকাইয়৷ আসিল বিতর্কের মরূপথে। নাটকের কথার প্রয়োজন চরিত্রস্ষ্টির 
জন্য, কীনস্ত এই নাটকে কথার কারুকার্ষের দিকে রুবি যত দৃষ্টি দিয়াছেন, চরিত্রের সঞ্জীবতার 
দিকে তত দৃষ্টি দেন নাই। সেগ্ন্ত বাক্যের বোমায় চরিত্রের সম্ভাবনা উড়িয়া গিয়াছে। 
বাঁশরী সোমশঙ্করকে ভালোবাসে এবং সোমশঙ্করের হৃদয়েও বাঁশরী নিঃসপত্ব অধিকার । কিন্তু 
কি অনিবার্ধ অবস্থার তাড়নায় সোমশক্কর সুষমাকে স্বেচ্ছায় বিবাহ করিল তাহা বোঁধগন্য 
নহে। পুরন্দর সুষমার প্রেম হইতে মুক্তি পাইবার জন্য, স্থষমা ও সোমশঙ্করকে মিলিত 
করিয়া! দিলেন । সুষম! ভালোবাসে পুরন্দরকে আর সোমশঙ্কর ভালবাসে বাঁশরীকে, কিন্ত 
পুরন্দরের প্রয়োজনে তাহাদিগকে আত্মহত্যা করিতে হইল। কিন্তু এই আত্মহত্যার দ্বারা. 
কোন্‌ মহৎ উদ্দেশ্ঠ সাধিত হইল? পুরন্দর বলেন, প্রেমে মুক্তি, ভালোবাসায় বন্ধন। পুরন্দর 
ও সুষমার মধ্যে এই প্রেম থাঁকিতে পারে, সোমশঙ্কর ও বাঁশরীর মধ্যে এই প্রেম থাকিতে 
পারে, কিন্তু সোমশঙ্কর ও সুষমার সম্বন্ধের মধ্যে এই প্রেম কোথায়? সোমশঙ্করের মুখ দিয়! 
কবি যে ব্যাথ। দিয়াছেন তাহাঁও যুক্তিসহ নহে, “এতদিনের তপস্থায় এই নারীর চিত্তকে তুমি 


৯২ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


যজ্ঞের অগ্নিশিখার মতো! উধের্বে জালিয়ে তুলেছে, আমারি ,পরে ভার দিলে এই অনির্বাণ 
অগ্নিকে চিরদিন রক্ষা করতে।” কিন্ত একটি ন।রীর চিত্াপ্বি জালাইয়া রাখিবাঁর ভার 
সৌঁমশঙ্কর নিল, ইহাতে তাহার প্রেম ও পুরুষত্ব কোনটাই প্রকাঁশ পাইল ন।। বাঁশরীর কথা 
সমর্থন করিয়া বলা যায়, পুরন্দর সোমশঙ্করের 'বুদ্ধিকে দিয়েছে ঘোল| করে, দৃষ্টিতে দি-য়ছে 
চাপ1 1” কিন্তু এই সন্্যাসী-পুরুষটিকে নাটকের মধ্যে এতখানি অসাধারণ করিয়া তোল 
হইয়াছে কেন, তাহার ব্রতসাধনার উদ্দেশ্তই বা কি? নাটকের মধ্য হইতে ইহার কোন উত্তর 
পাওয়া যায় না।১ পু 

সোমশঙ্কর ও বাঁশরীর প্রেমই নাটকের মূল সমস্যা, কিন্ত নাটকের অধিকাংশ স্থান 
ভুড়িয়া আছে সোমশক্কর নহে, ক্ষিতীশ। অথচ ক্ষিতীশের অন্তর আমাদের কাছে একেবারে 
অপ্রকাশিত হইয়াই রহিল, এমন কি বাঁশরীর অকৃতার্থ জীবনের নিত্যকার প্রয়ো গ্রনেও তাহার 
ডাক পড়িল না। 

নাটকের অন্তান্ত চরিত্রের নির্জীব শীতলতার মধ্যে বাঁশরী একমাত্র সজীবতার অগ্নিশিখা। 
সে নিছক “আইডিম্না+র সঙ্গে গাঁটছড়। বাধে নাই । সকায়, সকাম জীবনের সহিতই সম্বন্ধ 
স্থাপন করিতে চাহিয়াছে। তাঁহীর অভিমানের ইম্পাতের তলায় রহিয়াছে মর্মবেদনার 
মৃত্তিকা । তাহার শাণিত বৈদদ্ধ্য ও আঁক্ষেপহীন বিক্রপ ছদ্মবেশ মাত্র। সেই ছন্মবেশে 
ঢাঁক! রহিয়াছে একটি প্রেম ও বেদনায় গড়া নারীমুণ্ি। সেই নারীমৃত্তি আত্মপ্রকাশ করিল 
সোমশঙ্করের সহিত শেষ সাক্ষাতকারের সময় । বিবাহ তাহার হইল না বটে, কিন্ত বিবাহের 
চেয়ে অনেক বড় যে প্রেম, সেই প্রেমের অমর স্বাক্ষর সে অন্তরের মধ্যে লাত করিয়া 
ধন্য হইল। 

॥ চণ্ডালিক! (১৩৪০) ॥ গু! লিক!” নাটকখানির কাহিনী রাজেন্দ্রল।ল মিত্র-সম্পাঁদিত 
নেপালী বৌদ্ধসাহিত্যের অন্তর্গত *শার্দল কর্ণাবদান” হইতে গৃহীত। নাটিকাথানির মধ্যে 
নাটকীয় ভাব অপেক্ষা কাব্যময় ভাব অনেক বেশি পরিস্ফুট হইয়াছে। ইহাতে একই ঘটন! 
সংস্থাপনের মধ্যে প্রকৃতি ও তাহার মাতার কথোপকথন নিবদ্ধ হইয়াছে। প্রর্কতির কথার মধ্য 
দিয় তাহার-প্রাণের আকুতি_আশা! ও বেদনা এক অতি সকরুণ গীতোচ্ছাসের স্ায় মর্মরিয়া 
উঠিয়।ছে। চগ্ডালিকার অত্যুগ্র আশ! ও স্বপ্ন যখন সুগভীর অনুতাপ ও আত্মগ্লানির মধ্যে 
লুটাইয়া পড়িল তখন মনে হইল শত বঙ্কারে বন্কৃত বীণাঁর তারগুলি যেন অকন্মাৎ ছি'ড়িয়া 
গেল, যেন শত শত দীপ্চিমান আলোক বতিক। এক দমক৷ বাঁতাসে নিভিয়! গেল। 


১। “পুরন্দর চরিত্রের চমক এত বেশি, এত বেশি রহন্ঠময় ঘে এই ধরণের বন্ত-ঘনিষ্ঠ সামাজিক নাটকে 
এতট। চমক এতটা রহৃত্ত বন্ধ-প্রত্যয়ফে শিখিল করি] দেয়।' রবীন সাহিত্যের ভূমিকা-নীহায় রার়--১৬৮ 


চতুর্থ অস্ক 
রবীক্দোত্তর নাট্য-সাহিত্য 
(ক) ভূমিকা 


বাংল! নাটকের চূড়ান্ত উন্নতি আমর! রবীন্দ্রনাথে লক্ষ্য করিয়াছি, বাংলা সাহিত্যের 
সর্বময় সমৃদ্ধি তাহার দ্বারাই সম্ভব হইয়াছে । রবীন্দ্রনাথকে শুধু মাত্র একজন শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক 
বলিলে তাহার সম্বন্ধে কিছুই বল! হইল না। দীর্ঘ পঞ্চাশ বৎসরের অধিক কাল তাহার 
লোকোত্তর' প্রতিভা বাংল! সাহিত্যের ইতিহাসকে একেবারে পরিব্যাপ্ত, সমাচ্ছন্ন করিয়া 
রাখিয়াছে। বৃহৎ বনস্পতির ন্যায় তিনি এই সাহিত্যক্ষেত্রের সর্বত্র আচ্ছাদন করিয়া 
অপ্রতিত্বন্দী গৌরবে বিরাজ করিয়াছেন ; তাহার সময়ে যে সমস্ত পাঁদপ এই ক্ষেত্রে জন্মলাভ 
করিয়াছে তাহার! এই বনস্পতির বীজ হইতে জাত, তাহারই ছায়াতে লালিত এবং শিকড়রসে 
পরিপুষ্ট॥ রবীন্দ্রনাথের এই সর্বগ্রাসী প্রভাবের ফলে তাহার সমসাময়িক কালে শ্রেষ্ঠ 
প্রতিভাধর সাহিত্যিকের আবিতীব সম্ভব হয় নাই। কেবল উপন্তাস-ক্ষেত্রে কবীন্দ্র- 
প্রতিভার পূর্ণতম বিকাশ দেখা যায় নাই, এবং সেইজন্ই উপন্তাস-জগতে অন্তর যুগন্ধর 
প্রতিভা শরংচন্ত্র এবং তাহার অন্থবর্তিগণের অভ্যুদয় সম্ভব হইয়াছে, এবং তাহাদের গ্বারা 
উপন্ঠাস-সাহিত্য অশেষভাবে পুষ্ট ও সমৃদ্ধ হইয়া উঠিয়াছে। কিন্তু কাব্যজগতে তাহাঁর 
প্রভাব অতিক্রম করিয়া কোনো সাহিত্যিক প্রতিষ্ঠা লাভ করিতে পারেন নাই, এবং অদূর 
ভবিষ্যতেও পারিবেন কিনা সন্দেহ। নাট্যক্ষেত্রেও তাঁহার পরে খুব শক্তিশালী লেখকের 
উত্তব হয় নাই। যে নাট্যধার৷ এতদিন পূর্ণতোয়া নদীর ন্ায় চঞ্চল গতিতে প্রবাহিত 
হইতেছিল, রবীন্দ্রনাথের পরেই তাহা শ্রথগতি, নিরদ্ধ-আোত, বিশীর্ণ জলরেখায় পরিণত 
হইয়াছে। অবশ্ঠ একথা বলিতেছি না যে রবীন্দ্রনাথের পরে ভালে! নাট্যকার মোটেই 
জন্মান নাই। আধুনিক কালেও ২৩ জন প্রকৃত প্রতিভাবান নাট্যকার আছেন বটে, 
কিন্তু তবুও একথ! সত্য যে, বাংল! নাটকের পূর্ব গৌরব ও সমৃদ্ধি আরনাই। কি 
কারণে এরূপ হইল, ইহার জন্য বর্তমান নাট্যশাল৷ ও দর্শকদের মানসিক চাহিদ! কতখানি 
দায়ী, এবং বাংল। নাটকের পুনরভ্যুতখান সম্ভব কিনা__এসব বিষয় আমরা পরে আলোচন! 
করিব। আমরা শুধু বিষপ্ন নেত্রে লক্ষ্য করিতেছি যে বর্তমান কালে এমন কোনো 
নাট্যকার নাই যিনি সমগ্র নাট্য-জগৎকে অন্তত কিছুকালের জন্যও তন্মুখী এবং তদাশ্রয়ী 
করিতে পারিয়াছেন। আধুনিক নাট্যকারদের মধ্যে কেহও তাঁহার বিশিষ্ট ভাব, মত ও 
রীতির গার নাট্যজগতে কোনো যুগান্তকারী বিপ্রব আনয়ন করিতে পারেন নাই। দীনবন্ধু, 
গিরিশচন্দ্র, অমৃতলাল, দ্বিজেন্ত্রলাল প্রভৃতি নাট্যকারদের নাটকে অনেক দোষত্রটি আমরা 
দেখিয়াছি। কিন্তু তীহার! যেমন সমসাময়িক কালে নাটকীয় আনদালন এবং মন্তত। ক্ষ 
করিতে পারিয়াছিলেনঃ যেমন একথানির পর একখানি নাটকের দ্বার রঙজজগৎকে নিত্য 


২৯৪ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


নৃতন রসে চঞ্চল, পরিতৃপ্ত করিয়া! তুলিয়াছিলেন আধুনিক কালে তেমনটি দেখা যায় না। 
যে মুষ্টিমের় নাট্যকারবৃন্দ . বর্তমানে নাটক লিখিতেছেন তাহাদের নাটকসমূহ সংখ্যায় 
অনধিক এবং রঙ্গমঞ্চে তাহাদের ২১ থান! নাটক বিশেষ জনপ্রিয় হইলেও নাটকের মধ্য 
দিয়া নাট্যকার দর্শকবৃন্দের সহিত অন্তরঙ্গ যোগাযোগ লাভ করিতে পারেন নাই। আধুনিক 
এমন অনেক নাটক আছে, যাহাদের উপর গ্রীতি ও প্রশংসা বধিত হইলেও তাহাদের 
শর্টীর সহিত দর্শকদের মানস-পরিচয় নাই, এমন কি ত্রষ্টার নাম পর্যন্তও তাহারা 
অবগত নহেন। 

আধুনিক নাটকের দোষ ও দৈন্য থাকিলেও একটা বিষয়ে ইহার উল্লেখযোগ্য 
বৈশিষ্ট্য আছে, এবং তাহা হইতেছে যে, এই নাট্যসাহিত্য বর্তমান বিশ্বনাট্যধারার সহিত 
সম্পৃক্ত ও ম্লাদৃশ্যুক্ত । ইউরোপে যুগ-প্রবর্তক নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের পর হইতে 
নাটকের কল! ও রীতির আমূল পরিবর্তন হইয়৷ গিয়াছে । বাংল। সাহিত্যেও দ্বিজেন্দ্রলাল 
এবং বিশেষত রবীন্দ্রনাথের সময় হইতে প্রাচীন কঠোর বিধিবদ্ধ নাট্যকলা বঞ্জিত হইয়া 
ইবসেনীয় রীতি বহুলাংশে গৃহীত হইয়াছে । রবীন্দ্র-পরবর্তা নাট্য-সাহিত্যে ইউরোপীয় এবং 
রবীন্দ্র-রীতিই প্রায় সর্বত্র অনুস্থত হইয়াছে । যে সব বিশিষ্ট ভঙগী ও পদ্ধতি রবীন্দ্রনাথের 
নাটকে প্রথম দেখ গিয়াছে, বর্তমান নাট্যকারগণ সেইগুলি নিষ্ঠার সহিত তাহাদের নাটকে 
ব্যবহার করিয়াছেন। 

রবীন্দ্রনাথের নাটকে সংলাপের চমৎকারিত্বের কারণ ইহার 'সংক্ষিপ্ততা, ইহ! আমরা 
দেখাইয়াছি। তাহার পরবর্তী নাটকেও সংলাপ খুব সংক্ষিপ্ত, এ সব নাঁটকে বিভিন্ন পাত্র- 
পাত্রীর মুখে দ্রুত সংলাপের আদান প্রদান হইয়াছে বলিয়া দর্শকের মন সমন্ত চরিত্রের উপর 
সন্নিবিষ্ট থাকে, এবং চরিত্রগুলিও যুগপৎ ক্রিয়াময় থাকিতে পারে, একজনের সুদীর্ঘ বক্তৃতার 
সময় অপর আর একজনের হাই তুলিতে অথবা৷ নখ খুণ্টিতে হয় না। দ্বিতীয়ত, রবীন্দ্রনাথের 
নাটকে অংক ও দৃশ্যবিভাগ সম্বন্ধে যে চরম স্বাধীনতা! লক্ষ্য করা যায় আধুনিক নাটকেও তাহা 
পরিস্ফুট। এমন অনেক নাটকই লেখ৷ হইতেছে যেগুলির মধ্যে পাঁচ অংক তো নাই-ই, 
এমন কি অংক ও দৃশ্টের সুস্পষ্ট বিভাগও নাই । এমন অনেক নাটক আছে যাহাতে কোনে 
দৃশ্তই নাই, যেমন শচীন্ত্রনাথের “স্বামী-স্ত্রী নাট কখাঁনি, ইহাঁতে কেবল চারটি অংক আছে, 
কোনে! দৃশ্ঠ নাই। আবার অন্যপক্ষে আয্কান্ত বক্সীর “ডক্টর মিস কুমুদের মত নাটকও 
আছে, যাহাতে কোনে! অংকই মাই, শুধু কয়েকটা দৃশ্য রহিয়াছে। এখনকার নাট্যকারগণ 
কলিকাতার রঙ্গমঞ্চের উপযোগী করিয়া তাহাদের নাটকসমূহ রচনা! করিয়া থাকেন। অংক 
ও দৃশ্ত সংখ্য। যথীসম্তব কমাইয়া, একই অংক অথবা দৃশ্তের মধ্যে বিভিন্ন ভাঁবাত্মক পাত্র- 
পাত্রীকে স্থুকৌশলে প্রবেশ করাইয়া আধুনিক নাটকে ক্রিয়ার অবিরাম গতি অব্যাহত কর! 
হইয়া থাকে। 

বর্তমান নাট্য সর্গহত্যের আর একটা লক্ষণ ইহার অন্তদ্বন্বময়তা। অবশ্ঠ এখনও যে 
কোনে। কোনো নাটকে সন্তা এবং স্থুল দৃশ্তের অবতারণ! নাই তাহা নহে, কিন্ত তবুও 


রবীক্দোত্বর নাট্য-সাহ্ত্য ২৯৫ 


আধুনিক নাট্যকারদের লক্ষ্য এবং প্রয়াস হইতেছে সল্প আবেগময় অন্তত ফুটাইয়া তোলা । 
অবস্ত এই অন্তদ্বন্বি পরিস্ফুট করা শক্ত কাঁজ, এবং খুব কম নাট্যকারই তাহাতে যথার্থ সক্ষম 
হইয়াছেন। নাট্যকারদের আলোচন। প্রসঙ্গে সেই -বিষয় আমরা বিচার করিল। 

আজকালকার নাটকের আর একটা সর্বত্রন্থলভ বৈশিষ্ট্য হইতেছে যে, ইহাতে অতি 
বিস্তৃতভাবে মঞ্চনির্দেশ দেওয়া হইয়া থাকে। এই মঞ্চনিদেশ দ্বিজেন্দ্রলাল হইতে বাংল! 
নাটকে চলিয়। আসিতেছে । এই মঞ্চনির্দেশের মধ্য দিয়া লেখক তাহার বক্তব্য অধিকতর 
পরিস্ফুট করিতে পাঁরেন, এবং ইহার ফলে নাট্যকার ও অভিনেতার মধ্যে সহযোগিতাঁও বৃদ্ধি 
পায়। বর্তমান কালের অনেক নাট্যকার রঙ্গমঞ্চের অভিনেতাদের অভিনয়-ভঙ্গি ও মানস- 
প্রবণতার সহিত ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত। তাহারা নাটক লিখিবার কালে বিশেষ বিশেষ 
অভিনেতার উপযোগী বিভিন্ন চরিত্র স্থষ্টি করিয়৷ থাকেন। কোনো! বিশেষ ধরণের ভূমিকায় 
কোনো অভিনেতা অভিনয় করিয়া যদি খুব খ্যাতি অর্জন করেন, তবে পরবর্তীকালে 
অনেক লেখক তীহাদের নাটকে সেই ধরণের ভূমিকা সন্গিবেশ করেন। এইভাবে 
বর্তমান নাট্যরচন৷ রঙ্গমঞ্চের অধীন হইয়া পড়িয়াছে। অনেক সময়েই নাটকরচয়িতাগণ 
রঙ্গমঞ্চের প্রসিদ্ধ অভিনেতা ও পরিচালকের নিদেশে তাহাদের নাটকে অনেক পরিবর্তন 
সাধন করিয়া থাকেন, সেই পরিবর্তন মঞ্চসাফল্যের দিক দিয়া বিশেষ কার্যকর হইলেও 
সর্বত্র নাট্যকলার পোষক হয় নাই। * 


(খ) পৌরাণিক নাটক 


গিরিশচন্দ্র সময়ে পৌরাণিক নাটকের চূড়ান্ত সমৃদ্ধি দেখ! গিয়াছিল এ বিষয় 
আমর! যথাস্থানে আলোচন৷ করিয়াছি । তাহার পরে পৌরাণিক নাটকের পুনরত্যুখান 
আর সম্ভব হয় নাই। যে ধর্মোদ্বীপনা উনবিংশ শতাব্দীতে দেখা গিয়াছিল তাহা বিংশ 
শতাবীর গোড়! হইতে ক্রমে ক্রমে স্তিমিত হইয়| আসিল। বিংশ শতাব্দীর ভাববিপ্রবের 
স্পর্শ আমাদের দেশও লাভ করিল, সর্বশক্তিময় বিজ্ঞানের অদ্ভুত লীলার পরিচয় আমরাও 
পাইলাম । দেশের লোকের মন ক্রমে ক্রমে অধ্যাত্মবিমুখ, ইহসর্বস্ব হইয়। উচ্টিল। নান 
রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক জটিলতা আমাদের চিন্ত। ও কল্পনাকে অধিকার করিতে 
লাগিল, ধর্মসন্বন্ধে আমাদের কৌতুহল কমিয়া আমিল। অলৌকিক ব্যাপারের মধ্য দিয়া 
যে ধর্মভাঁব উদ্রেক করাই পৌরাণিক নাটকের প্রধান লক্ষ্য তাহা আর আমাদিগকে আকর্ষণ 
করিতে পাঁরিল না, সেইজন্য পৌরাণিক নাটকের প্রচারও শেষ হইয়া আসিল । কলিকাতার 
যে রঙ্গমঞ্চগুলি এককালে পৌরাণিক নাটকের দ্বারা পরিপোঁধষিত হইত এখন সে সব 
স্থানে এ নাটকের এঅস্তিত্ব নাই। 
বর্তমানে যে ছুই একজন লেখক পৌরাণিক নাটক লিখিতেছেন তাহাদের নাটকের 
নহিত পূর্বতন পৌরাণিক নাটকের কোনেো।ই যোগ নাই। বস্তত তাহাদের নাটককে খাটি 


২৯৬ বাংলা নাটকের ইতিহাস 


পৌরাণিক নাটক বল! যায় কিন! তাহাতেও সন্দেহ আছে। কারণ পুরাণের কোন বিশেষ 
ঘটনা কি কাহিনী ব্যতীত পৌরাণিক ভাব, আদর্শ, নীতি কিছুই প্রদর্শন করা বর্তমান 
*নাট্যকারদের উদ্দেশ্ত নে। চিরপাঁলিত ধর্শীদর্শ এবং ভক্তিভাব আধুনিক নাটকে তো 
নাই-ই, বরং গতানুগতিক পৌরাণিক সংস্কার ও নিষ্ঠার প্রতি একট! বিদ্রোহের ভাব ইহাতে 
রহিয়াছে। বর্তমান সংস্কারবিরোধী, ধর্নবিভ্রোহী চিত্ত ভগবানকে ছাড়িয়। শয়তানের 
জয়গানে মুখরিত, *[1)6 06511 15 106 ৪.$ 10190125178 15 0911)060--ইহা আধুনিক 
ভাববিপ্রুত মানুষের অন্তরের প্রতিধ্বনি । পুরাণ এবং ধর্মগ্রস্থে এতদিন যাঁহীর। দ্বণ! ও অবজ্ঞা 
কুড়াইয়৷ আসিয়াছে, তাহাদের চরিতব্রই নূতন ধরণের সহাম্ভৃতিশালী দৃষ্টিভঙ্গীর মধ্য দিয়। 
আলোচিত ও বিশ্লেষিত হইয়াছে । রবীন্দ্রনাথ তাহার অনেক কবিতায় অনেক পুরাণান্তর্গত 
চরিত্রকে মনুম্ত্ববোধের মানদণ্ড দ্বারা নৃতনভাবে বিচার করিয়াছেন, আধুনিক নাটকেও 
সেই রকম অনেক স্থলে নৃতন বিচাঁরশক্তির প্রয়োগ, অভিনব মুল্য ও মর্যাদা নির্ধারণ 
লক্ষ্য করা যাঁয়। 

ভক্তিভাব এবং ধর্মাদূর্শের অভাব বশত এবং অলৌকিক দৃশ্তের অবতারণা না! থাকাতে 
অধুনাতন পৌরাণিক নাটকে স্থতীব্র ভাবাবেগ ও ঘাত-প্রতিঘাত অনেক জায়গাতেই 
প্রকাশিত হইয়াছে, এবং তাহাতে এই নাটক দর্শনে দর্শক ধর্ম ও নীতি সম্বন্ধে কোনো 
গতানুগতিক শিক্ষা লাভ করে ন বটে, কিন্তু যথার্থ নাটকীয় রস উপভোগে তাহার চিত্ত 
চরিতার্থ হইয়৷ উঠে। নাটকত্বের দিক দিয়া আধুনিক পৌরাণিক নাটকের গুণ বাড়িয়াছে 
বই কমে নাই। 


(১) অন্সথ রায় 


পৌরাণিক নাটক লিখিয়৷ ধাহার! প্রতিষ্ঠা অর্জন করিয়াছেন তীহাদের মধ্যে সর্বাগ্রে 
শ্রীযুক্ত মন্মথ রায়ের নাম করিতে হয়। শুধু পৌরাণিক নাটক নহে, সর্বপ্রকার নাটক 
আলোচনার কালে ইহাকে আধুনিক সময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ নাট্যকার বল। চলে। নাটকের 
মধ্যে ইনি $এক অনাবিষ্কত রহস্য এবং এক অনাস্বাদিত রস বিকাশ করিয়া দেখাইলেন। 
নাটকে একূপ সুতীব্র ভাবাবেগ এবং স্ুপ্রথর ক্রিয়াময়ত। সৃষ্টি করিতে খুব কম নাট্যকারই 
পারিয়্যছেন। স্ুক্্মতম অন্তদ্বন্দের প্রতিটী পরদা ইনি অতি স্থুনিপুণ হস্তে স্পর্শ করিয়াছেন, 
এই অন্তপ্ন্দের অবিরাম সংঘাতে ইহার স্থষ্ট চরিত্রগুলির মর্মস্থল ছি'ড়িয়া৷ যাইতেছে বলিয়া 
বোধ হয়। ইহার নাটকের উদ্বেলিত ভাবতরঙ্গ ঘূর্যমান আবর্তের মধ্যে লীলা করিয়া অমোঘ 
অবস্থার কঠিন শিলায় নিরুপাঁয়ভাবে আর্তনাদ করিয়! মরিয়াছে। ইহার নাটক দ্শনকালে 
চরম উত্তেজনায় মন নাচিতে থাকে, নিশ্বাস রুদ্ধ হইয়া যায়, কণ্ঠ শুফ হইয়া পড়ে। 

মন্মথবাবুর ভাষা! অলংকৃত এবং কবিত্ব-সমৃদ্ধ। রবীন্দ্রনাথের ভাষার গ্রভাব ইহার 
নাটকে পড়িয়াছে একথ! বলিলে অন্তায়- হয় না। রবীন্দ্রনাথের স্তায় ইহার ভাঁষাতেও 


মন্সথ গনী | ২৯৭ 


প্রকৃতির অবগ্ঠন অপহৃত হইয়াছে ও তাহার নয়নাভিরাম রূপ ও সৌনদর্য ব্যক্ত হইয়া 
পড়িয়াছে। মম্মথবাধুর স্থনির্বাচিত অলংকৃত বাক্য এক একট! তীব্রগতিশীল তীক্ষ তীরের 
স্তায় মর্মস্থলে আসিয়া বি'ধিতে থাকে। ৪ 

আমাদের আলোচ্য নাট্যকার আধুনিক বিভ্রোহী ভাবধারায় পুষ্ট ও: অন্প্রীণিত, 
চিরাচরিত ধারণায় যাহারা পাপাত্মা এবং দ্বণ্য তাহাদের চরিত্রের মধ্যে তিনি বিচিত্র 
ভালোমন্দের সংমিশ্রণ করিয়াছেন। গায়ের জোরে তিনি মন্দকে ভালে বলিয়৷ চালাইতে 
চান নাই। অনুকূল ঘটন৷ সৃষ্টি এবং অকাট্য যুক্তি দ্বারা তিনি আমাদের বহুকালপোধিত 
সংস্কার ও ধারণাকে বিচলিত করিয়াছেন । তিনি নাটকের অনেক স্থলেই প্রচলিত নীতি ও 
সমাজ-আদর্শকে ব্যঙ্গ করিয়া নিন্দিত এবং গহিত বিষয়কে সাহসের সহিত প্রদর্শন 
কারয়াছেন। প্রবল মানসিক ভাব ও কামনাকে পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করার কাজই 
তিনি গ্রহণ করিয়াছেন, সংস্কার ও আদর্শ লইয়! মাথা ঘামানো তিনি প্রয়োজন বোধ 
করেন নাই। 

॥ কারাগাঁর ॥ মন্মথ রায়ের পৌরাণিক নাটকগুলির মধ্যে “কারাগার; শ্রেষ্ঠ স্থান দাবী 
কাঁরতে পারে । কংসের অত্যাঁচাঁরে যাঁদবগণ এবং বস্থদেব, দেবকী ও বিদুরথের কৃষ্ণভক্ স্তীপুত্র- 
গণের কি রকম দুর্দশা ও ক্লেশভোগ হইয়াছিল তাহার বিবরণ লইয়া নাটকথানি রচিত। কংস 
দানবের রসে মাঁনবীর গর্ভে জন্মলাভ করে। সেইজন্ দানবীয় ও মানবীয় এই ছুই রকম 
ভাবই তাহার মধ্যে আছে। অত্যাচার ও উৎপীড়ন যথেচ্ছভাবে চাঁলাইলেও তাহার মানবীয় 
দুর্বলত। দুঃব্বপ্রের মত আগমন করিয়৷ তাহাকে ভীত, আতঙ্কিত করিয়া তোলে। বিদুরথ 
আদর্শ প্রতৃতক্ত সেবক, প্রতৃভক্তির কাছে সে নিজের স্নেহ এবং বাৎসল্যও জোর করিয়! দমন 
করিতে চেষ্টা করিয়াছে। নাটকের আবেগোচ্ছুসিত ঘটন! বিদ্যৎবেগে অগ্রস্র হইয়াছে। 
প্রত্যেকটা চরিত্র সুতীব্র দ্বন্ৰে পরিপূর্ণ এবং অশেষ প্রাণরসে সঞ্জীবিত। 

॥ দেবান্্ুর ॥ “দেবাস্ুর” পঞ্চাঙ্ক বৈদিক নাটক । লেখক বলিয়াছেন--“খণ্বেদে দেবান্ুর 
সংগ্রামের যে স্থু্চুর ইঙ্জিত রহিয়াছে, সেই ইঙ্গিতে এই নাটক পরিকল্পিত হইয়াছে | শচী 
এবং নুর্যা এই ছুইটা চরিত্র লইয়া! নাট্যকাহিনী ঘনীভূত হইয়াছে। হূর্যার জন্ত বৃত্রান্্রের ভাই 
বলাস্থর আত্মত্যাগ করিয়াছে । কালো! হইয়া আলোর রাজ্যের মেয়ের জন্য তাহার স্ুব্যাকুল 
আকুতির মধ্যে করুণ ট্র্যাজেডি বিদ্যমান। বুত্রাস্থরও অশেষ বলদৃপ্ত ও ক্ষমতাবান হওয়৷ 
সত্বেও শচীর জন্য তাহীর ছুর্বলতাকে সে কিছুতেই জয় করিতে পার নাই। নাটকের ভাঁষ৷ 
কবিত্বময়ঃ স সংঘাতপূর্ণ এবং আবেগগর্ত | 

॥ সাবিত্রী ॥ সাবিত্রীর মত সর্বজনজ্ঞাত এবং বহু আলোচিত পৌরাণিক চরিত্র অবলম্বন 
করিয়া নাট্যকার “সাবিত্রী' নাটক গ্রাণয়ন করিয়াছেন। কাহিনীর মধ্যে নাটকত্ব খুব কম, 
সেইজন্য নাটকত্ব ফুট1ইয়! তুলিবার জন্ত নাট্যকার অভিনবরূপে চরিত্র সমাবেশ করিয়াছেন । 
নাটকের প্রধান চধ্ষিত্র অন্বপতি। অশ্বপতির হৃদয়দঘন্ব, তাহার মানসিক সন্তাপ আমাদের মন 
অভিভূত করিয়! রাখে। 


৮ 


৯৯৮ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


॥ ঠাদসদাগর ॥ “মনসামঙ্গলে'র স্ৃগ্রচলিত কাহিনী অনুসরণ করিয়। লেখক “চাঁদ সদাগর, 
রচনা করেন। মাঁঝে মাঝে নাট্যরস জমাইবাঁর জন্ত তিনি আকস্মিকভাবে চরিত্র সমাবেশ 
করিয়াছেন বটে, কিন্তু কোনো! স্থলেই প্রচলিত কাহিনীর গুরুতর পরিবর্তন করেন নাই। 
লেখকের অন্ঠান্ত নাটকে যেমন উচ্ছ্ুসিত আবেগের প্রাবল্য বিদবা্বীপ্তিতে ঝলকাইতে 
থাকে এই নাটকে তেমন নাই। ইহাতে ক্রম-অগ্রস্থয়মান গঞ্প বিপরীত ঘটনার ঘন্দকে 
পরিস্ফুট হইতে দেয় নাই। মনসাঁকে মঙ্গলকাব্যে যে রকম নীচ, অনিষ্টাস্বেধীরূপে দেখিতে 
পাই, এখানে তেমন নহে । অকারণ নীচতা ও উদ্দেহ্ঠহীন জঘন্তত। তাহাঁর চরিত্রকে হেয় 
করিতে পাঁরে নাই । বজ্কঠোর, অমিতবীর্য, অনমনীয় চিত্র টাদ সদাগর আমাদের চিত্তকে 
আবেগোদ্ধেল এবং উদ্বেগাতুর করিয়া রাখে । 

॥ একাক্ষিক! ॥ মম্মথবাঁবুর 'একাস্কিকা” গ্রস্থথাঁনির মধ্যে কয়েকটা একান্ক নাঁটিক৷ 
সংকলিত হইয়াছে । এই স্বল্লায়তন নাঁটিকাগুলির তুলন! বাঁংল! সাহিত্যে তো নাই-ই, এমন 
কি বিশ্বসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ একাস্ক নাট্যাবলীর সহিত ইহার! সমতুল্য একথা সাহসের সহিত বলা 
চলে। বইখানির মধ্যে কয়েকটা চোঁখ-ঝলসানে! রত্ব ইতস্তত পড়িয়া আছে, ইহাঁদের 
দীপ্চিগ্রা্য আমাদের বিচার করিবার, তুলন! করিবার ক্ষমতা হরণ করিয়। ফেলে। নিরুদ্ধ 
নিশ্বাসে এক একটা নাটিকা পড়িবার পরে উত্তেজিত মনের মধ্যে অসংখ্য স্তরের ঝংকার 
ক্রমাগত উখিত হইতে থাঁকে” গীতিকবিতার ন্যায় ইহাদের অভ্যন্তরস্থ প্রভাব আমাদের 
মনের মধ্যে দীর্ঘকালস্থায়ী অন্থুরণন সৃষ্টি করিয়া চলে। নাটিকাঁগুলির প্রত্যেকটিই অত্যুত্বম 
হইলেও খুব চুলচেরা বিচার করিয়! “বিছ্যুৎপর্ণা,কে শ্রেষ্ঠ বল! চলে। বিষকন্তার তীত্র 
জালাময় হলাহল নাটিকাথানির মধ্যে যেন ঢাঁলিয়া দেওয়। হইয়াছে। দর্শন করিবার 
কালে গ্লানিকর বিষের প্রভাবে আমাদের মন-প্রাণ জর্জরিত হইয়া পড়ে। বিছ্যুৎপর্ণ 
হান্তে-লান্তে, কটাক্ষে-বিদ্রপে চতুর্দিকে তরল বিষ ছড়াইয়াছে। পুরোহিতের গোপন 
কামনা, এবং গৃঢ় ঈর্ধা শোচনীয় মৃত্যু বরণ করিয়! এই বিষময়ী ভয়ঙ্করীর পদে লুটাইয়া 
পড়িয়াছে। “বিদ্যৎপর্ণা'র ন্তায় স্থৃতীত্র কামনাময়, আস্থির উত্তেজনা পুর্ণ নাটিকা “রাজপুরী” । 


রাণী চরিত্রটা চঞ্চল ভালবাসায় পূর্ণ, কবির প্রতি তাহুর উদ্ধাম কামনা নরপ্পে আত্মপ্রকাশ 


ক্রিমূছে। কিন্ত তবুও সে অসত্যসাধিকা নহে। নিজে কল্হ-তিদক ললাটে কিমি 
মে সত্যের জয় ঘোষণ্‌ করিরা গেল। 'পঞ্চভূত' রূপক নাটিকা। “মাতৃমুণ্তি'র মধ্যে 


শিল্পীর মিনতিভরা স্থগভীর অন্তর- অন্তর-কামনীকে লেখক এইভাবে অঙ্কন করিয়া গিয়াছেন যে 
তাহার কামনার প্রকৃতি সম্বন্ধে রাণীর মত আমাদেরও তুল হয়। শিল্পীর অশীস্ত আবেগময় 
প্রেম যে মাতৃ-মুতির কল্পনা করিয়াছিল তাহ! আমরা প্রথম ধরিতে পারি না। প্রণয়ীর 
প্রেমের সহিত এই প্রেমের অভিব্যক্তি অভিন্ন। “উপচাঁর নাটিকায় সাধবী শিরেমিণি 
ভৈরবী স্বামীর কল্যাণের আশায় নারীর দ্বপ্যতম কলঙ্ক বরণ করিয়া! লইল, এই নিষ্ঠা ও 
ত্যাগ এত অদ্ভুত, এত বিচিত্র যে বিন্য়ে, বেদনায় আমাদের মন স্তর হইয়! যাঁয়। মন্মথ 
রায়ের অন্যান্য নাটকগুলির মধ্যে 'শ্রীবৎস+ £মহুয়া+,““থনা' প্রভৃতির নাম উল্লেখযোগ্য। 


যোশেশ চৌধুরী ২৯৯ 


আঁধুনিক সময়ের পৌরাণিক নাটকসমূহের মধ্যে যৌগেশচন্ চৌধুরীর “সীতা বিশেষ 
প্রসিন্ধ। শ্রীযুক্ত শিশিরকুমার ভাছুড়ীর অসাধারণ অভিনয়-নৈপুণ্যে নাটকখানি দর্শকের 
মনে অক্ষয়ভাবে মুদ্রিত হইয়া আছে। সীতা* নাটকের ঘটনা বহিমু্থী নয়, হৃদয়-দন্বমূলক 
অন্তমুী ঘটনাপ্রবাহই ইহার প্রাণরসের মূলে রহিয়াছে। রামনন্ত্র প্রজানুরঞ্জন-ইচ্ছা এবং 
শান্ত্-সংস্কারের দ্বার তাহার হৃদয়বত্তীকে রুদ্ধ করিয়া রাখিয়াছিলেন। দায়িত্ব এবং কর্তব্যের 
সহিত তাহার নিরভিযোগ, মৌন অন্তঃসত্তার সংগ্রাম গৃঢ় নাটকীয় রসে মন পূর্ন করিয়া 
তোলে। বশিষ্ঠের সহিত কথোপকথনের সময় রামচন্দ্র তাহার অবরুদ্ধ হৃদয়ধর্মের স্বত-নফর্ত 
আবেগ সহস! মুক্ত করিয়া দিয়াছেন। লোঁকাচার এবং শাস্ত্-সংস্কারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ 
নাটকের মধ্যে ধ্বনিত হইয়াছে । শখ্ুকের তেজোদ্দীপ্ত. অকাট্য যুক্তির মধ্যে একটা 
ধাবমান গতি সঞ্চারিত হইয়াছে। 


শ্রীযুক্ত মছেন্ত্রনাঁথ গুপ্তের কয়েকখানি পৌরাণিক নাটক আছে। সেইগুলি ভক্তি- 
ভাবযুক্ত ধর্মরসাত্মক। ষ্টার থিয়েটারে সেইগুলির অভিনয় হইয়াছে । 


(গল) এঁভিহাদিক নাটক 

এতিহাসিক নাটকের শ্রেষ্ঠ সমৃদ্ধি আমর! দ্বিজেন্দ্লালে দেখিয়াছি । তাহার পরে. 
বর্তমান সময়েও কিছু কিছু এতিহাসিক নাটক রচিত হইতেছে বটে, কিন্তু প্র সব নাটকের 
অধিকাংশ দ্বিজেন্্রলালের দ্বারা প্রভাঁববিশিষ্ট । ভারতীয় ইন্ডিহাসের স্বদেশীভাবরঞ্জিত কোনে! 
বৃত্তান্ত কি ঘটন! লইয়াই সাধারণত আধুনিক নাটকসমূহ রচিত হইতেছে, এবং কাহিনীর 
মধ্যে জাতীয়ভাব &*দ্রীপিত করিবার উদ্দেশ্ঠই লেখকগণ গ্রহণ করিয়াছেন। আমাদের 
স্বাধীনতার আন্দোলন দিন দিন প্রবল ও শক্তিশালী হইয়। উঠিতেছে, আমাদের জাতীয় 
চেতনা এবং গৌরব-বোধ প্রতিদিন প্রথর হইতেছে, ম্বভাংত সেই কারণে এই শ্রেণীর 
নাটকসমৃহ আমাদের মনে সহজ এবং তাৎক্ষণিক আবেদন করিতে পাঁরে। এই প্রত্যক্ষ 
আবেদনময়তার জন্ত অনেক নাটক কল। ও রীতির দিক দিয়। ক্রটিপূর্ণ হইলেও রঙ্গালয়ে 
সমাদর লাভ করিতেছে । অনেক নাটকেই অকারণ ভাঁবাবেগ এবং অকারণ উচ্দ্বাস সঞ্চার 
করিয়া লেখকগণ দর্শকদের ত্বদেশী-ভাবান্থপ্রাণিত চিত্তকে অভিভূত করিতে চেষ্টা! করিয়াছেন । 


(১) শচীক্দ্নাথ সেনগুপ্ত 


_ প্রতিহাসিক নাটক লিখিয়। আজকাল শচীন্ত্রনাথ সর্বাধিক খ্যাতি লাভ করিয়াছেন । 
শচীন্দ্রনাঁথ লক্বপ্রতিষ্ঠ নাট্যকার, বঙ্গালয়ে নাটকের অভিনেয়তা৷ এবং উপযোগিতা সম্বন্ধে তিনি 
বিশেষরূপে জ্ঞাত। আধুনিক রঙ্গালয়ের সুক্্স টেকনিকে তাহার নাটক পরিপূর্ণ। কথার 


৩*৯ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


প্রথরতা এবং আবেগ সংঘাঁত পরিস্দুট করিতেও তিনি অনেক স্থলে খুব সক্ষম হইয়াছেন। 
তাহার নাটকের অনেক জায়গাতেই ডি, এল, রায়ের প্রভাব বিগ্যম।ন, শক্তিশালী চেষ্ট1৷ সত্বেও 
তিনি ।এই প্রভাব একেবারে অতিক্রম করিতে পারেন নাই। আধুনিক নাটকের রীতি 
অন্ুসাঁরে তাহার নাটকেও চরিত্রগুলি বিরুদ্ধ ভাবময় ও জটিল। 

॥ সিরাঁজন্দৌলা ॥ শচীন্্রনাথের ই্রতিহাসিক নাটকগুলির মধ্যে *সিরাজদ্দৌলা/র 
জনপ্রিয়তা সর্বাধিক | 'সিরাজনদ্দৌল! বাংলার স্বাধীনতা-হুর্যের শেষ গৌরবোজ্জল অন্তরাগ, 
সেইজন্য তাহার কাহিনী বাঙালীর আগ্রহসিক্ত স্বত-স্ফুর্ত বেদন-বঙ্কারের সৃষ্টি করে। 
শচীন্দ্রনাথের সিরাজন্দৌল! ব্বাধীনতা-রক্ষাব্রতী, নায়নি্ঠ এবং উদ্দার। কিন্তু নাটকে তাহার 
শক্তিমান, দৃঢ়চেতা রূপ অপেক্ষা করুণ, ছু:খময়, আবেদনশীল দিকটা অধিক পরিস্ফুট 
হইয়াছে। স্প্রসিদ্ধ অভিনেত! নির্মলেন্দু লাহিড়ীর অভিনয়ের মধ্যেও এই নিক্ষল, নিরুপায় 
দিকটাই বেশি করিয়া দর্শকের চোখে পড়িত। 

॥ গৈরিক পতাকা ॥ মহারাষ্বীর শিবাঁজীর গৌরবময় উত্থানের বিষয় লইয়৷ “গৈরিক 
পতাক।, রচিত। নাটকখানি ধিজেন্দ্রলালের নাটকের ন্যায় জাতীয় ভাবোদ্বোধক। একটা 
জাতির আশা ও স্বপ্নকে কিভাবে ত্যাগ, নিষ্ঠা! ও উদার বীরত্বের মধ্য দি সফল করিয়া 
তোল! যায় তাহার অতি উজ্জল চিত্র নাটকের মধ্যে অঙ্কিত হইয়াছে । শিবাজী চরিত্রের 
দঢ়তা ও কোমলতা, তাহার নিষ্ঠা ঙ ভক্তি নাটকের মধ্যে অতি সুন্দর ভাবে দেখানো হইয়াছে । 
নাটকথামি বিশে ঘটনাবহুল এবং আবেগময়, তবে জায়গায় জায়গায় অতি নাটকীয় ভাব 
রহিয়াছে_-যেমন, রণরাও হঠাৎ আদিল সাহের ছূর্গে প্রবেশ করিয়া বীরাবাইএর কাছে গেল, 
এবং রণরাও ও বীরাবাই যুদ্ধক্ষেত্রে মুমুর্ু অবস্থায় মিলিত হইয়া আবার স্বাভাবিক ভাবে বাঁচিয়া 
উঠিল, এবং পুনরায় প্রেমের আদান প্রদান চপিতে লাগিল । ইহাতে বীরাবাইএর ভৈরব 
যুদ্ধ নিতান্ত অকারণ এবং অনর্থক হইয়! পড়িয়াছে। নাটকের গানগুলি শ্রীমুক্ত হেমেন্্র- 
কুমার রায়ের রচনা, উহাদের উপর দ্বিজেন্দ্রলালের প্রভাব রহিয়াছে । একটু আধটু অসঙ্গতি 
থাকিলেও এঁতিহাসিক নাটক হিসাবে গ্রন্থখানি খুবই সার্থক। 

॥ বাষ্ট্রবিপ্রব ॥ দ্বিজেন্দ্রলালের 'সাজাহান”কে সামান্য অদল বদল করিয়া শচীন্দ্রনাথ 
'রাষ্টরবিপ্লবঃ গ্রণয়ন করেন। নাট্যকার বলিতে চাহিয়াছেন যে, দারাঁর সর্বধর্মসমন্থয় এবং 
গুরক্গজীবের ইসলাম ধর্নোম্মাদন _এই দুই আদর্শের সংঘাত তিনি দেখাইয়াছেন। নাটকের 
মধ্যে প্রধান চরিত্র দারা । এ্ররংজীবকে প্রথর বুদ্ধিশালী, ব্যক্তিত্ববান চরিত্ররূপে এখানে দেখি 
না। দ্বিজেন্দ্রলালের নাটকে যে ঘটনার জটিলত। ও দৃশ্ঠসংস্থাঁপনের নৈপুণ্য আছে আলোচ্য 
নাটকে তাহার অভাব। রৌশনআরা চরিত্রটা অর্থহীন, কেবল ব্যঙ্গবিদ্রপ ও খরকথ]ুর 
গটুতা তাহার আছে। তাহার প্রথরতা ও দীপ্তির কাছে জাহানআরাকে অহেতুক বার 
রার দুর্বল ও মূক করা হইয়াছে । শেষ দৃশ্ঠ অর্থহীন, এবং একেবারে অনুপযোগী, ইহা কেবল 
নাট্যকারের মত বহন করিয়াছে মাত্র। 

॥ ধাত্রীপান্ন! ॥ 'ধাত্রীপান়্। ছুই অস্কে বিভক্ত । নাটকত্বের দিক দিয়া ইহা শচীন্দ্রবাবুর 


মহেন্দ্র গুপ্ত ৩০১ 


শ্রেষ্ঠ প্রতিহাঁসিক নাটক। নাটকের কাহিনী অতি দ্রুতবেগে তীব্র ঘাত-গ্রতিঘাত ও তীক্ষ 
বন্বের মধ্য দিয়া বহিয়! গিয়াছে । আকস্মিক নাটকীয় ঘটনার মুহ্মুহঃ অভিঘাতে দর্শকের 
মন আবেগ-দোলায় ছুলিতে থাকে । বিপরীত ভাবের সঘন সংঘর্ষে নাট্যরস উদ্বেলিত হইয়া 
উঠিয়।ছে। কোনে। স্থলেও আবেগোচ্ছাস ও অন্তরচাঞ্চল্য একটু শিথিল হইবার অবকাঁশ 
পায় না। বনবীর নির্মম ও নৃশংস, কিন্ত চম্পার কাছে সে দুর্বল» এবং পান্নার মহান আত্মতাগ 
তাহাঁর উর হৃদয়মরু সিক্ত করিয়াছে । পান্নার প্রতিশোধগ্রহণও অন্তি চমকপ্রদ ও মনোরম। 
পান্না এবং প্রীতলসেনী ছুই হিংশ্র ব্যাত্রীর ন্যয় নখদস্তের আঘাত হানি! পরস্পরের সহিত 
যুঝিয়াছে। বনবীরের সর্বপ্রকার পাঁষগুতা সব্বেও তাহার মাতৃভক্তি বিশেষ উল্লেখযোগ্য । 


(২) মহেজ্দজ গুপ্ত 

শ্রীযুক্ত মহেন্দ্র গুপ্ত কয়েকখানা শ্রতিহাসিক নাটক ধচনা করিয়াছেন, সেইগুলি 
টার রঙ্গমঞ্চে অভিনীত হইয়াছে। মহেন্দ্র বাবুর নাটকের মধ্যে প্রতিহাঁসিকতাই প্রধান, 
প্রতিহাসিকতাঁর তলদেশশায়ী ব্যক্তিগত ছ্ন্দময়তা এবং ষ্ম ভাঁবাবেগের ক্রিয়াচাঞ্চল্য তাহার 
নাটকে তেমন অভিব্যন্ত নহে। তাহার নাটকগুলির মধ্যে 'রাণী ভবানী" “রাণী ছূর্গীবতী»” 
মহারাজ! নন্দকুমার”, টিপু স্থলতান+, “পাঞ্জাব কেশরী রণজিৎসিংহ+ প্রভৃতির নাম 
উল্লেখযোগ্য । ূ 

॥ টিপু সুলতান ॥ “টিপু সুলতানে”র মধ্যে স্বাধীনচেতা, স্বদেশ-হিতত্রতী, উন্নত-চরিত্র 
হাঁয়দর আলির যোগ্য পুত্র টিপু স্থলতানের কাহিনী উপনিবদ্ধ হইয়াছে । নাটকের মধ্যে 
ইংরাঁজের প্রতি বিদ্বেষ এবং জাতীয় ভাবের উদ্দীপন! উজ্জবলভাবে পরিস্ফুট ৷ হিন্দু-মুসলমানের 
সূন্মিলিত প্রয়াসের মহৎ আঁদর্শের উপর বিশেষ জোর দেওয়। হইয়াছে । নাটকে এতিহাঁসিক 
ঘটন। ও চরিত্র একচেটিয়া আধিপত্য লাঁভ করিয়াছে । বিশ্রীস্ত অবসরে গুঞ্জায়মান কোন 
কোমল বৃত্তির স্কুরণ ইহাতে নাই । কোনো স্ত্ী-চরিত্রই পরিস্ফুট নহে। 

॥ পাঞ্চাব কেশরী রণজিৎসিংহ ॥ “পাঞ্জাব কেশরী রণজিৎসিংহ চার অঙ্কে সমাপ্ত 
নাটক । শিখ নায়ক রণজিৎসিংহের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা লইয়৷ নাটকখানি বিরচ্গিত। রণজিং- 
সিংহের কঠোর বিচার ও কর্তব্য প্রাণতা অতি বান্তবরূপে প্রদশিত হহয়াছে। কিন্তু নাটকের 
রসের স্ফু্ি একাস্তভাবে তাহার উপর নির্ভর করে নাই। খুব উচ্চ আদর্শ ও হ্বদেশপ্রাণতা 
নাটকের মধ্যে স্পষ্ট হইয়া! উঠে নাই। রণজিতের মাত! রাঁজকৌড় এবং পত্বী -খড়গীসিংহের 
বিমাঁতা ঝিন্বন বাইএর সীমাহীন মহত্বের দৃশ্ঠ সর্বাপেক্ষা চিত্তাকর্ষক। 


(৩) নিশিকাস্ত বন্দু রায় 
॥ বলেবর্গী ॥ নিশিকাস্ত বনু রায় ৩৪ খাঁন! প্রতিহাসিক নাটক লিখিয়াছেন, তন্মধ্যে 
“দেবলাঁদেবী” এবং “বঙ্গেবর্গী' সমধিক প্রসিদ্ধ । 'বঙেবরগীঁ বহ-অভিনীত খ্যাতিসম্পন্ন নাটক। 
ঘিজেন্্রলালের নাটকের প্রভাব ইহার স্থানে স্থানে ধরা যায়। ইহার সংলাপ দীর্ঘ এবং 


৩০২ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


উচ্দ্বাসময়, আধুনিক নাটকের সুক্ম টেকনিক ইহাতে নাই। চাঁঞ্চল্যকর হত্যা ও বাহ স্থুল 
ঘটনার প্রাবল্য ইহাতে অধিক। সেইজন্য হয়তো ইহার জনপ্রিয়তা এত বেশি 
হইয়াছে। স্থৃতীব্র অন্তত্বন্দের মধ্য দিয়া! কোনো! চরিত্রের রসময় অভিব্যক্তি নাটকে নাই। 
আর্লিদি স্নেহপরীয়ণ, মিলনপ্রয়াসী এবং ধর্মিষ্ঠ ; কিন্তু তাহার শক্তি-সক্রিয় প্রভাব অদৃষ্ট। 
সর্বাপেক্ষ! বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ভাস্কর পণ্ডিত। ভাস্কর ন্যায়নিষ্ঠ, ধর্মবান অথচ দাঁরুদৃঢ় 
এবং কুলিশকঠোর। তাহার মৃত্যুর অব্যবহিত পূর্ববর্তী নিরুপায় এবং ছুঃখতাপদগ্ধ চিত্তের 
বিবাদঘনতা৷ অত্যন্ত করুণ ও মর্মম্পর্শা ৷ 

॥ কেদার রায় ॥ রমেশ গোস্বামীর “কেদার রায়” নাটকথাঁনিও বহুল গ্রচারিত এবং 
উচ্চ-প্রশংমিত। “প্রতাপাদ্দিত্যে”র প্রভাব ইহার স্থানে স্থানে প্রকাশিত হইয়াছে । টাদরাঁয় এবং 
কার্ভালো যথাক্রমে বিক্রমাদিত্য এবং রডার সহিত সাঁদৃশ্ঠযুক্ত । ঘটনাময় এ্তিহাসিক 
পরিবেশের মধ্যে নিগৃহীতা রমণীর সামাজিক সমন্তাটা দৃষ্টি ও মন অধিকার করিয়া বসে। 
কেদার রায়ের মহিমামূলক নাটকের মধ্যে ঈশাখা-সোনু। ঘটিত পার্্বকাহিনী মূল ভাব- 
প্রবাহকে খণ্ডিত করিয়াছে । ঈশাখশার অন্তন্বন্থ ও উদারত৷ সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ নাটকীয় 
সংস্থান। নাটকের সর্বপ্রকার দুর্যোগ ও বিপর্যয়ের পিছনে রহিয়াছে শ্রীমস্ত। শ্রীমন্তের 
পাঁগলামির মধ্যে গুরুতর অনিষ্টকারিতা! বিদ্যমান, সুতরাং পাঁগোল বলিয়! সে ক্ষমাণীল 
উপেক্ষার পাত্র নহে। বীর, প্রতুষ্ভক্ত কার্তালোর ভূমিকা অত্যন্ত প্রাণবান। খ্যাতনাম! 
নট শ্রীযুক্ত ভূমেন রায়ের অভিনয়-নৈ পুণ্য এই ভূমিকাঁটাকে চিরম্মরণীয় করিয়! রাখিয়াছে। 

॥ পলাণী ॥ শ্রীযুক্ত হীরেন্দ্রনারায়ণ মুখোপাধ্যায় “পলাণী, নামক একথাঁনা ত্র্যস্ক নাটক 
লিখিয়াছেন। নাটকের মধ্যে বলিষ্ঠ নাট্যকলার পরিচয় আছে। ঘটনার বিস্তাস জমাটভাবে 
বাধিয়া দেওয়া হইয়াছে । শিথিল গ্রন্থির দুর্বলতা চোখে পড়ে না। প্রধান চরিত্র মৌহনলা'ল 
_ তাহার ব্যক্তিত্ব, স্বদেশপ্রেম এবং বীরত্বই নাটকের প্রধান বণিতব্য সম্পদ । ঘসেটি বেগম 
এবং সেলিনা বেগ স্বল্প পরিসরের মধ্যে অশেষ প্রাণময় হইয়া উঠিয়াছে। নাটকীয় আঁবেগ 
ঘন ঘন উচ্ছ্ুসিত হইয়াছে । সিরাজদ্দৌলার চরিত্র এস্থলে গৌণ। 

॥ দিগ্িজয়ী € ১৯২৮) ॥ নাট্যকার “নিবেদনে' বলিয়াছেন, “দিখিজয়ী? নাটকখানি 
্রতিহাসিক হইলেও ইহার মুল ভাবটি চিরন্তন; সেইজন্য ইহার কোন এতিহাসিক নাম 
(অর্থাৎ নাদির শাহ এই নাম) দিলাম না1। অবশ্য প্রতিহাসিক নাম থাকিলেই যে 
নাটকের মধ্যে কোনো! মূলভাব থাঁকিতে পারে না, তাহ! নহে। ইতিহাসে থাকে শুধু মাত্র 
ঘটনা । কিন্তু সেই ঘটন। যখন সাহিত্যের বিষয়বস্ত হয় তখন সাঁহিত্যিককে সেই প্রাণহীন 
ঘটনার মধ্যে কোন বিশেষ ভাঁবাদর্শ সঞ্চার করিয়৷ তাহাকে জীবন্ত করিয়া তুলিতে হয়।, 
ধতিহাঁসিক চরিত্রের মধ্যে যদি মানুষী রাজ্যের কোন চিরন্তন আশ ও বেদনার পরিচয় না 
পাঁওয়৷ যায়, তবে সাহিত্যের চরিত্র হিসাবে তাহার কোন মূল্য নাই। যাঁক, নাট্যকার 
কথিত “চিরস্তন মূল ভাবটি' লইয়। এখন আলোচনা! করা যাঁক। নাদিরের চরিত্রে 
কোন মূলভাব আবিষ্কার কর! সত্যই কঠিন। কারণ নাঁদিরের জীবনে আগাগোড়া একটা 


যোগেশ চৌধুরী ৩০৩ 


অর্থহীন, সামঞ্স্তহীন খেয়ালের রাজত্ব চলিয়াছে। যিনি আত্যন্তিক খেয়ালের বশীভূত 
হইয়। এক মুহুর্তের কাঁজ পরমুহূর্তে ওলটপাঁলট করিয়া দ্দিতেছেন তাহার মধ্য হইতে কিভাবে 
একটি সুনির্দিষ্ট মূলভাব নির্ণয় করা! যাঁয়? কিন্তু তবুও এই খেয়ালী স্বভাবের কথা বাদ দিলে 
বোধ হয় একটি মুলভাব আবিষ্কার করা চলে। তাহা নাটকের একমাত্র পছন্দে বর্নিত 
সংলাপে ব্যক্ত হইয়াছে__ 

দয়া নহে প্রকৃতি নিয়ম-_ 

শক্তিম।ত্র আশ্রয় জগতে ! 

শক্তি যাঁর যতটুকু 

অধিকার ততটুকু তার 

বীরভোগ্যা বন্থন্ধরা-_ 

মানবের দীর্ঘ অভিজ্ঞত৷ 

এই শক্তিদর্প ও তাহার শোকাবহ পরাজ্য়কেই নাটকের মুলভাব বলিয়া আমরা গ্রহণ 
করিতে পাঁরি। সেই হিসাঁবে 'দিপ্বিজয়ী' নাঁমটির মধ্যেই একটা বড় রকমের শ্লেষাআ্বক 
সঙ্কেত আছে । যিনি অমানুষী শক্তিবলে রাজ্যের পর রাজ্য জয় করিয়া দিপ্বিজয়ী আখ্যা লাভ 
করিয়াছেন, তিনি কি অসহায় ভাবে পারিবারিক অন্তবিরোধের কাছে “পরাজয় স্বীকাঁর 
করিলেন! যিনি প্রতিবিধিংস্থ ঈশ্বরের দোহাই দিয়া্টিলেন, তাহাকে সেই প্রতিবিধিৎস্থ 
ঈশ্বরের বিধ।নেই মৃত্যু বরণ করিতে হইল! প্রতিকূল ঘটনা-গত শক্তি, নিয়তি, ঈশ্বর-_ 
যে কোন্$ শক্তিই হউক, তাহার কাছে বারে বারে অতিমানবদের শক্তি এইভাবেই 
ব্যর্থ হইয়াছে। 
নাদিরের চরিত্র সম্বন্ধে নাট্যকার বলিয়াছেন যে, তিনি এক হাতে গড়িয়াছেন আবাঁর 

এক হাতে ভাঙ্গিয়াছেন। এই কথার সার্থকতা পাওয়। যায় বাহিরের জগতে । তিনি যে 
রাজ্যগুলি গড়িয়াছেন সেগুলি আবার তিনিই ভাঙ্গিয়াছেন। সাঁফাড়ী বংশের অত্যাচার 
হইতে মুক্ত করিয়া ইরানকে তিনি নূতন .করিয়৷ গড়িয়াছিলেন, আবার তিনিই ইরানের 
উপর দিয়৷ অত্যাচারের শোঁত প্রবাহিত করিয়া দিয়াছেন। ভারতবর্ধকে সহস্-রাজকতার 
হাত হইতে উদ্ধার করিতে তিনি আসিয়াছিলেন, অবশেষে তিনিই নৃশংস উত্পীড়ন ও নর- 
হত্যার দ্বারা ভারতবর্ষের আত্মাকে ক্ষতবিক্ষত করিয়। দিয়াছেন ' কিন্তু এ ভাঙ্গাগড়া তে 
বাহিরের ব্যাপার । আসল ভাঙ্গীগড়। তাহার নিজেকে লইয়া । তিনিই নিজেকে খ্যাতি ও 
প্রতিষ্ঠার উচ্চতম শিথরে আরোহণ করাইয়া সেখান হইতে নির্মমভাবে ভূপাতিত করিয়া 
ফেলিয়াছেন , তীহার বথার্থ ট্রাজেডি এই খানে। তিনি অনেকের সঙ্গে অনেক শক্রুতা " 
করিয়াছেন। কিন্ত তাহার সর্বাপেক্ষ। কঠিন শক্রতা নিজের সঙ্গে। এই শক্রতার ফলেই 
তাহার পতন হুইয়াছে - হিন্দু জ্যোতিষীর ভবিষ্দ্বাণী সতো পরিণত হইয়াছে । কিন্ত 
নাঁদিরের অনেক কাঁজই নিছক খেয়ালের দ্বারা প্রণোদিত হইয়াছে, কোন অন্তর্নিহিত 
ভাঁববৃত্তির সুস্পষ্ট -প্রেরণায় হয় নাই, সেজন্ঠ ট্রাজেডির নিরুপায় অনিবার্ধতা অনেকন্থলেই 


৩০৪ বাংল নাটকের ইতিহাস 
কু হইয়াছে! সিরাজীর প্রতি অকারণ অপমান তাহার নিষ্ঠুর খেয়ালের অন্যতম অন্ঠায় 
কর্ম। সিতারার প্রতি সন্দেহ ও তাহার বহিষ্কার এবং আপন সন্তানের চক্ষু উৎপাটন 
প্রভৃতি ব্যাপারগুলিও মানসিক ঘাত-প্রতিধাতজনিত কোন স্থচির-পোধিত ছ্্মনীয় 
হৃদয়ভাবের পরিণতি নহে। সেগুলি যেন কোন আকম্মিক নিষ্ঠুর খেয়ালী প্রবৃত্তিরই 
পরিণতি । হিন্দুরমণী অভিশাপ দিয়াছিল - শ্রী, পুত্র, কন্তা - পারিবারিক জীবন বিষাক্ত 
হবে, কিন্তু আসলে পিরাজী ছাড়া তাহার পরিবারের আর কেহ বিষীক্ত হয় নাই। 
নাদিরের অমূলক সন্দেহ ও ঈর্যাই সকলকে বিষাক্ত বলিয়া মনে করিয়াছিল। নাদিরের 
পারিবারিক জীবনের অশান্তি ও পরাজয়ের মুলে একটি চরিত্র রহিয়াছে, সে হইল 
সিরাজী । দিল্লীর সৈন্য বিদ্রোহ ও ইরানের অভিজাত-বিদ্রোহের মূলে সিরাজীর চ্চায় 
একটি নারী চরিত্রের এতখানি প্রভাব ছিল কিন! ইতিহীস তাহার বিচার কুরিবে। কিন্ত 
নাটকের মধ্যে সিরাজীও তাহার ভ্রাতা আলি আকবরকেই নাদিরের ভিতর ও বাহিরে মূল 
বিরোধী শক্তিন্ূপে দেখান হইয়াছে । অথচ সিরাজীকে একেবারে ঘ্বণা ও অশ্রদ্ধা করিয়। 
দুরে ঠেলিয়! দেওয়াও চলে না। কারণ তাহার প্রতিহিংসার পশ্চাতে একটি অপমানিতা, 
প্রেমবঞ্চিতা নারীর তীব্র বেদন। সঞ্চিত হইয়! রহিয়াছে । কিন্ত যখন সে নিজের কাজের 
শয়াবহ অমঙ্গলজনক রূপ দেখিতে পাইল, তখন ভয়ে আশঙ্কায় বিহবল হইয়া সেই তাহার 
প্রিয় স্বামীর কাছে যাইয়া মুক্তকর্ঠে তাহার দোষ স্বীকার করিল। 

নাট্যকার লিখিয়াছেন, «নাটক এবং উহার অভিনয় সম্পূর্ণরূপে নবযুগোপযোগী 
করিবার নিমিত্ত আমি আধুনিক নাট্য-রচনা রীতি (11056151917 [2০1)01005 ) অবলম্বন 
করিয়াছি ।' ইবসেনের বাস্তবতা ও সমাজদ্ন্দের সহিত এই নাটকের কোন মিল নাই, 
তবে ইবসেন দৃশ্ঠমংস্থাপনীর মধ্যে আধুনিক যুগোপযোগী যে সব রীতি প্রবর্তন করিয়াছেন 
সেগুলির কিছু কিছু প্রভাব আলোচ্য নাটকে দেখা যায়। ইবসেনীয় নাটকের ন্যায় এই 
নাটকেও দৃশ্ঠ-বিভাগ নাই, শুধুমাত্র অঙ্ক বিভাগ রহিয়াছে । ইহাতে যেমন সময় 
সংক্ষেপের ব্যবস্থা হইয়াছে তেমনি অকারণ . দৃশ্ঠবাহুল্য হইতে নাটকখানি মুক্তি লাভ 
করিয়াছে । একই অঙ্কের মধ্যে বিভিন্ন চরিত্র পর পর সন্িবেশিত করিয়া! নাটকের মধ্যে একটি 
অবিচ্ছিন্ন গতিবেগ আনিবার চেষ্টা হইয়াছে । 


(ঘ) সামা!জক নাটক 


*.. বর্তমান সময়ে সামাজিক নাটকের বহুল ব্যাপ্তি এবং সর্বাঙ্গীণ সমৃদ্ধি দেখ! যাইতেছে, 
এবং ইহা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। কারণ, জীবনধারণ-প্রণালীর জটিলতার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ 
ক্রমে ক্রমে সমাজ-সচেতন হইয়া উঠিতেছে। আগেকার জীবন ছিল নিতান্ত সহজ ও সরল, 
জীবিকা অর্জন তখন কষ্টসাধ্য ছিল না, এবং তখন লোকে ন্নির্দেিশিত নীতি ও 
ধর্সশান্ত্র অনুযায়ী নিজেদের জীবন চালিত করিত, সেইজন্য নান! প্রশ্ন সমস্যা ও জটিলতার 
উদ্ভব তখন হইত না। কিন্তু এখন আধির সংকট ও কৃচ্ছুতার জন্ত যেমন "মানুষের মন 


সামাজিক নাটক ৩০৫ 
অসস্ধ্ট ও সন্দেহশীল হইয়৷ উঠিতেছে, তেমনি নানা অভিনব মতবাদ ইহাকে প্রচলিত 
সমাজব্যবস্থা, রীতিনীতির প্রতি বিদ্রোহী করিয়৷ তুলিতেছে। মান্থষের জীবনের শাস্তিপূর্ণ 
সুখ এবং নিশ্চিন্ত আরাম বুঝি ' অতিক্রান্ত হইয়া গিয়াছে, প্রশ্ন-জিজ্ঞাসা-বিক্ষোতের 
ঘৃণিবাত্যায় ইহা ষেন অনির্দিষ্টভাবে কেবল ঘুণিত হইয়াই চলিয়াছে। বার্ণার্ড শ, গলসওয়ার্দি 
প্রভৃতি বিশ্ববিখ্যাত নাট্যকারের নাটকে এই সমস্তাঁসংক্ষুব্ষ সমাজজীবনের পরিচয়ই আমরা 
পাই। পরিবাঁর-সমস্তা, বিবাহ-সমস্তা, ধনী-দরিদ্র সমস্যা প্রভৃতি ইহাদের নাটকে নানা- 
ভাবে আলোচিত ও বিষ্লেষিত হইয়াছে । নাটকের ধর্ম বিষয়সর্বস্বতা, নাট্যকার সাধারণত 
তাহার সৃষ্টির মধ্যে অনৃ্ঠ। কিন্তু বর্তমান নাট্যকার এত “সমাজসচেতন হইয়া উঠিতেছেন 
যেতিনি নিজেকে নাটকের মধ্যে প্রকাশ করিয়া! ফেলিতেছেন, নাট্যকারের বিশেষ কোনে! 
উদ্দেশ্ত বা মত এখন নিতান্তই স্পষ্ট হইয়া! উঠিতেছে।১ আধুনিক নাঁটক-রচয়িতাদের 
মুখপাত্র বার্ণার্ড শ বলিয়াছেন-_-৭ ৭০ 2০£ ৮/09 ৪ 91081৩ 1108 530061% 101 (5801)1779 
50719001078, নানী প্রশ্নতর্কের অবতারণ। করিয়া বিচার ও বিশ্লেষণের দ্বারা কোন মত 
প্রতিপাদন করাই আধুনিক নাট্যকারের উদ্দেশ্ঠ। অবশ্য সাময়িক এবং স্থানিক সমস্থ 
অতিক্রম করিয়া শাশ্বত, বিশ্বজনীন সত্যের উপর প্রতিষ্ঠা না হইলে সাহিত্য চিরস্থায়ী 
হইতে পারে না। আধুনিক অনেক সাহিত্যিক স্বল্পতোয়৷ নদীবক্ষে বিক্ষোভময় আবর্ত 
স্থট্টি করিতেছেন বটে, কিন্তু অনন্ত-শ্রোত. পারাবারে তাহারা পৌছিতে পারিবেন 
কিনা সন্দেহ। ৃ 

' বর্তমান সাহিত্যে খুব.তুচ্ছ ব্যাপার লইয়া অতি নুস্ম মনন্তত্বের অবতারণা হইয়া 
থাঁকে ইহা! আমরা দেখিতেছি। অনেক সময়েই এত পুঙ্থানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা হয় যে 
পাঠকের পক্ষে যোগন্থত্র অনুসরণ করিয়া তাহার মধ্যে অনুপ্রবেশ করাই ছুরূহ হইয়া! পড়ে। 
উপন্তাসে আলোচন! এবং বিশ্লেষণের স্যৌগ বেশি, নাটকে অভিনয়ের উপযোগিতার উপর 
লক্ষ্য থাকে বলিয়াই অত বিস্তৃত আলোচন! ও বিশ্লেষণ সম্ভবপর হয়, না। কিন্তু তবুও 
ইহাতে অনেক স্থলেই মনস্তাত্বিক সুক্ম ঘাত-প্রতিঘাত ও আপাঁতিছুর্বোধ্য বিরুদ্ধ ভাবের 
সমাবেশ লক্ষ্য করা যায়। ইহার কারণ সন্ধান করিলে বুঝা যাইবে, বর্তমান জগতের 
যুগান্তকারী মনন্তত্ববিদ ফ্রয়েড ও তাহার অন্ুগামিগণের প্রভাবের ফলেই এইক্নপ হইতেছে। 
ফ্রয়েড মানুষের মনো রাজ্যের ছুজ্ঞেয় রহস্তরাজি আবিষ্কার কার্রবার পর বর্তমান চিন্তাজগতে 
ঠাহার গভীর প্রভাব পতিত হইয়াছে। আধুনিক সাহিত্যিকের সাহিত্যেও সেইজন্য সঙ্ঞান 
ও নিজ্ঞন মানসিক স্তরের বৈষম্য, সংস্কার-বিরোধী বাসনা-কামনার অস্তিত্ব প্রভৃতি 
দেখানো! হইয়াছে। 


ক £00060)67 0610091005 01 006 ৪61100.8 10006]7) 07:91086156 15 60 0৮67-100791089126 
8৮০ 100610)60958056 5106 01 1019 ৪1৮ 16 058 70015 ০৮ 61086 & 19785 00899 01 009 
1998৮ 2000670) 07:80)9 1৪ 01১09156]5 0109060, 

77211670563 তো 2£০072715 70101597% 101070 0 & [৫৯ 800:291১১ 6, 5 


৩৪ 


৬০৬ বাংল! নাটকের ইতহাঙ 


বাংলার উপন্তাস-সাহিত্য বর্তমানে বিশেষ সমৃদ্ধ ও পরিপুষ্ট, আধুনিক বিশ্বসাহিত্যের 
সহিত ইহার যোগ গ্ভীর এবং নিবিড় । শরৎচন্দ্র এবং তাহার পরবর্তী সাহিত্যিকদের 
সাহিত্যে আধুনিক সমাঁজের বিভিন্ন সমস্যার উপর অত্রাস্ত আলোকপাত করা হইয়াছে। 
সত্যনিষ্ঠ বাস্তবতা এবং বলিষ্ঠ মতবাদের ফলে তাহাদের সাহিত্য বাঙালী মন ও মতকে 
বিশেষভাবে গ্রভাবিত করিয়াছে। কিন্তু আধুনিক বাংল! নাটকে এইক্ধপ সমাজচেতন! 
এবং বাস্তব সমস্তাঁলোচনা দেখা যাঁয় না। বর্তমান কালের অধিকীংশ নাটকে দর্শকের 
রুচি ও চাহিদার অনুকুল পরিস্থিতি স্থষ্টি করিয়া হয়তো কোথাও ৰা কোনে। সমস্তা সম্বন্ধে 
সামান্ত ইঙ্গিত মাত্র করিয়৷ পরিশেষে একটা নিতান্ত সন্তা ও সুলভ মিলনাস্তক পরিণতির 
মধ্যে নাটকের শেষ করা হইয়৷ থাকে । প্রশ্ন সমস্তা লইয়! ঘাটাঘাটি হইলেও শেষে 
মিলন একটা! করিতেই হইবে, তাহ না হইলে বাঁডাঁলী দর্শক যে অন্তষ্ট হয় না। আমাদের 
দর্শকবৃন্দ নাটক দেখিতে চাঁন না; নাচ-গাঁন, স্থুল রোমাঞ্চকর দৃশ্ঠ এবং তরল ভাবোচ্ছ্াীনই 
তাহারা চাঁন, সেইজন্য গুরুতর সমস্যার আঘাতে গীড়াগ্রন্ত মন লইয়! রঙ্গালয় হইতে নিষ্কান্ত 
হইতে ইচ্ছা! করেন না। ইহাদের প্রতি লক্ষ্য রাখিয়াই নাট্যকারবৃন্দ খাটি সমন্তামূলক নাটক 
লেখেন না। যে দুই একখান! সমস্তামূলক নাটক লিখিত হইতেছে, সেইগুলিও নাটকীয় 
রসোতীরণ হয় না বলিয়। তেমন মূল্য ও মর্যাদা লাভ করিতে পারিতেছে না । 


(১) বিধায়ক ভট্টাচার্য 

বয়সে নবীন হইলেও বিধায়কবাবুই আধুনিক সামাজিক নাট্য প্রণেতাদের মধ্যে অগ্রণী, 
সেইজন্য প্রথমে তাহার নাটকের আলোচনা করা হইতেছে । বিধায়কবাঁবুর নাটকে গভ/র 
সমাজচেতনার সহিত স্থনিপুণ নাট্যকলার নিখু'ত সংমিশ্রণ হইয়াছে। আধুনিক বাঙালী 
পরিবার যে সমস্ত সমস্যা! দ্বারা বিচলিত হইয়াছে, তাহাঁর বাস্তব চিত্র তিনি আমাদের 
দেখাইয়াছেন। সমস্যাকে তিনি কেবল স্পর্শ করিয়া যান নাই, সমন্যার অন্তস্তলে তিনি 
প্রবেশ করিয়াছেন, তাহার অনুভূতিরসে সমস্ত সমস্ত অভিষিক্ত হইয়া! উঠিয়াছে। কিন্ত 
প্রকৃত সমাজ-সমন্তার অবতারণ| থাঁকিলেই কোনে! নাটক শ্রেষ্ঠ স্তরে উন্নীত হয় না, যদি 
না ইহা শ্রেষ্ঠ কলার মধ্য দিয়া প্রকাঁশিত হয়। বিধায়কবাঁবুর ন।টকে সেই শ্রেষ্ঠ নাট্য- 
কলা বিদ্যমান। এমন স্থুকৌশলে তিনি ঘটনা সংস্থাপন এবং পাত্রপাত্রীর সমাবেশ 
করিয়াছেন যে তাহার নাটকের ক্রিয়া ভ্রত তালে জমাট পরিস্থিতির মধ্য দিয়া ঘটিয়। 
যায়। এক কেন্দ্রাভিকর্ষণী শক্তি দ্বরা তিনি দৃঢ়ভাবে সমস্ত চরিত্রগুলি ঝাধিয়। গন, 
সেই শক্তির প্রভাবে এতটুকু শিথিলতা, এতটুকু বিক্ষিপ্ততা তাহার নাটকে নাই। 
অবিরাম ক্রিয়ার মধ্য দিয়! নাটকের সমস্যা অব্যর্থভাঁবে দর্শকের হৃদয়ে আঘাত হানিয়৷ রসে 
দ্রবীভূত করিয়া ফেলে। 

॥ মাটির ঘর ॥ বিধায়কবাবুর শ্রেষ্ঠ নাটক “মাটির ঘর'। ইহা আধুনিক সমস্ত নাঁটকের 


বিধায়ক ভট্টাচার্য্য ৩০৭ 


মধ্যেও শ্রেষ্ঠ একথ! বলিলে অতিরঞ্জন হয় না । বাংল! নাটকের গতান্ুগতিকতা ইহাতে নাই, 
বাঙালী দর্শকের কচির অধীনও ইহাকে করা হয় নাই। ইহার মধ্যস্থ সমস্যা বাংলা 
নাটকের ন্যায় দপ করিয়া জলিয়৷ উঠিয়৷ ফস করিয়! নিভিয়! যায় নাই। শমীবৃক্ষের 
অন্তরস্থ আগুনের ন্যায় ইহা অনির্বাণভাবে জলিয় সব নিঃশেষ করিয়| দিয়াছছে'। নাটকের 
কাহিনী এক মধাবিভ্ত বাঙালী পরিবারকে লইয়া গড়িয়। উঠিয়াছে। এই কাহিনীর মধ্যে 
কোনে উত্তট অধিনবত্ব নাই, কোনে। অসীধারণ বৈশিষ্ট্যও নাই; কিন্তু এইরূপ সচরাচরবৃষ্ট 
পরিবার ও চরিত্রের মধ্যে বর্তমানে যে সব সমস্যা দেখা দিতেছে নাট্যকার স্থগভীর দরদ 
ও সীমাহীন সহানুভূতির দ্বারা তাহা উপস্থাপন করিয়াছেন। নাট্যকার ভ্রান্ত, স্খলিত 
জীবনের কঠোর সমালোচিক নহেন, আঘাতে শান্তিতে তাহার উল্লাস নাই, সেইজন্য তিনি 
তাহার সর্বব্যাপী সহান্থৃভৃতি দ্বারা সব অন্তায়-অপরাধ ক্ষমাশীল দৃষ্টিতে দেখিয়াছেন। 
অলকের গুরুতর অপরাধ সেই কারণেই মাঞ্জিত হইয়াছে । নাটকখানির দৃশ্ঠ সংস্থাপনে 
অদ্ভুত দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। ছয়টি মাত্র দৃশ্তে নাটকের শেষ, অথচ এই অল্প 
কয়টা দৃশ্যের মধ্যে একটা অতি জটিল, বিভিন্নমুখী কাহিনীকে রূপ দেওয়া হইয়াছে। 
নাটকের ক্রিয়ার একটুও ফাঁক নাই, একটুও বিরাম নাই। তন্দ্রা, নন্দ! ও ছন্দ! ইহাদের 
তিনটা স্বতন্ত্র বৃত্বীস্ত এমন স্থুনিপুণভাঁবে পরস্পরের সহিত সংলগ্ন করিয়। দেওয়। হইয়াছে যে, 
মনে হয় তাহীরা একই অবিচ্ছিন্ন কাহিনী প্রকাশ করিতেছে । তিন ভগ্নীর মধ্যে শুধু 
যে নামের সাদৃশ্য আছে তাহা নহে, তাহাদের ছুঃখময়, করুণ জীবনেরও সঙ্গতি আছে'। 
তন্ত্রার ট্র্যাজেডি সর্বাপেক্ষা করুণ, তাহার সমস্যা মৌলিক এবং চিরন্তন-টমাঁস হাডির 
শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগুলিতে, রবীন্দ্রনাথের “ঘরে বাইরে”তে, শরৎচন্দ্র গগৃহদাহে যে সমস্যার 
আলোচনা হইয়াছে, ইহা সেই সমস্যা । উদার, ক্ষমাশীল স্বামী এবং আবেগময়, প্রেম- 
পাঁগল প্রণয়ীর মধ্যে তাহার দ্বিধাবিভক্ত চিত্ত নিরুপায়, নিঃসহায়ভাবে ছুলিয়াছে। নন্দার 
ট্র্যাজেডি নির্যাতিত, ভাগ্যলাঞ্িত, হতভাঁগিনী বাঙ্গালী ললনার ট্র্যাজেডি, জীবনপাতের 
মধ্য দিয়া সে আমাদের সমাজব্যবস্থার প্রতি ঘে বাক্যহীন অভিযোগ জানাইয়া গেল 
তাহা আমাদিগকে চাবুক মারিতে থাকে । কনিষ্ঠ ভগ্ী ছন্দাঁর প্রত্যাখ্যাত হওয়ার মধ্যে 
কারুণ্যের পাত্র কানায় কানায় ভরিয়াছে। তিন ভম্নীই ব্যক্তিত্বশালিনী, স্বাতন্তর্যময়ী, অথচ 
তিনজনেই প্রতিকূল অবস্থার চক্রান্তে নিরুপায় দুঃখ লাভ করিয়াছে, ইহা দেখিয়াই আমাদের 
চিত্ত সমবেদনায় আগত হইয়৷ উঠে । তিন কন্যার পিতা সত্যপ্রসন্নের ট্র্যাজেডি শুধু 
শোচনীয় নয়, ইহা অসহনীয়। এক একটী কন্তার জীবনের ব্যর্থতার সহিত তাহার 
এক একথানা বক্ষের হাড় খসিয়া যাইতেছে, অথচ তাহার শুন্ত বক্ষপঞ্জরের মধ্যে 
তাহার প্রাণটা তবুও ধক ধক করিতেছে; ইহার যেন মুক্তি নাই, নিষ্কৃতি নাই, এখানে 
বাচিয়া থাকিয়া ষেন তাহাকে লক্ষ কোটী পাপের প্রায়শ্চিত্ত করিতে হইবে। বাংল 
নাটকে সাধারণত পরিণতি মিলনাস্তক করিয়৷ যেমন সমস্যার গুরু মেঘ ফস করিয়া 
উড়াইয়া৷ দেওয়া হয়,, এই নাটকে তেমন হয় নাই। এখানে জমাট কান্না বুকে চাপিয়া 


৩০৮ বাংল। নাটকের ইতহাস 


রঙ্গালয় হইতে বিদায় লইতে হয়। যথার্থ ট্র্যাজেডির গৌরব ইহাতে আছে। নাট্যকারকে 
অভিনন্দন না জানাইয়৷ পারা যায় না। 

॥ মেঘমুক্তি ॥ “মেঘ-মুক্তি* নাটকে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সন্দেহের সঞ্চার এবং অবশেষে 
সেই সন্দেহের নিরসন দেখানে। হইযাছে। প্রচ্যোত এক মৃত অধ্যাপকের কন্যার তত্বাবধানের 
ভর গ্রহণ করে, এবং প্রচ্যোতের বন্ধু স্বপন তাহাদের পরিবারে প্রবেশ করিয়। প্রগ্যোতের 
স্ত্রী অণিমাকে তাহার কামকুটিল পঙ্কে নিমজ্জিত করিতে চেষ্টা করে। গীতা প্রদ্োতের 
বাড়িতে আসিবার পর মেঘমুক্তি হয় এবং প্রচ্যোত ও অণিমার মধ্যে পুনমিলন হয় । 
পারিবারিক জীবনের সমস্যাসম্কুল বিষয় লইয়! নাটখানি রচিত। মনন্তত্বের হুক ঘাত- 
গ্রতিঘাত ইহাতে ভালোভাবে বিশ্লেষিত্ত হইয়াছে । তবে সমস্যার সমাধান যেন লঘু ও 
অতফ্কিতভাবে কর! হইয়াছে । দাছু অতুল ঘোষের ভূমিকা অপ্রয়োজনীয়, নাটকখানির 
বীধুনি বিশেষ উৎরুষ্ট। 

॥ তাই তো! ॥ “তাই তো” হাস্তরসবহুল কমেডি । নাট্যকার তাহার বক্তব্যে বলিয়াছেন-_ 
যদি এই সন্কট-সম্কুল জীবনের কয়েকটি মুহূর্তেও কিছুমাত্র আনন্দের আদান-প্রদান করিতে 
পারেন, তা হ*লে কৃতার্থ হব । জীবনময়ের দুই কন্তা মল্লিকা এবং বল্লিক। - সাহসিকাঃ 
আধুনিক! তরুণী। সমর হঠাৎ বড় লোক হইয়া বিধবা বিবাহ করিব'র চেষ্টা করে, 
কিন্ত সে বিষয়ে হতাশ হয়। মল্লিকা উপযাঁজিক! হইয়া সমরকে বিবাহ করিতে চায়, 
এবং উভয়ের বিবাহ হয়| বিধায়কবাবুর নাট্যকলার চমৎ্কারিত্ব প্রকাশ পাইয়াছে 
সংলাপের মধ্যে; সেই সংলাপ রসক্গিপ্ণ, কৌতুকোজ্জল, প্রাণময়। 

॥ বিশ বছর আগে (১৩৪৬) ॥ বিশ বছর আগে যে শোচনীয় ঘটনা ঘটিয়াছে তাহাই 
বিশ বছর পরে নায়কের পুনরায় ঘটনা-স্থলে আগমন উপলক্ষ্যে বধিত হইয়াছে; এই 
নাটকের সমস্াঁও মূলত সেই চিরন্তন ত্রিকো।ণাকার সমস্যা, অর্থাৎ এক নায়িকাকে লইয়া 
ছুই নায়কের ঘন্ব। দুই নায়ক আবার এখানে ছুই বন্ধু, সেজন্য সংঘাত বীধিয়াছে প্রণয় ও 
বন্ধুত্বের মধ্যে । কিন্তু এই সংঘাঁতটি নাটকের গোড়াতে ধেমন পরিস্ফুট হইয়াছে এবং বিশ 
বছর পরবর্তী নায়কের অন্ৃতপ্ত চিত্তে যেমন উজ্জ্বল করিয়। তোল হইয়াছে, নাটকের ঘটনা 
পরিণতির মধ্যে অনিবার্য শক্তিরপে তেমন দেখান হয় নাই। প্রদীপের চরিত্রে যেমন বন্ধুর 
প্রতি একট। অকারণ নিষ্টুরতা* দেখ! গিয়াছে, দীপকের চরিত্রেও তেমনি একটা উদাসীন 
অবজ্ঞা এবং অন্তিম প্রতিহিংস! স্থান লাভ করিয়াছে । অর্থাৎ ঈর্ষা! ও প্রতিদ্বন্দিতার মাঝে 
উভয়ের প্রীতির সম্পর্কটি একেবারেই অদৃশ্য হইয়া গিয়াছে । নাটকের বিচিত্র উত্তেজনাজনক 
সংলাপ ও পরিস্থিতি এবং ক্ষিপ্র গতিবেগ ইহাঁর নাট্যরস জমাইয়! তুলিয়াছে সন্দেহ নাই, কিন্ত 
ঘটনার সম্ভাব্যতা ও চরিত্র বিকাশের স্বাভাবিকত। অনেকস্থলেই উপেক্ষিত হইয়াছে । সেজন্য 
নাটকীয় উত্তেজন। অনেকস্থলেই চরিত্রের আভ্যন্তরীণ ভাবের সহিত যুক্ত না হইয় “স্টাণ্ট”-সর্বস্ 
রোমাঞ্চকরতায় পরিণত হইয়াছে । শেষ দৃশ্যের গোলাগুলির ব্যাপারে ইহা! বিশেষভাবে 
চোখে পড়ে। যে তথ্বীহরণ লইয়া! নাটকের এমন অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক পরিণতি ঘটিল 


শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত ৩০৯ 


তাহার পিছনে যেন কৌন অনিবার্য কারণ নাই। প্রদীপের স্ত্রী থাক! সত্বেও যদি সে 
তমসাঁকে প্রতারণ! করিয়া! থাকে, তবে দ্ীপকও তো সেই প্রতারণার অপরাধে অপরাধী । 
তাহা হইলে প্রদীপ এক্্প ত্বৃণ্য-চরিত্র আর দীপক “4 €515 ০£ (৫০ ০1065এর সিডনি 
কার্টনের স্তায় প্রেমের আত্মোৎসর্গে মহৎ হইয়া! উঠিল কিভাবে? প্রারীপের একাস্ত 
শুভাকাজ্ষীদের দ্বারা তাঁহারই বিরুদ্ধে রিভলভার দিয় সাহাধ্য করা, তথ্বীর আকম্মিক 
আত্মহত্যা, প্রদীপের আকস্মিক হত্যা প্রভৃতি উত্তেঞজনাজনক অসঙ্গতি নাটকের শিল্পায়নে 
ক্রুটি ঘটা ইয়াছে। 


| (২) শচীক্দ্রনাথ সেনগগু 

শচীন্দ্রনাথ এ্রতিহাসিক নাটকের ক্ষেত্রে অধিকতর প্রসিদ্ধ হইলেও তিনি কয়েকখাঁন৷ 
উৎকৃষ্ট সামাজিক নাঁটকও লিখিয়াছেন। সামাজিক নাঁটকগুলির মধ্যে “স্বামী স্ত্রী” 
“তটিনীর বিচার, “সংগ্রাম ও শান্তি, প্রলয়”, “নাসিং হোম”, 'জননী” “মাটির মায়া” 
“ঝড়ের রাতে” প্রভৃতির নাম উল্লেখযোগ্য । শচীন্দ্রনাথের নাটকে খুব জটিল, চিত্তচাঞ্চল্যকারী 
সমস্যার প্রাধান্ত নাই। কোনে! কোনো নাটকে সামাজিক সমস্যার অবতারণ। থাকিলেও 
তাহাতে সমস্তার উগ্রতা শান্ত ও গৌণ হইয়া আসিয়াছে । তাহার সংলাপ প্রথর এবং 
প্রাণবস্ত, এবং তীহার নাটক আধুনিক রঙ্গমঞ্চের উপযোগী করিয়! লেখা হইয়াছে। 

॥ স্বামী স্ত্রী॥ “্বামী-্ত্রী” রু্মমঞ্চে বিশেষ জনপ্রিয় হইয়াছিল । কোনো দৃশ্টের অবতারণা 
না করিয়া কেবলমাত্র অঙ্কের মধ্য দিয়া একখাঁন! বড়ে। নাটকের ৪০০০) স্থষ্টি কর! কৃতিত্বের 
বিষয় সন্দেহ নাই। ললিত ও লিলির মধ্যে যে বিরোধ তাহা কোনে! গুঢ় সমন্তাজাত 
নহে, বাপ মায়ের উপর আকর্ষণের জন্য স্ত্রী স্বামীর সহিত মিলিতে পারিতেছে না, ইহা! 
খুব জোরালে! সমস্তা নহে। নাট্যকার লিখিয়াছেন যে, পরিচালক ছুর্গাদাসের দাবি 
অনুসারে তিনি শেষ অঙ্কটা রচন৷ করিয়াছেন। অবশ্বা অভিনয়ের সময় স্ব-অভিনয় এবং 
দৃশ্ঠপটের সমবায়ে দৃশ্ঠটি জমে ভালো, কিন্তু নাটকের দিক দিয়! ইহ৷ মূল্যহীন । 

॥ তটিনীর বিচার ॥ “তটিনীর বিচার'ও রঙ্গালয়ে দর্শকদের মধ্যে অশেষ চাঞ্চল্য আনয়ন 
করিয়াছিল। নাটকের ডাঃ ভোসের ভূমিকাটা অভিনব। এই ভূমিকায় বঙ্গ রঙ্গমঞ্চের 
অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা শ্রীযুক্ত অহীন্র চৌধুরীর অভিনয় অবিন্মরণীয় হইয়া রহিয়াছে । 

॥ মাটির মায়া ॥ “মাটির মায়াঁ'তে লেখকের বক্তব্য উল্লেখযোগ্য, মাটিও চাই, মেশিনও 
চাই। জাতিযষদি মাটির মায়! একেবারে কাটিয়ে মেশিন নিয়ে মত্ত হয়, ত! হ'লেও যেমন এ 
জাত্তির কল্যাণ হবে না--তেমন মেশিনের জন্যে থানিকট৷ মাটি যদি আজ ছেড়ে দিতে না 
পারে তা হলেও কল্যাণের পথের সন্ধান পাওয়া যাবে না| নাটকের মধ্যে জীবস্ত পল্লী- 
প্রকৃতির সরস প্রাণবানত৷ উচ্ছল নৃত্যে চঞ্চল হইয়! উঠিয়াঁছে, ইহার রোমার্টিক স্থুর উল্লেখ- 
যোগ্য । কিন্তু যে মাধব মোড়ল যন্ত্রের উপাঁসক অরবিন্দের সহকারী হইয়াছিল, শেষ 
মুহূর্তে মাটির জন্য.তাহারই এরপ মমত্পূর্ ব্যাকুলত! সামশ্স্যহীন। 


৩১০ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


€৩) তারাশন্কর বন্দ্যোপাধ্যায় 

তারাশঙ্কর আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ওপন্থাসিক। তাহার 
“কালিন্দী”, “পঞ্চগ্রাম'ঃ “কবি” প্রভৃতি উপগ্ভাসের তুলনা নাই। সম্প্রতি তিনি নাটক 
লিখিতে আরম্ভ করিয়াছেন, কিন্তু উপস্ষাসের প্রতিভ1 নাটকে কৃতিত্ব লাভ করিতে পারে 
নাই। নাটকের জগৎ স্বতন্ত্র ; ইহার ধরণ, রীতি, ভাষা ভিন্ন; শ্রেষ্ঠ ওপগ্কাসিক চেষ্টা 
করিলেই শ্রেষ্ঠ নাট্যকার হইতে পারেন না, তারাশঙ্করও পারেন নাই। উপন্তাসে তিনি 
জীবন্ত গ্রাম্য প্রকৃতির পটভূমিকাঁয় যে সরস, বাস্তব, প্রাণবান জগৎ স্থষ্টি করিয়৷ তুলিয়াছেন, 
নাটকে তাহার স্থযোগ নাই। তারাশংকরের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায়, সংলাপে নয়, অথচ এই, 
সংলাপই নাটকের প্রাণ। নাটকীয় গতি সঞ্চার করিতে তিনি অনেক সময়েই অকারণ 
ভ্রততা এবং অনাবশ্যক উত্তেজনাময় দৃশ্যের আমদানী করিয়াছেন। নাটকের উৎকর্ষ যে 
আরও সুক্ম, আরও কৌশলপূণ্ণ টেকনিকের উপর নির্ভর করে তিনি তাহা বুঝিতে 
পারেন নাই। ৰ 

॥ ছুই পুরুষ ॥ তাঁরাশংকরের “ছুই পুরুঘ” নাটকথানি উচ্চ প্রশংসায় ভূষিত হইয়াছে, 
কিন্ত ইহা'র মধ্যে শ্রেষ্ঠ নাটকীয় উৎকর্ষ নাই ইহা সত্যের খাতিরে বলিতে হয়। পিতা ও 
পুত্রের মধ্যে মন ও মতের সংঘাত স্পষ্ট হইয়া উঠে নাই। শিবনারায়ণের চরিত্র অপরিপূর্ণ ও 
অপরিস্ফুট। স্থুশোঁভন চরিত্রটা বিশেষ দরদের সহিত অংকিত হইয়াছে, এবং দর্শকের 
সহানুভূতিশীল আগ্রহ সর্বক্ষণ ইহার উপর নিবদ্ধ থাকে। নাটকের সংলাপ সাধারণ ও 
বৈশিষ্ট্যহীন। 

॥ কাঁলিন্দী ॥ 'কালিন্দী” নাটক এ নামীয় উপন্তান হইতে রূপান্তরিত হইয়াছে । কিন্ত 
বৃহদায়তন উপন্তাসের রস নাটকের স্বল্প পরিসরের মধ্যে বেমানান ও খাগছাড়া হইয়াছে। 
রামেশ্বর ইন্দ্ররায়ের ভগ্নীপতি, সে নিজের পুত্র ও স্ত্রীকে হত্যা করে। যেভাবে সে হত্য। 
করিয়াছে তাহাতে তাহাকে নৃশংস পাপী বলিয়াই মনে হয়। তাহার মুখে রবীন্দ্রনাথ ও 
কালিদাসের কবিতার প্রসন্ন আবৃত্তি শোভা পায় না । মহীনের গুলি করিয়! হত্যা করার 
ব্যাপারটা অত্যন্ত ০1,০৪০ হইয়াছে । নাট্যকার অহীনকে নাটকের মধ্যে বড়ো বেশি 
আদর্শায়িত করিয়া ফেলিয়াছেন। 

॥ পথের ডাক ॥ 'পথের ডাকে” আধুনিক যুগের সামাজিক ও অর্থ নৈতিক সমস্যা প্রকট 
হইয়া উঠিয়াছে। মহান আদর্শবাদ ও স্থগভীর দেশাত্মবোধের পরিচয় এই গ্রন্থের মধ্যে ব্যক্ত 
হইয়াছে । ডা: চ্যাটার্জী আমাদের দেশের জাতীয় ভাব ও সংস্কৃতির বাহক, নিখিলেশ 
বিবেকানন্দের সেবাধর্মের আদর্শে দীক্ষিত ব্রতধারী যুবক। রম! নিখিলেশের সহকগ্সিণী এবং 
স্থনন্দাও মনে মনে নিখিলেশের আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাবতী, অপরদিকে রায় বাহাছুর ও 
অতুল আধুনিক শিল্পযুগের লক্ষ্মীবান, কর্মিষ্ঠ ও আত্মবিশ্বাসী মানব। নাটকের ক্রিয়া 
সঞ্চার করিতে যাইয়া নাট্যকার শেষের দিকে কতকগুলি অকারণ ও অবিশ্বীশ্য ঘটনার 
সমাবেশ করিয়াছেন। ডাঃ চ্যাটার্জী ও স্থনন্দার মৃত্যু নাটকের ঘটনার দিক দিয়া 


শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ৩১১ 


অপরিহার্য নয়। নিখিলেশের প্রতি রমার আকর্ষণ বরাবর চাপাই রহিয়াছে, এবং সুনন্দার 
দুর্বলতা সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া যাঁয় না । 


(8) শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় 


॥ বন্ধু॥ শরদিন্দু শক্তিমান সাহিত্যিক, তাঁহার নাটকেও এই শক্তির পরিচয় পাওয়া 
যায়। তাহার নাটকে কোনে! ঘোরালো! সমস্তা নাই, স্সিপ্ধ কৌতুক, এবং রোমান্সরসপূর্ণ 
ঘটনায় তাহার নাটক শ্রীতিপ্রদ হইয়! উঠিয়াছে। তাহার “বন্ধু' নাটকথানি প্রসিদ্ধি লাভ 
করিয়াছে । ইহার কাহিনীর মধ্যে যথেষ্ট বৈচিত্র্য ও অভিনবত্ব আছে সন্দেহ নাই। ইহার দুই 
একটি চরিত্র একটু অপ্রারুত মনে হইতে পারে। সেই সম্বন্ধে লেখকের কৈফিয়২ উল্লেখ্য _ 
'আর্টের ক্ষেত্রে সত্যকে ধরিতে হইলে সম্ভবকে কতদূর অতিক্রম করা যাইতে পারে, 
ভাহার সীমা! এখনও নির্দিষ্ট হয় নাই। এক্ষেত্রে চার্লস ডিকেন্স ও চালি চ্যাপলিন 
আমার নজির।' আত্মভোল1 বৈজ্ঞানিক জ্ঞানাঞ্ন, ফ্রয়েড-শিষ্য প্রেমকুমাঁর, জুয়ার 
আড্ডার কেবলরাম এবং গজানন ইহারা প্রত্যেকেই অশেষ কৌতুকময় ও চমকপ্রদ । 
প্রণয়ী-যুগল হেমন্ত ও অশনির সহিত প্রশিয়িনীদ্বয় উগ্লিলা এবং মন্দার কৌতৃকপূর্ণ ভূল 
তরাস্তি এবং প্রণয়ের আদান-প্রদান উপভোগ্য, অশনির প্রতি গুণ্ডার আক্রমণের অংশটুকু 
দুর্বল ও ইহার পরবর্তী ব্য।পার--উমিলার উদ্বেগ এবং সেবাও বৈচিত্র্যহীন ভাবতীরল্যপুর্ণ। 

॥ ডিটেকটিভ ॥ “ডিটেকটিভ” নাটকখানির ঘটনার মধ্যেও নূতনত্ব আছে। তরুণ 
জমিদার অনন্ত চৌধুরীর ডিটেকটিভ হওয়ার ভারি সখ। পিতৃবন্ধু জগদীশের নিরুদ্িষ্ট কন্তা 
মহামায়ার সন্ধান করিতে সে কলিকাতায় আসে, এবং কেয়। ওরফে মহাঁমায়ার সহিত পরিচিত 
এবং প্রেমে পতিত হয়। কেয়ার বন্ধু নলিনীকে সে মহামায়া বলিয়। ভুল করাতে সামান্ 
জটিলতার স্ষ্টি হয়। কেয়া! এবং অনন্তের রোম।টিক প্রেমই কাহিনীর মধ্যে প্রধান হইয়। 
উঠিয়াছে। নলিনীর প্রণয়ী তোল! সমরেশ বিশেষ সরস ও হাস্যকর চরিত্র 1 


(৫) অয়স্কান্ত বব্সী | 

॥ ভোলা! মাষ্টার ॥ শ্রীযুক্ত অয়স্কীস্ত বন্সীর “ভোল৷ মাষ্টার নাটকখানি রঙ্গমঞ্চে বিশেষ 
সাফল্যমপ্ডিত হইলেও নাটক হিসাবে ইহার তেমন কোনো গুণ ও মুল্য নাই। ভোল৷ 
মাষ্টার একজন গ্রাম্য স্কুল মাষ্টার--আদর্শ শিক্ষক। তাহার একমাত্র আশ! ছেলেকে 
হাঁকিম করিবেন, একদিন স্কুল ফণ্ডের আট হাজার টাকা তাহার হাতে পড়িল। সেই টাকা 
লইয়! তিনি কলিকাতায় গেলেন, এবং পাঁচ হাজার টাক! পুত্রের শিক্ষার জন্ত আত্মসাৎ 
করিলেন। গ্রামের লোক জানিল ভোল৷ মাষ্টার আততায়ীর হন্তে হত হইয়াছেন। 
কালক্রমে তাহার পুত্র সমরেন্র জিলা জজ হইল, একদিন ইস্কুলের উদ্বোধন-উৎসবে 
পৌরোহিত্য করার জন্ত তাহার নিমন্ত্রণ হইল। ভোলা মাষ্টার ভিখারী মৃত্যুপ্রয়ের 
ছদ্মবেশে পুত্রের গৌরব দেখিয়া আত্মপ্রসাদ বৌধ করিলেন। স্ত্রীর কাছে তিনি নিজেকে 


৩১২ বাংলা নাটকের ইতিহাস 


প্রকাশ করিলেন, কিন্তু ছেলের কাছে ধরা দিলেন না। ভোলা মাষ্টারকে খুব আদর্শ 
শিক্ষক বল! হইয়াছে, কিন্ত পুত্রকে হাকিম করার স্বপ্র শিক্ষকের আদর্শের সহিত 
সঙ্গতিহীন। ষ্টাহার ছন্মবেশের বেদনাও কোনো আদর্শজনিত নহে। স্ৃতরাং এই আত্ম- 
ত্যাগ তেমন কোনে। মাহাত্ম্য প্রকাশক নহে। হেড মাষ্টারের বড় বড় বন্তৃতাও নাটকের মূল 
কেন্দ্র হইতে বিচ্ছিন্ন অনর্থক আদর্শবাদ। নাটকের সংলাপ ছুর্বল ও বৈশিষ্ট্যহীন। 

॥ ডক্টর মিস কুমুদ ॥ “ডক্টর মিস কুমুদ” আটটী দৃশ্তে সমাপ্ত । প্রথম দিক দিয়। ঘটনার 
বৈচিত্র্যে নাটকখানি জমিয়া উঠিয়াছে, কিন্তু শেষে একঘেয়ে হইয়! গিয়াছে। ঘটন! 
সংস্থাপনের নৃতনত্ব ও বৈচিত্র্যের অভাবেই এই একঘেয়েমি আসিয়াছে । সমীরণ এবং মিস 
কুমুদের কথাগুলি বেশ ঝলসাঁনে! এবং চমকপ্রদ । কাণাঁকড়ি গাঁটকাটার ছোট ভূমিকাটাও 
বিশেষ সরদ ও কৌতুকাবহ। নাটকের সংলাপ অঃ0ঠৈ এবং ধারালে!। 


(৬) প্রমথ নাথ বিশী 

প্রমথবাবুর নাটকে তীব্র ব্যঙ্গবিদ্রপের কটুরসের সহিত তীক্ষ কথ।বার্তার অল্নরদূ 
সংমিশ্রিত হইয়াছে। তাহার নাটকের রস ঞ্াস্বাদনকালে ওষটাধর বিকৃত ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ 
কুপ্চিত হইয়া আসে। অমৃতলালের প্রতিভার উত্তরাধিকারী তিনি। সেইজন্য তাহার 
নাটকে কেবল আঘাঁতের পর আঘাত, সেখানে বিন্দুমাত্র ক্ষমাসিক্ত সহানুভূতির স্থান নাই। 
তিনি বার্ণ'ূর্ড শকে গুরু বলিয়া মানিয়াছেন এবং গুরুর আত্মস্তরিত ও বিশ্ববিদ্বেষ নকল 
করিতে চাঁহিয়াছেন। 'ঘ্বৃতং পিবেৎ নাটকের ভূমিকায় তিন্নি বলিয়াছেন-_“বিধাতাঁর দুইটা 
মুিমান ভূমিকা । বিধাতা পুরুষ বিশ্ব স্ষ্টি করিয়। বুঝিতে পারিলেন কিঞ্চিৎ ব্যাখ্য। ব্যতীত 
ইহা ছুর্বোধ্য তাই তিনি জি, বি, এস ও প্র-না-বি নামধেয় ছুই ভূমিকাপস্থী লেখককে স্ব 
করিয়াছেন। প্রমথবাবু বুবিয়াও বুঝেন নাই যে জি, বি, এস-এ যাহা৷ শোভা পায়, প্র-না- 
বিতে তাহা শোভা পায় না । লোকে অসাধারণ মননশীল বার্ড শ-এর গ্রাতিভাঁর কাছে নতি 
স্বীকার করে, কিন্তু প্রমথবাবুর অশোভন আত্মসর্বস্বতা মানিয়া৷ লইতে পারে না !* প্রমথবাবুর 
লজ্জা ও খেদ মূর্খ বাঙালী এ পর্যন্ত তাঁহীর লেখাকে আদর করিতে পারে নাই। কিন্তু এই 
মূর্ঘদের রেহ কেহ বুঝিয়াছে যে তাহীর লেখা মলিয়ের ও অমৃতলালের বিশ্বস্ত এবং সক্ষম 
অনুকরণ ছাঁড়া আর কিছুই নয়। তিনি যে অনেক স্থলেই মলিয়েরের ভাব ও ভঙ্গি আত্মসাত 
করিয়াছেন তাহা দৃষ্টিণীল সমালোচকের কাছে অস্পষ্ট নহে। 

॥ খণং কৃত্ব। ॥ “খণং কৃত্বা, নাটকের মধ্যে একটা! ভারী কৌতুকময় ব্যাপারের সমাবেশ 
কর! হইয়াছে । সনংকুমার খণ শো .ধর স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা, সে নিজে এবং তাহার ছাত্র 
মহাঁজনদের ঠকাইবার নান! নীতি ও পন্থ! শিখিয়! রাখিয়াছে। ' কিন্ত এই সরস, অভিনব 
ব্যাপারটি নাটকের মধ্যে অকন্মাৎ শেষ হইয়! গিয়াছে । কাহিনীর পরবর্তী ঘটনা -শোতের মধ্যে 
ইহার কোনো স্থান নাই। ইহা নাটকখানির একটি ক্রুটি। সনং-মঞ্জরী এবং ললিত-মণিকাঁর 
প্রেমঘটিত কৌতুকময় জটিলতা ও তাহার সমাধানের মধ্যে মলিয়ের প্রভৃতি নাট্যকারদের 


প্রমথনাথ বিশী ৩১৩ 


অনেক নাটকের কাহিনী অন্ুন্থত হইয়াছে । মলিয়েরের মত যুগল চরিত্রের ক্রিয়া এবং 
কথার ঘুগরপং সুমাবেশের দ্বারা নাট্যকার বিচিত্র কৌতুকরসের স্থাষ্ট করিয়াছেন ; ডাক্তার, 
উকীল প্রভৃতির প্রতি শ্লেধ অমৃতলালের 'থাসদখল, প্রভৃতি নাটকের কথা মনে করাইয়া দেয় |. 

॥ ঘ্বৃতং পিবেৎ ॥ সর্বেশ্বর সিংহ নগেন্দ্রনাথের সহায়তায় প্রতারণার ফাদ পাতিয়াছে। 
ধনী এবং সংস্কৃতিমান বলিয়া পরিচিত হইবার জন্ত সে নানারকম ছলনা ও কৌশলের 
আশ্রয় লইয়াছে, এবং কন্য। প্রমীরাকেও সেভাবে গড়িয়া তুলিয়াছে। অন্যদিকে. 
ত্রিদিবনারায়ণ তাহার আত্মীয় বিজয়নারায়ণের সহযোগে অনুরূপভাবে রাঁজা বলিয়া নিজেকে 
জাহির করিয়াছে । নাটকের আর একটা রহস্তঘন উপকাহিনী আছে। নীরজা এবং 
মালবিকা, 'ইহাঁরা স্বামীব্ত্রী হইয়াও বিচ্ছিন্ন হইয়৷ পড়ে, এবং নান রহস্যমধুর পরিস্থিতির 
মধ্য দিয়! পুনরায় নিজেদের পরিচয় প্রাপ্ত*হয়। নাটকের মধ্যে তীক্ষধার ব্যঙ্গ-বিদ্রপের 
ফলাগুলি ঝলসাইতে থাকিলেও ইহার পরিণাম রসাল কৌতুকের কোমল রসে স্নিগ্ধ হইয়। 
উঠিয়াছে। লেখক রুত্রিম বিষাদের বাম্প দিয়া নাটকের সর্বব্যাপী সরস প্রসন্নতার দীপ্তি 
মাঝে মাঝে ঢাঁকিয়৷ আমাঁদের অমূলক উদ্বেগ লইয়া কৌতুক করিয়াছেন। নাঁটকখানির 
মধ্যে মলিয়েরের 4119 (4 1 এব. 0৩00 নাটকের গ্রভাব আছে বলিয়া মনে হয়। 
মলিয়েরের অনুরূপ প্রমথবাঝুও নাটকের মধ্যে ছুই ঘটনার সাদৃশ্য (১9101101157) এবং 
বৈপরীত্য (0০850 দেখাইয়াছেন। ভাক্তার,“কমরেড প্রভৃতির প্রতি গ্লেষ সুস্পষ্ট । 

॥ মৌচাঁকে টিল ॥ “মৌচাকে টিলে'র মধ্যে উদ্ভট (0০05344০) বিষয়ের অবতারণ খুব 
বেশি। এই নাটকেও তিনি ন্তিজেকে ছাড়া আর সকলকে লইয়াই উপহাঁস করিয়াছেন। 
তবে অনেক সময়েই মনে হয় যে তীহার উপহাসের মধ্যে ষেন অনিবার্ধতা নাই । এই উপহাস 
আমাদিগকে অসন্তষ্ট করিয়৷ তোলে । ্‌ 

॥ পরিহাস বিজল্লিতম্‌ ( দি-স-_-১৩৫৩)॥ আমাদের বর্মন সমাজের ভ্রান্তি ও 
অসঙ্গতিগুলি প্রমথবাঁধুর বঞক ও শাণিত দৃষ্টিতে যেমন ধর! পড়িয়াছে এমন আর কাহারও 
দৃষ্টিতে ধরা পড়ে নাই । সেজন্য তাঁহার নাটকে হৃদয়ের আবেগ অপেক্ষা মননের খরদীপ্ডি 
অধিক প্রাধান্য লাভ করিয়াছে । আলোচ্য নাটকেও তিনি শিক্ষিত, সংস্কৃতিসম্পন্ন বাঙালী 
সমাজের কোন শ্রেণীকেই ঠাহাঁর তক্ষ বিজ্রপবাণ হইতে নিষ্কৃতি দেন নাই। সেই বিদ্রুপ 
জাল। আছে, কিন্ত তাহাতে ন। হাসিয়াও পার। যায় না। কারণ লেখকের গৌঁড়ামি নাই, 
আর নাই কোন পক্ষপাতিত্ব । অবশ্য তর্ক-বিতর্ক, মত ও মন্তব্যের সংঘর্ষের অন্তরালে মিনি 
ও মিনির প্রণয়ীর সক্কোচ-ভীরু প্রণয়ের হান্যসধুর দৃশ্ত এক অনিবাধ আকর্ষণে আমাদের 
রসায়িত চিত্বকে কৌতুহলী করিয়া রাখে। নাটকটি শুধু অভিনেতব্য নহে, পাঠ্যও বটে।.. 
কারণ লেখক ঘটনা! ও চরিত্রের বর্ণনা দিবার সময় এমুন সব মন্তব্য করিয়াছেন যেগুলি 
নাটকের অন্যতম রসসম্পদ । 


৩১৪ বাংল। নাটকের ইতিহাজ 


(৭) মনোজ বসু 

আধুনিক কথাসাহিত্যকে ধাহারা উত্তুজজ গৌরবশিখরে উন্নীত করিষ্। তুলিয়াছেন 
' মনোঁজ বস্থ সেই অগ্রণী কথাশিকল্লীদের অন্যতম। বাংলার চরে বিলে, প্রান্তরে ও প্রত্যন্ত 
অঞ্চলে যিনি গল্প ও উপন্যাসের জীবনরস সন্ধান করিয়া বেড়াইয়াছেন পরিণত বয়সে তিনিই 
মাঝে মাঝে মঞ্চপ্রদীপের সম্মুখে আসিয়া নাট্য-ভারতীর বন্দনায় নিরত হইয়াছেন। কিন্ত 
শিল্পের শ্রেণী বদলাইলেও শিল্পী-মাঁনস্‌ তো৷ বদলাইতে পারে না । সেজন্য তাঁহার নাটকে 
আমরা তাঁহাকেই পাইয়াছি-সেই দরদী, স্বপ্ন-বিলাসী, বিদ্রোহবহ্থিবাহী একই 
সাহিত্যিককে। বাংলার দক্ষিণী প্রত্যন্ত প্রদেশের খরসলিল। নদীর পার্ববর্তী অঞ্চলে 
মনোজবাবুর কন্প-মানস বিচরণ করিয়াছে । উচ্ছৃঙ্খল ভৈরবের বিচিত্র প্রকৃতির সহিত 
হাতীপোত! আর গল।কাটার চরের কত রহশ্ঠজটিল ইতিহাস জড়িত হইয়া! আছে আজ 
তাহা নির্ণয় করা সম্ভব নহে। কালের ভ্রকুটি-কৌতুকে গ্ররুতির দৃশ্তপট অতি দ্রুত সরিয়া 
যাইতেছে, প্লাবনের প্রমত্ত উচ্ছ্বাসে পুরাতন জীবন তলাইয়া যাইতেছে আর নুতন জীবন 
ভাসিয়! উঠিতেছে। লেখক ষুগসন্ধিক্ষণে ভাঙ্গাগড়ীর এই বিচিত্র অভিনয় করুণ অথচ 
আশাবাদী দৃষ্টি দ্বারা প্রত্যক্ষ করিয়াছেন। প্রাচীন জীবনের প্রতি একটু দুর্বল মমতা 
থাকিলেও নবজীবনের প্রাঁণময় বৈতাঁলিকই তাহার কণ্ঠে প্রধানত ধ্বনিত হইয়াছে । সেই 
জীবন এখনও হয়তো আসে নাই, কিন্তু তাহা সুনিশ্চিত ভবিষ্যতের গর্ভে জায়মান, তাহীর 
অরুণ-লিখন আকাশের পূর্বপ্রান্তে ভাসিয়৷ উঠিয়াছে। স্বপ্রসন্ধীনী লেখকের আদর্শ দৃষ্টি 
সেইদিকে নিবদ্ধব__তীহাঁর রোমাঞ্চিত বক্ষ ভেদ করিয়া উদ্বলিত ভাবতরঙ্গ উদগত হইয়া 
আসিতেছে যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আন্দোলন মুক্তি-পাঁগোল দেশের হৃদয়কে 
. তীব্রভাবে বিচলিত করিয়াছে লেখক তাহার সহিত প্রত্যক্ষ যৌগ রাখিয়াছেন। মুক্তি- 
সংগ্রামের সৈনিকদের আত্মত্যাগ যেমন তাহার লেখনীর মুখে অনন্য গৌরব লাভ করিয়াছে, 
তেমনি আবার বিশ্বাসঘাতক, সমাজদ্রোহী স্বার্থপরের চরিত্র তাহার কাছে পাইয়াছে অতি 
স্বকঠিন আঘাত। কিন্ত কচিৎ গ্নেষ ও বিভ্রপের শাঁসন থাকিলেও স্নেহ ও করুণার 
আসন কখনো! তাহার টলে নাই। নীলাম্বর ও হিরঞ্য়ের মত চরিত্র সমাজের অবজ্ঞা 
কুড়াইলেও লেখকের সম্ৃদয় সহামুভূতিতে তাহীরা৷ অতি উজ্জল হইয়া উঠিয়াছে। সমাজের 
মূল্যবোধ ও ন্যায়ের ধারণ! যে কত অসার ও মিথ্যা লেখক তাহা বহুস্থলেই চোখে আঙ্গুল 
দিয়া দেখাইয়! দিয়াছেন। 

নাটকের মধ্যেঃমনোজবাবুর যে জীবনদৃষ্টির স্বাক্ষর রহিয়াছে তাহা! উপরে আলোচিত 
,হইল। তাহার নাটক নাটকত্বের উধ্বে” একটি বিশেষ জীবন বাঁণী বহন করিতেছে। 
নুতরাং সেই নাটক আলোচন্বায় শিল্প অপেক্ষা "বাণীর প্রাধান্ত স্বীকার করিতেই ইইবে। 
অবশ্য নাট্য-রচনায় তিনি" আধুনিক নাট্যশিল্পের সক্ষম অবতারণা করিতে চাহিয়াছেন। 
বর্তমান নাট্যমঞ্চের প্রয়োজনে অঙ্ক ও দৃশ্যসংখ্যা কমাইয়া একই সেটে বিভিন্ন পাত্র- 
পাত্রীকে সুকৌশলে আনিয়! তিনি নাটকের গতিবেগ সঞ্চার করিয়াছেন। নাটকের 


মনোজ বনু ৩১৫ 


মধ্যে ৪ পুঙ্থানুপুঙ্খ মঞ্চ-নির্দেশ দিয়! তিনি অষ্টার সীমানা হইতে বহুদূর আগাইয়া 
যাইয়। গ্রয়োগন্তর্তার সহিত ঘনিষ্ঠ হইয়! উঠিয়াছেন। তবে নাট্য-জগতে প্রবেশ করিলেও 
তাহার স্থান যে যবনিকার অন্তরালে ইহা তিনি অনেক ক্ষেত্রেই তুলিয়। গিয়াছেন। সেজন্ত 
তাহার নাটকে নাট্যকারের বস্তুনিষ্ঠার স্থলে কথাকারের আত্মবিলাস বনু জায়গাতেই স্পষ্ট 
হইয়া উঠিয়াছে। 

॥ প্রাবন (১৩৪৮) ॥ মনোজ বাবুর প্রথম নাটক । এক প্লাবনে নাটকের সুচনা এবং আর 
এক গ্লাবনে ইহার সমাপ্তি। প্লাবন যে খেত-খামার ডূবাইয়া ঘর-বাড়ি ভাঁসাইয়! দেয় তাহ! 
নহে, ইহা মানুষের স্বচ্ছন্দ গৃহজীবন ছেন্ন করিয়া! আনিয়া নূতন অজাঁন! দ্বীপে ঠেলিয়া 
ফেলিয়! দেয়। এই ভাবেই নিশাঁরাণীর জীবন স্বামীর কাছ হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া! শেখরের 
জীবনের সহিত যুক্ত হইয়৷ গেল। নিশারাণী পুনরায় স্বামীকে পাইল, কিন্তু তখন তাহাদের 
প্রয়োজন ফুরাইয়া আসিয়াছে 1৬ নৃতন জীবন আসিয়া! তাহাদের স্থান অধিকাঁর করিয়াছে। 
প্রকৃতির এই অমোঘ, অনিবার্ধ নিয়ম মানিয়া লইয়াই তাহার প্রলয় পয়োখি জলে 
নিজেদের নিমজ্জিত করিয়। দ্িল। কিন্তু একটি খটকা থাঁকিয়। যাঁয়। যে শেখরের প্রতি 
সে দুর্বলতা বোধ করিয়াছে ১; পনেরো বংসর ধরিয়া যাহার স্বতি সে হৃদয়ে বহন করিয়া 
তাহার কন্তাকে নিজের কন্তাঁর ম্যায় পাঁলন করিয়াছে স্বামীকে হঠাঁৎ আবিষ্কার করিয়! 
সে কি তাহাকে একেবারেই হৃদয় হইতে নিঃশেষে নিরূল করিতে পারিল? সামান্ত কোন 
দন্ব, ক্ষণিকের কোন দূর্বলতা কি তাহাঁর চিত্বকে বিচলিত করিল না? শেখরের আশ্রয়ে 
আঁসিবার পর সে দীর্ঘকাল তাাকেই একমাত্র অবলম্বন করিয়৷ দিন কাটাইয়াছে সেই 
সত্য কি তাহার হঠাৎ-দেখা স্বামীর প্রভাবে একেবারেই গুপ্ড়াইয়া গেল? নাটকের 
মধ্যে শেখরের দুর্বার, স্থকরুণ প্রেমাবেগ বোধ হয় পাঠক ও দর্শকের মনে সর্বাপেক্ষা বেশি 
করুণা ও চাঞ্চল্য উদ্রেক করে। এই উদার, মহাপ্রাণ যুবক প্রেমের পাঁষাঁণ-বেদীতে মাথা 
ঠুকিতে যাইয়! নিষ্ঠুর ঘাতকের হাতে প্রাণ হাঁরাইল- এই ছুঃখময় স্মৃতি কখনো তুলিবার 
নহে। কমলেশ ও নীলাম্বরের সহিত নিশাঁরাণীর যে সংঘাঁত বাধিয়াছে তাহার কারণ খুব স্পষ্ট 
ও জোরালে। নহে। তাহার! দুইজন দুঃখী প্রজার পক্ষ অবলম্বন করিয়াছে কিন্ত নিশারাণীও 
তো! অত্যাচারী, প্রজাপীড়ক জমিদার নহে। সে সম্বলহীন, সহাঁয়হীন নারী মাত্র; তাহাকে 
ভয় দেখাইয়া কৌশলে চাঁর হাঁজার টাকা হস্তগত করা কমলেশের পক্ষে এমম ব্কি পৌরুষের 
কার্য হইয়াছে? নিশাঁরাণীর অসহায়তাঁর স্থযোগ লইয়া সদ্ধপ্রাপ্ত অধিকারের ফলে তাহারই 
বাঁড়ি হইতে তাহাকে "তাঁড়াইবার আয়োজনের মধ্যেও বা ন্তাঁয়ধর্মের পক্সিচয় কোথায়? সর্বা- 
পেক্ষা বিন্ময়জনক হইয়াছে সবিতাঁর আচরণ। নীলাম্বরের প্রতি আকম্মিক সহানুভূতির ফলে 
সে মাতার এত দীর্ঘকালের ন্নেহখণ মুহূর্তের মধ্যেই বিসর্জন দিয় তাহারই বিরুদ্ধে ঈ্ীড়াইল? 
ইহা এক হ্ৃদয়হীন অকৃতজ্ঞতাঁর চরম দৃষ্টান্ত । নাট্যকারের লক্ষ্য ও সহানুভূতি নিশ্চয়ই 


১) নিশারাণী। আমার মন দুর্বল। আর বলবেন নাস্্বলবেন না আমায় । পৃঃ ১৩ 


৩১৬ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


কমলেশ এবং নীলাস্বরের উপর; কিন্তু আসলে নিশারাণীই' প্রকৃত অন্ুকম্পা ও সহাম্ৃভৃতির 
পাত্রী হইয়া উঠিয়াছে। নাঁটকের মধ্যে চমকপ্রদ ঘটনা দ্রুত গতিবেগ সঞ্চান্ত কর! হইয়াছে, 
সেজন্য রঙ্গমঞ্চের অভিনয়ের পক্ষে ইহা বিশেষ উপযোগী । 

॥ নৃতন প্রভাত (১৩৫০) ॥ নৃতন প্রভাতের আলোকচ্ছট! কবে পূর্ব দিগন্তে উদ্ভাসিত হইয়! 
উঠিবে ভাগ্যহত সর্বহারা মানুষ সেদিকে সতৃষ্ণ নযনে তাঁকাইয়! "থাকে, কিন্ত তাহার পূর্বে 
ছঃথনিশার হুর্গম পথে তাহাকে চলিতে হয়। সেই পথের বীকে বাঁকে রহিয়াছে “কণ্টকের 
অভ্যর্থনা" ও গ্ডপ্তসর্পের গু ফণা+, “পণ্ডিতের মুঢ়তা, ধনীর দৈগ্গের অত্যাচার আর সজ্জিতের 
রূপের বিদ্রপ' । সেই ক্লেশাকীর্ণ পথের রেখা ফুটিয়। উঠিয়াছে দরদী লেখকের করুণাসিক্ত 
লেখনীর মুখে । যুগ যুগ ধরিয়! মহেশ্বরের বজমুষ্টি কান্তরাম ও রহিমের ক্ষীণ, বুভূক্ষু উদরগুলিকে 
পিষিয়৷ ধরিয়াছে, পুরুষানুক্রমে রাঁয়সাঁহেবের দল চিন্তের বিনিময়ে বিত্তের পাহাড় খাড়৷ 
করিয়া তুলিয়াছে; কিন্তু একদিন আসে যেদিন তাহাদের জি নীতল হইয়। পড়ে, পাহাড়ের 
চূড়া! ভাঙ্গিয়া যায়। সেদিন তাহাদের পুত্রকনা। পর্যন্তও তাহাদের বিরুদ্ধে চলিয়া যায়, 
এ কথা অলঙজ্ঘা নিঠুর প্রারকতিক নিম। পুরাতন তন্ত্র তাহার উদ্ধত শির লইয়! লুটাইয়া 
পড়িতেছে আর এক নবতন্্র তাহার স্বপ্নমণ্ডিত চুড়া ধীরে ধীরে উন্নত করিয়৷ তুলিতেছে। 
ইহার জন্য শশাঙ্কের ন্যায় কত নির্ভীক তকণ প্রাণের নিবেদন প্রয়োজন হয় কে তাহার 
হিসাব রাখিবে? নাট্যকার তাহার শ্লেষশাণিত সুক্ষ দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়াছেন সমাজের 
বিভিন্ন আনাচে কানাচে-_হলধরের ন্যাঁয় পাদলেহী পিশাচ আর আমি্কুলের ন্যায় বিভেদকারী 
সর্বনাশ! সাশ্প্রদায়িক- কেহই তাহার দৃষ্টিকে ফাকি দিতে পারে নাই। গোকির “মা; 
চরিত্রের প্রভাবে «ই নাটকের মা অস্কিত হইয়াছে কিনা জানি না, কিন্তু এই রকম মা 
যেদ্দিন দেশের ঘরে ঘরে আবিভূ্তা'হন সেদিন আর তাহার মুক্তির বিলম্ব থাকে না। 

॥ বিপর্যয় (১৩৫৫) ॥ সংসারে আমরা ভুল করি, ভুল বুঝি, সেই ভুলের নেশায় দিশাহারা 
হইয়। আমরা [য শুধু পরের অপকার করি তাহাই নহে, আমর! নিজেদের জীবনেও চরম ক্ষতি 
টাঁনিয়া আনি। তাঁরপর একদিন ভূল ধরা পড়ে, তখন অপচিত জীবনের জন্য মন ব্যাকুল 
হইয়া উঠে, কিন্তু তাহা যে বহুদূরে, নাগালের বাহিরে । সমীজ জীবনে এই ট্র্যাজেডি 
বহু ক্ষেত্রে দেখা যায়, আলোচ্য নাটকেও এই ট্র্যাজেডির একটি করুণ চিত্র অষ্ষিত 
হইয়াছে। নলিনী তাহার স্বামী হিরণ্ময়ের মিথ্য/ অপবাদ বিশ্বাস করিয়া তাহাকে 
ছাঁড়িয়া চলিয়। গেল। যে বিচ্ছেদ সামান্য বোঝাপড়ায় মিটিয়া যাইত তাহাই তাহাদের 
জীবনে চিরন্তন হইয্&জ রহিল। হিরগ্য় নলিনীকে ছাড়া জীর্ধনে আর কাহাকেও 
ভালোবাসে নাই, নলিনীও কপালের সি'দুর মুছিয়া ফেলিলেও পাতিত্রত্যের অক্ষয় সিদুরে 
তাহার হৃদয় চিরদিন রাাইয়া রাঁখিয়াছিল। কিন্তু তবুও তে! তাহার পরস্পরকে আর পাইল 
না, তাহাদের ভূলের জাল বাহিরের চক্রান্তে আরো৷ জটিল হইয়া! তাহীদের বাঁধিয়া ফেলিল, 

উদ্ধারের আর কোঁনই উপায় রহিল না। এক নৌকায় তাহারা জীবন ভাসাইয়াছিল কিন্ত 
হঠাৎ একটি নিষ্ঠুর ঝড় আসিয়া তাহাদিগকে পরম্পরের কাছ হইতে বিচ্ছিন্ন . করিয়া 


মনোজ বনু ৩১৭ 
দূরবর্তী ছুইটি দ্বীপে ফেলিয়া! দিল, চতুর্দিকে অধৈঙজ্জল, মিলিবাঁর আর কোন উপায় নাই। 
লেখক যদি পরিশেষে তাহাদের মিলন ঘটাইয়া দিতেন তাহা হইলে তাহা রঙ্গমঞ্চের দিক 
দিয়া জনপ্রিয় হইত বটে কি্ব তাহা কখনে! জীবনের সমন্তার্টিকে এভাবে আমাদের হৃদয়ের 
দ্বারে পৌছাইয়। দিতে পারিতেন না। হিরণায় ও নলিনীর জীবনের মাঝে আর একটি 
জীবন শুভ স্থন্দর এক পুষ্পের ন্যায় ফুটিয় ঝড়িয়া গেল। ইহ। আরো করুণ, আরো দুঃখমন্্। 
নলিনী তো হিরগ্ময়ের ভাঁলোবাঁা ষোল আনাই পাইয়লাছিল বিধাতা তাহার মাতৃ-হৃদয়ের , 
অভাবও পূর্ণ করিয়াছিলেন । কিন্তু মলয় পাইল কি? গৌরীর তপস্তা অবশেষে সফল 
হইয়াছিল, কিন্ত মলয়াঁর তপন্তা তো শেষ পর্যন্ত তপত্তাই রহিয়৷ গেল। নিজের জীবনটিকে 
প্রদীপের ' সলিতাঁর স্ঠায় জালাইয়! রাখিয়া সে তাহার প্রাণের দেবতাঁর নীরব আরতি 
করিয়াছে । কিন্ধ যেদিন সে আবিষ্কার করিল দেবতা সত্যই পাষাণ, তাহাঁর হৃদয়ে এতটুকু 
দাগ পড়ে নাই সেদিন তাল্্জজ জীবনের দীপ্তিও নিঃশেষ হইয়া গিয়াছে । . অন্যায় বিচার ও 
হৃদয়হীন শান্তি লইযা যে সমাঁজের বেসাঁতি সেই সমাঁজের প্রতি লেখকের গ্রচ্ছন্ন শ্লেষ নাটকের 
মধ্যে সধণারিত হইয়াছে । সমাঁজ মভিশীপের টিকা স্বাকিয়! দেয় ভিরম্ময় ও নিনীর জীবনে, 
কিন্তু অরুণকিশোরের ন্যায় ভণ্ড চরিত্রগীনের পায়ে লুটাইয়া পড়ে। স্তাঁবক ধনীপদলেহী 
সমাঁজের ইহাই এক বাস্তব রূপ । নাটকের ঘটনা বিন্যাসের কৌশল প্রশংসনীয় । একই দৃশ্যের 
মধ্যে বিভিন্ন চরিত্রের পর পর আগমন ও নিক্ষমণ ঘটাইয়! নাট্যকাঁর নাটকের গতিবেগ বৃদ্ধি 
করিয়াছেন ও আমাঁদের নাট্যকৌতুল উত্তেজিত করিয়! রাখিয়াছেন। নাটকের সংলাপ" 
বদ্ধি-মাঞ্জিত, ব্যঞ্জনাময় ও অনেক স্থলেই গুঢ় সাঞ্ষেতিকতাঁয় বহশ্যময়। নাটকের ঘটনার 
অন্তরালে যে রহস্ত-যবনিক! আছে দর্শকদের কাছে তাহা প্রকাঁশিত নয় বলিয়া অনেক সময় 
সাঙ্কেতিকতাপূর্ণ আলাপ ও মন্তব্য তাহাদের কাছে ছুর্বোধ তইয়৷ পড়ে । অরুণকিশোরের 
চরিত্র সম্বন্ধে তাভাদের গোঁড়া হইতে ধাঁবণা থাঁকে না বলিয়! হিরণাষের ব্যঙ্গোক্তি এবং 
তাহার আঁচরিত ভগ্ডামির রস গ্রহণ করিবার পথে ব্যাঘাত ঘটে । 

॥ রাখিবন্ধন (১৩৫৬) ॥ রাখিবন্ধন হৃদয়-দন্দ্জটিল নাটক নয়, ইহা আমাদের দেশের 
রাজনৈতিক চক্র-পরিক্রমার আংশিক ইতিহাস । ইহার ছুই অস্কে খালার মুক্তি-সংগ্রাম ও 
তাহার পরিণতির দুইর্টি'অধ্যায় উদ্ঘাটিত হইয়াছে । ১৩১৭ বঙ্গাব্দে যে সব তরুণ যুবক মুক্তির 
্বপ্রে মাতাঁল হইয়া! “ফাঁসির মঞ্চে জীবুনের অয়গান, গাহিয়৷ গেল ১৯৪৭ খুষ্টান্ে তাহারাই 
পরিণত বয়সে স্বাধীন রাষ্ট্রক্ষেত্রে খ্ডিত বাংলার অভিশপ্ত আশ্রয়প্রার্থিপে সকলের অবজ্ঞা 
ও করুণা কুড়াইবার-জন্ বাচিয়া রহিল। জাতির স্বপ্ন ও সাধনার ক্রি' শোঁচনীয় পরিণতি ! 
স্বাধীনতা আমর! পাইয়াছি বটে কিন ইহার জন্য যে মূল্য আমরা দিয়াছি তাহা" প্রতি-, 
নিয়ত আমাদের এই বিকলাঙ্গ স্বাধীনসত্বাকে কঠোর পরিহাসে জর্জরিত করিতেছে। 
লেখক এই তথাকথিত স্বাধীন জাতির লজ্জাঁকর সর্সবেদনা মনে প্রাণে অনুভব করিয়াছেন, 
সেই অনুভূতির রূপ দিতে যাইয়া! তিনি অনেক সময় তাহার উচ্ছ্াস-প্রবাতে আর্টের 
প্রয়োজন ভাসাইয়। দিয়াছেন, অনেকস্থলেই নাট্যরস রাক্নীতির বালুচরে হারাইয়! গিয়াছে 1 


৩১৮ বাংলা নাটকের ইতিহাস 

তিনি অদম্য আশাবাদী, সেজন্য খণ্ডিত বাংলার মধ্যে রক্তরাঙডা রার্থিবন্ধনের স্বপ্ন 
তিনি দেখিয়াছেন, যদিও এ স্বপ্ন বোধ হয় চিরদিন স্বপ্নই থাকিয়া যাইবে। নাটকের মধ্যে 
রাজনীতির সমষ্টিগত বহিমুর্থ রূপই প্রধান হইয়! উঠিয়াছে, ব্যক্তিজীবনের হুমম অস্তরসংঘাত 
ইহাতে তেমন পরিস্ফুট হইয়' উঠিতে পাঁরে নাই। তবে আঁমাঁদের রাষ্ট্রজীবনের বিভিন্ন 
স্তরে সমাঁজের বিশেষ বিশেষ চরিত্র কি রকম বিচিত্র মনোবৃত্তি প্রকাশ করিয়াছে নাট্যকার 
পর্যবেক্ষণশীল লেখনীর মুখে তাহার সার্থক রূপ দান করিয়াছেন। 


৮) যোগ্েশ চৌধুরী 


স্বর্গত নট ও নাঁট্যকাঁর যৌগেশ চৌধুরীর নাটকে আধুনিক ভাব ও লক্ষণ পরিস্ফুট 
নহে। বর্তমান কালের নাটকে যেমন জটিল মনস্তত্বের সংঘ্ত, নৃতন সমস্য। ও ভাবের ছন্দ 
লক্ষ্য করা যাঁয়, তাঁহার নাটকে তেমন নাই। উনবিংশ শ্তাঁববীর জমিদাঁর-প্রধান সমাজ লইয়! 
তাঁহার নাটক রচিত। পুরাতন সামাজিক ও ধর্ণনৈতিক আদর্শের প্রতি নাঁট্যকারের মোহ 
এবং আম্গগত্যও খুব স্পষ্ট। গিরিশচন্দ্রের নাটকের স্াঁয় তীহীর নাটকে স্থল ও মোটা মোটা 
দৃশ্ঠের সমাবেশ প্রচুর পরিমাণে রহিয়াছে । গিরিশচন্ত্রকে আদর্শ করিয়াই তিনি যে নাটক 
প্রণয়ন করিয়াছিলেন তাহা সহজে বুঝা যায়। 

“পরিণীতা”্র মধ্যে ক্ষয়িফুণ জমিদার শ্রীপতি এবং তাহার প্রতিবেশী বর্ধিষু ব্যবসায়ী 
রমানাথের ভিতর শক্তির প্রবল গ্রতিদ্বন্দিত| হইবার উপক্রম হইলেও এই ছুই প্রবল শক্তির 
সংঘর্ষ সারদেশ্বরী দ্বার! কুৎসা প্রচারের চেষ্টায় হঠাৎ উবিয়া গেল। কোথাও নাটকের দন্দ 
তীব্র ও আঁবেগবাঁন হয় নাই। শ্রীপতি একজন 17/১5০1০ জমিদার, কোনে! জায়গাতেই 
তাহার শক্তির প্রকাশ হয় নাই । ললিতার বংশের কলঙ্কের জন্ত যে ঈর্ধা ও সন্দেহের ধূম 
সঞ্চিত হইয়া আসিয়াঁছিল তাহার দূরীকরণও হইয়া গেল বিনা কারণে। রমানাথের কনিষ্ঠ পুত্র 
নগেন একমাত্র গ্রাণবান চরিত্র। নাটকের সংলাপ দুর্বল ও নিরাবেগ। 

সত্য অথব| মিথ্যা খুনখারাঁপিজনিত জটিলত৷ যাহা! আমাদের অধিকাংশ সাঁম।জিক 
নাটকে পরিস্ফুট তাহা 'পতিত্রতা” নাটকেও বিছ্যমান। রখেনের জন্মরহ্য সম্বন্ধে ইঙ্গিত দেওয়া 
হইয়াছে, অথচ তাহা লইয়৷ কোনে! সমস্য।র স্থষ্টি করা হু নাই। কালীনাথ চরিত্রটি জীবন্ত । 


(৯) জলধর চট্টোপাধ্যায় 


শ্রীযুক্ত জলধর চট্টোপাধ্যায়ের কয়েকথান! নাটক রঙ্গমঞ্চে দর্শকদের অসামান্য প্রশংসা 
ও সমাদর অর্জন করিলেও তাহার নাটকের মধ্যে কোনে! লক্ষণীয় উৎকর্ষ নাই। ছুই একটা 
অভিনব ভূমিকার জন্যই সাঁধারণত তাহার নাটক জনপ্রিয় হইয়াছে। তাহার নাটক প্রাচীন 
ধারার অন্সারী,কোনো সংস্কারমূলক চিত্ত অথব। বিষ্নবী মতবাদ তাহাঁর মধ্যে নাই । বর্তমান. 


জলধর চটোপাধ্যায় ৩১৯ 


সমাজ সমন্তার কোনে! আলোচনাও তিনি করেন নাই। শুক্্ম কলাকৌশল, অথবা! আধুনিক 
নাটকের স্থসঞ্ছত টেকনিকও তাহার নাটকে দেখা যায় না।। 

॥ রীতিমত নাটক॥ “রীতিমত নাটক” রঙ্গীলয়ে অভূতপূর্ব চাঞ্চল্যকর উত্তেজন! স্ব 
করিয়াছিল। শ্াস্তা ও সাত্বনা -এই ছুই পত্রী লইয়া বসন্তের যে সমস্যার উদ্ভব হইয়াছে, সেই 
সমস্যা -বিক্তু নাট্যকার স্থল রোমাঞ্চকর ঘটনার অবতারণ! করিতে বাধ্য হইয়াছেন। সেইজন্য 
সাত্বনাকে রিভলভারের গুলিতে হত্যা কর! হইয়াছে । অথচ তাহার পূর্বে এমন উত্তেজনাময় 
পরিস্থিতির উদ্ভব হয় নাই যাহাতে এই রিভলবারের গুলি অবশ্ন্তাবী মনে হইতে পারে। খুন 
করিয়া পলায়ন এবং পরিশেষে পুনরাগমন এবং মিলন ইহ! বাংল! নাটকের সনাতন ব্যাপার, 
ইছাতে নৃতনত্ব নাই। নাটকের শ্রেষ্ঠ অংশ প্রফেসার দিগস্থর মজুমদারের অসংলগ্ন অথচ 
বৈদদ্ধ্যপূর্ণ উক্তিসমূহ। নাট্য।চার্য শিশিরকুমারের চিত্তচমণ্কারী অভিনয় এবং আবৃত্তি এই 
ভূমিকাকে অমর করিয়। দিয়াছে। 6০3010 [52 এবং 11)1০5177/0 ১5178০দ্য়কে লইয়। 
তাহার সরস ব্যঙ্গ-পরিহাস দর্শকের হৃদয় আমোঁদিত করিয়া রাখে। 

॥ পি-৬/-ডি ॥ অতি সাঁধারণ স্তরের নাটক অভিনয়-দক্ষতায় কি রকম অসাধারণ হইয়! 
উঠিতে পারে «পি-৬/-ডি+ নাটক তাহার উদাহরণ। ইহাতে সঙ্গতিপূর্ণ ঘটনা সংস্থাপন অথব! 
সামগ্রস্থপূর্ণ মনস্তাত্বিক বিশ্লেষণের একান্ত অভাব । অসলগ্ন ক্রিয়ার ফলে চরিব্রগুলির বিশেষত্ব 
স্পষ্ট রেখাপাত করে না। সৌমেন এবং সনৎ সম্বন্ধে নাট্যকাঁরের ধারণা অস্ফুট এবং অস্পষ্ট । 
অভিনয়ের সময় সেন সাহেবের ভূমিকা সর্বাপেক্ষা দৃষ্টি আকর্ষণ করে। চিত্র এবং রঙ্গ- 
জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা! দুর্গাদাস এই ভূমিকাকে জ্বালাইয়া" দিয়া গিয়াছেন, * 
কিন্ত তবুও একথা বলিতে হয় যে নাটকে এই ভূমিকা অকাঁরণ এবং অপ্রয়োঙ্নীয়। 
রিভলবারের মুখে সৌমেনের মুখ দিয়া শ্যামলীর নির্দোধিতা আদায় করিবার ব্যাপার অতি 
নাটকীয় এবং হাস্কর। স্ত্রী চরিত্রগুলির পক্ষে অতি মাত্রায় প্রণয়নিষ্ঠা এবং আত্মসমর্পণের 
ভাব হীনতানুলক ও বিরক্তিকর। 

॥ পথের শেষে ॥ নিশিকান্ত বন্থু রায়ের সামাজিক নাটক «পথের শেষে এককালে খুব 
জনপ্রিয় ছিল। এই নাঁটকথানিঞ্জ পুরাতন ধারার অনুবর্তীঞজমিদীরপ্রধান সমাজ লইয়া ইহার 
কাহিনী গড়িয়। উঠিয়াছে। 'নীলদর্পণ' এবং গিরিশচন্দ্রের নাটকের মত করুণ রসের অত্যধিক 
আতিশষ্য ইহার মধ্যে পরিস্ফুট | ৃ 

॥ মানময়ী গার্লস স্কুল ॥ রবীন্দ্রমোহন মৈত্রের 'মীনময়ী গার্লস স্কুল' বিশুদ্ধ হাস্যরসোজ্জল 
রহস্যক্সিধ কমেডি । মানস এবং নীহারিকা ছুইজন গ্র্যাজুয়েট, স্বামী স্ত্রী রূপে পরিচয় দিয়া 
তাহীরা মাষ্টারী গ্রহণ করে। দামোদর চৌধুরী এবং অন্তান্ত সকলের কাছে তাঁহীরা৷ কিভাবে 
অভিনয় করিয়াছে তাহাই দর্শকের কাছে পরম উপভোগ্য ব্যাপার হইয়াছে। নীহারিকা! দাক্নে 
ঠেকিয় প্রথমত বিরক্তির সহিত যে :অবস্থ স্বীকার করিয়াছিল তাহাই ক্রমে ক্রুমে সে কি 
রকম গোঁপনভাবে বরণ করিয়! লইল তাঁহার বর্ণন৷ যথেষ্ট কলাকৌশলপূর্ণ ও শ্রীতিকর হইয়৷ 


৩২০ বাংল! নাটকের ইতিছাগ 


উঠিয়াছে। প্রেম-পাঁগোল রাজেন্দ্র বাড়রীর এঁকাস্তিক প্রেম-সাধনাও অশেষ কৌতুকপূর্ণ 
হইয়াছে । নাটকের মধ্যে ব্যন্গ-বিদ্ধপের গ্লানি নাই, রহস্যঘন রোমান্সের রসে ইহা 
ভরপুর । 


আধুনিক কালের প্রসিদ্ধ সহিত্যিক “বনফুল' কয়েকথানি নাটক লিখিয়াছেন। 
মাইকেল এবং বিষ্ঠাসাগরের জীবন .বুত্তান্ত লইয়া তিনি যে ছুইথানি নাটক লিখিয়াছেন 
তাহা বিশেষ অভিনব এবং প্রশংসীয় সন্দেহ নাই। জীবননাট্য লিখিতে হইলে খুব সাঁব- 
ধানতা অবলম্বন করা উচিত, কারণ কোনে! প্রসিদ্ধ লোক সম্বন্ধে কিছু লিখিতে কল্পনাশ্রয়ী 
হওয়ার স্থযোগ কম। নাট্যকারকে বিশেষরূপে জানাশোন! তথ্যের উপর নির্ভর করিত 
হয়। জীবন-নাট্যের অভিনয় আরও দুরূহ ব্যাপার। অভিনেত। যদি তাহার আক্কৃতি এবং 
অভিনয়ের দ্বারা কোনে ভূমিকাকে জীবন্ত করিয়৷ তুলিতে ন্ব। পারেন তবে তাহা অমার্জনীয় 
অপরাধ বলিয়া বিবেচনা করা উচিত । কারণ বিসদৃশ আকৃতি এবং. দুর্বল অতিনয়ের 
দ্বার খ্যাতনাম! ব্যক্তি সম্বন্ধে আমাদের ধারণ ও শ্রদ্ধাকে ক্ষুণ্ন কর। হইয়৷ থাকে । নাট্য 
পরিচালকদের এ বিষয়ে অবহিত হওয়া উচিত। 

 শ্রীমধুস্থদন (১৯৩৯)॥ জীবন ও নাটক একরূপ মনে হইতে পারে, কিন্তু তাহারা 
এক নহে। জীবন বিধাতার অনিয়ন্ত্রিত খেয়াল আর নাটক শিল্পীর সঙ্ঞান ্থষ্টি। জীবন 
মাঝে মাঝে নাটকীয় হইলেও পুরাপুরি নাটক হয় না। তেমনি নাটক জ'বনকে অবলম্বন 
করিলেও জীবনকে ছাড়াইয়া যাওয়াই তাহার লক্ষ্য । এক কথায় বল! চলে, নাটক জীবনের 
অন্ুকৃতি নহে, প্রতিকৃতি, জীবন-নাট্য রচনায় নাট্যকারের শিল্পমুক্তি প্রতি পদে পদে 
জীবনের সামার দ্বারা ব্যাহত, সেই সীম! লঙ্ঘন কর। সহজ নহে, কারণ তাহা হইলে সত্যের 
অপলাপ ঘটে । সেজন্ত, জীবননাট্যে সাধারণত জীবনই আমর! দেখি, কিন্ত নাটা দেখি 
না। লেখক বলিয়াছেন, 'ইহ।! ইতিহাস অথবা জীবন-চরিত নহে- নাষ্ক। ইহার 
সমন্কু কথোপকথন ও অধিকাংশ দৃশ্য-পরিকল্পন। কাল্পনিক” কিন্তু কাল্পনিক হইলৈও 
মধুস্থদন ও অন্ঠান্ত চরিত্রগুলির কথোপকথনে অনেক প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ উক্তি ব্যবহার 
কর! হইয়াছে এবং দৃশ্য গুলিও ঝ্বন্তব জীবন হইতেই পরিক্কল্লিত হই্লীছে। বস্তত নাট্যকার 
মধুস্থদনের জাবনচরিতের প্রতি এতথানি সত্যনিষ্ঠ যে, কোন স্থলেই তিনি অসত্য ঘটনা ও 
চরিত্রের অবতারণা করেন নাই। অবশ্য এত নিকটবর্তী অতীতের জীবনকাহিনীতে শিল্পের 
অনুরোঁধেও সত্যের অপলাপ অথবা বিকৃতি কখনই পাঠক ও দর্শক বরদাস্ত করিতে পাঁরেন 
না। কিন্তু জীবন-কাহিনীর প্রত ঘটনাগুলির প্রতি বিশ্বস্ত নিষ্ঠার ফলেই আলোচুু 
নাটকথাঁনি বিচ্ছিন্ন ঘটনার গ্রন্থন হইয়াছে, অবিচ্ছিন্ন রসচেতনার সু শিল্পায়ন হইতে পারে 
নাই। জীবন-নাট্য রচনার একট! প্রধান অন্তরায় এই যে,__দীর্ঘ-বিস্তৃত জীবনের র্বপাঁয়নে 
সময় ও স্থানের কোন শিল্পসম্মত এক্য বজায় রাখা সম্ভব হয় না। আলোচ্য নাটকেও 
মধুজুদনের মাদ্রাজ ও ইউরোপ প্রবাসের দৃশ্যও বিক্ষিপ্ত ও মুূল-বিচ্ছিন্ন মনে হয়। নাটকের 


(বনফুজ/ ৩২১ 
মধ্যে বিভিন্ন দৃশ্ঠ থাকিতে পারে, কিন্ত দৃশ্ঠগুলি অদূরবিস্তৃত ও পরস্পরের সহিত অবিচ্ছেচ্য- 
ভাঁবে যুক্ত না থাকিলে আমাদের রস-সম্ভোগে ব্যাঘাত ঘটে। সময়ের ব্যবধান এক্স্পভাঁবে 
দেখান দরকার যে একটি সময়ের ভাব ও সংঘাত অনিবার্ষভাবে যেন পরবর্তী সময়ের 
মধ্যে পরিণত রূপ লাভ করে। 

কাল্পনিক অথবা করনাশ্রিত নাট্যকাহিনীর মধ্যে ন।ট্যকাঁর একটা মূলভাবের পরি- 
কল্পনা করিয়া অবস্থার ঘাত-প্রতিঘাত ও চরিত্র-দঘ্ন্দের মধ্য দিয়া তাহার শিল্পরূপ দান 
করেন। কিন্ত সত্য জীবনকাহিনীর মধ্যে এরূপ কোন মুঁনভাবের ব্ূপায়ণ সহজ নহে, কারণ 
জীবনের ঘটনাগুলি অনেকটা! এলোমেলো! ছন্দহীনভাবে ঘটিয়৷ থাকে । তবে “শ্রীমধুহ্দন, 
নাটকে একটি মূলভাব যে আবিফার করা যায় ন। তাহা নছে। মধুন্থদূনের জীবন একট! 
ট্র্যাজেডি এবং যথার্থ ই মর্সবিদারী ট্র্যাজেডি । মণুহথদনের জীবনীকার যোগীন্দ্রনাথ বন্থু তাহাকে 
তাহার স্্ট রাবণ চরিত্রের সহিত তুলন! করিয়াছেন। এই তুলনা সর্বতোভাবে সার্থক। 
কীতিমান ও সর্বক্ষমতাঁবান রাবণ যেমন অনৃষ্ঠ দৈবের নিষুর তাড়নায় নিঃশেধিত হইয়! গিয়াছেন 
মধুস্থদনও তেমনি বোধ হয় এক অলক্ষ্য বিধাতার নির্মম খেয়ালে মানুষের সবৌত্তম আকাজ্কিত 
সম্পদ লাভ করিয়াও সর্থহীর৷ পরিণামে আত্মবিসর্জন করিলেন। বোধ হয় তীহীরও শৃন্যবক্ষ 
ভেদ কারয়। ক্লেশাক্ত অনুযোগ উৎসারিত হইয়াছে-- 
কিন্ত দেব নরে 

পরাভবি, কীতিবৃক্ষ রোপিম্থ জগতে 

বুথ! নিদ|রুণ বিধি, এতদিনে এবে 

বামতম মম প্রতি; তেই শুখাইল 

জলপূর্ণ আলবাল অকাল নিদাঘে ! 
কিন্তু দৈবপীড়ন সত্বেও রাবণের ছুঃখময় পরিণতি তো তাহারই অন্তায় ও অপরিণামদশিতার 
জন্য ঘটিয়াছিলী। মধুস্দনের পরিণতিও যতই ক্লেশকর হউক তাহার মূলেও কিন্ত তিনিই 
ছিলেন প্রধান । অসংযম, অমিতাঁচাঁর, সমাজ ও ধর্মদ্রোহিতা প্রভৃতি স্বকৃত ভ্রান্তি ও অন্তায়ের 
জন্তই তো তাহাকে এরূপ শোচনীয় প্রায়শ্চিত্ত করিতে হইল। এই কারণগুলি বিশ্লেষণ 
করিলে তীহীর উন্নতি ও পতনের একটি মূলস্থত্র আবিষ্কার করা যায়, এদং তাহা হইল তাহার 
অদম্য উচ্চাশা । ম্যাকবেথের কথায়__ 

৬ 2.0101176 90001010105 711০1) ০0161 168199 10616 
4৯100 09115 01) 0186০ ০0061 
ধাহাদের আশ! অনন্ত, দৃষ্টি ধাহাদের সুদূর দিগন্তনীলিমায় নিবন্ধ তাহার! পারিপাস্বিক 
জগতের নিয়ম ও প্রয়োজন লঙ্ঘন করিয়৷ চলেন। ছোট সুখ ও ছোট আশার মধ্যে 
সঁহার ধর! দেন ন! বলিয়! তাহাদের জীবন অশান্ত ও আলোড়িত। তাহারা অগ্নি-পক্ষ 
বিহঙ্গের ম্যায় উধ্বে' অনস্তপথে বিদ্যযৎ্গতিতে ধাবিত হইতে হইতে হঠাৎ নিঃশেষ হইয়া 
যান। তাহাদের লক্ষ্য থাকে অলন্ধ কিন্ত নীল আকাশের বুকে তাহারা অম্লান আলোর 
৪১ 


৬২২. : বাংল। নাটকের ইতিহাস 

লেখা রাখিয়া! যান। ম্যাধ্যু আনন্ড শেলি সম্বন্ধে যাহা বলিয়াছিলেন তাহ৷ মনে পড়ে. 
€[1)61620008] 8082] 0280175 11) 006 ৮0 1719 10100115003 17169 11 ৪177. 
কৰি শেলির সৃহিত কবি মধু্ুদনের জীবনের অনেক দিক দিয়াই মিল দেখিতে গাওয়া 
যায়। শেলি হ্যারিয়েটকে লইয়! স্বধী হইতে ন! পারিয়। পরে মেরি গডউইনকে বিবাহ 
করিয়াছিলেন, মধুদ্ছদনও তেমনি রেবেকার পর হেন্রিয়েটার মধ্যে তাহার যোগ্য সহধর্নিণীকে 
লাত করিয়াছিলেন। শুধু কেবল এই দিক দিপ্না নহে, পাঠ্যাবস্থা হইতেই উভয়ের স্বাধীন 
চিন্তা ও মতবাদ, পিতৃবিরোধ, স্বপ্রচারিতা ও দুঃখময়তাঁর দিক দিরা' উভয় কবির মধ্যে 
অনেক সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। শেলি ও মধুহুদনের ন্যায় ধাহারা পুরাতন অন্ধকার 
পথ ত্যাগ করিরা নৃতন আলোকের পথে যাত্র। করেন তাহারা ছুঃখের কঠিনতম আঘাত 
লাভ করেন বটে, কিন্তু তাহাদের দুঃখক্ষত জীবনের উপর অনশ্বর আলোকের প্রসন্ন 
আশীর্বাদ বধিত হইতে থাঁকে। 

“বনফুল প্রথম দৃশ্যেই মধুস্ছদন চরিত্রের মূল শক্তি এই উচ্চ/শার কথাই উল্লেখ 
করিয়াছেন--ণু ০৪1) 106 7556 19816 আ৪5---]1700056 50981 0] ৪10 00 8000 8০ 01]] 
[1 829) 0160. 2100. 2৮21) 0) ] 51581] 5081, এই উচ্চাশার ফলেই তিনি পিতার ইচ্ছা 
মানিয়া লইতে পাঁরিলেন না» এবং পারিবারিক জীবনের সংঘাত এখান হইতেই আরম্ত 
হইল। বে খুষ্টান ধর্ম অবলম্বন করিবার ফলে পিতা ও পরিবারের সহিত তাঁহার বিচ্ছেদ 
ঘটল তাহীর মূলেও একটি উচ্চাশার অস্তিত্ব রহিয়াছে; মধুস্থদনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গৌরদাস 
লিখিয়াছেন--"০ 09069 70018175100 00100211015 90011090105) 007 0106 5815 
০ 2]. 10০2.--006 01611106106 06 1015 11665 016200--8 %1510 00 175191)0,+ 
একদিকে এই উচ্চাশা অন্যদিকে পিতামাতা, বিশেষভাঁবে মাতার প্রতি স্থগভীর আকর্ষণ - 
এই দুই বিরুদ্ধ ভাবের দ্বন্দ মধুস্ছদনের চরিত্রে খুব জীবন্ত হইয়া! উঠিয়াছে। মধুহুদনের 
পিতা রাঁজনারায়ণের মধ্যেও সুকঠোর বংশমর্যাদা ও আত্মীভিমানের সঞ্ধিত পুত্রক্নেহের 
ফন্তুন্বোীতের একত্রিত সমাবেশ হওয়াতে চরিত্রটি বিশেষ নাটকীয় ও রসোততীর্ণ হইয়। 
উঠিয়াছে। আর অভিমানী পিতা ও অভিমানী পুত্রের মাঝে জাহৃবী দেবীর নীরব, নিরুপায় 
অশ্রুসিক্ত 'মুত্তি সব তর্কদিতর্ক, জালা ও উত্তাপের উপর এক সকরিণ, ক্ষমাশীতল প্রভাব 
বিস্তার করিয়া রহিয়াছে । প্রকৃতপক্ষে তাহার মৃত্যু পর্যন্ত পিত৷ ও পুত্রের মধ্যে হৃদয় ও 
বুদ্ধিগত আদর্শ লইয়া স্নেহ ও অভিমান-ভরা যে সংঘাত চলিয়াছে তাহীতে জীবননাট্য 
নাঁট্যজীবনের শিক্পসম্মত পর্যায়ে উন্নীত হইয়াছে । কিন্তু তারপর আলোচ্য নাটকে জীবনের 
ধারা অক্ষুপ্ন রহিয়াছে বটে কিন্তু নাট্রস ক্ষুপ্ন হইয়াছে । অর্থাৎ চরিত্রগত সংঘাত এবং 
দ্বিভাবিভক্ত সত্তার বিক্ষেপ ও বেদন! একমাত্র বিংশ দৃশ্য ছাড়া আর কোথাও জমিয়া উঠে 
নাই। “বনফুলে'র সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব তাহার প্রাণবন্ত সংলাপে । মধুগ্দনের সংলাঁপে তিনি 
যাবতীয় জ্ঞাতব্য তথ্যের শুধু যে পরিপূর্ণ স্ধ্বহার করিয়াছেন তাহাই নহে, সেই সংলাপ 
বাক্যপ্রয়োগ-কৌশলে অত্যন্ত সরস ও আবেগময় হইয়া! উঠিয়াছে। মধুস্থদনের জীবনীতে 


যুদ্ধোত্তর নাট্যসাহিত্য ৩২৩ 


কবি ও কীত্িমান মধুন্ছদনকে জানিয়াছি আর শ্রীমধুস্থদন? নাটকে আমরা মানুষ মধুশ্ছদনকে 
চোঁখের সম্মুথে দেখিলাম । 

॥ রামমোহন (১৩৫৯) ॥ কথাশিক্গী নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় নবজাগ্রত বাঁডাঁলী জাতির 
অগ্রদূত রামমৌহনের অলোকসামান্ত প্রতিভা ও প্রভাবের দ্বার। আকৃষ্ট হইয়া এই নাটক 
রচন! করিয়াছেন । নারায়ণ বাঁবু চিত্রনাট্য রচনায় অভিজ্ঞ কিন্তু মঞ্চনাট্য রচনাতেও যে তিনি 
সিদ্ধহস্ত তাহাঁর পরিচয় এই নাটকে পাঁওয়। গেল। প্রাণময় সংলাপ ও নাটকীয় গতিবেগ 
সৃষ্টি করিয়া তিনি আলোচ্য নাটকে ঘনীভূত নাট্যরসের ধারা সঞ্চার করিয়া দিয়াছেন। 
নাটকে চিরসংগ্রীমশীল রামমোহনের এক নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামী রূপ দেখিলাম । এই সংগ্রামের 
আরম্ভ ত|হার পরিবারে এবং সর্বব্যাপী বিস্তার সমাজ ও দেশের সর্বাঙ্গীণ ক্ষেত্রে । সেজন্ত নাট- 
কের মধ্যে মোটামুটি ভাবগত এক্য বজায় রহিয়াছে, যদিও বিভিন্ন দৃশ্ঠের মধ্যে সময়ের ব্যবধান 
অনুধাবন কর! অনেক সময় কষ্টকর হইয়। পড়ে । তবে লেখক রামমোহনের বিলাত যাইবার 
পূর্বেই নাটকের উপসংহার টানিয়াছেন বলিয়৷ মোটামুটি স্থানগত কোন দূরবিস্বত অনৈক্য 
রসগ্রহণে ব্যাঘাত ঘটাইতে পারে নাই । রামমোহন অনেকের সহিতই সংগ্রামে লিপ্ত হইয়াছেন 
কিন্ত তাহার সর্বাপেক্ষ। কঠিন সংগ্রাম করিতে হইয়াছে নিজের গর্ভধারিণী মাতার সহিত। 
মাত ও পুত্রের এই সংগ্রামের মধ্যে কঠোর আদর্শবতী, স্বধর্মপরায়ণ জননী তারিণীর যে চিত্র 
পরিস্ফুট হইয়াছে তাহ কখনও মন হইতে মুছিবার নহে। প্ররুতপক্ষে এক অজ্ঞ/ন, অসহায় 
নারীর দৃঢ়নিষ্ঠার কাছে মহীজ্ঞানী, মহাঁবল রামমোহনের নিষ্ঠাও যেন ম্লান হইয়। যায়। মাতার 
সহিত রামমোহনের আচরণের মধ্যে ঠাহার কঠিন আদর্শ জয়লাভ করিল বটে, কিন্তু স্নেহশীল 
সন্তানের দুর্বলতা বাঁচিতে পারিল না । আলোচ্য নাটকে রামমোহনের বাহিরের অতি- 
মানবটিকে যতথাঁনি পাইয়াঁছি, ভিতরের হৃদয়বান মানবটিকে ততখানি পাই নাই। 


যুদ্ধোত্বর নাট্যসাহিত্য 


নাটক রঙ্গমঞ্চে অভিনীত হয় বটে, কিন্তু সেই রঙ্গমঞ্চের বাহিরে আর একটা বৃহত্বর 
রঙ্গমঞ্চ আছে। বস্তশক্তির নিয়ত-প্রবল সংঘাত ও বিপর্যয় সেই জীবন-রঙ্গমঞ্চে, ঘটিতে 
থাকে। তাহার প্রেরণা বাহিত হয় শিল্পীর মানসলোকে এবং মেই মানসলোক হইতে 
পুনরায় পাদপ্রদীপের সম্মুথে তাহার শৈল্পিক প্রকাশ । স্থতরাং নাট্যকারের কল্পনা ও 
নাঁট্যশিল্পীর অভিনয়ে জীবনের যে শৈল্লিক রূপ প্রাণবন্ত হইয়া উঠে তাহার মুলে রহিয়াছে" 
বৃহত্তর বস্তজীবনের অকাট্য অস্তিত্ব । দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের হুচনা হইতে পৃথিবীর মানসজীবনে 
অনেক ওলট-পালট হইয়। গিয়াছে । আমাদের জীবনও সুস্থ ও নিরাপদ থাকিতে পারে 
নাই। বস্তত ১৯৩৯ সাল হইতে ১৯৪৭ পর্যস্ত একদিকে বিশ্বযুদ্ধের সর্বগ্রাসী প্রভাবে ও 
অন্যদিকে আতান্তরীণ রাষ্ট্র-বিপ্রবে আমাদের নামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন নিদারুণ 


২৪ বাংল! নাটকের ইত্তিহাজ 


বিপর্যস্ত হইয়া পড়িয়াছিল। নাট্যজীবনের আলোচন! করিবার পূর্বে বাস্তবজীবনের পট- 
ভূমি সম্বন্ধে একটু সচেতন হওয়। দরকার। 

যে যুদ্ধে আমর! নিঙ্ষিয় দ্রষ্টার ভূমিক! মাত্র অভিনয় করিয়াছিলাম তাহা আমাদের 
স্থিত জীবনধারাঁকে লণ্ডভণ্ড করিয়া দিল কেন? ইহার উত্তরে হয়তো৷ বল! হইবে বিশ্ব- 
যুদ্ধের সর্বগ্রাসিতা, শীসকজাতির ভাগ্যের সহিত শাসিত জাতির বাধ্যতামূলক সহযোগিতা । 
তবুও বলিব যে, একটি নিরীহ, নিরপেক্ষ জাতির পক্ষে ইহা একটা অতি নিষ্ঠুর ছুর্দৈব। 
তাহা না হইলে এই যুদ্ধজনিত মন্বন্তরের কবলে আমাদের ত্রিশ লক্ষ দেশবাসীকে অসহায়- 
ভাবে যাইতে হইত নাঁ। দেশের সর্বত্র অশান্তি ও অসস্তোষ__মানুষের জান্তব পরিণতি ও 
মনুস্যত্বের শোচনীয় পরাঁজয়। জৈব অভাবের তাড়নায় ক্রমে ক্রমে চিরপোধিত নীতি ও 
সংস্কার জীবন হইতে খসিয়৷ পড়িল, অন্তরে-বাঁহিরে জুড়িয়া রহিল এক বিকৃত ক্ষুধার 
লোলায়িত জালা । বিপর্যস্ত জীবনের বিক্ষুব্ধ অন্তর্দেশ হইতে রাষ্ত্রিক বিপ্লব ধূমায়িত হইয়! 
উঠিল। বিপ্লবের জলদর্টিরেখায় ভাস্বর হইয়! উঠিল ছুইটি অগ্নিবাণী_-'ভারত ছাড়'। এই 
অস্তবিপ্রবের সহিত আর একটি বহিধিপ্রব যুক্ত হইল, সেই বিপ্নবের নেতা এক বজ্রসস্তান 
--তাহীর অকম্পিত অস্কুলী প্রসারিত দিল্লীর দিকে-_চলো! দিলী। ভিতরে-বাহিরে এই 
যুগপৎ আক্রমণে শাঁসকশক্তি বিব্রত হইয়া পড়িল। শাসন ও অত্যাচার নিক্ষল বুঝিয়া 
মে 'সাপোষরফার ছক খুলিয়া বসিল। রাজনীতির সতরঞ্চথেলা বেশ কিছুকাল চলিল, 
ইহাতে কে হারিল কে জিতিল জানি না। কিন্ত কুরুক্ষেত্র যুদ্ধট! যে ঘনাইয়া আসিল 
তাহ।তে কোন সন্দেহ রহিল না। অতঃপর কুরুক্ষেত্র যুদ্ধপর্ব। ইন্্রপ্রস্থ ও হস্তিনাপুর 
অর্থাৎ হিনুস্থান ও পাকিস্থান আলাদা হইয়া গেল বটে» কিন্ত যুদ্ধ থামিল ন৷। ইহার 
পর-_মহাপ্রস্থানের পথে? হ্যা, তবে কয়েকজন পাগডবের নহে, লক্ষ লক্ষ লোকের সেই 
পথে যাত্রা। জন্সজন্মান্তরের মাটির কোল ছাঁড়িয়। আসিল নিরুপায়, নিঃসহীয়, ভাগ্যহীন, 
ভবিষ্বতহীন অগণিত ছিন্নমূল নরনারী-_তাহাঁদের নবজীবনের স্বপ্ন অন্ধকারের ঝুক্ষে আর্তনাদ 
করিয়া মরিল। 

ইহাই আমাদের দেশের যুদ্ধকালীন ও যুদ্ধোত্তর ইতিহাস। এই বিপ্লব ও বেদনা 
সমাজমনকে যেমন তার চিরবদ্ধ মূল হইতে উৎ্থাত করিয়া ফেলিল শিল্পীমনকে তেমন কোন 
নবায়িত ভাবোম্মাদনায় মাতাইয়! তুলিতে পারিল না ইহাঁর কারণ হয়তো! বাহিরের প্রেরণার 
অভাব, হয়তো বা নাট্যকাঁরের অন্তর-প্রেরণার দৈন্ত । যাঁহাই হউক, যে সমসাময়িক 
সমাজ-চেতনা! ও সমস্যা-প্রাণতা অন্তত আংশিকভাবেও আমর! গল্প ও উপন্যাসের মধ্যে 
দেখি নাটকের মধ্যে তাহার .কোন বিকাঁশ না দেখিয়া আমরা হতাশ হইয়াছি,। 
বস্তত “নবান্ন “ছেঁড়াতার”, “নতুন ইহুদী”, “বাস্তভিটা», "তরঙ্গ" “অভ্যুদয়” এ রকম নিতাস্তই 
্ব্পসংখ্যক নাটকের নাম করা যাইতে পারে যেগুলি সমস্যাসচেতন হইয়াও জনসমব্ধনায় 
প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়াছে । ইহার কারণ কি-সমস্যাপ্রবণতার প্রতি সাধারণের স্বাভাবিক 
অনাসক্তি, সমস্যামূলক নাটক রচনায় নাট্যকারদের ব্যর্থতা, রঙ্গমঞ্চে সুযোগের অভাব ? 


যুদ্ধোত্তর নাট্যসাহ্িত্য ' ৩২৫ 


কারণ যাহাই হউক, তাহা লইয়া পরে আমর! বিচার করিব। আপাতত কয়েকখানি 
প্রসিদ্ধ ও প্রতিষ্ঠিত নাটকের আলোচন! আমরা করিব। 

॥ পথিক ( ১৩৫৮)॥ কালের যাত্রা চলিয়াছে অব্যাহত বেগে। সেই যাত্রা-পথের 
পরিবর্তন হয়, পথিকেরও পরিবর্তন হয়, আজিকাঁর সংশয় ও সংঘাতজড়িত পথে যে 
নৃতন পথিকের চল! স্থঞ্ণ হইয়াছে তাহার পদে পদে বাধার উপলখণ্ড, বীকে বাঁকে 
অনিবার্য সংগ্রামের অশান্ত বিক্ষোভ । শ্রেণীতে শ্রেণীতে আর মিলিত শাস্তি নাঈ, এক 
শ্রেণীর সহিত অপর শ্রেণীর নিদারুণ ছন্দ-কোঁলাহলে নিশ্চিন্ত শাস্তির পরিবেশ আজ 
নিষ্টুরভাবে পীড়িত। বর্তমান জীবনের এই তিক্ত অথচ একান্ত সত্য দিকটি আংশিকভাবে 
প্রকাশিত হইয়াছে এই নাটকটিতে । কিন্তু ঘটনা সংস্থাপনা ও চরিত্রাঙ্কনের দুর্বলতার জন্য 
নাটকের উদ্দেশ্য জোরালো হইয়া উঠিতে পারে নাই। নাট্যকার সাহসের সঙ্গে একই 
“সেটে” সমগ্র নাটকের কাহিনীটি স্থাপন করিয়াছেন। ইহাতে দৃশ্য-সংস্থাপনের বাহুল্য 
কমিয়াছে বটে, কিন্তু ঘটনার গতি ক্রিয়ার মধ্যে দেখাইবার অনেক সুযোগ নষ্ট হইয়াছে। 
কোলিয়ারীর অংশটুকু শুধু কেবল মৌখিক বিবৃতির মধ্য দিয়! প্রকাশ পাইয়াছে বলিয়া 
নাটকত্বের দিক দিয়া! মূল্যহীন হইয়! পড়িয়াছে। নাটকের সর্বাপেক্ষ! দূর্বল চরিত্রটি হইল 
স্বয়ং নায়ক অসীম। সে যে কি ভাবে “দুদিনের সহ-যাত্র'দের উদ্বদ্ধ ক'রে তাদের পথের 
দিশারী হয়ে সার্থক হ'ল” তাহা নাটকের মধ্যে একেবারেই অপরিস্ফুট । তাহার চারদিকের 
পরিবেশের সহিত তাহার ধীরললিত নায়কোচিত ভাব একেবারেই বেমানান ও অসহ্য । 
তাহার মৃত্যুও অসংলগ্ন রোমাঞ্চকর উপাদানের অংশীভূত হইয়াছে, এই মৃত্যু ঘটন! ও চরিত্রের 
অবশ্যন্তাবী পরিণাম নহে। খুনী ডাকাত সিংড়া সিঙের মুখে কৈফিয়তস্থচক বড় বড় কথাও 
অত্যন্ত অসঙ্গত ও বিরক্তিকর । রী 

॥ ছেঁড়ীতার ॥ বহুরূপী সম্প্রদায়-অভিনীত “ছেঁড়াতাঁর+ নাটকখাঁনি রঙ্গমঞ্চে বিশেষ সম্বধিত 
হইয়াছিল। পঞ্চাশের মগ্বস্তরের পটভূমিকায় রংপুর জেলার গ্রাম্য কৃষক সমাজকে লইয়াই 
নাটকখাঁনি রচিত। এই সমাজের একটি বিশেষ পরিবারের ছঃখ-বেদনা'র কাঁহিনীই নাটকের 
মুখ্য বর্ণনীয় বস্ত । নায়ক রহিমুদ্দী তাহার স্ত্রী ফুলজানক্কে ভরণপোষণ করিতে অসমর্থ হইয়া 
তালাক দিয়াছে। মগ্বস্তর সে সাধারণ লোকের স্থৃধীজীবনের মধ্যে কি ভয়াবহ সর্বনাশ 
ঘটাইয়াছিল এই ব্যাপারে তাহার প্রমাণ ধাঁওয়। যাঁয়। কিন্ত ফুলজানের সহিত রহিমুদ্দীর 
পুনশ্সিলনে মন্বস্তরের বাঁধা নাই, অন্ত কোন সাময়িক অথনৈতিক সমহ্যারও বাধা নাই, 
সেখাঁনে বাঁধা হদ্দিলের। নাটকের শেষ ভাগে যে মর্মাস্তিক অন্তর্বন্ব ও করুণ আত্মদানের 
চিত্র রহিয়াছে সেগানে প্রেমার্ত হৃদয়ের প্রতিবাদ ফুটিয়া উঠিয়াছে ধর্মবিধানের বিরুদ্ধে । 
নাটকের ভাষা সম্বন্ধে একটি আপত্তি হইতে পারে। নাট)কার যদিও মাইকেল, দীনবন্ধু 
গিরিশচন্ত্রের নজির দিয়াছেন, কিন্তু হীরা সকলেই বিশেষ বিশেষ দৃষ্ঠে টাইপ চরিত্রের 
মুখে আঞ্চলিক ভাব! ব্যবহার করিয়াছেন। একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছুর্বোধ ভাষা গোড়া 
হইতে শেষ পর্যস্ত কোন নাটকে ব্যবহার করিলে তাহা সর্বসাধারপের মনে কোন সামশ্রিক 


৩২৬ ' বাংল! নাটকের ইতিহাস 


রস সঞ্চার করিতে পারে কি ন! সে সম্বন্ধে সন্দেহ আছে। আঁবাঁর এই ভাঁষ ব্যবহার না 
করিলেও চরিত্রগুলি অন্বাভাবিক হইয়া যাঁয়। সমস্যা বটে। 

॥ অভ্যুদয় (১৩৫৩) ॥ আলোচ্য গীতিনাট্যটি কংগ্রেস সাহিষ্ক্য সঙ্ঘের দ্বার বনু 
জায়গায় অভিনীত হইয়া খ্যাতি লাভ করিয়াছে । ইহার বিষয়বস্ত ও রচনা-রীতি কিরণ 
চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ।রতমাতা।” ও “ভারতে যবন” নামক নাটি কা দুইটির কথ। মনে করাইয়া 
দেয়। ভারতের স্বাধীনতা-সংগ্রামের কয়েকটি স্তর গ্রানের মধ্য দিয়! ইহাঁতে বর্ণন। কর৷ 
হইয়াছে। গ্রাত্যেকটি অস্কের গোড়ায় স্থত্রধারের দীর্ঘ উক্তি রহিয়াছে, অবশ্য এ সব উক্তি 
আর একটু সংক্ষিপ্ত হইলে নাটকের গতি ও চমৎকারিত্ব বোধ হয় বৃদ্ধি পাইত। স্বাধীনতা! 
আন্দোলনে নেতানী স্থভাষচন্দ্রের প্রভাব নাটকের মধ্যে উল্লিখিত হয় নাই। ইহাতে আমাদের 
মন পীড়িত হয়। 

॥ নতুন ইহুদী (১৩৫৯) ॥ রাজনীতির উপরতলায় দেনাপাওনাঁর দরকসাঁকসি চলে, 
কালির ত্াচড়ে চুক্তির সাক্ষ্য থাকিয়া যায়। কিন্তু সেই কালির আঁচড় যে নীচেকার 
লোকগুলির হৃদয়ে রক্তের রেখ! হুইয়! উঠে তাহা! গ্রতিমুহর্তেই তাহার! বিক্ষত জীবনের মধ্যে 
অনুভব করিতে থাকে । স্বাধীনতার রথ আদিল বটে, কিন্তু তাহা দেশের মাটিকে ছুইভাগ 
করিয়া, আমাদের মিলিত জীবনের আঁশা আকাজ্ষা গুঁড়াইয়া দিয়া এক অনিশ্চিত 
অন্ধকারাচ্ছন্ন ভবিষ্যতের দিকে আমাদের স্ুস্থিত সংসারগুলিকে নিক্ষেপ করিল। ছিন্নমূল 
নরনারীর! মাটির মায়! ত্যাগ করিল কিন্তু পুনরায় স্বাধীন মাটির সহিত সন্থন্ধ স্থাপন করিতে 
পারিলু না। তাহাদের সংসার ছিন্ন হইল, মনুষ্তত্ব লুপ্ত হইল, জীবনের সর্বপ্রকার আশীভরস৷ 
নিশ্চিহ্ন হইয়! গেল। এই ভাগ্যহীন উদ্বাস্তজীবনের এক নিদারুণ বাস্তব চিত্র অঙ্কিত হইয়াছে 
আলোচ্য নাটকটিতে । একটি মধ্যবিত্ত হিন্দু পরিবার এবং তাহারই সহিত ন্নেহ-সম্পঞ্চিত 
একটি নমঃশুদ্র কৃষক পরিবারের কাহিনী নাটকের মধ্যে বণিত হইয়াছে । এই স্ুখে-শাস্তিতে 
অবস্থিত একটি গ্রাম্য নীড় হিংশ্র-কুটিল ঝটিকার মুখে পড়িয়া কি ভাবে ছিন্নভিন্ন হইয়া গেল 
তাহারই মর্মা্তিক বর্ণনা! রহিয়াছে নাটিকাটির মধ্যে । ইহাতে একদিকে শাণিত ও মার্জিত 
নাগরিক সমাজের কুণ্রী ও কদর্য কূপ যেমন উদঘাঁটিত হইয়াছে, অন্যদিকে তেমনি দারিদ্র্য ও 
প্রতিকূল.পরিবেশের সহিত সংগ্রাম করিতে করিতে কি ভাঁবে মনুষ্যত্বের শোচনীয় পরাজয় 
ঘটিতে পারে তাহার অতি ক্লেশকর পরিচয় দেখান হইয়াছে । পগ্ডিতের' পরিবার ধ্বংস 
হইল-_দুইথ্য। মরিল, পরী গৃহত্যাগিনী হইল, স্বয়ং পণ্ডিত মরিল, পণ্ডিতের জী বাঁচিয়াও 
মরিয়া রহিল। কিন্ত এই ধ্বংসের মধ্য দিয়া একটি তীক্ষ প্রতিবাদ হাহাকার করিয়। উঠে__ 
এই প্রতিবাদ নবলন্ধ স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, এই প্রতিবাদ হৃদয়হীন সমাজ ব্যবস্থার রিরুদ্ধে | .* 

॥ পরিচয় (১৯৫১) ॥ মাুষের সম্টিলিতু জীবনযাত্রাকে নিবিদ্ব ও শাস্তিপূর্ণ করিবার 
জন্যই সমাজের সৃষ্টি । অথচ সেই সমাজের শৃঙ্খলা যেখানে শৃঙ্খল হইয়া উঠে, সংস্কার যখন 
শাসনের রূপ ধারণ করে তখনই সুর হয় সমীজসত্তার সহিত ব্যক্তিসত্তার তীব্র সংঘাত। সেই 
মংঘাতের রূপ পরিস্ফুট হইতেছে আধুনিক উপন্যাস ও নাটকে । আলোচ্য নাটকেও 


যুক্ধোত্তর নাট্যলাহিত্য ৩২৭ 


সেই সংঘাতের পরিচ॥ দিবার চেষ্টা হইয়াছে । কিন্তু অত্যন্ত দুর্বল শিল্পকৌশলের ফলে তাহ 
ব্যর্থতায় পরিণতি লাভ করিয়াছে । প্রেমের চেয়ে বিবাহ বড়, না! বিবাহের চেয়ে প্রেম বড়, 
_ এই সমস্। বহুতর নরনারীর জীবনে মৌনবেদনায় আলোড়িত হয়ঃ এই সমস্যা নীরদ, লতা, 
নরেশ ও নিভার জীবনকেও বিক্ুঙ্ধ করিয়৷ তুলিয়াছে। কিন্তু ইহাই নাটকের একমাত্র 
সমস্ত! নহে। শশাঙ্ক ও আলি এবং নীরদ ও নিবারণকে অবলম্বন করিয়া ন্নেহ-অভিমান 
জড়িত পিতা পুত্রের সমস্তাঁও ইহাতে স্থান পাইয়াছে এবং তারপর নরেশ ও আভাঘটিত 
একটি কুৎসিত সামাজিক স্কট এবং সেই সন্কটের ত্রাণকর্তারূপে আলীর ইসলামী উদারতা! 
বইয়ের সমস্যাকে বহুমুখী করিয়া তুলিয়াছে। নাটকের মধ্যে হিন্দু সমাঁজ ও ধর্মের বিরুদ্ধে 
বিস্তর নালিশ ও গালাগালি আছে, কিন্তু সেই সমাজ ও ধর্মের কোন অনিবার্ধ হৃদয়- 
হীনতার দিক অকাট্যরূপে উদবাটিত হয় নাই । আলির মুখে নাট্যকার অনেক বড় বড় 
কথ! দেওয়! সত্বেও তাহার হিন্দুধর্ম বিদ্বেষ ও আভাঁকে লইয়া পলায়নের চেষ্টার মধ্যে কোন 
মহত্বের লক্ষণই আমর! খুঁজিয়৷ পাই না। ন্বধর্মদ্রোহিতাকে অনেকে উদ্দারতা বলিয়া গর্ব 
করেন, সেই গর্ব অবশ্য নাট্যকার করিতে পারেন। নাটকথানির প্রকাশিত সংস্করণে এত 
ুদ্রণ-প্রমাদ ও বনানের ব্যভিচার রহিয়াছে যে ইহা প্রায় অপাঠ্য হইয়া! পড়িয়াছে। 


_. ॥ জীবনটাই নাটক ১৯৫২) ॥ শিল্পী জীবনের আনন্দকে রূপে রসে অনবদ্য করিয়া 
আমাদের সম্মুখে তুলিয়। ধরেন, আমর! সেই আনন্দ লাভ করিয়া মুগ্ধ হই, ক্ষণকালের জন্য 
শিল্পীকে বাহবা দিয়া আমাদের কর্তব্য শেষ করি। শুধু তাহাই নহে, আনন্দের মত্তভোগের 
সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দাবী ও চাহিদাও অনন্ত মাত্রায় বাড়িয়৷ যায়, নিত্য নূতন পানপাত্রে 
নৃতন নৃতন পানীয় না হইলে আমাদের ক্ষোভ ও নালিশের আর অন্ত থাকে না। অথচ 
অ।মাঁদের করতালি-সম্বর্ধিত রঙ্গভূমির অন্তরালে আমাঁদের লুন্ধ কামনাঁকে পরিষ্তৃপ্ত করিবার 
জন্য যে ছু.সহ বেদনা সহিয়! যে প্রাণান্তকর সাধনা শিল্পীকে ক রয়৷ যাইতে হয তাঁহার খবর 
কে রাখি? অথচ তাহারাও মানুষ। মানুষের কামনা-আকাজ্া। স্ুখ-ছঃখ তাহাঁদের 
জীবনেও আছে। মঞ্চশিল্পীর সেই নেপথ্যবর্তী জীবনের হান্ত-করুণ দিকটি আলোচ্য নাটকের 
মধ্যে উদঘ1টিত হইয়াছে । অভিনয়ের ফ|কে ফাকে মঞ্চের অন্তরালে শিল্পীদের যে দারিদ্র্য ও 
মালিন্পীড়িত বাস্তব জীবন-লীলা! চলিতে থাঁকে তাহীই সহানুভূতির রসে আলোচ্য নাটকে 
উজ্জল করিয়। তোল! হইয়াছে। মঞ্চের প্রয়োজনে তাহাদিগকে যে কতখানি সাংসারিক ক্ষতি 
ও বিপর্যয় সহা করিতে হয় তাহারও পরিচয় নাট কখানির মধ্যে পরিস্ফুট হইয়াছে । নাটকের 
মধ্যে শিল্পীদের অভিনেতৃ-জীবন ও বান্তবজীবনের ছুই রূপ পাশাপাশি দেখান হইয়াছে। কিন্তু 
অভিনেতৃজীবনের পৌরাণিক অংশটুকু অত্যধিক প্রাধান্ত লাভ করাতে একট। স্বতন্ত্র নাট্যরসের 
সৃষ্টি করে এবং তাহার ফলে দর্শকের চিত্তও দিধা গ্রস্ত হইয়া পড়ে। পৌরাণিক অংশটুকু যদি 
আধার কিন্বা পটভূমি করিয়। তাহার মধ্য দিয়! শিল্পীর আদল জীবনের ইঙ্গিতগুলি প্রধান 
করিয়। তোল! হইত তাহ! হইলে ন।টকুখানি বোধ হয় আরও অধিক সার্থক হইত। 


৩২৮ বাংল! নাটকের ইত্তিহা্ 


দিগিক্দ্রচজ্জ বন্দ্যোপাধ্যায় 

সাম্প্রতিক নাটযকারদের মধ্যে ধাহারা বাংলা নাটককে ভাববিলাসহীন বস্তবাদের 
উপর প্রতিষ্ঠিত করিতে চাহিতেছেন তাহাদের মধ্যে দিগিন্দ্ন্্র বন্দ্যোপাধ্যায় অগ্রণী । 
ুদ্ধোভ্তর বাঙালী জীবনে যে সব প্রশ্ন ও সমস্তার আবর্তবিপ্রব দেখা দিয়াছে সেইগুলিই তাহার 
নাটকের পটভূমিতে বলিষ্ঠ রূপরেখায় অষ্কিত হইয়াছে । সেজন্ত আধিক সংকট, শ্রমিক ও 
মালিক বিরোধ, মেকি জাতীয়তা, সাশ্প্রদায়িক ঈর্ষাদ্ন্ প্রভৃতি অনিবার্ধরূপেই তাহার নাটকে 
আত্মপ্রকাশ করিয়াছে । যে বিশেষ দৃষ্টিকোণ দিয়। তিনি সমস্যাগুলিকে বিচার ও বিশ্লেষণ 
করিয়াছেন সে সম্বন্ধে মতভেদ ও আপত্তি উঠিতে পারে, কিন্তু তাহার স্বচ্ছ ও অকু& মতবাদ, 
অকৃত্রিম বস্তুনিষ্ঠা ও অপরিসীম দরদীদৃষ্টি সকলেরই অন্তর স্পর্শ করে। নাটক রচনা তাহার 
পক্ষে আর্টের ললিতবিলাস নহে, তাহা ছুংখত্রত সত্যসন্ধিৎসা। পরিবেশ রচনা, বাস্তবান্থগ 
সংলাপ-প্রয়োগ, আবেগদ্বন্দের বৈদ্যুতিক চাঞ্চল্য এবং ক্ষিপ্রগতিশীল ঘটনার মধ্য দিয়। তিনি 
তাহার নাটকে সার্থক নাট্যরস স্থষ্টি করিতে সক্ষম হইয়াছেন । 

/ ॥ অন্তরাল (১৯৪৫) ॥ মানুষের প্রচলিত নীতি ও বিধিব্যবস্থার অন্তরালে অবাঞ্ছিত 
সন্তানের যে অনুত্তরিত জিজ্ঞাস! প্রাচীনতম কাঁল হইতে জাগিয়৷ রহিয়াছে লেখক সেদিকেই 
আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছেন। কানীন পুত্রের সামাজিক অধিকার সম্বন্ধে নীতিঘটিত 
প্রশ্নটির মূলে হয়তে৷ অর্থনীতি রহিয়াছে, কিন্ত আলোচ্য নাটকে মিলের মালিক ও শ্রমিক- 
দ্বন্দের সহিত মাধবী ও ঝরণার সমস্াটির অনিবার্য যোগ নাই। কিন্ত নাট্যকার স্থবিনয়ের 
জন্য ঝরণার স্থগভীর অনুতাপ, মাধবীর চিরতৃধিত মাতৃত্ব ও ভবতোষের ছুনিবার আত্মদ্ন্বের 
'মধ্য দিয়! সম্যাটিকে হৃদয়ের বেদনা রক্তিম রসে জীবন্ত করিয়। তুলিয়াছেন। 

॥ তরঙ্গ ০১৯৪৬) ॥ জনসমুদ্রের উদ্বেলিত তরঙ্গ-সংঘাঁতের বাঁন্তব চিত্র উদঘাটিত হইয়াছে 
এ নাটকে । নাট্যকার ক্রমবিবর্তমান রাজনৈতিক আন্দোলনের ছুইটি স্তর এখানে 
দেখাইতে চাহিয়াছেন, প্রথমত কংগ্রেমী অহিংস সত্যাগ্রহ এবং দ্বিতীয়ত সাম্যবাদী সহিংস 
সংগ্রাম । নাটকের প্রথম ছুই অঙ্কে তৌলাবন্ধ আন্দোলনর নাঁয়ক'আদর্শবাদী দেশসেবক 
শশী এবং শেষ দুই অঙ্কে প্রধানত পুলিশের সহিত সংগ্রামের নায়ক তাহার পুত্র অমর। শশী 
ও অমরের পথ বিভিন্ন হইতে পারে, কিন্ত সত্যসন্ধ, ত্যাগত্রতী শশীর অরুত্রিম দেশানুরাগ 
সম্বন্ধে সংশয়ের কোনই কারণ থাকিতে পারে না। এই শশীর প্রতি অমর ও গোপাল প্রভৃতি 
যে ব্যবহার করিয়াছে তাহ! নিষ্ঠুর অরুতজ্ঞতার পরিচায়ক । শশী চরিত্রটি শেষদিকে নাট্যকারের 
কাছে. কোন মুল্য ও মর্যাদাই পায় নাই। নাটকের পরিবেশ ও সংলাপের মধ্যে প্রত্যক্ষ 
বাস্তবের জীবন্ত স্পর্শ রহিয়াছে। তীব্রগতি ঘটনাবেগ ও প্রতিবোধী শক্তিসমুহের প্ররু 
সংঘাতে নাটকখানি যথেষ্ট নাট/রসাত্মক হইয়! উঠিয়্াছে । 

॥ বাস্তভিট। (১৯৪৭) ॥ দেশবিভাগের পর পাকিস্তানে হিন্দুদের কি বিষম সমস্তা। ও সংক- 
টের সম্মুখীন হইতে হইগ্াছে,তাঁহ! একটি গ্রাম্য পাঠশালার পঙ্ডিতের পরিবারকে কেন্দ্র করিয়া 
দেখানে হইয়াছে । একথা অস্বীকার করিয়া লাভ নাই যে, ধর্মের ভিত্তিতেই যখন দেশ ছুই 


যুদ্ধোত্তর নাট্যসাহিত্য ৬২১ 


ভাগে বিভক্ত হইয়৷ পড়িল তখন একটি ধর্মীয় রাষ্ট্রে অন্ত ধর্মাবলম্বীর গক্ষে নিশ্চিন্ত স্থথ শাস্তির 
আশা! লইয়া বাস কর৷ সত্যই স্ুকঠিন। কফিলদ্দি ও আমীন মুন্সী মিলনের পথ দেখাইয়াছে 
বটে, কিন্ত সাম্প্রদায়িক উম্মস্ততাঁর সময় তাহাদের প্রভাব যে নগণ্য তাহ ভূক্তভোগীমাত্রই 
স্বীকার করিবেন। বাস্ততিট। ত্যাগ কর! মর্মচ্ছেদের মতই ক্লেশকর। কিন্ধ যে সবলক্ষ 
লক্ষ লোক বাস্তভিটা ত্যাগ করিয়া আসিয়াছেন ও আনিতেছেন তাহার! শুধু হুজুগ 
কিংবা মিথ্যা আতঙ্কে মাতিয়৷ আঁসিতেছেন না, নিরুদ্ধেগ শান্তি লইয়া! সমাঁজ গঠনের আঁশ। 
নিঃশেষ হইয়াছে বলিয়াই তাহার! চলিয়া আঁসিতেছেন । 

5 মোকাবিলা ( ১৯৪৯) ॥ একটি মধ্যবিত্ত পরিবারকে কেন্দ্র করিয়৷ নাটকথানি 
রচিত। অভাঁব-অনটন এবং বাহিরের রাজনৈতিক সংঘাত মধ্যবিত্ত বাঙালী পরিবারের 
স্থুথ ও শাস্তি বিপর্যস্ত করিয়া কি ভাবে পরিবারের লোকগুলিকে সব্বরিক্ত বিপ্লবের পথে 
টানিয়। আনে তাহারই বান্তব আলেখ্য ফুটিয়াছে নাটকের মধ্যে। তবে নাটকের মধ্যে 
ছুই বিরোধী সংঘাত স্পষ্টভাবে রূপায়িত হয় নাই। সমস্ত মত ও পথের দ্বন্দের উপরে একটি 
চরিত্র ব্যাকুল ও অসহায়ভাবে পরিবারের সকলকে তাহার স্নেহ ও মমতার পক্ষপুটে 
আচ্ছ।দন করিয়া রাখিবাঁর ব্যর্থ চেষ্ট। করিয়াছেন, তিনি হইলেন গৃহকর্রী ভদ্র । & 

॥ মশাল ( ১৯৫৪) ॥ সাম্প্রদায়িক সমস্য! লইয়া নাটকথানি রচিত। কিন্ত নাট্যকার 
এই সমস্যার যে কারণ নির্দেশ করিয়াছেন তাহ! খুব নির্ভরযোগ্য মনে হয় না। সাম্প্রদায়িক" 
বিদ্বেষ শুধু কেবল পুঁজিবাদী মালীকদেরই সৃষ্টি ইহা বিশ্বাস করিতে গেলে বাস্তব ঘটনার 
প্রতি উপেক্ষা করিতে হয়। নোয়াখালী, ত্রিপুরা, ঢাঁকা, বরিশাল প্রভৃতি জিলার স্থদূর 
গ্রামাঞ্চলে যে সাম্প্রদায়িক তাণ্ডব ঘটিয়া গেল তাঁহার পিছনে কি কতিপয় স্বার্থাদেষী 
মিল মালিকদের প্ররোচনা ছিল, না যুগ যুগসঞ্চিতি ঘোর, সাম্প্রদায়িক দ্বণারই প্রত্যক্ষ 
দায়িত্ব ছিল? লেখক শুধু কেবল হিন্দু-সা-্প্রদায়িকতাঁর চিত্রই অঙ্কন করিয়াছেন, সেজন্ 
সাশ্রদায়িকতার অপর দিকটি অবণিত হইয়া রহিল এবং তাহার নাটকও আংশিকত৷ 
ও পক্ষপাত-দৌবযুক্ত হইয়া পড়িল। মতির বোন ললিতার মানসদবন্দ নাটকের সর্বাপেক্ষা 
জীবন্ত অংশ। 


॥ ছুঃখীর ইমান (১৩৫৪)॥ ১৩৫০ ,সালের মম্বস্তরের পটভমিতে তুলসী লাহিড়ী 
আলোচ্য নাটকখাঁনি রচনা করিয়াছেন। নাট্যকারের “নিবেদনে” বল! হুইয়াছে-_ধন- 
তান্ত্রিক সভ্যতার চরম পরিণতি মন্বত্তরের দিনে এই চিরবঞ্চিত ও অবজ্ঞাতের দল, যাঁরা 
ধনলোভীর লোভের ঘুপকাষ্ঠে বলি হয়েছিল তাদের ছবি আকতেই এই নাটকের স্থষ্টি।, 
বিশ্বাসী যুদ্ধের দুরন্ত ক্ষুধার আক্রমণে আমাদের দেশের খাগ্য গেল, সম্পদ গেল, জীবন- 
ধারণের সামান্যতম দ্রব্যও নিমেষের মধ্যে বিলুগ্ত হইয়া গেল, সাধারণ মানুষ অন্নবন্ত্রহীন প্রেতের 
মৃত পথে প্রান্তরে ঘুরিতে লাগিল । শুধু তাহাই নহে. মানুষের পটরপোষিত নীতি, ধর্ম, 
সংস্কীর দুর্যোগের ঝড়ে জীণ পত্রের মত থসিয়া পড়িল। সমাঁজের এই অসহনীর বাস্তব 

৪6২ 


৩০ ০ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


অবস্থা নাটকে উদ্ঘাঁটিত হইয়াছে। কিন্তু নিকষ-কাঁলো৷ মেঘের প্রান্তেও শুভ্র রজতরেখার 
চকিত স্ফুরণ। মাম্থষের মৃত্যু-শ্রশানেও তাই মনুম্যত্বের জয়ের আসন পাতা। সেজন্ত 
ধ্মদীস ও ..বিলীতীর ভালোবাস! অন্ধকারের বুকে তারার মত ফুটিয়৷ উঠে, জামালের 
শোচনীয় ছুর্ভাগ্যও পিতৃন্নেহের আলোকে গৌরবাদ্িত হইয়। উঠে। ধর্সদাঁস চুরি করিল 
কিন্ত এ চুরি চোরকে মহৎ করিল এবং তথাকথিত সাধুলোকদের অস্তরও পরিবর্তন করিয়া 
দিল। মনুস্তধর্ম যেখানে আপন মর্যাদায় আসীন সেখাঁনে মানুষের নীতিনিয়ম, সংস্কার ও 
শাসন তাহাদের সব হীকডাক থামাইয়া পরাজয় স্বীকার করিতে যে বাঁধ্য। আলোচ্য 
নাটকেও মানুষীনীতির পরাজয় হইল বটে, কিন্তু জয় হইল মানুষের, মানুষীহৃদয়ের ৷ 


যে সব নাটকের আলোচনা আমরা করিলাম, সেগুলি রঙ্গমঞ্চে দর্শকের দ্বারা 
কিছুকাঁলের জন্য সন্বর্ধিত হইলেও একথা কখনই বলা চলে না যে, জাতীয় মনের উপর 
তাহারা কোন সুদূরপ্রসারী ও সামশ্রিক প্রভাব বিস্তার করিয়াছে। অবশ্য বর্তমানকালের 
সিনেমা ও অন্ঠান্ত বহুবিধ আমোদ প্রমোদের আকর্ষণের মধ্যে কোন নাটকের অনন্ত- 
প্রভাব আমরা কচি আঁশা করিতে পারি। সে কথা যাক। নাটকগুলির সীমাঁয়িত 
আবেদন ভ্ধইয়া আলোচনা করিতে গেলে গ্রথমেই বলিতে হয় যে, শুধু কেবল সমাঁজের বাস্তব 
সমস্যা ও যথার্থ প্রাণরূপ অবলম্বন করিয়া! নাটক লিখিলেই হয় না, সেই *সমস্যা ও প্রাণরূপ 
যতক্ষণ শিল্পসম্মত উপায়ে রসোতীর্ণ না হইয়! উঠে ততক্ষণ নাটক জনগণের চিত্ত জয় করিতে 
সমর্থ হয় না। মানুষের মতের পরিবর্তন হয়, মানুষের পথের পরিবর্তন হয়, কিন্ত মপরিবতিত 
থাকে মান্য । এই চিরন্তন মানুষটি যদি নাটকের মধ্যে ধরা না পড়ে তবে তাহার মূল্য ও 
প্রয়োজন সীমীবদ্ধ হইয়া পড়ে । অনেক আধুনিক নাট্যকার মান্ষকে বিশেষ বিশেষ শ্রেণী ও 
স্বার্থের কোঠায় ফেলিয়! তাহার সমগ্র রূপটি দেখিতে তুল্গিয়া যান। আমাদের দেশের কোঁন 
কোন লেখক ও নাট্যসম্প্রদায় নাটক রচনায় সোভিয়েট নাট্যকারদের সমাজ-বাস্তবতা ও 
বিশিষ্ট সমাজতান্ত্রিক মতবাদের দ্বার! অনুপ্রাণিত হইয়াছেন।১ বাস্তবত নিশ্চয়ই ভালো৷ এবং 
কোন প্রগতিমূলক মতবাদেও কখনই আপত্তির কাঁরণ নাই। কিন্তু সেই বাস্তবতাকে যেমন 
শৈল্পিক ভাবকল্পনায় অন্রঞ্জিত করা প্রয়োজন, মৌখিক মতবাঁদকেও তেমনি জীবন্ত হৃদয়রসে 
সঞ্জীবিত করা প্রয়োজন। তাহা না হইলে নাটক সংবাদপত্র ও তন্কথায় পর্যবসিত হয়। 
নাটকে জীবনের শিক্ষা আমর! লাভ করি, কিন্তু সে শিক্ষা স্কুলমাষ্টার অথব। ভাড়াটে বক্তার 


১। ১৯৩২ সালে 411-07101) 0070£:688 01 9০0516৮ 16615 যে বিবৃতি প্রকাশ করিয়াছিলেন 
তাহাতে আছে, "40০৮০ 81], 06 0001)60110695 8110 17186021081] 000010%617639 0? 61)6 81868 
260168610962010 01 8০0099ি65 1008৮ 1১9 0101660. 16) 010 0:01)161) 01 00)0 80111609] 1831)10101)) 0, 


শরম যা (01170006108 চঠাাগিলেছল। ঠা 002 ঘেঠা। ০টি 06 2৫৮৮9118া, 


যুদ্ধোত্তর নাট্যসাহিত্য . ৩৩১ 


শিক্ষা নয়। সে শিক্ষা আমাদের কল্পনাশক্তিকে জাগ্রত করে ও আমাদের অন্তরতম প্রদেশে 
প্রবেশ করে ।১ 

নাটকের অন্ভুৎকর্ষ ও ক্ষয়িফুণতার আঁর একটি কারণ দর্শকদের শৈথিল্য ও অনাসক্তি। 
আধুনিক সমাজ্-সচেতন নাটকের প্রতি তাহাদের কোন লক্ষণীয় উৎসাহ ও আনুকুল্য না 
দেখিয়াই নাট্যকারগণ এরূপ নাটক লিখিতে প্রেরণা পাঁন না। যে কয়জন মুষ্টিমেয় 
শক্তিশালী নাট্যকার এখনও নাটক রচন! করিতে সক্ষম তাহারা দর্শকদের এই মানসিক 
অসহযোগিতা লক্ষ্য করিয়াই দৃঢ় নিষ্ঠার সহিত সমাঁজ-বাস্তবতাঁকে অবলম্বন করিতে 
পারিতেছেন না। অবশ্ঠ বাস্তব সমস্যার প্রতি বীতরাগ হইয়া দর্শকগণ যে অপর কোন 
নাট্যধারার প্রতি আকুষ্ট হইয়াছেন তাহাও বল! চলে না। দৃষ্টাস্তত্বরূপ বল! যাঁয় ষ্বে, 
যুদ্ধের সময়ে ইংলগ্ডের নাট্য-আন্দোলন সমসাময়িক কঠোর বান্তবকে উপেক্ষা করিয়া 
শেকসপীয়রের নাটক ও কাব্যনাট্যের পুনঃপ্রবর্তনের দিকে একটি বিশেষ প্রবণতা দেখাইয়াছে। 
কিন্ত এরূপভাবে অতীতের কোন গৌরবাদ্বিত নাট্যরস পুনরানয়নের চেষ্টা বাংল! নাটকে দেখা 
যায় নাই। বহু-অভিনীত কোন নাটকের পৃষ্ঠপোষকতা করিয়া, অথবা তরল, বহিঃসর্বস্ব 
কোন নিরুষ্ট নাটকের প্রতি অনুচিত আসক্তি দেখাইয়া দর্শকগণ তাহাদের নিক্নগামী নাট্য- 
চেতনার পরিচয় দিয়াছেন; অবশ্ঠ শক্তিমান ও দৃঢ়নিষ্ঠ নাট্যকার তাহার সমসাময়িক 
দর্শকদের চাহিদা সম্বন্ধে অবহিত হইয়াও সম্পূর্ণরূপে তাহাদের অন্থগত হইয়া পড়েন না।, 
দর্শকদের রুচি ও মনোযোগ উদ্বোধিত করিবার জন্তই তাহাদের দৃষ্টি অনাগত ও বৃহত্তর রসিক- 
সমাজের প্রতি সম্প্রসারিত হয়।২ ছুঃখের বিষয়, এরূপ নাট্যকারের অভাব বর্তমানে আমর! 
বোধ করিতেছি । 

বর্তমান নাটকের দৈন্ত ও দুর্দশার বোধ হয় সর্বপ্রধান কারণ, রঙ্গমঞ্চ ও অভিনয় 
ব্যবস্থ(র শোচনীয় দুর্যোগ এবং সঙ্ঘবদ্ধ নাট্য-আন্দোলনের আত্যস্তিক অভাব । নাটক লেখ 
হয় অভিনয়ের উদ্দেশ্ে, নিছক পাঁঠের জন্য নহে। সেজন্ত অভিনয়ের স্ববাবস্থা না থাকিলে 
নাট্যকারগণ নাটক লিখিতে উৎসাহ বোঁধ করিবেন না, জ্নসাধারণও উৎকৃষ্ট নাট্যরস 
ভোগ করিবার স্থুযৌগ পাইবেন না। বাংলার সাধারণ নাট্যশালাগুলির অবস্থা এত করুণ 


১। অধ্যাপক নিকলের উক্তি প্রণিধানযোগ্য-*"100 00007176 01709660 19 0011086156 710% 11) 00৩ 
17811) 01 009 00116108] 05607) 6 1৪ ০৫008%6156 0015 11) 0100 96080 6109৮ 1৮ 8100869 ০00 
10766168968 810 90100019098 00 1708,211)801010, 0096 0৮000668698 06901) 17060 019 105৪৮ ০01 
11070810165 9100 07:79 6100 56] 6009 7010 0100 1751176 01 রা ০07: 60০ 60৮, 01 1001]. 60 
ডা৪]. 0000, 0০ 19081:09, 

7011৫ 10176 টব &. [২০01], 7১, 940, 


২৭ অধ্যাপক নিকলের মন্তব্য পুনরাক উদ্ধত করা হইল--[০ 001) 01 6007:80 19 0096 006 
168]]7 ৪6০06 0111610618৪ 06 10816 দা1)0 19 11) 00176 সা1610 1018 8710101)00, 0106 100 1085 
097109109 06810 60 19195. 90100 706100199 100 08 :2০০196101) 0£ দা 00০ 210161009 19 10697], 
02600600109 15905". 

77072 17751% 103 [1601], [9397 


৩৩২ বাংলা নাটকের ইতিহাস 


যে, একটি স্বাধীন জাতির রসবোধ দেখিয়া সত্যই লজ্জা হয়। যে সব নাট্যশালার 
কতৃ পক্ষগণ দর্শকদের অসংস্কৃত রুচি অনুযায়ী কেবল কয়েকখাঁনি সুপ্রতিষ্ঠিত নাটকের 
সম্মিলিত অভিনয়ের ব্যবস্থা করিয়াই তাহাদের কর্তব্য শেষ করিতেছেন, নব আঙ্গিকসমৃদ্ধ 
নবভাবায়িত নাটকের অভিনয়ের সুযোগ সেই সব নাট্যশালায় কোথায়? অবশ্ঠ নাট্যশালার 
পরিচালকদিগকে শুধু দৌষ দেওয়া চলে না। কারণ গুরুতর খণভারে পীড়িত ও নানা, সন্কট- 
জালে জড়িত হইয়া নিরুপাঁয়ভাবে তাহীদ্দিগকে কেবল অর্থাগমের” দিকে দৃষ্টি দিতে হয়। 
নৃতন নাটকের অভিনয়ে যে অনিশ্চয়তা ও ক্ষতির সম্ভাবন! রহিয়াছে তাহার জন্য কিরূপে 
তাহারা প্রস্তত থাকিতে পারেন? পেশাদার রঙ্গমঞ্চের বাহিরে বর্তমানে অনেক ভদ্র ও 
শিক্ষিত ব্যক্কিগণের দ্বারা বিভিন্ন নাট্যসম্প্রদয় গড়িয়া উঠিতেছে । তাহারা নবদৃষ্টি লইয়! নৃতন 
নাটকের অভিনয়-ধার! প্রচলন করিতে আগ্রহশীল। কিন্ত সে সুযোগ কোথায়? তাহাদের 
নিজন্ব কোন রঙ্গমঞ্চ নাই, । পেশাদার রঙ্গমঞ্চে অভিনয়ের আয়োজন করিতে হইলে এত 
অধিক অর্থের প্রয়োজন যে তাহা সংগ্রহ করা অনেক স্থলেই অসাধ্য হইয়া পড়ে, এবং 
তীহাদের নাদ্যোদ্দীপনাও অপূর্ণ ও অপরিস্ফুট থাকিয়! যাঁয়। এই সব বাঁধা ও অস্থবিধা 
দূরীকরণের জন্য বর্তমানে নাট্যামোদী ব্যক্তিদের দ্বারা সঙ্ঘবদ্ধ নাট্য-আঁন্দোলনের চেষ্টা 
হইতেছে। কিন্তু আমাঁদের দেশের সাম্প্রতিক নাট্য-আন্দোলন সম্বন্ধে আলোচন! করিবার 
পূর্বে আগে বিশ্বের সমসাময়িক নাট্য আন্দোলন সম্পর্কে একটু সন্ধান লওয়া যাক। 

আমাদের দেশের নাট্য আন্দোলনের সহিত যখন পাশ্চাত্য জাঁতিগুলির নাট্য 
আন্দোলনের তুলনা করি তখন অবাক হইয়! যাই । অবাঁক হইয়। যাই এই দেখিয়া যে 
ইতিহাসের ভীষণতম যুদ্ধের মধ্যে জীবন-মরণ সমস্তার সন্মুধীন হইয়াও তাহার! নাটক ও 
নাট্যশালাকে এত সজীব করিয়! রাখিয়াছে। বারুদের ধোঁয়৷ ও বোমার গর্জন উপেক্ষা 
করিয়। ইংলগ্ডের নরনারী নিশ্চিন্ত চিত্তে শেক্সগীয়রের ট্র্যাজেডি দেখিয়া আনন্দ-বেদনা 
লাভ করিয়াছে । নাট্য আন্দোলনকে ব্যাপক ও শক্তিশালী করিবার জন্য তাহারা 8: 
0০০০1] স্থাপন করিয়াছে, সাধারণ লোক ও নাঁট্যশালার মধ্যে ঘনিষ্ঠতর সম্পর্ক স্থাপিত 
হইয়াছে । নাট্যাভিনয়ের প্রসারে 07015 77০806এর নামও এই প্রসঙ্গে উল্লেখষোগ্য। 
ইংলগ্ডের স্তায় আমেরিকাতেও জনগণের হৃদয়ে নাট্যচেতন৷ জাগ্রত করিবার জন্য নানা 
চেষ্টা হইয়। আসিতেছে । এই বিষয়ে [৪610191 10176806  0:077061600০০এর উদ্যম 
বিশেষভাবে ম্মরণীয়। আমেরিকার আধুনিক নবীন নাট্যকাঁরগণ ওনিলকে অনুসরণ 
করিয়! বাস্তব নাঁট্যধারা অবলম্বন করিয়া চলিয়াছেন। তাহাদের মধ্যে অনেকেই সমসাময়িক 
সমস্তা বিশেষত নিগ্রো সমস্যা লইয়া নাটক রচনা করিয়াছেন। জার্মান অধিকামবেও 
ফরাসীদের নাট্যোদ্দীপন! বিন্দুমাত্র ক্ষুপ্ন হয় নাই। ইংলগ্ড ও আঁয়লণণ্ডের নায় ফরাসীদেশেও 
বাস্তবতার বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন গড়িয়া উঠিয়াছে। ফ্রান্সের প্রসিদ্ধ লেখক ]681 
/57০911এর নাটকে জ্এগতিক ভীবনের ছুঃখময়তা৷ ও ভাগ্যের অলঙ্য্যলীলার স্বর ফুটিয়া 
উঠিয়াছে। 


যুন্ধোত্তর নাট/স।হত্য ৩৩৩ 


£104111)-এর ন্যায় অতখানি ট্র্যাজিক না হইলেও 7০817 7৪001] 3906 জীবনের পঞ্ষিল 
ও কুৎসিত দিকটিই ভীহার নাটকে উদ্ঘাটন করিয়াছেন। আধুনিক কালে ফরাসী দেশেই 
বোধহয় নাটকের নব নব বৈচিত্র্য ও রসসমুদ্ধি সর্বাপেক্ষা বেশি দেখা গিয়াছে। বর্তমান 
বিশ্বে নাঁট্য-আন্দোলনের সমৃদ্ধতম রূপ আমর! দেখি সোভিয়েট রাশিয়ায় । ১৯৩৬" সাঁলে 
হিষাব করিয়। দেখ! গিয়াছিল যে, শ্রমিকদের কয়েকশত বঙ্গালয় বাদ দিলেও সমগ্র দেশের 
মধ্যে সাড়ে ছয় শতেরও অধিক রঙ্গালয় স্থাপিত ছিল। সোভিয়েট সরকারের স্তায় কোন 
সরকারই এমন অধিক পরিমাণে নাটক ও নাট্যাভিনয়ের পৃষ্ঠপৌষকত1 করেন না । সৌঁভিয়েট 
জনগণের অদম্য প্রাণশক্তি অফুরন্ত ভাবে তাহাদের নাট্যআন্দৌোলনের মধ্যে আত্মপ্রকাশ 
করিয়াছে । কিন্ত নাটক ও নাট্যমঞ্চের এত সমৃদ্ধি হইলেও নাট্যশিল্পের দিক দিয়া 
সোভিয়েট নাট্যকারদের কোন অসাধারণ উৎকর্ষ ও দূরবিস্তৃত প্রভাব লক্ষ্য করা যায় নাই ।১ 

উপরিলিখিত দেশগুলির নাট্য-আন্দোলনের পিছনে উহাদের সরকারের সক্রিয় 
আশ্গুকুল্য আছে বলিয়াই উহাঁদের নাটক ও নাট্যশালা প্রাণবন্ত আনন্দ ও শিক্ষার স্থল হইয়া 
উঠিয়াছে। বর্তমানে আমরাও স্বাধীন, সুতরাং বিদেশী শাসকদের দোহাই এখন আমর! 
দিতে পারি না। কিন্তু আমাদের সরকার অর্থ নৈতিক সম্পদবৃদ্ধির দিকেই বেশি মনোযোগ 
দিয়াছেন, সাংস্কৃতিক সম্পদবৃদ্ধির দিকে তাহারা ততখানি আগ্রহশীল নহেন। কিন্তু মাহুষের 
মুক্তি তো শুধু কেবল অভাব পূরণের মধ্যে নহে, সে মুক্তি যে প্রাণের আনন্দ-জাগরণে। 
স্মরণাঁতীত কাঁল হইতে ভারতের আকাশ-বাতাস, জল ও মাটির অণুতে অধুতে রূপে-রসে- 
সুুরে-ছন্দে সে স্থন্দরের আসন রচিত হইয়াছে তাহা যদি স্বাধীন ভারতের চিত্ত ধরিতে ন। 
পাঁরে তাহ! হইলে এই স্বাধীনতার মূল্য কি? কিছুকাল পূর্বে কেন্দ্রীয় সরকার একটি নৃত্য- 
সঙ্গীত-নাঁটক-আকাদেমি স্থাপন করিয়াছেন । স্থখের কথা । কিন্তু এই আকাদেমি যে 
কিভাবে এই বিরাঁট দেশের সর্বস্থানে নৃত্য, সঙ্গীত ও নাটকের সহিত জনসাধারণের সংযোগ 
ঘটাইতে পারিবেন তাহা দেখিতে এখনও বাকি আঁছে। অন্ত প্রদেশের কথ! থাক, কলিকাতার 
প্রসিদ্ধ নাট্যালয়গুলি যে ক্রমে ক্রমে অবলুপ্ত হইতে চলিয়াছে তাহা প্রাতিরৌধ করিতে কি 
কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের কোন দায়িত্ই নাই? সৌখীন নাট্যস্প্রদায়গুদি যে 
উপযুক্ত রঙ্গমঞ্চের অভাবে তাহাদের পরিকল্পিত অনেক নৃতন নাটকের অভিনয় দেখাইবার 
স্থযৌগ পাইতেছেন ন! তাহাদের উৎসাহ দান করাও সরকারের অবশ্ঠ কর্তব্য । 





১। সোভিয়েট নাট্য-আন্দোলন সম্বন্ধে আলোচন। করিয়। অধাপক নিকল' উপসংহারে বলিয়াছেন, 
“61095 109 6256 11) 005 106016 009 2081)5 00650606901 01০ 01510) সা]] ৪6100019066 ৪ 0696 
07%700610 12070189 £ 0 01)9 2)0100106, 10650], 21] 70 091) 899 19 01186, 0111659 80700 1089601- 
1)16098 118%0১81)1)087:00 ৪০ 1:000)6]5 £9 60102 56৮ 808581181015 0069106 019০ [0.5.১.0, 006 0010 
০৪1৪ 0৫ 000 30৭০0116100 150 ৪00986090. 1) 0:000011)6 110619 10016 0140 & 96068 0£ 10007 
[2055 800. ৫0০0:10919 07:01098, 26811910708]]5 800 1001007:1080108115 010-1981710060 11) 
(60)101009, ১০ 92 000 6916 01 00৪ 9০51০6৪1926 198 19625 815 19001007960, (10690:98 17) 8০901) 
0 ৪1) 8001001, | 





7০৮12 70276 &% 19010, 2,816 


৩৩৪ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


আশার কথা, নান। প্রতিকূল অবস্থার সহিত সংগ্রাম করিয়া! এবং বহু আধিক ক্ষতি 
স্বীকার করিয়াও অনেক নাট্য-সম্প্রদীয় বাংল! দেশের নাট্য-আন্দৌলনকে সম্মুখের দিকে 
লইয়া চলিয়াছেন। ইহাদের মধ্যে প্রথমেই নাম কর! উচিত ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘের। এই 
সম্প্রদায়ের সর্বাপেক্ষা গ্রভাবশ!লী নাটক বিজন ভট্টাচার্ধের “নবান্ন” ॥ “নবান্নের অভিনয়ে 
ইহারা রঙ্গমঞ্চের দৃশ্ঠসজ্জা ও শব-নিয়ন্ত্রণে অনেক সাহসিক নৃতনত্ব আনয়ন করিয়াছিলেন। 
ইহ।দের পরবর্তী নাটক “জবানবন্দী, ও “দলিল” এবং নৃত্যনাট্য “রাণার, ও “অহল্যা 
উল্লেখযোগ্য । বহুরূপী সম্প্রদায়ের “পথিক, “ছে'ড়াতার', “উলুখাগড়া" প্রভৃতি নাটকের 
অভিনয় খুবই জনপ্রিয় হইয়াছে। নাটকের মধ্য দিয়া সংগ্রামণীল সমাঁজ-বাস্তবাঁর রূপ 
উদ্ঘাটিন করাই ইহাঁদের উদ্দেশ্তে। মঞ্চের উপকরণ ও সাজসজ্জা যথাসম্ভব সরল ও 
বাস্তবাহ্ছগ করার দিকেই ইহাদের লক্ষ্য । জাতীয়তাবাদী নাট্য-আন্দোলনের সম্প্রসারণে 
অগ্রণী হইয়াছেন কংগ্রেস সাহিত্য সঙ্ঘ। ইহাদের প্রসিদ্ধ গীতিনাট্য "অভ্যুদয়, বার বার 
জাতীয় ভাবোদ্বীপিত দর্শকদের দ্বারা সন্বর্ধিত হইয়াছে । লিটল থিয়েটার ও বঙ্গীয় 
শেকৃসপীয়র পরিষ বর্তমানে বাঙালী দর্শকের কাছে শেক্সপীয়রের নাট্যরস নূতন করিয়া 
পরিবেষণ করিতে উদ্যোগী হইয়াছেন। তাহাদের প্রচেষ্টা প্রশংসার্হ সন্দেহ নাই। 
অন্তান্য নাট্যসম্প্রদায়ের মধ্যে লোক ও নাটক € ইহারা “আক্লকের নাটক ৩” 'ভাঙ্গন, 
“পথ? প্রভৃতি নাটকের অশ্ভিনয় করিয়াছেন ), অশনি চক্র, ক্রাস্তি শিল্পী সঙ্ঘ, উত্তর 
সারথি, লোক সংস্কৃতি সঙ্ঘ প্রভৃতির নাম উল্লেখযোগ্য । আচার্য গিরিশচন্দ্র সংস্কৃতি 
ভবনের অধ্যাপকদের ছারা গঠিত রবীন্দ্র-নাট্য-পরিষদের নামও বিশেষ ভাঁবে উল্লেখ করা 
উচিত। নাট্যাভিনয় যে অপরাধের নহে, অসন্মানের নহে, সংস্কারমুক্ত অধ্যাপকগণ 
সাহসের সঙ্গে তাহ! প্রমাণ করিয়াছেন । নাট্যআন্দোলনের সহিত তাহাদের সক্রিয় 
সংযোগের ফলে এই আন্দোলন দেশের সর্বশ্রেণীর সম্মিলিত জাতীয় আন্দোলনে পরিণত 
হইয়াছে। 

দেশের মধ্যে এই সব বিভিন্ন নাট্যসম্প্রদায়ের দ্বারা নাঁট্য-আন্দোলনের বিচ্ছিন্ন 
শক্তি 'সমূহ গড়িয়া উঠিয়াছে। কিন্ত পারস্পরিক সহযোগিতা ও স্থুশৃঙ্খল সংগঠনের 
অভাবে সেই শক্তিগুলি এক সম্মিলিত মহাঁশক্তি হইয়। উঠিতে পারিতেছে না । কিছুকাল 
পূর্বে স্থপ্রসিদ্ধ নাট্যকার শ্রীযুক্ত শচীন সেনগুপ্তের উদ্যোগে একটি নাট্য সম্মেলনের 
আয়ে।জন হইতেছিল। কিন্ত নানা কারণে সেই আয়োজন ব্যর্থ হইয়া! গিয়াছে । এখনও 
মাঝে মাঝে নাট্যসংগঠনের প্রস্তাব ও প্রচেষ্টা চলিতেছে, কিন্ত উল্লেখযোগ্য কিছু এখন 
পর্যন্তও ঘটিয়া উঠে নাই। তবে আমর! আশ! ছাড়ি নাই, কখনও আশা ছাড়ির 
না। বর্তমানে নাটকের দৈন্ত, নাঁট্যাঁলয়ের ছুরবস্থা, কিন্তু ইহা কখনও চিরস্থায়ী হইতে 
পারে না। কারণ আমাদের জীবনকে বাঁচাইতে হুইবে-্-সুন্বর, সানন্দ জীবন,-_নাট্য 
ভারতীর প্রসন্ন আশীর্বাদ আমাদের চাই। 91161001) 01)2125 তাহার সুগ্রসিন্ধ গ্রস্থ 
«২০ 7156806+-এ যাহা বলিয়াছেন তাহ। উদ্ধত করিয়া আমরা অন্ধকারাচ্ছন্ন বর্তমান 


পরিশিষ্ট ৩৩৫ 


হইতে আলোকোজ্জল ভবিষ্ততের দ্দিকে দৃষ্টি প্রসারিত করিয়া! রহিলাম--139986 ০] 
006 91101651700 006 1009০? ৩, 006 09551011151 0£ 106 5016150019 
19 03616 (01 21] ০ 56০---11101660 01515 ৮৩ 006 85011901015 0৫ 006 10100081) 
500], 16 66 0110 5086 1225 6661 066৮৮ 01 01:80060. 0250110১ 16 25 
706০8056 0136 ড151012) 006 0)10151706, 006 1151176 0£ 005 285 0825০ 10661) 50. 
[10616 192 ০০16 117 01) 1166 01 00০ 10010017500]. 1701008181 21559 11010 
0156 210001)১ 07১6 101:12018 00 21009010615 15000000560 891617001. 


পরিশি 


কে) বাংলা নাটক ও নাট্যশাল! 

বাংলা নাটকের অবনতি ঘটিয়াছে, ইহার পূর্ব গৌরব নাই, পূর্ব প্রভাবও নাই । 
এককালে এক একখানা নাটক দেশের মধ্যে সর্বব্যাপী চাঞ্চল্যতরঙ্গ স্থষ্টি করিয়! তুলিত, 
দর্শকদের চিন্তা-জগৎ ও কর্ম-জগৎ আচ্ছন্ন করিয়া ফেলিত। “নীলদর্পণ+, *চৈতন্থলীলা+ 
£প্রহলাদ-চরিত্র ইত্যাদি নাটকের বিম্ময়কর জনপ্রিয়তার কথা আমরা সকলেই জীনি। 
কিন্ত এখন রঙ্গালয়ে নাটকের অভিনয় অন্ান্ত শত প্রকার চিন্তা ও কর্মের মধ্যে একটা 
সামান্য ব্যাপাঁর মাত্র; নাট্যকারগণ এখন অজ্ঞাত ও অবহেলিত । ইহার কারণ আমরা বিশ্লেষণ 
করিতে চেষ্টা করিব। প্রথমে একটা কাঁরণ উল্লেখ করা যাইতে পাঁরে যাহা সব দেশের বর্তমান 
সাহিত্য সম্বন্ধে বল! চলে) তাহা এই যে, আধুনিক কালের অধিকাংশ শক্তিমান লেখক 
নাটক অপেক্ষা গল্প উপন্যাস রচনায় অনেক বেশি আগ্রহবান ও তৎপর হইয়াছেন। সুক্ষ 
মনন্তাঁত্বিক বিশ্লেষণ এবং জটিল সমস্যার অবতারণার পক্ষে নাটক অপেক্ষা! গল্প ও উপন্যাসের 
জগৎ অধিকতর উপযোগী । জেমস জয়েস অথবা ভাঞ্জিনিয়৷ উলফের মত ওঁপন্তাসিক নাটকের 
মধ্য দিয়া কখনই এমন নুক্মাতিহ্ক্ম বিশ্লেষণ করিতে পারিতেন না। নাঁটক রঙ্গমঞ্চের 
প্রয়োজনের দ্বারা সীমাবদ্ধ এবং ইহাতে বাহ্‌ ক্রিয়। অত্যাবশ্ঠক। সেইজন্ত নাটকের মধ্যে 
আধুনিক সাহিত্যিকদের উদ্দেশ্ত সম্যকভাবে সিদ্ধ হয় না।১ জগতের অন্তান্য দেশের 
সাহিত্যিকের মত বাংল! সাহিত্যেও সেই কারণে অধিকাংশ সাহিত্যিক গল্প ও উপন্যাসের 
মধ্যে নিজেদের প্রতিভার পরিচয় দিতেছেন। বাংল! নাটকের অবনতির দ্বিতীয় এবং প্রধান 


১। 4, 1901) তাহার 1089 চ00£1181) 0:1)68০' নামক গ্রন্থে এই [বিষয়ের গন্দর আলোচন। 
করিয়াছেন---7:1)6 0)6809 11] 81959 196 ০00961160 60 9010818% 01) 1১010. 61609 ) ৪17%59 ঘা] 
09 90909 081) 107: 10771591091 9051010 ; 008 01181906619, দম109065] ৪019016৮108 100:00002৫, 
20086 ৪1859 709 80116966017) & 109/0190] 81161) 60 6196 2)101) 198 01698660৪00) ৪ 7:০5০100- 
80০০1 006 700060 70058], [10616 091) 199 150 0081)6 0109] 810 81010601901) 01 0069০ 1170169- 
008 188 16962817090 70081) 21)006]0 0160 01 16669282010, 63007101)61)017)6 11) 0:81009019 
10800, , [776 2701687) 776946 0 ১5০01], 0, 194. 


৩৩৬ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


কারণ বাংলার রঙ্গালয়। ইহ! পূর্বে বহুবার বল! হইয়াছে যে, নাটক প্রধানত রঙ্গালয়ের 
উদ্দেশ্তেই লিখিত হইয়৷ থ।কে, রঙ্গালয়ের চাহিদা অন্ুসারেই নাটকের রূপ গড়িয়া উঠে। 
এমন একদিন গিয়াছে যখন রঙ্গালয়ের প্রয়োজন মিটাইতে পাঁরে এমন নাটক ছিল না, বাধ্য 
হইয়। অভিনেতাদের নাটক লিখিতে হইত। আর এখন এমন দ্দিন আসিয়াছে যে নাটক 
লেখ! হইলেও তাহা পড়িয়! থকে, খুব কম নাটকই মঞ্চস্থ হইবার সৌভাগ্য পহিয়া থাকে। 
লেখকগণ রঙ্গমঞ্চের অনুযায়ী, বিশিষ্ট অভিনেত। ও অভিনেত্রীর ইচ্ছা ও রুচি অনুযাঁয়ী নাটক 
লিখিয়! নাট্যপরিচালক ও নামজাদা অভিনেতাদের অনুগ্রহের প্রত্যাশায় ঘুরিতে থাকেন, 
এবং এইকপ চেষ্টা ও পরিশ্রমের ফল না পাইয়। ক্রমে ক্রমে নিরুগ্যম ও নিরুৎসাহ হইয়া 
পড়েন। * 

রঙ্গালয়গুলি যে বর্তমান নাট্যসাহিত্যকে পোষণ করিতে পাঁরিতেছে না তাহার কারণ 
ইহাদের ক্ষীয়মাণ 'ও দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থা । ইহারা কোনে। ক্রমে এখন টি"কিয়া রহিয়াছে, 
ইহাদের বিকাশ ও প্রসারের পথ যেন অবরুদ্ধ হইয়াই গিগ্লাছে। ইহার একট। কারণ অবশ্য 
কলাকৌশলময়ী সিনেম। । বর্তমান বিশ্বের আঁমোদ-প্রমোদের প্রধান উপায় এই সিনেমা । 
আমাদের দেশেও এই সিনেম! শুধু কলিকাতীয় নয়, বড় বড় সহরে নয়, সুদূর পল্লীগ্রামে পর্যস্ত 
অভিযান চালাইয়াছে। সিনেমার এই অপাধারণ জনপ্রিয়তার কারণ, ইহাঁর মধ্যে এমন 
কতকগুলি জিনিস রহিয়াছে যেগুলি আধুনিক সর্বসাধারণের পক্ষে উপযোগী। প্রথমত 
ইহাতে সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার সহজ ও সলভ, থিয়েটার অপেক্ষা ইহার 
প্রবেশমূল্য অনেক কম “বলিয়াই লোকে এত অধিক পরিমাণে ইহাতে যায়। দ্বিতীয়ত 
বর্তমান যুগ গতি ও দ্রততাঁর যুগ। এই বেতার এরোপ্লেন যুগে লোকে স্বর 
সময়ের মধ্যে কোনো অবিরাম আনন্দ উপভোগ করিতে চায়,» সিনেমা তাহার 
সেই ইচ্ছা পূরণ করিতে পারে। থিয়েটারের বহু সংস্কার সত্বেও ইহাতে একেবারে 
অবিচ্ছিন্ন ধারা বিধান কর! সম্ভবপর হয় নাই । তৃতীয়ত সিনেমাতে সর্বরকম চাহিদা 
অনুযায়ী অসংখ্য রকম উপাদান সমাবেশ করা যায়। সিনেমা! প্রধানত আলোকচিত্রের 
কল-কাঁয়দার উপর নির্ভর কলর; সেইজন্য ইহাতে নাচ-গান, নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্ঠ, 
উত্তেজক রোমাঞ্চকর ঘটন। ইত্যাদি দেখাইয়া দর্শকের মন ভূলাঁনো৷ খুব সহজ। আলোক- 
চিত্রের কারসাজিতে অনেক সাধারণ ব্যাপারও অনাধারণ হইয়। দেখ দেয়, ইহাঁতে দর্শকের 
মনে অল্লেই বিভ্রম জাগাইয়া তোলা যায়। সিনেমার এত স্থযোগ সুবিধা সত্বেও ইহা! 
উচ্চাঙ্গ লল্লিতকলা রূপে কোঁনোদিন পরিগণিত হয় নাই, এবং হইতে পারে না। ইহার 
কারণ প্রত্যেক শিল্পকলার প্রতিষ্ঠা হয় শিল্পীর সহৃদয় চেষ্টা ও সাধন! দ্বারা» কিন্ত সিনেমাতে 
যন্ত্রের রান্গত্, এখানে শিল্পীর স্থান গৌণ। রঙ্গালয়ে অভিনেতা এবং অভিনেত্রীকে 
পরিচালক ও মঞ্চ-ব্যবস্থাপকের সহযোগিতায় বইএর নিশ্রাণ তৃমিকায় প্রাণরন্নের সঞ্চার 
করিতে হয়। এখানে শিললী গৌরব ও আত্মপ্রসার্দ বোঁধ করিতে, সৃষ্টির আনন্দে চঞ্চল 
ও মত্ত হইয়। উঠিতে পারে। কিন্তু সিনেমায় বহুতর যন্ত্র ও যন্ত্রীর আজ্ঞাবাহী সে, সেখানে 


বাংল৷ নাটক ও নাট্যশাল ৩৩৭ 


উড়ের লীলা, প্রাণের স্থাষ্ট সেখানে নাই।১ আধুনিক যন্ত্রযুগে লোকের মন সম্পূর্ণ যন্ত্রময় 
হইয়! পড়িয়াছে। সারাদিন যন্ত্রের মত চলিয়া সে সিনেমায় যায় বিকৃত যন্ত্রময় আনন্দ 
উপভোগ করিতে । ইহ! তাঁমসিক বিকৃত মনোভাবের লক্ষণ, ইহা আমাদের ভবিষ্তৎ সম্বন্ধে 
হতাশ করিয়া তোলে । আমরা যন্ত্রের উপাসনা করিতে যাইয়া প্রাণের সাধনী হইতে দূরে 
চলিয়া যাইতেছি। আমাদের থিয়েটার আজ অনাদৃত ; "যাত্রা, কবিগান, পাঁচালী, কৃষ্ণলীলা 
ইত্যাদি মৌলিক আনন্দের উপায়সমূহ উপেক্ষিত; আর আমরা আবালবৃদ্ধবনিত! সিনেমার 
এক অসার ছবি দেখিবার জন্ত ভিড় জমাইয়! তুলিতেছি। আমাদের রসবোধের কি চমতকার 
অধোগতি হইতেছে তাহা দেখিবার বিষয় ! ৃ 

বর্তমানে যন্ত্রটালিত সিনেমার প্রসার এবং থিয়েটারের বিলোপ ঘটিতেছে, ইহাতে 
আমরা বর্তমান যুগের যন্ত্রমুখিতাঁকে দায়ী করিয়াছি, কিন্ত ইহার জন্য থিয়েটারের আভ্যন্তরীণ 
দৌষক্রটিও কম দায়ী নহে। সেইগুলি লইয়াই এখন আমরা আলোচনা! করিব। প্রথমেই 
থিয়েটারের দর্শকদের কথা বলিব। দর্শকর্দের কুচি ও সংস্কৃতি অনুযায়ী রঙ্গমঞ্চে নাট্যরস 
পরিবেষিত হয় । কিন্তু একট! অপ্রিয় সত্য কথা না! বলিয়া পারি না যে, বাংল! দেশের 
দর্শকগণের রুচির কদর্ধতা এবং শিক্পবৌধের নিক্নতাঁর জন্ত অনেক সময়েই যথার্থ উচ্চশ্রেণীর 
নাটকের বিকাশে বিদ্বু ঘটিয়াছে। নাট্যকাঁর নাটক লেখেন রঙ্গমঞ্চের জন্য, এবং রঙ্গমঞ্চের 
পরিচালক নাটক মঞ্চস্থ করেন দর্শকগণকে আকর্ষণ করিবার জন্ঠ, কিন্ত যখন তাহারা দেখেন 
যে রঙ্গমঞ্চে আসল অপেক্ষ। মেকির চাহিদা বেশি, তখন তাহার! স্থুলরচি ক্রেতাদের সম্বন্ধে 
অলক্ষ্যে মৃদু হাঁস্ত করিয়া ঢাঁক রাজাইয়৷ এই মেকি চাঁলাইতে তৎপর হন। আমাদের রঙ্গমঞ্চে 
চিরকাল এই মেকি নাটকের রাজত্ব চলিয়াছে। দর্শকগণ রঙ্গমঞ্চে যাইয়া ভানমতীর খেলের মত 
কয়েকটা অত্যা্চর্ধ দৃশ্ত দেখিয়া, কিছু অনাবশ্ঠক গান এবং অশোভন নৃত্যে মৌহিত হইয়া 
নাটকের দোষগুণ বিচার করিয়া বসে । যাহাঁদের শিল্পবোধ নাই, প্রকৃত রসজ্ঞতা নাই, 
তাহাদের দ্বার নাটক ও নাট্যমঞ্চ পরিপোধিত হইতে পারে না। বাংল! নাট্যমঞ্চের দুর্গতির 
ইহ! অন্ততম কারণ । : 

রঙ্গালফ্বের প্রযোজক এবং পরিচালকবৃন্দও সাধারণত নিছক.ব্যবসাঁ-বুদ্ধির ছার! চালিত 


১। রঙ্গমঞ্চের অসাধারণ শক্তিমান নট ও চিত্রঙগতের সর্ব।পেক্ষা। জনপ্রিয় অভিনেতা! স্বর্গত দুর্গাদ।স 
বন্দ্েপাধ্যায় মঞ্চ ও চিত্রের অভিনয় সম্বন্ধে যে অতি সারগর্ভ মত প্রকাশ করিয়াছিলেন তাহা নিয়ে উদ্ধৃত হইল 
_ 'অভিনেতৃজীবনের চরম সার্থকতাই হচ্ছে অভিনয়-শিল্ের প্রাণ প্রতিষঠা-_আর্টের বেদীমুলে নিজেকে উৎসর্গাঁ- 
কৃত কর]। পরর্ণয় আমাদের ষে সকল গতিবিধির ভেতর দিয়ে চরিত্রের প্রীণ প্রতিষ্ঠা কৌরতে হয় ত' 
একেবারে ভুয়ো ॥ রডীন চশমা পরলে যেমন সবই রডীন দেখায়-_-এও সেরূপ মেকী। মঞ্চে আমাদের দেখতে 
পাঁওয়! ষায় জীবস্তরূপে । বহু লোকের হুকুমের ভেতর দিয়ে কেউ আমাদের দেখে না। আমাদের দোষ ও 
জড়িত প্রতিভ! প্রকাশ পায় এখানে-_যা” দেখে লৌকে সহজেই আম।দের বুঝতে পারে । আর পর্দায় আমর! 
লোকচক্ষুর অন্তরালে কলের পুতুলের মত অভিনয় কোরে চলেছি। সে অভিনয়ে আমর! যে নিশ্দান্ততি পাই 
ত। আমাদের প্রাপ্য কতটা আমি জানি না। তবে এইটুকু আমি বলতে পারি ষে এ অভিনয় আমাদের 
কঙ্কালমাঞ্জ।' 

“ুর্গাদাস'-_ কালীশকুমার মুখোপাধায়। 


৪৩ 


৩৩৮ বাংল। নাটকের ইতিছাজ 


হইয়াই নাটক মঞ্চস্থ করেন। নাট্যভারতীর সাধনায় নিষ্ঠা এবং একাগ্রতা অপেক্ষা ব্যক্তিগত 
লাভ-লোকসানের হিসাব তীহাঁদের অনেক বেশি। ধাহাঁরা সত্যকারের আদর্শবারদী এবং 
শিল্পনিষ্ঠ মন লইয়। রঙ্গজগতে আসেন তাহাদের অনেককেই সর্বস্ব দিয়! শিল্পপ্রীতির প্রায়শ্চিত্ত 
করিতে হইয়াছে'। এইক্ধপ অনেক ধনী, নাট্যানুরাগীদের ইতিহাস আমরা জানি ।১ রঙ্গালয়ের 
কর্তৃপক্ষগণ যর্দি কেবল অর্থের অংকের দিকেই দৃষ্টিপাত করেন তবে তাহাদের দ্বার! নাট্য- 
শিল্পের স্থায়ী প্রাণপ্রতিষ্ঠ। হইতে পারে না। এই কারণেই বাংলার নাট্যশিল্প ক্ষয় পাইতেছে। 
অনেকেই দিনেম৷ অধিকতর লাভবান বলিয়। সেই দিকে ঝু'কিতেছেন, এবং ফলে অর্থবাঁন, 
ব্যক্তির আগ্রহ ও পরিপোষণের অভাবে অনেক রঙ্গশালা উঠিয়া যাইতেছে, অথবা সিনেমায় 
পরিণত হইতেছে। ঙ 

রঙ্গালয়কে আধুনিক যুগে বাঁচাইয়া রাখিতে হইলে আধুনিক যুগোপযোগী সংস্কার ও 
পরিবর্তন সাধন করিতে হইবে। অবশ্ঠ বর্তমানে রঙগমঞ্চের বহু নৃতনত্ব ও বৈচিত্র্য দাঁন কর! 
হইয়াছে । পাশ্চাত্য দেশে হএ৪10 30001 0815 এবং /১001016 &0018--এই ছুই 
ব্যক্তি পুরাতন রঙ্গমঞ্চের আমূল সংস্কার করিয়৷ সম্পূর্ণ নৃতন রীতিতে মঞ্চসজ্জ র উপায় উদ্ভাবন 
করিয়াছেন । [২6৬০1৮1105১ ৬৬/৪£০1)+ 9101017)5 90855 প্রভৃতি প্রবতিত হওয়ার পরে 
বর্তমানে রঙ্গমঞ্চের মধ্যে বহু পরিমাণে বাস্তবতা আনয়ন কর! সম্ভব হইয়াছে। আমাদের 
দেশের রঙ্গমঞ্চেও পাশ্চাত্য রীতি ও টেকনিক অনেক অনুস্থত হইতেছে । কিন্তু দুই এক 
বিষয়ে আধুনিক রীতি পদ্ধতি প্রবর্তন করিলেই রঙ্গালয়কে সমৃদ্ধ করিয়৷ রাখা যাঁয় না। 
রঙ্গালয়ের সমৃদ্ধির জন্য খাটি শিল্পগ্রাণ লইয়া নিষ্ঠা ও যত্বের সহিত সকলের আন্তরিক 
চেষ্টার মধ্যে সমবায় স্থাপন করিতে হইবে | বাংলা রঙ্গালয়ে ইহারই একান্ত অভাব। 

নাটক এবং রঙ্গমঞ্চের সাফল্য প্রধানত নির্ভর করে অভিনয়-শিল্পের পরে, কিন্তু এই 
অভিনয় শিল্প আমাদের দেশে ক্রমে ক্রমে লুপ্ত হইয়া আঁসিতেছে। আজকাল অভিনেতাদের 
ঝেশিক সিনেমার দিকে । সিনেমায় অভিনয়-শিল্লের বিকাশের কোনোই স্যোগ নাই; 
রঙ্গজগতে ধাহাঁরা অভিনয় করেন তাহাদের মধ্যেও এই শিল্পের সমৃদ্ধ বিকাঁশ হইতেছে না। 
বঙ্গ রঙ্গমঞ্চে অসাধারণ প্রতিষ্ঞুবান অভিনেতাদের লীলা আমর! লক্ষ্য করিয়াছি। কেশকনন্ত্ 
গঙ্গোপাধ্যায়, অর্ধের্দুশেখর মুস্তাফী, গিরিশচন্দ্র ঘোষ, স্থরেন্ত্রনাঁথ ঘোষ প্রভৃতি অদ্ধিতীয় 
অভিনেতৃবৃন্দের স্থৃতি বক্ষে রাখিয়৷ বাংলার নাট্যশাল! গৌরখাদ্বিত হইয়াছে । আধুনিক 
কালে যুগপ্রবর্তক নাট্যাচার্য শ্রীযুক্ত শিশিরকুমার ভাছুড়ী এবং অহীন্্র চৌধুরী, 
প্রভৃতি শ্রেষ্ঠ অভিনেতাঁদের অভিনয় লীলায় রঙ্গমঞ্চের দর্শকবৃন্দ মুগ্ধ, চমৎকৃত 
হইয়াছেন। ' কিন্তু ইহাদের সকলেরই বয়স হইয়াছে, বঙ্গ রঙ্গমঞ্চ আর বহুদিন ইহাঁদের 
দ্বারা সমুদ্ধ থাকিতে পারিবে না। কিন্ত ইহাঁদের পরে ইহাদের স্থান অধিকার করিতে 
' পারেন এমন অভিনেতা বর্তমানে দেখা যাইতেছে না। আজকাল বাঙালী দর্শকদের 


১। তৃপেন্দ্রকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় ভাহীর 'থিয়েট্রারের গুপ্ত কথা' নামক সরস গ্রন্থে থিয়েটারের উদগ্র 
নেশার পরিণতি এবং থিয়েটারের আভ্যন্তরীণ অবস্থা! সম্বন্ধে অনেক কথ! আমাদিগকে জানাইয়াছেন। 





বাংলা নাটক ও নাট্যশাঙগ। ৩৩৯ 


মধ্যে রঙ্গালয়-প্রীতি বজীয় আছে ইহাদের জন্যই, ইহাদের অভিনয় দেখিতেই 
রঙ্গালয়ে এখনও ভিড় জমিতেছে। ইহাদের অভাব ঘটিলে রঙ্গালয় হইতে দর্শকদের মন 
সম্পূর্ণকধপে বিষুক্ত হইবে। অভিনয়নৈপুণ্য শিক্ষাসাপেক্ষ ; অর্ধেন্দুশেখর মুস্তাফী, শিশিরকুমার 
ভাছুড়ী, অহীন্দ্র চৌধুরী, দুর্গাদীস বন্দ্যোপাধ্যায় প্রভৃতি শিক্ষকবৃন্দ স্থুনিপুণ শিক্ষার্ধারা কত 
সাধারণ লোককে উৎকৃষ্ট অভিনেতারূপে গড়িয়। তুলিয়াছেন তাহা আমর! জানি। কিন্ত 
আধুনিক কালে কয়েকজন শ্রেষ্ট অভিনয়-শিক্ষক বরমাঁন থাঁক৷ সত্বেও উপযুক্ত শিক্ষার্থীরই 
একান্ত অভাব। এখনকার তরুণ অভিনেতৃবৃন্দ একাগ্র নিষ্ঠা এবং আগ্রহ লইয়া শিক্ষ। 
গ্রহণ করিতে ইচ্ছুক নহেন, অভিনয়কলাঁর উন্নতিসাধন করিতে তাহারা প্রাণবান নহেন, 
আগ্রহবানও নহেন।১ বতমান রঙ্গমঞ্চের পরিচালকদের একটা "প্রধান ক্রটি এই যে 
তাহার! নাটকের সর্বত্র সমান দৃষ্টি রাখেন না। প্রধান অভিনেতা সম্বন্ধে তাহারা ঢকা 
নিনাদে প্রচার করেন বটে, কিন্তু ছোঁট ছোট ভূমিকাগুলি সম্বন্ধে তীহারা একেবারেই 
উদাসীন । তাহার ভুলিয়। বান যে, নাটকের সাফল্য নির্ভর করে স্কলের সম্মিলিত 
চেষ্টা এবং নিষ্ঠার ফলে, একটি অভিনেতার নিকৃষ্ট অভিনয়ে সমগ্র নাটকটার উচ্চাঙ্গের রস 
একেবারে মাটি হইয়া যাইতে পারে।২ অর্ধেন্দুশেখর মুন্তাফী সম্বন্ধে শুন! যায় যে তিনি 
ছোট ভূমিকাগুলির উৎকর্ষের প্রতি অধিকতর দৃষ্টি রাখিতেন, কিন্তু তাহীর সেই রীতি 
আজকাল সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হইতেছে । এখন যে কোন রঙ্গালয়ে গেলে শ্রেষ্ঠ অভিনেতাদের 
অপূর্ব অভিনয়নৈপুণ্যে আমাদের হৃদয়ে রসের সঞ্চার হয় বটে, কিন্তু অপ্রধান চরিত্রগুলির 
অসঙ্গত চেহারা, কুৎসিত হাঁবভাঁব এবং কদর্য অভিনয় আমাদের সেই রসতম্ময়তাকে 
মুণ্ডরাঘাতের দ্বারা নিশ্চিহ্ন করিয়া দেয়। পরিচালকগণ আরও একটি বিষয়ে অমনোযোগী । 
তাহারা অনেক সময়েই চরিত্র অনুযায়ী অভিনেতা নির্বাচন করেন না, অনেক সময়েই 
অভিনেতা অথবা! অভিনেতীর বসব এবং আকৃতি .কোনে। ভূমিকার রস সজনে গুরুতর 
পরিপন্থী হইয়। উঠে, অথচ সেদিকে কাহারও খেয়াল নাই । কোনো প্রসিদ্ধ গ্রন্থ পড়িয়। 
তাহার চরিত্রগুলি সম্বন্ধে আমাদের ষে রসান্ৃভূতি হয় হয়তো! সেই গ্রন্থের অভিনয়ের সময় 





১। তৃপেন্ত্রু্ণ বন্দ্যোপাধ্যায় ডাহীর “অভিনয়-শিক্ষা” নামক গ্রন্থে আধুনিক অভিনয়-কলার ক্রমাবনতি 
সম্বন্ধে আলোচন। প্রসঙ্গে বলিয়াছেন__'তরুণ অভিনয়ার্থাগণ গুরুজনকে অভিনয় শিক্ষার গ্রাহা না করিয়া নিজের! 
নিজেদের সকলের অপেক্ষ! বড় বিবেচনা করাতে,-_ক্রমে শিশিরবাবু নরেশবাবুং অহীন্্র চৌধুরী, রাধিকা 
মুখুষ্যে প্রভৃতি বর্তম!ন যুগের শ্রেষ্ঠ মুষ্টিমেয় নটবৃন্দের সঙ্গে দঙ্গে বাংলার রঙ্গালয় লুপ্ত হইবে,_একথ] লিখিয়! 
রাথিয়| দিন ।” 

'অভিনয় শিক্ষা'-_তৃপেল্কৃষ্ণ বন্যোপাধ্যায়, পৃঃ ১১৮। 


২। "অনেক সময় স্ুলিখিত নাটকও তেমন সাফল্য অর্জন করতে পারে না--তার একটা প্রধান কারণ 
অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র চরিত্রগুলির প্রতি পরিচালক এবং অভিনেতা উভয়েরই অবহেলা । পরিচালকের অবহেলার 
দরুণ যাকে তাকে ছোট ভূমিকায় নামিয়ে দেওয়] হয়? 

ৃ “মঞ্চে ও নেপখ্যে--মহেনুনাথ গুপ্ত, পৃঃ ৫৫ । 


৩৪০ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


সেই অনুভূতি সম্পূর্ণ নষ্ট হইয়। গেল। নাট্যপরিচাঁলকর্দের এ সন্থন্ধে সজাগ এবং অবহিত 
হওয়। বিশেষ কতব্য। অভিনয়-কলার অবনতি সম্বন্ধে চিন্তা করিলে প্রত্যেক নাট্যানুরাগীর 
মন বিষাঁদগ্রস্ত.হইয়। গড়ে । রঙ্গমঞ্চের কয়েকজন শ্রেষ্ঠ অভিনেতা এখনও জীবিত আছেন, 
তাহাদের দ্বারা অভিনয়কলার স্থায়ী প্রতিষ্ঠা যাহাতে হয় আমরা সেই আশা করিতেছি। 
আধুনিক কালের শ্রেষ্ঠ অভিনেত| শিশিরকুমারের কাছে আমরা আবেদন জানাইতেছি যে 
তিনি তাহার অনন্যসাধারণ অঠিনয়-কলার পরিচয় তাহাঁর পরবর্তী শিল্পীদের মধো ফুটাইয়। 
তুলিতে চেষ্টা করুন, অভিনয়-কলার অবলোপ হইতে ইহাকে রক্ষা! করুন। 

নাট্যশাল৷ ব্যবসার স্থান ইহা সত্য, কিন্তু ইহা শিল্পসাধনার কেন্দ্র বটে ইহা মনে ন| 
রাখিলে নাট্যশালার সত্যকারের উন্নতি হইবে না । দেশের নাট্যান্থরাগী ধনশালী ব্যক্তিগণ 
যদি রগ্ঈ1লয়ের দায়িত্ভার গ্রহণ ন। করেন তবে নাট্যুশিক্পনকে আর বীচাইয়৷ রাখা চলিবে না। 
রঙ্গলয়ের মধ্যে আভ্যন্তরীণ অগ্াব-অস্থুবিধা যাহ! আছে চেষ্টা করিলে তাহার দূরীকরণ কিছুই 
অসম্ভব ব্যাপার নহে। শ্রীযুক্ত মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত তাহার গ্রন্থে ( “মঞ্চে ও নেপথ্যে ) কতকগুলি 
প্রতিকারের বিষয় উল্লেখ করিয়াছেন ; যথা» থিয়েটারগুলির মধ্যে ব্যবসাগত এক্য, 2:০৩1- 
0০10 00 স্থাপন, রঙ্গালয়ের সহিত দেশের মনীষার সংযোগ রক্ষা, থিয়েটারের আতভ্যন্তরিক 
সমিতি গঠন ইত্যার্দি। একটু চেষ্টা করিলেই এই গুলি কাজে পরিণত করা যায় তাহা আমরা 
জৌঁর করিয়! বলিতে পারি। রঙ্গালয় দেশের জীতীয় সম্পদ; দেশের ভাব, চিন্তা, আশা- 
অ।কাজ্জার রূপায়ন হয় রঙ্গালয়ে। রঙ্গালয়ের মধ্যেই জাতির যথার্থ পরিচয় পরিস্ফুট হয়, 
স্থতরাঁং রঙ্গালয়কে রক্ষা এবং পোষণ কর! জাতির সর্বসাধারণের কত'ব্য। রঙ্গমঞ্চের 
অভিনেতা, পরিচালক এবং দর্শক সকলেরই চেষ্টা এবং উদ্যম হওয়। উচিত যাহাতে জাতির 
ভাবধারা ও সংস্কৃতির এই শ্রেষ্ঠ বাহককে তাহারা উন্নত এবং সমূদ্ধ করিতে পারেন। 
রঙ্গালয় যেন আমাদের অতীত গৌরব; বত মান সাধনা এবং ভবিস্তৎ সমৃদ্ধির পরিপূর্ণ পর চয় 
দিতে পারে আমাদের সকলের সেই লক্ষ্যই হওয়া উচিত। 

রঙ্গালয়গুলি বধিষণ, অবস্থায় থাকিলে তাহাদের প্রয়োজনে নাটট্য-সাহিত্যের বিকাশ 
ও উন্নতি সম্ভব হইবে । বতমানে নাটকের অবনতি একট! ক্ষণস্থায়ী অধ্যায় মাত্র, বাংলা 
নাটকের পূর্ণতর গৌরবের দিন ভবিষ্যতের গর্ভে নিহিত, এই আশা করিয়াই আমরা আছি। 
দেশের শক্তিমান লেখকবুন নাট্যসাহিত্যের চর্চা দ্বারা ইহার সমুদ্ধি সাধন করুন আমর! সেই 
আবেদনই করিতেছি। যে জাতি আনন্দরস হইতে বঞ্চিত সেই জাতি বড়ই হতভাগ্য । 
আমাদের দেশের জাতীয় নেতৃবৃন্দ ভগীরথের ন্তায় একনিষ্ঠ সাধনার দ্বার! নাট্যধারাকে 
আমাদের মধ্যে আনয়ন করুন ; এই নিশ্টেষ্ট নির্জীব, নিরানন্দ জাতি বাঁচিয়া উঠুক, ইহাই 
আমাদের কামন।। 


(খ) বাংল। নাটকের প্রাণধম 


অন্যান্য দেশের নাট্যকাহিনী সুদীর্ঘ কালের বিচিত্র ভাঙ্গাগড়, উথ!ন-পতনের 
ইতিহাসের মধ্যে প্রতিঠিত হইয়া আছে। কিন্তু বাঁংল৷ নাটকের ইতিহাসে কোন দীর্ঘকাঁল- 
ব্যাপী এতিহ্‌ নাই, মাত্র একশত বংসরের স্বপ্প-বিস্তৃত ক্ষেত্রে ইহার উদ্ভব ও বিবর্তন সীমিত 
হইয়৷ আছে। সেজন্ত স্থম্পষ্ট শির্লীয়ন ও ভাবচেতনা! অন্গযায়ী ইহাকে বিভিন্ন যুগে স্ুনির্টষটরূপে 
বিভক্ত করা সম্ভব নহে। কিন্ধ তবুও একথা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বাংল! নাটকের ধার! 
ভাব ও আঙ্গিকের দিক দিয়া একটানা ও বৈচিত্র্যহীন নহে। সমাঁজের ভাবতরঙ্গ যেমন 
ইহার বিষয়বস্তরকে প্রভাবিত করিয়াছে, তেমনি রঙ্গালয়ের বিবর্তন ও নাঁট্যশিল্প সম্বন্ধে 
জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা-বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ইহার আঙ্গি কেরও লক্ষণীয় প্রসার ও পরিবর্তন দেখা 
গিয়াছে। 

বাংলা নাটকের উৎপত্তি যাত্রা হইতে হয় নাই। পাশ্চাত্য রঙ্গমঞ্চের প্রবর্তন হইলে 
তাহারই প্রয়োজনে বাংল! নাটক আত্মপ্রকাশ করিয়াছিল এবং ক্রমে ক্রমে আঙ্গিকের দিক 
দিয়াও ইহা সম্পূর্ণরূপে পাশ্চাত্য নাটকের অনুবর্তন করিয়াছিল। কিন্ত তথাপি ইহা স্মরণ 
রাখিতে হইবে যে, বিদেশী নাটকের কল।কৌশল ও রীতিনীতি আত্মসাৎ করিবার চেষ্টা 
করিলেও ইহার প্রাণবন্ত জাতীয় ধার! ও চেতন৷ দ্বারা অলক্ষিতভাবে গঠিত হইয়াছে। অবশ্ঠ 
যিনি নাটক লিখিবেন তিনি যে নিজের দেশের ভাঁবচেতনা ছারা অনুপ্রাণিত হইবেন তাহা 
স্বাভাবিক এবং- তাহা হওয়াও উচিত।১ কিন্তু যেখানে ভাববস্ত প্রবলঞ্হইয়৷ বিশিষ্ট 
শিল্পাদর্শকে ক্ষুপ্ন করে সেখানেই হয় সমস্যার উদ্ভব। ভাঁব ও আঙ্গিকের সৃসমঞ্জস সঙ্গমের 
মধ্যেই সাহিত্যের পূর্ণ পরাকাষ্ঠা ) বাংল! নাটকে দেশী ভাঁব ও বিদেশী আঙ্গিকের মধ্যে 
অনেকস্থলেই বিরোধ দেখা গিয়াছে, এবং তাহীর ফলে নাট্যশিল্পের হাঁনিও হইয়াছে । অনেকে 
বলিয়৷ থাকেন, বাংলা নাটকের আলোচনায় বিদেশী আঙ্গিকের পুঙ্থানুপুঙ্খ বিচার যুক্তিসহ 
নহে, সঙ্গতও নহে। বল! বাহুল্য নাটকবিচারে তাহারা আঙ্গিক ও কলাকৌশলের দিকে 
তেমন গুরুত্ব আরোপ করেন না। সংস্কৃত নাট্যশিল্পের প্রভাব যে বাংলা নাটকে বিশেষ 
নাই (অবশ্ঠ প্রথম যুগের কয়েকখানি নাটক বাদ দিলে) দে বিষয়ে তর্কের তেমন কোন 
অবকাশ নাই এবং পাশ্চাত্য রঙ্গমঞ্চের প্রেরণা ও পাশ্চাত্য নাট্যাদর্শের প্রভাবে যে ইহার 
ক্র্মীবিকাঁশ ঘটিয়াছে তাহাও অবিসংবাঁদিত। সেজন্য বাংল! নাটকের দৌষগুণ নিধারণকালে 
শুধু ভাববস্ত নহে ইহার শিল্পরূপের প্রতিও সমান দৃষ্টি দিতে হইবে। কেবলমাত্র বিষয়বস্তর 
স্বদেশীভাব ও সংবেদনশীলতা দিয়া কোন নাটকের যথার্থ বিচার সম্ভব নহে। সেজন্ত বাংল! - 


১ গিরিশচন্দ্রের উক্তি প্রশিধানযোগ্য--'এজন্য যিনি নাটক লিখিবেন, তাহাকে দেশীয়ভাবে অনুপ্রাণিত 
হইতে হইবে । দেশীয় হবভাব-শোভা, দেশীয় নায়ক নায়িকা, দেশীয় অবস্থা, উপস্থিতক্ষেত্রে দেশীয় মানব- 
হূদয়-আ্রোত তাহাকে দৃঢর্ূপে মনোমধ্যে অক্ষত করিতে হইবে ।' ও 

সসাটাকার, 


৩৪২ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


নাটকের মূল্য-নিরূপণে যেমন ব্যক্তিমানস ও সমাজপ্রেরণাঁর দিক দিয়া বিষয়বস্র আলোচন৷! 
আবশ্তক তেমনি নাট্যশিল্লের রূপায়ণ সম্বন্ধে সুক্ম বিশ্লেষণও প্রয়োজন । ' 

নাট্যশিল্পের আলোচনা করিলে দেখ! যাঁয় যে, ইহার মধ্যে কল্পনার লীল। অপেক্ষ৷ 
বাস্তবের ক্রিয়াকেই অধিক প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন । নাটকের প্রথম ও প্রধান আবেদন 
হইল দর্শকের চোখে ও কানে। অবশ্ঠ দর্শকের কল্পনামগ্র মন নাটারস সম্ভোগকালে যে 
সক্রিয় থাকে না তাহা নহে, কিন্ত তবুও যে বিষয়বস্ত বাহ আচরণ ও অঙ্গভঙ্ির মধ্য 
দিয়! প্রকাশযোগ্য তাহাই তাহার চিত্তে স্বতঃস্বূ্ত রসতম্ময়তার উদ্রেক করে। যে 
জাতি জগৎ ও জীবনের বস্তসত্তার বিচিত্র লীলার প্রতি কৌতুহলী ও অনুরাগী তাহাদের 
মধ্যেই নাট্যশিল্প বিকাশের অনুকুল ক্ষেত্র প্রস্তুত হইয়া থাকে। বাঙালী ভাবপ্রবণ 
বন্তবিমুখ জাতি, সেজন্য তাহাদের মানস-ভূমিতে নাট্যজগতের প্রতি স্বাভাবিক অনুকূলতা 
নাই। বস্তবিশ্বের কঠিন মৃত্তিকা অপেক্ষা ভাবলোঁকের কুহেলিমায়ায় তাহাদের চিত্তের 
আসক্তি অনেক বেশি, সেজন্য নাটকের নিয়ম-নিবদ্ধ রুক্ষ সত্য অপেক্ষা গীতিকাব্যের 
বাধাবন্ধনহীন উদ্দাম বিলাস তাহাঁদের কাঁছে অধিকতর রুচিকর। একারণেই বাংল! নাটক 
আলোচনায় আমর! দেখিতে পাই যে, নাটকের পরিমিত পরিবেশ গীতিকাব্যের উচ্ছ্বাসতরঙ্গে 
অনেক স্থলেই ভাসিয়। গিয়াছে, বস্তৃবিশ্লেষণ ফেনিল ভাবাবেগে তরল হইয়! পড়িয়াছে। 
কর্মে যেখানে পঙ্গৃতা বাক্যে সেখানেই আবার অত্যধিক পটুতা। কর্মজীবনের প্রতি 
বাঙালীর একটা উদার বৈরাগ্য থাকিলেও বাগবীর্ষে বাঙালীর কোথাও নৃনতা দেখ! যায় 
নাই। এই জাতীয় প্রগলভতার চিহ্ন নাটকের মধ্যেও সুস্পষ্ট । সেজন্য বহু বাংল নাটকে 
দেখা যায় কোন চরিত্র একবার বক্তৃতা আরম্ভ করিলে আর থামিতে চায় না, নাটকের 
নিয়ম ও শাঁসন ভাসাইয়া দিয়। তাহা! অবিরাম অনর্গল বহিয়া। চলে। বস্তজীবনের প্রতি 
এই নিস্পৃহ নিরাসক্তির ফলে বাংলা নাটকে গতিবেগ ও ঘাতপ্রতিঘাত তেমন জমাট 
বীধিয়া উঠিতে পারে নাই। বাহথজগতে গতির স্পন্দন আমর! অনুভব করিতে পারি, 
সেখানে সমাজ ও ব্যক্তিসত্ীর মধ্যে অহরহ নানা সংঘাত অনিবার্য হইয়া উঠিতেছে। 
কিন্তু কল্পনালোকে কোন গতিচাঞ্চল্য কিংবা বিরুদ্ধশক্তির সংঘাত নাই, সেখানে সব 
কিছুই -এক সর্বব্যাপী সামঞ্রস্ত-রসে নিশ্চল ও মধুর হইয়া আছে। বাংলা নাটকের 
রচয়িতাঁগণ তীহাদের নাটকের বিষয় অনেক স্থলেই ক্রিয়াময় বস্তজগতের উধ্বে” নিক্ষিয় 
ভাবজগতে উন্নীত করিয়াছেন, সেজন্ত তাহাদের নাটকের বস্তদবন্ব নিশ্রভ হইয়া আসিয়া 
এক আত্মগত শাস্তরসে সমাহিত হইয়া গিয়াছে । যেখানে ইহলোকের উপর পরলোকের 
আধিপত্য, পুরুষক্কার অপেক্ষা দৈবই প্রধান সেখানে মানুষের গতি ও সংগ্র!মের»মূল্য 
কোথায়? 

এই সংগ্রামশীলত! ও জীবনশক্তির অভাবে বাঙালীর নাট্য সাহিত্যে খাটি উনাজেডির 
বিশেষ অভাব পরিলক্ষিত হয়। ট্র্যাজেডিতে মান্ষের ইচ্ছার বিফলত, ও সংগ্রামের ব্যর্থত। 
দেখা যাঁয় বটে কিন্তু তবুও ইহা আলোচনা কর! প্রয়োজন যে জীবনের মূল্য সম্বন্ধে গভীর 


বাংল! নাটকের প্রাণধর্্ম ৩৪৩ 


ভাবে সচেতন না হইলে ট্র্যাজেডি রচনা ও উপভোগ কর! সম্ভব নহে। ট্র্যাজেডি মায়াবাদ 
নহেঃ নৈরাশ্টবার্তও নহে।১ কিন্তু ইহা বিফলীকৃত মানুষের হৃদয়জালার অগ্নিপত্র ৷ 
এই জাঁল। তাহাকেই সহিতে হয় যে জীবনকে নিবিড় ভাঁবে ভোগ করিতে চায়। জীবনকে 
যে ফাকি দিল, জীবনের সমস্যাকে যে এড়াইয়া গেল সে এই জ্বালা হইতে নিষ্কৃতি পাইল 
বটে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে জীবনের পরম আন্বাদ হইতেও বঞ্চিত হইল। ট্র্যাজেডির এই বিষাদ- 
মধুর রূপ বাঙালী সমগ্র চিত্তকে উন্মুখ করিয়। উপভোগ করিতে পারে নাই ৷ পুরুষকারের 
ব্যর্থ সংগ্রামের প্রতি আমাদের কোন স্পৃহ| নাই, বিশ্বাসও নাই। কিন্ত একটা" তর্ক 
এথানে উঠিতে পারে যে, ট্র্যাজেডির মধ্যে অনেক স্থলেই দৈবশক্তির আধিপত্য পরিলক্ষিত 
হয়, স্থৃতরাং দৈববাদী বাঙালী জীবনে তো! ট্র্যাজেডি ভালে! লাগিবারই কথ|। এই প্রশ্নটি 
সম্বন্ধে একটু ভালে! ভাঁবে বিচার করা দরকার। দৈবশক্তির নিরঙ্কুশ শাসনে কোন 
ট্র্যাজেডি নাই, কিন্তু যেখানে এই শাসনের বিরুদ্ধে মানুষ সক্ষম প্রতিরোধ জানাইয়৷ ব্যর্থ 
হইয়াছে সেখানেই ট্র্যাজেডি । আ্যাঁগামেমনন, ইডিপাস, ম্যাকবেথ, লিয়র প্রভৃতি জগতের 
শ্রেষ্ঠ ট্র্যাজিক চরিত্রের জীবনে এই ট্র্যাজেডিই দ্েখ। গিয়াছে ।২ নিক্ষিয়তাবে নিষ্ঠুর ভাগ্যের 
কাছে আত্মসমর্পণের মধ্যে কোন ট্র্যাজিক দুঃখের গরিমা নাই। ত্যারিস্টোটল সুস্পষ্টভাবে 
বলিয়াছেন যে, ট্র্যাজেডি ক্রিয়াশীল মানবজীবনকেই অনুকরণ করে।৩ কিন্তু বাংলা নাটকে 
এরপ ক্রিয়াশীল চরিত্রের ট্র্যাজেডি খুব কমই লেখা হইয়াছে । আমাদের ট্র্যাজেডির আদর্শ 
£প্রফুল” নাটকের যোগেশ, যে হাত পা গুটাইয়। নিশ্চিন্তভাবে দুঃখের আঘাত মানিয়া 
লইয়াছে। প্রকৃতপক্ষে বাংলা নাটকে ভীমসিংহ, নূরজাহান, বিক্রমদেব, ক্ষেমঙ্কর এরকম খুব 
অগ্প কয়েকটি চরিত্রের নাম উল্লেখ করা যায় যেগুলি সংগ্রামশীল ট্র্যাজিক চরিত্রের মহিমা 
লাভ করিয়াছে । অধিকাংশ বিষাঁদাস্তক নাটক হয় দার্শনিকতা ও আধ্যাত্মিকতার 
কুজ্বাটিকায় আচ্ছন্ন হইয়! গিয়াছে আর ন]| হয় করুণরসের প্রাবল্যে তরল হইয়া পড়িয়াছে। 
বস্তত বাঙালীর কোমল চিত্তবৃত্তিতে ট্র্যাজেডির রুক্ষ-কঠোর ছু.খ অপেক্ষা করুণ রসের আবেগ- 
বেদন! অধিক সম্বর্ধনা লাভ করে। সেজন্য অধিকাংশ নাঁটাকার ছুঃখের সংহত, নিরুদ্ধ রূপ 
অপেক্ষা। ইহার উচ্ছ্াসপ্লাবিত স্নিগ্ধ ব্ূপই তাহীদের নাটকে দেখাইতে চাহিয়াছেন। “নব- 

১) 0] 15008%৪এর মত উল্লেখযোগ্য--30৮ 11 ০1790 0 11110 91017798910]: 618০ 10000. 
[0086 6০756181157 11000060 07 £52 0220505, 1৮ ০৪1৭ ০67:69101]5 1106 108 6109 7:6910080107) 
1001 90069170006 01 6319601)06. 1166 8901708 ৪ 90010 (1169 17861016617 980, 1006 1006 ছা0:018- 
19897 11)91)106]0 [7:80119, 366 17959] 12800 11)621096] 0018. 


--772060/, (10017 77655, 212. £7519., ) 7১. 40. 


২। "1109 1605৪ 0৫ 68০৫5, 1০0) %001906 &00. 0000611), 119৬০ ৪178৪ 96০99 1০ 
'& 5100:0005 298% 1) 115 9100. 16010 ৪0:0219 29086 1966, 800 01085 10859 8388:60৫ 
10101061 61081) 0210160 1116 11] 60 115০, 


11060 7129156701১, [00108 0, 14715, 


৩) ৮]72907 ৪ 90 1701690100 01 8০001) 800 01709111500 0096 8০০০6, ০1 
[0678008 80611)6,, , 47556900915 ৮০০/০৬-_6:৪0819660 05 20, 9. 00050101671 21, 


৩৪৪ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


নাটক", “নীলদর্পণ+, “প্রফুল্ল+ “পথের শেষে" প্রভৃতি প্রসিদ্ধ বিয়োগান্তক নাটক করুণরনাঁত্বক 
হইলেও খাঁটি ট্র্যাজেডি নহে। ট্র্যাজেডির মায়ামমতাঁলেশহীন নিষ্টুর অনিবার্ধতা ইহাদের মধ্যে 
নাই! এই সব নাটকের অভিনয় দর্শনে হয়তো আমর! কাঁদি, কিন্তু সেই কান! ছুঃখের 
' নিষ্করুণ কাহিস্য, ধুইয়! মুছিয়া মনের মধ্যে এক স্গি্ধ সাস্বনার উদ্রেক করে। 

ট্র্যাজেডির স্বপ্নতার জন্য যদ্দি আমরা মনে করি বাংল নাটকে কমেডির যথেষ্ট প্রা্্য 
রহিয়াছে তবে তাহা ভূল হইবে। খাঁটি ট্র্যাজেডির স্ঠায় খাটি কমেডিও বাংলা সাহিত্যে 
খুব বেশি লেখ! হয় নাই। জীবনের ঝড়ঝঞ্চাট এক ফুৎকারে উড়াইয়া দিয়া ইহার নিয়ত- 
চঞ্চল রণীন বুদ্‌বুদ্গুলি হান! প্রাণে উপভোগের মধ্যেই কমেডির জগৎ নিহিত রহিয়াছে। 
কিন্তু সেই জগৎ বাঙালী দৃষ্টির বহিভূতি। আমরা সোজা জিনিষকে বাঁকাইয়া৷ লই, ফাকা 
জিনিষকে ফেনাইয়া ফেলি। সেজন্য আমাদের হাঁসির বাম্প কারুণ্যের শীতলতায় জমিয়া 
যায়। হাক্কা কথা দার্শনিক মাধ্যা কর্ষণ প্রভাবে গুরুত্ব লাভ করে। একমাত্র দীনবন্ধু মিত্র ও 
অমৃতলা'ল বস্থ ছাঁড়। বাংলা সাহিত্যে প্রথম শ্রেণীর কমেডি রচয়িত৷ আর কেহ নাই | কমেডি 
বলিতে আমরা বুঝিয়াছি একমাত্র প্রহসন, হাঁসি ব্যতীত যাহার আঁর কোন উদ্দেশ্য নাই। 
সেই হানিও অনেক স্থলেই চিন্তাপ্রহ্ুত ও বুদ্ধিমার্জিত নহে, তাহ নিতান্তই নিযস্তরের কৌতুক 
ও ভ'ড়ীমিতে পরিপূর্ণ । দীনবন্ধুর [077০4 এবং অমুতলালের 9৪15 বাংল! নাটকে 
সুলভ নহে। প্রহসনগুলি বহুক্ষেত্রে মূলনাটকের প্রত্যঙ্গ স্বরূপ রঙ্গমঞ্চে অভিনীত হইত; 
তাছাদের কোন স্বতন্ত্র মর্ধাদা স্বীকৃত হইত না। পূর্ণাঙ্গ নাটকের মধ্যে আগ্যন্ত রহস্যজটিল 
হাস্যরসের স্গিপ্ প্রবাহ ঢালিয়। যে উচ্চশ্রেণীর কমেডি রচনা করা যাইতে পারে আমাদের 
নাট্যকারগণ সেদিকে তেমন নজর দেন নাই । “খাসদখল+ ও “চিরকুমার সভা*র মত কমেডি 
বাংল! সাহিত্যে খুব বেশি লিখিত হয় নাই। 

ট্র্যাজেডির বিষাঁদ ও কমেডির প্রসাদ উভয়কেই পরিহীর করিয়। বাংল! নাটক সাবধানী 
মধ্যপন্থী। অবলম্বন করিয়াছে । অর্থাৎ তাহার গতি হইয়াছে প্রধানত 0:৪£1-০070৪0 ও 
006100::91)9র দিকে । সংস্কৃত নাটকে যেমন দেখা যাঁয় অনেক নাট্যকাহিনীর অনিবার্য 
বিয়োগান্তক পরিণতি থাঁকিলেও নাট্যকার জোড়াতালি দিগা সেগুলি মিলনান্তক করিয়া 
তুলিয়াছেন বাংলা নাটকেও তেমনি বহুস্থলে স্বাভাবিক ট্র্যাজিক পরিণতি আকস্মিক 
মিলনাত্তক রূপ লাভ করিয়াছে । বিয়োগান্তক সমাপ্তি দর্শকদের কাছে রুচিকর হইবে না 
বলিয়! অনেক স্থলেই নাট্যকাঁরগণ একটি মিলনমধুর উপসংহার জুড়িয় দিয়! রঙ্গমঞ্চে তাহাদের 
নাটকের জনপ্রিয়তা বজায় রাখিয়াছেন অথচ এরূপ করিতে যাইয়। তাঁহারা যে উচ্চাঙ্গের 
নাট্যুশিল্পকে বিকৃত করিয়া ফেলিতেছেন সেদিকে তাহারা দৃষ্টি দেন নাই। শাজাহান”, 
আলমগীর" প্রভৃতি নাটক খাটি ট্র্যাজিক ভাবাঁপন্ন হইলেও উহীদের শেষ পরিণতি সাঁমগ্রস্য ও 
মিলনের পরিবেশে অনেকখানি শান্ত ও কোমল হইয়া উঠিয়াছে। আমাদের নাটকে 
'বহ্বারস্তে লৎুক্রিয়া*র প্রমাণ অনেক জায়য়গাতেই পাওয়া যায়। নাট্যকারগণ আগ্নেয়াস্ত্র 
লইয়া বহক্ষণ ভয় দেখাইয়া যখন শেষপর্যন্ত গুলি ছোড়েন তখন দেখ! দেখা যায় শুধুই ধোয়া 


বাংল। নাটকের প্রাণধম" ৩৪৫ 


আর আওয়াজ, গুলি তাহাতে নাই । সংহত নাট্যসংঘাতের অভাব থাকিলেও বাঁংল! নাটকে 
৪০0০7-এর কৌন অভাব নাই । দৌড়বাশীপ, বক্ত তা-চীৎকার, মারামারি, মুঙ্ছা, পতন 
প্রভৃতি যথেষ্ট পরিমাঁণেই আমাদের নাটকে রহিয়াছে । “কীতিবিলাস? ও 'বীরবালা*র স্থায় 
সম্ত| বীরত্ব এবং «শরৎ-সরোজিনী”/স্থরেন্্র-বিনোদিনী”র স্তায় রোমাঞ্চকর ক্রিয়াচাঞ্চল্য অনেক 
নাঁটকেই প্রচুর পাওয়া যাঁইবে। 

জনসাধারণের রুচি ও প্রবৃত্তি নাট্যবস্ত ও নাট্যশিল্পকে বহুলাংশে প্রভাবিত করে সে 
সম্বন্ধে কোন সন্দেহ নাই। নাট্যকার যখন নাটক রচনা করেন তখন তিনি তাহার 
পারিপাস্িক জনগণের চিত্তবনাত্তর কথাই স্মরণ করিয়! থাকেন।১ ড্রাইডেন একটি সুন্দর 
কথ! বলিয়াছেন-_ 

£[1)0 01:810955 125 (130 01:2100855 7080:0123 5156, 
চ০1 আআ 6020 1156 60 0158525 [17090 016852 (০ 1156, 

বাঙালী দর্শকদের রুচি ও চাহিদার প্রতি লক্ষ্য করিয়াই নাটকারগণ তাহাদের 
নাটকে আলগা, অসংলগ্ন ও অসঙ্গত ঘটনা ও চরিত্রের আমদানী করিয়। থাকেন। 
পাঁচমিশেলি উপাঁদীনের বৈচিত্র্য না থাকিলে রঙ্গমঞ্চে বাংল! নাটক জমে না তাহা ভাঁবিয়াই 
নাট্যশিল্লের বিধিনিষেধ সব বিসর্জন দিয়! কতকগুলি সামঞ্স্যহীন চমৎকারী ঘটনা! জুড়িয়া 
তাহারা তাহাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধ করিয়। থাকেন। গিরিশচন্্র ও ক্ষীরোদপ্রসাদের স্তায় 
স্থুবিখ্যাত নাট্যকারদের নাটকেও এরূপ ঘটনা ও চরিত্রের অসংগতি ও অসম্ভাব্যতার মোটেই 
অভাব নাই । অভিনয়-গুণে ও পরিচাঁলনা-নৈপুণ্যে এসব নাটকের অনেকগুলিই হয়তো 
রংগাঁলয়ে জনসম্র্ধন লাভ করিয়াছে, কিন্তু ওবুও কথনে! চিরকালীন নাট্যবিচারক্ষেত্রে 
তাহাদের মূল্য স্বীকৃত হইবে নী।২ উচদ্রান ও আতিশয্যপ্রিয় দর্শকদের মনোরগ্রনের জন্য 
আমাদের অনেক নাটকেই সুদীর্ঘ সং লাগ ও অসঙ্কৃত ভাবাবেগের অতি তরল অবতারণ৷ 
রহিয়াছে। সংলাপের দীর্ঘতীর ফলে অনেক নাটক, যেমন-_শরিা, পদ্মাবতী, “লীলাবতী, 
প্রভৃতির নাট্যরস ব্যাহত হইয়াছে । অনেক নাট্যকার তাহাদের নাটকের করুণ রস বুদ্ধি 


১1010150567 ৪87)06 0106 01%7796196 27008 556]: 80186 1018 001)0676107)8 60 66 
(8080 01115 00) (17106, 10 1011018 11026 110 1101090 866] 60 1001) 1019 01৪ 11) 800] & ৪5 
88 60 708100 8]01)691, 1106 5806]5 60 810 80101011090 11) 091)0181, ০0৫. 60 90200 11179017760 
&100101106 01 8601 61068, 1006 60 610০ 0115 80016009116 1000৪--01)86 ০01 1019 ০ম) 7১67100 
10019 60 5 দ্য 1970 6661)6 110 19 06107)00186 01001) 0196 1110 0: 0185579 0790001)011)6 009 


606966 80170 00৩ 50818 0090 1006 19 11600, 
77০62 £972%69 62 &, 10011, 1) 936 


২। 7117966) 10:0 এ বিষয়ে খুব সুন্দর আলোচন। করিয়াছেন--"[1, 101 006 ৪819 01 01681081 
91690% 0: 170109156) 01970066719 1%1916160 0: 1006101. 01907660 ; 11 087৮ ০01 ৮10০ 0185 18 110 
006 16য 800. 700৮ 11) 81001060715 118 € 165119610 91)517:010 00670, 0১০0716 001)95০9 ৪3 16 610৪ 
ফা০]:9 1) 0106 01109 01 0102 0৫: 01 1010)81)08 3; 11006 আ)016 0101) 18 1001081)]য 10001) 118- 
01118 810. 9001)07:0010] 7)0 811)001) ০ 111]1106 80010%, 666606)59 11001510009] 010180068 8170 
1001191)94 [000806101 লা1]] 6000 1 11060 ৪ £০0০৫ 7019. 

--0053০০৮৪%%0 10701%5 ( 7০0৮০475% 0906 ), 1. 109 * 


৪8৪ 


৩৪৬ বাংল! নাটকের ইতিহাজ 


করিবার জন্য অকারণ করুণ ঘটনা ও অত্যধিক মৃত্যু ঘটাইয়াছেন। “কীতিবিলাস, “কৌরব- 
বিয়োগ” 'নীলদর্পণ,, প্রফুল্ল” প্রভৃতি নাটকের নাম এ প্রসংগে উল্লেখ করা যাইতে পারে। 
বলা বাহুল্য এব অসংগত আঁতিশয্যের ফলে নাঁট্যকারদের উপ্সিত উদ্দেশ্টের বিপরীত 
গ্রতিক্রিয়াই দর্শকদের হৃদয়ে জাগরিত হইয়াছে। 

বাঁঙালী দর্শকদের মাঁনসপ্ররুতি অনুযায়ী বাংল! নাটক আঙ্গিক ও ভাঁবের দ্দিক দিয়! কি 
রকম বিশিষ্ট রূপ লাভ করিয়াছে সে সম্বন্ধে উপরে আলোচনা করা! হইল। কিন্তু জাতিগত ও 
স্বভাঁবজাত প্রকৃতি ছাঁড়াও দর্শকদের একটি সমাঁজচেতন। আছে এবং নাটকে তাহারও অবশ্ঠ- 
স্তাবী প্রভাব ছড়াইয়া পড়ে। বস্তত সমাঁজরূপ নাঁটকে যতখানি প্রতিফলিত হয় কবিতা! এমন 
কি গল্প-উপন্তাসের মধ্যেও ততখাঁনি হয় কিনা সন্দেহ। বাংলা নাটকের গোড়া হইতেই এই 
সমাঁজচেতনার বিচিত্র রূপাঁয়ণ লক্ষ্য করা যায়। উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ হইতে বাংলার 
সমাজমন নাঁনা ভাবতরঙ্গ ও সমন্তাবিক্ষোভে আলোড়িত হইয়াছে । বিভিন্ন সময়ে নাঁনা 
সামাজিক, রাঁজনৈতিক ও ধর্নৈতিক আন্দোলন সমাজের ব্যবস্থিত ভিত্তিকে তীব্রভাবে 
আন্দোলিত করিয়াছে । এই সব আন্দোলনের ফলে সমাজের বিভিন্ন স্তরে মানুষের মনের 
মধ্যে নান! ক্রিয়া-বিক্রিয়ার সৃষ্টি হইয়াছে । বাংলা নাটকের ইতিহাস ধারাবাহিকভাবে 
অনুধাবন করিলে সমাজের এই রহস্তজনক গতি ও প্রকৃতির সন্ধান পাওয়া যাইবে । আমরা 
দেখিব যে, এই সমাজ নিশ্চল নহে নিয়তচঞ্চল, কিন্তু তাহার গতি শুধু প্রগতি নহে পরাগতিও 
হইয়াছে । উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বিধবা-বিবাহ আন্দোলন 
সমর্থন করিয়৷ লেখা হইল “বিধবা-বিবাহ, “বিধবা বিরহ,» গচপলাচিত্চাপল্য» “আনন্দময়, 
প্রভৃতি নাটক আর উনবিংশ শতাব্দীর শেবভাগে গিরিশবুগে এই বিধবা বিবাহ নিন্দা করিয়! 
শান্তি কি শাস্তি “তরুবালা” গ্রভৃতি নাটক রচিত হইল। ত্রাঙ্গধর্মের নবপ্রতিষ্ঠঠর সময় সেই 
ধর্ম প্রশংসিত হইল দীনবন্ধু দ্বারা আবার নবহিন্দুজীগরঞ্জের সময় সেই ব্রাহ্মধর্ম নিন্দিত হইল 
অমুতলাল বস্থুর নাটকে । সমাজ, ধর্ম ও ও রাষ্ট্রসম্বন্ধে বিভিন্ন চেতনার মধ্যে এক একটি 
এক এক সময়ে প্রবল হইয়া উঠিয়াছে এবং তখন সেই চেতনাপ্রস্থত নাটকের প্রাধান্য আমরা 
দেখিয়াছি। প্রথম যুগে সমাঁজচেতনাই নাটকের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করিয়াছে। তখন 
বিধবা বিবাহ, বহু বিবাহ, মগ্যপান, লাম্পট্য প্রভৃতি সমস্তা রামনারায়ণ, মাইকেল, দীনবন্ধু 
প্রভৃতির নাটকে রূপাঁয়িত হইয়াছে । গিরিশযুগে আবাঁর রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রভৃতি 
ধর্মীবতারের প্রভাবে ধর্মাদর্শই এধান হইয়া উঠিয়াছে, সেজন্ত রাজকুষ্ণ, গিরিশচন্দ্র, বিহারীলাল 
চট্টোপাধ্যাপ়, অতুলকষ্ণ মিত্র প্রভৃতি নাট্যকার তখন বেশির ভাগ পৌরাণিক নাটক রচন। 
করিলেন। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় হইতে রাজনৈতিক ভাঁবোদ্ীপনা দেশের হায় 
অধিকার করিয়। লইয়াছিল, দে কারণে বিংশ শতাব্দীর গোঁড়া হইতে জাতীয় ভাবপ্রাণিত 
প্রতিহাসিক নাটকের পরাকাষ্ঠা দেখা গিয়াছে । দ্বিজেন্দ্রলাল-ক্ষীরোদপ্রসাদের নাটকে ইহার 
প্রমাণ স্থপরিস্ফুট । বাংল! সমাজের এই ত্রয়ী চেতন! অনুযায়ী বাংলা নাটকের সামাজিক, 
পৌরাণিক ও এ্রতিহাসিক এই ত্রিধারা প্রবাহিত হইয়াছে। 


বাংল নাট্য-সমালোচনার আদর্শ 


বাংলা নাট্যসাহিত্যের সমালোচনা শেষ করিলাম, কিন্ত এখন" বোধহয় সেই 
সমালোচন!র একট] কৈফিয়ত প্রয়োজন । সকলেই লক্ষ্য করিয়াছেন যে, এই গ্রন্থে নাটকের 
পাঠ্য দিক অপেক্ষা অভিনেতব্য দিকের উপরেই নজর দেওয়া হইয়াছে বেশি; সেজন্য 
রসবিচারে রঙ্গমঞ্চের প্রয়োগরীতিকৌশলের কথা সব সময়েই মনে রাঁথা হইয়াছে । সাহিত্যের 
অন্তান্ঠ বিভাগে সমালোচক তাহার বুদ্ধি ও বিচারশক্তি লইয়া একক আসনে অধিষ্ঠিত কিন্ত 
নাটকের শ্রেত্রে তিনি প্রেক্ষাগৃহের রসমগ্র দর্শকদেরই একজন। 581০6 বলিয়াছেন, 
£& 0185 10500 ৪18 20016150615 10001)021%81912.” রঙ্গমঞ্চের আলোকসজ্জা, 
দৃহ্টসজ্জা ও আবহ-সঙ্গীতের সহযোগিতায় বিশেষ বিশেষ রূপসজ্জা গ্রহণ করিয়া নির্দিষ্ট 
সময়ের মধ্যে অভিনেতা-অভিনেত্রীগণ যে বিশিষ্ট নাট্যরস স্থাষ্টি করিয় দর্শকচিত্তে তাহা! সঞ্চার 
করিতে সক্ষম হন তাহারই গুণাগুণ লইয়! নাটকের বিচার করিতে হইবে । এজন্য নাটকের 
ইতিহাস নাট্যশালার ইতিহাসের সহিত গভীরভাবে জড়িত। গ্রীসে কুড়ি হাজার দর্শকের 
সম্মুখে নাটকের অভিনয় হইত, সেজন্য গ্রীক নাটকে শাণিত সংলাপ-সংঘাত ও নুল্ম ভাব- 
বৈচিত্র্য অপেক্ষা উদাত্ত-গম্ভীর দূরশ্রাব্য আবৃত্তির উপরেই জোর দেওয়। হইত। এলিজাবেথের 
যুগে রঙ্গমঞ্চে দৃশ্ঠপট ব্যবহৃত হইত না৷ বলিয়াই শেক্সগীয়ারকে বহু ছোট ছোট অবাস্তর দৃশ 
এবং সংলাপে নিসর্গ-বর্ণনার অবতারণা করিতে হইত। আধুনিক দ্রত-গতিশীল যুগে 
দর্শকের চলিফু চিত্ববৃত্তির সহিত সমতা রাখিবাঁর জন্য, বিশ্রেষ* করিয় চলচ্চিত্রের সহিত 
প্রাতিযোগিতাঁর জন্যই বূর্ণীয়মান রর্সমঞ্চ প্রভৃতির উদ্ভব হইয়াছে, এবং সেই সব রঙ্গমঞ্চের 
প্রয়োজনেই নাটকের আঙ্গিক পরিবর্তিত হইতেছে এবং সংক্ষিপ্ত অথচ ক্ষিপ্রক্রিয়াণীল নাটক 
রচিত হইতেছে। দর্শকের রুচি ও চাঁহিদ। অনুযায়ী রঙ্গমঞ্চের প্রযৌগরীতি ও কলাকৌশলের 
পরিবর্তন এবং সেই সঙ্গে সঙ্গে নাটকেরও নবনব আঙ্গিক ও রূপরেখার বিকাশ। 
নাট্যকারকে নাটক লিখিবার সময় এই দর্শক ও রঙ্মমঞ্চের কথা সর্বক্ষণ মনে রাখিতে 
হইবে। বান্ড শ-এর কথা উল্লেখ করিতে ইচ্ছা হয়। তিনি বলিয়াছেন, «ু ৫০ 1০08 
56160 105 106%1)0905১01)25 ৪16 100009560 0001) 006 105 ৪ 1)0101:50. 501510618- 
0101)5 : 105 00০ 01)551021 00155106190101) ০0৫ 015০9001081] 72201952100901018, 0৮ 
0176 12৮5 0551520. 75 6152 10019101811 00 81810 88811)50 61055 2100 00061 
8.501021005 6০ দা১1০1) 00069065 81:65 1191019১105 00০ 2০010101058] ০0201061০29 
05 006০1780016 2100 1100165 0£ 056 21 06 20০0108১ 05 0)2 ০৪08০1 ০0 00০ 
5০০09001510] 0100675010176 1086 0০ 56০ 2120 1)9879 2100 05 0 


80010217091] ০11:0010)5091)095 04 006 70210100181 01000650018 11) 10210» যে 


সব বিষয়ের বিবৈচনা নাট্যকারের স্ৃষ্টিশক্তিকে নিয়ন্ত্রিত করে সেগুলি নাট্যসমা'লোচক 


৩৪৮ বাংল! নাটকের ইতিহাস 


উপেক্ষা করিতে পারেন না, করিলে তাহার সমালোচন! ভ্রান্তিবিলাম হয় মাত্র, সত্যবিচার 
হয় না। 

এখানে একটি কথ! উঠিতে পারে যে, এমন তো অনেক নাটক আছে যেগুলির 
অভিনয় আমর! দেখি নাই, কিংবা উহাদের রঙ্গমঞ্চে প্রযোগরীতির কথাও আমরা কিছু 
জানি না, অথচ উহাদের শাশ্বত সাহিত্য-গুণের জন্ত চিরকাল আমরা এর সব নাটক পড়িয়া 
আসিয়াছি। সফোক্লিস, ইউরিপিভিস, আযারিস্টোফ্যাঁনিস, এমন কি শেক্সপীয়ার ও শেকভ, 
শেরিডান ও শ-এর নাটক তো প্রধানত পাঠের মধ্য দিয়াই আমাদের মনে চিরকালীন 
প্রভাব বিস্তার করিয়াছে । এই প্রশ্নের উত্তরে বল! যাইতে পরে যে, নাঁটক পাঠ করিলেও 
তাহার একটি অভিনেতব্য রূপ আমাদের ক্রিয়াচঞ্চল কল্পনায় জাগরূক করিতে না! পারিলে 
কখনও তাহার যথার্থ রগ হৃদয়বেছ্য হইবে না। সেজন্ত মনে মনে একাঁকী পড়িলে চলিবে 
না। সম্মিলিত শ্রোতাদের মধ্যে স্বরসংযোৌগে অভিনয়ের ঢঙে অল্পবিস্তর অঙ্গসঞ্চালনের 
মধ্য দিয়া নাটক পড়া দরকার। তাহা না হইলে নাটকের রস নাটকের মধ্যেই অন্তঃশীল 
হইয়। থাকিবে, পাঠক ও শ্রোতাদের হৃদয়ক্ষেত্রে তাহা আর প্রবাহিত হইতে পারিবে না। 
আর একটি কথা । নাটক সমসাময়িক রঙ্গমঞ্চ ও দর্শকদের উদ্দেশ্য করিয়। রচিত হয় বটে, 
কিন্তু তাহ! শুধু আমোদের উপাদান নহে, তাহা সাহিত্য । সাহিত্যের মূল্য নির্ভর করে 
তাহার মানবসত্য ও জগৎসত্যের স্থুগভীর অনুভূতির উপরে, তাহার রূপ ও রসের সুষ্ঠ 
সহযোগের উপরে । শ্রেষ্ঠ নাট্যকার তাঁহার নাটককে সাহিত্যের এই উত্ত্গ স্তরে লইয়! 
যাইতে উৎসুক, অথচ তিনি সমসাময়িক রঙ্গমঞ্চ ও দর্শকদেরও অবহেলা করেন না। তিনি 
সমকালের ভূমিতে দীড়াইয়া চিরকালের আকাশ পানে তাঁকাইয়া. থাকেন। সফোক্লিসের 
ইডিপাস ও ইউরিপিডিসের মিডিয়! কি সর্বকালের মানুষের প্রতিনিধি নহে? শেক্সপীয়ারকে 
এলিজাবেথীয় দর্শক আপনার ভাবিয়াছিল আবার আমরাও আম!দের আপনর ভাবিতেছি। 
মলিয়েরের নাটকেও কি ফরাসী দেশের মধ্য দিয়া সমগ্র বিশ্বকেই আমরা! দেখিতেছি ন।? 
সেজন্য নাট্যসমালোচককেও নাঁটকবিচাঁরে দর্শক ও দ্রষ্টা দুই-ই হইতে হইবে । তিনি নাটকে 
সন্ধান করিবেন মৃত্যুণীল মাঁনচষ ও মৃত্যুহীন মানুষ-উভয়কেই। 

নাটকের এই সাময়িক ও চিরকালীন উপাদানের কথা আলোচনা করিতে যাইয়! 
আমাদের বাংল! নাটকের ক্ষেত্রে উপস্থিত হইতে হয়। আলোচ্য গ্রন্থে বাংল! নাটকের 
আলোচনায় পাশ্চাত্য নাট্যশাস্ত্রের রীতিনীতিগুলিই প্রধানত প্রয়োগ করিয়াছি । অনেকে 
আপত্তি ভূলিয়৷ বলিতে পারেন, আমাদের নাট্যসাহিত্যে আমাদের সমাজের বিশিষ্ট জীবনধারা 
চেতনা ও আদর্শ প্রতিফলিত, স্থুতরাং সেই সাহিত্যের বিচার বিশ্লেষণে পাশ্চাত্য সমাল্চনা- 
রীতি প্রযোজ্য নহে। কিন্তু বাংলা নাটক ও নাট্যশালার ইতিহাসে বিদেশী প্রভাবের 
অবিচ্ছিন্ন ধারাই তো আমর! লক্ষ্য করিয়াছি। অবশ্য প্রাথমিক অন্বাঁদ-যুগের নাটক- 
গুলিতে সংস্কৃত গ্রভাবই প্রধান ছিল একথ৷ সত্য । কিন্তু এই প্রভাব হইতে যুক্ত হইয়! 
বিশ্বনাট্য সাহিত্যের সর্বজনীন ধারার সহিত যুক্ত হওয়ার দিকেই আত্মপ্রতিষ্ঠ বাংল। নাটকের 


বাংজ। নাট্য লম।লোচনার আদর্শ ৩৪৯ 


লক্ষা ছিত্র গোড়া হইতেই । সেজন্ত প্রথম দুইজন মৌলিক নাট্যরচয়িতাই, অথাৎ তাঁরাচরণ 
ও যোগেন্্রন্দ্র পাশ্চাত্য নাঁটকের রীতি গ্রহণ করিয়াছেন । মধুস্থদন তো স্পষ্টই বলিয়াছেন, 
41325106285 [61706101961 0086 ] 209 11016 001 00086 0010100) 0৫6 205 ০০৫০০ 
10618 স1)0 (17101. 23 ] 01)1015) 15956 10310051182 17221 10016 0: 1555 
1070860. ড710) 97656610 10685 800 17065 01 001015176.) গিরিশচন্ত্রও স্বীকার 
করিয়াছেন যে, মহাকবি শেক্স্পীয়ারের পদান্ক অনুসরণ করিয়া তিনি নাটক রচনা 
করিয়াছিলেন। তারপর দ্বিজেন্ত্রলালও যে পাশ্চাত্য নাট্যাদর্শ দ্বার অনুপ্রাণিত হইয়াছিলেন 
তাহা উল্লেখ করা বাহুল্য মাত্র। বস্তত তাহার ন্যায় পাশ্চাত্য-নাট্যধর্মী বাংল] নাটক আর 
কেহই লিখিতে সক্ষম হন নাই। দ্বিজেন্দ্লীলের সমকালীন দেশীয় ভাবাশ্রিত নাট্যকার 
ক্ষীরোদপ্রসাদও বলিয়াছেন, ধাহাদের ছার! বঙ্গে রঙ্গালয়ের প্রতিষ্ঠা, এবং সেই সময় হইতে 
আজও পর্যন্ত ধাহারা বঙ্গভাঁষায় নাটক লিখিয়৷ আসিতেছেন, সকলেই অল্পবিস্তর ইংরাজী 
ভাষায় অভিজ্ঞ, সকলেই পাশ্চাত্য নাটকাঁদির কিছু ন1 কিছু রস গ্রহণ করিয়াছেন।"১ এখন 
জিজ্ঞান্ত এই, বাংল! সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ নাট্যকারগণ ধখন সচেতন ভাবে পাশ্চাত্য নাটকের 
ধার৷ অন্থুসরণ করিয়! নাটক রচনা করিয়াছেন তখন তাঁহাদের নাটকের সমালোচনায় 
পাশ্চাত্য নাট্যশান্ত্রের নিয়মকাননগুলি প্রয়োগ না করিলে কিভাবে চলে? 

কেহ কেহ বলেন, বহিরঙ্গের মিল থাঁকিলেও পাশ্চাত্য নাটকের সহিত বাংল! নাটকের 
প্রাণবস্তর দিক দিয়! কোন মিল নাই। তাহার! যুক্তি প্রয়োগ করেন যে, পাশ্চাত্যজীবন 
বস্তবাঁদী সেজন্য জীবনের দ্ন্দ-সংঘাত ও ট্র্যাজিক পরিণতি সেখানে স্বাভাবিক; কিন্ত 
ভারতীয় জীবন অধ্যাত্মবাঁদী, ইহলোকের দন্দ-সংঘাত এখাঁনে কখনও প্রধান হইয়া! উঠে নাই, 
সেজন্য পাশ্চাত্য ট্র্যাজিক ভাবকল্পনা এখানে নিরর৫থক ও অসঙ্গত। এই বিষয়টি একটু বিচার 
করা দরকার । আমর! ইতিপূর্বে দেখাইয়াছি যে, নাটকের মধ্যে সমকালীন ও চিরকালীন 
ছুইরকম উপানই বর্তমান থাকে। অনুরূপভাবে বলা যায় যে, ইহাতে দেশজনীন ও 
বিশ্বজনীন দুইরকম ভাঁবই সমাবেশিত হয়। দেশীয় লোকের ভ!ব, স্বভাব ও সমাজরূপ যেমন 
ইহাতে উদ্ঘাঁটিত হয়, তেমনি বিশ্বের সাধারণ মানুষ ও বিশ্বনীতির একটি সর্বজনগ্রা্থ রূুপও 
ইহাতে আভাঁদিত হয়। যাহার! বাংলা নাটককে শুধু কেবল বাঙালীর নাটক বলিতে চান, 
তাহারা ইহাকে অত্যন্ত ছোট করিয়া দেখেন। ঠাহার তৃলিয়া যান যে, উনবিংশ শতাব্ী 
হইতে বাঙালী যে নবসাহিত্য রচনা! করিতে আরম্ভ করিল তাহাতে বাংলার চিত্তবৃত্তির সহিত 
বিশ্ব-চিত্ববৃত্তির যোগ ঘটিয়! গেল, বাঙালী তাহার সীমায়িত মৃত্তিকীর আবেষ্টনী হইতে বিশ্বের 
উদার আঙ্গিনায় মুক্তিলাভ করিল। তখন হইতে তাহার কাব্য, উপন্তাঁস, নাটকের ক্ষেত্রে 
পূর্ববাহিনী ও পশ্চিমবাহিনীর সঙ্গম ঘটিয়া গেল। সেই সঙ্গমের বিপুল জলোচ্ছ্বাস ও 
উল্লসিত কলরবের মধ্যে সে তাহার নবজাত বিশ্বরধপ প্রত্যক্ষ করিল। বাঙালী বাংল! নাটক 


স্পা, 


১ রঙ্গালল্মের উন্নতি ও অবনতি-্নাট্যমন্দির, শ্রাবণ, ১৩১৭। 


৩৫০ বাংল। নাটকের ইতিহাস 


দেখিল, কিন্তু সে ভীমসিংহ ও সাঁজাহানকে রাজা লীয়ারের সহিত তুলনা করিল, কৃষ্ণকুমারী 
ও সরোজিনীর সহিত গ্রীক নায়িকা ইফিজেনিয়ার সা্দৃশ্ঠ দেখিতে পাইল, “নীলদর্পণ”কে 
[00০16 ৭:০00+8 0৪৮17-এর সমতুল্য মনে করিল, মলিয়েরের সহিত অমৃতলাল ও 
মেটারলিঙ্কের' সহিত রবীন্দ্রনাথকে মিলাইয়া দেখিল এবং দিগিন বন্দ্যোপাধ্যায় ও তুলসী 
লাহিড়ীর নাটকে পাশ্চাত্য সমাজবিপ্রবের প্রতিধ্বনি শুনিতে পাইল । 

দেশে দেশে সাহিত্যের ভাবপরিবেশের্‌ পার্থক্য ঘটে সত্য, কিন্তু সাহিত্যের বূপ ও 
রসচেতনার মধ্যে সব দেশেই মোটামুটি সমত। লক্ষ্য করা যায়। একটি রসোত্তীর্ণ কবিতার 
কলাকৌশল হু্্রভাবে বিচার করিলে দেখা যাইবে যে, সেই কলাকৌশল সকল দেশের শ্রেষ্ঠ 
কবিতাতেই প্রযোজ্য। তেমনি নাটকের বেলাতেও বল! চলে যে, ইহাঁর আঙ্গিক ও রসের 
উপাদানের মধ্যেও একটা! দেশনিরপেক্ষ সাধারণত্ব আছে। অভিনেতব্য গুণ, ঘটনার 
ঘাত-প্রতিঘাত, চরিত্রদন্দ, আকম্মিকতা, জীবন্ত গতিবেগ -এগুলি নাটকের সাধারণ ধর্ম, 
এগুলি না থাকিলে কোন দেশের নাটকই নাটকপদবাচ্য নহে। সংস্কৃত নাটক ও যাত্রার 
কথ! প্রতিবাদ স্বর্ধপ অনেকেই উল্লেখ করিবেন। কিন্তু স্ভয়ে বলিতে চাই ঘে, সংস্কৃত 
নাটকের মধ্যে কাব্যগুণ যতখাঁনি প্রধান, নাঁট্যগুণ ততখানি নহে এবং যাত্রার মধ্যেও 
সঙ্গীত ও ধর্মবিশ্বাসের প্রতি যতখানি লক্ষ্য, নাটকত্বের প্রতি কখনও ততখানি লক্ষ্য 
দেওয়া হয় নাই। বাক্যের মহিত বাক্য ও মনের সহিত মনের সংঘর্ষের ফলে যে বিশিষ্ট 
রসের উদ্রেক হয়, তাহার সহিত উনবিংশ শতাব্দীতে নবরচিত নাটকের মধ্যেই আমাদের 
প্রথম পরিচয় হইল। অবশ্য জীবনের সংঘাতময় রূপ অনেক বাংলা নাটকেই স্থ্টূভাবে 
পরিস্ফুট হয় নাই, তাহা আমরা পূর্ববর্তী প্রবন্ধে আলোচন! করিয়াছি। কিন্তু তাহা 
নাটকের ক্রটি, সমর্থনীয় গুণ নহে। বাংল! সাহিত্যে সার্থক ট্র্যাজেডি বেশি নাই ইহ! 
আমরা দেখাইয়াছি, কিন্তু ট্র্যাজেডির বিশিষ্ট রস যে বাঙালীর পক্ষ্যে স্জ্য ও আস্বাদ্য 
নহে ইহা আমরা কিছুতেই স্বীকার করিব না। ছুঃখের যে সমাধানহীন, প্রতিকারহীন 
রূপের মধ্যে জীবনের সর্বোন্তম উপলব্ধি তাহা নিশ্চয়ই আমর! বাংল! নাটকে সন্ধান 
করিতে থাকিব। অনেকে বাঙালী জীবনের প্রকৃতি ও আদর্শের দোহাই দিয়া বাংলা 
নাটকে পাশ্চাত্য ট্র্যাজেডির অনধিকারপ্রভাব সম্বন্ধে জোর দিয়া বলেন। কিন্ত আমর! 
ইভিপাস, অরি্স্টস, মিডিয়া» ম্যাকবেথ, লীয়ার, ওথেলো, নোরা৷ ও হেড্ড গ্যাবলারের 
ট্র্যাজেডি দেখিয়। অভিভূত হইব, অথচ সেরকম ট্র্যাজেডি আমাদের ভাষায় আশ! 
করিব না? আমাদের আদিকাব্য রামায়ণ ও মহাভারতের মধ্যে জীবনের গভীরতম 
ট্যাজিক রূপ প্রকাশিত, অথচ সেই রূপ আমাদের সাহিত্যের মধ্যে অসম্ভব ভাবিব,/হা 
কিরূপ বিচারনীতি? বাংল! নাটকে ট্র্যাজেডির স্বল্পতা আছে, কিন্তু যেখানে সেই ট্র্যাজেডির 
প্রকাশ, সেখানেই কি আমর! শ্রেষ্ঠ নাট্যধর্মের পরিচয় পাই নাই? ভীমপসিংহের অসহায় 
অস্তঘ্বন্বে, নিম্টাদের বিফলীকৃত জীবনের অন্তর্মোন বেদনায়, জনার বিক্ষুব্ধ অন্তজণলায়, 
ননরজাহানের ছুঃসহ অস্তঃসংঘাতে, চাঁণক্যের উর হ্বদয়বৃতুক্ষায়, বিক্রমদেবের স্কিন 


বাঁংল। নাট্য সমালোচনার আদর্শ ৩৫৩ 


আত্মনিপীড়নে, রঘুপতির শোকাবহ পরাজয়ে, আলমগীরের ছূর্বল স্বপ্রবিলাপে, এবং কর্ণের 
ভাগ্যলাঞ্িত পরিণতিতেই তো! নিত্যকালের ট্র্যাজিক রূপ আত্মবিকাঁশ করিয়াছে। 
সমালোচনা করিবার কালে ইহাঁদিগকেই আদর্শরূপে স্থাপন করিয়৷ অন্যান্য নাট্যচরিত্রের 
ট্র্যাজিক গুণাগুণ বিচার করিব । বাংল! নাটকে ট্র্যাজেডির অভাব ও মেলোভ্রামার আধিকা 
থাঁক। সব্বেও ট্র্যাজেডিকেই আদর্শরূপে গ্রহণ করিব, মেলোড্রামাকে নহে ; ন!, বাঙালী জীবনের 
দোহাই দিলেও নহে। 

আর একটি কথ! । পূর্ববর্তী প্রবন্ধে দেখান হইয়াছে, কিভাবে সমাজ-মনের ক্রিয়া- 
বিক্রিয়ার ফলে নাটকের গতি ও প্ররুতি নির্ধারিত হয়। নাট্য-সমালোচনার ক্ষেত্রে সেজন্ত 
সমাজমনের পরিচয় ও নাঁট্যবিচাঁর অবিচ্ছেগ্চভাবে যুক্ত। শিল্পী আপন অন্তরে অগ্ুভূত কোন 
বিশেষ সত্যকে বূপাঁয়িত করেন বটে, কিন্ত তিনিও সামাজিক মানুষ, পারিপার্থিক সমাজ 
তাহার নানস-অন্নভূতিকে বিশেষভাবে গঠিত ও চালিত করে। সুতরাং নাটকের ভাববস্ত 
বিশ্লেষণে শিল্পীর অন্তরগত ও বহিরাগত উভয় প্রকার প্রেরণাই নিরীক্ষা ও নির্ণয় কর। 
উচিত। নাট্য-সাহিত্যের ইতিহাস ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করিলে দেখা যায়, সেই 
ইতিহাসে নাট্যশিল্পের ক্রমসমৃদ্ধ বিবর্তনই শুধু পরিস্ফুট নহে, তাহাতে শতবর্যকাল ধরিয়া 
বাংলার নবজাগ্রত সমাজ কিরূপ আঘাত সংঘাতের মধ্য দিয় তাহার বিচিত্র যাত্রাপথে অগ্রসর 
হইয়াছে তাহার স্বরূপও প্রকাশিত। আলোচ্য বাঁংলা নাটকের ইতিহাসে বাঙালীর 
নাট্যাঁধনার পরিচয় এবং সঙ্গে সঙ্গে নাট্যসাধনার মধ্য দিয়া বাঙালীর পরিচয় জানিবারই 
চেষ্টা কর! হইয়াছে । 


গস্থ-পঞজা 
(ক) সাধারণ 


১] £101500901575 ৮০০০৪ খত 55 90001)161 

[ নাট্যশাস্ত্রীদের গুরু আজও পর্বন্ত নাট্যবিচারের শ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক ] 

২। 1135-101)5015 01101810205 £৯. 1০০11 

[ নাট্যসমালোচনার অন্ধিতীয় গ্রন্থ । নাটকের সমস্ত দিক ইহাতে আলোচিত ॥ | 

৩1 [01917798010 4৯10 200. 11065192005 09 90171586] 

[ জার্মান সমালোচকের স্থপ্রসিদ্ধ গ্রন্থে গ্রীক নাটক হইতে আরম্ভ করিয়া বিভিন্ন 
যুগের পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নাট্যকারদের আলোচন। আছে ] 

৪ | [80022 101)601165 ০ 10191008. 05 72:56 &০ 01801 

[ আযারিস্টোটল হইতে আধুনিক কাঁল পর্যন্ত নাট্য-সমালোচনার ইতিহীস । | 
গত |11:95০05 105 ৬৬. 1৮. [01:01 
[ ট্র্যাজেডির বিভিন্ন দিক সম্বন্ধে দার্শনিকতা পূর্ণ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন প্রবন্ধের সমষ্টি । - 
৬। 77085605105 £১, 10. 11)0101001005 

[ ইংরাজী ট্র্যাজেডির ধারাবাহিক ইতিহাস ] 
৭) 1701:2173010 17559551705 101:50612 | 
[নাটক সম্বন্ধে সুপ্রসিদ্ধ সাহিত্যিক-সমালোচকের প্রবন্ধগুলি বিশেষ তথ্যপূর্ণ ও 
প্রামাণ্য । ] 
৮। 4৯ 100900006101) €0 092 9005 ০1 11065180015 105 7704501) 
[ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা সম্বন্ধে সরস ও মনোরম আলোচনা ] 

৯]। 4১0 77552.% 019 010০ [0০8 06 00910905175 7%1০5150101 

[ সংক্ষিপ্ত হইলেও সরস সমালোচন! ] 

১০ | 10110010195 01 01010101500 ০5 ৬৬ ০156914 
'£ সাহিত্য বিষয়ক কয়েকটি প্রবন্ধসহ নাটক সম্বন্ধে একটি উপাদেয় নিবন্ধ ] 

১১ 9102555022152181108£505 05 13180155 
[ শেক্সপীয়ারের প্রধান চারখানি বিয়োগান্তক নাটক অবলম্বন করিয়া ট্র্যাজেডির 
অতি গভীর ও স্থনিপুণ বিশ্লেষণ ] 

১২। 910915396812 93 2. 1)1:9,00500০ £10156 05 ২, (ও, ১000100 সা 
[ শেক্সপীয়ারের কয়েকখানি নাটকের আলোচন। প্রসঙ্গে নাটকের অতি স্ব 
টেকনিকের অবতারণ। ও বিশ্লেষণ । ] 

১৩। ৬০11 10121079 05 4৯. 1০০11 
[ বিশ্বের সমগ্র নাট্যসাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ আলোচন! । নাট্যসমালোচনার মহাচারত |] 


গ্রন্থপঞ্জী ৩৫৩. 


১৪। 11167106205 05 91)61001) 0196176% 
[ বিশ্বের নাট্যশালার বিস্তৃত ইতিহাস ] 
১৫111856605 1705 ঢা. [1 1715958 
[ ই্র্যাজেডি-তত্ব লইয়া সুক্ষ্ম ও সাঁরগর্ভ আলোচনা ] 
১৬। 910161518 10171029805 £৯. 15011 
[ ইংরাজী নাটকের প্রামাণ্য ইতিহাঁস ] 
১৭। 71010201751 1019000. 0£ 6106 (15515 05 4৯. 0. 7351212 
[ গ্রীক ট্র্যাজেডির সব দিক লইয়া সুনিপুণ বিশ্লেষণ ] 
১৮ 50201006105 06 6751151) 170:2009,010 (51010101509 05 4৯, 0. ৬৪1৫ 
[ প্রসিদ্ধ নাটকের অভিনয় ও অভিনয়-প্রথ! সম্বন্ধে মূল্যবান নিবন্ধ-সংকলন ] 
১৯1 1015009৬1:11765 1019000 05 1711299261) 10:০৬ 
[ নাঁট্যতত্ব সম্বন্ধে মনোজ্ঞ বিচার ও ব্যাথ্য। ] 
২০ 0 2০০০€ড হা 10120091705 1721155 03198051116 739:121 
[ নাটকে কাব্যের স্থান লইয়া আলোচনা ] 
২১ । 19510 73891161050, 7. 0102 
[ ট্র্যাজেডির আনন্দন-তত্ব লইয়! চিত্তাকর্ষক আলোচনা ] 
২২। 991051010 10121709, 105 75101) 
[ সংস্কত নাটক ও নাট্যতত্ব বিষয়ক বিখ্যাত প্রামাণিক গ্রন্থ ] 
২৩। [005 5109709,5015. 13116217102 
২৪। বিশ্বকোষ 
২৫1 132105811 1,105196010 10 00০ 11065665610) 0210815 ০5 101, 
১. 7, [০ 
[ ১৮০-১৮২৫--এ্রই ২৫ বৎসরের কবি, যাত্রা, পাঁচালী প্রভৃতি রচয়িতাদের 
তথ্যপূর্ণ ইতিহাস । ] 
২৬। ভ/০502101 [01091702119 32105811 1/10619,00010 05 [১,13২ 9০1 
[ উনবিংশ শতাব্দীর বাংল! সাহিত্যের উপর পাশ্চাত্য প্রভাব লইয়। আলোচনা ] 
২৭। 1172 32155911111758,05 05 ১. 0. 110০9161065 
[ রঙ্গশালার ইতিহাস সম্বন্ধে তথ্যপূর্ণ আলোচনা ] ূ 
২৮1 70105 [15019175055 105 [750051707910861) 10095 তেএ০০ (৬০151, ]1, 
ঘাা,][৬ ) 
[ হিন্দু রাঁজত্ব হইতে আধুনিকতম কাল পর্যস্ত বিভিন্ন প্রদেশের রঙ্গমঞ্চের ইতিহাস । ] 
২৯1 বঙ্গীয় নাট্যশীলার ইতিহাস- ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় 


8৫ 


৬৫8 


বাংল। নাটকের ইতিহাস 


[ পুরাতন সংবাদপত্রের উপর নির্ভর করিয়! সাবধানতার সহিত লিখিত ] 
৩০। নাট্যসাহিত্যের ভূমিকা _বিভাস রায় চৌধুরী 
[ বাঁংলা ভাষায় নাটকের রীতি ও রস লইয়! মনোজ্ঞ আলোচন। ] 
৩১। বাঙ্গল! ভাষ৷ ও সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাব রামগতি স্তায়রত্ব 
[ বাংল! সাহিত্যের অন্ততম আদি ও প্রসিদ্ধ ইতিহাস ] 
৩২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ডাঃ সুকুমার সেন € ২য় খণ্ড) 
[ উনবিংশ শতাববীর সমুদয় বিখ্যাত ও বিস্বত সাহিত্যিকদের রচনাবলী সম্বন্ধে অশেষ 
তথ্যপূর্ণ প্রামাণ্য ইতিহাস ] 
৩৩। সাহিত্যসাধক চরিতমাল। - ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত 
নিরভূ'ল সন ও তারিখসহ প্রসিদ্ধ সাহিত্যিকদের জীবনী ও রচনাবলীর বিবরণ ] 
৩৪। রামতন্ছ লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ--শিবনাথ শাস্ত্রী 
[ উনবিংশ শতাব্দীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ধারার নান। জ্ঞাতব্য তথ্য-সম্বলিত বিশেষ 
প্রয়োজনীয় গ্রন্থ ] 
৩৫ | সেকাল আর একাল-্"রাজনারায়ণ বস্তু 
[ নানা সংবাদসমূদ্ধ জুরসাঁল পুস্তিকা ] 
৩৬ | 0116 132175911 10181009705 101. 6.0. 00102. 1 10910162 
[ বাংলা নাটকের সর্বপ্রথম ইতিহীস ] 
৩৭। নাট্যসাহিত্যের আলোচনা ও নাটক বিচার- সাঁধনকুমার ভট্টাচার্য € ১ম, ২য় ও 
৩য় খণ্ড ) 
[ নাট্যতত্ব সম্বন্ধে বিশেষ সারগর্ত বিচার এবং কয়েকখানি প্রসিদ্ধ নাটকের স্থবিস্তৃত 
বিশ্লেষণ ] 


(খ) মাইকেল মধুসূদন 
৩৮। মাইকেল মধুস্থদনের জীবন চরিত - যোগীন্দ্রনাথ বন্থ 
[ মধুস্থদনের জীবনী ও সাহিত্যালোচনাঁসহ নমসাময়িক বহু বৃত্তান্তে সমৃদ্ধ অতুলনীয় 
গরস্থ। ] 
৩৯.। মধুস্বতি- নগেন্ত্রনাথ সোম 
[বু তথ্যসমৃদ্ধ জীবনী-গ্রস্থ ] 
৪*। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ হইতে প্রকাশিত মধুন্দনের গ্রন্থাবলী 


(গ) দ্বীনবন্ধু মিত্র 


৪১। দীনবন্ধু জীবনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
[ দীনবন্ধ-সমালোচনার পথ-গ্রদর্শক ] 


গ্রন্থ-পঞ্জী +€৫৫ 


৪২। দীনবন্ধু মিত্র--ডাঃ সুশীলকুমার দে 
[ দীনবন্ধুর নাটাপ্রতিভ৷ স্বন্ধে সরদ ও মৌলিক আলোচন। ] 


(ঘ) জ্যোতিরিজ্রনাথ ঠাকুর 
৪৩। জ্যোতিরিন্্রনাথের জীবনস্থতি__বসস্তকুমার চট্রোপাধ্যায় 
[ জ্যোতিরিন্্রনাথের মুখে তাঁহার জীবনের স্বতিকথা বণিত হইয়াছে ] 
৪৪ | জ্যোতিরিন্্রনাথ-_মন্থনাথ ঘোষ 
| [ জ্যোতিরিন্ত্রনাথের জীবনী ও সাহিত্য সমালোচনা ] 


(উ) শিরিশচন্দ্র ঘোষ 
৪৫। গিরিশচন্দ্র--অবিনাশচন্ত্র গঙ্গোপাধ্যায় 
[ গিরিশচন্দ্রের চরিত ও নাটযালোচনার সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ ] 

৪৬। গিরিশচন্দ্র ও নাট্যসাহিত্য-_কুমুদবন্ধু সেন 
[ গিরিশচন্দ্রের সহিত কুমুদবাবুর কথোপকথনের মধ্যে গিরিশচন্দ্রের নীতি ও ম্ত 
ব্যক্ত হইয়াছে ] - 
৪৭। গিরিশচন্ত্র--কুমুদবন্ধু সেন 
৪৮। গিরিশ--প্রতিভা-_হেমেন্ত্রনাথ দাঁসগুপ্ত 

[ গিরিশ-সাহিত্যের বিস্তৃত আলোচন। ] 
৪৯। গিরিশ নাট্যসাহিত্যের বৈশিষ্ট্য--অমরেন্দ্রনাথ রায় 
€০ | গিরিশচন্দ্র--দেবেন্দ্রনাথ বসু 
৫১। আমার কথা-_বিনোদিনী দাসী 
৫€২। অর্ধেন্দুশেখর- উপেন্দ্রনাঁথ বিদ্যাভূষণ . 
৫৩) বিনোদিনী ও তারাম্বন্দরী__উপেন্দ্রনাথ বিদ্যাভূষণ 


(চ) দ্বিজেন্মলাল রায় 
৫৪। ঘিজেন্্রলাল - দেবকুমার রায়চৌধুরী 
[ দ্বিজেন্্রলীলের অন্তরঙ্গ বন্ধু দেবকুমারের দ্বার তাহার জীবনচরিত ও সাহিত্যপ্রাতিভ] 
স্থন্দরভাবে বিশ্লেষিত হইয়াছে ] 
€৫। ন্থিজেন্্লাল--নবকৃষ্ণ ঘোষ 
৫৬। বঙ্গবাণী--শশাঙ্কমোহন সেন 
৫৭। উদ্দাসী দ্বিজেন্্রলাল-_দিলীপকুমাঁর রায় 
[ সরস কথোপকথনের ভাষায় রচিত কবি ছিজেন্দ্রলালের অপরূপ আলেখ্য ] 


বাংল। নাটকের ইতিহাস 
(ছ) ববীন্দ্রনাথ 


৫৮।  [381011)0171796 : 0০0০6 200 10182008050 05 0৮210. 11150100901 
[টউমসন সাহেব প্রকৃত নাটকত্বের দিক দিয়াই রবীন্দ্রনাথের নাটকের অতি সার্থক 
সমালোচনা করিয়াছেন ] 
৫৯) রবিরশ্মি (১ম ও ২য় খণ্ড ১- চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
[ রবীন্দ্রনাথের ্বীয় বক্তব্য এবং বহু প্রবন্ধ ও পত্র উদ্ধার করিয়া! কবির অন্যতম 
অন্তরঙ্গ সমালোচক অশেষ সারগর্ত সমালোঁচন1 করিয়াছেন ] 
৬০। রবীন্দ্রজীবনী (১ম ও ২য় খণ্ড )- প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় 

[ কবির একমাত্র প্রামাণ্য ও পূর্ণাঙ্গ জীবন চরিত ] 


৬১। রবীন্দ্র সাহিত্যের ভূমিকা--ডাঃ নীহাররপ্রন রায় 


[ রবীন্দ্রসাহিত্যের বিভিন্ন দিক লইয়। সুক্ষ ও রসপূর্ণ বিশ্লেষণ ] 
৬২। রবীন্দ্রনাথ-_ডাঃ সুবোধ সেনগুপ্ত 
[ রবীন্দ্রপ্রতিভার বিভিন্নধার৷ আলোচিত হইয়াছে] 
৬৩। কাব্য-পরিক্রমা-__অজিতকুমাঁর চক্রবর্তী 
[ রবীন্দ্র-সাহিত্যালোচনার পথখ্রুদর্শক ] 
৬৪। রবীন্দ্রনাট্য-প্রবাহ (১ম ও ২য় খণ্ড)-- প্রমথনাথ বিশী 
[ রবীন্দ্রনাথের সাঙ্কেতিক নাটক সম্বন্ধে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সমালোচন।-গ্রস্থ ] 
৬৫। রবীন্দ্রনাথ (দ্বিতীয় পর্ব )_অশোঁক সেন 
[ সাঙ্কেতিকত। ও সাঙ্কেতিক নাটক লইয়! বিচার ] 
৬৬ | রবীন্দ্রনাট্য পরিক্রমা--উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচাধ 
[ রবীন্দ্রনাথের সমস্ত নাটকের আলোচনা ] 
৬৭। রবীন্দ্র গ্রন্থ-পরিচয়- ্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় 
[ রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থাবলীর নির্ভ্ল সন ও তারিখ ইহাতে উল্লিখিত হইয়াছে ] 


৬৮ | ১5101001150 110৬০102106 11) 11018 0015 05 &১. 95100185 


[ সাঙ্কেতিকতা৷ ও সাঙ্কেতিক সাহিত্য সম্বন্ধে শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ ] 
৬৯। 10685 0৫6 3০09০9৫. 9190. 17৬1] 10৮ ৬৬, 13, ৬০৪6৪ 
[ রূপক ও সাঙ্কেতিকতা লইয়! সারগর্ত বিচার ] 


(জ) সাম্প্রতিক যুগ 
৭৬ | 1/1090211) [18108 05]. ৬৬. 212111090 
[ আধুনিক নাটকের গতি ও প্রবণতা সম্বন্ধে উৎকৃষ্ট আলোচনা ] 
৭১ | [61706100165 06 1100610) ঢ:06115) 100:2099 05 4৯, দু, 11101597. 
[ বর্তমান ইংরাজী নাট্যকারদের সমালোচন। ] 


গ্রন্থ-পঞ্জী ৩৫৭ 


৭২1 [ড20050) 0621000:5 1160619 00106 05 ৯, 0, ৬৪10 
[ বর্তমানকাঁলের বিভিন্ন সাহিত্য-ধারার বিশ্লেষণ ] 
৭৩] [106 ]০100126 0670015 [01:91078, 05 150601 05017 
[ আধুনিক ইংরাজি নাট্যধার! ও কয়েকখানি নাঁটকের নির্বাচিত অংশ-সংকলন ) 
৭8 | [0181258. 51002 1939 05 [২০০০৮ 90০8181016 
[ যুদ্ধকালীন নাটকের আলোচনা ] 


(ঝ) পরিশিষ্ট 

৭৫1 711)5 5:1151152 11)628065 705 &- 1০011 

[ লব্ষপ্রতিষ্ঠ নাঁট্য-সমীলোচক আঁধুনিকতম কাল পর্যস্ত ইংরাঁজী-রঙ্গমঞ্চের ইতিহাঁস 

লিপিবদ্ধ করিয়াছেন ] 

৭৬। অভিনয়-শিক্ষা _ ভূপেন্দ্রকৃ্জ বন্দ্যোপাধ্যায় 

[বহু চিত্রে শোভিত এই গ্রন্থথানাতে অভিনয়, সাজসজ্জা, রঙ্গমঞ্চ প্রভৃতি স্বন্ধে 

যাবতীয় জ্ঞাতব্য তথ্য বধিত হইয়াছে । ] 

৭৭ | মঞ্চে ও নেপথ্যে মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত 

[ রঙ্গমঞ্চের সহিত ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট থাকিয়৷ মহেন্দ্রবাঁবু যে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান লাভ 

করিয়াছেন তাহাই বইখানাতে ব্যক্ত হইয়াছে । ] 

৭৮। বঙ্গীলয়ে ত্রিশ বখসর--অপরেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় 

[খ্যাতনাম। নট ও নাট্যকার অপরেশচন্দ্র রঙ্গালয়, অভিনেতা ও অনেক প্রসিদ্ধ 
নাটক সম্বন্ধে সরস আলোচনা করিয়াছেন । ] 

৭৯ | নাট্যমন্দির (৩ খণ্ড ) 

[ রঙ্গালয়, অভিনয়, অভিনেতা ও নাটক সম্বন্ধে বহু মূল্যবান প্রবন্ধের সংকলন ] 

৮ | বঙীয় নাট্যশালা-_-ধনগ্রয় মুখোপাধ্যায় 

[ রঙ্গীলয়ের অভিনয়, অভিনেতা -অন্িনেত্রী, দর্শক, সমালোচক প্রভৃতি সম্বন্ধে নানা 

সরস আলোচন। ] 

৮১। রঙ্গালয়ের রঙ্গকথা--অবিনাশচন্ত্র গঙ্গোপাধ্যায় 

[ রঙ্গমঞ্চের নেপথ্যে ঘটিত বহু রসাল ও হাস্তজনক ঘটনার উল্লেখ করা হইয়াছে] 


নিদে শিক 
(ক) সাধারণ 


'অক্তুর সংবাদ'__-৯১১০ 
অক্ষয় চৌধুরী--১ ০৫ 
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়--১৬৯১১৭০ 
অক্ষয় সরকার--৭ 
অজিত চক্রবর্তী-:২৭৬১২৮০ 
“অন্নদা মঙ্গল”--৩৮ 
অপরেশ মুখোপাধ্যায়-- ১৫৪১১৫৫১১৫৬, ৬৪, 
১৬৫১১৮৩১১৯৩ 
অপেরা--১২ 
অবিনাশচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায় - ১৪০৯১৪২১১৪৬, 
১৬৩১১৬৮১১৭৪ 
“অভিজ্ঞান শকুস্তলা”--১৬ 
অমরেন্দ্রনাথ রায়--১৫২ 
অমৃতলাল মিত্র--১৩২ 
অমুতলাল মুখোপাধ্যায়--১৩২ 
অর্ধেন্দুশেখর মুস্তাফী-_-৯৫,১৩২৯৩৩৮,৩৩৯ 
অশনিচত্র --৩৩৪ 
অশোক সেন--২৫৯১২৮৮ 
অশ্বমঘোষ--২ 
অহীন্দ্র চৌধুরী--৩৩৮,৩৩৯ 
«আনন্মমঠ,--১২৫১১৬৭ 
৯5 009010011--৩৩২ 
আনন্ড, ম্যাথ্যু--৩২২ 
আশুতোষ দেব -&১৬ 
4৯1500৫111১ )০810--৩৩২ 
£৯0018) £১৭০101১6- ৩৩৮ 
নিস--৩৪৮ 
আ্যরিস্টোটল--২৩,৫৬.৯১১৫৫১১৫৭১১৫৮) 
২১৩,৩৪৩ 
ইউরিপিডিস--১১১১২১১১৩৪৮ 
012165710620:০-৩৩২ 
ইডেন, আযসলি--৮৩১৮৪ 
[01015010128 2৫ £৯১0115--১১১ 
ইবসেন--৪৬১১৫৩,১৫৪১২৯০৯২১১১২৫৭, 
২৯৪১৩০৪ 
ইয়ংবেঙগল _ ৬১৬২,৬৪১৬৫১৭১ ১৭৩১৭৬১১৩৩৬ 


০৪৫, ৬৬. 3.-৮২৫৩১২৫৭১১৫৮,২৫৯১২৬৭ 
1716০08৮২১১ 

র .গুপ্ত-- ৭২১৭৯১৯৯১১৩ ৭১১৪১ 
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর -_-৩৭,৭৮,১৯৪১১৭৭ 
উইণ্টারনিৎস-২ 
উইলসন, হোরেস হেমান-_-১৬,৪৫ 
উত্তররামচরিত--২০৬ 
উত্তর সারথি--৩৩৪ 
উলফ, ভাঞ্িনিয়া--৩৩৫ 
এ. ই,২৫৭ 
একাডেমি--৬৩ 
ঢ0ড81:05১ [২.-১৮৭ 
[017০5 10198650198 131108101)102--২৯৩১ 

২৩৮ 

1115, [79৮০1০০1--১ 
400)6110+--১৬১৫৬১২৪৩ 
ও”নিল--৩৩২ 
ওমর খৈয়াম--২৬০ 
ওরিয়েপ্টাল থিয়েটার--১৬ 
€01021)10218---১ 
£00য 2180 030%:+--১৮৪ 
কংগ্রেস সাহিত্য সংঘ--৩৩৪ 
কটন, সার হেনরী--৮৩ 
0017£15৬০১ ৬৬1111817)--২ ৫5 
কবিকর্ণপুর--৮ 
£09120605 0 720০7৪/-৬৮ 
(020605 ০: £০0108100০---১৮৫ 
009299000-0101:660 4৯73৪ 
“কর্ণকুস্তী সংবাদ”---২৩৮ 
«কলঙ্ক ভঞ্জন”--১০ 
কার্লাইল--৬৯ 
কালিদাস--২৮,১১৭ 
কালীয়দমন--৯-১০ 
কাশীরাম দাস--১৩৪১১৫১ 
“কিং লীয়ারঃ ১৩৭ 


[610)--১১২/৩১২২৩ 


কুমুদবন্ধু সেন--১৩৩১১৩৪১১৩৯ ১১৫২৯১৬১ 


“কুরুক্ষেত্র”-_১ ২৫ 
কুশীলব--২ 
কৃত্তিবাঁস--১৩৪১১৪৩,১৪৪ 
রুষ্ণকমল ভট্রীচার্য---৯-১ৎ 
কষ্ণকান্তের উইল”--২৫৫ 
'কুষ্ণচরিত্র?--১২৫,১৮৮ 


কেশব গঙ্গো পাধ্যায়-”৫৩১,৫৫,৬০,৬১১৩৩৮ 


কৈলাসচন্ত্র বারুই--১১ 
কোলরিজ--৪৪ 
ক্রান্তি-শিল্পী সংঘ - ৩৩৪ 


(51918) 70৬/810 (01:001)---৩৩৮ 


(0191]- ৫৬,২৫০ 


“খেয়া ”২৩৫১২৩৬,২৬২১২৭২,১২৭৩১২৭৭ 


গলসওয়া্দি--৩০ ৫ 
“গান্ধারীর আবেদন-_-২৩৮ 
“গীতগোবিন্ব”--৬৩ 


'ীতাঞ্জলি'_-২৩৬,২৬২,২ ৭২১২ ৭৩১২৮০ 


গীতাভিনয়--৯৭-৯৯,১২৯,১৩৪ 
'গীতালি”_২৩৬,২৬২,২৭২ 
গীতিমাল্য-*২৩৬২৬২১২৭২ 
311089 7. 0,৩৪৩ 
গোপাল উড়ে--১১ 

গোবিন্দ অধিকারী--৯ 
গোলকনাথ দাস--১৫ 
গৌরদাস বসাক-_-৪২,৪৩১৪৭ 
গ্রাণ্ট, স্যার পিটার--৮৩,৮৪ 
(316610) ঢা, ০.-৬৯ 
চগুডকৌশিক+--১০১১১৮৭ 
চণ্ডীযাত্রা--১০ 

“চতুর্থ হেনরী*--১৬ 
“তুর্দশপদী কবিতাবলী-_-৫€ 
চন্দ্রনাথ বস্থ--১২৫ 

চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়-_-২৯০ 
“চিত্রা+্২৩৭,২৫২ 


চিত্রাঙ্গদা-- ২৩৮ 
0067065১ 91১6140--৩৩৪ 
“চৈতন্য চরিতামৃত+--৮,২৭৩ 


£চৈতন্য ভাগবত”--৮,১৪৯ 


নিদবে'শিক! ৩৫৯ 


«“চৈতন্ত মঙ্গল”--৮ 

চৈতন্য মহাপ্রতৃ--৮,৩২৯১৪৮ 

“চৈতালি*_- ২৩৭,২৫২ 

চ্যাপলিন, চালি--৩১১ 

জয়দেব--” ৭১৯ 

জয়েস, জেমস--৩৩৫ 

জাঁট্টিন--২১৭১২ ১৮ 

জীবন-নাট্যস্*্৩২* 

“জীবন-স্বৃতি”--২৩৮,২৪ ০১২৭৯ 

56187101268 €1:৬৪1--*২৫৬ 

জোড়াসশাকো৷ নাট্যশালা-- ১৭১৩৬ 

টড--৪৬,১০৬১১১২১২১৬ 

71501001050105 0:0দ1910---২৪০১ ২৪৭, 
২৪৯২৫৩,২৭৬১২৮*১২৮৪ 

টেকটাদ ঠাকুর _ ৩৭,৭৪ 

টেনিসন--২৬০ 

£[811017)6 01 61১6 91816০১৮11)6--৮২ 

ঠাঁকুরদাস মুখোঁপাধ্যায়-_-১১ 

[01019 ৬৬, 1.--১৪১১৫৭১১৬৬১২২৮ 

ডিকেন্স--৮৯১৩.১ 

100151182 (0905609+-২৬০ 

ডিরোজিও-_-২৮৬৭৯১০৪ 

ডেভিড হেয়ার--২৮ 

ডেভিড হেয়ার একাডেমি--২৬ 

10090)019 2180 75 01)05--১৮৭ 

ড্রাইডেন--৮০১৩৪৫ 

[015৬ [:11291060--২১০১২৫ ৯১৩৪৫ 

[18108 010 1760818--১১১ 

তত্ববো!ধিনী পত্রিকা ১*৫ 

গতিলোত্তম সম্ভব'--৫€ 

[10011901100 4৯১. 10,৮৪8 ৪-১৩৫ 

“দানববিজয়'--১৩৬ 

দাশরথি রাঁয়_-১৪১ 

দিব্যাবদান”--২১৭ 

দিলীপকুমার রা _ ১৯৩ 

দানেশচন্দ্র সেন-- ৪ 

দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় - ৩১৯,৩৩৯ 

দেবকুমার রায়চৌধুরী _ ১৯২,১৯৩,২০১১২*২, 


২০৮ 
'দেবী চৌধুরাণী” _ ১২৫ 


৩৬৩ 

দেবেন্দ্রনাথ চট্যোপাধ্যায় - ৬৫ 
দেবেন্দ্রনাথ বনু -- ১৩৯,১৫৪ 
ধর্মতত্ব-- ১২৫ 

ধর্মমঙ্গল -৬ 

ধর্মসংহিতা- ৫. 

নবকৃষ্ণ ঘোষ --২১৭১২২২ 
নবগোপাঁল মিত্র- ১০৫ 


নবীনচন্দ্র বমু--১১১১২৯১৭ 

নবীনচন্দ্র সেন---১০৬,১০৭,১২৫১১৮৮ 

নরেশ মিত্র--৩৩৯ 

নাট্যবেদ --১ 

1011) &.-- ৪৪১৫৬১১৫৫১১৪৮১১৭৫১১৭৬, 
১৮৫১২১১)২৪২১২৫২১২৫৭১৩৩১৩৩৩। 


৩৩৫১৩৪৫ 
“নিমাই সন্ন্যাস-_-৯ 
নির্মলেন্দু লাহিড়া---৩০০ 
নীলক- ৯) 
নীলের ইতিহাস - ৮২১৮৪ 
নীহাররঞ্জন রায় ২৩৮,২৪৬,২৪ ৭,২৬১, 
২৬৯১২৯২ 
নৃত্য হইতে নাটকের উদ্ভব- ১ 


ৃত্য-সঙ্গীতনাটক-আকাদেমি -. ৩৩৩ 

নৌকাবিলাস-_৯ 

80017921150) - ২৮১ 

স্যাশনাল থিয়েটার - ১০৭ 

1ব8001991 '01)6905 (501066117০2 -- 
৩৩২ 

পরমানন্দ অধিকরী--৮,৯ 

80] ৬ ০11910০-- ২৫৬,২৫৮ 

ঢ৪01-১90:6১ )০211- ৩৩৩ 

পাঁচালী--৭ 

পাথুরিয়াঘাট! বঙ্গ নাট্যালয়- ১৭ 

50১81111055 [910£255”--২৬০ 

গীতাম্বর অধিকারী ৯ 

রত র টি ২৮০ 

পৌরাণিক নাটক ও যাত্রা--১৪১-১৪২ 

প্যারীচরণ সরকার _-৬২, ৭৪ 

প্যারীমোহন - ১১ 

প্রতিমা! দেবী--২৪৯ 

প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়--২৪৫, ২৪৮ ২৫২ 


বাংল! নাটকের ইতিহাস 


প্রভাস*-৮১২৫ 

প্রভুচরণ গুহঠাকুরতা -:৪৭, ৪৮, ৭৫ 

প্রমথনাথ বিশী--২৬০১ ২৬১১ ২৬২, ২৬৫। 

২৬৭, ২৭৩১ ২৭৭১ ২৭৮ ২৮৭১ ২৮৮ 

প্রসন্নকুমার ঠাকুর _ ১৬ 

ণপ্রয়দশিক।”_-৪৮ 

প্রিয়রঞ্জন সেন--২০১ ৩৮, ৬০১ ২০৪ 

প্রুটার্ক--২১৭ 

ফা-হিয়েন --৫ 

78215 (30901১+_-২৬০ 

চ1)81110 80175 - ১ 

ফ্রয়েড - ৩৯৫, ৩১১ 

“বউঠাকুরাণীর হাট” _ ১৯১, ২৭০ 

£1302 2170 0০০--১৮৪ 

বঙ্কিমচন্দ্র ৬৫১ ৬৮১ ৭০) ৭১, ৭২১ ৭৩১ ৭৪, 
৮৭১ ৮৯১ ৯১১ ৯২১ ১৪০৬১ ১০৭, ১০৯ 
১২২) ১২৫১ ১২৭) ১৩২১ ১৬৩, ১৭৭, 
১৭৮১ ১৮৮, ১৯৮ 

“বঙ্গ ভাষার লেখক”--১৩ৎ 

বঙ্গীয় শেক্সপীয়র পরিষৎ__৩৩৪ 

“বঙ্গীয় নাট্যশালার ইতিহীস”--৯৪, ৯৫১ ৯৮ 

বড় চণ্তীদাস--৭ 

বলাকা--২৮০ 

বসস্তকুমার চট্টোপাধ্যাঁয়--১ ৪৫) ১০৮ 

বহুরূপী--৩৩৪ 

বাংল! নাট্যশালার ই তিহাস--১৫-১৭ 

“বায়বীয় সংহিতা”--£ 

বায়রণ---১১৭ 

1301:080) 911 ঢ.-১৮৪ 

“বিক্রমোর্বশী”__২১১ ৪৫ 

বিচিত্র বিলাস _-৯ 

“বিদায় অভিশাপ”--২৩৮ 

বিচ্যোৎসাহিনী রঙ্গমণ্চ--+১৭ 

বিনোদিনী--১১ 

বিবেকাঁনন্দ--১২৫, ১৩৬১ ১৪৭১ ১৭৭, ২৫২ 

বিবেক ও গ্রীক কোরাস--১৪ 

“বিশ্বকোয+-৮১ ১০১ ১৪ 

গু 

বিশ্বনাট্য-সাহিত্য -৩৩২-৩৩৩ 

বিষ্পুরাণ'--২১৭ 

বিহারীলাল চক্রবর্তী --২৩৯ 


নির্দেশিকা 


'বরাঙ্গনা+_ ৫৫ 

93217898115 1)০206 - ১৫ 

“বেণী সংহার*-*২১ 

বের্টিঙ্ক--২৮ 

বেন জনসন -- ৬৯ 

বেলগাছিয়া নাট্যশালা -১৭ 
ব্রজমোহন রায় -- ১৩৬ 
কব্রজাজন।”-- ৫৪ 

ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় - ৫৩ 
318016554১১ 0.-৮১১১ 

18102 3110+- ২৫৫) ২৫৭১ ২৮৮ 
'ব্লেক, উইলিয়াম - ২৫৬ 

ভত্তমাল”-” ১৪৭ 

ভবপ্রীতানন্দ ওঝা --৭ 

তবভূৃতি ২ 

তবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় -» ৩৭ 
ভরতমুনি- ২ 

ভারতচন্দ্র--১১, ১২১ ৩৮ ৭৪১ ১৪৪, ১৪৫ 
ভারতীয় গণ-নাট্যসংঘ -- ৩৩৪ 
ভাস--২ 

৬1111215106 [51516 4১৫2100৮২৫৬ 
ভৃূদ্দেব মুখোপাধ্যায়--৭৭১ ১২৫ 
ভূপেন্ত্রকষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায় ৩৩৭; ৩৩৯ 
ভূমেন রায় ৩০২ 

মঙ্গলকাব্য -৬ ৭ 

মধুহুদন কাঁন _ ১* 

মনসার ভাসান - ১৪ 

মম্গঘনাথ ঘোষ - ২১১ ১০৫১ ১১২, ১১৩ 
মন্মঘথমোহন বসু” ৫১৬ 

11018690১4৯, [২৬৭১ ৩০৫ 
1%001:00109 0.1, ১৮৪ 


মলিয়ের -৬১১ ৬৫১ ৬৯, ১১৭, ১৮৩১ ১৮৪) 


৩১২, ৩১৩১৩৪৮১৩৫০ 
'মহাঁপরিনিব্বাণসুত্ত -২১৭ 
মহাবংশ--২১৭ 


মহাভারত -- ২, ৭9 ২৭, ৪৭১ ১৩৪, ১৪৪9 


১৮৮, ২২৯" 
£১01561) 1)6+-৮ ১৮৪ 
“মাথুর ১৩ 
41120118156 0£ ৬০1০০. ১৬১ ১৯ 
9৬ 


৩৬১ 


মারলো --৬৮ 
'মালবিকাগ্মিমিত্রম”-:৪৮ 
70119016 -৮ ১৪১ ৩২, ১৪২ 
মিলটন --৬১ 
1/1550০15 -- ১৪১ ৩২ 
'মুতক্ষরীন+-- ১৭০১ ১৭১ 
'মুদ্রারাক্ষন' - ২১৮ 
'মুচ্ছকটিক*-:৫৭ 
মেকলে-২৮ 
“মেঘনাদ বধ -- ৪২, ৫২, ৫৪১ ৫৫১৬১ 
মেটারলিঙ্ক - ২৫৬) ২৫৭, ২৮৮১ ৩৫০ 
“11611 ভ/1%55 06 ভ৬105০:+--৬৮, 
৭৫১৯২ 
1121601009 0320:6০--১৭৫১ ১৭৩৬ 
11001601079 [২ (,--১১১,২১৭৯ 
£ম্যাকবেথ” » ১৩৫১ ২৫৪ 
1/1০, 01:10016 - ২১৮ 
11811019665 0. ৬/.-- ৪৬ 
11211917965 90601792116 ০৮ ২৫৬ 
যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর - ৩৫ 
যছুনাথ সরকার -- ২১০ 
যাত্রা - ৪-১৫ 
যোগীন্দ্রনাথ বস্থ--১৬) এ২, ৪৩, ৪৭, ৫৯১ 
৬০১ ৬১, ৬৩১ ৬৪, ৬৫, ৩২১ 
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় -- ১০৭১ ১২২ 
রবীন্দত্রনাট্য-পরিষৎ -- ৩৩৪ 
রমেশ দর্ত-- ১৯৮ 
“রাই উন্মাদদিনী*-৯ 
রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় - ১২৫ 
রাজনারায়ণ বসু -- ৪৭১ ৬০১ ৬২১ ১০৫ 
“রাজস্থান” -” ১১২, ১৬৫ 
রাজেন্দ্রলাল মিত্র ৫০, ২৯২ 
রাধাকষ্ণ দাস-৯ 
রামকৃষঞ্জদেব - ১২৫১ ১৩৬৯ ১৩৮১ ১৪২১ ১৪৬ 
১৪৭১ ১৪৮, ৩৪৬ 


রামগতি স্তায়রত্ব-- ৫১১ ৬৪, ৭৫) ৭৯) ৮০ 


'রামতন্ লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ? 
-৬২ 

রামধন মিস্ত্রী- ১১ 

রামমোহন রায়. ২৮, ১০৪ 


৩২ 


রাঁমযাত্রা- ১০ 
রামরাম বস্ু-১৯১ 
রামায়ণ - ২ ৭১ ১৩৪১ ১৪০ 
[২০5 01209000155 7.0." ২১৮ 
রিচার্ডসন -- ১০৪ 
রূপক ও সাঙ্কেতিক-* ২৫৯-২৬২ 
রূপগোস্বামী-৮ 
“রৈবতক”-- ১২৫ 
€[২010060 ৪00 )1011৩0 -৮ ১৯, ২৪২, ২৪৩ 
২ রেভারেও্ড -৮৪, ৮৫ 
লালতচন্দ্র মিত্র- ৭৬ 
£[5 05801)60191”-- ২৫৭ 
লালবিহারী দে -- ১০৯ 
লিটল থিয়েটার- ৩৩৪ 
10085, চা, [,--২৩১ ১৫৮১ ৩৪৩ 
লেবেডেফ - ১৫১ ১৬১ ১৭ 
লোক ও নাটক-- ৩৩৪ 
লোক সংস্কতি সংঘ -- ৩৩৪ 
লোচন অধিকারী--৯ 
শ, বানপর্ড - ১৩৮, ২০০১ ৩০৩) ৩১২, ৩৪৭১ 
৩৪৮ 
শকুস্তল।-- ৫১১ ৫২১ ১০২ 
শরৎচন্দ্র -- ৭৭, ৭৮) ৬৯১ ৮৯১ ১৩৮, ১৬৩, 
২২২, ২৯৩, ৩০৬ 
শশান্কমোহন সেন "১৯৯, ২০১ 
শিব ও 1010195505 - ৫-৬ 
শিবনাথ শান্ত্রী- ৮৫, ১০৫ 
শিবপুরাণ-- ৫ 
শিবায়ন --৬ 
শিশিরকুমার ভাছুড়ী - ২৯৯১ ৩১৯, ৩৩৯, 
৩৪০ 
শেকভ -” ৩৪৮ 
শেরিডান-- ৩৪৮ 
শেক্‌স্পীয়ার - ১৯, ২৮১ ৪৫5 ৫২৭ ৬৮১ ৭৫১ 
৮২১ ৮৯১ ৯২১ ১১৭১ ১২২১ ১৩৪১ 
১৩৫) ১৪৫, ১৪৭) ১৫৩১ ১৫৪) 
১৫৮) ১৭২) ১৮৬) ১৯৩১ ১৯৬) 
২১৩, ২১৭, ২৩৫১ ২৪২) ৩৩১৪ 
৩৩২, ৩৪৭১ ৩৪৮ 


শেলি " ২৬৪, ৩২২ 


বাংল! নাটকের ইতিহাস 


“শেষ-প্রশ্ন” ১৬১ 

হাঁমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়--১৭১ ৩৮ 

শ্রীদাম-স্থবল--৯ 

শ্রীমপ্তগবদ্‌ গীতা--৬৩, ২৭৭ 

9০1)1672]1 -- ৪১ ১৩৫৪ ১৪৫ 

“যোড়পী - ৭৭ 

স্বীগ্ুবার্গ-২৫৭ 

£5০15001 60: ৬৬1565911)67--১৮৩ 

সক্রেটিস- ২৮ 

সখের দল --১১ 

সংস্কৃত নাটকের ইতিহাঁস - ২-৪ 

সত্যজীবন মুখোঁপাধ্যায় - ৩৫ 

সত্যেন্রনাথ ঠাকুর সপ ১০৫ 

«সনৎকুমার সংহিতা" --£ 

সফোক্রিস- ৩৪৬, ৩৪৮ 

সান্ুসি রঙ্গালয়-_ ১৬ 

571001)8) £৯.-২৫৪১ ২৫৫১ ২৫৭, ২৫৮ 

সাধনকুমার ভট্টাচার্য _ ১৫৬, ১৫৭ ২১৫, 
২৪৩) ২৮৭ 

45010161 3০119 7106-- ২৫৫ 

“সারদামঙ্গল”-_-২৩৯ 

981০6৮---৩৪৭ 

“সাহিত্য দর্পণ-+৪৬ 

401070106৫ 36150610910) 1106১ 


১১৭১৩১৩ 

সিটনকার-_৮৪১ ৮৫ 

911011917 1$100101-১৮৬ 

“সীতারাম'__-১২৫ 

স্থইফট -:৬৯ 

স্বকুমার সেন--:৭১ ১২, ৩৫, ৩৯, ৫৯১ ৭৪ 
৭৮9 ১৬১১ ১০৯১ ১১৪৯ ১২৩, 

১২৮ ১৩৬১ ১৭৬১ ১৮৭) ১৯৮১ 

২১৬ 

সুদাম অধিকারী--৮ 

স্থনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়-_-২২ 

স্ুবোধচন্ত্র সেনগুপ্ত-*২৫১১ ২৬১১ ২৭০ 

সুভাঁষচন্দ্র--৩২৬ 

স্থরেন্্রনাথ ঘোষ--৩৩৮ 

সুণীলকুমার দে--৮, ১৪, ১৫ ২১১ ৮৮১ ৯০ 

ন্বপ্রবিলাস*--৯ 


নিদ্দে শিক! ৩৬৩ 
910161), ৬. &,-৮ ১১৩১ ২১৮ [নে 059108,9- ২৫৭ 
'১৪£০9৪০ -- ২৫৬ [792151), 4৯, ঢ- ৬ 
হরিদাস পালিত - ৫৬ “হেক্টর বধ কাব্য,_-৫৫ 
হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় -৮৪ «7০009, (91011 -২৫৪ "' 
হরেকৃ্ণ মুখোপাধ্যায় ৯ হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়--১০৬, ১০৭ 
হাউপটম্যান - ২৫৭, ২৫৯ হেমেন্দ্রকুমার রায় ৩০০ 
ন7005012-- ২০০ হোমার--৬১ 
হার্সেল - ৮৩, ৮৪ 'হামলেট?--৫৬, ১৩৫ 
ম্যান, ওয়াণ্ট - ৭৬ 
বাঁংল। নাটক ও নাট্যকার 

অচলায়তন - ২৬১১ ২৬৩, ২৬৫, ২ ৭৬-২৭৯ আলাদিন » ২২৪ 
অভুলকবক মিত্র ১২৬১ ৩৪৬ আলিবাবা - ২২৩, ২২৪ 
অনলে বিজলী -+ ১৩০ আহেরিয়া - ২৩১, ২৩৪ 
অন্তরাল - ৩২৮ উপেন্দ্রনাথ দাস - ১০৬, ১০৭১ ১২০-১২২ 
অবতাঁর- ১৮২১ ১৮৩ উভয় সঙ্কট --২৯, ৪১১ ৮৮ | 
অভিমন্ধ্য বধ-- ১৪৪ উমেশচক্দ্র গুগ্ত-_ ১০৬, ১২২-১২৩ 
অত্যুদদয় - ৩২৪, ৩২৬ উমেশচন্দ্র মিত্র -২৯ 
অন্থৃতলাল বস্ু--২৫, ৬০» ১২৭ ১৩২, উলুখাগড়া - ৩৩৪ 

১৩৯, ১৭৫-১৮৮১ ১৯৬১ উলুগী-২২৫ 

২০৩) ২৯৩, ৩১২১ ৩১৩, খণং কৃত্বা-৩১২ 

৩৪৪১ ৩৪৬ খণশোধ-- ২৬৯ 
রি কবে ব বব 


অরূপরতন - ২৭২ 

অলীকবাবু- ১১৬-১১৭, ১৮২১ ২০৪ 

অশোক (গিরিশচন্দ্র )- ১৩৭১ ১৪৫১ ১৬৭, 

১৬৮১ ১৯২ . 

অশোক (ক্ষীরোদপ্রসাদ )- ২৩১ 

অশ্রমতী -* ১০৭) ১১২-১১৪, ২১০ 

আজকের নাটক ৩--৩৩৪ 

আদর্শ বন্ধু ১৮৭ 

আনন্দবিদায় - ২০৫ 

আনন্দময় নাটক -- ২৯, ১০৩, ৩৪৬ 

আবুহোসেন - ১৭৪১ ২২৩ 

আমলগীর - ১৯১১ ১৯৪১ ২৩১, ২৩২-২৩১, 
৩৪৪ 


একাকার-- ১৭৬, ১৭৭৯ ১৭৮ ১৭৯, ১৮১ 
একাস্কিকা--২৯ ১ 


_ একেই কি বলে সভ্যতা--$০, ৬০, ৬২-৬৪, 


১৭৭ 
এমন কর্ম আর করব না--১১৬ 

ংস বধ--৪১ 
কবির দীক্ষা --২৯১ 
কমলে কামনী (দীনবন্ধু )--৯৫-৯৬ 
কমলে কামিনী ( গিরিশচন্দ্র )--১৪৫ 
করমেতিবাই -- ১৫০ 
কলি-কৌতুক নাটক--৩০, ৩২ 
কক্কি-অবতার-- ২০৩ 
কারাগার--২৯৭ 
কালাপানি--১৭৯, ১৮৭ 


৩৬৪ 


ক্লালাপাহাড়-*১৩৬, ১৩৭১ ১৫০, ১৫১ 

কালিন্দী -৩১০ 

কালীপ্রসন্প জিংহ--১৮ ১৭, ২১-২২, 

* ৩৭১ ৪৩) ৯৮ 

কালের ঘাত্রা--২৯১ 

কিঞ্চিৎ জলযোগ -- ১১৫-১১৬, ১৮৪ 

কিন্নরী--২২৩ 

কিরণচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় - ১১৮-১১৯ 
৩২৬ 

কীতিবিলাস--২২-২৫) ২৯১ ৫৩ ৩৪৫১ ৩৪৬ 

কুলীন কুলসর্বস্ব -- ৩৪, ৩৭৩৮) ৬৭১ ৬৮ 

কপণের ধন - ১৭৯, ১৮৩১ ১৮৪ 

কৃষ্ককুমারী - ৪৬, ৫৩-৫৮, ৫৯ ৬১১ ১০৯) 
১১২৪ ২৯০ 

কেদার রায়--৩০২ 

কৌরব বিয়োগ _- ১৯-২০১ ৩৪৬ 

ক্ষীরোদপ্রপা্দ বিষ্ভাবিনোদ্ষ--১৬৪, ১৬৫, 
১৬৮, ১৯০) ১৯১, ১৯২, ১৯৪১ ১৯৫) 
২২৩-২৩৪, ৩৪৫) ৩৪৯ 

থনা--২৯৮ 

খাজাহান ২৩০, ২৩৩ 

থাসদখল -- ১৭৬, ১৭৭, ১৭৯১ ১৮৫১ ৩৪৪ 

গিরিশচজ্ ঘোর - ৫০১ ৮৫9 ন৫) ১০০) 
১৭২, ১০৩, ১০৮) ১২৫, ১২৬, ১২৭১ 
১২৮১ ১২৯১ ১৩২-১৭৪১ ১৭৫১ ১৭৭১ 
১৭৮১ ১৮৮১ ১৯০১ ১৯১১ ১৯২) ১৯৬১ 
১৯৭১ ২০০) ২২১১ ২২২১ ২২৩, ২৩৬,২৯৩ 
৩১৮ ৩২৫১ ৩৩৮, ৩৪১১ ৩৪৫১ ৩৪৬১ 
৩৪৯ 

গুরুপ্রসন্ম বন্দ্যোপাধ্যায়-_-৩৬ 

গৃহলক্ষমী--১৩৬, ১৬৩ 

গৈরিক পতাকা।--৩০* 

গ্রাম্য বিভ্রাট - ১৭৯১ ১৮২ 

ঘ্ুতং পিবেখ-- ৩১২১ ৩১৩ 

চক্ষদান-- ৩০, ৪০ 

চণ্ড - ১৪৫) ১৬৫) ১৯২ 

চগ্ডালিক।-- ২৯২ 

চন্ত্রগুপধ্ত--১২৩, ২০৭১ ২১৭-২২০ 

চপলাচিত্রচাপল্য নাটক -২৯, ৩৫, ৩৪৬ 

টাদদবিবি-- ২৩০ ২৩১ ২৩৩ 


বাংল৷ নাটকের ইতিহাল 


চাদ সদাগর-” ২৯৮ 
চাটুষ্যে ও বাঁড়য্যে. ১৮৩, ১৮৪ 
চার ইয়ারে তীর্থযাত্রা--৩২ 
চারুমুখচিত্তহরা - ২০ 

রকুমার সভা ৭০১ ২৫০-২৫২১ ৩৪৪ 
০ টিন ১৪৮১০ ৩৩৫ 
চোরের উপর বাঁটপাড়ি - ১৭৮, ১৮৩ 
ছত্রপতি শিবাজী - ১৬৪, ১৯২ 
ছেঁড়ীতার--৩২৪১ ৩২৫১ ৩৩৪ 
জননী --৩০৯ 
জনা -- ১৩৬১ ১৪২১ ১৪৫১ ১৪৮১ ১৫১ 
জবানবন্দী - ৩৩৪ 
জলধর চট্টোপীধ্যয়-_৩১৮-৩১৯ 
জামাই বারিক - ৩০১ ৭০) ৮০-৮২১ ৮৮১ ১০২, 


১৭৭ 

জীবনটাই নাটক---৩২৭ 

জুলিয়া ২২৫ 

জ্যোতিরিজ্দরনাথ ঠাকুর- ১০৬১ ১০৭, 
১৪৮-১১৮১ ১৩৪১ ১৬৪১ ১৭৬, ১৮২, 
১৮৪১ ১৯৭, ২০৪ 

ঝড়ের রাতে--৩ ৯ 

টিপু সুলতান-:৩০১ 

ডক্টর মিস কুমুদ _ ২৯স্ক, ২১২ 

ডাকঘর -- ২৬১, ২৬৩, ২৬৮, ২৭৯-২৮০ 

ডিটেকটিভ--৩১১ 

ডিসমিস - ১৮৪ 

তটিনীর বিচার-৩০৯ 





, তপতী -২৩৬, ২৪১১ ২৪৩-২৪৪ 


তপোবল -*১৪০ 

তরঙ্গ -- ৩২৪১ ৩২৮ 

তরণীসেন বধ-- ১৩০ 

তরুবাল। -” ১৭৮, ১৮৬১ ১৮৭১ ৩৪৬ 

তাই তো-_১০৮ 

তাজ্জব ব্যাপার ১৭৬, ১৭৮৪ ১৭৯১ ১৮৩, 
১৮৪ রর 

তারাঁবাই --২০৮ 

ভারাচরণ শিকদার _ ২৫-২৭, ৩৪৯ 

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় -৩১, 

তাসের দেশ--২৯ৎ 

তিলতর্পণ--১৮২ 


নিদে' শিক। 


তুললী লাহিড়ী -৩২৫, ৩৫৬ 
ত্র্যহস্পর্শ--২৭৪ 

দক্দযজ্ঞ --১৪৪ 

দলিল--৩৩৪ 

দাদা ও আমি-- ১২২ 

দায়ে প'ড়ে দারগ্রহ-- ১১৭১ ১১৮ 
দ্বিগিজ্চজ্জ বন্দ্যোপাধ্যায় ৩২৮-৩২৯, 


৩৫৩ 
দিখ্িজয়ী- ৩*২-৩৬৪ 
১ দীনবন্ধু মিত্র-৩*১ ৩১, ৩২১ ৩৫, ৩৭, ৪০, 
৬৪) ৬২১ ৬৫১ ৬৭১ ৬৮-- ৯৬১ ৯ন৯। ১৪২৪ 
১০৮) ১১৫) ১৩২) ১৩৩১ ১৩৪১ ১৩৯ 
১৫৩, ১৭৫) ১৭৭১ ২০০, ২*৩, ২৯৩ 
৩২৫১ ৩৪৪) ৩৪৬ 
দুই পুরুষ -” ৩১৩ 
দুর্গাদীস--১৯৭+ ২৯৯-২১০ 
দুঃখীর ইমান -৩২৯ 
দেবলাদেবী--৩*১ 
দেবাস্থর - ২৯৭ 
নেলদার-- ১৭৪ 
দৌলতে দুনিয়া - ২২৪ 
দ্বিজেজ্দলাল রায়-- ৪৪, ১০৯, ১২৩, ১৬৫১ 
১৭৭) ১৮৯-১৯৫১ ১৯৬-২২৩, *২৩০, 
২৩৭১ ২৯৩, ২৯৪১ ২৯৬১ ২৯৭৯) ৩০০, 
৩০১) ৩৪৬১ ৩৪৯ 
ধর্মবিজয় --৪১ 
ধাত্রী পারা--৩১ 
ধব চরিত্র -- ১৩৬১ ১৪৫ 
নগনলিনী - ১২৪ 
নতুন ইহুদী -_ ৩২৪, ৩২৬ 
নবান্ন--৩২৪) ৩৩৪ 
নব নাটক -২৯/ ৩০, ৩৯-৪*, ৮৮, ১০২৪ 
৩৪৪ 
নব যৌবন -১৮৫৪ ১৮৬ 
নবীন তপস্মথিনী ৪০) ৭২১ ৮৮, ৯১-৯৩ 
৬/রনারায়ণ_২২৫১ ২২৬-২৩০ 


ন্রমেধ যজ্ঞ-১৩০ 
নলদময়ন্তী - ১৪৫ 
নলিনী-:২৪১ 
নসীরাম--১৫* 


৩৬৫ 


নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়” ৩২৩ 
নাসিং হোম - ৩০৯ 

নিমাই সন্ন্যাস _ ১৪৬ 
নিশিকান্ত বন্ধু রায় -৩*১. 


৬্ীলি দর্পণ --৩১, ৭১০ ৮২-৯১১ ১৩৪১ ১৫৩। 


১৫৪, ১৬১১ ৩৩৫) ৩৪৪১ ৩৪৬, ৩৫৪ 

নুরজাহান--২১০-২১৫ 

নৃতন প্রভাত--৩১৬ 

পতিব্রতা-_-৩১৮ 

পথ -”-৩৩৪ 

পথিক-_-৩২৫১ ৩৩৪ 

পথের ডাক--৩১০ 

পন্মাবতী--৪৬, ৫*-৫৩, ৩৪৫" 

পদ্মিনী _২৩০ 

পরপারে--২০*, ২০১, ২২২ 

পরিচয় - ৩২৬-৩২৭ 

পরিণীতা-- ৩১৮ 

পরিহাস বিজল্লিতস্‌ - ৩১৩ 

পলাশী -৩০২ 

পলাণীর প্রায়শ্চিত্ত - ১৯৪১ ২৩৪, ২৩১ : 

পলিন-২২৪, ২২৫ 

পাঞ্জাব কেশরী রণজিৎ সিংহ--৩৯১ 

পাণ্তব গৌরব - ১৩৬, ১৪২, ১৪৫১ ১৪৮, 
১৫১১ ১৫২১ ১৮৮ 

পাগণ্ডবের অজ্ঞাতবাস -- ১৪৪১ ১৮৮ 

পাষাণী ২০৬ 

পি-৬/-ডি--৩১৯ 

পুনর্জন্ম - ২০৪-২০৫ 

পুনবিবাহ নাটক - ৩৬ 

পুরুবিক্রম - ১০৮১ ১০৯-১১* 

পূর্চন্দ্র_ ১৫০, ১৮৭ 

গ্রকৃতির প্রতিশোধ--২৩৮ ২৪* 

প্রণয় পরীক্ষা -২৯, ৩০৪ ১০২-১*৩ 

প্রতাপাদিত্য--১৬৪১ ১৯৪১ ১৯৭, 
২৩১-২৩২১ ৩৬২ 

প্রতাপ সিংহ--১৯৭, ২৯৯ 

প্রফুল্ল ৮৮৫৪ ১৫৪-১৬৪১ ২২৩, ৩৪৩) ৩৪৪১ 
৩৪৬ 

প্রভাস যজ্ঞ-- ১৪৫১ ১৪৬ 

গ্রমথনাথ বিশী - ৩১২-৩১৩ 


৩৩) 


৩ঠঙ 


প্রমথনাথ মিত্র - ১০৬, ১২৪ 
প্রলয় -- ৩০৯ 

প্রহলাদ চরিত্র - ১৩০১ ৩৩৫ 
প্রায়শ্চিত্ত € দ্বিজেন্দ্রলাল )--২০৪ 


প্রায়শ্চিত্ত ( রবীন্দ্রনাথ )--১৯১১ ২৬৬, ২৭০-" 


২৭২ 

প্লাবন --৩১৫ 

ফাল্গুনী-২৩৬, ২৬১৪ ২৬৫) ২৬৬১ ২৬৮) 
২৮৪ 

বঙ্গনারী_-২২৩ 

বঙ্গে বর্গা-৩*১ 

বঙ্গে রাঠোর-_২৩৪ 

বঙ্গের স্খাবসান -১১৯-১২ 

বড়দিনের বখশিস - ১৭৪ 

বনফুল” - ৩২০-৩২২ 

বত্রবাহন-_-২২৫ 

বরুণ -* ২২৪ 

বলিদান-:৮৫, ১৩৬১ ১৩৮, ১৫৪, ১৬২১ ২২৩ 

বসস্ত -” ২৬৮ 

বাঙ্গলার মসনদ - ২৩১ 

বাঁশরী - ২৯১,২৯২ 

বাদসাজাদী--২২৪ 

বাবু (কালীপ্রসন্ন )--২১ 

বাবু (অমুতলাঁল )---১৭৬, ১৭৭১ ১৭৯১ ১৮৬ 

বামন ভিক্ষা -- ১৩০ 

বাল্যবিবাহ--৩০, ৩৪ 

বাল্যবিবাহ নাটক - ৩০ 

বাল্যোদ্বাহ নাট ক---৩১১ ৩৩ 

বানসীকি প্রতিভা _ ২৩৮, ২৪৯, ২৪৫ 

বাসম্তী-২২৩ 

বাসর -- ১৬৭, ১৯২ 

বাসর-কৌতৃক নাটক--৩৬ 

বাস্বভিটা -- ৩২৪, ৩২৮ 

বাহব! বাতিক - ১৭৯ 

বিজন ভট্টাচার্য - ৩৩৪ 

বিদূরথ _ ২৩১ 

বিধবা বিবাহ নাটক - ২৯, ৩৪৬ 

বিধব! বিরহ নাঁটক-_-২৯, ৩৩, ৩৪৬ 

বিধায়ক ভষ্টাচার্ষ -৩০৬-৩০৯ 

বিপর্ষয় -”৩২৬৩-৩১৭ 


বাংল! নাটকের ইতিহাস 


বিবাহ বিভ্রাট - ১৭৬১ ১৭৯ 

বিমাতা বা বিজয় বসম্ত-- ১৮৭ 

বিয়ে পাগলা বুড়ো --৩৫,১ ৭৪১ ৭৮-৭৯১ ১৭৭ 

বিরহ -২*৪ 

বিল্বমঙ্গল - ১৩৬১ ১৩৭১ ১৪৭-১৫ * 

বিশ বছধী আগে--৩*৮-৩৭৯ 

বিষাদ -- ১৫০ 

বিসঞ্জন - ২৩৫১ ২৩৮, ২৪৫-২৪ » ২৪৯ 

বিহারীলাল চট্টোপাধ্যায় _ ১২৬, ৩৪৬ 

বীরবালা--১২৩ 

বুঝলে কিন। -৩৫ 

বুড়ো শীলিকের ঘাড়ে রে1--৩০/ ৩৫) ৬৪- 
৬৭, ৭৯) ১৭৭ 


বুদ্ধদেব চরিত - ১৪৬ 

বেদৌরা -২২৪ 

বেল্লিক বাজার - ১৭৪ 

বৈকুষ্ঠের থাঁতা _-২৫০ 
বৈষ্ণবী _ ১৬৭ 

বৌমা -১৭৬, ১৭৭, ১৭৯, ১৮১ 
ভগ্ন হৃদয় _-২৩৮ 

ভদ্রাজুন ২২, ২৫-২৭ 

ভাঙ্গন --৩৩৪ 


ভান্ুমতী চিত্তবিলাঁস - ১৯ 
ভাঁরত মাত। - ১১৮, ৩২৬ 
ভারতে বন - ১১৯, ৩২৬ 


ভীম্ম ( দ্বিজেন্দ্রলাল ) --২০৭ 

ভীম্ম ক্ষৌরোদপ্রসাদ) _ ২২৫-২২৬ 
ভূতের বেগার-__২২৪ 

ভোল! মাষ্টার ৩১১ 


ভ্রাস্তি--১৩৬) ১৬৬, ১৯২ 

মনোজ বনু -৩১৪-৩১৮ 

অনোমোহন বন্ু--২৯, ৩৭» ৯৭-১০৩, 
১২৮১ ১৩৪৯ ১৪০১ ১৭৭ 
১৮৭ 

মন্দাকিনী-২২৫ 

মল্সথ রায়- ২৯৬-২৯৮ 

মলিন মালা ১৭৪ 

মলিনাবিকাশ--১৭৪ 

মশাল -- ৩২৯ 

মহারাজ! নন্দকুমার - ৩০১ 


নির্দেশিক! 


মহারাষ্ট্র কলঙ্ক -_ ১২৩ 

মহুয়া ”২৯৮ 

অহেন্্নাথ গুগত---২৯৯) ৩০১১ ৩৩৯১ ৩৪৩ 

মাইকেল মধুসূ্ধন- ১৮, ২৬, ৩*১ ৩৫, 
৩৬১ ৩৭) ৪২-৬৭, ৬৮, 
৭৬) ৮৪» ৯১ ৯২, 
৯৮) ১০৭১ ১৪৮) ১২৭, 


১৩০১ ১৩৪, ১৫১) 
১৭৭, ৩২৫) ৩৪৬, 
| ৩৪৯ 
মাটির ঘর-- ৩০৬-৩০৮ 


মাটির মায়--৩০৯ 
মানময়ী গালস স্কুল--৩১৯ 
মায়াকানন--৪৬. ৫৫) ৫৮-৬৪ 
মায়াবসাঁন---১৩৬১ ১৩৭১ ১৩৮১ ১৬১১৬২ 
মায়ার খেলা » ২৩৮, ২৪৩-২৪১ 
মালতী মাঁধব--২২ 
্ালিনী--২৩৫, ২৩৮১ ২৪৭-২৪৯ 
মিডিয়া--২২৪, ২২৫ 
মীরকাঁশিম--১৬৪১ ১৯২ 
মীরাবাঁই--১৩১ 
মুক্তধার।- ২৬১, ২৬৩, ২৬৬, ২৬৮ ২৭১১ 
২৮১-২৮৫) ২৮৬) ২৮৮ 
মেঘমুক্তি ৩৬৮ 
৬পমেবার পতন - ১৯৩) ১৯৭) ২১৫-২১৬ 
মৌকাবিল।--৩২৯ 
মোহিনী প্রতিমা -. ১৩৮ 
মৌচাঁকে টিল--৩১৩ 
বছুগৌপাল চট্রোপাধ্যায়--২৯, ৩৫ 
যহুবংশ ধ্বংস--”১৩১ 
যাঁজ্ঞসেনী--১৮৭, ১৮৮ 
যেমন কর্ম তেমনি ফল--৩*১ ৩৫, ৪০ 
যোগেক্দ্রচন্দ্র গুগু--২৩, ৩৪৯ 
যোগেশ চৌধুরী_ ২৯৯, ৩০২-৩০৪) ৩১৮ 
রক্তকরবী-”২৩৬১ ২৬১, ২৬৫, ২৬৮১ ২৮৫- 
২৯০ 
রঘুবীর_ ২৩১৯ ২৩৩ 
রজতগিরিনন্দিনী--২৯ 
রঞ্জাবতী--২২৬ 
রত্বাবলী-- ৪৭ 


৩৬৭ 


রথের রশি-_-২ ৬১১ ২৯১ 

রবীজ্রনাথ ঠাকুর ৭০, ৭৫, ৭৮১ ৭৯, 
১১৪১ ১৩৫) ১৬৩) ১৮৬) 
১৯১১ ১৯৮১ ২৩৫-২৯২, 
২৯৬), ৩৫৪ 

রাখিবন্ধন--৩১৭-৩১৮ 

রাজকুষ্ রায় ১২৬, ১২৮-১৩১১ ১৩৪, 

১৪০) ৩৪৬ 

রাজা -১১৪১ ২৬১১ ২৬৩, ২৬৫১ ২৬৬, ২৬৮) 

২৭২-২৭৬১ ২৮৪ 

রাজ! ও রাণী--২৪১-২৪৫ 

রাজ। বাহাছুর_-১৮২, ১৮৩ 

রাজ! বিক্রমাদিত্য--১৩১ 

রাণী ছুর্গাবতী--৩০১ 

রাণীভবানী--৩০১ 

রাবণ বধ--১৪*, ১৪৩ 

রামচজ্দ দত্ত ৩৪ 

রামনারায়ণ তর্করত্ু--১৮, ১৯১ ২৯ ৩, 


৬৭১ ৮৮) ৯৮১ ১০২, 
১৭৭ ৩৪৬ 

রামমোহন - ৩২৩ 

রামান্থজ--২২৬ 

রামাভিষেক নাটক--১০ 

রামের বনবাম (রাজকৃষ্ণ )--১৩০ 

রামের বনবাস (গিরিশচন্দ্র )-- ১৪৩, ১৪৫ 

রাষ্্রবিপ্রব---৩*০ 

রীতিমত নাটক---৩১৯ 

রুক্মিণী হরণ -৪১ 

রুদ্রচওড -২৩৯ 

রূপসনাতন - ১৩৬, ১৪৬ 

রূপের ডালি -২২৪ 

লক্ষমণবঞ্জন _ ১৪৩ 

লক্ষীনারায়ণ চক্রবাঁ - ১'৬ 

লীলাবতী _-৭২১ ৯৩, ৮৮, ৯৩-৯৫, ৩৪৫ 

শঙ্করাঁচার্য _- ১৫২ 

শচীন্্রনাথ জেনগুণ -২৯৪, ২৯৯ ৩০১ 

৩৯৯) ৩৩৪ 
শরৎ সরোজিনী - ১২৯১ ১২১১ ৩৪৫ 
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় -৩১১ 


৩৬৮ বাংলা নাটকের ইতিছাজ 


| ৮৪৫১ ৪৬, ৪৭-৫০5 ৫৯১ ৩৪৫ 
শারদোৎসব -২৬১১ ২৬৫১ ২৬৮-২৭২ 


শাস্তি কি শাস্তি - ১৩৬, ১৩৭১ ১৫৪১ ১৬২, 


৮০৩৪৩ 
শিমুয়েল পিকবক ২৯১ ৩৩ 
শেষবর্ষণ - ২৬৮ 
শেষরক্ষা---৭০৪ ২৫২ 
শোঁধবোধ -- ২৯১ 
শযামাচরণ দে--৩৬ 
শযামাচরণ প্ীমানী--৩০, ৩৩ 
প্রীপতি মুখোপাধ্যায় -৩* 
শ্রীবংস--২৯৮ 
শ্রীবৎস চিস্তা--১৪৫ 
শ্রীমধুনূদন--৩২ ০-৩২২ 
সংগ্রাম ও শাস্তি --৩*৯ 
সতনাম --” ১৬৭১ ১৯২ 
সতী -- ৯৯১ ১৯০-১৯১ 
সধবার একাদশী -- ৩০১ ৭১ ৭৩-৭৮১ ৮৮, 
১৭৭ 
সপত্বী নাটক -.৩১, ৩৩ 
সপ্তমী প্রতিমা--২২৪ 
সপ্তমীতে বিসর্জন---১৭৪ 
সভ্যতার পাণও্ডা--১৭৪ 
সম্বন্ধ সমাধি নাটক-_৩* 
সম্মতি সঙ্কট---১৭৭৪ ১৭৯৯ ১৮০ 
সরলা---১৫ ৪ 
সরোজিমী--১১০-১১২ 
সাজাহান---১৯৯, ২১০৯ ২১৬-২১৭১ ২৩২, 
৩৪৪ 


সাঁবাশ আঁটাশ--১৮২ 


সাবিত্রী (ক্ষীরোদপ্রসাদ )--২২৪ 

সাবিত্রী (মন্সথ রায় )--২৯৭ 

সাবিত্রী সত্যবান--২১ 

সিংহল বিজয়--২২*-২২১ 

সিরাজদ্দৌল! € গিরিশচন্দ্র )--১৬৪, ১৬৮- 
১৭৩ 

সিরাজদ্দৌলা € শচীন সেনগুপ্ত )--৩০০ 

সীতা (দ্বিজেন্দ্রলাল )--২*৬ 

সীতা ( যোগেশ চৌধুরী )--২৯৯ 

সীতার বনবাস--১৪৩ 

সীতার বিবাহ--১৪৩ 

সীতাহরণ--১৪৩ 

সুন্দর--২৬৮ 

স্থরেন্্র বিনোদিনী--১২১, ৩৪৫ 

সোরাব রুস্তমস্”২২১ 

স্বপ্নময়ী--১১৪ 

স্বপ্নের ফুল-- ১৭৪ 

স্বামী-স্ত্রী --২৯৪, ৩৬০৪ 

হঠাঁৎ নবাব-_- ১১৭ 

হরচজ্জ ঘোষ -- ১৮, ১৯-২৩ 

হরধনূর্তর্গ _- ১৩০ 

হুরলাল রায় ১১৯-১২* 

হরিদাস ঠাকুর-- ১৩১ 

হরিশ্ন্্র €( মনোমোহন )--১০১ 

হরিশ্চন্ত্র (অমৃতলাল )-- ১৮৭ 

হারানিধি-_- ১৩৮১ ১৬০-১৬১ 

হিতে বিপরীত - ১১৭ 

হীরেন্দ্রনারায়ণ মুখোপাধ্যায় -৩*২ 

হেমনলিনী - ১০৭১ ১২২ 

হেমলতা৷ ১০৭১ ১১৯ 


সমাপ্ত